উইকিউক্তি
bnwikiquote
https://bn.wikiquote.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.46.0-wmf.23
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিউক্তি
উইকিউক্তি আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
Event
Event talk
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
0
448
76280
71916
2026-04-13T05:26:39Z
~2026-22640-03
5050
বিষয়বস্তু যোগ
76280
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Rabindranath Tagore in 1909.jpg|thumb|১৯১৫ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
'''[[w:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর|রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]''' (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ [[বৈশাখ]] ১২৬৮ – ২২ [[শ্রাবণ]] ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী [[বাঙালি]] কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে '''গুরুদেব''', '''কবিগুরু''' ও '''বিশ্বকবি''' অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
== উক্তি ==
*সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম।
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ, ১৮৯৪, বিশ্বভারতী
*"আপনার জীবন পাতার ডগায় শিশিরের মতো সময়ের প্রান্তে হালকাভাবে নাচতে দিন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রজাপতি মাস নয়, মুহূর্ত গণনা করে, এবং যথেষ্ট সময় আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বিশ্বাস হল সেই পাখি যে ভোরের অন্ধকারে আলো অনুভব করে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "গীতাঞ্জলি" (১৯১০)।
*"আমরা পৃথিবীতে বাস করি যখন আমরা এটি ভালবাসি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"একটি শিশুকে আপনার নিজের শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ করবেন না, কারণ সে অন্য সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"প্রত্যেক শিশু এই বার্তা নিয়ে আসে যে ঈশ্বর এখনও মানুষের প্রতি নিরুৎসাহিত হননি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"আমি ঘুমিয়েছিলাম এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম যে জীবন আনন্দ। আমি জেগে উঠে দেখলাম যে জীবনই সেবা। আমি অভিনয় করেছি এবং দেখছি, সেবাই আনন্দ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "স্ট্রে বার্ডস" (১৯১৬)।
*"ভালোবাসা একটি নিছক প্ররোচনা নয়, এতে অবশ্যই সত্য থাকতে হবে, যা আইন।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "সাধনা: জীবনের উপলব্ধি" (১৯১৩)।
*"আমি একজন আশাবাদীর নিজস্ব সংস্করণে পরিণত হয়েছি। যদি আমি এটি একটি দরজা দিয়ে না করতে পারি, আমি অন্য দরজা দিয়ে যাবো - অথবা আমি একটি দরজা তৈরি করব। বর্তমান যতই অন্ধকার হোক না কেন ভয়ঙ্কর কিছু আসবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আসুন আমরা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না বরং তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় নির্ভীক হতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সত্য বিজয়ী হয়ে আসে কারণ আমরা তাকে অতিথি হিসাবে গ্রহণ করার শিল্প হারিয়ে ফেলেছি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যে ফুল একক, তার অসংখ্য কাঁটাকে হিংসা করার দরকার নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি কেবল দাঁড়িয়ে এবং জলের দিকে তাকিয়ে সমুদ্র অতিক্রম করতে পারবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"উচ্চে পৌঁছান, কারণ তারা আপনার মধ্যে লুকিয়ে আছে। গভীর স্বপ্ন দেখ, প্রতিটি স্বপ্ন লক্ষ্যের আগে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আপনি যদি সমস্ত ত্রুটির দরজা বন্ধ করে দেন তবে সত্য বন্ধ হয়ে যাবে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* মানুষের একটা বয়স আছে যখন সে চিন্তা না করিয়াও [[বিবাহ]] করিতে পারে। সে বয়স পেরোলে বিবাহ করিতে দুঃসাহসিকতার দরকার হয়।
**
* [[নদী|নদীর]] এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,<br>‘ওপারেতে সর্বসুখ আমার [[বিশ্বাস]]।’<br>নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,<br>কহে, ‘যাহা কিছু [[সুখ]] সকলি ওপারে।’
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কণিকা/মোহ কণিকা/মোহ]
* প্রেমের দ্বারা চেতনা যে পূর্ণশক্তি লাভ করে সেই পূর্ণতার দ্বারাই সে সীমার মধ্যে অসীমকে, রূপের মধ্যে অপরূপকে দেখতে পায়— তাকে নূতন কোথাও যেতে হয় না।
** শান্তিনিকেতন ৮, ২৯
* ভক্তের দাসত্বে [[স্বাধীনতা]] আছে, ভক্তের স্বাধীন দাসত্ব তেমনি প্রকৃত — প্রণয় স্বাধীন প্রণয়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/আদর্শ_প্রেম বিবিধ প্রসঙ্গ - আদর্শ প্রেম]
* [[ফুল]] যে কেবল বনের মধ্যেই কাজ করছে তা নয়—মানুষের মনের মধ্যেও তার যেটুকু কাজ তা সে বরাবর করে আসছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/শ্রাবণসন্ধ্যা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - শ্রাবণসন্ধ্যা]
* আমি রূপে তোমায় ভোলাব না, ভালোবাসায় ভোলাব।<br/>আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলব না গো, গান দিয়ে দ্বার খোলাব<br/>ভরাব না ভূষণভারে, সাজাব না ফুলের হারে-<br/>প্রেমকে আমার মালা করে গলায় তোমার দোলাব।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/প্রেম/৯০ গীতবিতান - প্রেম -৯০]
* মনুষ্যত্বের মূলে আর একটি প্রকাণ্ড দ্বন্দ্ব আছে ; তাকে বলা যেতে পারে প্রকৃতি এবং আত্মার দ্বন্দ্ব। স্বার্থের দিক এবং পরমার্থের দিক, বন্ধনের দিক এবং মুক্তির দিক, সীমার দিক এবং অনন্তের দিক– এই দুইকে মিলিয়ে চলতে হবে মানুষকে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/দ্বিধা শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড) - দ্বিধা]
* মানুষের বিশ্বজয়ের এই একটা পালা বস্তুজগতে; ভাবের জগতে তার আছে আর-একটা পালা। ব্যাবহারিক বিজ্ঞানে একদিকে তার জয়স্তম্ভ, আর-একদিকে শিল্পে সাহিত্যে।
** সাহিত্যের তাৎপর্য
* প্রেম যাহা দান করে, সেই দান যতই কঠিন হয়, ততই তাহার সার্থকতার আনন্দ নিবিড় হয়।
** মনুষ্যত্ব
* স্বার্থ আমাদের যে-সব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে; যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/মানুষের_ধর্ম্ম মানুষের ধর্ম]
* আপনাকে বৃহতে উপলব্ধি করাই সত্য, অহংসীমায় অবরূদ্ধ জানাই অসত্য। ব্যক্তিগত [[দুঃখ]] এই অসত্যে-।
** মানুষের ধর্ম-২
* মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,<br/>মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।<br/>এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে<br/>জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কড়ি_ও_কোমল/প্রাণ প্রাণ - কড়ি ও কোমল]
* যাহাকে তুমি ভালোবাস তাহাকে ফুল দাও, কাঁটা দিও না ; তোমার হৃদয়-সরোবরের পদ্ম দাও, পঙ্ক দিও না। হাসির হীরা দাও, অশ্রুর মুক্তা দাও; হাসির বিদ্যুৎ দিও না, অশ্রুর বাদল দিও না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
*"মেঘ আমার জীবনে ভেসে আসে, আর বৃষ্টি বা ঝড় বয়ে আনতে নয়, আমার সূর্যাস্তের আকাশে রঙ *যোগ করতে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
"ভালোবাসা একটি অন্তহীন রহস্য, কারণ এর ব্যাখ্যা করার আর কিছুই নেই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"যারা অনেক কিছুর মালিক তাদের ভয় পাওয়ার অনেক কিছু আছে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"জলের মাছ নীরব, পৃথিবীর প্রাণীরা কোলাহল করছে, বাতাসে পাখি গান করছে। কিন্তু মানুষ তার মধ্যে আছে সমুদ্রের নীরবতা, পৃথিবীর কোলাহল এবং বাতাসের সঙ্গীত।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সবকিছুই আমাদের কাছে আসে যা আমাদেরই যদি আমরা তা গ্রহণ করার ক্ষমতা তৈরি করি।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"তার পাপড়ি ছিঁড়ে, আপনি ফুলের সৌন্দর্য সংগ্রহ করবেন না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের মোকাবেলায় নির্ভীক হতে চাই। আমার বেদনাকে স্তব্ধ করার জন্য আমি ভিক্ষা করি না, কিন্তু হৃদয়কে জয় করতে চাই।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বন্ধুত্বের গভীরতা পরিচয়ের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"সর্বোচ্চ শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা আমাদের কেবল তথ্যই দেয় না বরং আমাদের জীবনকে সমস্ত অস্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"ছোট জ্ঞান হল একটি গ্লাসের জলের মতো: স্বচ্ছ, স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ। মহান জ্ঞান হল সমুদ্রের জলের মতো: অন্ধকার, রহস্যময়, দুর্ভেদ্য।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"মন, তীক্ষ্ণ কিন্তু প্রশস্ত নয়, প্রতিটি বিন্দুতে লেগে থাকে কিন্তু সরে না।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
*"বয়স বিবেচনা করে; যুব উদ্যোগ।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.
* প্রেমের [[ধর্ম]] এই, সে ছোটোকেও বড়ো করিয়া লয়। আর, আড়ম্বর-প্রিয়তা বড়োকেও ছোটো করিয়া দেখে। এই নিমিত্ত প্রেমের হাতে কাজের আর অন্ত নাই, কিন্তু আড়ম্বরের হাতে কাজ থাকে না। প্রেম শিশুকেও অগ্রাহ্য করে না, বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে না, আয়তন মাপিয়া সমাদরের মাত্রা স্থির করে না।
** হাতে কলমে -১
* রমণীর প্রেমের মধ্যে পরিতৃপ্তি আছে, [[বিশ্বাস]] আছে, নিষ্ঠা আছে, কিন্তু পুরুষের প্রেমের মধ্যে যে একটি চির অতৃপ্তিপূর্ণ অনির্বচনীয় সুখ আছে তাহা বোধ করি খুব অল্প রমণী উপভোগ করিয়াছে।
** [[স্ত্রী]] ও পুরুষের প্রেমে বিশেষত্ব
* স্ত্রী-পুরুষগত প্রেমের ন্যায় প্রবল শক্তি আর কিছু আছে কি না সন্দেহ। এই শক্তি ষোলো আনা মাত্রায় সমাজের কাজে লাগাইলে মানবসভ্যতা অনেকটা বল পায়। এই শক্তি হইতে বঞ্চিত করিলে সমাজের একটি প্রধান বল অপহরণ করা হয়।
** সমাজে স্ত্রী-পুরুষের প্রেমের প্রভাব।
* [[ভালোবাসা]] অর্থে আত্মসমর্পণ নহে। ভালোবাসা অর্থে, নিজের যাহা কিছু ভালো তাহাই সমর্পণ করা। হৃদয়ে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা নহে; হৃদয়ের যেখানে দেবত্রভূমি, যেখানে মন্দির, সেইখানে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_প্রসঙ্গ/মনের_বাগান-বাড়ি বিবিধ প্রসঙ্গ - মনের বাগান-বাড়ি]
* মানুষের দেবতা মানুষের মনের মানুষ, জ্ঞানে কর্মে ভাবে যে পরিমাণে সত্য হই সেই পরিমাণেই সেই মনের মানুষকে পাই –অন্তরে বিকার ঘটলে সেই আমার আপন মনের মানুষকে মনের মধ্যে দেখতে পাই নে। মানুষের যত-কিছু দুর্গতি আছে সেই আপন মনের মানুষকে হারিয়ে, তাকে বাইরের উপকরণে খুঁজতে গিয়ে, অর্থাৎ আপনাকেই পর করে দিয়েছে।
** মানুষের ধর্ম ১/১১
* মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব। [[আশা]] করব, মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়তো আরম্ভ হবে এই পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। আর-একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ [[মর্যাদা]] ফিরে পাবার পথে। মনুষ্যত্বের অন্তহীন প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপমান মনে করি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সভ্যতার_সংকট সভ্যতার সংকট]
* যে পাখির ডানা সুন্দর ও কণ্ঠস্বর মধুর তাকে খাঁচায় বন্দী করে মানুষ গর্ব অনুভব করে; তার [[সৌন্দর্য]] সমস্ত অরণ্যভূমির, এ কথা সম্পত্তিলোলুপরা ভুলে যায়। মেয়েদের হৃদয়মাধুর্য ও সেবানৈপুণ্যকে পুরুষ সুদীর্ঘকাল আপন ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে কড়া পাহারায় বেড়া দিয়ে রেখেছে। মেয়েদের নিজের স্বভাবেই বাঁধনমানা প্রবণতা আছে, সেইজন্যে এটা সর্বত্রই এত সহজ হয়েছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/কালান্তর_(২০১৮)/নারী কালান্তর (২০১৮) - নারী]
* শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী,<br>পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি<br>আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ<br>সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।<br>সঁপিয়া তোমার ’পরে নূতন মহিমা<br>অমর করিছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চৈতালি/মানসী চৈতালি - মানসী]
* প্রেম শান্তিরূপেও আসবে অশান্তিরূপেও আসবে, সুখ হয়েও আসবে দুঃখ হয়েও আসবে–সে যে-কোনো বেশেই আসুক তার মুখের দিকে চেয়ে যেন বলতে পারি তোমাকে চিনেছি, বন্ধু তোমাকে চিনেছি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শান্তিনিকেতন_(প্রথম_খণ্ড)/কী_চাই%৩F শান্তিনিকেতন (প্রথম খণ্ড) - কী চাই?]
* সোনার চেয়ে আনন্দের দাম বেশি; ভুলেছে, প্রতাপের মধ্যে পূর্ণতা নেই, প্রেমের মধ্যেই পূর্ণতা। সেখানে মানুষকে দাস করে রাখবার প্রকাণ্ড আয়োজনে মানুষ নিজেকেই নিজে বন্দী করেছে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/২৮শে_সেপ্টেম্বর_১৯২৪ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯২৪]
* সহজ মানুষের সত্যটি সামাজিক মানুষের কুয়াশায় ঢেকে রেখে দেয়। অর্থাৎ আমরা নানা অবান্তর তথ্যের অস্বচ্ছতার মধ্যে বাস করি। শিশুর জীবনের যে সত্য তার সঙ্গে অবান্তরের মিশেল নেই। তাই, তার দিকে যখন চেয়ে দেখবার অবকাশ পাই তখন প্রাণলীলার প্রত্যক্ষ স্বরূপটি দেখি; তাতে সংস্কারভারে পীড়িত চিন্তাক্লিষ্ট মন গভীর তৃপ্তি পায়।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/পশ্চিম-যাত্রীর_ডায়ারি/১৪ই_ফেব্রুয়ারি_১৯২৫ পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি - ১৪ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৫]
* সুন্দর আপনি সুন্দর এবং অন্যকে সুন্দর করে। কারণ, সৌন্দর্য্য হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত করিয়া দেয় এবং প্রেমই মানুষকে সুন্দর করিয়া তোলে।
** সৌন্দর্য্য ও প্রেম
* কবিদিগকে আর কিছুই করিতে হইবে না, তাঁহারা কেবল সৌন্দর্য্য ফুটাইতে থাকুন —জগতের সর্ব্ত্র যে সৌন্দর্য্য আছে তাহা তাঁহাদের হৃদয়ের আলোকে পরিস্ফুট ও উজ্জ্বল হইয়া আমাদের চোখে পড়িতে থাকুক, তবেই আমাদের প্রেম জাগিয়া উঠিবে, প্রেম বিশ্বব্যাপী হইয়া পড়িবে।
** কবিতা ও তত্ত্ব
* জ্ঞানে প্রেমে অনেক প্রভেদ। জ্ঞানে আমাদের ক্ষমতা বাড়ে, প্রেমে আমাদের অধিকার বাড়ে। [[জ্ঞান]] শরীরের মত, প্রেম মনের মত। জ্ঞান কুস্তি করিয়া জয়ী হয়, প্রেম সৌন্দর্য্যের দ্বারা জয়ী হয়। জ্ঞানের দ্বারা জানা যায় মাত্র, প্রেমের দ্বারা পাওয়া যায়। জ্ঞানেতেই বৃদ্ধ করিয়া দেয়, প্রেমেতেই যৌবন জিয়াইয়া রাখে। জ্ঞানের অধিকার যাহার উপরে তাহা চঞ্চল, প্রেমের অধিকার যাহার উপরে তাহা ধ্রুব। জ্ঞানীর সুখ আত্মগৌরব-নামক ক্ষমতার সুখ, প্রেমিকের সুখ আত্মবিসর্জ্জন-নামক স্বাধীনতার সুখ।
** জ্ঞান ও প্রেম
* পৃথিবীর চারি দিকে দেয়াল, সৌন্দর্য্য তাহার বাতায়ন। পৃথিবীর আর সকলই তাহাদের নিজ নিজ দেহ লইয়া আমাদের চোখের সম্মুখে আড়াল করিয়া দাঁড়ায়, সৌন্দর্য্য তাহা করে না —সৌন্দর্য্যের ভিতর দিয়া আমরা অনন্ত রঙ্গভূমি দেখিতে পাই।
** মর্ত্যের বাতায়ন
* ছেলে যদি মানুষ করিতে চাই, তবে ছেলেবেলা হইতেই তাহাকে মানুষ করিতে আরম্ভ করিতে হইবে, নতুবা সে ছেলেই থাকিবে, মানুষ হইবে না। শিশুকাল হইতেই কেবল স্মরণশক্তির উপর সমস্ত ভর না দিয়া সঙ্গে সঙ্গে যথা পরিমাণে চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির স্বাধীন পরিচালনার অবসর দিতে হইবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সংকলন/শিক্ষার_হেরফের শিক্ষার হেরফের]
* তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে,<br>তা ব’লে ভাবনা করা চলবে না।<br>ও তোর আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,<br>হয়তো রে ফল ফলবে না॥<br>আসবে পথে আঁধার নেমে, তাই ব’লেই কি রইবি থেমে—<br>ও তুই বারে বারে জ্বালবি বাতি,<br>হয়তো বাতি জ্বলবে না॥
** [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান/স্বদেশ/৪ গীতবিতান/স্বদেশ]
* আগুনকে যে [[ভয়]] করে সে আগুনকে ব্যবহার করতে পারে না।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/চার_অধ্যায়/প্রথম_অধ্যায় চার অধ্যায়]
* পৃথিবীতে সকলের চেয়ে বড়ো জিনিস আমরা যাহা কিছু পাই তাহা বিনামূল্যেই পাইয়া থাকি, তাহার জন্য দরদস্তুর করিতে হয় না। মূল্য চুকাইতে হয় না বলিয়াই জিনিসটা যে কত বড়ো তাহা আমরা সম্পূর্ণ বুঝিতেই পারি না।
** পরিচয়/ ভগিনী নিবেদিতা
* "যে করে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত, ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে সে করে বঞ্চিত।"
** স্ফুলিঙ্গ -২০৭
* সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,<br>রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/সঞ্চয়িতা/বঙ্গমাতা বঙ্গমাতা কবিতা]
* যাহাদের স্বাভাবিক ভদ্রতা নাই তাহারা ভদ্র হইতে ইচ্ছা করিলে আনুষ্ঠানিক ভদ্রতার কিছু বাড়াবাড়ি করিয়া থাকে।
** সংগীত-চিন্তা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
*** https://www.facebook.com/groups/৩০৬৯২৬৫০০৯৭০৭৪৩/permalink/৭৪৬১২৫৪৫০৩৮৪১৭৭/?mibextid=Nif৫oz
* অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
** হৈমন্তী, গল্পগুচ্ছ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৫০
*এক দলকে বিশেষ পরিচয়কালে বলি বটে হিন্দুস্থানি, কিন্তু তাদের হিন্দুস্থান বাংলার বাইরে।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
*ধর্ম আমাদের মেলাতে পারে নি, বরঞ্চ হাজারখানা বেড়া গড়ে তুলে সেই বাধাগুলোকে ইতিহাসের অতীত শাশ্বত বলে পাকা করে দিয়েছে। ইংরেজ নিজের জাতকে ইংরেজ বলেই পরিচয় দেয়। যদি বলত খৃস্টান তা হলে যে ইংরেজ বৌদ্ধ বা মুসলমান বা নাস্তিক তাকে নিয়ে রাষ্ট্রগঠনে মাথা ঠোকাঠুকি বেধে যেত।
**[https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E০%A৬%AA%E০%A৬%BE%E০%A৬%A৪%E০%A৬%BE:%E০%A৬%B০%E০%A৬%AC%E০%A৭%৮০%E০%A৬%A৮%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%B০-%E০%A৬%B০%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৮%E০%A৬%BE%E০%A৬%AC%E০%A৬%B২%E০%A৭%৮০_(%E০%A৬%৯A%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮১%E০%A৬%B০%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%৮২%E০%A৬%B৬_%E০%A৬%৯৬%E০%A৬%A৩%E০%A৭%৮D%E০%A৬%A১)_-_%E০%A৬%AC%E০%A৬%BF%E০%A৬%B৬%E০%A৭%৮D%E০%A৬%AC%E০%A৬%AD%E০%A৬%BE%E০%A৬%B০%E০%A৬%A৪%E০%A৭%৮০.pdf/%E০%A৭%AA%E০%A৭%AB%E০%A৭%AB রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী, পৃষ্ঠা-৪৪৬]
* এ-পর্যন্ত দেখা গেছে, যে-রাজা প্রজাকে দাস করে রাখতে চেয়েছে সে-রাজার সর্বপ্রধান সহায় সেই ধর্ম যা মানুষকে অন্ধ করে রাখে। সে-ধর্ম বিষকন্যার মতো; আলিঙ্গন করে সে মুগ্ধ করে, মুগ্ধ করে সে মারে। শক্তিশেলের চেয়ে ভক্তিশেল গভীরতর মর্মে গিয়ে প্রবেশ করে, কেননা তার মার আরামের মার।... ধর্মমােহের চেয়ে [[নাস্তিক্যবাদ|নাস্তিকতা]] অনেক ভালাে।
** "রাশিয়ার চিঠি"- [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], প্রকাশক:বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রথম প্রকাশ: বৈশাখ ১৩৩৮, পৃষ্ঠা: [https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF-%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0.pdf/%E0%A7%AC%E0%A7%AB ৫৩] - ৫৪
* ইহাতে কোনো সন্দেহমাত্র নাই যে, ধর্মের বিকারেই গ্রীস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুৰ্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই।
** "রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টাদশ খণ্ড)"-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশসাল: ১৯৪৪, পৃষ্ঠা: [https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80_(%E0%A6%85%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%B6_%E0%A6%96%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1)_-_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%80.pdf/%E0%A7%AA%E0%A7%A8%E0%A7%AB ৪১১]
*ক্ষণিকের অতিথি স্বর্গ হইতে মর্ত্যে আসেন। কাঁদিয়ে দিয়ে চলে যান। এই যাওয়া-আসায় স্বর্গ-মর্ত্যের মিলন-পথ বিরহের ভিতর দিয়ে খুলে যায়।
**শেষ বর্ষণ
*অধিকার লাভের যে মর্যাদা আছে, সেই মর্যাদা রক্ষা করিতে হইলে অধিকার প্রয়োগকে সংযত করিতে হয় ।
**চোখের বালি—৫২ পরিচ্ছেদ
*অন্যান্য অধিকার হইতে স্ত্রী-অধিকারের প্রভেদ এই যে স্ত্রীকে পাঁচজনের কাছ হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া একলা নিজের কাছে রাখিলেই যে সব সময় বেশী করিয়া পাওয়া যায় তাহা নহে।
**মণিহারা (গল্পগুচ্ছ)
*জীবের মধ্যে অনন্তকে অনুভব করারই অন্য নাম ভালোবাসা। প্রকৃতির মধ্যে অনুভব করার নাম সৌন্দর্য-সম্ভোগ।
**মনুষ্য (পঞ্চভূত )
*বাইরের আলোর উপর ভরসা রাখাই অভ্যাস, তাই অন্ধকার হলেই একেবারে অন্ধকার দেখি।
**মুক্তধারা
*মনকে নিজের কাছে রাখিস নে। ভিতরে যে ঠাকুরটি আছেন তাঁরই পায়ের কাছে রেখে আয়, সেখানে অপমান পৌঁছোবে না।
**মুক্তধারা
*‘বোবার শত্রু নেই’ যে পুরুষ বলেছিল সে নিশ্চয় ছিল অবিবাহিত।
**সংস্কার (গল্পগুচ্ছ)
===শিক্ষার বাহন===
* [[শিক্ষা|শিক্ষার]] জন্য আমরা আব্দার করিয়াছি, গরজ করি নাই। শিক্ষাবিস্তারে আমাদের গা নাই। তার মানে, শিক্ষার ভোজে নিজেরা বসিয়া যাইব, পাতের প্রসাদটুকু পর্যন্ত আর-কোনো ক্ষুধিত পায় বা না পায় সে দিকে খেয়ালই নাই।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বিদ্যাবিস্তারের কথাটাকে যখন ঠিকমত মন দিয়া দেখি তখন তার সর্বপ্রধান বাধাটা এই দেখিতে পাই যে তার বাহনটা ইংরেজি। বিদেশী মাল জাহাজে করিয়া শহরের ঘাট পর্যন্ত আসিয়া পৌঁছিতে পারে, কিন্তু সেই জাহাজটাতে করিয়াই দেশের হাটে হাটে আমদানি রফ্তানি করাইবার দুরাশা মিথ্যা। যদি বিলিতি জাহাজটাকেই কায়মনে আঁকড়াইয়া ধরিতে চাই তবে ব্যাবসা শহরেই আটকা পড়িয়া থাকিবে।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
* বাংলায় উচ্চ অঙ্গের শিক্ষাগ্রন্থ বাহির হইতেছে না এটা যদি আক্ষেপের বিষয় হয় তবে তার প্রতিকারের একমাত্র উপায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় উচ্চঅঙ্গের শিক্ষা প্রচলন করা।
** [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা/শিক্ষার_বাহন শিক্ষার বাহন]
==রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে উক্তি==
* সারা পৃথিবীর গানের সুরকে আয়ত্ত করে নতুন সুর সৃষ্টি করলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সুরের আলপনাকে বাংলা গানে ছিটিয়ে দিলেন। হয়ে গেল এক অপূর্ব সৃষ্টি। সর্বযুগের, সর্বকালের সৃষ্টি। এতবড়ো সুরকার আজও জন্মায়নি কোন দেশে। এই বুড়ো পৃথিবীকে ইচ্ছে হয় জিজ্ঞাসা করি, বয়েস তো অনেক হল। রবীন্দ্রনাথের মতো এমন সর্বতোমুখী প্রতিভা আর দেখেছে একটা।
**হেমন্ত মুখোপাধ্যায় - ''আনন্দধারা'', সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা; পৃষ্ঠা:৩৪ (২০১৯)
* ব্রিটিশরা তাঁকে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে) উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও তাঁর জাতীয়তাবাদ ছিল পুরোটাই সাংস্কৃতিক। তাছাড়া উচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিক সংখ্যক ভারতীয়কে সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দাবী বিষয়ক কোনো ভূমিকাই তিনি রাখেননি। রবীন্দ্রের কাছে এসবই ছিল ব্রিটিশ শাসনের মতোই অচেনা, অজানা। তাঁর রাজনীতির ধারণা ছিল বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রসার। স্বভাববশতই, তিনি যখন একজন খ্যাতিমান অতিথি হিসেবে নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, সেখানকার 'অতিথি বই'তে তিনি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) নিজের জাতীয়তা হিসেবে “ভারতীয়” পরিচয় না লিখে, লেখেন “'''[[বাঙালি জাতি|বাঙালী]]'''”।
** অধ্যাপক হিউ টিঙ্কার, ''Death of Rabindranath Tagore'' (১৯৮২), [https://www.historytoday.com/archive/rabindranath-tagore-and-indian-renaissance হিস্টরি টুডে, খণ্ড ৩২, ইস্যু: ৪ এপ্রিল ১৯৮২], পৃষ্ঠা: ৩৬ [http://media.bengalinessresearch.org/2021/07/death-of-rabindranath-tagore.html?m=1&fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR7UAhXR4fAyv21NfxcFHznqaSwk1SmPNZ2eeE1lq6CCnwnGam44nQ2e31U8SQ_aem_NYenInWDPTEk0LloHMC-CA]
*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করে “গীতাঞ্জলি” বই বের করেছিলেন। বইটি জমা দিয়ে তিনি ১৯১৩ সালে পান নোবেল পুরস্কার। তাঁর পরে বাংলা সাহিত্যের আর কেউ এ ধরনের বড় কাজ করতে পারেননি।
** [[সেলিনা হোসেন]]- [https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/vpv৩২৫c৯ld প্রথম আলো-এ উদ্ধৃত]
* সাধারণত বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে লোকের রক্ষণশীলতাও বাড়ে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বেলায় হয়েছে ঠিক উল্টো; যত বয়স বেড়েছে ততই তিনি মুক্ত হয়েছেন। যা সাময়িক, যা প্রথাগত, যা দেশ-কালে আপেক্ষিক, যা লোকাচারের সংস্কার কিংবা ব্যবহারিক বিধি মাত্র, সে সমস্তের উর্ধ্বে গেছে তাঁর দৃষ্টি। নীতির চেয়ে সত্যকে বড়ো করে দেখেছেন, রীতির চেয়ে জীবনকে।
** [[বুদ্ধদেব বসু]]। "সব পেয়েছির দেশে", প্রকাশক: সপ্তর্ষি, প্রথম প্রকাশ: আগস্ট ১৯৪১, [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.267258/page/n103/mode/1up?view=theater&q=%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%95 পৃষ্ঠা: ১০৩]
* কবির ভুল ধারণার প্রতিবাদ করিয়া উপযুক্ত কারণ দেখাইলেই কবি তাঁহার ভুল সংশোধন করিয়া লইতেন। কবির মনে একদেশদর্শী হিন্দুত্বের স্থান ছিল না। মুসলমানদের মধ্যে যাঁহারা স্বাধীন মতবাদ লইয়া ধর্ম ও সমাজ-ব্যবস্থার সমালোচনা করিতেন, তাঁহাদের প্রতি কবির মনে প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল।
** [[জসীম উদ্দীন]]। "ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়", প্রকাশক: গ্রন্থপ্রকাশ, কলকাতা, [https://share.google/QzodDAT07Rk23JRrC পৃষ্ঠা: ২৮]
*সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি পড়তে লাগিল; তাহার পরদিন সকালেও বৃষ্টি পড়িতেছে, মধ্যাহ্নেও বৃষ্টির বিরাম নাই। কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।
**-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,জীবিত ও মৃত (পঞ্চম পরিচ্ছেদ), গল্পগুচ্ছ,পৃষ্ঠা ৬৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিসংকলন লেখক}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Rabindranath Tagore}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:কলকাতার ব্যক্তি ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের চিত্রশিল্পী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]
6hcehutfzr75qppnw52dxk84ez1qc78
সুকুমার রায়
0
492
76275
70842
2026-04-13T05:17:16Z
~2026-22640-03
5050
বিষয়বস্তু যোগ
76275
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Sukumar Ray|সুকুমার রায়]]
'''[[:w:সুকুমার রায়|সুকুমার রায়]]''' (৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ - ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩) একজন বাঙালি লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। ভারতীয় সাহিত্যে "ননসেন্স ছড়া"র প্রবর্তক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সন্তান। তার পুত্র খ্যাতিমান ভারতীয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তার লেখা কবিতার [[বই]] আবোল তাবোল, গল্প হ-য-ব-র-ল, গল্প সংকলন পাগলা দাশু, এবং নাটক চলচ্চিত্তচঞ্চরী বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা "ননসেন্স" ধরনের ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়, কেবল অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড [[ইত্যাদি]] কয়েকটি মুষ্টিমেয় ধ্রুপদী সাহিত্যই যাদের সমকক্ষ। মৃত্যুর বহু বছর পরেও তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম শিশুসাহিত্যিকদের একজন।
== উক্তি ==
* সাগর যেথায় লুটিয়ে পড়ে নতুন মেঘের দেশে,<br/>আকাশ ধোয়া নীল যেখানে সাগর জলে মেশে।<br/>মেঘের শিশু ঘুমায় সেথা আকাশ-দোলায় শুয়ে,<br/>ভোরের রবি জাগায় তারে সোনার কাঠি ছুঁয়ে।
** ''সাগর যেথায়'', সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫০
* আমার বেশ মনে আছে, ছেলেবেলায় রাস্তায় কেউ সাইকেল চড়ে গেলে, আমরা ছুটোছুটি করে দেখতে যেতাম, আর মনে করতাম ভারি একটা অদ্ভুত জিনিস দেখছি। এখন কলকাতার রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, নানারকম মোটর গাড়ি, ইলেকট্রিক ট্রামএই-সব কত যে যাচ্ছে তার ঠিকানাই নাই। এই-সব দেখে দেখে এখন পুরানো হয়ে গিয়েছে; এমন-কি, মাথার উপর দিয়ে এরোপ্লেন উড়ে গেলেও লোকে আর তেমন ব্যস্ত হয়ে ফিরে তাকায় না।
** ''আদ্যিকালের গাড়ি'', সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭৯-২৮০
* আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুণে,<br />কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।
** ''পাকাপাকি'', সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪২০
* অন্ধ [[মেয়ে]] দেখছে না তা— নাই-বা যদি দেখে—<br/>শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে!<br/>শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরষ কোলাকুলি<br/>মিষ্ট ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি!<br/>দুঃখ সুখের ছন্দে ভরা জগৎ তারও আছে,<br/>তারও আঁধার জগৎখানি মধুর তারি কাছে।
** ''অন্ধ মেয়ে'', সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
* হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ,<br>তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ।<br>ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে<br>কল কল শব্দ করি সবে ক্রীড়া করে,<br>নদী বেঁকে চুরে যায় দেশে দেশে,<br>সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে।
** ''নদী'', সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
* তাইতে আমি দৌড়ে গিয়ে, ঢিল মেরে আর খুঁচিয়ে<br>ঘুড়ির পেটে দিলাম করে ফুটো—<br>আবার দেখ, বুক ফুলিয়ে, সটান মাথা উঁচিয়ে<br>আনছে কিনে নতুন ঘুড়ি দুটো!
** ভালো ছেলের নালিশ, বিবিধ কবিতা, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৭
*একবার দেখে যাও ডাক্তারি কেরামৎ-
কাটা ছেঁড়া ভাঙা চেরা চটপট মেরামৎ?।
**হাতুড়ে,আবোল তাবোল,
সুকুমার রচনাসমগ্র,সম্পাদনা - সত্যজিৎ রায়, প্রথম প্রকাশ-বইমেলা ২০১৭ পৃষ্ঠা -২১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিসংকলন লেখক}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Sukumar Ray}}
[[বিষয়শ্রেণী:শিশুসাহিত্যিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি শিশুসাহিত্যিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৮৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৩-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:হিন্দু লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় প্রাবন্ধিক]]
r6szaxeki7luolwpf5q9itmshj7rxq8
ব্যবহারকারী আলাপ:চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
3
744
76189
75940
2026-04-13T00:35:02Z
~2026-22595-38
5034
76189
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
সুপ্রিয়, চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
—[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫২, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
'''গাঢ়''' [[বিশেষ:অবদান/~2026-22595-38|~2026-22595-38]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22595-38|আলাপ]]) ০০:৩৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
jny2wawcw5dr8vram6fnvdtvqzfsohl
76309
76189
2026-04-13T07:00:14Z
চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
88
76309
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
সুপ্রিয়, চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
—[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫২, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন স্টার ১, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
edovdftr8o5pm9qz6yff6o6ji6atnyq
ব্যবহারকারী আলাপ:ARI
3
4407
76059
75852
2026-04-12T13:25:34Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন */ নতুন অনুচ্ছেদ
76059
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Arijit Kisku,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটির পক্ষে]],<br />≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৪:১১, ১৪ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি)
</div>
"বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী মিলিন্দ পরাণ্ডে আজ বলেন," এরকম একটি অপ্রয়োজনীয় অংশ আছে। এছাড়া কিছু কিছু উক্তি গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হচ্ছে না। গ্রহণ করে নিচ্ছি। কিন্তু সংশোধনের অনুরোধ রইল।[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ১৩:৩৫, ৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ইংরেজি থেকে ডিরেক্ট অনুবাদ। অনুবাদের ক্ষেত্রে কি যাচাই-বাছাই করতে হবে? [[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Arijit Kisku#top|আলাপ]]) ১৫:৫০, ৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] হ্যাঁ, ইংরেজিতে থাকা সবকিছুই তো ১০০% সঠিক না। আমরা যদি সঠিকটা বুঝতে পারি, তাহলে সেটাই করা উচিত। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ০৭:০৭, ৮ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
==[[চরক]]==
নিবন্ধটিতে সম্পাদনা প্রয়োজন। সব ঠিক করে আমাকে মেনশন করে জানান।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:০৬, ১১ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমার যে জিনিসগুলো চোখে পড়েছে, সেগুলি আমি সম্পাদনা করেছি। অন্য নির্দিষ্ট কিছু সম্পাদনা করার প্রয়োজন হলে অনুগ্রহ করে উল্লেখ করুন। [[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Arijit Kisku#top|আলাপ]]) ২২:৫৬, ১১ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[ভারতে বর্ণপ্রথা]] ==
কিছুটা যান্ত্রিকতা আছে। উক্তির কাঠামো ঠিক রেখে যান্ত্রিকতা সংশোধন করে জানান, আমি গ্রহণ করে নিব। আর হ্যাঁ, "এলস্ট, কনরাড" ব্যক্তির যেসব উক্তি আছে, সেগুলোকে [[কোনরাড এলস্ট]] পাতার সঙ্গে লিংক করুন।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৯:৪১, ২০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] যেগুলি আমি খেয়াল করেছি সেগুলি সংশোধন করেছি। অন্যান্য যে কোনও সম্পাদনার প্রয়োজন থাকলে অনুগ্রহ করে উল্লেখ করুন। [[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Arijit Kisku#top|আলাপ]]) ০৩:১৮, ২১ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। ব্যক্তির নাম প্রচলিত বাংলা ফরম্যাটে লেখার চেষ্টা করবেন। কোনরাড এলস্টের মতোই। আরেকটা উদাহরণ দেখলাম, [[মালহোত্রা, আর.]]। এভাবে লিংক করলে তো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না; [[রাজিব মালহোত্রা]] এভাবে লিখবেন। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১০:২২, ২১ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::আচ্ছা, পরবর্তীতে খেয়াল রাখবো। [[ব্যবহারকারী:Arijit Kisku|Arijit Kisku]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Arijit Kisku#top|আলাপ]]) ১১:০৪, ২১ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
:দুঃখিত, ভুল ফর্মের লিংক দেওয়া হয়েছিল। এখন ঠিক করা হয়েছে। পুনরায় পুরণ করার অনুরোধ করছি। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৯:০২, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[নির্বাচন]] ==
পাতাটি অসম্পূর্ণ। অনুগ্রহ করে সম্পূর্ণ করুন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৫৯, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ০৬:২৯, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ধন্যবাদ। পর্যালোচনা করা হবে। যেহেতু পাতা খুব বড় তাই কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:৪৭, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা ঠিক করেছি ==
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং নামক পাতাটা ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১১:৫১, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] {{গৃহীত}} হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ২৩:২০, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পুনঃপর্যালোচনা ==
[[আবি আহমেদ]] এবং [[পিটার আগ্রি]] পাতা দুটি সংশোধন করা হয়েছে। পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ। [[ব্যবহারকারী:Borhan|Borhan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Borhan|আলাপ]]) ০৪:৪৪, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Borhan|Borhan]] {{গৃহীত}} হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ২২:২৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পুনঃপর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] [[আহমেদ জেওয়াইল]] পুনরায় দেখার অনুরোধ রইল।[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:২৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] {{গৃহীত}} হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ০২:২৯, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== যান্ত্রিক অনুবাদ প্রসঙ্গে ==
আমি ডেভিড হিউম নামক উক্তির পাতাটি তৈরী করেছিলাম। কিছু জায়গায় যান্ত্রিকতার কথা বলা হয়েছে।যদি নির্দিষ্ট জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দেন, তবে সে ক্ষেত্রে উক্তির পাতাটি সংশোধন করা সহজ হবে।<br>
ধন্যবাদ।<br>[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:৪৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] প্রথমত, লেখার ফর্ম্যাটিংয়ে ভুল, আপনি '''বোল্ড''', ''ইটালিক'' ঠিকঠাক অনুসরণ করেননি; দ্বিতীয়ত সুত্রগুলো আসল ইংরেজির মতো করে বাংলাতে বসানোর চেষ্টা করুন; তৃতীয়ত বিভিন্ন জায়গায় বাক্যগুলো পড়তে অস্বাভাবিক লাগছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ০১:৫০, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::পয়েন্টগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। '''তবে ২য় পয়েন্টটি বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে - '''আপনি কি সূত্রগুলোর ক্ষেত্রে ইংরেজি হরফ ও সংখ্যাগুলো (যেমন- Book 1, Section 3, Page 45) বাংলায় (১ম খণ্ড, ৩য় অনুচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৪৫) রূপান্তর করতে বলছেন? নাকি বইয়ের নামের বাংলা অনুবাদের কথা বুঝিয়েছেন?<br>বিষয়টি নিশ্চিত করলে আমার জন্য পাতাটি নিখুঁতভাবে সংশোধন করা সহজ হবে।
::[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০৬:৩৫, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] <code><span style="color:red;"><nowiki>** [[Amos Bronson Alcott|Amos Alcott]], ''[https://books.google.it/books?id=fzRaAAAAMAAJ Journals]'', Port Washington, NY: Kennikat Press, 1938, Volume 1, p. 115.</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** আমোস অলকট, ''[https://books.google.it/books?id=fzRaAAAAMAAJ জার্নালস]'', পোর্ট ওয়াশিংটন, এনওয়াই: কেনিকাট প্রেস, ১৯৩৮, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৫।</nowiki></code> <p> আমার মনে হয় আপনার লাইন অনেক বাদ আছে, ইংরেজির থেকে বাংলাতে অনেক লাইন কমে গেছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ০৯:২০, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::এক দুটি লিঙ্ক বাদ পড়তে পারে তবে একটি উক্তিও বাদ পড়েনি। কয়েকবার রিভিশন দিয়েছি। লিঙ্কগুলো চেক করে জানাব।
::::[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১০:৩৫, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::ইংলিশ পাতার সাথে মিলাতে গেলেই দেখা যায় বাংলা পাতায় অনেক অপ্রয়োজনীয় '''বোল্ড''' ''ইটালিক ''দেখা যাওয়ার কারনে দেখতে বেখাপ্পা লাগছে। আবার দেখেছি এটি নিয়মেও রয়েছে যে অপ্রয়োজনীয় বোল্ড ইটালিক করা যাবেনা। সেজন্যই লেখার ফর্ম্যাটিংয়ে কিছু জায়গায় ইচ্ছে করেই '''বোল্ড''' ''ইটালিক'' বাদ দিয়েছি (শুধু সুত্রগুলো ছাড়া)। আশা করি এটি মার্জনা করে নিবেন।
::'''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১৩:০৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''
:::@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] পাতার অনুচ্ছেদগুলো আবার ইংরেজির সাথে মিলিয়ে দেখুন, অসঙ্গতি আছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ১৪:৪০, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::ইংলিশ পাতার সঙ্গে মিলিয়ে পুনরায় কিছু উক্তি ও সুত্র সংশোধন করেছি। কিছু সুত্রে থাকা অতিরিক্ত তথ্য ইংলিশ উইকিলিঙ্ক থেকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেহেতু ইংলিশ উইকিলিঙ্ক দেওয়া নিষেধ। গত সাত দিনের ধারাবাহিক একটানা সম্পাদনার পর আশা করছি পাতাটি যথার্থ সংশোধিত হয়েছে। গ্রহণ করার বিনীত অনুরোধ রইলো।
::::ধন্যবাদ।
::::'''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১৫:১৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''
:::::@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] আর একটি সংশোধন প্রয়োজন, সম্পূর্ণ নিবন্ধে অতিরিক্ত — (em dash) ব্যবহার করেছেন, যেগুলো খুবই দৃষ্টিকটূ এবং যান্ত্রিক অনুবাদের লক্ষণ। এগুলো সংশোধন করে জানান, গ্রহণ করে নেব। ধন্যবাদ! [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ২৩:৩৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::::অবশ্যই। সংশোধন করে জানাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ২৩:৪৩, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]]
::::::অপ্রাসঙ্গিক এম-ড্যাশ (—) অপসারণ করে সংশোধিত করা হয়েছে ~!
::::::'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
:::::::@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] {{গৃহীত}} হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI#top|আলাপ]]) ০১:২৪, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]]
::::::::আমার তৈরী করা [[ফজলে রাব্বী]] পাতাটি একটু পর্যালোচনা করে দেখবেন। @[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই বলেছিলেন অল্প সংশোধনের পর [[ফজলে রাব্বী]] নিবন্ধটি গ্রহন করে নিবেন। কিন্তু তিনি বোধহয় গত ৩দিন অফলাইনে থাকায় তা পর্যালোচিত হয়নি।
::::::::'''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১২:৩৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)';'
:::::::::@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ধৈর্য ধরুন। পর্যালোচকরা মানুষ। তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে। আবার টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে অনেক সময় নোটিফিকেশন ঠিকমতো আসেনা। আপনি যেদিন সংশোধন করে জানিয়েছেন সেদিন আমাকে মেনশন না করায় নোটিফিকেশন পাইনি। পরের দিন মেনশন করায় নোটিফিকেশন পাওয়ার পর আজ পর্যালোচনা করবো বলে ঠিক করেছি। প্রতিযোগিতায় সব পাতাই পর্যালোচনা হবে, তাই তাড়াহুড়ার কিছু নেই। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:০৪, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::::::::অবশ্যই।
::::::::::গ্রহণ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
::::::::::[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১৭:৪৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== যান্ত্রিক অনুবাদ সংশোধন ==
@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] আমি আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী [[জন চার্লস পোলানি]],[[লেয়োঁ ফুকো]] এবং [[এ. সি. বেনসন]] নিবন্ধগুলো সংশোধন করেছি। এখন আর যান্ত্রিকতা নেই। তাই পুনঃপর্যালোচনা করে গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৩:২৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
20hds9lg0f8ayl8b0xciofefbhj6w1s
ইলন মাস্ক
0
4784
76204
48170
2026-04-13T02:34:51Z
ExceptionistSagar
5037
আরো কিছু উক্তি যোগ করেছি
76204
wikitext
text/x-wiki
'''[[:w:ইলন মাস্ক|ইলন রিভ মাস্ক]]''' (/ˈiːlɒn ˈmʌsk/) একজন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা। তিনি মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পণ্য প্রকৌশলী, সোলারসিটির চেয়ারম্যান, দি বোরিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, নিউরালিংকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এবং পেপ্যালের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি তিনি টুইটার ও কিনে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি হাইপারলুপ নামক কল্পিত উচ্চ গতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থার উদ্ভাবক। ২০১৮ সালে ইলন মাস্ক 'ফেলো অব দি রয়্যাল সোসাইটি' নির্বাচিত হন। একই বছর ফোর্বস সাময়িকী 'বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি' তালিকায় ২৫ তম স্থানে তার নাম ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে ফোর্বসের 'আমেরিকার সবচেয়ে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব' তালিকায় যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ২০২১ সালের ৮ই জুন পর্যন্ত ইলন মাস্ক বিশ্বের ২য় বিলিয়নিয়ার এবং তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
==উক্তি==
* যদি জিনিস গুলো ব্যর্থ না যায় তবে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কিছু পরিবর্তন করছেন না।
** [https://www.fastcompany.com/52065/hondas-space Fast Company, article "Hondas in Space"], ফাস্টকোম্পানি, ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫।
* আপনি যা-ই করেন না কেন, একজন সুবিবেচকের সমালোচনা আপনার কাছে স্বর্ণের চেয়েও মূল্যবান।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* আমি কখনোই হার মানিনি। মৃত্যু এলে কিংবা একেবারে অক্ষম হয়ে গেলে তবেই কেবল আমি হার মানব।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* অনেক প্রতিষ্ঠান দ্বিধায় পড়ে যায়। তারা এমন সব খাতে টাকা ব্যয় করে, যেগুলো তাদের উৎপাদনকে উন্নত করে না।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* মঙ্গলে বসতি গড়ার কল্পনা আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে। প্রতিদিন কিছু সমস্যা সমাধানের চাইতে জীবনটা অনেক বড়। অতএব, জেগে উঠুন আর ভবিষ্যতের কল্পনায় রোমাঞ্চিত হোন।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* কেউ সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করছে আর আপনি হয়তো ১০০ ঘণ্টা কাজ করছেন। আপনারা দুজন হয়তো একই কাজ করছেন। নিশ্চিত থাকুন, অন্য মানুষটি যেটা এক বছরে অর্জন করবে, সেটা আপনি মাত্র চার মাসেই অর্জন করতে পারবেন।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* যে কাজটি আপনি করছেন সেটাকে ভালোবাসা খুব জরুরি। যদি তা না হয়, তাহলে মনে হবে, আপনি নিজের ওপর জোর খাটাচ্ছেন। এভাবে হয়তো কিছুদিন চলতে পারবেন। কিন্তু যখন কঠিন সময় আসবে, তখন আর সামলাতে পারবেন না। অতএব, সেই কাজই বেছে নিন, যেটা আপনি সহজাতভাবেই পছন্দ করেন। হোক সেটা গান, গণিত কিংবা মহাকাশবিদ্যা। অনেকেই নিজের ভালো লাগার জায়গাটা ধরতে পারেন না। দ্বিধায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরুন, লক্ষ করুন, কোন কাজটিতে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। শিগগিরই পছন্দের জায়গাটা ধরতে পারবেন।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* যদি আপনি কাজটাকে ভালোবাসেন, তাহলে নিশ্চয়ই কাজের সময় ছাড়াও আপনি এটা নিয়ে ভাববেন। আপনার মস্তিষ্ক এই ভাবনার সঙ্গে অভ্যস্ত। আর যদি পছন্দ না করেন, জোর করে এটা সম্ভব নয়।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* কোনো কিছু করা দরকার মনে হলে প্রতিকূল পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হলেও আপনি সেটা করবেন।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* আমার ছোট্ট লাইব্রেরিতে মহাকাশ-সম্পর্কিত যত বই আছে, সব আমি পড়েছি।
**[https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0 ইলন মাস্কের সাফল্যের ১০ সূত্র], প্রথম আলো, ১ এপ্রিল ২০১৮।
* বিল গেটসের এআই জ্ঞান অতি সামান্য।
** বিল গেটসকে খোঁচা দিয়ে মাস্ক এমন মন্তব্য করেছেন, উদ্ধৃত: [https://www.jugantor.com/todays-paper/it-world/660712/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%86%E0%A6%87-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF--%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95 বিল গেটসের এআই জ্ঞান অতি সামান্য : ইলন মাস্ক], যুগান্তর, ১ এপ্রিল ২০২৩।
* কূটনীতিকরা যুদ্ধবাজে পরিণত হয়েছে, তারা ভুলে গেছেন যে, তাদের ভূমিকা সবচেয়ে খারাপটা এড়াতে আলোচনা করা। যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং এটি আরও বাড়তে পারে. তাই এটি মার্কিন কূটনীতির ব্যর্থতা। [[রাশিয়া]] এবং চীনের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত জোটের উত্থানের ফলে এ [[ব্যর্থতা]] আরও বড় হয়েছে।
** রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন , উদ্ধৃত: [https://dailyinqilab.com/international/news/564942 যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যর্থ হচ্ছে: ইলন মাস্ক], দৈনিক ইনকিলাব, ২৭ মার্চ ২০২৩।
* "When something is important enough, you do it even if the odds are not in your favor."
— যখন কোনো কিছু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়, তখন সম্ভাবনা তোমার পক্ষে না থাকলেও তুমি তা করো।
<ref>ইলন মাস্ক, SpaceX ও ব্যবসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার</ref>
* "Failure is an option here. If things are not failing, you are not innovating enough."
— এখানে ব্যর্থতা একটি বিকল্প। যদি কিছু ব্যর্থ না হয়, তাহলে তুমি যথেষ্ট উদ্ভাবন করছো না।
<ref>ইলন মাস্ক, SpaceX সাক্ষাৎকার (প্রায় ২০১৫)</ref>
* "I think it is possible for ordinary people to choose to be extraordinary."
— আমি মনে করি সাধারণ মানুষও অসাধারণ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
<ref>ইলন মাস্ক, বিভিন্ন জনসম্মুখে বক্তব্য</ref>
* "Persistence is very important. You should not give up unless you are forced to give up."
— অধ্যবসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত তোমার হাল ছাড়া উচিত নয়।
<ref>ইলন মাস্ক, ব্যবসায়িক সাক্ষাৎকার</ref>
* "Some people don’t like change, but you need to embrace change if the alternative is disaster."
— কিছু মানুষ পরিবর্তন পছন্দ করে না, কিন্তু বিকল্প যদি বিপর্যয় হয়, তাহলে পরিবর্তনকে গ্রহণ করতেই হবে।
<ref>ইলন মাস্ক, Tesla/innovation আলোচনা</ref>
* "If you get up in the morning and think the future is going to be better, it is a bright day."
— যদি তুমি সকালে উঠে ভাবো ভবিষ্যৎ ভালো হবে, তাহলে দিনটি উজ্জ্বল।
<ref>ইলন মাস্ক, সাক্ষাৎকার</ref>
* "People should pursue what they're passionate about. That will make them happier than pretty much anything else."
— মানুষের উচিত তাদের ভালোবাসার কাজ অনুসরণ করা। এটি তাদের সবচেয়ে বেশি সুখী করবে।
<ref>ইলন মাস্ক, জনসম্মুখে বক্তব্য</ref>
* "Great companies are built on great products."
— মহান কোম্পানি তৈরি হয় মহান পণ্যের উপর ভিত্তি করে।
<ref>ইলন মাস্ক, ব্যবসায়িক আলোচনা</ref>
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৭১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:নকশাকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রামার]]
oi8vuk8bsg270waxftnuqalupkca9pu
ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T
3
5332
76181
73011
2026-04-12T22:30:53Z
MS Sakib
35
76181
wikitext
text/x-wiki
== টুইংকল মোবাইল ==
এই স্ক্রিপ্ট স্থানীয় গ্যাজেটের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, উইকিউক্তিতে টুইংকল গ্যাজেট না থাকলে এটি কাজ করবে না। এই প্রকল্প ছোট হওয়ায় এরকম ভারী গ্যাজেটের প্রয়োজনও নেই। আপনি চাইলে এই স্ক্রিপ্টটি ব্যবহার করতে পারেন- <pre>mw.loader.load('//vi.wikipedia.org/w/index.php?title=User:Plantaest/TwinkleGlobalMobile.js&action=raw&ctype=text/javascript');</pre>
এটি সকল প্রকল্পে ব্যবহারের উপযোগী। এতে টুইংকলের সব ফিচার না থাকলেও ছোট উইকিতে ব্যবহারের মতো ফিচারগুলো (রোলব্যাক, দ্রুত অপসারণ ট্যাগ, বৈশ্বিক প্রশাসক ও স্টুয়ার্ডদের কাছে রিপোর্ট ইত্যাদি) আছে। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১২:০৩, ২৩ মার্চ ২০২৪ (ইউটিসি)
==Rifat008==
ভাই নতুন উক্তি করলে সেটা উইকিডাটা যুক্ত করে দিয়েন তাতে,, একাধিকা ভুক্তি কম হবে। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঠিক আছে বিষয় টা মাথায় রাখবো। [[ব্যবহারকারী:Rifat008|Rifat008]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rifat008#top|আলাপ]]) ০৮:৫৩, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
::ধন্যবাদ ভাই [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় Rifat008, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমি কি ১০-১২দিন পর পূরণ করতে পারি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪১, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
::পারেন। করে তখন অবশ্যই আমাকে উল্লেখ করে জানাতে ভুলবেন না। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৪৩, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
:::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪৪, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] পূরণ করেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:৫৯, ২৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==[[সলোমন]]==
সুধী, নিবন্ধটি ভালো রকমের সমস্যা রয়েছে। ভালো করে সম্পাদনা করতে হবে। কিছু জায়গা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ধর্মগ্রন্থ গুলোর নাম বাংলা করুন। অনুবাদের ত্রুটি ঠিক করুন। এছাড়া, মুজিবুর রহমান কে? এবং তার এই উক্তি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? এগুলোও তো লিখতে হবে।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুবাদ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] কিছু স্থানে অনুবাদে সমস্যা পেয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] গ্রন্থের নাম বাংলা করলে {{tl|bibleverse}} কাজ করবে না [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] [[টেমপ্লেট:বাংলা বাইবেল/নামের কোড]] পাতাটি দেখুন, এটা ওই টেমপ্লেটের সাথে কাজ করে। দেখবেন এখানে বাংলা নাম লিংক করা আছে। কাজ তো করার কথা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[স্বর্গ]] ==
গত প্রতিযোগিতার সময়ে তৈরি পাতা এবার জমা দিয়েছ কেন? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিযোগিতায় কেবল নতুন তৈরি পাতা গ্রহণযোগ্য। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী হয়েও এধরণের "চালাকি" খুবই হতাশাজনক।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] চালাকি নয় আমি দেখলাম গত প্রতিযোগিতায় তৈরি করেছি কিন্তু ভূমিকা ব্যতীত কিছু অনুবাদ ছিল না অপসারণযোগ্য ছিল অপসারণ করা হলে পুনরায় তৈরি করে জমা দিতে পারতাম কিন্তু ভাবলাম অপসারণ করে আবার তৈরি করার চেয়ে ঐটাই পুরো সম্পন্ন করে জমা দেয়। যেহুতু এটা নীতিমালার বিরুদ্ধে তাই গ্রহণ করা হবে আশা করিনা। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ০৮:৫১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[নবুয়ত]] নিবন্ধের পর্যালোচনা ==
শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৮, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]])
:[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] শাকিব ভাই বলেছেন রাখা যাবে এই কারণে রেখেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সরানো হয়েছে আয়াত। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২৩, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[ইসলামে প্রাণী]] ==
শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৯, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]])
শুধু বাংলা অনুবাদ থাকবে।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:১৮, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] সরানো হয়েছে আয়াত। যদি টেমপ্লেট দিয়ে যোগ করি সেক্ষেত্রে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২১, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[গীতসংহিতা]] ==
ইংরেজি লেখাগুলো অপসারণ করে জানাও।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০১:০৮, ৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[গীতসংহিতা]] ==
ইংরেজিগুলো সরানো প্রয়োজন।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৭:০৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 ==
Dear R1F4T
Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms.
To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you.
* '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here]
* '''Deadline to submit:''' 31 May 2025
It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future.
Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns!
Warm regards,<br/>
''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন -->
== পর্যালোচনা ==
[[অ্যালেক্স হেইলি]] ও [[দাসত্ব]] পাতা দুটি সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৭:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== {{লাল|'''চুড়ান্ত সতর্কবার্তা'''!}} ==
চলমান উক্তি প্রতিযোগিতার ২০২৬-এর [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা|পর্যালোচনা নীতিমালা]]র ১ নং ধারা "এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি" অনুসারে আপনার জমা দেওয়া {{লাল|'''৮টি '''নিবন্ধ সরাসরি বাতিল হয়েছে}}! পাতার শাস্তিমূলক দিকে উল্লেখ থাকা সাপেক্ষে আপনাকে চুড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে। আপনি আর ১টা AI ত্রুটিযুক্ত পাতা জমা দিলেই আপনাকে সরাসরি "{{লাল|প্রতিযোগিতা থেকে '''অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।'''}}" ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
0wu4rai4c24gddu1vtfk7oqfpi5meda
76183
76181
2026-04-12T22:37:28Z
MS Sakib
35
/* {{লাল|'''চুড়ান্ত সতর্কবার্তা'''!}} */
76183
wikitext
text/x-wiki
== টুইংকল মোবাইল ==
এই স্ক্রিপ্ট স্থানীয় গ্যাজেটের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, উইকিউক্তিতে টুইংকল গ্যাজেট না থাকলে এটি কাজ করবে না। এই প্রকল্প ছোট হওয়ায় এরকম ভারী গ্যাজেটের প্রয়োজনও নেই। আপনি চাইলে এই স্ক্রিপ্টটি ব্যবহার করতে পারেন- <pre>mw.loader.load('//vi.wikipedia.org/w/index.php?title=User:Plantaest/TwinkleGlobalMobile.js&action=raw&ctype=text/javascript');</pre>
এটি সকল প্রকল্পে ব্যবহারের উপযোগী। এতে টুইংকলের সব ফিচার না থাকলেও ছোট উইকিতে ব্যবহারের মতো ফিচারগুলো (রোলব্যাক, দ্রুত অপসারণ ট্যাগ, বৈশ্বিক প্রশাসক ও স্টুয়ার্ডদের কাছে রিপোর্ট ইত্যাদি) আছে। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১২:০৩, ২৩ মার্চ ২০২৪ (ইউটিসি)
==Rifat008==
ভাই নতুন উক্তি করলে সেটা উইকিডাটা যুক্ত করে দিয়েন তাতে,, একাধিকা ভুক্তি কম হবে। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঠিক আছে বিষয় টা মাথায় রাখবো। [[ব্যবহারকারী:Rifat008|Rifat008]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rifat008#top|আলাপ]]) ০৮:৫৩, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
::ধন্যবাদ ভাই [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় Rifat008, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমি কি ১০-১২দিন পর পূরণ করতে পারি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪১, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
::পারেন। করে তখন অবশ্যই আমাকে উল্লেখ করে জানাতে ভুলবেন না। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৪৩, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
:::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪৪, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] পূরণ করেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:৫৯, ২৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==[[সলোমন]]==
সুধী, নিবন্ধটি ভালো রকমের সমস্যা রয়েছে। ভালো করে সম্পাদনা করতে হবে। কিছু জায়গা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ধর্মগ্রন্থ গুলোর নাম বাংলা করুন। অনুবাদের ত্রুটি ঠিক করুন। এছাড়া, মুজিবুর রহমান কে? এবং তার এই উক্তি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? এগুলোও তো লিখতে হবে।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুবাদ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] কিছু স্থানে অনুবাদে সমস্যা পেয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] গ্রন্থের নাম বাংলা করলে {{tl|bibleverse}} কাজ করবে না [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] [[টেমপ্লেট:বাংলা বাইবেল/নামের কোড]] পাতাটি দেখুন, এটা ওই টেমপ্লেটের সাথে কাজ করে। দেখবেন এখানে বাংলা নাম লিংক করা আছে। কাজ তো করার কথা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[স্বর্গ]] ==
গত প্রতিযোগিতার সময়ে তৈরি পাতা এবার জমা দিয়েছ কেন? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিযোগিতায় কেবল নতুন তৈরি পাতা গ্রহণযোগ্য। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী হয়েও এধরণের "চালাকি" খুবই হতাশাজনক।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] চালাকি নয় আমি দেখলাম গত প্রতিযোগিতায় তৈরি করেছি কিন্তু ভূমিকা ব্যতীত কিছু অনুবাদ ছিল না অপসারণযোগ্য ছিল অপসারণ করা হলে পুনরায় তৈরি করে জমা দিতে পারতাম কিন্তু ভাবলাম অপসারণ করে আবার তৈরি করার চেয়ে ঐটাই পুরো সম্পন্ন করে জমা দেয়। যেহুতু এটা নীতিমালার বিরুদ্ধে তাই গ্রহণ করা হবে আশা করিনা। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ০৮:৫১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[নবুয়ত]] নিবন্ধের পর্যালোচনা ==
শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৮, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]])
:[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] শাকিব ভাই বলেছেন রাখা যাবে এই কারণে রেখেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সরানো হয়েছে আয়াত। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২৩, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[ইসলামে প্রাণী]] ==
শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৯, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]])
শুধু বাংলা অনুবাদ থাকবে।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:১৮, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] সরানো হয়েছে আয়াত। যদি টেমপ্লেট দিয়ে যোগ করি সেক্ষেত্রে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২১, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[গীতসংহিতা]] ==
ইংরেজি লেখাগুলো অপসারণ করে জানাও।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০১:০৮, ৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[গীতসংহিতা]] ==
ইংরেজিগুলো সরানো প্রয়োজন।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৭:০৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 ==
Dear R1F4T
Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms.
To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you.
* '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here]
* '''Deadline to submit:''' 31 May 2025
It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future.
Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns!
Warm regards,<br/>
''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন -->
== পর্যালোচনা ==
[[অ্যালেক্স হেইলি]] ও [[দাসত্ব]] পাতা দুটি সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৭:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== {{লাল|'''চূড়ান্ত সতর্কবার্তা'''!}} ==
চলমান উক্তি প্রতিযোগিতার ২০২৬-এর [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা|পর্যালোচনা নীতিমালা]]র ১ নং ধারা "এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি" অনুসারে আপনার জমা দেওয়া {{লাল|'''৮টি '''নিবন্ধ সরাসরি বাতিল হয়েছে}}! পাতার শাস্তিমূলক দিকে উল্লেখ থাকা সাপেক্ষে আপনাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে। আপনি আর ১টা AI ত্রুটিযুক্ত পাতা জমা দিলেই আপনাকে সরাসরি "{{লাল|প্রতিযোগিতা থেকে '''অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।'''}}" ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
q1cqim65nhb44s6gb2atcza8zrp72zt
উইকিউক্তি:ব্যবহারকারী নামের নীতি
4
5423
76159
74774
2026-04-12T18:41:36Z
~2026-22593-51
5027
76159
wikitext
text/x-wiki
{{নীতিমালা|WQ:USERNAME|WQ:ব্যবহারকারী নাম}}
{{মূল বক্তব্য|কোনও অ্যাকাউন্টের নাম চয়ন করার সময়, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, বিঘ্নিত বা প্রচারমূলক হতে পারে এমন নামগুলি চয়ন করবেন না। সাধারণভাবে, একটি ব্যবহারকারী নামকে একজন ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করা উচিত।}}
{{mbox
| image = [[File:warning.svg|30px|link=|alt=]]
| text = '''লক্ষ্য করুন:''' এই পাতাটি নীতিমালা বর্ণনা করছে। ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তনের অনুরোধ করতে অনুগ্রহ করে [[Special:GlobalRenameRequest|বিশেষ:বৈশ্বিক নাম পরিবর্তনের অনুরোধ]] পাতায়
অনুরোধ করুন।}}
এই নীতিমালাটি বর্ণনা করে যে বাংলা উইকিউক্তিতে কোন ধরণের '''ব্যবহারকারী নাম''' গ্রহণযোগ্য এবং কীভাবে অগ্রহণযোগ্য বা সন্দেহজনক ব্যবহারকারী নামগুলির সাথে কীভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে। এটি আরও উল্লেখ করে যে একটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির দ্বারা ব্যবহার করা উচিত, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কেবলমাত্র একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা উচিত।
একটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় আপনিই আপনার ব্যবহারকারীর নাম নির্বাচন করবেন। সেই অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করে করা সমস্ত অবদান উক্ত অ্যাকাউন্টে যোগ করা হবে (কোনও অ্যাকাউন্টে লগইন না থাকলে অবদানগুলো ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানায় যোগ করা হবে)। ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তনের অনুরোধ করাও সম্ভব, এবং এই প্রক্রিয়ায় আপনার অতীতের অবদানগুলো নতুন নামের অধীনে স্থানান্তর করা হবে।
এই নীতিমালাটি বাংলা উইকিউক্তির ব্যবহারকারী নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যাইহোক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি অন্যান্য ভাষার উইকিউক্তি এবং উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন সমর্থিত অন্যান্য প্রকল্পগুলিতে লগ ইন করতে একই ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
[[File:Wikipedia User Name.webm|thumb|300px|ব্যবহারকারী নাম নিয়ে প্রারম্ভিক ভিডিও ক্লিপ।]]
== গ্ৰহণযোগ্য ব্যবহারকারী নাম ==
{{notice|'''দ্রষ্টব্য:''' এই অনুচ্ছেদ, এবং তার সমস্ত উপধারা, '''নতুন ব্যবহারকারীদের''' লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্যবহারকারী নামের নীতি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় সে সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করে না; এই অনুচ্ছেদটি [[#অনুপযুক্ত ব্যবহারকারী নাম মোকাবেলা|নীচে]] দেওয়া হয়েছে।}}
আপনার ব্যবহারকারী নাম একটি ডাকনাম যা আপনার অ্যাকাউন্ট এবং এর ফলে উইকিউক্তিতে আপনার সমস্ত অবদান সনাক্ত করবে। এটি এমনকি আপনার [[#আসল নাম|আসল নাম]]ও হতে পারে, যদি আপনি তাই চয়ন করেন। তবে আপনার আসল নামের অধীনে সম্পাদনায় জড়িত [[#আসল নাম|ঝুঁকিগুলি সম্পর্কে]] আপনার সচেতন হওয়া উচিত।
আপনি যে নামটিই চয়ন করুন না কেন, এটি এমন একটি নাম হওয়া উচিত যা দেখে অন্যান্য অবদানকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং যা প্রকল্পটিতে হস্তক্ষেপ করে না। একটি বিতর্কিত নাম আপনার সম্পর্কে অন্যান্য ব্যবহারকারীদের একটি খারাপ ধারণা দিতে পারে, এবং আপনার নিজের স্বার্থে এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
চার ধরনের ব্যবহারকারী নাম রয়েছে যা বিশেষভাবে অনুমোদিত নয়:
*<span id="Misleading" /><span id="MISLEADING" />'''বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম''' অবদানকারী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অ-প্রাসঙ্গিক, বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলি বোঝায়। বিভ্রান্তিকর হতে পারে এমন নাম খুব বেশি সংখ্যক যার ধরণ তালিকাবদ্ধ করা সম্ভব নয়, তবে অবশ্যই এর মধ্যে এমন ব্যবহারকারী নামগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বোঝায় যে আপনি উইকিউক্তিতে কর্তৃত্ব অবস্থানে রয়েছেন, এমন ব্যবহারকারী নাম যা অন্য লোকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে, বা এমন ব্যবহারকারীর নাম যা উইকিউক্তি [[উইকিউক্তি:স্বাক্ষর|স্বাক্ষরের]] বিন্যাসের মধ্যে বিভ্রান্তিকর হতে পারে, যেমন ব্যবহারকারীর নাম যা আইপি ঠিকানা বা টাইমস্ট্যাম্পের অনুরূপ।
*<span id="Promotional" /><span id="PROMOTIONAL" />'''প্রচারণামূলক ব্যবহারকারী নাম''' উইকিউক্তিতে একটি দল, কোম্পানী, পণ্য বা ওয়েবসাইটের প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়।
*<span id="Offensive" /><span id="OFFENSIVE" />'''আপত্তিকর ব্যবহারকারী নাম''' যা অন্যান্য অবদানকারীদের অপমান করে, ভালো সম্পাদনাকে কঠিন বা অসম্ভব করে তোলে।
*<span id="Disruptive" /><span id="DISRUPTIVE" />'''বিঘ্নিত ব্যবহারকারীর নাম''' সরাসরি ট্রোলিং বা ব্যক্তিগত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে উইকিউক্তিকে ব্যাহত করার জন্য একটি স্পষ্ট অভিপ্রায় রয়েছে।
আপনি যদি এই ধরনের একটি ব্যবহারকারী নাম চয়ন করেন তবে সেই অ্যাকাউন্টটিকে [[Wikipedia:Blocking policy|বাধাদান করা]] হতে পারে - তবে আমরা আপনাকে একটি নতুন এবং গ্রহণযোগ্য ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহার করতে স্বাগত জানাই। আপনি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি অনুপযুক্ত ব্যবহারকারীর নাম চয়ন করে থাকেন তবে আপনি এটি পরিবর্তন করতে পারেন - আপনার ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করার জন্য [[উইকিউক্তি:ব্যবহারকারী নামের নীতি#ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন|নীচের নির্দেশনা]] দেখুন। যদি আপনার ব্যবহারকারী নামটি নীতিমালার লংঘন হিসাবে বিবেচিত হয় তবে আপনাকে স্বেচ্ছায় এটি পরিবর্তন করতে বলা হতে পারে।
বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম বিরুদ্ধ নীতিমালার অংশ হিসাবে, আপনার ব্যবহারকারী নামটি অবশ্যই এমন কোন কিছুর ধারণা দেবে না যা প্রকৃতপক্ষে আপনার অ্যাকাউন্টে নেই। সুতরাং '''[[Wikipedia:Administrators|প্রশাসক]]''', '''[[Wikipedia:Bureaucrats|ব্যুরোক্র্যাট]]''', '''[[m:CheckUser policy|স্টুয়ার্ড]]''', '''[[m:CheckUser policy|ব্যবহারকারী পরীক্ষক]]''', '''গোপনকারী''', বা '''অ্যাডমিন''', '''সিসপ''' বা '''মডারেটর''' এর মতো অনুরূপ পদগুলি ব্যবহারকারী নাম হিসেবে বা কোন ব্যবহারকারী নামে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। এছাড়াও, যদি আপনার অ্যাকাউন্টটি একটি অনুমোদিত বট না হয়, তবে আপনার ব্যবহারকারী নামে '''বট''' (যা [[Wikipedia:Bot policy|বট অ্যাকাউন্টগুলি]] সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়) বা '''স্ক্রিপ্ট''' (যা স্বয়ংক্রিয় সম্পাদনা প্রক্রিয়াগুলির দিকে ইঙ্গিত করে) উল্লেখ করা উচিত নয় যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারী নামে '''উইকিউক্তি''', '''উইকিমিডিয়া''', '''উইকিঅভিধান''' ইত্যাদি বাক্যাংশটিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়, কারণ এই ধরনের নামগুলি, উল্লিখিত অন্তর্ভুক্তির কারণে, এমন ধারণাটি দিতে পারে যে অ্যাকাউন্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফাউন্ডেশন বা এর কোনও প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত।
এই মানদণ্ডগুলি ব্যবহারকারী নাম এবং [[উইকিউক্তি:স্বাক্ষর|স্বাক্ষর]] উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মনে রাখবেন যে আপনার ব্যবহারকারী নাম এবং আপনার স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য আপনাকে একজন অবদানকারী হিসাবে চিহ্নিত করা। যদি আপনার ব্যবহারকারীর নাম বা স্বাক্ষর অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর হয় তবে সম্পাদকরা আপনাকে এটি পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ করতে পারে।
ব্যবহারকারী নাম যা অন্য ভাষায় অনুপযুক্ত, বা যেগুলি ভুল বানান এবং প্রতিস্থাপনের সাথে একটি অনুপযুক্ত নামের প্রতিনিধিত্ব করে, বা পরোক্ষভাবে বা প্রভাব দ্বারা তা করে, সেগুলিও অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয়। পরিশেষে, গ্রহণযোগ্য এবং অগ্রহণযোগ্য ব্যবহারকারী নামের মধ্যে সীমারেখা অন্যান্য সম্পাদকদের মতামতের উপর নির্ভর করে। আপনি যদি কোনও ব্যবহারকারীর নামের অনুমোদন করাতে চান তবে আপনি [[Wikipedia:Request an account|অ্যাকাউন্টের জন্য অনুরোধ]] করে এটি করতে পারেন।
=== কীভাবে আপনার নাম প্রদর্শিত হবে ===
উইকিউক্তির ব্যবহারকারী নাম কেইস সেনসিটিভ এবং ইংরেজিতে হলে প্রতিটি ব্যবহারকারী নামের প্রথম অক্ষরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় হাতের হিসাবে প্রদর্শিত হয়। পূর্বনির্ধারিতভাবে, আপনার ব্যবহারকারী নাম আলোচনা পাতায় কোন মন্তব্যে আপনার স্বাক্ষর হিসাবে উপস্থিত হবে।
আপনার ব্যবহারকারী নামটি একটি "ব্যবহারকারী পাতা" তৈরি করে, যার শিরোনামের ফরম্যাট "ব্যবহারকারী:আপনার নাম", এবং একটি "ব্যবহারকারী আলাপ পাতা" তৈরি করে, যার শিরোনাম "ব্যবহারকারী আলাপ:আপনার নাম"। এর মাধ্যমে লোকেরা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। যদি আপনার ব্যবহারকারী নামটি সাধারণত কোন ভুল বানান হয় তবে আপনার প্রকৃত ব্যবহারকারী নাম থেকে ভুল বানানযুক্ত ব্যবহারকারী নামে একটি পুনর্নির্দেশ যুক্ত করে লোকদের সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনা করুন। যদিও কোনও ব্যবহারকারী পৃষ্ঠা কোনও অবদানকারী দ্বারা তৈরি করা যেতে পারে, কোনও সম্পর্কিত অ্যাকাউন্ট বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক, আপনি সেই ব্যবহারকারীর নামটিকে একটি বৈধ অ্যাকাউন্ট হিসাবে নিবন্ধিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন যাতে এটি নিবন্ধিত এবং অন্য ব্যক্তির দ্বারা ব্যবহৃত হতে না পারে।
=== আসল নাম ===
আসল নাম ব্যবহার করে রাখা অবদান সহজেই একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এটি একজন অবদানকারীকে উইকিউক্তি এবং বাইরে উভয়ক্ষেত্রেই [[Wikipedia:Harassment|হয়রানির]] মতো বিষয়গুলিতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এইরূপ নাম নির্বাচন কিংবা পরিবর্তন করার পূর্বে আপনার আসল নামের অধীনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো বিবেচনা করা উচিত, বিশেষত যদি আপনি উইকিউক্তিতে নিবন্ধ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা আলাপ পাতায় সম্ভাব্য বিতর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে সম্পাদনা বা আলোচনা করার পরিকল্পনা করেন। যদিও অ্যাকাউন্টগুলো পুনঃনামকরণ করা সম্ভব (নীচে আপনার ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন করা দেখুন), এবং সেখানে পূর্ববর্তী নাম পরিবর্তনের একটি রেকর্ড বিদ্যমান থাকবে।
সনাক্তকরণযোগ্য/উল্লেখযোগ্য জীবিত ব্যক্তির নাম ব্যবহারকারী নাম হিসাবে ব্যবহার করে নিবন্ধন করবেন না যদি না এটি আপনার আসল নাম হয়। আপনি যদি কোনও সুপরিচিত ব্যক্তির সাথে কোনও নাম ভাগ করে নেন তবে আপনাকে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে আপনি সেই নামের সুপরিচিত ব্যক্তি নন। এই ধরনের ব্যবহারকারী নামের অ্যাকাউন্টগুলি একটি সতর্কতা সহকারে [[Wikipedia:Blocking policy|অবরুদ্ধ করা]] যেতে পারে, যতক্ষণ না পরিচয়ের প্রমাণ সরবরাহ করা হয়।
* আপনার আসল নাম ব্যবহার করার জন্য যদি আপনাকে অবরুদ্ধ করা হয় তবে দয়া করে এটিকে অপরাধ হিসাবে নিবেন না; আমরা এর মাধ্যমে কাউকে আপনার ছদ্মবেশ ধারণ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি! আপনাকে আমরা আপনার আসল নাম ব্যবহার করার জন্য স্বাগত জানাই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আপনি যা বলছেন তা প্রমাণ করতে হবে। আপনি info-bn@wikimedia.org ঠিকানায় একটি ই-মেইল পাঠিয়ে এটি করতে পারেন; সচেতন থাকুন যে ই-মেইল পরিচালনা করে এমন [[w:উইকিপিডিয়া:স্বেচ্ছাসেবক_প্রতিক্রিয়া_দল|দলটি]] প্রকৃতপক্ষে স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিচালিত হয় এবং সেখানে তাৎক্ষণিক কোন উত্তর সম্ভব নাও হতে পারে।
=== ইন্টারনেট ঠিকানা ===
এরূপ নাম ইন্টারনেটে অন্য কিছুর পরিচয়ের সাথে আপনার উইকিউক্তি পরিচয়ের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
ই-মেইল ঠিকানা এবং ইউআরএল বৈধ ব্যবহারকারী নাম নয়। প্লেইন ডোমেন নামগুলি (''.com'', ''.co.kr'' ইত্যাদি ছাড়া) কখনও কখনও গ্রহণযোগ্য হয়, যেমন যখন ডোমেনের উদ্দেশ্য কেবল আপনাকে একজন ব্যক্তি হিসাবে সনাক্ত করা, তবে সেখানে যদি কোনও বাণিজ্যিক ওয়েব পাতার প্রচারণা চালানো হয় তবে সেটি অনুপযুক্ত। কিছু ব্যবহারকারী তাদের স্ট্যাটিক আইপি ঠিকানার উপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারীর নাম তৈরি করতে পছন্দ করে, তবে এরূপ নাম নির্বাচন করার জন্য অনুৎসাহিত করা হয়।
{{cross}} '''সাধারণত: যা গ্রহণযোগ্য নয়:''' User:Example.com, User:Alice@example.com
=== কোম্পানি বা কোন সম্প্রদায়ের নাম ===
ব্যবহারকারী নাম হিসাবে কোনও সংস্থা, গোষ্ঠী বা পণ্যের নাম বা ইউআরএল-এর দ্ব্যর্থহীন ব্যবহারের অনুমতি সাধারণত দেওয়া হয় না।
* ব্যবহারকারীরা যারা এই ধরনের ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করে এবং কোম্পানি, গোষ্ঠী বা পণ্য সম্পর্কে নিবন্ধগুলিতে অনুপযুক্তভাবে '''[[Wikipedia:What Wikipedia is not#ADVERTISING|প্রচারমূলক আচরণে]]''' জড়িত থাকে, তাদের সাধারণত বাধাদান করা হয়ে '''থাকে'''।
* যে ব্যবহারকারীরা এই ধরনের ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করেন, কিন্তু তারা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধগুলিতে সমস্যাযুক্তভাবে সম্পাদনা করেন '''না''', তাদের বাধাদান করা উচিত '''নয়'''। পরিবর্তে, তাদের তাদের ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করার জন্য আলাপ পাতার মাধ্যমে উৎসাহিত করা উচিত।
একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর নাম গ্রহণযোগ্য কিনা তা নিয়ে [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] নতুন আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।
যে অ্যাকাউন্টগুলি একটি সম্পূর্ণ গোষ্ঠী বা কোম্পানীর প্রতিনিধিত্ব করে তা যেই নামেই যাই হোক না কেন তা অনুমোদিত নয়; নিচে [[#ভাগ করা অ্যাকাউন্ট|অ্যাকাউন্ট ভাগ করা]] দেখুন।
নির্বিশেষে কোন ব্যবহারকারীর নাম দিয়ে প্রচারমূলক সম্পাদনা অনুমোদিত নয়। আপনি যে ব্যবহারকারী নামই চয়ন করুন না কেন, আমাদের [[Wikipedia:Conflict of interest|স্বার্থের সংঘাত নির্দেশিকা]] সমস্ত ব্যবহারকারীকে ব্যবসা, সংস্থা, পণ্য বা অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে নিবন্ধগুলি সম্পাদনা করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেয় যেখানে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। আপনি যদি আপনার কোম্পানী বা গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত যে কোনও নিবন্ধ সম্পাদনা করতে পছন্দ করেন তবে আপনাকে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পাদনা করার বিষয়ে [[Wikipedia:Best practices for editors with conflicts of interest|উইকিউক্তির পরামর্শগুলি সাবধানে অনুসরণ করতে হবে]]।
{{cross}} '''সাধারণত গ্ৰহণযোগ্য নয়:''' User:CompanyName, User:Buy example product today, User:Marketing department's account, User:Students in 3rd hour science
=== অ-বাংলা ব্যবহারকারী নাম ===
ব্যবহারকারী নাম বাংলাতে থাকার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। উপরন্তু, অবদানকারীদের [[বাংলা বর্ণমালা]] ব্যবহার করে বানান করা হয় না এমন ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করার জন্য স্বাগত জানানো হয়, তবে মনে রাখা উচিত যে অ-বাংলা ভাষার স্ক্রিপ্টগুলি (যেমন আরবি, সিরিলিক, চীনা, গ্রীক বা জাপানি) বাংলা উইকিউক্তির বেশিরভাগ অবদানকারীর কাছে অ-বোধগম্য, এবং কখনও কখনও অক্ষরগুলি সঠিকভাবে প্রদর্শিত নাও হতে পারে। বিভ্রান্তি এড়াতে এবং যোগাযোগে সহায়তা করার জন্য, এই জাতীয় ব্যবহারকারী নামযুক্ত ব্যবহারকারীদের তাদের স্বাক্ষরে বাংলা অক্ষর ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়।<!--বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী স্থানীয়করণ-->
=== অনুরূপ ব্যবহারকারী নাম ===
বিদ্যমান ব্যবহারকারীর নামের অনুরূপ ব্যবহারকারীর নামগুলো কেবল [[Wikipedia:Administrators|প্রশাসক]] এবং অ্যাকাউন্ট স্রষ্টাদের দ্বারা তৈরি করা যেতে পারে; আপনি যদি এই ধরনের একটি ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করতে চান তবে আপনি [[w:WP:Request_an_account|অ্যাকাউন্ট তৈরির অনুরোধ করুন]]-এ এটি তৈরির জন্য অনুরোধ করতে পারেন। আপনার অবশ্যই এমন কোনও ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহার করা উচিত নয় যা সহজেই সক্রিয় অবদানকারীর সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে; একটি ব্যবহারকারী নাম যা শুধুমাত্র অব্যবহৃত বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের অনুরূপ, এক্ষেত্রে সেগুলো কোন সমস্যা হওয়া উচিত নয়। [[বিশেষ:ব্যবহারকারীর তালিকা]] অনুরূপ ব্যবহারকারী নাম পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যে প্রোগ্রামটি অনুরূপ নাম পরীক্ষা করে তা কিছুটা বেশি সংবেদনশীল- যদি ব্যবহারকারীর নাম অন্য লোকেদের দুটি ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট আলাদা হয় তবে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টটি কতটা সক্রিয় তা বিবেচনা না করেই অ্যাকাউন্টটি অনুমোদিত হওয়া উচিত।
একজন ব্যবহারকারীকে এমন নাম বেছে নেওয়া উচিত নয় যা একজন বিদ্যমান সম্পাদকের সাথে কোন সম্পর্ক-কে উপস্থাপন করে। (যদি না অ্যাকাউন্টটি প্রকৃতপক্ষে তার মালিকানাধীন হয় বা সম্পর্কটি উক্ত সম্পাদকের দ্বারা স্বীকৃত হয়)।
যদি আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্য কোন অবদানকারী বা নিবন্ধের অনুরূপ হয়, তাহলে দ্ব্যর্থতা নিরসন ব্যবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ব্যবহারকারী পৃষ্ঠার শীর্ষে {{tl|এর সাথে বিভ্রান্ত হবেন না}} যোগ করে।
== অনুপযুক্ত ব্যবহারকারী নাম মোকাবেলা ==
যদি আপনি একটি অনুপযুক্ত ব্যবহারকারীর নামের সম্মুখীন হন - বিশেষ করে, একটি ব্যবহারকারী নাম যা '''বিভ্রান্তিকর''', '''প্রচারণামূলক''', '''আপত্তিকর''', বা '''বিঘ্নিত''' যেমন উপরে বর্ণিত হয়েছে, তবে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তার জন্য আপনার কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। সমস্যাটির তীব্রতার উপর ভিত্তি করে এবং উইকিউক্তির জন্য কোন পদ্ধতিটি সর্বোত্তম হবে তার উপর ভিত্তি করে আপনার পদ্ধতি চয়ন করা উচিত। এক্ষেত্রে পছন্দ করার জন্য সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করুন, এবং নবাগতদের দংশানো এড়িয়ে চলুন।
;ব্যবহারকারীর সাথে আলোচনা করুন: অনেক ব্যবহারকারী যারা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তারা হয়তো এই নীতিটি পড়েননি। আপনি যদি এমন কোনও ব্যবহারকারীর নাম দেখেন যা সমস্যাযুক্ত তবে স্পষ্টতই কোন অনৈতিক কারণে তৈরি করা হয়নি, তবে আপনি ব্যবহারকারীকে আরও ভাল একটি ব্যবহারকারী নামে [[#ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন|ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন করতে]] বা একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। প্রায়শই, সমস্যাটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা যেতে পারে।
;মন্তব্যের অনুরোধ: যদি আপনি কোনও ব্যবহারকারীকে তাদের ব্যবহারকারী নামের জন্য বাধাদান করা উচিত কিনা সে সম্পর্কে অনিশ্চিত হন - উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি তাদের সাথে তাদের ব্যবহারকারী নামের কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে থাকেন তবে তারা এটি পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে - তবে আপনি ব্যবহারকারী নামটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য একটি মন্তব্যের অনুরোধ খুলতে পারেন, অন্য ব্যবহারকারীদের নামটি ব্যবহারের অনুমতি দিবেন বা বাধাদান করবেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। নিশ্চিত করুন যে আপনি প্রথমে ব্যবহারকারীর সাথে তার আলাপ পাতায় নামের সমস্যা সম্পর্কে কথোপকথনের চেষ্টা করেছেন এবং আপনি তাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সময় দিয়েছেন। সর্বদা, ব্যবহারকারী নাম নিয়ে কাজ করার সময় আস্থা রাখুন যা স্পষ্টভাবে সীমার বাইরে চলে যায় না।
;গুরতর লঙ্ঘন: এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো উপযুক্ত কারণসহ উক্ত ব্যবহারকারীর আলাপ পাতায় {{tltts|uw-username}} ব্যবহার করে কোন প্রশাসকের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এব্যাপারে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] রিপোর্ট করা যেতে পারে।<ref>বাংলা উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত বর্তমান পদ্ধতির বর্ণনা</ref>
;স্বার্থের সংঘাত:যদি ব্যবহারকারী নামটি কেবল ইঙ্গিত দেয় যে ব্যবহারকারীর স্বার্থের সংঘাত রয়েছে, তবে ব্যবহারকারীর আলাপ পাতায় টেমপ্লেটটি যুক্ত করুন এবং গুরতর সমস্যার ক্ষেত্রে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] রিপোর্ট করুন।<!--বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী স্থানীয়করণ-->
;অন্যান্য নীতিমালা: ব্যবহারকারী নামের নীতিটি অন্যন্য নীতিমালাকে এড়িয়ে যায় না। আপনি যদি এমন কোনও ব্যবহারকারীকে খুঁজে পান যিনি অনুপযুক্ত ব্যবহারকারীর নামের অধীনে স্প্যামিং বা ধ্বংসপ্রবণতা করছেন, এক্ষেত্রে আপনার [[WQ:SPAM|স্প্যাম]] বা [[WQ:VAND|ধ্বংসপ্রবণতা]] নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত।
খুবই স্পষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত ব্যবহারকারীর আলাপ পাতায় ব্যবহারকারী নামের নীতি লংঘনের বার্তা দেওয়া উচিত নয় বা প্রশাসকদের আলোচনাসভায় রিপোর্ট করাও উচিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে উক্ত ব্যবহারকারীর কোন সম্পাদনা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত যাতে তার উদ্দেশ্য বোঝা যেতে পারে।
তবে মনে রাখবেন যে প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শব্দ যা এক প্রসঙ্গে আপত্তিকর বলে মনে হতে পারে, একই শব্দের আরও ভালো অর্থও থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও ব্যবহারকারী নাম নীতিমালা লঙ্ঘন কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য কোনও মৌলিক সূত্র নেই, সবসময় সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করুন এবং মনে রাখবেন যে একজন নতুন ব্যবহারকারীকে বাধাদান করা এমন একটি কাজ যা আসলে আমরা '''করতে চাই না''', এটি এমন কিছু যা আমরা তখনই করি যখন উইকিউক্তিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন হয়।
যদি প্রাথমিক সমস্যাটি ব্যবহারকারী নাম নিয়ে না হয়, কিন্তু ব্যবহারকারী ধ্বংসাত্মক সম্পাদনা করে ব্যবহারকারী নামের বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে সাধারণত বড় সমস্যাটির জন্য বাধাদান করা ভালো। একটি বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম সহ একজন ধ্বংসাত্মক সম্পাদনাকারী বা স্প্যামারের বিরুদ্ধে [[AP:AN|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] রিপোর্ট করা উচিত যাতে তাদের ধ্বংসাত্মক সম্পাদনা বা স্প্যামের জন্য অবরুদ্ধ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর নামটি স্পষ্ট করতে সহায়তা করবে যে তারা বিঘ্নিত সম্পাদনা করছে।
=== বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম ===
কিছু ব্যবহারকারীর নাম চারটি অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন না হলেও সমস্যাযুক্ত বলে মনে হয়। এটি প্রায়শই বিভ্রান্তিকর বা অত্যন্ত দীর্ঘ ব্যবহারকারীর নামগুলির ক্ষেত্রে হয়, যা নিরুৎসাহিত হয় তবে যা একেবারেই উপযুক্ত নয় সেক্ষেত্রে তাদের বার্তা দিয়ে বাধাদান করা প্রয়োজন।
বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম প্রায়শই অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টির একটি কারণ হতে পারে। বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম বা স্বাক্ষরসহ একজন সম্পাদককে অন্যান্য অনুপযুক্ত আচরণের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত সময়ে অবরুদ্ধ করা যেতে পারে যদি তারা বিভ্রান্তিকর ব্যবহারকারী নাম দিয়ে অপব্যবহার করেন, যেমন সম্পাদনা যুদ্ধ বা ধ্বংসাত্মক সম্পাদনা। এসমস্ত ক্ষেত্রে অন্যান্য সব বাধাদানের মতো, প্রশাসকদের তাদের বিচক্ষণতা এবং সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করা উচিত।
<!--
=== Usernames for Administrator Attention guidelines ===
[[WQ:UAA|Usernames for administrator attention]] is a noticeboard for drawing attention to abusive usernames quickly. See [[Wikipedia:Usernames for administrator attention/Instructions]] for information on how to place or resolve UAA reports, including the options that are available to administrators.
-->
===ব্যতিক্রম===
কিছু ব্যবহারকারী নাম যেগুলো এই নীতিমালার লঙ্ঘন বলে মনে হয় তাদের ঐকমত্য অনুসারে উক্ত নাম ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কারণ সেগুলো নীতিমালা পরিবর্তনের আগে তৈরি করা হয়েছিল যা বর্তমানে এই জাতীয় নামগুলি নিষিদ্ধ। এই সম্পাদকরা সাধারণত বেশ কয়েক বছর ধরে রয়েছেন, এবং এটি সাধারণত এমন ক্ষেত্রে হবে যে বিষয়টি আগে আলোচনা করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে এমন নামের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার পূর্বে সেই ব্যবহারকারীর আলাপ পাতা (এবং সংগ্ৰহশালা যদি প্রযোজ্য হয়) এবং [[WQ:AN|প্রশাসকদের আলোচনাসভার]] সংগ্ৰহশালা এবং মন্তব্যের অনুরোধগুলিতে অনুসন্ধান করুন।
== ভাগ করা অ্যাকাউন্ট ==
যে কোনও ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টকে কোনও ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করা উচিত, একটি গোষ্ঠীর নয় (এবং একজন ব্যক্তির সাধারণত কেবলমাত্র একটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত; পরবর্তী অনুচ্ছেদ দেখুন)। একটি অ্যাকাউন্ট ভাগ করে নেওয়া - বা একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যদের সাথে ভাগ করা অনুমোদিত নয়, এবং এরূপ কার্যক্রম প্রমাণিত হলে ব্যবহারকারীকে উক্ত অনুশীলন বন্ধ করতে হবে এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এরূপ অ্যাকাউন্টে বাধাদান করা হয়। কোনও গোষ্ঠী বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলির জন্য, উপরে {{slink||প্রচারমূলক ব্যবহারকারী নাম}} এবং {{slink||ব্যবহারকারীর নামগুলি যা ভাগ করা ব্যবহার বোঝায়}} দেখুন।
ইমেইল সুবিধা প্রদানের জন্য অনুমোদিত '''অ-সম্পাদনা''' অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম করা যেতে পারে, [[foundation:|উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন]] দ্বারা অনুমোদিত অ্যাকাউন্টগুলি ([[WQ:Sockpuppetry#List of role accounts|তালিকা]] দেখুন), এবং বট অ্যাকাউন্টগুলি যা একাধিক অবদানকারী দ্বারা পরিচালিত হয়, সেখানে এই ধরনের একটি ব্যবস্থার অস্তিত্ব স্পষ্ট করা হয় এবং তাদের মধ্যকার ঐকমত্য উপস্থিত থাকে।
== একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার ==
এটি সুপারিশ করা হয় যে অবদানকারীরা উপযুক্ত কারণ ছাড়া একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন না। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যবহারকারী তার মূল অ্যাকাউন্টকে আরও সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্কতা হিসাবে পাবলিক কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য একটি বিকল্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চাইতে পারেন। যে কোনও ধরণের স্বয়ংক্রিয় সম্পাদনা প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী অবদানকারীদের একটি বিকল্প [[Wikipedia:Bot policy|বট অ্যাকাউন্টের]] ব্যবহার করা উচিত। একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের তাদের ব্যবহারকারী পাতায় বিকল্প অ্যাকাউন্টের ঘোষণা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এক্ষেত্রে {{tl|বিকল্প অ্যাকাউন্ট}} বা [[:en:Wikipedia:Userboxes/Wikipedia/Related accounts|ব্যবহারকারী বাক্স]] ব্যবহার করা যেতে পারে।
এটি করার জন্য প্রতিষ্ঠিত নীতির বাইরে একাধিক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার [[Wikipedia:Sockpuppetry|সকপাপেট্রি]] হিসাবে পরিচিত, এবং এটি অনুমোদিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোন প্রস্তাব বা অনুরোধের উপর মন্তব্য করতে, ভোট দিতে, বা [[Wikipedia:Edit warring|সম্পাদনা যুদ্ধে]] জড়িত হওয়া যাবে না। যেহেতু নীতিমালাগুলো অ্যাকাউন্ট নয় বরং পরিচালনাকারী ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য তাই [[Wikipedia:Blocking policy|অবরুদ্ধ]] বা [[Wikipedia:Banning policy|নিষিদ্ধ]] ব্যবহারকারীদের বাধাদান প্রতিহত করার জন্য বিকল্প অ্যাকা
উন্ট ব্যবহার করা উচিত নয়; এটি করার ফলে বাধাদান বা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
== ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন ==
ব্যবহারকারী নাম [[m:Global renamers|বৈশ্বিক নাম পরিবর্তনকারী দলের]] সদস্যদের দ্বারা পরিবর্তন করা যেতে পারে; এরজন্য মেটার ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তনের আবেদন পাতায় অনুরোধ করতে হবে।
একবার কোন ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন করা হলে, বিদ্যমান অবদানগুলি পাতার ইতিহাস, পার্থক্য, [[Special:Log|লগ]] এবং [[Special:Contributions|ব্যবহারকারীর অবদানের তালিকায়]] নতুন নামের অধীনে তালিকাভুক্ত করা হবে। আলোচনা পাতায় স্বাক্ষরে পুরানো নামটিই থাকবে; যদিও এগুলি হাতদ্বারা পরিবর্তন করা যেতে পারে, তবে এটি সুপারিশ করা হয় না যদি না কোনও অবদানকারী গোপনীয়তার কারণে তাদের প্রাক্তন নাম সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য অপসারণ করতে চায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পুরানো নামটি এখনও আলোচনা পাতার পুরানো সংস্করণগুলিতে উপলব্ধ থাকবে। ব্যবহারকারী নাম পরিবর্তন [[Special:Log/renameuser|ব্যবহারকারী নামান্তরের লগ]] এবং [[m:Special:Log/gblrename|বৈশ্বিক নামান্তরের লগে]] তালিকাভুক্ত করা হয়।
=== {{anchor|অ্যাকাউন্ট অপসারণ}}অ্যাকাউন্ট অপসারণ ও একত্রীকরণ===
ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা সম্ভব নয়, কারণ সমস্ত অবদানের কৃতিত্ব অবশ্যই কোন ব্যক্তিকে বরাদ্দ করা আবশ্যক; এটি হতে পারে একটি ব্যবহারকারী নাম বা একটি [[আইপি ঠিকানা]]।<ref>[[bugzilla:32815|T32815]] দেখুন</ref> যে সম্পাদকরা গোপনীয়তার জন্য হারিয়ে যাওয়া/[[m:Right to Vanish|অদৃশ্য হওয়ার উপায়]] খুঁজছেন তারা সাধারণত তাদের অ্যাকাউন্টগুলির নাম পরিবর্তন করতে পারেন এবং তাদের ব্যবহারকারী পাতাগুলো (এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর আলাপ পৃষ্ঠাগুলি) মুছে ফেলতে পারেন।
বর্তমানে বাংলা উইকিউক্তিতে ব্যবহারকারী একাউন্ট একত্রীকরণ করা সম্ভব নয়।
==আরও দেখুন==
* [[Wikipedia:Identification]]
* [[w:WP:Usernames_for_administrator_attention|Wikipedia:Usernames for administrator attention]]
* [[w:Wikipedia:Naming_conventions_(technical_restrictions)#Restrictions_on_usernames|Wikipedia:Naming conventions (technical restrictions)#Restrictions on usernames]]
* [[m:Help:Unified login]]
== টীকা ==
[[বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়া ব্যবহারকারী আচরণ]]
[[বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়া আচরণ নীতিমালা]]
[[Category:উইকিপিডিয়া ব্যবহারকারী নাম]]
[[Category:উইকিপিডিয়া স্প্যাম]]
19oikfcnshlawucjaspweyxcbqd0t7x
ব্যবহারকারী:MS Sakib/খেলাঘর
2
6170
76184
72941
2026-04-12T22:41:44Z
MS Sakib
35
পাতাকে '{| class="wikitable sortable" ! # !! ব্যবহারকারী !! গৃহীত !! অপর্যালোচিত !! বাতিল !! মোট শব্দ !! নিবন্ধ |- | 1 || ARI || 137873 || 0 || 0 || 137873 || 6 |- | 2 || Sumanta3023 || 21741 || 7966 || 2896 || 32603 || 26 |- | 3 || Oindrojalik Watch || 12415 || 0 || 0 || 12415 || 2 |- | 4 || Nil Nandy || 10445 || 0 || 0...' দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হল
76184
wikitext
text/x-wiki
{| class="wikitable sortable"
! # !! ব্যবহারকারী !! গৃহীত !! অপর্যালোচিত !! বাতিল !! মোট শব্দ !! নিবন্ধ
|-
| 1 || ARI || 137873 || 0 || 0 || 137873 || 6
|-
| 2 || Sumanta3023 || 21741 || 7966 || 2896 || 32603 || 26
|-
| 3 || Oindrojalik Watch || 12415 || 0 || 0 || 12415 || 2
|-
| 4 || Nil Nandy || 10445 || 0 || 0 || 10445 || 6
|-
| 5 || SMontaha32 || 6881 || 2881 || 5625 || 15387 || 13
|-
| 6 || Anaf Ibn Shahibul || 5319 || 9427 || 18692 || 33438 || 15
|-
| 7 || Amirhusenjihed || 2569 || 0 || 495 || 3064 || 3
|-
| 8 || Humaira.thithi || 2305 || 0 || 932 || 3237 || 7
|-
| 9 || Borhan || 1662 || 0 || 0 || 1662 || 6
|-
| 10 || R1F4T || 1604 || 1971 || 249547 || 253122 || 15
|-
| 11 || Raihanur || 1542 || 0 || 0 || 1542 || 3
|-
| 12 || Firuz Ahmmed || 530 || 0 || 1080 || 1610 || 3
|-
| 13 || Asad.fr || 364 || 0 || 2935 || 3299 || 3
|-
| 14 || JIBON || 360 || 0 || 818 || 1178 || 3
|-
| 15 || নিয়াজ ইসলাম || 310 || 0 || 0 || 310 || 1
|-
| 16 || মোহাম্মদ জনি হোসেন || 178 || 0 || 493 || 671 || 3
|-
| 17 || Salil Kumar Mukherjee || 0 || 0 || 4479 || 4479 || 1
|-
| 18 || Md. Rayan Alam Rifat || 0 || 0 || 176 || 176 || 1
|-
| 19 || MD RADWAN ISLAM || 0 || 0 || 274 || 274 || 6
|-
| 20 || AKM Mahinur Rahman || 0 || 0 || 419 || 419 || 2
|-
| 21 || MD RADWAN ISLAM ROHAN || 0 || 0 || 0 || 0 || 5
|-
| 22 || ShahinurWrites || 0 || 0 || 0 || 0 || 1
|-
| 23 || Abdullah Al Shishir || 0 || 0 || 0 || 0 || 1
|-
| 24 || চ্যাম্পিয়ন স্টার ১ || 0 || 0 || 312 || 312 || 1
|}
0am6w04sot5kgerimd1x8tos2y8r1w0
76186
76184
2026-04-12T23:01:54Z
MS Sakib
35
পাতা খালি করা হয়েছে
76186
wikitext
text/x-wiki
phoiac9h4m842xq45sp7s6u21eteeq1
উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/অংশগ্রহণকারী
4
8879
76151
75667
2026-04-12T17:27:34Z
~2026-22545-06
5021
76151
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel = নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
* {{ব্যবহারকারী|Yahya}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Mobashir Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Ishtiak Abdullah}}
* {{ব্যবহারকারী|Arafatul Islam Akan Robi}}
* {{ব্যবহারকারী|Asked42}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Arijit Kisku}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Kawsar123}}
* {{ব্যবহারকারী|রিজওয়ান আহমেদ}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. T Mahtab}}
* {{ব্যবহারকারী|Tahmid}}
* {{ব্যবহারকারী|Ovisahabd}}
* {{ব্যবহারকারী|SHOVON (Sirajganj)}}
* {{ব্যবহারকারী|Yasser Raihan}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Forhad Hossain0007}}
* {{ব্যবহারকারী|RDasgupta2020}}
* {{ব্যবহারকারী|IqbalHossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Shariyar Nayeem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arpon das.0}}
* {{ব্যবহারকারী|Saadi095}}
* {{ব্যবহারকারী|Moheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Muqtadir Fuad}}
* {{ব্যবহারকারী|Batul roy}}
* {{ব্যবহারকারী|কমলেশ মন্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir Sikder 24}}
* {{ব্যবহারকারী|মির্জা ইউসুফ আলী}}
* {{ব্যবহারকারী|Sourav Saha Shubho}}
* {{ব্যবহারকারী|Musab Arifi}}
* {{ব্যবহারকারী|Ali yousuf bd}}
* {{ব্যবহারকারী|Hasnat Abdullah}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Abu Jafor Sifatulla}}
* {{ব্যবহারকারী|Sajid Reza Karim}}
* {{ব্যবহারকারী|Bikram Chandra Sarkar}}
* {{ব্যবহারকারী|Dr. Mosaddek Khondoker}}
* {{ব্যবহারকারী|Johurul Hasan Adil}}
* {{ব্যবহারকারী|Maxwell056789}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Md jalal islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Ei to ami akash}}
* {{ব্যবহারকারী|Mhnaim4444}}
* {{ব্যবহারকারী|Nusrat Binta Rahman61}}
* {{ব্যবহারকারী|Supreme Intelligent boy}}
* {{ব্যবহারকারী|অর্পিতা মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|সাইফুল ইসলাম আনিক}}
* {{ব্যবহারকারী|Sharmin Sultana Shimu}}
* {{ব্যবহারকারী|অজয় অধিকারী }}
* {{ব্যবহারকারী|Bsrkr}}
* {{ব্যবহারকারী|Onindita}}
* {{ব্যবহারকারী|Sima Razbongshi}}
* {{ব্যবহারকারী|আইমান আক্তার মারিয়া}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Shuvo Sheikh}}
* {{ব্যবহারকারী|Mijanwiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Stuxnet.02}}
* {{ব্যবহারকারী|Zain Huda Abdullah}}
* {{ব্যবহারকারী|তানবির হোসেন জয়}}
* {{ব্যবহারকারী|Wikitahsin}}
* {{ব্যবহারকারী|Farhan Sawad}}
* {{ব্যবহারকারী|Mahadi hasan tresad}}
* {{ব্যবহারকারী|Jahid muhammad}}
* {{ব্যবহারকারী|Mashkawat.ahsan}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Sayeem Sarower}}
* {{ব্যবহারকারী|শাহরিয়ার হাসান শান্ত}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Rashidul Hasan Biplob}}
* {{ব্যবহারকারী|Pkparvej1}}
* {{ব্যবহারকারী|Pradip chandra}}
* {{ব্যবহারকারী|মাহমুদ ইরফান}}
* {{ব্যবহারকারী|Moajjam}}
* {{ব্যবহারকারী|লিচুচোর০}}
* {{ব্যবহারকারী|Foysal Ahmmed Roni}}
* {{ব্যবহারকারী|SMontaha32}}
* {{ব্যবহারকারী|Zakarira}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammad Abdul Hakim}}
* {{ব্যবহারকারী|সরোজ কুমার রায়}}
* {{ব্যবহারকারী|Jahid muhammad}}
* {{ব্যবহারকারী|Dark1618}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohanur Rahman 2.0}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumon7943}}
* {{ব্যবহারকারী|Elma akter asha}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Habibur R Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Rafiqul Islam88}}
* {{ব্যবহারকারী|Rony sekh}}
* {{ব্যবহারকারী|যুবায়ের হোসাইন কায়েফ}}
* {{ব্যবহারকারী|Hittykom}}
* {{ব্যবহারকারী|Kim yuo}}
* {{ব্যবহারকারী|Malihamoni}}
* {{ব্যবহারকারী|Thasin Akib}}
* {{ব্যবহারকারী|নজরুল মোস্তফা}}
* {{ব্যবহারকারী|Mistimohor}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyad}}
* {{ব্যবহারকারী|Udiptodas}}
* {{ব্যবহারকারী|Udiptodas}}
* {{ব্যবহারকারী|Fariha Islam Mazumder}}
* {{ব্যবহারকারী|Rafi Bin Tofa}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Afroja Sultana Moni}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohanti Das}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Abu Siyam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD. MAHAMUDUL HASAN RIMON}}
* {{ব্যবহারকারী|রাশেদুল ইসলাম ওমর}}
* {{ব্যবহারকারী|Deboraj Das 321}}
* {{ব্যবহারকারী|OJAIER AHMED SHANIN}}
* {{ব্যবহারকারী|Subhaldar100}}
* {{ব্যবহারকারী|Bluish Aura}}
* {{ব্যবহারকারী|Maasud12}}
* {{ব্যবহারকারী|Subhranil Hazra}}
* {{ব্যবহারকারী|Jubayer Ahmad Sadif}}
* {{ব্যবহারকারী|Masumoon}}
* {{ব্যবহারকারী|Aishik Rehman}}
* {{ব্যবহারকারী|আফরোজ মেহরুবা}}
* {{ব্যবহারকারী|Raisulislamrahy}}
* {{ব্যবহারকারী|Nahidd-69}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ জাকারিয়া মুন্না}}
* {{ব্যবহারকারী|Munnaldc}}
* {{ব্যবহারকারী|NAYEM AHMED RAHII}}
* {{ব্যবহারকারী|Mehedi Abedin}}
* {{ব্যবহারকারী|লাবনী আক্তার}}
* {{ব্যবহারকারী|MD ASIF Ahammed}}
* {{ব্যবহারকারী|Irshad meadad}}
* {{ব্যবহারকারী|RatulHasanRuhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Roksana akther Riya}}
* {{ব্যবহারকারী|Mustakhye}}
* {{ব্যবহারকারী|Md rafiqul islam siiyam}}
* {{ব্যবহারকারী|কবি সৌরভ}}
* {{ব্যবহারকারী|মিসকাতুল জান্নাত মহুয়া}}
* {{ব্যবহারকারী|প্রতাপ বনিক}}
* {{ব্যবহারকারী|সামিহা তাসনিম মিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Sa'Adat-E-Zubaire}}
* {{ব্যবহারকারী|MD MUNTASIM RIAD AFIQ}}
* {{ব্যবহারকারী|Alamin mondal}}
* {{ব্যবহারকারী|Mahir Asef Sheikh}}
* {{ব্যবহারকারী|Khaled Mohammad Saifullah}}
* {{ব্যবহারকারী|Mallik Shimul}}
* {{ব্যবহারকারী|Samira himu}}
* {{ব্যবহারকারী|Emad.najid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sangram hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Chandrika Barua}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahadot Khan}}
* {{ব্যবহারকারী|পারভিন সুলতানা}}
* {{ব্যবহারকারী|Gdsaifulcdshawon}}
* {{ব্যবহারকারী|Hajera Akter}}
* {{ব্যবহারকারী|Dilshan Islam Priam Dilshan Islam Priam}}
* {{ব্যবহারকারী|Nyr920}}
* {{ব্যবহারকারী|Skmsimanto}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Ahmod Hasan}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ পারভেজ মোশারাফ}}
* {{ব্যবহারকারী|Ab Johuri}}
* {{ব্যবহারকারী|MD. MAHAMUDUL HASAN RIMOM}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Ratin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD. MAHAMUDUL HASAN RIMOM}}
* {{ব্যবহারকারী|Freelancer Fozlu}}
* {{ব্যবহারকারী|Najmol Hasan}}
* {{ব্যবহারকারী|Najmol Hasan}}
* {{ব্যবহারকারী|MD. MAHAMUDUL HASAN RIMOM}}
* {{ব্যবহারকারী|Sultana Takiya}}
* {{ব্যবহারকারী|তাবাসসুম মেহজাবিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sultana Takiya}}
* {{ব্যবহারকারী|তাবাসসুম মেহজাবিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Muhammad Arshadul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মাহজাবিন}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ আলী বাবুল}}
* {{ব্যবহারকারী|Obaydul Munshi}}
* {{ব্যবহারকারী|Wahida Akter Poly}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SHOJIB MOLLA}}
* {{ব্যবহারকারী|Ptdas}}
* {{ব্যবহারকারী|Aliya Rupa}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ সাকিব খান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ সাকিব খান}}
* {{ব্যবহারকারী|Zzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|মুহাম্মদ মাহিদ মিয়া}}
* {{ব্যবহারকারী|Deboraj das}}
* {{ব্যবহারকারী|Fahim Foysal Apurba}}
* {{ব্যবহারকারী|Taiyaba Erin jahan}}
* {{ব্যবহারকারী|Shanto hossin}}
* {{ব্যবহারকারী|Khondokar Enamul Haque}}
* {{ব্যবহারকারী|আবির কান}}
* {{ব্যবহারকারী|Toriq RImon}}
* {{ব্যবহারকারী|Safayetrahmanrifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ishtiak Abdullah}}
* {{ব্যবহারকারী|Goutam Dey1}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminulnb77}}
* {{ব্যবহারকারী|কবি আজহারুল ইসলাম তালহা}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|~2026-22545-06}}
d0sbv9nd1mshf61gafuail3q9zts4zh
ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy
3
9569
76048
75348
2026-04-12T12:44:44Z
Md shakhhawat Hossain
5000
76048
wikitext
text/x-wiki
--[[ব্যবহারকারী:Md shakhhawat Hossain|Md shakhhawat Hossain]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md shakhhawat Hossain|আলাপ]]) ১২:৪৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি){{স্বাগতম}}[[ব্যবহারকারী:DeloarAkram|DeloarAkram]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DeloarAkram|আলাপ]]) ১০:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== কণাদ ==
[[কণাদ]] পাতাটিতে ইংরেজি পাতা থেকে সব সূত্রে লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে এখানে আমাকে মেনশন করে জানান। অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকলে সেটা বের করে আশাকরি নিজ দায়িত্বে ঠিক করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৯, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সবকটা সূত্রে লিংক যোগ করেছি। আরেকবার পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy|নীল নন্দী]] ১৪:৫৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Nil Nandy|Nil Nandy]] গ্রহণ করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
--[[ব্যবহারকারী:Md shakhhawat Hossain|Md shakhhawat Hossain]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Md shakhhawat Hossain|আলাপ]]) ১২:৪৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
t8pfkpra1j8q008t2dlta1s2n9hdt01
76052
76048
2026-04-12T13:07:01Z
Nil Nandy
2294
[[Special:Contributions/Md shakhhawat Hossain|Md shakhhawat Hossain]] ([[User talk:Md shakhhawat Hossain|আলাপ]])-এর সম্পাদিত [[Special:Diff/76048|76048]] নম্বর সংশোধনটি বাতিল করা হয়েছে
76052
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগতম}}[[ব্যবহারকারী:DeloarAkram|DeloarAkram]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DeloarAkram|আলাপ]]) ১০:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== কণাদ ==
[[কণাদ]] পাতাটিতে ইংরেজি পাতা থেকে সব সূত্রে লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে এখানে আমাকে মেনশন করে জানান। অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকলে সেটা বের করে আশাকরি নিজ দায়িত্বে ঠিক করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৯, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সবকটা সূত্রে লিংক যোগ করেছি। আরেকবার পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy|নীল নন্দী]] ১৪:৫৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Nil Nandy|Nil Nandy]] গ্রহণ করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
bm92nymckul40wef1d4b5oaery8hfwd
উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬
5
11851
76060
76023
2026-04-12T13:27:10Z
~2026-22486-44
5002
/* দেশপ্রেম */ নতুন অনুচ্ছেদ
76060
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার ==
আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার টাকার অনেক বেশি [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৩:৪০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো ==
আমা [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো আমি ==
আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য আমার একটা কিডনি বিক্রি করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে ==
01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে [[বিশেষ:অবদান/~2026-22604-69|~2026-22604-69]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22604-69|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Youdha movie ==
ami anik das [[বিশেষ:অবদান/~2026-22423-95|~2026-22423-95]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22423-95|আলাপ]]) ০৭:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Azad Ali Murshidabad district 60 Sagardighi ISF BLOCK SECRATARY ==
Kichu alochona ache jeta sms kore bola jayna apni apnar accounter der bolen amar songe contract korbe m-7098940252 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22397-36|~2026-22397-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22397-36|আলাপ]]) ০৭:৪১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
কিভাবে ইন্সুরেন্স অর্ডার করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22548-62|~2026-22548-62]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22548-62|আলাপ]]) ০৯:৫১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দেশপ্রেম ==
আমি মোহাম্মদ আরিফ শিকদার
কন্টাক্ট নাম্বার 01909037020
01620906312 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22486-44|~2026-22486-44]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22486-44|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
9y2xqountb6ylzvoaprdilhwryxodap
76116
76060
2026-04-12T15:02:56Z
~2026-22536-47
5007
/* 500 */ নতুন অনুচ্ছেদ
76116
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার ==
আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার টাকার অনেক বেশি [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৩:৪০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো ==
আমা [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো আমি ==
আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য আমার একটা কিডনি বিক্রি করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে ==
01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে [[বিশেষ:অবদান/~2026-22604-69|~2026-22604-69]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22604-69|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Youdha movie ==
ami anik das [[বিশেষ:অবদান/~2026-22423-95|~2026-22423-95]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22423-95|আলাপ]]) ০৭:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Azad Ali Murshidabad district 60 Sagardighi ISF BLOCK SECRATARY ==
Kichu alochona ache jeta sms kore bola jayna apni apnar accounter der bolen amar songe contract korbe m-7098940252 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22397-36|~2026-22397-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22397-36|আলাপ]]) ০৭:৪১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
কিভাবে ইন্সুরেন্স অর্ডার করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22548-62|~2026-22548-62]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22548-62|আলাপ]]) ০৯:৫১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দেশপ্রেম ==
আমি মোহাম্মদ আরিফ শিকদার
কন্টাক্ট নাম্বার 01909037020
01620906312 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22486-44|~2026-22486-44]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22486-44|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 500 ==
01709894185 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
f4m18bha59ncqk1b7xcq3k4s5as2qj4
76117
76116
2026-04-12T15:05:04Z
~2026-22536-47
5007
/* 01709894185 */ নতুন অনুচ্ছেদ
76117
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার ==
আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার টাকার অনেক বেশি [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৩:৪০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো ==
আমা [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো আমি ==
আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য আমার একটা কিডনি বিক্রি করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে ==
01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে [[বিশেষ:অবদান/~2026-22604-69|~2026-22604-69]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22604-69|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Youdha movie ==
ami anik das [[বিশেষ:অবদান/~2026-22423-95|~2026-22423-95]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22423-95|আলাপ]]) ০৭:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Azad Ali Murshidabad district 60 Sagardighi ISF BLOCK SECRATARY ==
Kichu alochona ache jeta sms kore bola jayna apni apnar accounter der bolen amar songe contract korbe m-7098940252 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22397-36|~2026-22397-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22397-36|আলাপ]]) ০৭:৪১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
কিভাবে ইন্সুরেন্স অর্ডার করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22548-62|~2026-22548-62]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22548-62|আলাপ]]) ০৯:৫১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দেশপ্রেম ==
আমি মোহাম্মদ আরিফ শিকদার
কন্টাক্ট নাম্বার 01909037020
01620906312 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22486-44|~2026-22486-44]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22486-44|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 500 ==
01709894185 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01709894185 ==
112233 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
3sjgpqu0u0pzmh8zbbo0z0tpzlk6heh
76129
76117
2026-04-12T15:50:45Z
~2026-22447-66
5015
76129
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার ==
আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার টাকার অনেক বেশি [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৩:৪০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো ==
আমা [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো আমি ==
আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য আমার একটা কিডনি বিক্রি করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে ==
01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে [[বিশেষ:অবদান/~2026-22604-69|~2026-22604-69]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22604-69|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Youdha movie ==
ami anik das [[বিশেষ:অবদান/~2026-22423-95|~2026-22423-95]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22423-95|আলাপ]]) ০৭:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Azad Ali Murshidabad district 60 Sagardighi ISF BLOCK SECRATARY ==
Kichu alochona ache jeta sms kore bola jayna apni apnar accounter der bolen amar songe contract korbe m-7098940252 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22397-36|~2026-22397-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22397-36|আলাপ]]) ০৭:৪১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
কিভাবে ইন্সুরেন্স অর্ডার করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22548-62|~2026-22548-62]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22548-62|আলাপ]]) ০৯:৫১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দেশপ্রেম ==
আমি মোহাম্মদ আরিফ শিকদার
কন্টাক্ট নাম্বার 01909037020
01620906312 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22486-44|~2026-22486-44]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22486-44|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 500 ==
01709894185 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01709894185 ==
112233 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
আমার টাকা কোথায় [[বিশেষ:অবদান/~2026-22447-66|~2026-22447-66]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22447-66|আলাপ]]) ১৫:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
gfvxx8s3ebpt09gu2b3ehyu6q5j109g
76139
76129
2026-04-12T16:10:01Z
~2026-22609-47
5016
/* আমির */ নতুন অনুচ্ছেদ
76139
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার ==
আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই আমার টাকার অনেক বেশি [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৩:৪০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো ==
আমা [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য একটা কিডনি বিক্রি করবো আমি ==
আমার টাকার অনেক বেশি দরকার তার জন্য আমার একটা কিডনি বিক্রি করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22411-48|~2026-22411-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22411-48|আলাপ]]) ০৪:২৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে ==
01635071630 এই নাম লোকেশন কোথায় আছে [[বিশেষ:অবদান/~2026-22604-69|~2026-22604-69]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22604-69|আলাপ]]) ০৬:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Youdha movie ==
ami anik das [[বিশেষ:অবদান/~2026-22423-95|~2026-22423-95]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22423-95|আলাপ]]) ০৭:৩৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Azad Ali Murshidabad district 60 Sagardighi ISF BLOCK SECRATARY ==
Kichu alochona ache jeta sms kore bola jayna apni apnar accounter der bolen amar songe contract korbe m-7098940252 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22397-36|~2026-22397-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22397-36|আলাপ]]) ০৭:৪১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
কিভাবে ইন্সুরেন্স অর্ডার করবো [[বিশেষ:অবদান/~2026-22548-62|~2026-22548-62]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22548-62|আলাপ]]) ০৯:৫১, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দেশপ্রেম ==
আমি মোহাম্মদ আরিফ শিকদার
কন্টাক্ট নাম্বার 01909037020
01620906312 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22486-44|~2026-22486-44]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22486-44|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 500 ==
01709894185 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01709894185 ==
112233 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22536-47|~2026-22536-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22536-47|আলাপ]]) ১৫:০৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
আমার টাকা কোথায় [[বিশেষ:অবদান/~2026-22447-66|~2026-22447-66]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22447-66|আলাপ]]) ১৫:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আমির ==
আমির [[বিশেষ:অবদান/~2026-22609-47|~2026-22609-47]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22609-47|আলাপ]]) ১৬:১০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
dqomxkfgldp47pxgssmprspcu071o7a
76146
76139
2026-04-12T16:42:59Z
Borhan
964
Restored revision 75887 by [[Special:Contributions/JIBON|JIBON]]
76146
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
fkm67i6tcvwq5lc1tsfnr4ua99fqeoh
76172
76146
2026-04-12T20:58:18Z
~2026-22616-91
5030
/* 50 */ নতুন অনুচ্ছেদ
76172
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 50 ==
50 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22616-91|~2026-22616-91]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22616-91|আলাপ]]) ২০:৫৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
j6ncz4tj14b1p03tqvzlz3zyu19fb6k
76332
76172
2026-04-13T09:38:45Z
~2026-22715-83
5065
/* Midul */ নতুন অনুচ্ছেদ
76332
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}}
{{আলাপ পাতা}}
== "Misattributed" শিরোনাম ==
"Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 50 ==
50 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22616-91|~2026-22616-91]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22616-91|আলাপ]]) ২০:৫৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Midul ==
7.3 [[বিশেষ:অবদান/~2026-22715-83|~2026-22715-83]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22715-83|আলাপ]]) ০৯:৩৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
n9s040ys0u8i7t378sd4m3bgzrvqoo7
উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
4
11853
76047
75916
2026-04-12T12:43:23Z
Md shakhhawat Hossain
5000
76047
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
gejps33m297c8vsovukdickqjx2sjmo
76121
76047
2026-04-12T15:30:04Z
Sheikh Mohammad Alimul Islam
5012
76121
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
niqk5d50f4a43n78paz2qvh6gqqio07
76156
76121
2026-04-12T18:27:06Z
Rumman Chowdhury 20
5024
76156
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
61fgsumws9g38y4pgodpzdevu812p8k
76173
76156
2026-04-12T21:50:19Z
Vugon kumar
2064
76173
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
itb1a3fr0si029nsmrr6oqe9x5kdtbi
76202
76173
2026-04-13T02:13:02Z
ExceptionistSagar
5037
76202
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
5deh4o09xic2jnq2xf78ygwmtcfskps
76217
76202
2026-04-13T02:53:44Z
দীপক মণ্ডল
5040
76217
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
nbq4uqyj8esburxxen44pwyqnpg5d99
76220
76217
2026-04-13T02:57:55Z
Shourav chandra saha
5039
76220
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
9ipu1rz1skjyux1a5tim8kmo0blu1qt
76223
76220
2026-04-13T03:04:12Z
Shourav chandra saha
5039
76223
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
Sumon Saha is a Bangladeshi businessman and social worker from Barura Upazila in Cumilla District. He is known for his contributions to local business development and community welfare initiatives.
Early Life
Sumon Saha was born and raised in Barura Upazila, Cumilla, Bangladesh.
Career
He established himself as a successful businessman in the local market, contributing to economic activities and employment generation in the region.
Social Work
Apart from his business activities, he is actively involved in social welfare. He has participated in various community development programs, including support for underprivileged people and local charitable initiatives.
6roi0n09bgvmsoyruuockf5x1y1pc0b
76251
76223
2026-04-13T03:54:16Z
Tanbiruzzaman
806
[[Special:Contributions/Shourav chandra saha|Shourav chandra saha]] ([[User talk:Shourav chandra saha|আলাপ]])-এর সম্পাদিত [[Special:Diff/76223|76223]] নম্বর সংশোধনটি বাতিল করা হয়েছে
76251
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
9ipu1rz1skjyux1a5tim8kmo0blu1qt
76268
76251
2026-04-13T04:59:46Z
চৌধুরী প্রবীর
5048
76268
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
ozm8acpndkplaablj5ciwxbq99q15uv
76269
76268
2026-04-13T05:02:12Z
চৌধুরী প্রবীর
5048
76269
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
fzyrd3v7bueqa01pox1a24o2o79tnk4
76273
76269
2026-04-13T05:09:11Z
চৌধুরী প্রবীর
5048
76273
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
qwys9oc5s5xl132xeizqjztnwhh3poq
76308
76273
2026-04-13T06:55:18Z
Akifa Shazzad Prova
5059
76308
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
njx9mmxiugsfhfnx52mimj5gfl9vmzx
76334
76308
2026-04-13T09:48:25Z
MD Jubayer 2012
5066
76334
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
36zf46a6r36expojtr9v4efmku9h2hm
76336
76334
2026-04-13T10:04:47Z
MD Jubayer 2012
5066
76336
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
43ucynrnibf01qksxhuaifv74g9swcd
76337
76336
2026-04-13T10:09:13Z
MD Jubayer 2012
5066
76337
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।"
-সুকান্ত ভট্টাচার্য
i8qbnlcz00a5t5s6tsi0z2z2u7rnfuo
76338
76337
2026-04-13T10:09:33Z
MD Jubayer 2012
5066
76338
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
*{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
দুটি ছোটগল্প -
ঝগড়ার আড়ালে
প্রবীর কুমার চৌধুরী
নতুনপুর গ্রামের এক কোণে ছিল দোতলা টালির ছাউনি দেওয়া একটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটা যেমন পুরোনো, তেমনই তার ভেতরের গল্পগুলোও বহুদিনের—হাসি, কান্না, অভিমান আর ভালোবাসায় মাখা।
এই বাড়িতে থাকত দুই ভাই—বড়জন শ্যামল, ছোটজন কমল। আর তাদের দুই স্ত্রী—বড় বৌ মাধবী আর ছোট বৌ কুসুম। সংসারটা ছোট হলেও শান্তি ছিল না একদমই। কারণ, এই দুই জায়ের মধ্যে যেন চিরকালীন ঠাণ্ডা যুদ্ধ।
সকালবেলা উঠেই শুরু—
“এই কুসুম! হাঁড়িটা ঠিক করে মাজতে পারিস না?”
“আর তুমি না হলে বুঝি সব খুব ঠিকঠাক করো, দিদি?”
এভাবে ঝগড়া শুরু হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। এমন অবস্থা, গ্রামের লোকেরা বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসতে ভয় পায়!”
কিন্তু এই ঝগড়ার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
মাধবীর নিজের একটা ছেলে—রাহুল। আর কুসুমের ছেলে—ছোট্ট পিন্টু। দুজনেই প্রায় সমবয়সী। রোজকার ঝগড়ার মধ্যেও দেখা যেত, মাধবী নিজের ছেলের সাথে বকাবকি করতে করতে পিন্টুকে কোলে টেনে নেয়।
“এই পিন্টু, আয় এখানে—তোর মা তো কিছু পারে না, আমি তোকে গোসল করিয়ে দিই!”
কথার মধ্যে খোঁচা থাকলেও হাতে ছিল মায়ের স্নেহ। সে নিজেই পিন্টুকে স্নান করায়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাইয়ে দেয়।
“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাই মারবে!”
বকতে বকতে, আদর করতে করতে, সে পিন্টুকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে কুসুমও কম যায় না। সে বড় বৌয়ের নামে নালিশ করতে করতে শ্যামলদাকে ভাত বেড়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের কথাবার্তা? একেবারে অসহ্য!”
কিন্তু সেই কথার মাঝেই গরম ভাত, ডাল, আর মাছের ঝোল দিয়ে দেয়। জামাকাপড় এগিয়ে দেয়, জল দেয়।
এইভাবে ঝগড়া আর যত্ন—দুটো যেন একসাথে চলতে থাকে।
এমনই একদিন হঠাৎ কুসুম জ্বরে পড়ে গেল।
প্রথম দিন কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিন জ্বর বাড়তেই মাধবীর চোখের ঘুম উড়ে গেল।
“এই কুসুম, কেমন লাগছে? শরীরটা এত গরম কেন?”
কুসুম শুধু কাঁপা গলায় বলল—“কিছু না দিদি… ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু মাধবী তা মানার মেয়ে নয়। সে রাত জেগে বসে রইল। ভোর হতেই ওঝা ডেকে আনল, তারপর ডাক্তারও।
ওষুধ এনে নিজে হাতে খাওয়াল।
“এই খা, মুখ বাঁকাবি না। না খেলে সুস্থ হবি কী করে?”
তারপর পথ্য বানাল—হালকা খিচুড়ি, স্যুপ। নিজের ছেলের কথা ভুলে গিয়ে সে শুধু কুসুমের সেবাতেই মগ্ন।
রাতে কুসুম ঘুমিয়ে পড়লে মাধবী তার কপালে হাত রেখে বসে থাকে। কখনো জলপট্টি দেয়, কখনো চাদর ঠিক করে।
একদিন তো সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দিল।
“এই দাঁড়া, আমি আছি। পড়ে যাবি না।”
কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই কি সেই মাধবী, যার সাথে সারাদিন ঝগড়া হয়?
কয়েকদিনের মধ্যেই কুসুম সুস্থ হয়ে উঠল।
বাড়িতে আবার সেই আগের মতো কোলাহল ফিরল। কিন্তু কোথাও যেন একটা বদল এসেছে।
একদিন সকালে আবার শুরু হল—
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো কেমন এলোমেলো! মানুষ দেখতে পারে?”
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচতাম না, তাই না?”
মাধবী মুখ গোমড়া করে বলল—“এই আয়, বস। আমি আঁচড়ে দিচ্ছি।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে সে আবার বকতে শুরু করল—
“একটুও নিজের খেয়াল রাখিস না! সব আমাকেই করতে হবে!”
কিন্তু তার হাতের স্পর্শে ছিল অপার স্নেহ।
কুসুম চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ সে মাধবীর বুকে মুখ গুঁজে বলল—
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি তো আমার মা…”
মাধবী একটু থমকে গেল। তারপর গলা শক্ত করে বলল—
“অ মর আবাগীর বেটি! তোর এসব ঢঙ দেখে গা জ্বলে যায়!”
কিন্তু তার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই সব শুনছিল।
কমল হাসতে হাসতে বলল—“দাদা, আমি একটু ও ঘরে যাই?”
শ্যামল তাড়াতাড়ি বলল—“না না, এখন যাস না! এখন তো বড় বৌয়ের সোহাগ চলছে। তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল।
বাড়ির ভেতরেও সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
ঝগড়া এখনও হয়। কথা কাটাকাটি এখনও থামে না। কিন্তু নতুনপুরের সেই বাড়ির মানুষগুলো জানে—এই ঝগড়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
কারণ, সব সম্পর্কই মধুর কথায় গড়ে ওঠে না। কিছু সম্পর্ক ঝগড়ার আগুনে পুড়েই আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
আর সেই সম্পর্কের নাম—সংসার।
ছোটগল্প
কলহের অন্তরালে করুণা
নতুনপুরের সেই বাড়িটা দূর থেকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে না; বরং চোখ সয়ে গেলে, পথের ধুলো আর শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেন সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়—কোলাহল থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনবরত শব্দের থেকে। টালির ছাদের উপর রোদ পড়ে থাকে বিকেলের দিকে, আর সেই রোদ কখনো স্থির থাকে না—যেমন স্থির থাকে না এই বাড়ির মানুষের সম্পর্কও।
এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকে—দুই ভাই, শ্যামল ও কমল, আর তাদের দুই স্ত্রী, মাধবী ও কুসুম। চারজন মানুষ, অথচ চারটে আলাদা দ্বীপ নয়; বরং তারা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে, আলাদা করতে গেলে সম্পর্কের চামড়া ছিঁড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন চিরকালীন দ্বন্দ্বের বাড়ি—যেখানে সকাল মানেই তর্ক, দুপুর মানেই অশান্তি, আর সন্ধ্যা মানেই অভিমান জমে ওঠা।
মাধবীর গলায় একটা কড়া সুর আছে—যেন সে কথা বলছে না, নিয়ম ঘোষণা করছে। কুসুমের গলায় তার বিপরীত—অভিমান আর প্রতিবাদের মিশ্রণ, যা কখনো স্পষ্ট, কখনো আড়ষ্ট। এই দুই সুর প্রতিদিন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
“এই কাজটা এভাবে করিস কেন?”
“তুমি সব জানো, তাই না?”
শব্দগুলো ছোট, কিন্তু তাদের অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
গ্রামের লোকেরা এই বাড়ির কথা বলতে গিয়ে মুচকি হেসে বলে—“ওই বাড়ির চালে কাক বসে না।” কথাটা নিছক ঠাট্টা হলেও তার মধ্যে একটা দূরত্বের ইঙ্গিত থাকে—যেন এই বাড়ি একটু আলাদা, একটু বেশি উচ্চকণ্ঠ, একটু বেশি জীবন্ত।
কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠের আড়ালে যে স্তরটি লুকিয়ে থাকে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত শব্দ শোনে, কিন্তু আচরণ পড়ে না।
মাধবীর একটি ছেলে—রাহুল। কুসুমের ছেলে—পিন্টু। এই দুই শিশুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তারা জানে না ‘জা’, ‘দিদি’, ‘অভিমান’—এই শব্দগুলোর কোনো সামাজিক অর্থ আছে। তারা কেবল জানে, এই উঠোন তাদের, এই ঘর তাদের, এই মানুষগুলো তাদের নিজের।
মাধবী যখন নিজের ছেলেকে বকতে বকতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন হঠাৎ পিন্টুকে ডেকে নেয়।
“এই আয় তো! তোর মা তো কিছু বোঝে না—আমি না থাকলে তোদের কে দেখবে?”
কথার মধ্যে বিদ্রূপ, কিন্তু কোলে তোলার ভঙ্গিতে নিখাদ স্নেহ। সে পিন্টুকে স্নান করায়—জলটা বেশি ঠান্ডা কি না দেখে নেয়, মাথায় তেল মাখায়, তারপর ভাত খাওয়ায়। বকতে বকতেই বলে—“মুখটা খোল, না হলে স্কুলে গিয়ে কাঁদবি আবার!”
এই দৃশ্যের মধ্যে একটা অদ্ভুত দ্বৈততা আছে—যেখানে ভাষা আর আচরণ পরস্পরের বিপরীত দিকে হাঁটে, অথচ গন্তব্য একই থাকে।
অন্যদিকে কুসুম, যে প্রতিদিন মাধবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই কুসুমই আবার শ্যামলের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেয়।
“দেখেছো দাদা, তোমার বৌয়ের ব্যবহার?”—এই অভিযোগের মাঝেই সে ডাল ঢালে, তরকারি বাড়ে, জল দেয়।
তার হাতের কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বিরক্তি নেই—যেন সে নিজের কাজের মধ্যেই নিজের অবস্থান খুঁজে পায়।
এই সংসার তাই এক অদ্ভুত সমীকরণে বাঁধা—যেখানে সম্পর্কের ভাষা কখনো সরল নয়, বরং বক্ররেখার মতো ঘুরে ঘুরে নিজের অর্থ তৈরি করে।
হয়তো এই কারণেই, এই সংসার ভাঙে না। কারণ সরল সম্পর্ক সহজে ভেঙে যায়; জটিল সম্পর্ক টিকে থাকে, কারণ তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যায়।
একদিন, এই দৈনন্দিনতার ভিতরে হঠাৎ এক ফাঁক তৈরি হয়। কুসুম জ্বরে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বলে মনে হয়—গ্রামের জীবনে জ্বর নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে যখন তার শরীর ভেঙে পড়ে, তখন সেই জ্বর যেন কেবল শরীরের থাকে না—সে এসে দাঁড়ায় সম্পর্কের মাঝখানে।
মাধবী প্রথমে কিছু বলে না। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সে কুসুমের কপালে হাত রাখে—একটু বেশিই সময় ধরে।
“গরম তো খুব… কিছু বলছিস না কেন?”
কুসুম মৃদু গলায় বলে—“কিছু না…”
এই ‘কিছু না’ শব্দটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় অসহায়তার পরিচয় দেয়। মাধবী তা বুঝতে পারে।
সেই রাত থেকে তার ঘুম চলে যায়। সে বসে থাকে, বারবার জলপট্টি দেয়, ওষুধ খাওয়ায়, পথ্য বানায়। তার প্রতিটি কাজ নিখুঁত—যেন কোনো অভ্যাস নয়, বরং এক গভীর দায়বোধ তাকে চালিত করছে।
এখানে সম্পর্কের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কোনো তিরস্কার নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই—শুধু আছে একাগ্রতা।
একদিন সে নিজেই কুসুমকে স্নান করিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে কোনো সামাজিক পরিচয় থাকে না—না ‘বড় বৌ’, না ‘ছোট বৌ’। থাকে শুধু একজন মানুষ, আর আরেকজন অসুস্থ মানুষ, যার যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই যত্নের মধ্যে এক ধরনের আদিমতা আছে—যা সভ্যতার সমস্ত সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে।
কুসুম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তার ভেতরে কিছু বদলে যায়—যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
সুস্থ হওয়ার পরদিন, আবার সেই পুরোনো সকাল।
“এই কুসুম, তোর চুলগুলো দেখেছিস?”
কুসুম হেসে ফেলে—একটা নরম, নিরস্ত্র হাসি।
“তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
মাধবী বিরক্তির ভান করে বলে—“এই আয়, বস!”
সে চুল আঁচড়াতে থাকে। তার আঙুলের ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রুক্ষতা নেই।
হঠাৎ কুসুম তার বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
“দিদি… তুমি তো আমার জা নও… তুমি আমার মা…”
এই কথাটি বলার জন্য কোনো প্রস্তুতি লাগে না। এটি আসে ভেতরের এক গভীর উপলব্ধি থেকে—যেখানে সম্পর্কের সমস্ত সামাজিক নাম মুছে গিয়ে শুধু অনুভূতি থেকে যায়।
মাধবী চমকে ওঠে না। বরং স্বভাবমতোই বলে—
“অ মর আবাগীর বেটি! এসব ঢঙ করিস না!”
কিন্তু তার গলার ভিতরে এক অদ্ভুত কাঁপন থাকে, যা সে নিজেও লুকোতে পারে না।
পাশের ঘরে বসে দুই ভাই এই দৃশ্য শুনতে পায়। কমল মৃদু হাসে—
“দাদা, আমি একটু যাই?”
শ্যামল হেসে বলে—
“না রে, এখন যাস না। এখন তো সোহাগ চলছে—তুই গেলে আবার হিংসে করবি!”
দুজনেই হেসে ওঠে। সেই হাসি কোনো বিদ্রূপ নয়, বরং এক ধরনের স্বস্তি—যেন তারা জানে, এই সংসার ভাঙবে না।
কারণ এই সংসারের ভিতর কলহ আছে, কিন্তু তার চেয়েও গভীরে আছে করুণা।
মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক হয় না। আমরা যা দেখি, তা কেবল উপরের স্তর। তার নিচে থাকে বহু স্তরের অনুভব—যা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে থেকেও একে অপরকে ধারণ করে।
নতুনপুরের এই বাড়ি তাই কেবল একটি সংসার নয়—এ এক চলমান দার্শনিক অভিজ্ঞতা। এখানে ভালোবাসা নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করে না; সে লুকিয়ে থাকে, রূপ বদলায়, কখনো রূঢ় হয়, কখনো নরম হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সে থেকেই যায়।
আর হয়তো এই কারণেই—
যে বাড়ির চালে কাক বসে না, সেই বাড়ির ভেতরেই সবচেয়ে বেশি বাস করে মানষ।
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
ছোটগল্প - “অপেক্ষার প্ল্যাটফর্মে অরিন্দম”
প্রবীর কুমার চৌধুরী
অরিন্দম আমার বন্ধু ছিল। ছিল বলছি, কারণ আজকাল সে যেন আর সেই আগের অরিন্দম নেই। মানুষটা আছে, কিন্তু তার ভেতরের আলোটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আলোটা যে একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিল আমরাও অসহায়ভাবেই দেখছিলাম।
কলকাতার উপকণ্ঠে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকত অরিন্দম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, মা ডায়াবেটিসের রোগী। একমাত্র বোন সুজাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অরিন্দম-ই ছিল বাড়ির একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে প্রথম শ্রেণিতে। তখন সবাই বলেছিল “এই ছেলে অনেক দূর যাবে।”
কিন্তু সেই “দূর”টার হদিস অরিন্দম কোনদিন পেল না।
প্রথম প্রথম অরিন্দম খুব আশাবাদী ছিল। যাকে বলে একেবারেই ডাইনামিক। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ খুলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতো । ফর্ম ফিল-আপ, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ - একটার পর একটা। সেইসাথে টিউশানিও চলত সকাল থেকে সন্ধ্যে। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে বলত,“দেখিস খোকা একদিন ঠিক হবে। এত চেষ্টা, পড়াশোনা কি জলে যাবে - বল ?” ওর দুই চোখে গভীর বিশ্বাস। তা দেখে আমিও তখন বিশ্বাস করতাম।
আমি অবশ্য উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে আর কলেজ মুখো হয়নি। অরিন্দমের বাবার পেনশন ছিলো। আমার বাবার ছিলো কঠোর মেহনত। তাই আমি বাবার দোকানেই লেগে গেলাম। বাবার স্বপ্ন ছিলো আমরা বাপ -ব্যাটায় মিলে দোকানটাকেই বড় করবো। করেও ছিলাম। ছোট একটা স্টেশনারি দোকান থেকে এখন এলাকার বড় মুদির দোকান। পাশেই ভাইকে একটা সাইবার কাফে খুলে দিয়েছি । কম্পিউটারে একটা ডিপ্লোমা করেছিল। বোধহয় ফাঁকি দেয়নি তাই কাজটা ভালোই শিখেছিলো - খারাপ চলে না।
এদিকে কিন্তু দিন, মাস, বছর গড়িয়ে গেল। অরিন্দমের এস,স,সির পরীক্ষার ফল বেরোল। ভালো রেজাল্ট। কিন্তু না, নিয়োগ বন্ধ, চাকুরীর দুর্নীতি ধরা পড়ে নিয়োগ বন্ধ। আরও রেজাল্ট বেরোলো - কোথাও আবার “অভিজ্ঞতা চাই”। টাকা চায়। এ অভিজ্ঞতার কথা অরিন্দম বাপের জন্মেও শোনেনি।অরিন্দমের চোখের নিচে ধীরে ধীরে কালি জমতে লাগল।
একদিন বিকেলে বড়বাজার থেকে মাল নিয়ে ফেরার পথে তাকে শিয়ালদহ স্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখলাম। প্ল্যাটফর্মের ভিড়ের মধ্যে সে যেন একা একটা আলাদা দ্বীপ। আমি কাছে গিয়ে বললাম,
“কী রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
সে একটু হেসে বলল, " বাড়িতে বড়ো বেমানান লাগে আমাকে তাই এখানে লোকজন দেখি সবাই কোথায় যাচ্ছে। জানিস খোকা সবার একটা গন্তব্য আছে। শুধু আমারই নেই।”
তার কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা বইয়ের ভাষায় লেখা যায় না। লোকমুখে শুনতে পাই ওদের বাড়িতে তখন টাকার টানাটানি। বাবার পেনশনে কোনোরকমে সংসার চলে। মা মাঝে মাঝে ওষুধ কেনার টাকা বাঁচাতে ডোজ কমিয়ে দেয়। সুজাতাও খারাপ হয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই রাতে বাড়িই ফেরে না। মা, বাবা, অরিন্দম কেউ কৈফিয়ত চায়না। একদিন নাকি অরিন্দম জানতে চেয়েছিল - সুজাতা নাকি বলেছে " যে দিন সংসারের জোয়ালটা কাঁধে নিবি দাদা সেদিন থেকে আমি বাড়ির বাইরে বেরোবো না আবার পড়াশুনা করবো। এতবড় আকাশটার নিচে গর্ভধারিণী মা চোখের জল ফেলবে, বাবা ঘরের কোণে বসে হায় ভগবান, হায় ভগবান বলে বুক চাপড়াবে - বসে বসে নির্জীব হয়ে কি ভাবে দেখি বলতো? তাই রাতে বেরিয়ে পড়ি চড়তে... "। অরিন্দমের পিঠে জেন সময় সমানে চাবুক মারতে থাকে।
অরিন্দমের টিউশনও কমে কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছিলো। কারণ সেখানেও সমস্যা। ছাত্রদের বাবা-মায়েরা বলে, এখন স্কুলের মাস্টারমশাইরা পড়ালে ছাত্রদের অনেক দিকেই সুবিধা হয়।
“ অরিন্দম মাস্টারমশাই আপনি সেকেলে অপরিজনীয় ,অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। একটু” শুনে অরিন্দম করুন হেসে মাথা নাড়তে, নাড়তে
পথ বেয়ে নেমে যেত সময়ের গভীর খাদে।
একদিন রাতে ফোন করেছিল অরিন্দম। কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত।বলল, খোকা জানিস , আমাদের প্রজন্মটা একটা অদ্ভুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । স্বপ্ন আছে, ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাঁটার রাস্তা নেই। সবটুকু রাস্তাই কারা যেন আর্থিক মানদণ্ডে দখল করে নিয়েছি। আমি সেখানে কিছুতেই দাঁড়াতে পারছিড়ে পা হড়কে যাচ্ছে খোকা আমি ডুবছি, থৈ পাচ্ছি না " বলতে বলতে ওর বুকচিরে কান্না বেরিয়ে আসলো। আমি মুখ, বধির হয়ে রইলাম, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম না ।
পরদিন সকালে খবর এল অরিন্দম আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত নাকি শহরের রাস্তায় হেঁটেছে। কেউ বলেছে তাকে কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেছে, কেউ বলেছে গঙ্গার ঘাটে।
তৃতীয় দিনের সকালে সে নিজেই ফিরে এল।
চোখদুটো লাল, তিনদিনের দাড়ি না-কাটামুখে। , জামা কুঁচকে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। বাবাকে দোকানে বসিয়ে ছুটে গেলাম -
আমি তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় ছিলি?”সে ধীরে ধীরে বলল, “শহরটা ঘুরে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, এত মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। তারপর বুঝলাম - সবাই লড়ছে। কেউ চুপচাপ, কেউ চিৎকার করে। কেউ মুখোশের আড়ালে, কেউ রাতের গভীর অন্ধকারে! ” আমি এবারেও চুপ করে রইলাম।
অরিন্দম জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখনও হারিনি খোকা । কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সবাই একটা মিথ্যা আশায় ঘুরছি,আর অযথা অপেক্ষার ঘরে বসে সময় নষ্ট করছি। । কেউ জানি না, কখনও আর ডাক পড়বে কি না? মধ্যিখান থেকে আমার ফুলের মতো বোন বিকোতে, বিকোতে ঝড়ে পড়বে মাটিতে অকালে... ।” অরিন্দম সহসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। " আর না এবার ঝাঁপিয়ে পড়বো, পড়তেই হবে... " পাগলের মতো দেওয়ালে ঘুষি মারতে মারতে লাগলো, হাত ফেটে রক্তাক্ত হলো। সেদিন ওর ক্রোধ আর শক্তির আছে হেরে গেছিলাম।
অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। আমার মাথার চুলে পাক ধরেছে। বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাইটাকে বিয়ে দিলাম আর বিয়ের পর সে-ও মাকে ছাড়া সব ভাগ বুঝে নিয়ে ঘর ভেঙে নিজের আলাদা ঘর বানালো। আমি ভাঙ্গনের তীরে মাকে নিয়ে সংসার পেতেছি।বৃদ্ধ মা আমাকে আঁকড়ে ধরে " হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো,পাড় করো গো আমারে... " আজ বেসুরো গলায় গান করে।।
অরিন্দমও আজ সময়ের তমস্যার কঠিন গহবরে হারিয়ে গেছে। ভুলে গেছে ঘর -বাড়ি, আপন সত্বা। ওর বৃদ্ধ অসহায় মা - বাবা কেঁদে কেঁদেই পৃথিবীর মতো মায়া ত্যাগ করলেন। সুজাতা সংসার বাঁচাতে গিয়ে একরাতে নির্জন রাস্তায় তার উলঙ্গ ক্ষত - বিক্ষত রক্তাক্ত শবদেহ রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল। কেন যে অকালে যেতে হল কেউ কারন বের করতে পারলো না।
আজ যখন বড়বাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাল নিয়ে এসে দাঁড়াই, হাজার মানুষের ভিড়ে, মাঝে মাঝে অরিন্দমকে দেখতে পাই। মাথার সাদা চুলে জট, একমুখ দাঁড়ি, ছেঁড়া, ফাটা জামা, ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে অন্ডকোষ দুটো বেরিয়ে ঝুলছে ওর খেয়াল -ই নেই। ছেঁড়া চটিতে পা টেনে টেনে হাটছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে । একটা ফাইল হাতে, চোখে ক্লান্তি, তবু বুকের ভেতর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে আছে আর অদৃশ্য কারুর সঙ্গে সমানে বকবক করছে। কখনো কখনো আমাকে দেখতে পেলে দৌড়ে কাছে এসে বলে - " তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ টাকা দে খোকা, এখুনি ভগবানের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরেই আপন মনে বকতে বকতে জন অরণ্যে মিলিয়ে যায়। শুধু অরিন্দমের কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসে " খোকা বেকারত্ব একটা অভিশাপ,শুধু পেটের ক্ষুধা নয় - এটা ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান আর ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলা এক নীরব অবক্ষয়... "।
সমাপ্ত
" অমরাবতী "
মহামায়াপুর স্কুল রোড
বেলতলা, ফরতাবাদ
গড়িয়া, কলকাতা -৭০০০৮৪
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মুঠোফোন -৮৭৭৭৭৪১৩০১
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।"
-সুকান্ত ভট্টাচার্য
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
orwduycwtfkvtrdk7d40wijqk3f1l45
উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/নিবন্ধ তালিকা
4
11855
76174
75670
2026-04-12T21:57:10Z
Vugon kumar
2064
76174
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=3}}
<big>এই প্রতিযোগিতায় বিষয়বস্তু নির্ধারিত নয়, '''আপনি আপনার পছন্দমতো যেকোন উল্লেখযোগ্য বিষয়ে ভুক্তি বা পৃষ্ঠা তৈরি করতে পারেন (গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ব্যতীত)''' <u >এমনকি তা নিচের তালিকায় না থাকলেও</u>। আপনি যদি অনিশ্চিত থাকেন যে কোনটি নিয়ে কাজ করবেন, তবে নিচের লাল সংযোগে থাকা নিবন্ধগুলি তৈরি করতে পারেন। যে পাতাটি নিয়ে কাজ করছেন, সেটির পাশে <code><nowiki>~~~~</nowiki></code> যোগ করে আপনার নাম লিখুন।</big>
মনে রাখবেন,
* ব্যক্তি যদি বাঙালি হয়, তবে তার উক্তি হুবহু তুলে দিন (উদা: [[আসাদুজ্জামান নূর]] দেখুন)। ব্যক্তি যদি বিদেশি হয়, তবে উক্তি অনুবাদ করে যোগ করুন (উদা: [[নোম চম্স্কি]] দেখুন)। কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে বাঙালিদের উক্তি প্রাধান্য পাবে, তবে ভিন্ন ভাষা থেকেও উক্তি অনুবাদ করেও যোগ করা যাবে (উদা: [[চাঁদ]], [[সূর্য]] দেখুন)।
* '''নতুনরা''', দয়া করে [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/কীভাবে|কীভাবে উক্তি যোগ করব?]] টিউটোরিয়ালটি একবার দেখে নিন।
:এটি উইকিউক্তিতে ভুক্তি না থাকা বাঙালি ব্যক্তিদের তালিকা। তবে আপনি চাইলে [https://en.wikiquote.org ইংরেজি উইকিউক্তি] থেকে বাংলায় উক্তি অনুবাদ করতে পারেন।
:*ইংরেজি উইকিউক্তি থেকে অনুবাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিবন্ধ অনুবাদ করা বাধ্যতামূলক।
*'''উল্লেখ্য:''' <span style="color:red;">নিবন্ধ তৈরির আগে নিবন্ধটি ইতোমধ্যে বাংলা উইকিউক্তিতে বিদ্যমান কিনা যাচাই করা নিবন্ধ প্রণেতার (যিনি নিবন্ধ তৈরি করবেন) দায়িত্ব। তালিকার বাইরের নাম প্রতিস্থাপন নিবন্ধ তালিকায় থাকা নামটির পরিবর্তে ভিন্ন নামে নিবন্ধ তৈরি করলে অবশ্যই নতুন নামটি তালিকায় প্রতিস্থাপন করে দিবেন, অন্যথায় ভিন্ন ব্যবহারকারী নিবন্ধটি পুনরায় তৈরি করতে পারেন।</span >
== বাংলা উক্তি ==
বাঙালি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র, সাময়িকী কিংবা ছাপা বইয়ে প্রকাশিত উক্তি বা সাক্ষাৎকার থেকে উক্তি সংগ্রহ করে তা হুবুহু তথ্যসূত্র সহ যোগ করবেন।
=== বাঙালি ব্যক্তি ===
{{Div col|colwidth=20em|rules=yes}}
* {{বাউ|অংশুমান কর}}
* {{বাউ|অকিঞ্চন}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার কয়াল}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার বসু মজুমদার}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার লধ}}
* {{বাউ|অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|অক্ষয়ানন্দ বসু}}
* {{বাউ|অখিল নিয়োগী}}
* {{বাউ|অখিল পাল}}
* {{বাউ|অখিলচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|অখিলবন্ধু ঘোষ}}[[ব্যবহারকারী:Tamaliya Das Gupta|Tamaliya Das Gupta]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tamaliya Das Gupta|আলাপ]]) ১৬:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|অগ্রদূত}}
* {{বাউ|অঘোরনাথ গুপ্ত}}
* {{বাউ|অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অঙ্গনা পি. চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অচলা মল্লিক}}
* {{বাউ|অজয় ঘটক}}
* {{বাউ|অজয় দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অজয় বসু}}
* {{বাউ|অজয় হোম}}
* {{বাউ|অজিত দত্ত}}
* {{বাউ|অজিত রায় (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|অজিতকৃষ্ণ বসু}}
* {{বাউ|অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অঞ্জলি ইলা মেনন}}
* {{বাউ|অঞ্জলি মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অটলবিহারী ঘোষ}}
* {{বাউ|অতীন্দ্রনাথ বসু ঠাকুর}}
* {{বাউ|অতুল বসু}}
* {{বাউ|অতুলচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|অতুলচন্দ্র ঘোষ (লেখক)}}
* {{বাউ|অদিতি লাহিড়ি}}
* {{বাউ|অদিতি সেন দে}}
* {{বাউ|অধরলাল সেন}}
* {{বাউ|অনম বিশ্বাস}}
* {{বাউ|অনল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনাথনাথ বসু}}
* {{বাউ|অনাদিনাথ দাঁ}}
* {{বাউ|অনাদিশ পাল}}
* {{বাউ|অনিতা মেহতা}}
* {{বাউ|অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনিন্দ্য সিনহা}}
* {{বাউ|অনিমেষ আইচ}}
* {{বাউ|অনিমেষ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অনিমেষ রায় (জীববিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অনির্বাণ ঘোষ}}
* {{বাউ|অনির্বাণ বসু}}
* {{বাউ|অনিল করঞ্জাই}}
* {{বাউ|অনিল কুমার গায়েন}}
* {{বাউ|অনিল কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনিল কুমার মণ্ডল}}
* {{বাউ|অনিল কুমার সেন}}
* {{বাউ|অনিল বিশ্বাস (সুরকার)}}
* {{বাউ|অনিল ভৌমিক}}
* {{বাউ|অনিল মুখার্জি}}
* {{বাউ|অনিলকুমার দাস}}
* {{বাউ|অনিলেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনুত্তমা ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনুপম ঘটক}}
* {{বাউ|অনুপম দত্ত}}
* {{বাউ|অনুপম রায়}}
* {{বাউ|অনুপম সেন}}
* {{বাউ|অনুপম হায়াৎ}}
* {{বাউ|অনুপমা চোপড়া}}
* {{বাউ|অনুরাধা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনুশ্রী রায়}}
* {{বাউ|অনুষ্কা শংকর}}
* {{বাউ|অন্নদা মুন্সী}}
* {{বাউ|অন্নদাচরণ খাস্তগীর}}
* {{বাউ|অন্নদাপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অন্নপূর্ণা গোস্বামী}}
* {{বাউ|অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অপরেশ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অপর্ণা সেন}}
* {{বাউ|অপূর্ব জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|অবনী সেন}}
* {{বাউ|অবনীনাথ রায়}}
* {{বাউ|অবনীভূষণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অবন্তী সিঁথি}}
* {{বাউ|অবন্তীকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|অবলা বসু}}
* {{বাউ|অবশেষ দাস}}
* {{বাউ|অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ}}
* {{বাউ|অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (সুরকার)}}
* {{বাউ|অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় (ভূবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অভিজিৎ সেন}}
* {{বাউ|অভিনয় চন্দ্র সাহা}}
* {{বাউ|অভীক ঘোষ}}
* {{বাউ|অমর পাল}}
* {{বাউ|অমরপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমরেশ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমরেশ্বর ঠাকুর}}
* {{বাউ|অমল কুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমল বোস}}
* {{বাউ|অমল হোম}}
* {{বাউ|অমলা শংকর}}
* {{বাউ|অমলেন্দু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমলেন্দু চন্দ্র}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দাশগুপ্ত (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দে}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বসু}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বিশ্বাস}}
* {{বাউ|অমলেন্দু মিত্র}}
* {{বাউ|অমলেশ ত্রিপাঠী}}
* {{বাউ|অমিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিত মিত্র}}
* {{বাউ|অমিতা ঠাকুর}}
* {{বাউ|অমিতা দত্ত}}
* {{বাউ|অমিতা বসু}}
* {{বাউ|অমিতা মালিক}}
* {{বাউ|অমিতা সেন (আশ্রমকন্যা)}}
* {{বাউ|অমিতাভ দত্ত}}
* {{বাউ|অমিতাভ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অমিতাভ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমিতাভ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিতাভ রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিয় বাগচী}}
* {{বাউ|অমিয়কুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমিয়া দত্ত}}
* {{বাউ|অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমূল্যচরণ উকিল}}
* {{বাউ|অম্বরীশ ঘোষ}}
* {{বাউ|অম্বিকাচরণ মজুমদার}}
* {{বাউ|অম্লান দত্ত}}
* {{বাউ|অরিন্দম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অরুণ কুমার বসাক}}
* {{বাউ|অরুণ কুমার শর্মা}}
* {{বাউ|অরুণ মিত্র}}
* {{বাউ|অরুণ মুখার্জি}}
* {{বাউ|অরুণ সোম}}
* {{বাউ|অরুণকুমার বসু}}
* {{বাউ|অরুণচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|অরুণাচল বসু}}
* {{বাউ|অরুণাভ সরকার}}
* {{বাউ|অরুণেন্দু দাস}}
* {{বাউ|অরুণোদয় মণ্ডল}}
* {{বাউ|অরুন্ধতী দেবী}}
* {{বাউ|অরূপ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অরূপ চন্দ্র}}
* {{বাউ|অর্ক মুখার্জি}}
* {{বাউ|অর্চনা ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|অর্চনা শর্মা (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অর্জুন (গোয়েন্দা চরিত্র)}}
* {{বাউ|অর্ণব রাই চৌধুরী}}
* {{বাউ|অলক রায়}}
* {{বাউ|অলকা উকিল}}
* {{বাউ|অলকা দাশ}}
* {{বাউ|অলকা সরাবগী}}
* {{বাউ|অলিউর রহমান}}
* {{বাউ|অলোক কৃষ্ণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|অলোক রায়}}
* {{বাউ|অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অশেষ প্রসাদ মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক কুমার বড়ুয়া}}
* {{বাউ|অশোক কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অশোক কুমার সরকার}}
* {{বাউ|অশোক কুমার সেন}}
* {{বাউ|অশোক গুপ্ত (লেখক)}}
* {{বাউ|অশোক চট্টোপাধ্যায় (লেখক)}}
* {{বাউ|অশোক চৌধুরী}}
* {{বাউ|অশোক নাথ মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক বড়ুয়া}}
* {{বাউ|অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অশোক মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক রুদ্র}}
* {{বাউ|অশোক সেন}}
* {{বাউ|অশোককুমার হালদার}}
* {{বাউ|অশোকা গুপ্ত (বিপ্লবী)}}
* {{বাউ|অশ্বিনীকুমার দত্ত}}
* {{বাউ|অসীম দাসগুপ্ত}}
* {{বাউ|অসীমকান্তি দত্তরায়}}
* {{বাউ|অসীমা চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অহিভূষণ মালিক}}
* {{বাউ|আ ক ম সারোয়ার জাহান বাদশা}}
* {{বাউ|আ জা ম তকীয়ুল্লাহ}}
* {{বাউ|আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|আ ফ ম ইউসুফ হায়দার}}
* {{বাউ|আ ফ ম খালিদ হোসেন}}
* {{বাউ|আ. ন. ম. বজলুর রশীদ}}
* {{বাউ|আ. ন. ম. বশির উল্লাহ}}
* {{বাউ|আ. ফ. ম. রুহুল হক}}
* {{বাউ|আইভি রহমান}}
* {{বাউ|আইয়ুব আলী}}
* {{বাউ|আইরিন খান}}
* {{বাউ|আওকাত হোসেন}}
* {{বাউ|আওলাদ হোসেন}}
* {{বাউ|আওলাদ হোসেন চাকলাদার}}
* {{বাউ|আককাছ আলী সরকার}}
* {{বাউ|আকতার মিয়া}}
* {{বাউ|আকবর আলি খান}}
* {{বাউ|আকবর উদ্দীন}}
* {{বাউ|আকবর হোসেন (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|আকবর হোসেন (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আকরাম হোসেন চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আকরামুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আকরামুল কাদের}}
* {{বাউ|আখতার ইমাম}}
* {{বাউ|আখতার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আখতার সাদমানী}}
* {{বাউ|আখতার হুসেন}}
* {{বাউ|আখতারুজ্জামান}}
* {{বাউ|আখলাকুল হোসাইন আহমেদ}}
* {{বাউ|আগা আহমদ আলী}}
* {{বাউ|আছিম শাহ}}
* {{বাউ|আজম আলী}}
* {{বাউ|আজহারুল হক}}
* {{বাউ|আজাদ রহমান}}
* {{বাউ|আজাহার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আজিজউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান আক্কাস}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান আজিজ}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান মল্লিক}}
* {{বাউ|আজিজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আজিজুল হক (শায়খুল হাদিস)}}
* {{বাউ|আজিজুল হক (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আজিজুল হাকিম (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আজিজুল হাকিম (কবি)}}
* {{বাউ|আজিম}}
* {{বাউ|আজিম উদ্দিন মুনশী}}
* {{বাউ|আজীজুল হক}}
* {{বাউ|আজীমুদ্দীন হানাফী}}
* {{বাউ|আঞ্জুমান আরা বেগম}}
* {{বাউ|আতহার আলী}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান (কবি)}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান কায়সার}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান খাদিম}}
* {{বাউ|আতাউল করিম}}
* {{বাউ|আতাউল হাকিম}}
* {{বাউ|আতাউস সামাদ}}
* {{বাউ|আতিউর রহমান}}
* {{বাউ|আতিকুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আতিকুর রহমান (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|আতিকুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আতিয়া ইসলাম এ্যানি}}
* {{বাউ|আতোয়ার রহমান}}
* {{বাউ|আতোয়ার রহমান তালুকদার}}
* {{বাউ|আদনান আল রাজীব}}
* {{বাউ|আদিনাথ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|আদিলুর রহমান খান}}
* {{বাউ|আনজীর লিটন}}
* {{বাউ|আনন জামান}}
* {{বাউ|আনন্দচন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আনন্দমোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|আনন্দমোহন বসু}}
* {{বাউ|আনন্দশঙ্কর}}
* {{বাউ|আনসার আলী}}
* {{বাউ|আনিক খান}}
* {{বাউ|আনিলা নাজ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিস চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিস সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আনিসুজ্জামান (দর্শনশাস্ত্রজ্ঞ)}}
* {{বাউ|আনিসুজ্জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিসুর রহমান (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|আনিসুল ইসলাম মাহমুদ}}
* {{বাউ|আনিসুল হক}}
* {{বাউ|আনিসুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনু মুহাম্মদ}}
* {{বাউ|আনুশেহ্ আনাদিল}}
* {{বাউ|আনোয়ার উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|আনোয়ার উল আলম}}
* {{বাউ|আনোয়ার উল হক}}
* {{বাউ|আনোয়ার পারভেজ}}
* {{বাউ|আনোয়ার পাশা (লেখক)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অণুজীববিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (আলোকচিত্রী)}}
* {{বাউ|আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারা বাহার চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারা বেগম (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল কবির}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল কাদের}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক শরীফ}}
* {{বাউ|আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস}}
* {{বাউ|আন্দালিব রহমান পার্থ}}
* {{বাউ|আপেল মাহমুদ}}
* {{বাউ|আফজাল এইচ খান}}
* {{বাউ|আফজাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|আফটারম্যাথ}}
* {{বাউ|আফতাব আহমাদ রহমানী}}
* {{বাউ|আফতাব আহমেদ (আলোকচিত্রী)}}
* {{বাউ|আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|আফতাবউদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|আফতাবুজ্জামান}}
* {{বাউ|আফরোজা পারভীন}}
* {{বাউ|আফসান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আফসার আমেদ}}
* {{বাউ|আফসার আহমদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আফসার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আফসার উদ্দীন আহমেদ (অ্যাডভোকেট)}}
* {{বাউ|আবদার রশীদ}}
* {{বাউ|আবদুর রউফ (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আবদুর রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুর রব (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রব (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবদুর রব সেরনিয়াবাত}}
* {{বাউ|আবদুর রশীদ খান}}
* {{বাউ|আবদুর রসুল}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান খাঁ}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান বয়াতী}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান বিশ্বাস}}
* {{বাউ|আবদুর রহিম (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রাজ্জাক (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আবদুল আওয়াল মিয়া}}
* {{বাউ|আবদুল আজিজ (লেখক)}}
* {{বাউ|আবদুল আজিজ খন্দকার}}
* {{বাউ|আবদুল আহাদ (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আবদুল আহাদ (সংগীত পরিচালক)}}
* {{বাউ|আবদুল ওয়াহহাব পীরজী}}
* {{বাউ|আবদুল ওয়াহাব}}
* {{বাউ|আবদুল করিম শাহ}}
* {{বাউ|আবদুল কাদির}}
* {{বাউ|আবদুল খালেক (পীর)}}
* {{বাউ|আবদুল গনি হাজারী}}
* {{বাউ|আবদুল গফুর (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (জ্যোতির্বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (ভাষা শহীদ)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার খান}}
* {{বাউ|আবদুল জলিল (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবদুল মজিদ মল্লিক}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন (জেনারেল)}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন (লেখক)}}
* {{বাউ|আবদুল মমিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুল মমিন তালুকদার}}
* {{বাউ|আবদুল মাজেদ খান}}
* {{বাউ|আবদুল মান্নান হাওলাদার}}
* {{বাউ|আবদুল মালেক (সচিব)}}
* {{বাউ|আবদুল হক ফরিদী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই মাশরেকী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই শিকদার}}
* {{বাউ|আবদুল হাকিম খান বাহাদুর}}
* {{বাউ|আবদুল হাফিজ (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ (ধারাভাষ্যকার)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ খান ইউসফজয়ী}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ তালুকদার}}
* {{বাউ|আবদুল হালিম বয়াতি}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ আল মামুন}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ আল-মামুন সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ-আল-মাহমুদ}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ-আল-নুমান}}
* {{বাউ|আবদুস সাত্তার (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবদুস সাত্তার ভূঞা}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (ভাষা শহীদ)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম মামুন}}
* {{বাউ|আবদুস সোবহান সিকদার}}
* {{বাউ|আবিদ আজাদ}}
* {{বাউ|আবিদ আনোয়ার}}
* {{বাউ|আবিদা ইসলাম}}
* {{বাউ|আবিদুর রেজা খান}}
* {{বাউ|আবু আসাদ মোহাম্মদ ওবায়দুল গনি}}
* {{বাউ|আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ}}
* {{বাউ|আবু আহমদ ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|আবু আহমেদ}}
* {{বাউ|আবু আহমেদ জহিরুল আমিন খান}}
* {{বাউ|আবু ইউসুফ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবু কায়সার}}
* {{বাউ|আবু জাফর}}
* {{বাউ|আবু জাফর (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আবু জাফর শামসুদ্দীন}}
* {{বাউ|আবু জাহির}}
* {{বাউ|আবু তাহের (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আবু তাহের নদভী}}
* {{বাউ|আবু তাহের মজুমদার}}
* {{বাউ|আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান}}
* {{বাউ|আবু নঈম শেখ}}
* {{বাউ|আবু নসর ওহীদ}}
* {{বাউ|আবু বকর সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আবু বকর সিদ্দিকী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবু বারেক মোহাম্মদ নুরুল আলম}}
* {{বাউ|আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ}}
* {{বাউ|আবু মো. দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন}}
* {{বাউ|আবু যোহা নূর আহমদ}}
* {{বাউ|আবু রুশদ}}
* {{বাউ|আবু রেজা ফজলুল হক বাবলু}}
* {{বাউ|আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক}}
* {{বাউ|আবু শাহেদ ইমন}}
* {{বাউ|আবু শাহ্রিয়ার}}
* {{বাউ|আবু সয়ীদ আইয়ুব}}
* {{বাউ|আবু সাইয়ীদ}}
* {{বাউ|আবু সাঈদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম}}
* {{বাউ|আবু সালেহ}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ}}
* {{বাউ|আবু হায়াত মাহমুদ}}
* {{বাউ|আবু হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|আবু হাসান শাহরিয়ার}}
* {{বাউ|আবু হেনা মোস্তফা কামাল}}
* {{বাউ|আবু হোসেন সিদ্দিক}}
* {{বাউ|আবুল আহসান}}
* {{বাউ|আবুল আহসান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবুল ওমরাহ মুহম্মদ ফখরুদ্দিন}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবুল কালাম ফায়জুল হক}}
* {{বাউ|আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ}}
* {{বাউ|আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া}}
* {{বাউ|আবুল কালাম শামসুদ্দিন (সরকারি কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|আবুল কাশেম সন্দ্বীপ}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম (সাহিত্যরত্ন)}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম খান}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম ফজলুল হক}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন}}
* {{বাউ|আবুল ফতেহ}}
* {{বাউ|আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া}}
* {{বাউ|আবুল বরকত}}
* {{বাউ|আবুল বারকাত}}
* {{বাউ|আবুল বাশার (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল বাশার (লেখক)}}
* {{বাউ|আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম}}
* {{বাউ|আবুল বাসার (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল বাসার আকন্দ}}
* {{বাউ|আবুল মকসুদ হারুন অর রশীদ}}
* {{বাউ|আবুল মাল আবদুল মুহিত}}
* {{বাউ|আবুল মোমেন}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম খান (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম সরকার}}
* {{বাউ|আবুল হাসনাত (মেয়র)}}
* {{বাউ|আবুল হাসান (কবি)}}
* {{বাউ|আবুল হাসান মাহমুদ আলী}}
* {{বাউ|আবুল হুসসাম}}
* {{বাউ|আবুল হুসেন}}
* {{বাউ|আবুল হোসেন (কবি)}}
* {{বাউ|আবুল হোসেন (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|আবেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবেদ হোসেন খান}}
* {{বাউ|আব্দুর রইছ}}
* {{বাউ|আব্দুর রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুর রব চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান (মুফতি)}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান আনওয়ারী}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান সরকার}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমানেল মাছউদ}}
* {{বাউ|আব্দুর রহিম (সংসদ সদস্য)}}
* {{বাউ|আব্দুল আউয়াল খান}}
* {{বাউ|আব্দুল আজিজ (চলচ্চিত্র নির্মাতা)}}
* {{বাউ|আব্দুল আলীম (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা}}
* {{বাউ|আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার}}
* {{বাউ|আব্দুল ওহাব খান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আব্দুল করিম আব্বাসী}}
* {{বাউ|আব্দুল জব্বার}}
* {{বাউ|আব্দুল জলিল}}
* {{বাউ|আব্দুল বায়েস}}
* {{বাউ|আব্দুল মতিন চৌধুরী (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|আব্দুল মতিন পাটোয়ারি}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান আকন্দ}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান চৌধুরী (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান শিকদার}}
* {{বাউ|আব্দুল মালেক উকিল}}
* {{বাউ|আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুল মুমিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুল মোতালেব মালিক}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ বাচ্চু}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ মিয়া}}
* {{বাউ|আব্দুল হাকিম সরকার}}
* {{বাউ|আব্দুল হামিদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আব্দুল হামিদ রায়হান}}
* {{বাউ|আব্দুল হালিম বুখারী}}
* {{বাউ|আব্দুল হাসিব}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ আল মামুন (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ}}
* {{বাউ|আব্দুস শাকুর (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার খান}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার মোহন্ত}}
* {{বাউ|আব্দুস সামাদ আজাদ}}
* {{বাউ|আব্দুস সালাম চাটগামী}}
* {{বাউ|আব্দুস সেলিম}}
* {{বাউ|আব্বাসউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আভরাল সাহির}}
* {{বাউ|আভা আলম}}
* {{বাউ|আভাস}}
* {{বাউ|আভাসকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আমজাদ হোসেন}}
* {{বাউ|আমজাদ হোসেন (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আমান রেজা}}
* {{বাউ|আমানুল হক}}
* {{বাউ|আমানুল হক (নৃত্যশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমানুল্লাহ কবির}}
* {{বাউ|আমিন আহমদ}}
* {{বাউ|আমিন উদ্দিন মৃধা}}
* {{বাউ|আমিন সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|আমিনা আহমেদ কর}}
* {{বাউ|আমিনুর রশীদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান শামসুদ দোহা}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান সুলতান}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম (মৃত্তিকা বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম বাদশা}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া}}
* {{বাউ|আমিনুল করিম}}
* {{বাউ|আমিনুল হক (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আমিনুল হক (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|আমির হামজা (আলোকচিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমির হামজা (কবি)}}
* {{বাউ|আমির হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আমির হোসেন আমু}}
* {{বাউ|আমির হোসেন খান}}
* {{বাউ|আমিরুল আলম মিলন}}
* {{বাউ|আমিরুল ইসলাম (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আমিরুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমীন আহম্মেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমীর-উল ইসলাম}}
* {{বাউ|আমীরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আয়নুন নাহার সিদ্দিকা}}
* {{বাউ|আয়মান সাদিক}}
* {{বাউ|আয়েত আলী খাঁ}}
* {{বাউ|আয়েশা বেদোরা চৌধুরী}}
* {{বাউ|আযীযুর রহমান কায়েদ}}
* {{বাউ|আর আই এম আমিনুর রশিদ}}
* {{বাউ|আর. এ. গনি}}
* {{বাউ|আর. কে. বি. এম. রিজমী}}
* {{বাউ|আরতি দত্ত}}
* {{বাউ|আরমা দত্ত}}
* {{বাউ|আরমিন মুসা}}
* {{বাউ|আরশাদ-উজ জামান}}
* {{বাউ|আরেফিন রুমি}}
* {{বাউ|আর্ক}}
* {{বাউ|আর্থার উইলসন}}
* {{বাউ|আর্থার লেভেলিন বাশাম}}
* {{বাউ|আল-কামাল আবদুল ওহাব}}
* {{বাউ|আল-নকীব চৌধুরী}}
* {{বাউ|আলতাফ মাহমুদ}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেইন}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেন (কবি)}}
* {{বাউ|আলতামাস আহমেদ}}
* {{বাউ|আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আলফ্রেড উডলি ক্রফট}}
* {{বাউ|আলভী আহমেদ}}
* {{বাউ|আলম আরা জুঁই}}
* {{বাউ|আলম খান}}
* {{বাউ|আলম খোরশেদ}}
* {{বাউ|আলমগীর (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আলমগীর কুমকুম}}
* {{বাউ|আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন আলী}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন আহম্মদ}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|আলী আকবর খাঁ}}
* {{বাউ|আলী আকবর রুপু}}
* {{বাউ|আলী আকরাম শুভ}}
* {{বাউ|আলী আজগর}}
* {{বাউ|আলী আশরাফ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আলী আহমদ}}
* {{বাউ|আলী ইমাম}}
* {{বাউ|আলী কায়সার হাসান মোর্শেদ}}
* {{বাউ|আলী মনসুর}}
* {{বাউ|আলী রীয়াজ}}
* {{বাউ|আলী হোসেন (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|আলেকজান্ডার পেডলার}}
* {{বাউ|আশফাকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আশরফি খানম}}
* {{বাউ|আশরাফ আলী খান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশরাফ শিশির}}
* {{বাউ|আশরাফ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আশরাফ-উজ-জামান খান}}
* {{বাউ|আশরাফুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আশরাফুল আলম (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আশা মেহরিন আমিন}}
* {{বাউ|আশালতা সিংহ}}
* {{বাউ|আশালতা সেন}}
* {{বাউ|আশিক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশিকুজ্জামান (জেনারেল)}}
* {{বাউ|আশিকুর রহমান}}
* {{বাউ|আশীষ রঞ্জন দাস}}
* {{বাউ|আশুতোষ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশুতোষ চৌধুরী (আইনজীবি)}}
* {{বাউ|আশুতোষ সুজন}}
* {{বাউ|আশুতোষ সেন}}
* {{বাউ|আশ্চর্যময়ী}}
* {{বাউ|আসকার ইবনে শাইখ}}
* {{বাউ|আসফার হোসেন মোল্লা}}
* {{বাউ|আসমত আলী শিকদার}}
* {{বাউ|আসলাম সানী}}
* {{বাউ|আসহাব উদ্দীন}}
* {{বাউ|আসহাব উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আসহাব-উল-হক}}
* {{বাউ|আসাদ আলম সিয়াম}}
* {{বাউ|আসাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আসাদ বিন হাফিজ}}
* {{বাউ|আসাদ মান্নান}}
* {{বাউ|আসাদুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আসিফ ইকবাল (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আহমদ আবদুল কাদের}}
* {{বাউ|আহমদ আলী এনায়েতপুরী}}
* {{বাউ|আহমদ জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আহমদ রফিক}}
* {{বাউ|আহমদ শামসুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আহমাদ মোস্তফা কামাল}}
* {{বাউ|আহমেদ আলী}}
* {{বাউ|আহমেদ ইকবাল হায়দার}}
* {{বাউ|আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল}}
* {{বাউ|আহমেদ শফি}}
* {{বাউ|আহমেদ সোহেল}}
* {{বাউ|আহমেদুর রশিদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আহম্মদ আলী}}
* {{বাউ|আহসান এইচ মনসুর}}
* {{বাউ|আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|ইউজিন লাঁফৌ}}
* {{বাউ|ইউনুস আলী সরকার}}
* {{বাউ|ইউয়ান ৎসে লি}}
* {{বাউ|ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমন}}
* {{বাউ|ইউসুফ আলী খান}}
* {{বাউ|ইউসুফ আলী মোল্লা}}
* {{বাউ|ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন}}
* {{বাউ|ইকতিয়ার চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইকবাল আসিফ জুয়েল}}
* {{বাউ|ইকবাল আহমেদ (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|ইকবাল কাদির}}
* {{বাউ|ইকবাল খন্দকার}}
* {{বাউ|ইকবাল মাহমুদ}}
* {{বাউ|ইকবাল সোবহান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইকবাল হোসেন খান}}
* {{বাউ|ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ}}
* {{বাউ|ইতরাত হোসেন জুবেরী}}
* {{বাউ|ইনামুল হক}}
* {{বাউ|ইন্ডালো}}
* {{বাউ|ইন্দিরা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ইন্দিরা দেবী}}
* {{বাউ|ইন্দিরা নাথ}}
* {{বাউ|ইন্দিরা ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|ইন্দিরাদেবী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইন্দু মিঠা}}
* {{বাউ|ইন্দুভূষণ রক্ষিত}}
* {{বাউ|ইন্দ্রকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ}}
* {{বাউ|ইন্দ্রজিৎ হাজরা}}
* {{বাউ|ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ইন্দ্রনাথ রুদ্র}}
* {{বাউ|ইন্দ্রমোহন রাজবংশী}}
* {{বাউ|ইন্দ্রাণী বসু}}
* {{বাউ|ইপ্সিতা রায় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইফতেখার চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইফতেখারুজ্জামান}}
* {{বাউ|ইফফাত আরা}}
* {{বাউ|ইফফাত আরা দেওয়ান}}
* {{বাউ|ইবনে ইমাম}}
* {{বাউ|ইবনে মিজান}}
* {{বাউ|ইবরাহীম আলী তশনা}}
* {{বাউ|ইবরাহীম খাঁ}}
* {{বাউ|ইব্রাহিম আহমেদ কমল}}
* {{বাউ|ইব্রাহীম খলিল (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|ইমতিয়াজ মাহমুদ}}
* {{বাউ|ইমতিয়াজ হোসেন (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|ইমতিয়ার শামীম}}
* {{বাউ|ইমদাদ হোসেন}}
* {{বাউ|ইমন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইমন সাহা}}
* {{বাউ|ইমরান এইচ সরকার}}
* {{বাউ|ইমরান মাহমুদুল}}
* {{বাউ|ইমরান সিদ্দিক}}
* {{বাউ|ইমাউল হক}}
* {{বাউ|ইমাম হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইয়াকুব আলী শরীফ}}
* {{বাউ|ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ}}
* {{বাউ|ইয়াসমিন মোর্শেদ}}
* {{বাউ|ইয়েন ইয়েন}}
* {{বাউ|ইলা মজুমদার}}
* {{বাউ|ইসমাইল খান}}
* {{বাউ|ইসমাইল ফারুক চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইসমাইল মোহাম্মাদ}}
* {{বাউ|ইসমাইল হোসেন তালুকদার}}
* {{বাউ|ইসমাত জাহান}}
* {{বাউ|ইসরাইল খান}}
* {{বাউ|ইসহাক কাজল}}
* {{বাউ|ইসহাক খান}}
* {{বাউ|ইসহাক ফরিদী}}
* {{বাউ|ইস্পাহানী-আরিফ জাহান}}
* {{বাউ|ঈশা মহম্মদ}}
* {{বাউ|ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ঈশানচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|উকিল মুন্সী}}
* {{বাউ|উজ্জ্বল (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|উজ্জ্বল মৌলিক}}
* {{বাউ|উত্তম আকাশ}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উবায়দুর রহমান খান নদভী}}
* {{বাউ|উবায়দুল কবীর চৌধুরী}}
* {{বাউ|উমা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উমাপতিধর}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র বটব্যাল}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উৎপলকুমার বসু}}
* {{বাউ|উৎপলেন্দু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ঊষা গাঙ্গুলি}}
* {{বাউ|ঊষা রঞ্জন ঘটক}}
* {{বাউ|ঊষা সেন}}
* {{বাউ|ঋজুদা}}
* {{বাউ|ঋতুরাজ ভৌমিক}}
* {{বাউ|ঋতেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ঋষি চন্দ}}
* {{বাউ|ঋষিবর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|এ আই এম মোস্তফা রেজা নূর}}
* {{বাউ|এ এইচ এম এনায়েত হোসেন}}
* {{বাউ|এ এইচ এম জেহাদুল করিম}}
* {{বাউ|এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ এইচ দিলদার আহমদ}}
* {{বাউ|এ এইচ মোফাজ্জল করিম}}
* {{বাউ|এ এন এম গোলাম মোস্তফা}}
* {{বাউ|এ এফ এম আবদুল আলীম চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ এফ এম নাজমুল হুদা}}
* {{বাউ|এ এফ এম মফিজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ এম এ এম জোনায়েদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ কে আজাদ খান}}
* {{বাউ|এ কে এম ইউসুফ}}
* {{বাউ|এ কে এম ইয়াকুব আলী}}
* {{বাউ|এ কে এম কামারুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ কে এম জহিরুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম জহিরুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|এ কে এম জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|এ কে এম নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ কে এম নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ কে এম নূরুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম শহীদুল করিম}}
* {{বাউ|এ কে এম শামসুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ কে এম সাদেক}}
* {{বাউ|এ কে এম সিদ্দিক}}
* {{বাউ|এ কে এম হাফিজউদ্দিন}}
* {{বাউ|এ কে নাজমুল করিম}}
* {{বাউ|এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|এ কে বদরুল হক}}
* {{বাউ|এ জে এম নূরুদ্দীন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ জে মিন্টু}}
* {{বাউ|এ জেড এম জাহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|এ জেড এম মোস্তাক হোসেন}}
* {{বাউ|এ টি এম আলমগীর}}
* {{বাউ|এ টি এম জহুরুল হক}}
* {{বাউ|এ বি এম আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|এ বি এম আব্দুল্লাহ}}
* {{বাউ|এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ বি এম মূসা}}
* {{বাউ|এ বি এম রাশেদুল হাসান}}
* {{বাউ|এ বি এম শওকত আলী}}
* {{বাউ|এ, জে, মোহাম্মদ আলী}}
* {{বাউ|এ. এইচ. এম. মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. এইচ. এস. আতাউল করিম}}
* {{বাউ|এ. এইচ. জি. মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|এ. এন. এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ. এন. এম. নূরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. এন. এম. হামিদুল্লাহ্}}
* {{বাউ|এ. এফ. ইমাম আলি}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আওরঙ্গজেব}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আবদুল মঈন}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আব্দুর রহমান}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. এন্তাজ আলী}}
* {{বাউ|এ. এফ. সালাহ্উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|এ. এফ. হাসান আরিফ}}
* {{বাউ|এ. এম. আমিনুল হক}}
* {{বাউ|এ. এস. এম. আব্দুল মোবিন}}
* {{বাউ|এ. কিউ. এম. বজলুল করিম}}
* {{বাউ|এ. কিউ. এম. মাহবুব}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. আহসান আলী}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|এ. কে. নাজিরউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|এ. টি. এম. আফজাল}}
* {{বাউ|এ. টি. এম. শামসুদ্দিন}}
* {{বাউ|এ. বি. এম. খায়রুল হক}}
* {{বাউ|এ. বি.এম. আলতাফ হোসেন}}
* {{বাউ|এ.এইচ.এম. শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|এ.ওয়াই.বি আই সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এ.কে.এম. রবিউল হাসান}}
* {{বাউ|এ.টি.এম. ফজলে কবির}}
* {{বাউ|এআরএম ইনামুল হক}}
* {{বাউ|এআরএম লুৎফুল কবীর}}
* {{বাউ|এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে}}
* {{বাউ|এইচ এম জহিরুল হক}}
* {{বাউ|এএসএম মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|একরামউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|একেএম আবদুর রউফ}}
* {{বাউ|একেএম আমিনুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|একেএম আসাদুল হক}}
* {{বাউ|একেএম বজলুল করিম}}
* {{বাউ|একেএম শহীদুল হক}}
* {{বাউ|একেনবাবু}}
* {{বাউ|এখলাসউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|এজাজ ইউসুফী}}
* {{বাউ|এজাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এঞ্জেলা গোমেজ}}
* {{বাউ|এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|এনামুর রহমান}}
* {{বাউ|এনামুল করিম নির্ঝর}}
* {{বাউ|এনামুল বাশার}}
* {{বাউ|এনামুল হক (পুলিশ কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|এনামুল হক (প্রত্নতাত্ত্বিক)}}
* {{বাউ|এনামুল হক (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|এনামুল হক মোস্তফা শহীদ}}
* {{বাউ|এনায়েত করিম}}
* {{বাউ|এনায়েত হোসেন খান}}
* {{বাউ|এনায়েতউল্লাহ খান}}
* {{বাউ|এনায়েতুল্লাহ্ খান}}
* {{বাউ|এনিগমা (মার্ভেল কমিক্স)}}
* {{বাউ|এন্ড্রু বিরাজ}}
* {{বাউ|এফ আই মানিক}}
* {{বাউ|এফ এ সুমন}}
* {{বাউ|এফআরএম নাজমুল আহসান}}
* {{বাউ|এবাদুর রহমান}}
* {{বাউ|এবিএম নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এব্রাহাম মজুমদার}}
* {{বাউ|এম অহিদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এম আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|এম আবদুর রহমান}}
* {{বাউ|এম আবদুল কাদির ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|এম আবদুস সোবহান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|এম আর আখতার মুকুল}}
* {{বাউ|এম আর কবির}}
* {{বাউ|এম আলাউদ্দিন}}
* {{বাউ|এম আল্লামা সিদ্দিকি}}
* {{বাউ|এম ইউসুফ আলী}}
* {{বাউ|এম ইকবাল আর্সলান}}
* {{বাউ|এম ইদ্রিস}}
* {{বাউ|এম ইন্নাস আলী}}
* {{বাউ|এম এ ওয়াজেদ মিয়া}}
* {{বাউ|এম এ ওয়াদুদ}}
* {{বাউ|এম এ খালেক}}
* {{বাউ|এম এ জাহের (ভূতাত্ত্বিক)}}
* {{বাউ|এম এ মাজিদ}}
* {{বাউ|এম এ মান্নান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|এম এ মান্নান (স্নায়ুবিদ)}}
* {{বাউ|এম এ মালেক (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|এম এ মোবিন}}
* {{বাউ|এম এ সাত্তার মণ্ডল}}
* {{বাউ|এম এ হক (কবি)}}
* {{বাউ|এম এ হাদী}}
* {{বাউ|এম এ হামিদ}}
* {{বাউ|এম এ হাসান}}
* {{বাউ|এম এনায়েতুর রহিম}}
* {{বাউ|এম এম রহমত উল্লাহ}}
* {{বাউ|এম এম রেজাউল করিম}}
* {{বাউ|এম এস স্বামীনাথন}}
* {{বাউ|এম ওসমান গনি তালুকদার}}
* {{বাউ|এম কিউ কে তালুকদার}}
* {{বাউ|এম কোরবান আলী}}
* {{বাউ|এম খায়রুল হোসেন}}
* {{বাউ|এম ফাতেমা খানম}}
* {{বাউ|এম ফিরোজ আহমেদ}}
* {{বাউ|এম বি মানিক}}
* {{বাউ|এম মহবুবউজ্জামান}}
* {{বাউ|এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|এম মোজাম্মেল হক}}
* {{বাউ|এম রফিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম শমশের আলী}}
* {{বাউ|এম শহিদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম শামসুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম সাইদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এম সাইদুর রহমান খান}}
* {{বাউ|এম সি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|এম হামিদ}}
* {{বাউ|এম. আজিজুর রহমান}}
* {{বাউ|এম. আমিনুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম. এ. আজিজ (নির্বাচন কমিশনার)}}
* {{বাউ|এম. এইচ. খন্দকার}}
* {{বাউ|এম. এম. রুহুল আমিন}}
* {{বাউ|এম. খায়রুল আলম খান}}
* {{বাউ|এম. গোলাম শাহি আলম}}
* {{বাউ|এম. জাহিদ হাসান}}
* {{বাউ|এম. নুরুল্লাহ}}
* {{বাউ|এম. মোয়াজ্জম হোসেন}}
* {{বাউ|এম. শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|এম. সাখাওয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|এম. হুমায়ুন কবির}}
* {{বাউ|এম. হোসেন আলী}}
* {{বাউ|এমদাদুল হক আজাদ}}
* {{বাউ|এমদাদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|এমরান আহমদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|এমাজউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|এল. কে. সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এলিটা করিম}}
* {{বাউ|এস আই এম নূরুন্নবী খান}}
* {{বাউ|এস আই টুটুল}}
* {{বাউ|এস এ হক অলিক}}
* {{বাউ|এস এম আব্রাহাম লিংকন}}
* {{বাউ|এস এম আমজাদ হোসেন}}
* {{বাউ|এস এম আহমেদ হুমায়ুন}}
* {{বাউ|এস এম এমদাদুল হক}}
* {{বাউ|এস এম কুদ্দুস জামান}}
* {{বাউ|এস এম মহসীন}}
* {{বাউ|এস এম মাসুদ হোসেন দোলন}}
* {{বাউ|এস এম মাহফুজুর রহমান}}
* {{বাউ|এস এম সোলায়মান}}
* {{বাউ|এস ডি রুবেল}}
* {{বাউ|এস. এ. বারী}}
* {{বাউ|এস. এ. মালেক}}
* {{বাউ|এস. এম. আল হোসাইনী}}
* {{বাউ|এস. এম. এ. রাশীদুল হাসান}}
* {{বাউ|এস. এম. মজিবুর রহমান}}
* {{বাউ|এস. এম. মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এস. এম. সিরিল}}
* {{বাউ|এস. এম. হারুন-অর-রশীদ}}
* {{বাউ|এস.এম আবুল কালাম}}
* {{বাউ|এস.এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু}}
* {{বাউ|এসকে. তাহসিন আলী}}
* {{বাউ|এহতেশাম}}
* {{বাউ|ওবায়দুল হাসান}}
* {{বাউ|ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|ওবায়দুল্লাহ হামযাহ}}
* {{বাউ|ওমর আলী}}
* {{বাউ|ওমর ইশরাক}}
* {{বাউ|ওমর ফারুক ইউসুফ}}
* {{বাউ|ওয়াকিল আহমদ}}
* {{বাউ|ওয়াকিল আহাদ}}
* {{বাউ|ওয়াজেদ আলী সুমন}}
* {{বাউ|ওয়াসফিয়া নাজরীন}}
* {{বাউ|ওয়াসি আহমেদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদ ইবনে রেজা}}
* {{বাউ|ওয়াহিদউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদা আক্তার}}
* {{বাউ|ওয়াহিদুল হক}}
* {{বাউ|ওসমান গণি}}
* {{বাউ|ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী}}
* {{বাউ|ওস্তাদ বাবর আলী খান}}
* {{বাউ|ওহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|ওহিদুল আলম}}
* {{বাউ|ওহীদুল আলম}}
* {{বাউ|কঙ্কনা সেন শর্মা}}
* {{বাউ|কঙ্কর শুভ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কছিম উদ্দিন}}
* {{বাউ|কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কনক কান্তি বড়ুয়া}}
* {{বাউ|কনকচাঁপা}}
* {{বাউ|কফিল আহমেদ}}
* {{বাউ|কফিলউদ্দিন মাহমুদ}}
* {{বাউ|কবরী}}
* {{বাউ|কবিচন্দ্র রামকৃষ্ণ রায়}}
* {{বাউ|কবিতা খানম}}
* {{বাউ|কবিতা সিংহ}}
* {{বাউ|কবির বকুল}}
* {{বাউ|কবির হোসেন}}
* {{বাউ|কবীন্দ্র পরমেশ্বর}}
* {{বাউ|কবীর সুমন}}
* {{বাউ|কমল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কমলকুমার মজুমদার}}
* {{বাউ|কমলা সাংকৃত্যায়ন}}
* {{বাউ|কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানী}}
* {{বাউ|করুণা সাহা}}
* {{বাউ|করুণাময় গোস্বামী}}
* {{বাউ|কর্নেল নীলাদ্রি সরকার}}
* {{বাউ|কলাবতী (কাল্পনিক চরিত্র)}}
* {{বাউ|কলিম শরাফী}}
* {{বাউ|কল্কেকাশি}}
* {{বাউ|কল্পতরু সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|কল্পনা আখতার}}
* {{বাউ|কল্পনা চাকমা}}
* {{বাউ|কল্যাণ মিত্র}}
* {{বাউ|কল্যাণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কল্যাণী ঘোষ}}
* {{বাউ|কসিমউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|কসিরউদ্দিন তালুকদার}}
* {{বাউ|কাইজার চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাইয়ুম চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাওসার আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাওসার চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাকাবাবু}}
* {{বাউ|কাজল আরেফিন অমি}}
* {{বাউ|কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কাজি হাসমত আলী}}
* {{বাউ|কাজী আকরম হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী আজহার আলী}}
* {{বাউ|কাজী আজিজুল মাওলা}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ার হোসেন (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ারা মনসুর}}
* {{বাউ|কাজী আফসারউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|কাজী আবদুল আলীম}}
* {{বাউ|কাজী আবদুল ফাত্তাহ}}
* {{বাউ|কাজী আবুল কাসেম (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|কাজী আবুল মনসুর}}
* {{বাউ|কাজী ইবাদত হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী ইমদাদুল হক}}
* {{বাউ|কাজী এবাদুল হক}}
* {{বাউ|কাজী এম বদরুদ্দোজা}}
* {{বাউ|কাজী ওয়ালিউল ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী কাদের নেওয়াজ}}
* {{বাউ|কাজী কামরুজ্জামান}}
* {{বাউ|কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম দস্তগীর}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম মাহবুব}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম মুস্তাফা}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম রসূল}}
* {{বাউ|কাজী জহির}}
* {{বাউ|কাজী জহিরুল হক}}
* {{বাউ|কাজী জিনাত হক}}
* {{বাউ|কাজী তরিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী দীন মুহাম্মদ (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|কাজী মাসুম আখতার}}
* {{বাউ|কাজী মুতাসিম বিল্লাহ}}
* {{বাউ|কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা}}
* {{বাউ|কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দ}}
* {{বাউ|কাজী মোরশেদ}}
* {{বাউ|কাজী রওশন আক্তার}}
* {{বাউ|কাজী রেজা-উল হক}}
* {{বাউ|কাজী রোজী}}
* {{বাউ|কাজী শহীদুন নবী}}
* {{বাউ|কাজী শুভ}}
* {{বাউ|কাজী সব্যসাচী}}
* {{বাউ|কাজী সাইফুদ্দীন}}
* {{বাউ|কাজী সাজ্জাদ হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী হায়াৎ}}
* {{বাউ|কাজী হাসান হাবিব}}
* {{বাউ|কাজেম আলী}}
* {{বাউ|কাত্যায়নী দাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কাদম্বরী দেবী}}
* {{বাউ|কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কাদেরী কিবরিয়া}}
* {{বাউ|কানকাটা রমজান}}
* {{বাউ|কানাই লাল দে}}
* {{বাউ|কানাইলাল শীল}}* {{বাউ|কানাহরি দত্ত}}
* {{বাউ|কানু রায়}}
* {{বাউ|কাবেরী গায়েন}}
* {{বাউ|কামরুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার (সরকারি কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার বেগম}}
* {{বাউ|কামরুন নেছা নীলু}}
* {{বাউ|কামরুল আলম খান}}
* {{বাউ|কামরুল আহসান}}
* {{বাউ|কামরুল আহসান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম সিদ্দিক}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান খান}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কামার আহমাদ সাইমন}}
* {{বাউ|কামাল আহমেদ}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|কামাল লোহানী}}
* {{বাউ|কামাল হোসেন}}
* {{বাউ|কামালউদ্দিন হোসেন}}
* {{বাউ|কামালুদ্দীন জাফরী}}
* {{বাউ|কামিনী কুমার দত্ত}}
* {{বাউ|কামিনীকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|কায়সার হামিদুল হক}}
* {{বাউ|কায়সুল হক}}
* {{বাউ|কায়েস উদ্দিন}}
* {{বাউ|কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কালিকারঞ্জন কানুনগো}}
* {{বাউ|কালিচন্দ্র রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|কালিদাস কর্মকার}}
* {{বাউ|কালিদাস নাগ}}
* {{বাউ|কালিদাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কালীকৃষ্ণ মিত্র}}
* {{বাউ|কালীনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|কালীনাথ রায়}}
* {{বাউ|কালীপদ পাঠক}}
* {{বাউ|কালীপদ বসু}}
* {{বাউ|কালীপদ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|কালীপদ সেন}}
* {{বাউ|কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ}}
* {{বাউ|কালীপ্রসন্ন সিংহ}}
* {{বাউ|কালীমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|কাশীরাম দাস}}
* {{বাউ|কাশেফা হোসেন}}
* {{বাউ|কাসেম বিন আবুবাকার}}
* {{বাউ|কিউ এ বি এম রহমান}}
* {{বাউ|কিউ.এ.এম.এ রহিম}}
* {{বাউ|কিকিরা}}
* {{বাউ|কিরণ সেন}}
* {{বাউ|কিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|কিরীটী রায়}}
* {{বাউ|কিশোর কুমার}}
* {{বাউ|কিশোরীচাঁদ মিত্র}}
* {{বাউ|কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কুঞ্জলাল নাগ}}
* {{বাউ|কুটি মনসুর}}
* {{বাউ|কুণাল বসু}}
* {{বাউ|কুদরত-ই-জাহান}}
* {{বাউ|কুদ্দুস বয়াতি}}
* {{বাউ|কুমকুম মুন্সী}}
* {{বাউ|কুমার বিশ্বজিৎ}}
* {{বাউ|কুমার রায়}}
* {{বাউ|কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কুমারেশ ঘোষ}}
* {{বাউ|কুমুদনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|কুমুদশঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|কুমুদিনী হাজং}}
* {{বাউ|কৃষ্ণ কুণ্ডু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণ ধর}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকালী মণ্ডল}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকুমার মিত্র}}
* {{বাউ|কৃষ্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদয়াল বসু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদাস কবিরাজ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদাস পাল}}
* {{বাউ|কৃষ্ণধন ঘোষ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণনাথ রায়}}
* {{বাউ|কৃষ্ণভাবিনী দাস}}
* {{বাউ|কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কৃষ্ণরাম দাস}}
* {{বাউ|কৃষ্ণরাম ভট্টাচাৰ্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা দেবনাথ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা বসু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ}}
* {{বাউ|কে এম আলী আজম}}
* {{বাউ|কে এম আসাদ}}
* {{বাউ|কে এম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|কে এম মোহসীন}}
* {{বাউ|কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা}}
* {{বাউ|কে এম সোবহান}}
* {{বাউ|কে জি মুস্তফা}}
* {{বাউ|কে. এম. ইমরুল কায়েশ}}
* {{বাউ|কে. এম. কামরুল কাদের}}
* {{বাউ|কে. এম. জাহিদ সারওয়ার}}
* {{বাউ|কে. এম. শিহাব উদ্দিন}}
* {{বাউ|কে. এম. হাফিজুল আলম}}
* {{বাউ|কে. এম. হাসান}}
* {{বাউ|কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ}}
* {{বাউ|কেতকী কুশারী ডাইসন}}
* {{বাউ|কেতায়ুন আরদেশির দিনশ}}
* {{বাউ|কেদার ও বদ্রী}}
* {{বাউ|কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেদারনাথ দাস}}
* {{বাউ|কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেদারনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|কেদারেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেরামত মওলা}}
* {{বাউ|কেশব চন্দ্র নাগ}}
* {{বাউ|কৈলাসচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|কৈলাসচন্দ্র বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|কোনাল}}
* {{বাউ|কোরেশী মাগন ঠাকুর}}
* {{বাউ|কৌশিক বসু}}
* {{বাউ|ক্যাথরিন মাসুদ}}
* {{বাউ|ক্রসউইন্ডস}}
* {{বাউ|ক্রিপটিক ফেইট}}
* {{বাউ|ক্লডিয়াস জেমস এরস্কাইন}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রমোহন নাহা}}
* {{বাউ|ক্ষিরোদচন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ}}
* {{বাউ|ক্ষুদিরাম দাস}}
* {{বাউ|ক্ষেত্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|ক্ষেত্রেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|খগেন্দ্র চন্দ্র দাশ}}
* {{বাউ|খগেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|খন্দকার আবদুল হাফিজ}}
* {{বাউ|খন্দকার আবদুল হামিদ}}
* {{বাউ|খন্দকার আবু বকর (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|খন্দকার নুরুল আলম}}
* {{বাউ|খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|খন্দকার মাহবুব হোসেন}}
* {{বাউ|খন্দকার মুসা খালেদ}}
* {{বাউ|খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম}}
* {{বাউ|খন্দকার শামস্ উদ্দিন আহাম্মাদ}}
* {{বাউ|খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী}}
* {{বাউ|খন্দকার সুমন}}
* {{বাউ|খলিল উল্লাহ খান}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান বাবর}}
* {{বাউ|খাঁন মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ্ আল মেহেদী}}
* {{বাউ|খাজা ওয়াসিউদ্দিন}}
* {{বাউ|খাজা মোহাম্মদ কায়সার}}
* {{বাউ|খাতুন সাপনারা}}
* {{বাউ|খাদেম হোসেন খান}}
* {{বাউ|খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|খান আসিফুর রহমান আগুন}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর আবদুল করিম}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর জিয়াউল হক}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দিন আহম্মদ}}
* {{বাউ|খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন}}
* {{বাউ|খান মোহাম্মদ ফারাবী}}
* {{বাউ|খান মোহাম্মদ সালেক}}
* {{বাউ|খান শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|খান সারওয়ার মুরশিদ}}
* {{বাউ|খান-এ-সবুর}}
* {{বাউ|খায়রুজ্জামান}}
* {{বাউ|খায়রুল আনাম শাকিল}}
* {{বাউ|খায়রুল আলম সবুজ}}
* {{বাউ|খালিকুজ্জামান ইলিয়াস}}
* {{বাউ|খালিদ মাহমুদ মিঠু}}
* {{বাউ|খালিদ হাসান মিলু}}
* {{বাউ|খালিদ হোসেন}}
* {{বাউ|খালেক নওয়াজ খান}}
* {{বাউ|খালেক বিন জয়েন উদ্দীন}}
* {{বাউ|খালেকদাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|খালেদ খান}}
* {{বাউ|খালেদা আদিব চৌধুরী}}
* {{বাউ|খালেদা একরাম}}
* {{বাউ|খালেদা মনযূর-এ-খুদা}}
* {{বাউ|খিজির আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|খিজির হায়াত}}
* {{বাউ|খিজির হায়াত খান}}
* {{বাউ|খুজিস্তা আখতার বানু}}
* {{বাউ|খুররম খান পন্নী}}
* {{বাউ|খুরশিদ আলম}}
* {{বাউ|খুরশিদ খান}}
* {{বাউ|খুশি কবীর}}
* {{বাউ|খোদা বক্স}}
* {{বাউ|খোদেজা আজম}}
* {{বাউ|খোদেজা খাতুন}}
* {{বাউ|খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ}}
* {{বাউ|খোন্দকার দিলীরুজ্জামান}}
* {{বাউ|খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|খোন্দকার নাসিরউদ্দিন}}
* {{বাউ|খোন্দকার মনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|খোশনূর আলমগীর}}
* {{বাউ|খ্যান্ত বালা রায়}}
* {{বাউ|গওহর জামিল}}
* {{বাউ|গগনচন্দ্র বিশ্বাস}}
* {{বাউ|গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গঙ্গাধর সেন রায়}}
* {{বাউ|গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গজেন্দ্রকুমার মিত্র}}
* {{বাউ|গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|গণেশ পাইন}}
* {{বাউ|গণেশ হালুই}}
* {{বাউ|গন্ডালু}}
* {{বাউ|গমির উদ্দিন প্রধান}}
* {{বাউ|গাজী আতাউর রহমান}}
* {{বাউ|গাজী আবদুল হাকিম}}
* {{বাউ|গাজী আব্দুল হক}}
* {{বাউ|গাজী এমএইচ তামিম}}
* {{বাউ|গাজী নাফিস আহমেদ}}
* {{বাউ|গাজী মাজহারুল আনোয়ার}}
* {{বাউ|গাজী রাকায়েত}}
* {{বাউ|গাজী শামছুর রহমান}}
* {{বাউ|গাজীউল হক}}
* {{বাউ|গাজীউল হাসান খান}}
* {{বাউ|গান্ধী আশ্রম}}
* {{বাউ|গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট}}
* {{বাউ|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}}
* {{বাউ|গার্গী গুপ্ত}}
* {{বাউ|গিয়াস উদ্দিন সেলিম}}
* {{বাউ|গিয়াস কামাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|গিয়াসউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|গিয়াসউদ্দীন মিয়া}}
* {{বাউ|গিয়াসুদ্দিন দালাল}}
* {{বাউ|গিরিজাপতি ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গিরিবালা দেবী}}
* {{বাউ|গিরিশ চন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|গিরিশচন্দ্র ঘোষ (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন}}
* {{বাউ|গিরীন্দ্রশেখর বসু}}
* {{বাউ|গিরীশ চন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|গীতা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গুণময় মান্না}}
* {{বাউ|গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গুরুনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|গুরুপ্রসাদ সেন}}
* {{বাউ|গুরুসদয় দত্ত}}
* {{বাউ|গুল মোহাম্মদ খাঁ}}
* {{বাউ|গোকুলচন্দ্র নাগ}}
* {{বাউ|গোগোল}}
* {{বাউ|গোপাল ঘোষ}}
* {{বাউ|গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|গোপাল হালদার}}
* {{বাউ|গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গোপালচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|গোপালদাস চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোপালদাস মজুমদার}}
* {{বাউ|গোপালের মা}}
* {{বাউ|গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু}}
* {{বাউ|গোবর্ধন আচার্য}}
* {{বাউ|গোবর্ধন আশ}}
* {{বাউ|গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর}}
* {{বাউ|গোবিন্দচন্দ্র দাস}}
* {{বাউ|গোবিন্দচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|গোবিন্দদাস}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা কৌশিক}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা গার্গী}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা বরদাচরণ}}
* {{বাউ|গোলাপ মা}}
* {{বাউ|গোলাম আবু জাকারিয়া}}
* {{বাউ|গোলাম আরিফ টিপু}}
* {{বাউ|গোলাম আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোলাম কবীর}}
* {{বাউ|গোলাম কাসেম}}
* {{বাউ|গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|গোলাম কুদ্দুস}}
* {{বাউ|গোলাম জিলানী চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোলাম মওলা}}
* {{বাউ|গোলাম মর্তুজা মজুমদার}}
* {{বাউ|গোলাম মাওলা (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|গোলাম মুরশিদ}}
* {{বাউ|গোলাম মুসাব্বির রাকিব}}
* {{বাউ|গোলাম মুস্তাফা (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|গোলাম মুস্তাফা (আলোকচিত্র শিল্পী)}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা (শহীদ বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা খান (নৃত্যশিল্পী)}}
* {{বাউ|গোলাম রহমান (শিশুসাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|গোলাম রাব্বানী বিপ্লব}}
* {{বাউ|গোলাম সাকলায়েন}}
* {{বাউ|গোলাম সামদানী কোরায়শী}}
* {{বাউ|গোলাম সামদানী ফকির}}
* {{বাউ|গোলাম সারওয়ার}}
* {{বাউ|গোলাম সারওয়ার (কূটনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|গোলাম হাসনায়েন}}
* {{বাউ|গৌতম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|গৌতম চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গৌতম বসু}}
* {{বাউ|গৌতম বুদ্ধ দাশ}}
* {{বাউ|গৌতম ভদ্র}}
* {{বাউ|গৌর গোপাল সাহা}}
* {{বাউ|গৌরগোবিন্দ রায়}}
* {{বাউ|গৌরচন্দ্র বালা}}
* {{বাউ|গৌরদাস বসাক}}
* {{বাউ|গৌরমোহন আঢ্য}}
* {{বাউ|গৌরী আইয়ুব}}
* {{বাউ|গৌরী ধর্মপাল}}
* {{বাউ|গৌরী ভঞ্জ}}
* {{বাউ|গৌরী মা}}
* {{বাউ|গৌরী সেন}}
* {{বাউ|গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার}}
* {{বাউ|ঘনরাম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ঘনাদা}}
* {{বাউ|চক্রপাণি দত্ত}}
* {{বাউ|চঞ্চল কর্মকার}}
* {{বাউ|চঞ্চল কুমার মজুমদার}}
* {{বাউ|চণ্ডী লাহিড়ী}}
* {{বাউ|চণ্ডীচরণ মুনশী}}
* {{বাউ|চণ্ডীচরণ সেন}}
* {{বাউ|চণ্ডীদাস মাল}}
* {{বাউ|চন্দক সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|চন্দন কুমার ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|চন্দন বিশ্বাস}}
* {{বাউ|চন্দ্র কালিন্দী রায় হেনরিকসন}}
* {{বাউ|চন্দ্র শেখর দে}}
* {{বাউ|চন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|চন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|চন্দ্রমুখী বসু}}
* {{বাউ|চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন}}
* {{বাউ|চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চন্দ্রিল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চপলাকান্ত ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চয়নিকা চৌধুরী}}
* {{বাউ|চামেলী বসু}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র বিশ্বাস}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র সান্যাল}}
* {{বাউ|চারুলতা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চারুশিতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|চাষী আলম}}
* {{বাউ|চাষী নজরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|চিণ্ময় শংকর দে}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন দেব}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন মাইতি}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন সাহা}}
* {{বাউ|চিত্রনিভা চৌধুরী}}
* {{বাউ|চিত্রা দত্ত}}
* {{বাউ|চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় দিবাকরূণী}}
* {{বাউ|চিত্রা মণ্ডল}}
* {{বাউ|চিদানন্দ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|চিন্তামণি কর}}
* {{বাউ|চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও}}
* {{বাউ|চিন্ময় গুহ}}
* {{বাউ|চিরকুট}}
* {{বাউ|চুণীলাল বসু}}
* {{বাউ|চুনি কোটাল}}
* {{বাউ|চৌধুরী আবদুল হাই}}
* {{বাউ|চৌধুরী এ.টি.এম মাসুদ}}
* {{বাউ|চৌধুরী গোলাম আকবর}}
* {{বাউ|চৌধুরী মাহমুদ হাসান}}
* {{বাউ|চৌধুরী মোফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|ছটকু আহমেদ}}
* {{বাউ|ছদরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ছন্দা গায়েন}}
* {{বাউ|ছবি বিশ্বাস}}
* {{বাউ|ছরওয়ার জান মিয়া}}
* {{বাউ|ছিদ্দিক আহমদ}}
* {{বাউ|জকি আহাদ}}
* {{বাউ|জগদীশ গুপ্ত}}
* {{বাউ|জগদীশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জগন্নাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন}}
* {{বাউ|জগন্নাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|জগন্মোহিনী দেবী}}
* {{বাউ|জগুমামা}}
* {{বাউ|জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন}}
* {{বাউ|জন গোমেজ}}
* {{বাউ|জন প্যাক্সটন নরম্যান}}
* {{বাউ|জনাব আলী উকিল}}
* {{বাউ|জমির উদ্দিন সরকার}}
* {{বাউ|জয় ভট্টাচার্য (চিকিৎসক-বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জয় সরকার}}
* {{বাউ|জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়গোপাল তর্কালঙ্কার}}
* {{বাউ|জয়তী বসু}}
* {{বাউ|জয়দীপ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|জয়দেব}}
* {{বাউ|জয়দেব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়নুল আবেদীন জায়েদী}}
* {{বাউ|জয়ন্ত (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|জয়ন্ত দে}}
* {{বাউ|জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জয়ন্তানুজ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়শ্রী বর্মণ}}
* {{বাউ|জয়া পতি}}
* {{বাউ|জর্জ র্যাঙ্কিন (বিচারক)}}
* {{বাউ|জর্জ হ্যারি ল্যাংলি}}
* {{বাউ|জলধর সেন}}
* {{বাউ|জলের গান}}
* {{বাউ|জসিম উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জসিম সালাম}}
* {{বাউ|জসিমুদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জসীম উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জহিরুদ্দিন (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|জহিরুল আলম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|জহুর হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|জহুরুল করিম}}
* {{বাউ|জহুরুল হক (অনুবাদক)}}
* {{বাউ|জাইমা রহমান}}
* {{বাউ|জাওয়াদুল হক}}
* {{বাউ|জাওয়েদ করিম}}
* {{বাউ|জাকিয়া সুলতানা}}
* {{বাউ|জাকির খান}}
* {{বাউ|জাকির তালুকদার}}
* {{বাউ|জাকির হোসেন রাজু}}
* {{বাউ|জানকীনাথ বসু}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস আইভি}}
* {{বাউ|জাফর আলম (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|জাফর আহমেদ}}
* {{বাউ|জাফর ইকবাল (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|জাফর ওয়াজেদ}}
* {{বাউ|জাফর মুহাম্মদ লুৎফর}}
* {{বাউ|জামালউদ্দিন হোসেন}}
* {{বাউ|জামালউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|জামিল চৌধুরী}}
* {{বাউ|জামিলুর রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|জায়েদ বখত}}
* {{বাউ|জারিন তাসনিম নাওমি}}
* {{বাউ|জালাল উদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|জালালুদ্দিন আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম খান}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর কবির (কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর কবির নানক}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|জাহানারা আরজু}}
* {{বাউ|জাহানারা আহমেদ}}
* {{বাউ|জাহানারা ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|জাহিদ আকবর}}
* {{বাউ|জাহিদ সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|জাহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|জাহিদুর রহিম অঞ্জন}}
* {{বাউ|জাহিদুল হক}}
* {{বাউ|জাহেদুর রহিম}}
* {{বাউ|জাহ্নবা দেবী}}
* {{বাউ|জাহ্নবী চৌধুরানী}}
* {{বাউ|জি এ মান্নান}}
* {{বাউ|জি এম বি আকাশ}}
* {{বাউ|জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|জিংগা শিল্পগোষ্ঠী}}
* {{বাউ|জিকরুল হক}}
* {{বাউ|জিতেন ঘোষ}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ কুশারী}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রমোহন সেন}}
* {{বাউ|জিনবোধি ভিক্ষু}}
* {{বাউ|জিনাত আরা}}
* {{বাউ|জিনাত বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম}}
* {{বাউ|জিয়াউর রহমান খান}}
* {{বাউ|জিয়াউর রহমান জিয়া}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক (সমাজসেবক)}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক পলাশ}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক মৃধা}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|জিৎ গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|জীব গোস্বামী}}
* {{বাউ|জীবন রতন ধর}}
* {{বাউ|জীবন রহমান}}
* {{বাউ|জীবনানন্দ দাশ}}
* {{বাউ|জুনাব আলী}}
* {{বাউ|জুনায়েদ আহমেদ}}
* {{বাউ|জুবায়ের রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|জুবায়ের সালেহীন}}
* {{বাউ|জুবেদ আলী}}
* {{বাউ|জুয়েনা আজিজ}}
* {{বাউ|জুলফিকার মতিন}}
* {{বাউ|জুলফিকার রাসেল}}
* {{বাউ|জুলফিকুর রহমান}}
* {{বাউ|জুলহাস উদ্দিন}}
* {{বাউ|জুলহাস উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|জুলেখা হক}}
* {{বাউ|জে. বি. এম. হাসান}}
* {{বাউ|জেএন দেব চৌধুরী}}
* {{বাউ|জেড আই খান পান্না}}
* {{বাউ|জেড এইচ মিন্টু}}
* {{বাউ|জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ}}
* {{বাউ|জেব-উন-নেসা জামাল}}
* {{বাউ|জেবা ইসলাম সিরাজ}}
* {{বাউ|জেবুন্নেসা রহমান}}
* {{বাউ|জেমস (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|জেমস উইলিয়াম কলভিল}}
* {{বাউ|জেলিনা-বার্লো রহমান}}
* {{বাউ|জেহাদ খান}}
* {{বাউ|জোছন দস্তিদার}}
* {{বাউ|জোবাইদা রহমান}}
* {{বাউ|জোবেদা খানম}}
* {{বাউ|জোহরা বেগম কাজী}}
* {{বাউ|জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|জ্ঞানদাস}}
* {{বাউ|জ্ঞানশ্রী মহাথের}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায়}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস}}
* {{বাউ|জ্যোতিঃপাল মহাথের}}
* {{বাউ|জ্যোতিভূষণ চাকী}}
* {{বাউ|জ্যোতিভূষণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময় দত্ত}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময়ী দেবী}}
* {{বাউ|জ্যোতিষচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|জ্যোৎস্না বিশ্বাস}}
* {{বাউ|জ্যোৎস্নাকান্ত বসু}}
* {{বাউ|ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ}}
* {{বাউ|ঝর্ণা ধারা চৌধুরী}}
* {{বাউ|ঝর্না রহমান}}
* {{বাউ|ঝুম্পা লাহিড়ী}}
* {{বাউ|টমাস হোবার্ট এলিস}}
* {{বাউ|টি আলী}}
* {{বাউ|টি এইচ খান}}
* {{বাউ|টি. এস. শিবজ্ঞানম}}
* {{বাউ|টিনা সানি}}
* {{বাউ|টিপু আজিজ}}
* {{বাউ|টেনিদা}}
* {{বাউ|ডালিয়া নওশিন}}
* {{বাউ|ডালেম চন্দ্র বর্মণ}}
* {{বাউ|ডিজে রাহাত}}
* {{বাউ|ডিফারেন্ট টাচ}}
* {{বাউ|ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তনিষ্ক বাগচী}}
* {{বাউ|তন্ময় বোস}}
* {{বাউ|তপংকর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তপতী গুহ-ঠাকুরতা}}
* {{বাউ|তপন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তপন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তপন বাগচী}}
* {{বাউ|তপন রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|তপনকুমার লাহিড়ী}}
* {{বাউ|তপু}}
* {{বাউ|তপোবিজয় ঘোষ}}
* {{বাউ|তবারক হুসাইন}}
* {{বাউ|তমাল লতা আদিত্য}}
* {{বাউ|তমিজ উদ্দিন রিজভী}}
* {{বাউ|তরু দত্ত}}
* {{বাউ|তরুণ রায় (ধনঞ্জয় বৈরাগী)}}
* {{বাউ|তসলিমুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|তাকসিম আহমেদ খান}}
* {{বাউ|তাজিন আহমেদ}}
* {{বাউ|তাজুল মোহম্মদ}}
* {{বাউ|তাতার (চরিত্র)}}
* {{বাউ|তানজিমা হাশেম}}
* {{বাউ|তানজির তুহিন}}
* {{বাউ|তানভীর ইভান}}
* {{বাউ|তানভীর তারেক}}
* {{বাউ|তানভীর হাসান}}
* {{বাউ|তানিম নূর}}
* {{বাউ|তানিম রহমান অংশু}}
* {{বাউ|তানিয়া আমির}}
* {{বাউ|তানিয়া আহমেদ}}
* {{বাউ|তাপস কুমার মাঝি}}
* {{বাউ|তাপস দাস}}
* {{বাউ|তাপস মজুমদার}}
* {{বাউ|তাপস সেন}}
* {{বাউ|তাফাজ্জাল ইসলাম}}
* {{বাউ|তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারকমোহন দাস}}
* {{বাউ|তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারানাথ তর্কবাচস্পতি}}
* {{বাউ|তারানাথ তান্ত্রিক}}
* {{বাউ|তারাপদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তারাপদ ভৌমিক}}
* {{বাউ|তারাপদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারাপদ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|তারাপদ সাঁতরা}}
* {{বাউ|তারামন বিবি}}
* {{বাউ|তারিক আহমদ করিম}}
* {{বাউ|তারিক আহসান}}
* {{বাউ|তারিক উল হাকিম}}
* {{বাউ|তারিক ফাতেমি}}
* {{বাউ|তারিক সুজাত}}
* {{বাউ|তারিণীখুড়ো}}
* {{বাউ|তারেক মো. আরিফুল ইসলাম}}
* {{বাউ|তালিম হোসেন}}
* {{বাউ|তালুকদার মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস}}
* {{বাউ|তাসলিমা আখতার}}
* {{বাউ|তাহমিমা আনাম}}
* {{বাউ|তাহরুন নেসা আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|তাহসান রহমান খান}}
* {{বাউ|তাহেরন নেসা}}
* {{বাউ|তাহেরা কবির}}
* {{বাউ|তিব্বতিবাবা}}
* {{বাউ|তিলোত্তমা মজুমদার}}
* {{বাউ|তিশমা}}
* {{বাউ|তিস্তা বাগচী}}
* {{বাউ|তুলিকা বসু}}
* {{বাউ|তুষার কান্তি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তুষারকান্তি ঘোষ}}
* {{বাউ|তুহিন দাস (লেখক)}}
* {{বাউ|তুহিনকান্তি ঘোষ}}
* {{বাউ|তেজস হালদার যশ}}
* {{বাউ|তৈয়বা বেগম লিপি}}
* {{বাউ|তৈয়বা মজুমদার}}
* {{বাউ|তোজাম্মেল টনি হক}}
* {{বাউ|তোজাম্মেল হক বকুল}}
* {{বাউ|তোফাজ্জল হোসেন}}
* {{বাউ|তোফায়েল আহমদ}}
* {{বাউ|তোফায়েল করিম হায়দার}}
* {{বাউ|তোয়াব খান}}
* {{বাউ|তৌকীর আহমেদ}}
* {{বাউ|তৌফিক ইসলাম শাতিল}}
* {{বাউ|তৌফিক নওয়াজ}}
* {{বাউ|তৌসিফ}}
* {{বাউ|ত্রিদিব মিত্র}}
* {{বাউ|ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার}}
* {{বাউ|দবির উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|দময়ন্তী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|দলছুট}}
* {{বাউ|দস্যু বনহুর}}
* {{বাউ|দস্যু মোহন}}
* {{বাউ|দাউদ হায়দার}}
* {{বাউ|দামোদর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দারাশিকো}}
* {{বাউ|দিদার ইসলাম}}
* {{বাউ|দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দিব্যেন্দু নন্দী}}
* {{বাউ|দিব্যেন্দু পালিত}}
* {{বাউ|দিলওয়ার}}
* {{বাউ|দিলরুবা আহমেদ}}
* {{বাউ|দিলরুবা জেড আরা}}
* {{বাউ|দিলশাদ নাহার কনা}}
* {{বাউ|দিলারা বেগম জলি}}
* {{বাউ|দিলারা হাশেম}}
* {{বাউ|দিলীপ বাগচী}}
* {{বাউ|দিলীপ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দিলীপ মজুমদার}}
* {{বাউ|দিলীপ মহলানবিশ}}
* {{বাউ|দিলীপকুমার বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দিলীপকুমার রায়}}
* {{বাউ|দীন মোহাম্মদ নূরুল হক}}
* {{বাউ|দীন শরৎ}}
* {{বাউ|দীননাথ সেন}}
* {{বাউ|দীনেন্দ্রকুমার রায়}}
* {{বাউ|দীনেশ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীনেশ দাস}}
* {{বাউ|দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দীনেশরঞ্জন দাশ}}
* {{বাউ|দীপ নারায়ণ সিনহা}}
* {{বাউ|দীপংকর দীপন}}
* {{বাউ|দীপক চৌধুরী}}
* {{বাউ|দীপক চ্যাটার্জী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|দীপক মজুমদার}}
* {{বাউ|দীপক রায়}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর দাস শর্মা}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর হোম}}
* {{বাউ|দীপন ঘোষ}}
* {{বাউ|দীপান্বিতা রায়}}
* {{বাউ|দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীপেশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দীপ্তেন্দ্রকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|দুঃখহরণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দুর্গাচরণ রক্ষিত}}
* {{বাউ|দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দুর্গাদাস সাহা}}
* {{বাউ|দুর্গামোহন দাশ}}
* {{বাউ|দুর্বিন শাহ}}
* {{বাউ|দুলাল তর্কবাগীশ}}
* {{বাউ|দুলেন্দ্র ভৌমিক}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুর রব চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুল কাদির}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুল বাছিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেওয়ান নজরুল}}
* {{বাউ|দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন}}
* {{বাউ|দেওয়ান লালন আহমেদ}}
* {{বাউ|দেবজ্যোতি মিশ্র}}
* {{বাউ|দেবদাস}}
* {{বাউ|দেবদাস চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দেবপ্রসাদ ঘোষ}}
* {{বাউ|দেবপ্রসাদ সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবপ্রিয়া রায়}}
* {{বাউ|দেবব্রত গোস্বামী}}
* {{বাউ|দেবল দেববর্মা}}
* {{বাউ|দেবলা মিত্র}}
* {{বাউ|দেবশঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|দেবাশীষ ঘোষ}}
* {{বাউ|দেবাশীষ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দেবাশীষ রায়}}
* {{বাউ|দেবাশীষ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেবী রায়}}
* {{বাউ|দেবীপদ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (মার্কসবাদী)}}
* {{বাউ|দেবীপ্রসাদ দুয়ারী}}
* {{বাউ|দেবু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবেন্দ্র মোহন বসু}}
* {{বাউ|দেবেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|দেবেশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবেশ রায়}}
* {{বাউ|দেলওয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|দোনাগাজী চৌধুরী}}
* {{বাউ|দোম আন্তোনিও}}
* {{বাউ|দৌলত উজির বাহরাম খান}}
* {{বাউ|দৌলতুননেসা খাতুন}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ অধিকারী}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ মিত্র}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ রায়}}
* {{বাউ|দ্বিজ কানাই}} [[ব্যবহারকারী:Vugon kumar|Vugon kumar]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vugon kumar|আলাপ]]) ২১:৫৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|দ্বিজ বংশীদাস}}
* {{বাউ|দ্বিজ মাধব}}
* {{বাউ|দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|দ্রাবিড় সৈকত}}
* {{বাউ|ধন গোপাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ধনঞ্জয় সাহা}}
* {{বাউ|ধীর আলী মিয়া}}
* {{বাউ|ধীরাজ কুমার নাথ}}
* {{বাউ|ধীরাজ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|ধীরেন বল}}
* {{বাউ|ধীরেন বসু}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেববর্মন}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ বেরা}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রলাল ধর}}
* {{বাউ|ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী}}
* {{বাউ|ধোয়ী}}
* {{বাউ|নঈম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নঈম নিজাম}}
* {{বাউ|নওয়াজেশ আহমদ}}
* {{বাউ|নওয়াজেস আহমদ}}
* {{বাউ|নওয়াব আলী}}
* {{বাউ|নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী}}
* {{বাউ|নওশের আলী খান ইউস্ফজী}}
* {{বাউ|নকীব খান}}
* {{বাউ|নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ}}
* {{বাউ|নকুল কুমার বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নকুলেশ্বর দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রচন্দ্র শ্যাম}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ সোম}}
* {{বাউ|নচিকেতা ঘোষ}}
* {{বাউ|নচিকেতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম বাবু}}
* {{বাউ|ননী ভৌমিক}}
* {{বাউ|ননীগোপাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ননীগোপাল মজুমদার}}
* {{বাউ|নন্টে ফন্টে}}
* {{বাউ|নন্দলাল বসু}}
* {{বাউ|নন্দিনী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নব কুমার ভদ্র}}
* {{বাউ|নবকুমার বসু}}
* {{বাউ|নবগোপাল মিত্র}}
* {{বাউ|নবাব আবদুল লতীফ}}
* {{বাউ|নবীন চন্দ্র পাল}}
* {{বাউ|নবীনচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|নবেন্দু ঘোষ}}
* {{বাউ|নয়ীম গহর}}
* {{বাউ|নরসিংহ দত্ত}}
* {{বাউ|নরেন্দ্র দেব}}
* {{বাউ|নরেন্দ্রনাথ দত্ত (শিল্পপতি)}}
* {{বাউ|নরেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নরোত্তম দাস}}
* {{বাউ|নলিনচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|নলিনাক্ষ সান্যাল}}
* {{বাউ|নলিনী দাশ (লেখিকা)}}
* {{বাউ|নলিনী বেরা}}
* {{বাউ|নলিনীকান্ত ভট্টশালী}}
* {{বাউ|নলিনীকান্ত সরকার}}
* {{বাউ|নলিনীকিশোর গুহ}}
* {{বাউ|নলিনীরঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নাইমা হায়দার}}
* {{বাউ|নাঈম মোহাইমিন}}
* {{বাউ|নাঈমুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নাজনীন হাসান চুমকি}}
* {{বাউ|নাজমুন আরা সুলতানা}}
* {{বাউ|নাজমুন নেসা পিয়ারি}}
* {{বাউ|নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি}}
* {{বাউ|নাজমুল আলম}}
* {{বাউ|নাজমুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নাজমুল কাওনাইন}}
* {{বাউ|নাজমুল হক বাপ্পী}}
* {{বাউ|নাজমুল হুদা বাচ্চু}}
* {{বাউ|নাজমুল হুদা মিন্টু}}
* {{বাউ|নাজিব তারেক}}
* {{বাউ|নাজিবুর রহমান মোমেন}}
* {{বাউ|নাজিম উদ দৌলা}}
* {{বাউ|নাজিম উদ্দিন মোস্তান}}
* {{বাউ|নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা}}
* {{বাউ|নাদিয়া শারমীন}}
* {{বাউ|নাদিরা মজুমদার}}
* {{বাউ|নাদের চৌধুরী}}
* {{বাউ|নাদেরা বেগম}}
* {{বাউ|নাফিস বিন যাফর}}
* {{বাউ|নাবিলা ইদ্রিস}}
* {{বাউ|নাভিদ মাহবুব}}
* {{বাউ|নাভেদ পারভেজ}}
* {{বাউ|নায়না দেবী (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|নায়লা কবীর}}
* {{বাউ|নায়েব উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|নারগিস আক্তার}}
* {{বাউ|নারায়ণ ঘোষ মিতা}}
* {{বাউ|নারায়ণ দেবনাথ}}
* {{বাউ|নারায়ণ রায়}}
* {{বাউ|নারায়ণ সান্যাল}}
* {{বাউ|নাশিদ কামাল}}
* {{বাউ|নাসরিন আক্তার}}
* {{বাউ|নাসরীন জাহান}}
* {{বাউ|নাসরীন পারভীন হক}}
* {{বাউ|নাসিম বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নাসিমা আক্তার}}
* {{বাউ|নাসিমা আনিস}}
* {{বাউ|নাসিমা খান মন্টি}}
* {{বাউ|নাসিমা ফেরদৌসী (কূটনৈতিক)}}
* {{বাউ|নাসিমা হায়দার}}
* {{বাউ|নাসির আলী মামুন}}
* {{বাউ|নাসির উদ্দিন বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নাহিদ রশীদ (সচিব)}}
* {{বাউ|নাহিদা সোবহান}}
* {{বাউ|নিকুঞ্জ সেন}}
* {{বাউ|নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নিখিল রঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|নিখিল সরকার}}
* {{বাউ|নিখিল সেন}}
* {{বাউ|নিখিলজ্যোতি ঘোষ}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দিন}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|নিজামউদ্দিন আহমেদ (স্থপতি)}}
* {{বাউ|নিজামুদ্দীন আউলিয়া লিপু}}
* {{বাউ|নিতাই চন্দ্র সূত্রধর}}
* {{বাউ|নিতাই রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|নিতুন কুন্ডু}}
* {{বাউ|নিত্যপ্রিয় ঘোষ}}
* {{বাউ|নিত্যানন্দ সাহা (ভারতীয় অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|নিপুন রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|নিবিড় মণ্ডল}}
* {{বাউ|নিবেদিতা সেন}}
* {{বাউ|নিমচন্দ্র ভৌমিক}}
* {{বাউ|নিমাই ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|নিমাইসাধন বসু}}
* {{বাউ|নিয়াজ জামান}}
* {{বাউ|নিয়ামুল মুক্তা}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন ধর}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন প্রধান}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নিরঞ্জনপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|নিরুপমা দেবী}}
* {{বাউ|নিরুপমা দেবী (সেন)}}
* {{বাউ|নির্মল কুমার গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার বসু}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার সিদ্ধান্ত}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র চন্দ্র}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|নির্মলা জোশী}}
* {{বাউ|নির্মলেন্দু চৌধুরী}}
* {{বাউ|নির্মাল্য আচার্য}}
* {{বাউ|নিলয়ন চ্যাটার্জী}}
* {{বাউ|নিশিতা নির্মল মাহাত্রে}}
* {{বাউ|নিশীথরঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|নীতা সেন}}
* {{বাউ|নীতিশ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নীতীন বসু}}
* {{বাউ|নীতীশচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|নীনা হামিদ}}
* {{বাউ|নীরদ বরণ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|নীরদ মজুমদার}}
* {{বাউ|নীল দত্ত}}
* {{বাউ|নীল মানুষ}}
* {{বাউ|নীলমণি ন্যায়ালঙ্কার}}
* {{বাউ|নীলরতন ধর}}
* {{বাউ|নীলরতন সরকার}}
* {{বাউ|নীলাঞ্জনা রায়}}
* {{বাউ|নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নীলিমা সেন}}
* {{বাউ|নীলুফার ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|নীহাররঞ্জন গুপ্ত}}
* {{বাউ|নীহাররঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন}}
* {{বাউ|নুরুন নবী}}
* {{বাউ|নুরুননাহার ফয়জননেসা}}
* {{বাউ|নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম}}
* {{বাউ|নুরুন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী}}
* {{বাউ|নুরুল আজিম}}
* {{বাউ|নুরুল আমিন}}
* {{বাউ|নুরুল আলম আতিক}}
* {{বাউ|নুরুল আলম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম জিহাদী}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম নুরুল}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী}}
* {{বাউ|নুরুল মোমেন}}
* {{বাউ|নুরুল মোস্তফা}}
* {{বাউ|নুহাশ হুমায়ূন}}
* {{বাউ|নূতন চন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|নূর আহমদ}}
* {{বাউ|নূর ইমরান মিঠু}}
* {{বাউ|নূর মোহাম্মদ (আইজিপি)}}
* {{বাউ|নূর মোহাম্মদ (শিক্ষানুরাগী)}}
* {{বাউ|নূর হুসাইন}}
* {{বাউ|নূর হুসাইন কাসেমী}}
* {{বাউ|নূরজাহান বেগম মুক্তা}}
* {{বাউ|নূরজাহান বোস}}
* {{বাউ|নূরজাহান মুর্শিদ}}
* {{বাউ|নূরুল আনোয়ার (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|নূরুল আলম}}
* {{বাউ|নূরুল ইসলাম ওলীপুরী}}
* {{বাউ|নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদ}}
* {{বাউ|নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন}}
* {{বাউ|নূহ-উল-আলম লেনিন}}
* {{বাউ|নৃপেন ভৌমিক}}
* {{বাউ|নৃপেন্দ্র নাথ সরকার}}
* {{বাউ|নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|নেছারউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|নেপাল মজুমদার}}
* {{বাউ|নেয়ামত ইমাম}}
* {{বাউ|নেয়ামাল বাসির}}
* {{বাউ|নেলী সেনগুপ্তা}}
* {{বাউ|নৈরঞ্জনা ঘোষ}}
* {{বাউ|নোরা জোন্স}}
* {{বাউ|পঞ্চানন ঘোষাল}}
* {{বাউ|পঞ্চানন নিয়োগী}}
* {{বাউ|পঞ্চানন মণ্ডল}}
* {{বাউ|পঞ্চানন মিত্র}}
* {{বাউ|পটলা}}
* {{বাউ|পণ্ডিত জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী}}
* {{বাউ|পদার্থবিদ্যার পালিত অধ্যাপক}}
* {{বাউ|পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাবিনোদ}}
* {{বাউ|পবন দাস বাউল}}
* {{বাউ|পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পবিত্র মোহন দে}}
* {{বাউ|পবিত্র সরকার}}
* {{বাউ|পবিত্রকুমার সেন}}
* {{বাউ|পরমনাথ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|পরমেশ্বরন থাঙ্কাপ্পান নায়ার}}
* {{বাউ|পরাশর বর্মা}}
* {{বাউ|পরিমল গোস্বামী}}
* {{বাউ|পরেশ ধর}}
* {{বাউ|পরেশ মাইতি}}
* {{বাউ|পরেশনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পলান সরকার}}
* {{বাউ|পলাশ মাহবুব}}
* {{বাউ|পলাশ সরকার}}
* {{বাউ|পলি রায়}}
* {{বাউ|পশুপতি ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|পাঁচকড়ি দে}}
* {{বাউ|পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পাগলা কানাই}}
* {{বাউ|পাগলা দাশু}}
* {{বাউ|পাঞ্জু শাহ}}
* {{বাউ|পাণ্ডব গোয়েন্দা}}
* {{বাউ|পানু পাল}}
* {{বাউ|পান্থ কানাই}}
* {{বাউ|পান্না কায়সার}}
* {{বাউ|পান্নালাল ঘোষ}}
* {{বাউ|পান্নালাল বসু}}
* {{বাউ|পাপড়ি বসু}}
* {{বাউ|পাপিয়া সারোয়ার}}
* {{বাউ|পাভেল রহমান}}
* {{বাউ|পারভীন হাসান}}
* {{বাউ|পারভেজ রব}}
* {{বাউ|পারভেজ হোসেন}}
* {{বাউ|পারুল ঘোষ}}
* {{বাউ|পার্থ ঘোষ}}
* {{বাউ|পার্থ চট্টোপাধ্যায় (নৃতত্ত্ববিদ)}}
* {{বাউ|পার্থ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|পার্থ সারথি মুখার্জি}}
* {{বাউ|পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পার্বতীকুমার সরকার}}
* {{বাউ|পি কে বাসু}}
* {{বাউ|পিনডিদা}}
* {{বাউ|পিনাকী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পিনাকী ঠাকুর}}
* {{বাউ|পিনাকী মজুমদার}}
* {{বাউ|পিপলু খান}}
* {{বাউ|পিয়ারীমোহন দাস}}
* {{বাউ|পিয়ারীলাল রায়}}
* {{বাউ|পিয়ারু সর্দার}}
* {{বাউ|পিয়ের ফালোঁ}}
* {{বাউ|পিলু মমতাজ}}
* {{বাউ|পুণ্যলতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|পুরুষোত্তম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|পুলক বিশ্বাস}}
* {{বাউ|পুলক সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সরকার}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সরকার (জৈব রসায়ন বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সেন}}
* {{বাউ|পূরবী দত্ত}}
* {{বাউ|পূরবী বসু}}
* {{বাউ|পূর্ণিমা সিনহা}}
* {{বাউ|পূর্ণেন্দুবিকাশ সরকার}}
* {{বাউ|পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পেন বাংলাদেশ}}
* {{বাউ|পেপার রাইম}}
* {{বাউ|পেয়ার আহমেদ}}
* {{বাউ|প্যারীচরণ সরকার}}
* {{বাউ|প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্যারীমোহন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রকাশ শ্রীবাস্তব}}
* {{বাউ|প্রচেত গুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|প্রণব কুমার বড়ুয়া}}
* {{বাউ|প্রণব ভট্ট}}
* {{বাউ|প্রণব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রণব রায় (গীতিকার)}}
* {{বাউ|প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রণবেশ সেন}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র মজুমদার (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|প্রতিভা বসু}}
* {{বাউ|প্রতিভা মুৎসুদ্দি}}
* {{বাউ|প্রতিমা ঠাকুর}}
* {{বাউ|প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা}}
* {{বাউ|প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রদীপ ভট্টাচার্য (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|প্রদোষ আইচ}}
* {{বাউ|প্রদ্যুত ঘোষ}}
* {{বাউ|প্রফুল্ল কুমার মন্ডল}}
* {{বাউ|প্রফুল্ল রায়}}
* {{বাউ|প্রফুল্লকুমার সরকার}}
* {{বাউ|প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|প্রবাল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রবাল রশিদ}}
* {{বাউ|প্রবাসজীবন চৌধুরী}}
* {{বাউ|প্রবীর মজুমদার}}
* {{বাউ|প্রবীর রায়}}
* {{বাউ|প্রবোধ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রবোধকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র বাগচী}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা ভক্তিপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা শ্রদ্ধাপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রভা চ্যাটার্জি}}
* {{বাউ|প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া}}
* {{বাউ|প্রভাতরঞ্জন সরকার}}
* {{বাউ|প্রভাবতী দেবী সরস্বতী}}
* {{বাউ|প্রমথ ভৌমিক}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বসু}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বিশী}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|প্রমথলাল সেন}}
* {{বাউ|প্রমদাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমদাচরণ সেন}}
* {{বাউ|প্রমোদ চন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমোদরঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|প্রশান্তকুমার পাল}}
* {{বাউ|প্রশান্তকুমার মারিক}}
* {{বাউ|প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ}}
* {{বাউ|প্রশান্তবিহারী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রসন্নকুমার রায়}}
* {{বাউ|প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|প্রসন্নচন্দ্র তর্করত্ন}}
* {{বাউ|প্রসন্নচন্দ্র ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|প্রাণ রঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রাণকুমার সেন}}
* {{বাউ|প্রাণকৃষ্ণ পাল}}
* {{বাউ|প্রিয় ব্রত পাল}}
* {{বাউ|প্রিয়দারঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|প্রিয়রঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|প্রীতিকণা গোস্বামী}}
* {{বাউ|প্রেমাঙ্কুর আতর্থী}}
* {{বাউ|প্রোফেসর শঙ্কু}}
* {{বাউ|প্লাবন কোরেশী}}
* {{বাউ|ফকরুল আলম}}
* {{বাউ|ফকির গরীবুল্লাহ}}
* {{বাউ|ফকির শাহাবুদ্দীন}}
* {{বাউ|ফখরুজ্জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফখরুদ্দিন আহমেদ (সচিব)}}
* {{বাউ|ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|ফখরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|ফখরুল হাসান বৈরাগী}}
* {{বাউ|ফজল শাহাবুদ্দীন}}
* {{বাউ|ফজল-এ-খোদা}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান ফারুক}}
* {{বাউ|ফজলুল বারী (সরকারি চাকরিজীবী)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক সেলবর্ষী}}
* {{বাউ|ফজলুল হালিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফজলে কবির}}
* {{বাউ|ফজলে কাদেরী মোহাম্মদ আবদুল মুনিম}}
* {{বাউ|ফজলে বারী মালিক}}
* {{বাউ|ফজলে রাব্বী}} [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১৬:০৪, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|ফজলে রাব্বী মিয়া}}
* {{বাউ|ফজলে হাসান আবেদ}}
* {{বাউ|ফজলে হাসান শিশির}}
* {{বাউ|ফজলে হুসাইন}}
* {{বাউ|ফজলে হোসেন বাদশা}}
* {{বাউ|ফজিলতুন্নেসা}}
* {{বাউ|ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী}}
* {{বাউ|ফণিভূষণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ফণী বড়ুয়া}}
* {{বাউ|ফণী মজুমদার}}
* {{বাউ|ফণীন্দ্রচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|ফতেহ লোহানী}}
* {{বাউ|ফয়জুল মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|ফয়জুল লতিফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমেদ}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহম্মদ}}
* {{বাউ|ফরহাদ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমদ দুলাল}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমেদ (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফরিদা ইয়াসমিন (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|ফরিদা জামান}}
* {{বাউ|ফরিদা রহমান}}
* {{বাউ|ফরিদা হোসেন}}
* {{বাউ|ফরিদুল হুদা}}
* {{বাউ|ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ}}
* {{বাউ|ফসিউর রহমান}}
* {{বাউ|ফসিউল আলম}}
* {{বাউ|ফাইয়াজ হোসেন খান}}
* {{বাউ|ফাখরুল আরেফিন খান}}
* {{বাউ|ফাতিমা ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|ফাতেমা তুজ জোহরা}}
* {{বাউ|ফাতেমা নজীব}}
* {{বাউ|ফাদার রবের আঁতোয়ান}}
* {{বাউ|ফায়েজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|ফারজানা ইসলাম}}
* {{বাউ|ফারজানা ফারুক}}
* {{বাউ|ফারজানা রুপা}}
* {{বাউ|ফারজানা শারমিন পুতুল}}
* {{বাউ|ফারহিনা আহমেদ}}
* {{বাউ|ফারাহ গজনবী}}
* {{বাউ|ফারাহ মাহবুব}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ উল্লা খান}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফারুক উজ জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফারুক ওয়াসিফ}}
* {{বাউ|ফারুক মঈনউদ্দীন}}
* {{বাউ|ফারুক মাহমুদ}}
* {{বাউ|ফারুক সোবহান}}
* {{বাউ|ফালগুনী রায়}}
* {{বাউ|ফাহমিদা কাদের}}
* {{বাউ|ফাহমিদা খাতুন (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|ফিদা এম. কামাল}}
* {{বাউ|ফিরদৌস আজীম}}
* {{বাউ|ফিরদৌসী কাদরী}}
* {{বাউ|ফিরোজ মাহমুদ}}
* {{বাউ|ফিরোজা বেগম}}
* {{বাউ|ফুয়াদ আল মুকতাদির}}
* {{বাউ|ফুয়াদ নাসের বাবু}}
* {{বাউ|ফুল মোহাম্মদ}}
* {{বাউ|ফুলঝুরি খান}}
* {{বাউ|ফুলরেণু গুহ}}
* {{বাউ|ফেরদৌস আরা}}
* {{বাউ|ফেরদৌস আরা বেগম}}
* {{বাউ|ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী}}
* {{বাউ|ফেরদৌসী মজুমদার}}
* {{বাউ|ফেলুদা}}
* {{বাউ|ফৌজিয়া ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|ফ্যাতাড়ু}}
* {{বাউ|ফ্রান্সিস (ভাইকিং)}}
* {{বাউ|ফ্লসি কোহেন}}
* {{বাউ|ফ্লোরা জাইবুন মাজিদ}}
* {{বাউ|বঙ্কিমচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|বঙ্কিমচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|বজলার রহমান}}
* {{বাউ|বটুক নন্দী}}
* {{বাউ|বদরুদ্দীন আহমদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|বদরুন নেছা}}
* {{বাউ|বদরুল আনাম সৌদ}}
* {{বাউ|বদরুল আলম (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|বদরুল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|বদিউর রহমান (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব)}}
* {{বাউ|বদিউল আলম খোকন}}
* {{বাউ|বদিউল আলম মজুমদার}}
* {{বাউ|বনবিহারী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বনানী ঘোষ}}
* {{বাউ|বরদা}}
* {{বাউ|বরদাচরণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|বরদানন্দ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বরুণ মজুমদার}}
* {{বাউ|বরুণ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|বরেণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বরেন গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বর্ণিতা বাগচী}}
* {{বাউ|বলরাম হাড়ি}}
* {{বাউ|বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|বশির আহমেদ}}
* {{বাউ|বশীর আল-হেলাল}}
* {{বাউ|বশীর হোসেন}}
* {{বাউ|বশীশ্বর সেন}}
* {{বাউ|বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ}}
* {{বাউ|বাঁটুল দি গ্রেট}}
* {{বাউ|বাকের ভাই}}
* {{বাউ|বাঘা যতীন}}
* {{বাউ|বাচি কারকারিয়া}}
* {{বাউ|বাণী বসু}}
* {{বাউ|বাণীকুমার}}
* {{বাউ|বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার}}
* {{বাউ|বাদল খন্দকার}}
* {{বাউ|বাদল রশীদ}}
* {{বাউ|বাদল রহমান}}
* {{বাউ|বাপ্পা মজুমদার}}
* {{বাউ|বাপ্পী লাহিড়ী}}
* {{বাউ|বাবর আলী (পর্বতারোহী)}}
* {{বাউ|বাবু তারক চন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|বামাচরণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বারবারা ক্রেগ}}
* {{বাউ|বারী সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|বারীণ মজুমদার}}
* {{বাউ|বার্নেস পিকক}}
* {{বাউ|বালাম}}
* {{বাউ|বাশার মাহমুদ (কবি)}}
* {{বাউ|বাসন্তী দুলাল নাগচৌধুরী}}
* {{বাউ|বাসব}}
* {{বাউ|বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাস বাউল}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাসশর্মা}}
* {{বাউ|বাসুদেব বর্মন}}
* {{বাউ|বাহাদুর হোসেন খান}}
* {{বাউ|বি কে দাস}}
* {{বাউ|বিকাশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিকাশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিকাশচন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|বিক্রম ঘোষ}}
* {{বাউ|বিজন কুমার মুখার্জী}}
* {{বাউ|বিজন কুমার শীল}}
* {{বাউ|বিজন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজন সরকার}}
* {{বাউ|বিজনবিহারী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজয় কুমার বসু}}
* {{বাউ|বিজয় প্রসাদ}}
* {{বাউ|বিজয় সরকার}}
* {{বাউ|বিজয়কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজয়চন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিজয়া মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিজরী বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|বিদিত লাল দাস}}
* {{বাউ|বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন}}
* {{বাউ|বিদ্যুৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিদ্যুৎ বরণ চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিদ্যেন্দু মোহন দেব}}
* {{বাউ|বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার}}
* {{বাউ|বিধায়ক ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিধুভূষণ বসু}}
* {{বাউ|বিধুশেখর শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|বিনয় বাঁশী জলদাস}}
* {{বাউ|বিনয় মজুমদার}}
* {{বাউ|বিনয় মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিনয়কুমার সরকার}}
* {{বাউ|বিনয়েন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|বিনীতা রায়}}
* {{বাউ|বিনোদ ঘোষাল}}
* {{বাউ|বিপিন বিহারী ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|বিপুল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিপ্রদাস পিপলাই}}
* {{বাউ|বিপ্লব (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|বিপ্লব দাসগুপ্ত}}
* {{বাউ|বিবুধেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিভা চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিভাস রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ দত্ত}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ সেন}}
* {{বাউ|বিমল কর}}
* {{বাউ|বিমল গুহ}}
* {{বাউ|বিমল মিত্র (লেখক)}}
* {{বাউ|বিমল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমল-কুমার}}
* {{বাউ|বিমলকৃষ্ণ মতিলাল}}
* {{বাউ|বিমলচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|বিমলচন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|বিমলাচরণ লাহা}}
* {{বাউ|বিমলানন্দ নাগ}}
* {{বাউ|বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমান বাগচী}}
* {{বাউ|বিমানবিহারী মজুমদার}}
* {{বাউ|বিরজাশঙ্কর গুহ}}
* {{বাউ|বিরাজ মোহন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বিরূপাক্ষ পাল}}
* {{বাউ|বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন}}
* {{বাউ|বিলকিস নাসির উদ্দিন}}
* {{বাউ|বিলায়েত খাঁ}}
* {{বাউ|বিশুদ্ধানন্দ মহাথের}}
* {{বাউ|বিশ্ব রঞ্জন নাগ}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ ঘোষ}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ দেবনাথ}}
* {{বাউ|বিশ্বনাথ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিশ্বময় বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বিশ্বরঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিশ্বেশ্বর পাল}}
* {{বাউ|বিষ্ণু বসু}}
* {{বাউ|বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|বিষ্ণুপদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা}}
* {{বাউ|বিহারিলাল সরকার}}
* {{বাউ|বিহারীলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীণা মজুমদার}}
* {{বাউ|বীরেন শিকদার}}
* {{বাউ|বীরেন সোম}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্র বিজয় বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ শাসমল}}
* {{বাউ|বীরেশচন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|বীরেশ্বর সরকার}}
* {{বাউ|বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বুনো রামনাথ}}
* {{বাউ|বুলবন ওসমান}}
* {{বাউ|বুলবুল আহমেদ}}
* {{বাউ|বুলবুল চৌধুরী}}
* {{বাউ|বৃন্দা কারাত}}
* {{বাউ|বৃন্দাবন দাস}}
* {{বাউ|বৃন্দাবন দাস ঠাকুর}}
* {{বাউ|বেগজাদী মাহমুদা নাসির}}
* {{বাউ|বেগম আকতার কামাল}}
* {{বাউ|বেগম বদরুন্নেসা আহমদ}}
* {{বাউ|বেণীমাধব বড়ুয়া}}
* {{বাউ|বেদারউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|বেবী ইসলাম}}
* {{বাউ|বেবী হালদার}}
* {{বাউ|বেরী সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|বেলা মিত্র}}
* {{বাউ|বেলায়েত হুসাইন}}
* {{বাউ|বেলায়েত হোসেন বীরভূমী}}
* {{বাউ|বেলাল আহমেদ}}
* {{বাউ|বেলাল খান}}
* {{বাউ|বেলাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|বেলাল মোহাম্মদ}}
* {{বাউ|বেলাল হোসেন (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|বৈকুণ্ঠনাথ সেন}}
* {{বাউ|বোরহান উদ্দিন (বিচারক)}}
* {{বাউ|বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|বোরিয়া মজুমদার}}
* {{বাউ|ব্যোমকেশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ব্যোমকেশ বক্সী}}
* {{বাউ|ব্রজ বিহারী বড়ুয়া}}
* {{বাউ|ব্রজগোপাল মান্না}}
* {{বাউ|ব্রজদা}}
* {{বাউ|ব্রজমোহন দত্ত}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রনাথ শীল}}
* {{বাউ|ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ব্রাত্য বসু}}
* {{বাউ|ব্ল্যাক}}
* {{বাউ|ভক্তি প্রজ্ঞান কেশব গোস্বামী}}
* {{বাউ|ভক্তি রক্ষক শ্রীধর দেব গোস্বামী}}
* {{বাউ|ভক্তিবিনোদ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী}}
* {{বাউ|ভগীরথ মিশ্র}}
* {{বাউ|ভবতোষ দত্ত}}
* {{বাউ|ভবানী প্রসাদ সিনহা}}
* {{বাউ|ভবানী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভবানীচরণ লাহা}}
* {{বাউ|ভাদুড়ী মশাই}}
* {{বাউ|ভারতচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|ভারতী মুখার্জী}}
* {{বাউ|ভাস্করানন্দ রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভি. এন. খারে}}
* {{বাউ|ভিকি জাহেদ}}
* {{বাউ|ভীষ্মদেব চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভূঁইয়া ইকবাল}}
* {{বাউ|ভূপতিমোহন সেন}}
* {{বাউ|ভূপেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|ভূমেন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|ভোলানাথ চন্দ্র}}
* {{বাউ|ভোলানাথ রায় কাব্যশাস্ত্রী}}
* {{বাউ|ম. তামিম}}
* {{বাউ|মইন উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মইনুল হোসেন}}
* {{বাউ|মইনুল হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মঈদুল হাসান}}
* {{বাউ|মঈন উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মঈনউদ্দিন মিয়াজী}}
* {{বাউ|মঈনুল আহসান সাবের}}
* {{বাউ|মঈনুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|মঈনুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মঈনুস সুলতান}}
* {{বাউ|মওদুদ আহমদ}}
* {{বাউ|মকবুল হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মকবুলা মনজুর}}
* {{বাউ|মকসুদ জামিল মিন্টু}}
* {{বাউ|মঙ্গল চাঁদ}}
* {{বাউ|মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মজিদ-উল-হক}}
* {{বাউ|মজিবর রহমান (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|মজিবর রহমান দেবদাস}}
* {{বাউ|মঞ্জু গোয়েল}}
* {{বাউ|মঞ্জু রায়}}
* {{বাউ|মঞ্জু সরকার}}
* {{বাউ|মঞ্জুর হোসেন}}
* {{বাউ|মঞ্জুরুল ইমাম}}
* {{বাউ|মঞ্জুলা আনোয়ার}}
* {{বাউ|মঞ্জুলা চেল্লুর}}
* {{বাউ|মণিকুন্তলা সেন}}
* {{বাউ|মণিভূষণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মণিরত্ন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণিলাল ভৌমিক}}
* {{বাউ|মণিশংকর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র নারায়ণ মজুমদার}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|মণীন্দ্রলাল বসু}}
* {{বাউ|মণীশ ঘটক}}
* {{বাউ|মতি নন্দী}}
* {{বাউ|মতিউর রহমান পানু}}
* {{বাউ|মতিউর রহমান মল্লিক}}
* {{বাউ|মতিউল ইসলাম}}
* {{বাউ|মতিউল হক খান}}
* {{বাউ|মতিন রহমান}}
* {{বাউ|মতিলাল ঘোষ}}
* {{বাউ|মতিলাল রায়}}
* {{বাউ|মতিলাল রায় (যাত্রাপালাকার)}}
* {{বাউ|মতিলাল শীল}}
* {{বাউ|মথুরামোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মধু বসু}}
* {{বাউ|মধুমতি মিত্র}}
* {{বাউ|মধুশ্রী মুখার্জী}}
* {{বাউ|মধুসূদন গুপ্ত}}
* {{বাউ|মধুসূদন দে}}
* {{বাউ|মধুসূদন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মধুসূদন সরস্বতী}}
* {{বাউ|মনজুর আলম বেগ}}
* {{বাউ|মনজুর আহমেদ চৌধুরী (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মনজুর রশীদ খান}}
* {{বাউ|মনতাজুর রহমান আকবর}}
* {{বাউ|মনতোষ রায়}}
* {{বাউ|মনমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|মনমোহন দত্ত}}
* {{বাউ|মনসুর উল করিম}}
* {{বাউ|মনসুর বয়াতি}}
* {{বাউ|মনসুরুল আলম খান}}
* {{বাউ|মনিকা আলী}}
* {{বাউ|মনিকা জাহান বোস}}
* {{বাউ|মনিকা দাস (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মনিরউদ্দীন ইউসুফ}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান (গবেষক)}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান মনির}}
* {{বাউ|মনিরুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|মনিরুল ইসলাম টিপু}}
* {{বাউ|মনীন্দ্রভূষণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|মনু মুন্সী}}
* {{বাউ|মনোজ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|মনোজ প্রামাণিক}}
* {{বাউ|মনোজ বসু}}
* {{বাউ|মনোজ মাঝি}}
* {{বাউ|মনোজ মিত্র}}
* {{বাউ|মনোমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|মনোয়ারা ইসলাম}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ঘোষাল}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ধর}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ব্যাপারী}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ভক্ত}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন সিকদার}}
* {{বাউ|মনোসরণি}}
* {{বাউ|মন্দাক্রান্তা সেন}}
* {{বাউ|মন্মথ রায়}}
* {{বাউ|মন্মথনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|মন্মথনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মফিজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মফিজউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মফিদুল হক}}
* {{বাউ|মবিনউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মবিনুল হক}}
* {{বাউ|মমতা বালা ঠাকুর}}
* {{বাউ|মমতাজ উদ্দিন}}
* {{বাউ|মমতাজ বেগম}}
* {{বাউ|মমতাজ সঙ্ঘমিতা}}
* {{বাউ|মমতাজুর রহমান তরফদার}}
* {{বাউ|মযহারুল ইসলাম}}
* {{বাউ|ময়ুখ চৌধুরী (কবি)}}
* {{বাউ|ময়ূখ চৌধুরী (শিল্পী)}}
* {{বাউ|মর্ত্তুজা আলী}}
* {{বাউ|মলয় ঘোষ দস্তিদার}}
* {{বাউ|মলয় ভৌমিক}}
* {{বাউ|মলয় রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মল্লিকা সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মসিহউদ্দিন শাকের}}
* {{বাউ|মহম্মদ আব্দুল জব্বার}}
* {{বাউ|মহম্মদ হান্নান}}
* {{বাউ|মহম্মদ হামিদ আনসারি}}
* {{বাউ|মহসিন শস্ত্রপাণি}}
* {{বাউ|মহাদেব দত্ত}}
* {{বাউ|মহান মহারাজ}}
* {{বাউ|মহানামব্রত ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|মহারানি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মহি উদ্দিন শামীম}}
* {{বাউ|মহিউদ্দিন আহমেদ (প্রকাশক)}}
* {{বাউ|মহিউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|মহিউদ্দীন ফারুক}}
* {{বাউ|মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মহীউদ্দিন}}
* {{বাউ|মহুয়া মুখোপাধ্যায় (লেখক)}}
* {{বাউ|মহেন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ রায় (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মাইনুর রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাইমুল আহসান খান}}
* {{বাউ|মাকসুদুল আলম}}
* {{বাউ|মাকিদ হায়দার}}
* {{বাউ|মাখছুদুল আহসান}}
* {{বাউ|মাখনলাল রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাখনলাল সেন}}
* {{বাউ|মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র পাল}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানস চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মানিক চন্দ্র সাহা}}
* {{বাউ|মানিক দত্ত}}
* {{বাউ|মানিক সরকার (শিল্পী)}}
* {{বাউ|মানিকলাল শীল}}
* {{বাউ|মান্নান হীরা}}
* {{বাউ|মাফরুহা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মামনুন রহমান}}
* {{বাউ|মামাবাবু}}
* {{বাউ|মামুন নদীয়া}}
* {{বাউ|মামুন হুসাইন}}
* {{বাউ|মারজি-উল হক}}
* {{বাউ|মারুফুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মালা সেন}}
* {{বাউ|মালাধর বসু}}
* {{বাউ|মালিকা আল্ রাজী}}
* {{বাউ|মালিহা খাতুন}}
* {{বাউ|মালেক আফসারী}}
* {{বাউ|মালেকা বেগম}}
* {{বাউ|মাশির হোসেন}}
* {{বাউ|মাশুক হোসেন আহমেদ}}
* {{বাউ|মাসাতোশি কোশিবা}}
* {{বাউ|মাসুদ আখন্দ}}
* {{বাউ|মাসুদ আলি খান}}
* {{বাউ|মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাসুদ করিম}}
* {{বাউ|মাসুদ পথিক}}
* {{বাউ|মাসুদ বিন মোমেন}}
* {{বাউ|মাসুদ মান্নান}}
* {{বাউ|মাসুদ রানা}}
* {{বাউ|মাসুদ সেজান}}
* {{বাউ|মাসুদা খাতুন}}
* {{বাউ|মাসুম আজিজ}}
* {{বাউ|মাসুম রেজা}}
* {{বাউ|মাসুম শাহরিয়ার}}
* {{বাউ|মাহফুজ উল্লাহ}}
* {{বাউ|মাহফুজা আখতার (সচিব)}}
* {{বাউ|মাহফুজা খানম}}
* {{বাউ|মাহফুজুর রহমান (নির্বাচন কমিশনার)}}
* {{বাউ|মাহফুজুর রহমান (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|মাহফুজুল হক}}
* {{বাউ|মাহফুজুল হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|মাহবুব আলম}}
* {{বাউ|মাহবুব উজ জামান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মাহবুব উদ্দিন খোকন}}
* {{বাউ|মাহবুব জামাল জাহেদী}}
* {{বাউ|মাহবুব তালুকদার}}
* {{বাউ|মাহবুব সাদিক}}
* {{বাউ|মাহবুব-উল আলম}}
* {{বাউ|মাহবুবা রহমান}}
* {{বাউ|মাহবুবুর রহমান লিটন}}
* {{বাউ|মাহবুবুল আলম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|মাহবুবুল আলম মজুমদার}}
* {{বাউ|মাহবুবুল এ খালিদ}}
* {{বাউ|মাহবুবুল হক}}
* {{বাউ|মাহবুবে আলম}}
* {{বাউ|মাহমুদ শাহ কোরেশী}}
* {{বাউ|মাহমুদ হাসান}}
* {{বাউ|মাহমুদ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা}}
* {{বাউ|মাহমুদা হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান বেণু}}
* {{বাউ|মাহমুদুল আমিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হাসান}}
* {{বাউ|মিজান রহমান}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান (বাংলাদেশী কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান সাঈদ}}
* {{বাউ|মিঠু আলুর}}
* {{বাউ|মিতা হক}}
* {{বাউ|মিতিন মাসি}}
* {{বাউ|মিনার মনসুর}}
* {{বাউ|মিনার রহমান}}
* {{বাউ|মিনাল রোহিত}}
* {{বাউ|মিন্নাত আলী}}
* {{বাউ|মিফতা উদ্দিন চৌধুরী রুমী}}
* {{বাউ|মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মিফতাহুর রহমান}}
* {{বাউ|মিফতাহ্ জামান}}
* {{বাউ|মিরজা আবদুল হাই}}
* {{বাউ|মির্জা আব্দুল জলিল}}
* {{বাউ|মির্জা আলী ইস্পাহানি}}
* {{বাউ|মির্জা গোলাম হাফিজ}}
* {{বাউ|মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল}}
* {{বাউ|মির্জা মাজহারুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম}}
* {{বাউ|মির্জা হুসেন হায়দার}}
* {{বাউ|মির্জা হোসাইন হায়দার}}
* {{বাউ|মিলন কান্তি দে}}
* {{বাউ|মিল্টন খন্দকার}}
* {{বাউ|মিশুক মুনীর}}
* {{বাউ|মিসির আলি}}
* {{বাউ|মিহির কুমার বসু}}
* {{বাউ|মিহির চৌধুরী}}
* {{বাউ|মিহির রঞ্জন হালদার}}
* {{বাউ|মিহির সেন}}
* {{বাউ|মিহির সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মীজানূর রহমান শেলী}}
* {{বাউ|মীনাক্ষী ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|মীনু হক}}
* {{বাউ|মীর আব্দুল কাইয়ুম}}
* {{বাউ|মীর আহমদ বিন কাসেম}}
* {{বাউ|মীর কাশেম খান}}
* {{বাউ|মীর মকসুদুস সালেহীন}}
* {{বাউ|মীর মাসুম আলী}}
* {{বাউ|মীর শওকত আলী}}
* {{বাউ|মীর হাসমত আলী}}
* {{বাউ|মীর হাসেম আলী}}
* {{বাউ|মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা}}
* {{বাউ|মীরা দত্ত গুপ্ত}}
* {{বাউ|মীরা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মীর্জা মুহাম্মদ ইউসুফ আলি}}
* {{বাউ|মুঃ মিজানুর রহমান}}
* {{বাউ|মুঈনুদ্দীন আহমদ খান}}
* {{বাউ|মুকসুমুল হাকিম}}
* {{বাউ|মুকুল চৌধুরী}}
* {{বাউ|মুকুল দে}}
* {{বাউ|মুখতার আলম শিকদার}}
* {{বাউ|মুছলিম মিয়া}}
* {{বাউ|মুজিব পরদেশী}}
* {{বাউ|মুজিবর রহমান (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|মুজিবুর রহমান (চিকিৎসা বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|মুজিবুল হক (অফিসার)}}
* {{বাউ|মুজীবুর রহমান খাঁ}}
* {{বাউ|মুনশী ওয়াদুদ}}
* {{বাউ|মুনসুর আলী}}
* {{বাউ|মুনাজ আহমেদ নূর}}
* {{বাউ|মুনির উজ জামান}}
* {{বাউ|মুনেম ওয়াসিফ}}
* {{বাউ|মুন্সী রইসউদ্দিন}}
* {{বাউ|মুন্সী সিদ্দীক আহমদ}}
* {{বাউ|মুফলেহ আর. ওসমানী}}
* {{বাউ|মুবিনা আসাফ}}
* {{বাউ|মুমতাজুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মুরলীধর বসু}}
* {{বাউ|মুরাদ পারভেজ}}
* {{বাউ|মুরারি গুপ্ত}}
* {{বাউ|মুশতাক আহমেদ (লেখক)}}
* {{বাউ|মুশতারী শফী}}
* {{বাউ|মুশফিকুল ফজল আনসারী}}
* {{বাউ|মুশাররাফ করিম}}
* {{বাউ|মুসলেহউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মুসা আল হাফিজ}}
* {{বাউ|মুস্তফা মনোয়ার}}
* {{বাউ|মুস্তফা লুৎফুল্লাহ}}
* {{বাউ|মুস্তাফা খালিদ পলাশ}}
* {{বাউ|মুস্তাফা জামান আব্বাসী}}
* {{বাউ|মুস্তাফা নূরউল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজ শফি}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজুর রহমান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজুর রহমান (গীতিকার)}}
* {{বাউ|মুহম্মদ আবদুল হাই}}
* {{বাউ|মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক}}
* {{বাউ|মুহম্মদ ওয়ায়েছ}}
* {{বাউ|মুহম্মদ কবির}}
* {{বাউ|মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা}}
* {{বাউ|মুহম্মদ নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহম্মদ মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন}}
* {{বাউ|মুহম্মদ শামসউল হক}}
* {{বাউ|মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া (গবেষক)}}
* {{বাউ|মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আখতার}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল বারী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল মুহিত}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল বাকী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আব্দুর রহিম (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আরশাদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আসফ-উদ-দৌলা}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইউনুস (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইউনুস (পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইব্রাহিম (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইমরান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইসমাইল}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইসহাক (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ একরামুল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ জমির}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ জুলকার নাইন}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নওশাদ জমির}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নুরুল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নুরুল হুদা}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফাজলী ইলাহী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফারুক (কূটনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাছুদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ সামাদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (মুক্তিযোদ্ধা)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ আবদুল মালেক}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ ইকবাল হোছাইন}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ লুৎফর রহমান}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ শহীদ সারওয়ার}}
* {{বাউ|মৃণাল দত্ত চৌধুরী}}
* {{বাউ|মৃণাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মৃণালিনী সেন}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় প্রসাদ গুহ}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় বরাট সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার}}
* {{বাউ|মৃদুল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|মৃদুলা গার্গ}}
* {{বাউ|মেজকর্তা}}
* {{বাউ|মেজবাউর রহমান সুমন}}
* {{বাউ|মেনহাজ হুদা}}
* {{বাউ|মেরিনা তাবাসসুম}}
* {{বাউ|মেসবাহউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মেসবাহউদ্দিন আহমেদ (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|মেসবাহুল হক}}
* {{বাউ|মেহরীন মাহমুদ}}
* {{বাউ|মেহেদী হক রনি}}
* {{বাউ|মেহের আফরোজ শাওন}}
* {{বাউ|মেহেরবানু খানম}}
* {{বাউ|মেহেরুন নেসা}}
* {{বাউ|মৈত্রী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মৈত্রেয়ী দেবী}}
* {{বাউ|মো. আবদুল মজিদ}}
* {{বাউ|মো. আবু আহমেদ জমাদার}}
* {{বাউ|মো. আবু জাফর সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মো. আবু তারিক}}
* {{বাউ|মো. আব্দুল মজিদ}}
* {{বাউ|মো. আমিনুল ইসলাম (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. ইকবাল কবির}}
* {{বাউ|মো. ইমদাদুল হক}}
* {{বাউ|মো. এমদাদুল হক}}
* {{বাউ|মো. কামরুল হোসেন মোল্লা}}
* {{বাউ|মো. খসরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মো. খায়রুল আলম}}
* {{বাউ|মো. খুরশেদ আলম}}
* {{বাউ|মো. জয়নুল আবেদীন}}
* {{বাউ|মো. জহুরুল হক}}
* {{বাউ|মো. জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার}}
* {{বাউ|মো. নুরুল ইসলাম (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|মো. বজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মো. বদরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মো. মজিবুর রহমান মিয়া}}
* {{বাউ|মো. মনসুর আলম}}
* {{বাউ|মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার}}
* {{বাউ|মো. মোস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|মো. যাবিদ হোসেন}}
* {{বাউ|মো. রইস উদ্দিন}}
* {{বাউ|মো. রইস হাসান সরোয়ার}}
* {{বাউ|মো. রিয়াজ উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মো. রুহুল আমিন (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মো. রুহুল কুদ্দুস}}
* {{বাউ|মো. রেজাউল হক}}
* {{বাউ|মো. রেজাউল হাসান}}
* {{বাউ|মো. শামসুল হুদা}}
* {{বাউ|মো. শাহিনুর ইসলাম}}
* {{বাউ|মো. সাইদুল হক}}
* {{বাউ|মো. সেলিম (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. হযরত আলী (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মো. হামিদুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. হাসান আমিন}}
* {{বাউ|মো: গোলাম রহমান}}
* {{বাউ|মো: জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|মোঃ আখতারুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ আতাউর রহমান খান}}
* {{বাউ|মোঃ আতাবুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোঃ আতোয়ার রহমান}}
* {{বাউ|মোঃ আব্দুল মান্নান (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোঃ আব্দুল মুক্তাদির}}
* {{বাউ|মোঃ আলী রেজা}}
* {{বাউ|মোঃ আশরাফুল কামাল}}
* {{বাউ|মোঃ আসাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ ইসমাইল হোসেন}}
* {{বাউ|মোঃ কামরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ খোরশেদ আলম}}
* {{বাউ|মোঃ জসিম উদ্দিন (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মোঃ জাকির হোসেন (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোঃ টোকন}}
* {{বাউ|মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ বশির-উল্লাহ}}
* {{বাউ|মোঃ মইদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ মাহবুবুর রহমান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|মোঃ মুস্তফা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোঃ শামীম আহসান}}
* {{বাউ|মোঃ সাইদুর রহমান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মোঃ সাদত আলী}}
* {{বাউ|মোঃ সোহরাওয়ারদী}}
* {{বাউ|মোঃ হাবিবুল গনি}}
* {{বাউ|মোকাররম হোসেন খোন্দকার}}
* {{বাউ|মোক্ষদায়িনী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোজাফফর আহমদ}}
* {{বাউ|মোজাফফর হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মোজাম্মেল হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু}}
* {{বাউ|মোতাহার হোসেন তালুকদার}}
* {{বাউ|মোনাজাতউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোনায়েম সরকার}}
* {{বাউ|মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোবারক আহমদ খান}}
* {{বাউ|মোবারক হোসেন খান}}
* {{বাউ|মোবাশ্বের আলী}}
* {{বাউ|মোবিনুল আজিম}}
* {{বাউ|মোমতাজ আলী খান}}
* {{বাউ|মোরশেদ খান}}
* {{বাউ|মোরশেদ শফিউল হাসান}}
* {{বাউ|মোরশেদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী}}
* {{বাউ|মোল্লা জালাল উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|মোশতাক আহমেদ}}
* {{বাউ|মোশতাক খান}}
* {{বাউ|মোশারেফ উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মোসলেম উদ্দিন}}
* {{বাউ|মোসলেম উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মোসাদ্দেক আলী ফালু}}
* {{বাউ|মোস্তফা আনোয়ার (পরিচালক)}}
* {{বাউ|মোস্তফা আলম}}
* {{বাউ|মোস্তফা আলী}}
* {{বাউ|মোস্তফা এম এ মতিন}}
* {{বাউ|মোস্তফা কামাল (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোস্তফা জামান ইসলাম}}
* {{বাউ|মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোস্তফা মন্ওয়ার}}
* {{বাউ|মোস্তফা মেহমুদ}}
* {{বাউ|মোস্তাফিজুর রহমান মানিক}}
* {{বাউ|মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মোহন রায়হান}}
* {{বাউ|মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোহম্মদ সামির হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আকরম খাঁ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আজম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আজিজ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুর রশিদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুল খালেক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবু নাসের}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবু হেনা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবুল কাসেম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবুল হাশেম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল হাই}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আলম (আলোকচিত্র সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আলী (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (নরসিংদীর শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইউনুস (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইব্রাহিম (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইব্রাহিম (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইমান আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ উল্লাহ (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ এনামউল্যা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ওমর এজাজ রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ কায়কোবাদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ কিবরিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ খালেদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ছায়েদুল হক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাকারিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নইমুদ্দীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নজিবর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (লেখক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাসির আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নিজামুল হক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নুরুল করিম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নূরুজ্জামান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নোমান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ পনির হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফজলী হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফজলুল করীম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফেরদাউস খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফৈয়াজ খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মতিউর রহমান (লেখক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মফজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মুর্তজা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোদাব্বের}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোবারক আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোহর আলী (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোহসীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফি খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিক (কবি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকুল আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রেজওয়ান খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শরীফ হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শামশাদ আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহ আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহ আলম (আইনজ্ঞ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহজাহান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহিনুল আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শিশির মনির}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সাদত আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সাদিক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সালার খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সুফিউর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সোলায়মান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হোসেন জেমী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হোসেন মণ্ডল}}
* {{বাউ|মোহাম্মদউল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মাদ রকিবুল হাসান}}
* {{বাউ|মোহিত উল আলম}}
* {{বাউ|মোহিত কামাল}}
* {{বাউ|মোহিত চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোহিত সেন}}
* {{বাউ|মোহিনী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহিনী মোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মৌমিতা তাশরিন নদী}}
* {{বাউ|মৌমিতা দত্ত}}
* {{বাউ|মৌলভী আবদুল করিম}}
* {{বাউ|মৌসুমী ভৌমিক}}
* {{বাউ|যতীন সরকার}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রকুমার সেন}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রমোহন সিংহ}}
* {{বাউ|যদুনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|যদুনাথ সরকার}}
* {{বাউ|যদুনাথ সিংহ}}
* {{বাউ|যমুনা সেন}}
* {{বাউ|যশোধরা বাগচি}}
* {{বাউ|যশোধরা রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|যাত্রামোহন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|যাদুমনি হাজং}}
* {{বাউ|যামিনী ভূষণ রায়}}
* {{বাউ|যামিনী রায়}}
* {{বাউ|যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|যুধাজিৎ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|যোগীন মা}}
* {{বাউ|যোগীন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র চৌধুরী (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র বাগল}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি}}
* {{বাউ|যোবায়দা হান্নান}}
* {{বাউ|রওনক জাহান}}
* {{বাউ|রওশন আরা}}
* {{বাউ|রওশন আরা বাচ্চু}}
* {{বাউ|রওশন আরা মুস্তাফিজ}}
* {{বাউ|রওশন আলী}}
* {{বাউ|রওশন ইজদানী}}
* {{বাউ|রওশন জামিল}}
* {{বাউ|রকিব হাসান}}
* {{বাউ|রকিবুল আলম রকিব}}
* {{বাউ|রকীব আহমদ}}
* {{বাউ|রঘুনন্দন ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|রঘুনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রঙ্গলাল সেন}}
* {{বাউ|রঙ্গু সৌরিয়া}}
* {{বাউ|রজতকান্ত রায়}}
* {{বাউ|রজতশুভ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|রজনীকান্ত গুহ}}
* {{বাউ|রজনীকান্ত প্রামাণিক}}
* {{বাউ|রজনীনাথ রায়}}
* {{বাউ|রঞ্জন ঘোষাল}}
* {{বাউ|রঞ্জন মল্লিক}}
* {{বাউ|রণজিত গুহ}}
* {{বাউ|রণজিৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রণজিৎ দাশ}}
* {{বাউ|রণদা প্রসাদ সাহা}}
* {{বাউ|রণেন কুশারী}}
* {{বাউ|রণেশ মৈত্র}}
* {{বাউ|রতন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রতন সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|রতনচন্দ্র কর}}
* {{বাউ|রতনতনু ঘোষ}}
* {{বাউ|রতনলাল ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রথীন কিস্কু}}
* {{বাউ|রথীন মিত্র}}
* {{বাউ|রথীন মৈত্র}}
* {{বাউ|রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|রথীন্দ্রনাথ বোস}}
* {{বাউ|রফিক আহামদ}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন আহমেদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন আহমেদ (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন সরকার}}
* {{বাউ|রফিক-উল হক}}
* {{বাউ|রফিকউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|রফিকউল্লাহ্ খান}}
* {{বাউ|রফিকুর রশীদ}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম মিয়া}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম সেখ}}
* {{বাউ|রফিকুল বারী চৌধুরী}}
* {{বাউ|রফিকুল হক}}
* {{বাউ|রফিকুল হক (কৃষি প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|রবার্ট সুইনহো}}
* {{বাউ|রবি বসু}}
* {{বাউ|রবিউল আলম (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|রবিউল আলম রবি}}
* {{বাউ|রবিউল ইসলাম জীবন}}
* {{বাউ|রবিউল হুসাইন}}
* {{বাউ|রবিন ঘোষ}}
* {{বাউ|রবিনা খান}}
* {{বাউ|রবিশংকর বল}}
* {{বাউ|রবিশঙ্কর}}
* {{বাউ|রবীন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রবীন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|রমা চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমাতোষ সরকার}}
* {{বাউ|রমাপদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমারঞ্জন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রমিজউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|রমেন্দ্র কুমার পোদ্দার}}
* {{বাউ|রমেন্দ্রকুমার আচার্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রমেশ চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|রমেশচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|রশিদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রশীদ করীম}}
* {{বাউ|রশীদ তালুকদার}}
* {{বাউ|রশীদ হায়দার}}
* {{বাউ|রসময় দত্ত}}
* {{বাউ|রসময় মিত্র}}
* {{বাউ|রসময় সুর}}
* {{বাউ|রসিককৃষ্ণ মল্লিক}}
* {{বাউ|রসিকলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রহমত আলী}}
* {{বাউ|রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম}}
* {{বাউ|রহিমুন্নিসা}}
* {{বাউ|রহীম শাহ}}
* {{বাউ|রাইচরণ দাস}}
* {{বাউ|রাইচাঁদ বড়াল}}
* {{বাউ|রাইসুল ইসলাম আসাদ}}
* {{বাউ|রাখাল চন্দ্র দাস}}
* {{বাউ|রাখাল চিত্রকর}}
* {{বাউ|রাখালদাস মজুমদার}}
* {{বাউ|রাগিনী সোনকার}}
* {{বাউ|রাগীব রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রাঘব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রাজকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|রাজকুমারী বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকুমারী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকৃষ্ণ রায়}}
* {{বাউ|রাজচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|রাজদীপ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|রাজনারায়ণ বসু}}
* {{বাউ|রাজলক্ষ্মী দেবী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রাজিক আল জলিল}}
* {{বাউ|রাজিয়া খান}}
* {{বাউ|রাজিয়া মজিদ}}
* {{বাউ|রাজিয়া মাহবুব}}
* {{বাউ|রাজিয়া সুলতানা (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|রাজেন তরফদার}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রচন্দ্র হাজরা}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রলাল মিত্র}}
* {{বাউ|রাজেশ রোশন}}
* {{বাউ|রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাণী দিনমনি চৌধুরাণী}}
* {{বাউ|রাণী রাসমণি}}
* {{বাউ|রাধা বিনোদ পাল}}
* {{বাউ|রাধাকান্ত দেব}}
* {{বাউ|রাধাকান্ত নন্দী}}
* {{বাউ|রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ কর}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ চন্দ্র}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ নাথ}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ বসাক}}
* {{বাউ|রাধানাথ শিকদার}}
* {{বাউ|রাধাপদ রায়}}
* {{বাউ|রাধাপ্রসাদ গুপ্ত}}
* {{বাউ|রাধাবতী দেবী}}
* {{বাউ|রাধারমণ দত্ত}}
* {{বাউ|রাধারমণ মিত্র}}
* {{বাউ|রাধারাণী দেবী}}
* {{বাউ|রাধিকা মোহন মৈত্র}}
* {{বাউ|রাধিকা রায়}}
* {{বাউ|রানী চন্দ}}
* {{বাউ|রাপ্পা রায়}}
* {{বাউ|রাফায়েল অ্যারন বেলিলিওস}}
* {{বাউ|রাফিদা আহমেদ বন্যা}}
* {{বাউ|রাবাব ফাতেমা}}
* {{বাউ|রাবেয়া খাতুন}}
* {{বাউ|রাবেয়া ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|রাম নারায়ণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রাম বসু}}
* {{বাউ|রামকমল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামকমল সেন}}
* {{বাউ|রামকানাই দাশ}}
* {{বাউ|রামকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামগতি ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|রামগোপাল ঘোষ}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ}}
* {{বাউ|রামতনু লাহিড়ী}}
* {{বাউ|রামতারণ সান্যাল}}
* {{বাউ|রামদাস সেন}}
* {{বাউ|রামনারায়ণ তর্করত্ন}}
* {{বাউ|রামনিধি গুপ্ত}}
* {{বাউ|রামপ্রাণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|রামব্রহ্ম সান্যাল}}
* {{বাউ|রামরঞ্জন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামরাম বসু}}
* {{বাউ|রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামেন্দু মজুমদার}}
* {{বাউ|রায়হান মুজিব}}
* {{বাউ|রায়হানুল আবেদীন}}
* {{বাউ|রায়েফ আল হাসান রাফা}}
* {{বাউ|রাশিদ আসকারী}}
* {{বাউ|রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর}}
* {{বাউ|রাশেদ খান মেনন}}
* {{বাউ|রাশেদ রউফ}}
* {{বাউ|রাসবিহারী ঘোষ}}
* {{বাউ|রাসসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|রাহাত খান}}
* {{বাউ|রাহিজা খানম ঝুনু}}
* {{বাউ|রাহুল দেব বর্মণ}}
* {{বাউ|রাহুল পুরকায়স্থ}}
* {{বাউ|রিংকি ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|রিজিয়া রহমান}}
* {{বাউ|রিতা আর. কলওয়েল}}
* {{বাউ|রিনা আক্তার (সক্রিয়কর্মী)}}
* {{বাউ|রিনাত ফৌজিয়া}}
* {{বাউ|রিপন নাথ}}
* {{বাউ|রিফাত হাসান (লেখক)}}
* {{বাউ|রিমা সুলতানা রিমু}}
* {{বাউ|রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|রিয়াজ রহমান}}
* {{বাউ|রিয়াজ হামিদুল্লাহ}}
* {{বাউ|রিয়াজুল রিজু}}
* {{বাউ|রীণা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রুচিরা গুপ্ত}}
* {{বাউ|রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|রুদ্রাণী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|রুনা খান (উদ্যোক্তা)}}
* {{বাউ|রুনু বিশ্বাস}}
* {{বাউ|রুবাইয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|রুবানা হক}}
* {{বাউ|রুবী রহমান}}
* {{বাউ|রুবেল}}
* {{বাউ|রুমা পাল}}
* {{বাউ|রুমানা আলী}}
* {{বাউ|রুমানা রশীদ ঈশিতা}}
* {{বাউ|রুমিন ফারহানা}}
* {{বাউ|রুম্মান রশীদ খান}}
* {{বাউ|রুশেমা বেগম}}
* {{বাউ|রুহি জুবেরী}}
* {{বাউ|রুহুল আমিন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|রুহুল আলম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|রুহুল ইসলাম}}
* {{বাউ|রুহুল কুদ্দুস কাজল}}
* {{বাউ|রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু}}
* {{বাউ|রূপ গোস্বামী}}
* {{বাউ|রূপচাঁদ অধিকারী}}
* {{বাউ|রূপমঞ্জরী ঘোষ}}
* {{বাউ|রূপরাম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রূপা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রেজা আলী}}
* {{বাউ|রেজা লতিফ}}
* {{বাউ|রেজাউদ্দিন স্টালিন}}
* {{বাউ|রেজাউল করিম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|রেজাউল হক সরকার}}
* {{বাউ|রেজিনা গুহ}}
* {{বাউ|রেণু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রেণুকা রায়}}
* {{বাউ|রেদওয়ান রনি}}
* {{বাউ|রেবতীভূষণ ঘোষ}}
* {{বাউ|রেবা সোম}}
* {{বাউ|রেয়াজুদ্দীন মাশহাদী আহমদ}}
* {{বাউ|রেহমান সোবহান}}
* {{বাউ|রোকেয়া সুলতানা (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|রোজিনা ইসলাম}}
* {{বাউ|রোজী আফসারী}}
* {{বাউ|রোমেনা আফাজ}}
* {{বাউ|লক্ষীছাড়া}}
* {{বাউ|লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র}}
* {{বাউ|লজ্জাবতী বসু}}
* {{বাউ|লতিকা সরকার}}
* {{বাউ|লতিকা সেন}}
* {{বাউ|লতিফুর খান}}
* {{বাউ|লতিফুর রহমান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|লতিফুল ইসলাম শিবলী}}
* {{বাউ|ললিত মোহন নাথ}}
* {{বাউ|ললিতা রায়}}
* {{বাউ|লাকী আখান্দ}}
* {{বাউ|লায়লা নূর}}
* {{বাউ|লায়লা সামাদ}}
* {{বাউ|লালমোহন গাঙ্গুলি}}
* {{বাউ|লিয়াকত আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|লিয়াকত আলী লাকী}}
* {{বাউ|লিলি চক্রবর্তী (কবি)}}
* {{বাউ|লিসা গাজী}}
* {{বাউ|লীমা ধর}}
* {{বাউ|লীলা রায়}}
* {{বাউ|লীলাবতী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|লীলাবতী মিত্র}}
* {{বাউ|লুইস জনসন}}
* {{বাউ|লুসি রহমান}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান (মুসলিম পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান রিটন}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান সরকার}}
* {{বাউ|লুৎফর হাসান}}
* {{বাউ|লুৎফুন্নাহার হেলেন}}
* {{বাউ|লুৎফুল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|লুৎফে সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|লেনিন গনি}}
* {{বাউ|লেবুমামা}}
* {{বাউ|লেমিস}}
* {{বাউ|লোকনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|লোকমান হোসেন ফকির}}
* {{বাউ|লোকেন্দ্রনাথ পালিত}}
* {{বাউ|লোপামুদ্রা মিত্র}}
* {{বাউ|শংকর রায় চৌধুরী (চরিত্র)}}
* {{বাউ|শওকত আরা বেগম}}
* {{বাউ|শওকত আলী (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শওকত আলী ইমন}}
* {{বাউ|শওকত আলী খান}}
* {{বাউ|শওকত জামিল}}
* {{বাউ|শওকত মাহমুদ}}
* {{বাউ|শক্তি বর্মণ}}
* {{বাউ|শক্তি মণ্ডল}}
* {{বাউ|শক্তিপদ রাজগুরু}}
* {{বাউ|শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শঙ্কর ঘোষ}}
* {{বাউ|শঙ্কর ঘোষ (পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|শঙ্কর চ্যাটার্জী}}
* {{বাউ|শঙ্কর প্রসাদ মিত্র}}
* {{বাউ|শঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|শঙ্কর সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|শঙ্করীপ্রসাদ বসু}}
* {{বাউ|শঙ্কু মহারাজ}}
* {{বাউ|শঙ্খ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শচীন দাশ}}
* {{বাউ|শচীন ভৌমিক}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ অধিকারী}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|শফি ইউ আহমেদ}}
* {{বাউ|শফিউর রহমান}}
* {{বাউ|শফিক আহমেদ}}
* {{বাউ|শফিক তুহিন}}
* {{বাউ|শবনম পারভীন}}
* {{বাউ|শবনম মুশতারী}}
* {{বাউ|শবনম রামস্বামী}}
* {{বাউ|শবর দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শমসের মবিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|শমিতা দাশ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শম্পা দাস}}
* {{বাউ|শম্ভু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ দে}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ পণ্ডিত}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শরচ্চন্দ্র পণ্ডিত}}
* {{বাউ|শরণ}}
* {{বাউ|শরাফত আলী}}
* {{বাউ|শরিফ এনামুল কবির}}
* {{বাউ|শরিফা খাতুন}}
* {{বাউ|শরিফা খান}}
* {{বাউ|শরীফ উদ্দিন চাকলাদার}}
* {{বাউ|শরীফ খান}}
* {{বাউ|শরীফ মুহাম্মদ আজিজুল হক}}
* {{বাউ|শর্বরী জোহরা আহমেদ}}
* {{বাউ|শর্বরী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|শর্মিলা বসু}}
* {{বাউ|শর্মিলা বিশ্বাস}}
* {{বাউ|শর্মিলা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শর্মিলা সরকার}}
* {{বাউ|শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শরৎকুমারী চৌধুরাণী}}
* {{বাউ|শরৎচন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|শরৎচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|শরৎসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|শশধর দত্ত}}
* {{বাউ|শশাঙ্ক চন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শশাঙ্ক শেখর সরকার}}
* {{বাউ|শশিভূষণ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শশিশেখর বসু}}
* {{বাউ|শহিদুল আমিন}}
* {{বাউ|শহিদুল আলম}}
* {{বাউ|শহিদুল ইসলাম (বিচারক)}}
* {{বাউ|শহিদুল হক খান}}
* {{বাউ|শহীদ আখন্দ}}
* {{বাউ|শহীদ উল্লাহ তালুকদার}}
* {{বাউ|শহীদ সাবের}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম (গণিতবিদ)}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম খোকন}}
* {{বাউ|শহীদুল হক}}
* {{বাউ|শহীদুল্লাহ খান}}
* {{বাউ|শাওন আকন্দ}}
* {{বাউ|শাকিলা জাফর}}
* {{বাউ|শাকুর মজিদ}}
* {{বাউ|শাজিয়া ওমর}}
* {{বাউ|শানারেই দেবী শানু}}
* {{বাউ|শানু লাহিড়ী}}
* {{বাউ|শান্তনু কায়সার}}
* {{বাউ|শান্তনু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শান্তনু মৈত্র}}
* {{বাউ|শান্তা দেবী (নাগ)}}
* {{বাউ|শান্তিদেব ঘোষ}}
* {{বাউ|শান্তিময় চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শান্তিসুধা ঘোষ}}
* {{বাউ|শাপলা সালিক}}
* {{বাউ|শাফিয়া খাতুন}}
* {{বাউ|শামছুল আলম}}
* {{বাউ|শামশুদ্দিন আহমদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমদ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমেদ (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন টগর}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন হীরা}}
* {{বাউ|শামসুদ্দীন আবুল কালাম}}
* {{বাউ|শামসুন নাহার মাহমুদ}}
* {{বাউ|শামসুল আলম (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|শামসুল ইসলাম আলমাজী}}
* {{বাউ|শামসুল হক (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শামসুল হুদা}}
* {{বাউ|শামসুল হুদা চৌধুরী}}
* {{বাউ|শামীম আকতার}}
* {{বাউ|শামীম আজাদ}}
* {{বাউ|শামীম আরা নিপা}}
* {{বাউ|শামীম আহমেদ রনি}}
* {{বাউ|শামীম আহসান}}
* {{বাউ|শামীম শিকদার}}
* {{বাউ|শামীম হায়দার}}
* {{বাউ|শামীম হাসনাইন}}
* {{বাউ|শামীমা করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|শায়ান চৌধুরী অর্ণব}}
* {{বাউ|শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামউল্লাহ}}
* {{বাউ|শারফুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শারমিন আলি}}
* {{বাউ|শার্মিন আক্তার}}
* {{বাউ|শাহ আজিজুর রহমান}}
* {{বাউ|শাহ আবদুল ওয়াহহাব}}
* {{বাউ|শাহ আবদুল হান্নান}}
* {{বাউ|শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান}}
* {{বাউ|শাহ আবুল হাসনাৎ মোহাম্মদ ইসমাইল}}
* {{বাউ|শাহ আব্দুল হামিদ}}
* {{বাউ|শাহ আলম কিরণ}}
* {{বাউ|শাহ আলমগীর}}
* {{বাউ|শাহ আহমদ শফী}}
* {{বাউ|শাহ এ এম এস কিবরিয়া}}
* {{বাউ|শাহ খাজা শরফুদ্দীন}}
* {{বাউ|শাহ জাহাঙ্গীর কবীর}}
* {{বাউ|শাহ বারিদ খান}}
* {{বাউ|শাহ মাহাতাব আহমদ}}
* {{বাউ|শাহ মুহম্মদ সগীর}}
* {{বাউ|শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন}}
* {{বাউ|শাহ মোঃ উললাহ}}
* {{বাউ|শাহ মোঃ হাসানুজ্জামান}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ ফারুক}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ ফারুক (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান}}
* {{বাউ|শাহজাদা আবদুল মালেক খান}}
* {{বাউ|শাহজাহান আহমেদ বিকাশ}}
* {{বাউ|শাহজাহান কিবরিয়া}}
* {{বাউ|শাহজাহান খান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শাহজাহান চৌধুরী (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|শাহদীন মালিক}}
* {{বাউ|শাহনাজ আরেফিন}}
* {{বাউ|শাহনাজ রহমতুল্লাহ}}
* {{বাউ|শাহনাজ হুদা}}
* {{বাউ|শাহনেওয়াজ কাকলী}}
* {{বাউ|শাহরিয়ার আলম}}
* {{বাউ|শাহরিয়ার নাজিম জয়}}
* {{বাউ|শাহলা খাতুন}}
* {{বাউ|শাহাদাত চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহাদাত হোসেন খান}}
* {{বাউ|শাহাদাৎ হোসেন (লেখক)}}
* {{বাউ|শাহাদাৎ হোসেন লিটন}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ (রাষ্ট্রদূত)}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দীন নাগরী}}
* {{বাউ|শাহীন আখতার}}
* {{বাউ|শাহীন দিল-রিয়াজ}}
* {{বাউ|শাহীন সামাদ}}
* {{বাউ|শাহীন-সুমন}}
* {{বাউ|শাহীনুর পাশা চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহেদ আলী}}
* {{বাউ|শাহেদ আলী পাটোয়ারী}}
* {{বাউ|শাহেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহেদ নূরউদ্দিন}}
* {{বাউ|শাহ্ আলিমুজ্জামান}}
* {{বাউ|শিতালং শাহ}}
* {{বাউ|শিপ্রা গুহ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিব নারায়ণ দাস}}
* {{বাউ|শিবকালী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণব}}
* {{বাউ|শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিবনারায়ণ রায়}}
* {{বাউ|শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিবব্রত বর্মন}}
* {{বাউ|শিবলি সাদিক}}
* {{বাউ|শিবাজী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিমুল মুস্তাফা}}
* {{বাউ|শিমূল ইউসুফ}}
* {{বাউ|শিরীণ আখতার}}
* {{বাউ|শিশির কুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|শিশির কুমার দাশ}}
* {{বাউ|শিশির কুমার মিত্র}}
* {{বাউ|শিশির ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|শিশির ভট্টাচার্য্য (ভাষাবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|শিশিরকুমার বসু}}
* {{বাউ|শিশিরকুমার ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|শিহাব শাহীন}}
* {{বাউ|শিহাব সরকার}}
* {{বাউ|শীলভদ্র}}
* {{বাউ|শুক্লা বোস}}
* {{বাউ|শুদ্ধানন্দ ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|শুদ্ধানন্দ মহাথের}}
* {{বাউ|শুভ (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|শুভ গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|শুভ রায়}}
* {{বাউ|শুভঙ্কর (গণিতবিদ)}}
* {{বাউ|শুভাগত চৌধুরী}}
* {{বাউ|শুভাশিস সিনহা}}
* {{বাউ|শুভ্র (চরিত্র)}}
* {{বাউ|শুভ্র দেব}}
* {{বাউ|শুভ্রা ঘোষ}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল আউয়াল}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল আজিজ}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল মান্নান}}
* {{বাউ|শেখ আবদুস সালাম}}
* {{বাউ|শেখ আবুল কাশেম মিঠুন}}
* {{বাউ|শেখ আব্দুর রহিম}}
* {{বাউ|শেখ আব্দুস সালাম}}
* {{বাউ|শেখ খলিলুর রহমান হামিদি}}
* {{বাউ|শেখ গোলাম মাকসুদ হিলালী}}
* {{বাউ|শেখ তৈয়বুর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ দীন মুহাম্মদ}}
* {{বাউ|শেখ নিয়ামত আলী}}
* {{বাউ|শেখ ফয়জুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ বখতিয়ার উদ্দিন}}
* {{বাউ|শেখ ভানু}}
* {{বাউ|শেখ মকবুল ইসলাম}}
* {{বাউ|শেখ মনিরুল আলম টিপু}}
* {{বাউ|শেখ মাকসুদ আলী}}
* {{বাউ|শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ মো. জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|শেখ মোঃ নূরুল হক}}
* {{বাউ|শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ রাজ্জাক আলী}}
* {{বাউ|শেখ রেজোয়ান আলী}}
* {{বাউ|শেখ লুতফর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ শহীদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|শেখ হাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ হাসান আরিফ}}
* {{বাউ|শেখর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শেখর বসু}}
* {{বাউ|শেফালী ঘোষ}}
* {{বাউ|শেলী সেনগুপ্তা}}
* {{বাউ|শৈল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শৈলজারঞ্জন মজুমদার}}
* {{বাউ|শৈলবালা ঘোষজায়া}}
* {{বাউ|শৈলেন ঘোষ}}
* {{বাউ|শৈলেন রায়}}
* {{বাউ|শৈলেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|শৈলেশ দে}}
* {{বাউ|শোভনা শর্মা}}
* {{বাউ|শোভনাসুন্দরী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শোভা রানী ত্রিপুরা}}
* {{বাউ|শোহিদ আলী}}
* {{বাউ|শৌভিক দে সরকার}}
* {{বাউ|শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর}}
* {{বাউ|শ্যামমোহিনী দেবী}}
* {{বাউ|শ্যামল কুমার সেন}}
* {{বাউ|শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামল গুপ্ত}}
* {{বাউ|শ্যামল দত্ত রায়}}
* {{বাউ|শ্যামল বসাক}}
* {{বাউ|শ্যামল মিত্র}}
* {{বাউ|শ্যামলকৃষ্ণ ঘোষ}}
* {{বাউ|শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব}}
* {{বাউ|শ্যামাচরণ শ্রীমানী}}
* {{বাউ|শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামাদাস মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (পরিসংখ্যানবিদ)}}
* {{বাউ|শ্রাবন্তী নারমীন আলী}}
* {{বাউ|শ্রী জহির}}
* {{বাউ|শ্রী পারাবত}}
* {{বাউ|শ্রী প্রীতম}}
* {{বাউ|শ্রীকর নন্দী}}
* {{বাউ|শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্রীজাত}}
* {{বাউ|শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ}}
* {{বাউ|শ্রীধর আচার্য}}
* {{বাউ|শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর}}
* {{বাউ|শ্রীমতি রাসাসুন্দরী}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|শ্রেয়সী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের জন্য মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার}}
* {{বাউ|শ্ৰীকৃষ্ণ সার্বভৌম}}
* {{বাউ|ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সংগ্রাম কুমার দোলই}}
* {{বাউ|সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সজনীকান্ত দাস}}
* {{বাউ|সজীব দাস}}
* {{বাউ|সঞ্চিতা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সঞ্জয় (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|সঞ্জয় কুমার অধিকারী}}
* {{বাউ|সঞ্জয় গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|সতীকান্ত গুহ}}
* {{বাউ|সতীনাথ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র আচার্য বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র পাকড়াশী}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সত্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|সত্য সাহা}}
* {{বাউ|সত্যপ্রিয় ঘোষ}}
* {{বাউ|সত্যপ্রিয় মহাথের}}
* {{বাউ|সত্যবতী (ব্যোমকেশ বক্সীর স্ত্রী)}}
* {{বাউ|সত্যব্রত সামশ্রমী}}
* {{বাউ|সত্যরঞ্জন বকসি}}
* {{বাউ|সত্যানন্দ গিরি}}
* {{বাউ|সত্যানন্দ দাশ}}
* {{বাউ|সত্যেন সেন}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্র চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|সনাতন গোস্বামী}}
* {{বাউ|সন্তোষ গুপ্ত}}
* {{বাউ|সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সন্তোষ ঢালী}}
* {{বাউ|সন্তোষ রানা}}
* {{বাউ|সন্তোষকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|সন্তোষকুমারী দেবী}}
* {{বাউ|সন্দীপ ঘোষ}}
* {{বাউ|সন্দীপ দত্ত}}
* {{বাউ|সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সন্ধ্যাকর নন্দী}}
* {{বাউ|সন্মথ দত্ত}}
* {{বাউ|সন্মাত্রানন্দ}}
* {{বাউ|সন্জীদা খাতুন}}
* {{বাউ|সনৎ কর}}
* {{বাউ|সনৎ কুমার সাহা}}
* {{বাউ|সপ্তর্ষি ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|সফিউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|সফিউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সবিতা রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সবিতাব্রত দত্ত}}
* {{বাউ|সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|সমর দাস}}
* {{বাউ|সমর বাগচী}}
* {{বাউ|সমর মজুমদার}}
* {{বাউ|সমর সেন}}
* {{বাউ|সমরজিৎ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র কুমার মিত্র}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র চন্দ্র দেব}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র নাথ পাণ্ডে}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র মল্লিক}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ রায়}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|সমরেশ বসু}}
* {{বাউ|সমাপ্তি চ্যাটার্জি}}
* {{বাউ|সমীর কুমার সাহা}}
* {{বাউ|সমীর রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সমুদ্র গুপ্ত (কবি)}}
* {{বাউ|সরকার প্রতিক}}
* {{বাউ|সরদার জয়েনউদ্দীন}}
* {{বাউ|সরদার ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|সরদার মোশারফ হোসেন}}
* {{বাউ|সরদার মোহাম্মদ আবদুল হামিদ}}
* {{বাউ|সরযূবালা দেবী}}
* {{বাউ|সরযূবালা সেন}}
* {{বাউ|সরলা বসু}}
* {{বাউ|সরলা বিড়লা}}
* {{বাউ|সরলা রায়}}
* {{বাউ|সরসীবালা বসু}}
* {{বাউ|সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী}}
* {{বাউ|সরোজ গুপ্ত}}
* {{বাউ|সরোজ ঘোষ}}
* {{বাউ|সরোজ দত্ত}}
* {{বাউ|সরোজ নলিনী দত্ত}}
* {{বাউ|সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সরোজকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ}}
* {{বাউ|সলিল চৌধুরী}}
* {{বাউ|সলিল সেন}}
* {{বাউ|সহিদুল করিম}}
* {{বাউ|সহিফা বানু}}
* {{বাউ|সাইদা খানম}}
* {{বাউ|সাইদুল আনাম টুটুল}}
* {{বাউ|সাইদুল হাসান (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন}}
* {{বাউ|সাইফ হাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|সাইফউদ-দীন চৌধুরী}}
* {{বাউ|সাইফুজ্জামান শিখর}}
* {{বাউ|সাইফুদ্দিন শাহ্}}
* {{বাউ|সাইফুর রহমান}}
* {{বাউ|সাইফুল আজম কাশেম}}
* {{বাউ|সাইফুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|সাইফুল ইসলাম মান্নু}}
* {{বাউ|সাইফুল হক}}
* {{বাউ|সাইম রানা}}
* {{বাউ|সাইমন জাকারিয়া}}
* {{বাউ|সাইয়িদ আতীকুল্লাহ}}
* {{বাউ|সাঈদ আহমদ}}
* {{বাউ|সাঈদ উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাঈদ হায়দার}}
* {{বাউ|সাঈদ-উর-রহমান}}
* {{বাউ|সাঈদা মুনা তাসনিম}}
* {{বাউ|সাকিব ফাহাদ}}
* {{বাউ|সাগর জাহান}}
* {{বাউ|সাগরময় ঘোষ}}
* {{বাউ|সাগরলাল দত্ত}}
* {{বাউ|সাজিদুর রহমান}}
* {{বাউ|সাজেদুল করিম}}
* {{বাউ|সাজ্জাদুল হাসান (আমলা)}}
* {{বাউ|সাদাত আবুল মাসুদ}}
* {{বাউ|সাদাত হোসাইন}}
* {{বাউ|সাদি মহম্মদ}}
* {{বাউ|সাদিক হোসেন}}
* {{বাউ|সাদিয়া ফাইজুন্নেসা}}
* {{বাউ|সাদির উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাদেক খান (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|সাধনা আহমেদ}}
* {{বাউ|সানাউল হক}}
* {{বাউ|সানাউল হক খান}}
* {{বাউ|সানাউল্লাহ নূরী}}
* {{বাউ|সানি সানোয়ার}}
* {{বাউ|সানিয়া সুলতানা লিজা}}
* {{বাউ|সানী জুবায়ের}}
* {{বাউ|সাফি উদ্দিন সাফি}}
* {{বাউ|সাবরিনা পড়শী}}
* {{বাউ|সাবিত্রী রায়}}
* {{বাউ|সাব্বির নাসির}}
* {{বাউ|সামন্ত লাল সেন}}
* {{বাউ|সামসুল হক (কবি)}}
* {{বাউ|সামিনা চৌধুরী}}
* {{বাউ|সামিয়া জামান}}
* {{বাউ|সাযযাদ কাদির}}
* {{বাউ|সায়মা ওয়াজেদ পুতুল}}
* {{বাউ|সায়েদুর রহমান}}
* {{বাউ|সায়েবা আখতার}}
* {{বাউ|সারদাচরণ মিত্র}}
* {{বাউ|সারদারঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|সারা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সারা যাকের}}
* {{বাউ|সারা হোসেন}}
* {{বাউ|সালমা ইসলাম}}
* {{বাউ|সালমা মাসুদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সালমা সুলতানা}}
* {{বাউ|সালমা সোবহান}}
* {{বাউ|সালাউদ্দিন সরদার}}
* {{বাউ|সালাহ উদ্দিন ইউসুফ}}
* {{বাউ|সালাহ উদ্দিন নানুপুরী}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন আহমেদ (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন লাভলু}}
* {{বাউ|সালিমুল হক}}
* {{বাউ|সালেহ উদ্দিন}}
* {{বাউ|সালেহ উদ্দীন আহমদ জহুরী}}
* {{বাউ|সালেহ হাসান নকীব}}
* {{বাউ|সালেহউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাহানাজ সুলতানা}}
* {{বাউ|সাহিদা বেগম}}
* {{বাউ|সি এম শফি সামি}}
* {{বাউ|সি. বি. জামান}}
* {{বাউ|সিকদার আমিনুল হক}}
* {{বাউ|সিকদার মাহমুদুর রাজী}}
* {{বাউ|সিগমা হুদা}}
* {{বাউ|সিতারা বেগম}}
* {{বাউ|সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সিদ্দিকা কবীর}}
* {{বাউ|সিদ্দিকুর রহমান মিয়া}}
* {{বাউ|সিদ্ধার্থ ঘোষ}}
* {{বাউ|সিদ্ধার্থ মুখার্জী}}
* {{বাউ|সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সিয়াম আহমেদ}}
* {{বাউ|সিরাজ উদদীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সিরাজ উদ্দিন মিয়া}}
* {{বাউ|সিরাজ সাঁই}}
* {{বাউ|সিরাজ হায়দার}}
* {{বাউ|সিরাজুদ্দীন হোসেন}}
* {{বাউ|সিরাজুর রহমান}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম (কবি)}}
* {{বাউ|সিরাজুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক (বাচ্চু মিয়া)}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক খান}}
* {{বাউ|সিরিল সিকদার}}
* {{বাউ|সীতা দেবী}}
* {{বাউ|সীতানাথ তত্ত্বভূষণ}}
* {{বাউ|সীতানাথ সিদ্ধান্তবাগীশ}}
* {{বাউ|সুকন্যা দত্ত}}
* {{বাউ|সুকান্ত চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুকুমারী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুখময় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুখরঞ্জন সমাদ্দার}}
* {{বাউ|সুগত বসু}}
* {{বাউ|সুগত মারজিত}}
* {{বাউ|সুচরিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুচারু দেবী}}
* {{বাউ|সুচিত্রা মিত্র}}
* {{বাউ|সুজন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুজন বড়ুয়া}}
* {{বাউ|সুজয় পল}}
* {{বাউ|সুজাত খান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|সুজেয় শ্যাম}}
* {{বাউ|সুতপা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুতপা বসু}}
* {{বাউ|সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার}}
* {{বাউ|সুদীপ্ত-হেরম্যান}}
* {{বাউ|সুদীপ্তা সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুদেষ্ণা রায়}}
* {{বাউ|সুদেষ্ণা সিনহা}}
* {{বাউ|সুধাংশু দত্ত মজুমদার}}
* {{বাউ|সুধাংশু শেখর হালদার}}
* {{বাউ|সুধাংশুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুধাংশুবালা হাজরা}}
* {{বাউ|সুধীন দত্ত}}
* {{বাউ|সুধীন দাশ}}
* {{বাউ|সুধীন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুধীন্দ্রনাথ রাহা}}
* {{বাউ|সুধীর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুধীরকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুধীরচন্দ্র কর}}
* {{বাউ|সুধীরঞ্জন প্রধান}}
* {{বাউ|সুধীরনাথ সান্যাল}}
* {{বাউ|সুধীরলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুনন্দ সান্যাল}}
* {{বাউ|সুনন্দা শিকদার}}
* {{বাউ|সুনয়নী দেবী}}
* {{বাউ|সুনীতি দেবী}}
* {{বাউ|সুনীতিকুমার পাঠক}}
* {{বাউ|সুনীল দাশ (লেখক)}}
* {{বাউ|সুনেত্রা গুপ্ত}}
* {{বাউ|সুন্দরীমোহন দাস}}
* {{বাউ|সুপ্রিয়া চৌধুরী (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|সুফি (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|সুফি মিজানুর রহমান}}
* {{বাউ|সুফি মোতাহার হোসেন}}
* {{বাউ|সুফিয়া খাতুন}}
* {{বাউ|সুফী জুলফিকার হায়দার}}
* {{বাউ|সুবল দাস}}
* {{বাউ|সুবিমল বসাক}}
* {{বাউ|সুবিমল মিশ্র}}
* {{বাউ|সুবোধ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুবোধ মিত্র}}
* {{বাউ|সুবোধ সরকার}}
* {{বাউ|সুবোধকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুব্রত রায় (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|সুব্রত রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুভাষ চন্দ্র শীল}}
* {{বাউ|সুভাষ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুভাষ দত্ত}}
* {{বাউ|সুভাষ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুভাষ মুখোপাধ্যায় (কবি)}}
* {{বাউ|সুভাষ সিংহ রায়}}
* {{বাউ|সুভো ঠাকুর}}
* {{বাউ|সুমথনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুমন কল্যাণপুর}}
* {{বাউ|সুমন চট্টোপাধ্যায় (সাংবাদিক ও লেখক)}}
* {{বাউ|সুমন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুমনা রায়}}
* {{বাউ|সুমনা সিনহা}}
* {{বাউ|সুমিত রায়}}
* {{বাউ|সুমিত সরকার}}
* {{বাউ|সুমিত সাহা}}
* {{বাউ|সুরজিৎচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|সুরজিৎচন্দ্র সিনহা}}
* {{বাউ|সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরবালা ঘোষ}}
* {{বাউ|সুরমা জাহিদ}}
* {{বাউ|সুরমা মিত্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্র কুমার সিনহা}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্র নারায়ণ দাশ}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুরেশ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|সুরেশ রঞ্জন বসাক}}
* {{বাউ|সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুলতান আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুলতান উদ্দিন ভূঞা}}
* {{বাউ|সুলতান হোসেন খান}}
* {{বাউ|সুলতানা আফরোজ}}
* {{বাউ|সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা}}
* {{বাউ|সুলতানা কামাল}}
* {{বাউ|সুলতানা নুরুন নাহার}}
* {{বাউ|সুলতানা ফিরদৌসী}}
* {{বাউ|সুলতানা সারওয়াত আরা জামান}}
* {{বাউ|সুলতানুল কবির চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুশান্ত মজুমদার}}
* {{বাউ|সুশীল কুমার দে}}
* {{বাউ|সুশীল জানা}}
* {{বাউ|সুশীল রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশীলকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|সুশীলকুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশীলা অনিতা ব্যানার্জী}}
* {{বাউ|সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশোভন সরকার}}
* {{বাউ|সুষমা দাস}}
* {{বাউ|সুস্মিতা আনিস}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বসু}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বসু মজুমদার}}
* {{বাউ|সুহরাব হোসেন}}
* {{বাউ|সুহাস চন্দ্র দত্ত রায়}}
* {{বাউ|সুহাসিনী দাস}}
* {{বাউ|সূর্যকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|সেকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সেজান মাহমুদ}}
* {{বাউ|সেজুল হোসেন}}
* {{বাউ|সেলিনা আখতার}}
* {{বাউ|সেলিনা পারভীন}}
* {{বাউ|সেলিনা বানু}}
* {{বাউ|সেলিনা বাহার জামান}}
* {{বাউ|সেলিনা হায়াৎ আইভী}}
* {{বাউ|সেলিম আলতাফ জর্জ}}
* {{বাউ|সেলিম মাহমুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড}}
* {{বাউ|সৈয়দ আকরম হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আক্তার হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আজিজুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ আতিকুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আনোয়ারুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সামাদ (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সুলতান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সোবহান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবু কাওসার মো. দবিরুশ্বান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মকসুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মনসুর হাবিবুল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মাসুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুন নূর হোছেনী চিশতি}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুল মজিদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুল হাদী}}
* {{বাউ|সৈয়দ আমিরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সৈয়দ আমীর আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ আলতাফ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ.বি মাহমুদুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ এমদাদ আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া}}
* {{বাউ|সৈয়দ জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|সৈয়দ জাহেদ মনসুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ তারেক হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|সৈয়দ নওশের আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ নজমুল হক (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেম}}
* {{বাউ|সৈয়দ নাজমুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ নূরুদ্দিন}}
* {{বাউ|সৈয়দ নূরুদ্দীন}}
* {{বাউ|সৈয়দ পীর বাদশাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফয়জুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফাহিম মুনাইম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাইনুল হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাহমুদ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুর্তাজা আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ আবদুল ফায়েজ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ রায়হান উদ্দিন}}
* {{বাউ|সৈয়দ রেজাউল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ রেফাত আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহ ইসরাইল}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহনুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|সৈয়দ সফিউল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ সুলতান}}
* {{বাউ|সৈয়দ হাবিবুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ হাসান আহমদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ হুমায়ুন আখতার}}
* {{বাউ|সৈয়দ হেদায়েতউল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু}}
* {{বাউ|সৈয়দা ইসাবেলা}}
* {{বাউ|সৈয়দা মরিয়ম গুলশান হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দা মোতাহেরা বানু}}
* {{বাউ|সৈয়দা রুবিনা আক্তার}}
* {{বাউ|সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোনালী বসু}}
* {{বাউ|সোনিয়া নিশাত আমিন}}
* {{বাউ|সোমদত্তা সিনহা}}
* {{বাউ|সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোমনাথ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|সোমলতা আচার্য্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোমশুক্লা}}
* {{বাউ|সোমা চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোমেন চন্দ}}
* {{বাউ|সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোমেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|সোমেশচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|সোমেশ্বর অলি}}
* {{বাউ|সোমেশ্বরপ্রসাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোল্স}}
* {{বাউ|সোহরাব আলী সানা}}
* {{বাউ|সোহানুর রহমান সোহান}}
* {{বাউ|সোহিনী আলম}}
* {{বাউ|সোহিনী রায়}}
* {{বাউ|সোহেল রানা (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|সৌগত রায়}}
* {{বাউ|সৌদামিনী দেবী}}
* {{বাউ|সৌমিত্র শেখর দে}}
* {{বাউ|সৌমেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|সৌম্যদীপ মুর্শিদাবাদী}}
* {{বাউ|সৌরভ পাল}}
* {{বাউ|সৌরীন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|স্টেলা ক্রামরিশ}}
* {{বাউ|স্থবির দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|স্নেহময় দত্ত}}
* {{বাউ|স্নেহাংশুকান্ত আচার্য}}
* {{বাউ|স্নেহাসিক্তা স্বর্ণকার}}
* {{বাউ|স্বদেশ রায়}}
* {{বাউ|স্বপন কুমার পতি}}
* {{বাউ|স্বপন গুপ্ত}}
* {{বাউ|স্বপন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|স্বপনকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্বপ্নময় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্বপ্নীল সজীব}}
* {{বাউ|স্বরব্যাঞ্জো}}
* {{বাউ|স্বরোচিষ সরকার}}
* {{বাউ|স্বাধীন কুমার মন্ডল}}
* {{বাউ|স্বামী অসক্তানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী গম্ভীরানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী নিগমানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী নিরঞ্জনানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী প্রণবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী প্রভবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী বিরজানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী বোধানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী মাধবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী লোকেশ্বরানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী শিবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী সত্যানন্দ পুরী}}
* {{বাউ|স্বামী সমর্পণানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী সারদানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী স্বরূপানন্দ}}
* {{বাউ|স্মরণজিৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্যাভি গুপ্ত}}
* {{বাউ|স্যামসন এইচ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|হবিবুর রহমান}}
* {{বাউ|হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী}}
* {{বাউ|হযরত আলী (কৃষিতত্ত্ববিদ)}}
* {{বাউ|হরচন্দ্র ঘোষ (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|হরপ্রসাদ শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|হরলাল রায়}}
* {{বাউ|হরি কেশব সেন}}
* {{বাউ|হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিদাস পাল}}
* {{বাউ|হরিদাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ}}
* {{বাউ|হরিদেব}}
* {{বাউ|হরিনাথ দে}}
* {{বাউ|হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিপদ কাপালী}}
* {{বাউ|হরিপদ দত্ত}}
* {{বাউ|হরিশ চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|হরিশংকর জলদাস}}
* {{বাউ|হরিশংকর দাশ}}
* {{বাউ|হরিশঙ্কর বাসুদেবন}}
* {{বাউ|হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিসাধন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিহর শেঠ}}
* {{বাউ|হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরেকৃষ্ণ কোঙার}}
* {{বাউ|হরেন ঘটক}}
* {{বাউ|হরেন ঘোষ}}
* {{বাউ|হরেন্দ্র কুমার মুখার্জি}}
* {{বাউ|হরেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|হর্ষ দত্ত}}
* {{বাউ|হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন (চরিত্র)}}
* {{বাউ|হলধর পটল}}
* {{বাউ|হাকিম হাবিবুর রহমান}}
* {{বাউ|হাছন রাজা (হাসন রাজা)}}
* {{বাউ|হাজী মুহাম্মদ নছীম}}
* {{বাউ|হাজেরা মাহতাব}}
* {{বাউ|হাতেম আলী মিয়া}}
* {{বাউ|হানিফ পাঠান}}
* {{বাউ|হানিফউদ্দিন মিয়া}}
* {{বাউ|হাফিজা খাতুন}}
* {{বাউ|হাবিব ওয়াহিদ}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান (তোতা মিয়া)}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান আকন}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান খান}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান মিলন}}
* {{বাউ|হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|হাবীবুর রহমান (কবি)}}
* {{বাউ|হাবীবুল্লাহ সিরাজী}}
* {{বাউ|হামিদা বেগম}}
* {{বাউ|হামিদা হোসেন}}
* {{বাউ|হামিদুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|হামিদুজ্জামান সরকার}}
* {{বাউ|হামিদুর রহমান (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|হামিদুল হক খন্দকার}}
* {{বাউ|হামিদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|হামিন আহমেদ}}
* {{বাউ|হামিরুদ্দিন মিদ্যা}}
* {{বাউ|হামুদুর রহমান}}
* {{বাউ|হামেদুর রহমান}}
* {{বাউ|হায়দার আকবর খান রনো}}
* {{বাউ|হায়দার হোসেন}}
* {{বাউ|হায়াৎ সাইফ}}
* {{বাউ|হারুন আল রশিদ}}
* {{বাউ|হারুন হাবীব}}
* {{বাউ|হারুনর রশিদ}}
* {{বাউ|হালিমা খাতুন}}
* {{বাউ|হাশেম খান}}
* {{বাউ|হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ}}
* {{বাউ|হাসনা বেগম}}
* {{বাউ|হাসমত}}
* {{বাউ|হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|হাসান মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|হাসান মশহুদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হাসান মাসুদ}}
* {{বাউ|হাসান মাহমুদ খন্দকার}}
* {{বাউ|হাসান শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন}}
* {{বাউ|হাসান সিরাজ সুজা}}
* {{বাউ|হাসান সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|হাসান হাফিজ}}
* {{বাউ|হাসানউজ্জামান খান}}
* {{বাউ|হাসিনা খান}}
* {{বাউ|হাসিনা মমতাজ (কণ্ঠশিল্পী)}}
* {{বাউ|হাসিনা মুর্শেদ}}
* {{বাউ|হাসিবুন নাহার}}
* {{বাউ|হাসিবুর রেজা কল্লোল}}
* {{বাউ|হাসিবুল ইসলাম মিজান}}
* {{বাউ|হাসিরাশি দেবী}}
* {{বাউ|হিতেশরঞ্জন সান্যাল}}
* {{বাউ|হিমাংশু দত্ত}}
* {{বাউ|হিমানি বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হিমানীশ গোস্বামী}}
* {{বাউ|হিমু আকরাম}}
* {{বাউ|হিমেল আশরাফ}}
* {{বাউ|হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হিরন্ময় সেন গুপ্ত}}
* {{বাউ|হীরালাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|হীরালাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|হীরেন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হুকাকাশি}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবির}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবির (কবি)}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবীর বালু}}
* {{বাউ|হুমায়ূন কবীর ঢালী}}
* {{বাউ|হুমায়ূন কবীর সাধু}}
* {{বাউ|হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হুসনা আহমেদ}}
* {{বাউ|হুসনা বানু খানম}}
* {{বাউ|হৃদয় খান}}
* {{বাউ|হেনা দাস}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র বাগচী}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|হেমন্ত মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমন্তকুমার সরকার}}
* {{বাউ|হেমাঙ্গ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|হেরম্বচন্দ্র মৈত্র}}
* {{বাউ|হেলেনা খান}}
* {{বাউ|হৈমন্তী রক্ষিত}}
* {{বাউ|হৈমন্তী শুক্লা}}
* {{বাউ|হোসনে আরা (কবি)}}
* {{বাউ|হোসনে আরা বেগম (সমাজকর্মী)}}
* {{বাউ|হোসনে আরা শাহেদ}}
* {{বাউ|হোসেন উদ্দিন শেখর}}
* {{বাউ|হোসেন জিল্লুর রহমান}}
* {{বাউ|হোসেনউদ্দীন হোসেন}}
* {{বাউ|হ্যানা সেন}}
{{Div col end}}
== অনুবাদ ==
এটি একটি সহায়ক তালিকা মাত্র। ভূক্তি তৈরির জন্য [https://en.wikiquote.org ইংরেজি উইকিউক্তি] থেকে ন্যূনতম ৩টি ভুক্তি এবং ১৫০ শব্দ সংবলিত পাতা বাংলায় অনুবাদ করতে পারেন।
=== অবাঙালি ব্যক্তি ===
{{Div col|colwidth=20em|rules=yes}}
* {{eq|A. C. Benson|এ. সি. বেনসন}}
* {{eq|A. C. Bradley|এ. সি. ব্র্যাডলি}}
* {{eq|A. J. P. Taylor|এ. জে. পি. টেলর}}
* {{eq|Abdulrazak Gurnah|আবদুলরাজাক গুরনাহ}}
* {{eq|Abdus Salam|আবদুস সালাম}}
* {{eq|Abhijit Naskar|অভিজিৎ নস্কর}}
* {{eq|Abiy Ahmed|আবি আহমেদ}}
* {{eq|Abraham Pais|আব্রাহাম পাইস}}
* {{eq|Adam Riess|অ্যাডাম রিস}}
* {{eq|Ahmed Zewail|আহমেদ জেওয়াইল}}
* {{eq|Al Gore|আল গোর}}
* {{eq|Al-Biruni|আল-বিরুনি}}
* {{eq|Al-Farabi|আল-ফারাবি}}
* {{eq|Al-Jahiz|আল-জাহিয}}
* {{eq|Alain Aspect|আলাঁ আস্পে}}
* {{eq|Alain de Botton|আলাঁ দ্য বতোঁ}}
* {{eq|Alan Guth|অ্যালান গুথ}}
* {{eq|Alan Kay|অ্যালান কে}}
* {{eq|Alan Perlis|অ্যালান পারলিস}}
* {{eq|Albert Hofmann|আলবার্ট হফমান}}
* {{eq|Albert I of Belgium|প্রথম আলবার্ট (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Albert Schweitzer|আলবার্ট সোয়াইৎজার}}
* {{eq|Albertus Magnus|আলবার্টাস ম্যাগনাস}}
* {{eq|Aldo Leopold|অ্যাল্ডো লিওপোল্ড}}
* {{eq|Aleksandr Solzhenitsyn|আলেকসান্দ্র্ সলজেনিৎসিন}}
* {{eq|Alex Haley|অ্যালেক্স হেইলি}}
* {{eq|Alexander Fleming|আলেকজান্ডার ফ্লেমিং}}
* {{eq|Alexander Grothendieck|আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক}}
* {{eq|Alexander von Humboldt|আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট}}
* {{eq|Alfred Aho|আলফ্রেড আহো}}
* {{eq|Alfred Kinsey|আলফ্রেড কিনসে}}
* {{eq|Alfred Marshall|আলফ্রেড মার্শাল}}
* {{eq|Alfred Nobel|আলফ্রেড নোবেল}}
* {{eq|Alfred North Whitehead|আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেড}}
* {{eq|Alfred Russel Wallace|আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস}}
* {{eq|Alice Munro|অ্যালিস মানরো}}
* {{eq|Amina J. Mohammed|আমিনা জে. মোহাম্মদ}}
* {{eq|Amit Goswami|অমিত গোস্বামী}}
* {{eq|Amos Tversky|আমোস তভারস্কি}}
* {{eq|Anaxagoras|আনাক্সাগোরাস}}
* {{eq|Anaximander|অ্যানাক্সিম্যান্ডার}}
* {{eq|Andreas Vesalius|আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াস}}
* {{eq|Andrei Sakharov|আন্দ্রেই সাখারভ}}
* {{eq|Andrew Wiles|অ্যান্ড্রু ওয়াইলস}}
* {{eq|André Gide|অঁদ্রে জিদ}}
* {{eq|André-Marie Ampère|অঁদ্রে-মারি অম্পেয়্যার}}
* {{eq|Angela Merkel|আঙ্গেলা ম্যার্কেল}}
* {{eq|Anita Brookner|অনিতা ব্রুকনার}}
* {{eq|Anita Desai|অনিতা দেসাই}}
* {{eq|Anne Applebaum|অ্যান অ্যাপলবাউম}}
* {{eq|Annie Ernaux|আনি এরনো}}
* {{eq|Antoine Lavoisier|অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে}}
* {{eq|Aravind Adiga|অরবিন্দ আদিগা}}
* {{eq|Arthur Balfour|আর্থার বেলফোর}}
* {{eq|Arthur Eddington|আর্থার এডিংটন}}
* {{eq|Arthur Kornberg|আর্থার কর্নবার্গ}}
* {{eq|Arthur Leonard Schawlow|আর্থার লিওনার্ড শলো}}
* {{eq|Ash Carter|অ্যাশ কার্টার}}
* {{eq|Atle Selberg|আটলে সেলবার্গ}}
* {{eq|Audrey Hepburn|অড্রে হেপবার্ন}}
* {{eq|August Kekulé|ফ্রিডরিখ আউগুস্ট কেকুলে}}
* {{eq|Augustin Louis Cauchy|ওগ্যুস্তাঁ লুই কোশি}}
* {{eq|Augustin-Jean Fresnel|ওগ্যুস্তাঁ-জঁ ফ্রেনেল}}
* {{eq|Aurel Stein|অরেল স্টেইন}}
* {{eq|Ban Ki-moon|বান কি-মুন}}
* {{eq|Baruch Samuel Blumberg|বারুক স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ}}
* {{eq|Beatrix Potter|বিয়াট্রিক্স পটার}}
* {{eq|Ben Okri|বেন ওক্রি}}
* {{eq|Bernardine Evaristo|বার্নার্ডিন এভারিস্তো}}
* {{eq|Blaise Pascal|ব্লেজ পাসকাল}}
* {{eq|Bob Dylan|বব ডিলান}}
* {{eq|Boris Pasternak|বরিস পাস্তেরনাক}}
* {{eq|Boutros Boutros-Ghali|বুত্রোস বুত্রোস-ঘালি}}
* {{eq|Brian Cox (physicist)|ব্রায়ান কক্স (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{eq|Brian Greene|ব্রায়ান গ্রিন}}
* {{eq|Brian Schmidt|ব্রায়ান পি. শ্মিট}}
* {{eq|Brook Taylor|ব্রুক টেলর}}
* {{eq|Brussels|ব্রাসেলস}}
* {{eq|C. A. R. Hoare|সি. এ. আর. হোর}}
* {{eq|C. N. Ramachandra Rao|সি. এন. রামচন্দ্র রাও}}
* {{eq|C. V. Raman|চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন}}
* {{eq|Carl Bernstein|কার্ল বার্নস্টিন}}
* {{eq|Carl Linnaeus|কার্ল লিনিয়াস}}
* {{eq|Carlo Rubbia|কার্লো রুবিয়া}}
* {{eq|Carolyn Bertozzi|ক্যারোলিন বার্তোজি}}
* {{eq|Caryl Phillips|ক্যারিল ফিলিপস}}
* {{eq|Chaim Weizmann|হাইম ভাইৎসমান}}
* {{eq|Charles Fefferman|চার্লস ফেফারম্যান}}
* {{eq|Charles Hard Townes|চার্লস হার্ড টাউনস}}
* {{eq|Charles Lyell|চার্লস লিয়েল}}
* {{eq|Charles Sanders Peirce|চার্লস স্যান্ডার্স পার্স}}
* {{eq|Charles Scott Sherrington|চার্লস স্কট শেরিংটন}}
* {{eq|Cheikh Anta Diop|শেখ আন্তা দিওপ}}
* {{eq|Chinua Achebe|চিনুয়া আচেবে}}
* {{eq|Christiaan Barnard|ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড}}
* {{eq|Christiaan Huygens|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস}}
* {{eq|Christopher Wren|ক্রিস্টোফার রেন}}
* {{eq|Claude Lévi-Strauss|ক্লোদ লেভি-স্ত্রোস}}
* {{eq|Claudia Sheinbaum|ক্লাউদিয়া শেইনবাউম}}
* {{eq|Colson Whitehead|কলসন হোয়াইটহেড}}
* {{eq|Craig Venter|ক্রেইগ ভেন্টর}}
* {{eq|Czesław Miłosz|চেসোয়াফ মিওশ}}
* {{eq|Cédric Villani|সেড্রিক ভিলানি}}
* {{eq|Dag Hammarskjöld|দ্যাগ হ্যামারশোল্ড}}
* {{eq|Damon Galgut|ড্যামন গ্যালগুট}}
* {{eq|Daniel Kahneman|ড্যানিয়েল কানেমান}}
* {{eq|Dave Barry|ডেভ ব্যারি}}
* {{eq|David Bohm|ডেভিড বম}}
* {{eq|David Brewster|ডেভিড ব্রুস্টার}}
* {{eq|David Chalmers|ডেভিড চালমারস}}
* {{eq|David Gross|ডেভিড জোনাথন গ্রোস}}
* {{eq|David Grossman|ডেভিড গ্রসম্যান}}
* {{eq|David Hilbert|ডাভিড হিলবের্ট}}
* {{eq|David Mamet|ডেভিড ম্যামেট}}
* {{eq|David McCullough|ডেভিড ম্যাককালাফ}}
* {{eq|David Suzuki|ডেভিড সুজুকি}}
* {{eq|Dennis Ritchie|ডেনিস রিচি}}
* {{eq|Desmond Morris|ডেসমন্ড মরিস}}
* {{eq|Desmond Tutu|ডেসমন্ড টুটু}}
* {{eq|Dian Fossey|ডায়ান ফসি}}
* {{eq|Dmitri Mendeleev|দিমিত্রি মেন্ডেলিভ}}
* {{eq|Dmitry Muratov|দিমিত্রি মুরাতভ}}
* {{eq|Donald Knuth|ডোনাল্ড কানুথ}}
* {{eq|Donald Tusk|ডোনাল্ড টাস্ক}}
* {{eq|Donna Strickland|ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড}}
* {{eq|Doris Lessing|ডরিস লেসিং}}
* {{eq|Dorothy Hodgkin|ডরোথি হজকিন}}
* {{eq|Douglas Engelbart|ডগলাস এঙ্গেলবার্ট}}
* {{eq|E. O. Wilson|ই. ও. উইলসন}}
* {{eq|Edith Wharton|ইডিথ হোয়ার্টন}}
* {{eq|Edmond Halley|এডমন্ড হ্যালি}}
* {{eq|Edsger W. Dijkstra|এডসগার ডাইকস্ট্রা}}
* {{eq|Edward Teller|এডওয়ার্ড টেলার}}
* {{eq|Edward Witten|এডওয়ার্ড উইটেন}}
* {{eq|Elias James Corey|ইলিয়াস জেমস কোরি}}
* {{eq|Elie Wiesel|এলি উইজেল}}
* {{eq|Elinor Ostrom|এলিনর অস্ট্রম}}
* {{eq|Elizabeth Bishop|এলিজাবেথ বিশপ}}
* {{eq|Ellen Johnson Sirleaf|এলেন জনসন সারলিফ}}
* {{eq|Emanuel Swedenborg|এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ}}
* {{eq|Emmy Noether|এমি নোয়েদার}}
* {{eq|Empedocles|এম্পেদোক্লেস}}
* {{eq|Enrico Fermi|এনরিকো ফের্মি}}
* {{eq|Epicurus|এপিকুরোস}}
* {{eq|Eric Hobsbawm|এরিক হবসবাউম}}
* {{eq|Eric Kandel|এরিক ক্যান্ডেল}}
* {{eq|Ernest Hemingway|আর্নেস্ট হেমিংওয়ে}}
* {{eq|Ernest Rutherford|আর্নেস্ট রাদারফোর্ড}}
* {{eq|Ernst Haeckel|এর্নস্ট হেকেল}}
* {{eq|Ernst Mach|এর্নস্ট মাখ}}
* {{eq|Ernst Mayr|এর্নস্ট মায়ার}}
* {{eq|Eugene O'Neill|ইউজিন ও'নিল}}
* {{eq|Eugene Wigner|ইউজিন পল উইগনার}}
* {{eq|European Parliament|ইউরোপীয় পার্লামেন্ট}}
* {{eq|European Union|ইউরোপীয় ইউনিয়ন}}
* {{eq|Evangelista Torricelli|ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি}}
* {{eq|F. W. de Klerk|এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ক}}
* {{eq|Fabiola Gianotti|ফাবিওলা জানোত্তি}}
* {{eq|Fakhr al-Din al-Razi|ফখরুদ্দীন আল-রাযী}}
* {{eq|Federico Faggin|ফেদেরিকো ফাগিন}}
* {{eq|Felix Bloch|ফেলিক্স ব্লখ}}
* {{eq|Flinders Petrie|ফ্লিন্ডার্স পেট্রি}}
* {{eq|Francis Collins|ফ্রান্সিস কলিন্স}}
* {{eq|Francis Crick|ফ্রান্সিস ক্রিক}}
* {{eq|Francis Galton|ফ্রান্সিস গ্যাল্টন}}
* {{eq|Francisco Varela|ফ্রান্সিস্কো ভারেলা}}
* {{eq|Frank Macfarlane Burnet|ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকফারলেন বার্নেট}}
* {{eq|Frank Wilczek|ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক}}
* {{eq|François Arago|ফ্রঁসোয়া আরাগন}}
* {{eq|François Englert|ফ্রঁসোয়া অংল্যার}}
* {{eq|François Mauriac|ফ্রঁসোয়া মরিয়াক}}
* {{eq|François Mitterrand|ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ}}
* {{eq|Fred Brooks|ফ্রেড ব্রুকস}}
* {{eq|Frederick Jackson Turner|ফ্রেডরিক জ্যাকসন টার্নার}}
* {{eq|Frederick Soddy|ফ্রেডরিক সডি}}
* {{eq|Fridtjof Nansen|ফ্রিডতিয়ফ নানসেন}}
* {{eq|Friedrich Hayek|ফ্রিডরিখ ফন হায়েক}}
* {{eq|Fritjof Capra|ফ্রিটজফ কাপরা}}
* {{eq|G. H. Hardy|জি. এইচ. হার্ডি}}
* {{eq|Gabriela Mistral|গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল}}
* {{eq|Gao Xingjian|কাও শিংচিয়েন}}
* {{eq|Gary Becker|গ্যারি বেকার}}
* {{eq|Geert Wilders|খের্ট ভিল্ডার্স}}
* {{eq|Geoffrey Hinton|জিওফ্রে হিন্টন}}
* {{eq|George Boole|জর্জ বুল}}
* {{eq|George Curzon, 1st Marquess Curzon of Kedleston|জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন}}
* {{eq|George Gamow|জর্জ গ্যামো}}
* {{eq|George Smoot|জর্জ স্মুট}}
* {{eq|George Steiner|জর্জ স্টাইনার}}
* {{eq|George Stigler|জর্জ স্টিগলার}}
* {{eq|George Washington Carver|জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার}}
* {{eq|Georges Cuvier|জর্জ ক্যুভিয়ে}}
* {{eq|Georges-Louis Leclerc, Comte de Buffon|জর্জ-লুই ল্যক্লের, কোঁত দ্য বুফোঁ}}
* {{eq|Gerald Durrell|জেরাল্ড ডারেল}}
* {{eq|Gerhard Schröder|গেরহার্ড শ্রোডার}}
* {{eq|Gertrude B. Elion|গারট্রুড বি. এলিয়ন}}
* {{eq|Giorgio Parisi|জর্জিও পারিসি}}
* {{eq|Giorgos Seferis|ইয়োর্গোস সেফেরিস}}
* {{eq|Giosuè Carducci|জোযুয়ে কার্দুচ্চি}}
* {{eq|Glenn T. Seaborg|গ্লেন থিওডোর সিবর্গ}}
* {{eq|Goodluck Jonathan|গুডলাক জোনাথন}}
* {{eq|Gordon Moore|গর্ডন মুর}}
* {{eq|Gottfried Leibniz|গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস}}
* {{eq|Gregor Mendel|গ্রেগর মেন্ডেল}}
* {{eq|Grigori Perelman|গ্রিগরি পেরেলমান}}
* {{eq|Gro Harlem Brundtland|গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড}}
* {{eq|Gustav Kirchhoff|গুস্টাফ কির্খফ}}
* {{eq|Gustav Stresemann|গুস্টাভ ষ্ট্রেজেমান}}
* {{eq|Gérard Debreu|জেরার দ্যব্রু}}
* {{eq|Göran Persson|গোরান পারসন}}
* {{eq|H. H. Asquith|এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ}}
* {{eq|Halldór Laxness|হালডোর ল্যাক্সনেস}}
* {{eq|Han Kang|হান কাং}}
* {{eq|Hans Bethe|হ্যান্স বেটে}}
* {{eq|Hans Blix|হ্যান্স ব্লিক্স}}
* {{eq|Harish-Chandra|হরিশ-চন্দ্র}}
* {{eq|Harold Macmillan|হ্যারল্ড ম্যাকমিলান}}
* {{eq|Harold Pinter|হ্যারল্ড পিন্টার}}
* {{eq|Harper Lee|হার্পার লি}}
* {{eq|Harry Markowitz|হ্যারি মার্কোউইটজ}}
* {{eq|Heinrich Böll|হাইনরিখ বোল}}
* {{eq|Heinrich Hertz|হাইনরিখ হের্ত্স}}
* {{eq|Heinrich Rohrer|হাইনরিখ রোরার}}
* {{eq|Helen Clark|হেলেন ক্লার্ক}}
* {{eq|Helmut Kohl|হেলমুট কোল}}
* {{eq|Hendrik Lorentz|হেন্ড্রিক আন্টোন লোরেন্ৎস}}
* {{eq|Henri Bergson|অঁরি বের্গসন}}
* {{eq|Henri Poincaré|অঁরি পোয়াঁকারে}}
* {{eq|Henry Cavendish|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ}}
* {{eq|Henry Dunant|অঁরি দ্যুনঁ}}
* {{eq|Henryk Sienkiewicz|হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ}}
* {{eq|Heraclitus|হেরাক্লিটাস}}
* {{eq|Herbert A. Simon|হার্বার্ট এ. সাইমন}}
* {{eq|Herbert Kroemer|হার্বার্ট ক্রোয়েমার}}
* {{eq|Herbert Spencer|হার্বার্ট স্পেন্সার}}
* {{eq|Hermann Hesse|হেরমান হেস}}
* {{eq|Hermann Weyl|হেরমান ভাইল}}
* {{eq|Hermann von Helmholtz|হারমান ফন হেল্মহোল্ৎস}}
* {{eq|Herta Müller|হের্টা ম্যুলার}}
* {{eq|Hideki Yukawa|হিদেকি ইউকাওয়া}}
* {{eq|Hirohito|হিরোহিতো}}
* {{eq|Howard H. Aiken|হাওয়ার্ড আইকেন}}
* {{eq|Hugh Everett|হিউ এভারেট}}
* {{eq|Hugo De Vries|হুগো দ্য ভ্রিস}}
* {{eq|Humphry Davy|হামফ্রি ডেভি}}
* {{eq|Ian Kershaw|ইয়ান কার্শ}}
* {{eq|Ian McEwan|ইয়ান ম্যাকইউয়ান}}
* {{eq|Ian Wilmut|ইয়ান উইলমুট}}
* {{eq|Igor Kurchatov|ইগর কুরচাতভ}}
* {{eq|Imre Kertész|ইমরে কার্তেজ}}
* {{eq|Ingrid Daubechies|ইনগ্রিড ডোবিচি}}
* {{eq|Irina Bokova|ইরিনা বোকোভা}}
* {{eq|Iris Murdoch|আইরিস মারডক}}
* {{eq|Irving Langmuir|আরভিং ল্যাংমুয়ির}}
* {{eq|Isaac Bashevis Singer|আইজ্যাক বাশেভিস সিঙ্গার}}
* {{eq|Isidor Isaac Rabi|ইসিদোর আইজ্যাক রাবি}}
* {{eq|Ivan Pavlov|ইভান পাভলভ}}
* {{eq|Ivo Andrić|ইভো আন্দ্রিক}}
* {{eq|J. B. S. Haldane|জে. বি. এস. হ্যালডেন}}
* {{eq|J. J. Thomson|জে. জে. থমসন}}
* {{eq|J. M. Coetzee|জে. এম. কোয়েটজি}}
* {{eq|Jack Steinberger|জ্যাক স্টেইনবার্গার}}
* {{eq|Jacobus Henricus van 't Hoff|ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ}}
* {{eq|Jacques Chirac|জাক শিরাক}}
* {{eq|Jacques-Yves Cousteau|জাক-ইভ কুস্তো}}
* {{eq|James Callaghan|জেমস ক্যালাহান}}
* {{eq|James Chadwick|জেমস চ্যাডউইক}}
* {{eq|James Cook|জেমস কুক}}
* {{eq|James Mirrlees|জেমস মিরলিস}}
* {{eq|James Prescott Joule|জেমস প্রেসকট জুল}}
* {{eq|James Prinsep|জেমস প্রিন্সেপ}}
* {{eq|James Tobin|জেমস টোবিন}}
* {{eq|James Van Allen|জেমস ভ্যান অ্যালেন}}
* {{eq|James Watt|জেমস ওয়াট}}
* {{eq|Jane Addams|জেন অ্যাডামস}}
* {{eq|Jane Goodall|জেন গুডাল}}
* {{eq|Jared Diamond|জ্যারেড ডায়মন্ড}}
* {{eq|Jayant Narlikar|জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর}}
* {{eq|Jean le Rond d'Alembert|জঁ ল্য রোঁ দালঁবের}}
* {{eq|Jean-Baptiste Lamarck|জঁ-বাতিস্ত লামার্ক}}
* {{eq|Jean-Marie Le Pen|জঁ-মারি ল্য পেন}}
* {{eq|Jean-Pierre Serre|জঁ-পিয়ের সের}}
* {{eq|Jerome Isaac Friedman|জেরোম আইজ্যাক ফ্রিডম্যান}}
* {{eq|Jhumpa Lahiri|ঝুম্পা লাহিড়ী}}
* {{eq|Jocelyn Bell Burnell|জসিলিন বেল বার্নেল}}
* {{eq|John Archibald Wheeler|জন আর্চিবল্ড হুইলার}}
* {{eq|John Backus|জন ব্যাকাস}}
* {{eq|John Banville|জন ব্যানভিল}}
* {{eq|John Bardeen|জন বারডিন}}
* {{eq|John C. Mather|জন সি. মাদার}}
* {{eq|John Desmond Bernal|জে. ডি. বার্নাল}}
* {{eq|John Forbes Nash, Jr.|জন ফোর্বস ন্যাশ}}
* {{eq|John Galsworthy|জন গলসওয়ার্দি}}
* {{eq|John Gurdon|জন গার্ডন}}
* {{eq|John Hicks|জন হিক্স}}
* {{eq|John Hopfield|জন হোপফিল্ড}}
* {{eq|John James Audubon|জন জেমস অডুবন}}
* {{eq|John Major|জন মেজর}}
* {{eq|John Maynard Keynes|জন মেইনার্ড কেইনস}}
* {{eq|John Maynard Smith|জন মেইনার্ড স্মিথ}}
* {{eq|John McCarthy (computer scientist)|জন ম্যাককার্থি (কম্পিউটার বিজ্ঞানী)}}
* {{eq|John Muir|জন মুয়ির}}
* {{eq|John Napier|জন নেপিয়ার}}
* {{eq|John Polanyi|জন চার্লস পোলানি}}
* {{eq|John Ray|জন রে}}
* {{eq|John Stewart Bell|জন স্টুয়ার্ট বেল}}
* {{eq|John Tyndall|জন টিন্ডাল}}
* {{eq|John von Neumann|জন ফন নিউম্যান}}
* {{eq|Jon Fosse|ইয়োন ফসে}}
* {{eq|Jonas Salk|জোনাস সল্ক}}
* {{eq|Josef Mengele|ইয়োসেফ মেংগেলে}}
* {{eq|Joseph Fourier|জোসেফ ফুরিয়ে}}
* {{eq|Joseph Priestley|জোসেফ প্রিস্টলি}}
* {{eq|Joseph Stiglitz|জোসেফ স্টিগলিটজ}}
* {{eq|Joseph von Fraunhofer|ইয়োসেফ ফন ফ্রাউনহোফার}}
* {{eq|Joshua Lederberg|জশুয়া লেডারবার্গ}}
* {{eq|Josiah Willard Gibbs|জোসিয়াহ উইলার্ড গিবস}}
* {{eq|José María Aznar|হোসে মারিয়া আজনার}}
* {{eq|José Saramago|হোসে সারামাগো}}
* {{eq|Juan Maldacena|হুয়ান মালদাসেনা}}
* {{eq|Juan Ramón Jiménez|হুয়ান রামোন হিমেনেজ}}
* {{eq|Judea Pearl|জুডেয়া পার্ল}}
* {{eq|Julian Schwinger|জুলিয়ান শুইঙার}}
* {{eq|Julio Cortázar|হুলিও কোর্তাজার}}
* {{eq|Julius Robert von Mayer|জুলিয়াস রবার্ট ফন মেয়ার}}
* {{eq|Junot Díaz|জুনো দিয়াজ}}
* {{eq|Justus von Liebig|ইয়োস্টুস ফন লিবিগ}}
* {{eq|Jöns Jacob Berzelius|ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস}}
* {{eq|Kaja Kallas|কায়া কাল্লাস}}
* {{eq|Kamila Shamsie|কামিলা শামসি}}
* {{eq|Karen Uhlenbeck|কারেন উলেনবেক}}
* {{eq|Karl Barry Sharpless|কার্ল ব্যারি শার্পলেস}}
* {{eq|Kary Mullis|ক্যারি মুলিস}}
* {{eq|Katalin Karikó|কাতালিন কারিকো}}
* {{eq|Kazuo Ishiguro|কাজুও ইশিগুরো}}
* {{eq|Kaṇāda|কণাদ্}}
* {{eq|Ken Thompson|কেন টম্পসন}}
* {{eq|Kendrick Lamar|কেন্ড্রিক লামার}}
* {{eq|Kenneth Arrow|কেনেথ অ্যারো}}
* {{eq|Kenzaburō Ōe|কেন্জাবুরো ওহয়ে}}
* {{eq|Kiran Desai|কিরণ দেশাই}}
* {{eq|Kiran Mazumdar-Shaw|কিরণ মজুমদার-শ}}
* {{eq|Knut Hamsun|ক্যনুট হামসুন}}
* {{eq|Koichi Tanaka|কোইচি তানাকা}}
* {{eq|Korean War|কোরীয় যুদ্ধ}}
* {{eq|Lars Peter Hansen|লারস পিটার হ্যান্সেন}}
* {{eq|Laurent Schwartz|লোরঁ শোয়ার্তজ}}
* {{eq|Leon Cooper|লিয়ন কুপার}}
* {{eq|Leon M. Lederman|লিয়ন ম্যাক্স লেডারম্যান}}
* {{eq|Leonard Susskind|লিওনার্ড সাসকিন্ড}}
* {{eq|Leonhard Euler|লিওনার্ড ইউলার}}
* {{eq|Leonid Kantorovich|লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ}}
* {{eq|Leopold II of Belgium|দ্বিতীয় লেওপোল্ড (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Leopold III of Belgium|তৃতীয় লেওপোল্ড (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Leslie Lamport|লেসলি ল্যামপোর্ট}}
* {{eq|Lev Landau|ল্যেভ লান্দাউ}}
* {{eq|Leymah Gbowee|লেমাহ গবোউই}}
* {{eq|Leó Szilárd|লিও জিলার্দ}}
* {{eq|Linus Pauling|লিনাস পাউলিং}}
* {{eq|Lionel Robbins|লিওনেল রবিন্স}}
* {{eq|Lisa Randall|লিসা রান্ডাল}}
* {{eq|Louis Agassiz|লুই আগাসিজ}}
* {{eq|Louis de Broglie|লুই দ্য ব্রোয়ি}}
* {{eq|Louise Glück|লুইজ গ্লিক}}
* {{eq|Ludwig Boltzmann|লুডভিগ বোলৎসমান}}
* {{eq|Ludwik Fleck|লুডউইক ফ্লেক}}
* {{eq|Luigi Pirandello|লুইজি পিরানদেল্লো}}
* {{eq|Lynn Margulis|লিন মার্গুলিস}}
* {{eq|Léon Foucault|লেয়োঁ ফুকো}}
* {{eq|M. S. Swaminathan|এম. এস. স্বামীনাথন}}
* {{eq|Malala Yousafzai|মালালা ইউসুফজাই}}
* {{eq|Margaret Atwood|মার্গারেট অ্যাটউড}}
* {{eq|Margaret Chan|মার্গারেট চ্যান}}
* {{eq|Marguerite Yourcenar|মার্গ্যুরিত ইয়ুর্সনার}}
* {{eq|Marie Stopes|মেরি স্টোপস}}
* {{eq|Marine Le Pen|মারিন ল্য পেন}}
* {{eq|Mario Vargas Llosa|মারিও বার্গাস ইয়োসা}}
* {{eq|Mark Oliphant|মার্ক ওলিফ্যান্ট}}
* {{eq|Martin Amis|মার্টিন এমিস}}
* {{eq|Martin Lewis Perl|মার্টিন লুইস পার্ল}}
* {{eq|Martin Rees|মার্টিন রিস}}
* {{eq|Martin Ryle|মার্টিন রাইল}}
* {{eq|Martinus J. G. Veltman|মার্টিনুস ভেল্টম্যান}}
* {{eq|Martti Ahtisaari|মার্টি আহতিসারি}}
* {{eq|Marvin Minsky|মার্ভিন মিনস্কি}}
* {{eq|Mary Beard (classicist)|মেরি বিয়ার্ড (ক্ল্যাসিসিস্ট)}}
* {{eq|Mary Robinson|মেরি রবিনসন}}
* {{eq|Max Born|মাক্স বর্ন}}
* {{eq|Max Delbrück|মাক্স ডেলব্রুক}}
* {{eq|Max Perutz|ম্যাক্স ফার্দিনান্দ পেরুতজ}}
* {{eq|Max von Laue|মাক্স ফন লাউয়ে}}
* {{eq|Menachem Begin|মেনাখেম বেগিন}}
* {{eq|Merton Miller|মার্টন মিলার}}
* {{eq|Michael Atiyah|মাইকেল আতিয়াহ}}
* {{eq|Michael Faraday|মাইকেল ফ্যারাডে}}
* {{eq|Michael Gove|মাইকেল গোভ}}
* {{eq|Michio Kaku|মিচিও কাকু}}
* {{eq|Mikhail Sholokhov|মিখাইল শলোখভ}}
* {{eq|Mo Yan|মো ইয়ান}}
* {{eq|Mohammad Javad Zarif|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}
* {{eq|Murray Gell-Mann|মারে গেল-মান}}
* {{eq|Nadine Gordimer|নাডিন গর্ডিমার}}
* {{eq|Naguib Mahfouz|নাগিব মাহফুজ}}
* {{eq|Narges Mohammadi|নার্গেস মোহাম্মদী}}
* {{eq|Nevill Francis Mott|নেভিল ফ্রান্সিস মট}}
* {{eq|Nicolas Léonard Sadi Carnot|সাদি কার্নো}}
* {{eq|Nicolas Steno|নিকোলাস স্টেনো}}
* {{eq|Nigel Farage|নাইজেল ফারাজ}}
* {{eq|Niklaus Wirth|নিকলাউস ভির্ট}}
* {{eq|Norman Borlaug|নরম্যান বোরল্যাগ}}
* {{eq|Norman Mailer|নরম্যান মেইলার}}
* {{eq|Octavio Paz|অক্তাবিও পাজ}}
* {{eq|Olga Tokarczuk|ওলগা তোকারচুক}}
* {{eq|Oliver Heaviside|অলিভার হেভিসাইড}}
* {{eq|Oliver Sacks|অলিভার স্যাক্স}}
* {{eq|Orhan Pamuk|ওরহান পামুক}}
* {{eq|Oswald Avery|অসওয়াল্ড এভারি}}
* {{eq|Otto Stern|অটো ষ্টের্ন}}
* {{eq|Paris Agreement|প্যারিস চুক্তি}}
* {{eq|Patrick White|প্যাট্রিক হোয়াইট}}
* {{eq|Paul Dirac|পল ডিরাক}}
* {{eq|Paul Ehrenfest|পাউল এরেনফেস্ট}}
* {{eq|Paul R. Ehrlich|পল আর. এহর্লিচ}}
* {{eq|Paul Samuelson|পল স্যামুয়েলসন}}
* {{eq|Pearl S. Buck|পার্ল এস. বাক}}
* {{eq|Peter Agre|পিটার আগ্রি}}
* {{eq|Peter Higgs|পিটার হিগস}}
* {{eq|Peter Kropotkin|পেত্র ক্রাপোতকিন}}
* {{eq|Peter Medawar|পিটার মিডাওয়ার}}
* {{eq|Philip Roth|ফিলিপ রথ}}
* {{eq|Philip Warren Anderson|ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন}}
* {{eq|Philippe of Belgium|ফিলিপ (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Pierre Curie|পিয়ের ক্যুরি}}
* {{eq|Pierre Deligne|পিয়ের দ্যলিইন}}
* {{eq|Pierre-Gilles de Gennes|পিয়ের-জিল দ্য জেন}}
* {{eq|Pierre-Simon Laplace|পিয়ের সিমোঁ লাপ্লাস}}
* {{eq|Pliny the Elder|প্লিনি দ্য এল্ডার}}
* {{eq|Prasanta Chandra Mahalanobis|প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ}}
* {{eq|Primo Levi|প্রিমো লেভি}}
* {{eq|Qian Xuesen|ছিয়েন শ্যুয়েসন}}
* {{eq|Quakers|কোয়েকার}}
* {{eq|Rachel Carson|র্যাচেল কারসন}}
* {{eq|Ragnar Frisch|রাগ্নার ফ্রিশ}}
* {{eq|Rajendra K. Pachauri|রাজেন্দ্র কুমার পাচৌরী}}
* {{eq|Ralph Bunche|রালফ বান্চ}}
* {{eq|Ramsay MacDonald|রামসে ম্যাকডোনাল্ড}}
* {{eq|Reinhard Selten|রেইনহার্ড সেল্টেন}}
* {{eq|Richard Hamming|রিচার্ড হ্যামিং}}
* {{eq|Richard Leakey|রিচার্ড লিকি}}
* {{eq|Richard Smalley|রিচার্ড স্মলি}}
* {{eq|Rigoberta Menchú|রিগোবার্তা মেঞ্চু}}
* {{eq|Ringo Starr|রিঙ্গো স্টার}}
* {{eq|Robert Andrews Millikan|রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান}}
* {{eq|Robert Boyle|রবার্ট বয়েল}}
* {{eq|Robert Clive|রবার্ট ক্লাইভ}}
* {{eq|Robert Fogel|রবার্ট ফোগেল}}
* {{eq|Robert Hooke|রবার্ট হুক}}
* {{eq|Robert J. Shiller|রবার্ট জে. শিলার}}
* {{eq|Robert Lucas Jr.|রবার্ট লুকাস, জুনিয়র}}
* {{eq|Robert Mundell|রবার্ট মান্ডেল}}
* {{eq|Robert Penn Warren|রবার্ট পেন ওয়ারেন}}
* {{eq|Roger Ebert|রজার ইবার্ট}}
* {{eq|Roger Wolcott Sperry|রজার স্পেরি}}
* {{eq|Romain Rolland|রোম্যাঁ রোলাঁ}}
* {{eq|Ronald Fisher|রোনাল্ড ফিশার}}
* {{eq|Rosalyn Sussman Yalow|রোজালিন সাসম্যান ইয়ালো}}
* {{eq|Rudolf Clausius|রুডলফ ক্লাউজিউস}}
* {{eq|Rudolf Virchow|রুডলফ ফিরখো}}
* {{eq|Sally Ride|স্যালি রাইড}}
* {{eq|Sam Harris|স্যাম হ্যারিস}}
* {{eq|Samuel Beckett|স্যামুয়েল বেকেট}}
* {{eq|Samuel Pepys|স্যামুয়েল পেপিস}}
* {{eq|Santiago Ramón y Cajal|সান্তিয়াগো রামোন ই কাহাল}}
* {{eq|Saul Bellow|সল বেলো}}
* {{eq|Saul Perlmutter|সল পার্লমাটার}}
* {{eq|Selman Waksman|সেলম্যান ওয়াক্সম্যান}}
* {{eq|Sergei Korolev|সের্গেই কোরোলিয়ভ}}
* {{eq|Seymour Hersh|সেমুর হার্শ}}
* {{eq|Shashi Tharoor|শশী থারুর}}
* {{eq|Sheldon Lee Glashow|শেলডন লি গ্ল্যাশো}}
* {{eq|Shiing-Shen Chern|শিং-শেন চের্ন}}
* {{eq|Shirin Ebadi|শিরিন এবাদি}}
* {{eq|Shmuel Yosef Agnon|শ্মুয়েল ইউসেফ অ্যাগনন}}
* {{eq|Simon Kuznets|সাইমন কুজ্নেত্স}}
* {{eq|Simon Stevin|সিমন স্টেভিন}}
* {{eq|Siméon Denis Poisson|সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ}}
* {{eq|Sinclair Lewis|সিনক্লেয়ার লুইস}}
* {{eq|Stafford Cripps|স্টাফোর্ড ক্রিপস}}
* {{eq|Stamford Raffles|স্ট্যামফোর্ড র্যাফেল্স}}
* {{eq|Stanislaw Ulam|স্তানিসলফ উলাম}}
* {{eq|Stanley Baldwin|স্ট্যানলি বল্ডউইন}}
* {{eq|Stephen Jay Gould|স্টিভেন জে গুল্ড}}
* {{eq|Stephen Wolfram|স্টিফেন ওলফ্রাম}}
* {{eq|Steve Irwin|স্টিভ আরউইন}}
* {{eq|Steven Chu|স্টিভেন চু}}
* {{eq|Steven Weinberg|স্টিভেন ওয়াইনবার্গ}}
* {{eq|Subrahmanyan Chandrasekhar|সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর}}
* {{eq|Susan Faludi|সুসান ফালুদি}}
* {{eq|Svetlana Alexievich|সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ}}
* {{eq|Tawakkol Karman|তাওয়াক্কোল কারমান}}
* {{eq|Tedros Adhanom|তেদ্রোস আধানম}}
* {{eq|Temple Grandin|টেম্পল গ্র্যান্ডিন}}
* {{eq|Tennessee Williams|টেনেসি উইলিয়ামস}}
* {{eq|Tenzin Gyatso, 14th Dalai Lama|চতুর্দশ দালাই লামা}}
* {{eq|Terence Tao|টেরেন্স টাও}}
* {{eq|Theodore Roethke|থিওডোর রেথকে}}
* {{eq|Theodosius Dobzhansky|থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি}}
* {{eq|Theophrastus|থিওফ্রাস্টাস}}
* {{eq|Theory of relativity|আপেক্ষিকতার তত্ত্ব}}
* {{eq|Thomas Harriot|থমাস হ্যারিয়ট}}
* {{eq|Thomas Henry Huxley|টমাস হেনরি হাক্সলি}}
* {{eq|Thomas Kuhn|থমাস কুন}}
* {{eq|Thomas Mann|টমাস মান}}
* {{eq|Thomas Robert Malthus|থমাস রবার্ট ম্যালথাস}}
* {{eq|Thomas Schelling|টমাস শেলিংস}}
* {{eq|Thomas Young (scientist)|থমাস ইয়ং}}
* {{eq|Tim Berners-Lee|টিম বার্নার্স-লি}}
* {{eq|Tjalling Koopmans|টিয়ালিং কোপম্যান্স}}
* {{eq|Tomas Tranströmer|টোমাস ট্রান্সট্রোমার}}
* {{eq|Toni Morrison|টনি মরিসন}}
* {{eq|Tony Benn|টনি বেন}}
* {{eq|Traian Băsescu|ত্রাইয়ান বাসাস্কু}}
* {{eq|Trygve Haavelmo|ট্রিগভে হাভেলমো}}
* {{eq|U Thant|উ থান্ট}}
* {{eq|V. S. Naipaul|ভি. এস. নাইপল}}
* {{eq|Val Logsdon Fitch|ভ্যাল লজডন ফিচ}}
* {{eq|Valéry Giscard d'Estaing|ভালেরি জিস্কার দেস্তাঁ}}
* {{eq|Victor Frederick Weisskopf|ভিক্টর উইসকফ}}
* {{eq|Viet Thanh Nguyen|ভিয়েত থান নগুয়েন}}
* {{eq|Vikram Sarabhai|বিক্রম সারাভাই}}
* {{eq|Vilayanur S. Ramachandran|ভি. এস. রামচন্দ্রন}}
* {{eq|Vitaly Ginzburg|ভিতালি গিঞ্জবার্গ}}
* {{eq|Vladimir Arnold|ভ্লাদিমির আর্নল্ড}}
* {{eq|Vladimir Markovnikov|ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ}}
* {{eq|Václav Havel|ভাকলাভ হাভেল}}
* {{eq|W. H. Auden|ডব্লিউ. এইচ. অডেন}}
* {{eq|Wassily Leontief|ওয়াসিলি লিওনটিয়েফ}}
* {{eq|Wernher von Braun|ভের্নহার ফন ব্রাউন}}
* {{eq|Wilhelm Wundt|ভিলহেল্ম ভুন্ট}}
* {{eq|Will Durant|উইল ডুরান্ট}}
* {{eq|Willa Cather|উইলা ক্যাথার}}
* {{eq|Willard van Orman Quine|উইলার্ড ফন অরম্যান কোয়াইন}}
* {{eq|Willem de Sitter|ভিলেম ডে সিটার}}
* {{eq|William Bateson|উইলিয়াম বেটসন}}
* {{eq|William Butler Yeats|উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস}}
* {{eq|William Carey (missionary)|উইলিয়াম কেরি}}
* {{eq|William Carlos Williams|উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস}}
* {{eq|William Crookes|উইলিয়াম ক্রুকস}}
* {{eq|William Dalrymple (historian)|উইলিয়াম ডালরিম্পল}}
* {{eq|William Daniel Phillips|উইলিয়াম ড্যানিয়েল ফিলিপস}}
* {{eq|William Empson|উইলিয়াম এম্পসন}}
* {{eq|William F. Sharpe|উইলিয়াম শার্প}}
* {{eq|William Golding|উইলিয়াম গোল্ডিং}}
* {{eq|William Herschel|উইলিয়াম হার্শেল}}
* {{eq|William Jones (philologist)|উইলিয়াম জোন্স (ভাষাতাত্ত্বিক)}}
* {{eq|William Rowan Hamilton|উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিল্টন}}
* {{eq|William Shockley|উইলিয়াম শকলি}}
* {{eq|William Stanley Jevons|উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স}}
* {{eq|William Thomson|উইলিয়াম থমসন}}
* {{eq|William Vickrey|উইলিয়াম ভিক্রি}}
* {{eq|Winnie Byanyima|উইনি বিয়ানিমা}}
* {{eq|Wole Soyinka|ওলে সোয়িংকা}}
* {{eq|Wolfgang Pauli|ভোলফগাং পাউলি}}
* {{eq|Yang Chen-Ning|চেন নিং ইয়াং}}
* {{eq|Yann LeCun|ইয়ান ল্যকান}}
* {{eq|Yann Martel|ইয়ান মার্টেল}}
* {{eq|Yasunari Kawabata|ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা}}
* {{eq|Yoichiro Nambu|ইয়োইচিরো নাম্বু}}
* {{eq|Zadie Smith|জেডি স্মিথ}}
* {{eq|Zhong Nanshan|চোং নানশান}}
* {{eq|Zhuangzi|চুয়াং জি}}
{{Div col end}}
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬]]
dfgpq2qb0qahvfwwpvyi4qx86pdsnao
76266
76174
2026-04-13T04:42:49Z
Tanbiruzzaman
806
/* অনুবাদ */
76266
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=3}}
<big>এই প্রতিযোগিতায় বিষয়বস্তু নির্ধারিত নয়, '''আপনি আপনার পছন্দমতো যেকোন উল্লেখযোগ্য বিষয়ে ভুক্তি বা পৃষ্ঠা তৈরি করতে পারেন (গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ব্যতীত)''' <u >এমনকি তা নিচের তালিকায় না থাকলেও</u>। আপনি যদি অনিশ্চিত থাকেন যে কোনটি নিয়ে কাজ করবেন, তবে নিচের লাল সংযোগে থাকা নিবন্ধগুলি তৈরি করতে পারেন। যে পাতাটি নিয়ে কাজ করছেন, সেটির পাশে <code><nowiki>~~~~</nowiki></code> যোগ করে আপনার নাম লিখুন।</big>
মনে রাখবেন,
* ব্যক্তি যদি বাঙালি হয়, তবে তার উক্তি হুবহু তুলে দিন (উদা: [[আসাদুজ্জামান নূর]] দেখুন)। ব্যক্তি যদি বিদেশি হয়, তবে উক্তি অনুবাদ করে যোগ করুন (উদা: [[নোম চম্স্কি]] দেখুন)। কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে বাঙালিদের উক্তি প্রাধান্য পাবে, তবে ভিন্ন ভাষা থেকেও উক্তি অনুবাদ করেও যোগ করা যাবে (উদা: [[চাঁদ]], [[সূর্য]] দেখুন)।
* '''নতুনরা''', দয়া করে [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/কীভাবে|কীভাবে উক্তি যোগ করব?]] টিউটোরিয়ালটি একবার দেখে নিন।
:এটি উইকিউক্তিতে ভুক্তি না থাকা বাঙালি ব্যক্তিদের তালিকা। তবে আপনি চাইলে [https://en.wikiquote.org ইংরেজি উইকিউক্তি] থেকে বাংলায় উক্তি অনুবাদ করতে পারেন।
:*ইংরেজি উইকিউক্তি থেকে অনুবাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিবন্ধ অনুবাদ করা বাধ্যতামূলক।
*'''উল্লেখ্য:''' <span style="color:red;">নিবন্ধ তৈরির আগে নিবন্ধটি ইতোমধ্যে বাংলা উইকিউক্তিতে বিদ্যমান কিনা যাচাই করা নিবন্ধ প্রণেতার (যিনি নিবন্ধ তৈরি করবেন) দায়িত্ব। তালিকার বাইরের নাম প্রতিস্থাপন নিবন্ধ তালিকায় থাকা নামটির পরিবর্তে ভিন্ন নামে নিবন্ধ তৈরি করলে অবশ্যই নতুন নামটি তালিকায় প্রতিস্থাপন করে দিবেন, অন্যথায় ভিন্ন ব্যবহারকারী নিবন্ধটি পুনরায় তৈরি করতে পারেন।</span >
== বাংলা উক্তি ==
বাঙালি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র, সাময়িকী কিংবা ছাপা বইয়ে প্রকাশিত উক্তি বা সাক্ষাৎকার থেকে উক্তি সংগ্রহ করে তা হুবুহু তথ্যসূত্র সহ যোগ করবেন।
=== বাঙালি ব্যক্তি ===
{{Div col|colwidth=20em|rules=yes}}
* {{বাউ|অংশুমান কর}}
* {{বাউ|অকিঞ্চন}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার কয়াল}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার বসু মজুমদার}}
* {{বাউ|অক্ষয়কুমার লধ}}
* {{বাউ|অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|অক্ষয়ানন্দ বসু}}
* {{বাউ|অখিল নিয়োগী}}
* {{বাউ|অখিল পাল}}
* {{বাউ|অখিলচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|অখিলবন্ধু ঘোষ}}[[ব্যবহারকারী:Tamaliya Das Gupta|Tamaliya Das Gupta]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tamaliya Das Gupta|আলাপ]]) ১৬:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|অগ্রদূত}}
* {{বাউ|অঘোরনাথ গুপ্ত}}
* {{বাউ|অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অঙ্গনা পি. চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অচলা মল্লিক}}
* {{বাউ|অজয় ঘটক}}
* {{বাউ|অজয় দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অজয় বসু}}
* {{বাউ|অজয় হোম}}
* {{বাউ|অজিত দত্ত}}
* {{বাউ|অজিত রায় (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|অজিতকৃষ্ণ বসু}}
* {{বাউ|অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অঞ্জলি ইলা মেনন}}
* {{বাউ|অঞ্জলি মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অটলবিহারী ঘোষ}}
* {{বাউ|অতীন্দ্রনাথ বসু ঠাকুর}}
* {{বাউ|অতুল বসু}}
* {{বাউ|অতুলচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|অতুলচন্দ্র ঘোষ (লেখক)}}
* {{বাউ|অদিতি লাহিড়ি}}
* {{বাউ|অদিতি সেন দে}}
* {{বাউ|অধরলাল সেন}}
* {{বাউ|অনম বিশ্বাস}}
* {{বাউ|অনল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনাথনাথ বসু}}
* {{বাউ|অনাদিনাথ দাঁ}}
* {{বাউ|অনাদিশ পাল}}
* {{বাউ|অনিতা মেহতা}}
* {{বাউ|অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনিন্দ্য সিনহা}}
* {{বাউ|অনিমেষ আইচ}}
* {{বাউ|অনিমেষ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অনিমেষ রায় (জীববিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অনির্বাণ ঘোষ}}
* {{বাউ|অনির্বাণ বসু}}
* {{বাউ|অনিল করঞ্জাই}}
* {{বাউ|অনিল কুমার গায়েন}}
* {{বাউ|অনিল কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনিল কুমার মণ্ডল}}
* {{বাউ|অনিল কুমার সেন}}
* {{বাউ|অনিল বিশ্বাস (সুরকার)}}
* {{বাউ|অনিল ভৌমিক}}
* {{বাউ|অনিল মুখার্জি}}
* {{বাউ|অনিলকুমার দাস}}
* {{বাউ|অনিলেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অনুত্তমা ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনুপম ঘটক}}
* {{বাউ|অনুপম দত্ত}}
* {{বাউ|অনুপম রায়}}
* {{বাউ|অনুপম সেন}}
* {{বাউ|অনুপম হায়াৎ}}
* {{বাউ|অনুপমা চোপড়া}}
* {{বাউ|অনুরাধা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অনুশ্রী রায়}}
* {{বাউ|অনুষ্কা শংকর}}
* {{বাউ|অন্নদা মুন্সী}}
* {{বাউ|অন্নদাচরণ খাস্তগীর}}
* {{বাউ|অন্নদাপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অন্নপূর্ণা গোস্বামী}}
* {{বাউ|অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অপরেশ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অপর্ণা সেন}}
* {{বাউ|অপূর্ব জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|অবনী সেন}}
* {{বাউ|অবনীনাথ রায়}}
* {{বাউ|অবনীভূষণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অবন্তী সিঁথি}}
* {{বাউ|অবন্তীকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|অবলা বসু}}
* {{বাউ|অবশেষ দাস}}
* {{বাউ|অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ}}
* {{বাউ|অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (সুরকার)}}
* {{বাউ|অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় (ভূবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অভিজিৎ সেন}}
* {{বাউ|অভিনয় চন্দ্র সাহা}}
* {{বাউ|অভীক ঘোষ}}
* {{বাউ|অমর পাল}}
* {{বাউ|অমরপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমরেশ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমরেশ্বর ঠাকুর}}
* {{বাউ|অমল কুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমল বোস}}
* {{বাউ|অমল হোম}}
* {{বাউ|অমলা শংকর}}
* {{বাউ|অমলেন্দু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অমলেন্দু চন্দ্র}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দাশগুপ্ত (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|অমলেন্দু দে}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বসু}}
* {{বাউ|অমলেন্দু বিশ্বাস}}
* {{বাউ|অমলেন্দু মিত্র}}
* {{বাউ|অমলেশ ত্রিপাঠী}}
* {{বাউ|অমিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিত মিত্র}}
* {{বাউ|অমিতা ঠাকুর}}
* {{বাউ|অমিতা দত্ত}}
* {{বাউ|অমিতা বসু}}
* {{বাউ|অমিতা মালিক}}
* {{বাউ|অমিতা সেন (আশ্রমকন্যা)}}
* {{বাউ|অমিতাভ দত্ত}}
* {{বাউ|অমিতাভ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অমিতাভ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমিতাভ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিতাভ রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|অমিয় বাগচী}}
* {{বাউ|অমিয়কুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমিয়া দত্ত}}
* {{বাউ|অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অমূল্যচরণ উকিল}}
* {{বাউ|অম্বরীশ ঘোষ}}
* {{বাউ|অম্বিকাচরণ মজুমদার}}
* {{বাউ|অম্লান দত্ত}}
* {{বাউ|অরিন্দম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অরুণ কুমার বসাক}}
* {{বাউ|অরুণ কুমার শর্মা}}
* {{বাউ|অরুণ মিত্র}}
* {{বাউ|অরুণ মুখার্জি}}
* {{বাউ|অরুণ সোম}}
* {{বাউ|অরুণকুমার বসু}}
* {{বাউ|অরুণচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|অরুণাচল বসু}}
* {{বাউ|অরুণাভ সরকার}}
* {{বাউ|অরুণেন্দু দাস}}
* {{বাউ|অরুণোদয় মণ্ডল}}
* {{বাউ|অরুন্ধতী দেবী}}
* {{বাউ|অরূপ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অরূপ চন্দ্র}}
* {{বাউ|অর্ক মুখার্জি}}
* {{বাউ|অর্চনা ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|অর্চনা শর্মা (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|অর্জুন (গোয়েন্দা চরিত্র)}}
* {{বাউ|অর্ণব রাই চৌধুরী}}
* {{বাউ|অলক রায়}}
* {{বাউ|অলকা উকিল}}
* {{বাউ|অলকা দাশ}}
* {{বাউ|অলকা সরাবগী}}
* {{বাউ|অলিউর রহমান}}
* {{বাউ|অলোক কৃষ্ণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|অলোক রায়}}
* {{বাউ|অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|অশেষ প্রসাদ মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক কুমার বড়ুয়া}}
* {{বাউ|অশোক কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|অশোক কুমার সরকার}}
* {{বাউ|অশোক কুমার সেন}}
* {{বাউ|অশোক গুপ্ত (লেখক)}}
* {{বাউ|অশোক চট্টোপাধ্যায় (লেখক)}}
* {{বাউ|অশোক চৌধুরী}}
* {{বাউ|অশোক নাথ মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক বড়ুয়া}}
* {{বাউ|অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অশোক মিত্র}}
* {{বাউ|অশোক রুদ্র}}
* {{বাউ|অশোক সেন}}
* {{বাউ|অশোককুমার হালদার}}
* {{বাউ|অশোকা গুপ্ত (বিপ্লবী)}}
* {{বাউ|অশ্বিনীকুমার দত্ত}}
* {{বাউ|অসীম দাসগুপ্ত}}
* {{বাউ|অসীমকান্তি দত্তরায়}}
* {{বাউ|অসীমা চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|অহিভূষণ মালিক}}
* {{বাউ|আ ক ম সারোয়ার জাহান বাদশা}}
* {{বাউ|আ জা ম তকীয়ুল্লাহ}}
* {{বাউ|আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|আ ফ ম ইউসুফ হায়দার}}
* {{বাউ|আ ফ ম খালিদ হোসেন}}
* {{বাউ|আ. ন. ম. বজলুর রশীদ}}
* {{বাউ|আ. ন. ম. বশির উল্লাহ}}
* {{বাউ|আ. ফ. ম. রুহুল হক}}
* {{বাউ|আইভি রহমান}}
* {{বাউ|আইয়ুব আলী}}
* {{বাউ|আইরিন খান}}
* {{বাউ|আওকাত হোসেন}}
* {{বাউ|আওলাদ হোসেন}}
* {{বাউ|আওলাদ হোসেন চাকলাদার}}
* {{বাউ|আককাছ আলী সরকার}}
* {{বাউ|আকতার মিয়া}}
* {{বাউ|আকবর আলি খান}}
* {{বাউ|আকবর উদ্দীন}}
* {{বাউ|আকবর হোসেন (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|আকবর হোসেন (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আকরাম হোসেন চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আকরামুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আকরামুল কাদের}}
* {{বাউ|আখতার ইমাম}}
* {{বাউ|আখতার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আখতার সাদমানী}}
* {{বাউ|আখতার হুসেন}}
* {{বাউ|আখতারুজ্জামান}}
* {{বাউ|আখলাকুল হোসাইন আহমেদ}}
* {{বাউ|আগা আহমদ আলী}}
* {{বাউ|আছিম শাহ}}
* {{বাউ|আজম আলী}}
* {{বাউ|আজহারুল হক}}
* {{বাউ|আজাদ রহমান}}
* {{বাউ|আজাহার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আজিজউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান আক্কাস}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান আজিজ}}
* {{বাউ|আজিজুর রহমান মল্লিক}}
* {{বাউ|আজিজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আজিজুল হক (শায়খুল হাদিস)}}
* {{বাউ|আজিজুল হক (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আজিজুল হাকিম (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আজিজুল হাকিম (কবি)}}
* {{বাউ|আজিম}}
* {{বাউ|আজিম উদ্দিন মুনশী}}
* {{বাউ|আজীজুল হক}}
* {{বাউ|আজীমুদ্দীন হানাফী}}
* {{বাউ|আঞ্জুমান আরা বেগম}}
* {{বাউ|আতহার আলী}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান (কবি)}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান কায়সার}}
* {{বাউ|আতাউর রহমান খান খাদিম}}
* {{বাউ|আতাউল করিম}}
* {{বাউ|আতাউল হাকিম}}
* {{বাউ|আতাউস সামাদ}}
* {{বাউ|আতিউর রহমান}}
* {{বাউ|আতিকুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আতিকুর রহমান (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|আতিকুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আতিয়া ইসলাম এ্যানি}}
* {{বাউ|আতোয়ার রহমান}}
* {{বাউ|আতোয়ার রহমান তালুকদার}}
* {{বাউ|আদনান আল রাজীব}}
* {{বাউ|আদিনাথ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|আদিলুর রহমান খান}}
* {{বাউ|আনজীর লিটন}}
* {{বাউ|আনন জামান}}
* {{বাউ|আনন্দচন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আনন্দমোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|আনন্দমোহন বসু}}
* {{বাউ|আনন্দশঙ্কর}}
* {{বাউ|আনসার আলী}}
* {{বাউ|আনিক খান}}
* {{বাউ|আনিলা নাজ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিস চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিস সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আনিসুজ্জামান (দর্শনশাস্ত্রজ্ঞ)}}
* {{বাউ|আনিসুজ্জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনিসুর রহমান (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|আনিসুল ইসলাম মাহমুদ}}
* {{বাউ|আনিসুল হক}}
* {{বাউ|আনিসুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনু মুহাম্মদ}}
* {{বাউ|আনুশেহ্ আনাদিল}}
* {{বাউ|আনোয়ার উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|আনোয়ার উল আলম}}
* {{বাউ|আনোয়ার উল হক}}
* {{বাউ|আনোয়ার পারভেজ}}
* {{বাউ|আনোয়ার পাশা (লেখক)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অণুজীববিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আনোয়ার হোসেন (আলোকচিত্রী)}}
* {{বাউ|আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারা বাহার চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারা বেগম (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল কবির}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল কাদের}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|আনোয়ারুল হক শরীফ}}
* {{বাউ|আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস}}
* {{বাউ|আন্দালিব রহমান পার্থ}}
* {{বাউ|আপেল মাহমুদ}}
* {{বাউ|আফজাল এইচ খান}}
* {{বাউ|আফজাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|আফটারম্যাথ}}
* {{বাউ|আফতাব আহমাদ রহমানী}}
* {{বাউ|আফতাব আহমেদ (আলোকচিত্রী)}}
* {{বাউ|আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|আফতাবউদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|আফতাবুজ্জামান}}
* {{বাউ|আফরোজা পারভীন}}
* {{বাউ|আফসান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আফসার আমেদ}}
* {{বাউ|আফসার আহমদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আফসার উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|আফসার উদ্দীন আহমেদ (অ্যাডভোকেট)}}
* {{বাউ|আবদার রশীদ}}
* {{বাউ|আবদুর রউফ (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আবদুর রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুর রব (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রব (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবদুর রব সেরনিয়াবাত}}
* {{বাউ|আবদুর রশীদ খান}}
* {{বাউ|আবদুর রসুল}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান খাঁ}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান বয়াতী}}
* {{বাউ|আবদুর রহমান বিশ্বাস}}
* {{বাউ|আবদুর রহিম (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবদুর রাজ্জাক (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আবদুল আওয়াল মিয়া}}
* {{বাউ|আবদুল আজিজ (লেখক)}}
* {{বাউ|আবদুল আজিজ খন্দকার}}
* {{বাউ|আবদুল আহাদ (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আবদুল আহাদ (সংগীত পরিচালক)}}
* {{বাউ|আবদুল ওয়াহহাব পীরজী}}
* {{বাউ|আবদুল ওয়াহাব}}
* {{বাউ|আবদুল করিম শাহ}}
* {{বাউ|আবদুল কাদির}}
* {{বাউ|আবদুল খালেক (পীর)}}
* {{বাউ|আবদুল গনি হাজারী}}
* {{বাউ|আবদুল গফুর (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (জ্যোতির্বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (ভাষা শহীদ)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবদুল জব্বার খান}}
* {{বাউ|আবদুল জলিল (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবদুল মজিদ মল্লিক}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন (জেনারেল)}}
* {{বাউ|আবদুল মতিন (লেখক)}}
* {{বাউ|আবদুল মমিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুল মমিন তালুকদার}}
* {{বাউ|আবদুল মাজেদ খান}}
* {{বাউ|আবদুল মান্নান হাওলাদার}}
* {{বাউ|আবদুল মালেক (সচিব)}}
* {{বাউ|আবদুল হক ফরিদী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই মাশরেকী}}
* {{বাউ|আবদুল হাই শিকদার}}
* {{বাউ|আবদুল হাকিম খান বাহাদুর}}
* {{বাউ|আবদুল হাফিজ (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ (ধারাভাষ্যকার)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ খান ইউসফজয়ী}}
* {{বাউ|আবদুল হামিদ তালুকদার}}
* {{বাউ|আবদুল হালিম বয়াতি}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ আল মামুন}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ আল-মামুন সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ-আল-মাহমুদ}}
* {{বাউ|আবদুল্লাহ-আল-নুমান}}
* {{বাউ|আবদুস সাত্তার (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবদুস সাত্তার ভূঞা}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (ভাষা শহীদ)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|আবদুস সালাম মামুন}}
* {{বাউ|আবদুস সোবহান সিকদার}}
* {{বাউ|আবিদ আজাদ}}
* {{বাউ|আবিদ আনোয়ার}}
* {{বাউ|আবিদা ইসলাম}}
* {{বাউ|আবিদুর রেজা খান}}
* {{বাউ|আবু আসাদ মোহাম্মদ ওবায়দুল গনি}}
* {{বাউ|আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ}}
* {{বাউ|আবু আহমদ ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|আবু আহমেদ}}
* {{বাউ|আবু আহমেদ জহিরুল আমিন খান}}
* {{বাউ|আবু ইউসুফ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবু কায়সার}}
* {{বাউ|আবু জাফর}}
* {{বাউ|আবু জাফর (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আবু জাফর শামসুদ্দীন}}
* {{বাউ|আবু জাহির}}
* {{বাউ|আবু তাহের (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আবু তাহের নদভী}}
* {{বাউ|আবু তাহের মজুমদার}}
* {{বাউ|আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান}}
* {{বাউ|আবু নঈম শেখ}}
* {{বাউ|আবু নসর ওহীদ}}
* {{বাউ|আবু বকর সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আবু বকর সিদ্দিকী (বিচারক)}}
* {{বাউ|আবু বারেক মোহাম্মদ নুরুল আলম}}
* {{বাউ|আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ}}
* {{বাউ|আবু মো. দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন}}
* {{বাউ|আবু যোহা নূর আহমদ}}
* {{বাউ|আবু রুশদ}}
* {{বাউ|আবু রেজা ফজলুল হক বাবলু}}
* {{বাউ|আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক}}
* {{বাউ|আবু শাহেদ ইমন}}
* {{বাউ|আবু শাহ্রিয়ার}}
* {{বাউ|আবু সয়ীদ আইয়ুব}}
* {{বাউ|আবু সাইয়ীদ}}
* {{বাউ|আবু সাঈদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম}}
* {{বাউ|আবু সালেহ}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ}}
* {{বাউ|আবু হায়াত মাহমুদ}}
* {{বাউ|আবু হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|আবু হাসান শাহরিয়ার}}
* {{বাউ|আবু হেনা মোস্তফা কামাল}}
* {{বাউ|আবু হোসেন সিদ্দিক}}
* {{বাউ|আবুল আহসান}}
* {{বাউ|আবুল আহসান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবুল ওমরাহ মুহম্মদ ফখরুদ্দিন}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবুল কালাম ফায়জুল হক}}
* {{বাউ|আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ}}
* {{বাউ|আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া}}
* {{বাউ|আবুল কালাম শামসুদ্দিন (সরকারি কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|আবুল কাশেম সন্দ্বীপ}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম (সাহিত্যরত্ন)}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম খান}}
* {{বাউ|আবুল কাসেম ফজলুল হক}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন}}
* {{বাউ|আবুল ফতেহ}}
* {{বাউ|আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া}}
* {{বাউ|আবুল বরকত}}
* {{বাউ|আবুল বারকাত}}
* {{বাউ|আবুল বাশার (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল বাশার (লেখক)}}
* {{বাউ|আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম}}
* {{বাউ|আবুল বাসার (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আবুল বাসার আকন্দ}}
* {{বাউ|আবুল মকসুদ হারুন অর রশীদ}}
* {{বাউ|আবুল মাল আবদুল মুহিত}}
* {{বাউ|আবুল মোমেন}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম খান (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|আবুল হাশেম সরকার}}
* {{বাউ|আবুল হাসনাত (মেয়র)}}
* {{বাউ|আবুল হাসান (কবি)}}
* {{বাউ|আবুল হাসান মাহমুদ আলী}}
* {{বাউ|আবুল হুসসাম}}
* {{বাউ|আবুল হুসেন}}
* {{বাউ|আবুল হোসেন (কবি)}}
* {{বাউ|আবুল হোসেন (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|আবেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আবেদ হোসেন খান}}
* {{বাউ|আব্দুর রইছ}}
* {{বাউ|আব্দুর রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুর রব চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান (মুফতি)}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান আনওয়ারী}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমান সরকার}}
* {{বাউ|আব্দুর রহমানেল মাছউদ}}
* {{বাউ|আব্দুর রহিম (সংসদ সদস্য)}}
* {{বাউ|আব্দুল আউয়াল খান}}
* {{বাউ|আব্দুল আজিজ (চলচ্চিত্র নির্মাতা)}}
* {{বাউ|আব্দুল আলীম (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা}}
* {{বাউ|আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার}}
* {{বাউ|আব্দুল ওহাব খান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আব্দুল করিম আব্বাসী}}
* {{বাউ|আব্দুল জব্বার}}
* {{বাউ|আব্দুল জলিল}}
* {{বাউ|আব্দুল বায়েস}}
* {{বাউ|আব্দুল মতিন চৌধুরী (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|আব্দুল মতিন পাটোয়ারি}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান আকন্দ}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান চৌধুরী (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আব্দুল মান্নান শিকদার}}
* {{বাউ|আব্দুল মালেক উকিল}}
* {{বাউ|আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুল মুমিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|আব্দুল মোতালেব মালিক}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ বাচ্চু}}
* {{বাউ|আব্দুল লতিফ মিয়া}}
* {{বাউ|আব্দুল হাকিম সরকার}}
* {{বাউ|আব্দুল হামিদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আব্দুল হামিদ রায়হান}}
* {{বাউ|আব্দুল হালিম বুখারী}}
* {{বাউ|আব্দুল হাসিব}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ আল মামুন (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ}}
* {{বাউ|আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ}}
* {{বাউ|আব্দুস শাকুর (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার খান}}
* {{বাউ|আব্দুস সাত্তার মোহন্ত}}
* {{বাউ|আব্দুস সামাদ আজাদ}}
* {{বাউ|আব্দুস সালাম চাটগামী}}
* {{বাউ|আব্দুস সেলিম}}
* {{বাউ|আব্বাসউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আভরাল সাহির}}
* {{বাউ|আভা আলম}}
* {{বাউ|আভাস}}
* {{বাউ|আভাসকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আমজাদ হোসেন}}
* {{বাউ|আমজাদ হোসেন (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|আমান রেজা}}
* {{বাউ|আমানুল হক}}
* {{বাউ|আমানুল হক (নৃত্যশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমানুল্লাহ কবির}}
* {{বাউ|আমিন আহমদ}}
* {{বাউ|আমিন উদ্দিন মৃধা}}
* {{বাউ|আমিন সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|আমিনা আহমেদ কর}}
* {{বাউ|আমিনুর রশীদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান শামসুদ দোহা}}
* {{বাউ|আমিনুর রহমান সুলতান}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম (মৃত্তিকা বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম বাদশা}}
* {{বাউ|আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া}}
* {{বাউ|আমিনুল করিম}}
* {{বাউ|আমিনুল হক (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আমিনুল হক (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|আমির হামজা (আলোকচিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|আমির হামজা (কবি)}}
* {{বাউ|আমির হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|আমির হোসেন আমু}}
* {{বাউ|আমির হোসেন খান}}
* {{বাউ|আমিরুল আলম মিলন}}
* {{বাউ|আমিরুল ইসলাম (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আমিরুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমীন আহম্মেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আমীর-উল ইসলাম}}
* {{বাউ|আমীরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আয়নুন নাহার সিদ্দিকা}}
* {{বাউ|আয়মান সাদিক}}
* {{বাউ|আয়েত আলী খাঁ}}
* {{বাউ|আয়েশা বেদোরা চৌধুরী}}
* {{বাউ|আযীযুর রহমান কায়েদ}}
* {{বাউ|আর আই এম আমিনুর রশিদ}}
* {{বাউ|আর. এ. গনি}}
* {{বাউ|আর. কে. বি. এম. রিজমী}}
* {{বাউ|আরতি দত্ত}}
* {{বাউ|আরমা দত্ত}}
* {{বাউ|আরমিন মুসা}}
* {{বাউ|আরশাদ-উজ জামান}}
* {{বাউ|আরেফিন রুমি}}
* {{বাউ|আর্ক}}
* {{বাউ|আর্থার উইলসন}}
* {{বাউ|আর্থার লেভেলিন বাশাম}}
* {{বাউ|আল-কামাল আবদুল ওহাব}}
* {{বাউ|আল-নকীব চৌধুরী}}
* {{বাউ|আলতাফ মাহমুদ}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেইন}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আলতাফ হোসেন (কবি)}}
* {{বাউ|আলতামাস আহমেদ}}
* {{বাউ|আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|আলফ্রেড উডলি ক্রফট}}
* {{বাউ|আলভী আহমেদ}}
* {{বাউ|আলম আরা জুঁই}}
* {{বাউ|আলম খান}}
* {{বাউ|আলম খোরশেদ}}
* {{বাউ|আলমগীর (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|আলমগীর কুমকুম}}
* {{বাউ|আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন আলী}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন আহম্মদ}}
* {{বাউ|আলাউদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|আলী আকবর খাঁ}}
* {{বাউ|আলী আকবর রুপু}}
* {{বাউ|আলী আকরাম শুভ}}
* {{বাউ|আলী আজগর}}
* {{বাউ|আলী আশরাফ (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|আলী আহমদ}}
* {{বাউ|আলী ইমাম}}
* {{বাউ|আলী কায়সার হাসান মোর্শেদ}}
* {{বাউ|আলী মনসুর}}
* {{বাউ|আলী রীয়াজ}}
* {{বাউ|আলী হোসেন (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|আলেকজান্ডার পেডলার}}
* {{বাউ|আশফাকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আশরফি খানম}}
* {{বাউ|আশরাফ আলী খান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশরাফ শিশির}}
* {{বাউ|আশরাফ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|আশরাফ-উজ-জামান খান}}
* {{বাউ|আশরাফুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আশরাফুল আলম (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|আশা মেহরিন আমিন}}
* {{বাউ|আশালতা সিংহ}}
* {{বাউ|আশালতা সেন}}
* {{বাউ|আশিক চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশিকুজ্জামান (জেনারেল)}}
* {{বাউ|আশিকুর রহমান}}
* {{বাউ|আশীষ রঞ্জন দাস}}
* {{বাউ|আশুতোষ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আশুতোষ চৌধুরী (আইনজীবি)}}
* {{বাউ|আশুতোষ সুজন}}
* {{বাউ|আশুতোষ সেন}}
* {{বাউ|আশ্চর্যময়ী}}
* {{বাউ|আসকার ইবনে শাইখ}}
* {{বাউ|আসফার হোসেন মোল্লা}}
* {{বাউ|আসমত আলী শিকদার}}
* {{বাউ|আসলাম সানী}}
* {{বাউ|আসহাব উদ্দীন}}
* {{বাউ|আসহাব উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|আসহাব-উল-হক}}
* {{বাউ|আসাদ আলম সিয়াম}}
* {{বাউ|আসাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আসাদ বিন হাফিজ}}
* {{বাউ|আসাদ মান্নান}}
* {{বাউ|আসাদুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|আসিফ ইকবাল (গীতিকার)}}
* {{বাউ|আহমদ আবদুল কাদের}}
* {{বাউ|আহমদ আলী এনায়েতপুরী}}
* {{বাউ|আহমদ জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|আহমদ রফিক}}
* {{বাউ|আহমদ শামসুল ইসলাম}}
* {{বাউ|আহমাদ মোস্তফা কামাল}}
* {{বাউ|আহমেদ আলী}}
* {{বাউ|আহমেদ ইকবাল হায়দার}}
* {{বাউ|আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল}}
* {{বাউ|আহমেদ শফি}}
* {{বাউ|আহমেদ সোহেল}}
* {{বাউ|আহমেদুর রশিদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|আহম্মদ আলী}}
* {{বাউ|আহসান এইচ মনসুর}}
* {{বাউ|আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|ইউজিন লাঁফৌ}}
* {{বাউ|ইউনুস আলী সরকার}}
* {{বাউ|ইউয়ান ৎসে লি}}
* {{বাউ|ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমন}}
* {{বাউ|ইউসুফ আলী খান}}
* {{বাউ|ইউসুফ আলী মোল্লা}}
* {{বাউ|ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন}}
* {{বাউ|ইকতিয়ার চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইকবাল আসিফ জুয়েল}}
* {{বাউ|ইকবাল আহমেদ (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|ইকবাল কাদির}}
* {{বাউ|ইকবাল খন্দকার}}
* {{বাউ|ইকবাল মাহমুদ}}
* {{বাউ|ইকবাল সোবহান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইকবাল হোসেন খান}}
* {{বাউ|ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ}}
* {{বাউ|ইতরাত হোসেন জুবেরী}}
* {{বাউ|ইনামুল হক}}
* {{বাউ|ইন্ডালো}}
* {{বাউ|ইন্দিরা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ইন্দিরা দেবী}}
* {{বাউ|ইন্দিরা নাথ}}
* {{বাউ|ইন্দিরা ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|ইন্দিরাদেবী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইন্দু মিঠা}}
* {{বাউ|ইন্দুভূষণ রক্ষিত}}
* {{বাউ|ইন্দ্রকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ}}
* {{বাউ|ইন্দ্রজিৎ হাজরা}}
* {{বাউ|ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ইন্দ্রনাথ রুদ্র}}
* {{বাউ|ইন্দ্রমোহন রাজবংশী}}
* {{বাউ|ইন্দ্রাণী বসু}}
* {{বাউ|ইপ্সিতা রায় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইফতেখার চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইফতেখারুজ্জামান}}
* {{বাউ|ইফফাত আরা}}
* {{বাউ|ইফফাত আরা দেওয়ান}}
* {{বাউ|ইবনে ইমাম}}
* {{বাউ|ইবনে মিজান}}
* {{বাউ|ইবরাহীম আলী তশনা}}
* {{বাউ|ইবরাহীম খাঁ}}
* {{বাউ|ইব্রাহিম আহমেদ কমল}}
* {{বাউ|ইব্রাহীম খলিল (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|ইমতিয়াজ মাহমুদ}}
* {{বাউ|ইমতিয়াজ হোসেন (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|ইমতিয়ার শামীম}}
* {{বাউ|ইমদাদ হোসেন}}
* {{বাউ|ইমন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইমন সাহা}}
* {{বাউ|ইমরান এইচ সরকার}}
* {{বাউ|ইমরান মাহমুদুল}}
* {{বাউ|ইমরান সিদ্দিক}}
* {{বাউ|ইমাউল হক}}
* {{বাউ|ইমাম হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইয়াকুব আলী শরীফ}}
* {{বাউ|ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ}}
* {{বাউ|ইয়াসমিন মোর্শেদ}}
* {{বাউ|ইয়েন ইয়েন}}
* {{বাউ|ইলা মজুমদার}}
* {{বাউ|ইসমাইল খান}}
* {{বাউ|ইসমাইল ফারুক চৌধুরী}}
* {{বাউ|ইসমাইল মোহাম্মাদ}}
* {{বাউ|ইসমাইল হোসেন তালুকদার}}
* {{বাউ|ইসমাত জাহান}}
* {{বাউ|ইসরাইল খান}}
* {{বাউ|ইসহাক কাজল}}
* {{বাউ|ইসহাক খান}}
* {{বাউ|ইসহাক ফরিদী}}
* {{বাউ|ইস্পাহানী-আরিফ জাহান}}
* {{বাউ|ঈশা মহম্মদ}}
* {{বাউ|ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ঈশানচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|উকিল মুন্সী}}
* {{বাউ|উজ্জ্বল (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|উজ্জ্বল মৌলিক}}
* {{বাউ|উত্তম আকাশ}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উবায়দুর রহমান খান নদভী}}
* {{বাউ|উবায়দুল কবীর চৌধুরী}}
* {{বাউ|উমা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উমাপতিধর}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র বটব্যাল}}
* {{বাউ|উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|উৎপলকুমার বসু}}
* {{বাউ|উৎপলেন্দু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ঊষা গাঙ্গুলি}}
* {{বাউ|ঊষা রঞ্জন ঘটক}}
* {{বাউ|ঊষা সেন}}
* {{বাউ|ঋজুদা}}
* {{বাউ|ঋতুরাজ ভৌমিক}}
* {{বাউ|ঋতেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ঋষি চন্দ}}
* {{বাউ|ঋষিবর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|এ আই এম মোস্তফা রেজা নূর}}
* {{বাউ|এ এইচ এম এনায়েত হোসেন}}
* {{বাউ|এ এইচ এম জেহাদুল করিম}}
* {{বাউ|এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ এইচ দিলদার আহমদ}}
* {{বাউ|এ এইচ মোফাজ্জল করিম}}
* {{বাউ|এ এন এম গোলাম মোস্তফা}}
* {{বাউ|এ এফ এম আবদুল আলীম চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ এফ এম নাজমুল হুদা}}
* {{বাউ|এ এফ এম মফিজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ এম এ এম জোনায়েদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ কে আজাদ খান}}
* {{বাউ|এ কে এম ইউসুফ}}
* {{বাউ|এ কে এম ইয়াকুব আলী}}
* {{বাউ|এ কে এম কামারুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ কে এম জহিরুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম জহিরুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|এ কে এম জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|এ কে এম নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ কে এম নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ কে এম নূরুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম শহীদুল করিম}}
* {{বাউ|এ কে এম শামসুল হক}}
* {{বাউ|এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ কে এম সাদেক}}
* {{বাউ|এ কে এম সিদ্দিক}}
* {{বাউ|এ কে এম হাফিজউদ্দিন}}
* {{বাউ|এ কে নাজমুল করিম}}
* {{বাউ|এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|এ কে বদরুল হক}}
* {{বাউ|এ জে এম নূরুদ্দীন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ জে মিন্টু}}
* {{বাউ|এ জেড এম জাহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|এ জেড এম মোস্তাক হোসেন}}
* {{বাউ|এ টি এম আলমগীর}}
* {{বাউ|এ টি এম জহুরুল হক}}
* {{বাউ|এ বি এম আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|এ বি এম আব্দুল্লাহ}}
* {{বাউ|এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এ বি এম মূসা}}
* {{বাউ|এ বি এম রাশেদুল হাসান}}
* {{বাউ|এ বি এম শওকত আলী}}
* {{বাউ|এ, জে, মোহাম্মদ আলী}}
* {{বাউ|এ. এইচ. এম. মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. এইচ. এস. আতাউল করিম}}
* {{বাউ|এ. এইচ. জি. মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|এ. এন. এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|এ. এন. এম. নূরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. এন. এম. হামিদুল্লাহ্}}
* {{বাউ|এ. এফ. ইমাম আলি}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আওরঙ্গজেব}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আবদুল মঈন}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. আব্দুর রহমান}}
* {{বাউ|এ. এফ. এম. এন্তাজ আলী}}
* {{বাউ|এ. এফ. সালাহ্উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|এ. এফ. হাসান আরিফ}}
* {{বাউ|এ. এম. আমিনুল হক}}
* {{বাউ|এ. এস. এম. আব্দুল মোবিন}}
* {{বাউ|এ. কিউ. এম. বজলুল করিম}}
* {{বাউ|এ. কিউ. এম. মাহবুব}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. আহসান আলী}}
* {{বাউ|এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|এ. কে. নাজিরউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|এ. টি. এম. আফজাল}}
* {{বাউ|এ. টি. এম. শামসুদ্দিন}}
* {{বাউ|এ. বি. এম. খায়রুল হক}}
* {{বাউ|এ. বি.এম. আলতাফ হোসেন}}
* {{বাউ|এ.এইচ.এম. শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|এ.ওয়াই.বি আই সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এ.কে.এম. রবিউল হাসান}}
* {{বাউ|এ.টি.এম. ফজলে কবির}}
* {{বাউ|এআরএম ইনামুল হক}}
* {{বাউ|এআরএম লুৎফুল কবীর}}
* {{বাউ|এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে}}
* {{বাউ|এইচ এম জহিরুল হক}}
* {{বাউ|এএসএম মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|একরামউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|একেএম আবদুর রউফ}}
* {{বাউ|একেএম আমিনুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|একেএম আসাদুল হক}}
* {{বাউ|একেএম বজলুল করিম}}
* {{বাউ|একেএম শহীদুল হক}}
* {{বাউ|একেনবাবু}}
* {{বাউ|এখলাসউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|এজাজ ইউসুফী}}
* {{বাউ|এজাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এঞ্জেলা গোমেজ}}
* {{বাউ|এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|এনামুর রহমান}}
* {{বাউ|এনামুল করিম নির্ঝর}}
* {{বাউ|এনামুল বাশার}}
* {{বাউ|এনামুল হক (পুলিশ কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|এনামুল হক (প্রত্নতাত্ত্বিক)}}
* {{বাউ|এনামুল হক (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|এনামুল হক মোস্তফা শহীদ}}
* {{বাউ|এনায়েত করিম}}
* {{বাউ|এনায়েত হোসেন খান}}
* {{বাউ|এনায়েতউল্লাহ খান}}
* {{বাউ|এনায়েতুল্লাহ্ খান}}
* {{বাউ|এনিগমা (মার্ভেল কমিক্স)}}
* {{বাউ|এন্ড্রু বিরাজ}}
* {{বাউ|এফ আই মানিক}}
* {{বাউ|এফ এ সুমন}}
* {{বাউ|এফআরএম নাজমুল আহসান}}
* {{বাউ|এবাদুর রহমান}}
* {{বাউ|এবিএম নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এব্রাহাম মজুমদার}}
* {{বাউ|এম অহিদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এম আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|এম আবদুর রহমান}}
* {{বাউ|এম আবদুল কাদির ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|এম আবদুস সোবহান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|এম আর আখতার মুকুল}}
* {{বাউ|এম আর কবির}}
* {{বাউ|এম আলাউদ্দিন}}
* {{বাউ|এম আল্লামা সিদ্দিকি}}
* {{বাউ|এম ইউসুফ আলী}}
* {{বাউ|এম ইকবাল আর্সলান}}
* {{বাউ|এম ইদ্রিস}}
* {{বাউ|এম ইন্নাস আলী}}
* {{বাউ|এম এ ওয়াজেদ মিয়া}}
* {{বাউ|এম এ ওয়াদুদ}}
* {{বাউ|এম এ খালেক}}
* {{বাউ|এম এ জাহের (ভূতাত্ত্বিক)}}
* {{বাউ|এম এ মাজিদ}}
* {{বাউ|এম এ মান্নান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|এম এ মান্নান (স্নায়ুবিদ)}}
* {{বাউ|এম এ মালেক (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|এম এ মোবিন}}
* {{বাউ|এম এ সাত্তার মণ্ডল}}
* {{বাউ|এম এ হক (কবি)}}
* {{বাউ|এম এ হাদী}}
* {{বাউ|এম এ হামিদ}}
* {{বাউ|এম এ হাসান}}
* {{বাউ|এম এনায়েতুর রহিম}}
* {{বাউ|এম এম রহমত উল্লাহ}}
* {{বাউ|এম এম রেজাউল করিম}}
* {{বাউ|এম এস স্বামীনাথন}}
* {{বাউ|এম ওসমান গনি তালুকদার}}
* {{বাউ|এম কিউ কে তালুকদার}}
* {{বাউ|এম কোরবান আলী}}
* {{বাউ|এম খায়রুল হোসেন}}
* {{বাউ|এম ফাতেমা খানম}}
* {{বাউ|এম ফিরোজ আহমেদ}}
* {{বাউ|এম বি মানিক}}
* {{বাউ|এম মহবুবউজ্জামান}}
* {{বাউ|এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|এম মোজাম্মেল হক}}
* {{বাউ|এম রফিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম শমশের আলী}}
* {{বাউ|এম শহিদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম শামসুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম সাইদুজ্জামান}}
* {{বাউ|এম সাইদুর রহমান খান}}
* {{বাউ|এম সি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|এম হামিদ}}
* {{বাউ|এম. আজিজুর রহমান}}
* {{বাউ|এম. আমিনুল ইসলাম}}
* {{বাউ|এম. এ. আজিজ (নির্বাচন কমিশনার)}}
* {{বাউ|এম. এইচ. খন্দকার}}
* {{বাউ|এম. এম. রুহুল আমিন}}
* {{বাউ|এম. খায়রুল আলম খান}}
* {{বাউ|এম. গোলাম শাহি আলম}}
* {{বাউ|এম. জাহিদ হাসান}}
* {{বাউ|এম. নুরুল্লাহ}}
* {{বাউ|এম. মোয়াজ্জম হোসেন}}
* {{বাউ|এম. শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|এম. সাখাওয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|এম. হুমায়ুন কবির}}
* {{বাউ|এম. হোসেন আলী}}
* {{বাউ|এমদাদুল হক আজাদ}}
* {{বাউ|এমদাদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|এমরান আহমদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|এমাজউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|এল. কে. সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|এলিটা করিম}}
* {{বাউ|এস আই এম নূরুন্নবী খান}}
* {{বাউ|এস আই টুটুল}}
* {{বাউ|এস এ হক অলিক}}
* {{বাউ|এস এম আব্রাহাম লিংকন}}
* {{বাউ|এস এম আমজাদ হোসেন}}
* {{বাউ|এস এম আহমেদ হুমায়ুন}}
* {{বাউ|এস এম এমদাদুল হক}}
* {{বাউ|এস এম কুদ্দুস জামান}}
* {{বাউ|এস এম মহসীন}}
* {{বাউ|এস এম মাসুদ হোসেন দোলন}}
* {{বাউ|এস এম মাহফুজুর রহমান}}
* {{বাউ|এস এম সোলায়মান}}
* {{বাউ|এস ডি রুবেল}}
* {{বাউ|এস. এ. বারী}}
* {{বাউ|এস. এ. মালেক}}
* {{বাউ|এস. এম. আল হোসাইনী}}
* {{বাউ|এস. এম. এ. রাশীদুল হাসান}}
* {{বাউ|এস. এম. মজিবুর রহমান}}
* {{বাউ|এস. এম. মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|এস. এম. সিরিল}}
* {{বাউ|এস. এম. হারুন-অর-রশীদ}}
* {{বাউ|এস.এম আবুল কালাম}}
* {{বাউ|এস.এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু}}
* {{বাউ|এসকে. তাহসিন আলী}}
* {{বাউ|এহতেশাম}}
* {{বাউ|ওবায়দুল হাসান}}
* {{বাউ|ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দী সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|ওবায়দুল্লাহ হামযাহ}}
* {{বাউ|ওমর আলী}}
* {{বাউ|ওমর ইশরাক}}
* {{বাউ|ওমর ফারুক ইউসুফ}}
* {{বাউ|ওয়াকিল আহমদ}}
* {{বাউ|ওয়াকিল আহাদ}}
* {{বাউ|ওয়াজেদ আলী সুমন}}
* {{বাউ|ওয়াসফিয়া নাজরীন}}
* {{বাউ|ওয়াসি আহমেদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদ ইবনে রেজা}}
* {{বাউ|ওয়াহিদউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ}}
* {{বাউ|ওয়াহিদা আক্তার}}
* {{বাউ|ওয়াহিদুল হক}}
* {{বাউ|ওসমান গণি}}
* {{বাউ|ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী}}
* {{বাউ|ওস্তাদ বাবর আলী খান}}
* {{বাউ|ওহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|ওহিদুল আলম}}
* {{বাউ|ওহীদুল আলম}}
* {{বাউ|কঙ্কনা সেন শর্মা}}
* {{বাউ|কঙ্কর শুভ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কছিম উদ্দিন}}
* {{বাউ|কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কনক কান্তি বড়ুয়া}}
* {{বাউ|কনকচাঁপা}}
* {{বাউ|কফিল আহমেদ}}
* {{বাউ|কফিলউদ্দিন মাহমুদ}}
* {{বাউ|কবরী}}
* {{বাউ|কবিচন্দ্র রামকৃষ্ণ রায়}}
* {{বাউ|কবিতা খানম}}
* {{বাউ|কবিতা সিংহ}}
* {{বাউ|কবির বকুল}}
* {{বাউ|কবির হোসেন}}
* {{বাউ|কবীন্দ্র পরমেশ্বর}}
* {{বাউ|কবীর সুমন}}
* {{বাউ|কমল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কমলকুমার মজুমদার}}
* {{বাউ|কমলা সাংকৃত্যায়ন}}
* {{বাউ|কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানী}}
* {{বাউ|করুণা সাহা}}
* {{বাউ|করুণাময় গোস্বামী}}
* {{বাউ|কর্নেল নীলাদ্রি সরকার}}
* {{বাউ|কলাবতী (কাল্পনিক চরিত্র)}}
* {{বাউ|কলিম শরাফী}}
* {{বাউ|কল্কেকাশি}}
* {{বাউ|কল্পতরু সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|কল্পনা আখতার}}
* {{বাউ|কল্পনা চাকমা}}
* {{বাউ|কল্যাণ মিত্র}}
* {{বাউ|কল্যাণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কল্যাণী ঘোষ}}
* {{বাউ|কসিমউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|কসিরউদ্দিন তালুকদার}}
* {{বাউ|কাইজার চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাইয়ুম চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাওসার আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাওসার চৌধুরী}}
* {{বাউ|কাকাবাবু}}
* {{বাউ|কাজল আরেফিন অমি}}
* {{বাউ|কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কাজি হাসমত আলী}}
* {{বাউ|কাজী আকরম হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী আজহার আলী}}
* {{বাউ|কাজী আজিজুল মাওলা}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ার হোসেন (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|কাজী আনোয়ারা মনসুর}}
* {{বাউ|কাজী আফসারউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|কাজী আবদুল আলীম}}
* {{বাউ|কাজী আবদুল ফাত্তাহ}}
* {{বাউ|কাজী আবুল কাসেম (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|কাজী আবুল মনসুর}}
* {{বাউ|কাজী ইবাদত হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী ইমদাদুল হক}}
* {{বাউ|কাজী এবাদুল হক}}
* {{বাউ|কাজী এম বদরুদ্দোজা}}
* {{বাউ|কাজী ওয়ালিউল ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী কাদের নেওয়াজ}}
* {{বাউ|কাজী কামরুজ্জামান}}
* {{বাউ|কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম দস্তগীর}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম মাহবুব}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম মুস্তাফা}}
* {{বাউ|কাজী গোলাম রসূল}}
* {{বাউ|কাজী জহির}}
* {{বাউ|কাজী জহিরুল হক}}
* {{বাউ|কাজী জিনাত হক}}
* {{বাউ|কাজী তরিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|কাজী দীন মুহাম্মদ (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|কাজী মাসুম আখতার}}
* {{বাউ|কাজী মুতাসিম বিল্লাহ}}
* {{বাউ|কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা}}
* {{বাউ|কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দ}}
* {{বাউ|কাজী মোরশেদ}}
* {{বাউ|কাজী রওশন আক্তার}}
* {{বাউ|কাজী রেজা-উল হক}}
* {{বাউ|কাজী রোজী}}
* {{বাউ|কাজী শহীদুন নবী}}
* {{বাউ|কাজী শুভ}}
* {{বাউ|কাজী সব্যসাচী}}
* {{বাউ|কাজী সাইফুদ্দীন}}
* {{বাউ|কাজী সাজ্জাদ হোসেন}}
* {{বাউ|কাজী হায়াৎ}}
* {{বাউ|কাজী হাসান হাবিব}}
* {{বাউ|কাজেম আলী}}
* {{বাউ|কাত্যায়নী দাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কাদম্বরী দেবী}}
* {{বাউ|কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কাদেরী কিবরিয়া}}
* {{বাউ|কানকাটা রমজান}}
* {{বাউ|কানাই লাল দে}}
* {{বাউ|কানাইলাল শীল}}* {{বাউ|কানাহরি দত্ত}}
* {{বাউ|কানু রায়}}
* {{বাউ|কাবেরী গায়েন}}
* {{বাউ|কামরুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার (সরকারি কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|কামরুন নাহার বেগম}}
* {{বাউ|কামরুন নেছা নীলু}}
* {{বাউ|কামরুল আলম খান}}
* {{বাউ|কামরুল আহসান}}
* {{বাউ|কামরুল আহসান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম সিদ্দিক}}
* {{বাউ|কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান খান}}
* {{বাউ|কামরুল হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কামার আহমাদ সাইমন}}
* {{বাউ|কামাল আহমেদ}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|কামাল লোহানী}}
* {{বাউ|কামাল হোসেন}}
* {{বাউ|কামালউদ্দিন হোসেন}}
* {{বাউ|কামালুদ্দীন জাফরী}}
* {{বাউ|কামিনী কুমার দত্ত}}
* {{বাউ|কামিনীকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|কায়সার হামিদুল হক}}
* {{বাউ|কায়সুল হক}}
* {{বাউ|কায়েস উদ্দিন}}
* {{বাউ|কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|কালিকারঞ্জন কানুনগো}}
* {{বাউ|কালিচন্দ্র রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|কালিদাস কর্মকার}}
* {{বাউ|কালিদাস নাগ}}
* {{বাউ|কালিদাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কালীকৃষ্ণ মিত্র}}
* {{বাউ|কালীনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|কালীনাথ রায়}}
* {{বাউ|কালীপদ পাঠক}}
* {{বাউ|কালীপদ বসু}}
* {{বাউ|কালীপদ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|কালীপদ সেন}}
* {{বাউ|কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ}}
* {{বাউ|কালীপ্রসন্ন সিংহ}}
* {{বাউ|কালীমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|কাশীরাম দাস}}
* {{বাউ|কাশেফা হোসেন}}
* {{বাউ|কাসেম বিন আবুবাকার}}
* {{বাউ|কিউ এ বি এম রহমান}}
* {{বাউ|কিউ.এ.এম.এ রহিম}}
* {{বাউ|কিকিরা}}
* {{বাউ|কিরণ সেন}}
* {{বাউ|কিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|কিরীটী রায়}}
* {{বাউ|কিশোর কুমার}}
* {{বাউ|কিশোরীচাঁদ মিত্র}}
* {{বাউ|কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কুঞ্জলাল নাগ}}
* {{বাউ|কুটি মনসুর}}
* {{বাউ|কুণাল বসু}}
* {{বাউ|কুদরত-ই-জাহান}}
* {{বাউ|কুদ্দুস বয়াতি}}
* {{বাউ|কুমকুম মুন্সী}}
* {{বাউ|কুমার বিশ্বজিৎ}}
* {{বাউ|কুমার রায়}}
* {{বাউ|কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কুমারেশ ঘোষ}}
* {{বাউ|কুমুদনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|কুমুদশঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|কুমুদিনী হাজং}}
* {{বাউ|কৃষ্ণ কুণ্ডু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণ ধর}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকালী মণ্ডল}}
* {{বাউ|কৃষ্ণকুমার মিত্র}}
* {{বাউ|কৃষ্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদয়াল বসু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদাস কবিরাজ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণদাস পাল}}
* {{বাউ|কৃষ্ণধন ঘোষ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণনাথ রায়}}
* {{বাউ|কৃষ্ণভাবিনী দাস}}
* {{বাউ|কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কৃষ্ণরাম দাস}}
* {{বাউ|কৃষ্ণরাম ভট্টাচাৰ্য}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা দেবনাথ}}
* {{বাউ|কৃষ্ণা বসু}}
* {{বাউ|কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ}}
* {{বাউ|কে এম আলী আজম}}
* {{বাউ|কে এম আসাদ}}
* {{বাউ|কে এম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|কে এম মোহসীন}}
* {{বাউ|কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা}}
* {{বাউ|কে এম সোবহান}}
* {{বাউ|কে জি মুস্তফা}}
* {{বাউ|কে. এম. ইমরুল কায়েশ}}
* {{বাউ|কে. এম. কামরুল কাদের}}
* {{বাউ|কে. এম. জাহিদ সারওয়ার}}
* {{বাউ|কে. এম. শিহাব উদ্দিন}}
* {{বাউ|কে. এম. হাফিজুল আলম}}
* {{বাউ|কে. এম. হাসান}}
* {{বাউ|কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ}}
* {{বাউ|কেতকী কুশারী ডাইসন}}
* {{বাউ|কেতায়ুন আরদেশির দিনশ}}
* {{বাউ|কেদার ও বদ্রী}}
* {{বাউ|কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেদারনাথ দাস}}
* {{বাউ|কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেদারনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|কেদারেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|কেরামত মওলা}}
* {{বাউ|কেশব চন্দ্র নাগ}}
* {{বাউ|কৈলাসচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|কৈলাসচন্দ্র বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|কোনাল}}
* {{বাউ|কোরেশী মাগন ঠাকুর}}
* {{বাউ|কৌশিক বসু}}
* {{বাউ|ক্যাথরিন মাসুদ}}
* {{বাউ|ক্রসউইন্ডস}}
* {{বাউ|ক্রিপটিক ফেইট}}
* {{বাউ|ক্লডিয়াস জেমস এরস্কাইন}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|ক্ষিতীন্দ্রমোহন নাহা}}
* {{বাউ|ক্ষিরোদচন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ}}
* {{বাউ|ক্ষুদিরাম দাস}}
* {{বাউ|ক্ষেত্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|ক্ষেত্রেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|খগেন্দ্র চন্দ্র দাশ}}
* {{বাউ|খগেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|খন্দকার আবদুল হাফিজ}}
* {{বাউ|খন্দকার আবদুল হামিদ}}
* {{বাউ|খন্দকার আবু বকর (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|খন্দকার নুরুল আলম}}
* {{বাউ|খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|খন্দকার মাহবুব হোসেন}}
* {{বাউ|খন্দকার মুসা খালেদ}}
* {{বাউ|খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম}}
* {{বাউ|খন্দকার শামস্ উদ্দিন আহাম্মাদ}}
* {{বাউ|খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী}}
* {{বাউ|খন্দকার সুমন}}
* {{বাউ|খলিল উল্লাহ খান}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|খলিলুর রহমান বাবর}}
* {{বাউ|খাঁন মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ্ আল মেহেদী}}
* {{বাউ|খাজা ওয়াসিউদ্দিন}}
* {{বাউ|খাজা মোহাম্মদ কায়সার}}
* {{বাউ|খাতুন সাপনারা}}
* {{বাউ|খাদেম হোসেন খান}}
* {{বাউ|খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|খান আসিফুর রহমান আগুন}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর আবদুল করিম}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর জিয়াউল হক}}
* {{বাউ|খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দিন আহম্মদ}}
* {{বাউ|খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন}}
* {{বাউ|খান মোহাম্মদ ফারাবী}}
* {{বাউ|খান মোহাম্মদ সালেক}}
* {{বাউ|খান শামসুর রহমান}}
* {{বাউ|খান সারওয়ার মুরশিদ}}
* {{বাউ|খান-এ-সবুর}}
* {{বাউ|খায়রুজ্জামান}}
* {{বাউ|খায়রুল আনাম শাকিল}}
* {{বাউ|খায়রুল আলম সবুজ}}
* {{বাউ|খালিকুজ্জামান ইলিয়াস}}
* {{বাউ|খালিদ মাহমুদ মিঠু}}
* {{বাউ|খালিদ হাসান মিলু}}
* {{বাউ|খালিদ হোসেন}}
* {{বাউ|খালেক নওয়াজ খান}}
* {{বাউ|খালেক বিন জয়েন উদ্দীন}}
* {{বাউ|খালেকদাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|খালেদ খান}}
* {{বাউ|খালেদা আদিব চৌধুরী}}
* {{বাউ|খালেদা একরাম}}
* {{বাউ|খালেদা মনযূর-এ-খুদা}}
* {{বাউ|খিজির আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|খিজির হায়াত}}
* {{বাউ|খিজির হায়াত খান}}
* {{বাউ|খুজিস্তা আখতার বানু}}
* {{বাউ|খুররম খান পন্নী}}
* {{বাউ|খুরশিদ আলম}}
* {{বাউ|খুরশিদ খান}}
* {{বাউ|খুশি কবীর}}
* {{বাউ|খোদা বক্স}}
* {{বাউ|খোদেজা আজম}}
* {{বাউ|খোদেজা খাতুন}}
* {{বাউ|খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ}}
* {{বাউ|খোন্দকার দিলীরুজ্জামান}}
* {{বাউ|খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|খোন্দকার নাসিরউদ্দিন}}
* {{বাউ|খোন্দকার মনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|খোশনূর আলমগীর}}
* {{বাউ|খ্যান্ত বালা রায়}}
* {{বাউ|গওহর জামিল}}
* {{বাউ|গগনচন্দ্র বিশ্বাস}}
* {{বাউ|গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গঙ্গাধর সেন রায়}}
* {{বাউ|গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গজেন্দ্রকুমার মিত্র}}
* {{বাউ|গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|গণেশ পাইন}}
* {{বাউ|গণেশ হালুই}}
* {{বাউ|গন্ডালু}}
* {{বাউ|গমির উদ্দিন প্রধান}}
* {{বাউ|গাজী আতাউর রহমান}}
* {{বাউ|গাজী আবদুল হাকিম}}
* {{বাউ|গাজী আব্দুল হক}}
* {{বাউ|গাজী এমএইচ তামিম}}
* {{বাউ|গাজী নাফিস আহমেদ}}
* {{বাউ|গাজী মাজহারুল আনোয়ার}}
* {{বাউ|গাজী রাকায়েত}}
* {{বাউ|গাজী শামছুর রহমান}}
* {{বাউ|গাজীউল হক}}
* {{বাউ|গাজীউল হাসান খান}}
* {{বাউ|গান্ধী আশ্রম}}
* {{বাউ|গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট}}
* {{বাউ|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}}
* {{বাউ|গার্গী গুপ্ত}}
* {{বাউ|গিয়াস উদ্দিন সেলিম}}
* {{বাউ|গিয়াস কামাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|গিয়াসউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|গিয়াসউদ্দীন মিয়া}}
* {{বাউ|গিয়াসুদ্দিন দালাল}}
* {{বাউ|গিরিজাপতি ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গিরিবালা দেবী}}
* {{বাউ|গিরিশ চন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|গিরিশচন্দ্র ঘোষ (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন}}
* {{বাউ|গিরীন্দ্রশেখর বসু}}
* {{বাউ|গিরীশ চন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|গীতা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গুণময় মান্না}}
* {{বাউ|গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গুরুনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|গুরুপ্রসাদ সেন}}
* {{বাউ|গুরুসদয় দত্ত}}
* {{বাউ|গুল মোহাম্মদ খাঁ}}
* {{বাউ|গোকুলচন্দ্র নাগ}}
* {{বাউ|গোগোল}}
* {{বাউ|গোপাল ঘোষ}}
* {{বাউ|গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|গোপাল হালদার}}
* {{বাউ|গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গোপালচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|গোপালদাস চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোপালদাস মজুমদার}}
* {{বাউ|গোপালের মা}}
* {{বাউ|গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু}}
* {{বাউ|গোবর্ধন আচার্য}}
* {{বাউ|গোবর্ধন আশ}}
* {{বাউ|গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর}}
* {{বাউ|গোবিন্দচন্দ্র দাস}}
* {{বাউ|গোবিন্দচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|গোবিন্দদাস}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা কৌশিক}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা গার্গী}}
* {{বাউ|গোয়েন্দা বরদাচরণ}}
* {{বাউ|গোলাপ মা}}
* {{বাউ|গোলাম আবু জাকারিয়া}}
* {{বাউ|গোলাম আরিফ টিপু}}
* {{বাউ|গোলাম আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোলাম কবীর}}
* {{বাউ|গোলাম কাসেম}}
* {{বাউ|গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|গোলাম কুদ্দুস}}
* {{বাউ|গোলাম জিলানী চৌধুরী}}
* {{বাউ|গোলাম মওলা}}
* {{বাউ|গোলাম মর্তুজা মজুমদার}}
* {{বাউ|গোলাম মাওলা (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|গোলাম মুরশিদ}}
* {{বাউ|গোলাম মুসাব্বির রাকিব}}
* {{বাউ|গোলাম মুস্তাফা (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|গোলাম মুস্তাফা (আলোকচিত্র শিল্পী)}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা (শহীদ বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|গোলাম মোস্তফা খান (নৃত্যশিল্পী)}}
* {{বাউ|গোলাম রহমান (শিশুসাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|গোলাম রাব্বানী বিপ্লব}}
* {{বাউ|গোলাম সাকলায়েন}}
* {{বাউ|গোলাম সামদানী কোরায়শী}}
* {{বাউ|গোলাম সামদানী ফকির}}
* {{বাউ|গোলাম সারওয়ার}}
* {{বাউ|গোলাম সারওয়ার (কূটনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|গোলাম হাসনায়েন}}
* {{বাউ|গৌতম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|গৌতম চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|গৌতম বসু}}
* {{বাউ|গৌতম বুদ্ধ দাশ}}
* {{বাউ|গৌতম ভদ্র}}
* {{বাউ|গৌর গোপাল সাহা}}
* {{বাউ|গৌরগোবিন্দ রায়}}
* {{বাউ|গৌরচন্দ্র বালা}}
* {{বাউ|গৌরদাস বসাক}}
* {{বাউ|গৌরমোহন আঢ্য}}
* {{বাউ|গৌরী আইয়ুব}}
* {{বাউ|গৌরী ধর্মপাল}}
* {{বাউ|গৌরী ভঞ্জ}}
* {{বাউ|গৌরী মা}}
* {{বাউ|গৌরী সেন}}
* {{বাউ|গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার}}
* {{বাউ|ঘনরাম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ঘনাদা}}
* {{বাউ|চক্রপাণি দত্ত}}
* {{বাউ|চঞ্চল কর্মকার}}
* {{বাউ|চঞ্চল কুমার মজুমদার}}
* {{বাউ|চণ্ডী লাহিড়ী}}
* {{বাউ|চণ্ডীচরণ মুনশী}}
* {{বাউ|চণ্ডীচরণ সেন}}
* {{বাউ|চণ্ডীদাস মাল}}
* {{বাউ|চন্দক সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|চন্দন কুমার ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|চন্দন বিশ্বাস}}
* {{বাউ|চন্দ্র কালিন্দী রায় হেনরিকসন}}
* {{বাউ|চন্দ্র শেখর দে}}
* {{বাউ|চন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|চন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|চন্দ্রমুখী বসু}}
* {{বাউ|চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন}}
* {{বাউ|চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চন্দ্রিল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চপলাকান্ত ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চয়নিকা চৌধুরী}}
* {{বাউ|চামেলী বসু}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র বিশ্বাস}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|চারুচন্দ্র সান্যাল}}
* {{বাউ|চারুলতা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|চারুশিতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|চাষী আলম}}
* {{বাউ|চাষী নজরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|চিণ্ময় শংকর দে}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন দেব}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন মাইতি}}
* {{বাউ|চিত্তরঞ্জন সাহা}}
* {{বাউ|চিত্রনিভা চৌধুরী}}
* {{বাউ|চিত্রা দত্ত}}
* {{বাউ|চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় দিবাকরূণী}}
* {{বাউ|চিত্রা মণ্ডল}}
* {{বাউ|চিদানন্দ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|চিন্তামণি কর}}
* {{বাউ|চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও}}
* {{বাউ|চিন্ময় গুহ}}
* {{বাউ|চিরকুট}}
* {{বাউ|চুণীলাল বসু}}
* {{বাউ|চুনি কোটাল}}
* {{বাউ|চৌধুরী আবদুল হাই}}
* {{বাউ|চৌধুরী এ.টি.এম মাসুদ}}
* {{বাউ|চৌধুরী গোলাম আকবর}}
* {{বাউ|চৌধুরী মাহমুদ হাসান}}
* {{বাউ|চৌধুরী মোফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|ছটকু আহমেদ}}
* {{বাউ|ছদরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ছন্দা গায়েন}}
* {{বাউ|ছবি বিশ্বাস}}
* {{বাউ|ছরওয়ার জান মিয়া}}
* {{বাউ|ছিদ্দিক আহমদ}}
* {{বাউ|জকি আহাদ}}
* {{বাউ|জগদীশ গুপ্ত}}
* {{বাউ|জগদীশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জগন্নাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন}}
* {{বাউ|জগন্নাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|জগন্মোহিনী দেবী}}
* {{বাউ|জগুমামা}}
* {{বাউ|জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন}}
* {{বাউ|জন গোমেজ}}
* {{বাউ|জন প্যাক্সটন নরম্যান}}
* {{বাউ|জনাব আলী উকিল}}
* {{বাউ|জমির উদ্দিন সরকার}}
* {{বাউ|জয় ভট্টাচার্য (চিকিৎসক-বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জয় সরকার}}
* {{বাউ|জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়গোপাল তর্কালঙ্কার}}
* {{বাউ|জয়তী বসু}}
* {{বাউ|জয়দীপ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|জয়দেব}}
* {{বাউ|জয়দেব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়নুল আবেদীন জায়েদী}}
* {{বাউ|জয়ন্ত (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|জয়ন্ত দে}}
* {{বাউ|জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জয়ন্তানুজ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জয়শ্রী বর্মণ}}
* {{বাউ|জয়া পতি}}
* {{বাউ|জর্জ র্যাঙ্কিন (বিচারক)}}
* {{বাউ|জর্জ হ্যারি ল্যাংলি}}
* {{বাউ|জলধর সেন}}
* {{বাউ|জলের গান}}
* {{বাউ|জসিম উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জসিম সালাম}}
* {{বাউ|জসিমুদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জসীম উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|জহিরুদ্দিন (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|জহিরুল আলম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|জহুর হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|জহুরুল করিম}}
* {{বাউ|জহুরুল হক (অনুবাদক)}}
* {{বাউ|জাইমা রহমান}}
* {{বাউ|জাওয়াদুল হক}}
* {{বাউ|জাওয়েদ করিম}}
* {{বাউ|জাকিয়া সুলতানা}}
* {{বাউ|জাকির খান}}
* {{বাউ|জাকির তালুকদার}}
* {{বাউ|জাকির হোসেন রাজু}}
* {{বাউ|জানকীনাথ বসু}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|জান্নাতুল ফেরদৌস আইভি}}
* {{বাউ|জাফর আলম (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|জাফর আহমেদ}}
* {{বাউ|জাফর ইকবাল (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|জাফর ওয়াজেদ}}
* {{বাউ|জাফর মুহাম্মদ লুৎফর}}
* {{বাউ|জামালউদ্দিন হোসেন}}
* {{বাউ|জামালউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|জামিল চৌধুরী}}
* {{বাউ|জামিলুর রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|জায়েদ বখত}}
* {{বাউ|জারিন তাসনিম নাওমি}}
* {{বাউ|জালাল উদ্দিন খাঁ}}
* {{বাউ|জালালুদ্দিন আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর আলম খান}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর কবির (কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর কবির নানক}}
* {{বাউ|জাহাঙ্গীর হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|জাহানারা আরজু}}
* {{বাউ|জাহানারা আহমেদ}}
* {{বাউ|জাহানারা ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|জাহিদ আকবর}}
* {{বাউ|জাহিদ সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|জাহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|জাহিদুর রহিম অঞ্জন}}
* {{বাউ|জাহিদুল হক}}
* {{বাউ|জাহেদুর রহিম}}
* {{বাউ|জাহ্নবা দেবী}}
* {{বাউ|জাহ্নবী চৌধুরানী}}
* {{বাউ|জি এ মান্নান}}
* {{বাউ|জি এম বি আকাশ}}
* {{বাউ|জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|জিংগা শিল্পগোষ্ঠী}}
* {{বাউ|জিকরুল হক}}
* {{বাউ|জিতেন ঘোষ}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ কুশারী}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জিতেন্দ্রমোহন সেন}}
* {{বাউ|জিনবোধি ভিক্ষু}}
* {{বাউ|জিনাত আরা}}
* {{বাউ|জিনাত বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম}}
* {{বাউ|জিয়াউর রহমান খান}}
* {{বাউ|জিয়াউর রহমান জিয়া}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক (সমাজসেবক)}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক পলাশ}}
* {{বাউ|জিয়াউল হক মৃধা}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|জিৎ গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|জীব গোস্বামী}}
* {{বাউ|জীবন রতন ধর}}
* {{বাউ|জীবন রহমান}}
* {{বাউ|জীবনানন্দ দাশ}}
* {{বাউ|জুনাব আলী}}
* {{বাউ|জুনায়েদ আহমেদ}}
* {{বাউ|জুবায়ের রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|জুবায়ের সালেহীন}}
* {{বাউ|জুবেদ আলী}}
* {{বাউ|জুয়েনা আজিজ}}
* {{বাউ|জুলফিকার মতিন}}
* {{বাউ|জুলফিকার রাসেল}}
* {{বাউ|জুলফিকুর রহমান}}
* {{বাউ|জুলহাস উদ্দিন}}
* {{বাউ|জুলহাস উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|জুলেখা হক}}
* {{বাউ|জে. বি. এম. হাসান}}
* {{বাউ|জেএন দেব চৌধুরী}}
* {{বাউ|জেড আই খান পান্না}}
* {{বাউ|জেড এইচ মিন্টু}}
* {{বাউ|জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ}}
* {{বাউ|জেব-উন-নেসা জামাল}}
* {{বাউ|জেবা ইসলাম সিরাজ}}
* {{বাউ|জেবুন্নেসা রহমান}}
* {{বাউ|জেমস (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|জেমস উইলিয়াম কলভিল}}
* {{বাউ|জেলিনা-বার্লো রহমান}}
* {{বাউ|জেহাদ খান}}
* {{বাউ|জোছন দস্তিদার}}
* {{বাউ|জোবাইদা রহমান}}
* {{বাউ|জোবেদা খানম}}
* {{বাউ|জোহরা বেগম কাজী}}
* {{বাউ|জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|জ্ঞানদাস}}
* {{বাউ|জ্ঞানশ্রী মহাথের}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায়}}
* {{বাউ|জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস}}
* {{বাউ|জ্যোতিঃপাল মহাথের}}
* {{বাউ|জ্যোতিভূষণ চাকী}}
* {{বাউ|জ্যোতিভূষণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময় দত্ত}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|জ্যোতির্ময়ী দেবী}}
* {{বাউ|জ্যোতিষচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|জ্যোৎস্না বিশ্বাস}}
* {{বাউ|জ্যোৎস্নাকান্ত বসু}}
* {{বাউ|ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ}}
* {{বাউ|ঝর্ণা ধারা চৌধুরী}}
* {{বাউ|ঝর্না রহমান}}
* {{বাউ|ঝুম্পা লাহিড়ী}}
* {{বাউ|টমাস হোবার্ট এলিস}}
* {{বাউ|টি আলী}}
* {{বাউ|টি এইচ খান}}
* {{বাউ|টি. এস. শিবজ্ঞানম}}
* {{বাউ|টিনা সানি}}
* {{বাউ|টিপু আজিজ}}
* {{বাউ|টেনিদা}}
* {{বাউ|ডালিয়া নওশিন}}
* {{বাউ|ডালেম চন্দ্র বর্মণ}}
* {{বাউ|ডিজে রাহাত}}
* {{বাউ|ডিফারেন্ট টাচ}}
* {{বাউ|ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তনিষ্ক বাগচী}}
* {{বাউ|তন্ময় বোস}}
* {{বাউ|তপংকর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তপতী গুহ-ঠাকুরতা}}
* {{বাউ|তপন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তপন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তপন বাগচী}}
* {{বাউ|তপন রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|তপনকুমার লাহিড়ী}}
* {{বাউ|তপু}}
* {{বাউ|তপোবিজয় ঘোষ}}
* {{বাউ|তবারক হুসাইন}}
* {{বাউ|তমাল লতা আদিত্য}}
* {{বাউ|তমিজ উদ্দিন রিজভী}}
* {{বাউ|তরু দত্ত}}
* {{বাউ|তরুণ রায় (ধনঞ্জয় বৈরাগী)}}
* {{বাউ|তসলিমুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|তাকসিম আহমেদ খান}}
* {{বাউ|তাজিন আহমেদ}}
* {{বাউ|তাজুল মোহম্মদ}}
* {{বাউ|তাতার (চরিত্র)}}
* {{বাউ|তানজিমা হাশেম}}
* {{বাউ|তানজির তুহিন}}
* {{বাউ|তানভীর ইভান}}
* {{বাউ|তানভীর তারেক}}
* {{বাউ|তানভীর হাসান}}
* {{বাউ|তানিম নূর}}
* {{বাউ|তানিম রহমান অংশু}}
* {{বাউ|তানিয়া আমির}}
* {{বাউ|তানিয়া আহমেদ}}
* {{বাউ|তাপস কুমার মাঝি}}
* {{বাউ|তাপস দাস}}
* {{বাউ|তাপস মজুমদার}}
* {{বাউ|তাপস সেন}}
* {{বাউ|তাফাজ্জাল ইসলাম}}
* {{বাউ|তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারকমোহন দাস}}
* {{বাউ|তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারানাথ তর্কবাচস্পতি}}
* {{বাউ|তারানাথ তান্ত্রিক}}
* {{বাউ|তারাপদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তারাপদ ভৌমিক}}
* {{বাউ|তারাপদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|তারাপদ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|তারাপদ সাঁতরা}}
* {{বাউ|তারামন বিবি}}
* {{বাউ|তারিক আহমদ করিম}}
* {{বাউ|তারিক আহসান}}
* {{বাউ|তারিক উল হাকিম}}
* {{বাউ|তারিক ফাতেমি}}
* {{বাউ|তারিক সুজাত}}
* {{বাউ|তারিণীখুড়ো}}
* {{বাউ|তারেক মো. আরিফুল ইসলাম}}
* {{বাউ|তালিম হোসেন}}
* {{বাউ|তালুকদার মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস}}
* {{বাউ|তাসলিমা আখতার}}
* {{বাউ|তাহমিমা আনাম}}
* {{বাউ|তাহরুন নেসা আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|তাহসান রহমান খান}}
* {{বাউ|তাহেরন নেসা}}
* {{বাউ|তাহেরা কবির}}
* {{বাউ|তিব্বতিবাবা}}
* {{বাউ|তিলোত্তমা মজুমদার}}
* {{বাউ|তিশমা}}
* {{বাউ|তিস্তা বাগচী}}
* {{বাউ|তুলিকা বসু}}
* {{বাউ|তুষার কান্তি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|তুষারকান্তি ঘোষ}}
* {{বাউ|তুহিন দাস (লেখক)}}
* {{বাউ|তুহিনকান্তি ঘোষ}}
* {{বাউ|তেজস হালদার যশ}}
* {{বাউ|তৈয়বা বেগম লিপি}}
* {{বাউ|তৈয়বা মজুমদার}}
* {{বাউ|তোজাম্মেল টনি হক}}
* {{বাউ|তোজাম্মেল হক বকুল}}
* {{বাউ|তোফাজ্জল হোসেন}}
* {{বাউ|তোফায়েল আহমদ}}
* {{বাউ|তোফায়েল করিম হায়দার}}
* {{বাউ|তোয়াব খান}}
* {{বাউ|তৌকীর আহমেদ}}
* {{বাউ|তৌফিক ইসলাম শাতিল}}
* {{বাউ|তৌফিক নওয়াজ}}
* {{বাউ|তৌসিফ}}
* {{বাউ|ত্রিদিব মিত্র}}
* {{বাউ|ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার}}
* {{বাউ|দবির উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|দময়ন্তী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|দলছুট}}
* {{বাউ|দস্যু বনহুর}}
* {{বাউ|দস্যু মোহন}}
* {{বাউ|দাউদ হায়দার}}
* {{বাউ|দামোদর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দারাশিকো}}
* {{বাউ|দিদার ইসলাম}}
* {{বাউ|দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দিব্যেন্দু নন্দী}}
* {{বাউ|দিব্যেন্দু পালিত}}
* {{বাউ|দিলওয়ার}}
* {{বাউ|দিলরুবা আহমেদ}}
* {{বাউ|দিলরুবা জেড আরা}}
* {{বাউ|দিলশাদ নাহার কনা}}
* {{বাউ|দিলারা বেগম জলি}}
* {{বাউ|দিলারা হাশেম}}
* {{বাউ|দিলীপ বাগচী}}
* {{বাউ|দিলীপ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দিলীপ মজুমদার}}
* {{বাউ|দিলীপ মহলানবিশ}}
* {{বাউ|দিলীপকুমার বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দিলীপকুমার রায়}}
* {{বাউ|দীন মোহাম্মদ নূরুল হক}}
* {{বাউ|দীন শরৎ}}
* {{বাউ|দীননাথ সেন}}
* {{বাউ|দীনেন্দ্রকুমার রায়}}
* {{বাউ|দীনেশ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীনেশ দাস}}
* {{বাউ|দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দীনেশরঞ্জন দাশ}}
* {{বাউ|দীপ নারায়ণ সিনহা}}
* {{বাউ|দীপংকর দীপন}}
* {{বাউ|দীপক চৌধুরী}}
* {{বাউ|দীপক চ্যাটার্জী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|দীপক মজুমদার}}
* {{বাউ|দীপক রায়}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর দাস শর্মা}}
* {{বাউ|দীপঙ্কর হোম}}
* {{বাউ|দীপন ঘোষ}}
* {{বাউ|দীপান্বিতা রায়}}
* {{বাউ|দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দীপেশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দীপ্তেন্দ্রকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|দুঃখহরণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দুর্গাচরণ রক্ষিত}}
* {{বাউ|দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দুর্গাদাস সাহা}}
* {{বাউ|দুর্গামোহন দাশ}}
* {{বাউ|দুর্বিন শাহ}}
* {{বাউ|দুলাল তর্কবাগীশ}}
* {{বাউ|দুলেন্দ্র ভৌমিক}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুর রব চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুল কাদির}}
* {{বাউ|দেওয়ান আব্দুল বাছিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেওয়ান নজরুল}}
* {{বাউ|দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন}}
* {{বাউ|দেওয়ান লালন আহমেদ}}
* {{বাউ|দেবজ্যোতি মিশ্র}}
* {{বাউ|দেবদাস}}
* {{বাউ|দেবদাস চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|দেবপ্রসাদ ঘোষ}}
* {{বাউ|দেবপ্রসাদ সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবপ্রিয়া রায়}}
* {{বাউ|দেবব্রত গোস্বামী}}
* {{বাউ|দেবল দেববর্মা}}
* {{বাউ|দেবলা মিত্র}}
* {{বাউ|দেবশঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|দেবাশীষ ঘোষ}}
* {{বাউ|দেবাশীষ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|দেবাশীষ রায়}}
* {{বাউ|দেবাশীষ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|দেবী রায়}}
* {{বাউ|দেবীপদ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (মার্কসবাদী)}}
* {{বাউ|দেবীপ্রসাদ দুয়ারী}}
* {{বাউ|দেবু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবেন্দ্র মোহন বসু}}
* {{বাউ|দেবেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|দেবেশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|দেবেশ রায়}}
* {{বাউ|দেলওয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|দোনাগাজী চৌধুরী}}
* {{বাউ|দোম আন্তোনিও}}
* {{বাউ|দৌলত উজির বাহরাম খান}}
* {{বাউ|দৌলতুননেসা খাতুন}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ অধিকারী}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ মিত্র}}
* {{বাউ|দ্বারকানাথ রায়}}
* {{বাউ|দ্বিজ কানাই}} [[ব্যবহারকারী:Vugon kumar|Vugon kumar]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Vugon kumar|আলাপ]]) ২১:৫৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|দ্বিজ বংশীদাস}}
* {{বাউ|দ্বিজ মাধব}}
* {{বাউ|দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|দ্রাবিড় সৈকত}}
* {{বাউ|ধন গোপাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ধনঞ্জয় সাহা}}
* {{বাউ|ধীর আলী মিয়া}}
* {{বাউ|ধীরাজ কুমার নাথ}}
* {{বাউ|ধীরাজ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|ধীরেন বল}}
* {{বাউ|ধীরেন বসু}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেববর্মন}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রনাথ বেরা}}
* {{বাউ|ধীরেন্দ্রলাল ধর}}
* {{বাউ|ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী}}
* {{বাউ|ধোয়ী}}
* {{বাউ|নঈম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নঈম নিজাম}}
* {{বাউ|নওয়াজেশ আহমদ}}
* {{বাউ|নওয়াজেস আহমদ}}
* {{বাউ|নওয়াব আলী}}
* {{বাউ|নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী}}
* {{বাউ|নওশের আলী খান ইউস্ফজী}}
* {{বাউ|নকীব খান}}
* {{বাউ|নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ}}
* {{বাউ|নকুল কুমার বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নকুলেশ্বর দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রচন্দ্র শ্যাম}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|নগেন্দ্রনাথ সোম}}
* {{বাউ|নচিকেতা ঘোষ}}
* {{বাউ|নচিকেতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম চৌধুরী (বিচারক)}}
* {{বাউ|নজরুল ইসলাম বাবু}}
* {{বাউ|ননী ভৌমিক}}
* {{বাউ|ননীগোপাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ননীগোপাল মজুমদার}}
* {{বাউ|নন্টে ফন্টে}}
* {{বাউ|নন্দলাল বসু}}
* {{বাউ|নন্দিনী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নব কুমার ভদ্র}}
* {{বাউ|নবকুমার বসু}}
* {{বাউ|নবগোপাল মিত্র}}
* {{বাউ|নবাব আবদুল লতীফ}}
* {{বাউ|নবীন চন্দ্র পাল}}
* {{বাউ|নবীনচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|নবেন্দু ঘোষ}}
* {{বাউ|নয়ীম গহর}}
* {{বাউ|নরসিংহ দত্ত}}
* {{বাউ|নরেন্দ্র দেব}}
* {{বাউ|নরেন্দ্রনাথ দত্ত (শিল্পপতি)}}
* {{বাউ|নরেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নরোত্তম দাস}}
* {{বাউ|নলিনচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|নলিনাক্ষ সান্যাল}}
* {{বাউ|নলিনী দাশ (লেখিকা)}}
* {{বাউ|নলিনী বেরা}}
* {{বাউ|নলিনীকান্ত ভট্টশালী}}
* {{বাউ|নলিনীকান্ত সরকার}}
* {{বাউ|নলিনীকিশোর গুহ}}
* {{বাউ|নলিনীরঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নাইমা হায়দার}}
* {{বাউ|নাঈম মোহাইমিন}}
* {{বাউ|নাঈমুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নাজনীন হাসান চুমকি}}
* {{বাউ|নাজমুন আরা সুলতানা}}
* {{বাউ|নাজমুন নেসা পিয়ারি}}
* {{বাউ|নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি}}
* {{বাউ|নাজমুল আলম}}
* {{বাউ|নাজমুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নাজমুল কাওনাইন}}
* {{বাউ|নাজমুল হক বাপ্পী}}
* {{বাউ|নাজমুল হুদা বাচ্চু}}
* {{বাউ|নাজমুল হুদা মিন্টু}}
* {{বাউ|নাজিব তারেক}}
* {{বাউ|নাজিবুর রহমান মোমেন}}
* {{বাউ|নাজিম উদ দৌলা}}
* {{বাউ|নাজিম উদ্দিন মোস্তান}}
* {{বাউ|নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা}}
* {{বাউ|নাদিয়া শারমীন}}
* {{বাউ|নাদিরা মজুমদার}}
* {{বাউ|নাদের চৌধুরী}}
* {{বাউ|নাদেরা বেগম}}
* {{বাউ|নাফিস বিন যাফর}}
* {{বাউ|নাবিলা ইদ্রিস}}
* {{বাউ|নাভিদ মাহবুব}}
* {{বাউ|নাভেদ পারভেজ}}
* {{বাউ|নায়না দেবী (সঙ্গীতশিল্পী)}}
* {{বাউ|নায়লা কবীর}}
* {{বাউ|নায়েব উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|নারগিস আক্তার}}
* {{বাউ|নারায়ণ ঘোষ মিতা}}
* {{বাউ|নারায়ণ দেবনাথ}}
* {{বাউ|নারায়ণ রায়}}
* {{বাউ|নারায়ণ সান্যাল}}
* {{বাউ|নাশিদ কামাল}}
* {{বাউ|নাসরিন আক্তার}}
* {{বাউ|নাসরীন জাহান}}
* {{বাউ|নাসরীন পারভীন হক}}
* {{বাউ|নাসিম বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নাসিমা আক্তার}}
* {{বাউ|নাসিমা আনিস}}
* {{বাউ|নাসিমা খান মন্টি}}
* {{বাউ|নাসিমা ফেরদৌসী (কূটনৈতিক)}}
* {{বাউ|নাসিমা হায়দার}}
* {{বাউ|নাসির আলী মামুন}}
* {{বাউ|নাসির উদ্দিন বিশ্বাস}}
* {{বাউ|নাহিদ রশীদ (সচিব)}}
* {{বাউ|নাহিদা সোবহান}}
* {{বাউ|নিকুঞ্জ সেন}}
* {{বাউ|নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নিখিল রঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|নিখিল সরকার}}
* {{বাউ|নিখিল সেন}}
* {{বাউ|নিখিলজ্যোতি ঘোষ}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দিন}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|নিজাম উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|নিজামউদ্দিন আহমেদ (স্থপতি)}}
* {{বাউ|নিজামুদ্দীন আউলিয়া লিপু}}
* {{বাউ|নিতাই চন্দ্র সূত্রধর}}
* {{বাউ|নিতাই রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|নিতুন কুন্ডু}}
* {{বাউ|নিত্যপ্রিয় ঘোষ}}
* {{বাউ|নিত্যানন্দ সাহা (ভারতীয় অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|নিপুন রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|নিবিড় মণ্ডল}}
* {{বাউ|নিবেদিতা সেন}}
* {{বাউ|নিমচন্দ্র ভৌমিক}}
* {{বাউ|নিমাই ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|নিমাইসাধন বসু}}
* {{বাউ|নিয়াজ জামান}}
* {{বাউ|নিয়ামুল মুক্তা}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন ধর}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন প্রধান}}
* {{বাউ|নিরঞ্জন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নিরঞ্জনপ্রসাদ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|নিরুপমা দেবী}}
* {{বাউ|নিরুপমা দেবী (সেন)}}
* {{বাউ|নির্মল কুমার গাঙ্গুলী}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার বসু}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|নির্মলকুমার সিদ্ধান্ত}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র চন্দ্র}}
* {{বাউ|নির্মলচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|নির্মলা জোশী}}
* {{বাউ|নির্মলেন্দু চৌধুরী}}
* {{বাউ|নির্মাল্য আচার্য}}
* {{বাউ|নিলয়ন চ্যাটার্জী}}
* {{বাউ|নিশিতা নির্মল মাহাত্রে}}
* {{বাউ|নিশীথরঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|নীতা সেন}}
* {{বাউ|নীতিশ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|নীতীন বসু}}
* {{বাউ|নীতীশচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|নীনা হামিদ}}
* {{বাউ|নীরদ বরণ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|নীরদ মজুমদার}}
* {{বাউ|নীল দত্ত}}
* {{বাউ|নীল মানুষ}}
* {{বাউ|নীলমণি ন্যায়ালঙ্কার}}
* {{বাউ|নীলরতন ধর}}
* {{বাউ|নীলরতন সরকার}}
* {{বাউ|নীলাঞ্জনা রায়}}
* {{বাউ|নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|নীলিমা সেন}}
* {{বাউ|নীলুফার ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|নীহাররঞ্জন গুপ্ত}}
* {{বাউ|নীহাররঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন}}
* {{বাউ|নুরুন নবী}}
* {{বাউ|নুরুননাহার ফয়জননেসা}}
* {{বাউ|নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম}}
* {{বাউ|নুরুন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী}}
* {{বাউ|নুরুল আজিম}}
* {{বাউ|নুরুল আমিন}}
* {{বাউ|নুরুল আলম আতিক}}
* {{বাউ|নুরুল আলম চৌধুরী}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম জিহাদী}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম নুরুল}}
* {{বাউ|নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী}}
* {{বাউ|নুরুল মোমেন}}
* {{বাউ|নুরুল মোস্তফা}}
* {{বাউ|নুহাশ হুমায়ূন}}
* {{বাউ|নূতন চন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|নূর আহমদ}}
* {{বাউ|নূর ইমরান মিঠু}}
* {{বাউ|নূর মোহাম্মদ (আইজিপি)}}
* {{বাউ|নূর মোহাম্মদ (শিক্ষানুরাগী)}}
* {{বাউ|নূর হুসাইন}}
* {{বাউ|নূর হুসাইন কাসেমী}}
* {{বাউ|নূরজাহান বেগম মুক্তা}}
* {{বাউ|নূরজাহান বোস}}
* {{বাউ|নূরজাহান মুর্শিদ}}
* {{বাউ|নূরুল আনোয়ার (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|নূরুল আলম}}
* {{বাউ|নূরুল ইসলাম ওলীপুরী}}
* {{বাউ|নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদ}}
* {{বাউ|নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন}}
* {{বাউ|নূহ-উল-আলম লেনিন}}
* {{বাউ|নৃপেন ভৌমিক}}
* {{বাউ|নৃপেন্দ্র নাথ সরকার}}
* {{বাউ|নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|নেছারউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|নেপাল মজুমদার}}
* {{বাউ|নেয়ামত ইমাম}}
* {{বাউ|নেয়ামাল বাসির}}
* {{বাউ|নেলী সেনগুপ্তা}}
* {{বাউ|নৈরঞ্জনা ঘোষ}}
* {{বাউ|নোরা জোন্স}}
* {{বাউ|পঞ্চানন ঘোষাল}}
* {{বাউ|পঞ্চানন নিয়োগী}}
* {{বাউ|পঞ্চানন মণ্ডল}}
* {{বাউ|পঞ্চানন মিত্র}}
* {{বাউ|পটলা}}
* {{বাউ|পণ্ডিত জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী}}
* {{বাউ|পদার্থবিদ্যার পালিত অধ্যাপক}}
* {{বাউ|পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাবিনোদ}}
* {{বাউ|পবন দাস বাউল}}
* {{বাউ|পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পবিত্র মোহন দে}}
* {{বাউ|পবিত্র সরকার}}
* {{বাউ|পবিত্রকুমার সেন}}
* {{বাউ|পরমনাথ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|পরমেশ্বরন থাঙ্কাপ্পান নায়ার}}
* {{বাউ|পরাশর বর্মা}}
* {{বাউ|পরিমল গোস্বামী}}
* {{বাউ|পরেশ ধর}}
* {{বাউ|পরেশ মাইতি}}
* {{বাউ|পরেশনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পলান সরকার}}
* {{বাউ|পলাশ মাহবুব}}
* {{বাউ|পলাশ সরকার}}
* {{বাউ|পলি রায়}}
* {{বাউ|পশুপতি ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|পাঁচকড়ি দে}}
* {{বাউ|পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পাগলা কানাই}}
* {{বাউ|পাগলা দাশু}}
* {{বাউ|পাঞ্জু শাহ}}
* {{বাউ|পাণ্ডব গোয়েন্দা}}
* {{বাউ|পানু পাল}}
* {{বাউ|পান্থ কানাই}}
* {{বাউ|পান্না কায়সার}}
* {{বাউ|পান্নালাল ঘোষ}}
* {{বাউ|পান্নালাল বসু}}
* {{বাউ|পাপড়ি বসু}}
* {{বাউ|পাপিয়া সারোয়ার}}
* {{বাউ|পাভেল রহমান}}
* {{বাউ|পারভীন হাসান}}
* {{বাউ|পারভেজ রব}}
* {{বাউ|পারভেজ হোসেন}}
* {{বাউ|পারুল ঘোষ}}
* {{বাউ|পার্থ ঘোষ}}
* {{বাউ|পার্থ চট্টোপাধ্যায় (নৃতত্ত্ববিদ)}}
* {{বাউ|পার্থ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|পার্থ সারথি মুখার্জি}}
* {{বাউ|পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পার্বতীকুমার সরকার}}
* {{বাউ|পি কে বাসু}}
* {{বাউ|পিনডিদা}}
* {{বাউ|পিনাকী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পিনাকী ঠাকুর}}
* {{বাউ|পিনাকী মজুমদার}}
* {{বাউ|পিপলু খান}}
* {{বাউ|পিয়ারীমোহন দাস}}
* {{বাউ|পিয়ারীলাল রায়}}
* {{বাউ|পিয়ারু সর্দার}}
* {{বাউ|পিয়ের ফালোঁ}}
* {{বাউ|পিলু মমতাজ}}
* {{বাউ|পুণ্যলতা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|পুরুষোত্তম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|পুলক বিশ্বাস}}
* {{বাউ|পুলক সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সরকার}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সরকার (জৈব রসায়ন বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|পুলিনবিহারী সেন}}
* {{বাউ|পূরবী দত্ত}}
* {{বাউ|পূরবী বসু}}
* {{বাউ|পূর্ণিমা সিনহা}}
* {{বাউ|পূর্ণেন্দুবিকাশ সরকার}}
* {{বাউ|পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|পেন বাংলাদেশ}}
* {{বাউ|পেপার রাইম}}
* {{বাউ|পেয়ার আহমেদ}}
* {{বাউ|প্যারীচরণ সরকার}}
* {{বাউ|প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্যারীমোহন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রকাশ শ্রীবাস্তব}}
* {{বাউ|প্রচেত গুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|প্রণব কুমার বড়ুয়া}}
* {{বাউ|প্রণব ভট্ট}}
* {{বাউ|প্রণব মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রণব রায় (গীতিকার)}}
* {{বাউ|প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রণবেশ সেন}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র মজুমদার (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|প্রতাপচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|প্রতিভা বসু}}
* {{বাউ|প্রতিভা মুৎসুদ্দি}}
* {{বাউ|প্রতিমা ঠাকুর}}
* {{বাউ|প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা}}
* {{বাউ|প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রদীপ ভট্টাচার্য (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|প্রদোষ আইচ}}
* {{বাউ|প্রদ্যুত ঘোষ}}
* {{বাউ|প্রফুল্ল কুমার মন্ডল}}
* {{বাউ|প্রফুল্ল রায়}}
* {{বাউ|প্রফুল্লকুমার সরকার}}
* {{বাউ|প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|প্রবাল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রবাল রশিদ}}
* {{বাউ|প্রবাসজীবন চৌধুরী}}
* {{বাউ|প্রবীর মজুমদার}}
* {{বাউ|প্রবীর রায়}}
* {{বাউ|প্রবোধ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রবোধকুমার সান্যাল}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র বাগচী}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|প্রবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা ভক্তিপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রব্রাজিকা শ্রদ্ধাপ্রাণা}}
* {{বাউ|প্রভা চ্যাটার্জি}}
* {{বাউ|প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া}}
* {{বাউ|প্রভাতরঞ্জন সরকার}}
* {{বাউ|প্রভাবতী দেবী সরস্বতী}}
* {{বাউ|প্রমথ ভৌমিক}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বসু}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ বিশী}}
* {{বাউ|প্রমথনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|প্রমথলাল সেন}}
* {{বাউ|প্রমদাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমদাচরণ সেন}}
* {{বাউ|প্রমোদ চন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রমোদরঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|প্রশান্তকুমার পাল}}
* {{বাউ|প্রশান্তকুমার মারিক}}
* {{বাউ|প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ}}
* {{বাউ|প্রশান্তবিহারী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|প্রসন্নকুমার রায়}}
* {{বাউ|প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|প্রসন্নচন্দ্র তর্করত্ন}}
* {{বাউ|প্রসন্নচন্দ্র ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|প্রাণ রঞ্জন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|প্রাণকুমার সেন}}
* {{বাউ|প্রাণকৃষ্ণ পাল}}
* {{বাউ|প্রিয় ব্রত পাল}}
* {{বাউ|প্রিয়দারঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|প্রিয়রঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|প্রীতিকণা গোস্বামী}}
* {{বাউ|প্রেমাঙ্কুর আতর্থী}}
* {{বাউ|প্রোফেসর শঙ্কু}}
* {{বাউ|প্লাবন কোরেশী}}
* {{বাউ|ফকরুল আলম}}
* {{বাউ|ফকির গরীবুল্লাহ}}
* {{বাউ|ফকির শাহাবুদ্দীন}}
* {{বাউ|ফখরুজ্জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফখরুদ্দিন আহমেদ (সচিব)}}
* {{বাউ|ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|ফখরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|ফখরুল হাসান বৈরাগী}}
* {{বাউ|ফজল শাহাবুদ্দীন}}
* {{বাউ|ফজল-এ-খোদা}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|ফজলুর রহমান খান ফারুক}}
* {{বাউ|ফজলুল বারী (সরকারি চাকরিজীবী)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|ফজলুল হক সেলবর্ষী}}
* {{বাউ|ফজলুল হালিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফজলে কবির}}
* {{বাউ|ফজলে কাদেরী মোহাম্মদ আবদুল মুনিম}}
* {{বাউ|ফজলে বারী মালিক}}
* {{বাউ|ফজলে রাব্বী}} [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১৬:০৪, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
* {{বাউ|ফজলে রাব্বী মিয়া}}
* {{বাউ|ফজলে হাসান আবেদ}}
* {{বাউ|ফজলে হাসান শিশির}}
* {{বাউ|ফজলে হুসাইন}}
* {{বাউ|ফজলে হোসেন বাদশা}}
* {{বাউ|ফজিলতুন্নেসা}}
* {{বাউ|ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী}}
* {{বাউ|ফণিভূষণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ফণী বড়ুয়া}}
* {{বাউ|ফণী মজুমদার}}
* {{বাউ|ফণীন্দ্রচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|ফতেহ লোহানী}}
* {{বাউ|ফয়জুল মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|ফয়জুল লতিফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমেদ}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফয়েজ আহম্মদ}}
* {{বাউ|ফরহাদ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমদ দুলাল}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফরিদ আহমেদ (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফরিদা ইয়াসমিন (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|ফরিদা জামান}}
* {{বাউ|ফরিদা রহমান}}
* {{বাউ|ফরিদা হোসেন}}
* {{বাউ|ফরিদুল হুদা}}
* {{বাউ|ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ}}
* {{বাউ|ফসিউর রহমান}}
* {{বাউ|ফসিউল আলম}}
* {{বাউ|ফাইয়াজ হোসেন খান}}
* {{বাউ|ফাখরুল আরেফিন খান}}
* {{বাউ|ফাতিমা ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|ফাতেমা তুজ জোহরা}}
* {{বাউ|ফাতেমা নজীব}}
* {{বাউ|ফাদার রবের আঁতোয়ান}}
* {{বাউ|ফায়েজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|ফারজানা ইসলাম}}
* {{বাউ|ফারজানা ফারুক}}
* {{বাউ|ফারজানা রুপা}}
* {{বাউ|ফারজানা শারমিন পুতুল}}
* {{বাউ|ফারহিনা আহমেদ}}
* {{বাউ|ফারাহ গজনবী}}
* {{বাউ|ফারাহ মাহবুব}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ উল্লা খান}}
* {{বাউ|ফারুক আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফারুক উজ জামান চৌধুরী}}
* {{বাউ|ফারুক ওয়াসিফ}}
* {{বাউ|ফারুক মঈনউদ্দীন}}
* {{বাউ|ফারুক মাহমুদ}}
* {{বাউ|ফারুক সোবহান}}
* {{বাউ|ফালগুনী রায়}}
* {{বাউ|ফাহমিদা কাদের}}
* {{বাউ|ফাহমিদা খাতুন (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|ফিদা এম. কামাল}}
* {{বাউ|ফিরদৌস আজীম}}
* {{বাউ|ফিরদৌসী কাদরী}}
* {{বাউ|ফিরোজ মাহমুদ}}
* {{বাউ|ফিরোজা বেগম}}
* {{বাউ|ফুয়াদ আল মুকতাদির}}
* {{বাউ|ফুয়াদ নাসের বাবু}}
* {{বাউ|ফুল মোহাম্মদ}}
* {{বাউ|ফুলঝুরি খান}}
* {{বাউ|ফুলরেণু গুহ}}
* {{বাউ|ফেরদৌস আরা}}
* {{বাউ|ফেরদৌস আরা বেগম}}
* {{বাউ|ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী}}
* {{বাউ|ফেরদৌসী মজুমদার}}
* {{বাউ|ফেলুদা}}
* {{বাউ|ফৌজিয়া ইয়াসমিন}}
* {{বাউ|ফ্যাতাড়ু}}
* {{বাউ|ফ্রান্সিস (ভাইকিং)}}
* {{বাউ|ফ্লসি কোহেন}}
* {{বাউ|ফ্লোরা জাইবুন মাজিদ}}
* {{বাউ|বঙ্কিমচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|বঙ্কিমচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|বজলার রহমান}}
* {{বাউ|বটুক নন্দী}}
* {{বাউ|বদরুদ্দীন আহমদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|বদরুন নেছা}}
* {{বাউ|বদরুল আনাম সৌদ}}
* {{বাউ|বদরুল আলম (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|বদরুল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|বদিউর রহমান (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব)}}
* {{বাউ|বদিউল আলম খোকন}}
* {{বাউ|বদিউল আলম মজুমদার}}
* {{বাউ|বনবিহারী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বনানী ঘোষ}}
* {{বাউ|বরদা}}
* {{বাউ|বরদাচরণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|বরদানন্দ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বরুণ মজুমদার}}
* {{বাউ|বরুণ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|বরেণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বরেন গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বর্ণিতা বাগচী}}
* {{বাউ|বলরাম হাড়ি}}
* {{বাউ|বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|বশির আহমেদ}}
* {{বাউ|বশীর আল-হেলাল}}
* {{বাউ|বশীর হোসেন}}
* {{বাউ|বশীশ্বর সেন}}
* {{বাউ|বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ}}
* {{বাউ|বাঁটুল দি গ্রেট}}
* {{বাউ|বাকের ভাই}}
* {{বাউ|বাঘা যতীন}}
* {{বাউ|বাচি কারকারিয়া}}
* {{বাউ|বাণী বসু}}
* {{বাউ|বাণীকুমার}}
* {{বাউ|বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার}}
* {{বাউ|বাদল খন্দকার}}
* {{বাউ|বাদল রশীদ}}
* {{বাউ|বাদল রহমান}}
* {{বাউ|বাপ্পা মজুমদার}}
* {{বাউ|বাপ্পী লাহিড়ী}}
* {{বাউ|বাবর আলী (পর্বতারোহী)}}
* {{বাউ|বাবু তারক চন্দ্র চৌধুরী}}
* {{বাউ|বামাচরণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বারবারা ক্রেগ}}
* {{বাউ|বারী সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|বারীণ মজুমদার}}
* {{বাউ|বার্নেস পিকক}}
* {{বাউ|বালাম}}
* {{বাউ|বাশার মাহমুদ (কবি)}}
* {{বাউ|বাসন্তী দুলাল নাগচৌধুরী}}
* {{বাউ|বাসব}}
* {{বাউ|বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাস বাউল}}
* {{বাউ|বাসুদেব দাসশর্মা}}
* {{বাউ|বাসুদেব বর্মন}}
* {{বাউ|বাহাদুর হোসেন খান}}
* {{বাউ|বি কে দাস}}
* {{বাউ|বিকাশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিকাশ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিকাশচন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া}}
* {{বাউ|বিক্রম ঘোষ}}
* {{বাউ|বিজন কুমার মুখার্জী}}
* {{বাউ|বিজন কুমার শীল}}
* {{বাউ|বিজন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজন সরকার}}
* {{বাউ|বিজনবিহারী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজয় কুমার বসু}}
* {{বাউ|বিজয় প্রসাদ}}
* {{বাউ|বিজয় সরকার}}
* {{বাউ|বিজয়কুমার ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিজয়চন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিজয়া মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিজরী বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|বিদিত লাল দাস}}
* {{বাউ|বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন}}
* {{বাউ|বিদ্যুৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিদ্যুৎ বরণ চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিদ্যেন্দু মোহন দেব}}
* {{বাউ|বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার}}
* {{বাউ|বিধায়ক ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিধুভূষণ বসু}}
* {{বাউ|বিধুশেখর শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|বিনয় বাঁশী জলদাস}}
* {{বাউ|বিনয় মজুমদার}}
* {{বাউ|বিনয় মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিনয়কুমার সরকার}}
* {{বাউ|বিনয়েন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|বিনীতা রায়}}
* {{বাউ|বিনোদ ঘোষাল}}
* {{বাউ|বিপিন বিহারী ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|বিপুল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|বিপ্রদাস পিপলাই}}
* {{বাউ|বিপ্লব (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|বিপ্লব দাসগুপ্ত}}
* {{বাউ|বিবুধেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিভা চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিভাস রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ দত্ত}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিভূতিভূষণ সেন}}
* {{বাউ|বিমল কর}}
* {{বাউ|বিমল গুহ}}
* {{বাউ|বিমল মিত্র (লেখক)}}
* {{বাউ|বিমল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমল-কুমার}}
* {{বাউ|বিমলকৃষ্ণ মতিলাল}}
* {{বাউ|বিমলচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|বিমলচন্দ্র সিংহ}}
* {{বাউ|বিমলাচরণ লাহা}}
* {{বাউ|বিমলানন্দ নাগ}}
* {{বাউ|বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিমান বাগচী}}
* {{বাউ|বিমানবিহারী মজুমদার}}
* {{বাউ|বিরজাশঙ্কর গুহ}}
* {{বাউ|বিরাজ মোহন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বিরূপাক্ষ পাল}}
* {{বাউ|বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন}}
* {{বাউ|বিলকিস নাসির উদ্দিন}}
* {{বাউ|বিলায়েত খাঁ}}
* {{বাউ|বিশুদ্ধানন্দ মহাথের}}
* {{বাউ|বিশ্ব রঞ্জন নাগ}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ ঘোষ}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ চৌধুরী}}
* {{বাউ|বিশ্বজিৎ দেবনাথ}}
* {{বাউ|বিশ্বনাথ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিশ্বময় বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বিশ্বরঞ্জন সেন}}
* {{বাউ|বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিশ্বেশ্বর পাল}}
* {{বাউ|বিষ্ণু বসু}}
* {{বাউ|বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|বিষ্ণুপদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা}}
* {{বাউ|বিহারিলাল সরকার}}
* {{বাউ|বিহারীলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীণা মজুমদার}}
* {{বাউ|বীরেন শিকদার}}
* {{বাউ|বীরেন সোম}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্র বিজয় বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|বীরেন্দ্রনাথ শাসমল}}
* {{বাউ|বীরেশচন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|বীরেশ্বর সরকার}}
* {{বাউ|বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|বুনো রামনাথ}}
* {{বাউ|বুলবন ওসমান}}
* {{বাউ|বুলবুল আহমেদ}}
* {{বাউ|বুলবুল চৌধুরী}}
* {{বাউ|বৃন্দা কারাত}}
* {{বাউ|বৃন্দাবন দাস}}
* {{বাউ|বৃন্দাবন দাস ঠাকুর}}
* {{বাউ|বেগজাদী মাহমুদা নাসির}}
* {{বাউ|বেগম আকতার কামাল}}
* {{বাউ|বেগম বদরুন্নেসা আহমদ}}
* {{বাউ|বেণীমাধব বড়ুয়া}}
* {{বাউ|বেদারউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|বেবী ইসলাম}}
* {{বাউ|বেবী হালদার}}
* {{বাউ|বেরী সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|বেলা মিত্র}}
* {{বাউ|বেলায়েত হুসাইন}}
* {{বাউ|বেলায়েত হোসেন বীরভূমী}}
* {{বাউ|বেলাল আহমেদ}}
* {{বাউ|বেলাল খান}}
* {{বাউ|বেলাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|বেলাল মোহাম্মদ}}
* {{বাউ|বেলাল হোসেন (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|বৈকুণ্ঠনাথ সেন}}
* {{বাউ|বোরহান উদ্দিন (বিচারক)}}
* {{বাউ|বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|বোরিয়া মজুমদার}}
* {{বাউ|ব্যোমকেশ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ব্যোমকেশ বক্সী}}
* {{বাউ|ব্রজ বিহারী বড়ুয়া}}
* {{বাউ|ব্রজগোপাল মান্না}}
* {{বাউ|ব্রজদা}}
* {{বাউ|ব্রজমোহন দত্ত}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ব্রজেন্দ্রনাথ শীল}}
* {{বাউ|ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ব্রাত্য বসু}}
* {{বাউ|ব্ল্যাক}}
* {{বাউ|ভক্তি প্রজ্ঞান কেশব গোস্বামী}}
* {{বাউ|ভক্তি রক্ষক শ্রীধর দেব গোস্বামী}}
* {{বাউ|ভক্তিবিনোদ ঠাকুর}}
* {{বাউ|ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী}}
* {{বাউ|ভগীরথ মিশ্র}}
* {{বাউ|ভবতোষ দত্ত}}
* {{বাউ|ভবানী প্রসাদ সিনহা}}
* {{বাউ|ভবানী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভবানীচরণ লাহা}}
* {{বাউ|ভাদুড়ী মশাই}}
* {{বাউ|ভারতচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|ভারতী মুখার্জী}}
* {{বাউ|ভাস্করানন্দ রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভি. এন. খারে}}
* {{বাউ|ভিকি জাহেদ}}
* {{বাউ|ভীষ্মদেব চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|ভূঁইয়া ইকবাল}}
* {{বাউ|ভূপতিমোহন সেন}}
* {{বাউ|ভূপেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|ভূমেন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|ভোলানাথ চন্দ্র}}
* {{বাউ|ভোলানাথ রায় কাব্যশাস্ত্রী}}
* {{বাউ|ম. তামিম}}
* {{বাউ|মইন উদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মইনুল হোসেন}}
* {{বাউ|মইনুল হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মঈদুল হাসান}}
* {{বাউ|মঈন উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মঈনউদ্দিন মিয়াজী}}
* {{বাউ|মঈনুল আহসান সাবের}}
* {{বাউ|মঈনুল ইসলাম খান}}
* {{বাউ|মঈনুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মঈনুস সুলতান}}
* {{বাউ|মওদুদ আহমদ}}
* {{বাউ|মকবুল হোসেন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মকবুলা মনজুর}}
* {{বাউ|মকসুদ জামিল মিন্টু}}
* {{বাউ|মঙ্গল চাঁদ}}
* {{বাউ|মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মজিদ-উল-হক}}
* {{বাউ|মজিবর রহমান (ভাষা সৈনিক)}}
* {{বাউ|মজিবর রহমান দেবদাস}}
* {{বাউ|মঞ্জু গোয়েল}}
* {{বাউ|মঞ্জু রায়}}
* {{বাউ|মঞ্জু সরকার}}
* {{বাউ|মঞ্জুর হোসেন}}
* {{বাউ|মঞ্জুরুল ইমাম}}
* {{বাউ|মঞ্জুলা আনোয়ার}}
* {{বাউ|মঞ্জুলা চেল্লুর}}
* {{বাউ|মণিকুন্তলা সেন}}
* {{বাউ|মণিভূষণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মণিরত্ন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণিলাল ভৌমিক}}
* {{বাউ|মণিশংকর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র নারায়ণ মজুমদার}}
* {{বাউ|মণীন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|মণীন্দ্রলাল বসু}}
* {{বাউ|মণীশ ঘটক}}
* {{বাউ|মতি নন্দী}}
* {{বাউ|মতিউর রহমান পানু}}
* {{বাউ|মতিউর রহমান মল্লিক}}
* {{বাউ|মতিউল ইসলাম}}
* {{বাউ|মতিউল হক খান}}
* {{বাউ|মতিন রহমান}}
* {{বাউ|মতিলাল ঘোষ}}
* {{বাউ|মতিলাল রায়}}
* {{বাউ|মতিলাল রায় (যাত্রাপালাকার)}}
* {{বাউ|মতিলাল শীল}}
* {{বাউ|মথুরামোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মধু বসু}}
* {{বাউ|মধুমতি মিত্র}}
* {{বাউ|মধুশ্রী মুখার্জী}}
* {{বাউ|মধুসূদন গুপ্ত}}
* {{বাউ|মধুসূদন দে}}
* {{বাউ|মধুসূদন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মধুসূদন সরস্বতী}}
* {{বাউ|মনজুর আলম বেগ}}
* {{বাউ|মনজুর আহমেদ চৌধুরী (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মনজুর রশীদ খান}}
* {{বাউ|মনতাজুর রহমান আকবর}}
* {{বাউ|মনতোষ রায়}}
* {{বাউ|মনমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|মনমোহন দত্ত}}
* {{বাউ|মনসুর উল করিম}}
* {{বাউ|মনসুর বয়াতি}}
* {{বাউ|মনসুরুল আলম খান}}
* {{বাউ|মনিকা আলী}}
* {{বাউ|মনিকা জাহান বোস}}
* {{বাউ|মনিকা দাস (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মনিরউদ্দীন ইউসুফ}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান (গবেষক)}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী}}
* {{বাউ|মনিরুজ্জামান মনির}}
* {{বাউ|মনিরুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|মনিরুল ইসলাম টিপু}}
* {{বাউ|মনীন্দ্রভূষণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|মনু মুন্সী}}
* {{বাউ|মনোজ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|মনোজ প্রামাণিক}}
* {{বাউ|মনোজ বসু}}
* {{বাউ|মনোজ মাঝি}}
* {{বাউ|মনোজ মিত্র}}
* {{বাউ|মনোমোহন ঘোষ}}
* {{বাউ|মনোয়ারা ইসলাম}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ঘোষাল}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ধর}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ব্যাপারী}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ভক্ত}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|মনোরঞ্জন সিকদার}}
* {{বাউ|মনোসরণি}}
* {{বাউ|মন্দাক্রান্তা সেন}}
* {{বাউ|মন্মথ রায়}}
* {{বাউ|মন্মথনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|মন্মথনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মফিজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মফিজউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মফিদুল হক}}
* {{বাউ|মবিনউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মবিনুল হক}}
* {{বাউ|মমতা বালা ঠাকুর}}
* {{বাউ|মমতাজ উদ্দিন}}
* {{বাউ|মমতাজ বেগম}}
* {{বাউ|মমতাজ সঙ্ঘমিতা}}
* {{বাউ|মমতাজুর রহমান তরফদার}}
* {{বাউ|মযহারুল ইসলাম}}
* {{বাউ|ময়ুখ চৌধুরী (কবি)}}
* {{বাউ|ময়ূখ চৌধুরী (শিল্পী)}}
* {{বাউ|মর্ত্তুজা আলী}}
* {{বাউ|মলয় ঘোষ দস্তিদার}}
* {{বাউ|মলয় ভৌমিক}}
* {{বাউ|মলয় রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মল্লিকা সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মসিহউদ্দিন শাকের}}
* {{বাউ|মহম্মদ আব্দুল জব্বার}}
* {{বাউ|মহম্মদ হান্নান}}
* {{বাউ|মহম্মদ হামিদ আনসারি}}
* {{বাউ|মহসিন শস্ত্রপাণি}}
* {{বাউ|মহাদেব দত্ত}}
* {{বাউ|মহান মহারাজ}}
* {{বাউ|মহানামব্রত ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|মহারানি চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মহি উদ্দিন শামীম}}
* {{বাউ|মহিউদ্দিন আহমেদ (প্রকাশক)}}
* {{বাউ|মহিউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|মহিউদ্দীন ফারুক}}
* {{বাউ|মহিমারঞ্জন রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মহীউদ্দিন}}
* {{বাউ|মহুয়া মুখোপাধ্যায় (লেখক)}}
* {{বাউ|মহেন্দ্র গুপ্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|মহেন্দ্রনাথ রায় (রসায়নবিদ)}}
* {{বাউ|মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মাইনুর রেজা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাইমুল আহসান খান}}
* {{বাউ|মাকসুদুল আলম}}
* {{বাউ|মাকিদ হায়দার}}
* {{বাউ|মাখছুদুল আহসান}}
* {{বাউ|মাখনলাল রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাখনলাল সেন}}
* {{বাউ|মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র পাল}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মানস চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মানিক চন্দ্র সাহা}}
* {{বাউ|মানিক দত্ত}}
* {{বাউ|মানিক সরকার (শিল্পী)}}
* {{বাউ|মানিকলাল শীল}}
* {{বাউ|মান্নান হীরা}}
* {{বাউ|মাফরুহা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মামনুন রহমান}}
* {{বাউ|মামাবাবু}}
* {{বাউ|মামুন নদীয়া}}
* {{বাউ|মামুন হুসাইন}}
* {{বাউ|মারজি-উল হক}}
* {{বাউ|মারুফুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মালা সেন}}
* {{বাউ|মালাধর বসু}}
* {{বাউ|মালিকা আল্ রাজী}}
* {{বাউ|মালিহা খাতুন}}
* {{বাউ|মালেক আফসারী}}
* {{বাউ|মালেকা বেগম}}
* {{বাউ|মাশির হোসেন}}
* {{বাউ|মাশুক হোসেন আহমেদ}}
* {{বাউ|মাসাতোশি কোশিবা}}
* {{বাউ|মাসুদ আখন্দ}}
* {{বাউ|মাসুদ আলি খান}}
* {{বাউ|মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাসুদ করিম}}
* {{বাউ|মাসুদ পথিক}}
* {{বাউ|মাসুদ বিন মোমেন}}
* {{বাউ|মাসুদ মান্নান}}
* {{বাউ|মাসুদ রানা}}
* {{বাউ|মাসুদ সেজান}}
* {{বাউ|মাসুদা খাতুন}}
* {{বাউ|মাসুম আজিজ}}
* {{বাউ|মাসুম রেজা}}
* {{বাউ|মাসুম শাহরিয়ার}}
* {{বাউ|মাহফুজ উল্লাহ}}
* {{বাউ|মাহফুজা আখতার (সচিব)}}
* {{বাউ|মাহফুজা খানম}}
* {{বাউ|মাহফুজুর রহমান (নির্বাচন কমিশনার)}}
* {{বাউ|মাহফুজুর রহমান (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|মাহফুজুল হক}}
* {{বাউ|মাহফুজুল হাসান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|মাহবুব আলম}}
* {{বাউ|মাহবুব উজ জামান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মাহবুব উদ্দিন খোকন}}
* {{বাউ|মাহবুব জামাল জাহেদী}}
* {{বাউ|মাহবুব তালুকদার}}
* {{বাউ|মাহবুব সাদিক}}
* {{বাউ|মাহবুব-উল আলম}}
* {{বাউ|মাহবুবা রহমান}}
* {{বাউ|মাহবুবুর রহমান লিটন}}
* {{বাউ|মাহবুবুল আলম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|মাহবুবুল আলম মজুমদার}}
* {{বাউ|মাহবুবুল এ খালিদ}}
* {{বাউ|মাহবুবুল হক}}
* {{বাউ|মাহবুবে আলম}}
* {{বাউ|মাহমুদ শাহ কোরেশী}}
* {{বাউ|মাহমুদ হাসান}}
* {{বাউ|মাহমুদ হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা}}
* {{বাউ|মাহমুদা হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুর রহমান বেণু}}
* {{বাউ|মাহমুদুল আমিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মাহমুদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|মাহমুদুল হাসান}}
* {{বাউ|মিজান রহমান}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান (বাংলাদেশী কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|মিজানুর রহমান সাঈদ}}
* {{বাউ|মিঠু আলুর}}
* {{বাউ|মিতা হক}}
* {{বাউ|মিতিন মাসি}}
* {{বাউ|মিনার মনসুর}}
* {{বাউ|মিনার রহমান}}
* {{বাউ|মিনাল রোহিত}}
* {{বাউ|মিন্নাত আলী}}
* {{বাউ|মিফতা উদ্দিন চৌধুরী রুমী}}
* {{বাউ|মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|মিফতাহুর রহমান}}
* {{বাউ|মিফতাহ্ জামান}}
* {{বাউ|মিরজা আবদুল হাই}}
* {{বাউ|মির্জা আব্দুল জলিল}}
* {{বাউ|মির্জা আলী ইস্পাহানি}}
* {{বাউ|মির্জা গোলাম হাফিজ}}
* {{বাউ|মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল}}
* {{বাউ|মির্জা মাজহারুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম}}
* {{বাউ|মির্জা হুসেন হায়দার}}
* {{বাউ|মির্জা হোসাইন হায়দার}}
* {{বাউ|মিলন কান্তি দে}}
* {{বাউ|মিল্টন খন্দকার}}
* {{বাউ|মিশুক মুনীর}}
* {{বাউ|মিসির আলি}}
* {{বাউ|মিহির কুমার বসু}}
* {{বাউ|মিহির চৌধুরী}}
* {{বাউ|মিহির রঞ্জন হালদার}}
* {{বাউ|মিহির সেন}}
* {{বাউ|মিহির সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মীজানূর রহমান শেলী}}
* {{বাউ|মীনাক্ষী ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|মীনু হক}}
* {{বাউ|মীর আব্দুল কাইয়ুম}}
* {{বাউ|মীর আহমদ বিন কাসেম}}
* {{বাউ|মীর কাশেম খান}}
* {{বাউ|মীর মকসুদুস সালেহীন}}
* {{বাউ|মীর মাসুম আলী}}
* {{বাউ|মীর শওকত আলী}}
* {{বাউ|মীর হাসমত আলী}}
* {{বাউ|মীর হাসেম আলী}}
* {{বাউ|মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা}}
* {{বাউ|মীরা দত্ত গুপ্ত}}
* {{বাউ|মীরা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মীর্জা মুহাম্মদ ইউসুফ আলি}}
* {{বাউ|মুঃ মিজানুর রহমান}}
* {{বাউ|মুঈনুদ্দীন আহমদ খান}}
* {{বাউ|মুকসুমুল হাকিম}}
* {{বাউ|মুকুল চৌধুরী}}
* {{বাউ|মুকুল দে}}
* {{বাউ|মুখতার আলম শিকদার}}
* {{বাউ|মুছলিম মিয়া}}
* {{বাউ|মুজিব পরদেশী}}
* {{বাউ|মুজিবর রহমান (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|মুজিবুর রহমান (চিকিৎসা বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|মুজিবুল হক (অফিসার)}}
* {{বাউ|মুজীবুর রহমান খাঁ}}
* {{বাউ|মুনশী ওয়াদুদ}}
* {{বাউ|মুনসুর আলী}}
* {{বাউ|মুনাজ আহমেদ নূর}}
* {{বাউ|মুনির উজ জামান}}
* {{বাউ|মুনেম ওয়াসিফ}}
* {{বাউ|মুন্সী রইসউদ্দিন}}
* {{বাউ|মুন্সী সিদ্দীক আহমদ}}
* {{বাউ|মুফলেহ আর. ওসমানী}}
* {{বাউ|মুবিনা আসাফ}}
* {{বাউ|মুমতাজুদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মুরলীধর বসু}}
* {{বাউ|মুরাদ পারভেজ}}
* {{বাউ|মুরারি গুপ্ত}}
* {{বাউ|মুশতাক আহমেদ (লেখক)}}
* {{বাউ|মুশতারী শফী}}
* {{বাউ|মুশফিকুল ফজল আনসারী}}
* {{বাউ|মুশাররাফ করিম}}
* {{বাউ|মুসলেহউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মুসা আল হাফিজ}}
* {{বাউ|মুস্তফা মনোয়ার}}
* {{বাউ|মুস্তফা লুৎফুল্লাহ}}
* {{বাউ|মুস্তাফা খালিদ পলাশ}}
* {{বাউ|মুস্তাফা জামান আব্বাসী}}
* {{বাউ|মুস্তাফা নূরউল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজ শফি}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজুর রহমান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মুস্তাফিজুর রহমান (গীতিকার)}}
* {{বাউ|মুহম্মদ আবদুল হাই}}
* {{বাউ|মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক}}
* {{বাউ|মুহম্মদ ওয়ায়েছ}}
* {{বাউ|মুহম্মদ কবির}}
* {{বাউ|মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা}}
* {{বাউ|মুহম্মদ নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহম্মদ মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন}}
* {{বাউ|মুহম্মদ শামসউল হক}}
* {{বাউ|মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া (গবেষক)}}
* {{বাউ|মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আখতার}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল বারী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল মুহিত}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল বাকী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আব্দুর রহিম (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আরশাদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আসফ-উদ-দৌলা}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইউনুস (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইউনুস (পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইব্রাহিম (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইমরান (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইসমাইল}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ইসহাক (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ একরামুল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ জমির}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ জুলকার নাইন}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নওশাদ জমির}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নুরুল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ নুরুল হুদা}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফাজলী ইলাহী}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ ফারুক (কূটনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাছুদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ সামাদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (মুক্তিযোদ্ধা)}}
* {{বাউ|মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ আবদুল মালেক}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ ইকবাল হোছাইন}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ লুৎফর রহমান}}
* {{বাউ|মুহাম্মাদ শহীদ সারওয়ার}}
* {{বাউ|মৃণাল দত্ত চৌধুরী}}
* {{বাউ|মৃণাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মৃণালিনী সেন}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় প্রসাদ গুহ}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় বরাট সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার}}
* {{বাউ|মৃদুল দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|মৃদুলা গার্গ}}
* {{বাউ|মেজকর্তা}}
* {{বাউ|মেজবাউর রহমান সুমন}}
* {{বাউ|মেনহাজ হুদা}}
* {{বাউ|মেরিনা তাবাসসুম}}
* {{বাউ|মেসবাহউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মেসবাহউদ্দিন আহমেদ (পদার্থবিদ)}}
* {{বাউ|মেসবাহুল হক}}
* {{বাউ|মেহরীন মাহমুদ}}
* {{বাউ|মেহেদী হক রনি}}
* {{বাউ|মেহের আফরোজ শাওন}}
* {{বাউ|মেহেরবানু খানম}}
* {{বাউ|মেহেরুন নেসা}}
* {{বাউ|মৈত্রী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|মৈত্রেয়ী দেবী}}
* {{বাউ|মো. আবদুল মজিদ}}
* {{বাউ|মো. আবু আহমেদ জমাদার}}
* {{বাউ|মো. আবু জাফর সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মো. আবু তারিক}}
* {{বাউ|মো. আব্দুল মজিদ}}
* {{বাউ|মো. আমিনুল ইসলাম (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. ইকবাল কবির}}
* {{বাউ|মো. ইমদাদুল হক}}
* {{বাউ|মো. এমদাদুল হক}}
* {{বাউ|মো. কামরুল হোসেন মোল্লা}}
* {{বাউ|মো. খসরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মো. খায়রুল আলম}}
* {{বাউ|মো. খুরশেদ আলম}}
* {{বাউ|মো. জয়নুল আবেদীন}}
* {{বাউ|মো. জহুরুল হক}}
* {{বাউ|মো. জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার}}
* {{বাউ|মো. নুরুল ইসলাম (সাহিত্যিক)}}
* {{বাউ|মো. বজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মো. বদরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মো. মজিবুর রহমান মিয়া}}
* {{বাউ|মো. মনসুর আলম}}
* {{বাউ|মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার}}
* {{বাউ|মো. মোস্তাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|মো. যাবিদ হোসেন}}
* {{বাউ|মো. রইস উদ্দিন}}
* {{বাউ|মো. রইস হাসান সরোয়ার}}
* {{বাউ|মো. রিয়াজ উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মো. রুহুল আমিন (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মো. রুহুল কুদ্দুস}}
* {{বাউ|মো. রেজাউল হক}}
* {{বাউ|মো. রেজাউল হাসান}}
* {{বাউ|মো. শামসুল হুদা}}
* {{বাউ|মো. শাহিনুর ইসলাম}}
* {{বাউ|মো. সাইদুল হক}}
* {{বাউ|মো. সেলিম (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. হযরত আলী (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মো. হামিদুল হক (বিচারক)}}
* {{বাউ|মো. হাসান আমিন}}
* {{বাউ|মো: গোলাম রহমান}}
* {{বাউ|মো: জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|মোঃ আখতারুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ আতাউর রহমান খান}}
* {{বাউ|মোঃ আতাবুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোঃ আতোয়ার রহমান}}
* {{বাউ|মোঃ আব্দুল মান্নান (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোঃ আব্দুল মুক্তাদির}}
* {{বাউ|মোঃ আলী রেজা}}
* {{বাউ|মোঃ আশরাফুল কামাল}}
* {{বাউ|মোঃ আসাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ ইসমাইল হোসেন}}
* {{বাউ|মোঃ কামরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোঃ খোরশেদ আলম}}
* {{বাউ|মোঃ জসিম উদ্দিন (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মোঃ জাকির হোসেন (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোঃ টোকন}}
* {{বাউ|মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ নূরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ বশির-উল্লাহ}}
* {{বাউ|মোঃ মইদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোঃ মাহবুবুর রহমান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|মোঃ মুস্তফা চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোঃ শামীম আহসান}}
* {{বাউ|মোঃ সাইদুর রহমান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মোঃ সাদত আলী}}
* {{বাউ|মোঃ সোহরাওয়ারদী}}
* {{বাউ|মোঃ হাবিবুল গনি}}
* {{বাউ|মোকাররম হোসেন খোন্দকার}}
* {{বাউ|মোক্ষদায়িনী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোজাফফর আহমদ}}
* {{বাউ|মোজাফফর হোসেন (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|মোজাম্মেল হোসেন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু}}
* {{বাউ|মোতাহার হোসেন তালুকদার}}
* {{বাউ|মোনাজাতউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোনায়েম সরকার}}
* {{বাউ|মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোবারক আহমদ খান}}
* {{বাউ|মোবারক হোসেন খান}}
* {{বাউ|মোবাশ্বের আলী}}
* {{বাউ|মোবিনুল আজিম}}
* {{বাউ|মোমতাজ আলী খান}}
* {{বাউ|মোরশেদ খান}}
* {{বাউ|মোরশেদ শফিউল হাসান}}
* {{বাউ|মোরশেদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী}}
* {{বাউ|মোল্লা জালাল উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|মোশতাক আহমেদ}}
* {{বাউ|মোশতাক খান}}
* {{বাউ|মোশারেফ উদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|মোসলেম উদ্দিন}}
* {{বাউ|মোসলেম উদ্দিন খান}}
* {{বাউ|মোসাদ্দেক আলী ফালু}}
* {{বাউ|মোস্তফা আনোয়ার (পরিচালক)}}
* {{বাউ|মোস্তফা আলম}}
* {{বাউ|মোস্তফা আলী}}
* {{বাউ|মোস্তফা এম এ মতিন}}
* {{বাউ|মোস্তফা কামাল (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোস্তফা জামান ইসলাম}}
* {{বাউ|মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোস্তফা মন্ওয়ার}}
* {{বাউ|মোস্তফা মেহমুদ}}
* {{বাউ|মোস্তাফিজুর রহমান মানিক}}
* {{বাউ|মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|মোহন রায়হান}}
* {{বাউ|মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোহম্মদ সামির হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আকরম খাঁ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আজম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আজিজ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুর রশিদ (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুর রহিম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবদুল খালেক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবু নাসের}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবু হেনা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবুল কাসেম চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আবুল হাশেম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল হাই}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আলম (আলোকচিত্র সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আলী (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (নরসিংদীর শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইউনুস (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইব্রাহিম (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইব্রাহিম (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ইমান আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ উল্লাহ (বিচারক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ এনামউল্যা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ওমর এজাজ রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ কায়কোবাদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ কিবরিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ খালেদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ছায়েদুল হক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাকারিয়া}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নইমুদ্দীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নজিবর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (লেখক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাসির আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নিজামুল হক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নুরুল করিম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নূরুজ্জামান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ নোমান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ পনির হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফজলী হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফজলুল করীম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফেরদাউস খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ফৈয়াজ খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মতিউর রহমান (লেখক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (কূটনীতিক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মফজলুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মহিউদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মুর্তজা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোদাব্বের}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোবারক আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (কর্মকর্তা)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোহর আলী (ইতিহাসবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ মোহসীন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফি খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিক (কবি)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকুল আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ রেজওয়ান খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শরীফ হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শামশাদ আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহ আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহ আলম (আইনজ্ঞ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহজাহান (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শাহিনুল আলম}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ শিশির মনির}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সাদত আলী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সাদিক}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সালার খান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সুফিউর রহমান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ সোলায়মান}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হোসেন জেমী}}
* {{বাউ|মোহাম্মদ হোসেন মণ্ডল}}
* {{বাউ|মোহাম্মদউল্লাহ}}
* {{বাউ|মোহাম্মাদ রকিবুল হাসান}}
* {{বাউ|মোহিত উল আলম}}
* {{বাউ|মোহিত কামাল}}
* {{বাউ|মোহিত চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|মোহিত সেন}}
* {{বাউ|মোহিনী চৌধুরী}}
* {{বাউ|মোহিনী মোহন চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|মৌমিতা তাশরিন নদী}}
* {{বাউ|মৌমিতা দত্ত}}
* {{বাউ|মৌলভী আবদুল করিম}}
* {{বাউ|মৌসুমী ভৌমিক}}
* {{বাউ|যতীন সরকার}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রকুমার সেন}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|যতীন্দ্রমোহন সিংহ}}
* {{বাউ|যদুনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|যদুনাথ সরকার}}
* {{বাউ|যদুনাথ সিংহ}}
* {{বাউ|যমুনা সেন}}
* {{বাউ|যশোধরা বাগচি}}
* {{বাউ|যশোধরা রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|যাত্রামোহন সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|যাদুমনি হাজং}}
* {{বাউ|যামিনী ভূষণ রায়}}
* {{বাউ|যামিনী রায়}}
* {{বাউ|যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|যুধাজিৎ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|যোগীন মা}}
* {{বাউ|যোগীন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র ঘোষ}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র চৌধুরী (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র বাগল}}
* {{বাউ|যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি}}
* {{বাউ|যোবায়দা হান্নান}}
* {{বাউ|রওনক জাহান}}
* {{বাউ|রওশন আরা}}
* {{বাউ|রওশন আরা বাচ্চু}}
* {{বাউ|রওশন আরা মুস্তাফিজ}}
* {{বাউ|রওশন আলী}}
* {{বাউ|রওশন ইজদানী}}
* {{বাউ|রওশন জামিল}}
* {{বাউ|রকিব হাসান}}
* {{বাউ|রকিবুল আলম রকিব}}
* {{বাউ|রকীব আহমদ}}
* {{বাউ|রঘুনন্দন ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|রঘুনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রঙ্গলাল সেন}}
* {{বাউ|রঙ্গু সৌরিয়া}}
* {{বাউ|রজতকান্ত রায়}}
* {{বাউ|রজতশুভ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|রজনীকান্ত গুহ}}
* {{বাউ|রজনীকান্ত প্রামাণিক}}
* {{বাউ|রজনীনাথ রায়}}
* {{বাউ|রঞ্জন ঘোষাল}}
* {{বাউ|রঞ্জন মল্লিক}}
* {{বাউ|রণজিত গুহ}}
* {{বাউ|রণজিৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রণজিৎ দাশ}}
* {{বাউ|রণদা প্রসাদ সাহা}}
* {{বাউ|রণেন কুশারী}}
* {{বাউ|রণেশ মৈত্র}}
* {{বাউ|রতন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রতন সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|রতনচন্দ্র কর}}
* {{বাউ|রতনতনু ঘোষ}}
* {{বাউ|রতনলাল ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রথীন কিস্কু}}
* {{বাউ|রথীন মিত্র}}
* {{বাউ|রথীন মৈত্র}}
* {{বাউ|রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|রথীন্দ্রনাথ বোস}}
* {{বাউ|রফিক আহামদ}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন আহমেদ (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন আহমেদ (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|রফিক উদ্দিন সরকার}}
* {{বাউ|রফিক-উল হক}}
* {{বাউ|রফিকউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|রফিকউল্লাহ্ খান}}
* {{বাউ|রফিকুর রশীদ}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম মিয়া}}
* {{বাউ|রফিকুল ইসলাম সেখ}}
* {{বাউ|রফিকুল বারী চৌধুরী}}
* {{বাউ|রফিকুল হক}}
* {{বাউ|রফিকুল হক (কৃষি প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|রবার্ট সুইনহো}}
* {{বাউ|রবি বসু}}
* {{বাউ|রবিউল আলম (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|রবিউল আলম রবি}}
* {{বাউ|রবিউল ইসলাম জীবন}}
* {{বাউ|রবিউল হুসাইন}}
* {{বাউ|রবিন ঘোষ}}
* {{বাউ|রবিনা খান}}
* {{বাউ|রবিশংকর বল}}
* {{বাউ|রবিশঙ্কর}}
* {{বাউ|রবীন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রবীন্দ্র গুহ}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|রবীন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|রমা চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমাতোষ সরকার}}
* {{বাউ|রমাপদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমারঞ্জন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রমিজউদ্দীন আহমদ}}
* {{বাউ|রমেন্দ্র কুমার পোদ্দার}}
* {{বাউ|রমেন্দ্রকুমার আচার্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রমেশ চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|রমেশচন্দ্র সেন}}
* {{বাউ|রশিদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রশীদ করীম}}
* {{বাউ|রশীদ তালুকদার}}
* {{বাউ|রশীদ হায়দার}}
* {{বাউ|রসময় দত্ত}}
* {{বাউ|রসময় মিত্র}}
* {{বাউ|রসময় সুর}}
* {{বাউ|রসিককৃষ্ণ মল্লিক}}
* {{বাউ|রসিকলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রহমত আলী}}
* {{বাউ|রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম}}
* {{বাউ|রহিমুন্নিসা}}
* {{বাউ|রহীম শাহ}}
* {{বাউ|রাইচরণ দাস}}
* {{বাউ|রাইচাঁদ বড়াল}}
* {{বাউ|রাইসুল ইসলাম আসাদ}}
* {{বাউ|রাখাল চন্দ্র দাস}}
* {{বাউ|রাখাল চিত্রকর}}
* {{বাউ|রাখালদাস মজুমদার}}
* {{বাউ|রাগিনী সোনকার}}
* {{বাউ|রাগীব রউফ চৌধুরী}}
* {{বাউ|রাঘব চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাঘব বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রাজকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|রাজকুমারী বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকুমারী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাজকৃষ্ণ রায়}}
* {{বাউ|রাজচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|রাজদীপ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|রাজনারায়ণ বসু}}
* {{বাউ|রাজলক্ষ্মী দেবী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রাজিক আল জলিল}}
* {{বাউ|রাজিয়া খান}}
* {{বাউ|রাজিয়া মজিদ}}
* {{বাউ|রাজিয়া মাহবুব}}
* {{বাউ|রাজিয়া সুলতানা (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|রাজেন তরফদার}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রচন্দ্র হাজরা}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|রাজেন্দ্রলাল মিত্র}}
* {{বাউ|রাজেশ রোশন}}
* {{বাউ|রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাণী দিনমনি চৌধুরাণী}}
* {{বাউ|রাণী রাসমণি}}
* {{বাউ|রাধা বিনোদ পাল}}
* {{বাউ|রাধাকান্ত দেব}}
* {{বাউ|রাধাকান্ত নন্দী}}
* {{বাউ|রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ কর}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ চন্দ্র}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ নাথ}}
* {{বাউ|রাধাগোবিন্দ বসাক}}
* {{বাউ|রাধানাথ শিকদার}}
* {{বাউ|রাধাপদ রায়}}
* {{বাউ|রাধাপ্রসাদ গুপ্ত}}
* {{বাউ|রাধাবতী দেবী}}
* {{বাউ|রাধারমণ দত্ত}}
* {{বাউ|রাধারমণ মিত্র}}
* {{বাউ|রাধারাণী দেবী}}
* {{বাউ|রাধিকা মোহন মৈত্র}}
* {{বাউ|রাধিকা রায়}}
* {{বাউ|রানী চন্দ}}
* {{বাউ|রাপ্পা রায়}}
* {{বাউ|রাফায়েল অ্যারন বেলিলিওস}}
* {{বাউ|রাফিদা আহমেদ বন্যা}}
* {{বাউ|রাবাব ফাতেমা}}
* {{বাউ|রাবেয়া খাতুন}}
* {{বাউ|রাবেয়া ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|রাম নারায়ণ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রাম বসু}}
* {{বাউ|রামকমল ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামকমল সেন}}
* {{বাউ|রামকানাই দাশ}}
* {{বাউ|রামকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামগতি ন্যায়রত্ন}}
* {{বাউ|রামগোপাল ঘোষ}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র দত্ত}}
* {{বাউ|রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ}}
* {{বাউ|রামতনু লাহিড়ী}}
* {{বাউ|রামতারণ সান্যাল}}
* {{বাউ|রামদাস সেন}}
* {{বাউ|রামনারায়ণ তর্করত্ন}}
* {{বাউ|রামনিধি গুপ্ত}}
* {{বাউ|রামপ্রাণ গুপ্ত}}
* {{বাউ|রামব্রহ্ম সান্যাল}}
* {{বাউ|রামরঞ্জন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|রামরাম বসু}}
* {{বাউ|রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রামেন্দু মজুমদার}}
* {{বাউ|রায়হান মুজিব}}
* {{বাউ|রায়হানুল আবেদীন}}
* {{বাউ|রায়েফ আল হাসান রাফা}}
* {{বাউ|রাশিদ আসকারী}}
* {{বাউ|রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর}}
* {{বাউ|রাশেদ খান মেনন}}
* {{বাউ|রাশেদ রউফ}}
* {{বাউ|রাসবিহারী ঘোষ}}
* {{বাউ|রাসসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|রাহাত খান}}
* {{বাউ|রাহিজা খানম ঝুনু}}
* {{বাউ|রাহুল দেব বর্মণ}}
* {{বাউ|রাহুল পুরকায়স্থ}}
* {{বাউ|রিংকি ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|রিজিয়া রহমান}}
* {{বাউ|রিতা আর. কলওয়েল}}
* {{বাউ|রিনা আক্তার (সক্রিয়কর্মী)}}
* {{বাউ|রিনাত ফৌজিয়া}}
* {{বাউ|রিপন নাথ}}
* {{বাউ|রিফাত হাসান (লেখক)}}
* {{বাউ|রিমা সুলতানা রিমু}}
* {{বাউ|রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|রিয়াজ রহমান}}
* {{বাউ|রিয়াজ হামিদুল্লাহ}}
* {{বাউ|রিয়াজুল রিজু}}
* {{বাউ|রীণা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|রুচিরা গুপ্ত}}
* {{বাউ|রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|রুদ্রাণী (গোয়েন্দা)}}
* {{বাউ|রুনা খান (উদ্যোক্তা)}}
* {{বাউ|রুনু বিশ্বাস}}
* {{বাউ|রুবাইয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|রুবানা হক}}
* {{বাউ|রুবী রহমান}}
* {{বাউ|রুবেল}}
* {{বাউ|রুমা পাল}}
* {{বাউ|রুমানা আলী}}
* {{বাউ|রুমানা রশীদ ঈশিতা}}
* {{বাউ|রুমিন ফারহানা}}
* {{বাউ|রুম্মান রশীদ খান}}
* {{বাউ|রুশেমা বেগম}}
* {{বাউ|রুহি জুবেরী}}
* {{বাউ|রুহুল আমিন (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|রুহুল আলম সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|রুহুল ইসলাম}}
* {{বাউ|রুহুল কুদ্দুস কাজল}}
* {{বাউ|রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু}}
* {{বাউ|রূপ গোস্বামী}}
* {{বাউ|রূপচাঁদ অধিকারী}}
* {{বাউ|রূপমঞ্জরী ঘোষ}}
* {{বাউ|রূপরাম চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রূপা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রেজা আলী}}
* {{বাউ|রেজা লতিফ}}
* {{বাউ|রেজাউদ্দিন স্টালিন}}
* {{বাউ|রেজাউল করিম (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|রেজাউল হক সরকার}}
* {{বাউ|রেজিনা গুহ}}
* {{বাউ|রেণু চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|রেণুকা রায়}}
* {{বাউ|রেদওয়ান রনি}}
* {{বাউ|রেবতীভূষণ ঘোষ}}
* {{বাউ|রেবা সোম}}
* {{বাউ|রেয়াজুদ্দীন মাশহাদী আহমদ}}
* {{বাউ|রেহমান সোবহান}}
* {{বাউ|রোকেয়া সুলতানা (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|রোজিনা ইসলাম}}
* {{বাউ|রোজী আফসারী}}
* {{বাউ|রোমেনা আফাজ}}
* {{বাউ|লক্ষীছাড়া}}
* {{বাউ|লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র}}
* {{বাউ|লজ্জাবতী বসু}}
* {{বাউ|লতিকা সরকার}}
* {{বাউ|লতিকা সেন}}
* {{বাউ|লতিফুর খান}}
* {{বাউ|লতিফুর রহমান (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|লতিফুল ইসলাম শিবলী}}
* {{বাউ|ললিত মোহন নাথ}}
* {{বাউ|ললিতা রায়}}
* {{বাউ|লাকী আখান্দ}}
* {{বাউ|লায়লা নূর}}
* {{বাউ|লায়লা সামাদ}}
* {{বাউ|লালমোহন গাঙ্গুলি}}
* {{বাউ|লিয়াকত আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|লিয়াকত আলী লাকী}}
* {{বাউ|লিলি চক্রবর্তী (কবি)}}
* {{বাউ|লিসা গাজী}}
* {{বাউ|লীমা ধর}}
* {{বাউ|লীলা রায়}}
* {{বাউ|লীলাবতী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|লীলাবতী মিত্র}}
* {{বাউ|লুইস জনসন}}
* {{বাউ|লুসি রহমান}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান (মুসলিম পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান রিটন}}
* {{বাউ|লুৎফর রহমান সরকার}}
* {{বাউ|লুৎফর হাসান}}
* {{বাউ|লুৎফুন্নাহার হেলেন}}
* {{বাউ|লুৎফুল হায়দার চৌধুরী}}
* {{বাউ|লুৎফে সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|লেনিন গনি}}
* {{বাউ|লেবুমামা}}
* {{বাউ|লেমিস}}
* {{বাউ|লোকনাথ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|লোকমান হোসেন ফকির}}
* {{বাউ|লোকেন্দ্রনাথ পালিত}}
* {{বাউ|লোপামুদ্রা মিত্র}}
* {{বাউ|শংকর রায় চৌধুরী (চরিত্র)}}
* {{বাউ|শওকত আরা বেগম}}
* {{বাউ|শওকত আলী (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শওকত আলী ইমন}}
* {{বাউ|শওকত আলী খান}}
* {{বাউ|শওকত জামিল}}
* {{বাউ|শওকত মাহমুদ}}
* {{বাউ|শক্তি বর্মণ}}
* {{বাউ|শক্তি মণ্ডল}}
* {{বাউ|শক্তিপদ রাজগুরু}}
* {{বাউ|শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শঙ্কর ঘোষ}}
* {{বাউ|শঙ্কর ঘোষ (পণ্ডিত)}}
* {{বাউ|শঙ্কর চ্যাটার্জী}}
* {{বাউ|শঙ্কর প্রসাদ মিত্র}}
* {{বাউ|শঙ্কর রায়}}
* {{বাউ|শঙ্কর সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|শঙ্করীপ্রসাদ বসু}}
* {{বাউ|শঙ্কু মহারাজ}}
* {{বাউ|শঙ্খ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শচীন দাশ}}
* {{বাউ|শচীন ভৌমিক}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ অধিকারী}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|শফি ইউ আহমেদ}}
* {{বাউ|শফিউর রহমান}}
* {{বাউ|শফিক আহমেদ}}
* {{বাউ|শফিক তুহিন}}
* {{বাউ|শবনম পারভীন}}
* {{বাউ|শবনম মুশতারী}}
* {{বাউ|শবনম রামস্বামী}}
* {{বাউ|শবর দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শমসের মবিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|শমিতা দাশ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শম্পা দাস}}
* {{বাউ|শম্ভু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ দে}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ পণ্ডিত}}
* {{বাউ|শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শরচ্চন্দ্র পণ্ডিত}}
* {{বাউ|শরণ}}
* {{বাউ|শরাফত আলী}}
* {{বাউ|শরিফ এনামুল কবির}}
* {{বাউ|শরিফা খাতুন}}
* {{বাউ|শরিফা খান}}
* {{বাউ|শরীফ উদ্দিন চাকলাদার}}
* {{বাউ|শরীফ খান}}
* {{বাউ|শরীফ মুহাম্মদ আজিজুল হক}}
* {{বাউ|শর্বরী জোহরা আহমেদ}}
* {{বাউ|শর্বরী রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|শর্মিলা বসু}}
* {{বাউ|শর্মিলা বিশ্বাস}}
* {{বাউ|শর্মিলা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শর্মিলা সরকার}}
* {{বাউ|শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শরৎকুমারী চৌধুরাণী}}
* {{বাউ|শরৎচন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|শরৎচন্দ্র রায়}}
* {{বাউ|শরৎসুন্দরী দেবী}}
* {{বাউ|শশধর দত্ত}}
* {{বাউ|শশাঙ্ক চন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শশাঙ্ক শেখর সরকার}}
* {{বাউ|শশিভূষণ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|শশিশেখর বসু}}
* {{বাউ|শহিদুল আমিন}}
* {{বাউ|শহিদুল আলম}}
* {{বাউ|শহিদুল ইসলাম (বিচারক)}}
* {{বাউ|শহিদুল হক খান}}
* {{বাউ|শহীদ আখন্দ}}
* {{বাউ|শহীদ উল্লাহ তালুকদার}}
* {{বাউ|শহীদ সাবের}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম (গণিতবিদ)}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|শহীদুল ইসলাম খোকন}}
* {{বাউ|শহীদুল হক}}
* {{বাউ|শহীদুল্লাহ খান}}
* {{বাউ|শাওন আকন্দ}}
* {{বাউ|শাকিলা জাফর}}
* {{বাউ|শাকুর মজিদ}}
* {{বাউ|শাজিয়া ওমর}}
* {{বাউ|শানারেই দেবী শানু}}
* {{বাউ|শানু লাহিড়ী}}
* {{বাউ|শান্তনু কায়সার}}
* {{বাউ|শান্তনু ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শান্তনু মৈত্র}}
* {{বাউ|শান্তা দেবী (নাগ)}}
* {{বাউ|শান্তিদেব ঘোষ}}
* {{বাউ|শান্তিময় চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শান্তিসুধা ঘোষ}}
* {{বাউ|শাপলা সালিক}}
* {{বাউ|শাফিয়া খাতুন}}
* {{বাউ|শামছুল আলম}}
* {{বাউ|শামশুদ্দিন আহমদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমদ (চিকিৎসক)}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন আহমেদ (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন টগর}}
* {{বাউ|শামসুদ্দিন হীরা}}
* {{বাউ|শামসুদ্দীন আবুল কালাম}}
* {{বাউ|শামসুন নাহার মাহমুদ}}
* {{বাউ|শামসুল আলম (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|শামসুল ইসলাম আলমাজী}}
* {{বাউ|শামসুল হক (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শামসুল হুদা}}
* {{বাউ|শামসুল হুদা চৌধুরী}}
* {{বাউ|শামীম আকতার}}
* {{বাউ|শামীম আজাদ}}
* {{বাউ|শামীম আরা নিপা}}
* {{বাউ|শামীম আহমেদ রনি}}
* {{বাউ|শামীম আহসান}}
* {{বাউ|শামীম শিকদার}}
* {{বাউ|শামীম হায়দার}}
* {{বাউ|শামীম হাসনাইন}}
* {{বাউ|শামীমা করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|শায়ান চৌধুরী অর্ণব}}
* {{বাউ|শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামউল্লাহ}}
* {{বাউ|শারফুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শারমিন আলি}}
* {{বাউ|শার্মিন আক্তার}}
* {{বাউ|শাহ আজিজুর রহমান}}
* {{বাউ|শাহ আবদুল ওয়াহহাব}}
* {{বাউ|শাহ আবদুল হান্নান}}
* {{বাউ|শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান}}
* {{বাউ|শাহ আবুল হাসনাৎ মোহাম্মদ ইসমাইল}}
* {{বাউ|শাহ আব্দুল হামিদ}}
* {{বাউ|শাহ আলম কিরণ}}
* {{বাউ|শাহ আলমগীর}}
* {{বাউ|শাহ আহমদ শফী}}
* {{বাউ|শাহ এ এম এস কিবরিয়া}}
* {{বাউ|শাহ খাজা শরফুদ্দীন}}
* {{বাউ|শাহ জাহাঙ্গীর কবীর}}
* {{বাউ|শাহ বারিদ খান}}
* {{বাউ|শাহ মাহাতাব আহমদ}}
* {{বাউ|শাহ মুহম্মদ সগীর}}
* {{বাউ|শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন}}
* {{বাউ|শাহ মোঃ উললাহ}}
* {{বাউ|শাহ মোঃ হাসানুজ্জামান}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ ফারুক}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ ফারুক (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস}}
* {{বাউ|শাহ মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান}}
* {{বাউ|শাহজাদা আবদুল মালেক খান}}
* {{বাউ|শাহজাহান আহমেদ বিকাশ}}
* {{বাউ|শাহজাহান কিবরিয়া}}
* {{বাউ|শাহজাহান খান (অধ্যাপক)}}
* {{বাউ|শাহজাহান চৌধুরী (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|শাহদীন মালিক}}
* {{বাউ|শাহনাজ আরেফিন}}
* {{বাউ|শাহনাজ রহমতুল্লাহ}}
* {{বাউ|শাহনাজ হুদা}}
* {{বাউ|শাহনেওয়াজ কাকলী}}
* {{বাউ|শাহরিয়ার আলম}}
* {{বাউ|শাহরিয়ার নাজিম জয়}}
* {{বাউ|শাহলা খাতুন}}
* {{বাউ|শাহাদাত চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহাদাত হোসেন খান}}
* {{বাউ|শাহাদাৎ হোসেন (লেখক)}}
* {{বাউ|শাহাদাৎ হোসেন লিটন}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দিন আহমেদ (রাষ্ট্রদূত)}}
* {{বাউ|শাহাবুদ্দীন নাগরী}}
* {{বাউ|শাহীন আখতার}}
* {{বাউ|শাহীন দিল-রিয়াজ}}
* {{বাউ|শাহীন সামাদ}}
* {{বাউ|শাহীন-সুমন}}
* {{বাউ|শাহীনুর পাশা চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহেদ আলী}}
* {{বাউ|শাহেদ আলী পাটোয়ারী}}
* {{বাউ|শাহেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|শাহেদ নূরউদ্দিন}}
* {{বাউ|শাহ্ আলিমুজ্জামান}}
* {{বাউ|শিতালং শাহ}}
* {{বাউ|শিপ্রা গুহ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিব নারায়ণ দাস}}
* {{বাউ|শিবকালী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণব}}
* {{বাউ|শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিবনারায়ণ রায়}}
* {{বাউ|শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিবব্রত বর্মন}}
* {{বাউ|শিবলি সাদিক}}
* {{বাউ|শিবাজী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শিমুল মুস্তাফা}}
* {{বাউ|শিমূল ইউসুফ}}
* {{বাউ|শিরীণ আখতার}}
* {{বাউ|শিশির কুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|শিশির কুমার দাশ}}
* {{বাউ|শিশির কুমার মিত্র}}
* {{বাউ|শিশির ভট্টাচার্য্য}}
* {{বাউ|শিশির ভট্টাচার্য্য (ভাষাবিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|শিশিরকুমার বসু}}
* {{বাউ|শিশিরকুমার ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|শিহাব শাহীন}}
* {{বাউ|শিহাব সরকার}}
* {{বাউ|শীলভদ্র}}
* {{বাউ|শুক্লা বোস}}
* {{বাউ|শুদ্ধানন্দ ব্রহ্মচারী}}
* {{বাউ|শুদ্ধানন্দ মহাথের}}
* {{বাউ|শুভ (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|শুভ গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|শুভ রায়}}
* {{বাউ|শুভঙ্কর (গণিতবিদ)}}
* {{বাউ|শুভাগত চৌধুরী}}
* {{বাউ|শুভাশিস সিনহা}}
* {{বাউ|শুভ্র (চরিত্র)}}
* {{বাউ|শুভ্র দেব}}
* {{বাউ|শুভ্রা ঘোষ}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল আউয়াল}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল আজিজ}}
* {{বাউ|শেখ আবদুল মান্নান}}
* {{বাউ|শেখ আবদুস সালাম}}
* {{বাউ|শেখ আবুল কাশেম মিঠুন}}
* {{বাউ|শেখ আব্দুর রহিম}}
* {{বাউ|শেখ আব্দুস সালাম}}
* {{বাউ|শেখ খলিলুর রহমান হামিদি}}
* {{বাউ|শেখ গোলাম মাকসুদ হিলালী}}
* {{বাউ|শেখ তৈয়বুর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ দীন মুহাম্মদ}}
* {{বাউ|শেখ নিয়ামত আলী}}
* {{বাউ|শেখ ফয়জুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ বখতিয়ার উদ্দিন}}
* {{বাউ|শেখ ভানু}}
* {{বাউ|শেখ মকবুল ইসলাম}}
* {{বাউ|শেখ মনিরুল আলম টিপু}}
* {{বাউ|শেখ মাকসুদ আলী}}
* {{বাউ|শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ মো. জাকির হোসেন}}
* {{বাউ|শেখ মোঃ নূরুল হক}}
* {{বাউ|শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ}}
* {{বাউ|শেখ রাজ্জাক আলী}}
* {{বাউ|শেখ রেজোয়ান আলী}}
* {{বাউ|শেখ লুতফর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ শহীদুল ইসলাম}}
* {{বাউ|শেখ হাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|শেখ হাসান আরিফ}}
* {{বাউ|শেখর চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শেখর বসু}}
* {{বাউ|শেফালী ঘোষ}}
* {{বাউ|শেলী সেনগুপ্তা}}
* {{বাউ|শৈল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শৈলজারঞ্জন মজুমদার}}
* {{বাউ|শৈলবালা ঘোষজায়া}}
* {{বাউ|শৈলেন ঘোষ}}
* {{বাউ|শৈলেন রায়}}
* {{বাউ|শৈলেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|শৈলেশ দে}}
* {{বাউ|শোভনা শর্মা}}
* {{বাউ|শোভনাসুন্দরী মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শোভা রানী ত্রিপুরা}}
* {{বাউ|শোহিদ আলী}}
* {{বাউ|শৌভিক দে সরকার}}
* {{বাউ|শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর}}
* {{বাউ|শ্যামমোহিনী দেবী}}
* {{বাউ|শ্যামল কুমার সেন}}
* {{বাউ|শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামল গুপ্ত}}
* {{বাউ|শ্যামল দত্ত রায়}}
* {{বাউ|শ্যামল বসাক}}
* {{বাউ|শ্যামল মিত্র}}
* {{বাউ|শ্যামলকৃষ্ণ ঘোষ}}
* {{বাউ|শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী}}
* {{বাউ|শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব}}
* {{বাউ|শ্যামাচরণ শ্রীমানী}}
* {{বাউ|শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামাদাস মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (পরিসংখ্যানবিদ)}}
* {{বাউ|শ্রাবন্তী নারমীন আলী}}
* {{বাউ|শ্রী জহির}}
* {{বাউ|শ্রী পারাবত}}
* {{বাউ|শ্রী প্রীতম}}
* {{বাউ|শ্রীকর নন্দী}}
* {{বাউ|শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্রীজাত}}
* {{বাউ|শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ}}
* {{বাউ|শ্রীধর আচার্য}}
* {{বাউ|শ্রীধর ভেঙ্কটেশ কেতকর}}
* {{বাউ|শ্রীমতি রাসাসুন্দরী}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র নন্দী}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন}}
* {{বাউ|শ্রীশচন্দ্র মজুমদার}}
* {{বাউ|শ্রেয়সী চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের জন্য মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার}}
* {{বাউ|শ্ৰীকৃষ্ণ সার্বভৌম}}
* {{বাউ|ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সংগ্রাম কুমার দোলই}}
* {{বাউ|সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সজনীকান্ত দাস}}
* {{বাউ|সজীব দাস}}
* {{বাউ|সঞ্চিতা ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সঞ্জয় (সঙ্গীতজ্ঞ)}}
* {{বাউ|সঞ্জয় কুমার অধিকারী}}
* {{বাউ|সঞ্জয় গুহঠাকুরতা}}
* {{বাউ|সতীকান্ত গুহ}}
* {{বাউ|সতীনাথ ভাদুড়ী}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র আচার্য বিদ্যাভূষণ}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র পাকড়াশী}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সত্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|সত্য সাহা}}
* {{বাউ|সত্যপ্রিয় ঘোষ}}
* {{বাউ|সত্যপ্রিয় মহাথের}}
* {{বাউ|সত্যবতী (ব্যোমকেশ বক্সীর স্ত্রী)}}
* {{বাউ|সত্যব্রত সামশ্রমী}}
* {{বাউ|সত্যরঞ্জন বকসি}}
* {{বাউ|সত্যানন্দ গিরি}}
* {{বাউ|সত্যানন্দ দাশ}}
* {{বাউ|সত্যেন সেন}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্র চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ মৈত্র}}
* {{বাউ|সত্যেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|সনাতন গোস্বামী}}
* {{বাউ|সন্তোষ গুপ্ত}}
* {{বাউ|সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সন্তোষ ঢালী}}
* {{বাউ|সন্তোষ রানা}}
* {{বাউ|সন্তোষকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|সন্তোষকুমারী দেবী}}
* {{বাউ|সন্দীপ ঘোষ}}
* {{বাউ|সন্দীপ দত্ত}}
* {{বাউ|সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সন্ধ্যাকর নন্দী}}
* {{বাউ|সন্মথ দত্ত}}
* {{বাউ|সন্মাত্রানন্দ}}
* {{বাউ|সন্জীদা খাতুন}}
* {{বাউ|সনৎ কর}}
* {{বাউ|সনৎ কুমার সাহা}}
* {{বাউ|সপ্তর্ষি ব্যানার্জি}}
* {{বাউ|সফিউদ্দিন আহমদ}}
* {{বাউ|সফিউদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সবিতা রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সবিতাব্রত দত্ত}}
* {{বাউ|সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় (বিচারপতি)}}
* {{বাউ|সমর দাস}}
* {{বাউ|সমর বাগচী}}
* {{বাউ|সমর মজুমদার}}
* {{বাউ|সমর সেন}}
* {{বাউ|সমরজিৎ রায় চৌধুরী}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র কুমার মিত্র}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র চন্দ্র দেব}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র নাথ পাণ্ডে}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্র মল্লিক}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ রায়}}
* {{বাউ|সমরেন্দ্রনাথ সেন}}
* {{বাউ|সমরেশ বসু}}
* {{বাউ|সমাপ্তি চ্যাটার্জি}}
* {{বাউ|সমীর কুমার সাহা}}
* {{বাউ|সমীর রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সমুদ্র গুপ্ত (কবি)}}
* {{বাউ|সরকার প্রতিক}}
* {{বাউ|সরদার জয়েনউদ্দীন}}
* {{বাউ|সরদার ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|সরদার মোশারফ হোসেন}}
* {{বাউ|সরদার মোহাম্মদ আবদুল হামিদ}}
* {{বাউ|সরযূবালা দেবী}}
* {{বাউ|সরযূবালা সেন}}
* {{বাউ|সরলা বসু}}
* {{বাউ|সরলা বিড়লা}}
* {{বাউ|সরলা রায়}}
* {{বাউ|সরসীবালা বসু}}
* {{বাউ|সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী}}
* {{বাউ|সরোজ গুপ্ত}}
* {{বাউ|সরোজ ঘোষ}}
* {{বাউ|সরোজ দত্ত}}
* {{বাউ|সরোজ নলিনী দত্ত}}
* {{বাউ|সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সরোজকুমার রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ}}
* {{বাউ|সলিল চৌধুরী}}
* {{বাউ|সলিল সেন}}
* {{বাউ|সহিদুল করিম}}
* {{বাউ|সহিফা বানু}}
* {{বাউ|সাইদা খানম}}
* {{বাউ|সাইদুল আনাম টুটুল}}
* {{বাউ|সাইদুল হাসান (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন}}
* {{বাউ|সাইফ হাফিজুর রহমান}}
* {{বাউ|সাইফউদ-দীন চৌধুরী}}
* {{বাউ|সাইফুজ্জামান শিখর}}
* {{বাউ|সাইফুদ্দিন শাহ্}}
* {{বাউ|সাইফুর রহমান}}
* {{বাউ|সাইফুল আজম কাশেম}}
* {{বাউ|সাইফুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|সাইফুল ইসলাম মান্নু}}
* {{বাউ|সাইফুল হক}}
* {{বাউ|সাইম রানা}}
* {{বাউ|সাইমন জাকারিয়া}}
* {{বাউ|সাইয়িদ আতীকুল্লাহ}}
* {{বাউ|সাঈদ আহমদ}}
* {{বাউ|সাঈদ উদ্দীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাঈদ হায়দার}}
* {{বাউ|সাঈদ-উর-রহমান}}
* {{বাউ|সাঈদা মুনা তাসনিম}}
* {{বাউ|সাকিব ফাহাদ}}
* {{বাউ|সাগর জাহান}}
* {{বাউ|সাগরময় ঘোষ}}
* {{বাউ|সাগরলাল দত্ত}}
* {{বাউ|সাজিদুর রহমান}}
* {{বাউ|সাজেদুল করিম}}
* {{বাউ|সাজ্জাদুল হাসান (আমলা)}}
* {{বাউ|সাদাত আবুল মাসুদ}}
* {{বাউ|সাদাত হোসাইন}}
* {{বাউ|সাদি মহম্মদ}}
* {{বাউ|সাদিক হোসেন}}
* {{বাউ|সাদিয়া ফাইজুন্নেসা}}
* {{বাউ|সাদির উদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাদেক খান (সাংবাদিক)}}
* {{বাউ|সাধনা আহমেদ}}
* {{বাউ|সানাউল হক}}
* {{বাউ|সানাউল হক খান}}
* {{বাউ|সানাউল্লাহ নূরী}}
* {{বাউ|সানি সানোয়ার}}
* {{বাউ|সানিয়া সুলতানা লিজা}}
* {{বাউ|সানী জুবায়ের}}
* {{বাউ|সাফি উদ্দিন সাফি}}
* {{বাউ|সাবরিনা পড়শী}}
* {{বাউ|সাবিত্রী রায়}}
* {{বাউ|সাব্বির নাসির}}
* {{বাউ|সামন্ত লাল সেন}}
* {{বাউ|সামসুল হক (কবি)}}
* {{বাউ|সামিনা চৌধুরী}}
* {{বাউ|সামিয়া জামান}}
* {{বাউ|সাযযাদ কাদির}}
* {{বাউ|সায়মা ওয়াজেদ পুতুল}}
* {{বাউ|সায়েদুর রহমান}}
* {{বাউ|সায়েবা আখতার}}
* {{বাউ|সারদাচরণ মিত্র}}
* {{বাউ|সারদারঞ্জন রায়}}
* {{বাউ|সারা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সারা যাকের}}
* {{বাউ|সারা হোসেন}}
* {{বাউ|সালমা ইসলাম}}
* {{বাউ|সালমা মাসুদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সালমা সুলতানা}}
* {{বাউ|সালমা সোবহান}}
* {{বাউ|সালাউদ্দিন সরদার}}
* {{বাউ|সালাহ উদ্দিন ইউসুফ}}
* {{বাউ|সালাহ উদ্দিন নানুপুরী}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন (চলচ্চিত্র পরিচালক)}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন আহমেদ (অ্যাটর্নি জেনারেল)}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী}}
* {{বাউ|সালাহউদ্দিন লাভলু}}
* {{বাউ|সালিমুল হক}}
* {{বাউ|সালেহ উদ্দিন}}
* {{বাউ|সালেহ উদ্দীন আহমদ জহুরী}}
* {{বাউ|সালেহ হাসান নকীব}}
* {{বাউ|সালেহউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সাহানাজ সুলতানা}}
* {{বাউ|সাহিদা বেগম}}
* {{বাউ|সি এম শফি সামি}}
* {{বাউ|সি. বি. জামান}}
* {{বাউ|সিকদার আমিনুল হক}}
* {{বাউ|সিকদার মাহমুদুর রাজী}}
* {{বাউ|সিগমা হুদা}}
* {{বাউ|সিতারা বেগম}}
* {{বাউ|সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সিদ্দিকা কবীর}}
* {{বাউ|সিদ্দিকুর রহমান মিয়া}}
* {{বাউ|সিদ্ধার্থ ঘোষ}}
* {{বাউ|সিদ্ধার্থ মুখার্জী}}
* {{বাউ|সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সিয়াম আহমেদ}}
* {{বাউ|সিরাজ উদদীন আহমেদ}}
* {{বাউ|সিরাজ উদ্দিন মিয়া}}
* {{বাউ|সিরাজ সাঁই}}
* {{বাউ|সিরাজ হায়দার}}
* {{বাউ|সিরাজুদ্দীন হোসেন}}
* {{বাউ|সিরাজুর রহমান}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম (আইনজীবী)}}
* {{বাউ|সিরাজুল ইসলাম (কবি)}}
* {{বাউ|সিরাজুল করিম চৌধুরী}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক (বাচ্চু মিয়া)}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|সিরাজুল হক খান}}
* {{বাউ|সিরিল সিকদার}}
* {{বাউ|সীতা দেবী}}
* {{বাউ|সীতানাথ তত্ত্বভূষণ}}
* {{বাউ|সীতানাথ সিদ্ধান্তবাগীশ}}
* {{বাউ|সুকন্যা দত্ত}}
* {{বাউ|সুকান্ত চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুকুমারী ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুখময় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুখরঞ্জন সমাদ্দার}}
* {{বাউ|সুগত বসু}}
* {{বাউ|সুগত মারজিত}}
* {{বাউ|সুচরিত চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুচারু দেবী}}
* {{বাউ|সুচিত্রা মিত্র}}
* {{বাউ|সুজন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুজন বড়ুয়া}}
* {{বাউ|সুজয় পল}}
* {{বাউ|সুজাত খান (প্রকৌশলী)}}
* {{বাউ|সুজেয় শ্যাম}}
* {{বাউ|সুতপা চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুতপা বসু}}
* {{বাউ|সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার}}
* {{বাউ|সুদীপ্ত-হেরম্যান}}
* {{বাউ|সুদীপ্তা সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুদেষ্ণা রায়}}
* {{বাউ|সুদেষ্ণা সিনহা}}
* {{বাউ|সুধাংশু দত্ত মজুমদার}}
* {{বাউ|সুধাংশু শেখর হালদার}}
* {{বাউ|সুধাংশুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুধাংশুবালা হাজরা}}
* {{বাউ|সুধীন দত্ত}}
* {{বাউ|সুধীন দাশ}}
* {{বাউ|সুধীন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুধীন্দ্রনাথ রাহা}}
* {{বাউ|সুধীর চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুধীরকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুধীরচন্দ্র কর}}
* {{বাউ|সুধীরঞ্জন প্রধান}}
* {{বাউ|সুধীরনাথ সান্যাল}}
* {{বাউ|সুধীরলাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুনন্দ সান্যাল}}
* {{বাউ|সুনন্দা শিকদার}}
* {{বাউ|সুনয়নী দেবী}}
* {{বাউ|সুনীতি দেবী}}
* {{বাউ|সুনীতিকুমার পাঠক}}
* {{বাউ|সুনীল দাশ (লেখক)}}
* {{বাউ|সুনেত্রা গুপ্ত}}
* {{বাউ|সুন্দরীমোহন দাস}}
* {{বাউ|সুপ্রিয়া চৌধুরী (শিক্ষাবিদ)}}
* {{বাউ|সুফি (কার্টুনিস্ট)}}
* {{বাউ|সুফি মিজানুর রহমান}}
* {{বাউ|সুফি মোতাহার হোসেন}}
* {{বাউ|সুফিয়া খাতুন}}
* {{বাউ|সুফী জুলফিকার হায়দার}}
* {{বাউ|সুবল দাস}}
* {{বাউ|সুবিমল বসাক}}
* {{বাউ|সুবিমল মিশ্র}}
* {{বাউ|সুবোধ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুবোধ মিত্র}}
* {{বাউ|সুবোধ সরকার}}
* {{বাউ|সুবোধকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুব্রত রায় (বিজ্ঞানী)}}
* {{বাউ|সুব্রত রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুভাষ চন্দ্র শীল}}
* {{বাউ|সুভাষ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুভাষ দত্ত}}
* {{বাউ|সুভাষ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুভাষ মুখোপাধ্যায় (কবি)}}
* {{বাউ|সুভাষ সিংহ রায়}}
* {{বাউ|সুভো ঠাকুর}}
* {{বাউ|সুমথনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুমন কল্যাণপুর}}
* {{বাউ|সুমন চট্টোপাধ্যায় (সাংবাদিক ও লেখক)}}
* {{বাউ|সুমন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুমনা রায়}}
* {{বাউ|সুমনা সিনহা}}
* {{বাউ|সুমিত রায়}}
* {{বাউ|সুমিত সরকার}}
* {{বাউ|সুমিত সাহা}}
* {{বাউ|সুরজিৎচন্দ্র লাহিড়ী}}
* {{বাউ|সুরজিৎচন্দ্র সিনহা}}
* {{বাউ|সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরবালা ঘোষ}}
* {{বাউ|সুরমা জাহিদ}}
* {{বাউ|সুরমা মিত্র দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্র কুমার সিনহা}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্র নারায়ণ দাশ}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রকুমার দে}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রনাথ মিত্র}}
* {{বাউ|সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|সুরেশ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|সুরেশ রঞ্জন বসাক}}
* {{বাউ|সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুলতান আহমেদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুলতান উদ্দিন ভূঞা}}
* {{বাউ|সুলতান হোসেন খান}}
* {{বাউ|সুলতানা আফরোজ}}
* {{বাউ|সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা}}
* {{বাউ|সুলতানা কামাল}}
* {{বাউ|সুলতানা নুরুন নাহার}}
* {{বাউ|সুলতানা ফিরদৌসী}}
* {{বাউ|সুলতানা সারওয়াত আরা জামান}}
* {{বাউ|সুলতানুল কবির চৌধুরী}}
* {{বাউ|সুশান্ত মজুমদার}}
* {{বাউ|সুশীল কুমার দে}}
* {{বাউ|সুশীল জানা}}
* {{বাউ|সুশীল রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশীলকুমার ঘোষ}}
* {{বাউ|সুশীলকুমার মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশীলা অনিতা ব্যানার্জী}}
* {{বাউ|সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুশোভন সরকার}}
* {{বাউ|সুষমা দাস}}
* {{বাউ|সুস্মিতা আনিস}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বসু}}
* {{বাউ|সুস্মিতা বসু মজুমদার}}
* {{বাউ|সুহরাব হোসেন}}
* {{বাউ|সুহাস চন্দ্র দত্ত রায়}}
* {{বাউ|সুহাসিনী দাস}}
* {{বাউ|সূর্যকুমার সর্বাধিকারী}}
* {{বাউ|সেকুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সেজান মাহমুদ}}
* {{বাউ|সেজুল হোসেন}}
* {{বাউ|সেলিনা আখতার}}
* {{বাউ|সেলিনা পারভীন}}
* {{বাউ|সেলিনা বানু}}
* {{বাউ|সেলিনা বাহার জামান}}
* {{বাউ|সেলিনা হায়াৎ আইভী}}
* {{বাউ|সেলিম আলতাফ জর্জ}}
* {{বাউ|সেলিম মাহমুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড}}
* {{বাউ|সৈয়দ আকরম হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আক্তার হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আজিজুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ আতিকুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ আনোয়ার হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ আনোয়ারুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সামাদ (অর্থনীতিবিদ)}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সুলতান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবদুস সোবহান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবু কাওসার মো. দবিরুশ্বান}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মকসুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মনসুর হাবিবুল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আবুল মাসুদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুন নূর হোছেনী চিশতি}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুল মজিদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ আব্দুল হাদী}}
* {{বাউ|সৈয়দ আমিরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সৈয়দ আমীর আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ আলতাফ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ এ.বি মাহমুদুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ এমদাদ আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া}}
* {{বাউ|সৈয়দ জাহাঙ্গীর}}
* {{বাউ|সৈয়দ জাহেদ মনসুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ তারেক হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী}}
* {{বাউ|সৈয়দ নওশের আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ নজমুল হক (বুদ্ধিজীবী)}}
* {{বাউ|সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেম}}
* {{বাউ|সৈয়দ নাজমুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ নূরুদ্দিন}}
* {{বাউ|সৈয়দ নূরুদ্দীন}}
* {{বাউ|সৈয়দ পীর বাদশাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফজলুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফয়জুল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ ফাহিম মুনাইম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাইনুল হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মাহমুদ হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুর্তাজা আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ আবদুল ফায়েজ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ রায়হান উদ্দিন}}
* {{বাউ|সৈয়দ রেজাউল করিম}}
* {{বাউ|সৈয়দ রেফাত আহমেদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহ ইসরাইল}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহনুর}}
* {{বাউ|সৈয়দ শাহিদুর রহমান}}
* {{বাউ|সৈয়দ সফিউল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দ সুলতান}}
* {{বাউ|সৈয়দ হাবিবুল হক}}
* {{বাউ|সৈয়দ হাসান আহমদ}}
* {{বাউ|সৈয়দ হুমায়ুন আখতার}}
* {{বাউ|সৈয়দ হেদায়েতউল্লাহ}}
* {{বাউ|সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু}}
* {{বাউ|সৈয়দা ইসাবেলা}}
* {{বাউ|সৈয়দা মরিয়ম গুলশান হোসেন}}
* {{বাউ|সৈয়দা মোতাহেরা বানু}}
* {{বাউ|সৈয়দা রুবিনা আক্তার}}
* {{বাউ|সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোনালী বসু}}
* {{বাউ|সোনিয়া নিশাত আমিন}}
* {{বাউ|সোমদত্তা সিনহা}}
* {{বাউ|সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোমনাথ লাহিড়ী}}
* {{বাউ|সোমলতা আচার্য্য চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোমশুক্লা}}
* {{বাউ|সোমা চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোমেন চন্দ}}
* {{বাউ|সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|সোমেন্দ্রনাথ বসু}}
* {{বাউ|সোমেশচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|সোমেশ্বর অলি}}
* {{বাউ|সোমেশ্বরপ্রসাদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|সোল্স}}
* {{বাউ|সোহরাব আলী সানা}}
* {{বাউ|সোহানুর রহমান সোহান}}
* {{বাউ|সোহিনী আলম}}
* {{বাউ|সোহিনী রায়}}
* {{বাউ|সোহেল রানা (অভিনেতা)}}
* {{বাউ|সৌগত রায়}}
* {{বাউ|সৌদামিনী দেবী}}
* {{বাউ|সৌমিত্র শেখর দে}}
* {{বাউ|সৌমেন্দ্র সরকার}}
* {{বাউ|সৌম্যদীপ মুর্শিদাবাদী}}
* {{বাউ|সৌরভ পাল}}
* {{বাউ|সৌরীন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|স্টেলা ক্রামরিশ}}
* {{বাউ|স্থবির দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|স্নেহময় দত্ত}}
* {{বাউ|স্নেহাংশুকান্ত আচার্য}}
* {{বাউ|স্নেহাসিক্তা স্বর্ণকার}}
* {{বাউ|স্বদেশ রায়}}
* {{বাউ|স্বপন কুমার পতি}}
* {{বাউ|স্বপন গুপ্ত}}
* {{বাউ|স্বপন দাশগুপ্ত}}
* {{বাউ|স্বপনকুমার চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্বপ্নময় চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্বপ্নীল সজীব}}
* {{বাউ|স্বরব্যাঞ্জো}}
* {{বাউ|স্বরোচিষ সরকার}}
* {{বাউ|স্বাধীন কুমার মন্ডল}}
* {{বাউ|স্বামী অসক্তানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী গম্ভীরানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী নিগমানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী নিরঞ্জনানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী প্রণবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী প্রভবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী বিরজানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী বোধানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী মাধবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী লোকেশ্বরানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী শিবানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী সত্যানন্দ পুরী}}
* {{বাউ|স্বামী সমর্পণানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী সারদানন্দ}}
* {{বাউ|স্বামী স্বরূপানন্দ}}
* {{বাউ|স্মরণজিৎ চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|স্যাভি গুপ্ত}}
* {{বাউ|স্যামসন এইচ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|হবিবুর রহমান}}
* {{বাউ|হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী}}
* {{বাউ|হযরত আলী (কৃষিতত্ত্ববিদ)}}
* {{বাউ|হরচন্দ্র ঘোষ (নাট্যকার)}}
* {{বাউ|হরপ্রসাদ শাস্ত্রী}}
* {{বাউ|হরলাল রায়}}
* {{বাউ|হরি কেশব সেন}}
* {{বাউ|হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিদাস পাল}}
* {{বাউ|হরিদাস ভট্টাচার্য}}
* {{বাউ|হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ}}
* {{বাউ|হরিদেব}}
* {{বাউ|হরিনাথ দে}}
* {{বাউ|হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিপদ কাপালী}}
* {{বাউ|হরিপদ দত্ত}}
* {{বাউ|হরিশ চন্দ্র মিত্র}}
* {{বাউ|হরিশংকর জলদাস}}
* {{বাউ|হরিশংকর দাশ}}
* {{বাউ|হরিশঙ্কর বাসুদেবন}}
* {{বাউ|হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিসাধন চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরিহর শেঠ}}
* {{বাউ|হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হরেকৃষ্ণ কোঙার}}
* {{বাউ|হরেন ঘটক}}
* {{বাউ|হরেন ঘোষ}}
* {{বাউ|হরেন্দ্র কুমার মুখার্জি}}
* {{বাউ|হরেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|হর্ষ দত্ত}}
* {{বাউ|হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন (চরিত্র)}}
* {{বাউ|হলধর পটল}}
* {{বাউ|হাকিম হাবিবুর রহমান}}
* {{বাউ|হাছন রাজা (হাসন রাজা)}}
* {{বাউ|হাজী মুহাম্মদ নছীম}}
* {{বাউ|হাজেরা মাহতাব}}
* {{বাউ|হাতেম আলী মিয়া}}
* {{বাউ|হানিফ পাঠান}}
* {{বাউ|হানিফউদ্দিন মিয়া}}
* {{বাউ|হাফিজা খাতুন}}
* {{বাউ|হাবিব ওয়াহিদ}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান (তোতা মিয়া)}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান আকন}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান খান}}
* {{বাউ|হাবিবুর রহমান মিলন}}
* {{বাউ|হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া}}
* {{বাউ|হাবীবুর রহমান (কবি)}}
* {{বাউ|হাবীবুল্লাহ সিরাজী}}
* {{বাউ|হামিদা বেগম}}
* {{বাউ|হামিদা হোসেন}}
* {{বাউ|হামিদুজ্জামান খান}}
* {{বাউ|হামিদুজ্জামান সরকার}}
* {{বাউ|হামিদুর রহমান (চিত্রশিল্পী)}}
* {{বাউ|হামিদুল হক খন্দকার}}
* {{বাউ|হামিদুল হক চৌধুরী}}
* {{বাউ|হামিন আহমেদ}}
* {{বাউ|হামিরুদ্দিন মিদ্যা}}
* {{বাউ|হামুদুর রহমান}}
* {{বাউ|হামেদুর রহমান}}
* {{বাউ|হায়দার আকবর খান রনো}}
* {{বাউ|হায়দার হোসেন}}
* {{বাউ|হায়াৎ সাইফ}}
* {{বাউ|হারুন আল রশিদ}}
* {{বাউ|হারুন হাবীব}}
* {{বাউ|হারুনর রশিদ}}
* {{বাউ|হালিমা খাতুন}}
* {{বাউ|হাশেম খান}}
* {{বাউ|হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ}}
* {{বাউ|হাসনা বেগম}}
* {{বাউ|হাসমত}}
* {{বাউ|হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী}}
* {{বাউ|হাসান মতিউর রহমান}}
* {{বাউ|হাসান মশহুদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হাসান মাসুদ}}
* {{বাউ|হাসান মাহমুদ খন্দকার}}
* {{বাউ|হাসান শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন}}
* {{বাউ|হাসান সিরাজ সুজা}}
* {{বাউ|হাসান সোহরাওয়ার্দী}}
* {{বাউ|হাসান হাফিজ}}
* {{বাউ|হাসানউজ্জামান খান}}
* {{বাউ|হাসিনা খান}}
* {{বাউ|হাসিনা মমতাজ (কণ্ঠশিল্পী)}}
* {{বাউ|হাসিনা মুর্শেদ}}
* {{বাউ|হাসিবুন নাহার}}
* {{বাউ|হাসিবুর রেজা কল্লোল}}
* {{বাউ|হাসিবুল ইসলাম মিজান}}
* {{বাউ|হাসিরাশি দেবী}}
* {{বাউ|হিতেশরঞ্জন সান্যাল}}
* {{বাউ|হিমাংশু দত্ত}}
* {{বাউ|হিমানি বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হিমানীশ গোস্বামী}}
* {{বাউ|হিমু আকরাম}}
* {{বাউ|হিমেল আশরাফ}}
* {{বাউ|হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হিরন্ময় সেন গুপ্ত}}
* {{বাউ|হীরালাল চক্রবর্তী}}
* {{বাউ|হীরালাল চৌধুরী}}
* {{বাউ|হীরেন্দ্রনাথ দত্ত}}
* {{বাউ|হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হুকাকাশি}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবির}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবির (কবি)}}
* {{বাউ|হুমায়ুন কবীর বালু}}
* {{বাউ|হুমায়ূন কবীর ঢালী}}
* {{বাউ|হুমায়ূন কবীর সাধু}}
* {{বাউ|হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী}}
* {{বাউ|হুসনা আহমেদ}}
* {{বাউ|হুসনা বানু খানম}}
* {{বাউ|হৃদয় খান}}
* {{বাউ|হেনা দাস}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র বসু}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র বাগচী}}
* {{বাউ|হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী}}
* {{বাউ|হেমন্ত মুখোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমন্তকুমার সরকার}}
* {{বাউ|হেমাঙ্গ বিশ্বাস}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}}
* {{বাউ|হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার}}
* {{বাউ|হেরম্বচন্দ্র মৈত্র}}
* {{বাউ|হেলেনা খান}}
* {{বাউ|হৈমন্তী রক্ষিত}}
* {{বাউ|হৈমন্তী শুক্লা}}
* {{বাউ|হোসনে আরা (কবি)}}
* {{বাউ|হোসনে আরা বেগম (সমাজকর্মী)}}
* {{বাউ|হোসনে আরা শাহেদ}}
* {{বাউ|হোসেন উদ্দিন শেখর}}
* {{বাউ|হোসেন জিল্লুর রহমান}}
* {{বাউ|হোসেনউদ্দীন হোসেন}}
* {{বাউ|হ্যানা সেন}}
{{Div col end}}
== অনুবাদ ==
এটি একটি সহায়ক তালিকা মাত্র। ভূক্তি তৈরির জন্য [https://en.wikiquote.org ইংরেজি উইকিউক্তি] থেকে ন্যূনতম ৩টি ভুক্তি এবং ১৫০ শব্দ সংবলিত পাতা বাংলায় অনুবাদ করতে পারেন।
=== অবাঙালি ব্যক্তি ===
{{Div col|colwidth=20em|rules=yes}}
* {{eq|A. C. Benson|এ. সি. বেনসন}}
* {{eq|A. C. Bradley|এ. সি. ব্র্যাডলি}}
* {{eq|A. J. P. Taylor|এ. জে. পি. টেলর}}
* {{eq|Abdulrazak Gurnah|আবদুলরাজাক গুরনাহ}}
* {{eq|Abdus Salam|আবদুস সালাম}}
* {{eq|Abhijit Naskar|অভিজিৎ নস্কর}}
* {{eq|Abiy Ahmed|আবি আহমেদ}}
* {{eq|Abraham Pais|আব্রাহাম পাইস}}
* {{eq|Adam Riess|অ্যাডাম রিস}}
* {{eq|Ahmed Zewail|আহমেদ জেওয়াইল}}
* {{eq|Al Gore|আল গোর}}
* {{eq|Al-Biruni|আল-বিরুনি}}
* {{eq|Al-Farabi|আল-ফারাবি}}
* {{eq|Al-Jahiz|আল-জাহিয}}
* {{eq|Alain Aspect|আলাঁ আস্পে}}
* {{eq|Alain de Botton|আলাঁ দ্য বতোঁ}}
* {{eq|Alan Guth|অ্যালান গুথ}}
* {{eq|Alan Kay|অ্যালান কে}}
* {{eq|Alan Perlis|অ্যালান পারলিস}}
* {{eq|Albert Hofmann|আলবার্ট হফমান}}
* {{eq|Albert I of Belgium|প্রথম আলবার্ট (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Albert Schweitzer|আলবার্ট সোয়াইৎজার}}
* {{eq|Albertus Magnus|আলবার্টাস ম্যাগনাস}}
* {{eq|Aldo Leopold|অ্যাল্ডো লিওপোল্ড}}
* {{eq|Aleksandr Solzhenitsyn|আলেকসান্দ্র্ সলজেনিৎসিন}}
* {{eq|Alex Haley|অ্যালেক্স হেইলি}}
* {{eq|Alexander Fleming|আলেকজান্ডার ফ্লেমিং}}
* {{eq|Alexander Grothendieck|আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক}}
* {{eq|Alexander von Humboldt|আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট}}
* {{eq|Alfred Aho|আলফ্রেড আহো}}
* {{eq|Alfred Kinsey|আলফ্রেড কিনসে}}
* {{eq|Alfred Marshall|আলফ্রেড মার্শাল}}
* {{eq|Alfred Nobel|আলফ্রেড নোবেল}}
* {{eq|Alfred North Whitehead|আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেড}}
* {{eq|Alfred Russel Wallace|আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস}}
* {{eq|Alice Munro|অ্যালিস মানরো}}
* {{eq|Amina J. Mohammed|আমিনা জে. মোহাম্মদ}}
* {{eq|Amit Goswami|অমিত গোস্বামী}}
* {{eq|Amos Tversky|আমোস তভারস্কি}}
* {{eq|Anaxagoras|আনাক্সাগোরাস}}
* {{eq|Anaximander|অ্যানাক্সিম্যান্ডার}}
* {{eq|Andreas Vesalius|আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াস}}
* {{eq|Andrei Sakharov|আন্দ্রেই সাখারভ}}
* {{eq|Andrew Wiles|অ্যান্ড্রু ওয়াইলস}}
* {{eq|André Gide|অঁদ্রে জিদ}}
* {{eq|André-Marie Ampère|অঁদ্রে-মারি অম্পেয়্যার}}
* {{eq|Angela Merkel|আঙ্গেলা ম্যার্কেল}}
* {{eq|Anita Brookner|অনিতা ব্রুকনার}}
* {{eq|Anita Desai|অনিতা দেসাই}}
* {{eq|Anne Applebaum|অ্যান অ্যাপলবাউম}}
* {{eq|Annie Ernaux|আনি এরনো}}
* {{eq|Antoine Lavoisier|অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে}}
* {{eq|Aravind Adiga|অরবিন্দ আদিগা}}
* {{eq|Arthur Balfour|আর্থার বেলফোর}}
* {{eq|Arthur Eddington|আর্থার এডিংটন}}
* {{eq|Arthur Kornberg|আর্থার কর্নবার্গ}}
* {{eq|Arthur Leonard Schawlow|আর্থার লিওনার্ড শলো}}
* {{eq|Ash Carter|অ্যাশ কার্টার}}
* {{eq|Atle Selberg|আটলে সেলবার্গ}}
* {{eq|Audrey Hepburn|অড্রে হেপবার্ন}}
* {{eq|August Kekulé|ফ্রিডরিখ আউগুস্ট কেকুলে}}
* {{eq|Augustin Louis Cauchy|ওগ্যুস্তাঁ লুই কোশি}}
* {{eq|Augustin-Jean Fresnel|ওগ্যুস্তাঁ-জঁ ফ্রেনেল}}
* {{eq|Aurel Stein|অরেল স্টেইন}}
* {{eq|Ban Ki-moon|বান কি-মুন}}
* {{eq|Baruch Samuel Blumberg|বারুক স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ}}
* {{eq|Beatrix Potter|বিয়াট্রিক্স পটার}}
* {{eq|Ben Okri|বেন ওক্রি}}
* {{eq|Bernardine Evaristo|বার্নার্ডিন এভারিস্তো}}
* {{eq|Blaise Pascal|ব্লেজ পাসকাল}}
* {{eq|Bob Dylan|বব ডিলান}}
* {{eq|Boris Pasternak|বরিস পাস্তেরনাক}}
* {{eq|Boutros Boutros-Ghali|বুত্রোস বুত্রোস-ঘালি}}
* {{eq|Brian Cox (physicist)|ব্রায়ান কক্স (পদার্থবিজ্ঞানী)}}
* {{eq|Brian Greene|ব্রায়ান গ্রিন}}
* {{eq|Brian Schmidt|ব্রায়ান পি. শ্মিট}}
* {{eq|Brook Taylor|ব্রুক টেলর}}
* {{eq|Brussels|ব্রাসেলস}}
* {{eq|C. A. R. Hoare|সি. এ. আর. হোর}}
* {{eq|C. N. Ramachandra Rao|সি. এন. রামচন্দ্র রাও}}
* {{eq|C. V. Raman|চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন}}
* {{eq|Carl Bernstein|কার্ল বার্নস্টিন}}
* {{eq|Carl Linnaeus|কার্ল লিনিয়াস}}
* {{eq|Carlo Rubbia|কার্লো রুবিয়া}}
* {{eq|Carolyn Bertozzi|ক্যারোলিন বার্তোজি}}
* {{eq|Caryl Phillips|ক্যারিল ফিলিপস}}
* {{eq|Chaim Weizmann|হাইম ভাইৎসমান}}
* {{eq|Charles Fefferman|চার্লস ফেফারম্যান}}
* {{eq|Charles Hard Townes|চার্লস হার্ড টাউনস}}
* {{eq|Charles Lyell|চার্লস লিয়েল}}
* {{eq|Charles Sanders Peirce|চার্লস স্যান্ডার্স পার্স}}
* {{eq|Charles Scott Sherrington|চার্লস স্কট শেরিংটন}}
* {{eq|Cheikh Anta Diop|শেখ আন্তা দিওপ}}
* {{eq|Chinua Achebe|চিনুয়া আচেবে}}
* {{eq|Christiaan Barnard|ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড}}
* {{eq|Christiaan Huygens|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস}}
* {{eq|Christopher Wren|ক্রিস্টোফার রেন}}
* {{eq|Claude Lévi-Strauss|ক্লোদ লেভি-স্ত্রোস}}
* {{eq|Claudia Sheinbaum|ক্লাউদিয়া শেইনবাউম}}
* {{eq|Colson Whitehead|কলসন হোয়াইটহেড}}
* {{eq|Craig Venter|ক্রেইগ ভেন্টর}}
* {{eq|Czesław Miłosz|চেসোয়াফ মিওশ}}
* {{eq|Cédric Villani|সেড্রিক ভিলানি}}
* {{eq|Dag Hammarskjöld|দ্যাগ হ্যামারশোল্ড}}
* {{eq|Damon Galgut|ড্যামন গ্যালগুট}}
* {{eq|Daniel Kahneman|ড্যানিয়েল কানেমান}}
* {{eq|Dave Barry|ডেভ ব্যারি}}
* {{eq|David Bohm|ডেভিড বম}}
* {{eq|David Brewster|ডেভিড ব্রুস্টার}}
* {{eq|David Chalmers|ডেভিড চালমারস}}
* {{eq|David Gross|ডেভিড জোনাথন গ্রোস}}
* {{eq|David Grossman|ডেভিড গ্রসম্যান}}
* {{eq|David Hilbert|ডাভিড হিলবের্ট}}
* {{eq|David Mamet|ডেভিড ম্যামেট}}
* {{eq|David McCullough|ডেভিড ম্যাককালাফ}}
* {{eq|David Suzuki|ডেভিড সুজুকি}}
* {{eq|Dennis Ritchie|ডেনিস রিচি}}
* {{eq|Desmond Morris|ডেসমন্ড মরিস}}
* {{eq|Desmond Tutu|ডেসমন্ড টুটু}}
* {{eq|Dian Fossey|ডায়ান ফসি}}
* {{eq|Dmitri Mendeleev|দিমিত্রি মেন্ডেলিভ}}
* {{eq|Dmitry Muratov|দিমিত্রি মুরাতভ}}
* {{eq|Donald Knuth|ডোনাল্ড কানুথ}}
* {{eq|Donald Tusk|ডোনাল্ড টাস্ক}}
* {{eq|Donna Strickland|ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড}}
* {{eq|Doris Lessing|ডরিস লেসিং}}
* {{eq|Dorothy Hodgkin|ডরোথি হজকিন}}
* {{eq|Douglas Engelbart|ডগলাস এঙ্গেলবার্ট}}
* {{eq|E. O. Wilson|ই. ও. উইলসন}}
* {{eq|Edith Wharton|ইডিথ হোয়ার্টন}}
* {{eq|Edmond Halley|এডমন্ড হ্যালি}}
* {{eq|Edsger W. Dijkstra|এডসগার ডাইকস্ট্রা}}
* {{eq|Edward Teller|এডওয়ার্ড টেলার}}
* {{eq|Edward Witten|এডওয়ার্ড উইটেন}}
* {{eq|Elias James Corey|ইলিয়াস জেমস কোরি}}
* {{eq|Elie Wiesel|এলি উইজেল}}
* {{eq|Elinor Ostrom|এলিনর অস্ট্রম}}
* {{eq|Elizabeth Bishop|এলিজাবেথ বিশপ}}
* {{eq|Ellen Johnson Sirleaf|এলেন জনসন সারলিফ}}
* {{eq|Emanuel Swedenborg|এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ}}
* {{eq|Emmy Noether|এমি নোয়েদার}}
* {{eq|Empedocles|এম্পেদোক্লেস}}
* {{eq|Enrico Fermi|এনরিকো ফের্মি}}
* {{eq|Epicurus|এপিকুরোস}}
* {{eq|Eric Hobsbawm|এরিক হবসবাউম}}
* {{eq|Eric Kandel|এরিক ক্যান্ডেল}}
* {{eq|Ernest Hemingway|আর্নেস্ট হেমিংওয়ে}}
* {{eq|Ernest Rutherford|আর্নেস্ট রাদারফোর্ড}}
* {{eq|Ernst Haeckel|এর্নস্ট হেকেল}}
* {{eq|Ernst Mach|এর্নস্ট মাখ}}
* {{eq|Ernst Mayr|এর্নস্ট মায়ার}}
* {{eq|Eugene O'Neill|ইউজিন ও'নিল}}
* {{eq|Eugene Wigner|ইউজিন পল উইগনার}}
* {{eq|European Parliament|ইউরোপীয় পার্লামেন্ট}}
* {{eq|European Union|ইউরোপীয় ইউনিয়ন}}
* {{eq|Evangelista Torricelli|ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি}}
* {{eq|F. W. de Klerk|এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ক}}
* {{eq|Fabiola Gianotti|ফাবিওলা জানোত্তি}}
* {{eq|Fakhr al-Din al-Razi|ফখরুদ্দীন আল-রাযী}}
* {{eq|Federico Faggin|ফেদেরিকো ফাগিন}}
* {{eq|Felix Bloch|ফেলিক্স ব্লখ}}
* {{eq|Flinders Petrie|ফ্লিন্ডার্স পেট্রি}}
* {{eq|Francis Collins|ফ্রান্সিস কলিন্স}}
* {{eq|Francis Crick|ফ্রান্সিস ক্রিক}}
* {{eq|Francis Galton|ফ্রান্সিস গ্যাল্টন}}
* {{eq|Francisco Varela|ফ্রান্সিস্কো ভারেলা}}
* {{eq|Frank Macfarlane Burnet|ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকফারলেন বার্নেট}}
* {{eq|Frank Wilczek|ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক}}
* {{eq|François Arago|ফ্রঁসোয়া আরাগন}}
* {{eq|François Englert|ফ্রঁসোয়া অংল্যার}}
* {{eq|François Mauriac|ফ্রঁসোয়া মরিয়াক}}
* {{eq|François Mitterrand|ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ}}
* {{eq|Fred Brooks|ফ্রেড ব্রুকস}}
* {{eq|Frederick Jackson Turner|ফ্রেডরিক জ্যাকসন টার্নার}}
* {{eq|Frederick Soddy|ফ্রেডরিক সডি}}
* {{eq|Fridtjof Nansen|ফ্রিডতিয়ফ নানসেন}}
* {{eq|Friedrich Hayek|ফ্রিডরিখ ফন হায়েক}}
* {{eq|Fritjof Capra|ফ্রিটজফ কাপরা}}
* {{eq|G. H. Hardy|জি. এইচ. হার্ডি}}
* {{eq|Gabriela Mistral|গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল}}
* {{eq|Gao Xingjian|কাও শিংচিয়েন}}
* {{eq|Gary Becker|গ্যারি বেকার}}
* {{eq|Geert Wilders|খের্ট ভিল্ডার্স}}
* {{eq|Geoffrey Hinton|জিওফ্রে হিন্টন}}
* {{eq|George Boole|জর্জ বুল}}
* {{eq|George Curzon, 1st Marquess Curzon of Kedleston|জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন}}
* {{eq|George Gamow|জর্জ গ্যামো}}
* {{eq|George Smoot|জর্জ স্মুট}}
* {{eq|George Steiner|জর্জ স্টাইনার}}
* {{eq|George Stigler|জর্জ স্টিগলার}}
* {{eq|George Washington Carver|জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার}}
* {{eq|Georges Cuvier|জর্জ ক্যুভিয়ে}}
* {{eq|Georges-Louis Leclerc, Comte de Buffon|জর্জ-লুই ল্যক্লের, কোঁত দ্য বুফোঁ}}
* {{eq|Gerald Durrell|জেরাল্ড ডারেল}}
* {{eq|Gerhard Schröder|গেরহার্ড শ্রোডার}}
* {{eq|Gertrude B. Elion|গারট্রুড বি. এলিয়ন}}
* {{eq|Giorgio Parisi|জর্জিও পারিসি}}
* {{eq|Giorgos Seferis|ইয়োর্গোস সেফেরিস}}
* {{eq|Giosuè Carducci|জোযুয়ে কার্দুচ্চি}}
* {{eq|Glenn T. Seaborg|গ্লেন থিওডোর সিবর্গ}}
* {{eq|Goodluck Jonathan|গুডলাক জোনাথন}}
* {{eq|Gordon Moore|গর্ডন মুর}}
* {{eq|Gottfried Leibniz|গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস}}
* {{eq|Gregor Mendel|গ্রেগর মেন্ডেল}}
* {{eq|Grigori Perelman|গ্রিগরি পেরেলমান}}
* {{eq|Gro Harlem Brundtland|গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড}}
* {{eq|Gustav Kirchhoff|গুস্টাফ কির্খফ}}
* {{eq|Gustav Stresemann|গুস্টাভ ষ্ট্রেজেমান}}
* {{eq|Gérard Debreu|জেরার দ্যব্রু}}
* {{eq|Göran Persson|গোরান পারসন}}
* {{eq|H. H. Asquith|এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ}}
* {{eq|Halldór Laxness|হালডোর ল্যাক্সনেস}}
* {{eq|Han Kang|হান কাং}}
* {{eq|Hans Bethe|হ্যান্স বেটে}}
* {{eq|Hans Blix|হ্যান্স ব্লিক্স}}
* {{eq|Harish-Chandra|হরিশ-চন্দ্র}}
* {{eq|Harold Macmillan|হ্যারল্ড ম্যাকমিলান}}
* {{eq|Harold Pinter|হ্যারল্ড পিন্টার}}
* {{eq|Harper Lee|হার্পার লি}}
* {{eq|Harry Markowitz|হ্যারি মার্কোউইটজ}}
* {{eq|Heinrich Böll|হাইনরিখ বোল}}
* {{eq|Heinrich Hertz|হাইনরিখ হের্ত্স}}
* {{eq|Heinrich Rohrer|হাইনরিখ রোরার}}
* {{eq|Helen Clark|হেলেন ক্লার্ক}}
* {{eq|Helmut Kohl|হেলমুট কোল}}
* {{eq|Hendrik Lorentz|হেন্ড্রিক আন্টোন লোরেন্ৎস}}
* {{eq|Henri Bergson|অঁরি বের্গসন}}
* {{eq|Henri Poincaré|অঁরি পোয়াঁকারে}}
* {{eq|Henry Cavendish|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ}}
* {{eq|Henry Dunant|অঁরি দ্যুনঁ}}
* {{eq|Henryk Sienkiewicz|হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ}}
* {{eq|Heraclitus|হেরাক্লিটাস}}
* {{eq|Herbert A. Simon|হার্বার্ট এ. সাইমন}}
* {{eq|Herbert Kroemer|হার্বার্ট ক্রোয়েমার}}
* {{eq|Herbert Spencer|হার্বার্ট স্পেন্সার}}
* {{eq|Hermann Hesse|হেরমান হেস}}
* {{eq|Hermann Weyl|হেরমান ভাইল}}
* {{eq|Hermann von Helmholtz|হারমান ফন হেল্মহোল্ৎস}}
* {{eq|Herta Müller|হের্টা ম্যুলার}}
* {{eq|Hideki Yukawa|হিদেকি ইউকাওয়া}}
* {{eq|Hirohito|হিরোহিতো}}
* {{eq|Howard H. Aiken|হাওয়ার্ড আইকেন}}
* {{eq|Hugh Everett|হিউ এভারেট}}
* {{eq|Hugo De Vries|হুগো দ্য ভ্রিস}}
* {{eq|Humphry Davy|হামফ্রি ডেভি}}
* {{eq|Ian Kershaw|ইয়ান কার্শ}}
* {{eq|Ian McEwan|ইয়ান ম্যাকইউয়ান}}
* {{eq|Ian Wilmut|ইয়ান উইলমুট}}
* {{eq|Igor Kurchatov|ইগর কুরচাতভ}}
* {{eq|Imre Kertész|ইমরে কার্তেজ}}
* {{eq|Ingrid Daubechies|ইনগ্রিড ডোবিচি}}
* {{eq|Irina Bokova|ইরিনা বোকোভা}}
* {{eq|Iris Murdoch|আইরিস মারডক}}
* {{eq|Irving Langmuir|আরভিং ল্যাংমুয়ির}}
* {{eq|Isaac Bashevis Singer|আইজ্যাক বাশেভিস সিঙ্গার}}
* {{eq|Isidor Isaac Rabi|ইসিদোর আইজ্যাক রাবি}}
* {{eq|Ivan Pavlov|ইভান পাভলভ}}
* {{eq|Ivo Andrić|ইভো আন্দ্রিক}}
* {{eq|J. B. S. Haldane|জে. বি. এস. হ্যালডেন}}
* {{eq|J. J. Thomson|জে. জে. থমসন}}
* {{eq|J. M. Coetzee|জে. এম. কোয়েটজি}}
* {{eq|Jack Steinberger|জ্যাক স্টেইনবার্গার}}
* {{eq|Jacobus Henricus van 't Hoff|ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ}}
* {{eq|Jacques Chirac|জাক শিরাক}}
* {{eq|Jacques-Yves Cousteau|জাক-ইভ কুস্তো}}
* {{eq|James Callaghan|জেমস ক্যালাহান}}
* {{eq|James Chadwick|জেমস চ্যাডউইক}}
* {{eq|James Cook|জেমস কুক}}
* {{eq|James Mirrlees|জেমস মিরলিস}}
* {{eq|James Prescott Joule|জেমস প্রেসকট জুল}}
* {{eq|James Prinsep|জেমস প্রিন্সেপ}}
* {{eq|James Tobin|জেমস টোবিন}}
* {{eq|James Van Allen|জেমস ভ্যান অ্যালেন}}
* {{eq|James Watt|জেমস ওয়াট}}
* {{eq|Jane Addams|জেন অ্যাডামস}}
* {{eq|Jane Goodall|জেন গুডাল}}
* {{eq|Jared Diamond|জ্যারেড ডায়মন্ড}}
* {{eq|Jayant Narlikar|জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর}}
* {{eq|Jean le Rond d'Alembert|জঁ ল্য রোঁ দালঁবের}}
* {{eq|Jean-Baptiste Lamarck|জঁ-বাতিস্ত লামার্ক}}
* {{eq|Jean-Marie Le Pen|জঁ-মারি ল্য পেন}}
* {{eq|Jean-Pierre Serre|জঁ-পিয়ের সের}}
* {{eq|Jerome Isaac Friedman|জেরোম আইজ্যাক ফ্রিডম্যান}}
* {{eq|Jhumpa Lahiri|ঝুম্পা লাহিড়ী}}
* {{eq|Jocelyn Bell Burnell|জসিলিন বেল বার্নেল}}
* {{eq|John Archibald Wheeler|জন আর্চিবল্ড হুইলার}}
* {{eq|John Backus|জন ব্যাকাস}}
* {{eq|John Banville|জন ব্যানভিল}}
* {{eq|John Bardeen|জন বারডিন}}
* {{eq|John C. Mather|জন সি. মাদার}}
* {{eq|John Desmond Bernal|জে. ডি. বার্নাল}}
* {{eq|John Forbes Nash, Jr.|জন ফোর্বস ন্যাশ}}
* {{eq|John Galsworthy|জন গলসওয়ার্দি}}
* {{eq|John Gurdon|জন গার্ডন}}
* {{eq|John Hicks|জন হিক্স}}
* {{eq|John Hopfield|জন হোপফিল্ড}}
* {{eq|John James Audubon|জন জেমস অডুবন}}
* {{eq|John Major|জন মেজর}}
* {{eq|John Maynard Keynes|জন মেইনার্ড কেইনস}}
* {{eq|John Maynard Smith|জন মেইনার্ড স্মিথ}}
* {{eq|John McCarthy (computer scientist)|জন ম্যাককার্থি (কম্পিউটার বিজ্ঞানী)}}
* {{eq|John Muir|জন মুয়ির}}
* {{eq|John Napier|জন নেপিয়ার}}
* {{eq|John Polanyi|জন চার্লস পোলানি}}
* {{eq|John Ray|জন রে}}
* {{eq|John Stewart Bell|জন স্টুয়ার্ট বেল}}
* {{eq|John Tyndall|জন টিন্ডাল}}
* {{eq|John von Neumann|জন ফন নিউম্যান}}
* {{eq|Jon Fosse|ইয়োন ফসে}}
* {{eq|Jonas Salk|জোনাস সল্ক}}
* {{eq|Josef Mengele|ইয়োসেফ মেংগেলে}}
* {{eq|Joseph Fourier|জোসেফ ফুরিয়ে}}
* {{eq|Joseph Priestley|জোসেফ প্রিস্টলি}}
* {{eq|Joseph Stiglitz|জোসেফ স্টিগলিটজ}}
* {{eq|Joseph von Fraunhofer|ইয়োসেফ ফন ফ্রাউনহোফার}}
* {{eq|Joshua Lederberg|জশুয়া লেডারবার্গ}}
* {{eq|Josiah Willard Gibbs|জোসিয়াহ উইলার্ড গিবস}}
* {{eq|José María Aznar|হোসে মারিয়া আজনার}}
* {{eq|José Saramago|হোসে সারামাগো}}
* {{eq|Juan Maldacena|হুয়ান মালদাসেনা}}
* {{eq|Juan Ramón Jiménez|হুয়ান রামোন হিমেনেজ}}
* {{eq|Judea Pearl|জুডেয়া পার্ল}}
* {{eq|Julian Schwinger|জুলিয়ান শুইঙার}}
* {{eq|Julio Cortázar|হুলিও কোর্তাজার}}
* {{eq|Julius Robert von Mayer|জুলিয়াস রবার্ট ফন মেয়ার}}
* {{eq|Junot Díaz|জুনো দিয়াজ}}
* {{eq|Justus von Liebig|ইয়োস্টুস ফন লিবিগ}}
* {{eq|Jöns Jacob Berzelius|ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস}}
* {{eq|Kaja Kallas|কায়া কাল্লাস}}
* {{eq|Kamila Shamsie|কামিলা শামসি}}
* {{eq|Karen Uhlenbeck|কারেন উলেনবেক}}
* {{eq|Karl Barry Sharpless|কার্ল ব্যারি শার্পলেস}}
* {{eq|Kary Mullis|ক্যারি মুলিস}}
* {{eq|Katalin Karikó|কাতালিন কারিকো}}
* {{eq|Kazuo Ishiguro|কাজুও ইশিগুরো}}
* {{eq|Kaṇāda|কণাদ্}}
* {{eq|Ken Thompson|কেন টম্পসন}}
* {{eq|Kendrick Lamar|কেন্ড্রিক লামার}}
* {{eq|Kenneth Arrow|কেনেথ অ্যারো}}
* {{eq|Kenzaburō Ōe|কেন্জাবুরো ওহয়ে}}
* {{eq|Kiran Desai|কিরণ দেশাই}}
* {{eq|Kiran Mazumdar-Shaw|কিরণ মজুমদার-শ}}
* {{eq|Knut Hamsun|ক্যনুট হামসুন}}
* {{eq|Koichi Tanaka|কোইচি তানাকা}}
* {{eq|Korean War|কোরীয় যুদ্ধ}}
* {{eq|Lars Peter Hansen|লারস পিটার হ্যান্সেন}}
* {{eq|Laurent Schwartz|লোরঁ শোয়ার্তজ}}
* {{eq|Leon Cooper|লিয়ন কুপার}}
* {{eq|Leon M. Lederman|লিয়ন ম্যাক্স লেডারম্যান}}
* {{eq|Leonard Susskind|লিওনার্ড সাসকিন্ড}}
* {{eq|Leonhard Euler|লিওনার্ড ইউলার}}
* {{eq|Leonid Kantorovich|লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ}}
* {{eq|Leopold II of Belgium|দ্বিতীয় লেওপোল্ড (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Leopold III of Belgium|তৃতীয় লেওপোল্ড (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Leslie Lamport|লেসলি ল্যামপোর্ট}}
* {{eq|Lev Landau|ল্যেভ লান্দাউ}}
* {{eq|Leymah Gbowee|লেমাহ গবোউই}}
* {{eq|Leó Szilárd|লিও জিলার্দ}}
* {{eq|Linus Pauling|লিনাস পাউলিং}}
* {{eq|Lionel Robbins|লিওনেল রবিন্স}}
* {{eq|Lisa Randall|লিসা রান্ডাল}}
* {{eq|Louis Agassiz|লুই আগাসিজ}}
* {{eq|Louis de Broglie|লুই দ্য ব্রোয়ি}}
* {{eq|Louise Glück|লুইজ গ্লিক}}
* {{eq|Ludwig Boltzmann|লুডভিগ বোলৎসমান}}
* {{eq|Ludwik Fleck|লুডউইক ফ্লেক}}
* {{eq|Luigi Pirandello|লুইজি পিরানদেল্লো}}
* {{eq|Lynn Margulis|লিন মার্গুলিস}}
* {{eq|Léon Foucault|লেয়োঁ ফুকো}}
* {{eq|M. S. Swaminathan|এম. এস. স্বামীনাথন}}
* {{eq|Malala Yousafzai|মালালা ইউসুফজাই}}
* {{eq|Margaret Atwood|মার্গারেট অ্যাটউড}}
* {{eq|Margaret Chan|মার্গারেট চ্যান}}
* {{eq|Marguerite Yourcenar|মার্গ্যুরিত ইয়ুর্সনার}}
* {{eq|Marie Stopes|মেরি স্টোপস}}
* {{eq|Marine Le Pen|মারিন ল্য পেন}}
* {{eq|Mario Vargas Llosa|মারিও বার্গাস ইয়োসা}}
* {{eq|Mark Oliphant|মার্ক ওলিফ্যান্ট}}
* {{eq|Martin Amis|মার্টিন এমিস}}
* {{eq|Martin Lewis Perl|মার্টিন লুইস পার্ল}}
* {{eq|Martin Rees|মার্টিন রিস}}
* {{eq|Martin Ryle|মার্টিন রাইল}}
* {{eq|Martinus J. G. Veltman|মার্টিনুস ভেল্টম্যান}}
* {{eq|Martti Ahtisaari|মার্টি আহতিসারি}}
* {{eq|Marvin Minsky|মার্ভিন মিনস্কি}}
* {{eq|Mary Beard (classicist)|মেরি বিয়ার্ড (ক্ল্যাসিসিস্ট)}}
* {{eq|Mary Robinson|মেরি রবিনসন}}
* {{eq|Max Born|মাক্স বর্ন}}
* {{eq|Max Delbrück|মাক্স ডেলব্রুক}}
* {{eq|Max Perutz|ম্যাক্স ফার্দিনান্দ পেরুতজ}}
* {{eq|Max von Laue|মাক্স ফন লাউয়ে}}
* {{eq|Menachem Begin|মেনাখেম বেগিন}}
* {{eq|Merton Miller|মার্টন মিলার}}
* {{eq|Michael Atiyah|মাইকেল আতিয়াহ}}
* {{eq|Michael Faraday|মাইকেল ফ্যারাডে}}
* {{eq|Michael Gove|মাইকেল গোভ}}
* {{eq|Michio Kaku|মিচিও কাকু}}
* {{eq|Mikhail Sholokhov|মিখাইল শলোখভ}}
* {{eq|Mo Yan|মো ইয়ান}}
* {{eq|Mohammad Javad Zarif|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}
* {{eq|Murray Gell-Mann|মারে গেল-মান}}
* {{eq|Nadine Gordimer|নাডিন গর্ডিমার}}
* {{eq|Naguib Mahfouz|নাগিব মাহফুজ}}
* {{eq|Narges Mohammadi|নার্গেস মোহাম্মদী}}
* {{eq|Nevill Francis Mott|নেভিল ফ্রান্সিস মট}}
* {{eq|Nicolas Léonard Sadi Carnot|সাদি কার্নো}}
* {{eq|Nicolas Steno|নিকোলাস স্টেনো}}
* {{eq|Nigel Farage|নাইজেল ফারাজ}}
* {{eq|Niklaus Wirth|নিকলাউস ভির্ট}}
* {{eq|Norman Borlaug|নরম্যান বোরল্যাগ}}
* {{eq|Norman Mailer|নরম্যান মেইলার}}
* {{eq|Octavio Paz|অক্তাবিও পাজ}}
* {{eq|Olga Tokarczuk|ওলগা তোকারচুক}}
* {{eq|Oliver Heaviside|অলিভার হেভিসাইড}}
* {{eq|Oliver Sacks|অলিভার স্যাক্স}}
* {{eq|Orhan Pamuk|ওরহান পামুক}}
* {{eq|Oswald Avery|অসওয়াল্ড এভারি}}
* {{eq|Otto Stern|অটো ষ্টের্ন}}
* {{eq|Paris Agreement|প্যারিস চুক্তি}}
* {{eq|Patrick White|প্যাট্রিক হোয়াইট}}
* {{eq|Paul Dirac|পল ডিরাক}}
* {{eq|Paul Ehrenfest|পাউল এরেনফেস্ট}}
* {{eq|Paul R. Ehrlich|পল আর. এহর্লিচ}}
* {{eq|Paul Samuelson|পল স্যামুয়েলসন}}
* {{eq|Pearl S. Buck|পার্ল এস. বাক}}
* {{eq|Peter Agre|পিটার আগ্রি}}
* {{eq|Peter Higgs|পিটার হিগস}}
* {{eq|Peter Kropotkin|পেত্র ক্রাপোতকিন}}
* {{eq|Peter Medawar|পিটার মিডাওয়ার}}
* {{eq|Philip Roth|ফিলিপ রথ}}
* {{eq|Philip Warren Anderson|ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন}}
* {{eq|Philippe of Belgium|ফিলিপ (বেলজিয়াম)}}
* {{eq|Pierre Curie|পিয়ের ক্যুরি}}
* {{eq|Pierre Deligne|পিয়ের দ্যলিইন}}
* {{eq|Pierre-Gilles de Gennes|পিয়ের-জিল দ্য জেন}}
* {{eq|Pierre-Simon Laplace|পিয়ের সিমোঁ লাপ্লাস}}
* {{eq|Pliny the Elder|প্লিনি দ্য এল্ডার}}
* {{eq|Prasanta Chandra Mahalanobis|প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ}}
* {{eq|Primo Levi|প্রিমো লেভি}}
* {{eq|Qian Xuesen|ছিয়েন শ্যুয়েসন}}
* {{eq|Quakers|কোয়েকার}}
* {{eq|Rachel Carson|র্যাচেল কারসন}}
* {{eq|Ragnar Frisch|রাগ্নার ফ্রিশ}}
* {{eq|Rajendra K. Pachauri|রাজেন্দ্র কুমার পাচৌরী}}
* {{eq|Ralph Bunche|রালফ বান্চ}}
* {{eq|Ramsay MacDonald|রামসে ম্যাকডোনাল্ড}}
* {{eq|Reinhard Selten|রেইনহার্ড সেল্টেন}}
* {{eq|Richard Hamming|রিচার্ড হ্যামিং}}
* {{eq|Richard Leakey|রিচার্ড লিকি}}
* {{eq|Richard Smalley|রিচার্ড স্মলি}}
* {{eq|Rigoberta Menchú|রিগোবার্তা মেঞ্চু}}
* {{eq|Ringo Starr|রিঙ্গো স্টার}}
* {{eq|Robert Andrews Millikan|রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান}}
* {{eq|Robert Boyle|রবার্ট বয়েল}}
* {{eq|Robert Clive|রবার্ট ক্লাইভ}}
* {{eq|Robert Fogel|রবার্ট ফোগেল}}
* {{eq|Robert Hooke|রবার্ট হুক}}
* {{eq|Robert J. Shiller|রবার্ট জে. শিলার}}
* {{eq|Robert Lucas Jr.|রবার্ট লুকাস, জুনিয়র}}
* {{eq|Robert Mundell|রবার্ট মান্ডেল}}
* {{eq|Robert Penn Warren|রবার্ট পেন ওয়ারেন}}
* {{eq|Roger Ebert|রজার ইবার্ট}}
* {{eq|Roger Wolcott Sperry|রজার স্পেরি}}
* {{eq|Romain Rolland|রোম্যাঁ রোলাঁ}}
* {{eq|Ronald Fisher|রোনাল্ড ফিশার}}
* {{eq|Rosalyn Sussman Yalow|রোজালিন সাসম্যান ইয়ালো}}
* {{eq|Rudolf Clausius|রুডলফ ক্লাউজিউস}}
* {{eq|Rudolf Virchow|রুডলফ ফিরখো}}
* {{eq|Sally Ride|স্যালি রাইড}}
* {{eq|Sam Harris|স্যাম হ্যারিস}}
* {{eq|Samuel Beckett|স্যামুয়েল বেকেট}}
* {{eq|Samuel Pepys|স্যামুয়েল পেপিস}}
* {{eq|Santiago Ramón y Cajal|সান্তিয়াগো রামোন ই কাহাল}}
* {{eq|Saul Bellow|সল বেলো}}
* {{eq|Saul Perlmutter|সল পার্লমাটার}}
* {{eq|Selman Waksman|সেলম্যান ওয়াক্সম্যান}}
* {{eq|Sergei Korolev|সের্গেই কোরোলিয়ভ}}
* {{eq|Seymour Hersh|সেমুর হার্শ}}
* {{eq|Shashi Tharoor|শশী থারুর}}
* {{eq|Sheldon Lee Glashow|শেলডন লি গ্ল্যাশো}}
* {{eq|Shiing-Shen Chern|শিং-শেন চের্ন}}
* {{eq|Shirin Ebadi|শিরিন এবাদি}}
* {{eq|Shmuel Yosef Agnon|শ্মুয়েল ইউসেফ অ্যাগনন}}
* {{eq|Simon Kuznets|সাইমন কুজ্নেত্স}}
* {{eq|Simon Stevin|সিমন স্টেভিন}}
* {{eq|Siméon Denis Poisson|সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ}}
* {{eq|Sinclair Lewis|সিনক্লেয়ার লুইস}}
* {{eq|Stafford Cripps|স্টাফোর্ড ক্রিপস}}
* {{eq|Stamford Raffles|স্ট্যামফোর্ড র্যাফেল্স}}
* {{eq|Stanislaw Ulam|স্তানিসলফ উলাম}}
* {{eq|Stanley Baldwin|স্ট্যানলি বল্ডউইন}}
* {{eq|Stephen Jay Gould|স্টিভেন জে গুল্ড}}
* {{eq|Stephen Wolfram|স্টিফেন ওলফ্রাম}}
* {{eq|Steve Irwin|স্টিভ আরউইন}}
* {{eq|Steven Chu|স্টিভেন চু}}
* {{eq|Steven Weinberg|স্টিভেন ওয়াইনবার্গ}}
* {{eq|Subrahmanyan Chandrasekhar|সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর}}
* {{eq|Susan Faludi|সুসান ফালুদি}}
* {{eq|Svetlana Alexievich|সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ}}
* {{eq|Tawakkol Karman|তাওয়াক্কোল কারমান}}
* {{eq|Tedros Adhanom|তেদ্রোস আধানম}}
* {{eq|Temple Grandin|টেম্পল গ্র্যান্ডিন}}
* {{eq|Tennessee Williams|টেনেসি উইলিয়ামস}}
* {{eq|Tenzin Gyatso, 14th Dalai Lama|চতুর্দশ দালাই লামা}}
* {{eq|Terence Tao|টেরেন্স টাও}}
* {{eq|Theodore Roethke|থিওডোর রেথকে}}
* {{eq|Theodosius Dobzhansky|থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি}}
* {{eq|Theophrastus|থিওফ্রাস্টাস}}
* {{eq|Theory of relativity|আপেক্ষিকতার তত্ত্ব}}
* {{eq|Thomas Harriot|থমাস হ্যারিয়ট}}
* {{eq|Thomas Henry Huxley|টমাস হেনরি হাক্সলি}}
* {{eq|Thomas Kuhn|থমাস কুন}}
* {{eq|Thomas Mann|টমাস মান}}
* {{eq|Thomas Robert Malthus|থমাস রবার্ট ম্যালথাস}}
* {{eq|Thomas Schelling|টমাস শেলিংস}}
* {{eq|Thomas Young (scientist)|থমাস ইয়ং}}
* {{eq|Tim Berners-Lee|টিম বার্নার্স-লি}}
* {{eq|Tjalling Koopmans|টিয়ালিং কোপম্যান্স}}
* {{eq|Tomas Tranströmer|টোমাস ট্রান্সট্রোমার}}
* {{eq|Toni Morrison|টনি মরিসন}}
* {{eq|Tony Benn|টনি বেন}}
* {{eq|Traian Băsescu|ত্রাইয়ান বাসাস্কু}}
* {{eq|Trygve Haavelmo|ট্রিগভে হাভেলমো}}
* {{eq|U Thant|উ থান্ট}}
* {{eq|V. S. Naipaul|ভি. এস. নাইপল}}
* {{eq|Val Logsdon Fitch|ভ্যাল লজডন ফিচ}}
* {{eq|Valéry Giscard d'Estaing|ভালেরি জিস্কার দেস্তাঁ}}
* {{eq|Victor Frederick Weisskopf|ভিক্টর উইসকফ}}
* {{eq|Viet Thanh Nguyen|ভিয়েত থান নগুয়েন}}
* {{eq|Vikram Sarabhai|বিক্রম সারাভাই}}
* {{eq|Vilayanur S. Ramachandran|ভি. এস. রামচন্দ্রন}}
* {{eq|Vitaly Ginzburg|ভিতালি গিঞ্জবার্গ}}
* {{eq|Vladimir Arnold|ভ্লাদিমির আর্নল্ড}}
* {{eq|Vladimir Markovnikov|ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ}}
* {{eq|Václav Havel|ভাকলাভ হাভেল}}
* {{eq|W. H. Auden|ডব্লিউ. এইচ. অডেন}}
* {{eq|Wassily Leontief|ওয়াসিলি লিওনটিয়েফ}}
* {{eq|Wernher von Braun|ভের্নহার ফন ব্রাউন}}
* {{eq|Wilhelm Wundt|ভিলহেল্ম ভুন্ট}}
* {{eq|Will Durant|উইল ডুরান্ট}}
* {{eq|Willa Cather|উইলা ক্যাথার}}
* {{eq|Willard van Orman Quine|উইলার্ড ফন অরম্যান কোয়াইন}}
* {{eq|Willem de Sitter|ভিলেম ডে সিটার}}
* {{eq|William Bateson|উইলিয়াম বেটসন}}
* {{eq|William Butler Yeats|উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস}}
* {{eq|William Carey (missionary)|উইলিয়াম কেরি}}
* {{eq|William Carlos Williams|উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস}}
* {{eq|William Crookes|উইলিয়াম ক্রুকস}}
* {{eq|William Dalrymple (historian)|উইলিয়াম ডালরিম্পল}}
* {{eq|William Daniel Phillips|উইলিয়াম ড্যানিয়েল ফিলিপস}}
* {{eq|William Empson|উইলিয়াম এম্পসন}}
* {{eq|William F. Sharpe|উইলিয়াম শার্প}}
* {{eq|William Golding|উইলিয়াম গোল্ডিং}}
* {{eq|William Herschel|উইলিয়াম হার্শেল}}
* {{eq|William Jones (philologist)|উইলিয়াম জোন্স (ভাষাতাত্ত্বিক)}}
* {{eq|William Rowan Hamilton|উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিল্টন}}
* {{eq|William Shockley|উইলিয়াম শকলি}}
* {{eq|William Stanley Jevons|উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স}}
* {{eq|William Thomson|উইলিয়াম থমসন}}
* {{eq|William Vickrey|উইলিয়াম ভিক্রি}}
* {{eq|Winnie Byanyima|উইনি বিয়ানিমা}}
* {{eq|Wole Soyinka|ওলে সোয়িংকা}}
* {{eq|Wolfgang Pauli|ভোলফগাং পাউলি}}
* {{eq|Yang Chen-Ning|চেন নিং ইয়াং}}
* {{eq|Yann LeCun|ইয়ান ল্যকান}}
* {{eq|Yann Martel|ইয়ান মার্টেল}}
* {{eq|Yasunari Kawabata|ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা}}
* {{eq|Yoichiro Nambu|ইয়োইচিরো নাম্বু}}
* {{eq|Zadie Smith|জেডি স্মিথ}}
* {{eq|Zhong Nanshan|চোং নানশান}}
* {{eq|Zhuangzi|চুয়াং জি}}
{{Div col end}}
=== অন্যান্য ===
{{Div col|colwidth=20em|rules=yes}}
* {{eq|International law|আন্তর্জাতিক আইন}}
{{Div col end}}
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬]]
rpy859im70iakkax1rmi1fh5cqsmlp6
উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা
4
11856
76182
74745
2026-04-12T22:35:18Z
MS Sakib
35
/* ৬. জুরি সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা, অযোগ্যতা ও ভুল পর্যালোচনা */
76182
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=7}}
এই প্রতিযোগিতার আয়োজক [[:m:Bangla WikiConnect|বাংলা উইকিসংযোগ]] দল নিবন্ধ পর্যালোচনার জন্য নিম্নোক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কোনো প্রশ্ন থাকলে [[উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬|এখানে বার্তা]] দিন। বা উইকিসংযোগ দলকে ইমেইল করুন connect@bnwp.org ঠিকানায়।
=== ১. এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি ===
{{লাল|এআই অনুবাদ বা এআই জেনারেটেড কোনো লেখা প্রতিযোগিতার জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।}}
এআই ব্যবহার করা হলে নিম্নোক্ত নিয়মাবলি প্রযোজ্য হবে:
* এআই-জেনারেটেড উক্তিযুক্ত পাতা সরাসরি বাতিল করা হবে, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
* অনুবাদের ক্ষেত্রে যদি এআই-জনিত সাধারণ ভুল (যেমন ইংরেজি উইকিলিংক, -এর/-এ/-তে ত্রুটি, অপ্রয়োজনীয় বোল্ড, অপ্রয়োজনীয় বুলেট পয়েন্ট, বাংলার পাশে বারবার ব্র্যাকেটে ইংরেজি টার্ম, তথ্যসূত্র অনুপস্থিত ইত্যাদি) পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রেও সরাসরি বাতিল করা হবে।
শাস্তিমূলক দিক:
* ৩টি এআই-জেনারেটেড উক্তিযুক্ত পাতা জমা দেওয়া হলে প্রতিযোগী কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ব্যতীত প্রতিযোগিতা থেকে সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
* ৫টি ত্রুটিপূর্ণ/অপরিশোধিত এআই অনুবাদ শনাক্ত হলে প্রতিযোগিকে একটি সতর্কবার্তা সাপেক্ষে প্রতিযোগিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
=== ২. পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতা ===
প্রতিটি নিবন্ধ সর্বোচ্চ দুই (২) বার পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
* প্রথম পর্যালোচনার পর যদি কোনো ভুল পাওয়া যায়, তবে অংশগ্রহণকারীকে সেগুলো সংশোধন করার সুযোগ দেয়া হবে এবং তারা পুনরায় সংশোধিত নিবন্ধ জমা দিতে পারবেন।
* দ্বিতীয় পর্যালোচনার পর গৃহীত না হলে আর সংশোধনের সময় দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধটি যেমন আছে তেমনই মূল্যায়ন করা হবে।
=== ৩. মূল্যায়ন মানদণ্ড ===
নিবন্ধগুলো নিম্নলিখিত মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে:
* সঠিকতা
* শৈলী এবং উইকিউক্তি সাইটের সকল নীতিমালা মেনে চলা
* সম্পূর্ণ অনুবাদ
যে নিবন্ধে ত্রুটি, খারাপ ফরম্যাটিং বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা থাকবে, তা বাতিল করা হতে পারে। কপিরাইট লঙ্ঘন পাওয়া গেলে, তা সাথে সাথেই বাতিল করা হবে।
=== ৪. স্বার্থের সংঘাত ===
জুরি সদস্যরা তাদের নিজের নিবন্ধ বা এমন নিবন্ধ পর্যালোচনা করতে পারবেন না যেখানে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে।
যদি স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়, তবে জুরি সদস্য তা ঘোষণা করবেন অথবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধটি এড়িয়ে যাবেন এবং অন্য একজন জুরি সদস্য পর্যালোচনা করবেন।
=== ৫. আপিল এবং বিরোধ ===
পর্যালোচনা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে অংশগ্রহণকারী পর্যালোচনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল প্রতিযোগিতার [[উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬|আলাপ পাতায়]] করতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা টেলিগ্রামে কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। আপিলে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে। আপিল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জুরি ও আয়োজক সদস্যদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
=== ৬. জুরি সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা, অযোগ্যতা ও ভুল পর্যালোচনা ===
কোনো জুরি বা আয়োজক সদস্য লম্বা সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পর্যালোচনা কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলে কিংবা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধ পর্যালোচনা না করলে উইকিসংযোগ প্রকল্পের মূল আয়োজক দল তাকে সরিয়ে দিতে পারবেন।
যদি কোনো জুরি সদস্য বারবার ভুল পর্যালোচনা, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত বা গাইডলাইন অনুসরণ না করেন, তবে তাদেরও সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
সংগঠকরা যে কোনো জুরি সদস্যকে প্রতিস্থাপন বা সরিয়ে নেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন, যদি তাদের কার্যক্রম অগ্রহণযোগ্য হয়।
=== ৭. নীতি সংশোধন ===
সংগঠকরা প্রয়োজন অনুযায়ী এই নীতিতে পরিবর্তন বা হালনাগাদ করতে পারবেন।
কোনো পরিবর্তন আগে থেকেই অংশগ্রহণকারী এবং জুরি সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হবে।
অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবাই এই নীতির প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হন।
g1e7u2fhairzcdfubc07emw35a2tbfi
ব্যবহারকারী:ARI/খেলাঘর
2
11860
76188
75907
2026-04-12T23:14:43Z
ARI
356
হালনাগাদ
76188
wikitext
text/x-wiki
{| class="wikitable sortable"
|-
! ক্রম
! ব্যবহারকারী
! নিবন্ধ
! মোট শব্দ
! বিস্তারিত
|-
| '''১'''
| '''ARI'''
| '''৬'''
| '''১,৩৭,৮৭৩'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৩৭,৮৭৩<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''২'''
| '''Sumanta3023'''
| '''২৬'''
| '''৩২,৬০৩'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২১,৭৪১<br>
অপর্যালোচিত: ৭,৯৬৬<br>
বাতিল: ২,৮৯৬
</div>
|-
| '''৩'''
| '''Oindrojalik Watch'''
| '''২'''
| '''১২,৪১৫'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১২,৪১৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৪'''
| '''Nil Nandy'''
| '''৬'''
| '''১০,৪৪৫'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১০,৪৪৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৫'''
| '''SMontaha32'''
| '''১৩'''
| '''১৫,৩৭৯'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৮,০৯২<br>
অপর্যালোচিত: ১,৬৬২<br>
বাতিল: ৫,৬২৫
</div>
|-
| '''৬'''
| '''Anaf Ibn Shahibul'''
| '''১৫'''
| '''৩৩,৪৩৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫,৩১৯<br>
অপর্যালোচিত: ৯,৪২৭<br>
বাতিল: ১৮,৬৯২
</div>
|-
| '''৭'''
| '''Amirhusenjihed'''
| '''৩'''
| '''৩,০৬৪'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৫৬৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৫
</div>
|-
| '''৮'''
| '''Humaira.thithi'''
| '''৭'''
| '''৩,২৩৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৩০৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৯৩২
</div>
|-
| '''৯'''
| '''Borhan'''
| '''৬'''
| '''১,৬৬২'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''১০'''
| '''R1F4T'''
| '''১৫'''
| '''২,৫৩,১২২'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬০৪<br>
অপর্যালোচিত: ১,৯৭১<br>
বাতিল: ২,৪৯,৫৪৭
</div>
|-
| ১১
| Raihanur
| ৩
| ১,৫৪২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৫৪২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১২
| Firuz Ahmmed
| ৩
| ১,৬১০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫৩০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,০৮০
</div>
|-
| ১৩
| Asad.fr
| ৩
| ৩,২৯৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৯৩৫
</div>
|-
| ১৪
| JIBON
| ৩
| ১,১৭৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৬০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৮১৮
</div>
|-
| ১৫
| নিয়াজ ইসলাম
| ১
| ৩১০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩১০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১৬
| মোহাম্মদ জনি হোসেন
| ৩
| ৬৭১
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৭৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৩
</div>
|-
| ১৭
| Salil Kumar Mukherjee
| ১
| ৪,৪৭৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪,৪৭৯
</div>
|-
| ১৮
| Md. Rayan Alam Rifat
| ১
| ১৭৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১৭৬
</div>
|-
| ১৯
| MD RADWAN ISLAM
| ৬
| ২৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৭৪
</div>
|-
| ২০
| AKM Mahinur Rahman
| ২
| ৪১৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪১৯
</div>
|-
| ২১
| MD RADWAN ISLAM ROHAN
| ৫
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২২
| ShahinurWrites
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৩
| Abdullah Al Shishir
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৪
| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
| ১
| ৩১২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩১২
</div>
|}
; পর্যালোচক
{| class="wikitable"
|-
! ক্রম !! নাম !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল
|-
| '''১''' || '''Mehedi Abedin''' || '''৫৬''' || ৩৮ || ১৮
|-
| '''২''' || '''ARI''' || '''২৮''' || ১৫ || ১৩
|-
| '''৩''' || '''MS Sakib''' || '''২৬''' || ১১ || ১৫
|-
| '''৪''' || '''NusJaS''' || '''৬''' || ৪ || ২
|-
| '''৫''' || '''Tahmid''' || '''৬''' || ১ || ৫
|-
| '''৬''' || '''Yahya''' || '''৫''' || ৪ || ১
|-
! মোট || || ১২৭ || ৭৩ || ৫৪
|}
----
সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৩:১৪, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
34lqo1g8ks3v19kjytnw1ctss0almlb
সংবাদ
0
11887
76049
76031
2026-04-12T12:48:37Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76049
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।”[৫] হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’[৬] এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
mw6p14ef8gml0v5c7qxjb83zoy25dw8
76050
76049
2026-04-12T12:57:34Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76050
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
o5ameypnbc692995wq0hadga0ydfmtt
76051
76050
2026-04-12T13:03:27Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76051
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
soon6jzabjupooqgyilfy4gvxyj5o22
76053
76051
2026-04-12T13:10:19Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76053
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
94l29oxace9yetxtcd6gxgcdw6agk8x
76055
76053
2026-04-12T13:13:26Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76055
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
e63if59l3eilimxuifj5ruy1cz70gnd
76056
76055
2026-04-12T13:19:49Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76056
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
nbd5yvle842138l5jn1qxrecjjrf0nb
76058
76056
2026-04-12T13:25:18Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76058
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
mx3na85ywp2kinbmsreih1lkwx2olpa
76066
76058
2026-04-12T13:35:01Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76066
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
lxvyz88y1gtvnqp92nihzz4qtfsfe6y
76068
76066
2026-04-12T13:37:41Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76068
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
f1o2o4k2r4snqtjwt2l7s8k6xhmysz2
76070
76068
2026-04-12T13:39:05Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76070
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
0tjitgdvmq2wfgcue65fkrit0t9bix4
76073
76070
2026-04-12T13:42:12Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76073
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
hddh3ckphxosynrqw7315amgwu8jd4w
76077
76073
2026-04-12T13:52:44Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76077
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
m5dgvnd6zbvugwn91f95lro27y25lu3
76079
76077
2026-04-12T13:54:41Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76079
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
61tqfxx2s4n5qnyditogut2hfjc6eth
76080
76079
2026-04-12T13:56:29Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76080
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
0o383iz9dlsg7b2zva12my4ohcwcz6r
76081
76080
2026-04-12T14:00:37Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76081
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
34w6s6o99lt79x6qo3n68xmqou56aab
76083
76081
2026-04-12T14:04:00Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76083
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
rr5twkmwap3wtissb49rdw5u1o0m4ke
76084
76083
2026-04-12T14:08:01Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76084
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
7bkgngfm86krjmv0hngoh0puupjdic8
76086
76084
2026-04-12T14:09:56Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76086
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
142ikftb2tk105sbdcfvixsx2w7be4c
76087
76086
2026-04-12T14:16:34Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76087
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
l4f74suw8sg19s11yz5x8g1qex9o124
76091
76087
2026-04-12T14:19:58Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76091
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
1lpgy4cx1oor8myeqx1e2p0juh2rg0v
76092
76091
2026-04-12T14:23:59Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76092
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
a5ngr39sv90hrhbs4xzvtiancjme43q
76094
76092
2026-04-12T14:27:14Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76094
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
jky5iv1c8g4jb8wx7fnpvaz71frl1tr
76097
76094
2026-04-12T14:31:34Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76097
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
4jtw2qyu7kasx41o97u6ijhe1rgt2id
76098
76097
2026-04-12T14:35:01Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76098
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
jxilv1meleannmxviqze15rbvl1jyjw
76104
76098
2026-04-12T14:39:51Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76104
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
3d02ivu79goqvpryeoco7ztq26onxnk
76109
76104
2026-04-12T14:45:36Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76109
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
hpgvhje6m605qexsgua75iqie52vc6e
76112
76109
2026-04-12T14:53:00Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76112
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
t2gt79zl9n07qtoa5d1g5hhq8ehukoz
76113
76112
2026-04-12T14:56:09Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76113
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
dn8czzdqlicsyra8w82h3agpcemj3b9
76114
76113
2026-04-12T14:59:15Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76114
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
hoqiiph2guyqakqbll5zs57k55dij1c
76115
76114
2026-04-12T15:02:29Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76115
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
djphrgr8a94q9mzc6avh4bj5ri2y6yv
76118
76115
2026-04-12T15:06:32Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76118
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
i6xu5uv9ak2sgq6cv3tiummfj4wve4n
76119
76118
2026-04-12T15:11:01Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76119
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পঞ্চম পরিচ্ছেদ, রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
7raca1yis3uo8d599j54ub29uy1iwa8
76133
76119
2026-04-12T16:01:26Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76133
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পঞ্চম পরিচ্ছেদ, রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* সকলই ফুরাইল! তথাপি এ সকল শোচনীয় কাহিনী সহসা মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবারের কর্ণগোচর হইতে পারিল না! তাঁহারা সুদূর সমুদ্রকুলে বসিয়া ১৫ই জুলাই তারিখে কাশিমবাজার অবরোধের প্রথম সংবাদ প্রাপ্ত হন। তাহাতে তেমন বিচলিত হইবার কারণ ছিল না; বাঙ্গালাদেশ হইতে প্রায় মধ্যে মধ্যেই সেরূপ সংবাদ আসিত; আবার হয়ত সঙ্গে সঙ্গেই শুনা যাইত যে, “গোলযোগ মিটমাট হইয়া গিয়াছে; সময়োচিত উপঢৌকন দিয়া সকলকেই শান্ত করিয়াছি; বাণিজ্য-ব্যবসায় একরূপ ভালই চলিতেছে!”[৬] সুতরাং কাশিমবাজারের সংবাদ পাইয়াও, মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবার কেবল কলিকাতায় সেনাবল বৃদ্ধি করিবার জন্য মেজর কিলপ্যাট্রিকের সঙ্গে ২৪০ জনমাত্র গোরা পল্টন পাঠাইয়া দিয়া, দ্বিতীয় সংবাদের অপেক্ষায় কথঞ্চিৎ নিশ্চিন্তমনেই কালযাপন করিতে লাগিলেন।
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
46a1vv80u373gu3zp8ulkab6nfxpq9a
76135
76133
2026-04-12T16:03:12Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76135
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পঞ্চম পরিচ্ছেদ, রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* সকলই ফুরাইল! তথাপি এ সকল শোচনীয় কাহিনী সহসা মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবারের কর্ণগোচর হইতে পারিল না! তাঁহারা সুদূর সমুদ্রকুলে বসিয়া ১৫ই জুলাই তারিখে কাশিমবাজার অবরোধের প্রথম সংবাদ প্রাপ্ত হন। তাহাতে তেমন বিচলিত হইবার কারণ ছিল না; বাঙ্গালাদেশ হইতে প্রায় মধ্যে মধ্যেই সেরূপ সংবাদ আসিত; আবার হয়ত সঙ্গে সঙ্গেই শুনা যাইত যে, “গোলযোগ মিটমাট হইয়া গিয়াছে; সময়োচিত উপঢৌকন দিয়া সকলকেই শান্ত করিয়াছি; বাণিজ্য-ব্যবসায় একরূপ ভালই চলিতেছে!”[৬] সুতরাং কাশিমবাজারের সংবাদ পাইয়াও, মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবার কেবল কলিকাতায় সেনাবল বৃদ্ধি করিবার জন্য মেজর কিলপ্যাট্রিকের সঙ্গে ২৪০ জনমাত্র গোরা পল্টন পাঠাইয়া দিয়া, দ্বিতীয় সংবাদের অপেক্ষায় কথঞ্চিৎ নিশ্চিন্তমনেই কালযাপন করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, সপ্তদশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৭-২২৮
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
buaqov1o7uvio7pgxciu40vo2f856r1
76137
76135
2026-04-12T16:06:00Z
Salil Kumar Mukherjee
39
ট্যাগ বাতিল
76137
wikitext
text/x-wiki
'''[[:w:সংবাদ|সংবাদ ]]''' হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
== উক্তি ==
* একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
* চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
** [[রামনাথ বিশ্বাস]], কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
* তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
** [[জগদীশ চন্দ্র বসু|জগদীশচন্দ্র বসু]], স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
* পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—<br>“আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
* যুদ্ধ লাগল স্পেনে;<br>চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।<br>সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,<br>সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে<br>দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে<br>উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।<br>কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,<br>কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,<br>সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,<br>তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চল্তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
** ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
* সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
* সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
* সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
* বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
** প্রিয়দর্শন হালদার, [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর|বিদ্যাসাগর]] জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
* গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
** শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
* একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
* মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
** হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
* প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
* সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
** হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
* রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
* আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
* করো আশীর্বাদ,<br>যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ<br>তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে<br>সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
* কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
* আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
** মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
* দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।<br>আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?<br>জহরি। না।<br>আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।<br>আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
** দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
* মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
* পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
* জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
* মীরমদনের প্রবেশ<br>মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।<br>সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।<br>মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।<br>সিরাজ। পাঠ করো—
** [[গিরিশচন্দ্র ঘোষ]], সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
* আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
* পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
** [[হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ]], নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
* কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
* উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
* এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
* আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** [[জলধর সেন]], বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
* ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?<br>ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।<br>সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
* আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
** কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
* জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
** [[সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার]], আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
* বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
* রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
* এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
** [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পঞ্চম পরিচ্ছেদ, রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
* দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?<br>আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।<br>দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?<br>আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
* কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
** [[জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
* সকলই ফুরাইল! তথাপি এ সকল শোচনীয় কাহিনী সহসা মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবারের কর্ণগোচর হইতে পারিল না! তাঁহারা সুদূর সমুদ্রকুলে বসিয়া ১৫ই জুলাই তারিখে কাশিমবাজার অবরোধের প্রথম সংবাদ প্রাপ্ত হন। তাহাতে তেমন বিচলিত হইবার কারণ ছিল না; বাঙ্গালাদেশ হইতে প্রায় মধ্যে মধ্যেই সেরূপ সংবাদ আসিত; আবার হয়ত সঙ্গে সঙ্গেই শুনা যাইত যে, “গোলযোগ মিটমাট হইয়া গিয়াছে; সময়োচিত উপঢৌকন দিয়া সকলকেই শান্ত করিয়াছি; বাণিজ্য-ব্যবসায় একরূপ ভালই চলিতেছে!”[৬] সুতরাং কাশিমবাজারের সংবাদ পাইয়াও, মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবার কেবল কলিকাতায় সেনাবল বৃদ্ধি করিবার জন্য মেজর কিলপ্যাট্রিকের সঙ্গে ২৪০ জনমাত্র গোরা পল্টন পাঠাইয়া দিয়া, দ্বিতীয় সংবাদের অপেক্ষায় কথঞ্চিৎ নিশ্চিন্তমনেই কালযাপন করিতে লাগিলেন।
** [[অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়]], সিরাজদ্দৌলা, সপ্তদশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৭-২২৮
* রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্ দিক দেখিব”?
** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যোগাযোগ]]
j1z5ili0jhmf0a91n5trn5uiibrae1k
অম্লান দত্ত
0
11893
76072
75638
2026-04-12T13:41:53Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
76072
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
*"বিজ্ঞান আমাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়, কিন্তু সেই ক্ষমতার ব্যবহার যদি প্রেম ও করুণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে তা ধ্বংস ডেকে আনে।"
**প্রবন্ধ সংগ্রহ
* "ধর্মের নামে যখন মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়, তখন তা আর ধর্ম থাকে না। মানুষের সেবা আর সত্যের অনুসন্ধানই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম।"
**গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ
* "শুধু কলকারখানা বা ইমারত গড়া প্রগতি নয়। প্রকৃত প্রগতি হলো মানুষের বিবেকের জাগরণ এবং অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া।"
**প্রবন্ধ সংগ্রহ
* "শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মনের জানলাগুলো খুলে দেওয়া, যাতে সে সংকীর্ণতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবসমাজকে গ্রহণ করতে পারে।"
**ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিক
* "গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনপ্রণালী নয়, তা এক বিশেষ জীবনদর্শন। এই দর্শনের মূল কথা হলো মানুষের ওপর মানুষের জবরদস্তি নয়, বরং যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।"
**গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.thehindu.com/news/national/Economist-Amlan-Dutta-passes-away/article16815447.ece Economist Amlan Dutta passes away]
* [https://www.epw.in/journal/2010/44-45/letters/amlan-dutta-1924-2010.html Amlan Dutta (1924-2010)]
{{wikipedia}}
{{commonscat|Amlan Datta}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
0ra015vivot9fxpmgl0ee7yk7uny98t
76078
76072
2026-04-12T13:54:24Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* উক্তি */
76078
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
* গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, জীবনধারা
**{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=অম্লান দত্ত|শিরোনাম=For Democracy|প্রকাশক=The Minerva Associates|স্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭০|সংস্করণ=৩য়|পাতা=৯}}
* "ধর্মের নামে যখন মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়, তখন তা আর ধর্ম থাকে না। মানুষের সেবা আর সত্যের অনুসন্ধানই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম।"
**গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ
* "শুধু কলকারখানা বা ইমারত গড়া প্রগতি নয়। প্রকৃত প্রগতি হলো মানুষের বিবেকের জাগরণ এবং অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া।"
**প্রবন্ধ সংগ্রহ
* "শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মনের জানলাগুলো খুলে দেওয়া, যাতে সে সংকীর্ণতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবসমাজকে গ্রহণ করতে পারে।"
**ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিক
* "গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনপ্রণালী নয়, তা এক বিশেষ জীবনদর্শন। এই দর্শনের মূল কথা হলো মানুষের ওপর মানুষের জবরদস্তি নয়, বরং যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।"
**গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.thehindu.com/news/national/Economist-Amlan-Dutta-passes-away/article16815447.ece Economist Amlan Dutta passes away]
* [https://www.epw.in/journal/2010/44-45/letters/amlan-dutta-1924-2010.html Amlan Dutta (1924-2010)]
{{wikipedia}}
{{commonscat|Amlan Datta}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
bifgkzfc6d08pzgn7zvmdh9sj7wtpeg
76082
76078
2026-04-12T14:02:06Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* উক্তি */
76082
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
* গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, জীবনধারা
**{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=অম্লান দত্ত|শিরোনাম=For Democracy|প্রকাশক=The Minerva Associates|স্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭০|সংস্করণ=৩য়|পাতা=৯}}
* প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানের উন্নতিও সম্ভব হয়েছে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষের প্রচেষ্টায়...
**{{বই উদ্ধৃতি |লেখক=অম্লান দত্ত |শিরোনাম=For Democracy |প্রকাশক=The Minerva Associates |স্থান=কলকাতা |বছর=১৯৭০ |সংস্করণ=৩য় |পাতা=৫}}
* যুক্তি কখনও শ্রেণী ও সংঘবদ্ধ স্বার্থের সহায়ক, আবার কখনও সে এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার পরামর্শদাতা। মানবতাবাদের দিকে প্রসারিত এই যে যাত্রা, যুক্তি তাতে পথপ্রদর্শক।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত|ইউআরএল=https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=বাংলা লাইব্রেরি}}
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.thehindu.com/news/national/Economist-Amlan-Dutta-passes-away/article16815447.ece Economist Amlan Dutta passes away]
* [https://www.epw.in/journal/2010/44-45/letters/amlan-dutta-1924-2010.html Amlan Dutta (1924-2010)]
{{wikipedia}}
{{commonscat|Amlan Datta}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
kb6yu0noavs13rd5b6flmnesrnkug9b
76240
76082
2026-04-13T03:41:52Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* বহিঃসংযোগ */
76240
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
* গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, জীবনধারা
**{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=অম্লান দত্ত|শিরোনাম=For Democracy|প্রকাশক=The Minerva Associates|স্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭০|সংস্করণ=৩য়|পাতা=৯}}
* প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানের উন্নতিও সম্ভব হয়েছে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষের প্রচেষ্টায়...
**{{বই উদ্ধৃতি |লেখক=অম্লান দত্ত |শিরোনাম=For Democracy |প্রকাশক=The Minerva Associates |স্থান=কলকাতা |বছর=১৯৭০ |সংস্করণ=৩য় |পাতা=৫}}
* যুক্তি কখনও শ্রেণী ও সংঘবদ্ধ স্বার্থের সহায়ক, আবার কখনও সে এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার পরামর্শদাতা। মানবতাবাদের দিকে প্রসারিত এই যে যাত্রা, যুক্তি তাতে পথপ্রদর্শক।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত|ইউআরএল=https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=বাংলা লাইব্রেরি}}
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি]
* [https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/ প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত]
{{wikipedia}}
{{commonscat|Amlan Datta}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
p6c6vjwul88hk2yxkwjchsktp5gjm6l
76301
76240
2026-04-13T06:26:44Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76301
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
* গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, জীবনধারা
**{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=অম্লান দত্ত|শিরোনাম=For Democracy|প্রকাশক=The Minerva Associates|স্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭০|সংস্করণ=৩য়|পাতা=৯}}
* প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানের উন্নতিও সম্ভব হয়েছে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষের প্রচেষ্টায়...
**{{বই উদ্ধৃতি |লেখক=অম্লান দত্ত |শিরোনাম=For Democracy |প্রকাশক=The Minerva Associates |স্থান=কলকাতা |বছর=১৯৭০ |সংস্করণ=৩য় |পাতা=৫}}
* যুক্তি কখনও শ্রেণী ও সংঘবদ্ধ স্বার্থের সহায়ক, আবার কখনও সে এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার পরামর্শদাতা। মানবতাবাদের দিকে প্রসারিত এই যে যাত্রা, যুক্তি তাতে পথপ্রদর্শক।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত|ইউআরএল=https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=বাংলা লাইব্রেরি}}
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি]
* [https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/ প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত]
{{উইকিপিডিয়া}}
{{commonscat|Amlan Datta}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
0wof5s0fu17ocvl3zhnzr8601jj0lnv
76302
76301
2026-04-13T06:29:41Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76302
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:bn:অম্লান দত্ত|অম্লান দত্ত]]''' (১৯২৪ – ২০১০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
== উক্তি ==
* যে-জ্ঞান মানুষকে কিছুমাত্র পরিবর্তিত করে না সেটা তার অন্তরের বস্ত্ত হয়ে ওঠেনি। জ্ঞানকে সদর্থে মনের অংশ করে তোলাই মননের যথার্থ কাজ।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি|ইউআরএল=https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=কালি ও কলম}}
* গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, জীবনধারা
**{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=অম্লান দত্ত|শিরোনাম=For Democracy|প্রকাশক=The Minerva Associates|স্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭০|সংস্করণ=৩য়|পাতা=৯}}
* প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানের উন্নতিও সম্ভব হয়েছে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষের প্রচেষ্টায়...
**{{বই উদ্ধৃতি |লেখক=অম্লান দত্ত |শিরোনাম=For Democracy |প্রকাশক=The Minerva Associates |স্থান=কলকাতা |বছর=১৯৭০ |সংস্করণ=৩য় |পাতা=৫}}
* যুক্তি কখনও শ্রেণী ও সংঘবদ্ধ স্বার্থের সহায়ক, আবার কখনও সে এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার পরামর্শদাতা। মানবতাবাদের দিকে প্রসারিত এই যে যাত্রা, যুক্তি তাতে পথপ্রদর্শক।
**{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত|ইউআরএল=https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/|সংগ্রহের-তারিখ=২০২৬-০৪-১২|ওয়েবসাইট=বাংলা লাইব্রেরি}}
== বহিঃসংযোগ ==
*[https://www.kaliokalam.com/%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83/#:~:text=%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8%E0%A7%A8%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%B7%E0%A6%BE%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E3%83%BB%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE,%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A5%A4%20%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A5%A4%20%E0%A6%8F%E0%A6%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B অম্লান দত্ত এক অমলিন স্মৃতি]
* [https://www.ebanglalibrary.com/books/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%A4/ প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত]
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৪-এ জন্ম]]
irty2s5321q5ozge14g6m3axvmu81yb
এ. সি. বেনসন
0
11898
76088
75622
2026-04-12T14:17:47Z
ARI
356
/* উক্তি */ ; সংশোধন
76088
wikitext
text/x-wiki
[[File:Bensonac.jpg|thumb|১৮৯৯ সালের দিকে আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন]]
'''[[w:bn:আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন|আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন]]''' ([[২৪ এপ্রিল]] [[১৮৬২]] – [[১৭ জুন]] [[১৯২৫]]) ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
== উক্তি ==
* সাহিত্যে, শিল্পে এবং জীবনে আমার মনে হয় যে নিজের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই সবচেয়ে সার্থক কাজ। যদি সেই সিদ্ধান্তগুলো গুণী ব্যক্তিদের মতামতের সাথে মিলে যায়, তবে সেটা তাঁদের জন্যই ভালো। আর যদি না মেলে, তবে তা নিজের জন্যই ভালো।
** ''ফ্রম আ কলেজ উইন্ডো'', স্মিথ, এল্ডার অ্যান্ড কোং, লন্ডন, ১৯০৬। মারফি, এডওয়ার্ড এফ. রচিত ''ওয়েবস্টার্স ট্রেজারি অব রেলেভেন্ট কোটেশনস'', গ্রিনউইচ হাউস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩ (পৃ. ১৬৮)-এ উদ্ধৃত।
* অধিকার ও কর্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনলে ভালো ও সুন্দর জিনিসগুলো সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
** ''এক্সট্র্যাক্টস ফ্রম দ্য লেটারস অব ড. এ. সি. বেনসন টু এম. ই. অ্যালেন'', জারোল্ডস, ১৯২৬। মারফি, এডওয়ার্ড এফ. রচিত ''ওয়েবস্টার্স ট্রেজারি অব রেলেভেন্ট কোটেশনস'', গ্রিনউইচ হাউস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩ (পৃ. ২২৮)-এ উদ্ধৃত।
=== ওয়াটারস্প্রিংস (১৯০২) ===
* "আমাকে ভেবে দেখতে হবে," হাসিমুখে বলল মনিকা, "তবে এসব ব্যাপার হুট করে করে ফেলা যায় না সেটা কিছু না করার চেয়েও খারাপ। বরং এখন কী করবে তা বলি। কয়েকদিনের জন্য মাসি অ্যানের কাছে গিয়ে থাকছ না কেন? আমি জানি তিনি তোমাকে দেখলে খুব খুশি হবেন। আর আমার সবসময়ই মনে হয়েছে সেখানে না যাওয়াটা তোমার এক ধরনের আলসেমি। তিনি চমৎকার একজন নারী, আর জায়গাটাও খুব সুন্দর। তুমি কি কখনো সেখানে গিয়েছ?"
** দ্বিতীয় অধ্যায়, ''রেস্টলেসনেস''।
=== দ্য আইলস অব সানসেট (১৯০৪) ===
* যাদের হৃদয় ও হাত শক্তিতে ভরপুর,<br>তারাই শোনাক বীরত্বের সেই সব উদ্দীপ্ত কাহিনি;<br>আমার এই নিভৃত গীত যদি কেবল পারে,<br>নিস্তব্ধ গোধূলি-বাগানে পথ দেখাতে তবে তাতেই আমি তৃপ্ত!<br><br>গোপন কূপ থেকে তুলে আনা স্বচ্ছ জল,<br>হয়তো জুড়াতে পারে কোনো জ্বরাক্রান্ত ওষ্ঠের তৃষ্ণা;<br>এ যেন তীর্থযাত্রায় বের হওয়া নবীনদের প্রতি,<br>এক প্রবীণ তীর্থযাত্রীর শোনানো পুরোনো গল্পমালা।<br><br>আমার শব্দরা যেন এমনই এক কোমল পথ আঁকে,<br>আর বহমান জলরাশির সাথে বয়ে চলে নিরন্তর;<br>সাগরের বুক চিরে যেন রেখে যায়,<br>আশা আর ভালোবাসার এক ঝিকিমিকি সিঁড়ি।
** ''প্রোলোগ'' (প্রস্তাবনা)।
=== ল্যান্ড অব হোপ অ্যান্ড গ্লোরি ===
আশা ও গৌরবের দেশ, তুমি স্বাধীনতার জননী,<br>তোমার কোলেই জন্ম আমাদের, কীভাবে গাইব তোমারই স্তুতি?<br>তোমার সীমানা হোক আরও, আরও অনেক বিস্তৃত;<br>যে ঈশ্বর তোমায় করেছেন শক্তিমান, তিনি করুন আরও মহিমান্বিত!
=== এসকেপ, অ্যান্ড আদার এসেস (১৯১৫) ===
* পৃথিবীর সেরা সব গল্প আসলে ঘুরেফিরে একটাই গল্প—আর তা হলো মুক্তির গল্প। সব যুগে সব মানুষের কাছে এটিই একমাত্র কৌতূহলের বিষয়—কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
[http://rpo.library.utoronto.ca/poet/374.html রিপ্রেজেন্টেটিভ পোয়েট্রি অনলাইন]
{{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}}
{{DEFAULTSORT:Benson, Arthur Christopher}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৫-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজ প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজ কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ব্রিটিশ পুরুষ ডায়েরি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:এলজিবিটি ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচারের ফেলো]]
enonka66ua4xbi3oqx5ittg7qxi8kdi
76090
76088
2026-04-12T14:19:24Z
ARI
356
/* বহিঃসংযোগ */ ; সংশোধন
76090
wikitext
text/x-wiki
[[File:Bensonac.jpg|thumb|১৮৯৯ সালের দিকে আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন]]
'''[[w:bn:আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন|আর্থার ক্রিস্টোফার বেনসন]]''' ([[২৪ এপ্রিল]] [[১৮৬২]] – [[১৭ জুন]] [[১৯২৫]]) ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
== উক্তি ==
* সাহিত্যে, শিল্পে এবং জীবনে আমার মনে হয় যে নিজের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই সবচেয়ে সার্থক কাজ। যদি সেই সিদ্ধান্তগুলো গুণী ব্যক্তিদের মতামতের সাথে মিলে যায়, তবে সেটা তাঁদের জন্যই ভালো। আর যদি না মেলে, তবে তা নিজের জন্যই ভালো।
** ''ফ্রম আ কলেজ উইন্ডো'', স্মিথ, এল্ডার অ্যান্ড কোং, লন্ডন, ১৯০৬। মারফি, এডওয়ার্ড এফ. রচিত ''ওয়েবস্টার্স ট্রেজারি অব রেলেভেন্ট কোটেশনস'', গ্রিনউইচ হাউস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩ (পৃ. ১৬৮)-এ উদ্ধৃত।
* অধিকার ও কর্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনলে ভালো ও সুন্দর জিনিসগুলো সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
** ''এক্সট্র্যাক্টস ফ্রম দ্য লেটারস অব ড. এ. সি. বেনসন টু এম. ই. অ্যালেন'', জারোল্ডস, ১৯২৬। মারফি, এডওয়ার্ড এফ. রচিত ''ওয়েবস্টার্স ট্রেজারি অব রেলেভেন্ট কোটেশনস'', গ্রিনউইচ হাউস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩ (পৃ. ২২৮)-এ উদ্ধৃত।
=== ওয়াটারস্প্রিংস (১৯০২) ===
* "আমাকে ভেবে দেখতে হবে," হাসিমুখে বলল মনিকা, "তবে এসব ব্যাপার হুট করে করে ফেলা যায় না সেটা কিছু না করার চেয়েও খারাপ। বরং এখন কী করবে তা বলি। কয়েকদিনের জন্য মাসি অ্যানের কাছে গিয়ে থাকছ না কেন? আমি জানি তিনি তোমাকে দেখলে খুব খুশি হবেন। আর আমার সবসময়ই মনে হয়েছে সেখানে না যাওয়াটা তোমার এক ধরনের আলসেমি। তিনি চমৎকার একজন নারী, আর জায়গাটাও খুব সুন্দর। তুমি কি কখনো সেখানে গিয়েছ?"
** দ্বিতীয় অধ্যায়, ''রেস্টলেসনেস''।
=== দ্য আইলস অব সানসেট (১৯০৪) ===
* যাদের হৃদয় ও হাত শক্তিতে ভরপুর,<br>তারাই শোনাক বীরত্বের সেই সব উদ্দীপ্ত কাহিনি;<br>আমার এই নিভৃত গীত যদি কেবল পারে,<br>নিস্তব্ধ গোধূলি-বাগানে পথ দেখাতে তবে তাতেই আমি তৃপ্ত!<br><br>গোপন কূপ থেকে তুলে আনা স্বচ্ছ জল,<br>হয়তো জুড়াতে পারে কোনো জ্বরাক্রান্ত ওষ্ঠের তৃষ্ণা;<br>এ যেন তীর্থযাত্রায় বের হওয়া নবীনদের প্রতি,<br>এক প্রবীণ তীর্থযাত্রীর শোনানো পুরোনো গল্পমালা।<br><br>আমার শব্দরা যেন এমনই এক কোমল পথ আঁকে,<br>আর বহমান জলরাশির সাথে বয়ে চলে নিরন্তর;<br>সাগরের বুক চিরে যেন রেখে যায়,<br>আশা আর ভালোবাসার এক ঝিকিমিকি সিঁড়ি।
** ''প্রোলোগ'' (প্রস্তাবনা)।
=== ল্যান্ড অব হোপ অ্যান্ড গ্লোরি ===
আশা ও গৌরবের দেশ, তুমি স্বাধীনতার জননী,<br>তোমার কোলেই জন্ম আমাদের, কীভাবে গাইব তোমারই স্তুতি?<br>তোমার সীমানা হোক আরও, আরও অনেক বিস্তৃত;<br>যে ঈশ্বর তোমায় করেছেন শক্তিমান, তিনি করুন আরও মহিমান্বিত!
=== এসকেপ, অ্যান্ড আদার এসেস (১৯১৫) ===
* পৃথিবীর সেরা সব গল্প আসলে ঘুরেফিরে একটাই গল্প—আর তা হলো মুক্তির গল্প। সব যুগে সব মানুষের কাছে এটিই একমাত্র কৌতূহলের বিষয়—কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
*[http://rpo.library.utoronto.ca/poet/374.html রিপ্রেজেন্টেটিভ পোয়েট্রি অনলাইন]
*[http://rpo.library.utoronto.ca/poet/374.html রিপ্রেজেন্টেটিভ পোয়েট্রি অনলাইন]
{{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}}
{{DEFAULTSORT:Benson, Arthur Christopher}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৫-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজ প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজ কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ব্রিটিশ পুরুষ ডায়েরি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:এলজিবিটি ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচারের ফেলো]]
nwqc8f5rzij5mg2of7mq3113bk65zx6
ব্যবহারকারী আলাপ:Anaf Ibn Shahibul
3
11922
76095
75750
2026-04-12T14:30:10Z
ARI
356
/* যান্ত্রিক অনুবাদ */ উত্তর
76095
wikitext
text/x-wiki
== অম্লান দত্ত ==
পাতাটির বিন্যাস ঠিক নেই। উইকিউক্তির নিবন্ধের বিন্যাস উইকিপিডিয়ার থেকে আলাদা। এখানে আমরা প্রতিটি উক্তির নিচে দুটি বুলেট পয়েন্ট দিয়ে সেটির সূত্র সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করি। বিন্যাস ঠিক করে আমাকে জানালে আমি দেখে গ্রহণ বা বর্জন করবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৯:০৪, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] দুঃখিত আমি এই সম্পর্কে জানতাম না। আমি এটা সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পর্যালোচনা করুন। ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১০, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] পাতাটি আবার পড়েছি। তবে উক্তির সূত্রগুলোর পৃষ্ঠা সংখ্যা দেওয়া নেই কিংবা লিংক দেওয়া নেই। যেহেতু যাচাই করা সম্ভব হচ্ছেনা, তাই নিবন্ধটি গ্রহণ করার জন্য সূত্রগুলো সুস্পষ্ট করতে সেগুলোর সাথে পৃষ্ঠা বা লিংক দেওয়া প্রয়োজন। একটা প্রশ্ন, আপনি সূত্রগুলো কিভাবে পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৩৫, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দিমিত্রি মুরাতভ ==
[[দিমিত্রি মুরাতভ]] নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ, জমদানের পূর্বে নিবন্ধটি ভালোভাবে দেখুন। ওপর থেকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিভিন্ন চিহ্ন পাল্টে গেছে। "→' হয়ে গেছে ইত্যাদি। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৫:২২, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ইংরেজি উইকিউক্তিতেও এটি সংক্ষিপ্ত ছিল এবং আমি "→"-এমন কোনো চিহ্নই দেখছি না। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিবন্ধটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৬:২৩, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::"→"- বলতে বুঝিয়েছ, যেমন '''“enemies of the people.”''' হয়ে গেছে ''''জনগণের শত্রু।''''।
::অর্থাৎ double quote হয়ে গেছে single quote। এগুলো সাধারনত '''যান্ত্রিক অনুবাদের''' ক্ষেত্রে হয়। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০০:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] সংশোধন করা হয়েছে — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:৫৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] সংশোধনের পরও অনেক ভুল রয়ে গিয়েছিল। যেমন- সূত্রর ফরম্যাট, অনেক উক্তি অসলের চেয়ে সংক্ষিপ্ত।
::::যাই হোক, আমি সংশোধন করে গ্রহণ করে নিয়েছি। আপনি খেয়াল করুন আমি কিভাবে সুত্রগুলো সংশোধন করেছি, পরবর্তীতে ওই ফরম্যাট অনুসরণ করবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] আমি উইকিউক্তি সম্পর্কে বেশি কিছু জানতাম না। তাই ভুল হয়েছে। দুঃখিত। এরপরের নিবন্ধগুলো আরো মানসম্মত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== অখিলচন্দ্র দত্ত ==
সুধী, [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] নিবন্ধের অধিকাংশ উক্তির সূত্র নেই, যেগুলোর আছে সেগুলোর সূত্র সুস্পষ্ট নয়। আপনি উক্তিগুলো কিভাবে পেয়েছেন আর কোথায় পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৫১, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করা হয়েছে! — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== যান্ত্রিক অনুবাদ ==
@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] আপনার অনুবাদকৃত নিবন্ধগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় যান্ত্রিক অনুবাদের সাধরনতম বৈশিষ্টগুলো বিদ্যমান। নতুন নিবন্ধ আপাতত তৈরি না করে অনুগ্রহ করে সেগুলো প্রথমে সংশোধন করুন।<br>অন্যথায় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#১. এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি|পর্যালোচনা নীতিমালা]] অনুসারে আপনাকে প্রতিযোগিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:[[রবার্ট জে. শিলার]] সংশোধন করেছি। বাকিগুলোও শিঘই সংশোধন করে জানাব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:২০, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] - [[জন চার্লস পোলানি]], [[লেয়োঁ ফুকো]] ও [[এ. সি. বেনসন]] নিবন্ধগুলো সংশোধিত হয়েছে। পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[লেয়োঁ ফুকো]] নিবন্ধের প্রথম উক্তি <code>''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে, এবং এটি এমন একটি বাধ্যবাধকতা যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পূরণ করতে চাই।''</code> কিভাবে অর্থপূর্ণ হয়? '''তাড়াহুড়ো করবেন না''', খুঁটিয়ে দেখবেন। প্রতিযোগিতার [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#২. পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতা|নিয়ম অনুযায়ী একটি নিবন্ধ ২বারের বেশি পর্যালোচনা করা যাবে না]]।</br>যাই হোক, আমি ঠিক করে দিয়েছি, এবং অন্যান্য সমস্যাগুলোও ঠিক করে দিয়েছি। আমার পরিবর্তনগুলো দেখুন এবং পরবর্তী অনুবাদে সেগুলো খেয়াল রাখবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01762168902 ==
111000 [[বিশেষ:অবদান/~2026-21999-52|~2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:০৮, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[বিশেষ:অবদান/~2026-21999-52|~2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:১০, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:~2026-21999-52|~2026-21999-52]] কি বলতে চাচ্ছেন? বলুন। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:১৭, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== ফ্রান্সিস কলিন্স ==
[[ফ্রান্সিস কলিন্স]] পাতায় ফিনিশিং দেওয়া নেই৷ অনেক উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:০১, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমি এটিকে সংশোধন করেছি। তবে ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেও ফিনিশিং ঠিকভাবে ছিল না। তবে সূত্রগুলো যুক্ত করেছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:১৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== vloনি? ==
[[ইভো আন্দ্রিচ]] [[ইভো আন্দ্রিক]] নামে ২টি পাতা!<br>[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১০:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] আপনার কথা বুঝলাম না। তবে [[ইভো আন্দ্রিক]] পাতাটি এখন [[ইভো আন্দ্রিচ]] পাতায় পুনঃনির্দেশিত করা হয়েছে। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
lgnis5urb0bggu5x8u5ns70rx2l2rte
76243
76095
2026-04-13T03:43:29Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* অম্লান দত্ত */ উত্তর
76243
wikitext
text/x-wiki
== অম্লান দত্ত ==
পাতাটির বিন্যাস ঠিক নেই। উইকিউক্তির নিবন্ধের বিন্যাস উইকিপিডিয়ার থেকে আলাদা। এখানে আমরা প্রতিটি উক্তির নিচে দুটি বুলেট পয়েন্ট দিয়ে সেটির সূত্র সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করি। বিন্যাস ঠিক করে আমাকে জানালে আমি দেখে গ্রহণ বা বর্জন করবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৯:০৪, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] দুঃখিত আমি এই সম্পর্কে জানতাম না। আমি এটা সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পর্যালোচনা করুন। ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১০, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] পাতাটি আবার পড়েছি। তবে উক্তির সূত্রগুলোর পৃষ্ঠা সংখ্যা দেওয়া নেই কিংবা লিংক দেওয়া নেই। যেহেতু যাচাই করা সম্ভব হচ্ছেনা, তাই নিবন্ধটি গ্রহণ করার জন্য সূত্রগুলো সুস্পষ্ট করতে সেগুলোর সাথে পৃষ্ঠা বা লিংক দেওয়া প্রয়োজন। একটা প্রশ্ন, আপনি সূত্রগুলো কিভাবে পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৩৫, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] প্রথমে আমি গুগল সার্চের এআই মোড ব্যবহার করেছিলাম। তবে বর্তমানে একদম সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র যুক্ত করেছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:৪৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== দিমিত্রি মুরাতভ ==
[[দিমিত্রি মুরাতভ]] নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ, জমদানের পূর্বে নিবন্ধটি ভালোভাবে দেখুন। ওপর থেকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিভিন্ন চিহ্ন পাল্টে গেছে। "→' হয়ে গেছে ইত্যাদি। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৫:২২, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ইংরেজি উইকিউক্তিতেও এটি সংক্ষিপ্ত ছিল এবং আমি "→"-এমন কোনো চিহ্নই দেখছি না। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিবন্ধটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৬:২৩, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::"→"- বলতে বুঝিয়েছ, যেমন '''“enemies of the people.”''' হয়ে গেছে ''''জনগণের শত্রু।''''।
::অর্থাৎ double quote হয়ে গেছে single quote। এগুলো সাধারনত '''যান্ত্রিক অনুবাদের''' ক্ষেত্রে হয়। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০০:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] সংশোধন করা হয়েছে — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:৫৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] সংশোধনের পরও অনেক ভুল রয়ে গিয়েছিল। যেমন- সূত্রর ফরম্যাট, অনেক উক্তি অসলের চেয়ে সংক্ষিপ্ত।
::::যাই হোক, আমি সংশোধন করে গ্রহণ করে নিয়েছি। আপনি খেয়াল করুন আমি কিভাবে সুত্রগুলো সংশোধন করেছি, পরবর্তীতে ওই ফরম্যাট অনুসরণ করবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] আমি উইকিউক্তি সম্পর্কে বেশি কিছু জানতাম না। তাই ভুল হয়েছে। দুঃখিত। এরপরের নিবন্ধগুলো আরো মানসম্মত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== অখিলচন্দ্র দত্ত ==
সুধী, [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] নিবন্ধের অধিকাংশ উক্তির সূত্র নেই, যেগুলোর আছে সেগুলোর সূত্র সুস্পষ্ট নয়। আপনি উক্তিগুলো কিভাবে পেয়েছেন আর কোথায় পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৫১, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করা হয়েছে! — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== যান্ত্রিক অনুবাদ ==
@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] আপনার অনুবাদকৃত নিবন্ধগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় যান্ত্রিক অনুবাদের সাধরনতম বৈশিষ্টগুলো বিদ্যমান। নতুন নিবন্ধ আপাতত তৈরি না করে অনুগ্রহ করে সেগুলো প্রথমে সংশোধন করুন।<br>অন্যথায় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#১. এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি|পর্যালোচনা নীতিমালা]] অনুসারে আপনাকে প্রতিযোগিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:[[রবার্ট জে. শিলার]] সংশোধন করেছি। বাকিগুলোও শিঘই সংশোধন করে জানাব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:২০, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] - [[জন চার্লস পোলানি]], [[লেয়োঁ ফুকো]] ও [[এ. সি. বেনসন]] নিবন্ধগুলো সংশোধিত হয়েছে। পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[লেয়োঁ ফুকো]] নিবন্ধের প্রথম উক্তি <code>''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে, এবং এটি এমন একটি বাধ্যবাধকতা যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পূরণ করতে চাই।''</code> কিভাবে অর্থপূর্ণ হয়? '''তাড়াহুড়ো করবেন না''', খুঁটিয়ে দেখবেন। প্রতিযোগিতার [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#২. পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতা|নিয়ম অনুযায়ী একটি নিবন্ধ ২বারের বেশি পর্যালোচনা করা যাবে না]]।</br>যাই হোক, আমি ঠিক করে দিয়েছি, এবং অন্যান্য সমস্যাগুলোও ঠিক করে দিয়েছি। আমার পরিবর্তনগুলো দেখুন এবং পরবর্তী অনুবাদে সেগুলো খেয়াল রাখবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 01762168902 ==
111000 [[বিশেষ:অবদান/~2026-21999-52|~2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:০৮, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[বিশেষ:অবদান/~2026-21999-52|~2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:১০, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:~2026-21999-52|~2026-21999-52]] কি বলতে চাচ্ছেন? বলুন। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:১৭, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== ফ্রান্সিস কলিন্স ==
[[ফ্রান্সিস কলিন্স]] পাতায় ফিনিশিং দেওয়া নেই৷ অনেক উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:০১, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমি এটিকে সংশোধন করেছি। তবে ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেও ফিনিশিং ঠিকভাবে ছিল না। তবে সূত্রগুলো যুক্ত করেছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:১৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== vloনি? ==
[[ইভো আন্দ্রিচ]] [[ইভো আন্দ্রিক]] নামে ২টি পাতা!<br>[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১০:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] আপনার কথা বুঝলাম না। তবে [[ইভো আন্দ্রিক]] পাতাটি এখন [[ইভো আন্দ্রিচ]] পাতায় পুনঃনির্দেশিত করা হয়েছে। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
7cqfw28ck7wlzr4m26rcregfq16w082
ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023
3
11925
76343
75745
2026-04-13T10:34:00Z
~2026-22804-72
5068
76343
wikitext
text/x-wiki
== ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড ==
নিবন্ধটির কিছু বাক্য ও শব্দ পড়ে মনে হয় ভুলভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। পাতাটি ভালো করে পড়ে বুঝে বুঝে প্রয়োজন সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৯:১২, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:আমি বেশ কয়েক বার অনুবাদ টি পড়লাম আমার কিন্তু সেরকম কোনো ত্রুটি মনে হয় নি। আপনি যদি প্যারাগ্রাফ উল্লেখ করে বলে দেন আপনার কোথায় ত্রুটি মনে হয়েছে তাহলে সংশোধন করতে সুবিধা হবে।
:ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ০২:৩৪, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুগ্রহ করে আমার উত্তর টি দেখবেন । আগেরবার আপনাকে মেনশন করতে ভুলে গিয়েছিলাম। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ১৬:৩৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] কিছু উক্তির বাক্য ইংরেজির আদলে সাজানো বিধায় বিভ্রান্তিকর লাগে। বড় রকমের পরিবর্তন না করে এগুলো ঠিক করা উচিত। যেসব উক্তিগুলোতে কমার অত্যাধিক ব্যবহার আছে সেগুলো খেয়াল করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৫৮, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য অনুরোধ রইল।
:::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ০৩:৩৬, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== অড্রে হেপবার্ন ==
[[অড্রে হেপবার্ন]] পাতাটিতে ভালোভাবে ফিনিশিং দেওয়া প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২১, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== 822 ==
[[বিশেষ:অবদান/~2026aas-22075-08|~2026-22075-08]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22075-08|আলাপ]]) ০৮:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
6qvavcdlplz9pkrae62cu3r2akzdecc
জন চার্লস পোলানি
0
11930
76085
75615
2026-04-12T14:08:18Z
ARI
356
/* উক্তি */ ; সংশোধন; পরিষ্কার
76085
wikitext
text/x-wiki
[[File:John C. Polanyi.jpg|thumb|২০১৯ সালে জন পোলানি]]
'''[[w:bn:জন চার্লস পোলানি|জন চার্লস পোলানি]]''' (জন্ম: [[জানুয়ারি ২৩]], [[১৯২৯]]) একজন ইহুদি-হাঙ্গেরীয়-জার্মান-ইংরেজ-কানাডীয় [[রসায়নবিদ]]। রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিক্রিয়া গতিবিদ্যার ক্ষেত্রে তাঁর আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ১৯৮৬ সালে [[w:bn:রসায়নে নোবেল পুরস্কার|রসায়নে নোবেল পুরস্কার]] প্রদান করা হয়।
{{বিজ্ঞানী-স্টাব}}
== উক্তি ==
* '''আমরা যখন বিজ্ঞানকে ভয় পাই, যা প্রায়শই আমাদের করতে হয়, তখন আসলে আমরা নিজেদেরই ভয় পাই। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই মানুষের মর্যাদা সবচেয়ে সুরক্ষিত থাকে।'''
** [http://www.utoronto.ca/jpolanyi/nobel_prize/ নোবেল পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠান], স্টকহোমে নোবেল ভোজ (১৯৮৬)।
* এমনকি আণবিক জগতেও পরিমিত আচরণের সুসভ্য প্রভাব সত্যিই উদ্যাপনের দাবি রাখে।
** "[http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/1986/polanyi-lecture.pdf রিঅ্যাকশন ডায়নামিক্সের কিছু ধারণা]" (৮ ডিসেম্বর ১৯৮৬), ''নোবেল লেকচার্স'', রসায়ন ১৯৮৬, পৃষ্ঠা ৪০৩-এ প্রকাশিত।
* '''বিজ্ঞানে কর্তৃত্ব টিকে থাকে কেবলই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার জন্য; কারণ প্রচলিত মতের বিরুদ্ধাচরণ থেকেই নিত্যনতুন ধারণার জন্ম হয়।'''
** [http://www.cjfe.org/awards06/speaker_polanyi.html কানাডিয়ান জার্নালিস্টস ফর ফ্রি এক্সপ্রেশন অ্যাওয়ার্ডস ব্যাংকুয়েটে প্রদত্ত ভাষণ, 'দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল' (২৭ নভেম্বর ২০০৪)]।
* '''পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো বিজ্ঞানকে সম্ভব করে তোলে না, বরং ভৌত জগতের অন্তরালে যে একটি মহা নকশা রয়েছে, এই অপ্রমাণযোগ্য ধারণাই বিজ্ঞানকে সম্ভব করে তোলে।''' আর এটি যে-সে কোনো নকশা নয়, বরং এমন এক নকশা যা আমাদের মতো প্রজাতির সীমিত ইন্দ্রিয় ও সাধারণ বুদ্ধি দিয়েও বোঝা সম্ভব। এই বিশ্বাসের প্রতি বিজ্ঞানীরা এতটাই অবিচল যে, আবিষ্কারের নেশায় তারা গোটা জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। এমন জাদুকরী একটি কাজকে সংজ্ঞায়িত করা অসম্ভব, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিজ্ঞানীরা যা করেন, তা-ই বিজ্ঞান। আর তারা যা করেন তা হলো আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং তাবৎ জীবজগতের মাঝে লুকিয়ে থাকা সেইসব বার্তার সন্ধান করা, যা সৃষ্টির অখণ্ডতার কথা বলে। ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকেই এই বার্তাগুলো সেখানে রয়েছে—অদৃশ্য হলেও কখনো কখনো তা যেন দিগন্ত বিস্তৃত অক্ষরে লেখা। কিন্তু আমরা এমন এক যুগ পার করছি যখন হঠাৎ মনে হচ্ছে বিজ্ঞানীরা খুব দ্রুত পড়ার কৌশল রপ্ত করে ফেলেছেন। আবিষ্কারগুলো আসছে অভূতপূর্ব গতিতে। এমন একটি সময়ের পর স্বভাবতই মনে হতে পারে যে, প্রকৃতির যা কিছু পাঠযোগ্য ছিল তার প্রায় সবই হয়তো আমাদের পড়া হয়ে গেছে। এমন ধারণার ব্যাপারে আমাদের সন্দিহান হওয়া উচিত। '''কয়েকটি বার্তা পড়ার সাফল্য অন্যান্য বার্তার প্রতি সাময়িক অন্ধত্ব ডেকে আনে। আমরা ভুলে যাই যে প্রকৃতির বইয়ে কালো কালিতে লেখা শব্দগুলোর ফাঁকেই হয়তো সমান গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা সাদা কালিতে লুকিয়ে আছে। এটি ধ্রুব সত্য যে, বিজ্ঞানে তাঁরাই সফল হন যাঁরা সঠিক প্রশ্নটি করতে জানেন।'''
** [http://sites.utoronto.ca/jpolanyi/public_affairs/public_affairs4f.html "দ্য ম্যাজিক অফ সায়েন্স", ''ইম্পেরিয়াল অয়েল রিভিউ'' (বসন্ত, ১৯৯৪)]।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
* [http://www.utoronto.ca/ দাপ্তরিক ওয়েবসাইট]
{{DEFAULTSORT:পোলানি, জন}}
[[বিষয়শ্রেণী:হাঙ্গেরির বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বার্লিনের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:জার্মানির ইহুদি ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রসায়নে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কানাডার ইহুদি ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কানাডার রসায়নবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জার্মানির রসায়নবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:কানাডার নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রসায়নে উলফ পুরস্কার বিজয়ী]]
3zy31brvx2ij5z9ohjl32g98dwi3e13
লেয়োঁ ফুকো
0
11933
76100
75625
2026-04-12T14:37:14Z
ARI
356
সংশোধন
76100
wikitext
text/x-wiki
[[File:Foucault 01.png|thumb|right|বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।]]
'''|জ বের্নার্ড লিয়ন ফুকো''' (সেপ্টেম্বর ১৮, ১৮১৯ – ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৬৮) ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিদ, যিনি মূলত [ফুকোর দোলক আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত-এটি এমন একটি যন্ত্র যা পৃথিবীর ঘূর্ণন প্রদর্শন করে। তিনি আলোর গতির একটি প্রাথমিক পরিমাপও করেছিলেন, এডি কারেন্ট আবিষ্কার করেছিলেন এবং যদিও তিনি এটি আবিষ্কার করেননি, তবুও জাইরোস্কোপের নামকরণের কৃতিত্ব তাকে দেওয়া হয়। চাঁদের ফুকো খাদ তার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।
{{পদার্থবিজ্ঞানী-স্টাব}}
== উক্তি ==
[[File:Foucault pendulum animated.gif|thumb|right|ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।]]
* '''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের সঠিক ও নির্ভুল হতে হবে। এটি এমন এক দায়িত্ব যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।'''
** 'জার্নাল দে দেবাতস', ৩০ মে, ১৮৪৮।
* '''আগামীকাল, তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে, প্যারিস মানমন্দিরের মেরিডিয়ান হলে, পৃথিবী কীভাবে ঘুরছে তা দেখার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।'''
** ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৫১ সালে তাঁর বিখ্যাত দোলক পরীক্ষার সাক্ষী হতে প্যারিসের বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।''' একজন মানুষ অনুভব করতে পারেন, দেখতে পান এটি কীভাবে জন্ম নেয় এবং স্থিরভাবে বৃদ্ধি পায়; এবং একে ত্বরান্বিত বা ধীর করা কারও ক্ষমতার মধ্যে নেই। এই ঘটনার সম্মুখীন হওয়া যেকোনো ব্যক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যান এবং চিন্তামগ্ন ও নির্বাক হয়ে পড়েন; এবং তারপর মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে আমাদের অবিরাম গতির এক তীক্ষ্ণ ও গভীর অনুভূতি চিরকালের জন্য নিজের সাথে নিয়ে ফিরে যান।
** তার দোলক পরীক্ষা সম্পর্কে; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।'''
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৭২ থেকে উদ্ধৃত।
* প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেতনায় উজ্জীবিত মানুষেরা যেন এই বিশ্বাস করা বন্ধ করেন যে তাঁরা কেবল জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো নিয়েই ভাবতে বাধ্য; ...কারণ, এটা লুকানো উচিত নয় যে, প্রয়োগের ক্ষেত্র, যা আজ এত সমৃদ্ধ ও উর্বর, তাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যে উপকারী আলো বিকিরিত ও বর্ষিত হয়, তার দ্বারা নিষিক্ত ও পুনরুজ্জীবিত হওয়া বন্ধ হলে, খুব দ্রুতই তা বন্ধ্যাত্বের অভিশাপে ম্লান হয়ে যাবে।
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৯৩ থেকে উদ্ধৃত।
== ফুকো সম্পর্কে উক্তি ==
* ২৫ বছর বয়সে, স্কুলে বা বই থেকে তেমন কিছু না শিখেও, বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী কিন্তু পড়াশোনায় নয়, এমন লিয়ন ফুকো বিজ্ঞানীদের কাজকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলার এবং শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের কাজের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। '''শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বিচক্ষণতার ওপর ভিত্তি করে ভালো বিচারবোধ প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর প্রথম দিকের প্রবন্ধগুলো ছিল অসাধারণ; সেগুলো ছিল আধ্যাত্মিক। তিনি তাঁর দায়িত্বকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই, সমস্ত বিভ্রান্তি ও সমস্যাসহ বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করে, তিনি সম্পূর্ণ সাফল্যের সাথে এমন একটি ভূমিকা পালন করেছিলেন যেখানে মাঝারি মানের কাজ মানেই ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হতো।''' <br> … সর্বদা বিনয়ী, অথচ সত্যের সন্ধানী, ফুকো সতর্কতার সাথে বিবেচিত রায় প্রয়োগ করতেন। '''পূর্বে অপরিচিত, কোনো বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা পরিচিত আবিষ্কারবিহীন এই যুবক এমন একটি শান্ত কর্তৃত্ব এবং স্পষ্টবাদিতা প্রদর্শন করেছিলেন, যা অনেক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীকে বিরক্ত করেছিল।'''
** জোসেফ লুই ফ্রাঁসোয়া বার্ট্রান্ড, (১৮৮২)।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো}}
* [http://www-history.mcs.st-andrews.ac.uk/Biographies/Foucault.html ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট অ্যান্ড্রুজ-এ প্রোফাইল]
* [http://micro.magnet.fsu.edu/optics/timeline/people/foucault.html ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল]
{{DEFAULTSORT:ফুকো, লিয়ন}}
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮১৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬৮-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্যারিসের ব্যক্তি]]
q9xglbv8sdj4df6hdjfasksb6scxq8j
76101
76100
2026-04-12T14:38:17Z
ARI
356
76101
wikitext
text/x-wiki
[[File:Foucault 01.png|thumb|right|বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।]]
'''জ বের্নার্ড লিয়ন ফুকো''' (সেপ্টেম্বর ১৮, ১৮১৯ – ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৬৮) ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিদ, যিনি মূলত ফুকোর দোলক আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত-এটি এমন একটি যন্ত্র যা পৃথিবীর ঘূর্ণন প্রদর্শন করে। তিনি আলোর গতির একটি প্রাথমিক পরিমাপও করেছিলেন, এডি কারেন্ট আবিষ্কার করেছিলেন এবং যদিও তিনি এটি আবিষ্কার করেননি, তবুও জাইরোস্কোপের নামকরণের কৃতিত্ব তাকে দেওয়া হয়। চাঁদের ফুকো খাদ তার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।
== উক্তি ==
[[File:Foucault pendulum animated.gif|thumb|right|ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।]]
* '''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের সঠিক ও নির্ভুল হতে হবে। এটি এমন এক দায়িত্ব যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।'''
** 'জার্নাল দে দেবাতস', ৩০ মে, ১৮৪৮।
* '''আগামীকাল, তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে, প্যারিস মানমন্দিরের মেরিডিয়ান হলে, পৃথিবী কীভাবে ঘুরছে তা দেখার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।'''
** ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৫১ সালে তাঁর বিখ্যাত দোলক পরীক্ষার সাক্ষী হতে প্যারিসের বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।''' একজন মানুষ অনুভব করতে পারেন, দেখতে পান এটি কীভাবে জন্ম নেয় এবং স্থিরভাবে বৃদ্ধি পায়; এবং একে ত্বরান্বিত বা ধীর করা কারও ক্ষমতার মধ্যে নেই। এই ঘটনার সম্মুখীন হওয়া যেকোনো ব্যক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যান এবং চিন্তামগ্ন ও নির্বাক হয়ে পড়েন; এবং তারপর মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে আমাদের অবিরাম গতির এক তীক্ষ্ণ ও গভীর অনুভূতি চিরকালের জন্য নিজের সাথে নিয়ে ফিরে যান।
** তার দোলক পরীক্ষা সম্পর্কে; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।'''
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৭২ থেকে উদ্ধৃত।
* প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেতনায় উজ্জীবিত মানুষেরা যেন এই বিশ্বাস করা বন্ধ করেন যে তাঁরা কেবল জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো নিয়েই ভাবতে বাধ্য; ...কারণ, এটা লুকানো উচিত নয় যে, প্রয়োগের ক্ষেত্র, যা আজ এত সমৃদ্ধ ও উর্বর, তাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যে উপকারী আলো বিকিরিত ও বর্ষিত হয়, তার দ্বারা নিষিক্ত ও পুনরুজ্জীবিত হওয়া বন্ধ হলে, খুব দ্রুতই তা বন্ধ্যাত্বের অভিশাপে ম্লান হয়ে যাবে।
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৯৩ থেকে উদ্ধৃত।
== ফুকো সম্পর্কে উক্তি ==
* ২৫ বছর বয়সে, স্কুলে বা বই থেকে তেমন কিছু না শিখেও, বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী কিন্তু পড়াশোনায় নয়, এমন লিয়ন ফুকো বিজ্ঞানীদের কাজকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলার এবং শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের কাজের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। '''শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বিচক্ষণতার ওপর ভিত্তি করে ভালো বিচারবোধ প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর প্রথম দিকের প্রবন্ধগুলো ছিল অসাধারণ; সেগুলো ছিল আধ্যাত্মিক। তিনি তাঁর দায়িত্বকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই, সমস্ত বিভ্রান্তি ও সমস্যাসহ বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করে, তিনি সম্পূর্ণ সাফল্যের সাথে এমন একটি ভূমিকা পালন করেছিলেন যেখানে মাঝারি মানের কাজ মানেই ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হতো।''' <br> … সর্বদা বিনয়ী, অথচ সত্যের সন্ধানী, ফুকো সতর্কতার সাথে বিবেচিত রায় প্রয়োগ করতেন। '''পূর্বে অপরিচিত, কোনো বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা পরিচিত আবিষ্কারবিহীন এই যুবক এমন একটি শান্ত কর্তৃত্ব এবং স্পষ্টবাদিতা প্রদর্শন করেছিলেন, যা অনেক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীকে বিরক্ত করেছিল।'''
** জোসেফ লুই ফ্রাঁসোয়া বার্ট্রান্ড, (১৮৮২)।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো}}
* [http://www-history.mcs.st-andrews.ac.uk/Biographies/Foucault.html ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট অ্যান্ড্রুজ-এ প্রোফাইল]
* [http://micro.magnet.fsu.edu/optics/timeline/people/foucault.html ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল]
{{DEFAULTSORT:ফুকো, লিয়ন}}
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮১৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬৮-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্যারিসের ব্যক্তি]]
igcd5puybwdrlusp8nlzos2ps34ilh3
76103
76101
2026-04-12T14:39:38Z
ARI
356
/* উক্তি */ ; সংশোধন
76103
wikitext
text/x-wiki
[[File:Foucault 01.png|thumb|right|বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।]]
'''জ বের্নার্ড লিয়ন ফুকো''' (সেপ্টেম্বর ১৮, ১৮১৯ – ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৬৮) ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিদ, যিনি মূলত ফুকোর দোলক আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত-এটি এমন একটি যন্ত্র যা পৃথিবীর ঘূর্ণন প্রদর্শন করে। তিনি আলোর গতির একটি প্রাথমিক পরিমাপও করেছিলেন, এডি কারেন্ট আবিষ্কার করেছিলেন এবং যদিও তিনি এটি আবিষ্কার করেননি, তবুও জাইরোস্কোপের নামকরণের কৃতিত্ব তাকে দেওয়া হয়। চাঁদের ফুকো খাদ তার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।
== উক্তি ==
[[File:Foucault pendulum animated.gif|thumb|right|ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।]]
* '''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের সঠিক ও নির্ভুল হতে হবে। এটি এমন এক দায়িত্ব যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।'''
** ''জার্নাল দে দেবাতস'', ৩০ মে, ১৮৪৮।
* '''আগামীকাল, তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে, প্যারিস মানমন্দিরের মেরিডিয়ান হলে, পৃথিবী কীভাবে ঘুরছে তা দেখার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।'''
** ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৫১ সালে তাঁর বিখ্যাত দোলক পরীক্ষার সাক্ষী হতে প্যারিসের বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''ঘটনাটি শান্তভাবে বিকশিত হয়, কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং অপ্রতিরোধ্য।''' একজন মানুষ অনুভব করতে পারেন, দেখতে পান এটি কীভাবে জন্ম নেয় এবং স্থিরভাবে বৃদ্ধি পায়; এবং একে ত্বরান্বিত বা ধীর করা কারও ক্ষমতার মধ্যে নেই। এই ঘটনার সম্মুখীন হওয়া যেকোনো ব্যক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যান এবং চিন্তামগ্ন ও নির্বাক হয়ে পড়েন; এবং তারপর মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে আমাদের অবিরাম গতির এক তীক্ষ্ণ ও গভীর অনুভূতি চিরকালের জন্য নিজের সাথে নিয়ে ফিরে যান।
** তার দোলক পরীক্ষা সম্পর্কে; আমির ডি. আকজেলের ''পেন্ডুলাম: লিয়ন ফুকো অ্যান্ড দ্য ট্রায়াম্ফ অফ সায়েন্স'' (২০০৩) থেকে উদ্ধৃত।
* '''বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখার জন্য, কখনও কখনও সাধারণ যাচাইকরণের কাজকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।'''
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৭২ থেকে উদ্ধৃত।
* প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেতনায় উজ্জীবিত মানুষেরা যেন এই বিশ্বাস করা বন্ধ করেন যে তাঁরা কেবল জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো নিয়েই ভাবতে বাধ্য; ...কারণ, এটা লুকানো উচিত নয় যে, প্রয়োগের ক্ষেত্র, যা আজ এত সমৃদ্ধ ও উর্বর, তাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যে উপকারী আলো বিকিরিত ও বর্ষিত হয়, তার দ্বারা নিষিক্ত ও পুনরুজ্জীবিত হওয়া বন্ধ হলে, খুব দ্রুতই তা বন্ধ্যাত্বের অভিশাপে ম্লান হয়ে যাবে।
** উইলিয়াম টোবিনের ''দ্য লাইফ অ্যান্ড সায়েন্স অফ লিয়ন ফুকো: দ্য ম্যান হু প্রুভড দ্য আর্থ রোটেটস'' (২০০৩), পৃষ্ঠা ৯৩ থেকে উদ্ধৃত।
== ফুকো সম্পর্কে উক্তি ==
* ২৫ বছর বয়সে, স্কুলে বা বই থেকে তেমন কিছু না শিখেও, বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী কিন্তু পড়াশোনায় নয়, এমন লিয়ন ফুকো বিজ্ঞানীদের কাজকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলার এবং শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের কাজের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। '''শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বিচক্ষণতার ওপর ভিত্তি করে ভালো বিচারবোধ প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর প্রথম দিকের প্রবন্ধগুলো ছিল অসাধারণ; সেগুলো ছিল আধ্যাত্মিক। তিনি তাঁর দায়িত্বকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই, সমস্ত বিভ্রান্তি ও সমস্যাসহ বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করে, তিনি সম্পূর্ণ সাফল্যের সাথে এমন একটি ভূমিকা পালন করেছিলেন যেখানে মাঝারি মানের কাজ মানেই ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হতো।''' <br> … সর্বদা বিনয়ী, অথচ সত্যের সন্ধানী, ফুকো সতর্কতার সাথে বিবেচিত রায় প্রয়োগ করতেন। '''পূর্বে অপরিচিত, কোনো বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা পরিচিত আবিষ্কারবিহীন এই যুবক এমন একটি শান্ত কর্তৃত্ব এবং স্পষ্টবাদিতা প্রদর্শন করেছিলেন, যা অনেক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীকে বিরক্ত করেছিল।'''
** জোসেফ লুই ফ্রাঁসোয়া বার্ট্রান্ড, (১৮৮২)।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো}}
* [http://www-history.mcs.st-andrews.ac.uk/Biographies/Foucault.html ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট অ্যান্ড্রুজ-এ প্রোফাইল]
* [http://micro.magnet.fsu.edu/optics/timeline/people/foucault.html ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল]
{{DEFAULTSORT:ফুকো, লিয়ন}}
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮১৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬৮-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্যারিসের ব্যক্তি]]
cpiha9ra8k9ifypmd2ecf6nrxjv1yar
উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/ফলাফল
5
11944
76126
73257
2026-04-12T15:43:59Z
~2026-22524-94
5013
/* পুরস্কার */ উত্তর
76126
wikitext
text/x-wiki
== পুরস্কার ==
পুরস্কার [[বিশেষ:অবদান/~2026-20346-16|~2026-20346-16]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20346-16|আলাপ]]) ১৮:৩৫, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:ঠাকুরমনিদেবনাথ [[বিশেষ:অবদান/~2026-22524-94|~2026-22524-94]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22524-94|আলাপ]]) ১৫:৪৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
hzya2lqydkz00vuioxv5461d2956xci
টিন
0
11983
76276
73489
2026-04-13T05:18:16Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76276
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
bixld7f2y5ni810mkbqdf1a7o0wad0g
76277
76276
2026-04-13T05:21:02Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76277
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
g929ldchvra7mompp3sue8t3og5k986
76278
76277
2026-04-13T05:23:30Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76278
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
h066wqdaewnk850r0weyryuzqrhv05z
76282
76278
2026-04-13T05:28:06Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76282
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
dizdtru0s8qbf3h1upnzs18dzwdxo0p
76283
76282
2026-04-13T05:34:45Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76283
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
tb2dsslhj8f80qc6ypitbioo4cfta19
76285
76283
2026-04-13T05:37:09Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76285
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
i8aolholkmfvia9a5i7q7fhjmph74h3
76288
76285
2026-04-13T05:39:32Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76288
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
* দেয়ালের যে-অংশে দরজা সেই দিকে বাতির মোড়ক থেকে কাটা ছবিগুলি এঁটে দিয়ে কোনো এক ভৃত্য সৌন্দর্যবোধের তৃপ্তিসাধন করেছিল। এক কোণে টিনের বাক্সে আছে গুঁড়োকরা খড়ি, তার পাশে ঝুড়িতে শুকনো তেঁতুল, এবং কতকগুলো ময়লা ঝাড়ন; আর সারি সারি কেরোসিনের টিন, অধিকাংশই খালি, গুটি দুই-তিন ভরা।
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
3gn02uoqjwg2364amieeyb3bee7jabr
76290
76288
2026-04-13T05:43:16Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76290
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
* দেয়ালের যে-অংশে দরজা সেই দিকে বাতির মোড়ক থেকে কাটা ছবিগুলি এঁটে দিয়ে কোনো এক ভৃত্য সৌন্দর্যবোধের তৃপ্তিসাধন করেছিল। এক কোণে টিনের বাক্সে আছে গুঁড়োকরা খড়ি, তার পাশে ঝুড়িতে শুকনো তেঁতুল, এবং কতকগুলো ময়লা ঝাড়ন; আর সারি সারি কেরোসিনের টিন, অধিকাংশই খালি, গুটি দুই-তিন ভরা।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], যোগাযোগ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
khjee34jlvxkfh4eld5meupo4udyyzk
76291
76290
2026-04-13T05:48:55Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76291
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* টিন শব্দের অপপ্রয়ােগ আমরা ইংরেজের কাছে শিখিয়াছি। ইহার প্রকৃত অর্থ রাং, ইংরেজীতে তাহাই মুখ্য অর্থ। কিন্তু আর এক অর্থ—রাংএর লেপ দেওয়া লােহার পাত অথবা তাহা হইতে প্রস্তুত আধার, যথা ‘কেরােসিনের টিন’। ঘর ছাহিবার করুগেটেড লােহায় দস্তার লেপ থাকে। তাহাও ‘টিন’ আখ্যা পাইয়াছে, যথা ‘টিনের ছাদ’।
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
* দেয়ালের যে-অংশে দরজা সেই দিকে বাতির মোড়ক থেকে কাটা ছবিগুলি এঁটে দিয়ে কোনো এক ভৃত্য সৌন্দর্যবোধের তৃপ্তিসাধন করেছিল। এক কোণে টিনের বাক্সে আছে গুঁড়োকরা খড়ি, তার পাশে ঝুড়িতে শুকনো তেঁতুল, এবং কতকগুলো ময়লা ঝাড়ন; আর সারি সারি কেরোসিনের টিন, অধিকাংশই খালি, গুটি দুই-তিন ভরা।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], যোগাযোগ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
ezf6u8x0r65n873lopb3nj8a3txdso6
76292
76291
2026-04-13T05:51:43Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76292
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:টিন|টিন]]''' একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। টিন একটি ধাতব-ধূসর ধাতু, যা যথেষ্ট নরম হওয়ায় সামান্য বল প্রয়োগেই কাটা যায়। টিনের একটি দণ্ড অল্প চেষ্টাতেই হাত দিয়ে বাঁকানো যায়। এটি একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং অত্যন্ত স্ফটিকাকার রূপালি-সাদা ধাতু। টিনের দণ্ড বাঁকানোর সময় একটি শব্দ তৈরি করে, যা তথাকথিত "টিন ক্রাই" বা ''টিনের কান্না'' নামে পরিচিত।
== উক্তি ==
* মোমের [[পুতুল]] ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,<br>টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
** [[সুকুমার রায়]], আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
* সুবর্ণের পরে তাম্র আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মানবজাতির সর্ব্বপ্রাচীন ধাতব অস্ত্রসমূহ তাম্রনির্ম্মিত। তাম্রনির্ম্মিত অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণধার, কিন্তু সুকঠিন নহে। টিন্ আবিষ্কৃত হইবার পরে, তাম্রনির্ম্মিত দ্রব্যাদি কঠিন করিবার জন্য নয়ভাগ তাম্রের সহিত একভাগ টিন্ মিশ্রিত হইত, এই মিশ্রধাতুর নাম ব্রঞ্জ।
** [[রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়]], বাঙ্গালার ইতিহাস- রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
* টিন শব্দের অপপ্রয়ােগ আমরা ইংরেজের কাছে শিখিয়াছি। ইহার প্রকৃত অর্থ রাং, ইংরেজীতে তাহাই মুখ্য অর্থ। কিন্তু আর এক অর্থ—রাংএর লেপ দেওয়া লােহার পাত অথবা তাহা হইতে প্রস্তুত আধার, যথা ‘কেরােসিনের টিন’। ঘর ছাহিবার করুগেটেড লােহায় দস্তার লেপ থাকে। তাহাও ‘টিন’ আখ্যা পাইয়াছে, যথা ‘টিনের ছাদ’।
** [[রাজশেখর বসু]], লঘুগুরু প্রবন্ধাবলী - রাজশেখর বসু, প্রকাশক- রঞ্জন পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৮
* কুলুঙ্গির মধ্যে ক্ষুদ্র টিনের ডিবায় ম্লানভাবে কেরোসিন জ্বলিতেছিল, আমি তাহা উস্কাইয়া দিলাম; একটুখানি আলো জাগিয়া উঠিল এবং অনেকখানি ধোঁয়া বাহির হইতে লাগিল। কোঁচাখানা গায়ের উপর টানিয়া একখানা খবরের-কাগজ-পাতা প্যাক্বাক্সের উপর বসিলাম।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমরা [[বর্ষা]]কালে রথের সময়ে তালপাতার ভেঁপু কিনে বাজাতুম; আর টিনের রথে মাটির জগন্নাথ চাপিয়ে টানতুম, রথের চাকা শব্দ দিত ঝন্ ঝন্; যেন সেতার নূপুর সব একসঙ্গে বাজছে। আকাশ ভেঙে [[বৃষ্টি]] পড়ত দেখতে পেতুম, থেকে থেকে মেঘলা আলোকে রোদ পরাত চাপাই শাড়ি—কি বাহার খুলত!
** [[s:জোড়াসাঁকোর ধারে/১|জোড়াসাঁকোর ধারে]], প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১
* কখনো গােয়েন্দাদের চোখে ধুলি দিতে আত্মগােপন করেছে রকম-বেরকমের ছদ্মবেশে। শহরে শহরে চালান করেছে শত শত নিষিদ্ধ পুস্তক। নির্বাসিত সঙ্গীদের মুক্তির আয়োজন ক’রে দিয়েছে···সঙ্গে করে তাদের বিপদ সীমার বাইরে রেখে এসেছে। তার বাড়িতে একটা ছাপাখানা ছিল···পুলিস খানাতল্লাশ করতে এলে এক মিনিটের মধ্যে ভেল বদলে চাকরের সাজে আগন্তুকদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সে···তারপর গায়ে একখানা র্যাপার জড়িয়ে, মাথায় রুমাল বেঁধে, হাতে একটা কেরোসিনের টিন নিয়ে কেরোসিন-ওয়ালীর বেশে শীতের কনকনে হাওয়ায় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চ’লে গেলো।···
** [[মাক্সিম গোর্কি]], মা, মা - ম্যাক্সিম গোর্কি, অনুবাদক- বিমল সেন, প্রকাশক- বর্মণ পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫
* পরদেশিয়া নৌকোগুলাের এল ফেরার দিন,<br>নিল ভরে খালি-করা কেরােসিনের টিন—<br>একটা পালের ’পরে ছােটো আরেকটা পাল তুলে<br>চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মায়, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১
* লৌহ জল অপেক্ষা সাত আট গুণ ভারি। ইহা টিন ভিন্ন আর সকল ধাতু অপেক্ষা হালকী। লোহাতে মানুষের চুলের সমান সরু তার হইতে পারে। ইহা সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক ভারসহ; এক যবে্দর স্থূল তারে ৬ মন ১৭ সের ভারি বস্ত ঝুলাইলেও ছিঁড়িয়া যাইবেক না।<br>লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায় এবং সকল দেশেই ইহার আকর আছে। কিন্তু ইংলণ্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, রুশিয়া এই কয়েক দেশে অধিক।
** [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]], ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
* চৈৎ-বৈশাখ মাসে রাস্তায় ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত ‘বরীফ’। হাঁড়িতে বরফ দেওয়া নোনতা জলে ছোটো ছোটো টিনের চোঙে থাকত যাকে বলা হ’ত কুলফির বরফ, এখন যাকে বলে আইস কিংবা আইস্ক্রিম। রাস্তার দিকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই ডাকে মন কিরকম করত তা মনই জানে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩
* দেশলাইয়ের বাক্স একটা, সিগারেটের টিন একটা, লোহার সিন্দুক একটা এবং কালীঘাটের কৌটা একটা—এদের ভাল-মন্দের হিসেব এদের রূপের মধ্যেই রয়েছে। দেশলাইয়ের বাক্সর কবি বাক্সটার রূপ বড় উপমার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে হয়তো কালীঘাটের কৌটোর চেয়ে তাকে ভাল বলে’ প্রমাণ করতে পারেন কারো কাছে, কিন্তু আর্টিষ্ট রূপ দিয়েই রূপের পরিমাপ করে দেখবে, উপমার ভাল-মন্দ দিয়ে নয়।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], অরূপ না রূপ, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৫
* আমি হাতে তুলে নিলাম, একটা ছোট টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ! এ ধরনের টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা জানি।<br>বাদল হঠাৎ বড় উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বললে—দেখি জিনিসটা?<br>—দ্যাখ তো, চিনিস?<br>—চিনি, ‘ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স’।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৮
* প্রাচীরবেষ্টিত স্বল্প স্থানের মধ্যে কয়েক শত মনুষ্য—সকলের এক বেশ, মোটা কাপড়ের হাঁটু পর্য্যন্ত পায়জামা, গায়ে সেই কাপড়ের পিরাণ, মাথায় সেই রকম টুপী। মোটা কাপড়, তাহাতে নীল ডোরা। সকলের গলায় একটা টিনের চাক্তি, তাহাতে একটা নম্বর খোদা। এই সকল লোকদের নাম নাই, শুধু নম্বর। যাহার যে নম্বর তাহাকে সেই নম্বর বলিয়া ডাকে।<br>ইহারা বন্দী, ইহাদের বাসস্থান কারাগার।
** [[নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত]], বন্দী, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮৯
* আকরিকের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, টিন, পাথুরিয়া কয়লা প্রচুর পাওয়া যায়। লৌহ অধিক পাওয়া যায় না। লৌহের অনেক কার্য্য তাম্র দ্বারা সম্পন্ন হইয়া থাকে। এখানকার তাম্রের ন্যায় উৎকৃষ্ট তাম্র পৃথিবীর কুত্রাপি পাওয়া যায় না। জাপানীরা ইহা এক ইঞ্চ মােটা ও এক ফুট লম্বা পাত করিয়া বিক্রয় করে। অপকৃষ্ট তাম্র ইষ্টকাকারে বিক্রীত হয়। জাপানে তামার খনিতে সময়ে সময়ে স্বর্ণ পাওয়া যায়। সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত কেহই স্বর্ণখনির কার্য্য করিতে পারে না। এখানকার টিন রৌপ্যের ন্যায় শুভ্র ও উজ্জ্বল। জাপানের নানাস্থানে একরূপ মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তাহা হইতে মনােহর বাসন প্রস্তুত হয়। চীনাবাসন বলিয়া ইহা পৃথিবীর নানাদেশে বিক্রয় হইয়া থাকে।
** [[উমাকান্ত হাজারী]], নব্য জাপান, নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস - উমাকান্ত হাজারী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
* কর্পোরেশনের পাম্পিং স্টেশনে অথবা জল সরবরাহের যে কোনও কেন্দ্রে ইঞ্জিন ড্রাইভারের পদের জন্য এন্তাজ আলি নামে একটি লোক দরখাস্ত করিয়াছিল। বাঁশের মত গোলাকৃতি একটি টিন কেসের মধ্যে পুরিয়া সে তাহার দরখাস্তের সঙ্গে প্রশংসাপত্রগুলি আমাকে দিয়াছিল। উহা আমার অফিসে হয় টেবিলের উপর নতুবা আমার চেয়ারের বাঁ দিকে whatnot-এর মধ্যে আছে। টিন কেসটি দেখিতে এত অদ্ভুত যে, উহা ভুল হইবার নয়। লােকটি আমাকে ঐ প্রশংসাপত্রগুলির কথা লিখিয়াছে।
** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], শ্রীমতী মাতাঠাকুরাণীকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)-সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১-১২২
* দেয়ালের যে-অংশে দরজা সেই দিকে বাতির মোড়ক থেকে কাটা ছবিগুলি এঁটে দিয়ে কোনো এক ভৃত্য সৌন্দর্যবোধের তৃপ্তিসাধন করেছিল। এক কোণে টিনের বাক্সে আছে গুঁড়োকরা খড়ি, তার পাশে ঝুড়িতে শুকনো তেঁতুল, এবং কতকগুলো ময়লা ঝাড়ন; আর সারি সারি কেরোসিনের টিন, অধিকাংশই খালি, গুটি দুই-তিন ভরা।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], যোগাযোগ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:মৌলিক পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খনিজ পদার্থ]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রকৃতি]]
6h5au55a23eiq9hrsltcpp0yo1yqv8k
রবার্ট জে. শিলার
0
11990
76099
75605
2026-04-12T14:37:14Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* উক্তি */
76099
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert Shiller - World Economic Forum Annual Meeting 2012.jpg|thumb|২০১২ সালে রবার্ট শিলার।]]
'''[[w:bn:রবার্ট জে. শিলার|রবার্ট জেমস "বব" শিলার]]''' (জন্ম: ২৯ মার্চ ১৯৪৬) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্লিং অধ্যাপক। তিনি একাধারে বেস্ট-সেলার লেখক এবং ২০১৩ সালে [[w:bn:ইউজিন ফামা|ইউজিন ফামা]] ও [[w:bn:লার্স পিটার হ্যানসেন|লার্স পিটার হ্যানসেন]]-এর সাথে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
== উক্তি ==
* টাইম সিরিজ বা কালানুক্রমিক 'র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস' (যৌক্তিক প্রত্যাশা) মডেলগুলোর মধ্যে আমাদের পেশার মানুষেরা যে এতটা সম্ভাবনা দেখতে পাবেন, তা বুঝতে আমি কতটা ভুল করেছিলাম, আজ সে কথাই বারবার মনে পড়ছে। ১৯৭০ সালের দিকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র থাকাকালীন যখন আমি এই মডেলগুলোর ইকোনোমেট্রিকস বা অর্থমিতি নিয়ে কাজ করতাম, তখন এর চরমপন্থী অনুমিতিগুলো নিয়ে আমি নিজেই বেশ লজ্জিত ছিলাম। আমি ভাবতেও পারিনি যে অন্যরা এটাকে সাময়িক কোনো চমকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করবে। রিচার্ড সাচ ১৯৬৮ সালে তাঁর এমআইটির পিএইচডি গবেষণাপত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সুদের হারের টাইম সিরিজের ক্ষেত্রে কোইফিশিয়েন্ট বা সহগের সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো এটি প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেননি। র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস মডেল নিয়ে তাঁর এবং অন্যান্যদের সাথে হওয়া কথোপকথনের কথা আমার মনে আছে, তবে তখনো আমার মনে হয়নি যে এটিই হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।
** রবার্ট জে. শিলার (১৯৮৪), [[রবার্ট ই. লুকাস]] ও [[টমাস জে. সার্জেন্টের]] লেখা ''র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ইকোনোমেট্রিক প্র্যাকটিস'' বইয়ের পর্যালোচনা।
* অর্থনীতিকে বুঝতে হলে এটি কীভাবে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা 'অ্যানিমেল স্পিরিট' দ্বারা পরিচালিত হয়, তা অনুধাবন করতে হবে। [[অ্যাডাম স্মিথ|অ্যাডাম স্মিথের]] '[[অদৃশ্য হাত]]' যেমন ধ্রুপদী অর্থনীতির মূল কথা, তেমনি কেইনসের 'অ্যানিমেল স্পিরিট' হলো অর্থনীতিকে দেখার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির চাবিকাঠি—যে দৃষ্টিভঙ্গি [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদের]] অন্তর্নিহিত অস্থিরতাগুলোকে ব্যাখ্যা করে।
** [[জর্জ আকেরলফ]] এবং রবার্ট শিলার, ''[[প্রাণীর আত্মা: কীভাবে মানব মনোবিজ্ঞান অর্থনীতিকে চালিত করে এবং কেন এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ]]'' (২০০৯), মুখবন্ধ।
* এই 'কোভ্যারিয়েন্স' বা সহ-ভেদাঙ্ক এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরই চিন্তা করার অভ্যাস নেই। তারা তাদের প্রতিটি বিনিয়োগের দিকে আলাদা আলাদাভাবে তাকান। অথচ আপনাকে সব সময় একটু থেমে হিসাব কষে দেখতে হবে যে, বিনিয়োগগুলোর মধ্যে সহ-সম্পর্ক বা কোভ্যারিয়েন্স কেমন? আপনার পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগ তালিকার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা মূলত এর ওপরই নির্ভর করে। কারণ, আপনি যখন একই ধাঁচের অনেকগুলো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, তখন আপনি মূলত বিপদ ডেকে আনছেন; হয় পুরো বিনিয়োগটাই একসাথে ফুলেফেঁপে উঠবে, নয়তো সব একসাথে ধসে পড়বে। এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে তো আর টিকে থাকা যায় না। আপনাকে সব সময় 'লো কোভ্যারিয়েন্স' বা নিম্ন সহ-সম্পর্ক খুঁজে বের করতে হবে।
** রবার্ট শিলার, [https://www.coursera.org/learn/financial-markets-global/lecture/41Ujc/chalk-talk-covariance ''চক টক -'' কোভ্যারিয়েন্স, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস (কোর্সেরা)]।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:শিলার, রবার্ট জে.}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:আমেরিকান অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মিশিগানের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ডেট্রয়েটের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
gyf36kbjbhg2nhbcnfmlnpuyinyrfie
76102
76099
2026-04-12T14:38:21Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
/* উক্তি */
76102
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert Shiller - World Economic Forum Annual Meeting 2012.jpg|thumb|২০১২ সালে রবার্ট শিলার।]]
'''[[w:bn:রবার্ট জে. শিলার|রবার্ট জেমস "বব" শিলার]]''' (জন্ম: ২৯ মার্চ ১৯৪৬) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্লিং অধ্যাপক। তিনি একাধারে বেস্ট-সেলার লেখক এবং ২০১৩ সালে [[w:bn:ইউজিন ফামা|ইউজিন ফামা]] ও [[w:bn:লার্স পিটার হ্যানসেন|লার্স পিটার হ্যানসেন]]-এর সাথে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
== উক্তি ==
* টাইম সিরিজ বা কালানুক্রমিক 'র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস' (যৌক্তিক প্রত্যাশা) মডেলগুলোর মধ্যে আমাদের পেশার মানুষেরা যে এতটা সম্ভাবনা দেখতে পাবেন, তা বুঝতে আমি কতটা ভুল করেছিলাম, আজ সে কথাই বারবার মনে পড়ছে। ১৯৭০ সালের দিকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র থাকাকালীন যখন আমি এই মডেলগুলোর ইকোনোমেট্রিকস বা অর্থমিতি নিয়ে কাজ করতাম, তখন এর চরমপন্থী অনুমিতিগুলো নিয়ে আমি নিজেই বেশ লজ্জিত ছিলাম। আমি ভাবতেও পারিনি যে অন্যরা এটাকে সাময়িক কোনো চমকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করবে। রিচার্ড সাচ ১৯৬৮ সালে তাঁর এমআইটির পিএইচডি গবেষণাপত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সুদের হারের টাইম সিরিজের ক্ষেত্রে কোইফিশিয়েন্ট বা সহগের সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো এটি প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেননি। র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস মডেল নিয়ে তাঁর এবং অন্যান্যদের সাথে হওয়া কথোপকথনের কথা আমার মনে আছে, তবে তখনো আমার মনে হয়নি যে এটিই হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।
** রবার্ট জে. শিলার (১৯৮৪), [[রবার্ট ই. লুকাস]] ও [[টমাস জে. সার্জেন্টের]] লেখা ''র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ইকোনোমেট্রিক প্র্যাকটিস'' বইয়ের পর্যালোচনা।
* অর্থনীতিকে বুঝতে হলে এটি কীভাবে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা 'অ্যানিমেল স্পিরিট' দ্বারা পরিচালিত হয়, তা অনুধাবন করতে হবে। [[অ্যাডাম স্মিথ|অ্যাডাম স্মিথের]] '[[অদৃশ্য হাত]]' যেমন ধ্রুপদী অর্থনীতির মূল কথা, তেমনি কেইনসের 'অ্যানিমেল স্পিরিট' হলো অর্থনীতিকে দেখার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির চাবিকাঠি যে দৃষ্টিভঙ্গি [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদের]] অন্তর্নিহিত অস্থিরতাগুলোকে ব্যাখ্যা করে।
** [[জর্জ আকেরলফ]] এবং রবার্ট শিলার, ''[[প্রাণীর আত্মা: কীভাবে মানব মনোবিজ্ঞান অর্থনীতিকে চালিত করে এবং কেন এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ]]'' (২০০৯), মুখবন্ধ।
* এই 'কোভ্যারিয়েন্স' বা সহ-ভেদাঙ্ক এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরই চিন্তা করার অভ্যাস নেই। তারা তাদের প্রতিটি বিনিয়োগের দিকে আলাদা আলাদাভাবে তাকান। অথচ আপনাকে সব সময় একটু থেমে হিসাব কষে দেখতে হবে যে, বিনিয়োগগুলোর মধ্যে সহ-সম্পর্ক বা কোভ্যারিয়েন্স কেমন? আপনার পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগ তালিকার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা মূলত এর ওপরই নির্ভর করে। কারণ, আপনি যখন একই ধাঁচের অনেকগুলো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, তখন আপনি মূলত বিপদ ডেকে আনছেন; হয় পুরো বিনিয়োগটাই একসাথে ফুলেফেঁপে উঠবে, নয়তো সব একসাথে ধসে পড়বে। এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে তো আর টিকে থাকা যায় না। আপনাকে সব সময় 'লো কোভ্যারিয়েন্স' বা নিম্ন সহ-সম্পর্ক খুঁজে বের করতে হবে।
** রবার্ট শিলার, [https://www.coursera.org/learn/financial-markets-global/lecture/41Ujc/chalk-talk-covariance ''চক টক -'' কোভ্যারিয়েন্স, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস (কোর্সেরা)]।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:শিলার, রবার্ট জে.}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:আমেরিকান অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মিশিগানের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ডেট্রয়েটের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
20yh6a7ha4irjphp0igm4npjveecd09
76150
76102
2026-04-12T16:53:48Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
76150
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert Shiller - World Economic Forum Annual Meeting 2012.jpg|thumb|২০১২ সালে রবার্ট শিলার।]]
'''[[w:bn:রবার্ট জে. শিলার|রবার্ট জেমস "বব" শিলার]]''' (জন্ম: ২৯ মার্চ ১৯৪৬) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্লিং অধ্যাপক। তিনি একাধারে বেস্ট-সেলার লেখক এবং ২০১৩ সালে [[w:bn:ইউজিন ফামা|ইউজিন ফামা]] ও [[w:bn:লার্স পিটার হ্যানসেন|লার্স পিটার হ্যানসেন]]ের সাথে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
== উক্তি ==
* টাইম সিরিজ বা কালানুক্রমিক 'র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস' (যৌক্তিক প্রত্যাশা) মডেলগুলোর মধ্যে আমাদের পেশার মানুষেরা যে এতটা সম্ভাবনা দেখতে পাবেন, তা বুঝতে আমি কতটা ভুল করেছিলাম, আজ সে কথাই বারবার মনে পড়ছে। ১৯৭০ সালের দিকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র থাকাকালীন যখন আমি এই মডেলগুলোর ইকোনোমেট্রিকস বা অর্থমিতি নিয়ে কাজ করতাম, তখন এর চরমপন্থী অনুমিতিগুলো নিয়ে আমি নিজেই বেশ লজ্জিত ছিলাম। আমি ভাবতেও পারিনি যে অন্যরা এটাকে সাময়িক কোনো চমকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করবে। রিচার্ড সাচ ১৯৬৮ সালে তাঁর এমআইটির পিএইচডি গবেষণাপত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সুদের হারের টাইম সিরিজের ক্ষেত্রে কোইফিশিয়েন্ট বা সহগের সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো এটি প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেননি। র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস মডেল নিয়ে তাঁর এবং অন্যান্যদের সাথে হওয়া কথোপকথনের কথা আমার মনে আছে, তবে তখনো আমার মনে হয়নি যে এটিই হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।
** রবার্ট জে. শিলার (১৯৮৪), [[রবার্ট ই. লুকাস]] ও [[টমাস জে. সার্জেন্টের]] লেখা ''র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ইকোনোমেট্রিক প্র্যাকটিস'' বইয়ের পর্যালোচনা।
* অর্থনীতিকে বুঝতে হলে এটি কীভাবে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা 'অ্যানিমেল স্পিরিট' দ্বারা পরিচালিত হয়, তা অনুধাবন করতে হবে। [[অ্যাডাম স্মিথ|অ্যাডাম স্মিথের]] '[[অদৃশ্য হাত]]' যেমন ধ্রুপদী অর্থনীতির মূল কথা, তেমনি কেইনসের 'অ্যানিমেল স্পিরিট' হলো অর্থনীতিকে দেখার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির চাবিকাঠি যে দৃষ্টিভঙ্গি [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদের]] অন্তর্নিহিত অস্থিরতাগুলোকে ব্যাখ্যা করে।
** [[জর্জ আকেরলফ]] এবং রবার্ট শিলার, ''[[প্রাণীর আত্মা: কীভাবে মানব মনোবিজ্ঞান অর্থনীতিকে চালিত করে এবং কেন এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ]]'' (২০০৯), মুখবন্ধ।
* এই 'কোভ্যারিয়েন্স' বা সহ-ভেদাঙ্ক এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরই চিন্তা করার অভ্যাস নেই। তারা তাদের প্রতিটি বিনিয়োগের দিকে আলাদা আলাদাভাবে তাকান। অথচ আপনাকে সব সময় একটু থেমে হিসাব কষে দেখতে হবে যে, বিনিয়োগগুলোর মধ্যে সহ-সম্পর্ক বা কোভ্যারিয়েন্স কেমন? আপনার পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগ তালিকার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা মূলত এর ওপরই নির্ভর করে। কারণ, আপনি যখন একই ধাঁচের অনেকগুলো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, তখন আপনি মূলত বিপদ ডেকে আনছেন; হয় পুরো বিনিয়োগটাই একসাথে ফুলেফেঁপে উঠবে, নয়তো সব একসাথে ধসে পড়বে। এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে তো আর টিকে থাকা যায় না। আপনাকে সব সময় 'লো কোভ্যারিয়েন্স' বা নিম্ন সহ-সম্পর্ক খুঁজে বের করতে হবে।
** রবার্ট শিলার, [https://www.coursera.org/learn/financial-markets-global/lecture/41Ujc/chalk-talk-covariance ''চক টক -'' কোভ্যারিয়েন্স, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস (কোর্সেরা)]।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:শিলার, রবার্ট জে.}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:আমেরিকান অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মিশিগানের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ডেট্রয়েটের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
gwd27ikrg99yc6xs93tabupusc7y3zc
76166
76150
2026-04-12T19:58:30Z
Anaf Ibn Shahibul
4193
76166
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert Shiller - World Economic Forum Annual Meeting 2012.jpg|thumb|২০১২ সালে রবার্ট শিলার।]]
'''[[w:bn:রবার্ট জে. শিলার|রবার্ট জেমস "বব" শিলার]]''' (জন্ম: ২৯ মার্চ ১৯৪৬) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্লিং অধ্যাপক। তিনি একাধারে বেস্ট-সেলার লেখক এবং ২০১৩ সালে [[w:bn:ইউজিন ফামা|ইউজিন ফামা]] ও [[w:bn:লার্স পিটার হ্যানসেন|লার্স পিটার হ্যানসেন]]ের সাথে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
== উক্তি ==
* টাইম সিরিজ বা কালানুক্রমিক 'র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস' (যৌক্তিক প্রত্যাশা) মডেলগুলোর মধ্যে আমাদের পেশার মানুষেরা যে এতটা সম্ভাবনা দেখতে পাবেন, তা বুঝতে আমি কতটা ভুল করেছিলাম, আজ সে কথাই বারবার মনে পড়ছে। ১৯৭০ সালের দিকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র থাকাকালীন যখন আমি এই মডেলগুলোর ইকোনোমেট্রিকস বা অর্থমিতি নিয়ে কাজ করতাম, তখন এর চরমপন্থী অনুমিতিগুলো নিয়ে আমি নিজেই বেশ লজ্জিত ছিলাম। আমি ভাবতেও পারিনি যে অন্যরা এটাকে সাময়িক কোনো চমকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করবে। রিচার্ড সাচ ১৯৬৮ সালে তাঁর এমআইটির পিএইচডি গবেষণাপত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সুদের হারের টাইম সিরিজের ক্ষেত্রে কোইফিশিয়েন্ট বা সহগের সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো এটি প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেননি। র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস মডেল নিয়ে তাঁর এবং অন্যান্যদের সাথে হওয়া কথোপকথনের কথা আমার মনে আছে, তবে তখনো আমার মনে হয়নি যে এটিই হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।
** রবার্ট জে. শিলার (১৯৮৪), [[রবার্ট ই. লুকাস]] ও [[টমাস জে. সার্জেন্টের]] লেখা ''র্যাশনাল এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ইকোনোমেট্রিক প্র্যাকটিস'' বইয়ের পর্যালোচনা।
* অর্থনীতিকে বুঝতে হলে এটি কীভাবে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা 'অ্যানিমেল স্পিরিট' দ্বারা পরিচালিত হয়, তা অনুধাবন করতে হবে। [[অ্যাডাম স্মিথ|অ্যাডাম স্মিথের]] '[[অদৃশ্য হাত]]' যেমন ধ্রুপদী অর্থনীতির মূল কথা, তেমনি কেইনসের 'অ্যানিমেল স্পিরিট' হলো অর্থনীতিকে দেখার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির চাবিকাঠি যে দৃষ্টিভঙ্গি [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদের]] অন্তর্নিহিত অস্থিরতাগুলোকে ব্যাখ্যা করে।
** [[জর্জ আকেরলফ]] এবং রবার্ট শিলার, ''[[প্রাণীর আত্মা: কীভাবে মানব মনোবিজ্ঞান অর্থনীতিকে চালিত করে এবং কেন এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ]]'' (২০০৯), মুখবন্ধ।
* এই 'কোভ্যারিয়েন্স' বা সহ ভেদাঙ্ক এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরই চিন্তা করার অভ্যাস নেই। তারা তাদের প্রতিটি বিনিয়োগের দিকে আলাদা আলাদাভাবে তাকান। অথচ আপনাকে সব সময় একটু থেমে হিসাব কষে দেখতে হবে যে, বিনিয়োগগুলোর মধ্যে সহসম্পর্ক বা কোভ্যারিয়েন্স কেমন? আপনার পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগ তালিকার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা মূলত এর ওপরই নির্ভর করে। কারণ, আপনি যখন একই ধাঁচের অনেকগুলো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, তখন আপনি মূলত বিপদ ডেকে আনছেন; হয় পুরো বিনিয়োগটাই একসাথে ফুলেফেঁপে উঠবে, নয়তো সব একসাথে ধসে পড়বে। এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে তো আর টিকে থাকা যায় না। আপনাকে সব সময় 'লো কোভ্যারিয়েন্স' বা নিম্ন সহসম্পর্ক খুঁজে বের করতে হবে।
** রবার্ট শিলার, [https://www.coursera.org/learn/financial-markets-global/lecture/41Ujc/chalk-talk-covariance ''চক টক -'' কোভ্যারিয়েন্স, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস (কোর্সেরা)]।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:শিলার, রবার্ট জে.}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:আমেরিকান অর্থনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মিশিগানের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ডেট্রয়েটের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ]]
mkaxnq0hcmai8rpjqzw7tzcky8qrkag
ব্যবহারকারী আলাপ:Dhanaranjan Barman
3
11996
76211
73582
2026-04-13T02:42:45Z
~2026-22714-82
5038
/* Bapan Bhunia */ নতুন অনুচ্ছেদ
76211
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Dhanaranjan Barman,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৭:১৩, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== Bapan Bhunia ==
othur [[বিশেষ:অবদান/~2026-22714-82|~2026-22714-82]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22714-82|আলাপ]]) ০২:৪২, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
a2v1ypr3hxk4l6tnchcs5uxhcv78c5i
আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক
0
12014
76185
75799
2026-04-12T22:59:31Z
MS Sakib
35
/* বহিঃসংযোগ */
76185
wikitext
text/x-wiki
[[File:Alexander Grothendieck.jpg|thumb|আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক, ১৯৭০]]
'''আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক''' (২৮ মার্চ ১৯২৮ – ১৩ নভেম্বর ২০১৪) ছিলেন একজন জার্মানবংশোদ্ভূত ফরাসি গণিতবিদ। যিনি আধুনিক বীজগণিতীয় জ্যামিতি সৃষ্টির প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত। তার গবেষণা এই ক্ষেত্রের পরিধিকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছে এবং এর ভিত্তিতে বিনিময়ী বীজগণিত, হোমোলজিক্যাল বীজগণিত, শিফ তত্ত্ব এবং ক্যাটাগরি তত্ত্বের উপাদান যোগ করেছে। তার তথাকথিত "[[আপেক্ষিক]]" দৃষ্টিভঙ্গি বিশুদ্ধ গণিতের অনেক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি এনেছে।
==গ্রোথেনডিকের উক্তি==
*সেরের মৌলিক প্রবন্ধের<sup>[১১]</sup> মাধ্যমে বীজগণিতীয় জ্যামিতিতে কোহোমোলজিক্যাল পদ্ধতি (অর্থাৎ হোমোলজিক্যাল বীজগণিতের পদ্ধতি) প্রবর্তিত হওয়ার পর এখনও চার বছরও পার হয়নি, তবে এটি নিশ্চিত যে আগত বছরগুলোতে গণিতের এই অংশটি ভিত্তি থেকে শুরু করে সবচেয়ে উন্নত পর্যায় পর্যন্ত প্লাবিত হতে যাচ্ছে। ... [১১] গ্রিনহাউস, জে.পি. সামঞ্জস্যপূর্ণ বীজগণিত ফ্যাসেলস অ্যান গণিত (২), ৬, ১৯৭–২৭৮ (১৯৫৫)।
** {{cite book|year=1960|publisher=কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|chapter=বিমূর্ত বীজগণিত বৈচিত্র্যের সমসঙ্গীত তত্ত্ব|title=আন্তর্জাতিক গণিত কংগ্রেসের কার্যবিবরণী (এডিনবার্গ, ১৯৫৮) | পৃষ্ঠা = ১০৩–১১৮}} (পৃষ্ঠা ১০৩)
*'''সংখ্যা '০''' (শুন্য) বা '''গ্রুপ কনসেপ্ট''' (গোষ্ঠী ধারণা) প্রবর্তন করাও একসময় সাধারণ অর্থহীনতা বলে মনে করা হতো; কিন্তু গণিত হাজার হাজার বছর ধরে স্থবির ছিল কারণ এমন 'শিশুসুলভ' পদক্ষেপ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না...
**
[https://agrothendieck.github.io/divers/GBCorr.pdf রোনাল্ড ব্রাউনকে লেখা চিঠি, ৫ মে ১৯৮২]
*আপনার তোলা প্রশ্ন "এমন সূত্র কীভাবে গণনার দিকে নিয়ে যেতে পারে" আমাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করে না! একজন গণিতবিদ হিসেবে আমার সারা জীবনে, স্পষ্ট ও চমৎকার গণনার সম্ভাবনা সর্বদা নিজে থেকেই উঠে এসেছে। যা ঘটছে তার একটি গভীর ধারণাগত বোঝার উপজাত হিসেবেই এটি এসেছে। তাই আমি কখনোই ভাবিনি যে যা বেরিয়ে আসবে তা অমুক বা তমুক কাজের জন্য উপযুক্ত হবে কি না, বরং শুধু বোঝার চেষ্টা করেছিএবং সর্বদা দেখা গেছে যে 'বোঝা' বা 'উপলব্ধি' করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
**[https://agrothendieck.github.io/divers/GBCorr.pdf রোনাল্ড ব্রাউনকে লেখা চিঠি, ১২ এপ্রিল ১৯৮৩]
*আমি আমার পদ্ধতিকে একটি আখরোট খোলার ছবির সাথে তুলনা করতে পারি। প্রথমে আমার মাথায় যে উপমাটি এসেছিল তা হলো আখরোটটিকে কোনো নরম করার তরল পদার্থে ডুবিয়ে রাখা আর সাধারণ পানিই বা নয় কেন? মাঝেমধ্যে আপনি একটু ঘষবেন যাতে তরলটি ভালোভাবে ভেতরে ঢোকে, নতুবা শুধু সময় যেতে দেবেন। সপ্তাহ এবং মাস পার হতে হতে খোলসটি আরও নমনীয় হয়ে ওঠে যখন সময় উপযুক্ত হয়, হাতের চাপই যথেষ্ট, খোলসটি একদম পাকা অ্যাভোকাডোর মতো খুলে যায়! কয়েক সপ্তাহ আগে আমার মাথায় অন্য একটি ছবি এসেছিল। অজানাকে জানার বিষয়টি আমার কাছে শক্ত মাটি বা মার্ল পাথরের স্তরের মতো মনে হয়েছিল যা ভেদ করা কঠিন... সমুদ্র নিঃশব্দে অলক্ষ্যে অগ্রসর হয়, দেখে মনে হয় কিছুই ঘটছে না, কিছুই নড়ছে না, পানি এত দূরে যে আপনি তার শব্দও শুনতে পাচ্ছেন না... তবুও শেষ পর্যন্ত এটি সেই প্রতিরোধকারী পদার্থটিকে ঘিরে ফেলে।
**গ. ম্যাকলার্টি, দ্য রাইজিং সি: সরলতা এবং সাধারণতার উপর গ্রোথেনডিক (২০০৭)।
== গ্রোথেনডিক সম্পর্কিত উক্তি ==
* আমাদের উচিত আমাদের সহকর্মী পদার্থবিজ্ঞানীদের একটি 'অ্যান্টি-ইন্টারফারেন্স' বা 'বিপরীত-ব্যতিচার' নীতি উদ্ভাবন করতে বলা। যা দুটি অস্পষ্টতা (লেরে এবং গ্রোথেনডিক) থেকে আলোকবর্তিকা বের করে আনতে পারে।
** আঁদ্রে ওয়েল (১৯৫৮), পিয়েরে কার্টিয়ার কর্তৃক উদ্ধৃত; ''আঁদ্রে ওয়েল (১৯০৬-১৯৯৮) : আদিয়ু আ উন আমি'', সেমিনার ডি ফিলোসফি ই ম্যাথমেটিক্স (১৯৯৮), পৃষ্ঠা ১৮।
* গণিতকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে অ্যালেক্সানড্রে গ্রোথেনডিক ছিলেন আঁদ্রে ওয়েল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। গ্রোথেনডিক কেবল এমন একজন গণিতবিদ ছিলেন না যিনি বিষয়টিকে বুঝতে পারতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রমাণ করতে পারতেন। বরং তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি গণিত 'সৃষ্টি' করতে পারতেন। আর তিনি তা একাই করতেন।
** আমির ডি. অ্যাকজেল, ''দ্য আর্টিস্ট অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটিশিয়ান'' (২০০৯), পৃষ্ঠা ৫৪।
* গ্রোথেনডিক ছাড়া আর কারও পক্ষেই বীজগণিতীয় জ্যামিতিকে তাঁর গৃহীত সেই পূর্ণাঙ্গ সাধারণীকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং সফল করা সম্ভব ছিল না। এর জন্য প্রয়োজন ছিল সাহস এমনকি দুঃসাহস। পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস এবং একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের অপরিসীম ক্ষমতা। গ্রোথেনডিক ছিলেন একটি ঘটনা।
** মাইকেল আতিয়াহ, ''মাইকেল আতিয়াহ কালেক্টেড ওয়ার্কস: ভলিউম ৭'' (২০১৪), পৃষ্ঠা ৪২৯।
* গ্রোথেনডিকের সময় যারা তাঁর সাথে আই.এইচ.ই.এস এ ছিলেন, তাদের অনেকেই তাঁর দয়া, যেকোনো ধরনের প্রশ্নের প্রতি তাঁর উন্মুক্ততা এবং তাঁর মৃদু রসবোধের কথা বলেন। তিনি প্রায়শই খালি পায়ে থাকতেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতায় তিনি সপ্তাহে একদিন উপবাস করতেন। ব্যারি মাজুর স্মরণ করেছেন যে গ্রোথেনডিক একবার ট্রেন স্টেশনে এমন এক পরিবারকে দেখেছিলেন যাদের থাকার কোনো জায়গা ছিল না। তিনি তাদের তাঁর বাড়ির বেসমেন্টের অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি 'তারামাসালাতা' (মাছের ডিমের তৈরি এক ধরনের খাবার) তৈরির একটি যন্ত্র বসিয়েছিলেন যাতে তারা বাজারে তা বিক্রি করতে পারে।
** রিভকা গালচেন, ''দ্য মিস্টেরিয়াস ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অফ আ রিভল্যুশনারি ম্যাথমেটিশিয়ান'', দ্য নিউ ইয়র্কার (১৬ মে, ২০২২)।
* তিনি আসলে উদাহরণ নিয়ে কখনোই কাজ করতেন না। আমি কেবল উদাহরণের মাধ্যমেই কোনো কিছু বুঝি এবং তারপর ধীরে ধীরে সেগুলোকে আরও বিমূর্ত করি। আমার মনে হয় না যে কোনো উদাহরণ দেখার বিষয়টি গ্রোথেনডিককে বিন্দুমাত্র সাহায্য করত। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত বিমূর্তভাবে চিন্তা করার মাধ্যমেই সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতেন। এটি খুবই অদ্ভুত। তাঁর মন এভাবেই কাজ করত।
** ডেভিড মামফোর্ড, অ্যালিন জ্যাকসন কর্তৃক উদ্ধৃত, ''দ্য লাইফ অফ অ্যালেক্সানড্রে গ্রোথেনডিক'', নোটিসেস অফ দ্য আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি (নভেম্বর ২০০৪), পৃষ্ঠা ১১৯৭।
* ওয়েলের নতুন গাণিতিক ভাষা বীজগণিতীয় জ্যামিতি তাঁকে সমীকরণের সমাধানের এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় প্রকাশ করতে সক্ষম করেছিল, যা আগে অসম্ভব ছিল। কিন্তু যদি ওয়েলের ধারণাগুলো প্রসারিত করে 'রিমান হাইপোথিসিস' প্রমাণ করার কোনো আশা থেকে থাকে। তবে স্পষ্টতই সেগুলোকে রুয়েনের কারাগারে থাকাকালীন তাঁর তৈরি ভিত্তির চেয়েও অনেক দূর নিয়ে যেতে হতো। প্যারিসের অন্য একজন গণিতবিদই ছিলেন যিনি ওয়েলের এই নতুন ভাষার কঙ্কালটিতে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। যে প্রধান স্থপতি এই কাজটি করেছিলেন, তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অদ্ভুত এবং বৈপ্লবিক গণিতবিদ অ্যালেক্সানড্রে গ্রোথেনডিক।
** মার্কাস দু সউটোয়, ''দ্য মিউজিক অফ দ্য প্রাইমস'' (২০১২), পৃষ্ঠা ১৭৮।
* পাটীগণিতীয় জ্যামিতির প্রয়োগগুলো (যেমন ওয়েল কনজেকচার, রামানুজন কনজেকচার, মর্ডেল কনজেকচার, শাফারেভিচ কনজেকচার, টেট কনজেকচার) ধ্রুপদী পদ্ধতিতে চিন্তা করা অসম্ভব। এগুলোর জন্য গ্রোথেনডিকের বীজগণিতীয় জ্যামিতির ভিত্তিই একান্ত প্রয়োজন।
** লেইলা শ্নেপস এবং পিয়েরে লোচাক, ''অ্যারাউন্ড গ্রোথেনডিকস এস্কেস ডি’উন প্রোগ্রাম'' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৭০।
* অনেক গণিতবিদই বেশ শিশুসুলভ এবং এক অর্থে জাগতিক বিষয়ে উদাসীন। কিন্তু গ্রোথেনডিক অন্যদের চেয়েও বেশি ছিলেন। তাঁকে কেবলই একজন নিষ্পাপ মানুষের মতো মনে হতো খুব একটা ধূর্ত নন, কোনো ভনিতা নেই, কোনো ছলচাতুরী নেই। তিনি খুব স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতেন এবং কোনো উচ্চপদস্থ অনুভূতির তোয়াক্কা না করেই খুব ধৈর্যসহকারে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতেন। সভ্যতা, ক্ষমতা বা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কোনো বিষয় তাঁকে কলুষিত করতে পারেনি।
** জন টেট, অ্যালিন জ্যাকসন কর্তৃক উদ্ধৃত, ''দ্য লাইফ অফ অ্যালেক্সানড্রে গ্রোথেনডিক'', নোটিসেস অফ দ্য আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি (অক্টোবর ২০০৪), পৃষ্ঠা ১০৪৭।
=== এমন একটি দেশ যার নাম এবং 'মোটিভ' ছাড়া আর কিছুই জানা নেই ===
* তাঁর 'রেকোল্ট এ সেমাইল' গ্রন্থে গ্রোথেনডিক তাঁর বারোজন শিষ্যের গণনা করেছেন। এর প্রধান চরিত্র হলেন পিয়েরে ডেলিন। যিনি এই গল্পে যিশুর সেই প্রিয় শিষ্য 'জন' এবং বিশ্বাসঘাতক 'জুডাস' উভয়ের বৈশিষ্ট্যই ধারণ করেন। প্রতীকের কী অমোঘ ভার!
* জ্যঁ দিউদোনে এবং লরেন্ট শোয়ার্জ গ্রোথেনডিককে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলিত রাখতে পেরেছিলেন। যাতে তিনি সব দিকে দৌড়ে না বেড়ান এবং চরম সাধারণীকরণের প্রতি তাঁর অত্যধিক আকর্ষণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
* গ্রোথেনডিকের কাজ অপ্রত্যাশিত সমন্বয়ের কারণেই সফল হয়েছিল। দিউদোনের কাজ করার ও বিশ্লেষণের অসামান্য ক্ষমতা (যিনি লিপিকারের পদে উন্নীত হয়েছিলেন) সেরের কঠোর, যুক্তিবাদী ও সুপণ্ডিত মন, জারিস্কির শিক্ষার্থীদের জ্যামিতি ও বীজগণিতের ব্যবহারিক জ্ঞান এবং মহান শিষ্য পিয়েরে ডেলিনের তরুণ সতেজতা সবকিছুই গ্রোথেনডিকের দুঃসাহসী, স্বপ্নদ্রষ্টা এবং অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মনের বিপরীতে ভারসাম্যের কাজ করেছিল।
** পিয়েরে কার্টিয়ার (২০০৪), ''রিয়েল এন ম্যাথমেটিকস-সাইকোঅ্যানালাইসিস এ ম্যাথমেটিকস''।
=== কথোপকথন ===
:[[ভ্লাদিমির ড্রিনফেল্ড|ড্রিনফেল্ড]]: গ্রোথেনডিকের প্রিয় বইগুলো কী ছিল তা কি আপনি জানেন? আপনি তাঁর প্রিয় সংগীতের কথা উল্লেখ করেছিলেন...
:[[লুক ইলুসি|ইলুসি]]: আমার মনে পড়ছে না। আমার মনে হয় তিনি খুব একটা পড়তেন না। দিনে তো মাত্র চব্বিশ ঘণ্টাই থাকে...
:ইলুসি: পেছনে ফিরে তাকালে আমার কাছে অদ্ভুত লাগে যে, ১৯৬০ এর দশকে [[রিপ্রেজেন্টেশন থিওরি]] এবং [[অটোমর্ফিক ফর্মস]] তত্ত্ব বেশ ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছিল কিন্তু বু্যরে-সুর-ইভেট -এ তা কোনোভাবে উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছিল। গ্রোথেনডিক 'অ্যালজেব্রাইক গ্রুপ' সম্পর্কে বেশ ভালোই জানতেন।
:[[স্পেনসার ব্লচ|ব্লচ]]: আসলে, আপনি যেমনটা বললেন দিনে তো মাত্র চব্বিশ ঘণ্টাই থাকে।
:: [http://www.ams.org/notices/201009/rtx100901106p.pdf গ্রোথেনডিক এবং তাঁর স্কুলের স্মৃতিচারণ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী}}
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৮-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৪-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জার্মানির গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:শান্তিবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বার্লিনের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিল্ডস পদক বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ক্রাফোর্ড পুরস্কার বিজয়ী]]
ocpn2mzy0er2tf0mewairybtsca6iwv
সালাহউদ্দিন আহমেদ (রাজনীতিবিদ)
0
12119
76169
75434
2026-04-12T20:17:37Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */উক্তি
76169
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Salahuddin Ahmed at Dhaka, State Guest House (cropped).jpg|থাম্ব]]
[[w:সালাহউদ্দিন আহমেদ (রাজনীতিবিদ)|সালাহউদ্দিন আহমেদ]] একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং [[কক্সবাজার-১]] আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি পূর্বে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
==উক্তি==
* এই বাংলাদেশ হবে এক নীতির বাংলাদেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। বিদেশি কোনো প্রভু থাকবে না, বন্ধু থাকবে। এই বাংলাদেশ তাবেদারমুক্ত থাকবে।
** ০৬ আগস্ট ২০২৫ ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিজয় র্যালি-পূর্ব [https://www.prothomalo.com/politics/402nu8onfb এই সমাবেশে] বলেছেন।
* ‘রাষ্ট্র ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করবে (রাজনৈতিক নেতা) তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার। তাহলে আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পাব।’
** রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উদ্যোগে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এ [https://www.ntvbd.com/bangladesh/news-1601561 অনুষ্ঠানে] বলেছেন।, এমটিভি, ১০ আগস্ট ২০২৫
==সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে উক্তি==
* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমেদ) সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।
** ২ এপ্রিল ২০২৬, [[শফিকুর রহমান (রাজনীতিবিদ)|শফিকুর রহমান]], ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে। [https://www.ittefaq.com.bd/782429/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87 দৈনিক ইত্তেফাক] মন্তব্য করেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ]]
l0iwczaqqti5tfsetomlsvmewltk9wr
76270
76169
2026-04-13T05:05:40Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76270
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Salahuddin Ahmed at Dhaka, State Guest House (cropped).jpg|থাম্ব]]
[[w:সালাহউদ্দিন আহমেদ (রাজনীতিবিদ)|সালাহউদ্দিন আহমেদ]] একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং [[কক্সবাজার-১]] আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি পূর্বে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
==উক্তি==
* এই বাংলাদেশ হবে এক নীতির বাংলাদেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। বিদেশি কোনো প্রভু থাকবে না, বন্ধু থাকবে। এই বাংলাদেশ তাবেদারমুক্ত থাকবে।
** ০৬ আগস্ট ২০২৫ ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিজয় র্যালি-পূর্ব [https://www.prothomalo.com/politics/402nu8onfb এই সমাবেশে] বলেছেন।
* ‘রাষ্ট্র ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করবে (রাজনৈতিক নেতা) তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার। তাহলে আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পাব।’
** রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উদ্যোগে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এ [https://www.ntvbd.com/bangladesh/news-1601561 অনুষ্ঠানে] বলেছেন।, এমটিভি, ১০ আগস্ট ২০২৫
* পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন যারা চান, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। যারা বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চান, তারা স্থানীয় ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চান। পিআর পদ্ধতি খায় না মাথায় দেয়? কেউ বোঝে না।’
** রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মহানগর উত্তর বিএনপির মৌন মিছিল কর্মসূচিতে https://bangladeshtimes.com/details/87092/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A7%9F--%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F;-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%89-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9D%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-:-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8 এসব কথা ] বলেছেন। ১৮ জুলাই ২০২৫
==সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে উক্তি==
* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমেদ) সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।
** ২ এপ্রিল ২০২৬, [[শফিকুর রহমান (রাজনীতিবিদ)|শফিকুর রহমান]], ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে। [https://www.ittefaq.com.bd/782429/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87 দৈনিক ইত্তেফাক] মন্তব্য করেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ]]
ankoedexu0gu1kqqgylmd2ow4aeaddr
76271
76270
2026-04-13T05:07:25Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */
76271
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Salahuddin Ahmed at Dhaka, State Guest House (cropped).jpg|থাম্ব]]
[[w:সালাহউদ্দিন আহমেদ (রাজনীতিবিদ)|সালাহউদ্দিন আহমেদ]] একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং [[কক্সবাজার-১]] আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি পূর্বে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
==উক্তি==
* এই বাংলাদেশ হবে এক নীতির বাংলাদেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। বিদেশি কোনো প্রভু থাকবে না, বন্ধু থাকবে। এই বাংলাদেশ তাবেদারমুক্ত থাকবে।
** ০৬ আগস্ট ২০২৫ ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিজয় র্যালি-পূর্ব [https://www.prothomalo.com/politics/402nu8onfb এই সমাবেশে] বলেছেন।
* ‘রাষ্ট্র ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করবে (রাজনৈতিক নেতা) তাদের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, জনগণের মানসিক সংস্কার হওয়া দরকার, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কার হওয়া দরকার। তাহলে আমরা একটা কল্যাণমূলক মানবিক রাষ্ট্র পাব।’
** রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উদ্যোগে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এ [https://www.ntvbd.com/bangladesh/news-1601561 অনুষ্ঠানে] বলেছেন।, এমটিভি, ১০ আগস্ট ২০২৫
* পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন যারা চান, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। যারা বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চান, তারা স্থানীয় ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চান। পিআর পদ্ধতি খায় না মাথায় দেয়? কেউ বোঝে না।’
** রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মহানগর উত্তর বিএনপির মৌন মিছিল [https://bangladeshtimes.com/details/87092/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A7%9F--%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F;-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%89-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9D%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-:-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8 কর্মসূচিতে ] বলেছেন। ১৮ জুলাই ২০২৫
==সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে উক্তি==
* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমেদ) সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।
** ২ এপ্রিল ২০২৬, [[শফিকুর রহমান (রাজনীতিবিদ)|শফিকুর রহমান]], ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে। [https://www.ittefaq.com.bd/782429/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87 দৈনিক ইত্তেফাক] মন্তব্য করেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ]]
p403k5x0jfnhazlc5nxjcxqtkmrvjia
জলধর সেন
0
12129
76111
74412
2026-04-12T14:46:34Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76111
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
[[চিত্র:Portrait of Jaladhar Sen.jpg|thumb|300px|জলধর সেন]]
'''[[:w:জলধর সেন|জলধর সেন]]''' (১৩ মার্চ ১৮৬০ – ১৫ মার্চ ১৯৩৯) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, কবি, সম্পাদক এবং একজন জনহিতৈষী, পর্যটক, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি ''গ্রামবার্তা'', ''সাপ্তাহিক বসুমতী'', ''হিতবাদী'', ''সুলভ সমাচার'' প্রভৃতি সাময়িক পত্রিকাতে সম্পাদক বা সহ-সম্পাদক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৩২০ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি ভারতবর্ষ মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী, সামাজিক বার্তা, শিশুদের জন্য বই এবং জীবনী সহ প্রায় ৪২টি বই লিখেছেন। গল্পের বইয়ের মধ্যে রয়েছে ''নৈবেদ্য'', ''কাঙ্গালের ঠাকুর'', ''বড় মানুষ'' ইত্যাদি। তার রচিত উপন্যাসগুলি হলো ''দুঃখিনী'', ''অভাগী'', ''উৎস'', ''বড়বাড়ী'', ''হরিশ ভাণ্ডারী'' প্রভৃতি। ভ্রমণকাহিনীর মধ্যে রয়েছে ''প্রবাস-চিত্র'' এবং ''হিমালয়'' ; ''কাঙ্গাল হরিনাথ'' তার জীবনীমূলক লেখা। তার সাহিত্যকর্মের জন্য ব্রিটিশ সরকার 'রায় বাহাদুর' উপাধি দেয়।
== উক্তি ==
* মেজের এক কোণ হইতে কেবল একটা কাতরোক্তি শুনিতে পাওয়া যাইতেছিল। একজনের হাতে একটা দিয়াশলাই ছিল; সে একটা কাঠি জ্বালিতেই ঘরের মধ্যের অন্ধকার দূর হইল। সকলে সভয়ে দেখিল, মানদা ঘরের মেজের উপর পড়িয়া আছেন। তাঁহারই কণ্ঠ হইতে অব্যক্ত কাতরোক্তি বাহির হইতেছে। ঘরের চারিদিকে দেখিবার পূর্ব্বেই দিয়াশলাই নিবিয়া গেল। চণ্ডী বাবু বলিলেন “খবরদার, তোমরা দোর আগ্লে, দাঁড়াও, পাজিটা যেন পালাতে না পারে। আর একটা দিয়াশলাই জ্বাল।”
** ষোল আনি- জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
* মানুষ পৃথিবীতে নিজের তৃপ্তির জন্যই ব্যাকুল; অন্যে যখন ঘুরিতে ঘুরিতে তাহার পথে আসিয়া পড়ে, তখন সে তাহাকে সঙ্গিরূপে গ্রহণ করিয়া ঈপ্সিত পথে অগ্রসর হয়। কিন্তু যে কুহকমন্ত্র সে অপরের হৃদয়াকর্ষণের জন্য প্রয়োগ করে, কখন কখন তাহা ছিন্নতার বীণার তানলয়হীন ধ্বনির ন্যায় শ্রুতিকঠোর হয়। যে বীণার সহায়তায় আমার আকাঙ্ক্ষাপীড়িত হৃদয়ের হাহাকার সঙ্গীতরূপে উচ্ছ্বসিত করিয়া তুলিয়াছিলাম, সে বীণা আমার ভাঙ্গিয়া গিয়াছে; সে আগ্রহ, সে আন্তরিকতা আমার নাই; কেবল দগ্ধস্মৃতির অন্তর্জ্বালা সেই বহুদূরান্তর-ন্যস্ত হিমাচলের বৃক্ষলতাবর্জ্জিত, ধূসর, অপরিবর্ত্তনীয়, চির-উদাসীন প্রস্তরস্তূপের ন্যায় বক্ষের মধ্যে নিরস্তর বিদ্যমান রহিয়াছে; তাহাতে অশ্রু শুকাইয়া যায়।
** হিমালয়ের স্মৃতি, পুরাতন পঞ্জিকা - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮০
* ‘দুঃখিনী’ প্রকাশ হ’ল– তুমি নাই কাছে,<br>তব স্নেহ ছায়া সম ফিরে তার পাছে।<br>ভুলিনি অস্তিম সাধ— "দাদা! দুঃখিনীরে<br>মেজে ঘসে রং দিয়ে এনো না বাহিরে।”<br>অনাঘ্রাত কুসুমের আদিম সজ্জায়,<br>সে লুকাবে তোরি বুকে সোহাগে লজ্জায়।
** ‘দুঃখিনী’ উপন্যাসের উৎসর্গ পত্রে অকাল প্রয়াত অনুজ শশধর সেনের উদ্দেশ্যে লিখিত কবিতার অংশ, দুঃখিনী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ)
* কমলা আর কথা বলিবার অবকাশ পাইলেন না। হরিনাথ তখন অতি ধীরস্বরে বলিল, “সর্দারের পো, ভাই অমন ক’রে কি কথা বলতে আছে? যে মুখে হরিনাম করতে হবে, আল্লার নাম করতে হবে ব’লে এত দুর্লভ মানবজন্ম পেয়েছি, সে মুখ দিয়ে কি কুচ্ছ কথা বার করতে হয় ভাই! তুমি মুসলমান হলেও আমার দয়াল হরির দাস; আমিও তাঁরই দাস বলেই ত মনে ভাবি। তুমি যে আমার হরির সম্পর্কে ভাই হও। ভাই হয়ে কি বোনের কথা অমন করে বল্তে হয়? আর অমন কথা বলে হরিমন্দির অপবিত্র করো না। এস তোমাকে ভাই বলে, হরিদাস বলে বুক নিই।” এই বলিয়া হরিনাথ ছলিম সর্দারকে আলিঙ্গন করিয়া উচ্চৈঃম্বরে বলিতে লাগিল,“হরি হরিবোল” হরি হরিবোল।”
** বিচার, জলধর সেনের নির্বাচিত গল্প, সংকলন ও সম্পাদনা- ড. সুবিমল মিশ্র, প্রকাশক- বাণী প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- জানুয়ারি ২০০২, পৃষ্ঠা ১৫৪
* তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
** বড়বাড়ী, বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
==জলধর সেনকে নিয়ে উক্তি==
* জলধরবাবুর লেখনী ছিল বড় মিষ্ট, বড় দরদী; তাই অতি অনায়াসেই পাঠকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারত। স্বচ্ছ, সরল, সরস ভাষা—যেন সোজা তাঁর প্রাণের ভিতর থেকেই বেরিয়ে এসে ঝ’রে পড়ত লেখনীমুখ দিয়ে, কোনরকম কৃত্রিমতার ধার না ধেরেই।
** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], জলধর সেন, যাঁদের দেখেছি - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক— নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৯
* জলধরের রচনায় বিশেষ গুণ সারল্য ও স্বচ্ছতা। পল্লীগ্রামের দরিদ্র ভদ্রজীবনের আর্থিক ও সামাজিক দুঃখ বেদনা ইহার গল্প-উপন্যাসের বিশেষ বস্তু।
** [[সুকুমার সেন]], বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস - শ্রীসুকুমার সেন, পঞ্চম খণ্ড, ষষ্ঠ মুদ্রণ, প্রকাশক- আনন্দ পাবলিশার্স, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ২০১০, পৃষ্ঠা ৪৫
* জলধরবাবুর প্রসাদগুণে পরিপূর্ণ দরদী ভাষায় হিমালয়ের ভ্রমণকাহিনীগুলি যখন মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হ’তে লাগল, পাঠকসমাজ তা গ্রহণ করলে সাগ্রহ আনন্দে। তার আগে আর কোন ভ্রমণকাহিনী এত আদর পায় নি, এত লোকপ্রিয় হয় নি। সেই সময়েই তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে লাভ করেন নিজের ন্যায্য আসন। কিন্তু কেবল ভ্রমণকাহিনী নয়, ছোটগল্প রচনাতেও প্রকাশ পেত তাঁর যথেষ্ট মুনশীয়ানা। এক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতাপূর্ণ ভাষা পাঠকদের আকৃষ্ট করত তো বটেই, তার উপরে বোঝা যেত, ছোটগল্পের আর্টও তাঁর ভালোরকমই জানা আছে।
** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], জলধর সেন, যাঁদের দেখেছি - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক— নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিসংকলন লেখক}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Jaladhar Sen}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৩৯-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি হিন্দু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯শ শতাব্দীর বাঙালি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতের লেখক]]
nk57irx0fzoozb6urli0ra3dx7ts0qs
পারমাণবিক যুদ্ধ
0
12198
76122
75978
2026-04-12T15:32:33Z
Oindrojalik Watch
4169
উক্তি যোগ
76122
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও সে তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
0txnuow1fexrbwxx5n54i1f0wzo3i9x
76123
76122
2026-04-12T15:35:19Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৬০-এর দশক */
76123
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও সে তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
9xt4hq3vqbx7osjiq0ptonm2772bhjx
76124
76123
2026-04-12T15:37:35Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৭০-এর দশক */ সংশোধন
76124
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
5ml67np36jijxozj5ra0h8zge26trc3
76125
76124
2026-04-12T15:42:25Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৪০-এর দশক */
76125
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
oge03rzdjeq8vmwf501izmu3j951i5s
76315
76125
2026-04-13T07:26:24Z
Oindrojalik Watch
4169
76315
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন পেট্রোলে ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার দেশলাই কাঠি, আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি! পুরো বিষয়টি ট্র্যাজিক না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল জ্ঞানের ওপর তব নেই আধিপত্যের অধিকার,<br>সেটা হোক না রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় রয়েছি, রুশরা যেন তাদের সন্তানদের ভালোবাসায় আগলে রাখে সর্বক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', রূপান্তর: '''মাহমুদ''', '''[[w:Russians (song)|"রাশিয়ানস"]]''', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
os258lh6eplbbeejrcxetxuusn8hkq6
76316
76315
2026-04-13T07:30:45Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৮০-এর দশক */
76316
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন পেট্রোলে ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার দেশলাই কাঠি, আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি! পুরো বিষয়টি ট্র্যাজিক না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল জ্ঞানের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>সেটা হোক না রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় রয়েছি, রুশরা যেন তাদের সন্তানদের আগলে রাখে সর্বক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', রূপান্তর: '''মাহমুদ''', '''[[w:Russians (song)|"রাশিয়ানস"]]''', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
dev8lnvr8v8smqlvo1aur64wyn6rfk7
76344
76316
2026-04-13T11:10:38Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৮০-এর দশক */
76344
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন পেট্রোলে ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার দেশলাই কাঠি, আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি! পুরো বিষয়টি ট্র্যাজিক না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সর্বক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', রূপান্তর: '''মাহমুদ''', '''[[w:Russians (song)|"রাশিয়ানস"]]''', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
qar29gjfvfq06kc530env0z8xdvktx4
76345
76344
2026-04-13T11:12:34Z
Oindrojalik Watch
4169
/* ১৯৮০-এর দশক */
76345
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন পেট্রোলে ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার দেশলাই কাঠি, আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি! পুরো বিষয়টি ট্র্যাজিক না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', রূপান্তর: '''মাহমুদ''', '''[[w:Russians (song)|"রাশিয়ানস"]]''', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
t25nw6zi4dyysq6igqcrbur00c9zv3e
মাঠ
0
12251
76157
75275
2026-04-12T18:32:56Z
Salil Kumar Mukherjee
39
সংশোধন
76157
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
[[চিত্র:Cows grazing in a meadow, Pailan, West Bengal.jpg|thumb|300px|খোলা মাঠের উপদেশে—<br>দিল্-খোলা হই তাই রে।<br>—[[সুনির্মল বসু]]]]
'''[[:w:মাঠ|মাঠ]]''' হলো কৃষিক্ষেত্রে বেড়া দেওয়া বা না দেওয়া এমন একখণ্ড জমি, যা ফসল চাষের মতো কৃষি কাজে অথবা গবাদি পশুর চারণভূমি বা ঘেরা জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঠ পতিত রাখা কোনো এলাকা বা আবাদি জমিও হতে পারে। সাহিত্যে রূপক হিসাবেও মাঠ শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে।
== উক্তি ==
* পাহাড় শিখায় তাহার সমান<br>হই যেন ভাই মৌন-মহান্,<br>খোলা মাঠের উপদেশে—<br>দিল্-খোলা হই তাই রে।
** [[সুনির্মল বসু]], সবার আমি ছাত্র, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
* পথঘাটে তখনও কাদা, মাঠে মাঠে জল জমে আছে। বিকেলবেলা ফিঙে পাখী বসে আছে বাবলা গাছের ফুলে-ভর্তি ডালে।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ইছামতী - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
* আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি—বিকেলের এই রঙ—রঙের শূন্যতা<br/>রোদের নরম রোম—ঢালু মাঠ—বিবর্ণ বাদামি পাখি—হলুদ বিচালি<br/>পাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে—কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা।
**[[জীবনানন্দ দাশ]], জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ (প্রথম খণ্ড) - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯১
*তাদের আড্ডা ছিল, গ্রাম ছাড়িয়ে, মাঠ ছাড়িয়ে, বনের ধারে, ব্যাঙ-ছাতার ছায়ার তলায়। ছেলেবেলায় যখন তাদের দাঁত ওঠে নি, তখন থেকে তারা দেখে আসছে, সেই আদ্যিকালের ব্যাঙের ছাতা। সে যে কোথাকার কোন্ ব্যাঙের ছাতা, সে খবর কেউ জানে না, কিন্তু সবাই বলে, “ব্যাঙের ছাতা”।
**[[সুকুমার রায়]], সুকুমার সমগ্র রচনাবলী (প্রথম খণ্ড), নানা গল্প, ছাতার মালিক, পৃষ্ঠা ১৭৭
*কেউ সারাদিনে এক টুকরা রুটি খেয়েছে, আর কেউ অভুক্ত অবস্থায়ই পথের দিকে চেয়ে বসে আছে। আমেরিকার ব্যাংকে প্রচুর স্বর্ণ আছে, বাগানে ফল আছে, মাঠে প্রচুর গম আছে, নদীতে জল আছে, দোকানে কাপড় জুতা সবই আছে কিন্তু ঐ ভিখারীদের কিছুই নাই। পরনে ছেঁড়া ট্রাউজার, গায়ে ছেঁড়া কোট, কারও গায়ে শার্ট আছে, কারও গায়ে তাও নেই! নেকটাই কিন্তু তবুও ঝুলছে।
**[[রামনাথ বিশ্বাস]], আজকের আমেরিকা ,১৯৪৫ (পৃ. ৬৫)
* হয়তো বা [[হাঁস]] হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায় <br/> সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে। <br/> আবার আসিব আমি বাংলার [[নদী]] মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে <br/> জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।
** [[জীবনানন্দ দাশ]], রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
* এখানে গরম নেই ব’ল্লেই হয়—আর চারিদিকের মাঠ একেবারে ঘন সবুজ হ’য়ে উঠেচে। বোলপুরকে এত সবুজ আমি আর কখনোই দেখিনি। গাছগুলো নিবিড় পাতার ভারে থাকে-থাকে ফুলে উঠেচে—ঠিক যেন সবুজ মেঘের ঘটার মতো।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ভানুসিংহের পত্রাবলী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
* ঐ চলেছে{{gap|3em}}গরুর গাড়ি{{gap|3em}}মাঠের পাশে,<br>কাঠের চাকায়{{gap|1em}}ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর{{gap|1em}}শব্দ আসে।<br>গাড়োয়ানটা{{gap}}পাগড়ি মাথায়{{gap}}পড়ছে ঢুলে,<br>আপন মনে{{gap}}চলছে গরু{{gap|3em}}ল্যাজুড় তুলে।
** [[সুনির্মল বসু]], গরুর গাড়ির গান, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
* মাঠে যে ধান কাটছে, রাস্তায় যে মোট বইছে, কারখানায় যে লোহা পিটছে, রাত জেগে যে লিখছে, চেয়ারে বসে যে শাসন করছে, নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষের মহিমা তাদের প্রত্যেকের ওপরই নির্ভর করছে......
** [[নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়]], নতুন পৃথিবীর নতুন মানুষ - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রথম প্রকাশ- আষাঢ় ১৩৬৪, প্রকাশক-রাইটার্স সিণ্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* পাল্কী চলে,<br>পাল্কী চলে—<br>দুল্কি চালে<br>নৃত্য তালে!<br>ছয় বেহারা,—<br>জোয়ান তারা,—<br>গ্রাম ছড়িয়ে<br>আগ্ বাড়িয়ে<br>নাম্ল মাঠে<br>তামার টাটে!
** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], পাল্কীর গান, কুহু ও কেকা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯-৩০
* ফড়িং পাওয়া যায় না, এমন দেশ খুব কমই আছে। যেদেশে লতাপাতা আছে আর সবুজ মাঠ আছে, সেদেশেই ফড়িং পাওয়া যাবে। নানান দেশে নানানরকমের ফড়িং তাদের রঙ এবং চেহারাও নানানরকমের, কিন্তু একটি বিষয়ে সবারই মধ্যে খুব মিল দেখা যায়। সেটি হচ্ছে লাফ দিয়ে চলা। এই বিদ্যায় ফড়িঙের একটু বিশেষরকম বাহাদুরি দেখা যায়, কারণ অন্যান্য অনেক পোকার তুলনায় ফড়িঙের চেহারাটি বেশ বড়োই বলতে হবে।
** [[সুকুমার রায়]], ফড়িং, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০২
* খানিক পরে অনেক গুলাে ভূতের মত লােক মশাল হাতে নিয়ে গাড়ীর কাছে এল; তখন মশালের আলােতে মুরলা দেখ্ল কি আশ্চর্য দেশ। লাল রংএর তামার রাস্তা, দুইধারে বন, সে বনের গাছপালা সব শাদা শীশার। বনের পরে প্রকাণ্ড মাঠ, তাতে রূপার ঘাস ঝক্ঝক্ কর্ছে; সেই মাঠের মাঝখানে সােণার রাজবাড়ী। সেই বাড়ীর দরজার কাছে এসে রাজা বল্লেন, “আমি এই দেশের রাজা; এই আমার বাড়ী। তুমি এখানকার রাণী হলে।”
** [[সুখলতা রাও]], ঘুমের দেশ, গল্পের বই - সুখলতা রাও, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক-ইউ, রায় এণ্ড সন্স্, কলকাতা, মুদ্রক- ব্রাহ্মমিশন প্রেস, প্রকাশসাল= ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১
* ভিজে মাঠ, ভিজে ঘাট, শিশির শীতল,<br>ভিজে ভিজে পথখানি হয়েছে পিছল।<br>করবীগাছের ডালে রোদ স’রে যায়<br>শালিকের ছোট ছানা পালখ শুকায়।
** [[সুনির্মল বসু]], শীতের সকাল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
* এতক্ষণ [[বৃষ্টি]] ছিল রিমঝিমে, ছন্দমধুর। সহসা সে-বৃষ্টি ক্ষেপিয়া গেল। মার্ মার্ কাট্ কাট্ শব্দে বৃষ্টি [[আকাশ]] ফাঁড়িয়া পড়িতে লাগিল। সাঁ সাঁ ঝম্ ঝম্ সাঁ সাঁ ঝম্ ঝম্ শব্দে কানে বুঝি তালা লাগিয়া যায়। তীর-ভূমি, তীরের মাঠ-ময়দান, ‘গাঁ-গেরাম’ আর চোখে দেখা যায় না। ধোঁয়াটে শাদা আবছায়ায় চারিদিক ঝাপসা হইয়া গিয়াছে।
** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৩
* যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়,<br>শামুক গুগলিগুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে,—<br>তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক-ছাওয়া মাঠে খুঁজে,<br>ঠেস্ দিয়ে ব’সে আর থাকি নাকো যদি বুনো চাল্তার গায়,<br>তাহ’লে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকারে মৃত্যুর আহ্বান—
** [[জীবনানন্দ দাশ]], রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
* জলের জন্তুরা চোখ ফুটেই দেখে জল আকাশ, ডাঙ্গার জীব তারা দেখে বন-জঙ্গল মাঠ, আর পাহাড়ের ছেলেমেয়ে তারা দেখে আকাশের উপরে বরফে ঢাকা ওই হিমালয়ের চুড়ো ক’টা। হিম-আলয় সন্ধি করে হয়েছে হিমালয় অর্থাৎ কিনা হিমালয় মানে হিমের বাড়ি, পাহাড়ি ভাষায় বলে হিমাল, সমস্কৃতোতে বলবে হিমাচলম্, ইংরেজ তারা ভালো রকম উচ্চারণ করতেই পারে না, ‘র’ বলতে ‘ল’ বলে ফেলে—তারা হিমালয়কে বলে ইমালোইয়াস্! হিমালয়ের মতো উঁচু আর বড় পর্বত জগতে নেই।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫
* জড়সড় দেহ মোর,—বড় [[শীত]] ভাই,<br>রোদ-ছাওয়া দাওয়াটায় বসি এসে তাই;<br>দুরে দেখি ফাঁকা মাঠে আলো ঝলমল,<br>শালিখের ঝাঁক সেথা করে কোলাহল।
** [[সুনির্মল বসু]], শীতের সকাল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
* দার্জিলিং থেকে উত্তরদিকে তাকালে হিমালয় যে কি সুন্দর দেখা যায়, কি বলব। এত উঁচু পাহাড় পৃথিবীতে আর কোথাও নাই:এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সারবাঁধা এতগুলো বিশাল পর্বতও আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। নীচের দিকে তাকাও, রঙ্গিত নদী দেখতে পাবে, সে প্রায় বাংলার মাঠের সমানই নিচু। উপরের দিকে তাকাও, দেখবে হিমালয় চূড়াগুলি যেন আকাশের গায়ে ঠেকে আছে তার সকলের চেয়ে উচুটি পাঁচ মাইলেরও বেশি উঁচু। রঙ্গিতের ধারে প্রায় আমাদের এখানের মতনই গরম, আর হিমালয়ের উপরে ভয়ংকর ঠাণ্ডা।
** [[উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী]], বিবিধ প্রবন্ধ, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র, প্রকাশক-বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০১৩
* যদি কোনো দূরতর জন্মভূমি হতে<br>তরী বেয়ে ভেসে আসি তব খরস্রোতে—<br>কত গ্রাম, কত মাঠ, কত ঝাউঝাড়,<br>কত বালুচর, কত ভেঙে-পড়া পাড়<br>পার হয়ে এই ঠাঁই আসিব যখন<br>জেগে উঠিবে না কোনো গভীর চেতন?
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পদ্মা, চৈতালি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৬
* খোঁড়া হাঁসের সঙ্গে মানস-সরোবরে যাবার জন্যে রিদয় ঘর ছেড়ে মাঠে এসে দেখলে নীল আকাশ দিয়ে দলে-দলে বক, সারস, বুনোহাঁস, পাতিহাঁস, বালুহাঁস, রাজহাঁস সারি দিয়ে চলেছে। এই সব পাখির দল পুবে সন্দ্বীপ থেকে ছেড়ে আমতলির উপর দিয়ে দুভাগ হয়ে, এক ভাগ চলেছে—গঙ্গাসাগরের মোহানা ধরে গঙ্গা-যমুনার ধারে-ধারে হরিদ্বারের পথ দিয়ে হিমালয় পেরিয়ে মানস সরোবরে; আর-একদল চলেছে—মেঘনানদীর মোহানা হয়ে আমতলি, হরিংঘাটা, গঙ্গাসাগর বাঁয়ে ফেলে, আসামের জঙ্গল, গারো-পাহাড় খাসিয়া-পাহাড় ডাইনে রেখে, ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁকে-বাঁকে ঘুরতে-ঘুরতে হিমালয় পেরিয়ে তিব্বতের উপর দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা ধবলাগিরির উত্তর-গা ঘেঁষে সিধে পশ্চিম-মুখে মানস-সরোবরে।
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
* হেরে গো ওই আঁধার হল,<br>[[আকাশ]] ঢাকে মেঘে।<br>ও পার হতে দলে দলে<br>বকের শ্রেণী উড়ে চলে,<br>থেকে থেকে শূন্য মাঠে<br>বাতাস ওঠে জেগে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষণিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৪০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯২
* পুকুরের মধ্যে লাশ গুঁজিয়া রাখিয়া ঠ্যাঙাড়েরা পরবর্তী শিকারের উপর দিয়া এ বৃথা শ্রমটুকু পোষাইয়া লইবার আশায় নিরীহমুখে পুকুরপাড়ের গাছতলায় ফিরিয়া যাইত। গ্রামের উত্তরে এই বিশাল মাঠের মধ্যে সেই বটগাছ আজও আছে, সড়কের ধারের একটা অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিকে আজও ঠাকুরঝি পুকুর বলে। পুকুরের বিশেষ চিহ্ন নাই, চৌদ্দ আনা ভরাট্ হইয়া গিয়াছে— ধান আবাদ করিবার সময় চাষীদের লাঙলের ফালে সেই নাবাল জমিটুকু হইতে আজও মাঝে মাঝে নরমুণ্ড উঠিয়া থাকে।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], পথের পাঁচালী, চতুর্থ পরিচ্ছেদ, পথের পাঁচালী- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তম সংস্করণ, প্রকাশক- পি. মিত্র, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
* মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,<br/>তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,<br/>দেহের স্বাদের কথা কয়;<br/>বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়।
** [[জীবনানন্দ দাশ]] ([https://bn.wikisource.org/wiki/জীবনানন্দ_দাশের_শ্রেষ্ঠ_কবিতা/অবসরের_গান অবসরের গান])
*সমুদ্রের ধারের জমিতেই নারিকেলের সহজ আবাস। আমাদের আশ্রমের মাঠ সেই সমুদ্রকূল থেকে বহুদূরে। এখানে অনেক যত্নে একটি নারিকেলকে পালন করে তোলা হয়েছে- সে নিঃসঙ্গ, নিষ্ফল, নিস্তেজ। তাকে দেখে মনে হয়, সে যেন প্রাণপণে ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্ত অতিক্রম করে কোনো-এক আকাঙ্ক্ষার ধনকে দেখবার চেষ্টা করছে।
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]],বনবাণী ,১৯৬৮ (পৃ. ৩৯)
* চুরি করিতে এ বাড়ীতে আসিয়াছিলাম, চুরি করিয়াই এ বাড়ী ছাড়িলাম। চোরকাঁটা কাপড়ে লাগিয়া মাঠ হইতে বাড়ীতে আসে, আবার তাকে কাপড় হইতে ছাড়াইয়া লোকে বাহিরেই ফেলে। অল্প দিনের জন্য যে আশ্রয়টকু পাইয়াছিলাম তাই আমার যথেষ্ট—কথায় বলে চোরের রাত্রিবাসই লাভ!
** [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]], চোরকাঁটা - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ১১ পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- দীপনী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯১
* মাঠ দিয়ে যখন চল, তখন আকাশের দিকে কি একবার চেয়ে দেখ—সেখানে বাজ-পাখি, চিল, কাক, শকুনি আছে কিনা? সেটা একবার-একবার দেখে চলা মন্দ নয়। ফস-করে ঝোপে-ঝাড়ে উঠতে যেয়ো না; গেরো-বাজগুলো অনেক সময় সেখানে শিকার ধরতে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যা হলে কান পেতে শুনবে, কোনো দিকে পেঁচা ডাকল কিনা। পেঁচারা এমন নিঃশব্দে উড়ে আসে যে টের পাবে না কখন ঘাড়ে পড়ল!
** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], হং পাল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩
* বিনয় তাহাকে আজ গড়ের মাঠে সার্কাস দেখাইতে লইয়া গিয়াছিল। যদিও অনেক রাত্রি হইয়াছিল তবু তাহার এই প্রথম সার্কাস দেখার উৎসাহ সে সম্বরণ করিতে পারিতেছিল না। সার্কাসের বর্ণনা করিয়া সে কহিল, “বিনয়বাবুকে আজ আমার বিছানায় ধরে আনছিলুম। তিনি বাড়িতে ঢুকেছিলেন, তার পরে আবার চলে গেলেন। বললেন কাল আসবেন। দিদি, আমি তাঁকে বলেছি তোমাদের একদিন সার্কাস দেখাতে নিয়ে যেতে।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ১৮ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯
* বাসন-মাজার পরে ঘাটে যাওয়া, রান্না, খাওয়ানো দাওয়ানো, দুপুরে পান মুখে দিয়াই ছুটিতে হইবে ঘাটে, গরুকে জল খাওয়াইতে সে নদীর ধারের মাঠে, যেখানে গরুকে গোঁজ পুঁতিয়া রাখিয়া আসা হইয়াছে। সেই সময়টা যা একটু ভালো লাগে—নীল আকাশ, নদীর ধারে কাশ ফুল দোলে, মস্ত জিউলি গাছের গা বাহিয়া সাদা সাদা মোমবাতি-ঝরা মোমের মতো আটা ঝরিয়া পড়ে, হু হু খোলা হাওয়া বয় ওপারের দেয়াড়ের চর হইতে, পাট-বোঝাই গরুর গাড়ির দল ক্যাঁচ কোঁচ করিতে করিতে ঘাটের পথের রাস্তা দিয়া কোথায় যেন যায়।
** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ডাকগাড়ি, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৭
* যদি, একটি ব্যক্তিগত নাগরিকের বিনয়ী স্টেশনে আমার অবসরে, আমি আমার সহ নাগরিকদের সম্মান এবং অনুমোদনের সাথে থাকি, রক্তমাখা ইস্পাত দ্বারা প্রাপ্ত ট্রফিগুলি, বা তাঁবুর মাঠের ছিন্ন পতাকাগুলি কখনই ঈর্ষান্বিত হবে না। মানুষের জীবন এবং সুখের যত্ন, এবং তাদের ধ্বংস নয়, ভাল সরকারের প্রথম এবং একমাত্র বৈধ উদ্দেশ্য।
** [https://www.bartleby.com/73/778.html ওয়াশিংটন কাউন্টির রিপাবলিকান নাগরিকদের চিঠি, মেরিল্যান্ড (৩১ মার্চ ১৮০৯), এইচএ ওয়াশিংটন দ্বারা সম্পাদিত ''[[টমাস জেফারসন]] (১৮৭১) এর লেখায়'' প্রকাশিত।] [https://www.bartleby.com/73/778.html ৮, পৃষ্ঠা ১৬৫]
* শিক্ষাগ্রন্থ বাগানের গাছ নয় যে, সৌখীন লোকে সখ করিয়া তার কেয়ারি করিবে, —কিম্বা সে আগাছাও নয় যে, মাঠে বাটে নিজের পুলকে নিজেই কণ্টকিত হইয়া উঠিবে!
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], শিক্ষার বাহন, পরিচয় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া|মাঠ (কৃষি)}}
{{উইকিঅভিধান}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Fields}}
[[বিষয়শ্রেণী:বিষয়বস্তু]]
g7hr9hr9r9kah7yfmh2gmxvepwro3g7
অজিতকৃষ্ণ বসু
0
12360
76061
75980
2026-04-12T13:27:39Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76061
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
qu9xhaqpzzkukn3fvr3ah90kg49g4xf
76062
76061
2026-04-12T13:31:19Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76062
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে তৃজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
8f5ub0t5v9u8q1k9edsf1dumf55y81m
76063
76062
2026-04-12T13:32:00Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76063
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
s81npxtlcoh73inox4mxtx90098mao9
76089
76063
2026-04-12T14:18:15Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76089
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
f95yp70x3epr31iukq6a5uvu9jmxr4r
76106
76089
2026-04-12T14:40:48Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76106
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
bt9dzkxsuz489p1lezwdf5gsncehv0r
76110
76106
2026-04-12T14:46:08Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76110
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
03oxjqe0ui9i487kz1wzo0vv11q680r
76120
76110
2026-04-12T15:21:30Z
Nil Nandy
2294
/* যাদু-কাহিনী */
76120
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
s47h9cbll5khjdzkb8mcq6u2quebf0d
76134
76120
2026-04-12T16:01:53Z
Nil Nandy
2294
76134
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
mch0arjkqhea1akck4wlrqye4cogeay
76136
76134
2026-04-12T16:03:44Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76136
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
m9rmoovrykmf58whx9zt6oxu1jym67l
76140
76136
2026-04-12T16:10:40Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76140
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
m43seargkygf651gdtp3tthfkr9224j
76142
76140
2026-04-12T16:13:52Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76142
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
3ybo6urvc32h23iaxq4gx2tvgnvkp7e
76143
76142
2026-04-12T16:20:25Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76143
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
rwgw0r47zitrm6xnt7qkrytfs3af5bv
76144
76143
2026-04-12T16:35:54Z
Nil Nandy
2294
76144
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
6189ogynsbusr3i7fpa97vqduixhzga
76145
76144
2026-04-12T16:39:35Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76145
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
bbpri2r0xvduvoqw1v2lc7zcskwyw2l
76148
76145
2026-04-12T16:48:08Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76148
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
5xmrz5xim8b9slnkd7tz852li8r5efm
76149
76148
2026-04-12T16:53:14Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76149
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
15my88u9mahyf88ii1728hg4fe7j7vp
76190
76149
2026-04-13T00:55:04Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76190
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
le9e50kp1p3fph7zt9xy7tct5cwlz0i
76191
76190
2026-04-13T01:04:14Z
Nil Nandy
2294
76191
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
**আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
drmqotn5zb4bto449cswrx78syfl63v
76195
76191
2026-04-13T01:27:37Z
Nil Nandy
2294
76195
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
**আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
bkggfyetxmsnv9jpy6srmt0mby22rdm
76196
76195
2026-04-13T01:29:20Z
Nil Nandy
2294
76196
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
auafpxkgg53wqupqnvw1l8gyjvf8lio
76203
76196
2026-04-13T02:28:11Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76203
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**পৃষ্ঠা ২১
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
0nnz0922dpgy91k0j5mnb2ssx0btj0b
76205
76203
2026-04-13T02:35:05Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76205
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**পৃষ্ঠা ২৫
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
j39vzoi9wzy51hkvrut6kdouit79skv
76206
76205
2026-04-13T02:39:16Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76206
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**পৃষ্ঠা ৩০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
fk3x6u2udq9ad3ym83vnhoiabsnkyc3
76215
76206
2026-04-13T02:47:24Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76215
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**পৃষ্ঠা ৩৫
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
b0h5jc2xcp9i6dnlura3go6as8ikiiv
76216
76215
2026-04-13T02:53:19Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76216
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
tqmrd08gr1ceet4vehte3q4dq2c7vxk
76218
76216
2026-04-13T02:56:07Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76218
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
axjjr4x1duh8iybtbkdropjjng9bc8e
76221
76218
2026-04-13T02:58:52Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76221
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
iomw398l7rf9dnqc6e7y9406ci3e3xu
76224
76221
2026-04-13T03:07:28Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76224
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
ph4pnq2azxmol2e8sqfx9duaeb8k936
76226
76224
2026-04-13T03:11:35Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76226
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
740ir7difsf3763nrj2h3cxsj6n93ux
76230
76226
2026-04-13T03:15:42Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76230
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
gnl091rld78urul8rq6d4252cep8g60
76231
76230
2026-04-13T03:19:57Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76231
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
lfmdgcoosmoqjh5enfqmbw1shr3d09e
76232
76231
2026-04-13T03:27:31Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76232
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী]</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
fabmasz4c3xtfv0ec74hd4djeah2p3v
76233
76232
2026-04-13T03:29:17Z
Nil Nandy
2294
/* ওস্তাদ কাহিনী */
76233
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম]</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
h55x8v3en5m9gxacfw2imhf5m9yphrt
76234
76233
2026-04-13T03:30:22Z
Nil Nandy
2294
/* শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম */
76234
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী]</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম], কল্লোল প্রকাশনী</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
sgtrv4o73yaved36fbrzantbqkppnhh
76236
76234
2026-04-13T03:32:16Z
Nil Nandy
2294
/* যাদু-কাহিনী */
76236
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী], ঋদ্ধি-ইন্ডিয়া</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা]</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম], কল্লোল প্রকাশনী</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
trvkuf4b1vmewf53d5c08ci05w3y6dz
76238
76236
2026-04-13T03:33:54Z
Nil Nandy
2294
/* প্রজ্ঞাপারমিতা */
76238
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী], ঋদ্ধি-ইন্ডিয়া</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা], ইন্ডিয়ান আয়াসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোং প্রাইভেট লিঃ</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম], কল্লোল প্রকাশনী</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
96mvov279tf5siuolfwhw5iuxqt8s93
76242
76238
2026-04-13T03:42:45Z
Nil Nandy
2294
76242
wikitext
text/x-wiki
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী], ঋদ্ধি-ইন্ডিয়া</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা], ইন্ডিয়ান আয়াসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোং প্রাইভেট লিঃ</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম], কল্লোল প্রকাশনী</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
kq46e15eiechgdkh880dcygnu04fykb
76250
76242
2026-04-13T03:53:28Z
Nil Nandy
2294
/* বহিঃসংযোগ */
76250
wikitext
text/x-wiki
{{bw|অজিত কৃষ্ণ বসু}} (জন্ম: ৩ জুলাই, ১৯১২ - মৃত্যু: ৭ মে, ১৯৯৩), অ কৃ ব নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত। তিনি মূলতঃ ব্যঙ্গ ও কৌতুক রস সাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল।
==উক্তি==
===যাদু-কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.266825 যাদু-কাহিনী], ঋদ্ধি-ইন্ডিয়া</small>
*যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনন্ত শূণ্যের বুকে সৃষ্টি হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভুলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
**প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১
*চোখের পলকে ভেবে শিহরিত হলাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্রের নাম যথাক্রমে বিশ্বম্ভর, বাঞ্চারাম আর ভজহরি হলে কী কেলেঙ্কারিই না হতো!
**একজন যাদুকরের কথা, পৃষ্ঠা ১৯
*আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি রক্তকণায় মিশে রয়েছে গভীর বন্ধন-বিতৃষ্ণা এবং মুক্তি-পিপাসা। বন্ধন-দশায় আমাদের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে, আমরা চাই স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়া। আমাদের বুকের রক্তে তাই দোল লাগে যখন রবীন্দ্রনাথ প্রশ্ন করেন : <br>“শিকল দেবীর ঐ যে পুজা বেদী<br>চিরকাল কি রইবে খাড়া?” <br>যখন কাজী নজরুল হাঁকেন : <br>“কারার ঐ লৌহ কপাট <br>ভেঙে ফ্যাল, কর রে লোপাট।” <br>যখন প্যাট্রিক হেনরি বলেন “গিভ মি লিবার্টি অর গিভ মি ডেথ”, দাও আমাকে মুক্ত স্বাধীনতা, অথবা মৃত্যু। তাই পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মাতৃভূমির মুক্তি-সাধনায় জীবন পণ করে যারা শহীদ হন, মুক্তির পূজারী রূপে আমরা তাদের চিরদিন শ্রদ্ধা করি। এমন-কি আমাদের গভীরতম আধ্যাত্মিক সাধনার মূলেও ঐ একই লক্ষ্য- বন্ধন থেকে মুক্তি, মোহ থেকে মুক্তি।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ২৭
*“পলায়নী" যাদুর অদ্বিতীয় যাদুকর হুডিনি হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী মুক্ত আত্মার প্রতীক, কোনো বন্ধন যাকে বাঁধতে পারে না।
**অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি, পৃষ্ঠা ৩২
*গণপতির দেব-দেবীতে ভক্তি ছিল অসাধারণ, তিনি পুজো-আর্চা করতেন নিয়মমতো, খুব ছোটো করে চুল ছাঁটতেন এবং টিকি রাখতেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার আচার-বাবহার থেকে লোকের মনে এ বিশ্বাস সহজেই হতো যে, তিনি তন্ত্রের সাধনা করেন এবং তার ফলে নানা রকমের অলৌকিক শক্তি তার করায়ত্ত। সাধারণের মনে তার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা-ভীতিমিশ্রিত বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেদিকে তিনি যত্নবান ছিলেন, পেশাদার এনটারটেনার অর্থাৎ জনগণমনোরঞ্জক রূপে এর মূল্য তিনি বুঝতেন।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৪৬
*যাদুকর গণপতি শেষ জীবনটা সাধন-ভজনেই কাটিয়ে গেছেন। অর্থ-উপার্জন করে কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরে যে সম্পত্তি করেছিলেন তা দেবোত্তরিত। দুহাতে তিনি যেমন টাকা রোজগার করেছেন, তেমনি পরের উপকারে দানও করে গেছেন অকাতরে। অনেক শোনা গল্পের একটি গল্প বলি। এক জায়গায় যাদুর খেলা দেখানো শেষ হয়ে গেছে। গণপতির সঙ্গে দেখা করলেন এক দরিদ্র, কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ। গণপতির কাছে তাঁর একটি আর্জি আছে, সে আর্জি মঞ্জুর করতেই হবে। হাওয়া থেকে টাকার পর টাকা ধরার বিদ্যেটা শিখিয়ে দিতে হবে তাকে, নিদারুণ অর্থাভাব আর সহ্য হয় না, পারানির কড়ির অভাব মেয়েটার ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।<br>অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল যাদুকর গণপতির দুটি চোখ। গরিব ব্রাহ্মণকে বললেন “ভাই, সত্যি সত্যি হাওয়া থেকে টাকা ধরার বিদ্যে জানলে কি আর এত লোকজন, লটবহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাদুর খেলা দেখিয়ে টাকা রোজগার করতে হত আমাকে?”<br>যুক্তিটা হৃদয়ঙ্গম করে তখন হতাশ হলেন কন্যাদায়গ্রস্ত গরিব ব্রাহ্মণ। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশ হতে হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করে ব্রাহ্মণের মেয়েটির ভালো বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন গণপতি।
**যাদুকর গণপতি, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫
*হাওয়া থেকে খুশিমতো টাকা ধরবার যাদু যার জানা আছে তিনি হাওয়াই টাকায় কোটিপতি না হয়ে দীনহীনের মতো এই সামান্য টাকার জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান কেন? এ প্রশ্নের ভারি সুন্দর জবাব দিয়েছিলেন যাদুকর চাদ মিয়া । বলেছিলেন “হাওয়াই যাদুর টাকা ভোগে লাগাতে নেই। লাগালেই যাদু আর লাগে না। হাওয়ার টাকা তাই আবার হাওয়াতেই ফিরিয়ে দিতে হয়।”
**ডেভিড ডেভান্ট,পৃষ্ঠা ১০৬
===প্রজ্ঞাপারমিতা===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.355567 প্রজ্ঞাপারমিতা], ইন্ডিয়ান আয়াসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোং প্রাইভেট লিঃ</small>
*আমার পাশে যে ভাবালু ছোকরা ব'সে ছিল, সে এইবারে বললে, “গাধাটি কি আশ্চর্য কায়দায় ঘাস খাচ্ছেন দেখেছেন? ঠিক মানুষ বলে মনে হয় না কি?” আমি বললাম, “অনেক মানুষকেও তো গাধা ব'লে মনে হয়। এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ?” ছোকরা বললে, “কিন্তু কি বিষন্ন দুটি চোখ, লক্ষ্য করেছেন?” অবাক হয়ে উঠলাম, ধূমকেতুর ল্যাজের ঝাপটা-খাওয়া পৃথিবীর আবহাওয়ার মত। সার্কাসের এই ভিড়ে আমি ছাড়া অন্তত আর-একটি প্রাণী লক্ষ্য করেছে গাধাটির বিষণ্ণ চোখ!
**পৃষ্ঠা ১৪
*হঠাৎ দেখি গাধাটা রেবেকার ছেড়ে-আসা টেবিলটার ওপর উঠে দাড়িয়েছে, ওর চেহারা হয়ে গেছে সক্রেটিসের মত। টেবিলের ওপর ঘুরে ঘুরে চারিদিকে সে দেখছে অসংখ্য মূর্খ মানুষের অগুনতি মাথা, আর তাদের দুঃখ ভেবে 'হায়' 'হায়' করছে। গাধার সক্রেটিসী চোখের আলোয় দেখতে পেলাম সবগুলো মানুষের মুখে গাধাটে ভাব আর তাদের প্রত্যেকের মুখের সামনে ঝুলানো এক গুচ্ছ ঘাস, মুখ বাড়ালেও সেটা নাগালের বাইরেই এগিয়ে থাকছে। তাই দেখে গাধার সক্রেটিসী ছলছল চোখ আরও ছলছল হয়ে উঠছে! সে যেন সবাইকে বলছে, “নিজেকে জান।” চারিদিকে মানুষেরা হাততালি দিচ্ছে গাধার তামাসা দেখে। আর হতভাগ্য অজ্ঞান মূঢ় মানুষের কথা ভেবে গাধার চোখ বেদনায় বিষন্ন।
**পৃষ্ঠা ১৫
*এমন সময় এলেন বিশ্বম্ভর বাবু, মাথায় গান্ধীটুপি। এ টুপির তলায় নেই গান্ধীভক্তি, আছে টাক। টাক ঢাকতে গান্ধীটুপি চমৎকার।
**পৃষ্ঠা ২১
*যাঁরা বলেন কুকুর কিছু মনে ধরে রাখতে পারে না, জানবেন তাঁরা নিজের ভুলো মন কুকুরের ওপর চাপাচ্ছেন।
**পৃষ্ঠা ৭২
*তবে এইটে জানবেন কুকুর বড় প্রভুভক্ত প্রাণী বলে যে ইস্কুলে প্রবন্ধ পড়ানো হয় আর লেখানো হয় ওর এক তরফা দৃষ্টিভঙ্গিটা আমি পছন্দ করি নে। প্রভু যদি কুকুরভক্ত প্রাণী না হয়, তো কুকুরই বা প্রভুভক্ত প্রাণী হতে যাবে কেন?
** পৃষ্ঠা ৭৩
*আমি ক্যাপিট্যালিস্ট, আপনিও ক্যাপিট্যালিস্ট ধনপতিবাবু। তফাত শুধু আমার ক্যাপিট্যাল আছে, আপনার নেই।
**পৃষ্ঠা ৮০
*তাকালাম দূরের চৌধুরী ম্যানশ্যানটির দিকে। বস্তি কি সত্যই গেছে? দিশি মাটির বস্তি গিয়ে বস্তি হয়েছে বিলিতী মাটির আর কংক্রিটের; একতলা বিদায় নিয়ে এসেছে আটতলা। ছিলো সেকেলে,মিটমিটে-হয়েছে মডার্ণ, খটখটে, ঝকঝকে । ছিলো অমার্জিত, অভব্য- হয়েছে মার্জিত, সভ্যভব্য। যেখানে ছিল টিমটিমে কেরোসিন কুপি, হারিকেন লণ্ঠন, রেড়ীর প্রদীপ, সেখানে এসেছে চোখ-ধাঁধানো বিজলী বাতি। বাতাস নেই তালপাতার পাখায়, ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিজলী পাখা গরম তাড়ায়, কোনো কোনো ফ্ল্যাট আধুনিকতম বৈজ্ঞানিক কায়দায় শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত।<br>কিন্তু কোথায় সেই নরম মাটির ছোঁয়া, কোথায় সেই ঘাসের সবুজ? সেই প্রাণের দরদী পরশ কোথায় গেল? হৃদয়ের যে সংযোগ ছিলো বস্তির মেটে-ঘরে মেটে-ঘরে, নেই সে যোগ সিমেন্ট কংক্রিটের ম্যানশ্যানের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাটে যখন মৃত্যুর পদক্ষেপ, পাশের ফ্ল্যাটে তখন পদক্ষেপ সঙ্গীত-মুখর ফক্স্ ট্রট নৃত্যের।
**পৃষ্ঠা ২৭৮
*“বন্দী সাজাহান তাজমহলের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেন জানো ধনপতি?" বল্লেন অনঙ্গ চৌধুরী। “মমতাজের কথা নয়। তিনি ভাবতেন সেই নাম-না-জানা হাজার হাজার হতভাগ্য গরীবের কথা, সম্রাটের এই শখের তাজমহল গড়ে তুলতে তিলে তিলে যারা বুকের রক্ত দিয়েছিল। তাজমহলের দিকে তাকিয়ে তিনি শুনতেন তাদের অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। আমিও তেমনি এ ম্যানশ্যানের দিকে তাকিয়ে বিতাড়িত হতভাগ্য বস্তিবাসীদের হাহাকার শুনতে পাই ধনপতি। বুকের ভেতর ঝড় ওঠে, তবু আমার এই তাজমহল ছেড়ে আমি পালাতে পারি নে। কি জানি কেন আমার মনে হয় প্রজ্ঞাপারমিতা আসবে, এসে আদেশ করবে ভুজঙ্গকে, ভেঙে ফেল এ ম্যানশ্যান। সেই বস্তিকে আবার আনো ফিরিয়ে। আমি জানি প্রজ্ঞার সে আদেশ অমান্য করবার সাধ্য হবে না ভুজঙ্গের। আমি সে দিনের আশায় এই ঘরের মাটি কামড়ে বসে থেকে দিন গুনছি ধনপতি।”
** পৃষ্ঠা ২৭৯
*মরণ মানেই তো অনন্ত না-থাকার সুরু। সারাজীবন থাকতে থাকতে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায় বলেই ঐ না-থাকার কল্পনাটা অস্বস্তিকর বোধ হয়
** পৃষ্ঠা ২৮৭
*দুনিয়ার একটা বড়ো ট্রাজেডি এই যে, কল্যাণ করবার ক্ষমতা যাদের আছে, কল্যাণ করবার কামনা তাদের নেই; কামনা যাদের আছে, তাদের ক্ষমতা নেই।
**পৃষ্ঠা ৩৩৭
*সন্ন্যাস-আশ্রম একমুখো রাস্তা নয়। তাই এ আশ্রম থেকে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে বাধা নেই। যে সেবাব্রতে নেই প্রাণের আনন্দের যোগ, আছে শুধু আত্মনিগ্রহ আর আত্মবঞ্চনার গ্লানি, সে তো মিথ্যে, সে তো অকল্যাণময়। বৃহৎ ব্যথা পেয়ে মানুষ যখন পরের কল্যাণে আপন বিলিয়ে দেয়, তাতে থাকে আপন ব্যথা ভোলার আনন্দ, সেই আনন্দই তার কল্যাণ সাধনার মূল। এই আনন্দের যোগ যেদিন থাকবে না, এমন দিন যদি কখনো আসে, যেদিন সংসারেই বৃহত্তর আনন্দের সন্ধান পেয়ে সংসার-আশ্রমে ফিরে যেতে একান্তিক আকুলতা জাগবে ওঁকারের মনে, সেদিন মুক্তপ্রাণে তাকে মুক্তি দেবো; বলবো ফিরে যাও ওঁকার।
**পৃষ্ঠা ৩৪১
===ওস্তাদ কাহিনী===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.267110 ওস্তাদ কাহিনী], অসীমা প্রকাশনী</small>
*ঢাকা শহর ছিল পূর্ববাংলার সঙ্গীত-তীর্থভূমি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২১
*শ্রীমতী কেসর বাঈ তখন ভারতের সর্বপ্রধানা এবং পরম সম্মানিতা খেয়াল গায়িকা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে এমন মধুর এবং মনোমুগ্ধকর হতে পারে কেসর বাঈ সাহেবার গান শুনবার আগে তা ভাবিনি কখনো। তিনি খেয়াল গাইলেন কাফী কানাড়া রাগে। তার অপূর্ব সঙ্গীতে হল শুদ্ধ সমস্ত শ্রোতা মন্তরমুগ্ধ। গানের শেষে আমাদের বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে তিনি যখন মঞ্চের নেপথ্যে চলে গেলেন, তখন আমাদের সবারই মনে হতে লাগল তার গান বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আরো কিছুক্ষণ চললে ভালো হতো যদিও ঘড়ির হিসেবে তিনি খুব কমক্ষণ গাননি।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২২
*অধিকাংশ ওস্তাদই ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ চিত্ত, কৃপণ, নিজেদের ঘরানার ভালো ভালো 'চিজ' তারা নিজেদের ঘরানার মধ্যেই সীমিত রাখতেন । বাইরে যেতে দিতেন না, ঘরানার বাইরের কাউকে শেখাতেন না। আমাদের হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় রাগসঙ্গীত সম্বন্ধে গবেষক পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখণ্ডে--ব্যাপকভাবে রাগসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং জনপ্রিয়করণে যার অবদান অমুল্য- এজন্য দুঃখ করেছিলেন।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ২৫
*গান গাইতে গাইতে সুরের মায়ায় বিভোর, আত্মহারা হয়ে গেলেন সুরের মায়াবী ফৈয়াজ। আমার মনে হতে লাগলো যান্ত্রিক মাধ্যমের কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে ফৈয়াজের গান যারা শোনেন নি, তারা এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সৌভাগ্য থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩০
*আবদুল করিম খাঁ সাহেব শ্রীঅরবিন্দকে গান শোনাবার জন্য শিষ্যবৃন্দসহ ট্রেনে পন্ডিচেরি অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পণ্ডিচেরি যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। মাঝপথে অসুস্থ বোধ করে নেমে পড়লেন একটি স্টেশনে। বললেন, “ও অখত আ গিয়া” অর্থাৎ 'সময় এসে গেছে”। সময় মানে মর্তভূমি থেকে শেষ বিদায় নেবার সময়৷ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর বিছানো হলো চাদর। শেষ নামাজ পড়লেন আবদুল করিম। তানপুরার তারের ঝংকারে মিলিয়ে সঙ্গীতে শেষ প্রার্থনা জানালেন পরমেশ্বরকে, তারপর অন্তর্ধামে চলে গেলেন মরদেহ ছেড়ে, তারিখ ২৭শে অক্টোবর, ১৯৩৭। হিন্দুস্থানী রাগ সঙ্গীতের ইতিহাসে বিষণ্ণতম তারিখ।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৩৫
*...অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যখন একজন নামজাদা গায়কের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, “শরৎবাবু চলুন ওঁর গান শুনে আসি। উনি বড় ভাল গান” তখন শরৎবাবু প্রশ্ন করেছিলেন “ভাল গান তা-তো বুঝলাম ৷ কিন্ত থামতে জানেন তো?”
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৭৭
*মহাকবি-মহানাট্যকার শেক্সপীয়ার লিখেছিলেন সুর সঙ্গীত যার মধ্যে নেই, সঙ্গীতের মাধুর্য যার মনে সাড়া জাগায় না, তার দ্বারা যেকোন রকম অপকর্ম সাধিত হতে পারে। আর ওস্তাদজি বললেন সুর যার মধ্যে আছে, তার দ্বারা কোন গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।
**ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ৮৫
*গুলাম আলী এসেছিলেন, গুলাম আলী চলে গেছেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাব না।<br>বিরাটের যুগ বিগত, এখন চলছে মাঝারির যুগ, গানের জগতে আমরা বড় গুণী হয়ত পাব, কিন্তু খাঁ সাহেবের মত বিরাট পুরুষকে পাব বলে মনে হয় না। যদিও বা পাই, তার মধ্যে গুলাম আলীকে পাব না। প্রত্যেক সার্থক গুণীই অনন্য ইংরাজীতে যাকে বলে 'ইউনিক' (unique) তাঁর কোন বিকল্প নেই। এক গুণীর অভাব অন্যগুণীকে দিয়ে মেটে না।
** ওস্তাদ কাহিনী, পৃষ্ঠা ১১২
*ভারতে হিন্দুস্থানী রাগ-সঙ্গীতের জগতে বিশিষ্ট মুসলিম শিল্পী এবং গুরুরাই 'ওস্তাদ' নামে অভিহিত হন; হিন্দু সঙ্গীতাচার্যেরা ওস্তাদ নামে অভিহিত হন না, শিষ্যরা তাদের বলেন 'গুরুজি'।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১১৩
*এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভীম্মদেবের 'তব লাগি ব্যথা' ও 'নবারুণ রাগে' এই ছুটি বাংলা এবং “মতি মালনিয়া” ও “দুখবা ম্যায় কাসে” এই দুটি হিন্দী গানের রেকর্ড জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিভাগের সংগ্রহে (UNESCO) আছে।
**ওস্তাদ ভীষ্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১২১
*দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ ভীম্মদেবকে ২রা অগাস্ট, ১৯১৭ রাত্রে শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো। ৮ই অগাস্ট, ১৯১৭ তারিখে হিংসা, দ্বেষ, পরশ্রীকাতরতায় ভরা এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন ভারতের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তীর মহান নায়ক ওস্তাদ ভীম্মদেব চট্রোপাধ্যায়।
**ওস্তাদ ভীম্মদেব রহস্য, পৃষ্ঠা ১৩১
*১৯১৫ পালে তিনি দিল্লীর সঙ্গীত নাটক আকাদেমির ফেলে। নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৫ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি প্রাপ্তির জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্ত জীবন-সায়াহ্নে এই বহু-বিলম্বিত সরকারী সম্মান অসম্মানেরই নামান্তর মনে করে তিনি উপাধিটি প্রতাখ্যান করেছিলেন। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবার আগে তিনি একমাত্র পুত্র মানসকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি এই সরকারী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলে তা ভবিষ্যতে তার সন্তান বলে মানসের অনুরূপ সরকারী সম্মান প্রাপ্তির পথে বাধা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবে এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত?<br>মানস বলেছিল, “পিতার সম্মান সন্তানের কাছে তার নিজের ভবিষ্যতের চাইতে অনেক বড়ো। তোমার সম্মান যাতে একটুও ক্ষুণ্ন না হয় তুমি তাই করো।”<br>পুত্রের সম্মতি পেয়ে সঙ্গীতাচার্য পদ্মশ্রী উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
**সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ১৮০
===শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.457741 শকুন্তলা স্যানাটোরিয়াম], কল্লোল প্রকাশনী</small>
*"আপনি অকারণ দুঃখ পাবেন না প্রফেসর। সরকারী বেসরকারী দপ্তরে অনেক গদী অনেক চেয়ার দেখেছি, অনেক সভায় সম্মেলনে সমিতিতে অনেক বজ্র-বচন শুনেছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার গাধা-ই একমাত্র গাধা নয় যে পালিয়ে ভোল ফিরিয়েছে। 'চক্রবৎ পরিবর্তন্তে' জানেন তো? এখন গাধাদের দিন পড়েছে, অস্বীকার করলে চলবে কেন?”
**পৃষ্ঠা ৮
*“ঐসা খেল কোই গাধাকো শিখানা কোইকো পিতাকা সাধ্যমে নেই কুলায়গা। আপ ভাবতা হ্যায় হাম আপন ঢাক আপনা হাতমে পিটাতা? হা, পিটাতা হ্যায়, অম্লান বদনমে হাম স্বীকার করেগা। এ যুগমে আপনা ঢাক আপনি নেহি পিটানেসে কোই নেহি পিটায়গা শেঠজী।”
**পৃষ্ঠা ৯
*ভবিতব্যের কলম কেউ রোধ করতে পারে না, এই তত্ত্ব উর্দুঝংকৃত হিন্দী ভাষায় পরিবেশন করলেন শেঠজী। মনে হল এই তত্বের সত্যতা তিনি উপলব্ধি করেছেন নিজেরই জীবনে।
**পৃষ্ঠা ১০
*অবাক হয়ে তাকালাম প্রফেসর ট্যালপেট্রোর মুখের দিকে। একটি কথায় তিনি যেন বিংশ শতাব্দীর অন্তরের একটি জানালা ভেতরের দিকে খুলে দিলেন। ঢাক পিটানা খতম তো গৌরব ভী খতম! হায়রে ঢাক পিটিয়ে অর্জন করা, ঢাক পিটিয়ে বাঁচিয়ে রাখা গৌরব!
**পৃষ্ঠা ১৪
*“দুনিয়ার অনেক সত্য কথাই সোজা করে বললে এমনি বিস্ময় জাগায় ধনপতি। পাছে ভুল ভেঙে যায় এই ভয়ে সত্যকে তাই অনেকে প্রাণপণে এড়িয়ে থাকে। কিন্তু ঐ যে বললে যা ভোলা যায় তা প্রথম প্রেম নয়, ওতে তোমার একটা বড় রকমের সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছে। তুমি ভাবছো, আমি তিলোত্তমার প্রেমে পড়িনি । ভুল, ভুল, সে তোমার ভুল, ধনপতি। তার প্রেমে পড়েছিলাম, আকণ্ঠ ডুবেছিলাম তার প্রেমে, এও যেমন সত্য, তারপর তাকে একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম, এও ঠিক তেমনি সত্য। এতে এতটুকু সন্দেহ কোরো না। মাসের পর মাস গেছে, বছরের পর বছর, একবারও মনে হয়নি তিলোত্তমার কথা । এতদিন পর আজ মনে পড়ল আজকের এই কাগজে শ্রীরামপুরের উকীল মহেশ্বর চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দেখে।”
**পৃষ্ঠা ৩৮
*“তুমি ঠিকই বলেছ ধনপতি। বিধাতা মাঝে মাঝে বড় যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে বসেন। সেন্টিমেন্টের বালাই একদম নেই বিধাতার।”
**পৃষ্ঠা ৪৩
*বলে পাছে ওর কাহিনী শুনে অশ্রু সংবরণ করতে পারলে উনি মনে দুঃখ পান, সেই ভয়ে আমিও পরম উচ্ছ্বাসের ভান করে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম।
**পৃষ্ঠা ৫০
*জনাইর সরাইখানায় 'ভিতরে মা-জননীদের বসিয়া খাইবার ব্যবস্থা আছে', কিন্তু মা-জননীদের এ সুযোগ নিতে দেখা যায় না, সরাইখানায় বাবা জনকদেরই একচেটিয়া আড্ডা।
**পৃষ্ঠা ৫২
*সোনার চাবুকের মার কিছু সোনালী নয়।
**পৃষ্ঠা ৮৫
*আমার ইহলোকের একচল্লিশজন পাওনাদার হাল ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তারা আর এখান পর্যস্ত ধাওয়া করবে না। কিন্ত আমার পরলোকের পূর্বপুরুষদের হামলা বেড়েই চলেছে দাদা। তারা যেখানে যখন খুশি অনায়াসে যেতে পারেন, একটি আধলা খরচ নেই। ফি শনিরারে এক পুরুষ আগেকার পূর্বপুরুষ এসে তাঁর ঋণের বোঝা চাপিয়ে খাচ্ছেন আমার ওপর। গেল শনিবারে যিনি এসেছিলেন, তান নাম মকরধ্বজ ভো্গালী। আমি হচ্ছি তার নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাতির নাভির নাতি। পঁয়তাল্লিশ পুরুষের চক্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা চেপেছে আমার ঘাড়ে--সে যে হিসেব করলে কত লাখ টাকায় দাঁড়াবে তা বলা শক্ত।
**পৃষ্ঠা ৯২
* “জানিনে আছে কিনা। জানিনে কি উপায় আছে। এই শুধু জানি যে যাদের আসল ঠাঁই স্যানাটোরিয়ামে, তাদের অনেককেই স্যানাটোরিয়ামে না পাঠিয়ে বিধাতা বসান বহু-জনভাগ্যবিধাতা কর্ণধারের গদিতে। বিধাতার সেই উন্মাদ খামখেয়ালের মাশুল জুগিয়ে মরে অগুনতি হতভাগ্য শিশু-বৃদ্ধ-নর-নারী। আহা যদি এই কর্ণধারদের কোনোরকমে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো যেত!”
**পৃষ্ঠা ১৪১
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় সাহিত্যিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৯৩-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯১২-এ জন্ম]]
nauhz38fw7glafjf2089ksonxw0hv3b
ডায়ান ফসি
0
12365
76127
75973
2026-04-12T15:44:00Z
Sumanta3023
4175
76127
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল।
[[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]]
ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন।
ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।
== উক্তি ==
* এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব।
** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover]
* আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে।
** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover]
* আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়।
** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover]
* এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়।
** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up]
* আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন।
** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover]
0q8use7q73vduenpyhzkjtrvivpyj7v
76128
76127
2026-04-12T15:47:03Z
Sumanta3023
4175
/* উক্তি */
76128
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল।
[[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]]
ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন।
ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।
== উক্তি ==
* এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব।
** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover]
* আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে।
** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover]
* আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়।
** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover]
* এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়।
** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up]
* আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন।
** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover]
== ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি ==
* মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না।
** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন।
** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না—তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching]
bbkua5vqn8c4ly55cmkj6yv9i73j4el
76130
76128
2026-04-12T15:54:07Z
Sumanta3023
4175
/* ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি */
76130
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল।
[[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]]
ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন।
ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।
== উক্তি ==
* এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব।
** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover]
* আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে।
** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover]
* আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়।
** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover]
* এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়।
** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up]
* আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন।
** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover]
== ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি ==
* মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না।
** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন।
** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching]
* আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর ''গায়ে'' থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? [https://en.wikipedia.org/wiki/Gombe%20National%20Park গোম্বেতে] যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না।
** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover]
* আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ।
** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover]
* তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল।
** ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী [https://en.wikipedia.org/wiki/Bob%20Campbell%20(photographer বব ক্যাম্পবেল] (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে। <br>ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। '''তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।'''
** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
cmm4qmivheyiiywkrwnw7n7jvadxt7o
76131
76130
2026-04-12T15:59:41Z
Sumanta3023
4175
/* ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি */
76131
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল।
[[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]]
ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন।
ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।
== উক্তি ==
* এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব।
** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover]
* আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে।
** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover]
* আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়।
** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover]
* এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়।
** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up]
* আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন।
** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover]
== ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি ==
* মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না।
** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন।
** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/]
* আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching]
* আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর ''গায়ে'' থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন।
** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? [https://en.wikipedia.org/wiki/Gombe%20National%20Park গোম্বেতে] যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না।
** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover]
* আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ।
** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover]
* তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল।
** ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী [https://en.wikipedia.org/wiki/Bob%20Campbell%20(photographer বব ক্যাম্পবেল] (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে। <br>ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। '''তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।'''
** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38]
* ডায়ানের পরিচালনায় গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি কোনো রুয়ান্ডাবাসীকে গরিলাদের আশেপাশে থাকতে দিতেন না তার দাবি ছিল এটি গরিলাদের শিকারিদের কাছে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলবে। যেহেতু না দেখেই একটি বন্দুকের গুলি বা ফাঁদ কার্যকর হতে পারে, তাই এই যুক্তির কোনো মানে হয় না; আর এখন যখন রুয়ান্ডাবাসীরা তাদের সংরক্ষণে পুরোপুরি যুক্ত, তখন শিকারের ঘটনা অনেক কমে গেছে এবং গরিলাদের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
** [https://en.wikipedia.org/wiki/Amy%20Vedder এমি ভেডার], ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ ও প্রাইমাটোলজিস্ট এবং ফসির অধীনে কারিসোক রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রাক্তন সদস্য (২০১৭)।
* শিকারি, গবাদি পশুর রাখাল, পার্কের কর্মকর্তা, পশ্চিমা সংরক্ষণবাদী, তাঁর কর্মীবৃন্দের সদস্য, ডজন দুয়েক গবেষক সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মিছিলটি অতীতের অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিপন্ন মাউন্টেন গরিলাদের সুরক্ষার একক লক্ষ্য অর্জনে ফসি তাঁর শত্রুদের দিকে গুলি ছুড়েছেন, তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন, তাদের যৌনাঙ্গে চাবুক মেরেছেন, তাদের গায়ে বনমানুষের বিষ্ঠা মাখিয়েছেন, তাদের গবাদি পশু হত্যা করেছেন, তাদের সম্পত্তি পুড়িয়েছেন, তাদের কাজকে কলঙ্কিত করেছেন এবং তাদের জেলে পাঠিয়েছেন।
** হ্যারল্ড টি. পি. হেইস রচিত [https://en.wikipedia.org/wiki/Harold%20Hayes ''দ্য ডার্ক রোমান্স অফ ডায়ান ফসি''] (১৯৯০)।
* ফসি এবং অন্যান্য 'ট্রাইমেটসের' খ্যাতি সত্ত্বেও বিজ্ঞানে নারীরা, বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা এখনও অবহেলিত। আমরা বিজ্ঞানে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য স্কলারশিপ ফান্ড গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছি; পাশাপাশি গরিলাদের কাছাকাছি বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোতে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখছি। ডায়ানের উত্তরাধিকারকে এইভাবে বিশেষ উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটা চমৎকার, যা হয়তো তিনি নিজেও কখনও প্রত্যাশা করেননি।
** ড. তারা স্টয়েনস্কি, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও/প্রধান বিজ্ঞানী, [https://gorillafund.org/uncategorized/dian-fossey-legacy-empowers-women/ ডায়ান ফসি গরিলা ফান্ড] (১৫ জানুয়ারি ২০২৩)।
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Fossey, Dian}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৩২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৫-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রাইমাটোলজিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]]
4wi19ntrdzll3ih9srju40q9mr0x7th
নবী
0
12369
76313
76004
2026-04-13T07:07:50Z
R1F4T
1240
76313
wikitext
text/x-wiki
[[File:Duccio di Buoninsegna, The Nativity with the Prophets Isaiah and Ezekiel, 1308-1311, NGA 10.jpg|thumb|হিব্রু ধর্মগ্রন্থের নবীরা এবং গসপেলে যিশু — এঁরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষরত ব্যক্তিত্ব। তাঁরা অন্যায় সুবিধাকে পবিত্রতার আবরণ দিতে এবং মানুষের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করতে ধর্মের ব্যবহারের নিন্দা করেন। ~ [[রোজমেরি র্যাডফোর্ড রুথার]]]]
[[File:Cheap repository tracts for Sunday reading Fleuron T184326-4.png|thumb|এখন আমার কথা শোনো: তোমাদের মধ্যে যদি কোনো নবী থাকে, তাহলে আমি সদাপ্রভু দর্শনের মাধ্যমে তাঁর কাছে নিজেকে প্রকাশ করব এবং স্বপ্নে তাঁর সাথে কথা বলব। আমার দাস [[মোশি]] তেমন নন, যিনি আমার সমস্ত গৃহে বিশ্বস্ত। তাঁর সাথে আমি মুখোমুখি কথা বলি, স্পষ্টভাবে, রহস্যময় বাক্যে নয়; এবং তিনি সদাপ্রভুর আকৃতি দেখেন। ~ [[গণনাপুস্তক]]]]
[[File:Isaiah's Lips Anointed with Fire.jpg|thumb|অন্যায় করা বন্ধ করো। ন্যায় করতে শেখো; ন্যায়বিচার খোঁজো। নিপীড়িতদের রক্ষা করো। পিতৃহীনদের পক্ষে কথা বলো; বিধবার মামলা লড়ো। ~ [[যিশাইয়]]]]
[[File:Max and Marianne Weber 1894.jpg|thumb|নবীদের বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব কোনো মানবীয় সংস্থার কাছ থেকে পান না, বরং নিজেরাই তা গ্রহণ করেন। ~ [[ম্যাক্স ওয়েবার]]]]
[[File:Moses Viewing the Promised Land Frederic Edwin Church.jpg|thumb|নবীর চাদর, তাঁর [[উড়ান|উড়ানের]] আগেই, [[পৃথিবী|পৃথিবীতে]] নেমে পড়ল — মানুষের জন্য এক [[পবিত্র]] [[উপহার]]। ~ [[থমাস ক্যাম্পবেল]]]]
[[File:Elias041.jpg|thumb|আমি, এমনকি কেবল আমিই, অবশিষ্ট আছি; এবং তারা আমার [[জীবন]] নিতে চাইছে। ~ [[এলিয়াস]]]]
[[File:Brooklyn Museum - Jesus Goes Up Alone onto a Mountain to Pray (Jésus monte seul sur une montagne pour prier) - James Tissot - overall.jpg|thumb|নিজের [[দেশ|দেশে]] এবং নিজের ঘরে ছাড়া কোথাও নবী [[সম্মান|সম্মানহীন]] নন। ~ [[যিশু]]]]
একজন '''[[w:নবী|নবী]]''' হলেন এমন একজন [[ব্যক্তি]] যিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে [[ঐশ্বরিক]] বা অতিপ্রাকৃত [[সত্তার]] সাথে যোগাযোগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়, অথবা যিনি এমন সত্তাদের পক্ষে কথা বলেন এবং [[মানবজাতির]] সাথে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন, এই সত্তাদের [[জ্ঞান]] বা [[তথ্য]] অন্যদের কাছে পৌঁছে দেন। নবী যে [[বার্তা]] প্রদান করেন তাকে '''[[ভবিষ্যদ্বাণী]]''' বলা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে, নবীদের [[সমাজে]] এমন একটি ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয় যা তাঁদের বার্তা ও কাজের মাধ্যমে [[পরিবর্তন]] আনে। "নবী" শব্দের ইংরেজি রূপ "prophet" গ্রিক προφήτης (''profétés'') থেকে এসেছে যার অর্থ আইনজীবী বা সমর্থক, এবং এটি সাধারণভাবে এমন যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে যিনি প্রায় যেকোনো বিশ্লেষণ বা মূল্যায়নের মাধ্যমে [[ভবিষ্যদ্বাণী|ভবিষ্যৎকথন]] করেন, সঠিক হোক বা না হোক।
__NOTOC__
{{TOCalpha}}
==ক==
* '''তারা যদি মোশি ও নবীদের কথা না শোনে, তাহলে মৃতদের মধ্য থেকে কেউ উঠলেও তারা বিশ্বাস করবে না।'''
** [[আব্রাহাম]], যিশুর উদ্ধৃতিতে, [[লূকের সুসমাচার|লূক]] ১৬:৩১ ([[KJV]])
* সদাপ্রভু একটি সুতো দিয়ে পরিমাপ করা প্রাচীরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর হাতে একটি [[w:Plumb line|সুতো]] ছিল। আর সদাপ্রভু আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কী দেখছ, আমোষ?"
:"একটি পরিমাপের সুতো," আমি উত্তর দিলাম।
:তখন সদাপ্রভু বললেন, "দেখো, আমি আমার লোক ইস্রায়েলের মধ্যে একটি পরিমাপের সুতো স্থাপন করছি; আমি আর তাদের ছেড়ে দেব না।"
:** [[আমোষ]] ৭:৭-৮ ([[New International Version|NIV]])
==খ==
* [[রোমান সাম্রাজ্য|রোমানরা]] [[w:Promised Land|প্রতিশ্রুত ভূমিতে]] এসেছিল যা ক্রমশ কম প্রতিশ্রুত হয়ে পড়েছিল। ধনীরা বিদেশি দখলদারিত্বের সাথে বেশ ভালোভাবেই মিলিয়ে গিয়েছিল; এটি মরিয়া কৃষক ও দেশপ্রেমিক প্রতিরোধ যোদ্ধাদের থেকে সুরক্ষা দিত। এটি সেই নবীদের থেকেও সুরক্ষা দিত যাদের এখন কোনো দ্বিধা ছাড়াই "আন্দোলনকারী" বলা যেত।
** [[এর্নস্ট ব্লখ]], ''আশার নীতি'' (১৯৫৯), ''নিজের উপর মানুষ'' (১৯৭০)-এ, পৃ. ১২১
==গ==
* নবীর চাদর, তাঁর [[উড়ান]] শুরুর আগেই, <br> [[পৃথিবীতে]] নেমে পড়ল — মানুষের জন্য এক [[পবিত্র]] [[উপহার]]।
** [[থমাস ক্যাম্পবেল]], ''আশার আনন্দ'', প্রথম ভাগ, পংক্তি ৪৩
* আমি সর্বদা মনে করি সেরা অনুমানকারীই সেরা নবী।
** [[সিসেরো]], ''দে দিভিনাতিওনে'', II. ৫, একটি গ্রিক প্রবাদ
==ঘ==
* আমি বাহিনীদের সদাপ্রভু ঈশ্বরের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হয়েছি: কারণ [[ইস্রায়েলের]] সন্তানেরা তোমার চুক্তি পরিত্যাগ করেছে, তোমার বেদিগুলো ভেঙে ফেলেছে এবং তোমার [[নবীদের]] [[তলোয়ার|তলোয়ার দিয়ে]] হত্যা করেছে; এবং আমি, এমনকি কেবল আমিই, অবশিষ্ট আছি; এবং তারা আমার [[জীবন]] নিতে চাইছে।
** [[এলিয়াস]], ''[[w:Books of Kings|রাজাবলির]] ১ম বই'' [https://www.biblegateway.com/passage/?search=1%20Kings%2019&version=KJV;WLC ১৯:১০]
==চ==
* নবী... সর্বদা একজন আলাদা মানুষ থাকেন, একজন সংকীর্ণমনা চরমপন্থী, নিজের আদর্শের প্রতি উৎসাহী এবং অন্য প্রতিটি বিষয়ের প্রতি অসহিষ্ণু। এবং যেহেতু তিনি যা চান তার সব পেতে পারেন না, তাই তিনি চিরকাল রাগ ও দুঃখের অবস্থায় থাকেন; তিনি সারাজীবন "সমস্ত পৃথিবীর কাছে বিবাদ ও কলহের মানুষ" হয়ে থাকেন। [যিরমিয় ১৫:১০] শুধু এটুকু নয়: সমাজের অন্য সদস্যরা, সেই বহুমুখী খর্বকায় মানুষেরা, সাধারণ সামঞ্জস্যের সৃষ্টি, তাঁর পেছনে চিৎকার করে, "নবী মূর্খ, আত্মিক মানুষ পাগল" [হোশেয় ৯:৭]; এবং তারা তাঁর সংকীর্ণতা ও চরমতার দিকে উন্নত অবমাননার দৃষ্টিতে তাকায়।
** [[আহাদ হা'আম]], "যাজক ও নবী" (১৮৯৩), ''নির্বাচিত প্রবন্ধ'' (১৯০৪)-এ, লিওন সাইমন কর্তৃক হিব্রু থেকে অনুবাদিত (১৯১২), পৃ. ১৩০
* নবীরা সব জানেন না!
** [[w:Jim Henson|জিম হেনসন]] এবং [[w:David Odell|ডেভিড ওডেল]], ''[[The Dark Crystal|দ্য ডার্ক ক্রিস্টাল]]'' (১৯৮২)-এ
* সেরা নবীরা তোমাকে পর্দার কাছে নিয়ে যান এবং নিজেই উঁকি দিতে দেন।
** [[ফ্র্যাংক হার্বার্ট]], ''[[Dune#God_Emperor_of_Dune_.281981.29|গড এম্পেরর অব ডিউন]]'' (১৯৮১)-এ, ''চুরি যাওয়া জার্নাল''
* আশ্চর্যজনক বিষয় হলো ইস্রায়েলের নবীরা তাদের জনগণ কর্তৃক আদৌ সহ্য করা হয়েছিলেন। দেশপ্রেমিকদের কাছে তাঁরা ক্ষতিকর মনে হতেন; ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের কাছে ধর্মদ্রোহী; কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্রোহী।
** [[আব্রাহাম জোশুয়া হেশেল]], ''নবীরা'' (১৯৬২), পৃ. ১৯
==জ==
* তুমি যখন প্রার্থনায় হাত বাড়াও,
:আমি তোমার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিই;
:এমনকি যখন তুমি অনেক প্রার্থনা করো,
:আমি শুনি না।
:তোমার হাত রক্তে ভরা!
:ধুয়ে নিজেকে পরিষ্কার করো।
:তোমার মন্দ কাজগুলো আমার দৃষ্টি থেকে সরিয়ে নাও;
:অন্যায় করা বন্ধ করো।
:ন্যায় করতে শেখো; ন্যায়বিচার খোঁজো।
:নিপীড়িতদের রক্ষা করো।
:পিতৃহীনদের পক্ষে কথা বলো;
:বিধবার মামলা লড়ো।
:** [[যিশাইয়]] ১:১৫-১৭ [[New International Version|NIV]]
* ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি বিরল প্রতিভা হলেও, '''[[সত্য|সত্যের]] পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া প্রতিটি বিবেকবান নারী ও পুরুষের কর্তব্য।''' <br>…একজন নবী, [রোমান ক্যাথলিক আর্চবিশপ অস্কার] [[Óscar Romero|রোমেরো]] যোগ করেছিলেন, হলেন এমন একজন যার "অবিচলিত বিবেক" আছে। এটি একটি আগ্রহজনক বক্তব্য।<br>'''কেবল তারাই যারা বিবেককে তাদের নৈতিক দিকনির্দেশক হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত, তারাই ঝুঁকি নির্বিশেষে অবিচলভাবে অন্যায় ও দুর্নীতির সত্য বলতে পারেন।'''<br>এবং ঝুঁকি আছেই কারণ নবীরা সহজেই শত্রু তৈরি করেন।
** [[ম্যাসিমো ইন্ট্রোভিনিয়ে]], [https://bitterwinter.org/remembering-romero-prophecy-truth-tai-ji-men-case/ "রোমেরোকে স্মরণ করা: ভবিষ্যদ্বাণী, সত্য এবং তাই জি মেন মামলা"], ''বিটার উইন্টার'' (২০২৩)
* [ধর্মীয় নেতা আবদুল্লাহ] [[Abdullah Hashem|হাশেম]] শেখান যে '''এমনকি নবীরাও ভুল করেছেন, কারণ কেবল ঈশ্বরই স্বভাবতই অভ্রান্ত।''' তবে যিশু ও মুহাম্মদ কেবল মাঝেমধ্যে ছোট ভুল করেছেন এবং মুহাম্মদ, তাঁর কন্যা ফাতিমা[,] ও বারো ইমামকে স্বভাবতই অভ্রান্ত বলা যায়, এবং বারো মাহদি, কায়েম/রিসারসহ, "অর্জিত অভ্রান্ততার" বিভাগে পড়েন। এর মানে এই নয় যে মুহাম্মদের চুক্তি এখনো কার্যকর, এবং যাই হোক আমরা তাঁর শিক্ষার সম্পূর্ণতা জানি না, কারণ আজ আমাদের কাছে যে [[কুরআন]] আছে তা অসম্পূর্ণ ও বিকৃত।
** [[ম্যাসিমো ইন্ট্রোভিনিয়ে]] এবং [https://bitterwinter.org/author/karolina-maria-hess/ কারোলিনা মারিয়া কটকোউস্কা], [https://bitterwinter.org/the-ahmadi-religion-of-peace-and-light-4-the-divine-just-state/ "আহমদি ধর্ম: শান্তি ও আলোর ধর্ম। ৪. ঐশ্বরিক ন্যায় রাষ্ট্র"], ''বিটার উইন্টার'' (এপ্রিল ৮, ২০২৪)
==ঝ==
* '''নিজের [[দেশ|দেশে]] এবং নিজের ঘরে ছাড়া কোথাও নবী [[সম্মান|সম্মানহীন]] নন।'''
** [[যিশু]], [[মথির সুসমাচার|মথি]] ১৩:৫৭ ([[KJV]])
* মিথ্যা নবীদের থেকে সাবধান থেকো, যারা ভেড়ার পোশাকে তোমাদের কাছে আসে, কিন্তু ভেতরে তারা হিংস্র নেকড়ে। "তোমরা তাদের ফলের দ্বারা চিনতে পারবে। কাঁটাগাছ থেকে কি আঙুর সংগ্রহ করা যায় বা শিয়াল কাঁটা থেকে কি ডুমুর পাওয়া যায়? তেমনই প্রতিটি ভালো গাছ ভালো ফল দেয়, কিন্তু মন্দ গাছ মন্দ ফল দেয়…
** [[যিশু]], মথি ৭:১৬ ([[w:English Standard Version|ESV]])
* নিজের দেশে কোনো নবী গ্রহণযোগ্য নন।
** [[যিশু]], লূক ৪:২৪ ([[w:Douay–Rheims Bible|ডুয়ে-রেমস]])
* এবং পৃথিবীতে বসবাসকারীরা তাদের নিয়ে আনন্দিত হয় এবং উল্লসিত হয়, এবং তারা একে অপরকে উপহার পাঠাবে, কারণ এই দুই নবী পৃথিবীতে বসবাসকারীদের যন্ত্রণা দিয়েছিল। এবং সাড়ে তিন দিন পর ঈশ্বরের জীবনের আত্মা তাদের মধ্যে প্রবেশ করল, এবং তারা তাদের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, এবং তাদের দেখছিল এমন লোকদের মধ্যে মহা ভয় নেমে এল।
** [[যোহন ধর্মপ্রচারক]], [[প্রকাশিত বাক্য|প্রকাশিত বাক্য]] ১১:১০-১১ ([[New World Translation of the Holy Scriptures|NWT]])
==ক্==
* কোনো কণ্ঠ নেই, কোনো বীণা নেই, কোনো বাঁশি নেই, কোনো সুগন্ধ নেই<br> দুলন্ত ধূপদানি থেকে উঠে আসা;<br>কোনো মন্দির নেই, কোনো বন নেই, কোনো দৈববাণী নেই, কোনো উত্তাপ নেই<br> বিবর্ণমুখী নবীর স্বপ্নের।
** [[জন কিটস]], ''সাইকির উদ্দেশ্যে ওড'' (রচনা ১৮১৯; প্রকাশ ১৮২০)
==ম==
* ... মানুষের সর্বদা তার [[বীরদের|বীরদের]] এবং দেবতাদের পুনর্জন্ম দেওয়ার অভ্যাস আছে, তাই {{W|Frederick Barbarossa|বারবারোসা}} এবং [[ওডিন]] অভেদ্য হয়ে পড়েন, এবং [[মোশি]] চিরকাল পুনরায় আবির্ভূত হন — আমাদের নিজেদের সময়ে [[জোসেফ স্মিথ]], [[Mary Baker Eddy|মেরি বেকার জি. এডি]] এবং দীর্ঘ সারির ছোট নবীদের মধ্যে। নিঃসন্দেহে [[নোয়া]], ছোটবেলায়, তাঁর {{W|Cheder|''চেদার''}} স্কুলে একটি ''উর''-নোয়ার কথা শুনেছিলেন এবং একটি খেলনা নৌকা নিয়ে খেলেছিলেন। এবং তিনি যে ''উর''-নোয়ার কথা শুনেছিলেন তারও সম্ভবত নিজের পূর্বসূরী ছিল।
** [[এইচ. এল. মেনকেন]], {{cite book|url=https://books.google.com/books?id=YMjdLA0eTAAC&pg=PA16| page=16 |title=দেবতাদের উপর গ্রন্থ | isbn=9780801885365 | date=2 October 2006 }} (১ম সংস্করণ ১৯৩০)
==ন==
* যেমন ছিল, তার নারকীয় জীবনের দ্বারা বিকৃত ও উন্মাদ হয়ে, সে যা হয়ে উঠেছিল তাই নবীরা সম্ভবত সবসময় ছিলেন: প্রতারক নয়, কারণ তারা নিজেরাই যা দেখেছিল তা বিশ্বাস করত, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক প্রাণী, তাদের অকার্যকর মস্তিষ্কে এই চূর্ণকারী পৃথিবী থেকে কোনো মুক্তির স্বপ্ন দেখছিল। ''ইয়াউম এদ দিন,'' পাগল ছোট মানুষটি, নবী আইদার জন ব্যাপ্টিস্ট, বলেছিল: ধর্মের দিন, বিচার দিনের জন্য মুসলমানদের পরিভাষা। ''ইয়াউম এদ দিন,'' পাগল ও দুর্বলদের শেষ সান্ত্বনা।
** [[জামিল নাসির]], ''স্বপ্নের টাওয়ার'' (১৯৯৯)-এ, অধ্যায় ৯ (পৃ. ১২৩)
* আমি যদি নবী শব্দটি এড়িয়ে গেছি, তাহলে আমি এই মুহূর্তে নিজের জন্য এমন উচ্চ উপাধি দাবি করতে চাই না, কারণ এখন যাকে নবী বলা হয় তাকে একসময় দ্রষ্টা বলা হত; যেহেতু একজন নবী, আমার পুত্র, সঠিকভাবে বলতে গেলে এমন একজন যিনি সমস্ত সৃষ্টির প্রাকৃতিক [[জ্ঞানের]] মাধ্যমে দূরবর্তী জিনিস দেখেন। এবং এমন হতে পারে যে নবী ভবিষ্যদ্বাণীর নিখুঁত আলো নিয়ে আসেন এবং মানবিক ও ঐশ্বরিক উভয় বিষয়ই প্রকাশ করতে পারেন, কারণ অন্যভাবে এটি করা সম্ভব নয়, যেহেতু ভবিষ্যৎ ভবিষ্যদ্বাণীর প্রভাব সময়ের মধ্যে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
** [[নস্ত্রাদামুস]], ''ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ'' (১৫৫৫)-এ, ভূমিকা
* হায়, যদি সকল প্রভুর মানুষ নবী হতেন।
** [[গণনাপুস্তক]] ১১:২৯ ([[KJV]]); [[উইলিয়াম ব্লেক|উইলিয়াম ব্লেকের]] [[w:And did those feet in ancient time|"জেরুজালেম"]]-এর মুখবন্ধ
* এবং তিনি বললেন, এখন আমার কথা শোনো: তোমাদের মধ্যে যদি কোনো নবী থাকে, আমি সদাপ্রভু দর্শনের মাধ্যমে তাঁর কাছে নিজেকে প্রকাশ করব এবং স্বপ্নে তাঁর সাথে কথা বলব। আমার দাস মোশি তেমন নন, যিনি আমার সমস্ত গৃহে বিশ্বস্ত। তাঁর সাথে আমি মুখোমুখি কথা বলি, স্পষ্টভাবে, রহস্যময় বাক্যে নয়; এবং তিনি সদাপ্রভুর আকৃতি দেখেন: তাহলে কেন তোমরা আমার দাস মোশির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাওনি?
** [[গণনাপুস্তক]] ১২:৬-৮ ([[KJV]])
==র==
* হিব্রু ধর্মগ্রন্থের নবীরা এবং গসপেলে যিশু — এঁরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষরত ব্যক্তিত্ব। তাঁরা অন্যায় সুবিধাকে পবিত্রতার আবরণ দিতে এবং মানুষের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করতে ধর্মের ব্যবহারের নিন্দা করেন। ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্বাস এমন একজন ঈশ্বরের কথা ঘোষণা করে যিনি ইতিহাসে সক্রিয়, একটি অন্যায় সামাজিক ব্যবস্থাকে উল্টে দিতে এবং পৃথিবীকে একটি নতুন সামাজিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে যেখানে আর কোনো যুদ্ধ থাকবে না, কোনো অন্যায় থাকবে না, যেখানে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য পুনরুদ্ধার হবে এবং সমস্ত সৃষ্টি ঈশ্বরের সাথে একতায় থাকবে।
** [[রোজমেরি র্যাডফোর্ড রুথার]], "ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ঐতিহ্য এবং নারীদের মুক্তি: প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসঘাতকতা" (১৯৯৪), ''নারীবাদী ধর্মতত্ত্ব'', খ. ২, নং ৫, পৃ. ৫৯
==স==
* আমি তোমাকে [[সত্যে]] বলছি: সকল মানুষই নবী অথবা [[ঈশ্বর]] অস্তিত্বশীল নন।
** [[জ্যাঁ-পল সার্ত্র]], ''শয়তান ও সদাপ্রভু'' (১৯৫১)-এ, ১ম অঙ্ক
* [[ইতিহাসবিদ]] হলেন একজন উল্টো নবী।
** [[কার্ল উইলহেম ফ্রিডরিখ শ্লেগেল]], ''আথেনেউম'' (১৭৯৮)-এ I, ২, ২০: খণ্ডাংশ
==হ==
* তোমার নবী যদি যৌনতার ক্ষেত্রে অনিরাপদ থাকতেন, বা তাঁর পরবর্তী ব্যাখ্যাকারীরা যদি তা থাকতেন, তাহলে সেই ধর্ম ব্রহ্মচর্য বা দমন বা এমনকি নারীদের ঘৃণারও দাবি করত; নবী যদি সমকামভীরু থাকতেন, তিনি সমকামীদের নির্যাতনের প্রচার করতেন; এবং যদি তিনি একই সাথে লম্পট ও লোভী থাকতেন, তিনি বহুবিবাহের প্রচার করতেন। যদি তিনি বিলাসী থাকতেন, তিনি আমাকে-অর্থ-দাও-এবং-ঈশ্বর-তোমাকে-ধনী-করবেন প্রচার করতেন; যদি তিনি নিপীড়িত অনুভব করতেন তিনি প্রতিশোধের-ঈশ্বর প্রচার করতেন, চলো অন্যজনকে মেরে ফেলি; এবং যতই শুভেচ্ছাসম্পন্ন ধর্মতত্ত্ববিদরা ভান করুক না কেন যে সকল দেবতা ভিন্ন দিক থেকে একই দেবতা, তারা মোটেও তেমন ছিল না, কারণ প্রতিটি নবী তার নিজের ছবিতে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন, তার নিজের দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে।
** [[শেরি এস. টেপার]], ''[[w:Sheri S. Tepper|পাথর উত্থান]]'' (১৯৯০), <small> {{ISBN|0-553-29116-5}}, </small> পৃ. ১০৭-১০৮
== ম ==
[[File:1760 Cambridge Edition King James Bible.png|thumb|তারা যদি মোশি ও নবীদের কথা না শোনে, তাহলে মৃতদের মধ্য থেকে কেউ উঠলেও তারা বিশ্বাস করবে না। ~ [[আব্রাহাম]]]]
* ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সর্বদা ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ করে না, অন্তত [[জ্ঞানীতম|জ্ঞানীতম]] নবীরা আগে ঘটনা নিশ্চিত করেন।
** [[হোরেস ওয়ালপোল]], থমাস ওয়ালপোলকে চিঠি (৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৮৫)
* নবীরা... তাঁদের "তোমার জন্য দুর্ভোগ" হাঁকড়িয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে যারা দরিদ্রকে নিপীড়ন ও দাসত্ব করত, যারা মাঠের পর মাঠ একত্রিত করত, এবং যারা ঘুষ দিয়ে ন্যায়বিচারকে বিচ্যুত করত। এগুলো প্রাচীন বিশ্বের সর্বত্র [[w:Class stratification|শ্রেণি স্তরবিন্যাসের]] দিকে নিয়ে যাওয়া সাধারণ কাজ ছিল, এবং সর্বত্র নগর-রাষ্ট্রের (''[[wikt:πόλις|পোলিস]]'') বিকাশের দ্বারা তীব্র হয়েছিল।
** [[ম্যাক্স ওয়েবার]], ''[[Sociology of Religion|ধর্মের সমাজবিদ্যা]]'', পৃ. ৫০
* নবীদের বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব কোনো মানবীয় সংস্থার কাছ থেকে পান না, বরং নিজেরাই তা গ্রহণ করেন।
** [[ম্যাক্স ওয়েবার]], ''[[Sociology of Religion|ধর্মের সমাজবিদ্যা]]'', পৃ. ৫১
* কোনো ব্যক্তি সত্যিই নবী কিনা তা নির্ধারণ করতে, একজনকে বিবেচনা করতে হবে যে তিনি "পবিত্রতা" (''কেদুশাহ'') এবং "বিচ্ছিন্নতা" (''[[perishut|পেরিশুত]]'') এর পথ অনুসরণ করছেন কিনা। একজন নবী নিজেকে সময়ের অসারতা ও ষড়যন্ত্র থেকে এবং "সময়ের অন্ধকারে চলা সাধারণ মানুষের সাধারণ পথ থেকে" আলাদা করেন। পবিত্রতার পথ, "জ্ঞানীদের পথের" মতো, ''[[w:Theoria|থেওরিয়ার]]'' জন্য প্রস্তুতি। নবী নিজেকে তাঁর মন সম্পূর্ণরূপে অসার ও ফাঁকা বিষয় থেকে মুক্ত রাখতে প্রশিক্ষণ দেন।
** রেমন্ড এল. ওয়েইস, ''মাইমোনাইডসের নীতিশাস্ত্র: দার্শনিক ও ধর্মীয় নৈতিকতার সাক্ষাৎ'' (১৯৯১), পৃ. ১৫৩
== আরও দেখুন ==
*[[আব্রাহাম]]
* [[আমোষ]]
*[[বাব]]
*[[বাহাউল্লাহ]]
*[[এলিয়াস]]
*[[যিশাইয়]]
*[[যিশু]]
*[[মোশি]]
*[[মুহাম্মদ]]
*[[ভবিষ্যদ্বাণী]]
*[[ব্যাস]]
*[[:Category:নবি|নবীদের তালিকা]]
==বাহ্যিক সংযোগ==
{{Wiktionary}}
* {{Wikipedia-inline}}
[[Category:ধর্ম]]
5catj92w4lob7hvlepnpi9ikyzxrj74
গর্ডন মুর
0
12378
76307
76032
2026-04-13T06:45:41Z
Firuz Ahmmed
2720
সম্প্রসারণ
76307
wikitext
text/x-wiki
[[File:Gordon Moore.jpg|thumb|right|২০০৪ সালে মুর]]
'''[[w:গর্ডন মুর|গর্ডন আর্ল মুর]]''' (৩ জানুয়ারি, ১৯২৯ – ২৪ মার্চ, ২০২৩) ছিলেন [[w:ইন্টেল কর্পোরেশন|ইন্টেল কর্পোরেশনের]] সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং [[w:মুরের সূত্র|মুরের সূত্রের]] প্রণেতা (যা ১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল ''ইলেকট্রনিক্স ম্যাগাজিন''-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বর্ণিত হয়েছিল)।
== উক্তি ==
* কিছু জিনিস হয়তো সময়ের আগেই চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো যদি পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম লঙ্ঘন না করে, তবে পরবর্তী চেষ্টায় সেগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং হলো ব্যর্থতার একটি ধারাবাহিকতা যার মাঝে মাঝেমধ্যে সাফল্যের দেখা মেলে। বিশেষ করে যখন আপনি সত্যিকারের নতুন কোনো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তখন এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। আপনি নতুন কিছু চেষ্টা করেন যা আগে যা ঘটেছে তারই সম্প্রসারণ। সেগুলোর বেশিরভাগই কাজে আসে না। তবে মাঝেমধ্যে আপনি এমন একটি পেয়ে যান যা সফল হয়। এভাবেই আমরা উন্নতির পথে এগিয়ে যাই। ব্যর্থতা এমন কিছু নয় যা এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি চাইবেন ব্যর্থতাগুলো যেন যত দ্রুত সম্ভব ঘটে, যাতে আপনি দ্রুত উন্নতি করতে পারেন। আমি এমন অনেক দক্ষ প্রযুক্তিবিদকে চিনি যারা অত্যন্ত যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা এড়িয়ে চলতেন। তারা সমস্যাটিকে এড়িয়ে চলতেন এবং এমন কাজ করতেন যার ফলাফল তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কিন্তু তারা সেই পরীক্ষাটি করতে ভয় পেতেন যা বলে দিতে পারত তাদের পুরো পদ্ধতিটি সঠিক না ভুল। আর এই ধরনের মানুষরা তুলনামূলকভাবে অনুৎপাদনশীল ছিলেন। আবার আমি এমন কিছু মানুষকেও চিনি যারা হয়তো অতটা মেধাবী ছিলেন না কিন্তু তারা সমস্যার একদম মূলে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। শেষ পর্যন্ত তারাই সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তাই আমার একটাই পরামর্শ হলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি করতে দেরি করবেন না। সেটিই আপনাকে বলে দেবে আপনি সঠিক না ভুল এবং এরপর আপনার কী করণীয়।
** ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে [[ক্যালিফোর্নিয়া|ক্যালিফোর্নিয়ার]] [[w:সান্টা ক্লারা, ক্যালিফোর্নিয়া|সান্তা ক্লারায়]] অবস্থিত ইন্টেলের সদর দপ্তরে ইনজেনুইটি সম্পাদক লরা শ্মিটের নেওয়া [https://archive.li/Ac0mo#selection-363.606-363.857 একটি সাক্ষাৎকার] থেকে, ''{{w|ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আর্বানা-শ্যাম্পেইন}}''।
* সর্বনিম্ন উপাদান খরচের জটিলতা প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে... নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, নিকট ভবিষ্যতে এই হার অব্যাহত থাকবে, এমনকি বাড়তেও পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই বৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি অনিশ্চিত, যদিও এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে এটি অন্তত ১০ বছরের জন্য প্রায় স্থির থাকবে না। এর অর্থ হলো ১৯৭৫ সালের মধ্যে সর্বনিম্ন খরচে প্রতিটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে উপাদানের সংখ্যা হবে ৬৫,০০০। আমি বিশ্বাস করি যে এত বড় একটি সার্কিট একটিমাত্র ওয়েফারে তৈরি করা সম্ভব।
** {{cite web| year =1965|url=ftp://download.intel.com/museum/Moores_Law/Articles-Press_Releases/Gordon_Moore_1965_Article.pdf| title =ক্র্যামিং মোর কম্পোনেন্টস অনটু ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস| format =পিডিএফ| pages =৪| work=ইলেকট্রনিক্স ম্যাগাজিন| accessdate = 3 February 2010}}
* প্রকৌশলবিদ্যার ক্ষেত্রে আমি এ বছরের ব্যর্থতাকে আগামী বছর পুনরায় চেষ্টা করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখি। ব্যর্থতা এমন কোনো বিষয় নয় যা এড়িয়ে চলা উচিত। আপনি চাইবেন যেন ব্যর্থতাগুলো যত দ্রুত সম্ভব ঘটে, যাতে আপনি দ্রুত উন্নতি করতে পারেন।
** {{cite journal
|quotes=
|author=লরা স্মিট
|year= মে 2000
|title=এন ইন্টারভিউ উইথ গর্ডন মুর
|journal=ইনজেনুইটি
|volume=৫
|issue=২
|url=http://www.ece.uiuc.edu/ingenuity/500/mooreint.html
|accessdate=2006-11-06
}}
* অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হয় যে শিক্ষাজীবন শেষ করার পরেও আপনাকে সবসময় হালনাগাদ থাকতে হবে। আমি মনে করি, সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মৌলিক বিষয়গুলোতে মজবুত ভিত্তি থাকা।
** ''ঐ একই।''
* আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে এটি একটি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী হবে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ১০ বছরে দ্বিগুণ হওয়ার পরিবর্তে আমরা ১০ বছরে নয়বার দ্বিগুণ হওয়ার হিসাব পেয়েছি, তবে তা সত্ত্বেও এটি বক্ররেখা বরাবর বেশ ভালোভাবেই অগ্রসর হয়েছে।
** কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম (১৫-০৯-২০০৫)। [http://www.computerhistory.org/about/press_relations/releases/20050915_moore/ কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রেজেন্টস: গর্ডন মুর এবং কার্ভার মিডের সাথে মুরের সূত্রের ৪০তম বার্ষিকী।] [[w:প্রেস বিজ্ঞপ্তি]]। ০৬-১১-২০০৬ তারিখে সংগৃহীত। (একটি অজ্ঞাত ইন্টেল প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে উদ্ধৃত)
*
4p4lc1kcyekvq7t1meolqheqhojqfcc
76311
76307
2026-04-13T07:06:35Z
Firuz Ahmmed
2720
সম্প্রসারণ
76311
wikitext
text/x-wiki
[[File:Gordon Moore.jpg|thumb|right|২০০৪ সালে মুর]]
'''[[w:গর্ডন মুর|গর্ডন আর্ল মুর]]''' (৩ জানুয়ারি, ১৯২৯ – ২৪ মার্চ, ২০২৩) ছিলেন [[w:ইন্টেল কর্পোরেশন|ইন্টেল কর্পোরেশনের]] সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং [[w:মুরের সূত্র|মুরের সূত্রের]] প্রণেতা (যা ১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল ''ইলেকট্রনিক্স ম্যাগাজিন''-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বর্ণিত হয়েছিল)।
== উক্তি ==
* কিছু জিনিস হয়তো সময়ের আগেই চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো যদি পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম লঙ্ঘন না করে, তবে পরবর্তী চেষ্টায় সেগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং হলো ব্যর্থতার একটি ধারাবাহিকতা যার মাঝে মাঝেমধ্যে সাফল্যের দেখা মেলে। বিশেষ করে যখন আপনি সত্যিকারের নতুন কোনো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তখন এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। আপনি নতুন কিছু চেষ্টা করেন যা আগে যা ঘটেছে তারই সম্প্রসারণ। সেগুলোর বেশিরভাগই কাজে আসে না। তবে মাঝেমধ্যে আপনি এমন একটি পেয়ে যান যা সফল হয়। এভাবেই আমরা উন্নতির পথে এগিয়ে যাই। ব্যর্থতা এমন কিছু নয় যা এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি চাইবেন ব্যর্থতাগুলো যেন যত দ্রুত সম্ভব ঘটে, যাতে আপনি দ্রুত উন্নতি করতে পারেন। আমি এমন অনেক দক্ষ প্রযুক্তিবিদকে চিনি যারা অত্যন্ত যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা এড়িয়ে চলতেন। তারা সমস্যাটিকে এড়িয়ে চলতেন এবং এমন কাজ করতেন যার ফলাফল তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কিন্তু তারা সেই পরীক্ষাটি করতে ভয় পেতেন যা বলে দিতে পারত তাদের পুরো পদ্ধতিটি সঠিক না ভুল। আর এই ধরনের মানুষরা তুলনামূলকভাবে অনুৎপাদনশীল ছিলেন। আবার আমি এমন কিছু মানুষকেও চিনি যারা হয়তো অতটা মেধাবী ছিলেন না কিন্তু তারা সমস্যার একদম মূলে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। শেষ পর্যন্ত তারাই সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তাই আমার একটাই পরামর্শ হলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি করতে দেরি করবেন না। সেটিই আপনাকে বলে দেবে আপনি সঠিক না ভুল এবং এরপর আপনার কী করণীয়।
** ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে [[ক্যালিফোর্নিয়া|ক্যালিফোর্নিয়ার]] [[w:সান্টা ক্লারা, ক্যালিফোর্নিয়া|সান্তা ক্লারায়]] অবস্থিত ইন্টেলের সদর দপ্তরে ইনজেনুইটি সম্পাদক লরা শ্মিটের নেওয়া [https://archive.li/Ac0mo#selection-363.606-363.857 একটি সাক্ষাৎকার] থেকে, ''{{w|ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আর্বানা-শ্যাম্পেইন}}''।
* সর্বনিম্ন উপাদান খরচের জটিলতা প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে... নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, নিকট ভবিষ্যতে এই হার অব্যাহত থাকবে, এমনকি বাড়তেও পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই বৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি অনিশ্চিত, যদিও এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে এটি অন্তত ১০ বছরের জন্য প্রায় স্থির থাকবে না। এর অর্থ হলো ১৯৭৫ সালের মধ্যে সর্বনিম্ন খরচে প্রতিটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে উপাদানের সংখ্যা হবে ৬৫,০০০। আমি বিশ্বাস করি যে এত বড় একটি সার্কিট একটিমাত্র ওয়েফারে তৈরি করা সম্ভব।
** {{cite web| year =1965|url=ftp://download.intel.com/museum/Moores_Law/Articles-Press_Releases/Gordon_Moore_1965_Article.pdf| title =ক্র্যামিং মোর কম্পোনেন্টস অনটু ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস| format =পিডিএফ| pages =৪| work=ইলেকট্রনিক্স ম্যাগাজিন| accessdate = 3 February 2010}}
* প্রকৌশলবিদ্যার ক্ষেত্রে আমি এ বছরের ব্যর্থতাকে আগামী বছর পুনরায় চেষ্টা করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখি। ব্যর্থতা এমন কোনো বিষয় নয় যা এড়িয়ে চলা উচিত। আপনি চাইবেন যেন ব্যর্থতাগুলো যত দ্রুত সম্ভব ঘটে, যাতে আপনি দ্রুত উন্নতি করতে পারেন।
** {{cite journal
|quotes=
|author=লরা স্মিট
|year= মে 2000
|title=এন ইন্টারভিউ উইথ গর্ডন মুর
|journal=ইনজেনুইটি
|volume=৫
|issue=২
|url=http://www.ece.uiuc.edu/ingenuity/500/mooreint.html
|accessdate=2006-11-06
}}
* অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হয় যে শিক্ষাজীবন শেষ করার পরেও আপনাকে সবসময় হালনাগাদ থাকতে হবে। আমি মনে করি, সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মৌলিক বিষয়গুলোতে মজবুত ভিত্তি থাকা।
** ''ঐ একই।''
* আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে এটি একটি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী হবে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ১০ বছরে দ্বিগুণ হওয়ার পরিবর্তে আমরা ১০ বছরে নয়বার দ্বিগুণ হওয়ার হিসাব পেয়েছি, তবে তা সত্ত্বেও এটি বক্ররেখা বরাবর বেশ ভালোভাবেই অগ্রসর হয়েছে।
** কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম (১৫-০৯-২০০৫)। [http://www.computerhistory.org/about/press_relations/releases/20050915_moore/ কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রেজেন্টস: গর্ডন মুর এবং কার্ভার মিডের সাথে মুরের সূত্রের ৪০তম বার্ষিকী।] [[w:প্রেস বিজ্ঞপ্তি]]। ০৬-১১-২০০৬ তারিখে সংগৃহীত। (একটি অজ্ঞাত ইন্টেল প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে উদ্ধৃত)
* মোটরযান শিল্প যদি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো দ্রুতগতিতে উন্নত হতো, তবে একটি রোলস রয়েস প্রতি গ্যালন জ্বালানিতে পাঁচ লক্ষ মাইল পথ চলতে পারত এবং গাড়িটি পার্ক করে রাখার চেয়ে তা ফেলে দেওয়াটাই বেশি সস্তা হতো।
** [http://www.zeiss.com/semiconductor-manufacturing-technology/en_de/products-solutions/lithography-optics/about-optical-lithography/moore_s-law.html মুরের সূত্র | জাইস ইন্টারন্যাশনাল] (মুরের সূত্র সংক্রান্ত একটি অজ্ঞাত বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত)।
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Moore, Gordon}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০২৩-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন শিক্ষায়তনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনহিতৈষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম প্রাপক]]
leq35h00wavjvoxj2ph3kxgpioj54qh
ব্যবহারকারী আলাপ:Md shakhhawat Hossain
3
12380
76054
2026-04-12T13:13:05Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76054
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Md shakhhawat Hossain,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১৩:১৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
dchbkmqdmft784sjhx738lcr9uhfkxm
আফ্রিকান স্পির
0
12381
76057
2026-04-12T13:19:51Z
R1F4T
1240
"File:Photograph of Afrikan Spir (cropped).jpg|right|thumb|200px|মানুষ দুটি লক্ষ্য অনুসরণ করে: সে সুখ খোঁজে এবং সারমর্মে শূন্য হওয়ায় সে তার জীবন পূর্ণ করতে চায়; এই পরবর্তী উদ্দেশ্যটি সাধারণত যতটা ভাবা হয় তার..." দিয়ে পাতা তৈরি
76057
wikitext
text/x-wiki
[[File:Photograph of Afrikan Spir (cropped).jpg|right|thumb|200px|মানুষ দুটি লক্ষ্য অনুসরণ করে: সে সুখ খোঁজে এবং সারমর্মে শূন্য হওয়ায় সে তার জীবন পূর্ণ করতে চায়; এই পরবর্তী উদ্দেশ্যটি সাধারণত যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যাকে অহংকার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদের প্রতি ভালোবাসা বলে মনে করি, তা আসলে প্রায়শই এই শূন্যতাকে ঢেকে রাখার প্রয়োজন মাত্র।]]
'''[[আফ্রিকান স্পির]]''' (১৮৩৭-১৮৯০) ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত একজন রুশ নব্য-কান্টীয় দার্শনিক।
== উদ্ধৃতি ==
[[File:Justice_Statue_Iran.jpg|thumb|right|ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সামাজিক অবস্থা এবং সভ্যতার জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।]]
=== ''জনৈক জ্ঞানীর বাণী: আফ্রিকান স্পিরের নির্বাচিত চিন্তাভাবনা'' (১৯৩৭) ===
:<small>হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির কর্তৃক ''Paroles d'un sage: Choix de pensées d'African Spir'' (''জনৈক জ্ঞানীর বাণী: আফ্রিকান স্পিরের নির্বাচিত চিন্তাভাবনা''), প্যারিস-জেনেভা, ১৯৩৭</small>
* আমার দ্বারা ব্যাখ্যা করা এই মতবাদটিই সত্য, কিন্তু আমি এর রচয়িতা নই। আমি কেবল সেই মৃত্তিকা স্বরূপ ছিলাম যেখানে দীর্ঘ বছরের পরিক্রমায় এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অঙ্কুরিত এবং বিকশিত হয়েছে। মানুষের সাথে তার কাজের এমন অসমতা আমার ক্ষেত্রে যতটা প্রকট হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি, এবং সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো একজনের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে অন্যটিকে কষ্ট পেতে হয়। আমার চেয়ে দক্ষ কোনো মানুষ যদি এই মতবাদটি লাভ করতেন, তবে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতেন।
** ''Esquisse biographique'', পৃ. ১৮।
* Grâce à la connaissance des lois physiques, l’homme a pu au dehors asservir la nature, mais, intérieurement, il en est resté l’esclave.
** ভৌত বিজ্ঞানের জ্ঞানের কল্যাণে মানুষ বাইরে প্রকৃতিকে বশ করতে পেরেছে, কিন্তু অন্তরে সে তার দাসই রয়ে গেছে।
*** পৃ. ৩৬।
* আমাদের সভ্যতায় যা নেই তা হলো আত্মা, আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং ভিত্তি। সেই কারণেই এর সবকিছুই ভণ্ডামি ও কারসাজি; এবং সেই কারণেই '''বাহ্যিক জগতে তারা যে অগ্রগতি এবং বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছে তা সত্ত্বেও, মানুষ সাধারণভাবে নিজেরা না উন্নত হয়েছে, না সুখী হয়েছে। তারা অপরিহার্য বিষয়টিকে অর্থাৎ নিজেদের আত্মিক বিকাশকে খুব বেশি অবহেলা করেছে।'''
** পৃ. ৩৬।
* যদি ধর্মীয় ও নৈতিক নীতি বর্জন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এর পরিণতি এমন হতে পারে যে আমরা সভ্যতার কেন্দ্রস্থলেই একটি নতুন এবং ভয়াবহ বর্বরতা দেখতে পাব যা অতীতের সমস্ত অর্জনকে গ্রাস করতে সক্ষম।
** পৃ. ৩৭।
* যা কিছু বিরোধের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে তা দীর্ঘ মেয়াদে সফল হবে না বা টিকে থাকবে না; যা কিছু বিরোধকে ধারণ করে তা অনিবার্যভাবে আজ হোক বা কাল হোক বিলীন ও অদৃশ্য হয়ে যাবে।
** পৃ. ৩৭।
* যে সমস্ত মানুষ সত্য বা জনহিতকর কাজের জন্য নিজেদের সুখ এবং এমনকি জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, অভিজ্ঞতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে (যা পুণ্য এবং পরার্থপরতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে) তাদের উন্মাদ বা বোকা হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মহাবীর যারা মানবতাকে সম্মানিত করেন।
** পৃ. ৩৮।
* আমরা যদি ভবিষ্যতে কোনো পুরস্কারের আশায় বা ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের কোনো গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো ভালো কাজ বা দান করি, তবে আমরা সম্ভবত একটি দরকারী কাজ করছি, কিন্তু তাতে প্রকৃত নৈতিক চরিত্রের অভাব থাকে।
** পৃ. ৩৯।
* ধর্মভীরু ব্যক্তিদের দ্বারা প্রচারিত পুণ্য হলো দাসের পুণ্য যে সর্বদা বিশ্বাস করে যে সে তার প্রভুর চোখের সামনে আছে। যাইহোক, যিশু বলেছিলেন: 'ঈশ্বরের সেবা দাসের মতো নয়, বরং ঘরের সন্তানের মতো করো।'
** পৃ. ৩৯।
* বাস্তবে বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যাদের ক্ষেত্র আলাদা, এবং যারা একে অপরকে আক্রমণ না করে বরং পরিপূরক হতে পারে।
** পৃ. ৩৯।
* আমরা যদি বস্তুবাদী তত্ত্ব অনুসরণ করে স্বীকার করি যে কেবল ভৌত প্রকৃতির অস্তিত্ব আছে এবং মানুষের মধ্যে উচ্চতর কোনো ঐশ্বরিক সত্তা নেই যা তাকে তার পশু প্রবৃত্তির ওপরে তোলে, তবে সেখানে নৈতিক বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্বের কোনো প্রশ্নই উঠবে না; তখন তার জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ হবে কেবল নিজের ক্ষুধা ও প্রাকৃতিক প্রবণতা চরিতার্থ করা, সুখের সন্ধান করা এবং বেদনা থেকে পালানো। সেক্ষেত্রে কোনো ধর্ম বা নৈতিকতা থাকতে পারে না, কারণ ধর্মই মানুষকে স্থূল বাস্তবতা থেকে ওপরে তোলে এবং নৈতিকতা হলো স্বার্থপরতার সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি।
** পৃ. ৪১।
* '''বর্তমান সভ্যতা যদি কোনো স্থিতিশীল নৈতিক ভিত্তি অর্জন করতে না পারে, তবে এর অস্তিত্ব অতীতের সভ্যতাগুলোর চেয়ে খুব বেশি সুনিশ্চিত হবে না যা পতনশীল হয়েছে।'''
** পৃ. ৪১।
* একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সংহতির অনুভূতি জন্ম নেয় তা এর বিরুদ্ধাচরণকারীদের প্রতি বৈরিতার অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ সময় আমরা কেবল নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা প্রমাণের জন্য কোনো দল বা গোষ্ঠীতে যোগ দিই।
** পৃ. ৪২।
* Si nous possédions un flair moral plus développé, nous serions aussi écœurés moralement par la rapacité de ceux qui cherchent a profiter et à accaparer sans égards pour autrui, que nous le sommes par une odeur nauséabonde.
** '''আমাদের নৈতিক বোধ যদি আরও উন্নত হতো, তবে অন্যদের তোয়াক্কা না করে যারা সুবিধা ভোগ করতে এবং দখল করতে চায় তাদের লালসা আমাদের কাছে পচা গন্ধের মতোই ঘৃণ্য মনে হতো।'''
*** পৃ. ৪৩।
* মানুষ সাধারণত পরিমাণের দিক থেকে বড় কোনো কিছুর দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত হতে পছন্দ করে। এভাবেই এমনকি চিন্তাশীল ব্যক্তিরাও [[নেপোলিয়ন]]-এর শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হন, এতটাই যে তারা তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে মহিমান্বিত বা রাজকীয় কিছু দেখতে পান, যখন আসলে তার কেবল স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। কেবল একজনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার তৃপ্তি মেটানোর জন্য পৃথিবীর অর্ধেক অংশ আগুনে এবং তরবারিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
** পৃ. ৪৩।
* পৃথিবীতে সর্বদা অন্যায়ের আধিপত্য থাকায় কেউ কেউ কল্পনা করেন যে এই বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থা চিরকাল চলবে। এই ব্যবস্থা যে এখন পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছে তার প্রধান কারণ হলো মানুষের এই বিশ্বাস যে এটি ঈশ্বর নির্ধারিত।
** পৃ. ৪৫।
* Si dans un banquet quelqu’un s’avisait d’arracher aux convives les morceaux de la bouche, on serait unanime à trouver le procédé inique et brutal, mais quand par ailleurs la chose se pratique sous une forme moins apparente, on ne s’en montre guère offusqué.
** '''ভোজসভায় যদি কেউ অতিথিদের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেয়, তবে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অন্যায় ও বর্বর বলব, কিন্তু যখন একই কাজ আরও সূক্ষ্মভাবে করা হয়, তখন মানুষ খুব একটা বিরক্ত হয় না।'''
*** পৃ. ৪৬।
* স্বাধীনতার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।
** পৃ. ৪৬।
* কাজের সামাজিক সংগঠন মানবজাতির জন্য সমাধান করা সবচেয়ে জটিল এবং কঠিন সমস্যাগুলোর একটি। এই সংগঠন হিংস্রতা বা কেবল বাহ্যিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে এতে সাধারণ কাজে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন, এবং ফলস্বরূপ মানুষের একটি পুনর্জন্ম প্রয়োজন যা তাদের স্বার্থপরতা কাটিয়ে উঠতে এবং নিজেদের ও সমাজের প্রতি তাদের কর্তব্য বুঝতে সাহায্য করবে।
** পৃ. ৪৭।
* প্রকৃতি প্রদত্ত মেধা যার যত বেশি, সেই মেধার অপব্যবহার করে লজ্জাজনক কাজে লিপ্ত হওয়া তার জন্য তত বেশি হতাশাজনক। একজন উচ্চপদস্থ জোচ্চোর বা প্রতারক একজন সাধারণ অপরাধীর চেয়ে বেশি নিন্দনীয়; একজন শিক্ষিত বুদ্ধিমান দুষ্কৃতকারী একজন অশিক্ষিত নিরক্ষর অপরাধীর চেয়ে বেশি দুঃখজনক ঘটনার প্রতিনিধিত্ব করে।
** পৃ. ৪৮।
* En s'adonnant trop exclusivement à la recherche d'un bonheur matériel, de biens éphémères, on méconnaît les vraies réalités dela vie et on laisse s'étioler et se dessécher l'esprit.
** '''পার্থিব সুখ এবং ক্ষণস্থায়ী সম্পদের সন্ধানে নিজেদের খুব বেশি মগ্ন রেখে আমরা জীবনের প্রকৃত বাস্তবতাকে উপেক্ষা করি এবং আমাদের আত্মাকে শুকিয়ে যেতে ও বিবর্ণ হতে দিই।'''
*** পৃ. ৪৯।
* উজ্জ্বল ব্যবসায় সফল হওয়া এবং বিশাল সাফল্য অর্জন করাই বেশিরভাগ মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রচেষ্টার লক্ষ্য। কিন্তু দিনের শেষে তারা এর জন্য কী পায়? নরম গদি, উন্নত মানের মাংস, সম্ভবত কিছু পদক বা সম্মাননা - এই তো সব। আর ভাবতে অবাক লাগে যে এমন অনেক গম্ভীর মানুষ আছেন যারা এই তুচ্ছ জিনিসের প্রত্যাশায় এবং অনুসন্ধানে তাদের পুরো জীবন ব্যয় করে দেন।
** পৃ. ৪৯।
* শিক্ষার চেয়ে ধ্বংসের জন্য দশ গুণ বেশি ব্যয় করা আমাদের সময়ের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে; এবং মানুষ নিজেদের যুক্তিযুক্ত প্রাণী বলে দাবি করে!
** পৃ. ৫০।
* সামাজিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় সৌজন্যের রূপগুলো পরার্থপরতার বিকল্প হিসেবে প্রয়োজনীয়।
** পৃ. ৫০।
* জাতির নেতাদের নিজেদের মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে মগ্ন থাকার চেয়ে মানব প্রকৃতির দীনতার আর কোনো ভালো উদাহরণ হতে পারে না।
** পৃ. ৫১।
* সবচেয়ে পবিত্র কর্তব্য এবং সর্বোচ্চ ও জরুরি কাজ হলো মানবতাকে কেইনের অভিশাপ অর্থাৎ ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ থেকে মুক্ত করা।
** পৃ. ৫১।
* সমাজের ন্যায়বিচার ও স্বার্থ দাবি করে যে আমরা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য অনেক বেশি কাজ করি।
** পৃ. ৫২।
* একটি মাকড়সাকে পাহাড়ের চূড়ায় বসিয়ে দিলে সে কেবল মাছি ধরারই চেষ্টা করবে; হায়, এমন অনেকে আছেন যাদের মাকড়সার মতো দৃষ্টি।
** পৃ. ৫২।
* জীবনে আমরা কেবল উৎপাদন করতে, জয়ী হতে এবং যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চাই; বিজ্ঞানে যতটা সম্ভব আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করতে চাই; ধর্মে যতটা সম্ভব মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই; যেখানে চরিত্রের গঠন, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং মন ও হৃদয়ের পরিশুদ্ধিকে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
** পৃ. ৫২।
* La réalisation de la justice est, dans l’état actuel des choses, une question de vie ou de mort pour la société et pour la civilisation elle-même.
** '''ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সামাজিক অবস্থা এবং সভ্যতার জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।'''
*** পৃ. ৫৫।
* গভীরভাবে দেখলে সবকিছু একটি সাধারণ প্রশ্নে ফিরে আসে: আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচার এবং এই পৃথিবীতে উচ্চতর আদর্শের বাস্তবায়ন চাই? নাকি আমরা স্বার্থপর ও সংকীর্ণ স্বার্থের সেবা করতে চাই যা শেষ পর্যন্ত সেই স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের জন্যও ক্ষতিকর?
** পৃ. ৫৫।
* মানুষের বৌদ্ধিক বিকাশ মানুষকে যুদ্ধ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাদের মানুষ মারার শিল্পে আরও দক্ষ করে তুলেছে।
** পৃ. ৫৫।
* '''আমাদের যথাযথ আধ্যাত্মিক উপাদানের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ শূন্যতার কারণেই আমাদের ব্যস্ততা ও বিনোদনের প্রয়োজন হয়। অন্যথায় আমরা একঘেয়েমি অনুভব করি যা আসলে জীবনের মরীচিকার মধ্যে যখন আমাদের মন ডুবে থাকে না তখনকার অস্বস্তিকর অনুভূতি মাত্র।'''
** পৃ. ৫৬।
* পৃথিবীতে কেবল একটি জিনিসই মূল্যবান, তা হলো ভালো কাজ করা।
** পৃ. ৫৬।
* L’homme poursuit deux buts: il recherche le bonheur et, étant vide par essence, il cherche à remplir sa vie; ce dernier motif joue un rôle plus considérable qu’on ne le pense d’ordinaire. Ce que l’on prend pour vanité, ambition, amour du pouvoir et des riches, est souvent, en réalité, le besoin de masquer ce vide.
** মানুষ দুটি লক্ষ্য অনুসরণ করে: সে সুখ খোঁজে এবং সারমর্মে শূন্য হওয়ায় সে তার জীবন পূর্ণ করতে চায়; এই পরবর্তী উদ্দেশ্যটি সাধারণত যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যাকে অহংকার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদের প্রতি ভালোবাসা বলে মনে করি, তা আসলে প্রায়শই এই শূন্যতাকে ঢেকে রাখার প্রয়োজন মাত্র।
*** পৃ. ৫৬।
* যদি করুণা সর্বদা একইভাবে জীবন্ত থাকত এবং সমস্ত পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে কাজ করত, তবে আমরা নৈতিকতা ছাড়াই চলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের মধ্যে সমবেদনা নয় বরং এর বিপরীত অর্থাৎ স্বার্থপরতা সবচেয়ে প্রবলভাবে কাজ করে।
** পৃ. ৫৭।
* মানুষের ওপর শিক্ষার এক বিশাল শক্তি রয়েছে। আমরা কি দেখতে পাই না স্পার্টার মানুষ শতাব্দী ধরে কী কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলেছে? আর তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য উদ্দেশ্যে: কেবল বাহ্যিক মহিমা এবং স্পার্টার সামরিক আধিপত্য। এই উদাহরণ প্রমাণ করে যে মানুষ যা চায় তাই করতে পারে; তাই প্রশ্নটি কেবল তাদের ভালো কাজ করতে আগ্রহী করা।
** পৃ. ৫৮।
* এখন পর্যন্ত সাধারণত আমরা তরুণদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের ধারণার এক হজম অযোগ্য স্তূপ ঠুসে দিয়েছি, তাদের চরিত্র গঠনের মূল প্রয়োজনের কথা যথেষ্ট চিন্তা না করেই।
** পৃ. ৫৮।
* '''কার্যকর হওয়ার জন্য নৈতিকতাকে যুক্তিযুক্ত হতে হবে। কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মন্দকে দমন করতে চাওয়া এবং ভেতর থেকে অনুপ্রাণিত না করে এক ধরনের জোরপূর্বক শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জন করা হলো একটি কৃত্রিম কাজ যা দীর্ঘস্থায়ী মূল্যহীন।'''
** পৃ. ৫৯।
* কেবল মুক্ত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নৈতিক শিক্ষা একটি মঙ্গলজনক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রকৃত নৈতিকতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
** পৃ. ৫৯।
* সমাজ এবং সেই সাথে মানবতার সংস্কারের কেবল একটি উপায় আছে; মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করা এবং তাদের নতুন আদর্শের দিকে পরিচালিত করা।
** পৃ. ৬০।
* যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাদের ভুল এবং ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হবে না, ততক্ষণ মানবজাতি তার প্রকৃত গন্তব্য অর্জনের পথে এগোতে পারবে না।
** পৃ. ৬০।
* বর্তমানে যেমনটি করা হচ্ছে নৈতিকতাকে ভৌত বিষয়ের কাছে বিসর্জন দেওয়া মানে ছায়ার জন্য বাস্তবতাকে বিসর্জন দেওয়া।
** পৃ. ৬১।
* আমরা কান্টের উদাহরণ অনুসরণ করে মানুষের নৈতিক বিকাশ ও উন্নতিকে মানব বিবর্তনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
** পৃ. ৬১।
* De même que l'humanité a commencé par des outils en silex, et est arrivé peu à peu aux machines si puissantes et perfectionnées d'aujourd'hui, de même l'homme, en se façonnant de génération en génération, arrivera à un degré de perfection dont l'exemple ne nous a été donné, jusqu'à présent, que par de rares individus.
** '''মানবজাতি যেমন চকমকি পাথরের হাতিয়ার দিয়ে শুরু করেছিল এবং ধীরে ধীরে আজকের শক্তিশালী ও উন্নত যন্ত্রপাতিতে পৌঁছেছে, তেমনি মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজেকে গড়ে তোলার মাধ্যমে এমন এক স্তরের পূর্ণতায় পৌঁছাবে যার উদাহরণ এখন পর্যন্ত কেবল বিরল কিছু ব্যক্তির মধ্যে দেখা গেছে।'''
*** পৃ. ৬২।
== সম্পর্কিত উক্তি ==
* আমি এমন কোনো দার্শনিক জানি না যিনি একই সাথে এত গভীর এবং এত সুনির্দিষ্ট।
** [[লিও তলস্তয়]], হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির (১৯৪৪) ''Evocation: Tolstoi, Nietzsche, [[রিলকে]], স্পির'', জেনেভা।
* আমি নিশ্চিত যে তার মতবাদটি প্রাপ্য মর্যাদা অনুযায়ী বোঝা ও মূল্যায়ন করা হবে এবং তার কাজের পরিণতি [[শোপেনহাওয়ার]]-এর মতোই হবে যিনি কেবল মৃত্যুর পরেই পরিচিতি ও প্রশংসা পেয়েছিলেন।
** [[লিও তলস্তয়]], হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির (১৯৪৪) ''Evocation: Tolstoi, Nietzsche, [[রিলকে]], স্পির'', জেনেভা।
* Der von mir geschätzte Logiker heißt: A. Spir.
** আমি যে যুক্তিবিদকে মূল্যায়ন করি তার নাম: এ. স্পির।
*** [[ফ্রিডরিখ নিৎশে]]<ref>২০১১। ৯০৭। আর্নস্ট শমেইটজনা-কে কেমনিটজ-এ (নাউমবার্গ, ২২ নভেম্বর ১৮৭৯)। নিৎশে অনলাইন। বার্লিন, বোস্টন: ডি গ্রুইটার।</ref>
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Spir, African}}
[[Category:Logicians from Russia]]
[[Category:Philosophers from Russia]]
[[Category:Non-fiction authors from Russia]]
[[Category:1837 births]]
[[Category:1890 deaths]]
py9u2hnve0cdr2wxp4ih0d56v3g5vf3
76064
76057
2026-04-12T13:33:19Z
R1F4T
1240
76064
wikitext
text/x-wiki
[[File:Photograph of Afrikan Spir (cropped).jpg|right|thumb|200px|মানুষ দুটি লক্ষ্য অনুসরণ করে: সে সুখ খোঁজে এবং সারমর্মে শূন্য হওয়ায় সে তার জীবন পূর্ণ করতে চায়; এই পরবর্তী উদ্দেশ্যটি সাধারণত যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যাকে অহংকার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদের প্রতি ভালোবাসা বলে মনে করি, তা আসলে প্রায়শই এই শূন্যতাকে ঢেকে রাখার প্রয়োজন মাত্র।]]
'''[[আফ্রিকান স্পির]]''' (১৮৩৭-১৮৯০) ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত একজন রুশ নব্য-কান্টীয় দার্শনিক।
== উদ্ধৃতি ==
[[File:Justice_Statue_Iran.jpg|thumb|right|ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সামাজিক অবস্থা এবং সভ্যতার জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।]]
=== ''জনৈক জ্ঞানীর বাণী: আফ্রিকান স্পিরের নির্বাচিত চিন্তাভাবনা'' (১৯৩৭) ===
:<small>হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির কর্তৃক ''Paroles d'un sage: Choix de pensées d'African Spir'' (''জনৈক জ্ঞানীর বাণী: আফ্রিকান স্পিরের নির্বাচিত চিন্তাভাবনা''), প্যারিস-জেনেভা, ১৯৩৭</small>
* আমার দ্বারা ব্যাখ্যা করা এই মতবাদটিই সত্য, কিন্তু আমি এর রচয়িতা নই। আমি কেবল সেই মৃত্তিকা স্বরূপ ছিলাম যেখানে দীর্ঘ বছরের পরিক্রমায় এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অঙ্কুরিত এবং বিকশিত হয়েছে। মানুষের সাথে তার কাজের এমন অসমতা আমার ক্ষেত্রে যতটা প্রকট হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি, এবং সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো একজনের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে অন্যটিকে কষ্ট পেতে হয়। আমার চেয়ে দক্ষ কোনো মানুষ যদি এই মতবাদটি লাভ করতেন, তবে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতেন।
** ''Esquisse biographique'', পৃ. ১৮।
* Grâce à la connaissance des lois physiques, l’homme a pu au dehors asservir la nature, mais, intérieurement, il en est resté l’esclave.
** ভৌত বিজ্ঞানের জ্ঞানের কল্যাণে মানুষ বাইরে প্রকৃতিকে বশ করতে পেরেছে, কিন্তু অন্তরে সে তার দাসই রয়ে গেছে।
*** পৃ. ৩৬।
* আমাদের সভ্যতায় যা নেই তা হলো আত্মা, আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং ভিত্তি। সেই কারণেই এর সবকিছুই ভণ্ডামি ও কারসাজি; এবং সেই কারণেই '''বাহ্যিক জগতে তারা যে অগ্রগতি এবং বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছে তা সত্ত্বেও, মানুষ সাধারণভাবে নিজেরা না উন্নত হয়েছে, না সুখী হয়েছে। তারা অপরিহার্য বিষয়টিকে অর্থাৎ নিজেদের আত্মিক বিকাশকে খুব বেশি অবহেলা করেছে।'''
** পৃ. ৩৬।
* যদি ধর্মীয় ও নৈতিক নীতি বর্জন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এর পরিণতি এমন হতে পারে যে আমরা সভ্যতার কেন্দ্রস্থলেই একটি নতুন এবং ভয়াবহ বর্বরতা দেখতে পাব যা অতীতের সমস্ত অর্জনকে গ্রাস করতে সক্ষম।
** পৃ. ৩৭।
* যা কিছু বিরোধের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে তা দীর্ঘ মেয়াদে সফল হবে না বা টিকে থাকবে না; যা কিছু বিরোধকে ধারণ করে তা অনিবার্যভাবে আজ হোক বা কাল হোক বিলীন ও অদৃশ্য হয়ে যাবে।
** পৃ. ৩৭।
* যে সমস্ত মানুষ সত্য বা জনহিতকর কাজের জন্য নিজেদের সুখ এবং এমনকি জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, অভিজ্ঞতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে (যা পুণ্য এবং পরার্থপরতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে) তাদের উন্মাদ বা বোকা হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মহাবীর যারা মানবতাকে সম্মানিত করেন।
** পৃ. ৩৮।
* আমরা যদি ভবিষ্যতে কোনো পুরস্কারের আশায় বা ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের কোনো গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো ভালো কাজ বা দান করি, তবে আমরা সম্ভবত একটি দরকারী কাজ করছি, কিন্তু তাতে প্রকৃত নৈতিক চরিত্রের অভাব থাকে।
** পৃ. ৩৯।
* ধর্মভীরু ব্যক্তিদের দ্বারা প্রচারিত পুণ্য হলো দাসের পুণ্য যে সর্বদা বিশ্বাস করে যে সে তার প্রভুর চোখের সামনে আছে। যাইহোক, যিশু বলেছিলেন: 'ঈশ্বরের সেবা দাসের মতো নয়, বরং ঘরের সন্তানের মতো করো।'
** পৃ. ৩৯, with a quote from ''Galatians'' 4:6-8.
* বাস্তবে বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যাদের ক্ষেত্র আলাদা, এবং যারা একে অপরকে আক্রমণ না করে বরং পরিপূরক হতে পারে।
** পৃ. ৩৯।
* আমরা যদি বস্তুবাদী তত্ত্ব অনুসরণ করে স্বীকার করি যে কেবল ভৌত প্রকৃতির অস্তিত্ব আছে এবং মানুষের মধ্যে উচ্চতর কোনো ঐশ্বরিক সত্তা নেই যা তাকে তার পশু প্রবৃত্তির ওপরে তোলে, তবে সেখানে নৈতিক বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্বের কোনো প্রশ্নই উঠবে না; তখন তার জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ হবে কেবল নিজের ক্ষুধা ও প্রাকৃতিক প্রবণতা চরিতার্থ করা, সুখের সন্ধান করা এবং বেদনা থেকে পালানো। সেক্ষেত্রে কোনো ধর্ম বা নৈতিকতা থাকতে পারে না, কারণ ধর্মই মানুষকে স্থূল বাস্তবতা থেকে ওপরে তোলে এবং নৈতিকতা হলো স্বার্থপরতার সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি।
** পৃ. ৪১।
* '''বর্তমান সভ্যতা যদি কোনো স্থিতিশীল নৈতিক ভিত্তি অর্জন করতে না পারে, তবে এর অস্তিত্ব অতীতের সভ্যতাগুলোর চেয়ে খুব বেশি সুনিশ্চিত হবে না যা পতনশীল হয়েছে।'''
** পৃ. ৪১।
* একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সংহতির অনুভূতি জন্ম নেয় তা এর বিরুদ্ধাচরণকারীদের প্রতি বৈরিতার অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ সময় আমরা কেবল নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা প্রমাণের জন্য কোনো দল বা গোষ্ঠীতে যোগ দিই।
** পৃ. ৪২।
* Si nous possédions un flair moral plus développé, nous serions aussi écœurés moralement par la rapacité de ceux qui cherchent a profiter et à accaparer sans égards pour autrui, que nous le sommes par une odeur nauséabonde.
** '''আমাদের নৈতিক বোধ যদি আরও উন্নত হতো, তবে অন্যদের তোয়াক্কা না করে যারা সুবিধা ভোগ করতে এবং দখল করতে চায় তাদের লালসা আমাদের কাছে পচা গন্ধের মতোই ঘৃণ্য মনে হতো।'''
*** পৃ. ৪৩।
* মানুষ সাধারণত পরিমাণের দিক থেকে বড় কোনো কিছুর দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত হতে পছন্দ করে। এভাবেই এমনকি চিন্তাশীল ব্যক্তিরাও [[নেপোলিয়ন]]-এর শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হন, এতটাই যে তারা তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে মহিমান্বিত বা রাজকীয় কিছু দেখতে পান, যখন আসলে তার কেবল স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। কেবল একজনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার তৃপ্তি মেটানোর জন্য পৃথিবীর অর্ধেক অংশ আগুনে এবং তরবারিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
** পৃ. ৪৩।
* অন্যায়ের আধিপত্য সব সময় পৃথিবীতে থাকায় কেউ কেউ কল্পনা করেন যে এই বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থা চিরকাল চলবে। এই ব্যবস্থা যে এখন পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছে তার প্রধান কারণ হলো মানুষের এই বিশ্বাস যে এটি ঈশ্বর নির্ধারিত।
** পৃ. ৪৫।
* Si dans un banquet quelqu’un s’avisait d’arracher aux convives les morceaux de la bouche, on serait unanime à trouver le procédé inique et brutal, mais quand par ailleurs la chose se pratique sous une forma moins apparente, on ne s’en montre guère offusqué.
** '''ভোজসভায় যদি কেউ অতিথিদের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেয়, তবে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অন্যায় ও বর্বর বলব, কিন্তু যখন একই কাজ আরও সূক্ষ্মভাবে করা হয়, তখন মানুষ খুব একটা বিরক্ত হয় না।'''
*** পৃ. ৪৬।
* স্বাধীনতার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।
** পৃ. ৪৬।
* কাজের সামাজিক সংগঠন মানবজাতির জন্য সমাধান করা সবচেয়ে জটিল এবং কঠিন সমস্যাগুলোর একটি। এই সংগঠন হিংস্রতা বা কেবল বাহ্যিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে এতে সাধারণ কাজে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন, এবং ফলস্বরূপ মানুষের একটি পুনর্জন্ম প্রয়োজন যা তাদের স্বার্থপরতা কাটিয়ে উঠতে এবং নিজেদের ও সমাজের প্রতি তাদের কর্তব্য বুঝতে সাহায্য করবে।
** পৃ. ৪৭।
* প্রকৃতিপ্রদত্ত মেধা যার যত বেশি, সেই মেধার অপব্যবহার করে লজ্জাজনক কাজে লিপ্ত হওয়া তার জন্য তত বেশি হতাশাজনক। একজন উচ্চপদস্থ জোচ্চোর বা প্রতারক একজন সাধারণ অপরাধীর চেয়ে বেশি নিন্দনীয়; একজন শিক্ষিত বুদ্ধিমান দুষ্কৃতকারী একজন অশিক্ষিত নিরক্ষর অপরাধীর চেয়ে বেশি দুঃখজনক ঘটনার প্রতিনিধিত্ব করে।
** পৃ. ৪৮।
* En s'adonnant trop exclusivement à la recherche d'un bonheur matériel, de biens éphémères, on méconnaît les vraies réalités dela vie et on laisse s'étioler et se dessécher l'esprit.
** '''পার্থিব সুখ এবং ক্ষণস্থায়ী সম্পদের সন্ধানে নিজেদের খুব বেশি মগ্ন রেখে আমরা জীবনের প্রকৃত বাস্তবতাকে উপেক্ষা করি এবং আমাদের আত্মাকে শুকিয়ে যেতে ও বিবর্ণ হতে দিই।'''
*** পৃ. ৪৯।
* উজ্জ্বল ব্যবসায় সফল হওয়া এবং বিশাল সাফল্য অর্জন করাই বেশিরভাগ মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রচেষ্টার লক্ষ্য। কিন্তু দিনের শেষে তারা এর জন্য কী পায়? নরম গদি, উন্নত মানের মাংস, সম্ভবত কিছু পদক বা সম্মাননা - এই তো সব। আর ভাবতে অবাক লাগে যে এমন অনেক গম্ভীর মানুষ আছেন যারা এই তুচ্ছ জিনিসের প্রত্যাশায় এবং অনুসন্ধানে তাদের পুরো জীবন ব্যয় করে দেন।
** পৃ. ৪৯।
* শিক্ষার চেয়ে ধ্বংসের জন্য দশ গুণ বেশি ব্যয় করা আমাদের সময়ের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে; এবং মানুষ নিজেকে যুক্তিযুক্ত প্রাণী বলে দাবি করে!
** পৃ. ৫০।
* সামাজিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় সৌজন্যের রূপগুলো পরার্থপরতার বিকল্প হিসেবে প্রয়োজনীয়।
** পৃ. ৫০।
* জাতির নেতাদের নিজেদের মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে মগ্ন থাকার চেয়ে মানব প্রকৃতির দীনতার আর কোনো ভালো উদাহরণ হতে পারে না।
** পৃ. ৫১।
* সবচেয়ে পবিত্র কর্তব্য এবং সর্বোচ্চ ও জরুরি কাজ হলো মানবতাকে কেইনের অভিশাপ অর্থাৎ ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ থেকে মুক্ত করা।
** পৃ. ৫১।
* সমাজের ন্যায়বিচার ও স্বার্থ দাবি করে যে আমরা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য অনেক বেশি কাজ করি।
** পৃ. ৫২।
* একটি মাকড়সাকে পাহাড়ের চূড়ায় বসিয়ে দিলে সে কেবল মাছি ধরারই চেষ্টা করবে; হায়, এমন অনেক আছেন যাদের মাকড়সার মতো দৃষ্টি।
** পৃ. ৫2।
* জীবনে আমরা কেবল উৎপাদন করতে, জয়ী হতে এবং যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চাই; বিজ্ঞানে যতটা সম্ভব আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করতে চাই; ধর্মে যতটা সম্ভব মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই; যেখানে চরিত্রের গঠন, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং মন ও হৃদয়ের পরিশুদ্ধিকে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
** পৃ. ৫২।
* La réalisation de la justice est, dans l’état actuel des choses, une question de vie ou de mort pour la société et pour la civilisation elle-même.
** '''ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সামাজিক অবস্থা এবং সভ্যতার জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।'''
*** পৃ. ৫৫।
* গভীরভাবে দেখলে সবকিছু একটি সাধারণ প্রশ্নে ফিরে আসে: আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচার এবং এই পৃথিবীতে উচ্চতর আদর্শের বাস্তবায়ন চাই? নাকি আমরা স্বার্থপর ও সংকীর্ণ স্বার্থের সেবা করতে চাই যা শেষ পর্যন্ত সেই স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের জন্যও ক্ষতিকর?
** পৃ. ৫৫।
* মানুষের বৌদ্ধিক বিকাশ মানুষকে যুদ্ধ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাদের মানুষ মারার শিল্পে আরও দক্ষ করে তুলেছে।
** পৃ. ৫৫।
* '''আমাদের যথাযথ আধ্যাত্মিক উপাদানের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ শূন্যতার কারণেই আমাদের ব্যস্ততা ও বিনোদনের প্রয়োজন হয়। অন্যথায় আমরা একঘেয়েমি অনুভব করি যা আসলে জীবনের মরীচিকার মধ্যে যখন আমাদের মন ডুবে থাকে না তখনকার অস্বস্তিকর অনুভূতি মাত্র।'''
** পৃ. ৫৬।
* পৃথিবীতে কেবল একটি জিনিসই মূল্যবান, তা হলো ভালো কাজ করা।
** পৃ. ৫৬।
* L’homme poursuit deux buts: il recherche le bonheur et, étant vide par essence, il cherche à remplir sa vie; ce dernier motif joue un rôle plus considérable qu’on ne le pense d’ordinaire. Ce que l’on prend pour vanité, ambition, amour du pouvoir et des riches, est souvent, en réalité, le besoin de masquer ce vide.
** মানুষ দুটি লক্ষ্য অনুসরণ করে: সে সুখ খোঁজে এবং সারমর্মে শূন্য হওয়ায় সে তার জীবন পূর্ণ করতে চায়; এই পরবর্তী উদ্দেশ্যটি সাধারণত যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যাকে অহংকার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদের প্রতি ভালোবাসা বলে মনে করি, তা আসলে প্রায়শই এই শূন্যতাকে ঢেকে রাখার প্রয়োজন মাত্র।
*** পৃ. ৫৬।
* যদি করুণা সব সময় একইভাবে জীবন্ত থাকত এবং সমস্ত পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে কাজ করত, তবে আমরা নৈতিকতা ছাড়াই চলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের মধ্যে সমবেদনা নয় বরং এর বিপরীত অর্থাৎ স্বার্থপরতা সবচেয়ে প্রবলভাবে কাজ করে।
** পৃ. ৫৭।
* মানুষের ওপর শিক্ষার এক বিশাল শক্তি রয়েছে। আমরা কি দেখতে পাই না স্পার্টার মানুষ শতাব্দী ধরে কী কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলেছে? আর তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য উদ্দেশ্যে: কেবল বাহ্যিক মহিমা এবং স্পার্টার সামরিক আধিপত্য। এই উদাহরণ প্রমাণ করে যে মানুষ যা চায় তাই করতে পারে; তাই প্রশ্নটি কেবল তাদের ভালো কাজ করতে আগ্রহী করা।
** পৃ. ৫৮।
* এখন পর্যন্ত সাধারণত আমরা তরুণদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরণের ধারণার এক হজম অযোগ্য স্তূপ ঠুসে দিয়েছি, তাদের চরিত্র গঠনের মূল প্রয়োজনের কথা যথেষ্ট চিন্তা না করেই।
** পৃ. ৫৮।
* '''কার্যকর হওয়ার জন্য নৈতিকতাকে যুক্তিযুক্ত হতে হবে। কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মন্দকে দমন করতে চাওয়া এবং ভেতর থেকে অনুপ্রাণিত না করে এক ধরণের জোরপূর্বক শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জন করা হলো একটি কৃত্রিম কাজ যা দীর্ঘস্থায়ী মূল্যহীন।'''
** পৃ. ৫৯।
* কেবল মুক্ত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নৈতিক শিক্ষা একটি মঙ্গলজনক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রকৃত নৈতিকতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
** পৃ. ৫৯।
* সমাজ এবং সেই সাথে মানবতার সংস্কারের কেবল একটি উপায় আছে; মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করা এবং তাদের নতুন আদর্শের দিকে পরিচালিত করা।
** পৃ. ৬০।
* যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাদের ভুল এবং ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হবে না, ততক্ষণ মানবজাতি তার প্রকৃত গন্তব্য অর্জনের পথে এগোতে পারবে না।
** পৃ. ৬০।
* বর্তমানে যেমনটি করা হচ্ছে নৈতিকতাকে ভৌত বিষয়ের কাছে বিসর্জন দেওয়া মানে ছায়ার জন্য বাস্তবতাকে বিসর্জন দেওয়া।
** পৃ. ৬১।
* আমরা কান্টের উদাহরণ অনুসরণ করে মানুষের নৈতিক বিকাশ ও উন্নতিকে মানব বিবর্তনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
** পৃ. ৬১।
* De même que l'humanité a commencé par des outils en silex, et est arrivé peu à peu aux machines si puissantes et perfectionnées d'aujourd'hui, de même l'homme, en se façonnant de génération en génération, arrivera à un degré de perfection dont l'exemple ne nous a été donné, jusqu'à présent, que par de rares individus.
** '''মানবজাতি যেমন চকমকি পাথরের হাতিয়ার দিয়ে শুরু করেছিল এবং ধীরে ধীরে আজকের শক্তিশালী ও উন্নত যন্ত্রপাতিতে পৌঁছেছে, তেমনি মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজেকে গড়ে তোলার মাধ্যমে এমন এক স্তরের পূর্ণতায় পৌঁছাবে যার উদাহরণ এখন পর্যন্ত কেবল বিরল কিছু ব্যক্তির মধ্যে দেখা গেছে।'''
*** পৃ. ৬২।
== সম্পর্কিত উক্তি ==
* আমি এমন কোনো দার্শনিক জানি না যিনি একই সাথে এত গভীর এবং এত সুনির্দিষ্ট।
** [[লিও তলস্তয়]], হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির (১৯৪৪) ''Evocation: Tolstoi, Nietzsche, [[রিলকে]], স্পির'', জেনেভা।
* আমি নিশ্চিত যে তার মতবাদটি প্রাপ্য মর্যাদা অনুযায়ী বোঝা ও মূল্যায়ন করা হবে এবং তার কাজের পরিণতি [[শোপেনহাওয়ার]]-এর মতোই হবে যিনি কেবল মৃত্যুর পরেই পরিচিতি ও প্রশংসা পেয়েছিলেন।
** [[লিও তলস্তয়]], হেলেন ক্লাপ্যারেড-স্পির (১৯৪৪) ''Evocation: Tolstoi, Nietzsche, [[রিলকে]], স্পির'', জেনেভা।
* Der von mir geschätzte Logiker heißt: A. Spir.
** আমি যে যুক্তিবিদকে মূল্যায়ন করি তার নাম: এ. স্পির।
*** [[ফ্রিডরিখ নিৎশে]]<ref>২০১১। ৯০৭। আর্নস্ট শমেইটজনা-কে কেমনিটজ-এ (নাউমবার্গ, ২২ নভেম্বর ১৮৭৯)। নিৎশে অনলাইন। বার্লিন, বোস্টন: ডি গ্রুইটার।</ref>
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:স্পির, আফ্রিকান}}
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার যুক্তিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার নন-ফিকশন লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৩৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৯০-এ মৃত্যু]]
j3fvp5mphbygf6rlgg5qnkl3pkm0yku
আল্যাঁ বাদিউ
0
12382
76065
2026-04-12T13:34:04Z
R1F4T
1240
"[[File:Badiou.jpg|thumb|২০০৬ সালে আল্যাঁ বাদিউ]] '''[[আল্যাঁ বাদিউ]]''' (জন্ম ১৭ জানুয়ারি ১৯৩৭) একজন সমসাময়িক ফরাসি দার্শনিক। বাদিউ সত্তা, সত্য, ঘটনা এবং কর্তা সম্পর্কে এমনভাবে লিখেছেন যা তা..." দিয়ে পাতা তৈরি
76065
wikitext
text/x-wiki
[[File:Badiou.jpg|thumb|২০০৬ সালে আল্যাঁ বাদিউ]]
'''[[আল্যাঁ বাদিউ]]''' (জন্ম ১৭ জানুয়ারি ১৯৩৭) একজন সমসাময়িক ফরাসি দার্শনিক। বাদিউ সত্তা, সত্য, ঘটনা এবং কর্তা সম্পর্কে এমনভাবে লিখেছেন যা তার মতে উত্তর-আধুনিক নয় আবার কেবল আধুনিকতার পুনরাবৃত্তিও নয়। বাদিউ বেশ কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত এবং নিয়মিত রাজনৈতিক ঘটনার ওপর মন্তব্য করেন। বাদিউ সাম্যবাদের অনুশীলনকে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে যুক্তি দেন।
== উদ্ধৃতি ==
===''[[সত্তা এবং ঘটনা]]'' (১৯৮৮)===
<small>[[অলিভার ফেলথাম]] কর্তৃক অনূদিত; (নিউ ইয়র্ক: কন্টিনুয়াম, ২০০৫)</small>
* ...তিনটি অভিমুখের মধ্যে একটির একতরফা পছন্দ আবশ্যক করে তোলে [...] আমি আমাদের স্থানকে সংগঠিত করে এমন বিযুক্ত সাময়িক বহুত্বকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষিপ্ত করব:
_১. আমরা গ্রিক এবং গ্যালিলীয় যুগের পর বিজ্ঞানের একটি ''তৃতীয় যুগের'' সমসাময়িক। এই তৃতীয় যুগটি যে ছেদ দিয়ে শুরু হয় তা (গ্রিকদের মতো) কোনো উদ্ভাবন নয় - যেমন প্রদর্শনমূলক গণিত - বা এটি (গ্যালিলীয়দের মতো) কোনো বিচ্ছেদও নয় - যা পদার্থবিজ্ঞানের ডিসকোর্সকে গণিতায়িত করেছিল। এটি একটি বিভাজন, যার মাধ্যমে গাণিতিক যৌক্তিকতার ভিত্তির আসল প্রকৃতি প্রকাশিত হয়, যেমনটি প্রকাশিত হয় চিন্তার সিদ্ধান্তের চরিত্র যা এটিকে প্রতিষ্ঠা করে।
_২. আমরা একইভাবে কর্তা মতবাদের একটি ''দ্বিতীয় যুগের'' সমসাময়িক। এটি আর সেই প্রতিষ্ঠাতা কর্তা নয়, যা কেন্দ্রাভিভূত এবং প্রতিফলিত, যার থিম দেকার্ত থেকে হেগেল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং যা মার্কস ও ফ্রয়েডের মধ্যে (প্রকৃতপক্ষে হুসার্ল এবং সার্ত্রেও) সুস্পষ্ট। সমসাময়িক কর্তা হলো শূন্য, বিভক্ত, অ-বস্তুগত এবং অ-প্রতিফলিত। অধিকন্তু, কেউ কেবল নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এর অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে যার শর্তাবলি কঠোর।
_৩. পরিশেষে, আমরা সত্যের মতবাদের একটি ''নতুন যাত্রার'' সমসাময়িক, যা জ্ঞানের সাথে এর জৈব সংযোগের বিলুপ্তির পর শুরু হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, আজ পর্যন্ত ''সত্যবাদিতা'', যেমনটি আমি একে ডাকি, নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজত্ব করেছে: এটি যতই অদ্ভুত মনে হোক না কেন, এটি বলা বেশ উপযুক্ত যে সত্য ইউরোপে (এবং অন্যত্র) একটি নতুন শব্দ। অধিকন্তু, সত্যের এই থিম হাইডেগারের (যিনি প্রথম একে জ্ঞান থেকে বিয়োগ করেছিলেন), গণিতবিদদের (যারা গত শতাব্দীর শেষে বস্তুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, ঠিক যেভাবে তারা পর্যাপ্ততার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন) এবং কর্তার আধুনিক তত্ত্বগুলোর (যা সত্যকে তার উচ্চারণ থেকে স্থানচ্যুত করে) পথ অতিক্রম করে।
<small>["ভূমিকা" থেকে, ''সত্তা এবং ঘটনা'', পৃ. ২-৩]</small>
* আমার এই উদ্যোগের প্রাথমিক থিম - যার ভিত্তিতে এই পর্যায়ক্রমিক জটিলতা প্রতিটি বিষয়ের অর্থ বের করে সংগঠিত হয় - তা হলো: সত্তা হিসেবে সত্তার বিজ্ঞান গ্রিকদের সময় থেকেই ''অস্তিত্বশীল'' ছিল - গণিতের অর্থ এবং মর্যাদা ঠিক এমনই। যাইহোক, এই বিষয়টি ''জানার'' উপায় আমাদের কেবল আজই হয়েছে। এই থিম থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে দর্শন সত্তাতত্ত্বের ওপর কেন্দ্রীভূত নয় - যা একটি পৃথক এবং সঠিক শৃঙ্খলা হিসেবে বিদ্যমান - বরং এটি এই সত্তাতত্ত্ব (যা গণিত), কর্তার আধুনিক তত্ত্ব এবং এর নিজস্ব ইতিহাসের মধ্যে ''চলাচল'' করে। দর্শনের শর্তাবলির সমসাময়িক সমষ্টির মধ্যে আমার প্রথম তিনটি বিবৃতিতে উল্লেখিত সবকিছু অন্তর্ভুক্ত: 'পাশ্চাত্য' চিন্তার ইতিহাস, ক্যান্টর-পরবর্তী গণিত, মনোবিশ্লেষণ, সমসাময়িক শিল্প এবং রাজনীতি। দর্শন এই শর্তাবলির কোনোটির সাথেই একীভূত হয় না; বা এটি যে সামগ্রিকতার অন্তর্ভুক্ত তাও মানচিত্রায়ন করে না। দর্শনের যা করা উচিত তা হলো একটি ধারণাগত কাঠামো প্রস্তাব করা যাতে এই শর্তাবলির সমসাময়িক সহ-সম্ভাব্যতা উপলব্ধি করা যায়। দর্শন এটি কেবল তখনই করতে পারে - এবং এটাই একে যেকোনো মৌলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত করে, যাতে এটি নিজেকে হারিয়ে ফেলত - যখন এটি তার নিজস্ব শর্তাবলির মধ্যে, একটি একক ডিসকার্সিভ পরিস্থিতি হিসেবে, বিশুদ্ধ গণিতের আকারে সত্তাতত্ত্বকেই চিহ্নিত করে। ঠিক এটাই দর্শনকে মুক্ত করে এবং সত্যের যত্নের দিকে পরিচালিত করে।
* ভূমিকা, পৃ. ৩-৪
* আমি তখন এই নিশ্চিতিতে পৌঁছেছিলাম যে এটি অনুমান করা প্রয়োজন যে গণিত তাই লেখে যা সত্তার নিজেরই, বহুত্বের একটি বিশুদ্ধ তত্ত্বের ক্ষেত্রে উচ্চারণযোগ্য। যুক্তিবাদী চিন্তার সমগ্র ইতিহাস আমার কাছে আলোকিত বলে মনে হয়েছিল যখন কেউ এই অনুমান গ্রহণ করে যে গণিত কোনো বস্তুহীন খেলা হওয়া তো দূরের কথা, সত্তাতত্ত্বের ডিসকোর্সকে সমর্থন করার জন্য বাধ্যবাধকতা থেকেই তার আইনের ব্যতিক্রমী কঠোরতা লাভ করে।
** ভূমিকা
* যদি 'গণিতই সত্তাতত্ত্ব' - এই থিমটির প্রতিষ্ঠা এই বইয়ের ভিত্তি হয়, তবে এটি কোনোভাবেই এর লক্ষ্য নয়।
** ভূমিকা
* '''এই বইটি এমন একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে যা কার্যকরভাবে দেকার্ত-পরবর্তী, বা এমনকি লাকান-পরবর্তী। এটি এমন একটি মতবাদ যা চিন্তার ক্ষেত্রে সত্তা এবং সত্যের মধ্যে হাইডেগারীয় সংযোগকে ছিন্ন করে এবং কর্তাকে প্রতিষ্ঠা করে, সমর্থন বা উৎস হিসেবে নয়, বরং একটি সত্যের প্রক্রিয়ার ''অংশ'' হিসেবে।'''
** ভূমিকা
* যদি একটি বিভাগকে আমার চিন্তার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়, তবে সেটি ক্যান্টরের বিশুদ্ধ বহুত্ব হবে না, গোডেলের গঠনযোগ্যতাও হবে না, শূন্যও হবে না যা দ্বারা সত্তার নামকরণ করা হয়, এমনকি সেই ঘটনাও হবে না যা থেকে সত্তা-নয়-এমন-কিছুর জন্ম হয়। এটি হবে ''জেনেরিক'' বা সাধারণ।
** ভূমিকা
* এর পারমেনাইডীয় সংগঠনের পর থেকে, সত্তাতত্ত্ব তার ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের প্রবেশদ্বার তৈরি করেছে নিম্নোক্ত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে: যা নিজেকে ''উপস্থাপন'' করে তা মূলত বহুত্ব; ''যা'' নিজেকে উপস্থাপন করে তা মূলত এক। একের এবং সত্তার পারস্পরিকতা নিশ্চিতভাবে দর্শনের উদ্বোধনী নীতি - লাইবনিজের সূত্র চমৎকার; 'যা ''একটি'' সত্তা নয় তা কোনো ''সত্তা'' নয়' - তবুও এটি এর অচলবস্থাও; একটি অচলবস্থা যাতে প্লেটোর ''পারমেনাইডস''-এর ঘূর্ণায়মান দরজাগুলো আমাদের কখনোই সিদ্ধান্তের মুহূর্তে না পৌঁছানোর এক অদ্ভুত আনন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। '''কারণ যদি সত্তা এক হয়, তবে একজনকে অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে যা এক নয়, অর্থাৎ বহুত্ব, তার কোনো ''অস্তিত্ব নেই''। কিন্তু চিন্তার জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয় কারণ যা উপস্থাপিত হয় তা বহুত্ব এবং কেউ দেখতে পায় না যে সমস্ত উপস্থাপনার বাইরে সত্তার কাছে পৌঁছানোর কোনো পথ আছে কিনা। যদি উপস্থাপনা না থাকে, তবে যা নিজেকে উপস্থাপন করে তাকে সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা কি এখনও অর্থবহ? অন্যদিকে, যদি উপস্থাপনা থাকে, তবে বহুত্বের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে।'''
** প্রথম ধ্যান: এক এবং বহুত্ব: যেকোনো সম্ভাব্য সত্তাতত্ত্বের ''আপ্রিওরি'' শর্তাবলি
* '''আমরা একটি সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি, সেই এক এবং বহুত্বের রহস্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত যাতে দর্শনের জন্ম এবং সমাধি ঘটে।'''
** প্রথম ধ্যান: এক এবং বহুত্ব: যেকোনো সম্ভাব্য সত্তাতত্ত্বের ''আপ্রিওরি'' শর্তাবলি
* সবকিছুই একের সত্তার একটি অনুমান (যা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে) এবং তার 'সেখানে আছে' থিমের মধ্যকার ব্যবধানকে আয়ত্ত করার ওপর নির্ভর করে।
** প্রথম ধ্যান: এক এবং বহুত্ব: যেকোনো সম্ভাব্য সত্তাতত্ত্বের ''আপ্রিওরি'' শর্তাবলি
===''নীতিশাস্ত্র: মন্দের উপলব্ধির ওপর একটি প্রবন্ধ'' (২০০০)===
<small>[[পিটার হলওয়ার্ড]] কর্তৃক অনূদিত; (নিউ ইয়র্ক: ভার্সো, ২০০০)</small>
* আজ যেভাবে সাধারণত এটি ব্যবহৃত হয়, সেই অনুযায়ী 'নীতিশাস্ত্র' শব্দটি মূলত মানবাধিকার বা 'মানুষের অধিকার' ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত। আমরা একটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত মানব কর্তার অস্তিত্ব ধরে নিই যার কিছু 'অধিকার' আছে যা এক অর্থে প্রাকৃতিক: বাঁচার অধিকার, নির্যাতন এড়ানোর অধিকার, 'মৌলিক' স্বাধীনতা (মতামতের, অভিব্যক্তির, সরকার নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পছন্দের ইত্যাদি) উপভোগ করার অধিকার। এই অধিকারগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ এবং একটি ব্যাপক ঐকমত্যের ফল হিসেবে ধরা হয়। 'নীতিশাস্ত্র' হলো এই অধিকারগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং সেগুলো যেন সম্মানিত হয় তা নিশ্চিত করা।
** প্রথম অধ্যায়, "মানুষের কি অস্তিত্ব আছে?"
* রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, যেকোনো সামষ্টিক রাজনৈতিক দিকচিহ্ন থেকে বঞ্চিত হয়ে, 'ইতিহাসের অর্থের' যেকোনো ধারণা থেকে বিচ্যুত হয়ে; এবং কোনো সামাজিক বিপ্লবের আশা বা প্রত্যাশা করতে না পেরে, অনেক বুদ্ধিজীবী জনমতের বড় অংশের সাথে পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের যুক্তির কাছে নতি স্বীকার করেছেন।
** প্রথম অধ্যায়, "মানুষের কি অস্তিত্ব আছে?"
* প্রশ্নের মূল অংশটি একটি সর্বজনীন মানব কর্তার অনুমানকে কেন্দ্র করে, যা নৈতিক বিষয়গুলোকে মানবাধিকার এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম। আমরা দেখেছি যে নীতিশাস্ত্র এই কর্তার পরিচয়কে তার প্রতি করা মন্দের সর্বজনীন স্বীকৃতির কাছে সমর্পণ করে। '''নীতিশাস্ত্র মানুষকে ''শিকার'' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।''' আপত্তি তোলা হবে: 'না! আপনি সেই সক্রিয় কর্তাকে ভুলে যাচ্ছেন যে বর্বরতার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে!' তাই আমাদের সুনির্দিষ্ট হতে হবে: মানুষ হলো ''সেই সত্তা যে নিজেকে শিকার হিসেবে চিনতে সক্ষম''।
** প্রথম অধ্যায়, তৃতীয় বিভাগ: "মানুষ কি জীবন্ত প্রাণী নাকি অমর অনন্যতা?"
==বিবিধ উদ্ধৃতি==
* সত্য হলো ইউরোপে (এবং অন্যত্র) একটি নতুন শব্দ।
** মূল ফরাসি: ''La vérité est un mot neuf en Europe (et ailleurs).''
** ''সত্তা এবং ঘটনা'' থেকে। প্যারিস, ১৯৮৮।
** উদ্ধৃতিটি [[লুই দ্য স্যাঁ-জুস্ত]]-এর "সুখ ইউরোপে একটি নতুন ধারণা"র একটি বৈচিত্র্য।
* গণিত ছাড়া আমরা অন্ধ।
** মূল ফরাসি: ''Hors les mathématiques, nous sommes aveugles.''
** ''কোর্ট ট্রাইতে দন্তোলজি ট্রানজিটোয়ার'' থেকে। প্যারিস, ১৯৯৮।
* এটি একেবারেই মিথ্যা যে যার সম্পর্কে কেউ কথা বলতে পারে না (এই অর্থে যে এটি সম্পর্কে বলার মতো এমন কিছু নেই যা এটিকে নির্দিষ্ট করে এবং এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রদান করে), তার সম্পর্কে অবশ্যই নীরব থাকতে হবে। বরং এর নামকরণ করতে হবে।
** মূল ফরাসি: ''Il est donc tout simplement faux que ce dont on ne peut parler (au sens ou il n'y a rien à en dire qui le spécifie, qui lui accorde des propriétés séparatrices), il faille le taire. Il faut au contraire le nommer...''
** ''দর্শনের ইশতেহার'' থেকে। আলবানি, ১৯৯৯।
** উদ্ধৃতিটি [[লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন]]-এর "যার সম্পর্কে কেউ কথা বলতে পারে না, তার সম্পর্কে অবশ্যই নীরব থাকতে হবে"র ওপর একটি মন্তব্য।
* সিনেমা হলো শিল্প এবং অ-শিল্পের মধ্যে সহজাত অবিচ্ছেদ্যতার একটি স্থান।
** ১৯৯৯ সালের একটি প্রবন্ধ থেকে।
* এটি অবশ্যই বলতে হবে যে আজ তার শব্দার্থিক বিবর্তনের শেষে, 'সন্ত্রাসী' শব্দটি একটি সহজাত প্রচারমূলক শব্দ। এর কোনো নিরপেক্ষ পঠনযোগ্যতা নেই। এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ এবং ফলাফল সম্পর্কে সমস্ত যুক্তিসঙ্গত পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে রেহাই দেয়।
** ২০০৩ সালের একটি প্রবন্ধ থেকে।
* যদি একটি একক বিশাল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অস্তিত্ব থাকে যারা সর্বদা নিশ্চিত যে তাদের সবচেয়ে নৃশংস স্বার্থই মঙ্গলের সাথে মিলে যায়; যদি এটি সত্য হয় যে প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং জার্মানির সম্মিলিত সামরিক বাজেটের চেয়েও বেশি ব্যয় করে; এবং যদি সেই জাতি-রাষ্ট্র, যা সামরিক আধিক্যের প্রতি নিবেদিত, তার সম্পদ ছাড়া অন্য কোনো জন আরাধ্য নেই, সেবক ছাড়া অন্য কোনো মিত্র নেই এবং অন্য জাতির প্রতি উদাসীন, বাণিজ্যিক ও নিন্দুক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া অন্য কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই; তবে রাষ্ট্র, জাতি এবং ব্যক্তিদের মৌলিক স্বাধীনতা হলো সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আদেশ, হস্তক্ষেপ এবং অনুপ্রবেশ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার জন্য সবকিছু করা এবং চিন্তা করা।
** ২০০৩ সালের একটি প্রবন্ধ থেকে।
* আমার মতে, কেবল তারাই যারা ধৈর্য না হারিয়ে লাকানের দর্শনের বিরোধিতাকে মোকাবিলা করার সাহস দেখিয়েছে, তারাই 'সমসাময়িক দার্শনিক' হিসেবে ডাকার যোগ্য।
** ২০০৪ সালের একটি প্রবন্ধ থেকে।
* শিল্প মানুষের মধ্যকার অমানবিকতার সাক্ষ্য দেয়।
** মূল ফরাসি: ''L'art atteste ce qu'il y a d'inhumain dans l'humain.''
** ''ল্য সিয়াকল'' থেকে। প্যারিস, ২০০৫।
* আমি আজ দেখে অবাক হই যে যা কিছু সাধারণ পুঁজিবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে না, তাকে প্রাচীন বা সেকেলে বলে মনে করা হয়, যেন আধুনিক হওয়ার অন্য কোনো সংজ্ঞাই নেই বরং কেবল বর্তমানের প্রভাবশালী রূপগুলোর মধ্যে আটকে থাকাই হলো আধুনিকতা।
** ২০০৫ সালের একটি সাক্ষাৎকার থেকে।
* প্রসঙ্গত বলা যাক যে যেহেতু (দার্শনিক) প্রতিকারগুলো প্রায়শই রোগের চেয়েও খারাপ হয়, তাই আমাদের যুগ প্লেটো রোগের নিরাময় পেতে এমন মাত্রায় আপেক্ষিকতাবাদী, অস্পষ্টভাবে সংশয়বাদী এবং নিস্তেজ নৈতিকতাবাদী ওষুধ গিলেছে যে এটি তার তথাকথিত গণতান্ত্রিক স্বাচ্ছন্দ্যের বিছানায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
** ২০০৫ সালের একটি ম্যাগাজিন থেকে।
* আমরা একটি বৈপরীত্যের মধ্যে বাস করি, একটি নৃশংস পরিস্থিতির মধ্যে, যা গভীরভাবে অসম – যেখানে সমস্ত অস্তিত্বকে কেবল অর্থের বিচারে মূল্যায়ন করা হয় – আমাদের কাছে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। তাদের রক্ষণশীলতাকে ন্যায্যতা দিতে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার প্রবক্তারা একে আদর্শ বা চমৎকার বলতে পারে না। তাই এর পরিবর্তে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বাকি সব কিছুই ভয়াবহ। তারা বলে, নিশ্চিতভাবেই আমরা নিখুঁত মঙ্গলের মধ্যে বাস করি না। কিন্তু আমরা ভাগ্যবান যে আমরা মন্দের মধ্যে বাস করি না। আমাদের গণতন্ত্র নিখুঁত নয়। কিন্তু এটি রক্তক্ষয়ী একনায়কতন্ত্রের চেয়ে ভালো। পুঁজিবাদ অন্যায্য। কিন্তু এটি স্ট্যালিনবাদের মতো অপরাধী নয়। আমরা লক্ষ লক্ষ আফ্রিকানকে এইডস রোগে মরতে দিই, কিন্তু আমরা মিলোসেভিচের মতো বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী ঘোষণা দিই না। আমরা আমাদের বিমানে ইরাকিদের হত্যা করি, কিন্তু আমরা রুয়ান্ডার মতো মাচেত দিয়ে তাদের গলা কাটি না ইত্যাদি।
** [[মার্ক ফিশার]]-এর ''[[পুঁজিবাদী বাস্তবতা]]'' (২০০৯) থেকে।
==আল্যাঁ বাদিউ সম্পর্কে উদ্ধৃতি==
* বাদিউ যেকোনো মানদণ্ড অনুযায়ী ফ্রান্সে কাজ করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক দার্শনিক এবং সম্ভবত 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক ফরাসি দার্শনিক' - এই অর্থহীন কিন্তু অনিবার্য খেতাবের জন্য দেলেজ এবং দেরিদার একমাত্র গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বী।
** পিটার হলওয়ার্ড, নীতিশাস্ত্র
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{Social and political philosophers}}
{{DEFAULTSORT:বাদিউ, আল্যাঁ}}
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের কবি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৩৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের অ্যাক্টিভিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্রান্সের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:মাওবাদী]]
gcucjpiurgggdrwodlty3hezlhah5gv
আলাপ:আফ্রিকান স্পির
1
12383
76067
2026-04-12T13:35:04Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76067
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আলাপ:আল্যাঁ বাদিউ
1
12384
76069
2026-04-12T13:37:58Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76069
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
অ্যান্ড্রু সেগা
0
12385
76071
2026-04-12T13:41:21Z
R1F4T
1240
"[[File:Andrew1.jpg|thumb|right|একটি গান কেবল সুরেলা রিফের সমষ্টি নয়, এটি একটি আবেগপূর্ণ প্রকাশ।]] '''[[অ্যান্ড্রু সেগা]]''' (জন্ম [[২০ মে]] [[১৯৭৫]]), যিনি '''নেক্রোস''' নামেও পরিচিত, একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল..." দিয়ে পাতা তৈরি
76071
wikitext
text/x-wiki
[[File:Andrew1.jpg|thumb|right|একটি গান কেবল সুরেলা রিফের সমষ্টি নয়, এটি একটি আবেগপূর্ণ প্রকাশ।]]
'''[[অ্যান্ড্রু সেগা]]''' (জন্ম [[২০ মে]] [[১৯৭৫]]), যিনি '''নেক্রোস''' নামেও পরিচিত, একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি ১৯৯০-এর দশকের [[ডেমোসিন|ডেমোসিনে]] ট্র্যাকিং মডিউলের জন্য এবং বেশ কিছু জনপ্রিয় ভিডিও গেমের সঙ্গীত রচনার জন্য পরিচিত। তিনি বর্তমানে [[আইরিস (ইলেক্ট্রোপপ ব্যান্ড)|আইরিস]] ব্যান্ডের অংশ, [[স্ট্রোমকার্ন|স্ট্রোমকার্নের]] একজন লাইভ সদস্য এবং তার নিজস্ব রেকর্ডিং লেবেল [[ডিফিউশন রেকর্ডস|ডিফিউশন রেকর্ডস]] রয়েছে। সেগা দ্য আলফা কনস্পিরেসি প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা।
== উৎস ==
* আমি মনে করি সঙ্গীত এমন একটি শিল্প যা আমাদের ভেতরে প্রবাহিত আবেগগুলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে। এটি তার নিজের চেয়েও বড় কিছু বহন করে।
** [http://www.club.cc.cmu.edu/pub/scene.org/parties/1995/naid95/misc/dn-naid_089.txt এনএআইডি '৯৫ (NAID '95)]
* আমি উপলব্ধি করতে শুরু করেছি যে ট্যুরিংয়ের মধ্যে আসলে কিছুই না করে বসে থাকার অনেক অপেক্ষার বিষয় থাকে।
** [http://www.irismusic.com/devision_tour/page1.htm ডি/ভিশন + আইরিস জার্মানি ট্যুর ডায়েরি ২০০৪]
* একটি গান কেবল সুরেলা রিফের সমষ্টি নয়, এটি একটি আবেগপূর্ণ প্রকাশ।
** [http://www.novusmusic.org/traxweek.html "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫]
* একটি ড্রাম ট্র্যাক লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ ব্যর্থতাগুলোর একটি হলো পুনরাবৃত্তি। পুরো গান জুড়ে কেউ সেই একই নির্বোধ ১৬-লাইনের বেস-স্নিয়ার প্যাটার্ন শুনতে চায় না। আপনার মা কি আপনাকে শেখাননি যে বৈচিত্র্যই জীবনের স্বাদ?
** "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫
* মজার জন্য শো করা এবং টাকার নিদারুণ প্রয়োজনে শো করার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।
** [http://www.electrogarden.com/features/iris/ ইলেক্ট্রোগার্ডেন-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার]
* আমি মনে করি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আপনাকে সত্যিই বিভিন্ন ধরণের রুচি থাকতে হবে, অন্যথায় আপনি অজান্তেই একঘেয়েমির মধ্যে পড়ে যাবেন।
** [http://www.connexionbizarre.net/interviews/iris-an-interview-with-andrew-sega-and-reaganjones কানেকশন বিজার-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার, ২০০৯]
* আমি সম্ভবত চমৎকার সুর/সমন্বয় এবং আকর্ষণীয়/তালবদ্ধ বিটগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হই।
** কানেকশন বিজার-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার, ২০০৯
* কিছু মানুষ বলে "ওহ, আমি গিটার ঘৃণা করি।" আপনি কীভাবে একটি গিটারকে ঘৃণা করতে পারেন? এর কোনো মানে হয় না। এটি কেবল একটি যন্ত্র।
** [http://www.angelfire.com/music5/aeschtunes/interviews/iris.html আইরিসের সাথে সাক্ষাৎকার]
* আমি অনেক ক্লাবে বাজানো গানকে অত্যন্ত বিরক্তিকর মনে করি।
** [http://www.gothtronic.com/?page=23&interviews=899 গথট্রনিক-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার]
* আজকাল একটি সমস্যা হলো শোনার মতো গানের বিশাল পরিমাণ। একজনের পক্ষে সব ব্যান্ড অন্বেষণ করার আশা করা সম্ভব নয়।
** [http://www.connexionbizarre.net/interviews/diffusion-records-an-interview-with-andrew-sega/ কানেকশন বিজার-এ সাক্ষাৎকার, ২০০৭]
* আদর্শভাবে, একটি গানে উচ্চ সুরেলা উত্তেজনা এবং নিম্ন সুরেলা উত্তেজনা — উভয় উপাদানই থাকা উচিত। কোনো শ্রোতাই সিন্থ ম্যানিয়ার মধ্য দিয়ে ১৮০ বিপিএম-এর বিরতিহীন ৬ মিনিটের সম্পূর্ণ উচ্চ-শক্তির সফরের মধ্যে বসে থাকতে চায় না, যদি না তারা কোনো ধোঁয়াটে ক্লাবের ড্যান্স ফ্লোরে পাগলের মতো নাচতে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া, যদি আপনার শ্রোতা প্রচণ্ড ঘোরে না থাকে, তবে সে আপনার ১৮ মিনিটের অ্যাম্বিয়েন্ট সুরটি উপভোগ করবে না যা একই অলস পিয়ানো রিফের পুনরাবৃত্তি নিয়ে গঠিত।
** "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫
* সিলিকন কিছু মৌলিক সীমার কাছে পৌঁছায়; জৈবিক আনন্দই হলো আত্মার ধারক।
** [http://modarchive.org/index.php?request=view_by_moduleid&query=46539#texts আইসোটক্সিন লেখকের মন্তব্য, ১৯৯৫]
=== স্ট্যাটিক লাইন সাক্ষাৎকার, ১৯৯৮ ===
* সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত তত্ত্বগুলো একবার বুঝতে পারলে আপনি মোটামুটি যেকোনো যন্ত্রই তুলে নিতে পারেন যা আপনি চান।
* আমি ছোটবেলা থেকেই রহস্যময় কর্ড প্রগ্রেশনের প্রতি মুগ্ধ ছিলাম। কৌশলটি হলো সেগুলোকে আকর্ষণীয় রাখা এবং একই সাথে 'স্বাভাবিকতার' সীমানার মধ্যে রাখা (অন্যথায় শ্রোতার সেই প্রগ্রেশনগুলো বোঝার কোনো প্রেক্ষাপট থাকে না)।
* যে কেউ যথেচ্ছভাবে ট্রায়াড বেছে নিয়ে একটি 'অদ্ভুত' কর্ড প্রগ্রেশন তৈরি করতে পারে।
* যেকোনো সহযোগিতার মতো, আপনাকে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে যে আপনার সঙ্গীত তৈরির 'মোড'-এ আছে।
* সাধারণত সঙ্গীতশিল্পীদের অহং এবং ব্যক্তিত্বের খামখেয়ালি থাকে যা সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা গড়ে তোলা কঠিন করে তোলে (অন্তত দীর্ঘ সময়ের জন্য)।
* আমি কেবল অসামঞ্জস্যতার খাতিরে অসামঞ্জস্যতা পছন্দ করি না - অনেক লোক রিদমিক বৈচিত্র্যকে এতটাই দূরে ঠেলে দেয় যে সঙ্গীতের মৌলিক স্পন্দন হারিয়ে যায় (এবং শ্রোতা বিভ্রান্ত হয়)।
* দুর্ভাগ্যবশত প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সাথে সাথে যা 'আন্ডারগ্রাউন্ড' ছিল তা এখন অপ্রচলিত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
* আমি মনে করি সাধারণ মানুষ একটি গানের সামগ্রিক অনুভূতির ওপর বিচার করে, ব্যক্তিগত স্যাম্পল দেখে নয়। যদি একটি স্যাম্পল গানে খুব বেশি অবদান রাখে এবং স্যাম্পলটি চেনা যায়, তবে সেই পিসের ওপর মতামত কমে যায়।
* অনেক কারণে গানের 'সেরা দশ' তালিকা তৈরি করা কঠিন। আমি সঙ্গীতের অনেক শৈলী পছন্দ করি এবং একে অপরের থেকে আমূল ভিন্ন ধরণের সঙ্গীতের তুলনা করা কঠিন।
* আমি যদি আমার সঙ্গীত থেকে টাকা কামানোর বিষয়ে মগ্ন থাকতাম, তবে আমি গত ৫ বছর ধরে ইন্টারনেটে এটি বিনামূল্যে প্রকাশ করতাম না।
* আমি 'ইলেকট্রনিকা'-র প্রতি অনেক বেশি অনুরাগী (হ্যাঁ, আমি জানি এটি আজকাল ক্লিশে)।
* আমার অনেক গানে বিভিন্ন অদ্ভুত বিষয় থাকে — সাধারণত এটি গভীর রাতের উন্মাদনার ফল।
* মাঝে মাঝে যদি আপনি খুব বেশি পালিশ করেন, তবে আপনি এর উজ্জ্বলতা ঘষে তুলে ফেলেন।
* আমার মনে হয় প্রতিটি সঙ্গীতশিল্পীই কোনো না কোনোভাবে বিশ্বকে তার নিজের রুচি অনুযায়ী পরিবর্তন করতে চায়... সেজন্যই আমি সঙ্গীত লিখি।
* আমি যতটা সম্ভব সঙ্গীতকে শ্রেণীবদ্ধ করা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আজকাল সবাই সবার কাছ থেকে এত কিছু চুরি করে যে ঘরানাগুলোর মধ্যকার সীমারেখাগুলো খুব ঝাপসা হয়ে গেছে।
* শৈল্পিক বিবর্তন আসে অন্য মানুষ কী করেছে তা শোনার এবং একটি ডারউইনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে।
* আমি দেখতে চাই মানুষ শব্দ কম স্যাম্পল করুক এবং শৈলী কিছুটা বেশি স্যাম্পল করার চেষ্টা করুক। কিছু মানুষ এই ধরণের 'অনুকরণকে' আপত্তিকর মনে করে... আমি উল্টোটা ভাবি — সমস্ত সঙ্গীতই অনুকরণ এবং প্রসারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
* দুর্ভাগ্যবশত [[স্টিং (সঙ্গীতশিল্পী)|স্টিংয়ের]] জ্যাজ কাজগুলো তার রক গানের মতো উদ্ভাবনী নয়।
* আমি মনে করি আমরা শীঘ্রই এমন এক নতুন জাতের সঙ্গীতশিল্পী দেখতে পাব যাদের আধুনিক কর্ডাল সেন্স (জ্যাজ) এবং সিন্থেসাইজার ও নতুন ধরণের শব্দের (ইলেকট্রনিকা/টেকনো/ডিজে সিন থেকে) ওপর উচ্চ পর্যায়ের দখল থাকবে।
* সঙ্গীত আসলে অনুপাত এবং হারমোনিক গণিত ছাড়া আর কিছুই নয়।
=== অ্যান্ড্রু সেগা শ্রাইন সাক্ষাৎকার, ২০১১ ===
* আমার ট্র্যাক করা অনেক সঙ্গীত যখন আমি খুব ছোট ছিলাম তখন লেখা হয়েছিল, তুলনামূলকভাবে বলতে গেলে। আমি খুব আশাবাদী ছিলাম, অবশেষে আমি জনসমক্ষে সঙ্গীতের বহিঃপ্রকাশের পথ খুঁজে পেয়েছিলাম, এটি ছিল সাধারণত একটি খুব সুখের সময়। তাই সেই সময়ের সঙ্গীত সম্ভবত সেটিই প্রতিফলিত করে, আমি মনে করি। আমি যখন আলফা কনস্পিরেসি প্রজেক্ট শুরু করি, আমি তখন বড় হয়েছিলাম, কিছুটা বেশি পরিশীলিত (এবং কিছুটা নিন্দুক) হয়েছিলাম এবং তাই সঙ্গীত আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।
* আমরা মধ্যযুগে এমন সঙ্গীত তৈরি করা শুরু করেছিলাম যার নির্দিষ্ট পছন্দসই শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল (উদাহরণস্বরূপ, একটি মেজর কর্ড শুনতে "সুন্দর" লাগে কারণ ফ্রিকোয়েন্সিগুলো একে অপরের সাথে পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে থাকে)। এবং তারপর সমাজ বিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে আমরা নির্দিষ্ট যন্ত্র এবং প্রগ্রেশনের জন্য এই আবেগপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলো তৈরি করেছি। মেজর-কর্ড আরপেজিও শুনতে "সুখী" মনে হয়, মাইনর কর্ড শুনতে "দুঃখিত" মনে হয়, ক্রোমাটিক স্কেল "ভীতিকর" মনে হতে পারে ইত্যাদি। ২০ শতকে চলচ্চিত্র সাউন্ডট্র্যাকগুলো এই বিষয়টি আরও শক্তিশালী করেছিল কারণ মানুষ নির্দিষ্ট ধরণের সঙ্গীতকে নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল এবং আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করেছিল। এটি আসলে একটি বিশাল ফিডব্যাক লুপ; আপনি যখন একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠেন, এটি আপনার ওপর এই সঙ্গীত ছাপ ফেলে যায় যা আপনার অভিজ্ঞতাকে রঙিন করে।
* কাউকে আবেগগতভাবে প্রভাবিত করার জন্য একটি সঙ্গীত পিসকে "আকর্ষণীয়" সুরেলা, সমন্বয় বা রিদমিক বিষয়বস্তু ধারণ করতে হবে এবং "আকর্ষণীয়" কী তা নির্ধারণ করা শ্রোতার ওপর নির্ভর করে।
* আপনি যুক্তি দিতে পারেন যে বাখ ফিউগের মধ্যে সম্ভবত কিছু গাণিতিক আগ্রহ আছে, কিন্তু সঙ্গীতের একমাত্র জিনিস যা সত্যিই ভালো করে তা হলো মানুষকে "আলোড়িত" করা — তাদের কিছু অনুভব করানো।
* তাই আপনি যদি পৃথিবীর যে কাউকে সি মেজর কর্ড বাজিয়ে শোনান, তারা বলবে যে এটি শুনতে "সুসংগত" (বা আনন্দদায়ক বা সুখী ইত্যাদি)। কিন্তু এখন আপনি যখন কর্ড এবং সুরগুলোকে একটি ক্রমানুসারে সাজিয়ে "গান" নামক একটি বড় পিস তৈরি করতে চান, তখন সেটি অনেক বেশি কঠিন প্রক্রিয়া এবং খুব বিষয়গত হয়ে ওঠে। সেই পয়েন্টে এটি কেবল কর্ড নয়, এটি গানের কথা, তাল, যন্ত্রসঙ্গীত, টেম্পো, তীব্রতা এবং আরও অনেক কিছু যা একটি গানে মিশে থাকে... এত বেশি ভেরিয়েবল যে একটি গান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব।
* অবশ্যই এমন কিছু গান আছে যা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এবং আপনি সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে তা দেখার জন্য কিছু রিভার্স অ্যানালিসিস ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু নির্ভরযোগ্যভাবে একটি "হিট" তৈরি করা কঠিন। এর সাথে সাংস্কৃতিক রুচির ক্রমাগত পরিবর্তন যুক্ত করুন এবং আপনি দেখতে পাবেন যে সঙ্গীত শিল্প অন্য সবকিছুর চেয়ে লটারি খেলার মতো। কিছু প্রতিভা বা রুচি থাকা আপনাকে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু এটি এখনও একটি বিশাল রুলেট হুইল।
* যখন সঙ্গীত কাউকে "আলোড়িত" করে, তখন এটি অগত্যা ইতিবাচক দিকে হতে হবে এমন নয়। কিছু মানুষ অবশ্যই অন্ধকার সঙ্গীতের দ্বারা আলোড়িত হয় এবং সঙ্গীতে সব ধরণের আবেগ তৈরি হতে পারে যা আকর্ষণীয় — আগ্রাসন, পূর্বাভাস, রাগ, ভয়। সবাই সব সময় সুখী থাকতে চায় না :)
* যদি কেউ কেবল নিকেলব্যাক (Nickelback) শোনে, তবে তাদের মতামত বৈধ কিন্তু মূলত অর্থহীন কারণ তারা আলোচনায় কোনো গভীরতা আনতে পারে না :)
* আমি মনে করি কিছু বিষয়গত গাণিতিক গুণাবলী আছে... কোনো কিছু কতটা জটিল, কতটা সুরেলা, সুরের বৈচিত্র্য কতটা ইত্যাদি। কিন্তু আমি এমন একটি সঙ্গীত পিস তৈরি করতে পারি যা এগুলোর সব ধারণ করে এবং তবুও বিষয়গত দৃষ্টিকোণ থেকে তা "ভালো" নয়। উদাহরণস্বরূপ, বিথোভেনের "মুনলাইট সোনাটা", বিটলসের "ইয়েস্টারডে" এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের "বর্ন স্লিপি" নিন এবং সেগুলোকে একই সময়ে একে অপরের ওপর বাজান। সেগুলো নিজেদের মধ্যে দুর্দান্ত সঙ্গীত, কিন্তু একসাথে শুনতে ভয়াবহ।
* ১৮৫০-এর দশকের কারো কাছে নির্ভানা বা বিটি (BT) ট্র্যাক বাজানোর কথা কল্পনা করুন, তারা সম্ভবত এটিকে শব্দ ছাড়া আর কিছু মনে করবে না। সামগ্রিকভাবে সমাজের এখন সঙ্গীত কী হতে পারে সে সম্পর্কে অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি এখনও সাধারণত বিভিন্ন রিদমিক, সুরেলা এবং ভোকাল উপাদান ধারণ করে, কিন্তু সেগুলো এখন অনেক আকর্ষণীয় উপায়ে সংমিশ্রিত হতে পারে।
* প্রগ্রেসিভ রকের সাধারণ সমস্যা হলো ব্যান্ডটি তাদের নিজস্ব ফ্যান্টাসি জগতের মধ্যে এতটাই মগ্ন হয়ে যেতে পারে যে তাদের সঙ্গীত সম্পূর্ণ অগম্য হয়ে ওঠে।
* আমি সস্তা সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী। আমি কোনো ব্যান্ডের নাম লিখে নিজেকে বিব্রত করতে চাই না ;D
* আমি মনে করি ব্রিটনি স্পিয়ার্স একটি কৃত্রিম কাঠামোর নিখুঁত উদাহরণ — এমন কেউ যার একটি ভালো কণ্ঠ এবং খুব বিক্রয়যোগ্য ইমেজ আছে, যাকে প্রযোজক এবং ব্যবসায়ীরা পপ তারকায় পরিণত করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত আমি মনে করি এটি তার ওপর মানসিকভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং সাফল্য তার জীবনে যে ঝামেলা এনেছে তার জন্য আমি খারাপ বোধ করি। যাইহোক, তার সঙ্গীত অনেকটা ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার মতো এবং তার ম্যাডোনার মতো বুদ্ধিমত্তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নেই।
* আজকাল সমস্যা হলো আবার প্রচুর পরিমাণে সঙ্গীতের সহজলভ্যতা এবং সঙ্গীত মানুষের জীবনে ২১ শতকে আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা নয়।
* কেউ যদি আমাকে একটি সঙ্গীত লেবেল চালানোর জন্য দশ লক্ষ ডলার দেয়, তবে আমি একটি নির্দিষ্ট শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং একটি ফ্যানবেস তৈরির চ্যানেলের ওপর ফোকাস করব। ওয়ার্প রেকর্ডস (Warp Records) একটি লেবেলের দুর্দান্ত উদাহরণ ছিল যার একটি নির্দিষ্ট শৈলী ছিল এবং অনেক মানুষ কেবল রেকর্ড কিনত কারণ শিল্পীরা সেই লেবেলের সাথে যুক্ত ছিল।
* আমি দর্শন পছন্দ করি। উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি কীভাবে কাজ করে তা আবিষ্কার করার চেষ্টা করা চমৎকার। আমি সবসময়ই হৃদয়ে একজন আপেক্ষিকতাবাদী এবং অন্যদের দার্শনিক ধারণাগুলো পড়া ও তারা তাদের বিশেষ লেন্স দিয়ে বিশ্বকে কীভাবে দেখে তা দেখা আমি খুব আকর্ষণীয় মনে করি।
* আমি মনে করি বিশ্বের বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব সরাসরি মানুষের বাস্তবতার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার ফলাফল, অথবা আপনি একে তাদের লেন্সের "বিকৃতি" বলতে পারেন। একজন মানুষ যা করতে পারে তা হলো যতটা সম্ভব জ্ঞান অর্জন করা, আপনার অভিজ্ঞতা এবং অন্যদের কথা উভয় থেকেই, যাতে বিশ্বের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা যায়।
* একজন মানুষ একটি জটিল জৈবিক/বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা যা একটি সংস্কৃতির মধ্যে নিমজ্জিত। একটি বানরকে মানুষের মতো করে বড় করার চেষ্টা করুন, এটি কাজ করবে না, একটি প্রকৃত বুদ্ধিমান প্রাণী তৈরির জন্য আপনার মানুষের নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের বৈশিষ্ট্য (স্ব-প্রতিফলনসহ) প্রয়োজন। মস্তিষ্ক ইনপুট এবং উপলব্ধিকে খুব সুনির্দিষ্ট উপায়ে প্রসেস করে এবং আমি মনে করি যতক্ষণ না আমরা অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি, ততক্ষণ সফটওয়্যারে এটিকে অনুকরণ করার কোনো উপায় নেই। কম্পিউটার সহজ বিশ্লেষণে এবং প্রক্রিয়াকরণ শক্তিতে ভালো হতে থাকবে, কিন্তু আবেগের সূক্ষ্মতা মানুষের শরীর এবং সংস্কৃতির সহজাত বিষয়।
* ধর্ম একটি সহজ উত্তর যা সমাজ তৈরি করেছে মানুষকে ভালো অনুভব করানোর জন্য, কিন্তু এর বৈধতার খুব কম প্রমাণ আছে। বিশ্বে হাজার হাজার ধর্ম আছে, যার প্রতিটির নিজস্ব "সঠিক" উত্তর আছে এবং প্রতিটি একে অপরের বিপরীত। আপাতত আমার কাছে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা হলো আমরা মহাজাগতিক কারণগুলোর একটি ভাগ্যবান সংমিশ্রণের ফল, আমরা এই নির্দিষ্ট গ্রহে জন্মানো "ছাঁচ" এবং আমাদের মতো বিশাল মহাবিশ্বে এটি প্রত্যাশিত যে কোথাও না কোথাও এমনটি ঘটবে।
* মানবজাতির জন্য কোনো উচ্চ-স্তরের উদ্দেশ্য না-ও থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা বিশ্বে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাব না। আমি মনে করি মনস্তাত্ত্বিক এবং পরিবেশগত কারণগুলোর একটি সংমিশ্রণ আছে যা মানবজাতির মধ্যে বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বে কিছু অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা, আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বদর্শন প্রকাশ করার এবং বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেয় তা দেখার আকাঙ্ক্ষা। শিল্প শূন্যতায় ঘটে না এবং যদি এটি কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য হতো তবে কেউ কখনও জনসাধারণের কাছে সঙ্গীত প্রকাশ করত না। প্রক্রিয়াটি আপনাকে পরিবর্তন করে এবং বিশ্বের নিজেরও পরিবর্তন ঘটায়, অনুপ্রেরণার তরঙ্গ তৈরি করে যা শিল্পী এবং শ্রোতার মধ্যে প্রবাহিত হয়।
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
*[http://alphaconspiracy.com/ দ্য আলফা কনস্পিরেসি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://www.diffusionrecords.com/ ডিফিউশন রেকর্ডস অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://www.irismusic.com/ আইরিস অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://web.textfiles.com/ezines/STATICLINE/sl-011.txt স্ট্যাটিক লাইন সাক্ষাৎকার, ১৯৯৮]
*[http://web.archive.org/web/20120717023422/http://necros.gibdon.com/news/interview অ্যান্ড্রু "নেক্রোস" সেগা সাক্ষাৎকার, ২০১১]
{{DEFAULTSORT:সেগা, অ্যান্ড্রু}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুরকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:কীবোর্ডবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গিটারবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত প্রযোজক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রামার]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৫-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রোড আইল্যান্ডের গায়ক]]
sv9r40ycdqmp79m1pxw72qlzwebml8u
76310
76071
2026-04-13T07:02:42Z
R1F4T
1240
76310
wikitext
text/x-wiki
[[File:Andrew1.jpg|thumb|right|একটি গান কেবল সুরেলা রিফের সমষ্টি নয়, এটি একটি আবেগপূর্ণ প্রকাশ।]]
'''[[অ্যান্ড্রু সেগা]]''' (জন্ম [[২০ মে]] [[১৯৭৫]]), যিনি '''নেক্রোস''' নামেও পরিচিত, একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি ১৯৯০-এর দশকের [[ডেমোসিন|ডেমোসিনে]] ট্র্যাকিং মডিউলের জন্য এবং বেশ কিছু জনপ্রিয় ভিডিও গেমের সঙ্গীত রচনার জন্য পরিচিত। তিনি বর্তমানে [[আইরিস (ইলেক্ট্রোপপ ব্যান্ড)|আইরিস]] ব্যান্ডের অংশ, [[স্ট্রোমকার্ন|স্ট্রোমকার্নের]] একজন লাইভ সদস্য এবং তার নিজস্ব রেকর্ডিং লেবেল [[ডিফিউশন রেকর্ডস|ডিফিউশন রেকর্ডস]] রয়েছে। সেগা দ্য আলফা কনস্পিরেসি প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা।
== উৎস ==
* আমি মনে করি সঙ্গীত এমন একটি শিল্প যা আমাদের ভেতরে প্রবাহিত আবেগগুলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে। এটি তার নিজের চেয়েও বড় কিছু বহন করে।
** [http://www.club.cc.cmu.edu/pub/scene.org/parties/1995/naid95/misc/dn-naid_089.txt এনএআইডি '৯৫ (NAID '95)]
* আমি উপলব্ধি করতে শুরু করেছি যে ট্যুরিংয়ের মধ্যে আসলে কিছুই না করে বসে থাকার অনেক অপেক্ষার বিষয় থাকে।
** [http://www.irismusic.com/devision_tour/page1.htm ডি/ভিশন + আইরিস জার্মানি ট্যুর ডায়েরি ২০০৪]
* একটি গান কেবল সুরেলা রিফের সমষ্টি নয়, এটি একটি আবেগপূর্ণ প্রকাশ।
** [http://www.novusmusic.org/traxweek.html "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫]
* একটি ড্রাম ট্র্যাক লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ ব্যর্থতাগুলোর একটি হলো পুনরাবৃত্তি। পুরো গান জুড়ে কেউ সেই একই নির্বোধ ১৬-লাইনের বেস-স্নিয়ার প্যাটার্ন শুনতে চায় না। আপনার মা কি আপনাকে শেখাননি যে বৈচিত্র্যই জীবনের স্বাদ?
** "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫
* মজার জন্য শো করা এবং টাকার নিদারুণ প্রয়োজনে শো করার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।
** [http://www.electrogarden.com/features/iris/ ইলেক্ট্রোগার্ডেন-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার]
* আমি মনে করি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আপনাকে সত্যিই বিভিন্ন ধরণের রুচি থাকতে হবে, অন্যথায় আপনি অজান্তেই একঘেয়েমির মধ্যে পড়ে যাবেন।
** [http://www.connexionbizarre.net/interviews/iris-an-interview-with-andrew-sega-and-reaganjones কানেকশন বিজার-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার, ২০০৯]
* আমি সম্ভবত চমৎকার সুর/সমন্বয় এবং আকর্ষণীয়/তালবদ্ধ বিটগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হই।
** কানেকশন বিজারে আইরিসের সাক্ষাৎকার, ২০০৯
* কিছু মানুষ বলে "ওহ, আমি গিটার ঘৃণা করি।" আপনি কীভাবে একটি গিটারকে ঘৃণা করতে পারেন? এর কোনো মানে হয় না। এটি কেবল একটি যন্ত্র।
** [http://www.angelfire.com/music5/aeschtunes/interviews/iris.html আইরিসের সাথে সাক্ষাৎকার]
* আমি অনেক ক্লাবে বাজানো গানকে অত্যন্ত বিরক্তিকর মনে করি।
** [http://www.gothtronic.com/?page=23&interviews=899 গথট্রনিক-এ আইরিসের সাক্ষাৎকার]
* আজকাল একটি সমস্যা হলো শোনার মতো গানের বিশাল পরিমাণ। একজনের পক্ষে সব ব্যান্ড অন্বেষণ করার আশা করা সম্ভব নয়।
** [http://www.connexionbizarre.net/interviews/diffusion-records-an-interview-with-andrew-sega/ কানেকশন বিজারে সাক্ষাৎকার, ২০০৭]
* আদর্শভাবে, একটি গানে উচ্চ সুরেলা উত্তেজনা এবং নিম্ন সুরেলা উত্তেজনা — উভয় উপাদানই থাকা উচিত। কোনো শ্রোতাই সিন্থ ম্যানিয়ার মধ্য দিয়ে ১৮০ বিপিএম-এর বিরতিহীন ৬ মিনিটের সম্পূর্ণ উচ্চ-শক্তির সফরের মধ্যে বসে থাকতে চায় না, যদি না তারা কোনো ধোঁয়াটে ক্লাবের ড্যান্স ফ্লোরে পাগলের মতো নাচতে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া, যদি আপনার শ্রোতা প্রচণ্ড ঘোরে না থাকে, তবে সে আপনার ১৮ মিনিটের অ্যাম্বিয়েন্ট সুরটি উপভোগ করবে না যা একই অলস পিয়ানো রিফের পুনরাবৃত্তি নিয়ে গঠিত।
** "মেলোডিক স্ট্রাকচার", নেক্রোস, ট্র্যাক্সউইকলি #১৫, ১৯৯৫
* সিলিকন কিছু মৌলিক সীমার কাছে পৌঁছায়; জৈবিক আনন্দই হলো আত্মার ধারক।
** [http://modarchive.org/index.php?request=view_by_moduleid&query=46539#texts আইসোটক্সিন লেখকের মন্তব্য, ১৯৯৫]
=== স্ট্যাটিক লাইন সাক্ষাৎকার, ১৯৯৮ ===
* সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত তত্ত্বগুলো একবার বুঝতে পারলে আপনি মোটামুটি যেকোনো যন্ত্রই তুলে নিতে পারেন যা আপনি চান।
* আমি ছোটবেলা থেকেই রহস্যময় কর্ড প্রগ্রেশনের প্রতি মুগ্ধ ছিলাম। কৌশলটি হলো সেগুলোকে আকর্ষণীয় রাখা এবং একই সাথে 'স্বাভাবিকতার' সীমানার মধ্যে রাখা (অন্যথায় শ্রোতার সেই প্রগ্রেশনগুলো বোঝার কোনো প্রেক্ষাপট থাকে না)।
* যে কেউ যথেচ্ছভাবে ট্রায়াড বেছে নিয়ে একটি 'অদ্ভুত' কর্ড প্রগ্রেশন তৈরি করতে পারে।
* যেকোনো সহযোগিতার মতো, আপনাকে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে যে আপনার সঙ্গীত তৈরির 'মোড'-এ আছে।
* সাধারণত সঙ্গীতশিল্পীদের অহং এবং ব্যক্তিত্বের খামখেয়ালি থাকে যা সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা গড়ে তোলা কঠিন করে তোলে (অন্তত দীর্ঘ সময়ের জন্য)।
* আমি কেবল অসামঞ্জস্যতার খাতিরে অসামঞ্জস্যতা পছন্দ করি না - অনেক লোক রিদমিক বৈচিত্র্যকে এতটাই দূরে ঠেলে দেয় যে সঙ্গীতের মৌলিক স্পন্দন হারিয়ে যায় (এবং শ্রোতা বিভ্রান্ত হয়)।
* দুর্ভাগ্যবশত প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সাথে সাথে যা 'আন্ডারগ্রাউন্ড' ছিল তা এখন অপ্রচলিত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
* আমি মনে করি সাধারণ মানুষ একটি গানের সামগ্রিক অনুভূতির ওপর বিচার করে, ব্যক্তিগত স্যাম্পল দেখে নয়। যদি একটি স্যাম্পল গানে খুব বেশি অবদান রাখে এবং স্যাম্পলটি চেনা যায়, তবে সেই পিসের ওপর মতামত কমে যায়।
* অনেক কারণে গানের 'সেরা দশ' তালিকা তৈরি করা কঠিন। আমি সঙ্গীতের অনেক শৈলী পছন্দ করি এবং একে অপরের থেকে আমূল ভিন্ন ধরণের সঙ্গীতের তুলনা করা কঠিন।
* আমি যদি আমার সঙ্গীত থেকে টাকা কামানোর বিষয়ে মগ্ন থাকতাম, তবে আমি গত ৫ বছর ধরে ইন্টারনেটে এটি বিনামূল্যে প্রকাশ করতাম না।
* আমি 'ইলেকট্রনিকা'-র প্রতি অনেক বেশি অনুরাগী (হ্যাঁ, আমি জানি এটি আজকাল ক্লিশে)।
* আমার অনেক গানে বিভিন্ন অদ্ভুত বিষয় থাকে — সাধারণত এটি গভীর রাতের উন্মাদনার ফল।
* মাঝে মাঝে যদি আপনি খুব বেশি পালিশ করেন, তবে আপনি এর উজ্জ্বলতা ঘষে তুলে ফেলেন।
* আমার মনে হয় প্রতিটি সঙ্গীতশিল্পীই কোনো না কোনোভাবে বিশ্বকে তার নিজের রুচি অনুযায়ী পরিবর্তন করতে চায়... সেজন্যই আমি সঙ্গীত লিখি।
* আমি যতটা সম্ভব সঙ্গীতকে শ্রেণীবদ্ধ করা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আজকাল সবাই সবার কাছ থেকে এত কিছু চুরি করে যে ঘরানাগুলোর মধ্যকার সীমারেখাগুলো খুব ঝাপসা হয়ে গেছে।
* শৈল্পিক বিবর্তন আসে অন্য মানুষ কী করেছে তা শোনার এবং একটি ডারউইনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে।
* আমি দেখতে চাই মানুষ শব্দ কম স্যাম্পল করুক এবং শৈলী কিছুটা বেশি স্যাম্পল করার চেষ্টা করুক। কিছু মানুষ এই ধরণের 'অনুকরণকে' আপত্তিকর মনে করে... আমি উল্টোটা ভাবি — সমস্ত সঙ্গীতই অনুকরণ এবং প্রসারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
* দুর্ভাগ্যবশত [[স্টিং (সঙ্গীতশিল্পী)|স্টিংয়ের]] জ্যাজ কাজগুলো তার রক গানের মতো উদ্ভাবনী নয়।
* আমি মনে করি আমরা শীঘ্রই এমন এক নতুন জাতের সঙ্গীতশিল্পী দেখতে পাব যাদের আধুনিক কর্ডাল সেন্স (জ্যাজ) এবং সিন্থেসাইজার ও নতুন ধরণের শব্দের (ইলেকট্রনিকা/টেকনো/ডিজে সিন থেকে) ওপর উচ্চ পর্যায়ের দখল থাকবে।
* সঙ্গীত আসলে অনুপাত এবং হারমোনিক গণিত ছাড়া আর কিছুই নয়।
=== অ্যান্ড্রু সেগা শ্রাইন সাক্ষাৎকার, ২০১১ ===
* আমার ট্র্যাক করা অনেক সঙ্গীত যখন আমি খুব ছোট ছিলাম তখন লেখা হয়েছিল, তুলনামূলকভাবে বলতে গেলে। আমি খুব আশাবাদী ছিলাম, অবশেষে আমি জনসমক্ষে সঙ্গীতের বহিঃপ্রকাশের পথ খুঁজে পেয়েছিলাম, এটি ছিল সাধারণত একটি খুব সুখের সময়। তাই সেই সময়ের সঙ্গীত সম্ভবত সেটিই প্রতিফলিত করে, আমি মনে করি। আমি যখন আলফা কনস্পিরেসি প্রজেক্ট শুরু করি, আমি তখন বড় হয়েছিলাম, কিছুটা বেশি পরিশীলিত (এবং কিছুটা নিন্দুক) হয়েছিলাম এবং তাই সঙ্গীত আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।
* আমরা মধ্যযুগে এমন সঙ্গীত তৈরি করা শুরু করেছিলাম যার নির্দিষ্ট পছন্দসই শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল (উদাহরণস্বরূপ, একটি মেজর কর্ড শুনতে "সুন্দর" লাগে কারণ ফ্রিকোয়েন্সিগুলো একে অপরের সাথে পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে থাকে)। এবং তারপর সমাজ বিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে আমরা নির্দিষ্ট যন্ত্র এবং প্রগ্রেশনের জন্য এই আবেগপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলো তৈরি করেছি। মেজর-কর্ড আরপেজিও শুনতে "সুখী" মনে হয়, মাইনর কর্ড শুনতে "দুঃখিত" মনে হয়, ক্রোমাটিক স্কেল "ভীতিকর" মনে হতে পারে ইত্যাদি। ২০ শতকে চলচ্চিত্র সাউন্ডট্র্যাকগুলো এই বিষয়টি আরও শক্তিশালী করেছিল কারণ মানুষ নির্দিষ্ট ধরণের সঙ্গীতকে নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল এবং আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করেছিল। এটি আসলে একটি বিশাল ফিডব্যাক লুপ; আপনি যখন একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠেন, এটি আপনার ওপর এই সঙ্গীত ছাপ ফেলে যায় যা আপনার অভিজ্ঞতাকে রঙিন করে।
* কাউকে আবেগগতভাবে প্রভাবিত করার জন্য একটি সঙ্গীত পিসকে "আকর্ষণীয়" সুরেলা, সমন্বয় বা রিদমিক বিষয়বস্তু ধারণ করতে হবে এবং "আকর্ষণীয়" কী তা নির্ধারণ করা শ্রোতার ওপর নির্ভর করে।
* আপনি যুক্তি দিতে পারেন যে বাখ ফিউগের মধ্যে সম্ভবত কিছু গাণিতিক আগ্রহ আছে, কিন্তু সঙ্গীতের একমাত্র জিনিস যা সত্যিই ভালো করে তা হলো মানুষকে "আলোড়িত" করা — তাদের কিছু অনুভব করানো।
* তাই আপনি যদি পৃথিবীর যে কাউকে সি মেজর কর্ড বাজিয়ে শোনান, তারা বলবে যে এটি শুনতে "সুসংগত" (বা আনন্দদায়ক বা সুখী ইত্যাদি)। কিন্তু এখন আপনি যখন কর্ড এবং সুরগুলোকে একটি ক্রমানুসারে সাজিয়ে "গান" নামক একটি বড় পিস তৈরি করতে চান, তখন সেটি অনেক বেশি কঠিন প্রক্রিয়া এবং খুব বিষয়গত হয়ে ওঠে। সেই পয়েন্টে এটি কেবল কর্ড নয়, এটি গানের কথা, তাল, যন্ত্রসঙ্গীত, টেম্পো, তীব্রতা এবং আরও অনেক কিছু যা একটি গানে মিশে থাকে... এত বেশি ভেরিয়েবল যে একটি গান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব।
* অবশ্যই এমন কিছু গান আছে যা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এবং আপনি সেগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে তা দেখার জন্য কিছু রিভার্স অ্যানালিসিস ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু নির্ভরযোগ্যভাবে একটি "হিট" তৈরি করা কঠিন। এর সাথে সাংস্কৃতিক রুচির ক্রমাগত পরিবর্তন যুক্ত করুন এবং আপনি দেখতে পাবেন যে সঙ্গীত শিল্প অন্য সবকিছুর চেয়ে লটারি খেলার মতো। কিছু প্রতিভা বা রুচি থাকা আপনাকে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু এটি এখনও একটি বিশাল রুলেট হুইল।
* যখন সঙ্গীত কাউকে "আলোড়িত" করে, তখন এটি অগত্যা ইতিবাচক দিকে হতে হবে এমন নয়। কিছু মানুষ অবশ্যই অন্ধকার সঙ্গীতের দ্বারা আলোড়িত হয় এবং সঙ্গীতে সব ধরণের আবেগ তৈরি হতে পারে যা আকর্ষণীয় — আগ্রাসন, পূর্বাভাস, রাগ, ভয়। সবাই সব সময় সুখী থাকতে চায় না :)
* যদি কেউ কেবল নিকেলব্যাক শোনে, তবে তাদের মতামত বৈধ কিন্তু মূলত অর্থহীন কারণ তারা আলোচনায় কোনো গভীরতা আনতে পারে না :)
* আমি মনে করি কিছু বিষয়গত গাণিতিক গুণাবলী আছে... কোনো কিছু কতটা জটিল, কতটা সুরেলা, সুরের বৈচিত্র্য কতটা ইত্যাদি। কিন্তু আমি এমন একটি সঙ্গীত পিস তৈরি করতে পারি যা এগুলোর সব ধারণ করে এবং তবুও বিষয়গত দৃষ্টিকোণ থেকে তা "ভালো" নয়। উদাহরণস্বরূপ, বিথোভেনের "মুনলাইট সোনাটা", বিটলসের "ইয়েস্টারডে" এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের "বর্ন স্লিপি" নিন এবং সেগুলোকে একই সময়ে একে অপরের ওপর বাজান। সেগুলো নিজেদের মধ্যে দুর্দান্ত সঙ্গীত, কিন্তু একসাথে শুনতে ভয়াবহ।
* ১৮৫০-এর দশকের কারো কাছে নির্ভানা বা বিটি ট্র্যাক বাজানোর কথা কল্পনা করুন, তারা সম্ভবত এটিকে শব্দ ছাড়া আর কিছু মনে করবে না। সামগ্রিকভাবে সমাজের এখন সঙ্গীত কী হতে পারে সে সম্পর্কে অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি এখনও সাধারণত বিভিন্ন রিদমিক, সুরেলা এবং ভোকাল উপাদান ধারণ করে, কিন্তু সেগুলো এখন অনেক আকর্ষণীয় উপায়ে সংমিশ্রিত হতে পারে।
* প্রগ্রেসিভ রকের সাধারণ সমস্যা হলো ব্যান্ডটি তাদের নিজস্ব ফ্যান্টাসি জগতের মধ্যে এতটাই মগ্ন হয়ে যেতে পারে যে তাদের সঙ্গীত সম্পূর্ণ অগম্য হয়ে ওঠে।
* আমি সস্তা সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী। আমি কোনো ব্যান্ডের নাম লিখে নিজেকে বিব্রত করতে চাই না ;D
* আমি মনে করি ব্রিটনি স্পিয়ার্স একটি কৃত্রিম কাঠামোর নিখুঁত উদাহরণ — এমন কেউ যার একটি ভালো কণ্ঠ এবং খুব বিক্রয়যোগ্য ইমেজ আছে, যাকে প্রযোজক এবং ব্যবসায়ীরা পপ তারকায় পরিণত করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত আমি মনে করি এটি তার ওপর মানসিকভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং সাফল্য তার জীবনে যে ঝামেলা এনেছে তার জন্য আমি খারাপ বোধ করি। যাইহোক, তার সঙ্গীত অনেকটা ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার মতো এবং তার ম্যাডোনার মতো বুদ্ধিমত্তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নেই।
* আজকাল সমস্যা হলো আবার প্রচুর পরিমাণে সঙ্গীতের সহজলভ্যতা এবং সঙ্গীত মানুষের জীবনে ২১ শতকে আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা নয়।
* কেউ যদি আমাকে একটি সঙ্গীত লেবেল চালানোর জন্য দশ লক্ষ ডলার দেয়, তবে আমি একটি নির্দিষ্ট শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং একটি ফ্যানবেস তৈরির চ্যানেলের ওপর ফোকাস করব। ওয়ার্প রেকর্ডস একটি লেবেলের দুর্দান্ত উদাহরণ ছিল যার একটি নির্দিষ্ট শৈলী ছিল এবং অনেক মানুষ কেবল রেকর্ড কিনত কারণ শিল্পীরা সেই লেবেলের সাথে যুক্ত ছিল।
* আমি দর্শন পছন্দ করি। উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি কীভাবে কাজ করে তা আবিষ্কার করার চেষ্টা করা চমৎকার। আমি সবসময়ই হৃদয়ে একজন আপেক্ষিকতাবাদী এবং অন্যদের দার্শনিক ধারণাগুলো পড়া ও তারা তাদের বিশেষ লেন্স দিয়ে বিশ্বকে কীভাবে দেখে তা দেখা আমি খুব আকর্ষণীয় মনে করি।
* আমি মনে করি বিশ্বের বেশিরভাগ দ্বন্দ্ব সরাসরি মানুষের বাস্তবতার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার ফলাফল, অথবা আপনি একে তাদের লেন্সের "বিকৃতি" বলতে পারেন। একজন মানুষ যা করতে পারে তা হলো যতটা সম্ভব জ্ঞান অর্জন করা, আপনার অভিজ্ঞতা এবং অন্যদের কথা উভয় থেকেই, যাতে বিশ্বের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা যায়।
* একজন মানুষ একটি জটিল জৈবিক/বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা যা একটি সংস্কৃতির মধ্যে নিমজ্জিত। একটি বানরকে মানুষের মতো করে বড় করার চেষ্টা করুন, এটি কাজ করবে না, একটি প্রকৃত বুদ্ধিমান প্রাণী তৈরির জন্য আপনার মানুষের নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের বৈশিষ্ট্য (স্ব-প্রতিফলনসহ) প্রয়োজন। মস্তিষ্ক ইনপুট এবং উপলব্ধিকে খুব সুনির্দিষ্ট উপায়ে প্রসেস করে এবং আমি মনে করি যতক্ষণ না আমরা অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি, ততক্ষণ সফটওয়্যারে এটিকে অনুকরণ করার কোনো উপায় নেই। কম্পিউটার সহজ বিশ্লেষণে এবং প্রক্রিয়াকরণ শক্তিতে ভালো হতে থাকবে, কিন্তু আবেগের সূক্ষ্মতা মানুষের শরীর এবং সংস্কৃতির সহজাত বিষয়।
* ধর্ম একটি সহজ উত্তর যা সমাজ তৈরি করেছে মানুষকে ভালো অনুভব করানোর জন্য, কিন্তু এর বৈধতার খুব কম প্রমাণ আছে। বিশ্বে হাজার হাজার ধর্ম আছে, যার প্রতিটির নিজস্ব "সঠিক" উত্তর আছে এবং প্রতিটি একে অপরের বিপরীত। আপাতত আমার কাছে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা হলো আমরা মহাজাগতিক কারণগুলোর একটি ভাগ্যবান সংমিশ্রণের ফল, আমরা এই নির্দিষ্ট গ্রহে জন্মানো "ছাঁচ" এবং আমাদের মতো বিশাল মহাবিশ্বে এটি প্রত্যাশিত যে কোথাও না কোথাও এমনটি ঘটবে।
* মানবজাতির জন্য কোনো উচ্চ-স্তরের উদ্দেশ্য না-ও থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা বিশ্বে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাব না। আমি মনে করি মনস্তাত্ত্বিক এবং পরিবেশগত কারণগুলোর একটি সংমিশ্রণ আছে যা মানবজাতির মধ্যে বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বে কিছু অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা, আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বদর্শন প্রকাশ করার এবং বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেয় তা দেখার আকাঙ্ক্ষা। শিল্প শূন্যতায় ঘটে না এবং যদি এটি কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য হতো তবে কেউ কখনও জনসাধারণের কাছে সঙ্গীত প্রকাশ করত না। প্রক্রিয়াটি আপনাকে পরিবর্তন করে এবং বিশ্বের নিজেরও পরিবর্তন ঘটায়, অনুপ্রেরণার তরঙ্গ তৈরি করে যা শিল্পী এবং শ্রোতার মধ্যে প্রবাহিত হয়।
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
*[http://alphaconspiracy.com/ দ্য আলফা কনস্পিরেসি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://www.diffusionrecords.com/ ডিফিউশন রেকর্ডস অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://www.irismusic.com/ আইরিস অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]
*[http://web.textfiles.com/ezines/STATICLINE/sl-011.txt স্ট্যাটিক লাইন সাক্ষাৎকার, ১৯৯৮]
*[http://web.archive.org/web/20120717023422/http://necros.gibdon.com/news/interview অ্যান্ড্রু "নেক্রোস" সেগা সাক্ষাৎকার, ২০১১]
{{DEFAULTSORT:সেগা, অ্যান্ড্রু}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুরকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:কীবোর্ডবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গিটারবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত প্রযোজক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রামার]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৫-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রোড আইল্যান্ডের গায়ক]]
ets675m7zv5wajvwdgy8phng5g3fny4
আলাপ:অ্যান্ড্রু সেগা
1
12386
76074
2026-04-12T13:43:26Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76074
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
অ্যামি ট্যান
0
12387
76075
2026-04-12T13:48:40Z
R1F4T
1240
"[[File:Amy Tan.jpg|thumb|প্রত্যেককেই [[স্বপ্ন|স্বপ্ন]] দেখতে হবে। আমরা নিজেদের [[আশা|আশা]] জোগাতে [[স্বপ্ন]] দেখি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা মানে — অনেকটা এমন বলা যে আপনি কখনোই আপনার [[ভাগ্য|ভাগ্যকে]]..." দিয়ে পাতা তৈরি
76075
wikitext
text/x-wiki
[[File:Amy Tan.jpg|thumb|প্রত্যেককেই [[স্বপ্ন|স্বপ্ন]] দেখতে হবে। আমরা নিজেদের [[আশা|আশা]] জোগাতে [[স্বপ্ন]] দেখি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা মানে — অনেকটা এমন বলা যে আপনি কখনোই আপনার [[ভাগ্য|ভাগ্যকে]] [[পরিবর্তন|পরিবর্তন]] করতে পারবেন না। এটা কি [[সত্য|সত্য]] নয়?]]
'''[[অ্যামি ট্যান]]''' (譚恩美 Tán Ēnměi) (জন্ম ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) একজন মার্কিন লেখক যিনি মূলত তার উপন্যাস ''[[দ্য জয় লাক ক্লাব (উপন্যাস)|দ্য জয় লাক ক্লাব]]''-এর (১৯৮৯) জন্য পরিচিত, যা [[দ্য জয় লাক ক্লাব (চলচ্চিত্র)|১৯৯৩ সালে একটি চলচ্চিত্রে]] রূপান্তর করা হয়েছিল। তিনি অন্যান্য উপন্যাস, ছোটগল্প সংকলন, শিশুতোষ বই এবং স্মৃতিকথার জন্যও পরিচিত।
ট্যান সাহিত্য সংস্কৃতিতে তার অবদানের জন্য বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে [[ন্যাশনাল হিউম্যানিটিজ মেডেল]], [[কার্ল স্যান্ডবার্গ লিটারারি অ্যাওয়ার্ড]] এবং কমন ওয়েলথ অ্যাওয়ার্ড অফ ডিসটিংগুইশড সার্ভিস। তিনি [[রক বটম রিমেইন্ডার্স|রক বটম রিমেইন্ডার্স]]-এর একজন সদস্য।
== উদ্ধৃতি ==
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|right|[[নারী]] হলো ইন (yin), ভেতরের [[অন্ধকার|অন্ধকার]], যেখানে অসংযত [[আবেগ|আবেগগুলো]] বাস করে। আর [[পুরুষ]] হলো ইয়াং (yang), উজ্জ্বল [[সত্য|সত্য]] যা আমাদের [[মন|মনকে]] আলোকিত করে।]]
* আমি কখনোই কাউকে কোনো বই পড়তে বাধ্য করব না। এটি আমরা কেন পড়ি তার বিপরীত বলে মনে হয় — যা হলো আমাদের ব্যক্তিগত কারণে একটি বই বেছে নেওয়া। যখন আমাকে বলা হয় যে আমার বইগুলো পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তখন আমি সবসময়ই আঁতকে উঠি।
** [https://www.nytimes.com/2013/11/17/books/review/amy-tan-by-the-book.html সাক্ষাৎকার] (২০১৩)
=== ''[[দ্য জয় লাক ক্লাব (উপন্যাস)|দ্য জয় লাক ক্লাব]]'' (১৯৮৯) ===
* '''আমার [[বাবা]] আমাকে [[জয়|জয়]] [[ভাগ্য|লাক]] ক্লাবের চতুর্থ কোণ হতে বলেছেন।''' আমাকে আমার মায়ের স্থলাভিষিক্ত হতে হবে, যার মাহ জং টেবিলের আসনটি দুই মাস আগে তার মৃত্যুর পর থেকে খালি পড়ে আছে। আমার বাবা মনে করেন তিনি তার নিজের [[চিন্তা|চিন্তার]] কারণেই মারা গেছেন।
** প্রথম লাইনগুলো
* বছরের পর বছর ধরে, তিনি আমাকে একই গল্প বলতেন, কেবল শেষটা বাদে, যা আরও অন্ধকার হয়ে উঠছিল, তার জীবনে এবং শেষ পর্যন্ত আমার জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলছিল।
* তোমার বাবা আমার প্রথম স্বামী নন। তোমরা সেই শিশুরা নও।
* যদিও আমি ছোট ছিলাম, আমি মাংসের [[ব্যথা|ব্যথা]] এবং সেই ব্যথার মূল্য দেখতে পেতাম।
* আমি আর ভয় পাচ্ছিলাম না। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আমার ভেতরে কী আছে।
* আমার শরীর থেকে সোনা সরিয়ে নেওয়ার পর আমি আরও হালকা এবং মুক্ত বোধ করেছি। তারা বলে যে আপনার যদি ধাতুর অভাব থাকে তবে এমনটিই ঘটে। আপনি একজন স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে চিন্তা করতে শুরু করেন।
* কারণ [[নারী]] হলো ইন, ভেতরের [[অন্ধকার|অন্ধকার]], যেখানে অসংযত [[আবেগ|আবেগগুলো]] বাস করে। আর [[পুরুষ]] হলো ইয়াং, উজ্জ্বল [[সত্য|সত্য]] যা আমাদের [[মন|মনকে]] আলোকিত করে।
* আমি আবিষ্কার করেছি যে এটি সম্ভবত শুরু থেকেই [[ভাগ্য|ভাগ্য]] ছিল, আর [[বিশ্বাস|বিশ্বাস]] ছিল কেবল একটি বিভ্রম যে কোনোভাবে আপনি নিয়ন্ত্রণে আছেন।
* আমার মায়ের মুখে এমন এক অভিব্যক্তি ছিল যা আমি কখনোই ভুলব না। এটি ছিল সম্পূর্ণ [[হতাশা|হতাশা]] এবং আতঙ্কের, বিংকে হারানোর জন্য, আর ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য বিশ্বাসকে ব্যবহার করা যাবে এমন বোকামিপূর্ণ চিন্তার জন্য।
* আমার নতুন চিন্তা ছিল, জেদি চিন্তা, বা বরং অনেক ‘না’ তে ভরা চিন্তা। আমি তাকে আমাকে পরিবর্তন করতে দেব না, আমি নিজেকে কথা দিয়েছিলাম। আমি যা নই তা আমি হব না।
* কেবল দুই ধরণের মেয়ে হয়। যারা বাধ্য এবং যারা নিজের মন অনুসরণ করে! এই বাড়িতে কেবল এক ধরণের মেয়েই থাকতে পারে। বাধ্য মেয়ে!
* '''আমি যখন চাই কোনো কিছু ঘটুক — বা না ঘটুক — আমি [[সব|সব]] [[ঘটনা|ঘটনা]] এবং [[সব|সব]] [[জিনিস|জিনিসকে]] [[প্রাসঙ্গিক]] হিসেবে দেখতে [[শুরু|শুরু]] করি, যা গ্রহণ করার বা এড়ানোর একটি [[সুযোগ|সুযোগ]]।''' <br /> আমি সুযোগটি খুঁজে পেয়েছিলাম।
* আমার মনে আছে আমি ভাবতাম কেন ভালো কিছু খাওয়া আমাকে এত খারাপ অনুভব করাতে পারে, যেখানে খারাপ কিছু বমি করা আমাকে এত ভালো অনুভব করাতে পারে।
* এখন যেহেতু আমি হ্যারল্ডের ওপর রাগান্বিত, তার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কী ছিল তা মনে রাখা কঠিন।
* আমি দেখছিলাম আমি কিসের জন্য লড়াই করছিলাম: এটি ছিল আমার জন্য, এক ভীত শিশুর জন্য...
* সেটি ছিল সেই রাত, রান্নাঘরে, যখন আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে আমি যা ছিলাম তার চেয়ে ভালো কেউ ছিলাম না... এবং ওয়েভারলির ওপর আমার আর রাগ ছিল না। আমি ক্লান্ত এবং বোকা অনুভব করছিলাম, যেন আমি আমাকে তাড়া করা কাউকে এড়াতে দৌড়াচ্ছিলাম, কেবল পেছনে তাকিয়ে আবিষ্কার করার জন্য যে সেখানে কেউ নেই।
* তাহলে আপনাকে অবশ্যই আমার মেয়েকে এই একই শিক্ষা দিতে হবে। কীভাবে আপনার সরলতা হারাবেন কিন্তু [[আশা|আশা]] হারাবেন না। কীভাবে চিরকাল [[হাসি|হাসতে]] হয়।
* কারো মৃত্যুর পর তৃতীয় দিনে [[আত্মা|আত্মা]] হিসাব মেলাতে ফিরে আসে। আমার মায়ের ক্ষেত্রে, এটি চন্দ্র নববর্ষের প্রথম দিন হবে। আর যেহেতু এটি নতুন বছর, তাই সমস্ত ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় বিপর্যয় এবং দুর্ভাগ্য নেমে আসবে।
* '''আমি সব সময় কোনো কিছু ঘটার আগেই তা জানতে পারি।'''
* আমার অনেক আনন্দ ছিল বলেই আমার এত [[ঘৃণা|ঘৃণা]] জন্মেছিল।
* আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তানদের সেরা সমন্বয় থাকুক: মার্কিন পরিস্থিতি এবং চীনা চরিত্র। আমি কীভাবে জানতাম যে এই জিনিসগুলো মেশে না?
* কেন আপনি কেবল চীনা অর্থহীনতার প্রতি আকৃষ্ট হন?
* এই মুখের দিকে তাকান। আপনি কি আমার বোকা [[আশা|আশা]] দেখতে পাচ্ছেন?
=== ''[[রান্নাঘরের দেবতার স্ত্রী|দ্য কিচেন গডস ওয়াইফ]]'' (১৯৯১) ===
* আমি যখনই আমার মায়ের সাথে থাকি, আমার মনে হয় পুরোটা সময় আমাকে ল্যান্ডমাইন এড়াতে ব্যয় করতে হচ্ছে।
* আপনি দেখতে পাচ্ছেন ক্ষমতা কী – অন্য কারো ভয় আপনার হাতে রাখা এবং তাদের সেটি দেখানো।
=== ''[[দ্য হান্ড্রেড সিক্রেট সেন্সেস|দ্য হান্ড্রেড সিক্রেট সেন্সেস]]'' (১৯৯৫) ===
* '''আমার বোন কোয়ানের বিশ্বাস যে তার [[ইন এবং ইয়াং|ইন]] [[চোখ]] আছে।''' সে তাদের দেখে যারা [[মৃত্যু|মারা গেছে]] এবং এখন ইন জগতে বাস করে, সেই [[ভূত|ভূতরা]] যারা সান ফ্রান্সিসকোর বালবোয়া স্ট্রিটে তার রান্নাঘরে যাওয়ার জন্য কুয়াশা ছেড়ে আসে। <br>"লিবি-আহ," সে আমাকে বলবে। "অনুমান করো আমি গতকাল কাকে দেখেছি, তুমি অনুমান করো।" আর আমাকে অনুমান করতে হবে না যে সে মৃত কারো কথা বলছে।
* '''প্রত্যেককেই [[স্বপ্ন|স্বপ্ন]] দেখতে হবে। আমরা নিজেদের [[আশা|আশা]] জোগাতে [[স্বপ্ন]] দেখি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা মানে — অনেকটা এমন বলা যে আপনি কখনোই আপনার [[ভাগ্য|ভাগ্যকে]] [[পরিবর্তন|পরিবর্তন]] করতে পারবেন না। এটা কি [[সত্য|সত্য]] নয়?'''
=== ''স্যালন'' সাক্ষাৎকার (১৯৯৫) ===
[[File:Chinese floating lotus lanterns.jpg|thumb|right|[[ভূত|ইন মানুষেরা]] ঘণ্টা বাজিয়ে বলে, "মনোযোগ দাও।" আর আপনি বলেন, "ওহ, আমি এখন বুঝতে পারছি।"]]
[[File:Amy Tan Portrait 2 (2704552927).jpg|thumb|আমি এই [[উদ্বেগ|উদ্বেগের]] মধ্য দিয়ে যাই, "এমন কিছু [[লেখা|লেখার]] জন্য [[মানুষ|মানুষ]] আমার সম্পর্কে কী ভাববে?" কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমাকে যা নিয়ে লিখতে হবে তা নিয়ে আমাকে লিখতেই হবে, যার মধ্যে আমাদের সাধারণ [[ইন্দ্রিয়|ইন্দ্রিয়ের]] বাইরের জীবনের প্রশ্নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।]]
:<small>[http://web.archive.org/web/20000302235838/http://www.salon.com/12nov1995/feature/tan.html "দ্য স্পিরিট উইদিন" - ''স্যালন'' (১২ নভেম্বর ১৯৯৫)]</small>
* আমি রোল মডেল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না, এটি কেবল আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক এবং অনেক এশীয়-মার্কিন সংগঠন, উদাহরণস্বরূপ, আমাকে বলে, "আপনাকে এসে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে কারণ আপনি একজন রোল মডেল।" ... লেখকদের ওপর একটি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব চাপানো একটি ভারী বোঝা। যারা কথাসাহিত্য লেখেন তারা অগত্যা কোনো সাধারণ গোষ্ঠীর চিত্রায়ন লেখেন না, তারা একটি খুব সুনির্দিষ্ট গল্প লেখেন।
* অন্যান্য এশীয়-মার্কিন লেখকরা যখন আমার সাথে তাদের তুলনা করা হয় তখন আঁতকে ওঠেন; এটি আসলে তাদের নিজস্ব কাজের অনন্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে। আমি দেখছি যে এখানে এটি কম ঘটছে কারণ মানুষ এখন রাজনৈতিক শুদ্ধতার ত্রুটিগুলো সম্পর্কে বেশি সচেতন — যে সাহিত্যকে মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য কিছু করতে হবে। '''আমি নিজেকে, উদাহরণস্বরূপ, সাংস্কৃতিক দ্বিমত নিয়ে লিখতে দেখি না, বরং মানুষের সংযোগ নিয়ে লিখতে দেখি। আমরা সবাই উদ্বেগ এবং পরিচয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাই। এমনকি যখন আপনি একটি সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে লেখেন, তখনও আপনি সেই আবেগের উপপাঠকে টোকা দেন যা আমরা সবাই ভালোবাসা এবং আশা, এবং মা ও বাধ্যবাধকতা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অনুভব করি।'''
* একজন আত্মীয় অনুভব করেছিলেন যে আমার দিদিমার গল্প প্রকাশ করা উচিত হয়নি। আমার দিদিমা ছিলেন সেই মহিলা (''দ্য কিচেন গডস ওয়াইফ''-এ) যাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল, উপপত্নী হতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং অবশেষে আত্মহত্যা করেছিলেন। আমার মা অবশ্য সেই আত্মীয়ের ওপর সমানভাবে রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেন, "এত বছর ধরে আমি এই লজ্জা বহন করেছি, এবং আমার মা কষ্ট পেয়েছেন, কারণ তিনি কাউকে কিছু বলতে পারেননি।" এবং তিনি বলেছিলেন, "এখনও দেরি হয়ে যায়নি; বিশ্বকে বলো, বিশ্বকে বলো তার সাথে কী ঘটেছিল।" এবং আমি তার সেই আদেশকেই আমার হৃদয়ে গ্রহণ করি, যা আমার অনুসরণ করা উচিত।
* আমি অনেকদিন ধরেই ভেবেছি কীভাবে জীবন মৃত্যুর দ্বারা প্রভাবিত হয়, কীভাবে এটি আপনার বিশ্বাস এবং আপনি কী খুঁজছেন তা প্রভাবিত করে। হ্যাঁ, আমি মনে করি আমার জীবনের কিছু আত্মা — ইন মানুষ — আমাকে এই বইটি লিখতে একভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা সবসময়ই সেখানে ছিল, আমি সাহায্য করার জন্য বলব না, বরং আমাকে লিখতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য। ...'''ইন মানুষ হলো কোয়ান ব্যবহৃত শব্দ, কারণ "ভূত" শব্দটি রাজনৈতিকভাবে অশুদ্ধ।''' ভূতের সম্পর্কে মানুষের এমন ভয়াবহ ধারণা আছে — আপনি জানেন, সেই ছায়া যা আপনাকে তাড়া করে, আপনাকে ভয় দেখায়, ঘর উল্টেপাল্টে দেয়। ইন মানুষেরা আমাদের জীবন্ত উপস্থিতিতে নেই কিন্তু আশেপাশে আছে এবং আপনাকে অন্তর্দৃষ্টির দিকে পরিচালিত করে। যেমন লাস ভেগাসে যখন ঘণ্টা বেজে ওঠে, তখন তা বলে দেয় যে আপনি বড় পুরস্কার জিতেছেন। '''ইন মানুষেরা ঘণ্টা বাজিয়ে বলে, "মনোযোগ দাও।" আর আপনি বলেন, "ওহ, আমি এখন বুঝতে পারছি।" তবুও আমি মোটামুটি একজন সংশয়বাদী মানুষ। আমি শিক্ষিত, আমি যুক্তিসঙ্গতভাবে সুস্থ মস্তিস্কের এবং আমি জানি যে এই বিষয়টি উপহাসের বিষয় হতে পারে। ... বইটি লেখার জন্য আমাকে তা একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছিল। যেকোনো বইয়ের মতো। আমি এই উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাই, "এমন কিছু লেখার জন্য মানুষ আমার সম্পর্কে কী ভাববে?" কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমাকে যা নিয়ে লিখতে হবে তা নিয়ে আমাকে লিখতেই হবে, যার মধ্যে আমাদের সাধারণ ইন্দ্রিয়ের বাইরের জীবনের প্রশ্নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।'''
* মানুষ আমাকে খুব, আমি জানি না, [[কনফুসিয়াস|কনফুসিয়াসের]] মতো জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে দেখে — যা আমি নই। আমি যে সব ঝামেলার মধ্য দিয়ে গিয়েছি তা তারা দেখে না।
=== আমেরিকান অ্যাচিভমেন্ট সাক্ষাৎকার (১৯৯৬) ===
:<small>[http://www.achievement.org/autodoc/page/tan0int-1 সান ভ্যালি, আইডাহোতে সাক্ষাৎকার (২৮ জুন ১৯৯৬)] </small>
* পড়াশোনা আমার জন্য ছিল একটি আশ্রয়। আমি আমার জীবনের দুঃখজনক সবকিছু থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম এবং একটি গল্পের চরিত্রের মাধ্যমে আমি যা হতে চাই তাই হতে পারতাম। এটি আমি কতটা পছন্দ করতাম তা প্রায় পাপের মতো ছিল। আমি এটি নিয়ে এমনই অনুভব করতাম। আমার বাবা-মা যদি জানতেন আমি এটি কতটা ভালোবাসি, তবে আমি ভাবতাম তারা এটি আমার কাছ থেকে কেড়ে নেবেন। আমি মনে করি আমার একটি খুব বন্য কল্পনাশক্তি ছিল কারণ আমার মনে আছে, আমি পড়তে শেখার আগের বয়সে এমন জিনিস কল্পনা করতে পারতাম যা বাস্তব ছিল না এবং আমার কল্পনা যা দেখত তাই আমি আসলে দেখতাম। কেউ কেউ একে মানসিক রোগ বলবে কিন্তু আমি একে একজন লেখকের কল্পনার শুরু বলতে পছন্দ করি। আমি যদি বিশ্বাস করতাম যে পোকামাকড়দের চোখ, মুখ এবং নাক আছে এবং তারা কথা বলতে পারে, তবে তারা তাই করত। আমি যদি ভাবতাম আমি মাটি থেকে শয়তানদের নাচতে দেখছি, তবে আমি তাই দেখতাম। আমি যদি ভাবতাম বজ্রপাতের চোখ আছে এবং তা আমাকে অনুসরণ করবে ও আঘাত করবে, তবে তাই ঘটত। আর আমি মনে করি সেই সমস্ত কল্পনার জন্য আমার একটি বহিঃপ্রকাশ দরকার ছিল, তাই আমি তা বইয়ের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলাম।
* '''বাহ্যিক সাফল্য সেই সব মানুষের সাথে সম্পর্কিত যারা আমাকে একটি মডেল বা উদাহরণ বা প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে পারে। আমি সেই দায়িত্বটি যতটা অপছন্দ করি বা প্রত্যাখ্যান করতে চাই না কেন, এটি প্রকাশ্য সাফল্যের সাথে সাথে আসে। অন্যদের আশার আলো দেখানো গুরুত্বপূর্ণ যে এটি [[সম্ভব|সম্ভব]] এবং আপনি বিশ্বের সত্যিই ভিন্ন জায়গা থেকে আসতে পারেন এবং বিশ্বের নিজের জন্য একটি অনন্য জায়গা খুঁজে পেতে পারেন।'''
* আমি ব্যবসার জন্য লিখতাম। আমি মনে করি আমার মা শুরুতে কিছুটা সংশয়বাদী ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে একজন ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে আমি প্রায় সাথে সাথেই সফল হয়েছিলাম। আর তাই তিনি খুব গর্বিত ছিলেন, কারণ তিনি টাকার অংকে সাফল্য পরিমাপ করতেন, যা আমিও করতে শুরু করেছিলাম। আমার লক্ষ্য তখন হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রতি মাসে আমার উপার্জিত অর্থের পরিমাণ বাড়ানো। কেবল প্রতি বছর নয়, প্রতি মাসে — মানে, চাপের কথা ভাবুন — প্রতি মাসে আরও বেশি বিলযোগ্য ঘন্টা থাকা। যাতে আমার ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে তৃতীয় বছরের শেষে আমি সপ্তাহে ৯০ ঘন্টা বিল করছিলাম। আমার ঘুমানোর সময় ছিল না। আমার কোনো জীবন ছিল না। মানুষ বলত আমি পাগল, আমি একজন কাজপাগল। আর আমি বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে আমার এই চমৎকার ক্লায়েন্ট ছিল এবং আমি এত টাকা কামাচ্ছিলাম এবং আমি খুশি ছিলাম না এবং নিজেকে সফল মনে করছিলাম না। তখনই আমি কথাসাহিত্য লিখতে শুরু করি।
== অ্যামি ট্যান সম্পর্কে উদ্ধৃতি ==
* আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মহান লেখকরা জাদু বাস্তবতার চমৎকার, সমৃদ্ধ চিত্রকল্পের মধ্যে তাদের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাচ্ছেন। [[লুইস এরড্রিক]], [[টনি মরিসন]], [[অ্যালিস ওয়াকার]] এবং [[অ্যামি ট্যান]]-এর মতো লেখকদের সবারই লেখার একটি অনন্য, সমৃদ্ধ উপায় আছে যাকে জাদু বাস্তবতা হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। এই নারীরা তাদের মধ্যে রয়েছেন যারা শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে আসা বেশিরভাগ কথাসাহিত্যের লেখার শৈলী থেকে বেরিয়ে এসেছেন: সেই বাস্তববাদী, সংক্ষিপ্ত শৈলী এবং বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার উপায় যাতে কেবল সেই সব জিনিস সম্পর্কে কথা বলার সাহস করা হয় যা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তা অস্বীকার করা হয়।
** ১৯৯১ সালের সাক্ষাৎকার
* আমি শুরুর দিকের অ্যামি ট্যান এবং তার উপন্যাস দ্য জয় লাক ক্লাব খুব পছন্দ করতাম।
** ২০০৯ সালের সাক্ষাৎকার
* অ-শ্বেতাঙ্গ নারীদের [[নারীবাদ|নারীবাদের]] গুরুত্বের আরও একটি পরিমাপ ছিল তাদের কথাসাহিত্যের এক অভাবনীয় বিকাশ। [[টনি মরিসন]], [[সান্দ্রা সিসনেরোস]], [[অ্যামি ট্যান]] এবং [[লুইস এরড্রিক]]-এর লেখাগুলো মার্কিন নারীদের সাধারণ মানুষের কাছে নারীবাদী বার্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
** [[এলেন ডিবোস]] এবং লিন ডুমেনিল, ''থ্রু ওমেন'স আইজ'' (২০০৫)
*(প্রশ্ন: আপনি কি কিছু সমসাময়িক লেখকের নাম বলতে পারেন যাদের কাজ আপনি পছন্দ করেন?) এরড্রিক: ...[[অ্যামি ট্যান]]-এর উপন্যাস ''দ্য জয় লাক ক্লাব'', ''দ্য কিচেন গডস ওয়াইফ''...
** ১৯৯৩ সালের সাক্ষাৎকার
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{commonscat}}
* [http://www.barclayagency.com/tan.html অফিসিয়াল পাতা]
* [http://www.achievement.org/autodoc/page/tan0bio-1 অ্যামি ট্যানের পূর্ণ জীবনী, ফটো গ্যালারি এবং অনলাইন ভিডিও]
{{DEFAULTSORT:ট্যান, অ্যামি}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাবন্ধিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোটগল্পকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:শিশুতোষ লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপটিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ওকল্যান্ডের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:উত্তর-আধুনিক লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী লেখক]]
4p2kn8nj41g9nm0easfbdwdgq69bc6l
আলাপ:অ্যামি ট্যান
1
12388
76076
2026-04-12T13:48:54Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76076
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
অ্যালিস পল
0
12389
76093
2026-04-12T14:27:10Z
R1F4T
1240
"[[File:Alice Paul (1915) by Harris & Ewing - Original.tif|thumb|১৯১৫ সালে অ্যালিস পল]] '''[[অ্যালিস পল]]''' (১১ জানুয়ারি ১৮৮৫ – ৯ জুলাই ১৯৭৭) ছিলেন একজন [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন]] [[কোয়াকার]], নারী ভোটাধিকার আন্দো..." দিয়ে পাতা তৈরি
76093
wikitext
text/x-wiki
[[File:Alice Paul (1915) by Harris & Ewing - Original.tif|thumb|১৯১৫ সালে অ্যালিস পল]]
'''[[অ্যালিস পল]]''' (১১ জানুয়ারি ১৮৮৫ – ৯ জুলাই ১৯৭৭) ছিলেন একজন [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন]] [[কোয়াকার]], [[নারী ভোটাধিকার আন্দোলনকারী]], [[নারীবাদী]] এবং [[নারী অধিকার]] কর্মী। তিনি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ঊনবিংশ সংশোধনী|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ঊনবিংশ সংশোধনীর]] জন্য প্রচারণার অন্যতম প্রধান নেতা এবং কৌশলবিদ ছিলেন, যা ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যকে নিষিদ্ধ করে। পল [[লুসি বার্নস]] এবং অন্যদের সাথে মিলে [[নারী ভোটাধিকার পদযাত্রা]] এবং [[সাইলেন্ট সেন্টিনেলস]]-এর মতো ইভেন্টগুলোর পরিকল্পনা করেছিলেন, যা ১৯২০ সালে এই সংশোধনী পাসের সফল প্রচারণার অংশ ছিল।
== উদ্ধৃতি ==
* জঙ্গি নীতি সাফল্য বয়ে আনছে। . . . এই আন্দোলন [[ইংল্যান্ড]]-কে তার জড়তা থেকে বের করে এনেছে এবং ইংল্যান্ডের নারীরা এখন সেই সময়ের কথা বলছে যখন তারা ভোট দেবে, পরিবর্তে সেই সময়ের কথা যখন তাদের সন্তানরা ভোট দেবে, যেমনটি এক বা দুই বছর আগে প্রথা ছিল।
** [https://www.alicepaul.org/about-alice-paul/ "অ্যালিস পল কে ছিলেন?"], অ্যালিস পল ইনস্টিটিউট, ১৯১০ সাল থেকে
* যখন কোয়াকাররা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল... তাদের অন্যতম নীতি ছিল এবং আছে লিঙ্গের সমতা। তাই আমার অন্য কোনো ধারণা ছিল না... নীতিটি সব সময় সেখানে ছিল।
** [https://www.alicepaul.org/about-alice-paul/ "অ্যালিস পল কে ছিলেন?"], অ্যালিস পল ইনস্টিটিউট
* যদি রিপাবলিকান নারীরা কেবল [[রিপাবলিকান পার্টি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)|রিপাবলিকান পার্টি]]-কে সাহায্য করে এবং ডেমোক্র্যাট নারীরা [[ডেমোক্রেটিক পার্টি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)|ডেমোক্রেটিক পার্টি]]-কে সাহায্য করে, তবে নারীদের ভোটের খুব একটা গুরুত্ব থাকবে না। কিন্তু যদি [[রাজনৈতিক দল|রাজনৈতিক দলগুলো]] তাদের সামনে একদল স্বাধীন নারী ভোটারকে দেখতে পায় যারা ভোটাধিকার প্রচারের জন্য তাদের ভোট ব্যবহার করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তবে এটি ভোটাধিকারকে একটি ইস্যুতে পরিণত করবে — নারী ভোটাররা তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীতে পরিণত হবে যাদের ভোট তারা চাইবে।
** [https://speakingwhilefemale.co/womans-vote-paul1/ "নারী দল গঠন"] (৯ এপ্রিল ১৯১৬)
===[https://ridgefieldhistoricalsociety.org/documents/1974%20Interview%20with%20Alice%20Paul.pdf সাক্ষাৎকার] (১৯৭৪)===
*(আপনি আসলে কখন ভোটাধিকার আন্দোলনে যুক্ত হলেন?) এপি: ১৯০৭ সালে মাস্টার্স করার পর আমার ডক্টরাল স্টাডিজ আমাকে [[লন্ডন]]-এর স্কুল অফ ইকোনমিক্সে নিয়ে যায়। [[ইংরেজ মানুষ|ইংরেজ]] নারীরা ভোট পাওয়ার জন্য কঠোর সংগ্রাম করছিল এবং সবাইকে এগিয়ে এসে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল। তাই আমিও করলাম। এভাবেই শুরু। [[লুসি বার্নস]]-এর ক্ষেত্রেও একই রকম ছিল।
*আমার কাছে এটি চমকপ্রদ ছিল যে পুরুষদের একটি সরকার এমন একটি আন্দোলনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে যা ভোটাধিকারের মতো সাধারণ একটি ছোট জিনিস ছাড়া আর কিছুই চাইছিল না। এখন এটি প্রায় অচিন্তনীয় মনে হয়, তাই না? আজ লক্ষ লক্ষ নারী সুখে কাজ করতে যাচ্ছে এবং আমার দেখামতে কেউ এটি অস্বাভাবিক মনে করছে না। কিন্তু অবশ্যই কিছু দেশে নারী ভোটাধিকার এখনও এমন কিছু যা অর্জন করা বাকি।
*আমরা অনেক চিৎকার করে বলা অপমান শুনেছি, যা আমরা সব সময় আশা করতাম। আপনি জানেন, সাধারণ কথাগুলো যেমন আপনি কেন বাড়িতে রান্নাঘরে নেই যেখানে আপনার থাকার কথা। কিন্তু এটি খুব একটা সহিংস ছিল না। পরে যখন আমরা আসলে হোয়াইট হাউসে পিকেটিং করছিলাম, তখন মানুষ প্রায় সহিংস হয়ে উঠেছিল। তারা আমাদের হাত থেকে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলত এবং এ জাতীয় কাজ করত।
*(একবার আপনার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল যে স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি অভিজ্ঞতার চেয়ে উদ্দীপনাকে বেশি পছন্দ করেন।) এপি: হ্যাঁ। আপনি কি করবেন না? আমার মনে হয় সবাই তাই করবে। আমি মনে করি প্রতিটি সংস্কার আন্দোলনের এমন লোক দরকার যারা উদ্দীপনায় পূর্ণ। এটি আপনার প্রথম প্রয়োজন। আমি উদ্দীপনায় পূর্ণ ছিলাম এবং আমি আশেপাশে কোনো নিরুৎসাহী লোক চাইনি। আমি এখনও তাই আছি, অবশ্যই।
*যদি সারা বিশ্বে সর্বজনীন ভোটাধিকার থাকত, তবে আমাদের হয়তো যুদ্ধও হতো না।
*সেই সময়ে আমরা—এবং “আমরা” বলতে আমি পুরো নারী আন্দোলনকে বোঝাতে চাইছি—ভোটের শক্তির মাধ্যমে নারীদের জন্য অনেক দরজা খুলে দিয়েছিলাম, যেমন নারীদের কূটনৈতিক চাকরিতে যুক্ত করা। এবং ভুলে যাবেন না যে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের সনদে নারীদের সমতা অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা সফল হয়েছিলাম।
*আমি দৃঢ়ভাবে অনুভব করি যে আপনি যদি কিছু করতে চান, তবে আপনাকে একটি জিনিস নিতে হবে এবং সেটিই করতে হবে।
*(নারী অধিকারের সংগ্রামে আপনার অবদানকে আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন?) আমি সব সময় অনুভব করি... আন্দোলনটি এক ধরণের মোজাইকের মতো। আমাদের প্রত্যেকে একটি ছোট পাথর দিই এবং শেষ পর্যন্ত একটি বিশাল মোজাইক পাওয়া যায়।
== অ্যালিস পল সম্পর্কে উদ্ধৃতি ==
*এনএডব্লিউএসএ (NAWSA) পলের কৌশলের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু অনেক ইতিহাসবিদ একমত যে এই জঙ্গি পদক্ষেপগুলো সেই সময়ের জরুরিতাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
**[[বেটিনা অ্যাপথেকার]], ''মার্কিন ইতিহাসে জাতি, লিঙ্গ এবং শ্রেণীর ওপর প্রবন্ধ'' (১৯৮২)
*নারী ভোটাধিকার আজ প্রায় বিস্মৃত একটি ইস্যু, তবুও যুদ্ধ এখনও জেতা হয়নি। গত জুনে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস|কংগ্রেস]]-এর আত্মসমর্পণ সত্ত্বেও, এই রাজ্যগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থংশ নারী ১৯২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, যদি না আগামী দুই মাসে কোনো অলৌকিক কিছু ঘটে। অলৌকিক ঘটনাটি [[স্বর্গ]] থেকে পড়বে না। যদি এটি ঘটে, তবে এটি হবে সেই সমস্ত সাহসী যোদ্ধাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল যারা [[হোয়াইট হাউস]]-এ পিকেটিং করেছিল এবং জেলে গিয়েছিল এবং অবশেষে একটি বিপর্যস্ত ও বিব্রত সরকারের কাছ থেকে ফেডারেল সংশোধনী আদায় করেছিল—অ্যালিস পলের সাহসী জঙ্গি বাহিনী।
**১৯২০ সালের নিবন্ধ, ''নারী এবং বিপ্লবের ওপর ক্রিস্টাল ইস্টম্যান''
*অ্যালিস পল চিন্তার নয়, কর্মের নেতা। তিনি একজন জেনারেল, একজন দক্ষ কৌশলবিদ, বিমূর্ত চিন্তাবিদ নন। তার আনন্দ লড়াইয়ের মধ্যেই, প্রতিটি নির্দিষ্ট যুদ্ধে, পাঁচশ প্রতিনিধির সাথে লড়াইয়ের মৌলিক প্রকৃতি নিয়ে বিতর্কে নয়। "কার্যনির্বাহী কমিটি একটি যথেষ্ট ভালো বাক্যাংশ প্রদান করেছে—নারীদের অধীনতার বাকি সমস্ত রূপ অপসারণ করা।' প্রতিনিধিদের উচিত খুব কম বিতর্কের মাধ্যমে এই বাক্যাংশটি উদ্দেশ্য, কর্মসূচি এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান|সংবিধান]]-এর জন্য গ্রহণ করা।" অবশ্যই তিনি কিছু বলেননি, তবে আমার বিশ্বাস অ্যালিস পলের ধারণা ছিল যে কনভেনশনের পদক্ষেপ ঠিক এমনই হওয়া উচিত। "আমি আপনাদের জানাব প্রথম পদক্ষেপ কী হবে, কীভাবে কাজ করতে হবে এবং কখন। এখন বাড়ি যান এবং চিন্তা করবেন না।" এই শব্দগুলো প্রোগ্রামে ছাপা হয়নি, কিন্তু সেগুলো লাইনের মাঝে লেখা ছিল বলে মনে হচ্ছিল... অ্যালিস পল কি একজন র্যাডিক্যাল? তিনি কি এমনকি একজন [[উদারবাদ|উদারপন্থী]]? তিনি কি আসলে একজন [[প্রতিক্রিয়াশীল]]? অ্যালিস পলকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এই অস্পষ্ট সংস্কারবাদী শব্দগুলো অনুপযুক্ত। আসুন আমরা [[বিপ্লব]]-এর সুনির্দিষ্ট শব্দগুলো ব্যবহার করি। তিনি কোনো [[সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] নন, তিনি [[সমাজতন্ত্র|সমাজতন্ত্রী]] নন; যদি তিনি শ্রেণী-সচেতন হন তবে তার প্রবৃত্তি সম্ভবত সেই শ্রেণীর সাথেই হবে যে শ্রেণীতে তিনি জন্মেছেন। কিন্তু আমি মনে করি না তিনি [[শ্রেণী সচেতনতা|শ্রেণী-সচেতন]]। আমি মনে করি তিনি লিঙ্গ-সচেতন; তিনি নারী আন্দোলনের জন্য নিজেকে দেহ, মন এবং আত্মা দিয়ে বিলিয়ে দিয়েছেন। [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] তার উদ্দেশ্যে কোনো দ্বিধা আনেনি, আসলে তিনি তার উদ্দেশ্য এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুদ্ধের সুযোগ ব্যবহার করেছিলেন। আমি কল্পনা করি যে তিনি কোনো পক্ষ না নিয়ে প্রলেতারিয়েত বিপ্লবের মধ্য দিয়েও যেতে পারেন এবং পরদিন সকালে এক্সট্রাঅর্ডিনা কমিশন দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন যে নারীদের প্রতি বিপ্লবের প্রতিশ্রুতিগুলো যেন ভুলে যাওয়া না হয়! অ্যালিস পল বিপ্লবের অন্তর্ভুক্ত নন, কিন্তু তার নেতৃত্বের এমন একটি গুণ ছিল যা কেবল বিপ্লবই বুঝতে পারে।
**১৯২১ সালের নিবন্ধ, ''নারী এবং বিপ্লবের ওপর ক্রিস্টাল ইস্টম্যান''
*অ্যালিস পল কোয়াকার বংশোদ্ভূত এবং তার আচরণের মধ্যে সেই শক্তিশালী প্রশান্তি রয়েছে যা সফল কোয়াকারদের বৈশিষ্ট্য। অন্য অনেক বিখ্যাত জেনারেলের মতো তিনিও পাঁচ ফুট ছয়ের কম উচ্চতার একজন স্লিম, কালো চুলের মহিলা যার মুখ ফ্যাকাশে এবং চোখ দুটি শিশুর মতো সরল যা আপনাকে তার উদ্দেশ্যের দিকে টেনে নেয়। সেই সাত বছরের ভোটাধিকার প্রচারণার সময় তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছিলেন, এত কম খেয়েছিলেন এবং এত কম ঘুমিয়েছিলেন যে মনে হতো তিনি আমাদের চোখের সামনেই ক্ষয়ে যাচ্ছেন... বন্ধুত্বের চেয়ে উদাসীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন এবং আন্দোলনের জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর কিছু নেই যখন সবাই স্বীকার করে যে এটি মৌলিকভাবে সঠিক। আপনি যদি আপনার ইস্যুটিকে এমনভাবে সাজাতে পারেন বা আক্রমণের পদ্ধতিটি এমনভাবে বেছে নিতে পারেন যা সৎ ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা এবং মতপার্থক্য তৈরি করে, যাতে আপনার সমস্ত অনুসারীরা উৎসাহী ব্যাখ্যাকারী হয়ে ওঠে, তবে আপনি একটি আন্দোলনে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। অ্যালিস পল এটি জানেন এবং তিনি একটি ইস্যু সাজাতে দক্ষ। আমি যখন সেই সাত বছরের সংগ্রামের দিকে ফিরে তাকাই, তখন আমার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় যে অনেক সাহসী কৌশল শত্রুকে বিভ্রান্ত করার চেয়ে অনুসারীদের পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল... মার্কিন নারীবাদী আন্দোলনে অ্যালিস পলের সক্রিয় নেতৃত্ব ছিল অনেকটা আকস্মিক। তিনি একটি ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং একজন পণ্ডিত হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন যখন তিনি ইংরেজ জঙ্গি আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং জেলে সংক্ষিপ্ত সময় কাটান। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তিনি আমেরিকায় নারী ভোটাধিকারের জন্য কী করবেন তা পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। মার্কিন নারীরা ইংরেজ জঙ্গিদের কাছে অনেক ঋণী, তবে এটি সবার ওপর।
**১৯২৩ সালের নিবন্ধ, ''নারী এবং বিপ্লবের ওপর ক্রিস্টাল ইস্টম্যান''
*আমি আরও বলতে পারি যে অ্যালিস পলের লন্ডন সফর [[হ্যাজেল হানকিনস]], [[বেটি গ্রাম]] এবং আমার মতো ওম্যান'স পার্টির নির্বাসিতদের জীবনকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। এই অলৌকিক কর্মীকে—এত শান্ত, এত অক্লান্ত, এত নিশ্চিতভাবে আবারও পাহাড় নড়াতে শুরু করতে দেখে ভবিষ্যতের প্রতি একজনের বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত হয়।
**''নারী এবং বিপ্লবের ওপর ক্রিস্টাল ইস্টম্যান''-এ ১৯২৫ সালের নিবন্ধ
* [[নারী অধিকার|নারীদের মর্যাদাহানি]] পরিবর্তনের অন্যান্য প্রমাণ আরও বেশি স্পষ্ট ছিল। কিংবদন্তি ‘‘ফ্ল্যাপার’’ যুদ্ধোত্তর দশকে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যা নারী স্বাধীনতা এবং যৌন সমতার এক নতুন চেতনার সংকেত দিয়েছিল। ১৯২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক আগে প্রণীত [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ঊনবিংশ সংশোধনী|ঊনবিংশ সংশোধনী]] নারীদের অন্তত আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমতা প্রদান করেছিল। ১৯২৩ সালে ন্যাশনাল ওম্যান'স পার্টির অ্যালিস পল কর্তৃক প্রথম প্রস্তাবিত [[সমান অধিকার সংশোধনী|সমান অধিকার সংশোধনী]] নারীদের পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ১৯২১ সালে [[মার্গারেট স্যাঙ্গার]] কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত [[জন্ম নিয়ন্ত্রণ]] প্রচারের একটি সংগঠিত আন্দোলন প্রজনন নিয়ন্ত্রণ এবং কামুক মুক্তির দিকে ক্রমবর্ধমান নারী ফোকাসকে ঘোষণা করেছিল। অসংখ্য [[নারী]], বিশেষ করে যদি তারা শহুরে, শ্বেতাঙ্গ এবং ধনী হয়, এখন শুক্রাণু নাশক জেল এবং মেনসিঙ্গা-টাইপ ডায়াফ্রামের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করত, যা ১৯২০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম পরিমাণে [[উৎপাদন]] করা হয়েছিল। এই উন্নয়ন ''রিসেন্ট সোশ্যাল ট্রেন্ডস''-এর লেখকদের উদ্বিগ্ন করেছিল, যারা ভয় পেয়েছিল যে পুরনো শ্বেতাঙ্গ, শহুরে [[মার্কিন মধ্যবিত্ত|মধ্যবিত্ত]] গ্রামীণ এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন|অভিবাসী]] [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য|দরিদ্র]] এবং সেইসাথে [[কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ|কৃষ্ণাঙ্গদের]] দ্বারা সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
** [[ডেভিড এম. কেনেডি]], ''ফ্রিডম ফ্রম ফিয়ার'' (১৯৯৯)
*মিস অ্যালিস পল, পিএইচডি, ইকুয়াল রাইটস ট্রিটির লেখক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওম্যান'স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অফ ওম্যান-এর জাতীয়তা কমিটির চেয়ারম্যান। তার অক্লান্ত গবেষণা এবং তথ্য সংকলনের কারণে কমিশনের এই বিশাল রিপোর্টটি এখন প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত। এই রিপোর্টটি সারা বিশ্বের নারীদের জাতীয়তা কভার করে। প্রতিটি ক্ষেত্রে, এটি মূল ভাষায় আইনের প্রকৃত অংশ প্রদান করে, অনুবাদসহ। এটি এমনকি জাপানি, গ্রীক, সিয়ামিজ, বুলগেরীয়, রুশ ইত্যাদি আইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে মূল স্ক্রিপ্টে মূল পাঠ্য অনুবাদের মুখোমুখি পাতায় রয়েছে। আইনের সারাংশও মিস পলের গুরুত্বপূর্ণ মূল অধ্যায়গুলোর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে আইনি তথ্যগুলো সমস্ত পাঠকদের কাছে সহজে বোধগম্য হয়, তারা আইনি শব্দের সাথে পরিচিত হোক বা না হোক। মিস স্টিভেন্স এবং মিস পল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত জাতীয়তার ওপর ব্যাপক সারণী এই রিপোর্টের আরেকটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার এবং গোয়েন্দা গল্পের মতো রোমাঞ্চকর।
**[[মুনা লি (লেখক)]] (১৯২৯)
*আপনার বা আমার অপরাধবোধের কোনো সৃজনশীল ব্যবহার আমার নেই। অপরাধবোধ কেবল সচেতন পদক্ষেপ এড়ানোর আরেকটি উপায়, সময় কেনার একটি উপায়। আমি যদি রাগের সাথে আপনার সাথে কথা বলি, তবে অন্তত আমি আপনার সাথে কথা বলেছি: আমি আপনার মাথায় বন্দুক ধরিনি এবং রাস্তায় আপনাকে গুলি করিনি; আমি আপনার রক্তাক্ত বোনের শরীরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করিনি, “সে এটি পাওয়ার জন্য কী করেছিল?” এটি ছিল দুইজন শ্বেতাঙ্গ নারীর প্রতিক্রিয়া যখন [[ম্যারি চার্চ টারেল]] একজন অন্তঃসত্ত্বা কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে পিটিয়ে হত্যার কথা বলছিলেন যার সন্তানকে তার শরীর থেকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। সেটি ছিল ১৯২১ সাল এবং অ্যালিস পল তখন সব নারীদের জন্য ঊনবিংশ সংশোধনী প্রয়োগের প্রকাশ্য সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছিলেন — [[কৃষ্ণাঙ্গ নারী|অন্য বর্ণের নারীদের]] অন্তর্ভুক্তির সমর্থন দিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে, যদিও আমরা সেই সংশোধনী আনতে সাহায্য করার জন্য কাজ করেছিলাম।
**[[অড্রে লর্ড]], [https://www.blackpast.org/african-american-history/speeches-african-american-history/1981-audre-lorde-uses-anger-women-responding-racism/ “রাগের ব্যবহার: বর্ণবাদের প্রতিক্রিয়া জানানো নারী”] (১৯৮১)
*১৯৪০ সালে [[নিউ ইয়র্ক সিটি]]-তে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড'স ফেয়ারে মিসেস [[ক্যারি চ্যাপম্যান ক্যাট]] ঘোষণা করেছিলেন যে যুদ্ধ বন্ধ করা নারীদের প্রধান কাজ... ভোটাধিকার আন্দোলনের নেতা হিসেবে মিসেস ক্যাটের চেয়ে বেশি জঙ্গি হওয়া সত্ত্বেও, অ্যালিস পল নিশ্চিত ছিলেন যে যুদ্ধ পুরুষদের প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত এবং নারীদের যুদ্ধ বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যখন ১৯৪১ সালের এপ্রিলে [[জেনেভা]] থেকে ফেরার পর তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যেখানে তিনি নারীদের সমান অধিকারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন পরিচালনার জন্য দুই বছর কাটিয়েছিলেন, তখন তিনি [[ইউরোপ]]-এর [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|যুদ্ধ]] সম্পর্কে বলেছিলেন: "নারীদের প্রবৃত্তি গঠনমূলক এবং তারা ধ্বংস নয় বরং নির্মাণ ও সৃষ্টি করতে চায়।" যুদ্ধের অপরাধবোধ তিনি পুরোপুরি পুরুষদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলেছিলেন: "এই যুদ্ধ আনা হয়েছিল নারীদের কিছু বলা বা করা ছাড়াই এবং এখন তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।"
**[[ম্যারি রিটার বিয়ার্ড]], ''ইতিহাসে শক্তি হিসেবে নারী'' (১৯৪৬)
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:পল, অ্যালিস}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী অ্যাক্টিভিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:নারী অধিকার কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৮৫-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৭-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৮০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]]
[[বিষয়শ্রেণী:নিউ জার্সির ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কোয়াকার]]
scawrzr8id621x90jxoin2phh23i1va
আলাপ:অ্যালিস পল
1
12390
76096
2026-04-12T14:30:29Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76096
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি
0
12392
76107
2026-04-12T14:42:52Z
R1F4T
1240
"[[File:Adrian Goldsworthy-2 (cropped).jpg|thumb|আমি ইংরেজ, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার কোনো দর্শন নেই। তবে, আমি একজন খ্রিস্টান, যদি আপনি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চান।]] '''আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার..." দিয়ে পাতা তৈরি
76107
wikitext
text/x-wiki
[[File:Adrian Goldsworthy-2 (cropped).jpg|thumb|আমি ইংরেজ, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার কোনো দর্শন নেই। তবে, আমি একজন খ্রিস্টান, যদি আপনি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চান।]]
'''[[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]]''' (জন্ম ১৯৬৯) একজন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ এবং ঔপন্যাসিক, যিনি প্রাচীন রোমান ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ।
== উদ্ধৃতি ==
* আমি ইংরেজ, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার কোনো দর্শন নেই। তবে, আমি একজন খ্রিস্টান, যদি আপনি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চান।
** তার "জীবনের দর্শন" সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত, ওরিয়ন পাবলিশিং গ্রুপের সাক্ষাৎকার, [https://web.archive.org/web/20100710082741/http://www.orionbooks.co.uk/authors/interviews/adrian-goldsworthy-q-a "আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি, সিজার: দ্য লাইফ অফ আ কোলোসাস-এর লেখক, আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন"], ''ওরিয়নবুকস.কো.ইউকে'' (আনুমানিক ২০১০)
=== নন-ফিকশন ===
* [[আতিলা]] দ্য হুন আজও বর্বরতা এবং ধ্বংসের সমার্থক। প্রাচীনকাল থেকে খুব কম নামই আছে যা তাৎক্ষণিক পরিচিতি জাগায়, তাকে [[আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট|আলেকজান্ডার]], [[জুলিয়াস সিজার|সিজার]], [[ক্লিওপেট্রা]] এবং [[নিরো]]-র মতো ব্যক্তিত্বের পাশে দাঁড় করায়। আতিলা প্রাচীন বিশ্বের ''সেই'' [[বর্বর]] হয়ে উঠেছেন।
** ''দ্য ফল অফ দ্য ওয়েস্ট: দ্য ডেথ অফ দ্য রোমান সুপারপাওয়ার'' (২০০৯) খণ্ড ৩, অধ্যায় ১৭
* এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে খ্রিস্টধর্ম মূলত একটি শহুরে সংস্কৃতি ছিল এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুরনো বিশ্বাস আঁকড়ে ধরেছিল। '[[পাগান]]' শব্দটি এসেছে ''পাগানাস'' থেকে, যার অর্থ যারা গ্রামাঞ্চলে (''পাগাস'') বাস করত। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা গ্রামীণ এলাকার ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানি যে এটি কেবল অনুমানমূলক। ''পাগানাস'' সাধারণত অবমাননাকর ছিল – অনেকটা 'গ্রাম্য' বা 'হাবা'র মতো শব্দ – এবং এটি সম্ভবত নগরবাসীদের সাধারণ বিশ্বাসের প্রতিফলন যে গ্রামবাসীরা নিস্তেজ এবং অনগ্রসর ছিল।
** ''হাউ রোম ফেল: ডেথ অফ আ সুপারপাওয়ার'' (২০০৯) খণ্ড ২, অধ্যায় ১২
==== ''ক্যানাই'' (২০০২) ====
[[File:A history of the cavalry from the earliest times (microform) - with lessons for the future (1877) (20613200565).jpg|thumb|হানিবালের কৌশলগুলো প্রায় নিখুঁত বলে মনে হয়, যা দ্বৈত পরিবেষ্টনের সর্বোত্তম উদাহরণ, এবং তখন থেকেই অনেক কমান্ডার তাদের সারমর্ম এবং অভূতপূর্ব সাফল্য অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন। প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়েছে।]]
* ২ আগস্ট ২১৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কার্থেজিনীয় জেনারেল হানিবাল ইতিহাসের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধজয়ের গৌরব অর্জন করেন। প্রায় দুইয়ের বিপরীতে এক অনুপাতে সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও, তার আফ্রিকান, স্প্যানিশ এবং কেল্টদের ভিন্নধর্মী সেনাবাহিনী কেবল পরাজিতই করেনি, বরং তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো রোমান সেনাবাহিনীকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছিল... [[ক্যানাইয়ের যুদ্ধ|ক্যানাই]]-তে ক্ষতির মাত্রা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শিল্পায়িত হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত অতুলনীয় ছিল।
** ভূমিকা
* প্রাচীন বিশ্বের বেশিরভাগ যুদ্ধ এখন প্রায় বিস্মৃত, কারণ সামরিক এবং নাগরিক শিক্ষা মৌলিকভাবে আর ক্লাসিকের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় না। তবুও ক্যানাই নিয়মিতভাবে আজকের সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়। হানিবালের কৌশলগুলো প্রায় নিখুঁত বলে মনে হয়, যা দ্বৈত পরিবেষ্টনের সর্বোত্তম উদাহরণ, এবং তখন থেকেই অনেক কমান্ডার তাদের সারমর্ম এবং অভূতপূর্ব সাফল্য অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন। প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়েছে।
** ভূমিকা
* হানিবাল শুধুমাত্র তার গতিশীল নেতৃত্ব এবং সেনাবাহিনীর উচ্চ মানের কারণেই যুদ্ধ জেতেননি, বরং তার পেছনে ছিল ভালো ভাগ্যেরও অবদান। ক্যানাই বিশুদ্ধ কৌশলের কোনো অনুশীলন ছিল না, বরং, সব যুদ্ধের মতোই, এটি ছিল সমসাময়িক সামরিক মতবাদ, প্রযুক্তি এবং একটি নির্দিষ্ট অভিযানের অদ্ভুত পরিস্থিতির ফসল।
** ভূমিকা
* একটি একক আঘাতে প্রতিপক্ষকে অক্ষম করা খুব কঠিন ছিল; হয় মাথায় একটি ভারী আঘাত, ঢাল পেরিয়ে এবং বর্মভেদ করে শরীরে একটি বিশাল খোঁচা, অথবা পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলা যাতে শিকারটি পড়ে যায়। এমন শক্তিশালী কোপ বা খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা আক্রমণকারীকে আহত হওয়ার বৃহত্তর ঝুঁকির মুখে ফেলে দিত, বিশেষ করে যখন তার ডান হাত এবং সম্ভবত তার ডান দিকের অংশ ঢালের সুরক্ষা হারাত। প্রতিপক্ষের অরক্ষিত প্রান্তে দুর্বল আক্রমণ চালানো কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, যদিও এতে দ্রুত তার মৃত্যুর সম্ভাবনা কম ছিল।
** ৪. ক্যানাইয়ের যুদ্ধ · যোগাযোগের জন্য আক্রমণ
* রোমান বাহিনী তাদের ম্যানিপলগুলোর মধ্যে প্রশস্ত ফাঁক এবং তিনটি লাইনের প্রতিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিরতি রেখে পরিচালনা করার কথা ছিল। এর কাঠামোর উন্মুক্ততা রোমান বাহিনীকে তুলনামূলকভাবে রুক্ষ ভূখণ্ডেও বিশৃঙ্খলায় না পড়ে অগ্রসর হতে সাহায্য করত। এমনকি সুপ্রশিক্ষিত সৈন্যদের জন্যও নিখুঁত সোজা লাইনে মার্চ করা অসম্ভব, এবং ভূখণ্ড যত অসমান হবে, একটি ইউনিটের একপাশে বা অন্যপাশে বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। ম্যানিপলগুলোর মধ্যকার প্রশস্ত বিরতি তাদের সংঘর্ষ এড়িয়ে এবং স্বাধীন কৌশলগত সত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করত। ক্যানাই-তে রোমান পদাতিক বাহিনী কর্তৃক গৃহীত অস্বাভাবিক গঠন এই উন্মুক্ততাকে বিসর্জন দিয়েছিল এবং এর সাথে ম্যানিপুলার সিস্টেমের বেশিরভাগ নমনীয়তাও হারিয়েছিল।
** ৪. ক্যানাইয়ের যুদ্ধ · পরিবেষ্টন
* [[হাসদ্রুবাল (কোয়ার্টারমাস্টার)|হাসদ্রুবাল]] তার নিকটবর্তী সারির অশ্বারোহী বাহিনীকে রোমান ডান উইংয়ের বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক নৃশংস চার্জে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা সংক্ষেপে তাদের ছত্রভঙ্গ এবং কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছিল। কার্থেজিনীয়রা তাদের লোকদের শক্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং, যখন তারা বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় গঠিত হয়েছিল, তখন সে তাদের রোমান প্রধান লাইনের পেছনে নিয়ে যায়, বাম দিকে [[গাইয়াস তেরেন্টিয়াস ভারো|ভারো]]-র বিরুদ্ধে অগ্রসর হয় এবং শত্রুর কেন্দ্রের বিশাল পদাতিক বাহিনীকে উপেক্ষা করে। ভারোর মিত্র অশ্বারোহীরা তখনও নুমিডিয়ানদের সাথে তাদের সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, কিন্তু পেছন থেকে হাসদ্রুবালের গলস এবং স্প্যানিয়ার্ডদের লাইন এগিয়ে আসতে দেখে তাদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। কার্থেজিনীয়রা আক্রমণ করার অপেক্ষা না করেই, রোমান বাম উইং আতঙ্কিত পলায়নের মুখে পড়ে, যেখানে কনসাল নিজেও যোগ দেন। তাদের অবস্থান অযোগ্য ছিল, এবং যদি তারা আসলে ক্যানাই-এর আশেপাশের পাহাড়ে তাদের পাশ তৈরি করে থাকত, তবে পলায়নে কোনো বিলম্ব তাদের আটকা পড়ার কারণ হতে পারত। দুই দিক থেকে আক্রমণকারী আরও অসংখ্য শত্রুর সাথে তারা কোনো যুদ্ধ জিততে পারত না, কিন্তু তাদের এই পলায়ন রোমান সেনাবাহিনীর ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
** ৪. ক্যানাইয়ের যুদ্ধ · পরিবেষ্টন
* ক্যানাই-এর পরবর্তী বর্ণনাগুলোর মধ্যে অনেক দুঃস্বপ্নের গুণমান রয়েছে... পরবর্তী উৎসগুলো আরও ভয়াবহতার উদ্ভাবন করবে, দাবি করবে যে হানিবাল রোমান মৃতদেহ দিয়ে অফিডিয়াস নদী পারাপারের সেতু তৈরি করেছিলেন। ক্যানাই-এর বাস্তবতা সম্ভবত এই ধরনের ভয়ানক উদ্ভাবনের চেয়েও বেশি আতঙ্কজনক ছিল, কারণ এটি ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত একক দিনের যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি, যা ১৯১৬ সালের [[সোমের প্রথম দিন|সোমের প্রথম দিনের]] ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য।
** ৫. পরবর্তী ফলাফল · মোছার কাজ
==== ''সিজার: লাইফ অফ আ কোলোসাস'' (২০০৬) ====
[[File:Roman republic.jpg|thumb|অভ্যন্তরীণভাবে স্থিতিশীল, প্রজাতন্ত্রটি তার যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্কেলে এবং তীব্রতার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ছিল।]]
* যদিও তিনি রোমান সামরিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, [[পোলিবিয়াস]] বিশ্বাস করতেন যে রোমের সাফল্য তার রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তার মতে, প্রজাতন্ত্রের সংবিধান, যা কোনো ব্যক্তিকে বা সমাজের কোনো অংশকে অপ্রতিরোধ্য নিয়ন্ত্রণ অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য যত্নসহকারে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল, রোমকে সেই ঘন ঘন বিপ্লব এবং গৃহবিবাদ থেকে মুক্তি দিয়েছিল যা বেশিরভাগ গ্রীক নগর-রাষ্ট্রকে জর্জরিত করেছিল। অভ্যন্তরীণভাবে স্থিতিশীল, রোমান প্রজাতন্ত্র তার যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্কেলে এবং তীব্রতার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ছিল। এটি সন্দেহজনক যে অন্য কোনো সমসাময়িক রাষ্ট্র [[হানিবাল]] দ্বারা সৃষ্ট বিপর্যয়কর ক্ষতি এবং ধ্বংস সহ্য করে যুদ্ধজয়ের পথে এগিয়ে যেতে পারত।
** খণ্ড ১, অধ্যায় ১
* [[লুসিয়াস কর্নিলিয়াস সুলা]] ছিলেন আকর্ষণীয় চেহারার একজন মানুষ, যার ত্বক ছিল ফর্সা, চোখ তীক্ষ্ণ ধূসর এবং চুল লাল রঙের। পরবর্তী জীবনে তার চেহারা ত্বকের একটি সমস্যার কারণে খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যা তার মুখে লাল রঙের দাগ ফেলেছিল। (কয়েক শতাব্দী পরের সামরিক আইনের একটি অস্পষ্ট অংশও দাবি করে যে তার একটি অণ্ডকোষ ছিল এবং তার অর্জনগুলো প্রমাণ করে যে এমন ত্রুটি একজন সফল সৈনিক হওয়ার পথে কোনো বাধা ছিল না।) সুলা খুব মনোমুগ্ধকর হতে পারতেন, সৈনিক এবং সিনেটর উভয়কেই জিতে নিতেন, কিন্তু অনেক অভিজাত তার বিষয়ে গভীরভাবে অনিশ্চিত ছিলেন। পাবলিক জীবনে দেরিতে প্রবেশ সত্ত্বেও তিনি মোটামুটি সফল ছিলেন এবং বারবার তার সামরিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। তার কনসালশিপ এসেছিল পঞ্চাশ বছর বয়সে, যা প্রথম মেয়াদের জন্য অস্বাভাবিক ছিল, এবং আগের দশকে তার প্রেটরশিপ জেতার জন্য দুইবার প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়েছিল। অনেক সিনেটরের পক্ষে সম্ভবত তার যৌবনের দারিদ্র্য এবং তার পরিবারের ক্ষয় ভুলে যাওয়া কঠিন ছিল। '''যেকোনো ব্যবস্থায় যারা সফল হয়, তাদের পক্ষে এটি সাধারণ যে তারা মনে করে অন্যদের ব্যর্থতা তাদের নিজেরই প্রাপ্য।''' সুলা দরিদ্র ছিলেন এবং অভিনেতা ও সংগীতশিল্পীদের সংগে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন, যে পেশাগুলো অত্যন্ত অমর্যাদাকর বলে বিবেচিত হতো। এমন আচরণ তার যৌবনে খারাপ ছিল এবং একজন সিনেটর ও ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য অনেক বেশি খারাপ, কিন্তু সুলা সারাজীবন তার পুরনো বন্ধুদের প্রতি অনুগত ছিলেন। তিনি প্রচুর মদ্যপান করতেন, ভোজ উপভোগ করতেন এবং ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হতো যে তিনি যৌনভাবে খুব সক্রিয় ছিলেন, পুরুষ এবং নারী উভয়কেই সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতেন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি প্রকাশ্যে অভিনেতা [[মেট্রোবিয়াস]]-এর সাথে মেলামেশা করতেন, যিনি মঞ্চে নারী চরিত্রে অভিনয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং বিশ্বাস করা হতো যে তারা প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।
** খণ্ড ১, অধ্যায় ৩
* [[রোমান আইন|রোমান আইনগুলো]] সাধারণত দীর্ঘ এবং জটিল ছিল — বিশ্বের প্রতি রোমের সবচেয়ে স্থায়ী উত্তরাধিকারগুলোর মধ্যে একটি হলো কষ্টকর এবং জটিল আইনি গদ্য।
** খণ্ড ১, অধ্যায় ৮
** দেখুন: সিজারের প্রস্তাবিত [[ফার্স্ট ট্রায়ামভিরেট#অ্যাগ্রারিয়ান ল|''লেক্স অ্যাগ্রারিয়া'']] ৫৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের জানুয়ারি মাসে
==== ''অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা'' (২০১০) ====
[[File:Cleopatra bust in the British Museum.jpg|thumb|ক্লিওপেট্রার চুল কালো, বাদামী, সোনালী বা এমনকি লাল হতে পারে এবং তার চোখ হতে পারে বাদামী, ধূসর, সবুজ বা নীল... তার ত্বক খুব ফর্সা হতে পারে বা তার গায়ের রঙ হতে পারে গাঢ়, ভূমধ্যসাগরীয়।]]
* [[টলেমিক রাজবংশ|টলেমিরা]] ছিলেন ম্যাসেডোনীয়, সাথে গ্রীকদের কিছুটা সংমিশ্রণ এবং [[সিলেউসিড রাজবংশ|সিলেউসিডদের]] সাথে বিবাহের মাধ্যমে সিরিয়ার রক্তের একটি ছোট উপাদান যুক্ত ছিল। (লাইনে কারো পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো প্রমাণ নেই এবং এটা বোঝায় যে তারা রানী এবং তার স্বামী ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের ফসল ছিল। এটি সম্ভব, যদি খুব বেশি সম্ভাব্য না হয়, কিন্তু যেকোনো যুক্তির জন্য একটি অনিশ্চিত ভিত্তি।) ম্যাসেডোনীয়রা সমজাতীয় মানুষ ছিল না এবং তাদের চেহারা ও রঙে বেশ ভিন্নতা ছিল। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন ফর্সা চুলের অধিকারী, যদিও এটি সঠিকভাবে কী বোঝায় তা জানা সবসময়ই কঠিন। আগের মোজাইকের একটি রোমান অনুলিপি তাকে মাঝারি-বাদামী চুলের অধিকারী হিসেবে দেখায়। ফর্সা মানে কেবল কালো বা খুব গাঢ় বাদামী না-ও হতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম টলেমিদের অনেকেই ছিলেন সোনালী চুলের এবং তাদের চুলের সাথে সোনার তুলনা প্রমাণ করে যে এটি কেবল কালো চুল ''ছিল না''।
** অধ্যায় ৯
* ক্লিওপেট্রার চুল কালো, বাদামী, সোনালী বা এমনকি লাল হতে পারে এবং তার চোখ হতে পারে বাদামী, ধূসর, সবুজ বা নীল। এগুলোর প্রায় যেকোনো সংমিশ্রণই সম্ভব। একইভাবে, তার ত্বক খুব ফর্সা হতে পারে বা তার গায়ের রঙ হতে পারে গাঢ়, ভূমধ্যসাগরীয়। তার বংশপরিচয়ের কারণে ফর্সা ত্বক সম্ভবত কিছুটা বেশি সম্ভাব্য।
** অধ্যায় ৯
==== ''অগাস্টাস: ফার্স্ট এম্পেরর অফ রোম'' (২০১৪) ====
[[File:S0484.4.jpg|thumb|ব্যক্তি এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অনুগ্রহ করে তিনি তাদের ঋণী করেছিলেন, এবং তাই, প্রায়শই, ব্যক্তিগত সুবিধা বৃহত্তর মঙ্গলের সাথে জড়িত ছিল। এটি এই সত্যকে পরিবর্তন করে না যে তিনি ভালো শাসন করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন।]]
* রোমে আমাদের বোঝার মতো কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, আবার নির্বাচনও মূলত নীতি সম্পর্কিত কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। খুব খোলামেলাভাবে, ভোটাররা প্রার্থীর মতামতের চেয়ে তাদের উপলব্ধি করা চরিত্র এবং অতীতের আচরণের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন করত। যেখানে কোনো ব্যক্তির স্বভাব স্পষ্ট ছিল না, রোমান জনগণ একটি বিখ্যাত নামের দিকে আকৃষ্ট হতো, কারণ এমন একটি ধারণা ছিল যে গুণ এবং ক্ষমতা বংশগত।
** খণ্ড ১, অধ্যায় ২
* যখন [[মার্কাস লিসিনিয়াস ক্রাসাস]] তার প্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তিনি একজন ট্রিবিউনের দ্বারা তাড়া খেয়েছিলেন যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা প্রো-কনসাল এবং তার পরিকল্পিত অন্যায় যুদ্ধের অভিশাপ দেন। '''বেশিরভাগ সিনেটরের মনে প্রজাতন্ত্রের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিগত ঘৃণা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বড় জায়গা দখল করে রেখেছিল।'''
** খণ্ড ১, অধ্যায় ৩
** ক্রাসাস ৫৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের নভেম্বরে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রোম ত্যাগ করেন। দেখুন: [[সিসেরো]], ''অ্যাড অ্যাটকাম'', ৪, ১৩; [[প্লুটার্ক]], ''ক্রাসাস'', ১৬
* [[অগাস্টাস]] ক্ষমতাদখলের জন্য নিরলস চেষ্টা করেছিলেন এবং তারপর তা আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন, তিনি প্রকাশ্যে যাই দাবি করুন না কেন। এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিশ্চয়ই যেকোনো সফল রাজনৈতিক নেতার বৈশিষ্ট্য – এবং নিঃসন্দেহে অনেক কম সফলদেরও। তবুও তার ক্ষেত্রে তিনি সেই ক্ষমতাকে জনকল্যাণে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি [[রেস পাবলিক|''রেস পাবলিক'']]-কে আবার কার্যকর করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, এবং আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে তিনি সফল হয়েছিলেন, কারণ তিনি যে শান্তি ও স্থায়িত্ব এনেছিলেন তা আরও উচ্চ স্তরের সমৃদ্ধি বয়ে এনেছিল। একটি প্রাথমিক স্তরে, তার [[প্রিন্সিপেট|প্রিন্সিপেট]]-এর অধীনে আরও বেশি মানুষ কয়েক প্রজন্মের চেয়ে ভালো ছিল। তিনি যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছিলেন সেগুলো ছিল ঐতিহ্যগত, এমনকি তার কিছু পদ্ধতি ছিল উদ্ভাবনী। [[জুলিয়াস সিজার]] এই সমস্যাগুলোর বেশ কয়েকটি সমাধান করার চেষ্টা করেছিলেন, অন্যরা যেমন করেছিলেন, কিন্তু অগাস্টাসের মতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মোকাবিলা করার সুযোগ কারও ছিল না। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে এটি সর্বজনবিদিত যে তিনি জনকল্যাণের জন্য কাজ করছেন, কিন্তু আবারও এমন বিজ্ঞাপন ছিল যা যেকোনো রোমান রাজনীতিবিদ করতেন। ব্যক্তি এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অনুগ্রহ করে তিনি তাদের ঋণী করেছিলেন, এবং তাই, '''প্রায়শই, ব্যক্তিগত সুবিধা বৃহত্তর মঙ্গলের সাথে জড়িত ছিল।''' এটি এই সত্যকে পরিবর্তন করে না যে তিনি ভালো শাসন করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন।
** উপসংহার
=== ফিকশন ===
* 'আমি তোমাকে শপথ নিতে শুনিনি।'{pb}'ভালো রাগের অপচয়,' ফেরক্স তার দিকে না তাকিয়েই বলল। এটা এমন কিছু ছিল যা তার দাদা প্রায়ই বলতেন। রাগ অপচয় করবেন না। এটিকে লালন করুন, লালন করুন এবং এটি যে শক্তি দেয় তা ব্যবহার করুন। গরম রাগ মানুষকে মেরে ফেলে। ঠান্ডা রাগ অন্য ব্যক্তিকে মাটিতে পুঁতে দেবে।
** ''ভিনডোলান্ডা'' (২০১৭) অধ্যায় ৯
* যে ব্যক্তি বারবার আপনাকে তাকে বিশ্বাস করতে বলে, সে সবসময় কিছু গোপন করে।
** ''ভিনডোলান্ডা'' (২০১৭) অধ্যায় ১৬
* অবিশ্বাস্য লোকেরা স্বার্থপর হতে থাকে, যা তাদের বোঝা সহজ করে তোলে।
** ''দ্য এনসার্কলিং সি'' (২০১৮) অধ্যায় ১০
* আমি এটাকে অমানবিক নিষ্ঠুরতা বলতাম যদি সেটা বোধগম্য হতো, কিন্তু সেটা হতে পারে না কারণ এটি মানুষ দ্বারা করা হয়েছিল এবং দানব দ্বারা নয়।
** ''দ্য এনসার্কলিং সি'' (২০১৮) অধ্যায় ১৫
== বহিঃসংযোগ ==
* {{Wikipedia-inline}}
{{DEFAULTSORT:গোল্ডসওয়ার্দি, আদ্রিয়ান}}
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের ইতিহাসবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের নন-ফিকশন লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
n1jgxf3736k62nbrj5ur1igxbgzs3on
আলাপ:আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি
1
12393
76108
2026-04-12T14:43:08Z
R1F4T
1240
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76108
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আলাপ:ডায়ান ফসি
1
12394
76132
2026-04-12T16:00:39Z
Sumanta3023
4175
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76132
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আলাপ:সংবাদ
1
12395
76138
2026-04-12T16:06:36Z
Salil Kumar Mukherjee
39
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76138
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
ব্যবহারকারী আলাপ:Sheikh Mohammad Alimul Islam
3
12396
76141
2026-04-12T16:13:02Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76141
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Sheikh Mohammad Alimul Islam,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১৬:১৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
kcejunj9ekl30x6ubtwpc0t7n7uhtvm
বিচারক
0
12397
76152
2026-04-12T17:54:15Z
Salil Kumar Mukherjee
39
নতুন পাতা
76152
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:বিচারক|বিচারক]]''' বা '''বিচারকর্তা''' বা '''বিচারপতি''' হলেন এমন কর্মকর্তা যারা এককভাবে অথবা বিচারকমণ্ডলীর অংশ হিসেবে আদালতের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত তথ্যের উপর আইনের প্রযোজ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করেন।
== উক্তি ==
* আমি এদের জিজ্ঞাসা করলুম, “কেউ কোনো অপরাধ করলে এখানে তার বিধান কী।”<br>একটি মেয়ে বললে, “আমাদের কোনো শাসন নেই, কেননা আমরা নিজেদের শাস্তি দিই।”<br>আমি বললুম, “আর একটু বিস্তারিত করে বলো। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবার জন্যে তোমরা কি বিশেষ সভা ডাকো। নিজেদের মধ্যে থেকে কাউকে কি তোমরা বিচারক নির্বাচন করো। শাস্তি দেবার বিধিই বা কী রকমের।”<br>একটি মেয়ে বললে, “বিচারসভা যাকে বলে তা নয়, আমরা বলা-কওয়া করি। কাউকে অপরাধী করাই শাস্তি, তার চেয়ে শাস্তি আর নেই।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।
** সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৮
* সাতকড়ি কহিল, “ভাই, চট কেন? সিভিলিজেশন সস্তা জিনিস নয়। সূক্ষ্ণ বিচার করতে গেলে সূক্ষ্ণ আইন করতে হয়, সূক্ষ্ণ আইন করতে গেলেই আইনের ব্যবসায়ী না হলে কাজ চলেই না, ব্যাবসা চালাতে গেলেই কেনাবেচা এসে পড়ে— অতএব সভ্যতার আদালত আপনিই বিচার-কেনাবেচার হাট হয়ে উঠবেই— যার টাকা নেই তার ঠকবার সম্ভাবনা থাকবেই। তুমি রাজা হলে কী করতে বলো দেখি।”<br>গোরা কহিল, “যদি এমন আইন করতুম যে হাজার দেড় হাজার টাকা বেতনের বিচারকের বুদ্ধিতেও তার রহস্য ভেদ হওয়া সম্ভব হত না, তা হলে হতভাগা বাদী প্রতিবাদী উভয় পক্ষের জন্য উকিল সরকারি খরচে নিযুক্ত করে দিতুম। বিচার ভালো হওয়ার খরচা প্রজার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সুবিচারের গৌরব করে পাঠান-মোগলদের গাল দিতুম না।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩৩
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেশা]]
l5in1kc7xk8f8kne7lne57375dwxex3
76153
76152
2026-04-12T17:56:48Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76153
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:বিচারক|বিচারক]]''' বা '''বিচারকর্তা''' বা '''বিচারপতি''' হলেন এমন কর্মকর্তা যারা এককভাবে অথবা বিচারকমণ্ডলীর অংশ হিসেবে আদালতের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত তথ্যের উপর আইনের প্রযোজ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করেন।
== উক্তি ==
* আমি এদের জিজ্ঞাসা করলুম, “কেউ কোনো অপরাধ করলে এখানে তার বিধান কী।”<br>একটি মেয়ে বললে, “আমাদের কোনো শাসন নেই, কেননা আমরা নিজেদের শাস্তি দিই।”<br>আমি বললুম, “আর একটু বিস্তারিত করে বলো। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবার জন্যে তোমরা কি বিশেষ সভা ডাকো। নিজেদের মধ্যে থেকে কাউকে কি তোমরা বিচারক নির্বাচন করো। শাস্তি দেবার বিধিই বা কী রকমের।”<br>একটি মেয়ে বললে, “বিচারসভা যাকে বলে তা নয়, আমরা বলা-কওয়া করি। কাউকে অপরাধী করাই শাস্তি, তার চেয়ে শাস্তি আর নেই।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।
** সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৮
* সাতকড়ি কহিল, “ভাই, চট কেন? সিভিলিজেশন সস্তা জিনিস নয়। সূক্ষ্ণ বিচার করতে গেলে সূক্ষ্ণ আইন করতে হয়, সূক্ষ্ণ আইন করতে গেলেই আইনের ব্যবসায়ী না হলে কাজ চলেই না, ব্যাবসা চালাতে গেলেই কেনাবেচা এসে পড়ে— অতএব সভ্যতার আদালত আপনিই বিচার-কেনাবেচার হাট হয়ে উঠবেই— যার টাকা নেই তার ঠকবার সম্ভাবনা থাকবেই। তুমি রাজা হলে কী করতে বলো দেখি।”<br>গোরা কহিল, “যদি এমন আইন করতুম যে হাজার দেড় হাজার টাকা বেতনের বিচারকের বুদ্ধিতেও তার রহস্য ভেদ হওয়া সম্ভব হত না, তা হলে হতভাগা বাদী প্রতিবাদী উভয় পক্ষের জন্য উকিল সরকারি খরচে নিযুক্ত করে দিতুম। বিচার ভালো হওয়ার খরচা প্রজার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সুবিচারের গৌরব করে পাঠান-মোগলদের গাল দিতুম না।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩৩
* যেখানে আইনের তর্ক ধরিয়াই কাজ হয়, সেই আদালতের উকিল শুদ্ধমাত্র তর্কের জোর ফলাইতে সাহস করেন না, জজের মন বুঝিয়া অনেক সময় ভাল তর্কও তাঁহাকে পরিত্যাগ করিতে হয়, অনেক সময় বিচারকের কাছে মৌখিক পরাভব স্বীকারও করিতে হয়—তাহার কারণ, জজ্ ত আইনের পুঁথিমাত্র নহেন, তিনি সজীব মনুষ্য। যিনি আইন প্রয়োগ করিবেন, তাঁহার সম্বন্ধে যদি এত বাঁচাইয়া চলিতে হয়, যিনি আইন সৃষ্টি করিবেন, তাঁহার মনুষ্যস্বভাবের প্রতি কি একেবারে দৃকৃপাত করাও প্রয়োজন হইবে না?
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেশা]]
ao7uivzv3ufrkkls6h5zvt9gwcgvtf9
76154
76153
2026-04-12T17:57:14Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উদ্ধৃতি যোগ
76154
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:বিচারক|বিচারক]]''' বা '''বিচারকর্তা''' বা '''বিচারপতি''' হলেন এমন কর্মকর্তা যারা এককভাবে অথবা বিচারকমণ্ডলীর অংশ হিসেবে আদালতের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত তথ্যের উপর আইনের প্রযোজ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করেন।
== উক্তি ==
* আমি এদের জিজ্ঞাসা করলুম, “কেউ কোনো অপরাধ করলে এখানে তার বিধান কী।”<br>একটি মেয়ে বললে, “আমাদের কোনো শাসন নেই, কেননা আমরা নিজেদের শাস্তি দিই।”<br>আমি বললুম, “আর একটু বিস্তারিত করে বলো। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবার জন্যে তোমরা কি বিশেষ সভা ডাকো। নিজেদের মধ্যে থেকে কাউকে কি তোমরা বিচারক নির্বাচন করো। শাস্তি দেবার বিধিই বা কী রকমের।”<br>একটি মেয়ে বললে, “বিচারসভা যাকে বলে তা নয়, আমরা বলা-কওয়া করি। কাউকে অপরাধী করাই শাস্তি, তার চেয়ে শাস্তি আর নেই।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।
** সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৮
* সাতকড়ি কহিল, “ভাই, চট কেন? সিভিলিজেশন সস্তা জিনিস নয়। সূক্ষ্ণ বিচার করতে গেলে সূক্ষ্ণ আইন করতে হয়, সূক্ষ্ণ আইন করতে গেলেই আইনের ব্যবসায়ী না হলে কাজ চলেই না, ব্যাবসা চালাতে গেলেই কেনাবেচা এসে পড়ে— অতএব সভ্যতার আদালত আপনিই বিচার-কেনাবেচার হাট হয়ে উঠবেই— যার টাকা নেই তার ঠকবার সম্ভাবনা থাকবেই। তুমি রাজা হলে কী করতে বলো দেখি।”<br>গোরা কহিল, “যদি এমন আইন করতুম যে হাজার দেড় হাজার টাকা বেতনের বিচারকের বুদ্ধিতেও তার রহস্য ভেদ হওয়া সম্ভব হত না, তা হলে হতভাগা বাদী প্রতিবাদী উভয় পক্ষের জন্য উকিল সরকারি খরচে নিযুক্ত করে দিতুম। বিচার ভালো হওয়ার খরচা প্রজার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সুবিচারের গৌরব করে পাঠান-মোগলদের গাল দিতুম না।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩৩
* যেখানে আইনের তর্ক ধরিয়াই কাজ হয়, সেই আদালতের উকিল শুদ্ধমাত্র তর্কের জোর ফলাইতে সাহস করেন না, জজের মন বুঝিয়া অনেক সময় ভাল তর্কও তাঁহাকে পরিত্যাগ করিতে হয়, অনেক সময় বিচারকের কাছে মৌখিক পরাভব স্বীকারও করিতে হয়—তাহার কারণ, জজ্ ত আইনের পুঁথিমাত্র নহেন, তিনি সজীব মনুষ্য। যিনি আইন প্রয়োগ করিবেন, তাঁহার সম্বন্ধে যদি এত বাঁচাইয়া চলিতে হয়, যিনি আইন সৃষ্টি করিবেন, তাঁহার মনুষ্যস্বভাবের প্রতি কি একেবারে দৃকৃপাত করাও প্রয়োজন হইবে না?
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সফলতার সদুপায়, আত্মশক্তি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেশা]]
3swz6pnx3cdccf4k8qcps8oohb2w895
76155
76154
2026-04-12T18:12:33Z
Salil Kumar Mukherjee
39
উক্তি যোগ
76155
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:বিচারক|বিচারক]]''' বা '''বিচারকর্তা''' বা '''বিচারপতি''' হলেন এমন কর্মকর্তা যারা এককভাবে অথবা বিচারকমণ্ডলীর অংশ হিসেবে আদালতের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থাপিত তথ্যের উপর আইনের প্রযোজ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করেন।
== উক্তি ==
* আমি এদের জিজ্ঞাসা করলুম, “কেউ কোনো অপরাধ করলে এখানে তার বিধান কী।”<br>একটি মেয়ে বললে, “আমাদের কোনো শাসন নেই, কেননা আমরা নিজেদের শাস্তি দিই।”<br>আমি বললুম, “আর একটু বিস্তারিত করে বলো। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবার জন্যে তোমরা কি বিশেষ সভা ডাকো। নিজেদের মধ্যে থেকে কাউকে কি তোমরা বিচারক নির্বাচন করো। শাস্তি দেবার বিধিই বা কী রকমের।”<br>একটি মেয়ে বললে, “বিচারসভা যাকে বলে তা নয়, আমরা বলা-কওয়া করি। কাউকে অপরাধী করাই শাস্তি, তার চেয়ে শাস্তি আর নেই।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
* আর তোমরা নিজদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোন অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।
** সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৮
* সাতকড়ি কহিল, “ভাই, চট কেন? সিভিলিজেশন সস্তা জিনিস নয়। সূক্ষ্ণ বিচার করতে গেলে সূক্ষ্ণ আইন করতে হয়, সূক্ষ্ণ আইন করতে গেলেই আইনের ব্যবসায়ী না হলে কাজ চলেই না, ব্যাবসা চালাতে গেলেই কেনাবেচা এসে পড়ে— অতএব সভ্যতার আদালত আপনিই বিচার-কেনাবেচার হাট হয়ে উঠবেই— যার টাকা নেই তার ঠকবার সম্ভাবনা থাকবেই। তুমি রাজা হলে কী করতে বলো দেখি।”<br>গোরা কহিল, “যদি এমন আইন করতুম যে হাজার দেড় হাজার টাকা বেতনের বিচারকের বুদ্ধিতেও তার রহস্য ভেদ হওয়া সম্ভব হত না, তা হলে হতভাগা বাদী প্রতিবাদী উভয় পক্ষের জন্য উকিল সরকারি খরচে নিযুক্ত করে দিতুম। বিচার ভালো হওয়ার খরচা প্রজার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সুবিচারের গৌরব করে পাঠান-মোগলদের গাল দিতুম না।”
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩৩
* বিচারক এবং জুরিদের যদি নিজেদের হাতে কোনো বন্দীকে ফাঁসি দিতে হতো, তবে ফাঁসির দণ্ড অনেক কমে যেত; যদি আমাদের নিজেদের হাতে মাংসের জন্য পশু জবাই করতে হতো, তবে নিরামিষাশীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত।
** আরনেস্ট হাওয়ার্ড ক্রসবি, ''টলস্টয় অ্যান্ড হিজ মেসেজ'', নিউ ইয়র্ক: ফাঙ্ক অ্যান্ড ওয়াগনালস কোম্পানি, ১৯০৪, [https://archive.org/stream/tolstoyhismessa00cros#page/52 পৃষ্ঠা ৫৩]।
* যেখানে আইনের তর্ক ধরিয়াই কাজ হয়, সেই আদালতের উকিল শুদ্ধমাত্র তর্কের জোর ফলাইতে সাহস করেন না, জজের মন বুঝিয়া অনেক সময় ভাল তর্কও তাঁহাকে পরিত্যাগ করিতে হয়, অনেক সময় বিচারকের কাছে মৌখিক পরাভব স্বীকারও করিতে হয়—তাহার কারণ, জজ্ ত আইনের পুঁথিমাত্র নহেন, তিনি সজীব মনুষ্য। যিনি আইন প্রয়োগ করিবেন, তাঁহার সম্বন্ধে যদি এত বাঁচাইয়া চলিতে হয়, যিনি আইন সৃষ্টি করিবেন, তাঁহার মনুষ্যস্বভাবের প্রতি কি একেবারে দৃকৃপাত করাও প্রয়োজন হইবে না?
** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সফলতার সদুপায়, আত্মশক্তি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭০
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{উইকিঅভিধান}}
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:পেশা]]
hexib4atyj60fhrc87zhhoxqkg7catx
ব্যবহারকারী আলাপ:Rumman Chowdhury 20
3
12399
76161
2026-04-12T19:13:03Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76161
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Rumman Chowdhury 20,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১৯:১৩, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
9re65tygptmfqewfsc50cfz954zq5yk
মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
0
12400
76162
2026-04-12T19:26:56Z
Tanbiruzzaman
806
+
76162
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
5lh7l4vvluow9ivw4jeaozbt8cg97tj
76209
76162
2026-04-13T02:42:30Z
Tanbiruzzaman
806
/* উক্তি */
76209
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
1jiqzf6ain73yql78fye4soylmsuikj
76219
76209
2026-04-13T02:56:45Z
Tanbiruzzaman
806
/* উক্তি */
76219
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== লেখকদের দ্বারা ====
== বহিঃসংযোগ ==
cbdvljoa05cljf8we6v2teix0f5zxbt
76222
76219
2026-04-13T03:03:41Z
Tanbiruzzaman
806
/* তার অধ্যাপকদের দ্বারা */
76222
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== লেখকদের দ্বারা ====
== বহিঃসংযোগ ==
t83fhr9yutocdp8fv2uyl8w1cmupni9
76225
76222
2026-04-13T03:11:06Z
Tanbiruzzaman
806
/* ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা */
76225
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি [জারিফ] একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আকর্ষণীয় ব্যক্তি এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক।"
** জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান গিলারম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। {{cite web | author= | title=Israeli reaction to US-Iran nuclear negotiations |trans-title=মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া | website=ফক্স নিউজ | date=2015-03-28 | year=2015 | url=http://video.foxnews.com/v/4140057797001/israeli-reaction-to-us-iran-nuclear-negotiations/ | ref=harv | accessdate=2015-03-29}}
* "জারিফ চলে গেছে। আমরা ওর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।"
** ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে জারিফের পদত্যাগের জবাবে টুইটারে তার দাপ্তরিক ফার্সি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতি ([https://twitter.com/israelipm_farsi/status/1100313878376996864 সংযোগ])। {{cite web | last=জাভেদানফার | first=মেইর | title=Israel hopes Zarif resignation reveals cracks in Iran's Syria policy|trans-title=ইসরায়েল আশা করছে, জারিফের পদত্যাগ ইরানের সিরিয়া নীতিতে ফাটল উন্মোচন করবে। | website=আল-মনিটর| date=2019-02-27 | year=2019 | url=https://www.al-monitor.com/pulse/originals/2019/02/israel-hopes-iran-zarif-resignation-crack-syria-policy.html#ixzz5guitgzag | ref=harv | accessdate=2019-02-27}}
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== লেখকদের দ্বারা ====
== বহিঃসংযোগ ==
n0fskwsnvynsecsr1u2lvt5w1ve5gns
76235
76225
2026-04-13T03:30:27Z
Tanbiruzzaman
806
/* আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা */
76235
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি [জারিফ] একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আকর্ষণীয় ব্যক্তি এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক।"
** জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান গিলারম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। {{cite web | author= | title=Israeli reaction to US-Iran nuclear negotiations |trans-title=মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া | website=ফক্স নিউজ | date=2015-03-28 | year=2015 | url=http://video.foxnews.com/v/4140057797001/israeli-reaction-to-us-iran-nuclear-negotiations/ | ref=harv | accessdate=2015-03-29}}
* "জারিফ চলে গেছে। আমরা ওর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।"
** ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে জারিফের পদত্যাগের জবাবে টুইটারে তার দাপ্তরিক ফার্সি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতি ([https://twitter.com/israelipm_farsi/status/1100313878376996864 সংযোগ])। {{cite web | last=জাভেদানফার | first=মেইর | title=Israel hopes Zarif resignation reveals cracks in Iran's Syria policy|trans-title=ইসরায়েল আশা করছে, জারিফের পদত্যাগ ইরানের সিরিয়া নীতিতে ফাটল উন্মোচন করবে। | website=আল-মনিটর| date=2019-02-27 | year=2019 | url=https://www.al-monitor.com/pulse/originals/2019/02/israel-hopes-iran-zarif-resignation-crack-syria-policy.html#ixzz5guitgzag | ref=harv | accessdate=2019-02-27}}
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
[[File:Henry Kissinger.jpg|thumb|একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষ। ~ [[হেনরি কিসিঞ্জার]]]]
* "[জারিফ] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব অবগত এবং [নিজের দেশ সম্পর্কে] গভীর জ্ঞান রাখেন। স্বভাব, প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষার দিক থেকে তিনি সেইসব বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশংসনীয়ভাবে উপযুক্ত, যা ৩৪ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে বিভক্ত করে রেখেছে।"
** উইলিয়াম গ্রিন মিলার, ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যিনি নিউইয়র্কে জারিফের সাথে প্রায়ই সাক্ষাৎ করতেন। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ সেই চূড়ান্ত সাফল্যটি অর্জন করেছিলেন, যা ছাড়া [ [[আফগানিস্তান]]ে] [[হামিদ কারজাই|[হামিদ] কারজাই]] সরকার হয়তো কখনোই গঠিত হতো না।"
** মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দেওয়া সাক্ষ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ক পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি জেমস এফ. ডবিন্স। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ একজন কঠোর প্রবক্তা, কিন্তু তিনি বাস্তববাদী, গোঁড়া নন। ইরানের সঙ্গে আমাদের উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।"
** [[জো বাইডেন]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি ছলচাতুরী করেন না, উস্কানিমূলক কথা বলেন না। তিনি চিন্তাশীল। তিনি খাঁটি মানুষ। তিনি তাঁর জনগণকে সাহায্য করতে এবং একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে চান। একজন মানুষকে বিচার করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"
** ডায়ান ফাইনস্টাইন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষের প্রতি।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]] ২০০৭ সালে জাতিসংঘ ছাড়ার ঠিক আগে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে জারিফকে উপহার হিসেবে দেওয়া তার 'ডিপ্লোমেসি' বইয়ের একটি কপিতে লিখেছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি [জারিফ] ছিলেন বুদ্ধিমান, ভদ্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং তাঁর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত। আমি নিজের জ্ঞানার্জনের জন্যই কথোপকথনটি চালিয়েছিলাম, তাই আমি তাঁকে [জারিফকে] কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজি করানোর চেষ্টা করিনি। আমার মূল বক্তব্য শুধু এটাই ছিল যে, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। এর বাইরের সবকিছুই আদর্শগত।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
==== লেখকদের দ্বারা ====
== বহিঃসংযোগ ==
c3ccujpe072iej9gurvrqsy8dq9st55
76237
76235
2026-04-13T03:33:12Z
Tanbiruzzaman
806
/* ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা */
76237
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি [জারিফ] একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আকর্ষণীয় ব্যক্তি এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক।"
** জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান গিলারম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। {{cite web | author= | title=Israeli reaction to US-Iran nuclear negotiations |trans-title=মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া | website=ফক্স নিউজ | date=2015-03-28 | year=2015 | url=http://video.foxnews.com/v/4140057797001/israeli-reaction-to-us-iran-nuclear-negotiations/ | ref=harv | accessdate=2015-03-29}}
* "জারিফ চলে গেছে। আমরা ওর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।"
** ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে জারিফের পদত্যাগের জবাবে টুইটারে তার দাপ্তরিক ফার্সি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতি ([https://twitter.com/israelipm_farsi/status/1100313878376996864 সংযোগ])। {{cite web | last=জাভেদানফার | first=মেইর | title=Israel hopes Zarif resignation reveals cracks in Iran's Syria policy|trans-title=ইসরায়েল আশা করছে, জারিফের পদত্যাগ ইরানের সিরিয়া নীতিতে ফাটল উন্মোচন করবে। | website=আল-মনিটর| date=2019-02-27 | year=2019 | url=https://www.al-monitor.com/pulse/originals/2019/02/israel-hopes-iran-zarif-resignation-crack-syria-policy.html#ixzz5guitgzag | ref=harv | accessdate=2019-02-27}}
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
[[File:Henry Kissinger.jpg|thumb|একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষ। ~ [[হেনরি কিসিঞ্জার]]]]
* "[জারিফ] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব অবগত এবং [নিজের দেশ সম্পর্কে] গভীর জ্ঞান রাখেন। স্বভাব, প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষার দিক থেকে তিনি সেইসব বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশংসনীয়ভাবে উপযুক্ত, যা ৩৪ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে বিভক্ত করে রেখেছে।"
** উইলিয়াম গ্রিন মিলার, ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যিনি নিউইয়র্কে জারিফের সাথে প্রায়ই সাক্ষাৎ করতেন। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ সেই চূড়ান্ত সাফল্যটি অর্জন করেছিলেন, যা ছাড়া [ [[আফগানিস্তান]]ে] [[হামিদ কারজাই|[হামিদ] কারজাই]] সরকার হয়তো কখনোই গঠিত হতো না।"
** মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দেওয়া সাক্ষ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ক পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি জেমস এফ. ডবিন্স। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ একজন কঠোর প্রবক্তা, কিন্তু তিনি বাস্তববাদী, গোঁড়া নন। ইরানের সঙ্গে আমাদের উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।"
** [[জো বাইডেন]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি ছলচাতুরী করেন না, উস্কানিমূলক কথা বলেন না। তিনি চিন্তাশীল। তিনি খাঁটি মানুষ। তিনি তাঁর জনগণকে সাহায্য করতে এবং একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে চান। একজন মানুষকে বিচার করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"
** ডায়ান ফাইনস্টাইন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষের প্রতি।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]] ২০০৭ সালে জাতিসংঘ ছাড়ার ঠিক আগে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে জারিফকে উপহার হিসেবে দেওয়া তার 'ডিপ্লোমেসি' বইয়ের একটি কপিতে লিখেছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি [জারিফ] ছিলেন বুদ্ধিমান, ভদ্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং তাঁর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত। আমি নিজের জ্ঞানার্জনের জন্যই কথোপকথনটি চালিয়েছিলাম, তাই আমি তাঁকে [জারিফকে] কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজি করানোর চেষ্টা করিনি। আমার মূল বক্তব্য শুধু এটাই ছিল যে, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। এর বাইরের সবকিছুই আদর্শগত।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি একজন কারিগর। এর প্রমাণ হলো সেই ১২৩টি জীবন, যাঁদের আমরা তাঁদের পরিবার ও বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি।"
** ইতালীয় কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের প্রাক্তন জিম্মি আলোচক জিয়ানডোমেনিকো পিকো, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে লেবাননে আটক পশ্চিমা জিম্মিদের মুক্ত করার ক্ষেত্রে জারিফের "অমূল্য" ভূমিকার কথা বলেছেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== লেখকদের দ্বারা ====
== বহিঃসংযোগ ==
r7awj964btfs8sqwpcuk4vzegz4szzz
76245
76237
2026-04-13T03:47:32Z
Tanbiruzzaman
806
/* লেখকদের দ্বারা */
76245
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি [জারিফ] একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আকর্ষণীয় ব্যক্তি এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক।"
** জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান গিলারম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। {{cite web | author= | title=Israeli reaction to US-Iran nuclear negotiations |trans-title=মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া | website=ফক্স নিউজ | date=2015-03-28 | year=2015 | url=http://video.foxnews.com/v/4140057797001/israeli-reaction-to-us-iran-nuclear-negotiations/ | ref=harv | accessdate=2015-03-29}}
* "জারিফ চলে গেছে। আমরা ওর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।"
** ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে জারিফের পদত্যাগের জবাবে টুইটারে তার দাপ্তরিক ফার্সি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতি ([https://twitter.com/israelipm_farsi/status/1100313878376996864 সংযোগ])। {{cite web | last=জাভেদানফার | first=মেইর | title=Israel hopes Zarif resignation reveals cracks in Iran's Syria policy|trans-title=ইসরায়েল আশা করছে, জারিফের পদত্যাগ ইরানের সিরিয়া নীতিতে ফাটল উন্মোচন করবে। | website=আল-মনিটর| date=2019-02-27 | year=2019 | url=https://www.al-monitor.com/pulse/originals/2019/02/israel-hopes-iran-zarif-resignation-crack-syria-policy.html#ixzz5guitgzag | ref=harv | accessdate=2019-02-27}}
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
[[File:Henry Kissinger.jpg|thumb|একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষ। ~ [[হেনরি কিসিঞ্জার]]]]
* "[জারিফ] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব অবগত এবং [নিজের দেশ সম্পর্কে] গভীর জ্ঞান রাখেন। স্বভাব, প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষার দিক থেকে তিনি সেইসব বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশংসনীয়ভাবে উপযুক্ত, যা ৩৪ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে বিভক্ত করে রেখেছে।"
** উইলিয়াম গ্রিন মিলার, ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যিনি নিউইয়র্কে জারিফের সাথে প্রায়ই সাক্ষাৎ করতেন। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ সেই চূড়ান্ত সাফল্যটি অর্জন করেছিলেন, যা ছাড়া [ [[আফগানিস্তান]]ে] [[হামিদ কারজাই|[হামিদ] কারজাই]] সরকার হয়তো কখনোই গঠিত হতো না।"
** মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দেওয়া সাক্ষ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ক পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি জেমস এফ. ডবিন্স। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ একজন কঠোর প্রবক্তা, কিন্তু তিনি বাস্তববাদী, গোঁড়া নন। ইরানের সঙ্গে আমাদের উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।"
** [[জো বাইডেন]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি ছলচাতুরী করেন না, উস্কানিমূলক কথা বলেন না। তিনি চিন্তাশীল। তিনি খাঁটি মানুষ। তিনি তাঁর জনগণকে সাহায্য করতে এবং একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে চান। একজন মানুষকে বিচার করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"
** ডায়ান ফাইনস্টাইন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষের প্রতি।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]] ২০০৭ সালে জাতিসংঘ ছাড়ার ঠিক আগে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে জারিফকে উপহার হিসেবে দেওয়া তার 'ডিপ্লোমেসি' বইয়ের একটি কপিতে লিখেছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি [জারিফ] ছিলেন বুদ্ধিমান, ভদ্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং তাঁর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত। আমি নিজের জ্ঞানার্জনের জন্যই কথোপকথনটি চালিয়েছিলাম, তাই আমি তাঁকে [জারিফকে] কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজি করানোর চেষ্টা করিনি। আমার মূল বক্তব্য শুধু এটাই ছিল যে, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। এর বাইরের সবকিছুই আদর্শগত।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি একজন কারিগর। এর প্রমাণ হলো সেই ১২৩টি জীবন, যাঁদের আমরা তাঁদের পরিবার ও বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি।"
** ইতালীয় কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের প্রাক্তন জিম্মি আলোচক জিয়ানডোমেনিকো পিকো, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে লেবাননে আটক পশ্চিমা জিম্মিদের মুক্ত করার ক্ষেত্রে জারিফের "অমূল্য" ভূমিকার কথা বলেছেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== লেখকদের দ্বারা ====
* ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য [[বাশার আল-আসাদ|আসাদকে]] শাস্তি দিতে তার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে [[বারাক ওবামা|ওবামা]] সরে আসার এক মাস পর, তিনি এবং [[হাসান রুহানি|রাষ্ট্রপতি রুহানি]] [[জাতিসংঘ]]ের সাধারণ অধিবেশনে থাকাকালীন ফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী [[জন কেরি]] একান্ত বৈঠকে বসেন। ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। [[সৌদি আরব|সৌদিরা]] হতবাক হয়েছিল এবং গভীরভাবে প্রতারিত বোধ করেছিল। তারা ১৯৯০-এর দশকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের যুগ থেকে অনেক আগেই বেরিয়ে এসেছিল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন যোগাযোগের প্রতি তাদের বিশেষ অনীহা ছিল। এই ধরনের আলোচনার মাধ্যমে তারা আগেও প্রতারিত বোধ করেছিল, এবং এটি [[মধ্যপ্রাচ্য]]ে তাদের অবস্থান ও আরব বিশ্বে আমেরিকার শীর্ষ মিত্র হিসেবে তাদের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল। নিরাপত্তার জন্য তেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সৌদি-মার্কিন জোটের সীমাবদ্ধতা ছিল, এবং ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো ঘটনায় এই সম্পর্কটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। এদিকে, ওয়াশিংটনে এমন নীতিনির্ধারকও ছিলেন যারা মনে করতেন যে, একটি নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রসহ মরুরাজ্য হওয়ার চেয়ে ইরানের [[গণতন্ত্র]]ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ধরনের ভাবনাচিন্তা শুনে সৌদিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। ওবামা প্রশাসনও বিশ্বাস করত যে, সংস্কারপন্থীরা ক্ষমতায় থাকাকালীন যদি একটি চুক্তি করা যায়, তবে উন্নত অর্থনীতি সংস্কারপন্থীদের আরও শক্তিশালী করবে এবং দেখিয়ে দেবে যে কট্টরপন্থীরা জনগণকে কতটা হতাশ করেছে।
** [[কিম ঘাটাস]], ব্ল্যাক ওয়েভ: সৌদি আরব, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংস্কৃতি, ধর্ম ও সম্মিলিত স্মৃতির উন্মোচনকারী চল্লিশ বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা (২০২০)
== বহিঃসংযোগ ==
384nyuuqbyovu1zn6ni0d4q6ixtb9aj
76249
76245
2026-04-13T03:52:45Z
Tanbiruzzaman
806
/* বহিঃসংযোগ */
76249
wikitext
text/x-wiki
[[File:Mohammad Javad Zarif by Nasimonline.jpg|thumbnail|জাওয়াদ জারিফ]]
'''{{w|মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ}}''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ইরানি কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
==== সিএনএনে সাক্ষাৎকার ====
* '''তার ({{w|ডোনাল্ড ট্রাম্প}}ের) হুমকি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না'''। কিন্তু তিনি যা দেখাচ্ছেন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাচ্ছেন যে [[আন্তর্জাতিক আইন]]ের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তিনি যুদ্ধাপরাধ করতে প্রস্তুত, কারণ সাংস্কৃতিক স্থান আক্রমণ করা একটি [[যুদ্ধাপরাধ]] এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও একটি যুদ্ধাপরাধ। কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক আইনকে পাত্তা দেন না। কিন্তু তিনি কি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]কে আরও সুরক্ষিত করেছেন? আমেরিকানরা কি আরও সুরক্ষিত বোধ করছে? এই অঞ্চলে আজ কি আমেরিকানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে? তারা কি নিজেদের স্বাগত বোধ করছে?
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
* সুন্দর সামরিক সরঞ্জাম [[বিশ্ব]] শাসন করে না, মানুষই [[বিশ্ব]] শাসন করে। মানুষ।
**''[https://www.youtube.com/watch?v=PyH6QmFmeZE সিএনএনে সাক্ষাৎকার, ৭ জানুয়ারি ২০২০]''
==== বিপ্লব ====
* "ইরানে {{w|মখমল বিপ্লব}}ের ধারণাটিকে ভিত্তিহীন ভয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।"
** ১৮ নভেম্বর ২০০৮, {{cite web |url=http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |title=আর্কাইভকৃত সংস্করণ |accessdate=2015-07-06 |deadurl=yes |archiveurl=https://archive.is/20120908203416/http://edition.presstv.ir/detail/75784.html |archivedate=8 September 2012 |df=dmy-all }}
* "আমরা মতামতের জন্য কাউকে জেলে পুরি না[।]"
** ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল, জারিফ চার্লি রোজ টক-শোতে উপস্থিত হয়ে, গত নয় মাস ধরে ইরানে আটক ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার জেসন রেজাইয়ানের আটকাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। {{cite news |title=Iranian foreign minister angers supporters with human rights claim |trans-title=মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছেন। |date=1 May 2015 |work=দ্য গার্জিয়ান |url=https://www.theguardian.com/world/2015/may/01/iranian-foreign-minister-angers-supporters-human-rights-charlie-rose }}
* "[[সিরিয়া]]র সকল জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সিরিয়ার পতাকার অধীনে একটি একক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।" (সেপ্টেম্বর ২০১৮-এ দামেস্ক সফরকালে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৯-০৩)।
* "বর্তমানে, আমেরিকানরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং ইরানি ও আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। (রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে)। আইএফপি নিউজ (২০১৮-০৮-২৬)।
* "সংলাপ চর্চা করতে হলে, আপনাকে নিজের পূর্বধারণাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং কথা বলার চেয়ে বেশি শোনার চেষ্টা করতে হবে। এমনটা করা সবসময় রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, এটি আপনাকে বাস্তবতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। এই সমস্ত মানুষ আমাকে যে জ্ঞান ও তথ্য দিয়েছেন, তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। কারও কারও সাথে আমার মতের অমিল আছে, আবার অন্যদের সাথে মতের মিলই বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যাদের সাথে আমি একমত নই, তাদের কথা আমি শুনতে পারি না।" - {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== সামাজিক মাধ্যমে ====
* "ইরান কখনো এটিকে ({{w|ইহুদি গণহত্যা}}) অস্বীকার করেনি। যাকে এটি অস্বীকারকারী হিসেবে দেখা হতো ([[মাহমুদ আহমাদিনেজাদ]]), তিনি এখন আর নেই।"
** ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে, ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জন টিয়ার্নির প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ এবং ন্যান্সি পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসিকে উত্তর দেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন [[কূটনীতি]]কের শিল্প হলো তার হাসির আড়ালে সমস্ত অস্থিরতা গোপন করা।"
** ২৪ নভেম্বর ২০১৩ সালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| trans-title=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ: কূটনৈতিক মিশনে ইরানের প্রতিনিধি| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
== মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সম্পর্কে উক্তি ==
==== তার অধ্যাপকদের দ্বারা ====
* "[সে] ক্লাসে ভালো ছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, সে তার দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
** বেদ পি. নন্দা, ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের থম্পসন জি. মার্শ আইনের অধ্যাপক, যিনি জারিফকে পড়িয়েছিলেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কমিটির সদস্য ছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "আমি এ পর্যন্ত যত ছাত্রকে পড়িয়েছি, তাদের মধ্যে সে অন্যতম সেরা ছিল। সে খুবই ভালো একজন মানুষ।"
** ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ করবেল স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড টমাস রো, যিনি জারিফের গবেষণাপত্র তত্ত্বাবধানকারী কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। {{cite web | last= নুসবাউম| first=মেথিউ | title=
Iranian diplomat Zarif made impression at DU |trans-title=ডিউতে ইরানের কূটনীতিক জারিফের ছাপ | website=দ্য ডেনভার পোস্ট| date=2015-07-12 | year=2015| url=https://www.denverpost.com/2015/07/12/iranian-diplomat-zarif-made-impression-at-du/ | ref=harv | accessdate=2015-07-12}}
==== ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি [জারিফ] একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, আকর্ষণীয় ব্যক্তি এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক।"
** জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান গিলারম্যান ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। {{cite web | author= | title=Israeli reaction to US-Iran nuclear negotiations |trans-title=মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া | website=ফক্স নিউজ | date=2015-03-28 | year=2015 | url=http://video.foxnews.com/v/4140057797001/israeli-reaction-to-us-iran-nuclear-negotiations/ | ref=harv | accessdate=2015-03-29}}
* "জারিফ চলে গেছে। আমরা ওর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।"
** ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে জারিফের পদত্যাগের জবাবে টুইটারে তার দাপ্তরিক ফার্সি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতি ([https://twitter.com/israelipm_farsi/status/1100313878376996864 সংযোগ])। {{cite web | last=জাভেদানফার | first=মেইর | title=Israel hopes Zarif resignation reveals cracks in Iran's Syria policy|trans-title=ইসরায়েল আশা করছে, জারিফের পদত্যাগ ইরানের সিরিয়া নীতিতে ফাটল উন্মোচন করবে। | website=আল-মনিটর| date=2019-02-27 | year=2019 | url=https://www.al-monitor.com/pulse/originals/2019/02/israel-hopes-iran-zarif-resignation-crack-syria-policy.html#ixzz5guitgzag | ref=harv | accessdate=2019-02-27}}
==== আমেরিকান প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
[[File:Henry Kissinger.jpg|thumb|একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষ। ~ [[হেনরি কিসিঞ্জার]]]]
* "[জারিফ] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব অবগত এবং [নিজের দেশ সম্পর্কে] গভীর জ্ঞান রাখেন। স্বভাব, প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষার দিক থেকে তিনি সেইসব বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য প্রশংসনীয়ভাবে উপযুক্ত, যা ৩৪ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে বিভক্ত করে রেখেছে।"
** উইলিয়াম গ্রিন মিলার, ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যিনি নিউইয়র্কে জারিফের সাথে প্রায়ই সাক্ষাৎ করতেন। {{cite web | last=কমলি দেহঘন| first=সৈয়দ | title=Mohammad Javad Zarif: Iran's man on a diplomatic mission| website=দ্য গার্জিয়ান | date=2013-11-25 | year=2013 | url=https://www.theguardian.com/world/2013/nov/25/mohammad-javad-zarif-iran-profile | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ সেই চূড়ান্ত সাফল্যটি অর্জন করেছিলেন, যা ছাড়া [ [[আফগানিস্তান]]ে] [[হামিদ কারজাই|[হামিদ] কারজাই]] সরকার হয়তো কখনোই গঠিত হতো না।"
** মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দেওয়া সাক্ষ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ক পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি জেমস এফ. ডবিন্স। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "জারিফ একজন কঠোর প্রবক্তা, কিন্তু তিনি বাস্তববাদী, গোঁড়া নন। ইরানের সঙ্গে আমাদের উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।"
** [[জো বাইডেন]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি ছলচাতুরী করেন না, উস্কানিমূলক কথা বলেন না। তিনি চিন্তাশীল। তিনি খাঁটি মানুষ। তিনি তাঁর জনগণকে সাহায্য করতে এবং একটি ভিন্ন পথে চালিত করতে চান। একজন মানুষকে বিচার করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"
** ডায়ান ফাইনস্টাইন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "একজন সম্মানিত প্রতিপক্ষের প্রতি।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]] ২০০৭ সালে জাতিসংঘ ছাড়ার ঠিক আগে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে জারিফকে উপহার হিসেবে দেওয়া তার 'ডিপ্লোমেসি' বইয়ের একটি কপিতে লিখেছিলেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
* "তিনি [জারিফ] ছিলেন বুদ্ধিমান, ভদ্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং তাঁর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত। আমি নিজের জ্ঞানার্জনের জন্যই কথোপকথনটি চালিয়েছিলাম, তাই আমি তাঁকে [জারিফকে] কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজি করানোর চেষ্টা করিনি। আমার মূল বক্তব্য শুধু এটাই ছিল যে, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। এর বাইরের সবকিছুই আদর্শগত।"
** [[হেনরি কিসিঞ্জার]]। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ====
* "তিনি একজন কারিগর। এর প্রমাণ হলো সেই ১২৩টি জীবন, যাঁদের আমরা তাঁদের পরিবার ও বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি।"
** ইতালীয় কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের প্রাক্তন জিম্মি আলোচক জিয়ানডোমেনিকো পিকো, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে লেবাননে আটক পশ্চিমা জিম্মিদের মুক্ত করার ক্ষেত্রে জারিফের "অমূল্য" ভূমিকার কথা বলেছেন। {{cite web | last=রাইট | first=রবিন | title=দ্য এডভাইজারি | website=দ্য নিউ ইয়র্কার | date=2014-05-26 | year=2014 | url=http://www.newyorker.com/magazine/2014/05/26/the-adversary-2 | ref=harv | accessdate=2015-04-04}}
==== লেখকদের দ্বারা ====
* ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য [[বাশার আল-আসাদ|আসাদকে]] শাস্তি দিতে তার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে [[বারাক ওবামা|ওবামা]] সরে আসার এক মাস পর, তিনি এবং [[হাসান রুহানি|রাষ্ট্রপতি রুহানি]] [[জাতিসংঘ]]ের সাধারণ অধিবেশনে থাকাকালীন ফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী [[জন কেরি]] একান্ত বৈঠকে বসেন। ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। [[সৌদি আরব|সৌদিরা]] হতবাক হয়েছিল এবং গভীরভাবে প্রতারিত বোধ করেছিল। তারা ১৯৯০-এর দশকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের যুগ থেকে অনেক আগেই বেরিয়ে এসেছিল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন যোগাযোগের প্রতি তাদের বিশেষ অনীহা ছিল। এই ধরনের আলোচনার মাধ্যমে তারা আগেও প্রতারিত বোধ করেছিল, এবং এটি [[মধ্যপ্রাচ্য]]ে তাদের অবস্থান ও আরব বিশ্বে আমেরিকার শীর্ষ মিত্র হিসেবে তাদের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল। নিরাপত্তার জন্য তেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সৌদি-মার্কিন জোটের সীমাবদ্ধতা ছিল, এবং ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো ঘটনায় এই সম্পর্কটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। এদিকে, ওয়াশিংটনে এমন নীতিনির্ধারকও ছিলেন যারা মনে করতেন যে, একটি নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রসহ মরুরাজ্য হওয়ার চেয়ে ইরানের [[গণতন্ত্র]]ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ধরনের ভাবনাচিন্তা শুনে সৌদিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। ওবামা প্রশাসনও বিশ্বাস করত যে, সংস্কারপন্থীরা ক্ষমতায় থাকাকালীন যদি একটি চুক্তি করা যায়, তবে উন্নত অর্থনীতি সংস্কারপন্থীদের আরও শক্তিশালী করবে এবং দেখিয়ে দেবে যে কট্টরপন্থীরা জনগণকে কতটা হতাশ করেছে।
** [[কিম ঘাটাস]], ব্ল্যাক ওয়েভ: সৌদি আরব, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংস্কৃতি, ধর্ম ও সম্মিলিত স্মৃতির উন্মোচনকারী চল্লিশ বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা (২০২০)
== বহিঃসংযোগ ==
{{Sister project links|w=মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ|wikt=no|b=no|s=no|commons=Mohammad Javad Zarif|n=Javad Zarif|v=no|species=no|d=Q10296812|voy=no|m=no|mw=no}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:পররাষ্ট্রমন্ত্রী]]
bkjsa6plkpwy30npir8ud7t17yn6c7z
আরেফিন রুমি
0
12401
76163
2026-04-12T19:54:06Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
নতুন নিবন্ধ
76163
wikitext
text/x-wiki
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
fwqyqufpwd0yn7z5kvm9ac9eodg8h3a
76164
76163
2026-04-12T19:55:08Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */উক্তি
76164
wikitext
text/x-wiki
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
* মনের কথা শুনুন। নিজেই নিজেকে শাসন করুন।
** [https://www.tbsnews.net/bangla/video/news-details-335291?utm_source=chatgpt.com এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
lod734ld4ybamzqag5oytfckktmwira
76165
76164
2026-04-12T19:55:35Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76165
wikitext
text/x-wiki
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
* মনের কথা শুনুন। নিজেই নিজেকে শাসন করুন।
** [https://www.tbsnews.net/bangla/video/news-details-335291?utm_source=chatgpt.com এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
49qz16godfe7ghxfhrxzijez5r4s08e
76167
76165
2026-04-12T19:59:16Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76167
wikitext
text/x-wiki
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
* মনের কথা শুনুন। নিজেই নিজেকে শাসন করুন। যারা গান করতে চায় তারা অবশ্যই গানকে ভালোবাসতে হবে। গান শিখে আসতে হবে। সঙ্গীতাঙ্গনে তাড়াহুড়া বলে কিছু নেই। বাংলা গানকে ভালোবাসুন।
** "ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য আপনার বক্তব্য কী?" এই প্রশ্নের উত্তরে https://www.jugantor.com/tp-tara-jilmil/92453link এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
hevyu7vhqtumzaf7hajuul2oveevwns
76168
76167
2026-04-12T19:59:41Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */
76168
wikitext
text/x-wiki
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
* মনের কথা শুনুন। নিজেই নিজেকে শাসন করুন। যারা গান করতে চায় তারা অবশ্যই গানকে ভালোবাসতে হবে। গান শিখে আসতে হবে। সঙ্গীতাঙ্গনে তাড়াহুড়া বলে কিছু নেই। বাংলা গানকে ভালোবাসুন।
** "ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য আপনার বক্তব্য কী?" এই প্রশ্নের উত্তরে [https://www.jugantor.com/tp-tara-jilmil/92453link এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
eixsy4yl8f7gll8j68k8qq13ykisig0
76170
76168
2026-04-12T20:20:19Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
ছবি
76170
wikitext
text/x-wiki
[[File:Arfin Rumey.jpg|থাম্ব]]
[[w:আরেফিন রুমি|আরফিন রুমি]] একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] গায়ক, সুরকার এবং সংঙ্গীত পরিচালক। তার ৩০ টিরও বেশি অ্যালবাম, একক এবং মিশ্র কাজ মুক্তি পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তার অনেকগুলো জনপ্রিয় বাংলা গান প্রকাশিত হয়েছে।
==উক্তি==
* মনের কথা শুনুন। নিজেই নিজেকে শাসন করুন। যারা গান করতে চায় তারা অবশ্যই গানকে ভালোবাসতে হবে। গান শিখে আসতে হবে। সঙ্গীতাঙ্গনে তাড়াহুড়া বলে কিছু নেই। বাংলা গানকে ভালোবাসুন।
** "ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য আপনার বক্তব্য কী?" এই প্রশ্নের উত্তরে [https://www.jugantor.com/tp-tara-jilmil/92453link এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
0ca7wpi4k3aedmvper25mdktrp4cbip
আলাপ:সালাহউদ্দিন আহমেদ (রাজনীতিবিদ)
1
12402
76171
2026-04-12T20:38:10Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76171
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
দ্বিজ কানাই
0
12403
76175
2026-04-12T22:01:09Z
Vugon kumar
2064
উক্তি
76175
wikitext
text/x-wiki
====উক্তি====
ge8hdtu8gp7hogvrirw5419h58p6w9e
76176
76175
2026-04-12T22:08:18Z
Vugon kumar
2064
/* উক্তি */
76176
wikitext
text/x-wiki
====উক্তি====
১। মাও ছাড়ছি বাপ ছাড়ছি ছাড়ছি জাতি কুল |
ভমর হইলাম আমি তুমি বনের ফুল ||
-মহুয়া পালা
lsonsmnvqa4tosr45irtffvdfci2sqi
76180
76176
2026-04-12T22:12:31Z
Vugon kumar
2064
/* উক্তি */
76180
wikitext
text/x-wiki
====উক্তি====
১। মাও ছাড়ছি বাপ ছাড়ছি ছাড়ছি জাতি কুল |
ভমর হইলাম আমি তুমি বনের ফুল ||
-মহুয়া পালা
২। নয়া বাড়ী লইয়া রে বাইদ্যা বানলো জুইতের ঘর,
লীলুয়া বয়ারে কইন্যার গায়ে উঠলো জ্বর।
-মহুয়া পালা
৩। নয়া বাড়ী লইয়া রে বাইদ্যা লাগাইলো বাইঙ্গন,
সেই বাইঙ্গন তুলতে কইন্যা জুড়িলো কান্দন।
-মহুয়া পালা
৪। কাইন্দো না কাইন্দো না কইন্যা না কান্দিয়ো আর,
সেই বাইঙ্গন বেচ্যা দিয়াম তোমার গলায় হার।
-মহুয়া পালা
৫। নয়া বাড়ী লইয়ারে বাইদ্যা লাগাইলো উরি,
তুমি কইন্যা না থাকলে আবার গলায় ছুরি।
-মহুয়া পালা
chgcjj7qu241a0pto6w9j0gma0syord
শি জিনপিং
0
12404
76177
2026-04-12T22:09:30Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
[[শি চিনফিং]]-এ পুনর্নির্দেশ করা হল
76177
wikitext
text/x-wiki
#REDIRECT [[শি চিনফিং]]
d5m32ghm4updp8zfmurpi5tnqgz4mn2
জর্জ ডব্লিউ. বুশ
0
12405
76178
2026-04-12T22:09:56Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
[[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]-এ পুনর্নির্দেশ করা হল
76178
wikitext
text/x-wiki
#REDIRECT [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]
tg8itm7xg6utw3teaxs6gluhpayf1a7
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি
0
12406
76179
2026-04-12T22:10:32Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
[[ডেমোক্রেটিক পার্টি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)]]-এ পুনর্নির্দেশ করা হল
76179
wikitext
text/x-wiki
#REDIRECT [[ডেমোক্রেটিক পার্টি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)]]
8ogrrurtlzgjhw00lmpy76kxzn4cnlx
জন হার্ভে কেলোগ
0
12407
76187
2026-04-12T23:06:07Z
NusJaS
273
"{{কাজ চলছে}}" দিয়ে পাতা তৈরি
76187
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
jmfm7bpzq0q0oytwjpmajktrq4ufmrf
আল খোয়ারিজমি
0
12408
76192
2026-04-13T01:12:13Z
Oindrojalik Watch
4169
"[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]] '''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], :w:জ্যোত..." দিয়ে পাতা তৈরি
76192
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '''[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]''' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] গ্রন্থাগার [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। গনিতে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* বিজ্ঞানের প্রতি সেই অনুরাগ... সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই জ্যামিতিক এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা কঠিন হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে গ্রহগুলোর গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারত]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
da11527w631cwhb7box0te777pws9f7
76193
76192
2026-04-13T01:16:54Z
Oindrojalik Watch
4169
76193
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '''[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]''' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] গ্রন্থাগার [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। গনিতে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* বিজ্ঞানের প্রতি সেই অনুরাগ... সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই জ্যামিতিক এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা কঠিন হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে গ্রহগুলোর গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারত]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
alryuudije3uk1h528g2t3wej6shbc8
76194
76193
2026-04-13T01:22:02Z
Oindrojalik Watch
4169
/* উক্তি */
76194
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '''[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]''' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] গ্রন্থাগার [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। গনিতে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
4jt1n2u9eja19va9yzhjmq62oeaz965
76197
76194
2026-04-13T01:30:43Z
Oindrojalik Watch
4169
76197
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '''[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]''' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] গ্রন্থাগার [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। গনিতে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{clear}}
{{Mathematicians}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
c1e1v9fvlq7nvjwcjrlmkze2r6ef5nf
76198
76197
2026-04-13T01:31:09Z
Oindrojalik Watch
4169
/* বহিঃসংযোগ */
76198
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '''[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]''' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] গ্রন্থাগার [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। গনিতে তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
4jt1n2u9eja19va9yzhjmq62oeaz965
76199
76198
2026-04-13T01:41:46Z
Oindrojalik Watch
4169
76199
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Khwarizmi, Muhammad ibn Musa}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
6lvcoo3f98y9xd577w03fgpnzsem47k
76200
76199
2026-04-13T01:44:44Z
Oindrojalik Watch
4169
76200
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
2b5hyeexbw9rfpb797ur7v78h1f0bc3
76201
76200
2026-04-13T01:53:37Z
Oindrojalik Watch
4169
/* বহিঃসংযোগ */
76201
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি)
* [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)]
* [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি]
{{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}}
[[বিষয়শ্রেণী:অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতিষী]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
t31iaam14vcaa5nt6n0vae2vkoiq80p
76317
76201
2026-04-13T07:43:58Z
Oindrojalik Watch
4169
76317
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি)
* [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)]
* [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি]
{{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}}
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
9lez5z6rjd26eay3zxoc1hnh0or3l9t
76318
76317
2026-04-13T07:47:54Z
Oindrojalik Watch
4169
76318
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb|[[:w:আল-খোয়ারিজমি|আল-খোয়ারিজমির]] জন্মবার্ষিকী স্মরণে ১৯৮৩ সালে [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়ন]] থেকে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকিট।]]
* আল-খোয়ারিজমির ১২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৮৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এই ডাকটিকিটটিতে তাঁর নাম এবং ১২০০ বছর উদযাপনের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর জন্মকাল ও বিশ্বব্যাপী তাঁর গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি)
* [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)]
* [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি]
{{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}}
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
79pzaf4fr55w1rru1g8rf9ku4j0p3ib
76319
76318
2026-04-13T07:50:30Z
Oindrojalik Watch
4169
correction of writings
76319
wikitext
text/x-wiki
[[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb|[[:w:আল-খোয়ারিজমি|আল-খোয়ারিজমির]] জন্মবার্ষিকী স্মরণে ১৯৮৩ সালে [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়ন]] থেকে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকিট।<br>আল-খোয়ারিজমির ১২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৮৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এই ডাকটিকিটটিতে তাঁর নাম এবং ১২০০ বছর উদযাপনের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর জন্মকাল ও বিশ্বব্যাপী তাঁর গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।]]
'''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়।
== উক্তি ==
* [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১।
* ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ।
** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত।
** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২।
== আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি ==
* আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল!
** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২।
** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 ।
* বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো।
** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।”
** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
* আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল।
** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189
[[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]]
* বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ]|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়।
** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫)
* অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়।
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।]
* "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।"
** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি)
* [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)]
* [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি]
{{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}}
[[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বীজগণিতের জনক]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারস্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
ff3uv7q0ergiqqqhmjrwe9qwj5z5ory
মেরি কুরি
0
12409
76207
2026-04-13T02:41:20Z
ExceptionistSagar
5037
নতুন উক্তি যোগ করেছি
76207
wikitext
text/x-wiki
== উক্তি ==
*
**
== মেরি কুরি সম্পর্কে উক্তি ==
*
**
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
==<nowiki>{{subst:PAGENAME}}</nowiki> সম্পর্কে উক্তি==
**
<span></span>
==আরও দেখুন==
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
be782rvufzwyms4p7lwzbgedd5yp1r0
76208
76207
2026-04-13T02:41:53Z
ExceptionistSagar
5037
উক্তি যোগ করেছি
76208
wikitext
text/x-wiki
== উক্তি ==
*
**
== উক্তি ==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
== মেরি কুরি সম্পর্কে উক্তি ==
*
**
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
==<nowiki>{{subst:PAGENAME}}</nowiki> সম্পর্কে উক্তি==
**
<span></span>
==আরও দেখুন==
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
8qrtlr6ffp79wqw2e9ks2kd69tn1j69
76210
76208
2026-04-13T02:42:34Z
ExceptionistSagar
5037
76210
wikitext
text/x-wiki
*
**
== উক্তি ==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
*
**
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
==<nowiki>{{subst:PAGENAME}}</nowiki> সম্পর্কে উক্তি==
**
<span></span>
==আরও দেখুন==
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
hrinl90cefec2w7mwd3f19oek5yxwsb
76212
76210
2026-04-13T02:43:27Z
ExceptionistSagar
5037
76212
wikitext
text/x-wiki
== উক্তি ==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
==<nowiki>{{subst:PAGENAME}}</nowiki> সম্পর্কে উক্তি==
**
<span></span>
==আরও দেখুন==
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
ge6c235lqzwovsyibz0hy6lcaaf4odf
76213
76212
2026-04-13T02:43:41Z
ExceptionistSagar
5037
76213
wikitext
text/x-wiki
== উক্তি ==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
<span></span>
==আরও দেখুন==
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
5skj45jju0ng3gzv8r4wou6jw4i12xz
76214
76213
2026-04-13T02:43:59Z
ExceptionistSagar
5037
76214
wikitext
text/x-wiki
== উক্তি ==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া|মেরি কুরি}}
==উক্তি==
* "Nothing in life is to be feared, it is only to be understood."
— জীবনে কিছুই ভয় পাওয়ার নয়, শুধু তা বোঝার বিষয়।
<ref>মারি কুরি, Lecture/Collected writings</ref>
* "Now is the time to understand more, so that we may fear less."
— এখন আরও বেশি বোঝার সময়, যাতে আমরা কম ভয় পাই।
<ref>মারি কুরি, Scientific writings</ref>
* "Be less curious about people and more curious about ideas."
— মানুষ নিয়ে কম কৌতূহলী হও, ধারণা নিয়ে বেশি কৌতূহলী হও।
<ref>মারি কুরি, Quoted in biographies</ref>
* "One never notices what has been done; one can only see what remains to be done."
— যা হয়ে গেছে তা আমরা লক্ষ্য করি না; আমরা শুধু দেখি যা এখনো বাকি।
<ref>মারি কুরি, Personal notes</ref>
* "I was taught that the way of progress was neither swift nor easy."
— আমাকে শেখানো হয়েছে যে অগ্রগতির পথ দ্রুত বা সহজ নয়।
<ref>মারি কুরি, Autobiographical notes</ref>
* "A scientist in his laboratory is not a mere technician: he is also a child confronting natural phenomena."
— একজন বিজ্ঞানী শুধু প্রযুক্তিবিদ নন; তিনি প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো এক কৌতূহলী শিশুর মতো।
<ref>মারি কুরি, Scientific reflections</ref>
* "We must believe that we are gifted for something, and that this thing must be attained."
— আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা কোনো না কোনো কিছুর জন্য যোগ্য, এবং তা অর্জন করতেই হবে।
<ref>মারি কুরি, Inspirational writings</ref>
**
<span></span>
<span></span>
<span></span>
==বহিঃসংযোগ==
<span></span><templatestyles src="মডিউল:পার্শ্ব বাক্স/শৈলী.css"></templatestyles>
lwdp08l2gz0vljxm54u08kuci29v08w
ব্যবহারকারী আলাপ:ExceptionistSagar
3
12410
76227
2026-04-13T03:13:03Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76227
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় ExceptionistSagar,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৩:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
l1d8vf5myp3yxkjoa3cvcod1v7v1bkb
ব্যবহারকারী আলাপ:Shourav chandra saha
3
12411
76228
2026-04-13T03:13:12Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76228
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Shourav chandra saha,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৩:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
i0xn6m11sow2l272qki4u8ypcpghwre
ব্যবহারকারী আলাপ:দীপক মণ্ডল
3
12412
76229
2026-04-13T03:13:21Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76229
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় দীপক মণ্ডল,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৩:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
hdqup2mwy714ukjwh14zixsnemyazhm
ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস
0
12413
76239
2026-04-13T03:40:43Z
Sumanta3023
4175
"Hh" দিয়ে পাতা তৈরি
76239
wikitext
text/x-wiki
Hh
2w3ppgdwywnf0ssaaoiia089j531gk8
76241
76239
2026-04-13T03:42:41Z
Sumanta3023
4175
76241
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
13n4xbpabjqbxdfl4tb920bxzz7x93g
76248
76241
2026-04-13T03:49:54Z
Sumanta3023
4175
76248
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'Sur la préface de M. Perrault de son traité de l'Origine des fontaines' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
4h4xrlpg01bo3w0w0rfdwmi81muedus
76254
76248
2026-04-13T03:57:50Z
Sumanta3023
4175
/* উক্তি */
76254
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'Sur la préface de M. Perrault de son traité de l'Origine des fontaines' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''Quam mirabilis igitur, quamque stupenda mundi amplitudo, & magnificentia jam mente concipienda est. Tot Soles, tot Terrae atque harum unaquaeque tot herbis, arboribus, animalibus, tot maribus, montibusque exornata. Et erit etiam unde augeatur admiratio, si quis ea quae de fixarum Stellarum distantia, & multitudine hisce addimus, pependerit.''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
nkxs7bh447xjvkf66xhjxdqhcq30g5m
76255
76254
2026-04-13T03:59:32Z
Sumanta3023
4175
/* কসমোথিওরোস (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) */
76255
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'Sur la préface de M. Perrault de son traité de l'Origine des fontaines' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
ma0tg8lgqjfzi4i08wb8klmknyw8lcc
76257
76255
2026-04-13T04:05:07Z
Sumanta3023
4175
/* উক্তি */
76257
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
679awezcljjkj6m9pqbtwl45yct7hlu
76258
76257
2026-04-13T04:11:53Z
Sumanta3023
4175
/* ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি */
76258
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালক এর সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত না-ও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো
6btlhm5qexvb42w8l0yzxyf0ab92quq
76259
76258
2026-04-13T04:15:28Z
Sumanta3023
4175
/* ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি */
76259
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালক এর সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত না-ও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো [[wiktionary:isochronous#Adjective|সমকালিক]]। তৃতীয় অংশটি তাঁর [[w:ইভোলুট|ইভোলুট]] তত্ত্বের প্রবর্তন করে যা অন্যান্য প্রয়োগের পাশাপাশি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে সাহায্য করে। ইভোলুট ব্যবহার করে তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে সাইক্লয়েড-আকৃতির পাতগুলো দোলকের পিণ্ডকে সমকালিক সাইক্লয়েডাল পথে চলতে বাধ্য করবে। চতুর্থ অংশটি তাঁর [[w:পেন্ডুলাম#কম্পাউন্ড_পেন্ডুলাম|যৌগিক দোলক]] তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যেখানে দৈর্ঘ্যের সাথে ভর বিন্যস্ত থাকা একটি দোলকের গতিকে একটি আদর্শ সরল দোলকের গতির সাথে তুলনা করা হয়েছে বইটির শেষ অংশটি একটি [[w:কনিক্যাল পেন্ডুলাম|কনিক্যাল ঘড়ির]] রূপভেদ প্রবর্তন করে যেখানে দোলকটি দোলার পরিবর্তে একটি উল্লম্ব অক্ষের চারদিকে ঘোরে যা ইভোলুট তত্ত্বের মাধ্যমে একটি সমকালিক পথে বজায় রাখা হয়।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
kkw8zqv0qqfwberbvr0a7appc6itzw4
76260
76259
2026-04-13T04:16:09Z
Sumanta3023
4175
/* ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি */
76260
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালক এর সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত না-ও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো [[wiktionary:সমকালিক#বিশেষণ|সমকালিক]]। তৃতীয় অংশটি তাঁর [[w:ইভোলুট|ইভোলুট]] তত্ত্বের প্রবর্তন করে যা অন্যান্য প্রয়োগের পাশাপাশি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে সাহায্য করে। ইভোলুট ব্যবহার করে তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে সাইক্লয়েড-আকৃতির পাতগুলো দোলকের পিণ্ডকে সমকালিক সাইক্লয়েডাল পথে চলতে বাধ্য করবে। চতুর্থ অংশটি তাঁর [[w:পেন্ডুলাম#কম্পাউন্ড_পেন্ডুলাম|যৌগিক দোলক]] তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যেখানে দৈর্ঘ্যের সাথে ভর বিন্যস্ত থাকা একটি দোলকের গতিকে একটি আদর্শ সরল দোলকের গতির সাথে তুলনা করা হয়েছে বইটির শেষ অংশটি একটি [[w:কনিক্যাল পেন্ডুলাম|কনিক্যাল ঘড়ির]] রূপভেদ প্রবর্তন করে যেখানে দোলকটি দোলার পরিবর্তে একটি উল্লম্ব অক্ষের চারদিকে ঘোরে যা ইভোলুট তত্ত্বের মাধ্যমে একটি সমকালিক পথে বজায় রাখা হয়।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
gw75muk8hnytqxh14q6jg9wcgv73887
76261
76260
2026-04-13T04:20:13Z
Sumanta3023
4175
/* ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি */
76261
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালক এর সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত না-ও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো [[wiktionary:isochronous#Adjective|সমকালিক]]। তৃতীয় অংশটি তাঁর [[w:ইভোলুট|ইভোলুট]] তত্ত্বের প্রবর্তন করে যা অন্যান্য প্রয়োগের পাশাপাশি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে সাহায্য করে। ইভোলুট ব্যবহার করে তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে সাইক্লয়েড-আকৃতির পাতগুলো দোলকের পিণ্ডকে সমকালিক সাইক্লয়েডাল পথে চলতে বাধ্য করবে। চতুর্থ অংশটি তাঁর [[w:পেন্ডুলাম#কম্পাউন্ড_পেন্ডুলাম|যৌগিক দোলক]] তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যেখানে দৈর্ঘ্যের সাথে ভর বিন্যস্ত থাকা একটি দোলকের গতিকে একটি আদর্শ সরল দোলকের গতির সাথে তুলনা করা হয়েছে বইটির শেষ অংশটি একটি [[w:কনিক্যাল পেন্ডুলাম|কনিক্যাল ঘড়ির]] রূপভেদ প্রবর্তন করে যেখানে দোলকটি দোলার পরিবর্তে একটি উল্লম্ব অক্ষের চারদিকে ঘোরে যা ইভোলুট তত্ত্বের মাধ্যমে একটি সমকালিক পথে বজায় রাখা হয়।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* এই [''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম''] হলো প্রথম আধুনিক গবেষণাপত্র যেখানে একটি ভৌত সমস্যাকে একগুচ্ছ প্যারামিটার বা স্থিতিমাপের মাধ্যমে আদর্শায়িত করে গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] অন্যতম একটি মৌলিক কাজ।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''এ (২০০৫)
* সর্বোপরি, হাইগেনস আমাদের নিখুঁত সময় দিয়েছেন। তাঁর ঘড়িগুলোই ছিল প্রথম সময় মাপার যন্ত্র যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভুল ছিল।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
* ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়ামের'' দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব এর [[বিশুদ্ধ গণিত|বিশুদ্ধ গণিতের]] চেয়ে [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] ওপর বেশি নির্ভর করে। পরবর্তী প্রজন্মের গণিতবিদরা এমন সব বক্ররেখা খুঁজে বের করতে অনেক সময় ব্যয় করেছিলেন যা নির্দিষ্ট ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো পূরণ করে। যদি থাকে, তবে অন্য কোন বক্ররেখাটি একটি [[w:টটোকরোন বক্ররেখা|টটোকরোন]]? ঝুলে থাকা একটি [[w:ক্যাটেনারি|শিকল]] কোন ধরনের বক্ররেখা চিত্রিত করে? একটি [[w:পালের ওপর প্রযুক্ত বল|পাল]] কী আকার ধারণ করে? [[w:ব্র্যাকিটোকরোন বক্ররেখা|দ্রুততম পতনের বক্ররেখাটিই]] বা কী? এগুলোই ছিল নতুন গাণিতিক কৌশল বা পদ্ধতির পরীক্ষার ক্ষেত্র, যাকে [[গটফ্রিড লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]] 'ক্যালকুলাস' বলে অভিহিত করেছিলেন।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
o4uu9zveisclgiur0558j7c6i9df6kv
76262
76261
2026-04-13T04:21:47Z
Sumanta3023
4175
76262
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''-এ জোয়েলা জি. ইয়োডার-এর "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬-এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মা-র ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালক এর সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত না-ও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো [[wiktionary:isochronous#Adjective|সমকালিক]]। তৃতীয় অংশটি তাঁর [[w:ইভোলুট|ইভোলুট]] তত্ত্বের প্রবর্তন করে যা অন্যান্য প্রয়োগের পাশাপাশি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে সাহায্য করে। ইভোলুট ব্যবহার করে তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে সাইক্লয়েড-আকৃতির পাতগুলো দোলকের পিণ্ডকে সমকালিক সাইক্লয়েডাল পথে চলতে বাধ্য করবে। চতুর্থ অংশটি তাঁর [[w:পেন্ডুলাম#কম্পাউন্ড_পেন্ডুলাম|যৌগিক দোলক]] তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যেখানে দৈর্ঘ্যের সাথে ভর বিন্যস্ত থাকা একটি দোলকের গতিকে একটি আদর্শ সরল দোলকের গতির সাথে তুলনা করা হয়েছে বইটির শেষ অংশটি একটি [[w:কনিক্যাল পেন্ডুলাম|কনিক্যাল ঘড়ির]] রূপভেদ প্রবর্তন করে যেখানে দোলকটি দোলার পরিবর্তে একটি উল্লম্ব অক্ষের চারদিকে ঘোরে যা ইভোলুট তত্ত্বের মাধ্যমে একটি সমকালিক পথে বজায় রাখা হয়।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* এই [''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম''] হলো প্রথম আধুনিক গবেষণাপত্র যেখানে একটি ভৌত সমস্যাকে একগুচ্ছ প্যারামিটার বা স্থিতিমাপের মাধ্যমে আদর্শায়িত করে গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] অন্যতম একটি মৌলিক কাজ।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''এ (২০০৫)
* সর্বোপরি, হাইগেনস আমাদের নিখুঁত সময় দিয়েছেন। তাঁর ঘড়িগুলোই ছিল প্রথম সময় মাপার যন্ত্র যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভুল ছিল।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
* ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়ামের'' দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব এর [[বিশুদ্ধ গণিত|বিশুদ্ধ গণিতের]] চেয়ে [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] ওপর বেশি নির্ভর করে। পরবর্তী প্রজন্মের গণিতবিদরা এমন সব বক্ররেখা খুঁজে বের করতে অনেক সময় ব্যয় করেছিলেন যা নির্দিষ্ট ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো পূরণ করে। যদি থাকে, তবে অন্য কোন বক্ররেখাটি একটি [[w:টটোকরোন বক্ররেখা|টটোকরোন]]? ঝুলে থাকা একটি [[w:ক্যাটেনারি|শিকল]] কোন ধরনের বক্ররেখা চিত্রিত করে? একটি [[w:পালের ওপর প্রযুক্ত বল|পাল]] কী আকার ধারণ করে? [[w:ব্র্যাকিটোকরোন বক্ররেখা|দ্রুততম পতনের বক্ররেখাটিই]] বা কী? এগুলোই ছিল নতুন গাণিতিক কৌশল বা পদ্ধতির পরীক্ষার ক্ষেত্র, যাকে [[গটফ্রিড লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]] 'ক্যালকুলাস' বলে অভিহিত করেছিলেন।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Huygens, Christiaan}}
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের পদার্থবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৬২৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৬৯৫-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:দ্য হেগের ব্যক্তি]]
hvxi8ir1jgp208x9r9gfqq33sv4i000
76264
76262
2026-04-13T04:26:02Z
Sumanta3023
4175
76264
wikitext
text/x-wiki
[[File:Christiaan Huygens-painting.jpeg|thumb|right|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে!]]
[[File:Christiaan-huygens4.jpg|thumb|right|যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?]]
'''[[w:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস|ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]]''' (১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) ছিলেন একজন ওলন্দাজ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, সম্ভাবনা তাত্ত্বিক এবং [[w:ঘড়িনির্মাণ বিদ্যা|ঘড়িনির্মাণ বিজ্ঞানী]]। ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বৈজ্ঞানিক মাস্টারপিস ছিল [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']]; এটি সমকালিক দোলক ঘড়ির গাণিতিক তত্ত্ব এবং প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ, যা সময়ের পরিমাপকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করেছিল। তিনি [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] [[w:আলোর কণা তত্ত্ব|আলোর কণা তত্ত্বের]] বিরোধিতার জন্যও পরিচিত; তিনি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন যা তরঙ্গমুখ বরাবর নির্গত গোলীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আলোর সঞ্চালনের কল্পনা করেছিল।
== উক্তি ==
<small>কালানুক্রমিক বিন্যাস</small>
* সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে এই রেখার [সাইক্লয়েড] ক্ষমতা।
** ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'' (১৬৭৩); [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ জোয়েলা জি. ইয়োডারের "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক" থেকে উদ্ধৃত (২০০৫)
* আমি বিশ্বাস করি যে আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে সবকিছুই সম্ভবত জানি।
** [[w:পিয়ের পেরল্ট (১৬০৮–১৬৮০)|পিয়ের পেরল্ট]]কে লেখা চিঠি, 'ঝরনার উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থের মুখবন্ধে মি. পেরোর রচনা' (১৬৭৩), [http://books.google.com/books?id=9IVA7sK_Bh8C ওউভরস কমপ্লিটস ডি ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস] (১৮৯৭), খণ্ড ৭, ২৯৮। জ্যাক রজার রচিত ''দ্য লাইফ সায়েন্সেস ইন এইটিনথ-সেঞ্চুরি ফ্রেঞ্চ থট'' এ উদ্ধৃত (১৯৯৭), ১৬৩
* [নিউটন] কার্তেসীয় নন তাতে আমার মোটেও আপত্তি নেই, যদি না তিনি আমাদের কাছে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের মতো কোনো অনুমান প্রস্তাব করেন।
** ফাটিও ডি ডুইলিয়ারকে লেখা চিঠি (১১ জুলাই ১৬৮৭), রেনে ডুগাস রচিত ''মেকানিক্স ইন দ্য সেভেন্টিথ সেঞ্চুরি'' (১৯৫৮) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪০
* এই বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন এক ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় যা জ্যামিতিতে ব্যবহৃত প্রমাণের মতো অতটা উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা বহন করে না; এবং এটি জ্যামিতিবিদদের পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা। জ্যামিতিবিদরা তাঁদের প্রস্তাবনাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অকাট্য নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করেন, কিন্তু এখানে নীতিগুলো পরীক্ষা করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত অনুমানের মাধ্যমে। বিষয়ের প্রকৃতি অন্য কোনো উপায়ে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দেয় না। তবে, এইভাবে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব যা প্রায় নিশ্চয়তার কাছাকাছি। এটি তখনই ঘটে যখন অনুমিত নীতিগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষিত ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এবং বিশেষ করে যখন এই যাচাইকরণগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়; তবে সর্বোপরি তখনই এটি কার্যকর হয় যখন কেউ এই প্রকল্প ব্যবহার করে নতুন কোনো ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।
** ''ট্রিটাইজ অন লাইট'' (১৬৯০) প্রস্তাবনা। মাইকেল আর. ম্যাথিউস অনূদিত, ''সায়েন্টিফিক ব্যাকগ্রাউন্ড টু মডার্ন ফিলোসফি'', ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১২৬।
* আমি অভিকর্ষের এই নিয়মিত হ্রাসের কথা ভাবিনি, বিশেষ করে এটি যে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক; এটি অভিকর্ষের একটি নতুন এবং অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ধর্ম।
** (১৬৯১); ''পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'', খণ্ড ৫৬ (১৯৪৮), পৃষ্ঠা ১৮৯–১৯০ এ উদ্ধৃত।
* আমি তাঁর [নিউটনের] বোধশক্তি এবং সূক্ষ্মতাকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু আমি মনে করি যে তাঁর এই কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে লেখক খুব সামান্য প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অথবা যখন তিনি আকর্ষণের মতো এক অসম্ভব নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু তৈরি করেছেন।
** (১৬৯২); [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনের]] 'প্রিন্সিপিয়া' প্রকাশের পাঁচ বছর পর লেখা, এ. আর. ম্যানওয়েল রচিত ''ম্যাথমেটিক্স বিফোর নিউটন'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫৬ এ উদ্ধৃত «তিনি [হাইগেনস] প্রকৃতপক্ষে বলেছিলেন যে, মহাজাগতিক আকর্ষণের [মহাকর্ষ] ধারণাটি 'আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়'।’»
=== ''কসমোথিওরোস'' (১৬৯৫; প্রকাশ ১৬৯৮) ===
:<small>অন্যথা উল্লিখিত না থাকলে ইংরেজি অনুবাদ [http://books.google.com/books?id=P0cVAAAAQAAJ ''দ্য সেলেস্টিয়াল ওয়ার্ল্ডস ডিসকভার্ড''] (১৭২২) থেকে উদ্ধৃত।</small>
* একজন মানুষ যিনি [[নিকোলাস কোপারনিকাস|কোপারনিকাসের]] মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আমাদের এই পৃথিবী একটি গ্রহ, যা অন্যান্য গ্রহের মতো সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে এটি না ভেবে পারেন না যে, অন্যান্য গ্রহগুলোরও সম্ভবত নিজস্ব সজ্জা ও উপকরণ রয়েছে এবং হয়তো আমাদের এই পৃথিবীর মতো সেখানেও অধিবাসী রয়েছে
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১
* এটি স্পষ্ট যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির সমস্ত কাজের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা করেননি।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৭
* এই ভদ্রলোকদের অবশ্যই বলা উচিত যে, তাঁরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন যখন তাঁরা দাবি করেন যে মানুষ তাদের অনুসন্ধানে কতদূর যাবে আর কতদূর যাবে না, এবং অন্যের পরিশ্রমের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন; যেন তাঁরা জানেন ঈশ্বর জ্ঞানের জন্য ঠিক কোথায় সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ৮
* সম্ভবত হওয়ার অনেকগুলো মাত্রা রয়েছে, কিছু সত্যের অধিক নিকটবর্তী, আর এগুলোর নির্ধারণের মধ্যেই আমাদের বিচারবুদ্ধির প্রধান অনুশীলন নিহিত।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এখানে আমরা এই নিষ্প্রাণ পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে পারি এবং উপর থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করে বিচার করতে পারি যে, প্রকৃতি তার সমস্ত ব্যয় আর জৌলুস কি কেবল এই ধূলিকণারূপ ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরেই ঢেলে দিয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১০
* এই পৃথিবী যাকে 'মহান' বলে অভিহিত করে, আমরা তাকে প্রশংসা করার বিষয়ে কম আগ্রহী হব এবং সাধারণ মানুষ যে তুচ্ছ বিষয়গুলোর প্রতি অনুরাগী হয়, সেগুলোকে আমরা মহৎভাবে উপেক্ষা করব যখন আমরা জানব যে আমাদের পৃথিবীর মতোই অগণিত পৃথিবী বসবাসযোগ্য এবং সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১১
* যেহেতু অনেকগুলো বিষয়ে তারা একমত, তবে অন্য বিষয়গুলোতেও তারা একমত হবে এর চেয়ে সম্ভাব্য আর কী হতে পারে; এবং অন্যান্য গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতোই সুন্দর এবং অধিবাসীপূর্ণ নয়? অথবা তারা কেন হবে না, তার পেছনে যুক্তির সামান্যতম ছায়াও কি কোথাও আছে?
** প্রথম বই, পৃষ্ঠা ১৮
* যেহেতু এটি নিশ্চিত যে পৃথিবী এবং বৃহস্পতির নিজস্ব জল ও মেঘ রয়েছে, তাই অন্য গ্রহগুলোর এগুলো ছাড়া থাকার কোনো কারণ নেই। আমি বলছি না যে তারা ঠিক আমাদের জলের মতোই প্রকৃতির; তবে তাদের ব্যবহারের প্রয়োজনে তাদের তরল হওয়া প্রয়োজন, আর তাদের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ হওয়া। আমাদের এই জল বৃহস্পতি বা শনিতে সূর্যের বিশাল দূরত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জমে বরফ হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি গ্রহের অবশ্যই নিজস্ব জল থাকতে হবে যার তাপমাত্রা এমন হবে যা হিমাঙ্কের শিকার হবে না।
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm প্রথম বই], পৃষ্ঠা ২৭
* বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই রাজকীয় বিশালতা আমাদের সামনে কী এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে! কত সূর্য, কত পৃথিবী এবং তাদের প্রতিটি কত ওষধি, বৃক্ষ আর প্রাণীতে পূর্ণ এবং কত সমুদ্র ও পাহাড়ে সুশোভিত! আর যখন আমরা নক্ষত্রদের অবিশ্বাস্য দূরত্ব এবং অগণিত সংখ্যা সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন আমাদের বিস্ময় আর শ্রদ্ধা কতটা বেড়ে যায়?
** ''তবে ভাবুন কতই না বিস্ময়কর, কতই না বিশাল সেই জগত; মনের মানসপটে এখন এর ব্যাপ্তি ও মহিমাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করে নিতে হবে। কত যে সূর্য, কত যে পৃথিবী আর এদের প্রতিটিই সুশোভিত হয়ে আছে কত বিচিত্র তৃণলতা, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুলে; কত যে সাগর আর পর্বতমালা ছড়িয়ে আছে এদের বুকে! আর কেউ যদি এসবের সাথে যুক্ত করে নেন সেই বিষয়গুলো যা আমরা স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব ও সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে তুলে ধরেছি তবে তা বিস্ময়ের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।''
** [http://www.staff.science.uu.nl/~gent0113/huygens/huygens_ct_en.htm দ্বিতীয় বই], পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
{{disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
* '''বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞানের প্রচারই আমার ধর্ম।'''
** সবচেয়ে পুরনো যে সূত্রে এটি পাওয়া যায় তা হলো কে.ও. মাইনস্মার ‘স্পিনোজা এন জেন ক্রিং। হিস্টোরিশ-ক্রিটিশ স্টুডিয়েন ওভার হল্যান্ডস ভ্রিজগেস্টেন’ (মার্টিনাস নিজহফ, দ্য হেগ, ১৮৯৬)। এই প্রভাবশালী গবেষণাটি ফরাসি এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত হলেও ইংরেজিতে হয়নি। মূল ওলন্দাজ প্রেক্ষাপটে মনে হয় যে এটি হাইগেনসের কোনো সরাসরি উক্তি নয়, বরং লেখক (মাইনস্মা) হাইগেনসের আদর্শ কী 'হতে পারত' তার একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
** ১৯৮০ সালের ''[[w:কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ|কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ]]'' (পর্ব ৬) এ এটিকে এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ‘বিশ্বই আমার দেশ, বিজ্ঞান আমার ধর্ম’।
** এছাড়াও জিওফ্রে ট্রেজারের ‘দ্য মেকিং অফ মডার্ন ইউরোপ, ১৬৪৮-১৭৮০’ (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ৪৭৪ এ দাবি করা হয়েছে যে এটি ছিল হাইগেনসের "মূলমন্ত্র" তবে এটি [[থমাস পেইন|থমাস পেইনের]] ‘[[w:রাইটস অফ ম্যান|রাইটস অফ ম্যান]]’ (১৭৯১) এর অনেক বেশি বিখ্যাত এবং দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ঘোষণার সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ: "আমার দেশ হলো বিশ্ব, এবং আমার ধর্ম হলো ভালো কাজ করা," যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবে সংক্ষেপিত হয়ে আসছে: "বিশ্বই আমার দেশ, এবং ভালো কাজ করাই আমার ধর্ম।"
{{disputed end}}
== ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস সম্পর্কে উক্তি ==
* [[রবার্ট হুক|হুকের]] মতো হাইগেনসও সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ঘড়ির মৌলিক উন্নতি সাধন করেছিলেন; এবং হুক একই উদ্দেশ্যে প্রথম ব্যবহারযোগ্য {{w|এস্কেপমেন্ট}} উদ্ভাবন করেন। হাইগেনস শনির বলয় এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বলবিদ্যা এবং আলোকবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, এবং তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি তরুণ [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]]কে এই বিষয়গুলোর প্রতি উৎসাহী করে তুলেছিলেন।
** [[জ্যাকব ব্রনোফস্কি]], ''দ্য কমন সেন্স অফ সায়েন্স'' (১৯৫১) "দ্য সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য মেশিন।"
* ১৬৫৬ সালে [[গ্যালিলিও গ্যালিলি|গ্যালিলিওর]] দোলকের সমকালিকতা সংক্রান্ত আবিষ্কারকে একটি নির্ভুল ঘড়িতে রূপান্তরিত করার পর, হাইগেনস ১৬৬২ সালে একটি সামুদ্রিক সংস্করণ তৈরি করেন যাতে ছোট দোলক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইংরেজদের সহায়তায় সমুদ্রপথে সেটির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রের খবর [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট|কোলবার্টের]] কানে পৌঁছালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক জীবনের এই নতুন পরিচালকের সুবিধাগুলো তাঁর নিজের জাতির জন্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। সেই অনুযায়ী, ১৬৬৫ সালে হাইগেনসকে প্যারিসে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসা হয়।
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* একাডেমির সদস্যরা বিশেষ করে [[w:জঁ পিকার্ড|পিকার্ড]] পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন যা সম্ভব হয়েছিল হাইগেনসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত দোলক ঘড়ি, [[w:আদ্রিয়ান আজাউট|আজাউট]] দ্বারা নিখুঁত করা (যদি উদ্ভাবিত নাও হয়) ফিলার মাইক্রোমিটার এবং ছোট কোণ পরিমাপের উপযোগী বড় আকারের স্নাতক যন্ত্রপাতিতে দূরবীন ব্যবহারের মাধ্যমে। এই সরঞ্জামগুলো দিয়েই পিকার্ড প্যারিসের দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপের দায়িত্ব নেন, যাতে তাদের অক্ষাংশের পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় এবং সেই ফলাফল থেকে দ্রাঘিমারেখার ডিগ্রির দৈর্ঘ্য অনুমান করা যায়। এই অত্যন্ত সফল আর্ক পরিমাপটি পূর্বের অর্জিত যেকোনো পরিমাপের চেয়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ গুণ বেশি নির্ভুল ছিল
** সেমুর চ্যাপিন, "দ্য মেন ফ্রম অ্যাক্রস লা মাঞ্চে: ফ্রেঞ্চ ভয়েজেস, ১৬৭০-১৭৯০"; ডেরেক হাউস সম্পাদিত ''ব্যাকগ্রাউন্ড টু ডিসকভারি: প্যাসিফিক এক্সপ্লোরেশন ফ্রম ড্যাম্পিয়ার টু কুক'' এ (১৯৯০)
* মাননীয় হাইগেনস এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে একটি দোলকের পিণ্ডকে সর্বদা একটি [[w:সাইক্লয়েড|সাইক্লয়েড]] চাপের ওপর দিয়ে চালিত করা সম্ভব।
** [[w:জন কেইল|জন কেইল]], [http://books.google.com/books?id=uBadPa6nodcC "অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ন্যাচারাল ফিলোসফি"] (১৭৪৫)
* হাইগেনস যখন তাঁর "জ্যামিতিক মোডে" থাকতেন তখন সবকিছু মৌখিকভাবে প্রকাশ করতেন এবং [গাণিতিক] প্রতীক ব্যবহার করতেন কেবল তখনই যখন তিনি তাঁর "বীজগণিতীয় মোডে" চলে যেতেন। একজন দক্ষ গণিতবিদ হিসেবে, একই সমস্যার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি এই দুই মোডের মধ্যে অদলবদল করতেন
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের অন্যতম এক মাস্টারপিস ১৬৭৩ সালে [[w:হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম|''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম'']] (দ্য পেন্ডুলাম ক্লক) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি ঘড়ির সাধারণ বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল এটি প্রকৃতপক্ষে একটি [[w:মহাকর্ষ|পতনশীল বস্তুর]] ত্বরান্বিত গতির ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছিল, যার উদাহরণ হিসেবে দোলক ঘড়ির পিণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল হাইগেনসের সেই প্রমাণ, যেখানে তিনি দেখান যে একটি উল্টানো সাইক্লয়েড বরাবর পতনশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিচে পৌঁছায়। অন্য কথায়, সাইক্লয়েড হলো [[wiktionary:isochronous#Adjective|সমকালিক]]। তৃতীয় অংশটি তাঁর [[w:ইভোলুট|ইভোলুট]] তত্ত্বের প্রবর্তন করে যা অন্যান্য প্রয়োগের পাশাপাশি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে সাহায্য করে। ইভোলুট ব্যবহার করে তিনি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে সাইক্লয়েড-আকৃতির পাতগুলো দোলকের পিণ্ডকে সমকালিক সাইক্লয়েডাল পথে চলতে বাধ্য করবে। চতুর্থ অংশটি তাঁর [[w:পেন্ডুলাম#কম্পাউন্ড_পেন্ডুলাম|যৌগিক দোলক]] তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যেখানে দৈর্ঘ্যের সাথে ভর বিন্যস্ত থাকা একটি দোলকের গতিকে একটি আদর্শ সরল দোলকের গতির সাথে তুলনা করা হয়েছে বইটির শেষ অংশটি একটি [[w:কনিক্যাল পেন্ডুলাম|কনিক্যাল ঘড়ির]] রূপভেদ প্রবর্তন করে যেখানে দোলকটি দোলার পরিবর্তে একটি উল্লম্ব অক্ষের চারদিকে ঘোরে যা ইভোলুট তত্ত্বের মাধ্যমে একটি সমকালিক পথে বজায় রাখা হয়।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, ''আনরোলিং টাইম: ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস অ্যান্ড দ্য ম্যাথমেটাইজেশন অফ নেচার'' (২০০৪)
* এই [''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়াম''] হলো প্রথম আধুনিক গবেষণাপত্র যেখানে একটি ভৌত সমস্যাকে একগুচ্ছ প্যারামিটার বা স্থিতিমাপের মাধ্যমে আদর্শায়িত করে গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] অন্যতম একটি মৌলিক কাজ।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; [[ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস]] সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০''এ (২০০৫)
* সর্বোপরি, হাইগেনস আমাদের নিখুঁত সময় দিয়েছেন। তাঁর ঘড়িগুলোই ছিল প্রথম সময় মাপার যন্ত্র যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভুল ছিল।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
* ''হরোলজিয়াম অসিলেটরিয়ামের'' দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব এর [[বিশুদ্ধ গণিত|বিশুদ্ধ গণিতের]] চেয়ে [[ফলিত গণিত|ফলিত গণিতের]] ওপর বেশি নির্ভর করে। পরবর্তী প্রজন্মের গণিতবিদরা এমন সব বক্ররেখা খুঁজে বের করতে অনেক সময় ব্যয় করেছিলেন যা নির্দিষ্ট ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো পূরণ করে। যদি থাকে, তবে অন্য কোন বক্ররেখাটি একটি [[w:টটোকরোন বক্ররেখা|টটোকরোন]]? ঝুলে থাকা একটি [[w:ক্যাটেনারি|শিকল]] কোন ধরনের বক্ররেখা চিত্রিত করে? একটি [[w:পালের ওপর প্রযুক্ত বল|পাল]] কী আকার ধারণ করে? [[w:ব্র্যাকিটোকরোন বক্ররেখা|দ্রুততম পতনের বক্ররেখাটিই]] বা কী? এগুলোই ছিল নতুন গাণিতিক কৌশল বা পদ্ধতির পরীক্ষার ক্ষেত্র, যাকে [[গটফ্রিড লাইবনিৎস|লাইবনিৎস]] 'ক্যালকুলাস' বলে অভিহিত করেছিলেন।
** জোয়েলা জি. ইয়োডার, "ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস, বুক অন দ্য পেন্ডুলাম ক্লক"; ইভোর গ্র্যাটান-গিনেস সম্পাদিত ''ল্যান্ডমার্ক রাইটিংস ইন ওয়েস্টার্ন ম্যাথমেটিক্স ১৬৪০-১৯৪০'' এ (২০০৫)
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
{{DEFAULTSORT:Huygens, Christiaan}}
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের জ্যোতির্বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের পদার্থবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:নেদারল্যান্ডসের গণিতবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৬২৯-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৬৯৫-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:দ্য হেগের ব্যক্তি]]
fgacfo6z72ewqv3gj4w9ve5lcquqob9
আলাপ:অজিতকৃষ্ণ বসু
1
12414
76244
2026-04-13T03:44:10Z
Nil Nandy
2294
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76244
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
অজিত দত্ত
0
12415
76246
2026-04-13T03:49:34Z
Nil Nandy
2294
"{{কাজ চলছে}} ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}}" দিয়ে পাতা তৈরি
76246
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
cliwyvhw8mp854xn1kkos29pgk7wibd
76253
76246
2026-04-13T03:56:04Z
Nil Nandy
2294
76253
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:অজিত দত্ত|অজিতকুমার দত্ত]]''' (২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ - ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক।
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
908vpgbddbgcj0kzzb5jeaxa2v4fbz0
76324
76253
2026-04-13T08:03:39Z
Nil Nandy
2294
76324
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:অজিত দত্ত|অজিতকুমার দত্ত]]''' (২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ - ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক।
== উক্তি ==
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
4sonxsisi3e2ihpmwdep52i1j3gyozr
76328
76324
2026-04-13T08:09:25Z
Nil Nandy
2294
/* উক্তি */
76328
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:অজিত দত্ত|অজিতকুমার দত্ত]]''' (২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ - ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক।
== উক্তি ==
===জনান্তিকে===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.353952 জনান্তিকে], দিগন্ত পাব্লিশার্স</small>
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
azdth9kxe7612phm8gwhw36jangk8ku
76329
76328
2026-04-13T08:14:29Z
Nil Nandy
2294
/* জনান্তিকে */
76329
wikitext
text/x-wiki
{{কাজ চলছে}}
'''[[:w:অজিত দত্ত|অজিতকুমার দত্ত]]''' (২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ - ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক।
== উক্তি ==
===জনান্তিকে===
<small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.353952 জনান্তিকে], দিগন্ত পাব্লিশার্স</small>
*বন্ধুবান্ধবরা আমাকে কুড়ে বলে' আত্মপ্রসাদ উপভোগ করে। তা করুক। অন্যকে গাল দেওয়া মানেই তুলনায় নিজেকে খানিকটা বড় করা কিনা! যেন কুড়ে হতে সকলেই পারে। বাইরের প্রকৃতি, এমনকি দালান-কোঠা, যন্ত্রপাতি-চোখ মেলে তাকালে যা কিছু চোখে পড়ে-তার সঙ্গে অন্তরের একটা অবিচ্ছেদ্য অনির্বচনীয় মিল না থাকলে কেউ কোনোদিন সত্যিকারের আলসেমি করতে পেরেছে?
**ভ্রমণ কাহিনীর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
0aea9uaaijjbso2o1k9hnyonl1ayj7r
টেমপ্লেট:Sister project links
10
12416
76247
2026-04-13T03:49:43Z
Tanbiruzzaman
806
[[টেমপ্লেট:সহপ্রকল্প সংযোগসমূহ]]-এ পুনর্নির্দেশ করা হল
76247
wikitext
text/x-wiki
#পুনর্নির্দেশ [[টেমপ্লেট:সহপ্রকল্প সংযোগসমূহ]]
7cr7v8h7y03w99gqwq60wpnud9pg4mo
আলাপ:মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
1
12417
76252
2026-04-13T03:54:37Z
Tanbiruzzaman
806
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76252
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আলাপ:ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস
1
12419
76263
2026-04-13T04:22:30Z
Sumanta3023
4175
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76263
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
ফ্রেড ব্রুকস
0
12420
76265
2026-04-13T04:27:42Z
Sumanta3023
4175
"হিয়াইয়া" দিয়ে পাতা তৈরি
76265
wikitext
text/x-wiki
হিয়াইয়া
59ygg2pkctdlwnbgwfw7c51k6sjh5jj
আন্তর্জাতিক আইন
0
12421
76267
2026-04-13T04:53:19Z
Tanbiruzzaman
806
"File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজ..." দিয়ে পাতা তৈরি
76267
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
heknsxq9wc8dx2hcpxhswc8ms3pkrkp
76272
76267
2026-04-13T05:08:56Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৭৮৯-১৮৯৭ */
76272
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
itn4laqkvhzf6i9jq9t4lsxpjagn5rn
76279
76272
2026-04-13T05:24:27Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৭৮৯-১৮৯৭ */
76279
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
n7rh1n8wdprzix9cntz84qqtp8m2t51
76281
76279
2026-04-13T05:27:23Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৭৮৯-১৮৯৭ */
76281
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
6i4enb0lozrzln7q295dp9x2n4bluqp
76303
76281
2026-04-13T06:31:49Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]] যোগ
76303
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
g8ir2ls6p07jhbhtqcs2whoralusp4z
76330
76303
2026-04-13T08:59:39Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৭৮৯-১৮৯৭ */
76330
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
ef0feljverzeutseamvcpc7v0fny7u4
76333
76330
2026-04-13T09:47:45Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৯৪৮ */
76333
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
* [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং জাতিসমূহের সঞ্চিত সম্পদের একটি বড় অংশ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও, {{w|রুশ বিপ্লব}}ের বাড়াবাড়ি বাদ দিলে, সংগ্রামের শেষে [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] সভ্যতার মূল কাঠামোটি অটুট ছিল। যখন কামানের গোলার ঝড় ও ধুলো হঠাৎ করে থেমে গেল, [[জাতি]]গুলো তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও একে অপরকে ঐতিহাসিক জাতিগত সত্তা হিসেবে চিনতে পারছিল। যুদ্ধের আইনকানুন মোটের উপর মেনে চলা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত মিলনস্থল ছিল। পরাজিত ও বিজয়ী উভয়ই সভ্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেছিল। একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল যা, প্রয়োগ-অযোগ্য আর্থিক দিকগুলো বাদ দিলে, সেসব নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|উন্নত জাতিগুলোর সম্পর্ককে]] ক্রমবর্ধমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। {{w|আইনের শাসন}} ঘোষিত হয়েছিল এবং আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ইউরোপকে, একটি নতুন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য {{w|সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ|একটি বৈশ্বিক চুক্তি}} গঠিত হয়েছিল। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]ে মানুষে মানুষে প্রতিটি বন্ধন ছিন্ন হতে চলেছিল। [[নাৎসিবাদ|হিটলারের]] আধিপত্যের অধীনে, [[জার্মান]]রা এমন সব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, যা তারা স্বেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল, যার ব্যাপকতা ও নৃশংসতার তুলনা মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অপরাধের সাথেই হয় না। [[জার্মানি|জার্মানি]] মৃত্যুদণ্ড শিবিরগুলোতে {{w|ইহুদি গণহত্যা|সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ পুরুষ, নারী ও শিশুকে}} নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভয়াবহতার দিক থেকে [[চেঙ্গিস খান]]ের অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতার দিক থেকে তাদেরকে বামনাকৃতির করে তোলে। পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধে জার্মানি ও [[রাশিয়া]] উভয়ই সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল। খোলা শহরগুলোতে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের যে ভয়াবহ প্রক্রিয়া জার্মানরা একবার শুরু করেছিল, তার প্রতিদান মিত্রশক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তির দ্বারা বিশগুন ফেরত দিয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল পারমাণবিক বোমার ব্যবহারে, যা {{হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে}} নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমরা অবশেষে এমন এক বস্তুগত ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসেছি, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর কল্পনাকেও কখনো কলঙ্কিত করেনি। এতসব কষ্ট ও অর্জনের পরেও আমরা এমন সব সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যা আমরা যে এত সংকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছি সেগুলোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি ভয়াবহ।
** উইনস্টন চার্চিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম খণ্ড: আসন্ন ঝড় (১৯৪৮), ISBN 0-395-41055-X, পৃষ্ঠা ১৫-১৬
=== ১৯৮৯ ===
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
jywxxh7bny4yi8kqzmuzr62gyk5dnsu
76335
76333
2026-04-13T10:01:19Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৯৮৯ */
76335
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
* [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং জাতিসমূহের সঞ্চিত সম্পদের একটি বড় অংশ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও, {{w|রুশ বিপ্লব}}ের বাড়াবাড়ি বাদ দিলে, সংগ্রামের শেষে [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] সভ্যতার মূল কাঠামোটি অটুট ছিল। যখন কামানের গোলার ঝড় ও ধুলো হঠাৎ করে থেমে গেল, [[জাতি]]গুলো তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও একে অপরকে ঐতিহাসিক জাতিগত সত্তা হিসেবে চিনতে পারছিল। যুদ্ধের আইনকানুন মোটের উপর মেনে চলা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত মিলনস্থল ছিল। পরাজিত ও বিজয়ী উভয়ই সভ্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেছিল। একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল যা, প্রয়োগ-অযোগ্য আর্থিক দিকগুলো বাদ দিলে, সেসব নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|উন্নত জাতিগুলোর সম্পর্ককে]] ক্রমবর্ধমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। {{w|আইনের শাসন}} ঘোষিত হয়েছিল এবং আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ইউরোপকে, একটি নতুন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য {{w|সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ|একটি বৈশ্বিক চুক্তি}} গঠিত হয়েছিল। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]ে মানুষে মানুষে প্রতিটি বন্ধন ছিন্ন হতে চলেছিল। [[নাৎসিবাদ|হিটলারের]] আধিপত্যের অধীনে, [[জার্মান]]রা এমন সব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, যা তারা স্বেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল, যার ব্যাপকতা ও নৃশংসতার তুলনা মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অপরাধের সাথেই হয় না। [[জার্মানি|জার্মানি]] মৃত্যুদণ্ড শিবিরগুলোতে {{w|ইহুদি গণহত্যা|সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ পুরুষ, নারী ও শিশুকে}} নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভয়াবহতার দিক থেকে [[চেঙ্গিস খান]]ের অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতার দিক থেকে তাদেরকে বামনাকৃতির করে তোলে। পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধে জার্মানি ও [[রাশিয়া]] উভয়ই সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল। খোলা শহরগুলোতে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের যে ভয়াবহ প্রক্রিয়া জার্মানরা একবার শুরু করেছিল, তার প্রতিদান মিত্রশক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তির দ্বারা বিশগুন ফেরত দিয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল পারমাণবিক বোমার ব্যবহারে, যা {{হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে}} নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমরা অবশেষে এমন এক বস্তুগত ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসেছি, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর কল্পনাকেও কখনো কলঙ্কিত করেনি। এতসব কষ্ট ও অর্জনের পরেও আমরা এমন সব সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যা আমরা যে এত সংকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছি সেগুলোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি ভয়াবহ।
** উইনস্টন চার্চিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম খণ্ড: আসন্ন ঝড় (১৯৪৮), ISBN 0-395-41055-X, পৃষ্ঠা ১৫-১৬
=== ১৯৮৯ ===
* প্রকাশিত হয়েছিল যে {{w|মার্কিন সেনাবাহিনী}} তিন দিন ধরে [[সংবাদমাধ্যম]], [[রেড ক্রস]] এবং অন্যান্য বাইরের পর্যবেক্ষকদের বোমাবর্ষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যখন সৈন্যরা হতাহতদের পুড়িয়ে ফেলছিল এবং কবর দিচ্ছিল। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করেছিল যে অপরাধমূলক এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত আচরণের কত প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে, এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় কতজন মারা গেছে, কিন্তু এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর কখনও দেওয়া হয়নি... আমরা [পানামায়] [মার্কিন] আগ্রাসন সম্পর্কে অনেক তথ্যই কখনও জানতে পারব না, এমনকি গণহত্যার প্রকৃত সংখ্যাও জানতে পারব না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী {{w|ডিক চেনি}} মৃতের সংখ্যা পাঁচশ থেকে ছয়শ'র মধ্যে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু স্বাধীন [[মানবাধিকার]] সংস্থাগুলো এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার বলে অনুমান করেছিল, এবং আরও পঁচিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল... {{W|মানুয়েল নরিয়েগা|নোরিয়েগাকে}} গ্রেপ্তার করে মিয়ামিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চল্লিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সেই সময়ে, তিনিই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র ব্যক্তি যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল... আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির হাতে একটি নিরস্ত্র জাতির অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞে বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম লোকই এই ক্ষোভ বা ওয়াশিংটনের করা অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিল। সংবাদমাধ্যমে এর প্রচার ছিল খুবই সীমিত। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতি, প্রকাশক ও টেলিভিশন কর্মকর্তাদের কাছে হোয়াইট হাউসের ফোন কল, কংগ্রেসের সদস্যরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি, পাছে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এবং সাংবাদিকরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি তারা মনে করতেন জনগণের বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে নায়ক প্রয়োজন।
** ডেভিড হ্যারিস, শুটিং দ্য মুন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ অ্যান আমেরিকান ম্যানহান্ট আনলাইক এনি আদার, এভার, পৃষ্ঠা ৬। (২০০১) কনফেশনস অফ অ্যান ইকোনমিক হিট ম্যান (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
=== ১৯৯৮ ===
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
38sswemmlxz92baypn3tuejyf5o2ibj
76341
76335
2026-04-13T10:19:02Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৯৯৮ */
76341
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
* [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং জাতিসমূহের সঞ্চিত সম্পদের একটি বড় অংশ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও, {{w|রুশ বিপ্লব}}ের বাড়াবাড়ি বাদ দিলে, সংগ্রামের শেষে [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] সভ্যতার মূল কাঠামোটি অটুট ছিল। যখন কামানের গোলার ঝড় ও ধুলো হঠাৎ করে থেমে গেল, [[জাতি]]গুলো তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও একে অপরকে ঐতিহাসিক জাতিগত সত্তা হিসেবে চিনতে পারছিল। যুদ্ধের আইনকানুন মোটের উপর মেনে চলা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত মিলনস্থল ছিল। পরাজিত ও বিজয়ী উভয়ই সভ্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেছিল। একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল যা, প্রয়োগ-অযোগ্য আর্থিক দিকগুলো বাদ দিলে, সেসব নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|উন্নত জাতিগুলোর সম্পর্ককে]] ক্রমবর্ধমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। {{w|আইনের শাসন}} ঘোষিত হয়েছিল এবং আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ইউরোপকে, একটি নতুন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য {{w|সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ|একটি বৈশ্বিক চুক্তি}} গঠিত হয়েছিল। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]ে মানুষে মানুষে প্রতিটি বন্ধন ছিন্ন হতে চলেছিল। [[নাৎসিবাদ|হিটলারের]] আধিপত্যের অধীনে, [[জার্মান]]রা এমন সব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, যা তারা স্বেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল, যার ব্যাপকতা ও নৃশংসতার তুলনা মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অপরাধের সাথেই হয় না। [[জার্মানি|জার্মানি]] মৃত্যুদণ্ড শিবিরগুলোতে {{w|ইহুদি গণহত্যা|সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ পুরুষ, নারী ও শিশুকে}} নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভয়াবহতার দিক থেকে [[চেঙ্গিস খান]]ের অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতার দিক থেকে তাদেরকে বামনাকৃতির করে তোলে। পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধে জার্মানি ও [[রাশিয়া]] উভয়ই সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল। খোলা শহরগুলোতে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের যে ভয়াবহ প্রক্রিয়া জার্মানরা একবার শুরু করেছিল, তার প্রতিদান মিত্রশক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তির দ্বারা বিশগুন ফেরত দিয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল পারমাণবিক বোমার ব্যবহারে, যা {{হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে}} নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমরা অবশেষে এমন এক বস্তুগত ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসেছি, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর কল্পনাকেও কখনো কলঙ্কিত করেনি। এতসব কষ্ট ও অর্জনের পরেও আমরা এমন সব সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যা আমরা যে এত সংকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছি সেগুলোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি ভয়াবহ।
** উইনস্টন চার্চিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম খণ্ড: আসন্ন ঝড় (১৯৪৮), ISBN 0-395-41055-X, পৃষ্ঠা ১৫-১৬
=== ১৯৮৯ ===
* প্রকাশিত হয়েছিল যে {{w|মার্কিন সেনাবাহিনী}} তিন দিন ধরে [[সংবাদমাধ্যম]], [[রেড ক্রস]] এবং অন্যান্য বাইরের পর্যবেক্ষকদের বোমাবর্ষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যখন সৈন্যরা হতাহতদের পুড়িয়ে ফেলছিল এবং কবর দিচ্ছিল। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করেছিল যে অপরাধমূলক এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত আচরণের কত প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে, এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় কতজন মারা গেছে, কিন্তু এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর কখনও দেওয়া হয়নি... আমরা [পানামায়] [মার্কিন] আগ্রাসন সম্পর্কে অনেক তথ্যই কখনও জানতে পারব না, এমনকি গণহত্যার প্রকৃত সংখ্যাও জানতে পারব না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী {{w|ডিক চেনি}} মৃতের সংখ্যা পাঁচশ থেকে ছয়শ'র মধ্যে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু স্বাধীন [[মানবাধিকার]] সংস্থাগুলো এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার বলে অনুমান করেছিল, এবং আরও পঁচিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল... {{W|মানুয়েল নরিয়েগা|নোরিয়েগাকে}} গ্রেপ্তার করে মিয়ামিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চল্লিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সেই সময়ে, তিনিই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র ব্যক্তি যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল... আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির হাতে একটি নিরস্ত্র জাতির অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞে বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম লোকই এই ক্ষোভ বা ওয়াশিংটনের করা অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিল। সংবাদমাধ্যমে এর প্রচার ছিল খুবই সীমিত। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতি, প্রকাশক ও টেলিভিশন কর্মকর্তাদের কাছে হোয়াইট হাউসের ফোন কল, কংগ্রেসের সদস্যরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি, পাছে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এবং সাংবাদিকরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি তারা মনে করতেন জনগণের বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে নায়ক প্রয়োজন।
** ডেভিড হ্যারিস, শুটিং দ্য মুন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ অ্যান আমেরিকান ম্যানহান্ট আনলাইক এনি আদার, এভার, পৃষ্ঠা ৬। (২০০১) কনফেশনস অফ অ্যান ইকোনমিক হিট ম্যান (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
=== ১৯৯৮ ===
* [[জর্জ অরওয়েল|অরওয়েলের]] ১৯৮৪ বইতে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে, "কিছু নির্দিষ্ট 'নিউজস্পিক' শব্দের বিশেষ কাজ ছিল অর্থ প্রকাশ করার চেয়ে বরং সেগুলোকে ধ্বংস করা।" [[সুদান]] ও [[আফগানিস্তান]]ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের সপ্তাহে কিছু আমেরিকানকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। এমনকি এক সরব সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিরোধিতাও প্রকাশ করে। কিন্তু যারা অরওয়েলের কিছু সহজ শিক্ষা গ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্যে অনুমোদন ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা... আমেরিকানদের কাকে ঘৃণা করতে হবে এবং কাকে ভয় পেতে হবে, সে সম্পর্কে সর্বদা পুরোপুরি অবহিত রাখতে হবে... যখন [[সন্ত্রাসবাদ|সন্ত্রাসীরা]] হামলা করে, তখন তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যখন আমরা হামলা করি, তখন আমরা প্রতিশোধ নিই। যখন তারা আমাদের প্রতিশোধের জবাবে আরও হামলা চালায়, তখন তারা আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করে... অতীতে তারা যতবারই মিথ্যা বলুক না কেন, মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশ্বাসযোগ্য। যখন তারা... [বলে] খার্তুমে বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ওষুধ কারখানাটি নার্ভ গ্যাসের উপাদান তৈরি করছিল, সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত... শক্তিই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে না — বাস্তব জগৎ ছাড়া, যখন তা আমেরিকান শক্তি। কেবল সন্দেহজনক রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো ব্যক্তিই '''আন্তর্জাতিক আইন''' নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে।
** নরম্যান সলোমন, অরওয়েলীয় যুক্তিবিদ্যা ১০১ — কয়েকটি সহজ পাঠ, এফএআইআর (২৭ আগস্ট ১৯৯৮)
=== ২০০৫ ===
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
egxuahwbn57451be4nbuxd2b0lm1d2n
76342
76341
2026-04-13T10:19:59Z
Tanbiruzzaman
806
/* ২০০৫ */
76342
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
* [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং জাতিসমূহের সঞ্চিত সম্পদের একটি বড় অংশ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও, {{w|রুশ বিপ্লব}}ের বাড়াবাড়ি বাদ দিলে, সংগ্রামের শেষে [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] সভ্যতার মূল কাঠামোটি অটুট ছিল। যখন কামানের গোলার ঝড় ও ধুলো হঠাৎ করে থেমে গেল, [[জাতি]]গুলো তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও একে অপরকে ঐতিহাসিক জাতিগত সত্তা হিসেবে চিনতে পারছিল। যুদ্ধের আইনকানুন মোটের উপর মেনে চলা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত মিলনস্থল ছিল। পরাজিত ও বিজয়ী উভয়ই সভ্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেছিল। একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল যা, প্রয়োগ-অযোগ্য আর্থিক দিকগুলো বাদ দিলে, সেসব নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|উন্নত জাতিগুলোর সম্পর্ককে]] ক্রমবর্ধমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। {{w|আইনের শাসন}} ঘোষিত হয়েছিল এবং আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ইউরোপকে, একটি নতুন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য {{w|সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ|একটি বৈশ্বিক চুক্তি}} গঠিত হয়েছিল। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]ে মানুষে মানুষে প্রতিটি বন্ধন ছিন্ন হতে চলেছিল। [[নাৎসিবাদ|হিটলারের]] আধিপত্যের অধীনে, [[জার্মান]]রা এমন সব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, যা তারা স্বেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল, যার ব্যাপকতা ও নৃশংসতার তুলনা মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অপরাধের সাথেই হয় না। [[জার্মানি|জার্মানি]] মৃত্যুদণ্ড শিবিরগুলোতে {{w|ইহুদি গণহত্যা|সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ পুরুষ, নারী ও শিশুকে}} নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভয়াবহতার দিক থেকে [[চেঙ্গিস খান]]ের অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতার দিক থেকে তাদেরকে বামনাকৃতির করে তোলে। পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধে জার্মানি ও [[রাশিয়া]] উভয়ই সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল। খোলা শহরগুলোতে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের যে ভয়াবহ প্রক্রিয়া জার্মানরা একবার শুরু করেছিল, তার প্রতিদান মিত্রশক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তির দ্বারা বিশগুন ফেরত দিয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল পারমাণবিক বোমার ব্যবহারে, যা {{হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে}} নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমরা অবশেষে এমন এক বস্তুগত ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসেছি, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর কল্পনাকেও কখনো কলঙ্কিত করেনি। এতসব কষ্ট ও অর্জনের পরেও আমরা এমন সব সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যা আমরা যে এত সংকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছি সেগুলোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি ভয়াবহ।
** উইনস্টন চার্চিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম খণ্ড: আসন্ন ঝড় (১৯৪৮), ISBN 0-395-41055-X, পৃষ্ঠা ১৫-১৬
=== ১৯৮৯ ===
* প্রকাশিত হয়েছিল যে {{w|মার্কিন সেনাবাহিনী}} তিন দিন ধরে [[সংবাদমাধ্যম]], [[রেড ক্রস]] এবং অন্যান্য বাইরের পর্যবেক্ষকদের বোমাবর্ষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যখন সৈন্যরা হতাহতদের পুড়িয়ে ফেলছিল এবং কবর দিচ্ছিল। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করেছিল যে অপরাধমূলক এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত আচরণের কত প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে, এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় কতজন মারা গেছে, কিন্তু এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর কখনও দেওয়া হয়নি... আমরা [পানামায়] [মার্কিন] আগ্রাসন সম্পর্কে অনেক তথ্যই কখনও জানতে পারব না, এমনকি গণহত্যার প্রকৃত সংখ্যাও জানতে পারব না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী {{w|ডিক চেনি}} মৃতের সংখ্যা পাঁচশ থেকে ছয়শ'র মধ্যে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু স্বাধীন [[মানবাধিকার]] সংস্থাগুলো এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার বলে অনুমান করেছিল, এবং আরও পঁচিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল... {{W|মানুয়েল নরিয়েগা|নোরিয়েগাকে}} গ্রেপ্তার করে মিয়ামিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চল্লিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সেই সময়ে, তিনিই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র ব্যক্তি যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল... আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির হাতে একটি নিরস্ত্র জাতির অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞে বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম লোকই এই ক্ষোভ বা ওয়াশিংটনের করা অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিল। সংবাদমাধ্যমে এর প্রচার ছিল খুবই সীমিত। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতি, প্রকাশক ও টেলিভিশন কর্মকর্তাদের কাছে হোয়াইট হাউসের ফোন কল, কংগ্রেসের সদস্যরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি, পাছে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এবং সাংবাদিকরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি তারা মনে করতেন জনগণের বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে নায়ক প্রয়োজন।
** ডেভিড হ্যারিস, শুটিং দ্য মুন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ অ্যান আমেরিকান ম্যানহান্ট আনলাইক এনি আদার, এভার, পৃষ্ঠা ৬। (২০০১) কনফেশনস অফ অ্যান ইকোনমিক হিট ম্যান (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
=== ১৯৯৮ ===
* [[জর্জ অরওয়েল|অরওয়েলের]] ১৯৮৪ বইতে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে, "কিছু নির্দিষ্ট 'নিউজস্পিক' শব্দের বিশেষ কাজ ছিল অর্থ প্রকাশ করার চেয়ে বরং সেগুলোকে ধ্বংস করা।" [[সুদান]] ও [[আফগানিস্তান]]ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের সপ্তাহে কিছু আমেরিকানকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। এমনকি এক সরব সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিরোধিতাও প্রকাশ করে। কিন্তু যারা অরওয়েলের কিছু সহজ শিক্ষা গ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্যে অনুমোদন ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা... আমেরিকানদের কাকে ঘৃণা করতে হবে এবং কাকে ভয় পেতে হবে, সে সম্পর্কে সর্বদা পুরোপুরি অবহিত রাখতে হবে... যখন [[সন্ত্রাসবাদ|সন্ত্রাসীরা]] হামলা করে, তখন তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যখন আমরা হামলা করি, তখন আমরা প্রতিশোধ নিই। যখন তারা আমাদের প্রতিশোধের জবাবে আরও হামলা চালায়, তখন তারা আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করে... অতীতে তারা যতবারই মিথ্যা বলুক না কেন, মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশ্বাসযোগ্য। যখন তারা... [বলে] খার্তুমে বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ওষুধ কারখানাটি নার্ভ গ্যাসের উপাদান তৈরি করছিল, সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত... শক্তিই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে না — বাস্তব জগৎ ছাড়া, যখন তা আমেরিকান শক্তি। কেবল সন্দেহজনক রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো ব্যক্তিই '''আন্তর্জাতিক আইন''' নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে।
** নরম্যান সলোমন, অরওয়েলীয় যুক্তিবিদ্যা ১০১ — কয়েকটি সহজ পাঠ, এফএআইআর (২৭ আগস্ট ১৯৯৮)
=== ২০০৫ ===
* {{w|ইসরায়েল-দখলকৃত অঞ্চলসমূহ|অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে}} আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং অধিকাংশ আইনজ্ঞ অবৈধ বলে গণ্য করেছেন।
** মার্কো পের্তিলে, "অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি প্রাচীর নির্মাণের আইনি পরিণতি: আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিকাশের একটি হাতছাড়া সুযোগ?" শীর্ষক প্রবন্ধে। ইতালীয় আন্তর্জাতিক আইন বর্ষপঞ্জি। (২০০৫)। ISBN 978-90-04-15027-0।
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
ihs6vdmss2yex5z3uwxfk3v7d6z5zyi
76346
76342
2026-04-13T11:52:41Z
Tanbiruzzaman
806
/* ১৯৯৮ */
76346
wikitext
text/x-wiki
[[File:Hugo-de-Groot-Oudaen-Patrick-Le-Clerc-Van-de-waarheid-des-christelyken-godsdiensts MG 1338.tif|thumb|সচিত্র শিরোনাম পাতা "খ্রিস্টীয় উপাসনার সত্য বিষয়ে মহান হুগো"। ফ্রান্সিসকো দে ভিতোরিয়া এবং আলবেরিকো জেন্তিলির পূর্ববর্তী কাজের পাশাপাশি হুগো গ্রোটিয়াস আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।]]
'''{{W|আন্তর্জাতিক আইন}}''' সেই সমস্ত আইনকে বোঝায় যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অন্যান্য আইন ব্যবস্থা থেকে এই কারণে ভিন্ন যে, এটি ব্যক্তিগত নাগরিকদের পরিবর্তে প্রধানত রাষ্ট্রসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
== উক্তি ==
=== ১৭৮৯-১৮৯৭ ===
* ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থায় বাস করি। ব্যক্তি সমষ্টি হিসেবে আমরা সভ্যতার সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বিকাশের অধীনে বাস করি, যেখানে ব্যক্তিকে আত্মরক্ষা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমাজ তাকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত ও সক্ষম। জাতি সমষ্টি হিসেবে আমরা প্রায় নিতান্তই এক ''ফাউস্ট্রেখট'' (অহংকারের আইন) এর যুগে বাস করি, যেখানে প্রত্যেকে তার অধিকার লাভ করে ঠিক ততটুকুই, যতটুকু তার নিজের বা তার মিত্রদের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে... প্রতিটি জাতি তার নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য শেষ পর্যন্ত, তার নিজের তরবারির উপর অথবা এমন অন্যদের তরবারির উপর নির্ভর করে, যাদের স্বার্থ তার নিজের স্বার্থের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত মতবাদের একটি তালিকা বিদ্যমান, যাকে গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক আইন নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে কেবল সেই অর্থেই আইন বলা যেতে পারে, যা রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ জীবনে এই শব্দটির ব্যবহৃত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো আইনসভা দ্বারা তৈরি হয়নি; কোনো বিচারালয়ের এটি ব্যাখ্যা করার অধিকার ও দায়িত্ব নেই; এটি কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয় না।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৩
* পরিকল্পিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কোনো ঢালই সরবরাহ করে না। বাস্তবে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক আইন সর্বদা শক্তিশালী বাহিনীর পক্ষেই থাকে... সুতরাং, একটি জাতির তার প্রতিবেশী ভূখণ্ডের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সেই নৈতিকতা প্রয়োগ করা ছেলেমানুষি, যা ওরকম দুজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকারী এবং উভয়ের চেয়ে উচ্চতর একটি আইন দ্বারা পারস্পরিক অন্যায় থেকে সুরক্ষিত।
** লর্ড স্যালিসবারি, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের জটিলতা’, ''দি কোয়ার্টারলি রিভিউ'', সংখ্যা ৩০২, খণ্ড ১৫১ (এপ্রিল ১৮৮১), পৃষ্ঠা ৫৪৪
* আন্তর্জাতিক আইন যুক্তি ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত, এবং একটি সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আচরণবিধিগুলো আলোকিত জাতিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিবেচনা যে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের জন্য কোনো আদালত নেই এবং এর আদেশ পালন কার্যত কোনো উচ্চতর আদালতের আদেশের পরিবর্তে সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তা আইনটিকেই অতিরিক্ত বৈধতা দেয় এবং এর যেকোনো ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনকে কেবল একটি অন্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। একজন প্রকৃত সম্মানীয় ব্যক্তি, সম্ভব হলে, সেই অলিখিত অঙ্গীকারকে আরও সতর্কতার সাথে রক্ষা করেন যা তার বিবেককে আবদ্ধ করে, সেই চুক্তির চেয়েও যার লঙ্ঘন তাকে আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন করে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিজেকে অন্যতম আলোকিত জাতি হিসেবে বজায় রাখার লক্ষ্যে, যদি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান ও নৈতিকতার উচ্চ মান ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ করে, তবে তা তার নাগরিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।
** {{w|গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড}}, হাওয়াই সংযুক্তিকরণের একটি চুক্তি বিবেচনার বাইরে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তা। (১৮ ডিসেম্বর ১৮৯৩); জেমস ডি. রিচার্ডসন সম্পাদিত ‘রাষ্ট্রপতিদের বার্তা ও কাগজপত্রের সংকলন ১৭৮৯-১৮৯৭’ (১৮৯৬-১৮৯৯), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৬০-৪৭২।
[[File:Goddess of justice.jpg|thumb|ন্যায়বিচারের ভিত্তি হলো এই যে, কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়; অতঃপর, জনকল্যাণ সাধিত হয়। {{w|সিসারো}}]]
[[File:Defense.gov News Photo 041108-M-8205V-015.jpg|thumb|এই লোকটা নির্দোষ ছিল... সে তার বাড়ির দিকে হেঁটে ফিরছিল, আর আমি তার বন্ধু ও বাবার সামনেই তাকে গুলি করি। প্রথম গুলিতে সে মরেনি, কারণ গুলিটা তার ঘাড়ের এই অংশে লেগেছিল। এরপর সে চিৎকার করতে শুরু করে এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকায়... তাই আমি আরেকটা গুলি করে তাকে শেষ করে দিই... আমার কোম্পানি কমান্ডার নিজে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন... [তিনি] বলেছিলেন যে, ইরাক থেকে ফেরার পর যে প্রথম ছুরিকাঘাতে কাউকে হত্যা করবে, সে চার দিনের ছুটি পাবে। ~জন মাইকেল টার্নার ({{w|মার্কিন নৌসেনাবাহিনী|ইউএসএমসি}})]]
=== ১৯৪৮ ===
* [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং জাতিসমূহের সঞ্চিত সম্পদের একটি বড় অংশ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও, {{w|রুশ বিপ্লব}}ের বাড়াবাড়ি বাদ দিলে, সংগ্রামের শেষে [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] সভ্যতার মূল কাঠামোটি অটুট ছিল। যখন কামানের গোলার ঝড় ও ধুলো হঠাৎ করে থেমে গেল, [[জাতি]]গুলো তাদের শত্রুতা সত্ত্বেও একে অপরকে ঐতিহাসিক জাতিগত সত্তা হিসেবে চিনতে পারছিল। যুদ্ধের আইনকানুন মোটের উপর মেনে চলা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত মিলনস্থল ছিল। পরাজিত ও বিজয়ী উভয়ই সভ্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেছিল। একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়েছিল যা, প্রয়োগ-অযোগ্য আর্থিক দিকগুলো বাদ দিলে, সেসব নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|উন্নত জাতিগুলোর সম্পর্ককে]] ক্রমবর্ধমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। {{w|আইনের শাসন}} ঘোষিত হয়েছিল এবং আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ইউরোপকে, একটি নতুন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য {{w|সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ|একটি বৈশ্বিক চুক্তি}} গঠিত হয়েছিল। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]]ে মানুষে মানুষে প্রতিটি বন্ধন ছিন্ন হতে চলেছিল। [[নাৎসিবাদ|হিটলারের]] আধিপত্যের অধীনে, [[জার্মান]]রা এমন সব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, যা তারা স্বেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল, যার ব্যাপকতা ও নৃশংসতার তুলনা মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অপরাধের সাথেই হয় না। [[জার্মানি|জার্মানি]] মৃত্যুদণ্ড শিবিরগুলোতে {{w|ইহুদি গণহত্যা|সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ষাট থেকে সত্তর লক্ষ পুরুষ, নারী ও শিশুকে}} নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভয়াবহতার দিক থেকে [[চেঙ্গিস খান]]ের অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতার দিক থেকে তাদেরকে বামনাকৃতির করে তোলে। পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধে জার্মানি ও [[রাশিয়া]] উভয়ই সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল। খোলা শহরগুলোতে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের যে ভয়াবহ প্রক্রিয়া জার্মানরা একবার শুরু করেছিল, তার প্রতিদান মিত্রশক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তির দ্বারা বিশগুন ফেরত দিয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল পারমাণবিক বোমার ব্যবহারে, যা {{হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিকে}} নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমরা অবশেষে এমন এক বস্তুগত ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসেছি, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর কল্পনাকেও কখনো কলঙ্কিত করেনি। এতসব কষ্ট ও অর্জনের পরেও আমরা এমন সব সমস্যা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যা আমরা যে এত সংকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছি সেগুলোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি ভয়াবহ।
** উইনস্টন চার্চিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথম খণ্ড: আসন্ন ঝড় (১৯৪৮), ISBN 0-395-41055-X, পৃষ্ঠা ১৫-১৬
=== ১৯৮৯ ===
* প্রকাশিত হয়েছিল যে {{w|মার্কিন সেনাবাহিনী}} তিন দিন ধরে [[সংবাদমাধ্যম]], [[রেড ক্রস]] এবং অন্যান্য বাইরের পর্যবেক্ষকদের বোমাবর্ষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যখন সৈন্যরা হতাহতদের পুড়িয়ে ফেলছিল এবং কবর দিচ্ছিল। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করেছিল যে অপরাধমূলক এবং অন্যান্য অনুপযুক্ত আচরণের কত প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে, এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় কতজন মারা গেছে, কিন্তু এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর কখনও দেওয়া হয়নি... আমরা [পানামায়] [মার্কিন] আগ্রাসন সম্পর্কে অনেক তথ্যই কখনও জানতে পারব না, এমনকি গণহত্যার প্রকৃত সংখ্যাও জানতে পারব না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী {{w|ডিক চেনি}} মৃতের সংখ্যা পাঁচশ থেকে ছয়শ'র মধ্যে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু স্বাধীন [[মানবাধিকার]] সংস্থাগুলো এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার বলে অনুমান করেছিল, এবং আরও পঁচিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল... {{W|মানুয়েল নরিয়েগা|নোরিয়েগাকে}} গ্রেপ্তার করে মিয়ামিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চল্লিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সেই সময়ে, তিনিই ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র ব্যক্তি যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল... আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির হাতে একটি নিরস্ত্র জাতির অহেতুক ধ্বংসযজ্ঞে বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম লোকই এই ক্ষোভ বা ওয়াশিংটনের করা অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিল। সংবাদমাধ্যমে এর প্রচার ছিল খুবই সীমিত। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতি, প্রকাশক ও টেলিভিশন কর্মকর্তাদের কাছে হোয়াইট হাউসের ফোন কল, কংগ্রেসের সদস্যরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি, পাছে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এবং সাংবাদিকরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস করেননি তারা মনে করতেন জনগণের বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে নায়ক প্রয়োজন।
** ডেভিড হ্যারিস, শুটিং দ্য মুন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ অ্যান আমেরিকান ম্যানহান্ট আনলাইক এনি আদার, এভার, পৃষ্ঠা ৬। (২০০১) কনফেশনস অফ অ্যান ইকোনমিক হিট ম্যান (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
=== ১৯৯৮ ===
* [[জর্জ অরওয়েল|অরওয়েলের]] ১৯৮৪ বইতে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে, "কিছু নির্দিষ্ট 'নিউজস্পিক' শব্দের বিশেষ কাজ ছিল অর্থ প্রকাশ করার চেয়ে বরং সেগুলোকে ধ্বংস করা।" [[সুদান]] ও [[আফগানিস্তান]]ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের সপ্তাহে কিছু আমেরিকানকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। এমনকি এক সরব সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিরোধিতাও প্রকাশ করে। কিন্তু যারা অরওয়েলের কিছু সহজ শিক্ষা গ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্যে অনুমোদন ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা... আমেরিকানদের কাকে ঘৃণা করতে হবে এবং কাকে ভয় পেতে হবে, সে সম্পর্কে সর্বদা পুরোপুরি অবহিত রাখতে হবে... যখন [[সন্ত্রাসবাদ|সন্ত্রাসীরা]] হামলা করে, তখন তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যখন আমরা হামলা করি, তখন আমরা প্রতিশোধ নিই। যখন তারা আমাদের প্রতিশোধের জবাবে আরও হামলা চালায়, তখন তারা আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করে... অতীতে তারা যতবারই মিথ্যা বলুক না কেন, মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশ্বাসযোগ্য। যখন তারা... [বলে] খার্তুমে বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ওষুধ কারখানাটি নার্ভ গ্যাসের উপাদান তৈরি করছিল, সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত... শক্তিই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে না — বাস্তব জগৎ ছাড়া, যখন তা আমেরিকান শক্তি। কেবল সন্দেহজনক রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো ব্যক্তিই '''আন্তর্জাতিক আইন''' নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে।
** নরম্যান সলোমন, অরওয়েলীয় যুক্তিবিদ্যা ১০১ — কয়েকটি সহজ পাঠ, এফএআইআর (২৭ আগস্ট ১৯৯৮)
[[File:CollateralMurder.ogv|thumb|{{w|উইকিলিকস}} কর্তৃক ২০১০ সালের ৫ই এপ্রিল প্রকাশিত মার্কিন সামরিক ভিডিওতে ইরাকের উপশহর নিউ বাগদাদে এক ডজনেরও বেশি মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করার দৃশ্য দেখা যায়, যার মধ্যে রয়টার্সের দুজন সংবাদকর্মীও ছিলেন।]]
[[File:Barack Obama and George Bush on Air Force One.jpg|thumb|যদি মার্কিন সরকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ চলাকালীন বুশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার করত, তাহলে {{w|আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত|আইসিসি}} এখন এর এখতিয়ার নিত না। কিন্তু [[বারাক ওবামা]] যখন বললেন, “সাধারণভাবে বলতে গেলে, আমি অতীতের দিকে তাকানোর চেয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে বেশি আগ্রহী,” তখন তার প্রশাসন বুশ প্রশাসনের সময় আটককৃতদের ওপর নির্যাতন ও ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করতে অস্বীকৃতি জানায়। ~ মার্জোরি কোহন]]
[[File:Abu-ghraib-leash.jpg|thumb|ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের যুদ্ধাপরাধের জন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত, কারণ সেগুলো এতটাই ভয়াবহ এবং সংখ্যায় এত বেশি যে, তাদের কৃতকর্মের জন্য বিচার ও কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে পড়ে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে এখন আমাদের একটি আইনহীন বিশ্ব (বা “বিশ্ব ব্যবস্থা”) রয়েছে, যেখানে “জোর যার, আইনও তার...” ~ এরিক জুয়েস]]
=== ২০০৫ ===
* {{w|ইসরায়েল-দখলকৃত অঞ্চলসমূহ|অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে}} আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং অধিকাংশ আইনজ্ঞ অবৈধ বলে গণ্য করেছেন।
** মার্কো পের্তিলে, "অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি প্রাচীর নির্মাণের আইনি পরিণতি: আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিকাশের একটি হাতছাড়া সুযোগ?" শীর্ষক প্রবন্ধে। ইতালীয় আন্তর্জাতিক আইন বর্ষপঞ্জি। (২০০৫)। ISBN 978-90-04-15027-0।
=== ২০০৮-২০১৪ ===
=== ২০১৫ ===
=== ২০১৭-২০১৮ ===
=== ২০১৯ ===
=== ২০২০ ===
=== ২০২১ ===
=== ২০২২ ===
=== ''আইনি উদ্ধৃতির অভিধান'' (১৯০৪) ===
== আরও দেখুন ==
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন]]
3f277llgklaq82p2edae44p51f338rn
ব্যবহারকারী আলাপ:চৌধুরী প্রবীর
3
12422
76274
2026-04-13T05:13:03Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76274
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় চৌধুরী প্রবীর,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৫:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
3qx0irw919urw5fyzsvjbvbbsnx2a8m
আলমগীর (অভিনেতা)
0
12423
76284
2026-04-13T05:36:16Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
নতুন নিবন্ধ
76284
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
7gw4f9v8bx6di6gfro7ku6ieu6mbo5k
76286
76284
2026-04-13T05:37:27Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* বহিঃসংযোগ */
76286
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
k5s3u34j4mq62t23ce98y9m88skt3wv
76287
76286
2026-04-13T05:39:00Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */উক্তি
76287
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
mb8kx14488i5iqwjcti3524hv6q8z5r
76289
76287
2026-04-13T05:41:37Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */
76289
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার ১০ আসনের সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের উদ্যোগে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ফাঁকে [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই গণমাধ্যমের] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
m5ljvunxn7a2cox6wqu7fiigvqxb7pd
76294
76289
2026-04-13T06:07:07Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */উক্তি
76294
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার ১০ আসনের সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের উদ্যোগে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ফাঁকে [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই গণমাধ্যমের] বলেছেন।
* আমি সিনেমা খাই, সিনেমা পান করি, সিনেমাতে ঘুমাই, সিনেমাই আমার সব
** "জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 মাছরাঙা টেলিভিশনের] সাক্ষাৎকার মন্তব্য বলেছেন।
* এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি; এর বেশি নয়’।
** এ উপলক্ষ্যে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘রাঙা সকাল’-এর একটি বিশেষ পর্বে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
lek2bb3fgk0548kdpydny9paiy1vb2i
76295
76294
2026-04-13T06:08:32Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76295
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার ১০ আসনের সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের উদ্যোগে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ফাঁকে [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই গণমাধ্যমের] বলেছেন।
* আমি সিনেমা খাই, সিনেমা পান করি, সিনেমাতে ঘুমাই, সিনেমাই আমার সব
** "জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 মাছরাঙা টেলিভিশনের] সাক্ষাৎকার মন্তব্য বলেছেন।
* এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি এর বেশি নয়’।
** এ উপলক্ষ্যে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন রাঙা সকাল’-এর একটি বিশেষ পর্বে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
9p3vdcnwvxxmjq14kmw5nlvzmkr0jq4
76297
76295
2026-04-13T06:23:00Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
/* উক্তি */উক্তি
76297
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার ১০ আসনের সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের উদ্যোগে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ফাঁকে [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই গণমাধ্যমের] বলেছেন।
* আমি সিনেমা খাই, সিনেমা পান করি, সিনেমাতে ঘুমাই, সিনেমাই আমার সব
** "জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 মাছরাঙা টেলিভিশনের] সাক্ষাৎকার মন্তব্য বলেছেন।
* এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি এর বেশি নয়’।
** এ উপলক্ষ্যে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন রাঙা সকাল’-এর একটি বিশেষ পর্বে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
* অভিনয়ের যে বিশালতা, সেটা এক জনমে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে খুব বেশি নম্বর দিতে পারি না। দুই–তিন নম্বর হয়তো দেব, দশের মধ্যে।
** "আপনি বলেছিলেন মানুষ এক জীবনে স্বপ্ন ছুঁতে পারে না। কিন্তু স্বপ্ন তাড়া করে" এই প্রশ্নের উত্তরে [https://www.ajkerpatrika.com/entertainment/cinema/ajpejwwqpymu7 এই প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। ০৩ এপ্রিল ২০২৫
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
6sim9gst6x6ds2z0dk513who7mw4sfp
76298
76297
2026-04-13T06:23:17Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
76298
wikitext
text/x-wiki
[[w:আলমগীর (অভিনেতা)|আলমগীর]] (জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৫০) [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পৈতৃক বাড়ি [[w:নবীনগর উপজেলা|নবীনগর]], [[w:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা|ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]। তিনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
==উক্তি==
* ভাইরাল হয়ে কোনওদিন স্টারের জন্ম হয় না। আপনি ভাইরাল হয়ে কি হবেন। হঠাৎ ভাইরাল হয়ে বড়জোর এক বছর টিকে থাকা যায়। তারপর তারা হারিয়ে যাবে। তারা কোনোদিন টিকে থাকবে না। এটাই বাস্তব। কিন্তু অভিনয়-চলচ্চিত্র দিয়ে যারা মানুষের মনে জায়গা করে নেন তারা আজীবন টিকে থাকবে।
** ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার ১০ আসনের সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের উদ্যোগে ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ফাঁকে [https://rtvonline.com/entertainment/262651 এই গণমাধ্যমের] বলেছেন।
* আমি সিনেমা খাই, সিনেমা পান করি, সিনেমাতে ঘুমাই, সিনেমাই আমার সব
** "জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 মাছরাঙা টেলিভিশনের] সাক্ষাৎকার মন্তব্য বলেছেন।
* এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি এর বেশি নয়’।
** এ উপলক্ষ্যে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন রাঙা সকাল’-এর একটি বিশেষ পর্বে [https://www.dhakapost.com/entertainment/124518 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন।
* অভিনয়ের যে বিশালতা, সেটা এক জনমে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে খুব বেশি নম্বর দিতে পারি না। দুই-তিন নম্বর হয়তো দেব, দশের মধ্যে।
** "আপনি বলেছিলেন মানুষ এক জীবনে স্বপ্ন ছুঁতে পারে না। কিন্তু স্বপ্ন তাড়া করে" এই প্রশ্নের উত্তরে [https://www.ajkerpatrika.com/entertainment/cinema/ajpejwwqpymu7 এই প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। ০৩ এপ্রিল ২০২৫
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
okuvsq8x62fo2df7jbu0dh9jhhj85os
ব্যবহারকারী:Ripon11
2
12424
76293
2026-04-13T05:58:15Z
Ripon11
5054
"আমি একজন কৃষক এর সন্তান" দিয়ে পাতা তৈরি
76293
wikitext
text/x-wiki
আমি একজন কৃষক এর সন্তান
rgcyilspo66y4j8yojdpoqwslbtjlxl
ব্যবহারকারী আলাপ:Ripon11
3
12425
76296
2026-04-13T06:13:05Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76296
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Ripon11,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৬:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
h8a8ctrbysrvt23k0n69wbz3654x6zh
আলাপ:আলমগীর (অভিনেতা)
1
12426
76299
2026-04-13T06:24:27Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76299
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
আলাপ:আল খোয়ারিজমি
1
12427
76300
2026-04-13T06:26:35Z
Oindrojalik Watch
4169
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76300
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক আইন
14
12428
76304
2026-04-13T06:32:08Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
Category
76304
wikitext
text/x-wiki
phoiac9h4m842xq45sp7s6u21eteeq1
76305
76304
2026-04-13T06:33:40Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:আইন]] যোগ
76305
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
i67vlfd20y7hntznu0mgmij2dbjxnxi
76306
76305
2026-04-13T06:34:25Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক সম্পর্ক]] যোগ
76306
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:আইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:আন্তর্জাতিক সম্পর্ক]]
h1io5ma23o2xob4kxlze4j83njk0rzh
আলাপ:গর্ডন মুর
1
12429
76312
2026-04-13T07:07:14Z
Firuz Ahmmed
2720
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76312
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
ব্যবহারকারী আলাপ:Akifa Shazzad Prova
3
12430
76314
2026-04-13T07:13:04Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76314
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Akifa Shazzad Prova,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
০৭:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
ot4nzi1oqbxdnjncj9vzc860hrvq460
ফেদেরিকো ফাগিন
0
12431
76320
2026-04-13T07:59:48Z
SMontaha32
3112
" ```markdown [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:Federico Faggin|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == *..." দিয়ে পাতা তৈরি
76320
wikitext
text/x-wiki
```markdown
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:Federico Faggin|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন, নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে, বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়: আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না; এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে [[চেতনা]] নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না; এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* [[চেতনা]] হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে [[ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান]] দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''[[w:en:qualia|কোয়ালিয়া]]'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক [[ধারণা]] দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* [[সিলিকন ভ্যালি]]-তে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদী]] এবং [[হ্রাসবাদ|হ্রাসবাদী]]। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের [[কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার]] ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বাহ্যিক সংযোগ ==
[[Category:Computer scientists from the United States]]
[[Category:Physicists from Italy]]
[[Category:Inventors]]
[[Category:Emigrants]]
[[Category:Engineers from the United States]]
[[Category:Physicists from the United States]]
[[Category:1941 births]]
[[Category:Living people]]
l9snz4w3oxafdgp5r4266tppd91tgk6
76321
76320
2026-04-13T08:00:15Z
SMontaha32
3112
76321
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন, নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে, বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়: আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না; এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে [[চেতনা]] নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না; এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* [[চেতনা]] হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে [[ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান]] দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''[[w:en:qualia|কোয়ালিয়া]]'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক [[ধারণা]] দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* [[সিলিকন ভ্যালি]]-তে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদী]] এবং [[হ্রাসবাদ|হ্রাসবাদী]]। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের [[কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার]] ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বাহ্যিক সংযোগ ==
[[Category:Computer scientists from the United States]]
[[Category:Physicists from Italy]]
[[Category:Inventors]]
[[Category:Emigrants]]
[[Category:Engineers from the United States]]
[[Category:Physicists from the United States]]
[[Category:1941 births]]
[[Category:Living people]]
boo8at0mru8kx1helep4qs13ldr961a
76322
76321
2026-04-13T08:02:07Z
SMontaha32
3112
/* বহিঃসংযোগ */
76322
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন, নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে, বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়: আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না; এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে [[চেতনা]] নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না; এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* [[চেতনা]] হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে [[ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান]] দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''[[w:en:qualia|কোয়ালিয়া]]'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক [[ধারণা]] দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* [[সিলিকন ভ্যালি]]-তে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদী]] এবং [[হ্রাসবাদ|হ্রাসবাদী]]। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের [[কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার]] ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
9ro20aujpas0tvg15n6kvt5dlzknm6e
76323
76322
2026-04-13T08:02:44Z
SMontaha32
3112
/* বহিঃসংযোগ */
76323
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন, নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে, বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়: আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না; এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে [[চেতনা]] নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না; এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* [[চেতনা]] হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে [[ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান]] দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''[[w:en:qualia|কোয়ালিয়া]]'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক [[ধারণা]] দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* [[সিলিকন ভ্যালি]]-তে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদী]] এবং [[হ্রাসবাদ|হ্রাসবাদী]]। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের [[কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার]] ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
064ue7yrv5x1zpj8dsl1prrr5i8rz8p
76325
76323
2026-04-13T08:04:32Z
SMontaha32
3112
76325
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন, নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে, বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
20leckgtoe14qapg6k9hicpdilxjd9x
76326
76325
2026-04-13T08:06:58Z
SMontaha32
3112
76326
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
a512fak0lnjqollx2hpoare9pj1ypoy
76347
76326
2026-04-13T11:56:52Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] অপসারণ
76347
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
iaevwpq285xvnqn5op1cagsj52i0tsz
76348
76347
2026-04-13T11:57:07Z
মোহাম্মদ জনি হোসেন
104
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] যোগ
76348
wikitext
text/x-wiki
[[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]]
'''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা।
== উক্তি ==
* মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি।
***[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪)
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না।
***[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
* পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা।
*** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''।
* একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি।
*** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''।
* চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
* সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর।
***ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪)
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]]
jslijo750305klvm5ghgqqrb6f5apan
আলাপ:ফেদেরিকো ফাগিন
1
12432
76327
2026-04-13T08:07:24Z
SMontaha32
3112
https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026
76327
wikitext
text/x-wiki
{{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}}
s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm
ব্যবহারকারী:KhandakerRipons
2
12433
76331
2026-04-13T09:28:43Z
KhandakerRipons
5064
"Khandaker Ripon" দিয়ে পাতা তৈরি
76331
wikitext
text/x-wiki
Khandaker Ripon
sa6st08h2vol7vptrputtf0r99hv2ej
ব্যবহারকারী আলাপ:KhandakerRipons
3
12434
76339
2026-04-13T10:13:04Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76339
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় KhandakerRipons,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১০:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
fkhq4zdd5r54gc8btsrq9xgwxjpykfg
ব্যবহারকারী আলাপ:MD Jubayer 2012
3
12435
76340
2026-04-13T10:13:13Z
অভ্যর্থনা কমিটি বট
1112
উইকিউক্তিতে স্বাগত!
76340
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় MD Jubayer 2012,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১০:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
11pp8xlo7rbwueiwua9eawqelwvwr5d