উইকিউক্তি bnwikiquote https://bn.wikiquote.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.46.0-wmf.23 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিউক্তি উইকিউক্তি আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ Event Event talk ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil 3 4 76693 73310 2026-04-14T13:53:31Z Sumanta3023 4175 /* পর্যালোচনা */ নতুন অনুচ্ছেদ 76693 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, MdsShakil, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! [[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:২৮, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == [[ওবায়দুল কাদের]] নিবন্ধটি সম্পর্কে == [[File:Usermsg.svg|25px|alt=|link=]] সুপ্রিয় MdsShakil, আমি [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|মোহাম্মদ মারুফ]]। উইকিউক্তিতে [[বিশেষ:অবদান/MdsShakil|আপনার অবদানের]] জন্য ধন্যবাদ। আপনি ১ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে অর্থাৎ এই বার্তা প্রদানের '''<span style="color:red">২৩৮ দিন পূর্বে </span>''' '''ওবায়দুল কাদের''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। যদিও উইকিউক্তিতে যে কেউই সম্পাদনা করতে পারে, কিন্তু উইকিউক্তিতে গঠনমূলক সম্পাদনার করার জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। <!--আমাদের [[উইকিপিডিয়া:স্বাগতম, নবাগত|স্বাগত পাতায়]] এই নীতিমালার বিস্তারিত ব্যখ্যা রয়েছে।--> নীতিমালা অনুসারে, আপনার তৈরি করা [[ওবায়দুল কাদের|নিবন্ধটিতে]] একটি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমস্যাটি হলো: # নিবন্ধটিতে কোন [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|উৎস বা তথ্যসূত্র]] [[উইকিউক্তি:উৎসনির্দেশ|উদ্ধৃত]] নেই '''আপনি যা করতে পারেন:''' #[[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|তথ্যসূত্র প্রদান করে]] এই নিবন্ধটির মানোন্নয়ন করুন। তা নাহলে নিবন্ধটি অপসারণ করা হতে পারে এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা পরামর্শ জানাতে [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|আমার আলাপ]] পাতায় বার্তা দিতে পারেন। উইকিউক্তিতে আপনার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|মোহাম্মদ মারুফ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ মারুফ|আলাপ]]) ১৫:৪১, ২৫ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় MdsShakil, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় MdsShakil, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন == [[কিম ইল-সাং]] পাতাটিতে চিহ্নিত ভূল গুলো সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবে। [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] এই পাতাটিতে আমি সেরকম কোন ত্রুটি দেখতে পেলাম না আপনি যদি একটু কোন প্যারাগ্রাফে ত্রুটি আছে বলে দেন তাহলে সংশোধন করতে সুবিধা হয়। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৩:৫৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 3cmqa6dy7lo0hokd47qrnagxctnjdvx 76711 76693 2026-04-14T15:32:11Z MdsShakil 6 /* পর্যালোচনা */ উত্তর 76711 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, MdsShakil, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! [[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:২৮, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == [[ওবায়দুল কাদের]] নিবন্ধটি সম্পর্কে == [[File:Usermsg.svg|25px|alt=|link=]] সুপ্রিয় MdsShakil, আমি [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|মোহাম্মদ মারুফ]]। উইকিউক্তিতে [[বিশেষ:অবদান/MdsShakil|আপনার অবদানের]] জন্য ধন্যবাদ। আপনি ১ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে অর্থাৎ এই বার্তা প্রদানের '''<span style="color:red">২৩৮ দিন পূর্বে </span>''' '''ওবায়দুল কাদের''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। যদিও উইকিউক্তিতে যে কেউই সম্পাদনা করতে পারে, কিন্তু উইকিউক্তিতে গঠনমূলক সম্পাদনার করার জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। <!--আমাদের [[উইকিপিডিয়া:স্বাগতম, নবাগত|স্বাগত পাতায়]] এই নীতিমালার বিস্তারিত ব্যখ্যা রয়েছে।--> নীতিমালা অনুসারে, আপনার তৈরি করা [[ওবায়দুল কাদের|নিবন্ধটিতে]] একটি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমস্যাটি হলো: # নিবন্ধটিতে কোন [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|উৎস বা তথ্যসূত্র]] [[উইকিউক্তি:উৎসনির্দেশ|উদ্ধৃত]] নেই '''আপনি যা করতে পারেন:''' #[[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|তথ্যসূত্র প্রদান করে]] এই নিবন্ধটির মানোন্নয়ন করুন। তা নাহলে নিবন্ধটি অপসারণ করা হতে পারে এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা পরামর্শ জানাতে [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|আমার আলাপ]] পাতায় বার্তা দিতে পারেন। উইকিউক্তিতে আপনার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ মারুফ|মোহাম্মদ মারুফ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ মারুফ|আলাপ]]) ১৫:৪১, ২৫ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় MdsShakil, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় MdsShakil, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন == [[কিম ইল-সাং]] পাতাটিতে চিহ্নিত ভূল গুলো সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবে। [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১২:৪৭, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] এই পাতাটিতে আমি সেরকম কোন ত্রুটি দেখতে পেলাম না আপনি যদি একটু কোন প্যারাগ্রাফে ত্রুটি আছে বলে দেন তাহলে সংশোধন করতে সুবিধা হয়। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৩:৫৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] উক্তিগুলোতে সমস্যা আছে, এগুলো আরও সুবোধ্য ভাষায় লিখতে হবে। যেমন একটি উক্তিতে আপনি লিখেছেন, "{{সবুজ|সমসাময়িক সংস্কৃতিতে 'সামগ্রিক' দৃষ্টিভঙ্গিকে এক ধরণের সর্বরোগহর ওষুধ হিসেবে প্রচার করার একটি শক্তিশালী ধারা রয়েছে সংক্ষেপণবাদ বা রিডাকশনিজম বলতে নিচের স্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া বোঝায়, আর সামগ্রিকতা বলতে উচ্চতর স্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া বোঝায়। যেকোনো সন্তোষজনক বর্ণনায় এই দুটি একে অপরের সাথে জড়িত: এবং প্রতিটি আমাদের জ্ঞানীয় পছন্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতির পাশাপাশি কিছু লাভও নিয়ে আসে অংশগুলোর পারস্পরিক সংযোগ ছাড়া কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থা হয় না এবং পরিবেশ ছাড়া কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থা থাকা সম্ভব নয়।}}" এই বাক্যটিকে এভাবে লেখা যেতো, ''{{লাল|বর্তমান সংস্কৃতিতে ‘সামগ্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গিকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা রয়েছে। সাধারণত ‘হ্রাসবাদ’ বা ক্ষুদ্র বিশ্লেষণ বলতে আমরা কোনো বিষয়ের ছোট বা গভীর অংশ নিয়ে কাজ করা বুঝি, আর ‘সামগ্রিকতা’ বলতে বুঝি বড় বা ওপরের স্তরে নজর দেওয়া। কিন্তু যেকোনো সঠিক বর্ণনায় এই দুই পদ্ধতিই একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকে। আমাদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা একেক সময় একেকটা বেছে নেই, তবে দুটোরই যেমন কিছু ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। মূলত উভয়ের ভেতরের অংশগুলোর যোগসূত্র ছাড়া যেমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না, তেমনি চারপাশের পরিবেশ ছাড়াও কোনো ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হতে পারে না।}}'' আপনি এভাবে ভাবানুবাদ করেন, আক্ষরিক বা যান্ত্রিক অনুবাদ করলে তো হবে না। ইংরেজি বাক্যগুলো পড়ে বুঝে সেগুলো বাংলা ভাষায় সহজে বুঝিয়ে লিখুন, যাতে আপনি নিজে একবার পড়লেই বুঝতে পারেন। ইংরেজি বড় বাক্যগুলো প্রয়োজনে ভেঙ্গে লিখবেন। এভাবে পুরো নিবন্ধ সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil#top|আলাপ]]) ১৫:৩২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) jq4idxus0p6gloyebfnsn8r1cu801gg কাজী নজরুল ইসলাম 0 276 76706 70783 2026-04-14T15:19:24Z ~2026-23001-72 5147 বিষয়বস্তু যোগ 76706 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Nazrul Colorize.jpg|thumb|মহা - বিদ্রোহী রণক্লান্ত<br />আমি সেই [[দিন]] হব শান্ত।<br />যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,<br /> অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ, রণ-ভূমে রণিবে না ~ নজরুল]] '''[[:w:কাজী নজরুল ইসলাম|কাজী নজরুল ইসলাম]]''' (২৪ মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ; ১১ [[জ্যৈষ্ঠ]] ১৩০৬ – ১২ [[ভাদ্র]] ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) রাঢ় বাংলায় [[জন্ম]] নেওয়া একজন [[বাঙালি]] কবি এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।তিনি বৃটিশ বিরোধীও ছিলেন।আজও তার ঐতিহ্য মানুষ ধরে রাখে। ==উক্তি== * মস‍্জিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,<br />যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শ‍ুন‍্তে পাই॥<br /> আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,<br /> পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে।<br /> গোর আজাব থেকে এ গুনাহ্‌গার পাইবে রেহাই॥ ** নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দশম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২১৫ * 'বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে ,মৃত্যুকে আকড়াইয়া পড়িয়া থাকে' ** 'যৌবনের গান ' * মিথ্যা শুনিনি ভাই,<br>এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই। ** ‘সাম্যবাদী’ কবিতা, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮০ * পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল!– মূর্খরা সব শোনো,<br>মানুষ এনেছে গ্রন্থ;– গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো! ** ‘মানুষ’ কবিতা, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮২ * বল বীর—<br>বল উন্নত মম শির!<br>শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির! ** ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫ *[[বাঙালি জাতি|বাঙালি]] যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে ‘'''বাঙালির বাংলা'''’ সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। ** ‘বাঙালির বাংলা’ প্রবন্ধ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, সপ্তম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৫৬ ***{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=বাঙালির ঐক্যের প্রতীক নজরুল|ইউআরএল=https://www.bhorerkagoj.com/print-edition/2022/05/27/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%90%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%9c/|সংগ্রহের-তারিখ=2022-10-10|ওয়েবসাইট=[[w:bn:ভোরের কাগজ|ভোরের কাগজ]]}} * কারার ঐ লৌহ-কবাট<br> ভেঙে ফেল, কর রে লোপাট<br>রক্ত-জমাট<br>শিকল পূজোর পাষাণ-বেদী! **''ভাঙ্গার গান'' কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৫৯ * ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,<br>আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান? ** ‘সর্বহারা’ কাব্যের ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১২৩ * আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বি-নয়নে বহ্নি,<br> আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম, আমি ধন্যি! ** ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮ *নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত,তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। **''আমার পথ'' প্রবন্ধ, ''রুদ্র-মঙ্গল'', নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২১ * ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। ** ''আমার পথ'' প্রবন্ধ, ''রুদ্র-মঙ্গল'', নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২২ * আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। ** ''আমার পথ'' প্রবন্ধ, ''রুদ্র-মঙ্গল'', নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২১ * যার নিজের [[ধর্ম|ধর্মে]] [[বিশ্বাস]] আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। ** ''আমার পথ'' প্রবন্ধ'', রুদ্র-মঙ্গল'', নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২২ * আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান-বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন ** ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস্,<br>আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ! ** ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭ * মহা– বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত<br>আমি সেই দিন হব শান্ত,<br>যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,<br>অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না,<br>বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত<br>আমি সেই দিন হব শান্ত! ** ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০–১১ * কত মোহররম এলো, গেল চলে বহু কাল—<br>ভুলি নি গো আজো সেই শহীদের লোহু লাল!<br>মুস্‌লিম! তোরা আজ ‘জয়নাল আবেদীন,’<br>‘ওয়া হোসেনা—ওয়া হোসেন।’ কেঁদে তাই যাবে দিন।<br>ফিরে এল আজ সেই মহরম মাহিনা<br>ত্যাগ চাই মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না! ** ‘মোহররম’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭–৫৮ * আমার যাবার সময় হল<br>দাও বিদায়।<br>মোছ আঁখি দুয়ার খোলো<br>দাও বিদায়। ** নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, সপ্তম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৫৬ * যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে!<br>অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে—<br>বুঝবে সেদিন বুঝবে। ** ‘অভিশাপ’ কবিতা, দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৫ * তুমি সুন্দর, তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?<br>চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী, বলে না তো কিছু চাঁদ।৷ ** বুলবুল কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, ষষ্ঠ খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২৭৩ * হয়তো তোমার পাব দেখা,<br>যেখানে ঐ নত [[আকাশ]] চুমছে বনের সবুজ রেখা।৷ ** ‘আশা’ কবিতা, ‘ছায়ানট’ কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩৪ * হেথা সবে সম পাপী<br> আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি! ** ‘পাপ’ কবিতা, ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৪ * [[ভালোবাসা]] দিয়ে [[ভালোবাসা]] না পেলে তার [[জীবন]] দুঃখের ও জড়তার। * ভালোবাসাকে যে জীবনে অপমান করে সে জীবনে আর ভালোবাসা পায় না। * তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন, সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন। * মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়ে বিরহের যন্ত্রণা যে কতো কঠিন,<br>কতো ভয়ানক তা একমাত্র ভুক্তভোগীই অনুভব করতে পারে। *একটা ধর্ম কখনো সঙ্কীর্ণ, অনুদার হইতে পারে না। ধর্ম সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সত্য চিরদিনই বিশ্বের সকলের কাছে সমান সত্য। কোন ধর্ম শুধু কোন এক বিশিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়। তাহা বিশ্বের। **‘ছুঁৎমার্গ’ প্রবন্ধ ==কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে উক্তি== * কবি নজরুল যে-স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটা শুধু তার নিজের স্বপ্ন নয় —সমগ্র বাঙালী জাতির স্বপ্ন। **[[সুভাষচন্দ্র বসু]], নজরুল স্মৃতি- বিশ্বনাথ দে সম্পাদিত, প্রকাশক- সাহিত্যম্, কলিকাতা, পৃষ্ঠা ২ * কবিরা সাধারণত কোমল ও ভীরু, কিন্তু নজরুল তা নন। কারাগারে শৃঙ্খল পরে বুকের রক্ত দিয়ে তিনি যা লিখেছেন, তা বাঙালীর প্রাণে এক নৃতন স্পন্দন জাগিয়ে তুলেছে। **[[প্রফুল্ল চন্দ্র রায়]], নজরুল স্মৃতি- বিশ্বনাথ দে সম্পাদিত, প্রকাশক- সাহিত্যম্, কলিকাতা, পৃষ্ঠা ৪ * ভুল হয়ে গেছে বিলকুল<br> আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে<br>ভাগ হয়নিকো নজরুল। **অন্নদাশঙ্কর রায় * [[জীবনানন্দ দাশ]] বলতেন নজরুল ইসলামের আত্মপ্রত্যয় ছিল। পরিকীর্তিত সৎ প্রেরণাই মানুষের ও শেষ বিশ্লেষণে মানুষ সমাজের মর্মকথা এই ঘোষণায় তার অপূর্ব বিশ্বাস ছিল। মনুষ্যজীবনের পরিবর্তিত অমূল্য জিনিসগুলোর উত্তরোত্তর মূল্যনাশের [[ব্যথা]] তাঁকে সন্তপ্ত করেছিল। .. তাঁর জনপ্রেম, দেশপ্রেম পূর্বোক্ত শতাব্দীর বৃহৎ ধারার সঙ্গে সত্যিই একাত্ম। পরবর্তী কবিরা এ সৌভাগ্য থেকে অনেকটা বঞ্চিত বলে আজ পর্যন্ত নজরুলকেই সত্যিকারের দেশ ও দেশীয়দের বন্ধু কবি বলে জনসাধারণ চিনে নিবে। ” “জন ও জনতার বন্ধু ও দেশপ্রেমিক কবি নজরুল। ” == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিসংকলন লেখক}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী| Kazi Nazrul Islam}} * [https://archive.org/search.php?query=%28%28subject%3A%22Islam%2C%20Kazi%20Nazrul%22%20OR%20subject%3A%22Islam%2C%20Kazi%20N%2E%22%20OR%20subject%3A%22Islam%2C%20K%2E%20N%2E%22%20OR%20subject%3A%22Kazi%20Nazrul%20Islam%22%20OR%20subject%3A%22Kazi%20N%2E%20Islam%22%20OR%20subject%3A%22K%2E%20N%2E%20Islam%22%20OR%20subject%3A%22Islam%2C%20Kazi%22%20OR%20subject%3A%22Kazi%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22Kazi%20Nazrul%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22Kazi%20N%2E%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22K%2E%20N%2E%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22K%2E%20Nazrul%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22Islam%2C%20Kazi%20Nazrul%22%20OR%20creator%3A%22Islam%2C%20Kazi%20N%2E%22%20OR%20creator%3A%22Islam%2C%20K%2E%20N%2E%22%20OR%20creator%3A%22Islam%2C%20K%2E%20Nazrul%22%20OR%20creator%3A%22Kazi%20Islam%22%20OR%20creator%3A%22Islam%2C%20Kazi%22%20OR%20title%3A%22Kazi%20Nazrul%20Islam%22%20OR%20title%3A%22Kazi%20N%2E%20Islam%22%20OR%20title%3A%22K%2E%20N%2E%20Islam%22%20OR%20title%3A%22Kazi%20Islam%22%20OR%20description%3A%22Kazi%20Nazrul%20Islam%22%20OR%20description%3A%22Kazi%20N%2E%20Islam%22%20OR%20description%3A%22K%2E%20N%2E%20Islam%22%20OR%20description%3A%22Islam%2C%20Kazi%20Nazrul%22%20OR%20description%3A%22Islam%2C%20Kazi%20N%2E%22%20OR%20description%3A%22Kazi%20Islam%22%20OR%20description%3A%22Islam%2C%20Kazi%22%29%20OR%20%28%221899-1976%22%20AND%20Islam%29%29%20AND%20%28-mediatype:software%29 ইন্টারনেট আর্কাইভে নজরুল ইসলাম] * [https://books.google.com/books?&as_auth=%22Nazrul+Islam+%28Kazi%29%22 নজরুল ইসলাম, গুগল বুকসে] * [http://www.kazinazrulislam.org/ কাজী নজরুল [[ইসলাম]] প্রোফাইল (বাংলায়)] [[বিষয়শ্রেণী:১৮৯৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৬-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের ঔপন্যাসিক]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের গায়ক]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের দার্শনিক]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় মুসলিম]] [[বিষয়শ্রেণী:বিপ্লবী]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের মুসলিম]] [[বিষয়শ্রেণী:রাজনৈতিক সক্রিয়কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী]] [[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:অনুবাদক]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় প্রাবন্ধিক]] bo95nv03n2sbdk5yf85t2otclfzj3mp ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন 3 742 76866 72897 2026-04-15T07:10:24Z ARI 356 বিজ্ঞপ্তি: [[ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] এর দ্রুত অপসারণ প্রস্তাবনা ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76866 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, ফারদিন, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! —[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫২, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] মূল পয়েন্টগুলো highlight করার জন্য গাঢ় করা হয়। এমন তো অনেক দেখেছি যেখানে তথ্যসূত্রে গাঢ় অক্ষরে লেখা না থাকলেও উইকিউক্তিতে গাঢ় করা হয়েছে। English wiki তেও এমন অনেক দেখেছি। তাহলে তো Eng wiki সহ এমনভাবে যত জায়গায় গাঢ় করা আছে সব জায়গায় শব্দগুলোকে গাঢ় থেকে হালকা করে দিতে হবে।নাকি? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৮:০২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :তথ্যসূএ দিন যেখানে মূল বইয়ে অক্ষর গাঢ় নেই অথচ ইংরাজি উইকি উক্তিতে গাঢ় করে দেখানো হয়েছে? নিজের ইচ্ছা মতো অক্ষর গাঢ় করা হলে সেটি ঐ ব্যক্তির উক্তিকে বিকৃত করার সামিল। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ০৯:৫৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] এরকম প্রচুর আছে।আপাতত Adolf Hitler এর টা দেখুন।যে উক্তিগুলো উইকিতে গাঢ় করা সেগুলোর তথ্যসূত্র চেক করলেই দেখতে পাবেন, মূল তথ্যসূত্রে গাঢ় করা হয় নি। https://en.m.wikiquote.org/wiki/Adolf_Hitler [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১১:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :Adolf Hitler এ কিছু লাইন গাঢ় করাা হয়েছে দেখলাম। তবে বেছে বেছে অক্ষর কোথাও গাঢ় করা হয়নি। যদিও ওটাও ঠিক নয়। ব্যক্তির উক্তিকে উল্লিখিত বইয়ের মতন তাঁর বানান অনুসারে হুবহু লেখা উচিৎ। নচেৎ উক্তিটিকে প্রামাণ্য বলে ধরা হবে কীভাবে? [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১২:১৯, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] বেছে বেছে শব্দও গাঢ় করা আছে। শুধু Adolf Hitler না। এরকম প্রচুর জায়গায় গাঢ় করা আছে।আর এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। উক্তিকে তথ্যসূত্রের মতোই রাখা হচ্ছে।এখানে শব্দগত বা অর্থগত কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হচ্ছে না।তাই উক্তির বিকৃতি হচ্ছে না।মূল পয়েন্টগুলো যেন সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় তাই গাঢ় করা হয়।গাঢ় করার ব্যাপারে নিষেধ বা গাঢ় করলে উক্তি বিকৃত হয় এমন কোথাও দেখিনি। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৭:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করার কোন যুক্তি নেই। তাহলে তো যে কেউ যেকোন শব্দকে নিজের মতো করে গাঢ় করে দেবে। এক্ষেত্রে বক্তা হয়তো ঐ শব্দে আদতে জোরই দেননি। এগুলি উক্তি বিকৃতির সামিল বলেই আমার মনে হয়। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) ::নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করা হয় না।উইকিউক্তিতে যারা উক্তি যোগ করে তারা কনটেক্সট বুঝেই মূল টপিকগুলো হাইলাইট করার জন্য বোল্ড করে।আর link সহ তথ্যসূত্র তো সাথে দেওয়াই থাকে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :::সুধী, আমার সমান্য পর্যবেক্ষণে যা মনে হল, আপনার [[:en:Adolf_Hitler|উল্লেখিত পৃষ্ঠাটিতে]] এবং অন্য আরো কিছু পৃষ্ঠাতে গাঢ় লেখা আছে ঠিকই কিন্তু তা অনেক গুলো উক্তির সূচি থেকে কিছু জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত উক্তিগুলো তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং উক্তির মধ্য থেকে বেছে বেছে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা আমি ঠিক লক্ষ্য করিনি। তাছাড়া ইংরেজি উইকিউক্তির প্রসঙ্গ যেহেতু উঠলই তাহলে সেখানেও এই নিয়ে গাঢ় লেখার ব্যবহার নিয়ে কোনো ঐক্যমত নেই, [[:en:wq:Guide_to_layout#Boldface|এখানে দেখুন]]। গাঢ় লেখা সেই নির্দিষ্ট বাছাই করা শব্দের প্রাধান্যতা অন্য গুলোর তুলনায় বেশি হিসেবে তুলে ধরে, যদি বাস্তবিক উৎসে এমনটা ভাবে না হয়ে থাকে তাহলে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:Asked42|Asked42]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Asked42|আলাপ]]) ২০:৫১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) == মুহাম্মদ জাফর ইকবাল == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[মুহাম্মদ জাফর ইকবাল]] পাতা তৈরি করে আর একটি উক্তি ছাড়া আর উক্তি যোগ করেন নি। আপনি এটি নিয়ে কাজ করতে না চাইলে, আপনি কী এটি ছেড়ে দিতে চান? দিলে অন্য জনকে এটি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া যায়। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৫:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] না, ধীরে ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) :উক্তি যোগের জন্য ধন্যবাদ। তবে লক্ষ্য করুন গুডরিডস কোনও ভালো উৎস নয়। এটি যাচাইযোগ্য নয়। :দয়া করে মূল উৎস দিন। কোনো পত্রিকা/বই থেকে উক্তি নিলে পত্রিকার/বইয়ের নাম, তারিখ, পৃষ্ঠা নং দিন। তার লিখিত কোন রচনা থেকে উক্তি নিলে রচনার নাম, পৃষ্ঠা নম্বর দিন। অনলাইন পত্রিকা থেকে উক্তি নিলে সেই লিঙ্ক দিন। অনুগ্রহ করে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নৌকা]] পাতাটি দেখুন, সেখানে কীভাবে মূল উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৪৮, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) == ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]] পাতা তৈরি করে একটিও উক্তি যোগ করেন নি। দয়া করে উক্তি যোগ করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ১৯:৪৪, ৪ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো অনেকগুলো পাতা আছে যেগুলোতে এখনো উক্তি যোগ করা হয়নি। তবে হ্যাঁ এসব পাতায় ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১২:০২, ৫ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উৎস ঠিক করা উচিত == শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার [https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 জমা দেওয়া] অনেকগুলি পাতা গ্রহণ করা যাচ্ছে না কারণ সেগুলিতে উৎস নেই কিংবা সঠিকভাবে দেননি। অনেকগুলিতে মূল লেখা, বই, পৃষ্ঠা নংঙের বদলে গুডরিজ কিংবা ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত "অমুকের সেরা উক্তি" জাতীয় লিঙ্ক উৎস হিসেবে দিয়েছেন। দয়া করে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশের আগে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলি ঠিক করে আমাকে জানান। আমি পুনঃপর্যালোচনা করব। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ০৩:২০, ৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৩, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :কার্ল সেগান ও আর্কিমিডিস এই দুটো নিবন্ধ পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ করা হলো। :এছাড়াও দেশপ্রেম,গণিত,ইতিহাস,ঘুম,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ কয়েকটা নিবন্ধের উৎস ঠিক করা হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:১১, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান পাতায় শামসুর রহমান নামক দুটি পাতা রয়েছে। এছাড়াও দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম নামক দুটি পাতাও আছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৪৩, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::শামসুর রহমান একবার আছে। দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম দুইবার আছে, এটা নজরে আছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২০:৫৭, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] :::সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় :::সমরেশ মজুমদার ::: দেশপ্রেম ::: ইতিহাস ::: ঘুম ::: সংস্কৃতি :::এই নিবন্ধগুলো পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করা হলো। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৫৬, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::[[শামসুর রহমান]] ও [[শামসুর রাহমান]] এই দুটি নিবন্ধ একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২১:০১, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার "দেশপ্রেম" নামক নিবন্ধের শব্দসংখ্যা ০ দেওয়া হয়েছে। আর "দূর্নীতি" নিবন্ধে শব্দসংখ্যা ০ হওয়ার কথা না? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:২৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::::করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৬:৪৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার কোনো বিকাশ নম্বর নেই। এক্ষেত্রে দোকানের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতে হবে। দোকানে গিয়ে যদি আমি আপনাকে বিকাশ নম্বরটি জানাই তাহলে পাঠাতে পারবেন? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:০৬, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::পারব। ফরম পূরণ করে সেখানে যে নম্বরে পাঠাতে হবে সেই নম্বর দিন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৮:৩৩, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি সরানো হয়েছে == প্রিয়, আপনি [[পিনাকী ভট্টাচার্য]] নিবন্ধ নিয়ে কাজ করেছিলেন। তবে কয়েকটি উক্তি দৈনিক হক কথা নামক ওয়েবসাইট থেকে ছিল, যার গ্রহণযোগ্যতা প্রামাণ্য হতে পারছেনা। সেজন্য সেসব উক্তি সরানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি বুঝতে পারছেন। ধন্যবাদ! ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ১৮:৪৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আমন্ত্রণ == আসসালামু আলাইকুম, আপনি এই এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ পর্যালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী? ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ২১:২৫, ৯ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) :ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার আমন্ত্রণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আগ্রহী হলেও ব্যস্ততার কারণে পর্যালোচক হওয়ার দায়িত্বটি আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব হবে না। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মে মাসের প্রথম কয়েকদিন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে উইকিতে খুব একটা সক্রিয় থাকতে পারব না। ফলে পর্যালোচকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:৪০, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ১৫:৪৬, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) == [[নবারুণ ভট্টাচার্য]] == উক্তিগুলোতে যথাযথ তথ্যসূত্র দেননি।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৭, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[জ্যোতি বসু]] == পাতার কাঠামো-বিন্যাস ঠিক নেই। উক্তিগুলোতে থাকা তথ্যসূত্র যাচাইযোগ্য নয়।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৮, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] নবারুণ ভট্টাচার্য, জ্যোতি বসু, অভিজিৎ রায় — এই তিনটি পাতা আমি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫|উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]] এর জন্য সাবমিট করিনি, যেহেতু তিনটি পাতাই ২০২৪ সালে তৈরি করা। বাংলা উইকিউক্তিতে ৬ মে তারিখে আমি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছিলাম। কিন্তু চেকমেটে গিয়ে দেখতে পাই, এই তিনটি পাতাই ৭ মে তারিখে আমার নামে প্রতিযোগিতার জন্য সাবমিট করা হয়েছে। "Ei to ami akash" নামক একজন ব্যবহারকারী এই পাতাগুলোতে সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। সম্ভবত তিনিই এই পাতাগুলো উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর জন্য জমা দিয়েছেন। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:৫২, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি। বার্তা টুলের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা। তাই আপনার আলাপ পাতাতেই পৌঁছেছে। তারিখ খেয়াল করা হয়নি বলে দুঃখিত। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২০:৪৩, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 == Dear ফারদিন Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms. To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you. * '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here] * '''Deadline to submit:''' 31 May 2025 It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future. Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns! Warm regards,<br/> ''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == Congratulations! You’re Among the Top 25 Contributors of Wiki Loves Ramadan 2025 🎉🌙 == Dear ফারদিন, We’re excited to inform you that you have been selected as one of the '''Top 25 Contributors''' of the [[m:Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]] international campaign! Your remarkable dedication and contributions truly stood out among hundreds of participants across the globe. To help us document your experience and improve future editions, we kindly request you to take a moment to fill out our short feedback form: 📋 Feedback Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform After completing the feedback, please request your Top 25 Digital Certificate of Appreciation using this form: 📄 Top 25 Certificate Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepqMajvCTl3XA1xbFbTsPDJO_yxCro4mdU9UzA5T1GfLWl2w/viewform Thank you once again for your contributions to this campaign. We are proud to have you as part of the Wiki Loves Ramadan community. Warm regards,<br/> Wiki Loves Ramadan International Team <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/2025_TOP_25&oldid=28893400-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == যোগাযোগ == ভাই আসসালামু আলাইকুম, আপনার সাথে কি যোগাযোগ করা যাবে? WIKIPEDIA সম্পর্কে কিছু জানার ছিল, WhatsApp,phone,বা Facebook আইডি। [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার টেলিগ্রাম আছে? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৯:৪৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) ::জ্বি আমি Telegram ব্যাবহার করি। ::[https://t.me/aleeeeeeeeef আমার Telegram একাউন্ট।] [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩১, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আহ্‌বান == সুধি, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলা উইকিউক্তির বার্ষিক '''উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬''' অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত প্রতিযোগিতায় আপনাকে পর্যালোচক দলের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনি কি পর্যালোচক হতে ইচ্ছুক? ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৪০, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] আপনার আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। তবে বিভিন্ন কারণে আমি এইবারও পর্যালোচক হতে পারছি না। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৫:২০, ২৬ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত পাতা; উক্তি প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পাতা অনুবাদ করতে ইচ্ছুক এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৭:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) nnmpe8x8cm3xtlxgw7myw1enza8c4u3 76877 76866 2026-04-15T08:01:39Z ফারদিন 52 /* ভীমরাও রামজি আম্বেদকর পাতার দ্রুত অপসারণ প্রস্তাবনা */ উত্তর 76877 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, ফারদিন, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! —[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫২, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] মূল পয়েন্টগুলো highlight করার জন্য গাঢ় করা হয়। এমন তো অনেক দেখেছি যেখানে তথ্যসূত্রে গাঢ় অক্ষরে লেখা না থাকলেও উইকিউক্তিতে গাঢ় করা হয়েছে। English wiki তেও এমন অনেক দেখেছি। তাহলে তো Eng wiki সহ এমনভাবে যত জায়গায় গাঢ় করা আছে সব জায়গায় শব্দগুলোকে গাঢ় থেকে হালকা করে দিতে হবে।নাকি? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৮:০২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :তথ্যসূএ দিন যেখানে মূল বইয়ে অক্ষর গাঢ় নেই অথচ ইংরাজি উইকি উক্তিতে গাঢ় করে দেখানো হয়েছে? নিজের ইচ্ছা মতো অক্ষর গাঢ় করা হলে সেটি ঐ ব্যক্তির উক্তিকে বিকৃত করার সামিল। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ০৯:৫৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] এরকম প্রচুর আছে।আপাতত Adolf Hitler এর টা দেখুন।যে উক্তিগুলো উইকিতে গাঢ় করা সেগুলোর তথ্যসূত্র চেক করলেই দেখতে পাবেন, মূল তথ্যসূত্রে গাঢ় করা হয় নি। https://en.m.wikiquote.org/wiki/Adolf_Hitler [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১১:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :Adolf Hitler এ কিছু লাইন গাঢ় করাা হয়েছে দেখলাম। তবে বেছে বেছে অক্ষর কোথাও গাঢ় করা হয়নি। যদিও ওটাও ঠিক নয়। ব্যক্তির উক্তিকে উল্লিখিত বইয়ের মতন তাঁর বানান অনুসারে হুবহু লেখা উচিৎ। নচেৎ উক্তিটিকে প্রামাণ্য বলে ধরা হবে কীভাবে? [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১২:১৯, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] বেছে বেছে শব্দও গাঢ় করা আছে। শুধু Adolf Hitler না। এরকম প্রচুর জায়গায় গাঢ় করা আছে।আর এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। উক্তিকে তথ্যসূত্রের মতোই রাখা হচ্ছে।এখানে শব্দগত বা অর্থগত কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হচ্ছে না।তাই উক্তির বিকৃতি হচ্ছে না।মূল পয়েন্টগুলো যেন সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় তাই গাঢ় করা হয়।গাঢ় করার ব্যাপারে নিষেধ বা গাঢ় করলে উক্তি বিকৃত হয় এমন কোথাও দেখিনি। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৭:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করার কোন যুক্তি নেই। তাহলে তো যে কেউ যেকোন শব্দকে নিজের মতো করে গাঢ় করে দেবে। এক্ষেত্রে বক্তা হয়তো ঐ শব্দে আদতে জোরই দেননি। এগুলি উক্তি বিকৃতির সামিল বলেই আমার মনে হয়। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) ::নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করা হয় না।উইকিউক্তিতে যারা উক্তি যোগ করে তারা কনটেক্সট বুঝেই মূল টপিকগুলো হাইলাইট করার জন্য বোল্ড করে।আর link সহ তথ্যসূত্র তো সাথে দেওয়াই থাকে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :::সুধী, আমার সমান্য পর্যবেক্ষণে যা মনে হল, আপনার [[:en:Adolf_Hitler|উল্লেখিত পৃষ্ঠাটিতে]] এবং অন্য আরো কিছু পৃষ্ঠাতে গাঢ় লেখা আছে ঠিকই কিন্তু তা অনেক গুলো উক্তির সূচি থেকে কিছু জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত উক্তিগুলো তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং উক্তির মধ্য থেকে বেছে বেছে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা আমি ঠিক লক্ষ্য করিনি। তাছাড়া ইংরেজি উইকিউক্তির প্রসঙ্গ যেহেতু উঠলই তাহলে সেখানেও এই নিয়ে গাঢ় লেখার ব্যবহার নিয়ে কোনো ঐক্যমত নেই, [[:en:wq:Guide_to_layout#Boldface|এখানে দেখুন]]। গাঢ় লেখা সেই নির্দিষ্ট বাছাই করা শব্দের প্রাধান্যতা অন্য গুলোর তুলনায় বেশি হিসেবে তুলে ধরে, যদি বাস্তবিক উৎসে এমনটা ভাবে না হয়ে থাকে তাহলে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:Asked42|Asked42]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Asked42|আলাপ]]) ২০:৫১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) == মুহাম্মদ জাফর ইকবাল == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[মুহাম্মদ জাফর ইকবাল]] পাতা তৈরি করে আর একটি উক্তি ছাড়া আর উক্তি যোগ করেন নি। আপনি এটি নিয়ে কাজ করতে না চাইলে, আপনি কী এটি ছেড়ে দিতে চান? দিলে অন্য জনকে এটি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া যায়। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৫:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] না, ধীরে ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) :উক্তি যোগের জন্য ধন্যবাদ। তবে লক্ষ্য করুন গুডরিডস কোনও ভালো উৎস নয়। এটি যাচাইযোগ্য নয়। :দয়া করে মূল উৎস দিন। কোনো পত্রিকা/বই থেকে উক্তি নিলে পত্রিকার/বইয়ের নাম, তারিখ, পৃষ্ঠা নং দিন। তার লিখিত কোন রচনা থেকে উক্তি নিলে রচনার নাম, পৃষ্ঠা নম্বর দিন। অনলাইন পত্রিকা থেকে উক্তি নিলে সেই লিঙ্ক দিন। অনুগ্রহ করে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নৌকা]] পাতাটি দেখুন, সেখানে কীভাবে মূল উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৪৮, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) == ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]] পাতা তৈরি করে একটিও উক্তি যোগ করেন নি। দয়া করে উক্তি যোগ করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ১৯:৪৪, ৪ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো অনেকগুলো পাতা আছে যেগুলোতে এখনো উক্তি যোগ করা হয়নি। তবে হ্যাঁ এসব পাতায় ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১২:০২, ৫ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উৎস ঠিক করা উচিত == শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার [https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 জমা দেওয়া] অনেকগুলি পাতা গ্রহণ করা যাচ্ছে না কারণ সেগুলিতে উৎস নেই কিংবা সঠিকভাবে দেননি। অনেকগুলিতে মূল লেখা, বই, পৃষ্ঠা নংঙের বদলে গুডরিজ কিংবা ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত "অমুকের সেরা উক্তি" জাতীয় লিঙ্ক উৎস হিসেবে দিয়েছেন। দয়া করে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশের আগে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলি ঠিক করে আমাকে জানান। আমি পুনঃপর্যালোচনা করব। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ০৩:২০, ৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৩, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :কার্ল সেগান ও আর্কিমিডিস এই দুটো নিবন্ধ পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ করা হলো। :এছাড়াও দেশপ্রেম,গণিত,ইতিহাস,ঘুম,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ কয়েকটা নিবন্ধের উৎস ঠিক করা হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:১১, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান পাতায় শামসুর রহমান নামক দুটি পাতা রয়েছে। এছাড়াও দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম নামক দুটি পাতাও আছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৪৩, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::শামসুর রহমান একবার আছে। দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম দুইবার আছে, এটা নজরে আছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২০:৫৭, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] :::সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় :::সমরেশ মজুমদার ::: দেশপ্রেম ::: ইতিহাস ::: ঘুম ::: সংস্কৃতি :::এই নিবন্ধগুলো পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করা হলো। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৫৬, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::[[শামসুর রহমান]] ও [[শামসুর রাহমান]] এই দুটি নিবন্ধ একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২১:০১, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার "দেশপ্রেম" নামক নিবন্ধের শব্দসংখ্যা ০ দেওয়া হয়েছে। আর "দূর্নীতি" নিবন্ধে শব্দসংখ্যা ০ হওয়ার কথা না? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:২৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::::করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৬:৪৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার কোনো বিকাশ নম্বর নেই। এক্ষেত্রে দোকানের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতে হবে। দোকানে গিয়ে যদি আমি আপনাকে বিকাশ নম্বরটি জানাই তাহলে পাঠাতে পারবেন? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:০৬, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::পারব। ফরম পূরণ করে সেখানে যে নম্বরে পাঠাতে হবে সেই নম্বর দিন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৮:৩৩, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি সরানো হয়েছে == প্রিয়, আপনি [[পিনাকী ভট্টাচার্য]] নিবন্ধ নিয়ে কাজ করেছিলেন। তবে কয়েকটি উক্তি দৈনিক হক কথা নামক ওয়েবসাইট থেকে ছিল, যার গ্রহণযোগ্যতা প্রামাণ্য হতে পারছেনা। সেজন্য সেসব উক্তি সরানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি বুঝতে পারছেন। ধন্যবাদ! ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ১৮:৪৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আমন্ত্রণ == আসসালামু আলাইকুম, আপনি এই এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ পর্যালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী? ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ২১:২৫, ৯ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) :ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার আমন্ত্রণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আগ্রহী হলেও ব্যস্ততার কারণে পর্যালোচক হওয়ার দায়িত্বটি আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব হবে না। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মে মাসের প্রথম কয়েকদিন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে উইকিতে খুব একটা সক্রিয় থাকতে পারব না। ফলে পর্যালোচকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:৪০, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ১৫:৪৬, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) == [[নবারুণ ভট্টাচার্য]] == উক্তিগুলোতে যথাযথ তথ্যসূত্র দেননি।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৭, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[জ্যোতি বসু]] == পাতার কাঠামো-বিন্যাস ঠিক নেই। উক্তিগুলোতে থাকা তথ্যসূত্র যাচাইযোগ্য নয়।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৮, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] নবারুণ ভট্টাচার্য, জ্যোতি বসু, অভিজিৎ রায় — এই তিনটি পাতা আমি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫|উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]] এর জন্য সাবমিট করিনি, যেহেতু তিনটি পাতাই ২০২৪ সালে তৈরি করা। বাংলা উইকিউক্তিতে ৬ মে তারিখে আমি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছিলাম। কিন্তু চেকমেটে গিয়ে দেখতে পাই, এই তিনটি পাতাই ৭ মে তারিখে আমার নামে প্রতিযোগিতার জন্য সাবমিট করা হয়েছে। "Ei to ami akash" নামক একজন ব্যবহারকারী এই পাতাগুলোতে সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। সম্ভবত তিনিই এই পাতাগুলো উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর জন্য জমা দিয়েছেন। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:৫২, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি। বার্তা টুলের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা। তাই আপনার আলাপ পাতাতেই পৌঁছেছে। তারিখ খেয়াল করা হয়নি বলে দুঃখিত। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২০:৪৩, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 == Dear ফারদিন Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms. To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you. * '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here] * '''Deadline to submit:''' 31 May 2025 It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future. Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns! Warm regards,<br/> ''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == Congratulations! You’re Among the Top 25 Contributors of Wiki Loves Ramadan 2025 🎉🌙 == Dear ফারদিন, We’re excited to inform you that you have been selected as one of the '''Top 25 Contributors''' of the [[m:Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]] international campaign! Your remarkable dedication and contributions truly stood out among hundreds of participants across the globe. To help us document your experience and improve future editions, we kindly request you to take a moment to fill out our short feedback form: 📋 Feedback Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform After completing the feedback, please request your Top 25 Digital Certificate of Appreciation using this form: 📄 Top 25 Certificate Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepqMajvCTl3XA1xbFbTsPDJO_yxCro4mdU9UzA5T1GfLWl2w/viewform Thank you once again for your contributions to this campaign. We are proud to have you as part of the Wiki Loves Ramadan community. Warm regards,<br/> Wiki Loves Ramadan International Team <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/2025_TOP_25&oldid=28893400-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == যোগাযোগ == ভাই আসসালামু আলাইকুম, আপনার সাথে কি যোগাযোগ করা যাবে? WIKIPEDIA সম্পর্কে কিছু জানার ছিল, WhatsApp,phone,বা Facebook আইডি। [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার টেলিগ্রাম আছে? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৯:৪৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) ::জ্বি আমি Telegram ব্যাবহার করি। ::[https://t.me/aleeeeeeeeef আমার Telegram একাউন্ট।] [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩১, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আহ্‌বান == সুধি, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলা উইকিউক্তির বার্ষিক '''উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬''' অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত প্রতিযোগিতায় আপনাকে পর্যালোচক দলের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনি কি পর্যালোচক হতে ইচ্ছুক? ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৪০, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] আপনার আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। তবে বিভিন্ন কারণে আমি এইবারও পর্যালোচক হতে পারছি না। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৫:২০, ২৬ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত পাতা; উক্তি প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পাতা অনুবাদ করতে ইচ্ছুক এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৭:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] এই পাতাটিকে অপসারণ করা যেতে পারে। কিন্তু উক্তি প্রতিযোগিতার জন্য নতুন পাতা তৈরির উদ্দেশ্যটি সফল নাও হতে পারে। কারণ উইকিউক্তিতে ভীমরাও রামজি আম্বেদকর সম্পর্কে দুটি পাতা আছে। এই পাতাটি ২০২৪ সালে তৈরি। কিন্তু এই পাতাটি তৈরিরও আগে ২০২২ সালে [[ভীমরাও আম্বেডকর]] নামক পাতাটি তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু [[ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] পাতাটি পরবর্তীতে তৈরি করা হয়েছে তাই এটিকে অপসারণ করে [[ভীমরাও আম্বেডকর]] পাতাটিকে ভীমরাও রামজি আম্বেদকর নামে স্থানান্তর করে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৮:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 11dzl1dkvxpswdirc07lvjxf5sto1fw 76882 76877 2026-04-15T08:22:08Z ARI 356 /* ভীমরাও রামজি আম্বেদকর পাতার দ্রুত অপসারণ প্রস্তাবনা */ উত্তর 76882 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, ফারদিন, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! —[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫২, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] মূল পয়েন্টগুলো highlight করার জন্য গাঢ় করা হয়। এমন তো অনেক দেখেছি যেখানে তথ্যসূত্রে গাঢ় অক্ষরে লেখা না থাকলেও উইকিউক্তিতে গাঢ় করা হয়েছে। English wiki তেও এমন অনেক দেখেছি। তাহলে তো Eng wiki সহ এমনভাবে যত জায়গায় গাঢ় করা আছে সব জায়গায় শব্দগুলোকে গাঢ় থেকে হালকা করে দিতে হবে।নাকি? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৮:০২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :তথ্যসূএ দিন যেখানে মূল বইয়ে অক্ষর গাঢ় নেই অথচ ইংরাজি উইকি উক্তিতে গাঢ় করে দেখানো হয়েছে? নিজের ইচ্ছা মতো অক্ষর গাঢ় করা হলে সেটি ঐ ব্যক্তির উক্তিকে বিকৃত করার সামিল। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ০৯:৫৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] এরকম প্রচুর আছে।আপাতত Adolf Hitler এর টা দেখুন।যে উক্তিগুলো উইকিতে গাঢ় করা সেগুলোর তথ্যসূত্র চেক করলেই দেখতে পাবেন, মূল তথ্যসূত্রে গাঢ় করা হয় নি। https://en.m.wikiquote.org/wiki/Adolf_Hitler [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১১:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :Adolf Hitler এ কিছু লাইন গাঢ় করাা হয়েছে দেখলাম। তবে বেছে বেছে অক্ষর কোথাও গাঢ় করা হয়নি। যদিও ওটাও ঠিক নয়। ব্যক্তির উক্তিকে উল্লিখিত বইয়ের মতন তাঁর বানান অনুসারে হুবহু লেখা উচিৎ। নচেৎ উক্তিটিকে প্রামাণ্য বলে ধরা হবে কীভাবে? [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১২:১৯, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] বেছে বেছে শব্দও গাঢ় করা আছে। শুধু Adolf Hitler না। এরকম প্রচুর জায়গায় গাঢ় করা আছে।আর এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। উক্তিকে তথ্যসূত্রের মতোই রাখা হচ্ছে।এখানে শব্দগত বা অর্থগত কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হচ্ছে না।তাই উক্তির বিকৃতি হচ্ছে না।মূল পয়েন্টগুলো যেন সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় তাই গাঢ় করা হয়।গাঢ় করার ব্যাপারে নিষেধ বা গাঢ় করলে উক্তি বিকৃত হয় এমন কোথাও দেখিনি। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৭:৩০, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করার কোন যুক্তি নেই। তাহলে তো যে কেউ যেকোন শব্দকে নিজের মতো করে গাঢ় করে দেবে। এক্ষেত্রে বক্তা হয়তো ঐ শব্দে আদতে জোরই দেননি। এগুলি উক্তি বিকৃতির সামিল বলেই আমার মনে হয়। [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee|Salil Kumar Mukherjee]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Salil Kumar Mukherjee|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) ::নিজের মতো করে বেছে বেছে শব্দ গাঢ় করা হয় না।উইকিউক্তিতে যারা উক্তি যোগ করে তারা কনটেক্সট বুঝেই মূল টপিকগুলো হাইলাইট করার জন্য বোল্ড করে।আর link সহ তথ্যসূত্র তো সাথে দেওয়াই থাকে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) :::সুধী, আমার সমান্য পর্যবেক্ষণে যা মনে হল, আপনার [[:en:Adolf_Hitler|উল্লেখিত পৃষ্ঠাটিতে]] এবং অন্য আরো কিছু পৃষ্ঠাতে গাঢ় লেখা আছে ঠিকই কিন্তু তা অনেক গুলো উক্তির সূচি থেকে কিছু জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত উক্তিগুলো তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং উক্তির মধ্য থেকে বেছে বেছে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা আমি ঠিক লক্ষ্য করিনি। তাছাড়া ইংরেজি উইকিউক্তির প্রসঙ্গ যেহেতু উঠলই তাহলে সেখানেও এই নিয়ে গাঢ় লেখার ব্যবহার নিয়ে কোনো ঐক্যমত নেই, [[:en:wq:Guide_to_layout#Boldface|এখানে দেখুন]]। গাঢ় লেখা সেই নির্দিষ্ট বাছাই করা শব্দের প্রাধান্যতা অন্য গুলোর তুলনায় বেশি হিসেবে তুলে ধরে, যদি বাস্তবিক উৎসে এমনটা ভাবে না হয়ে থাকে তাহলে নির্দিষ্ট শব্দ গাঢ় করা অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:Asked42|Asked42]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Asked42|আলাপ]]) ২০:৫১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ (ইউটিসি) == মুহাম্মদ জাফর ইকবাল == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[মুহাম্মদ জাফর ইকবাল]] পাতা তৈরি করে আর একটি উক্তি ছাড়া আর উক্তি যোগ করেন নি। আপনি এটি নিয়ে কাজ করতে না চাইলে, আপনি কী এটি ছেড়ে দিতে চান? দিলে অন্য জনকে এটি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া যায়। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৫:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) @[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] না, ধীরে ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:৪২, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) :উক্তি যোগের জন্য ধন্যবাদ। তবে লক্ষ্য করুন গুডরিডস কোনও ভালো উৎস নয়। এটি যাচাইযোগ্য নয়। :দয়া করে মূল উৎস দিন। কোনো পত্রিকা/বই থেকে উক্তি নিলে পত্রিকার/বইয়ের নাম, তারিখ, পৃষ্ঠা নং দিন। তার লিখিত কোন রচনা থেকে উক্তি নিলে রচনার নাম, পৃষ্ঠা নম্বর দিন। অনলাইন পত্রিকা থেকে উক্তি নিলে সেই লিঙ্ক দিন। অনুগ্রহ করে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নৌকা]] পাতাটি দেখুন, সেখানে কীভাবে মূল উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৪৮, ১১ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) == ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় == শুভেচ্ছা নিন। আপনি [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]] পাতা তৈরি করে একটিও উক্তি যোগ করেন নি। দয়া করে উক্তি যোগ করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ১৯:৪৪, ৪ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো অনেকগুলো পাতা আছে যেগুলোতে এখনো উক্তি যোগ করা হয়নি। তবে হ্যাঁ এসব পাতায় ধীরে উক্তি যোগ করা হবে। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১২:০২, ৫ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উৎস ঠিক করা উচিত == শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার [https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 জমা দেওয়া] অনেকগুলি পাতা গ্রহণ করা যাচ্ছে না কারণ সেগুলিতে উৎস নেই কিংবা সঠিকভাবে দেননি। অনেকগুলিতে মূল লেখা, বই, পৃষ্ঠা নংঙের বদলে গুডরিজ কিংবা ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত "অমুকের সেরা উক্তি" জাতীয় লিঙ্ক উৎস হিসেবে দিয়েছেন। দয়া করে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশের আগে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলি ঠিক করে আমাকে জানান। আমি পুনঃপর্যালোচনা করব। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ০৩:২০, ৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৩, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :কার্ল সেগান ও আর্কিমিডিস এই দুটো নিবন্ধ পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ করা হলো। :এছাড়াও দেশপ্রেম,গণিত,ইতিহাস,ঘুম,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ কয়েকটা নিবন্ধের উৎস ঠিক করা হচ্ছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:১১, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান পাতায় শামসুর রহমান নামক দুটি পাতা রয়েছে। এছাড়াও দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম নামক দুটি পাতাও আছে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৪৩, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::শামসুর রহমান একবার আছে। দেশপ্রেম ও স্বদেশপ্রেম দুইবার আছে, এটা নজরে আছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২০:৫৭, ১০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] :::সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় :::সমরেশ মজুমদার ::: দেশপ্রেম ::: ইতিহাস ::: ঘুম ::: সংস্কৃতি :::এই নিবন্ধগুলো পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করা হলো। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২০:৫৬, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::[[শামসুর রহমান]] ও [[শামসুর রাহমান]] এই দুটি নিবন্ধ একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ২১:০১, ১১ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার "দেশপ্রেম" নামক নিবন্ধের শব্দসংখ্যা ০ দেওয়া হয়েছে। আর "দূর্নীতি" নিবন্ধে শব্দসংখ্যা ০ হওয়ার কথা না? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:২৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::::করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৬:৪৩, ১৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় ফারদিন, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমার কোনো বিকাশ নম্বর নেই। এক্ষেত্রে দোকানের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতে হবে। দোকানে গিয়ে যদি আমি আপনাকে বিকাশ নম্বরটি জানাই তাহলে পাঠাতে পারবেন? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৮:০৬, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::পারব। ফরম পূরণ করে সেখানে যে নম্বরে পাঠাতে হবে সেই নম্বর দিন। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৮:৩৩, ২০ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি সরানো হয়েছে == প্রিয়, আপনি [[পিনাকী ভট্টাচার্য]] নিবন্ধ নিয়ে কাজ করেছিলেন। তবে কয়েকটি উক্তি দৈনিক হক কথা নামক ওয়েবসাইট থেকে ছিল, যার গ্রহণযোগ্যতা প্রামাণ্য হতে পারছেনা। সেজন্য সেসব উক্তি সরানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি বুঝতে পারছেন। ধন্যবাদ! ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ১৮:৪৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আমন্ত্রণ == আসসালামু আলাইকুম, আপনি এই এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ পর্যালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী? ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ২১:২৫, ৯ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) :ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার আমন্ত্রণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আগ্রহী হলেও ব্যস্ততার কারণে পর্যালোচক হওয়ার দায়িত্বটি আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব হবে না। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মে মাসের প্রথম কয়েকদিন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে উইকিতে খুব একটা সক্রিয় থাকতে পারব না। ফলে পর্যালোচকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১০:৪০, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#FBB117;color:#7E2217">MS Sakib&nbsp;</b>]][[User talk:MS Sakib|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ১৫:৪৬, ১০ মার্চ ২০২৫ (ইউটিসি) == [[নবারুণ ভট্টাচার্য]] == উক্তিগুলোতে যথাযথ তথ্যসূত্র দেননি।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৭, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[জ্যোতি বসু]] == পাতার কাঠামো-বিন্যাস ঠিক নেই। উক্তিগুলোতে থাকা তথ্যসূত্র যাচাইযোগ্য নয়।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৩৮, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] নবারুণ ভট্টাচার্য, জ্যোতি বসু, অভিজিৎ রায় — এই তিনটি পাতা আমি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫|উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]] এর জন্য সাবমিট করিনি, যেহেতু তিনটি পাতাই ২০২৪ সালে তৈরি করা। বাংলা উইকিউক্তিতে ৬ মে তারিখে আমি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছিলাম। কিন্তু চেকমেটে গিয়ে দেখতে পাই, এই তিনটি পাতাই ৭ মে তারিখে আমার নামে প্রতিযোগিতার জন্য সাবমিট করা হয়েছে। "Ei to ami akash" নামক একজন ব্যবহারকারী এই পাতাগুলোতে সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। সম্ভবত তিনিই এই পাতাগুলো উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর জন্য জমা দিয়েছেন। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ১৯:৫২, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি। বার্তা টুলের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা। তাই আপনার আলাপ পাতাতেই পৌঁছেছে। তারিখ খেয়াল করা হয়নি বলে দুঃখিত। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২০:৪৩, ৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 == Dear ফারদিন Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms. To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you. * '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here] * '''Deadline to submit:''' 31 May 2025 It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future. Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns! Warm regards,<br/> ''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == Congratulations! You’re Among the Top 25 Contributors of Wiki Loves Ramadan 2025 🎉🌙 == Dear ফারদিন, We’re excited to inform you that you have been selected as one of the '''Top 25 Contributors''' of the [[m:Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]] international campaign! Your remarkable dedication and contributions truly stood out among hundreds of participants across the globe. To help us document your experience and improve future editions, we kindly request you to take a moment to fill out our short feedback form: 📋 Feedback Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform After completing the feedback, please request your Top 25 Digital Certificate of Appreciation using this form: 📄 Top 25 Certificate Form: https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSepqMajvCTl3XA1xbFbTsPDJO_yxCro4mdU9UzA5T1GfLWl2w/viewform Thank you once again for your contributions to this campaign. We are proud to have you as part of the Wiki Loves Ramadan community. Warm regards,<br/> Wiki Loves Ramadan International Team <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/2025_TOP_25&oldid=28893400-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == যোগাযোগ == ভাই আসসালামু আলাইকুম, আপনার সাথে কি যোগাযোগ করা যাবে? WIKIPEDIA সম্পর্কে কিছু জানার ছিল, WhatsApp,phone,বা Facebook আইডি। [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার টেলিগ্রাম আছে? [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৯:৪৮, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) ::জ্বি আমি Telegram ব্যাবহার করি। ::[https://t.me/aleeeeeeeeef আমার Telegram একাউন্ট।] [[ব্যবহারকারী:Alifuddinsunny|Alifuddinsunny]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Alifuddinsunny|আলাপ]]) ১৬:৩১, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইউটিসি) == পর্যালোচক হওয়ার আহ্‌বান == সুধি, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলা উইকিউক্তির বার্ষিক '''উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬''' অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত প্রতিযোগিতায় আপনাকে পর্যালোচক দলের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনি কি পর্যালোচক হতে ইচ্ছুক? ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৪০, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] আপনার আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। তবে বিভিন্ন কারণে আমি এইবারও পর্যালোচক হতে পারছি না। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৫:২০, ২৬ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত পাতা; উক্তি প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পাতা অনুবাদ করতে ইচ্ছুক এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:ভীমরাও রামজি আম্বেদকর|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৭:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] এই পাতাটিকে অপসারণ করা যেতে পারে। কিন্তু উক্তি প্রতিযোগিতার জন্য নতুন পাতা তৈরির উদ্দেশ্যটি সফল নাও হতে পারে। কারণ উইকিউক্তিতে ভীমরাও রামজি আম্বেদকর সম্পর্কে দুটি পাতা আছে। এই পাতাটি ২০২৪ সালে তৈরি। কিন্তু এই পাতাটি তৈরিরও আগে ২০২২ সালে [[ভীমরাও আম্বেডকর]] নামক পাতাটি তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু [[ভীমরাও রামজি আম্বেদকর]] পাতাটি পরবর্তীতে তৈরি করা হয়েছে তাই এটিকে অপসারণ করে [[ভীমরাও আম্বেডকর]] পাতাটিকে ভীমরাও রামজি আম্বেদকর নামে স্থানান্তর করে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। [[ব্যবহারকারী:ফারদিন|ফারদিন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ফারদিন#top|আলাপ]]) ০৮:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::প্রতিযোগিতায় সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। যাইহোক, সিদ্ধান্তটি আমি @[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] প্রশাসক মহাশয়ের ওপর ছেড়ে দিলাম। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৮:২২, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) kap7nxugcyfisc4bctdgn2r0tchqbe4 ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid 3 752 76720 75611 2026-04-14T16:51:50Z Anaf Ibn Shahibul 4193 /* রবার্ট জে. শিলার */ উত্তর 76720 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, Tahmid, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! —[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫৪, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == [[আবুল কাশেম ফজলুল হক]] নিবন্ধটি সম্পর্কে == [[File:Usermsg.svg|25px|alt=|link=]] সুপ্রিয় Tahmid, আমি [[ব্যবহারকারী:Md.Farhan Mahmud|Md.Farhan Mahmud]]। উইকিউক্তিতে [[বিশেষ:অবদান/Tahmid|আপনার অবদানের]] জন্য ধন্যবাদ। আপনি ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে অর্থাৎ এই বার্তা প্রদানের '''<span style="color:red">২৯৪ দিন পূর্বে </span>''' '''আবুল কাশেম ফজলুল হক''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। যদিও উইকিউক্তিতে যে কেউই সম্পাদনা করতে পারে, কিন্তু উইকিউক্তিতে গঠনমূলক সম্পাদনার করার জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। <!--আমাদের [[উইকিপিডিয়া:স্বাগতম, নবাগত|স্বাগত পাতায়]] এই নীতিমালার বিস্তারিত ব্যখ্যা রয়েছে।--> নীতিমালা অনুসারে, আপনার তৈরি করা [[আবুল কাশেম ফজলুল হক|নিবন্ধটিতে]] একটি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমস্যাটি হলো: # নিবন্ধটিতে কোন [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|উৎস বা তথ্যসূত্র]] [[উইকিউক্তি:উৎসনির্দেশ|উদ্ধৃত]] নেই '''আপনি যা করতে পারেন:''' #[[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|তথ্যসূত্র প্রদান করে]] এই নিবন্ধটির মানোন্নয়ন করুন। তা নাহলে নিবন্ধটি অপসারণ করা হতে পারে এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা পরামর্শ জানাতে [[ব্যবহারকারী:Md.Farhan Mahmud|আমার আলাপ]] পাতায় বার্তা দিতে পারেন। উইকিউক্তিতে আপনার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ১৫:৫৯, ২৫ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৩, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==পরামর্শ== সূত্রের শিরোনাম সরাসরি অনুবাদের প্রয়োজন উইকিউক্তিতে নেই। প্রয়োজনে আপনি শিরোনামের অনুবাদ ইংরেজি শিরোনামের পাশাপাশি লিখে দিতে পারেন। অথবা বাংলা অক্ষরে ইংরেজি শিরোনাম লিখে নিতে পারেন। যেমন: South Korea Elects Yoon Suk-yeol as President, Bringing Back a Tougher Line on North Korea ➤ সাউথ কোরিয়া ইলেক্টস উন সুক-ইয়োল অ্যাস প্রেসিডেন্ট, ব্রিঙ্গিং ব্যাক অ্যা টাফার লাইন অন নর্থ কোরিয়া।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == আমি উইকি উক্তিতে নতুন তাই এখনও আমার বেশ কিছু জিনিস বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। [[মাল্টা]] এর উক্তিগুলো খুবই হাস্য বোধক বা একটু প্যাঁচানো কথাবার্তা থাকায় সেটি ফুটিয়ে তুলতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। তাই আমি ই আই দিয়ে অনুবাদ করিয়ে তারপর সেটি পুনরায় সংশোধন করি। কিন্তু ভুল বশত আমার সংশোধনের আগেই আমি এটি জমা দিয়ে ফেলেছি। এখন ঠিক করেছি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ রইল। [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == তানজিলা খান == ভাইয়া [[তানজিলা খান]] ভুক্তিতে বহি:সংযোগ আমার সম্পাদনা রিভাট করার কারণ? [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ৩১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :{{উত্তর|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} বাংলা উইকিপিডিয়ায় ''তানজিলা খান'' নিবন্ধটি নেই। বাংলা উইকিপিডিয়ায় সেসব নিবন্ধ ইতিমধ্যে বিদ্যমান, কেবল সেসব নিবন্ধেরই বহিঃসংযোগ দিতে হয়। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid#top|আলাপ]]) ০৯:২৪, ৩১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রবার্ট জে. শিলার == [[রবার্ট জে. শিলার]] নিবন্ধটি যান্ত্রিক ছিল আমি সংশোধন করেছি। পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ করছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:২৮, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Tahmid|Tahmid]] এটির কি কোনো সমস্যা আছে। আপনি তো এখনো গ্রহণ করলেন না বা কিছু বললেনও না? — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৬:৫১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ar4n6vz1tvvdngq1irdbq64djg2d77z 76721 76720 2026-04-14T16:54:39Z Tahmid 14 /* রবার্ট জে. শিলার */ উত্তর 76721 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == সুপ্রিয়, Tahmid, [[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! —[[ব্যবহারকারী:MdaNoman|MdaNoman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdaNoman|আলাপ]]) ১১:৫৪, ১১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == [[আবুল কাশেম ফজলুল হক]] নিবন্ধটি সম্পর্কে == [[File:Usermsg.svg|25px|alt=|link=]] সুপ্রিয় Tahmid, আমি [[ব্যবহারকারী:Md.Farhan Mahmud|Md.Farhan Mahmud]]। উইকিউক্তিতে [[বিশেষ:অবদান/Tahmid|আপনার অবদানের]] জন্য ধন্যবাদ। আপনি ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে অর্থাৎ এই বার্তা প্রদানের '''<span style="color:red">২৯৪ দিন পূর্বে </span>''' '''আবুল কাশেম ফজলুল হক''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। যদিও উইকিউক্তিতে যে কেউই সম্পাদনা করতে পারে, কিন্তু উইকিউক্তিতে গঠনমূলক সম্পাদনার করার জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। <!--আমাদের [[উইকিপিডিয়া:স্বাগতম, নবাগত|স্বাগত পাতায়]] এই নীতিমালার বিস্তারিত ব্যখ্যা রয়েছে।--> নীতিমালা অনুসারে, আপনার তৈরি করা [[আবুল কাশেম ফজলুল হক|নিবন্ধটিতে]] একটি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমস্যাটি হলো: # নিবন্ধটিতে কোন [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|উৎস বা তথ্যসূত্র]] [[উইকিউক্তি:উৎসনির্দেশ|উদ্ধৃত]] নেই '''আপনি যা করতে পারেন:''' #[[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|তথ্যসূত্র প্রদান করে]] এই নিবন্ধটির মানোন্নয়ন করুন। তা নাহলে নিবন্ধটি অপসারণ করা হতে পারে এ সম্পর্কে আপনার মতামত বা পরামর্শ জানাতে [[ব্যবহারকারী:Md.Farhan Mahmud|আমার আলাপ]] পাতায় বার্তা দিতে পারেন। উইকিউক্তিতে আপনার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ১৫:৫৯, ২৫ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৩, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় Tahmid, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==পরামর্শ== সূত্রের শিরোনাম সরাসরি অনুবাদের প্রয়োজন উইকিউক্তিতে নেই। প্রয়োজনে আপনি শিরোনামের অনুবাদ ইংরেজি শিরোনামের পাশাপাশি লিখে দিতে পারেন। অথবা বাংলা অক্ষরে ইংরেজি শিরোনাম লিখে নিতে পারেন। যেমন: South Korea Elects Yoon Suk-yeol as President, Bringing Back a Tougher Line on North Korea ➤ সাউথ কোরিয়া ইলেক্টস উন সুক-ইয়োল অ্যাস প্রেসিডেন্ট, ব্রিঙ্গিং ব্যাক অ্যা টাফার লাইন অন নর্থ কোরিয়া।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ == আমি উইকি উক্তিতে নতুন তাই এখনও আমার বেশ কিছু জিনিস বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। [[মাল্টা]] এর উক্তিগুলো খুবই হাস্য বোধক বা একটু প্যাঁচানো কথাবার্তা থাকায় সেটি ফুটিয়ে তুলতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। তাই আমি ই আই দিয়ে অনুবাদ করিয়ে তারপর সেটি পুনরায় সংশোধন করি। কিন্তু ভুল বশত আমার সংশোধনের আগেই আমি এটি জমা দিয়ে ফেলেছি। এখন ঠিক করেছি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ রইল। [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == তানজিলা খান == ভাইয়া [[তানজিলা খান]] ভুক্তিতে বহি:সংযোগ আমার সম্পাদনা রিভাট করার কারণ? [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ৩১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :{{উত্তর|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} বাংলা উইকিপিডিয়ায় ''তানজিলা খান'' নিবন্ধটি নেই। বাংলা উইকিপিডিয়ায় সেসব নিবন্ধ ইতিমধ্যে বিদ্যমান, কেবল সেসব নিবন্ধেরই বহিঃসংযোগ দিতে হয়। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid#top|আলাপ]]) ০৯:২৪, ৩১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রবার্ট জে. শিলার == [[রবার্ট জে. শিলার]] নিবন্ধটি যান্ত্রিক ছিল আমি সংশোধন করেছি। পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ করছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:২৮, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Tahmid|Tahmid]] এটির কি কোনো সমস্যা আছে। আপনি তো এখনো গ্রহণ করলেন না বা কিছু বললেনও না? — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৬:৫১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::{{উত্তর|Anaf Ibn Shahibul}} ২য় বার পর্যালোচনা এখনও করিনি। দ্রুতই পর্যালোচনা শেষ করে আপনাকে জানাব। [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid#top|আলাপ]]) ১৬:৫৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) pytm4y27fysoueumfscv26ax1xj3f6x টেমপ্লেট:Image other 10 1011 76821 8876 2026-04-15T04:54:25Z EmausBot 94 [[টেমপ্লেট:ফাইল অন্যান্য]] পাতায় করা দ্বিপুনর্নির্দেশনা ঠিক করেছে 76821 wikitext text/x-wiki #পুনর্নির্দেশ [[টেমপ্লেট:ফাইল অন্যান্য]] i8vipc9m9483g7au1g2is3gmrej28vh ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS 3 2704 76785 75204 2026-04-15T00:29:23Z Oindrojalik Watch 4169 /* পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে */ নতুন অনুচ্ছেদ 76785 wikitext text/x-wiki {{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে == [[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == সাহায্য প্রয়োজন == আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন। ::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] == সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি । :::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি == পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) : {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) == রো বনাম ওয়েড == পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে == এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে == [[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == বাবুলমিয়া == মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20015-50|&#126;2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 01924087544 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20544-24|&#126;2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [[আলফ্রেড নোবেল]] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য বিশেষভাবে জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে, ''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud Bin Zafr'' kt5o81ifp8sirmax0ffamy0ditsjsga 76786 76785 2026-04-15T00:47:27Z Oindrojalik Watch 4169 76786 wikitext text/x-wiki {{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে == [[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == সাহায্য প্রয়োজন == আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন। ::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] == সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি । :::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি == পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) : {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) == রো বনাম ওয়েড == পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে == এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে == [[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == বাবুলমিয়া == মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20015-50|&#126;2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 01924087544 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20544-24|&#126;2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [[আলফ্রেড নোবেল]] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে, ''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud'' 4dnspq0vpfzq3n9cie3ewb0c9v9sc30 76820 76786 2026-04-15T04:40:15Z Oindrojalik Watch 4169 /* পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে */ উত্তর 76820 wikitext text/x-wiki {{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে == [[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == সাহায্য প্রয়োজন == আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন। ::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] == সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি । :::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি == পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) : {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) == রো বনাম ওয়েড == পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে == এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে == [[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == বাবুলমিয়া == মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20015-50|&#126;2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 01924087544 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20544-24|&#126;2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [[আলফ্রেড নোবেল]] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে, ''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud'' :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০৪:৪০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ejnwfk3f9nxg41b24slcd64adysrvpo 76922 76820 2026-04-15T11:09:37Z Oindrojalik Watch 4169 76922 wikitext text/x-wiki {{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে == [[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == সাহায্য প্রয়োজন == আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন। ::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] == সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি । :::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি == পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) : {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) == রো বনাম ওয়েড == পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে == এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে == [[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == বাবুলমিয়া == মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20015-50|&#126;2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 01924087544 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20544-24|&#126;2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [[আলফ্রেড নোবেল]] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে, ''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud'' 4dnspq0vpfzq3n9cie3ewb0c9v9sc30 76923 76922 2026-04-15T11:10:57Z Oindrojalik Watch 4169 /* পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে */ উত্তর 76923 wikitext text/x-wiki {{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান&nbsp;</b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud|&nbsp;«আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে == [[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == সাহায্য প্রয়োজন == আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন। ::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] == সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি । :::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি == পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) : {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) == রো বনাম ওয়েড == পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে == এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;">&nbsp;☪&nbsp;</span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) ::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে == [[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == বাবুলমিয়া == মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20015-50|&#126;2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 01924087544 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-20544-24|&#126;2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পর্যালোচনা == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [[আলফ্রেড নোবেল]] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে == @[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ধন্যবাদান্তে, ''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud'' ::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। :'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)''''' oq45dv0mla1drayuo5hymaznvrut1yt ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T 3 5332 76918 76183 2026-04-15T10:50:00Z ~2026-23110-36 5185 /* Ahgejf */ নতুন অনুচ্ছেদ 76918 wikitext text/x-wiki == টুইংকল মোবাইল == এই স্ক্রিপ্ট স্থানীয় গ্যাজেটের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, উইকিউক্তিতে টুইংকল গ্যাজেট না থাকলে এটি কাজ করবে না। এই প্রকল্প ছোট হওয়ায় এরকম ভারী গ্যাজেটের প্রয়োজনও নেই। আপনি চাইলে এই স্ক্রিপ্টটি ব্যবহার করতে পারেন- <pre>mw.loader.load('//vi.wikipedia.org/w/index.php?title=User:Plantaest/TwinkleGlobalMobile.js&action=raw&ctype=text/javascript');</pre> এটি সকল প্রকল্পে ব্যবহারের উপযোগী। এতে টুইংকলের সব ফিচার না থাকলেও ছোট উইকিতে ব্যবহারের মতো ফিচারগুলো (রোলব্যাক, দ্রুত অপসারণ ট্যাগ, বৈশ্বিক প্রশাসক ও স্টুয়ার্ডদের কাছে রিপোর্ট ইত্যাদি) আছে। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১২:০৩, ২৩ মার্চ ২০২৪ (ইউটিসি) ==Rifat008== ভাই নতুন উক্তি করলে সেটা উইকিডাটা যুক্ত করে দিয়েন তাতে,, একাধিকা ভুক্তি কম হবে। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঠিক আছে বিষয় টা মাথায় রাখবো। [[ব্যবহারকারী:Rifat008|Rifat008]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rifat008#top|আলাপ]]) ০৮:৫৩, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ ভাই [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় Rifat008, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমি কি ১০-১২দিন পর পূরণ করতে পারি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪১, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::পারেন। করে তখন অবশ্যই আমাকে উল্লেখ করে জানাতে ভুলবেন না। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৪৩, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪৪, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] পূরণ করেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:৫৯, ২৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==[[সলোমন]]== সুধী, নিবন্ধটি ভালো রকমের সমস্যা রয়েছে। ভালো করে সম্পাদনা করতে হবে। কিছু জায়গা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ধর্মগ্রন্থ গুলোর নাম বাংলা করুন। অনুবাদের ত্রুটি ঠিক করুন। এছাড়া, মুজিবুর রহমান কে? এবং তার এই উক্তি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? এগুলোও তো লিখতে হবে।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুবাদ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] কিছু স্থানে অনুবাদে সমস্যা পেয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] গ্রন্থের নাম বাংলা করলে {{tl|bibleverse}} কাজ করবে না [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] [[টেমপ্লেট:বাংলা বাইবেল/নামের কোড]] পাতাটি দেখুন, এটা ওই টেমপ্লেটের সাথে কাজ করে। দেখবেন এখানে বাংলা নাম লিংক করা আছে। কাজ তো করার কথা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্বর্গ]] == গত প্রতিযোগিতার সময়ে তৈরি পাতা এবার জমা দিয়েছ কেন? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিযোগিতায় কেবল নতুন তৈরি পাতা গ্রহণযোগ্য। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী হয়েও এধরণের "চালাকি" খুবই হতাশাজনক।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] চালাকি নয় আমি দেখলাম গত প্রতিযোগিতায় তৈরি করেছি কিন্তু ভূমিকা ব্যতীত কিছু অনুবাদ ছিল না অপসারণযোগ্য ছিল অপসারণ করা হলে পুনরায় তৈরি করে জমা দিতে পারতাম কিন্তু ভাবলাম অপসারণ করে আবার তৈরি করার চেয়ে ঐটাই পুরো সম্পন্ন করে জমা দেয়। যেহুতু এটা নীতিমালার বিরুদ্ধে তাই গ্রহণ করা হবে আশা করিনা। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ০৮:৫১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[নবুয়ত]] নিবন্ধের পর্যালোচনা == শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৮, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) :[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] শাকিব ভাই বলেছেন রাখা যাবে এই কারণে রেখেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সরানো হয়েছে আয়াত। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২৩, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[ইসলামে প্রাণী]] == শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৯, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) শুধু বাংলা অনুবাদ থাকবে।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:১৮, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] সরানো হয়েছে আয়াত। যদি টেমপ্লেট দিয়ে যোগ করি সেক্ষেত্রে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২১, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[গীতসংহিতা]] == ইংরেজি লেখাগুলো অপসারণ করে জানাও।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০১:০৮, ৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[গীতসংহিতা]] == ইংরেজিগুলো সরানো প্রয়োজন।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৭:০৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 == Dear R1F4T Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms. To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you. * '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here] * '''Deadline to submit:''' 31 May 2025 It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future. Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns! Warm regards,<br/> ''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == পর্যালোচনা == [[অ্যালেক্স হেইলি]] ও [[দাসত্ব]] পাতা দুটি সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৭:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == {{লাল|'''চূড়ান্ত সতর্কবার্তা'''!}} == চলমান উক্তি প্রতিযোগিতার ২০২৬-এর [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা|পর্যালোচনা নীতিমালা]]র ১ নং ধারা "এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি" অনুসারে আপনার জমা দেওয়া {{লাল|'''৮টি '''নিবন্ধ সরাসরি বাতিল হয়েছে}}! পাতার শাস্তিমূলক দিকে উল্লেখ থাকা সাপেক্ষে আপনাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে। আপনি আর ১টা AI ত্রুটিযুক্ত পাতা জমা দিলেই আপনাকে সরাসরি "{{লাল|প্রতিযোগিতা থেকে '''অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।'''}}" ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == Ahgejf == wkhei [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23110-36|&#126;2026-23110-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23110-36|আলাপ]]) ১০:৫০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 2f66nn8hdi1qudwn08xvbt166136kkw 76919 76918 2026-04-15T10:50:17Z ~2026-23110-36 5185 /* Smg */ নতুন অনুচ্ছেদ 76919 wikitext text/x-wiki == টুইংকল মোবাইল == এই স্ক্রিপ্ট স্থানীয় গ্যাজেটের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, উইকিউক্তিতে টুইংকল গ্যাজেট না থাকলে এটি কাজ করবে না। এই প্রকল্প ছোট হওয়ায় এরকম ভারী গ্যাজেটের প্রয়োজনও নেই। আপনি চাইলে এই স্ক্রিপ্টটি ব্যবহার করতে পারেন- <pre>mw.loader.load('//vi.wikipedia.org/w/index.php?title=User:Plantaest/TwinkleGlobalMobile.js&action=raw&ctype=text/javascript');</pre> এটি সকল প্রকল্পে ব্যবহারের উপযোগী। এতে টুইংকলের সব ফিচার না থাকলেও ছোট উইকিতে ব্যবহারের মতো ফিচারগুলো (রোলব্যাক, দ্রুত অপসারণ ট্যাগ, বৈশ্বিক প্রশাসক ও স্টুয়ার্ডদের কাছে রিপোর্ট ইত্যাদি) আছে। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১২:০৩, ২৩ মার্চ ২০২৪ (ইউটিসি) ==Rifat008== ভাই নতুন উক্তি করলে সেটা উইকিডাটা যুক্ত করে দিয়েন তাতে,, একাধিকা ভুক্তি কম হবে। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ঠিক আছে বিষয় টা মাথায় রাখবো। [[ব্যবহারকারী:Rifat008|Rifat008]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Rifat008#top|আলাপ]]) ০৮:৫৩, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) ::ধন্যবাদ ভাই [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৮:৫৪, ২ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে == সুপ্রিয় Rifat008, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>। ;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে? :প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না। ; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে? : যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)। আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্‌স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি == সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]): * যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন। * যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় R1F4T, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] আমি কি ১০-১২দিন পর পূরণ করতে পারি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪১, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::পারেন। করে তখন অবশ্যই আমাকে উল্লেখ করে জানাতে ভুলবেন না। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:৪৩, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) :::ঠিক আছে [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:৪৪, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] পূরণ করেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:৫৯, ২৭ মে ২০২৪ (ইউটিসি) ==[[সলোমন]]== সুধী, নিবন্ধটি ভালো রকমের সমস্যা রয়েছে। ভালো করে সম্পাদনা করতে হবে। কিছু জায়গা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ধর্মগ্রন্থ গুলোর নাম বাংলা করুন। অনুবাদের ত্রুটি ঠিক করুন। এছাড়া, মুজিবুর রহমান কে? এবং তার এই উক্তি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? এগুলোও তো লিখতে হবে।[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুবাদ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] কিছু স্থানে অনুবাদে সমস্যা পেয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] গ্রন্থের নাম বাংলা করলে {{tl|bibleverse}} কাজ করবে না [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] [[টেমপ্লেট:বাংলা বাইবেল/নামের কোড]] পাতাটি দেখুন, এটা ওই টেমপ্লেটের সাথে কাজ করে। দেখবেন এখানে বাংলা নাম লিংক করা আছে। কাজ তো করার কথা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্বর্গ]] == গত প্রতিযোগিতার সময়ে তৈরি পাতা এবার জমা দিয়েছ কেন? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিযোগিতায় কেবল নতুন তৈরি পাতা গ্রহণযোগ্য। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী হয়েও এধরণের "চালাকি" খুবই হতাশাজনক।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] চালাকি নয় আমি দেখলাম গত প্রতিযোগিতায় তৈরি করেছি কিন্তু ভূমিকা ব্যতীত কিছু অনুবাদ ছিল না অপসারণযোগ্য ছিল অপসারণ করা হলে পুনরায় তৈরি করে জমা দিতে পারতাম কিন্তু ভাবলাম অপসারণ করে আবার তৈরি করার চেয়ে ঐটাই পুরো সম্পন্ন করে জমা দেয়। যেহুতু এটা নীতিমালার বিরুদ্ধে তাই গ্রহণ করা হবে আশা করিনা। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ০৮:৫১, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[নবুয়ত]] নিবন্ধের পর্যালোচনা == শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৮, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) :[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] শাকিব ভাই বলেছেন রাখা যাবে এই কারণে রেখেছি [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] সরানো হয়েছে আয়াত। [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২৩, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[ইসলামে প্রাণী]] == শুধুমাত্র উক্তির বাংলা অনুবাদ থাকবে, আরবি বা অন্য ভাষা রাখা যাবে না। ১৩:০৯, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:MdsShakil|MdsShakil]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MdsShakil|আলাপ]]) শুধু বাংলা অনুবাদ থাকবে।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:১৮, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] সরানো হয়েছে আয়াত। যদি টেমপ্লেট দিয়ে যোগ করি সেক্ষেত্রে? [[ব্যবহারকারী:R1F4T|R1F4T]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:R1F4T#top|আলাপ]]) ১৭:২১, ২ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[গীতসংহিতা]] == ইংরেজি লেখাগুলো অপসারণ করে জানাও।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০১:০৮, ৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == [[গীতসংহিতা]] == ইংরেজিগুলো সরানো প্রয়োজন।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৭:০৪, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == Share Your Feedback – Wiki Loves Ramadan 2025 == Dear R1F4T Thank you for being a part of '''[[m:Special:MyLanguage/Wiki Loves Ramadan 2025|Wiki Loves Ramadan 2025]]''' — whether as a contributor, jury member, or local organizer. Your efforts helped make this campaign a meaningful celebration of culture, heritage, and community on Wikimedia platforms. To help us improve and grow this initiative in future years, we kindly ask you to complete a short '''feedback form'''. Your responses are valuable in shaping how we support contributors like you. * '''Feedback Form:''' [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdXEtaqszxcwmTJa8pGT60E7GDtpbssNadR9vZFVFbLicGFBg/viewform Submit your feedback here] * '''Deadline to submit:''' 31 May 2025 It will only take a few minutes to complete, and your input will directly impact how we plan, communicate, and collaborate in the future. Thank you again for your support. We look forward to having you with us in future campaigns! Warm regards,<br/> ''Wiki Loves Ramadan International Team'' ০৮:৫১, ১৯ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:ZI_Jony/MassMessage/WLR/List/Participants&oldid=28751574-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> == পর্যালোচনা == [[অ্যালেক্স হেইলি]] ও [[দাসত্ব]] পাতা দুটি সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৭:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == {{লাল|'''চূড়ান্ত সতর্কবার্তা'''!}} == চলমান উক্তি প্রতিযোগিতার ২০২৬-এর [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা|পর্যালোচনা নীতিমালা]]র ১ নং ধারা "এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি" অনুসারে আপনার জমা দেওয়া {{লাল|'''৮টি '''নিবন্ধ সরাসরি বাতিল হয়েছে}}! পাতার শাস্তিমূলক দিকে উল্লেখ থাকা সাপেক্ষে আপনাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে। আপনি আর ১টা AI ত্রুটিযুক্ত পাতা জমা দিলেই আপনাকে সরাসরি "{{লাল|প্রতিযোগিতা থেকে '''অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।'''}}" ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == Ahgejf == wkhei [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23110-36|&#126;2026-23110-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23110-36|আলাপ]]) ১০:৫০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == Smg == jrw [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23110-36|&#126;2026-23110-36]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23110-36|আলাপ]]) ১০:৫০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) kq9wk4y6nu8e1u7jocx2qu6xcpfwipf উইকিউক্তি আলোচনা:অ্যাকাউন্টের জন্য অনুরোধ 5 5948 76742 30594 2026-04-14T18:34:07Z ~2026-23032-13 5158 /* Mohammad Alamgir miya */ নতুন অনুচ্ছেদ 76742 wikitext text/x-wiki {{আলাপ পাতা}} == Mohammad Alamgir miya == Mohammad Alamgir miya [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23032-13|&#126;2026-23032-13]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23032-13|আলাপ]]) ১৮:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 74x69l8ascq77jy7w28jci0v5i65227 76743 76742 2026-04-14T18:35:52Z ~2026-23032-13 5158 /* 01727031437 */ নতুন অনুচ্ছেদ 76743 wikitext text/x-wiki {{আলাপ পাতা}} == Mohammad Alamgir miya == Mohammad Alamgir miya [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23032-13|&#126;2026-23032-13]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23032-13|আলাপ]]) ১৮:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == 01727031437 == Mohammad Alamgir miya [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23032-13|&#126;2026-23032-13]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23032-13|আলাপ]]) ১৮:৩৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) pq71jx8a8hlf1wp03lte7q643godacj 76750 76743 2026-04-14T19:18:02Z Borhan 964 [[Special:Contributions/~2026-23032-13|~2026-23032-13]] ([[User talk:~2026-23032-13|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে 30594 wikitext text/x-wiki {{আলাপ পাতা}} i154alzgrogbpha40792inz5hdkh7xx ভীমরাও রামজি আম্বেদকর 0 6971 76865 68280 2026-04-15T07:10:23Z ARI 356 দ্রুত অপসারণের জন্য ট্যাগ করা হলো ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76865 wikitext text/x-wiki {{অপ|সংক্ষিপ্ত পাতা; উক্তি প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পাতা অনুবাদ করতে ইচ্ছুক}} '''ভীমরাও রামজি আম্বেদকর''' (মারাঠি: डॉ. भीमराव रामजी आंबेडकर) (১৪ এপ্রিল ১৮৯১ – ৬ ডিসেম্বর ১৯৫৬), যিনি '''বাবাসাহেব আম্বেদকর''' নামেও পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় ব্যবহারশাস্ত্রজ্ঞ (জ্যুরিস্ট), রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, সুবক্তা, বিশিষ্ট লেখক, অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিত, সম্পাদক, রাষ্ট্রবিপ্লবী ও বৌদ্ধ পুনর্জাগরণবাদী। তিনি ''বাবাসাহেব'' নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারতের সংবিধানের খসড়া কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ইনি ভারতের সংবিধানের মুখ্য রচয়িতা । ২০১২ সালে হিস্ট্রি টি. ভি.১৮ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয়দের ভোটের দ্বারা তিনি "শ্রেষ্ঠ ভারতীয়"ও নির্বাচিত হন। ==উক্তি== *আমি হচ্ছি হিন্দু ভারতে সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ। আমাকে একজন দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বলা হয় আমি নাকি দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু। **১৯৩২ সালের ২১ মে আম্বেদকার অনেকটা হতাশ হয়ে এক বক্তৃতায় এটি বলেন।[https://www.kalerkantho.com/print-edition/muktadhara/2020/01/07/859702] == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৮৯১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৬-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় অর্থনীতিবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:মানবাধিকার কর্মী]] 0uoa5ta06ckgro0mpih1bdsw6rx1yn7 জুনাইদ আহমেদ পলক 0 8428 76757 50415 2026-04-14T21:03:35Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76757 wikitext text/x-wiki '''[[:w:জুনাইদ আহমেদ পলক|জুনাইদ আহমেদ পলক]]''' (জন্ম: মে ১৭, ১৯৮০) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] [[বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট|আইনজীবী]] এবং [[রাজনীতিবিদ]]। তিনি [[একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮|২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে]] [[রাজশাহী বিভাগ|রাজশাহী বিভাগের]] [[নাটোর জেলা|নাটোর জেলার]] [[সিংড়া উপজেলা]] থেকে [[বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ|বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের]] নির্বাচিত বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচিত সরকারের সংসদ সদস্য এবং ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের [[প্রতিমন্ত্রী]] হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ==উক্তি== * সরকার দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে।’ ** ২৭ জুলাই ২০২৪, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, ‘শান্তির জন্য বৃক্ষ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। উদ্ধৃত [https://www.prothomalo.com/bangladesh/00n18ff1yx প্রথম আলো] * অনেকে প্রতিবন্ধিতাকে বাধা মনে করেন। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা কোনও বাধা নয়, এটা চ্যালেঞ্জ। ** ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আয়োজিত প্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত চাকরি মেলার উদ্বোধনী [https://www.banglatribune.com/tech-and-gadget/278519/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%95 এই অনুষ্ঠানে] প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন। ০১ জানুয়ারি ২০১৮ *চিড়া মুড়ি খাওয়ারও টাকা নাই **১৯ ফেব্রুয়ারী ঢাকা সিএমএম আদালতে == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৮০-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] oonbsh8hq22gofqwmu398tr718d5ks0 ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy 3 9569 76722 76516 2026-04-14T17:25:06Z Mehedi Abedin 50 /* অজিত দত্ত */ উত্তর 76722 wikitext text/x-wiki {{স্বাগতম}}[[ব্যবহারকারী:DeloarAkram|DeloarAkram]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:DeloarAkram|আলাপ]]) ১০:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == কণাদ == [[কণাদ]] পাতাটিতে ইংরেজি পাতা থেকে সব সূত্রে লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে এখানে আমাকে মেনশন করে জানান। অন্য কোনো সমস্যা থেকে থাকলে সেটা বের করে আশাকরি নিজ দায়িত্বে ঠিক করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৯, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সবকটা সূত্রে লিংক যোগ করেছি। আরেকবার পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy|নীল নন্দী]] ১৪:৫৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Nil Nandy|Nil Nandy]] গ্রহণ করা হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[:কাকাবাবু]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:কাকাবাবু]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। লেখকের অনুরোধ এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:কাকাবাবু|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy|নীল নন্দী]] ১৬:০১, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অজিত দত্ত == সুধী, আপনার কি [[অজিত দত্ত]] পাতাটি তৈরি করা সম্পন্ন হয়েছে? জিজ্ঞেস করছি কারণ আপনি পাতাটি জমা দিলেও এটা থেকে "কাজ চলছে" ট্যাগ সরাননি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৫৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটা তৈরি করা সম্পন্ন হয়েছে। ভুলবশত ট্যাগটা তখন সরানো হয়নি। [[ব্যবহারকারী আলাপ:Nil Nandy|নীল নন্দী]] ০০:৫৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Nil Nandy|Nil Nandy]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) cqny11x5te1xjd89qrlsd4zkqcgko3w ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32 3 10010 76681 76455 2026-04-14T13:20:35Z SMontaha32 3112 /* ফেদেরিকো ফাগিন */ উত্তর 76681 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় SMontaha32,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০৭:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[:অস্ট্রোলিয়া]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণ নীতিমালা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[চিত্র:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] আপনি ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে '''অস্ট্রোলিয়া''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। নিবন্ধটি উইকিউক্তির দ্রুত অপসারণের বিচারধারা অনুসারে দ্রুত অপসারণ যোগ্য। কারণ: <center>'''পাতাটিতে কোনো উক্তি নেই'''</center> আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:অস্ট্রোলিয়া|নিবন্ধটিতে গিয়ে]] '''অপসারণে আপত্তি জানান''' লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন নিবন্ধটি অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন নিবন্ধে অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি নিবন্ধটি অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে নিবন্ধটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা নিবন্ধ থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে নিবন্ধটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, নিবন্ধের বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উল্লেখযোগ্যতা|উল্লেখযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে নিবন্ধটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে যে প্রশাসক এটি অপসারণ করেছেন তার সাথে যোগাযোগ করুন বা [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] আবেদন করুন। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্লোভেনিয়া]] == পাতার কাঠামো এবং বিষয়বস্তু ঠিক নেই। তাই গৃহীত হয়নি।[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ২০:২৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == ক্যারোলিন বার্তোজি == [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] পাতাটি প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেওয়ার জন্য অভিনন্দন। প্রায় সব ঠিক আছে, শুধু বিষয়শ্রেণী অনুবাদ এবং পাতার সংযোগ ও বিন্যাস ঠিক করে দিলেই পাতাটি গ্রহণ করবো। সব ঠিক করে আমাকে মেনশন করে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:১১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১০:৫৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আলফ্রেড মার্শাল == বইয়ের নাম ইংরেজি রাখলে ঠিক আছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ দেখতে পাচ্ছি। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দের সাথে "-এর" দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এআইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। পাতা ঠিকভাবে ফিনিশিং না দিয়ে জমা দিয়েছেন। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:৫৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এই পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:২২, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আনাক্সাগোরাস == [[আনাক্সাগোরাস]] পাতাটিতে এআইয়ের সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। এমনটা আমরা একজন প্রতিযোগীর নিকট আশা করিনা। আশাকরি পর্যাপ্ত সম্পাদনা করে সংশোধন করে আমাকে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৬, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] বাধ্য হয়ে আবার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সূত্রগুলো যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ তখন খেয়াল করা হয়নি। সবগুলো উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্র ইংরেজি পাতার সাথে মিলিয়ে ঠিক করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অনিতা ব্রুকনার == [[অনিতা ব্রুকনার]] পাতাটি সম্পাদনা করে উক্তিগুলো আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। তবে বাক্যগঠনে যেন বড় রকমের পরিবর্তন না আসে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] নিবন্ধের [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে#লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে|লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে]] একটি উক্তি অনুপস্থিত। এবং সূত্রের ফরম্যাটগুলোও ঠিক করে ইংরেজির মতো করে করবেন। অনুগ্রহ করে এই সম্পাদনগুলো করে জানান। ধন্যবাদ! [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ০২:২৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** Antoine Lavoisier and [[Benjamin Franklin]], ''Rapport des commissaires charg&eacute;s par le roi de l'examen du magn&eacute;tisme animal'' (Imprimerie royale, 1784), trans. [[Stephen Jay Gould]], "The Chain of Reason versus the Chain of Thumbs", ''Bully for Brontosaurus'' (W.W. Norton, 1991), p. 195</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এবং বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, ''রাপোর দে কমিজের শার্জে পার ল্য রোয়া দ্য লেকজামেন দ্যু মানিয়েটিজম আনিমাল'' (ইম্প্রিমারি রয়্যাল, ১৭৮৪), অনুবাদ: স্টিফেন জে গুল্ড, "দ্য চেইন অফ রিজন ভার্সাস দ্য চেইন অফ থাম্বস", ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৯১), পৃষ্ঠা ১৯৫</nowiki></code> ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** [[w:Madison Smartt Bell|Madison Smartt Bell]], [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''Lavoisier in the Year One: The Birth of a New Science in an Age of Revolution''] 2005</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** ম্যাডিসন স্মার্ট বেল, [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''লাভোয়াজিয়ে ইন দ্য ইয়ার ওয়ান: দ্য বার্থ অফ এ নিউ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ রেভোলিউশন''] ২০০৫</nowiki></code> ::এভাবে করুন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৮:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ফেদেরিকো ফাগিন == [[ফেদেরিকো ফাগিন]] পাতায় উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের শিরোনাম অনুবাদ করার প্রয়োজন নেই, এগুলো যে ভাষায় আছে সেটা রাখুন। উদাহরণ ➤ "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর" না লিখে "L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip" রাখুন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। আর কোন ভাষাগুলো বা কোন বিষয়গুলো অনুবাদ করতে নাহ? [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৩:২০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 0x08mvswo68nx67romiziga03rp9fza 76724 76681 2026-04-14T17:27:09Z Mehedi Abedin 50 /* ফেদেরিকো ফাগিন */ উত্তর 76724 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় SMontaha32,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০৭:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[:অস্ট্রোলিয়া]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণ নীতিমালা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[চিত্র:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] আপনি ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে '''অস্ট্রোলিয়া''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। নিবন্ধটি উইকিউক্তির দ্রুত অপসারণের বিচারধারা অনুসারে দ্রুত অপসারণ যোগ্য। কারণ: <center>'''পাতাটিতে কোনো উক্তি নেই'''</center> আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:অস্ট্রোলিয়া|নিবন্ধটিতে গিয়ে]] '''অপসারণে আপত্তি জানান''' লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন নিবন্ধটি অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন নিবন্ধে অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি নিবন্ধটি অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে নিবন্ধটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা নিবন্ধ থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে নিবন্ধটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, নিবন্ধের বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উল্লেখযোগ্যতা|উল্লেখযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে নিবন্ধটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে যে প্রশাসক এটি অপসারণ করেছেন তার সাথে যোগাযোগ করুন বা [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] আবেদন করুন। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্লোভেনিয়া]] == পাতার কাঠামো এবং বিষয়বস্তু ঠিক নেই। তাই গৃহীত হয়নি।[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ২০:২৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == ক্যারোলিন বার্তোজি == [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] পাতাটি প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেওয়ার জন্য অভিনন্দন। প্রায় সব ঠিক আছে, শুধু বিষয়শ্রেণী অনুবাদ এবং পাতার সংযোগ ও বিন্যাস ঠিক করে দিলেই পাতাটি গ্রহণ করবো। সব ঠিক করে আমাকে মেনশন করে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:১১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১০:৫৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আলফ্রেড মার্শাল == বইয়ের নাম ইংরেজি রাখলে ঠিক আছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ দেখতে পাচ্ছি। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দের সাথে "-এর" দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এআইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। পাতা ঠিকভাবে ফিনিশিং না দিয়ে জমা দিয়েছেন। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:৫৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এই পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:২২, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আনাক্সাগোরাস == [[আনাক্সাগোরাস]] পাতাটিতে এআইয়ের সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। এমনটা আমরা একজন প্রতিযোগীর নিকট আশা করিনা। আশাকরি পর্যাপ্ত সম্পাদনা করে সংশোধন করে আমাকে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৬, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] বাধ্য হয়ে আবার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সূত্রগুলো যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ তখন খেয়াল করা হয়নি। সবগুলো উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্র ইংরেজি পাতার সাথে মিলিয়ে ঠিক করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অনিতা ব্রুকনার == [[অনিতা ব্রুকনার]] পাতাটি সম্পাদনা করে উক্তিগুলো আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। তবে বাক্যগঠনে যেন বড় রকমের পরিবর্তন না আসে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] নিবন্ধের [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে#লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে|লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে]] একটি উক্তি অনুপস্থিত। এবং সূত্রের ফরম্যাটগুলোও ঠিক করে ইংরেজির মতো করে করবেন। অনুগ্রহ করে এই সম্পাদনগুলো করে জানান। ধন্যবাদ! [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ০২:২৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** Antoine Lavoisier and [[Benjamin Franklin]], ''Rapport des commissaires charg&eacute;s par le roi de l'examen du magn&eacute;tisme animal'' (Imprimerie royale, 1784), trans. [[Stephen Jay Gould]], "The Chain of Reason versus the Chain of Thumbs", ''Bully for Brontosaurus'' (W.W. Norton, 1991), p. 195</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এবং বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, ''রাপোর দে কমিজের শার্জে পার ল্য রোয়া দ্য লেকজামেন দ্যু মানিয়েটিজম আনিমাল'' (ইম্প্রিমারি রয়্যাল, ১৭৮৪), অনুবাদ: স্টিফেন জে গুল্ড, "দ্য চেইন অফ রিজন ভার্সাস দ্য চেইন অফ থাম্বস", ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৯১), পৃষ্ঠা ১৯৫</nowiki></code> ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** [[w:Madison Smartt Bell|Madison Smartt Bell]], [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''Lavoisier in the Year One: The Birth of a New Science in an Age of Revolution''] 2005</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** ম্যাডিসন স্মার্ট বেল, [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''লাভোয়াজিয়ে ইন দ্য ইয়ার ওয়ান: দ্য বার্থ অফ এ নিউ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ রেভোলিউশন''] ২০০৫</nowiki></code> ::এভাবে করুন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৮:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ফেদেরিকো ফাগিন == [[ফেদেরিকো ফাগিন]] পাতায় উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের শিরোনাম অনুবাদ করার প্রয়োজন নেই, এগুলো যে ভাষায় আছে সেটা রাখুন। উদাহরণ ➤ "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর" না লিখে "L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip" রাখুন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। আর কোন ভাষাগুলো বা কোন বিষয়গুলো অনুবাদ করতে নাহ? [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৩:২০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] একটা সূত্রের শিরোনাম ঠিক করা বাদ পড়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) dk5jjyzvmfttcwudwveiiehi4pg9vfq 76726 76724 2026-04-14T17:30:24Z SMontaha32 3112 /* ফেদেরিকো ফাগিন */ উত্তর 76726 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় SMontaha32,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০৭:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[:অস্ট্রোলিয়া]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণ নীতিমালা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[চিত্র:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] আপনি ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে '''অস্ট্রোলিয়া''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। নিবন্ধটি উইকিউক্তির দ্রুত অপসারণের বিচারধারা অনুসারে দ্রুত অপসারণ যোগ্য। কারণ: <center>'''পাতাটিতে কোনো উক্তি নেই'''</center> আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:অস্ট্রোলিয়া|নিবন্ধটিতে গিয়ে]] '''অপসারণে আপত্তি জানান''' লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন নিবন্ধটি অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন নিবন্ধে অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি নিবন্ধটি অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে নিবন্ধটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা নিবন্ধ থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে নিবন্ধটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, নিবন্ধের বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উল্লেখযোগ্যতা|উল্লেখযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে নিবন্ধটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে যে প্রশাসক এটি অপসারণ করেছেন তার সাথে যোগাযোগ করুন বা [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] আবেদন করুন। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্লোভেনিয়া]] == পাতার কাঠামো এবং বিষয়বস্তু ঠিক নেই। তাই গৃহীত হয়নি।[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ২০:২৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == ক্যারোলিন বার্তোজি == [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] পাতাটি প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেওয়ার জন্য অভিনন্দন। প্রায় সব ঠিক আছে, শুধু বিষয়শ্রেণী অনুবাদ এবং পাতার সংযোগ ও বিন্যাস ঠিক করে দিলেই পাতাটি গ্রহণ করবো। সব ঠিক করে আমাকে মেনশন করে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:১১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১০:৫৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আলফ্রেড মার্শাল == বইয়ের নাম ইংরেজি রাখলে ঠিক আছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ দেখতে পাচ্ছি। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দের সাথে "-এর" দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এআইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। পাতা ঠিকভাবে ফিনিশিং না দিয়ে জমা দিয়েছেন। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:৫৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এই পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:২২, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আনাক্সাগোরাস == [[আনাক্সাগোরাস]] পাতাটিতে এআইয়ের সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। এমনটা আমরা একজন প্রতিযোগীর নিকট আশা করিনা। আশাকরি পর্যাপ্ত সম্পাদনা করে সংশোধন করে আমাকে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৬, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] বাধ্য হয়ে আবার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সূত্রগুলো যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ তখন খেয়াল করা হয়নি। সবগুলো উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্র ইংরেজি পাতার সাথে মিলিয়ে ঠিক করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অনিতা ব্রুকনার == [[অনিতা ব্রুকনার]] পাতাটি সম্পাদনা করে উক্তিগুলো আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। তবে বাক্যগঠনে যেন বড় রকমের পরিবর্তন না আসে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] নিবন্ধের [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে#লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে|লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে]] একটি উক্তি অনুপস্থিত। এবং সূত্রের ফরম্যাটগুলোও ঠিক করে ইংরেজির মতো করে করবেন। অনুগ্রহ করে এই সম্পাদনগুলো করে জানান। ধন্যবাদ! [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ০২:২৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** Antoine Lavoisier and [[Benjamin Franklin]], ''Rapport des commissaires charg&eacute;s par le roi de l'examen du magn&eacute;tisme animal'' (Imprimerie royale, 1784), trans. [[Stephen Jay Gould]], "The Chain of Reason versus the Chain of Thumbs", ''Bully for Brontosaurus'' (W.W. Norton, 1991), p. 195</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এবং বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, ''রাপোর দে কমিজের শার্জে পার ল্য রোয়া দ্য লেকজামেন দ্যু মানিয়েটিজম আনিমাল'' (ইম্প্রিমারি রয়্যাল, ১৭৮৪), অনুবাদ: স্টিফেন জে গুল্ড, "দ্য চেইন অফ রিজন ভার্সাস দ্য চেইন অফ থাম্বস", ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৯১), পৃষ্ঠা ১৯৫</nowiki></code> ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** [[w:Madison Smartt Bell|Madison Smartt Bell]], [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''Lavoisier in the Year One: The Birth of a New Science in an Age of Revolution''] 2005</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** ম্যাডিসন স্মার্ট বেল, [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''লাভোয়াজিয়ে ইন দ্য ইয়ার ওয়ান: দ্য বার্থ অফ এ নিউ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ রেভোলিউশন''] ২০০৫</nowiki></code> ::এভাবে করুন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৮:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ফেদেরিকো ফাগিন == [[ফেদেরিকো ফাগিন]] পাতায় উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের শিরোনাম অনুবাদ করার প্রয়োজন নেই, এগুলো যে ভাষায় আছে সেটা রাখুন। উদাহরণ ➤ "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর" না লিখে "L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip" রাখুন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। আর কোন ভাষাগুলো বা কোন বিষয়গুলো অনুবাদ করতে নাহ? [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৩:২০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] একটা সূত্রের শিরোনাম ঠিক করা বাদ পড়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন আবার ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৭:৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 6va7c1gdpvijp0km1a7unbpf7xdkmtz 76727 76726 2026-04-14T17:34:31Z Mehedi Abedin 50 /* ফেদেরিকো ফাগিন */ উত্তর 76727 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় SMontaha32,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০৭:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[:অস্ট্রোলিয়া]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণ নীতিমালা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[চিত্র:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] আপনি ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে '''অস্ট্রোলিয়া''' নিবন্ধটি তৈরি করেছেন। নিবন্ধটি উইকিউক্তির দ্রুত অপসারণের বিচারধারা অনুসারে দ্রুত অপসারণ যোগ্য। কারণ: <center>'''পাতাটিতে কোনো উক্তি নেই'''</center> আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:অস্ট্রোলিয়া|নিবন্ধটিতে গিয়ে]] '''অপসারণে আপত্তি জানান''' লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন নিবন্ধটি অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন নিবন্ধে অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি নিবন্ধটি অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে নিবন্ধটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা নিবন্ধ থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে নিবন্ধটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, নিবন্ধের বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উল্লেখযোগ্যতা|উল্লেখযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে নিবন্ধটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে যে প্রশাসক এটি অপসারণ করেছেন তার সাথে যোগাযোগ করুন বা [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকদের আলোচনাসভায়]] আবেদন করুন। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ০৬:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == [[স্লোভেনিয়া]] == পাতার কাঠামো এবং বিষয়বস্তু ঠিক নেই। তাই গৃহীত হয়নি।[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS|আলাপ]]) ২০:২৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি) == উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন == সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধ পর্যালোচনা শেষে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|এখানে দেখুন]]। আপনাকে ডিজিটাল সনদ পাঠাতে কিছু তথ্য প্রয়োজন। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSfa6lC5bYLAwTSpiacX75DM3-MsRqv9RmIPPNBtar6q3JGOSA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৬:৫৬, ১৮ মে ২০২৫ (ইউটিসি) <!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67749-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন --> == ক্যারোলিন বার্তোজি == [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] পাতাটি প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেওয়ার জন্য অভিনন্দন। প্রায় সব ঠিক আছে, শুধু বিষয়শ্রেণী অনুবাদ এবং পাতার সংযোগ ও বিন্যাস ঠিক করে দিলেই পাতাটি গ্রহণ করবো। সব ঠিক করে আমাকে মেনশন করে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:১১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১০:৫৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আলফ্রেড মার্শাল == বইয়ের নাম ইংরেজি রাখলে ঠিক আছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ দেখতে পাচ্ছি। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দের সাথে "-এর" দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এআইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। পাতা ঠিকভাবে ফিনিশিং না দিয়ে জমা দিয়েছেন। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:৫৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এই পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:২২, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == আনাক্সাগোরাস == [[আনাক্সাগোরাস]] পাতাটিতে এআইয়ের সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। এমনটা আমরা একজন প্রতিযোগীর নিকট আশা করিনা। আশাকরি পর্যাপ্ত সম্পাদনা করে সংশোধন করে আমাকে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:৪৬, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৪:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] বাধ্য হয়ে আবার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সূত্রগুলো যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ তখন খেয়াল করা হয়নি। সবগুলো উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্র ইংরেজি পাতার সাথে মিলিয়ে ঠিক করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অনিতা ব্রুকনার == [[অনিতা ব্রুকনার]] পাতাটি সম্পাদনা করে উক্তিগুলো আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। তবে বাক্যগঠনে যেন বড় রকমের পরিবর্তন না আসে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] == [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] নিবন্ধের [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে#লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে|লাভোয়াজিয়ে সম্পর্কে]] একটি উক্তি অনুপস্থিত। এবং সূত্রের ফরম্যাটগুলোও ঠিক করে ইংরেজির মতো করে করবেন। অনুগ্রহ করে এই সম্পাদনগুলো করে জানান। ধন্যবাদ! [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ০২:২৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** Antoine Lavoisier and [[Benjamin Franklin]], ''Rapport des commissaires charg&eacute;s par le roi de l'examen du magn&eacute;tisme animal'' (Imprimerie royale, 1784), trans. [[Stephen Jay Gould]], "The Chain of Reason versus the Chain of Thumbs", ''Bully for Brontosaurus'' (W.W. Norton, 1991), p. 195</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এবং বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, ''রাপোর দে কমিজের শার্জে পার ল্য রোয়া দ্য লেকজামেন দ্যু মানিয়েটিজম আনিমাল'' (ইম্প্রিমারি রয়্যাল, ১৭৮৪), অনুবাদ: স্টিফেন জে গুল্ড, "দ্য চেইন অফ রিজন ভার্সাস দ্য চেইন অফ থাম্বস", ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন, ১৯৯১), পৃষ্ঠা ১৯৫</nowiki></code> ::*<code><span style="color:red;"><nowiki>** [[w:Madison Smartt Bell|Madison Smartt Bell]], [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''Lavoisier in the Year One: The Birth of a New Science in an Age of Revolution''] 2005</nowiki></code> → <code><span style="color:green;"><nowiki>** ম্যাডিসন স্মার্ট বেল, [http://books.google.com/books?id=XPyFm5vePfoC ''লাভোয়াজিয়ে ইন দ্য ইয়ার ওয়ান: দ্য বার্থ অফ এ নিউ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ রেভোলিউশন''] ২০০৫</nowiki></code> ::এভাবে করুন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৮:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ফেদেরিকো ফাগিন == [[ফেদেরিকো ফাগিন]] পাতায় উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের শিরোনাম অনুবাদ করার প্রয়োজন নেই, এগুলো যে ভাষায় আছে সেটা রাখুন। উদাহরণ ➤ "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে? মাইক্রোচিপের জনক ফেদেরিকো ফাজিনের উত্তর" না লিখে "L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip" রাখুন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] পাতাটি ঠিক করেছি। আর কোন ভাষাগুলো বা কোন বিষয়গুলো অনুবাদ করতে নাহ? [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৩:২০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] একটা সূত্রের শিরোনাম ঠিক করা বাদ পড়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন আবার ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32#top|আলাপ]]) ১৭:৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] গ্রহণ করেছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 6v0biden86uha8czcn5euxlg827xko9 উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬ 5 11851 76719 76652 2026-04-14T16:38:04Z ~2026-22994-98 5152 /* Mbronebaby */ নতুন অনুচ্ছেদ 76719 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}} {{আলাপ পাতা}} == "Misattributed" শিরোনাম == "Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == Mbronebaby == @ [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22994-98|&#126;2026-22994-98]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22994-98|আলাপ]]) ১৬:৩৮, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) f5u6nf7yg8d5oco0gbc09tctu48k8st 76751 76719 2026-04-14T19:19:11Z Borhan 964 [[Special:Contributions/~2026-22994-98|~2026-22994-98]] ([[User talk:~2026-22994-98|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:ARI|ARI]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে 76652 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}} {{আলাপ পাতা}} == "Misattributed" শিরোনাম == "Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) fkm67i6tcvwq5lc1tsfnr4ua99fqeoh 76846 76751 2026-04-15T06:16:06Z ~2026-23259-82 5180 /* নাম দিয়া একটি গান বানাবে */ নতুন অনুচ্ছেদ 76846 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=5}} {{আলাপ পাতা}} == "Misattributed" শিরোনাম == "Misattributed" শিরোনামের অংশগুলোও কি অনুবাদ করতে হবে? উদাহরণস্বরূপ: [[:en:Ibrahim Traoré]], এইখানে "Misattributed" শিরোনামের একটা সেকশন আছে, অর্থাৎ সেখানের উক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কি এই সেকশনও অনুবাদ করবো? নাকি উপেক্ষা করবো?? ধন্যবাদ ~ [[ব্যবহারকারী:Raihanur|Raihanur]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Raihanur|আলাপ]]) ২১:২১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :এইখানে উক্তিগুলো মিথ্যাও হতে পারে। সঠিক প্রমাণ নেই এখনো। আপনি আপনার নজরতালিকায় ঐ পাতাটি রেখে দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে অনুবাদ করে দিতে পারেন যদি সত্যতা যাচাই হয়। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১৫:৫২, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == নাম দিয়া একটি গান বানাবে == রাজন ইসলাম রাজন ইসলাম শাকিল আহমদ সোলাইমান আহমদ [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-23259-82|&#126;2026-23259-82]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-23259-82|আলাপ]]) ০৬:১৬, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 79a7mcdx2qda86fjft7lb0q0ngmnlln উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী 4 11853 76666 76630 2026-04-14T12:31:01Z Ridoy Khan Rid 4565 76666 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|01986670977m}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} [[চিত্র:Ridoy Khan Rid|10px|থাম্ব|alt=File:Ridoy Khan Rid|10px|বুড়ো আঙুল|alt=journalist, Ridoy Khan Rid, senior news video editor|senior news video editor|senior news video editor]] * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} nxm9xesb6ls6ihrf1cqxdbvpn45si6j 76667 76666 2026-04-14T12:32:19Z Ridoy Khan Rid 4565 76667 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|01986670977m}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} [[চিত্র:Ridoy Khan Rid|10px|থাম্ব|alt=File:Ridoy Khan Rid|10px|বুড়ো আঙুল|alt=journalist, Ridoy Khan Rid, senior news video editor|senior news video editor|senior news video editor]] * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} p8z3orhyuffmm8frnvwsb5t1360n4dv 76674 76667 2026-04-14T13:02:46Z Usarker 5144 76674 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|01986670977m}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} [[চিত্র:Ridoy Khan Rid|10px|থাম্ব|alt=File:Ridoy Khan Rid|10px|বুড়ো আঙুল|alt=journalist, Ridoy Khan Rid, senior news video editor|senior news video editor|senior news video editor]] * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} o2e62x4zdfavkx02a960hg6os32tw77 76752 76674 2026-04-14T19:21:48Z Borhan 964 পরিষ্কারকরণ 76752 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} d6ma2hmvpvmm60dihk6hmrfsmwikbdm 76753 76752 2026-04-14T19:22:28Z Borhan 964 76753 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} 8aiwpbg4eqaptwkjdhg2fbpji87ld3f 76782 76753 2026-04-15T00:01:26Z M231991d 5168 76782 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} 40wxda43euxqzqg3d5m0ajv9sg9dtke 76783 76782 2026-04-15T00:05:21Z Ridoy Khan Rid 4565 76783 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} 62oq0pooon3irbxhyd3ryev7kjt3gum 76827 76783 2026-04-15T05:26:43Z Rasel Mehedi 5177 76827 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}} m5cb0n7sspqchmerzbt3w4othg89vs2 76899 76827 2026-04-15T09:21:28Z ENGR MD. LITON SIKDER 5184 76899 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}} * {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}} r5f5b56hcgs33mta89gdg15ikangrbq 76900 76899 2026-04-15T09:23:40Z ENGR MD. LITON SIKDER 5184 76900 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}} * {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}} * {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}} 8vhksdz5rfvwsc4xplzsou45651y9tu 76915 76900 2026-04-15T10:45:21Z JIBON 2570 [[Special:Contributions/ENGR MD. LITON SIKDER|ENGR MD. LITON SIKDER]] ([[User talk:ENGR MD. LITON SIKDER|আলাপ]])-এর সম্পাদিত [[Special:Diff/76900|76900]] নম্বর সংশোধনটি বাতিল করা হয়েছে 76915 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}} * {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}} r5f5b56hcgs33mta89gdg15ikangrbq 76924 76915 2026-04-15T11:43:54Z জুলাই রাজু 5188 76924 wikitext text/x-wiki {{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}} <inputbox> type = comment default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী preload = টেমপ্লেট:আমি editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা nosummary=true hidden = yes buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন minor = true break = no </inputbox> {{div col}} <!-- ------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। --------------------------------------------------- সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}} ---> <!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না --> <!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন ১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই। ২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে। ৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন --> <!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন --> *{{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}} * {{ব্যবহারকারী|NusJaS}} * {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}} * {{ব্যবহারকারী|ARI}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}} * {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}} * {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}} * {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}} * {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}} * {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}} * {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}} * {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}} * {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}} * {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}} * {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}} * {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}} * {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}} * {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}} * {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}} * {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}} * {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}} * {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}} * {{ব্যবহারকারী|NotNahid}} * {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}} * {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}} * {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}} * {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}} * {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}} * {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}} * {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}} * {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}} * {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}} * {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}} * {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}} * {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}} * {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}} * {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}} * {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}} * {{ব্যবহারকারী|Raihanur}} * {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}} * {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}} * {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}} * {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}} * {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}} * {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}} * {{ব্যবহারকারী|Borhan}} * {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}} * {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}} * {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}} * {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}} * {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}} * {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}} * {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}} * {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}} * {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}} * {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}} * {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}} * {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}} * {{ব্যবহারকারী|JIBON}} * {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}} * {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}} * {{ব্যবহারকারী|Mksh46}} * {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}} * {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}} * {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}} * {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}} * {{ব্যবহারকারী|Manik19}} * {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}} * {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}} * {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}} * {{ব্যবহারকারী|Talha toha}} * {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}} * {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}} * {{ব্যবহারকারী|Wizene}} * {{ব্যবহারকারী|Shovu55}} * {{ব্যবহারকারী|Afiya07}} * {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}} * {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}} * {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}} * {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}} * {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}} * {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}} * {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}} * {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}} * {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}} * {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}} * {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}} * {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}} * {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}} * {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}} * {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}} * {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}} * {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}} * {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}} * {{ব্যবহারকারী নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}} * {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}} * {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}} * {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}} * {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}} * {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Usarker}} [[ব্যবহারকারী:M231991d|M231991d]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d|আলাপ]]) ০০:০১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)MdSARIF GAZI M231991d}} * {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}} * {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}} * {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}} মোঃরাজুমিয়া। qbey3of33j77n7hrfieh7b8bnavn1cj ব্যবহারকারী:ARI/common.js 2 11858 76781 75429 2026-04-14T23:53:34Z ARI 356 হালনাগাদ 76781 javascript text/javascript importScript('ব্যবহারকারী:ARI/test.js'); importScript('ব্যবহারকারী:ARI/CatLinker.js'); mw.loader.load('//bn.wikiquote.org/w/index.php?title=ব্যবহারকারী:ARI/WDConnect.js&action=raw&ctype=text/javascript'); // [[ব্যবহারকারী:ARI/WDConnect.js]] //BNWQ Tools mw.loader.load('//bn.wikiquote.org/w/index.php?title=ব্যবহারকারী:খাত্তাব_হাসান/bnwq-tools.js&action=raw&ctype=text/javascript'); mqx6zrh2rxp1g9pst7nra95ijz6y26z ব্যবহারকারী:ARI/খেলাঘর 2 11860 76773 76504 2026-04-14T22:34:53Z ARI 356 হালনাগাদ 76773 wikitext text/x-wiki {| class="wikitable sortable" |- ! ক্রম ! ব্যবহারকারী ! নিবন্ধ ! মোট শব্দ ! বিস্তারিত |- | '''১''' | '''ARI''' | '''৭''' | '''১,৪৮,৪৫৩''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,৩৭,৮৭৩<br> অপর্যালোচিত: ১০,৫৮০<br> বাতিল: ০ </div> |- | '''২''' | '''Sumanta3023''' | '''২৯''' | '''৩৮,১৫৪''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৩০,৩৬৭<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৭,৭৮৭ </div> |- | '''৩''' | '''Oindrojalik Watch''' | '''৪''' | '''১৯,০৯২''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১৭,৯৩৫<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ১,১৫৭ </div> |- | '''৪''' | '''Nil Nandy''' | '''৮''' | '''১৩,৪৪৪''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১৩,৪৪৪<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | '''৫''' | '''SMontaha32''' | '''১৪''' | '''১৫,৯৭৫''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১০,৩৫০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৫,৬২৫ </div> |- | '''৬''' | '''Tanbiruzzaman''' | '''৩''' | '''৮,৯০৩''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৮,৯০৩<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | '''৭''' | '''Salil Kumar Mukherjee''' | '''৪''' | '''১০,৪৬৬''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৫,৯৮৭<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৪,৪৭৯ </div> |- | '''৮''' | '''Anaf Ibn Shahibul''' | '''১৫''' | '''৩৩,৪৪০''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৫,৪৬৫<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ২৭,৯৭৫ </div> |- | '''৯''' | '''Amirhusenjihed''' | '''৩''' | '''৩,০৬৪''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ২,৫৬৯<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৪৯৫ </div> |- | '''১০''' | '''Humaira.thithi''' | '''৭''' | '''৩,২৩৬''' | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ২,৩০৫<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৯৩১ </div> |- | ১১ | মোহাম্মদ জনি হোসেন | ১০ | ২,৩১০ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,৮১৭<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৪৯৩ </div> |- | ১২ | Borhan | ৬ | ১,৬৬২ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,৬৬২<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ১৩ | R1F4T | ১৫ | ২,৫৩,১১৪ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,৬০৪<br> অপর্যালোচিত: ১,৯৬৯<br> বাতিল: ২,৪৯,৫৪১ </div> |- | ১৪ | Raihanur | ৩ | ১,৫৪২ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,৫৪২<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ১৫ | Firuz Ahmmed | ৪ | ২,১৯৭ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ১,১১৭<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ১,০৮০ </div> |- | ১৬ | Asad.fr | ৩ | ৩,২৯৯ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৩৬৪<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ২,৯৩৫ </div> |- | ১৭ | JIBON | ৩ | ১,১৭৮ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৩৬০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৮১৮ </div> |- | ১৮ | নিয়াজ ইসলাম | ১ | ৩১০ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ৩১০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ১৯ | Usarker | ৩ | ১,৪৭৫ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ১,৪৭৫ </div> |- | ২০ | রাকিবুল হাসান রাসেল | ১ | ৮৫ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৮৫ </div> |- | ২১ | Md. Rayan Alam Rifat | ১ | ১৭৬ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ১৭৬ </div> |- | ২২ | MD RADWAN ISLAM | ৬ | ২৭৪ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ২৭৪ </div> |- | ২৩ | AKM Mahinur Rahman | ২ | ৪১৯ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৪১৯ </div> |- | ২৪ | MD RADWAN ISLAM ROHAN | ৫ | ০ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ২৫ | ShahinurWrites | ১ | ০ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ২৬ | Abdullah Al Shishir | ১ | ০ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ০ </div> |- | ২৭ | চ্যাম্পিয়ন স্টার ১ | ১ | ৩১২ | <div class="mw-collapsible mw-collapsed"> গৃহীত: ০<br> অপর্যালোচিত: ০<br> বাতিল: ৩১২ </div> |} ; পর্যালোচক {| class="wikitable" |- ! ক্রম !! নাম !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল |- | '''১''' || '''Mehedi Abedin''' || '''৬১''' || ৪৪ || ১৭ |- | '''২''' || '''ARI''' || '''৩৪''' || ২১ || ১৩ |- | '''৩''' || '''MS Sakib''' || '''২৬''' || ১১ || ১৫ |- | '''৪''' || '''NusJaS''' || '''১৯''' || ১১ || ৮ |- | '''৫''' || '''MdsShakil''' || '''৯''' || ৬ || ৩ |- | '''৬''' || '''Tahmid''' || '''৬''' || ১ || ৫ |- | '''৭''' || '''Yahya''' || '''৫''' || ৪ || ১ |- ! মোট || || ১৬০ || ৯৮ || ৬২ |} ---- সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) m9u1wmxe9h38jmln7ju5esjrkbakqj6 কলেরা 0 11911 76703 73246 2026-04-14T14:57:06Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76703 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] c0942nykishcvpttorbs2cgw7vujybe 76704 76703 2026-04-14T15:06:53Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76704 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 4cj4fms03533upg1ttc8v98kye3hdqt 76705 76704 2026-04-14T15:17:22Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76705 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 6n2167r5uyw33e2ulbqnsu7i2atsee9 76707 76705 2026-04-14T15:20:29Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76707 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] hocops3sz97ie17v0qre5bs6qx0phh9 76709 76707 2026-04-14T15:27:24Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76709 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] lnunat3qwzr2vwz4exg4offg108akk9 76710 76709 2026-04-14T15:29:03Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76710 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 8zmgif0rhez1upgmg68o47sioa76rpl 76712 76710 2026-04-14T15:34:57Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76712 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 01xa00fdaph69a9wbbbrr03xoz9zhbx 76713 76712 2026-04-14T15:36:58Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76713 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] cmq3ro67tbtxat9v2dkern6c1msy869 76714 76713 2026-04-14T15:50:35Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76714 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] jpc15q3bln0c55cmurbe1vdzyas70k6 76715 76714 2026-04-14T15:55:09Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76715 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] dvymho5kaxbhsv42v2mbdrx1acymb55 76717 76715 2026-04-14T16:13:23Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76717 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] njfduhfekelesq7pteskifip1mnzmo5 76732 76717 2026-04-14T17:55:57Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76732 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] nrxyasdd0jilw0b32tskyamngzbe882 76733 76732 2026-04-14T18:00:11Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76733 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ & এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে। * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] okqxeja246uj5cutz14xnyw0jf5tx1t 76735 76733 2026-04-14T18:03:18Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76735 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিদি, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 1yv3iizggpfukk3pzbo78q5k1bzky0a 76736 76735 2026-04-14T18:07:07Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76736 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * গায়ে হলুদের দিনে রাত তিনটার সময় হঠাৎ শশীকে ওলাউঠায় ধরিল। রোগ উত্তরোত্তর কঠিন হইয়া উঠিতে লাগিল। অনেক চেষ্টার পর নিষ্ফল ঔষধের শিশিগুলা ভূতলে ফেলিয়া ছুটিয়া গিয়া হরিনাথের পা জড়াইয়া ধরিলাম। কহিলাম, “মাপ করো, দাদা, এই পাষগুকে মাপ করো। আমার একমাত্র কন্যা, আমার আর কেহ নাই।” * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিদি, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] enir2eg93xac7o0nz37yb44rwjycc2u 76737 76736 2026-04-14T18:10:03Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76737 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * গায়ে হলুদের দিনে রাত তিনটার সময় হঠাৎ শশীকে ওলাউঠায় ধরিল। রোগ উত্তরোত্তর কঠিন হইয়া উঠিতে লাগিল। অনেক চেষ্টার পর নিষ্ফল ঔষধের শিশিগুলা ভূতলে ফেলিয়া ছুটিয়া গিয়া হরিনাথের পা জড়াইয়া ধরিলাম। কহিলাম, “মাপ করো, দাদা, এই পাষগুকে মাপ করো। আমার একমাত্র কন্যা, আমার আর কেহ নাই।” ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দুর্বুদ্ধি, পূর্ব-বাংলার গল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিদি, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] g7y6bjxrvy2r5m9fxkl904pdn3eqj3m 76738 76737 2026-04-14T18:17:08Z Salil Kumar Mukherjee 39 ট্যাগ বাতিল 76738 wikitext text/x-wiki '''[[:w:কলেরা|কলেরা]]''' বা '''ওলাউঠা''' হলো ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। বাংলা প্রচলিত শব্দে কলেরা রোগটিকে 'ওলাউঠা' বলে। রোগটি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। কলেরার প্রধান উপসর্গ হলো ঘনঘন পাতলা মল ত্যাগ করা। এছাড়াও উপসর্গ হিসাবে থাকতে পারে পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত দেহে জলের মাত্রা কমার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। == উক্তি == * একদিন রাত্রে কলম্বোর একটা পার্কের মধ্যে আমরা দুজনে বেড়া ডিঙিয়ে আশ্রয় নিই। গাছতলার একটা বেঞ্চের উপর শুতে গিয়ে দেখি আর একজন শুয়ে আছে। মানুষের সাড়া পেয়ে সে জল জল করতে লাগলো, চারিদিকে ভয়ানক দুর্গন্ধ বেরিয়েছে,—দেশলাই জ্বেলে তার মুখের পানে তাকিয়েই বোঝা গেল, কলেরা। নীলকান্ত তার শুশ্রূষায় লেগে গেল। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০ * বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল’ রায়,<br>মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।<br>তাই বলি—সাবধান! ক’রো নাকো ধুপ্‌ধাপ্‌,<br>টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্‌চাপ্‌। ** [[সুকুমার রায়]], সাবধান, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৩ * তখনকার দিনে লোকে বিশ্বাস করতে চাইত না যে কলেরা সারানো যায়। কাজেই কলেরার রোগীর শ‍ুশ্র‌ূষা করতে সহজে কেউ এগিয়ে আসত না। এদিক থেকে আমাদের দলটি ছিল সম্পূর্ণ ভয়শূন্য। বলতে গেলে কলেরার ছোঁয়াচ এড়াবার জন্য আমরা কোনো রকম সাবধানতাই অবলম্বন করিনি—এক সঙ্গেই সবাই থাকতাম, খেতাম। রোগের চিকিৎসা আমরা সামান্যই করতে পেরেছিলাম। আমরা পৌঁছবার আগেই অনেক রোগী মারা গিয়েছিল এবং যাদের আমরা শ‍ুশ্র‌ূষা করেছিলাম তাদের মধ্যেও বেশির ভাগই রাঁচেনি। ** [[সুভাষচন্দ্র বসু]], প্রেসিডেন্সি কলেজ (১), ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, ভারত পথিক- সুভাষচন্দ্র বসু, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৩ * নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা?<br/>সকলে বলিল, যাওনা নন্দ, করনা ভায়ের সেবা;<br/> নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই,<br/>না হয় দিলাম কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? ** [[দ্বিজেন্দ্রলাল রায়]], নন্দলাল, হাসির গান - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, শ্রী ইন্দুভূমণ সান্যাল কর্তৃক প্রকাশিত, কলিকাতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩ * এই প্রকার চিন্তা করিয়া আমি শক্তিসাধনের দিকে চাহিলাম ও তাঁহার আপাদ মস্তক বিশেষ করিয়া নিরীক্ষণ করিলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার দাদাকে কেহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করিয়াছে এ সন্দেহ কেন হইল? যখন সকলেই এমন কি আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার পর্য্যন্ত বলিতেছেন যে, তিনি কলেরায় মারা গিয়াছেন, আর যখন বাস্তবিকই এ পল্লিতে ভয়ানক কলেরার উপদ্রব, তখন তিনিও যে ঐ রোগে মারা পরেন নাই, এ অবিশ্বাস আপনার কেন হইল? ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * গায়ে হলুদের দিনে রাত তিনটার সময় হঠাৎ শশীকে ওলাউঠায় ধরিল। রোগ উত্তরোত্তর কঠিন হইয়া উঠিতে লাগিল। অনেক চেষ্টার পর নিষ্ফল ঔষধের শিশিগুলা ভূতলে ফেলিয়া ছুটিয়া গিয়া হরিনাথের পা জড়াইয়া ধরিলাম। কহিলাম, “মাপ করো, দাদা, এই পাষগুকে মাপ করো। আমার একমাত্র কন্যা, আমার আর কেহ নাই।” ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দুর্বুদ্ধি, পূর্ব-বাংলার গল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১ * হঠাৎ একটা দমকা বাতাসের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধটা এমন বিকট হইয়া নাকে লাগিল যে, অসহ্য বোধ হইল। নাকে কাপড় চাপা দিয়া বলিলাম, নিশ্চয় কিছু পচেছে, ইন্দ্র!<br>ইন্দ্র বলিল, মড়া। আজকাল ভয়ানক কলেরা হচ্ছে কিনা। সবাই ত পোড়াতে পারে না—মুখে একটুখানি আগুন ছুঁইয়ে ফেলে দিয়ে যায়। শিয়াল-কুকুরে খায় আর পচে। তারই অত গন্ধ। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), তৃতীয় পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৩৮ * দৈ। "বাপকে আমার মনে নেই আমি ছোট থাকতেই তিনি মারা যান, মা ছিলেন, স্বামী ছিলেন।"<br>ম। তাঁরা এখন কোথায়?<br>দৈ। "ষোল বছর হল হরিদ্বারে কলেরা রোগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।"<br>ম। স্বামী?<br>দৈ। এই ভাঙ্গা বাড়ীর অন্ধকার ঘরে চোখ হাত পা বাঁধা পড়ে আছেন। কথা শুনে বিস্ময়ে মধুমতী যেন হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল; চোখ দুটো বড় বড় করে মেলে অবাক দৃষ্টিতে দৈবপ্রভার মুখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলে উঠল,<br>কাপালিক তোমার স্বামী?<br>দৈ। হাঁ। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ * এ মিলন অধিক দিন স্থায়ী হইল না। কারণ, ইহার অনতিকাল পরেই একদিন প্রাতঃকালে গ্রামবাসিগণ সংবাদ পাইল যে, রাত্রে শশি ওলাউঠো রোগে আক্রান্ত হইয়া মরিয়াছে—এবং রাত্রেই তাহার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেছে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিদি, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১ * কলেরা বসন্ত আর না ঘেঁষে নিকটে।<br>বন্ধ্যানারী পুত্রমুখ হেরে আঁখিপটে॥<br>নির্ধনীর ধন হবে—ঘরে না ধরিবে।<br>ধর্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ চতুর্ব্বর্গ পাবে॥ ** কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৪ * গোলোক হালদার প্রশ্ন করলেন, তোমার শালা দীনেশের খবর কি জয়গোপাল, এখন একটু সামলে উঠেছে? আহা, অমন চমৎকার মানুষ, কি শোকটাই পেল! এক মাসের মধ্যে স্ত্রী আর বড় বড় দুটি ছেলে কলেরায় মারা গেল, আবার কুবের ব্যাংক ফেল হওয়ায় দীনুর গচ্ছিত টাকাটাও উবে গেল। এমন বিপদেও মানষে পড়ে! ** [[রাজশেখর বসু]], দীনেশের ভাগ্য, চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০ * একদিন আমার যেমন অনাদর ও কষ্ট গিয়াছে, কপাল ভাঙিবার পূর্বে বিধাতা কিছু দিনের জন্য আমাকে তেমনি সুখ দিয়াছিলেন। শেষাশেষি আমার স্বামী আমাকে বড়োই আদর ও শ্রদ্ধা করিতেন, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজই করিতেন না। এত সৌভাগ্য আমার সহিবে কেন? কলেরা হইয়া চারি দিনের ব্যবধানে আমার ছেলে ও স্বামী মারা গেলেন। যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয় ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], গোরা, ৩৭ পরিচ্ছেদ, গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯০ * আমাদের বাগদি পাড়ায় একটা টিউবওয়েল করে দিতে পারো বাবা? খালের নোংরা জল খেয়ে সব কলেরায় মরচে। আমার দুটি ছাত্র মারা গিয়েচে। ওরা গরীব, তোমাদের সামনে অভাব অভিযোগ জানাতে পারে না। এই কাজটি তোমার গুরু-দক্ষিণা হবে বাবা, যখন গুরু বলে ডাকলে তখন বলি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৩ * সে কথা আপনিই বুঝিয়া দেখুন। যদি সরকারী ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা করিয়া বলিতেন, হরিসাধন কলেরায় মারা গিয়াছেন, তাহা হইলে কি আপনারা শক্তিকে সহজে ছাড়িয়া দিতেন? তাহার মিথ্যা কথার জন্য কি কোন প্রকার শাস্তি দিতেন না?<br>আ। নিশ্চয়ই তিনি শাস্তি পাইতেন। কিন্তু এখন ত তাঁহার সন্দেহ সত্যে পরিণত হইয়াছে, এখন ত আর তাঁহাকে শাস্তি দেওয়া যাইতে পারে না। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], জ্ঞাতি শত্রু, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯ * মেয়েটি হাত দিয়া চোখের জল মুছিয়া বলিল, হাঁ। আমার বাবার নাম গৌরী তেওয়ারী, আমার দাদার নাম রামলাল তেওয়ারী। তাঁদের তুমি চেনো? আমি তিনমাস শ্বশুরবাড়ী এসেছি—একখানি চিঠিও পাইনে। বাবা, দাদা, মা, গিরিবালা, খোকা কেমন আছে, কিছু জানিনে। ঐ যে অশ্বত্থ গাছ—ওর তলায় আমার দিদির শ্বশুরবাড়ী। ও-সোমবারে দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে—এরা বলে, না—সে কলেরায় মরেছে। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), একাদশ পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫৯ * অসহায়া বালা বুড়ো বাপ তার মর-মর কলেরায়<br>হাতে কড়ি নাই ডাক্তার তবু ওষুধের দামই চায়!<br>বাপ তার হেসে ডাকিয়া বসাল’ মেয়েরে নিজের কাছে,<br>কহিল—রে বেটি, মরণ-রোগের কিছু কি ওষুধ আছে? ** কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, গাঁয়ের মেয়ে, চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাগচী এণ্ড সন্স্, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪ * করুণাময়ীর করুণ-সিন্ধু উথলিয়া উঠিল। ব্যস্ত হইয়া কলসী করিয়া জল আনিয়া পীড়িতের মুখে দিলেন। সঙ্গিনীরা নিতান্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, “সাধ করে মরণের ইচ্ছা! ওলাউঠা রোগীকে কি কখন ছুঁইতে হয়!” হৈমবতী বলিলেন, “মানুষ যদি এমন অবস্থায় মানুষকে পরিত্যাগ করে, তবে তাহার মনুষ্যত্ব কি?—আহা বেচারার কি কষ্টই না হচ্ছে!” ** বিধুভূষণ বসু, লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু, নবম পরিচ্ছেদ, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮ * মুখে-চোখে অনিদ্রার চিহ্ন লইয়া রণেন্দ্র ঘরের বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতে তাহার স্ত্রী বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিল। তাড়াতাড়ি তাহার হাত ধরিয়া বলিল, “ওগো, খোকার কি হয়েছে, দেখবে এস!”<br>রণেন্দ্র বলিল, “কি হয়েচে?”<br>লীলা হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, “বোধ হয়—বোধ হয়— কলেরা! অমন করে দাঁড়িয়ে থেকো না-বাছা একেবারে নেতিয়ে পড়েচে।”<br>অত্যন্ত বিপন্নভাবে রণেন্দ্র আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। ** [[হেমেন্দ্রকুমার রায়]], যশের মূল্য, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক- বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭ * আমি বললুম—এ বয়সে আপনি আর চাকুরি কেন করেন?<br>—না ক’রে কি করি বলুন? বড় ছেলেটি উপযুক্ত হয়েছিল, আজ বছর দুই হ’ল কলেরা হয়ে মারা গেল। তার সংসার আমারই ওপর, নাতনীটির বিয়ে দিতে হবে আর কিছুদিন পরেই। পয়সা আগে যা রোজগার করেছি, হাতে রাখতে পারিনি। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ, জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২ * একজন নরুইজিয়ান থীস্ট অর্থাৎ ব্রাহ্ম একবার কলকাতায় আসেন। গরীব, অর্থসম্বল বিশেষ নেই। আমাকে বলে তাকে আমায় ফ্রেঞ্চ পড়াবার জন্যে রাখালেন। কিছুদিন পরে কঠিন কলেরা হল তার। সেই সময় সরলা রায় তাকে যেভাবে নার্স করলেন—না দেখলে অনুমান করা যায় না। বেচারাকে কিন্তু বাঁচাতে পারলেন না। ** [[সরলা দেবী চৌধুরানী]], জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ বার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭ * কলিকাতা আসিয়া ভ্রাতা আমাকে বলিল, “দাদা! আমার একটু মাথা ধরিয়াছে।” আমি তাহাকে একটী ঔষধ দিয়া বলিয়া দিলাম, “ইহাতে তোমার মাথা ধরা ভাল হইবে।” ঔষধ খাইতে খাইতেই তাহার ভেদবমি আরম্ভ হইল। সকলেই বলিল, “ইহার কলেরা হইয়াছে।” আমিও তাহাই বলিলাম। একজন প্রধান ইংরাজ ডাক্তারকে ডাকিয়া আনিলাম, তাহাকেও কলেরা বলিয়া বুঝাইলাম; তিনিও ভাল করিয়া দেখিলেন না। ডাক্তারগণ প্রায়ই কলেরা রোগীর নিকট না যাইয়া দূর হইতেই অবস্থা শুনিয়া ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া চলিয়া যান। ইনিও তাহাই করলেন। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ডাক্তার বাবু, চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩ * ম। হরিদ্বারে গিয়াছিলেন কেন?<br>দৈ। মনের দুঃখে মা আমাকে নিয়ে তীর্থ করতে বেরলেন, হরিদ্বার পৌঁছে কলেরায় তাঁর মৃত্যু হল, আমি পিতাজীর হাতে পড়ে বেঁচে গেলুম।<br>ম। যোগী মহারাজকে তুমি পিতাজী বলতে?<br>দৈ। হাঁ, তিনি আমার শিক্ষাদাতা, জ্ঞানদাতা, পিতা, গুরু; আবার আর একদিকে সন্তান তুল্য। তাঁর আশ্চর্য্য স্নেহ ছিল মানুষের উপরে। ** [[হেমলতা দেবী]], কাপালিকের কপাল, দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৫ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Cholera}} [[বিষয়শ্রেণী:বিজ্ঞান]] [[বিষয়শ্রেণী:রোগ-ব্যাধি]] 8dbjryjumd27jw2zec2e5jresw9fjmq ব্যবহারকারী আলাপ:Anaf Ibn Shahibul 3 11922 76723 76534 2026-04-14T17:25:54Z Mehedi Abedin 50 /* অম্লান দত্ত */ উত্তর 76723 wikitext text/x-wiki == অম্লান দত্ত == পাতাটির বিন্যাস ঠিক নেই। উইকিউক্তির নিবন্ধের বিন্যাস উইকিপিডিয়ার থেকে আলাদা। এখানে আমরা প্রতিটি উক্তির নিচে দুটি বুলেট পয়েন্ট দিয়ে সেটির সূত্র সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করি। বিন্যাস ঠিক করে আমাকে জানালে আমি দেখে গ্রহণ বা বর্জন করবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৯:০৪, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] দুঃখিত আমি এই সম্পর্কে জানতাম না। আমি এটা সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পর্যালোচনা করুন। ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১০, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] পাতাটি আবার পড়েছি। তবে উক্তির সূত্রগুলোর পৃষ্ঠা সংখ্যা দেওয়া নেই কিংবা লিংক দেওয়া নেই। যেহেতু যাচাই করা সম্ভব হচ্ছেনা, তাই নিবন্ধটি গ্রহণ করার জন্য সূত্রগুলো সুস্পষ্ট করতে সেগুলোর সাথে পৃষ্ঠা বা লিংক দেওয়া প্রয়োজন। একটা প্রশ্ন, আপনি সূত্রগুলো কিভাবে পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৩৫, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] প্রথমে আমি গুগল সার্চের এআই মোড ব্যবহার করেছিলাম। তবে বর্তমানে একদম সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র যুক্ত করেছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:৪৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[অম্লান দত্ত]] নিবন্ধটিতে commonscat|Amlan Datta নাই তো এটা দেওয়া প্রয়োজন নাই। [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন|মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:মোহাম্মদ জনি হোসেন|আলাপ]]) ১৩:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] কমন্স বিষয়শ্রেণীটি আছে তবে সেখানে কোনো মিডিয়া নেই। তবে অপসারণ করেছেন, ঠিক আছে। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৮:০৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] ধন্যবাদ। এআই অধিকাংশ ক্ষেত্রে উক্তি বানিয়ে দেয়। তাই উক্তির জন্য সরাসরি এআই ব্যবহার অনুচিত। তবে একটা প্রশ্ন, পাতায় দুটি উক্তির জন্য আপনি "For Democracy (৩য় সংস্করণ)। কলকাতা: The Minerva Associates" সূত্রটি উদ্ধৃত করেছেন। যেহেতু আপনি আগে এআই ব্যবহার করেছিলেন তাই আমাকে জানতে হবে এই বই আপনি কিভাবে পেয়েছেন। আপনি কি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করেছেন বা পড়েছেন নাকি অন্য কোনো ভাবে পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৪৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] বইটি অনলাইন করে পিডিএফ ডাউনলোড করে পেয়েছি। সম্পূর্ণ পড়ে যুক্ত করেছি। [https://ia801402.us.archive.org/18/items/in.ernet.dli.2015.90063/2015.90063.For-Democracy.pdf লিংক]। আর এআই এর ভুল তথ্যের কারণে এবার আমি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র যোগ করেছি — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৮:০৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] যেহেতু আপনি নতুন তাই এই বিবেচনায় পাতাটি গ্রহণ করলাম৷ এরপর থেকে প্রতিযোগিতায় এআই ব্যবহার করে পাতা তৈরি করবেন না। তবে অনুবাদ করতে পারবেন, কিন্তু পর্যাপ্ত সংশোধন করে নিতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:০৮, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আপনি বর্ণনায় গ্রহণ করেছেন লিখেছেন তবে গ্রহণ করেননি। [https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 এখানে দেখুন]। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] ভুলবশত বাদ পড়ে গিয়েছিল। এখন গ্রহণ করেছি। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == দিমিত্রি মুরাতভ == [[দিমিত্রি মুরাতভ]] নিবন্ধটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ, জমদানের পূর্বে নিবন্ধটি ভালোভাবে দেখুন। ওপর থেকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিভিন্ন চিহ্ন পাল্টে গেছে। "→' হয়ে গেছে ইত্যাদি। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৫:২২, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ইংরেজি উইকিউক্তিতেও এটি সংক্ষিপ্ত ছিল এবং আমি "→"-এমন কোনো চিহ্নই দেখছি না। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিবন্ধটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৬:২৩, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::"→"- বলতে বুঝিয়েছ, যেমন '''“enemies of the people.”''' হয়ে গেছে ''''জনগণের শত্রু।''''। ::অর্থাৎ double quote হয়ে গেছে single quote। এগুলো সাধারনত '''যান্ত্রিক অনুবাদের''' ক্ষেত্রে হয়। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০০:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] সংশোধন করা হয়েছে — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৩:৫৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] সংশোধনের পরও অনেক ভুল রয়ে গিয়েছিল। যেমন- সূত্রর ফরম্যাট, অনেক উক্তি অসলের চেয়ে সংক্ষিপ্ত। ::::যাই হোক, আমি সংশোধন করে গ্রহণ করে নিয়েছি। আপনি খেয়াল করুন আমি কিভাবে সুত্রগুলো সংশোধন করেছি, পরবর্তীতে ওই ফরম্যাট অনুসরণ করবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ০৬:৩৯, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::::@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] আমি উইকিউক্তি সম্পর্কে বেশি কিছু জানতাম না। তাই ভুল হয়েছে। দুঃখিত। এরপরের নিবন্ধগুলো আরো মানসম্মত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অখিলচন্দ্র দত্ত == সুধী, [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] নিবন্ধের অধিকাংশ উক্তির সূত্র নেই, যেগুলোর আছে সেগুলোর সূত্র সুস্পষ্ট নয়। আপনি উক্তিগুলো কিভাবে পেয়েছেন আর কোথায় পেয়েছেন? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৯:৫১, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করা হয়েছে! — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:০১, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == যান্ত্রিক অনুবাদ == @[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] আপনার অনুবাদকৃত নিবন্ধগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় যান্ত্রিক অনুবাদের সাধরনতম বৈশিষ্টগুলো বিদ্যমান। নতুন নিবন্ধ আপাতত তৈরি না করে অনুগ্রহ করে সেগুলো প্রথমে সংশোধন করুন।<br>অন্যথায় [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#১. এআই ও মেশিন ট্রান্সলেশন নীতি|পর্যালোচনা নীতিমালা]] অনুসারে আপনাকে প্রতিযোগিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ২৩:০৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :[[রবার্ট জে. শিলার]] সংশোধন করেছি। বাকিগুলোও শিঘই সংশোধন করে জানাব। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:২০, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] - [[জন চার্লস পোলানি]], [[লেয়োঁ ফুকো]] ও [[এ. সি. বেনসন]] নিবন্ধগুলো সংশোধিত হয়েছে। পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[লেয়োঁ ফুকো]] নিবন্ধের প্রথম উক্তি <code>''সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে, এবং এটি এমন একটি বাধ্যবাধকতা যা আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পূরণ করতে চাই।''</code> কিভাবে অর্থপূর্ণ হয়? '''তাড়াহুড়ো করবেন না''', খুঁটিয়ে দেখবেন। প্রতিযোগিতার [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পর্যালোচনা নীতিমালা#২. পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতা|নিয়ম অনুযায়ী একটি নিবন্ধ ২বারের বেশি পর্যালোচনা করা যাবে না]]।</br>যাই হোক, আমি ঠিক করে দিয়েছি, এবং অন্যান্য সমস্যাগুলোও ঠিক করে দিয়েছি। আমার পরিবর্তনগুলো দেখুন এবং পরবর্তী অনুবাদে সেগুলো খেয়াল রাখবেন। [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৪:৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == 01762168902 == 111000 [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-21999-52|&#126;2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:০৮, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-21999-52|&#126;2026-21999-52]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-21999-52|আলাপ]]) ১৬:১০, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:~2026-21999-52|~2026-21999-52]] কি বলতে চাচ্ছেন? বলুন। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:১৭, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ফ্রান্সিস কলিন্স == [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] পাতায় ফিনিশিং দেওয়া নেই৷ অনেক উক্তির জন্য উদ্ধৃত সূত্রের লিংক করা হয়নি। এগুলো ঠিক করে আমাকে জানান। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:০১, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমি এটিকে সংশোধন করেছি। তবে ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেও ফিনিশিং ঠিকভাবে ছিল না। তবে সূত্রগুলো যুক্ত করেছি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৮:১৩, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:২১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == vloনি? == [[ইভো আন্দ্রিচ]] [[ইভো আন্দ্রিক]] নামে ২টি পাতা!<br>[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১০:৩৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] আপনার কথা বুঝলাম না। তবে [[ইভো আন্দ্রিক]] পাতাটি এখন [[ইভো আন্দ্রিচ]] পাতায় পুনঃনির্দেশিত করা হয়েছে। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১১:১১, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) img8e6pz1albjnrq4u3oqrp6csbqo18 ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023 3 11925 76917 76343 2026-04-15T10:47:51Z JIBON 2570 বিজ্ঞপ্তি: [[ক্যনুট হামসুন]] এর দ্রুত অপসারণ প্রস্তাবনা ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76917 wikitext text/x-wiki == ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড == নিবন্ধটির কিছু বাক্য ও শব্দ পড়ে মনে হয় ভুলভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। পাতাটি ভালো করে পড়ে বুঝে বুঝে প্রয়োজন সংশোধন করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৯:১২, ২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :আমি বেশ কয়েক বার অনুবাদ টি পড়লাম আমার কিন্তু সেরকম কোনো ত্রুটি মনে হয় নি। আপনি যদি প্যারাগ্রাফ উল্লেখ করে বলে দেন আপনার কোথায় ত্রুটি মনে হয়েছে তাহলে সংশোধন করতে সুবিধা হবে। :ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ০২:৩৪, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] অনুগ্রহ করে আমার উত্তর টি দেখবেন । আগেরবার আপনাকে মেনশন করতে ভুলে গিয়েছিলাম। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ১৬:৩৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] কিছু উক্তির বাক্য ইংরেজির আদলে সাজানো বিধায় বিভ্রান্তিকর লাগে। বড় রকমের পরিবর্তন না করে এগুলো ঠিক করা উচিত। যেসব উক্তিগুলোতে কমার অত্যাধিক ব্যবহার আছে সেগুলো খেয়াল করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:৫৮, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য অনুরোধ রইল। :::ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ০৩:৩৬, ৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == অড্রে হেপবার্ন == [[অড্রে হেপবার্ন]] পাতাটিতে ভালোভাবে ফিনিশিং দেওয়া প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৩:২১, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023#top|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ::@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == 822 == [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026aas-22075-08|&#126;2026-22075-08]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22075-08|আলাপ]]) ০৮:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == [[:ক্যনুট হামসুন]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:ক্যনুট হামসুন]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। কোন উপাদান (বা উক্তি) নেই এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:ক্যনুট হামসুন|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১০:৪৭, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) lnmumfnzyz53rxrrb4plc7o4jd6o6lw আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস 0 11988 76671 75223 2026-04-14T12:46:17Z MdsShakil 6 76671 wikitext text/x-wiki [[File:Alfred-Russel-Wallace-c1895.jpg|thumb|আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (প্রায় ১৮৯৫)]] '''আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস''', ওএম, এফআরএস (৮ জানুয়ারি ১৮২৩ –৭ নভেম্বর ১৯১৩) ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ, অভিযাত্রী, ভূগোলবিদ, নৃবিজ্ঞানী এবং জীববিজ্ঞানী। তিনি স্বাধীনভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ প্রস্তাব করেছিলেন "মূল প্রকার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রস্থান করার প্রবণতা সম্পর্কে"। তার এই কাজ চার্লস ডারউইন কে নিজের আরও উন্নত ও গবেষণালব্ধ তত্ত্বটি পরিকল্পিত সময়ের আগেই প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেছিল। ওয়ালেসকে অনেক সময় "জীবভূগোলের জনক" বলা হয়। == উক্তি == * '''প্রতিটি প্রজাতি মহাকাশ ও সময় উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী একটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত প্রজাতির সাথে সহাবস্থান করে অস্তিত্ব লাভ করেছে।''' ** "অন দ্য ল্য হুইচ হ্যাজ রেগুলেটেড দ্য ইন্ট্রোডাকশন অব নিউ স্পিসিস" (১৮৫৫)। * পাকা ফলের গন্ধ শুরুতে অবশ্যই অপ্রীতিকর, যদিও গাছ থেকে নতুন ঝরে পড়লে তা কিছুটা কম মনে হয়; কারণ পাকার মুহূর্তেই এটি নিজে থেকে ঝরে পড়ে। ডুরিয়ান পূর্ণ স্বাদে খাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ঝরে পড়ার সাথে সাথে তা সংগ্রহ করা। [[ডুরিয়ান|ডুরিয়ানকে]] সব ফলের সেরা বলা হয়তো ঠিক হবে না, কারণ এটি কমলা, আঙুর, আম বা ম্যাঙ্গোস্টিনের মতো অম্লীয় রসালো ফলের বিকল্প হতে পারে না, যাদের সতেজ ও শীতল করার গুণ অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক; তবে সবচেয়ে চমৎকার স্বাদের খাবার হিসেবে এটি অতুলনীয়। '''আমি যদি এই দুই শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কেবল দুটি ফলকে বেছে নিতাম, তবে আমি অবশ্যই ডুরিয়ান এবং কমলাকে ফলের রাজা ও রানী হিসেবে নির্বাচন করতাম।''' ** স্যার [[উইলিয়াম জ্যাকসন হুকার|উইলিয়াম জ্যাকসন হুকারকে]] লেখা চিঠি, (১৮৫৬ বা তার আগে)। * বাজপাখি এবং বিড়াল-জাতীয় প্রাণীদের শক্তিশালী ও সঙ্কোচনশীল নখর সেই প্রাণীদের ইচ্ছায় তৈরি বা বৃদ্ধি পায়নি; বরং এই গোষ্ঠীগুলোর প্রাথমিক ও কম উন্নত কাঠামোর বিভিন্ন বৈচিত্র্যের মধ্যে তারাই সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকত, যাদের শিকার ধরার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ছিল। জিরাফও উঁচু ঝোপঝাড়ের পাতা খাওয়ার ইচ্ছা থেকে বা ক্রমাগত ঘাড় প্রসারিত করার মাধ্যমে লম্বা ঘাড় লাভ করেনি। বরং তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যাদের ঘাড় স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা ছিল, তারা তাদের খাটো ঘাড়ের সঙ্গীদের তুলনায় একই চারণভূমিতে নতুন পাল্লার খাবার নিশ্চিত করতে পেরেছিল এবং খাবারের প্রথম সংকটের সময় তারাই টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিল। [...] আমরা বিশ্বাস করি আমরা এখন দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, প্রকৃতিতে নির্দিষ্ট শ্রেণির বৈচিত্র্যের মধ্যে মূল ধরন থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাওয়ার একটি প্রবণতা রয়েছে—যে অগ্রগতির কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করার কারণ দেখা যায় না। প্রকৃতিতে যে নীতি এই ফলাফল তৈরি করে, সেটিই ব্যাখ্যা করবে কেন গৃহপালিত বৈচিত্র্যগুলোর মধ্যে মূল ধরনে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। '''বিশ্বাস করা হয় যে, ক্ষুদ্র পদক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন দিকে এই অগ্রগতি—যা সর্বদা প্রয়োজনীয় শর্তাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ এবং যার মাধ্যমেই কেবল অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব—অনুসরণ করলে তা সংগঠিত প্রাণীদের প্রদর্শিত সমস্ত ঘটনা, অতীত যুগে তাদের বিলুপ্তি ও উত্তরাধিকার এবং তাদের গঠন, প্রবৃত্তি ও অভ্যাসের সমস্ত অসাধারণ পরিবর্তনের সাথে মিলে যায়।''' ** "অন দ্য টেন্ডেন্সি অব ভ্যারাইটিস টু ডিপার্ট ইনডেফিনিটলি ফ্রম দ্য অরিজিনাল টাইপ" (১৮৫৮)। * আমি মনে করি আমি উভয় পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে শুনেছি এবং বিবেচনা করেছি। আপনি যেগুলোকে সবচেয়ে পবিত্র সত্য বলে মনে করেন, সেগুলোর প্রায় সবকিছুর প্রতিই আমি সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী রয়ে গেছি। [...] '''আমি সব ধর্মের মধ্যেই প্রশংসনীয় অনেক কিছু দেখতে পাই''' [...] '''তবে ঈশ্বর আছেন কি না এবং তাঁর স্বরূপ যা-ই হোক; আমাদের অমর আত্মা আছে কি না অথবা মৃত্যুর পর আমাদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, প্রকৃতি অধ্যয়ন এবং সত্য অনুসন্ধানের জন্য আমাকে কষ্ট পেতে হবে—এমন কোনো ভয় আমার নেই।''' ** এক আত্মীয়কে লেখা চিঠি, (১৮৬১)। * "প্রজাতির উৎপত্তি" প্রশ্নে মিস্টার হটন বেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তবে তাঁর প্রধান যুক্তিগুলো "তিনটি অগ্রহণযোগ্য অনুমানের" ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তিনি ল্যামার্কবাদী এবং ডারউইনবাদীদের ওপর আরোপ করেছেন এবং তারপর তাঁর নিজের ভাষায়, "শিশুর তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।" এর প্রথমটি হলো "''একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রজাতির অবিচ্ছিন্ন অনির্দিষ্ট পরিবর্তন।''" এখন এটি নিশ্চিতভাবেই মিস্টার ডারউইন কখনো অনুমান করেননি, যার যুক্তি মূলত এই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে পরিবর্তন ''সব দিকেই'' ঘটে। এটি এতটাই স্পষ্ট যে এর ওপর জোর দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই। প্রতিটি বড় পরিবারে প্রায় সব সময়ই দেখা যায় যে কোনো একটি শিশু অন্য সবার চেয়ে লম্বা, কেউ বেশি শ্যামবর্ণ বা কেউ বেশি রোগা; একজনের নাক বড় হতে পারে, অন্য কারো চোখ বড় হতে পারে। তারা নৈতিকভাবেও ভিন্ন হয়; কেউ হয়তো বেশি কাব্যিক, কেউ বেশি বিষণ্ণ; কারো গণিতে প্রতিভা থাকে, কারো চিত্রকলায়। প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এটি একই রকম: এক লিটারের কুকুরছানা, বিড়ালছানা বা খরগোশগুলো একে অপরের থেকে অনেক দিক দিয়ে আলাদা হয়—রঙে, আকারে, স্বভাবে; তাই তারা যদিও "''এক দিকে অবিচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তিত''" হয় না, তবে '''তারা অনেক দিকেই অবিচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়; এবং এভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাজ করার জন্য সর্বদা এমন কোনো উপাদানের উপস্থিতি থাকে যা সুবিধাজনক হতে পারে।''' [...] পরিশেষে আমি এখান থেকে একটি ছোট অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করব যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য ধারণ করে, তবে এটি লেখকের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য ক্ষেত্রেও খুব ভালোভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে: — "প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে কোনো উন্নতি সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ সত্যের জন্য তাদের স্থূল অনুমানগুলোকে সত্য বলে ধরে নেবে এবং তাদের কল্পনার খেয়ালগুলোকে যুক্তির সুশৃঙ্খল নিয়মের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাবে।" ** "রিমার্কস অন দ্য রেভারেন্ড এস. হটন্স পেপার অন দ্য বিজ সেল, অ্যান্ড অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস" (১৮৬৩)। * আমি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংগ্রহে থাকা দক্ষিণ আমেরিকার ''[নিওকোসাইটিয়াস] আরও পরিষ্কার''-এর একটি নমুনার শুঁড় যত্ন সহকারে পরিমাপ করেছি এবং এটি সোয়া নয় ইঞ্চি লম্বা পেয়েছি! ক্রান্তীয় আফ্রিকার একটির (''[জ্যান্থোপান] মর্গ্যানি'') শুঁড় সাড়ে সাত ইঞ্চি। দুই বা তিন ইঞ্চি লম্বা শুঁড় বিশিষ্ট একটি প্রজাতি ''ইংরেজি সেসকুইপেডাল''-এর সবচেয়ে বড় ফুলগুলোর নেক্টারে পৌঁছাতে পারবে, যার নেক্টারিগুলোর দৈর্ঘ্য দশ থেকে চৌদ্দ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। '''মাদাগাস্কারে [[ক্ষান্তোপান মর্গানি|এমন একটি মথ]] যে বিদ্যমান তা নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে'''; এবং যেসব প্রকৃতিবিদ ওই দ্বীপ ভ্রমণ করবেন, তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের [[নেপচুন|নেপচুন]] গ্রহ খোঁজার মতো আত্মবিশ্বাস নিয়েই এটি খোঁজা উচিত—এবং তারা সমানভাবে সফল হবেন! ** "ক্রিয়েশন বাই ল"। ''কোয়ার্টারলি জার্নাল অব সায়েন্স'' ৪: ৪৭০–৪৮৮ (১৮৬৭); মাদাগাস্কারের এই হকমথটি পরবর্তীতে ১৯০৩ সালে পাওয়া যায় এবং ওয়ালেসের উক্তির প্রেক্ষিতে এর ট্যাক্সন নাম ''ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে'' রাখা হয়। * ডারউইনের সাথে আমার সর্বশেষ কথোপকথনগুলোর একটিতে তিনি মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বিষণ্ণতা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল যে আমাদের আধুনিক সভ্যতায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের কোনো ভূমিকা নেই এবং সবচেয়ে যোগ্যরা টিকে থাকছে না। যারা সম্পদের দৌড়ে সফল হয় তারা কোনোভাবেই সেরা বা সবচেয়ে বুদ্ধিমান নয়। এটি সবারই জানা যে আমাদের জনসংখ্যা মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের তুলনায় নিম্নবিত্তের মাধ্যমে প্রতিটি প্রজন্মে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ** [[উইকিসোর্স:পপুলার_সায়েন্স_মান্থলি/ভলিউম_৩৮/নভেম্বর_১৮৯০/হিউম্যান_সিলেকশন|হিউম্যান সিলেকশন]], পপুলার সায়েন্স মান্থলি, ভলিউম ৩৮ (নভেম্বর ১৮৯০) পৃষ্ঠা ৯৩। ** (৮ আগস্ট ১৯৯৫-এর ''[[অ্যাওয়েক!|অ্যাওয়েক!]]'' ম্যাগাজিনের ''ইভোল্যুশন অ্যান্ড ইউ'' নিবন্ধে এটি ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে)। * তিনি [প্রকৃতিবিদ] প্রতিটি জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতিকে আমাদের পৃথিবীর ইতিহাসের একটি খণ্ড তৈরি করা একেকটি স্বতন্ত্র বর্ণের মতো দেখেন; এবং যেমন কিছু হারানো বর্ণ একটি বাক্যকে অবোধ্য করে তুলতে পারে, তেমনি চাষাবাদের অগ্রগতির ফলে অসংখ্য প্রাণের বিলুপ্তি অনিবার্যভাবে অতীতের এই অমূল্য রেকর্ডকে অস্পষ্ট করে দেবে। ** (১৮৬৩) "অন দ্য ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি অব দ্য মালয় আর্চিপেলাগো।" দ্য জার্নাল অব দ্য রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন ৩৩:২১৭-২৩৪। ===''দ্য মালয় আর্চিপেলাগো'' (১৮৬৯)=== * উদ্ভিদের বিষয়ে থাকাকালীন আমি এখানে বোরনিওর আরও কিছু আকর্ষণীয় উদ্ভিদজাত পণ্যের কথা উল্লেখ করতে পারি। উদ্ভিদবিদদের ''নেপেন্থেস'' গণের অন্তর্ভুক্ত বিস্ময়কর কলস উদ্ভিদগুলো এখানে তাদের সর্বোচ্চ বিকাশ লাভ করেছে। প্রতিটি পাহাড়ের চূড়ায় এদের প্রচুর দেখা যায়, যারা মাটির ওপর দিয়ে ছড়িয়ে থাকে অথবা ঝোপঝাড় ও ছোট গাছে আরোহণ করে; তাদের সুন্দর কলসগুলো সব দিকে ঝুলে থাকে। এগুলোর মধ্যে কিছু দীর্ঘ ও সরু, যা দেখতে ফিলিপাইনের সুন্দর লেস-স্পঞ্জের (''ইউপ্লেক্টেলা'') মতো। অন্যগুলো চওড়া ও ছোট। এগুলোর রঙ সবুজ, যার ওপর লাল বা বেগুনি রঙের বিভিন্ন আভা ও ছোপ থাকে। এ পর্যন্ত জানা সবচেয়ে সেরা প্রজাতিগুলো উত্তর-পশ্চিম বোরনিওর কিনি-বালু পর্বতের চূড়ায় পাওয়া গেছে। চওড়া ধরনের একটি প্রজাতি, ''[[নেপেন্থেস রাজা]]'', তার কলসে দুই কোয়ার্ট পানি ধরে রাখতে পারে। অন্য একটি প্রজাতি, ''নেপেন্থেস এডওয়ার্ডসিয়ান''-এর কলস বিশ ইঞ্চি লম্বা; আর গাছটি নিজেই বিশ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। * আমি অতীতের সেই দীর্ঘ যুগের কথা ভেবেছি যখন এই ক্ষুদ্র প্রাণীর ধারাবাহিক প্রজন্মগুলো তাদের জীবন অতিবাহিত করেছে—বছরের পর বছর এই অন্ধকার ও বিষণ্ণ বনের মধ্যে তাদের জন্ম, জীবন এবং মৃত্যু হয়েছে। তাদের এই সৌন্দর্য দেখার মতো কোনো বুদ্ধিমান চোখ ছিল না; যা আপাতদৃষ্টিতে সৌন্দর্যের এক অপচয় বলে মনে হয়। এমন চিন্তা মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে। এটি একদিকে দুঃখজনক যে এমন চমৎকার প্রাণীদের তাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয় এবং তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে হয় কেবল এই বন্য ও প্রতিকূল অঞ্চলে, যা আগামী যুগের জন্য এক আশাহীন বর্বরতায় দণ্ডিত; অন্যদিকে যদি সভ্য মানুষ কখনো এই দূরবর্তী দেশগুলোতে পৌঁছায় এবং এই কুমারী অরণ্যের গভীরে নৈতিক, বৌদ্ধিক ও শারীরিক আলো নিয়ে আসে, তবে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে সে জৈব ও অজৈব প্রকৃতির এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে এতটাই বিঘ্নিত করবে যে এই প্রাণীদের অন্তর্ধান এবং শেষ পর্যন্ত বিলুপ্তি ঘটবে, যাদের চমৎকার গঠন ও সৌন্দর্য উপভোগ করার যোগ্যতা কেবল তার একারই ছিল। এই বিবেচনা আমাদের অবশ্যই বলে দেয় যে সমস্ত জীবন্ত জিনিস মানুষের জন্য তৈরি করা হয়নি। তাদের অনেকের সাথে মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের বৌদ্ধিক বিকাশের প্রতিটি অগ্রগতির দ্বারা তাদের অস্তিত্বের চক্র স্বাধীনভাবে চলেছে এবং বিঘ্নিত বা চূর্ণ হয়েছে। তাদের সুখ ও আনন্দ, ভালোবাসা ও ঘৃণা, অস্তিত্বের সংগ্রাম, তাদের জোরালো জীবন এবং অকাল মৃত্যু কেবল তাদের নিজেদের কল্যাণ ও ধারাবাহিকতার সাথেই সরাসরি সম্পর্কিত বলে মনে হয়, যা কেবল অসংখ্য অন্যান্য জীবের সমান কল্যাণ ও ধারাবাহিকতা দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের সাথে তারা কমবেশি নিবিড়ভাবে যুক্ত। * আমরা আমাদের দেশের মাটির ওপর নিরঙ্কুশ মালিকানা অনুমোদন করি, অথচ যারা এর মালিক নয় সেই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য এই মাটিতে অস্তিত্বের কোনো আইনি অধিকার রাখি না। একজন বড় ভূমিমালিক আইনত তার পুরো সম্পত্তিকে বনে বা শিকারের ভূমিতে রূপান্তর করতে পারেন এবং এতদিন সেখানে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষকে বহিষ্কার করতে পারেন। ইংল্যান্ডের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেখানে প্রতি একর জমির একজন মালিক ও দখলদার রয়েছে, সেখানে এটি সহমানুষকে আইনত ধ্বংস করার একটি ক্ষমতা; এবং এই ধরনের ক্ষমতার অস্তিত্ব থাকা এবং ব্যক্তিদের দ্বারা তা প্রয়োগ করা (তা যত সামান্য মাত্রায়ই হোক না কেন) নির্দেশ করে যে প্রকৃত সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা এখনও বর্বর অবস্থায় আছি। ** ''লাস্ট ওয়ার্ডস'', পরবর্তী সংস্করণগুলোর সংযোজনী। ==আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস সম্পর্কে উক্তি== * 'আমরা এখন এমন এক প্রাণিহীন বিশ্বে বাস করছি যেখান থেকে বিশাল, হিংস্র এবং অদ্ভুত সব প্রাণীরা সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে,' ১৮৭৬ সালে ডারউইনের প্রতিদ্বন্দ্বী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এই পর্যবেক্ষণটি করেছিলেন। **[[গ্রেটা থুনবার্গ|গ্রেটা থুনবার্গের]] সম্পাদনায় (২০২২) ''[[দ্য ক্লাইমেট বুক|দ্য ক্লাইমেট বুক]]''-এ [[এলিজাবেথ কোলবার্ট]]** * আইফেল টাওয়ার যদি পৃথিবীর বয়সের প্রতীক হয়, তবে এর চূড়ার রংয়ের একটি প্রলেপ হবে মানুষের যুগের সমান। এবং যে কেউ বুঝতে পারবে যে ওই সামান্য রংয়ের প্রলেপটির জন্যই পুরো টাওয়ারটি তৈরি করা হয়নি। ** [[মার্ক টোয়েন]], "পৃথিবী কি মানুষের জন্য তৈরি?" (১৯০৩), ওয়ালেসের বই 'মহাবিশ্বে মানুষের স্থানের' সমালোচনা। ==আরও দেখুন== * [[চার্লস ডারউইন]] == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} {{কমন্স|Alfred Russel Wallace}} *[http://www.worldwideschool.org/library/books/geo/travel/TheMalayArchipelagoVolume1/toc.html আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস, ''দ্য মালয় আর্চিপেলাগো''] * {{গুটেনবার্গ লেখক| id=Alfred+Russel+Wallace | name=আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস}} *[http://www.wku.edu/~smithch/index1.htm ''দ্য আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস পেজ''] *[http://www.nhm.ac.uk/nature-online/collections-at-the-museum/wallace-collection/evolution.jsp ওয়ালেস সংগ্রহ - বিবর্তন], [[ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম|ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের জীববিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের নৃবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের ভূগোলবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের প্রকৃতিবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:একেশ্বরবাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের অকল্পিত সাহিত্য লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:অলঙ্করণশিল্পী]] [[বিষয়শ্রেণী:সমাজতান্ত্রিক]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের সক্রিয়কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৮২৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯১৩-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো]] [[বিষয়শ্রেণী:ওয়েলসের অভিযাত্রী]] d252ss2blz45lzj4vx4f055vkjix97o ব্যবহারকারী আলাপ:Ridoy Khan Rid 3 12112 76763 74183 2026-04-14T22:19:34Z NguoiDungKhongDinhDanh 903 [[Special:Contributions/Ridoy Khan Rid|Ridoy Khan Rid]] ([[User talk:Ridoy Khan Rid|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:অভ্যর্থনা কমিটি বট|অভ্যর্থনা কমিটি বট]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে 74182 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় Ridoy Khan Rid,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২৩:১৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) mskaphatgxri96arniuyppgd0se3h23 76771 76763 2026-04-14T22:32:35Z Ridoy Khan Rid 4565 /* senior news video editor [Ridoy Khan Rid| */ নতুন অনুচ্ছেদ 76771 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় Ridoy Khan Rid,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২৩:১৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == senior news video editor [Ridoy Khan Rid| == @ridoykhanrid [[ব্যবহারকারী:Ridoy Khan Rid|Ridoy Khan Rid]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Ridoy Khan Rid#top|আলাপ]]) ২২:৩২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) lwlvyqsfas85pjqcrr2pea0ss947cqq 76772 76771 2026-04-14T22:33:32Z Ridoy Khan Rid 4565 /* senior news video editor [Ridoy Khan Rid| */ উত্তর 76772 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় Ridoy Khan Rid,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২৩:১৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == senior news video editor [Ridoy Khan Rid| == @ridoykhanrid [[ব্যবহারকারী:Ridoy Khan Rid|Ridoy Khan Rid]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Ridoy Khan Rid#top|আলাপ]]) ২২:৩২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) :[[Ridoy Khan rid]] [[ব্যবহারকারী:Ridoy Khan Rid|Ridoy Khan Rid]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Ridoy Khan Rid#top|আলাপ]]) ২২:৩৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) l53e99atj6yrwehamxdrjhexr4i9hsn ঘাস 0 12168 76859 74587 2026-04-15T06:49:25Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76859 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:ঘাস|ঘাস]]''' বা '''তৃণ''' হলো একবীজপত্রী তৃণজাতীয় উদ্ভিদ, যার গোড়া থেকে সরু পাতা গজায়। বিভিন্ন ধরনের ফসল যেমন ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ঘাস বা তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ। যতো রকম গাছ আছে তার ভেতর ঘাসের ভূমিকাই প্রাণিদের জীবনে সবচেয়ে বেশি। জলে, ডাঙ্গায়, পাহাড়, মরু অঞ্চল সব জায়গাতেই ঘাস দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি বরফে ঢাকা তুন্দ্রা অঞ্চলও ঘাস জন্মে। পৃথিবীর সমগ্র সবুজ অঞ্চলের প্রায় শতকরা ২০ভাগ ঘাস দিয়ে আবৃত। এ যাবৎ প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির ঘাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। == উক্তি == * ঘাসের বনে আনন্দে আজ<br>সবুজ ফড়িং লাফিয়ে আসে,<br>আমার মনের চপল ফড়িং<br>ঘুরছে তাহার আশে-পাশে। ** [[সুনির্মল বসু]], সবুজ-ফড়িং, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০ * এসেছে শরৎ, হিমের পরশ<br>লেগেছে হাওয়ার ’পরে।<br>সকাল বেলায় ঘাসের আগায়<br>[[শিশির|শিশিরের]] রেখা ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], চিত্রবিচিত্র - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫ * হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;<br>হয়তো শ‍ুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;<br>হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশ‍ু এক উঠানের ঘাসে;<br>র‍ূপ্‌সার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে<br>ডিঙা বায়;— ** [[জীবনানন্দ দাশ]], রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * পক্ষীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াইয়া জীবিত থাকিবার জন্যই ঘাসের ভিতরকার ফড়িঙের রঙ্ সবুজ এবং শুষ্ক তৃণমধ্যস্থ ফড়িঙের রঙ্ পাটল হইয়াছে। ** [[জগদানন্দ রায়]], প্রকৃতির বর্ণ-বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিকী- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৫ * এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস<br>বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে,<br>গোয়ালে পাঠায় ইশারা সবুজ ঘাস<br>এ গ্রাম নতুন সবুজ ঘাগরা পরে। ** [[সুকান্ত ভট্টাচার্য]], চিরদিনের, সুকান্ত সমগ্র, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৯ * খায় না সে দানাপানি—ঘাস পাতা বিচালি,<br>খায় না সে ছোলা ছাতু ময়দা কি পিঠালি;<br>রুচি নাই আমিষেতে, রুচি নাই পায়সে,<br>সাবানের সূপ আর মোমবাতি খায় সে।<br>আর কিছু খেলে তার কাশি ওঠে খক্‌খক্,<br>সারা গায়ে ঘিন্‌ঘিন্ ঠ্যাং কাঁপে ঠক্‌ঠক্। ** [[সুকুমার রায়]], ট্যাঁশ্ গরু, আবোল তাবোল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২ * পৃথিবীর কোনো পথে:নরম ধানের গন্ধ—কল্‌মীর ঘ্রাণ,<br>হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা সরপুঁটিদের<br>মৃদু ঘ্রাণ, কিশোরীর চাল-ধোয়া ভিজে হাত—শীত হাতখান,<br>কিশোরের পায়ে-দলা মুথাঘাস,—লাল লাল বটের ফলের<br>ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা—এরি মাঝে বাংলার প্রাণ: ** [[জীবনানন্দ দাশ]], রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * মৌমাছি সে গুনগুনিয়ে<br/>খুঁজে বেড়ায় কা’কে,<br/>ঘাসের মধ্যে ঝিঁঝিঁ করে<br/>ঝিঁঝিঁ পোক ডাকে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সাত ভাই চম্পা, কড়ি ও কোমল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- পীপ্‌ল্‌স লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ (১২৯৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮১ * বাবুই পাখির বাসা তোমরা অনেকেই দেখেছ বোধ হয়। কেমন সন্দর করে শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে তার বাসাটি সে তৈরি করে। পাছে কোনো জন্ত বা সাপ বাসা আক্রমণ করে, সেইজন্য বাসায় ঢুকবার রাস্তা তলার দিকে। শত্রুকে জব্দ করবার আর-একটা উপায় তারা করেছে—অনেক সময় বাসার গায়ে আর-একটা গর্তের মতো মুখ তৈরি করে রাখে, সেটা কেবল ঠকাবারই জন্যে, তার ভিতর দিয়ে বাসার মধ্যে ঢোকা যায় না। ** [[সুকুমার রায়]], পাখির বাসা, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২৩ * শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে<br/>অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের খেতে;<br/>মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,<br/>তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,<br/>দেহের স্বাদের কথা কয়;<br/>বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়। ** [[জীবনানন্দ দাশ]] ([https://bn.wikisource.org/wiki/জীবনানন্দ_দাশের_শ্রেষ্ঠ_কবিতা/অবসরের_গান অবসরের গান]) * কাব্যলোকে বাস না করলে বাস কি করব ইতিহাসলোকে, না দর্শনলোক, না ডাক্তারদের ছেঁড়া-খোঁড়ার শবলোকে? আর এ সব কোনও লোকেই যদি বাস না করি তবে তো নেমে আসবও সেই লোকে – গাধা গরু যেখানে ঘাস চিবোয় আর জাবর কাটে। ** [[সৈয়দ মুজতবা আলী]], শবনম, দ্বিতীয় খণ্ড, অধ্যায় সাত, পৃ. ১০৮, ৬ষ্ঠ মুদ্রণ (২০০৮), স্টুডেন্ট ওয়েজ, ঢাকা * আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি—বিকেলের এই রঙ—রঙের শূন্যতা<br/>রোদের নরম রোম—ঢালু মাঠ—বিবর্ণ বাদামি পাখি—হলুদ বিচালি<br/>পাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে—কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা। **[[জীবনানন্দ দাশ]], জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ (প্রথম খণ্ড) - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯১ * গভীর কালো মেঘের পরে রঙিন ধনু বাঁকা,<br>রঙের তুলি বুলিয়ে মেঘে খিলান যেন আঁকা!<br>সবুজ ঘাসে রোদের পাশে আলোর কেরামতি,<br>রঙিন বেশে, রঙিন ফুলে রঙিন প্রজাপতি! ** [[সুকুমার রায়]], অন্ধ মেয়ে, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯ * কামার বললে, ‘আগুন নেই। আগুন নিয়ে আয়, কাস্তে গড়ে দি।’ তা শুনে কাক গৃহস্থদের বাড়ি গিয়ে বললে—<br>গেরস্ত ভাই, দাও তো আগুন,<br>গড়বে কাস্তে, কাটব ঘাস,<br>খাবে গাই, দেবে দুধ, খাবে কুত্তা,<br>হবে তাজা, মারলে মোষ, লব শিং,<br>খুঁড়ব মাটি, গড়লে ঘটি,<br>তুলব জল, ধোব ঠোঁট—<br>তবে খাব চড়াইর বুক। ** [[উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী]], চড়াই আর কাকের কথা, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৩ * অন্ধ [[মেয়ে]] দেখছে না তা— নাই-বা যদি দেখে—<br/>শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে!<br/>শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরষ কোলাকুলি<br/>মিষ্ট ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি!<br/>দুঃখ সুখের ছন্দে ভরা জগৎ তারও আছে,<br/>তারও আঁধার জগৎখানি মধুর তারি কাছে। ** [[সুকুমার রায়]], অন্ধ মেয়ে, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৯ * তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু,<br/>শিখিনি সিং বাঁকানো,<br/>কেবল খাবো খোল, বিচিলি ঘাস্।৷<br/>যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,<br/>গামলা ভাঙে না,<br/>আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,<br/>ঘুসি খেলে বাঁচব না।৷ ** [[ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত]], নীলকর, কবিতাসংগ্রহ - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সম্পাদনা- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১ * উটের শরীরটিকে মরুভূমির উপযোগী করিয়াই গড়া হইয়াছে। চ্যাটাল চ্যাটাল পা, তার আষ্টেপৃষ্টে কড়ায় ঢাকা-ঝামা দিয়া ঘসিলেও তাহাতে ফোস্কা পড়ে না। ক্ষুধা নাই, তৃষ্ণা নাই—এক পেট ঘাস খাইয়া তিন দিন উপোস থাকে—এক ঢোক জল লইয়া সারাদিন পথ চলে। ** [[সুকুমার রায়]], মরুর দেশে, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * এখানে গাছের পাতা যেতেছে হলুদ হয়ে—নিঃশব্দে উল্কার মতাে ঝ’রে<br/>একদিন তুমি এসে তবু এই হলুদ আঁচল রেখে ঘাসের ভিতরে<br/>শান্তি পাবে; সন্ধ্যার জলের দিকে শূন্য চোখে রবেনাকো তাকিয়ে এমন<br/>অস্পষ্ট সংকটে এসে—মুখে কথা ফুরােবে না—এখন যা গভীর গােপন<br/>প্রাণের চারুণা পাবে অন্ধকারে; ব্যাপ্তি পাবে; ** [[জীবনানন্দ দাশ]], নদী নক্ষত্র মানুষ, বনলতা সেন - [[জীবনানন্দ দাশ]], কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২ * মরুভূমির কথা বলিতে গেলেই উটের কথা আসিয়া পড়ে। উটের শরীরটিকে মরুভূমির উপযোগী করিয়াই গড়া হইয়াছে। চ্যাটাল চ্যাটাল পা, তার আষ্টেপৃষ্টে কড়ায় ঢাকা-ঝামা দিয়া ঘসিলেও তাহাতে ফোস্কা পড়ে না। ক্ষুধা নাই, তৃষ্ণা নাই—এক পেট ঘাস খাইয়া তিন দিন উপোস থাকে—এক ঢোক জল লইয়া সারাদিন পথ চলে। ** [[সুকুমার রায়]], মরুর দেশে, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৯ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Grass}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] oalm1l1ub3xtwb0a9sznavv5pre52jt শি চিনফিং 0 12170 76762 75873 2026-04-14T22:09:19Z Raihanur 4347 /* ২০২০-এর দশক */ 76762 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''{{w|শি চিনফিং}}''' (জন্ম ১৫ জুন ১৯৫৩) একজন চীনা রাজনীতিবিদ, যিনি বর্তমানে {{w|চীনা কমিউনিস্ট পার্টি|চীনা কমিউনিস্ট পার্টির}} {{w|চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক|সাধারণ সম্পাদক}}, [[ চীন|গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের]] {{w|চীনের রাষ্ট্রপতি|রাষ্ট্রপতি}} এবং {{w|কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান (চীন)|কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান}} হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর জন্মগ্রহণকারী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সাধারণ সম্পাদক হলেন শি। ==উক্তি== ===২০০০-এর দশক=== * দীর্ঘমেয়াদী ও নিরলস কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চীন সফলভাবে [[মানবাধিকার]] উন্নয়নের এমন একটি পথে যাত্রা শুরু করেছে যা যুগোপযোগী এবং দেশটির নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। * মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ত্রুটিহীন ও আদর্শ বলে কোনো রাজ্য নেই এবং দেশগুলোর পৃষ্ঠপোষকতামূলক বক্তৃতার প্রয়োজন নেই। *আমাদের এমন ‘প্রভু’র প্রয়োজন নেই যারা অন্য দেশগুলোকে নির্দেশ দেয়। মানবাধিকারকে রাজনীতিকরণ করে হাতিয়ারে পরিণত করা, {{w|আদর্শিক দ্বিচারিতা}} অবলম্বন করা এবং মানবাধিকারের অজুহাতে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তো দূরের কথা। **[https://www.thehindu.com/news/international/chinese-leader-xi-jinpingdefends-record-to-un-human-rights-chief/article65460537.ece "Xi Jinping Defends China's Human Rights Record Amid Accusations Over Uyghur Camps"] ===২০১০-এর দশক=== * সমগ্র মানবজাতির প্রতি চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো পৃথিবীর ১৩০ কোটি মানুষকে [[ক্ষুধা|ক্ষুধার]] হাত থেকে রক্ষা করা। ** মেক্সিকো সফরকালে তাঁর বিবৃতি (১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯), [https://web.archive.org/web/20101022112926/https://www.ibtimes.com/articles/73173/20101019/china-xi-presidency.htm China's Xi named to oversee military, a step closer to presidency] * কিছু ভরপেট উদাস বিদেশী রয়েছেন, যাদের আমাদের দিকে আঙুল তোলা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই… '''প্রথমত, চীন [[বিপ্লব]] রপ্তানি করে না; দ্বিতীয়ত, চীন ক্ষুধা ও [[দারিদ্র্য|দারিদ্রতা]] রপ্তানি করে না; তৃতীয়ত, চীন এসে আপনাদের মাথাব্যথার কারণ হয় না, এর চেয়ে বেশি আর কী বলার আছে?''' ** মেক্সিকো সফরকালে তাঁর বিবৃতি (১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯), [https://web.archive.org/web/20101022112926/https://www.ibtimes.com/articles/73173/20101019/china-xi-presidency.htm China's Xi named to oversee military, a step closer to presidency] * দুর্নীতির ফলে দলের পতন এবং রাষ্ট্রের অবক্ষয় ঘটতে পারে। ** [https://edition.cnn.com/2013/01/06/world/asia/florcruz-china-corruption Opinion: Corruption as China’s top priority] * [[তাইওয়ান|তাইওয়ানের]] স্বদেশীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের কল্যাণ প্রসারিত করাই হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতাদের পক্ষ থেকে আমাদের মূল ভূখণ্ডের উপর বারবার উচ্চারিত অঙ্গীকার এবং দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। ** [https://www.reuters.com/article/2013/02/25/us-china-taiwan-idUSBRE91O0CC20130225/ China's Xi to tread peaceful, patient path on Taiwan] * অবশ্যই, আমরা এ বিষয়েও গভীরভাবে সচেতন যে, {{w|lang=en|Cross-strait relations|ক্রস-স্ট্রেট সম্পর্কের}} ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সমস্যাগুলো এখনও রয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতেও এমন কিছু বিষয় আসবে, যেগুলো সমাধানের জন্য সময়, ধৈর্য ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ** [https://www.taipeitimes.com/News/front/archives/2013/02/26/2003555737 China’s Xi pledges peaceful ties with Taiwan in meeting] * কেন সামরিক বাহিনীর উপর দলের নেতৃত্বের পক্ষে আমাদের অটল থাকতে হবে? কারণ {{w|সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন}} থেকে আমরা এটাই শিখেছি। [[সোভিয়েত ইউনিয়ন]], যেখানে সামরিক বাহিনীকে অরাজনৈতিক, দল থেকে বিচ্ছিন্ন এবং জাতীয়করণ করা হয়েছিল, সেখানে দলটিকেও নিরস্ত্রীকরণ করা হয়েছিল। যখন দেশটি সংকটময় মুহূর্তে এসে দাঁড়াল, তখন একটি বড় দল চোখের পলকে উধাও হয়ে গেল। আনুপাতিকভাবে, {{w|সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি|সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির}} সদস্য সংখ্যা আমাদের (চীনা কমিউনিস্ট পার্টির) চেয়ে বেশি ছিল, কিন্তু রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করার মতো সাহস কারও ছিল না। ** [https://bbc.co.uk/news/world-asia-china-21790384 China's new President Xi Jinping: A man with a dream] * দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে হলে দলের দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত সফল অভিজ্ঞতাসমূহের ওপর জোর দিতে হবে। আমাদেরকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কার্যকর নীতি এবং নিজস্ব মূল্যবান ঐতিহ্য থেকে সক্রিয়ভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ** [https://web.archive.org/web/20160304194439/http://english.cntv.cn/20130420/104746.shtml President Xi: Anti-corruption efforts need to draw on heritage] * সুখ এমনি এমনি আসে না এবং স্বপ্নও নিজে থেকে পূরণ হয় না। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের এই ধারণাটি ধারণ করা উচিত যে, কঠোর পরিশ্রমই হলো সবচেয়ে সম্মানজনক, মহৎ, শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দরতম গুণ। ** [https://web.archive.org/web/20180913094407/http://english.cntv.cn/20130501/102444.shtml Xi Jinping meets model workers] * অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বিষয়টি [{{w|ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত}}] [[ফিলিস্তিনি]] জনগণের জন্য গভীর দুর্ভোগ বয়ে এনেছে এবং [[মধ্যপ্রাচ্য]] অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ** [https://edition.cnn.com/2013/05/07/world/asia/china-israel-talks/index.html China rebukes Israel ahead of Netanyahu visit] * আমি মনে করি, উভয় পক্ষেরই [চীন ও যুক্তরাষ্ট্র] {{w|মহা শক্তি|মহা শক্তিগুলোর}} মধ্যে এক নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করা উচিত। দুই দেশের ও বিশ্বের মানুষের কল্যাণে উভয় পক্ষেরই পারস্পরিক লাভজনক ফলাফলের জন্য একে অপরের সহায়তা করা উচিত। ** [http://english.cntv.cn/program/newsupdate/20130608/104235.shtml Xi, Obama vow to step up cooperation] * আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকানো করা উচিত। চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মধ্যকার রাজনৈতিক মতপার্থক্যগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা উচিত এবং এই সমস্যাগুলোকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। ** [https://www.chinadaily.com.cn/china/2013xiapec/2013-10/06/content_17011186.htm Xi calls for peaceful development of cross-Straits ties] * সাইবার জগৎ আইনের শাসনের বাহিরের কোনো স্থান নয়। ** [https://www.mfa.gov.cn/eng/xw/zyjh/202405/t20240530_11341037.html Remarks by H.E. Xi Jinping President of the People's Republic of China At the Opening Ceremony of the Second World Internet Conference] * দলের সংবাদ ও জনমত প্রচারমাধ্যমের সকল কাজে অবশ্যই দলের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করতে হবে, দলের মতামতকে প্রতিবিম্বিত করতে হবে, দলের কর্তৃত্ব রক্ষা করতে হবে, দলের ঐক্য রক্ষা করতে হবে এবং দলের প্রতি ভালোবাসা, দলের সুরক্ষা ও দলের জন্য কাজ করতে হবে; এবং আদর্শ, রাজনীতি ও কর্মকাণ্ডে দলের সাথে উচ্চ স্তরের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। ** [https://www.washingtonpost.com/news/worldviews/wp/2016/03/16/government-linked-website-published-then-pulled-call-for-president-xis-resignation/ Chinese website publishes, then pulls, explosive letter calling for President Xi’s resignation] * এশিয়ার বিষয়াদি পরিচালনা করা, এশিয়ার সমস্যা সমাধান করা এবং এশিয়ার নিরাপত্তা সমুন্নত রাখা এশিয়ার জনগণেরই দায়িত্ব। বর্ধিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের সামর্থ্য ও প্রজ্ঞা এশিয়ার জনগণের রয়েছে। ** [https://www.weforum.org/stories/2014/12/what-is-chinas-asia-policy/ What is China’s Asia policy?] * সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসকে, [[ভ্লাদিমির লেনিন|লেনিন]] ও [[জোসেফ স্তালিন|স্তালিনকে]], এবং অন্য সবকিছুকে অগ্রাহ্য করা হলো ঐতিহাসিক শূন্যতাবাদের চর্চা, যা আমাদের চিন্তাভাবনাকে বিভ্রান্ত করে এবং সর্বস্তরে দলের সংগঠনকে দুর্বল করে দেয়। ** [https://www.washingtonpost.com/news/global-opinions/wp/2017/10/16/xi-jinpings-quest-to-revive-stalins-communist-ideology/?utm_term=.a350d0a610c0 Xi Jinping’s quest to revive Stalin’s communist ideology] * সোভিয়েত ইউনিয়ন কেন ভেঙে গেল? সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি কেন ক্ষমতাচ্যুত হলো? এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল এই যে, মতাদর্শগত সংগ্রাম ছিল অত্যন্ত তীব্র, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসকে, লেনিনকে, স্তালিনকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে ঐতিহাসিক শূন্যবাদ এবং বিভ্রান্তিকর চিন্তাভাবনার জন্ম দিয়েছিল। সকল স্তরের দলীয় সংগঠনগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছিল, সামরিক বাহিনী আর দলের নেতৃত্বে ছিল না। পরিশেষে, সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি, একটি মহান দল, ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, সোভিয়েত ইউনিয়ন, একটি মহান সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, ভেঙে পড়ল। এটি একটি সতর্কতামূলক কাহিনী! ** [https://www.journalofdemocracy.org/articles/30-years-after-tiananmen-memory-in-the-era-of-xi-jinping/ 30 Years After Tiananmen: Memory in the Era of Xi Jinping] * প্রথমত, সকল কাজে দলের নেতৃত্ব মেনে চলতে হবে এবং দলের নেতৃত্বকে নিরন্তর শক্তিশালী ও উন্নত করতে হবে। ** [https://www.nytimes.com/2018/12/18/world/asia/xi-china-speech-takeaways.html 4 Takeaways from Xi Jinping’s Speech Defending Communist Party Control] * চীনা জনগণকে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা নির্দেশ দেওয়ার মতো অবস্থানে কেউ নেই। ** [https://www.nytimes.com/2018/12/18/world/asia/xi-china-speech-takeaways.html 4 Takeaways from Xi Jinping’s Speech Defending Communist Party Control] * অন্য যেকোনো বিদেশি সহকর্মীর চেয়ে প্রেসিডেন্ট [[ভ্লাদিমির পুতিন|পুতিনের]] সঙ্গে আমার অধিক ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতা হয়েছে। তিনি আমার সেরা বন্ধু। আমাদের এই গভীর বন্ধুত্বকে আমি অত্যন্ত মূল্যবান মনে করি। ** [https://www.businessinsider.com/china-xi-jinping-russia-vladimir-putin-best-friends-photos-2019-6 18 photos that show the blossoming bromance between China's Xi Jinping and Russia's Vladimir Putin] * চীনের সাফল্য প্রমাণ করে যে [[সমাজতন্ত্র]] মারা যায়নি। বরং তা বিকশিত হচ্ছে। একবার ভেবে দেখুন: যদি চীনে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ হতো, যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের দলের মতো আমাদের কমিউনিস্ট পার্টিও ভেঙে পড়ত, তাহলে বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র এক দীর্ঘ অন্ধকার যুগে প্রবেশ করত। আর [[সাম্যবাদ]], যেমনটা [[কার্ল মার্ক্স]] একবার বলেছিলেন, এক বিভীষিকাময় প্রেতাত্মা হয়ে অতল গহ্বরে ঘুরপাক খেত। ** [https://www.scmp.com/news/china/politics/article/3236454/xi-jinping-highlights-importance-innovation-path-chinese-style-modernisation?campaign=3236454&module=perpetual_scroll_1_AI&pgtype=article Xi Jinping highlights importance of innovation on path to ‘Chinese-style modernisation’] * আমাদের কমরেডদের হাতে যে পদ্ধতিগুলো আছে তা অত্যন্ত আদিম; তাদের বড় দা-এর ফলা, কুড়ালের ফলা এবং ধারালো ইস্পাতের অস্ত্রের সামনে এই অস্ত্রগুলোর কোনোটিই টিকতে পারবে না। আমাদেরও তাদের মতোই কঠোর হতে হবে এবং বিন্দুমাত্র দয়া দেখানো যাবে না। ** [https://www.nytimes.com/interactive/2019/11/16/world/asia/china-xinjiang-documents.html ‘Absolutely No Mercy’: Leaked Files Expose How China Organized Mass Detentions of Muslims] * পুঁজিবাদী পথ চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তা ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছিল। সংস্কারবাদ, উদারনীতিবাদ, সামাজিক ডারউইনবাদ, নৈরাজ্যবাদ, প্রয়োগবাদ, জনতুষ্টিবাদ, শ্রমিক সংঘবাদ—এগুলো সবই মঞ্চে নিজেদের মুহূর্ত পেয়েছিল। চীনের ভবিষ্যতের সমস্যা সমাধানে এগুলোর কোনোটিই সফল হয়নি। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এবং মাও সে-তুং চিন্তাধারাই চীনা জনগণকে সেই দীর্ঘ রাতের অন্ধকার থেকে পথ দেখিয়ে একটি নতুন চীন প্রতিষ্ঠা করেছিল; চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের মাধ্যমেই চীন এত দ্রুত উন্নতি লাভ করেছে। ** [https://archive.is/e6EU1 Xi Jinping in Translation: China’s Guiding Ideology] * ইতিহাস এবং আমাদের বর্তমান বাস্তবতা উভয়ই বলে যে, একমাত্র সমাজতন্ত্রই চীনকে বাঁচাতে পারে—এবং একমাত্র চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রই চীনের উন্নতি সাধন করতে পারে। এটাই ইতিহাসের উপসংহার, [এবং] আমাদের জনগণের পছন্দ। ** [https://archive.is/e6EU1 Xi Jinping in Translation: China’s Guiding Ideology] * এগুলোর মধ্যে রয়েছে: চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নিরঙ্কুশ নেতৃত্ব, জাতীয় পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ, অর্থনৈতিক নির্মাণকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা, ‘চারটি মূলনীতি’ এবং সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ কর্মসূচিতে অবিচল থাকা, উৎপাদনশীল সামাজিক শক্তির মুক্তি ও বিকাশ, একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি, সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি, একটি উন্নত সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি, একটি সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজতান্ত্রিক সমাজ এবং একটি পরিবেশবান্ধব সমাজতান্ত্রিক সভ্যতা নির্মাণ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো জনগণের সার্বিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, ক্রমান্বয়ে সকল মানুষের যৌথ সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ, শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, সভ্য ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা—যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় গণ কংগ্রেসের মৌলিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত বহুদলীয় সহযোগিতা ও রাজনৈতিক পরামর্শ ব্যবস্থা, আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা, তৃণমূল স্তরের স্ব-শাসন ব্যবস্থা, চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আইন ব্যবস্থা এবং এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সরকারি মালিকানাধীন উদ্যোগগুলোই প্রধান অংশ এবং যা বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি বিকশিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আমাদের নতুন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোকে অঙ্গীভূত করে তোলে। ** [https://archive.is/e6EU1 Xi Jinping in Translation: China’s Guiding Ideology] ===২০২০-এর দশক=== * বর্তমান বিশ্বে বিশৃঙ্খলার সবচেয়ে বড় উৎস হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র [...] আমাদের দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় হুমকি। * [এখনও অনেক দিক রয়েছে যেখানে] পশ্চিম শক্তিশালী এবং পূর্ব দুর্বল। * আসন্ন ঝুঁকি ও পরীক্ষাগুলো অতীতের চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না [...] আমাদের দল এখন পর্যন্ত সংগ্রামের উপরেই নির্ভর করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতে জয়ের জন্যও সংগ্রামের ওপরই নির্ভর করতে হবে। * এই মহান প্রবণতাটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করুন যে প্রাচ্যের উত্থান ঘটছে এবং পাশ্চাত্যের পতন হচ্ছে। * চীনের শৃঙ্খলা এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ** [https://www.nytimes.com/2021/03/03/world/asia/xi-china-congress.html ‘The East Is Rising’: Xi Maps Out China’s Post-Covid Ascent] * আমরা চীনারা এমন এক জাতি যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে এবং বলপ্রয়োগের হুমকিতে ভীত হয় না। একটি জাতি হিসেবে আমাদের প্রবল গর্ব ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমরা কখনো অন্য কোনো দেশের জনগণকে ধমক দিইনি, নিপীড়ন করিনি বা পরাধীন করিনি, এবং কখনো করবও না। একইভাবে, আমরাও কোনো বিদেশি শক্তিকে আমাদের ধমক দিতে, নিপীড়ন করতে বা পরাধীন করতে দেব না। যে কেউ এমন করার চেষ্টা করবে, সে ১৪০ কোটিরও বেশি চীনা জনগণের দ্বারা নির্মিত ইস্পাতের এক বিশাল প্রাচীরের মুখোমুখি হবে। ** [https://thehill.com/policy/international/china/561061-xi-says-china-wont-be-bullied-at-communist-party-100-year/ Xi says China won’t be ‘bullied’ at Communist Party 100th anniversary celebration] * দেশগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য ও সমস্যাসমূহ এড়ানো প্রায় অসম্ভব, সেগুলোকে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। একটি দেশের সাফল্য মানেই অন্য দেশের ব্যর্থতা নয়, এবং সকল দেশের যৌথ উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এই বিশ্ব যথেষ্ট বড়। আমাদের সংঘাত ও বর্জনের পরিবর্তে সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তিকে অনুসরণ করতে হবে। আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে এক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং আমাদের স্বার্থের অভিন্নতা প্রসারিত করতে ও সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সমন্বয় সাধনে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। * চীনের জনগণ সর্বদা শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির স্বপ্নকে প্রচার করেছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট থেকেছে। চীন কখনো অন্যকে আক্রমণ বা জবরদস্তি করেনি এবং করবেও না, কিংবা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করবে না। চীন সর্বদা বিশ্বশান্তির নির্মাতা, বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানকারী, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার রক্ষক এবং জনকল্যাণমূলক সেবার যোগানদাতা। চীন তার নতুন উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বে নতুন সুযোগ নিয়ে আসতে থাকবে। * বিশ্ব আবারও এক ঐতিহাসিক চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মানবজাতির শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অপ্রতিরোধ্য। আসুন আমরা আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করি এবং যৌথভাবে বৈশ্বিক হুমকি ও প্রতিবন্ধকতাসমূহ মোকাবেলা করি, এবং মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও সকলের জন্য একটি উন্নততর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করি। ** [https://www.news.cn/english/2021-09/22/c_1310201230.htm Full text of Xi's statement at the General Debate of the 76th Session of the United Nations General Assembly] * জনগণের উদ্বেগের প্রতি আমি সর্বদা যত্নশীল, এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই আমি সর্বদা চেষ্টা করি। নিজে গ্রামে কাজ করার সুবাদে দারিদ্রতা কাকে বলে তা আমি ভালোভাবেই জানি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চীনা জনগণের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে, যারা একসময় দারিদ্রতার মধ্যে বাস করত, তাদের এখন আর খাদ্য বা বস্ত্র, কিংবা শিক্ষা, আবাসন ও স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। * হংকং ও ম্যাকাও-এর সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা মাতৃভূমির কাছে সর্বদাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা দীর্ঘমেয়াদে {{w|lang=en|One country, two systems|এক দেশ, দুই ব্যবস্থার}} সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের মাতৃভূমির পূর্ণাঙ্গ পুনর্মিলন তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পারের জনগণের একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে, চীনা জাতির সকল সন্তান আমাদের দেশের জন্য একটি উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ গড়তে একজোট হবেন। ** [https://www.fmprc.gov.cn/mfa_eng/wjdt_665385/zyjh_665391/202112/t20211231_10478096.html 2022 New Year address by President Xi Jinping] ==বহিঃসংযোগ== {{Wikipedia}} * [http://www.xinhuanet.com/english/2017-10/25/c_136705528.htm শি চিনফিং -- চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক] * [http://www.chinadaily.com.cn/china/Xi-Jinping.html চীন / শি চিনফিং] চায়নাডেইলিতে {{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}} {{DEFAULTSORT:শি, চিনফিং}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:চীনের দার্শনিক]] [[বিষয়শ্রেণী:চীনের অ-কল্পকাহিনী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:জাতীয়তাবাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:চীনের রাষ্ট্রপ্রধান]] 8p0j1jaedjnr7qsn58b67pyq3n7b7oz অ্যানিমেশন 0 12184 76872 74588 2026-04-15T07:27:49Z Oindrojalik Watch 4169 76872 wikitext text/x-wiki [[File:Phenakistoscope_3g07690u.jpg|thumb|এটি অনেকটা বিশাল গির্জা বা ক্যাথেড্রাল তৈরি করার মতো কাজ, যেখানে প্রতিটি সপ্তাহে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অ্যানিমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।<br>~ জিম ব্রেসনাহান]] [[File:Quirino_Cristiani_con_una_figura.jpg|thumb|অ্যানিমেশন হলো গল্প বলা এবং দৃশ্যমান বিনোদনের এমন একটি মাধ্যম, যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সব বয়সী মানুষের কাছে বিনোদন এবং বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।<br>~ ওয়াল্ট ডিজনি]] [[File:World_of_Color_overview.jpg|thumb|মানুষের মনস্তত্ত্ব যা কিছু কল্পনায় আনতে পারে, অ্যানিমেশন তার সবটুকুই ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখে। এযাবৎকালে এই গুণটিই অ্যানিমেশনকে দ্রুত জন-মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে বহুমাত্রিক এবং সুস্পষ্ট যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলেছে।<br>~ ওয়াল্ট ডিজনি]] [[File:Lanature1882_praxinoscope_projection_reynaud.png|thumb|অ্যানিমেশনে আপনি যা খুশি আঁকতে পারেন এবং আপনার চরিত্রদের দিয়ে যা মন চায় করাতে পারেন; তাই এখানে নিয়ম-কানুনের সীমা ভেঙে ফেলার এক ধরণের প্রবণতা বা স্বাধীনতা রয়েছে। তবে বর্তমানে জনপ্রিয় কার্টুন শোগুলোর বিশেষত্ব হলো—তাদের নিজস্ব কিছু নিয়ম থাকে এবং সেগুলো তারা পূর্ণভাবে মেনে চলে। আমার মতে, যেসব কাজগুলো সফল হতে পারে না বা হারিয়ে যায়, তারা আসলে ওই বিষয়টিই বোঝে না যে—আপনার নিজস্ব একটি সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত। যদি সবকিছুই সম্ভব হয় (অর্থাৎ নির্দিষ্ট নিয়ম যদি না থাকে), তবে দর্শক সেই কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।<br>~ ম্যাট গ্রোনিং]] [[File:Fantasmagorie_(Cohl).GIF|thumb|এটি কম্পিউটার অ্যানিমেশন; একটি নতুন শিল্প। এর কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে: যেমন এটি ত্বক, চুল এবং পোশাকের কাজগুলো খুব একটা নিখুঁতভাবে করতে পারে না। এখন যদি আপনি কোনো চরিত্র থেকে ত্বক, চুল আর পোশাক সরিয়ে ফেলেন, তবে যা বাকি থাকে তা কেবল কর্কট এবং কীটপতঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নয়!<br>~ টিম জনসন]] '''[[w:bn:অ্যানিমেশন|অ্যানিমেশন]]''' হলো মূলত গতির এক চমৎকার বিভ্রম তৈরির প্রক্রিয়া। একে অপরের থেকে সামান্য ভিন্নতর কিছু স্থির চিত্রকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একের পর এক প্রদর্শন করে একপ্রকার গতির আবহ বা আকৃতি পরিবর্তনের অনুভূতি সৃষ্টি করা হয়। একটি অ্যানিমেশন কতটুকু সময় স্থায়ী হবে, তার ওপর ভিত্তি করে এতে সাধারণত শত শত এমনকি হাজার হাজার ফ্রেম থাকতে পারে; যা মূলত প্রতি সেকেন্ডে প্রদর্শিত ফ্রেমের সংখ্যা বা 'এফপিএস' (FPS — ফ্রেম পার সেকেন্ড) দ্বারা পরিমাপ করা হয়। == উক্তি == * ''ইয়োশিয়াকি নিশিমুরা'' — হায়াও মিয়াজাকির এক সময়ের একনিষ্ঠ সহযোগী এবং অস্কার-মনোনীত 'দ্য টেল অফ দ্য প্রিন্সেস কাগুয়া' এর প্রযোজক। তাঁর মতে, এই শিল্পখাত বর্তমানে অ্যানিমেটরের অভাব, কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভবত সৃজনশীলতার এক ধরণের বন্ধ্যাত্বের মুখোমুখি হতে হিমশিম খাচ্ছে। ** এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস, [https://www.scmp.com/news/asia/east-asia/article/3014682/japans-anime-industry-crisis-even-global-popularity-soars “জাপানের অ্যানিমে শিল্প সংকটে, এমনকি বিশ্বব্যাপী এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও”], (১৬ জুন, ২০১৯)। * ''আইয়ুমু ওয়াতানাবে'' — যাঁর অনিন্দ্যসুন্দর সৃষ্টি 'দ্য চিলড্রেন অফ দ্য সি' উৎসবে প্রতিযোগিতার বাইরে প্রদর্শিত হয়েছিল। তিনি দৃশ্যায়নের মানসম্মতকরণ এবং মৌলিকত্বের অভাব নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো— "দিন দিন হাতে আঁকায় পারদর্শী অ্যানিমেটরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।" ** এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস, [https://www.scmp.com/news/asia/east-asia/article/3014682/japans-anime-industry-crisis-even-global-popularity-soars “জাপানের অ্যানিমে শিল্প সংকটে, এমনকি বিশ্বব্যাপী এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও”], (১৬ জুন, ২০১৯)। * জাপান হয়তো অচিরেই বিশ্ব অ্যানিমেশনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের স্থান হারাবে। হয়তো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তাইওয়ান সেই গৌরবময় অবস্থানে আসীন হবে। ** হিদেয়াকি আনো, [http://kotaku.com/evangelion-creator-predicts-the-death-of-anime-1706738732 ইভানজেলিয়ন স্রষ্টার অ্যানিমের মৃত্যু নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী], ব্রায়ান অ্যাশক্রাফট, কোটাকু ৫/২৫/১৫। 31rafnbqf6y7xqxhheayp55qmm0g5mh পারমাণবিক যুদ্ধ 0 12198 76676 76595 2026-04-14T13:10:31Z Oindrojalik Watch 4169 76676 wikitext text/x-wiki [[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']] '''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়। == উক্তি == === পূর্বাভাস === * মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে! ** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০। * বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে। ** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২। === ১৯৪০-এর দশক === [[File:Nagasakibomb.jpg|thumb|৯ আগস্ট, ১৯৪৫-এ [[:w:নাগাসাকি|নাগাসাকিতে]] পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে উড্ডীয়মান সেই ভয়ংকর মাশরুম মেঘ বা পারমাণবিক ধোঁয়া!]] * তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল। * প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়। ** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯। * "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না। ** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত। * ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে। ** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়। [[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]] * [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে! ** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০। * কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে! ** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত। * [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না। ** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে। * আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে! ** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত। * [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক। ** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়। * তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে! ** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩। ** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল। === ১৯৫০-এর দশক === * এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে? ** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)। [[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]] * যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে। ** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল। * যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব! ** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)। * পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়। ** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত। * সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না? ** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)। [[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']] * ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত। ** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)। * 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから ** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। ** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০। [[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']] * আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ! ** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত। * শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু! ** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)। * পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল। ** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭। === ১৯৬০-এর দশক === * এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না। ** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)। * কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার। ** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)। * [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়। ** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২। * মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই। ** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)। * বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে! ** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮। [[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']] * এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। ** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)। * এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)! ** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯। * মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। ** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত। * বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত! ** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪। * মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে। ** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। * প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম। ** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত। * জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে। ** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত। === ১৯৭০-এর দশক === * ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে। ** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩। * জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না। * ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি। ** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮) === ১৯৮০-এর দশক === * [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি বরং বেড়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল। ** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১) * কল্পনা করুন [[:w:পেট্রোল|পেট্রোলে]] ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার [[:w:দিয়াশলাই|দেশলাই কাঠি]], আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি যে পুরো বিষয়টি [[:w:বিয়োগান্ত নাটক|ট্র্যাজিক]] না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা। ** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩) [[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]] * এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়? ** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র) * প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি! ** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়। * ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!'' ** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', ''"রাশিয়ানস"'', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫); ''রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) * একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না! ** '''''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬) * ''যুদ্ধ শুধুই একটি খেলা,<br>খাস-মকসুদ মাতালদের জন্য মেলা!<br>কিন্তু তাদের বিনাশের হুমকি দাও—<br>রবেনা এই ভুবনে, পালাতে দেবে নাও!<br>যদি এটায় হয় শান্তনামূলক মানবতাবাদ,<br>তবে বোমার জন্য 'ঈশ্বর জিন্দাবাদ'!'' ** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "থ্যাঙ্ক গড ফর দ্য বোম্ব", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) [[File:Typhoon iced.jpg|thumb|চার মহাসাগর আর সাত সমুদ্রের নিচে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক যুদ্ধের কাছাকাছি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে।<br>—'''''রিচার্ড হ্যালোজান''''']] * চার মহাসাগর আর সাত দরিয়ার তলদেশে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত [[:w:সাবমেরিন|সাবমেরিনগুলো]] বছরের প্রতিটি দিন এক প্রায়-যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিরামহীনভাবে তারা একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই শত্রুর পিছু নেয় আর ধরা পড়লে পালানোর চেষ্টা করে। কেবল গুলি চালানো ছাড়া আসল যুদ্ধের প্রতিটি চালই তারা দেয়। যদি কখনো সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাবমেরিনগুলোই হবে আমেরিকান এবং সোভিয়েত নৌবহরের প্রধান শক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন যুদ্ধজাহাজ অনেক আধিপত্য দেখিয়েছিল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহী [[:W:যুদ্ধ জাহাজ|রণতরীগুলো]] সমুদ্রজয় নিশ্চিত করেছিল। ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্বে [[:w:পারমাণবিক ডুবোজাহাজ|পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনই]] হবে জয়ের তুরুপের তাস। ** '''''রিচার্ড হ্যালোজান''''', [https://www.nytimes.com/1986/12/07/magazine/a-silent-battle-surfaces.html "এ সাইলেন্ট ব্যাটল সারফেসেস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'' (৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬) * ''আমরা যদি যুদ্ধের ওপর বিশ্বাস নাই-ই করি—<br>তবে কেউ কি বলতে পারো, কেন এই অস্ত্রের সাজ-পসরি?<br>শুনে নাও আমার কথা,<br>একবার জেগে ওঠে যদি তারা, পালাবে তুমি কোথা?<br>দৈত্যরা ঘুমায় আর বারবার হয় জিৎ—<br>স্বপ্নে বাজছে দামামা, কাঁপছে মাটির ভিত!<br>যতক্ষণ না তাদের ঘুম ভাঙছে,<br>ততক্ষণ-ই ঈশ্বরদ্রোহিতা চালাচ্ছে!'' ** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "কিলার অফ জায়ান্টস", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় কাব্যিক-রূপান্তর:'' যোবায়ের আল-'''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) * পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একমাত্র উস্কানি কী হতে পারে? উত্তরটি হলো 'পারমাণবিক অস্ত্র'। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু কী? সেটিও পারমাণবিক অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনটি? তা-ও হলো পারমাণবিক বোমা!<br>আমরা কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে পারি? পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পাল্টা হুমকি দিয়ে। আর আমরা এই পারমাণবিক অস্ত্র থেকে মুক্তিও পাচ্ছি না কেন? সেই একই খোদ পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই!<br>মনে হচ্ছে, এই একগুঁয়েমি যেন খোদ ওই মারণাস্ত্রগুলোরই এক অদ্ভুত কারসাজি! * এই প্রতিযোগিতার দৌড় মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বনাম আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে। ** '''''[[:w:মার্টিন এমিস|মার্টিন এমিস]]''''', ''আইনস্টাইন'স মনস্টারস'' (১৯৮৭), ভূমিকা * আমরা স্রেফ জানি না যে পারমাণবিক অস্ত্র আদৌ প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কিনা। কিংবা এগুলো আজ কার্যকর কিনা অথবা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায় কি না। বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক নীতিগুলো এমন সব তথ্যের অজ্ঞানতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই নীতির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে প্রধান বিষয় ছিল। ** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', [https://www.nytimes.com/1988/01/17/opinion/l-what-we-don-t-know-about-nuclear-policy-016788.html ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', "পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে আমরা যা জানি না" (১৭ জানুয়ারি, ১৯৮৮)], পৃষ্ঠা ২৬ * কেবল পারমাণবিক বোমার সহিংসতাই মানবজাতির জন্য একমাত্র হুমকি নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের সহকর্মী মানুষদের, নির্দোষ অথবা দোষী উভয়কেই—হত্যা করার এই যে নিচু মানসিকতা, সেটিই হলো বড় হুমকি! যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়, শক্তি এবং সম্পদকে যেকোনো ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ থেকে সরিয়ে এনে যুদ্ধের অহিংস বিকল্প খোঁজার কাজে নিয়োজিত করছি, ততক্ষণ পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলার আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সম্ভবত কোনো কাজেই আসবে না অর্থাৎ এটি শুধুই বৃথা যাবে! ** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', ''অন ওয়ার অ্যান্ড মোরালিটি'' (১৯৮৯), ভূমিকা পৃষ্ঠা ১০ === ১৯৯০-এর দশক === * পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক জরুরি কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যেত যে আমি ভাবতাম, এমন সংকটে পরিকল্পনা বা যুক্তির কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব। [[:w:রাশিয়া|রাশিয়ানরা]] মাঝেমধ্যেই আমাদের পূর্ব উপকূলে এমন সব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখত, যা মাত্র ছয় থেকে আট মিনিটের মধ্যে [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসকে]] একদম পারমাণবীয় [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়]] ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারত! [[:w:রাডার|রাডার]] স্কোপের ওপর ভেসে ওঠা একটা বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ছয় মিনিট সময় পাওয়া যেত; যে আপনি কি ''আরমাগেডন'' (বাইবেল অনুসারে শেষ যুগে দুনিয়া ধ্বংসের পূর্বে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ) শুরু করবেন কি না! এমন সময়ে কীভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারা যায়? [[:w:পেন্টাগন|পেন্টাগনের]] কিছু লোক ছিল যারা পারমাণবিক যুদ্ধ করা এবং তাতে জেতার কথা ভাবত। আমার কাছে এটি ছিল সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান। পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিততে পারে না। তাই এটি কখনোই লড়া উচিত নয়। ** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', ''অ্যান আমেরিকান লাইফ'' (১৯৯০) * পারমাণবিক বোমার এই [[:w:স্নায়ুযুদ্ধ|শীতল-যুদ্ধের]] ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়নি। বরং এটি করা হয়েছে [[:w:পদার্থবিজ্ঞান|পদার্থবিজ্ঞানের]] নিয়মগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে। (এই সমস্যাটি পূর্ণ পরীক্ষামূলক যাচাইকরণের সুযোগ দেয় না। অন্তত একবারের বেশি তো কখনই নয়।) ** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''' এবং ''রিচার্ড পি. টারকো'', ''এ পাথ হোয়্যার নো ম্যান থট: নিউক্লিয়ার উইন্টার অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য আর্মস রেস'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬ * ''[[গ্যালিলিও গ্যালিলেই|গ্যালিলিও]] এর মাথা যখন ছিন্ন করতে চায় জল্লাদ—<br>তখন,<br>সত্য খুঁজতে আরশের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর অপরাধ!...<br>জাগবেই জাগবে সেই পুনর্জন্ম...<br>পেতেই হবে আত্মার সঠিক ধর্ম...<br>কোনো মানুষ কী মাখতে পারে না সেই আলোড়ন?...<br>যেথায় গ্যালিলিওরা করে বিচরণ—<br>ছিলেন তিনি নিশার রাজা, দৃষ্টি-গভীর সম্রাট...<br>এ তো রসিকতা নয়, ছিলেন যে সত্যের লৌহ কপাট!<br>আমি সবকিছুই খুব চেখে দেখি;<br>দেখে যাই সঠিক পথ, বেড়ে যায় হিম্মত।<br>মানবতা যেন হৃদয়ে রাখি, না হই যেন আণবিক ধ্বংসলীলা—<br>কিন্তু চিনেছি কী সেই সত্যকে, যা ছিল দুনিয়া ভোলা?'' ** '''''[[w:ইন্ডিগো গার্লস|ইন্ডিগো গার্লস]]''''', "গ্যালিলিও", ''জিনিয়াস'' অ্যালবাম থেকে (১২ মে, ১৯৯২); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) * যুদ্ধ। যুদ্ধ কখনোই বদলায় না। ** ''ফলআউট'', (১৯৯৭ ভিডিও গেম), প্রারম্ভিক বর্ণনা: '''''[[:w::রন পার্লম্যান|রন পার্লম্যান]]'''' === ২০০০-এর দশক === * ঈশ্বরের দোহাই, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার দোহাই, আপনারা যে সভ্যতার অংশ তার দোহাই - আপনারা দয়া করে এই উন্মাদনা বন্ধ করুন! আপনারা মরণশীল মানুষ। আপনাদের ভুল হতে পারে। আপনাদের হাতে এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো বিজ্ঞ বা শক্তিশালী মানুষ নেই যার হাতে আমাদের গ্রহের একটি বিশাল অংশের সভ্য জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকা উচিত। ** '''''জর্জ এফ কেনান''''', তাঁর মৃত্যুসংবাদে উদ্ধৃত, "১০১ বছর বয়সে জর্জ কেনানের মৃত্যু; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের নীতি প্রণয়নকারী", ''দ্য বোস্টন গ্লোব'' (১৮ মার্চ, ২০০৫); এছাড়াও জেমস ক্যারল, ''হাউস অফ ওয়ার'' (বোস্টন এবং নিউ ইয়র্ক: হটন মিফলিন কোং, ২০০৬), "আপস্ট্রিম", পৃষ্ঠা ৫৮১, নোট ১৪০। ISBN 0618187804. === ২০১০-এর দশক === * ...ঠিক রাশিয়ান সীমান্তে অত্যন্ত চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে এবং এমন একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা মূলত পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব এবং প্রজাতির জন্য চূড়ান্ত বিনাশ ডেকে আনতে পারে! আমরা এর খুব কাছাকাছিই রয়েছি।<br>প্রথমত, এটি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত কেন এমনটা হলো। এর কারণ হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর [[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভকে]] দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে [[:w:ন্যাটো|ন্যাটোর]] বিস্তার। মূলত [[:w:বিল ক্লিনটন|ক্লিনটনের]] অধীনে এটি শুরু হয়, আংশিকভাবে প্রথম [[:w:জর্জ ডব্লিউ. বুশ|জর্জ ডব্লিউ. বুশ]] এবং তারপর ক্লিনটন একে সরাসরি রাশিয়ান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন, যা [[:w:বারাক ওবামা|বারাক ওবামার]] অধীনে আরও প্রসারিত হয়। সুসংগঠিত মানব সমাজের ভাগ্য, এমনকি প্রজাতির টিকে থাকাও এর ওপর নির্ভর করছে! [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না; তার তুলনায় এই বিষয়গুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে? ** '''''[[:w:নোম চম্‌স্কি|নোম চম্‌স্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2018/7/27/noam_chomsky_on_mass_media_obsession "Noam Chomsky on Mass Media Obsession with Russia & the Stories Not Being Covered in the Trump Era"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৭ জুলাই, ২০১৮) === ২০২০-এর দশক === * পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নাটকের মঞ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি [[:w:রাইফেল|রাইফেলের]] মতো! আমরা সেই নাটকটি লিখিনি, আমরা এটি মঞ্চস্থ করছি না এবং নাট্যকার কী চান তাও আমরা জানি না। যে কেউ যেকোনো সময় দেয়াল থেকে রাইফেলটি তুলে নিতে পারে। ** '''''[[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভ]]''''', ''হোয়াট ইজ অ্যাট স্টেক নাউ'' (২০২০), জেসিকা স্পেংলার কর্তৃক [[:w:রুশ ভাষা|রুশ ভাষা]] থেকে অনূদিত * আমেরিকার একটি মাত্র 'ট্রাইডেন্ট' সাবমেরিন, যা এখন আরও শক্তিশালী সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এখন এটি তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রায় ২০০টি শহর ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! [[:w:দক্ষিণ চীন সাগর|দক্ষিণ চীন সাগরে]] চীনের মাত্র চারটি পুরনো ও শব্দ সৃষ্টিকারী সাবমেরিন রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ঠিকমতো বের হতেই পারে না। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র [[:w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ায়]] পারমাণবিক সাবমেরিনের একটি বহর পাঠাচ্ছে। এটিই হলো সেই 'AUKUS' বা অকাস চুক্তি(অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত) যার আসলে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যই নেই। এগুলো এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যেও সচল হবে না, কিন্তু এগুলো চীনকে তাদের পিছিয়ে থাকা সামরিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে এবং সংঘাতের মাত্রা তীব্র করতে নিশ্চিতভাবেই উস্কানি দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আঞ্চলিক শক্তির নেতৃত্বে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, আমি চাইলে এর গভীরে যেতে পারি। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কখনোই উস্কানি বাড়ানো হতে পারে না, কিংবা এমন কোনো দুর্ঘটনাবশত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ানো নয় যা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এমনকি এই ধরনের পদক্ষেপ পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত পারমাণবিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে! কিন্তু [[:w:বাইডেন|জো বাইডেন]] প্রশাসন ট্রাম্পের কর্মসূচিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই পথেই হাঁটছে। এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। ** '''''[[:w:নোম চমস্কি|নোম চমস্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2021/11/23/noam_chomsky_on_bidens_foreign_policy "চীন কি আসলেই একটি হুমকি?"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৩ নভেম্বর, ২০২১) == আরও দেখুন == * [[পারমাণবিক শক্তি]] * [[পারমাণবিক অস্ত্র]] == বহিঃসংযোগ == {{wikipedia}} * [https://history.state.gov/search?q=atomic%20bomb&within=documents&start-date=1945-01-01&end-date=1952-12-31&sort-by=relevance ১৯৪৫ –১৯৫২: পারমাণবিক বোমার ইতিহাস] মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল আর্কাইভ। * [https://nsarchive.gwu.edu/ ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ] জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি। * [https://www.atomicarchive.com/ অ্যাটমিক আর্কাইভ]: পারমাণবিক অস্ত্রের বিজ্ঞান ও ইতিহাস। * [https://disarmament.unoda.org/en জাতিসংঘ: নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয় (UNODA)] * [https://www.iaea.org/ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)] * [https://thebulletin.org/doomsday-clock/ domsday ক্লক (Doomsday Clock)] বর্তমান পারমাণবিক ঝুঁকির সূচক। * [https://peace-tourism.com/en/spot/entry-40.html হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম] * [https://nuclearsecrecy.com/nukemap/ নিউক ম্যাপ (NUKEMAP)]: পারমাণবিক বিস্ফোরণ সিমুলেটর। [[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ]] [[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক অস্ত্র]] [[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক যুদ্ধ]] 8hs3f6ot1sfwgpoqyvk20rhuywl6is2 বাঁশ 0 12226 76828 74922 2026-04-15T05:32:50Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76828 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] au4g34ow9h87wsggus7sersr2vh4el9 76831 76828 2026-04-15T05:36:36Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76831 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] cgz5enjuoftiynvd4f6k3os0kfeuw4s 76833 76831 2026-04-15T05:41:10Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76833 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 8prklg3c0rlt1efql5ump7f8pap572j 76836 76833 2026-04-15T05:44:40Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76836 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 3pirl3twsywu7ajv8v1s11idgiyjedb 76847 76836 2026-04-15T06:19:27Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76847 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] rm83axxpr24u6u7zdt7f9steiupqb6o 76848 76847 2026-04-15T06:22:14Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76848 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] t29x7yzt9a9de100387hyf6btanm8nc 76850 76848 2026-04-15T06:32:47Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76850 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] cf1euw8umus0h9rhfxnn8zy3x7g9izv 76852 76850 2026-04-15T06:38:00Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76852 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] pqq6fa0jykvm1wwrrovwksfp25zw78r 76892 76852 2026-04-15T09:00:06Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76892 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] j4g2n6ockgvhbja76w6satjyhn7h0jh 76895 76892 2026-04-15T09:04:23Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76895 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] qfxaxfw54p8idzx0w8j15bdnadw46jh 76896 76895 2026-04-15T09:08:58Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76896 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 2egycstn4golzcvt2k2d3fy3b4mmtlp 76897 76896 2026-04-15T09:11:53Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76897 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 03yj5h59asndwr3mo5j252s1ecuwa2l 76898 76897 2026-04-15T09:16:13Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76898 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] l0jk2y1mhz2qtzwtf17v1ss0bqckn3r 76901 76898 2026-04-15T09:24:27Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76901 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] jnky3qe65x6agu2lyglue4y8k0tphgs 76902 76901 2026-04-15T09:27:15Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76902 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] hsz2pls6c1o1mf5ckngrf7wj019gonm 76903 76902 2026-04-15T09:29:11Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76903 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 87ssjdfgxlmqpcz8n7lxchqzg9ak41b 76904 76903 2026-04-15T09:36:36Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76904 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * চারধারে ঘন বাঁশের জঙ্গল। বুনো হাতীর দল মড়্ মড়্ করে বাঁশ ভাঙচে। সে আর একজন কে তার সঙ্গে,দুজনে একটা প্রকাণ্ড পর্ব্বতে উঠেচে; চারি ধারের দৃশ্য ঠিক হাউপ্টমানের লেখা মাউন্‌টেন্ অফ্ দি মুনের দৃশ্যের মতো। সেই ঘন বাঁশ বন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড় বড় গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা, আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বতশিখরটী—এক এক বার দেখা যাচ্ছে, এক একবার বনের আড়ালে চাপা পড়চে। * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 6myp8sgoctvbb6094rtp9ahvao4xigm 76905 76904 2026-04-15T09:38:28Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76905 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * চারধারে ঘন বাঁশের জঙ্গল। বুনো হাতীর দল মড়্ মড়্ করে বাঁশ ভাঙচে। সে আর একজন কে তার সঙ্গে,দুজনে একটা প্রকাণ্ড পর্ব্বতে উঠেচে; চারি ধারের দৃশ্য ঠিক হাউপ্টমানের লেখা মাউন্‌টেন্ অফ্ দি মুনের দৃশ্যের মতো। সেই ঘন বাঁশ বন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড় বড় গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা, আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বতশিখরটী—এক এক বার দেখা যাচ্ছে, এক একবার বনের আড়ালে চাপা পড়চে। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], প্রথম পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪-৫ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] o3iutd7lkyuaqf8e8yrbfglmgx7ewoa 76906 76905 2026-04-15T09:43:58Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76906 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * চারধারে ঘন বাঁশের জঙ্গল। বুনো হাতীর দল মড়্ মড়্ করে বাঁশ ভাঙচে। সে আর একজন কে তার সঙ্গে,দুজনে একটা প্রকাণ্ড পর্ব্বতে উঠেচে; চারি ধারের দৃশ্য ঠিক হাউপ্টমানের লেখা মাউন্‌টেন্ অফ্ দি মুনের দৃশ্যের মতো। সেই ঘন বাঁশ বন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড় বড় গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা, আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বতশিখরটী—এক এক বার দেখা যাচ্ছে, এক একবার বনের আড়ালে চাপা পড়চে। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], প্রথম পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪-৫ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * খালের ধারে বাঁশের ঝাড়ে গান কে জুড়েছে।<br>শিরীষ গাছের শুকনো পাতা হাওয়ায় উড়েছে। ** [[সুনির্মল বসু]], জলের পথে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] 9q2o1d9k7cxc809xm82gd3z7vvwwjtu 76908 76906 2026-04-15T09:52:25Z Salil Kumar Mukherjee 39 উক্তি যোগ 76908 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * দুটি গােরু ও বাছুরের জন্য তিনটি সুপারিগাছের মধ্যে মােটা বাঁশের ত্রিকোণ মাচা বাঁধা হইয়াছে, বাড়ির পােষা কুকুরটিও স্থান পাইয়াছে সেখানে। মালার বুড়া বাপ বৈকুণ্ঠ মাচায় বসিয়া ভীত গােরু দুটিকে খড় দিতেছিল, ঘরের চালে বসিয়া বঁড়শি দিয়া মাছ ধরিতেছিল মালার বড়াে ভাই অধর, আর ঘরের ভিতরকার মাচায় উঠিবার মই হইতে এদিকে রান্নাঘরের চাল পর্যন্ত পাশাপাশি দুটি বাঁশ বাঁধিয়া ইহারা যে সাঁকো তৈয়ারি করিয়াছে তার উপরে পা ঝুলাইয়া বসিয়াছিল কয়েকটি উলঙ্গ ছেলেমেয়ে। * চারধারে ঘন বাঁশের জঙ্গল। বুনো হাতীর দল মড়্ মড়্ করে বাঁশ ভাঙচে। সে আর একজন কে তার সঙ্গে,দুজনে একটা প্রকাণ্ড পর্ব্বতে উঠেচে; চারি ধারের দৃশ্য ঠিক হাউপ্টমানের লেখা মাউন্‌টেন্ অফ্ দি মুনের দৃশ্যের মতো। সেই ঘন বাঁশ বন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড় বড় গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা, আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বতশিখরটী—এক এক বার দেখা যাচ্ছে, এক একবার বনের আড়ালে চাপা পড়চে। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], প্রথম পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪-৫ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * খালের ধারে বাঁশের ঝাড়ে গান কে জুড়েছে।<br>শিরীষ গাছের শুকনো পাতা হাওয়ায় উড়েছে। ** [[সুনির্মল বসু]], জলের পথে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] jvr3m8sket3havkbq34xrlg0gnfagl4 76909 76908 2026-04-15T09:54:14Z Salil Kumar Mukherjee 39 উদ্ধৃতি যোগ 76909 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:বাঁশ|বাঁশ]]''' হলো সপুষ্পক বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ উদ্ভিদের একটি গোত্র। বাঁশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় বাঁশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্যের উৎস এবং একটি বহুমুখী কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। == উক্তি == * বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই—<br>মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লা দিদি কই?<br>পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,—<br>ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই;<br>মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? ** [[যতীন্দ্রমোহন বাগচী]], কাজ‍্লাদিদি, কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রকাশক- পপুলার এজেন্সী, প্রকাশসাল- ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ), প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১১৪ * রমু আবার বলিল: ওই বাঁশের পুল পার হইয়া যে-বাড়ি, সে-বাড়িতে থাকে গফুর, আমার চাচাত ভাই। সে খুব ফড়িং ধরে আর আড়কাঠি বিঁধাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তারা ছটফট করিয়া মরিয়া যায়। দেখিয়া আমার মনে বড় কষ্ট লাগে। তুমি ফড়িং ধরনা, তুমি কত ভাল। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], দুরঙা প্রজাপতি, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৪ * ঘুড়ির হাতে বাঁশের লাটাই,<br>উড়তে থাকে ছেলে;<br>বঁড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে,<br>মাছেরা ছিপ ফেলে! ** [[যোগীন্দ্রনাথ সরকার]], মজার মুল্লুক, হাসি রাশি - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৪ * পৃথিবীকে কেবলমাত্র উপরের তলাতেই দেখিতেছি, তাহার ভিতরের তলাটা দেখিতে পাইতেছি না, ইহাতে কতদিন যে মনকে ধাক্কা দিয়াছে তাহা বলিতে পারি না। কী করিলে পৃথিবীর উপরকার এই মেটে রঙের মলাটটাকে খুলিয়া ফেলা যাইতে পারে তাহার কতই প্ল্যান ঠাওরাইয়াছি। মনে ভাবিতাম, একটার পর আর-একটা বাঁশ যদি ঠুকিয়া ঠুকিয়া পোঁতা যায়; এমনি করিয়া অনেক বাঁশ পোঁতা হইয়া গেলে পৃথিবীর খুব গভীরতম তলাটাকে হয়তো একরকম করিয়া নাগাল পাওয়া যাইতে পারে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ঘর ও বাহির, জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪ * বাঁশের ঝোপে জাগছে সাড়া,<br>কোল্‌-কুঁজো বাঁশ হচ্ছে খাড়া,<br>জাগ্‌ছে হাওয়া জলের ধারে,<br>চাঁদ ওঠেনি আজ আঁধারে! ** [[সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত]], দূরের পাল্লা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান-কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৪ * বাঙ্গালা দেশে এক সময়ে এই বাঁশের বাঁশী মানুষের মনে সমস্ত সংগীতের সার সংগীত শুনাইয়াছিল। বাঙ্গলার রাখালেরা বিনা কড়িতে এই সুরের যন্ত্রটি পাইত, এখানে ঘাটে পথে বাঁশের ঝাড়, একটা মোটা কঞ্চি বা বাঁশের ডগা কাটিয়া বাঁশী তৈরী করিতে জানিত না, এরূপ রাখাল বাঙ্গলা দেশে ছিল না। ** [[দীনেশচন্দ্র সেন]], বাঁশীর সুর, পদাবলী-মাধুর্য্য - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩ * আজ সকালে<br>গানের তালে<br>উঠলো জেগে সাড়া রে,<br>উঠলো জেগে সাড়া;<br>সদলবলে<br>বাজিয়ে চলে<br>বাঁশের বাঁশি তারা রে,<br>বাঁশের বাঁশি তারা॥ ** [[সুনির্মল বসু]], বাঁশের বাঁশি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * দুটি গােরু ও বাছুরের জন্য তিনটি সুপারিগাছের মধ্যে মােটা বাঁশের ত্রিকোণ মাচা বাঁধা হইয়াছে, বাড়ির পােষা কুকুরটিও স্থান পাইয়াছে সেখানে। মালার বুড়া বাপ বৈকুণ্ঠ মাচায় বসিয়া ভীত গােরু দুটিকে খড় দিতেছিল, ঘরের চালে বসিয়া বঁড়শি দিয়া মাছ ধরিতেছিল মালার বড়াে ভাই অধর, আর ঘরের ভিতরকার মাচায় উঠিবার মই হইতে এদিকে রান্নাঘরের চাল পর্যন্ত পাশাপাশি দুটি বাঁশ বাঁধিয়া ইহারা যে সাঁকো তৈয়ারি করিয়াছে তার উপরে পা ঝুলাইয়া বসিয়াছিল কয়েকটি উলঙ্গ ছেলেমেয়ে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪১ * চারধারে ঘন বাঁশের জঙ্গল। বুনো হাতীর দল মড়্ মড়্ করে বাঁশ ভাঙচে। সে আর একজন কে তার সঙ্গে,দুজনে একটা প্রকাণ্ড পর্ব্বতে উঠেচে; চারি ধারের দৃশ্য ঠিক হাউপ্টমানের লেখা মাউন্‌টেন্ অফ্ দি মুনের দৃশ্যের মতো। সেই ঘন বাঁশ বন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড় বড় গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা, আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বতশিখরটী—এক এক বার দেখা যাচ্ছে, এক একবার বনের আড়ালে চাপা পড়চে। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], প্রথম পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪-৫ * ছায়ায় চরছে গােরু,<br>মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,<br>ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,<br>হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,<br>তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—<br>ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], পিছু-ডাকা, ছড়ার ছবি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯৩ * ধনুর বাঁশ যোগাড় করা বড়ই কঠিন। সাধারণ বাঁশ দিয়ে ধনু তৈরী হয় না। কয়েক দিন কেটে গেল শুধু বাঁশ খুঁজতে। আমাদের দেশের জংগলে বাঁশ খুজে পাওয়া বড়ই কষ্টকর ব্যাপার। শুনতে পাই, ইণ্ডিয়ার মধ্যপ্রদেশে আমাদের দেশেব মত কণ্টকিত বাঁশ পাওয়া যায়, সেই বাঁশই ধনুর পক্ষে উপযোগী; সহজে ভাংগে না। একদিন বাঁশের খোঁজে যেয়ে ত মহাবিপদে পড়তে হয়েছিল। একটা চিতাবাঘ আমার মাথা লক্ষ্য করে লাফ দেয়। বাঘটা ছিল কাঁটা-বিহীন একটি গাছের উপর, আর আমি ছিলাম কাঁটাপূর্ণ বাঁশবনে। একটু শব্দ হতেই আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি। চিতাবাঘটার বোধ হয় বেশি ক্ষুধা হয়েছিল, সেজন্য তার বুদ্ধির বিপর্যয় ঘটে। বাঁশবনের নীচে পড়ামাত্র বড় বড় কাঁটা তার থাবার মধ্যে ঢুকে যায়। চলবাব ক্ষমতা ছিল না। ** [[রামনাথ বিশ্বাস]], মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২-১৩ * খালের ধারে বাঁশের ঝাড়ে গান কে জুড়েছে।<br>শিরীষ গাছের শুকনো পাতা হাওয়ায় উড়েছে। ** [[সুনির্মল বসু]], জলের পথে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * তাই যদি হয়, তবে স্বামীর মৃত্যুর পরই তাহার বিধবাকে একবাটি সিদ্ধি ও ধুতুরা পান করাইয়া মাতাল করিয়া দেওয়া হইত কেন? শ্মশানের পথে কখন বা সে হাসিত, কখন কাঁদিত, কখন বা পথের মধ্যেই ঢুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িতে চাহিত। এই তার হাসি, এই তার সহমৃতা হইতে যাওয়া! তার পর চিতায় বসাইয়া কাঁচা বাঁশের মাচা বুনিয়া চাপিয়া ধরা হইত, পাছে সতীদাহ-যন্ত্রণা আর সহ্য করিতে না পারে। এত ধূনা ও ঘি ছড়াইয়া অন্ধকার ধুঁয়া করা হইত যে, কেহ তাহার যন্ত্রণা দেখিয়া যেন ভয় না পায়। ** [[শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], নারীর মূল্য-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- বাক্‌-সাহিত্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১ * আকাশে উড়ে বেড়ায় শঙ্খ চিল,<br> -বড়ো বড়ো বাঁশ পুঁতে জাল পেতেচে জেলে,<br>বাঁশের ডগায় বসে আছে মাছরাঙা,<br>পাতিহাঁস ডুবে ডুবে গুগলি তোলে।<br>বেলা দুপুর। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ছেলেটা, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১ * শুক্‌নো কাঠ বা বাঁশ মাটিতে পোঁতা থাকিলে, সেগুলির ভিতরে উইয়ে বাসা করে। যদি একখানা উই-ধরা বাঁশ পরীক্ষা করিবার সুবিধা পাও, তবে দেখিবে, বাঁশের ভিতরে উইরা মাটি দিয়া সরু পথ ও সুড়ঙ্গ তৈয়ার করিয়াছে। যেখানে বাঁশ বা কাঠ নাই, সেখানে উই পোকারা মাটির তলায় ঘর প্রস্তুত করে। ** [[জগদানন্দ রায়]], উই, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪১ * সকালে উঠে আবার ওপরে ওঠা সুরু। উঠ্‌চে, উঠ্‌চে—মাইলের পর মাইল বন্য বাঁশের অরণ্য, তার তলায় বুনো আদা। ওদের পথের একশো হাতের মধ্যে বাঁদিকের বাঁশবনের তলা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড হস্তীযূথ কচি বাঁশের কোঁড় মড়্‌মড়্‌ করে ভাঙতে ভাঙতে চলে গেল। ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ, চাঁদের পাহাড় - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯ * মাঝখানে নৌকার পাটাতনে হাত দুই ফাঁক রাখা হইয়াছে। এই ফাঁক দিয়া নৌকার খােলের মধ্যে মাছ ধরিয়া জমা করা হয়। জাল ফেলিবার ব্যবস্থা পাশের দিকে। ত্রিকোণ বাঁশের ফ্রেমে বিপুল পাখার মতাে জালটি নৌকার পাশে লাগানাে আছে। জালের শেষ সীমার বাঁশটি নৌকার পার্শ্বদেশের সঙ্গে সমান্তরাল। তার দুই প্রান্ত হইতে লম্বা দুটি বাঁশ নৌকার ধারে আসিয়া মিশিয়া পরস্পরকে অতিক্রম করিয়া নৌকার ভিতরে হাত দুই আগাইয়া আসিয়াছে। জালের এ দুটি হাতল। এই হাতল ধরিয়া জাল উঠানাে এবং নামানাে হয়।<br>গভীর জলে বিরাট ঠোঁটের মতাে দুটি বাঁশে বাঁধা জাল লাগে। দড়ি ধরিয়া বাঁশের ঠোঁট হাঁ-করা জাল নামাইয়া দেওয়া হয়। মাছ পড়িলে খবর আসে জেলের হাতের দড়ি বাহিয়া, দড়ির দ্বারাই জলের নীচে জালের মুখ বন্ধ করা হয়। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭ * খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতি লোফেন যখন তখন,<br>দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন।<br>একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে—<br>ভাঙল সে-বাঁশ শোলার মতো মট্ ক’রে তার কনুই লেগে। ** [[সুকুমার রায়]], পালোয়ান, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪ * প্রত্যেক ঘরের সামনে সমান লম্বা একটা বারান্দা ছিল, আর ঘরের চারিদিকটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেই বেড়ার বাঁশ কিছুদিন ভিজিয়ে রেখে, লম্বাদিকে চিরে দুখানা করে সেই এক এক ভাগকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সরু জালির মত করা হত। সেই জালি বাঁশের বেড়ার ভিতর দিয়ে আলো হাওয়া যথেষ্ট প্রবেশ করতে পারত, আবশ্যকমত জানালা দরজাও রাখা হত। কাঠের কপাটের উপর নানারকম ফুল পাতার তোলা কাজ নিজের নিজের রুচি অনুসারে করা হত। ** [[জ্ঞানদানন্দিনী দেবী]], ছেলেবেলার কথা, স্মৃতিকথা– জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রকাশক– রূপা পাবলিকেশন্‌স, প্রকাশস্থান– কলকাতা, প্রয়াগরাজ, মুম্বই, প্রকাশসাল– ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫ * শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,<br>ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া।<br>আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!<br>হায় রে বিজন দীর্ঘ রাজি, হায় রে ক্লান্ত কায়া। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], দিনশেষ, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯৬ * নারাণ মাস্টার বলচেন—ওই বাঁশঝাড়ের মাথার ওপরে— ঐ দেখো।<br>—বেশ বড় নক্ষত্র—<br>—ওটিকে নক্ষত্র বলো না। ওটি গ্রহ। সৌর জগতের একটা গ্রহ। অন্য অন্য গ্রহগুলির নাম করো তো? তোরা দেখেচিস্ শুক্র গ্রহ?<br>—ঐ বাঁশ ঝাড়ের মাথায়? ** [[বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]], অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬-৭ * রানী নাইতে গেলেন। বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল। ষোলো থান মোহরে যোলো জন ঘরামি নিলে, ষোলো গাড়ি খড় নিলে, ষোলোশো বাঁশ নিলে। সেই ষোলোশো বাঁশ দিয়ে, যোলো গাড়ি খড় দিয়ে, ষোলোজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে। ** [[অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], ক্ষীরের পুতুল, অবনীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৬-৭৭ * শুন বাপু চাষার বেটা।<br>বাঁশের ঝাড়ে দিও<br>ধানের চিটা॥<br>চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।<br>দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥ ** [[খনা]], খনার বচন, বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় - দীনেশচন্দ্র সেন, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪ * অনেক নদী আছে বর্ষার অকুণ্ঠ প্লাবনে ডুবিয়া তারা নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। পারের কোন হদিস থাকে না, সবদিক একাকার। কেউ তখন বলিতে পারে না এখানে একটা নদী ছিল। সুদিনে আবার তাদের উপর বাঁশের সাঁকোর বাঁধ পড়ে। ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত একখানা বাঁশে হাত রাখিয়া আর একখানা বাঁশে পা টিপিয়া টিপিয়া পার হইয়া যায়। ছেলে-কোলে নারীরাও যাইতে পারে। নৌকাগুলি অচল হয়। মাঝিরা কোমরে দড়ি বাঁধিয়া সেগুলিকে টানিয়া নেয়। ** [[অদ্বৈত মল্লবর্মণ]], তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩ * মেঘের ছায়া কুঁড়ে ঘরের পরে,<br>ভাঙাচোরা পথের ধারে,<br>ঘন বাঁশের বনের ধারে,<br>মেঘের ছায়া ঘনিয়ে যেন ধরে। ** [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], বাদল, ছবি ও গান-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১ * সেনাপতির হুকুমের মত সকলে যেন এই নির্দেশের অপেক্ষাতেই ছিল, সকলের উদ্‌ভ্রান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এবার একটা শৃঙ্খলা দেখা দেয়। যাদববাবুর ঘরের পিছনে গাদা করা বাঁশ ছিল। একটা করে বাঁশ এনে সবাই মিলে একপাশ থেকে গোয়ালের চালাটা ফেলে দেবার জন্য ঠেলতে থাকে। আমচুরির ব্যাপারটার সময় প্রতিবেশী যত লোক এসেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশী লোক এসে এই চেষ্টায় যোগ দেওয়ায় একটু পরেই খড় বাঁশের পুরানো চালাটি হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যায়।<br>তারপর হাঁড়ি কলসী ঘটি বাটি আর বালতিতে করে কাছের ডোবা থেকে জল এনে আর বাঁশ দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে আগুনটা সকলে নিভিয়ে ফেলে। ** [[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]], মাঝির ছেলে - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬ * বটের শাখে, অশথ গাছে,<br>বাঁশের ঝাড়ে নদীর কাছে—<br>আসর জমায় পাখীর দলে কূজন তুলে তুলে। ** [[সুনির্মল বসু]], সোনার ছবি, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯০-৯১ * ভূতের প্রকৃত ব্যাপারটা কি তাহা জানিবার নিমিত্ত তিনি সেই গ্রামের ও নিকটবর্ত্তী স্থানের অনেক লোককে অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার কথার উত্তরে অনেকেই ভূতের অত্যাচারের কথা বলিল। কেহ বলিল, সে একদিন বাঁশ-বাগানের ভিতর একঝাড় বাঁশের গোড়ায় ভূতকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়াছে। কেহ বলিল, একদিন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়া গমন করিবার কালীন দেখিতে পায় যে, ভূতটী একটী গাছের উপর পা ঝুলাইয়া বসিয়া আছে। ** [[প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়]], ভূতের বিচার, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৪ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} {{উইকিঅভিধান}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bambusoideae}} [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]] enk1riom1qg1wycddzdatefbrihf4nf ফ্রান্সিস্কো ভারেলা 0 12312 76691 75598 2026-04-14T13:52:15Z Sumanta3023 4175 76691 wikitext text/x-wiki [[File:Francisco Varela.jpg|250px|right|thumbnail|১৯৯৪ সালে ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] '''[[w:ফ্রান্সিস্কো ভারেলা|ফ্রান্সিস্কো জাভিয়ের ভারেলা গার্সিয়া]]''' ([[৭ সেপ্টেম্বর]], [[১৯৪৬]] – [[২৮ মে]], [[২০০১]]) ছিলেন একজন চিলীয় [[জীববিজ্ঞানী]] এবং [[দার্শনিক]]। তিনি তাঁর শিক্ষক [[উম্বের্তো মাতুরানা|উম্বের্তো মাতুরানার]] সাথে যৌথভাবে জীববিজ্ঞানে [[w:অটোপয়েসিস|অটোপয়েসিস]] ধারণাটি প্রবর্তনের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। == উক্তি == * যদি সবাই একমত হতো যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা একটি বাস্তবতা মাত্র, এবং আমরা মূলত যা ভাগ করে নেই তা হলো একটি বাস্তবতা তৈরি করার সক্ষমতা, তবে সম্ভবত আমরা একটি 'মেটা-অ্যাগ্রিমেন্ট' বা উচ্চতর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতাম। এটি এমন একটি বাস্তবতা গণনার পথ দেখাত যা প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব কর্মপদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার বদলে গ্রহের প্রত্যেকের বেঁচে থাকা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করত। ** ভারেলা (১৯৭৫); অ্যান ওয়াল্ডম্যান সম্পাদিত ''দ্য কোইভোল্যুশন কোয়ার্টারলি'' এ। সংখ্যা ৮-১২, পৃষ্ঠা ৩১। * সমসাময়িক সংস্কৃতিতে '[[সামগ্রিকতা|সামগ্রিক]]' দৃষ্টিভঙ্গিকে এক ধরণের সর্বরোগহর ওষুধ হিসেবে প্রচার করার একটি শক্তিশালী ধারা রয়েছে সংক্ষেপণবাদ বা রিডাকশনিজম বলতে নিচের স্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া বোঝায়, আর সামগ্রিকতা বলতে উচ্চতর স্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া বোঝায়। যেকোনো সন্তোষজনক বর্ণনায় এই দুটি একে অপরের সাথে জড়িত: এবং প্রতিটি আমাদের জ্ঞানীয় পছন্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতির পাশাপাশি কিছু লাভও নিয়ে আসে অংশগুলোর পারস্পরিক সংযোগ ছাড়া কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থা হয় না এবং পরিবেশ ছাড়া কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থা থাকা সম্ভব নয়। ** ভারেলা (১৯৭৭) "অন বিয়িং অটোনমাস: দ্য লেসনস অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি ফর সিস্টেমস থিওরি"। [[জর্জ ক্লির]] সম্পাদিত ''অ্যাপ্লাইড সিস্টেমস রিসার্চ'' এ। নিউ ইয়র্ক: প্লেনাম প্রেস। পৃষ্ঠা ৭৭-৮৫; ডি. রুড্রফ (২০০৩) "[http://www.scielo.cl/pdf/bres/v36n1/art05.pdf ফ্রম অটোপয়েসিস টু নিউরোফেনোমেনোলজি: ফ্রান্সিস্কো ভারেলা'স এক্সপ্লোরেশন অফ দ্য বায়োফিজিক্স অফ বিয়িং]" এ উদ্ধৃত। ইন: ''বায়োল রেস'' ৩৬: ২৭-৬৫। * একটি বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায় হলো একটি স্থিতিস্থাপক সম্প্রদায়, যা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। তবে বৈচিত্র্য কেবল তখনই কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে যখন সেখানে একটি সত্যিকারের প্রাণবন্ত সম্প্রদায় থাকে, যা সম্পর্কের এক নিবিড় জালের মাধ্যমে টিকে থাকে। যদি সম্প্রদায়টি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে বৈচিত্র্য সহজেই কুসংস্কার এবং ঘর্ষণের উৎস হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সম্প্রদায়টি যদি তার সমস্ত সদস্যের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সম্পর্কে সচেতন থাকে, তবে বৈচিত্র্য সমস্ত সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করবে এবং এর ফলে সামগ্রিকভাবে সম্প্রদায় ও প্রতিটি স্বতন্ত্র সদস্য সমৃদ্ধ হবে। এমন একটি সম্প্রদায়ে তথ্য এবং ধারণাগুলো পুরো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবাধে প্রবাহিত হয় এবং ব্যাখ্যার ভিন্নতা ও শেখার শৈলীর বৈচিত্র্য এমনকি ভুলের বৈচিত্র্যও পুরো সম্প্রদায়কে সমৃদ্ধ করবে। ** মাতুরানা এবং ভারেলা (১৯৮৭) ''দ্য ট্রি অফ নলেজ''; [[ফ্রিটজফ ক্যাপ্রা]] (১৯৯৬) ''দ্য ওয়েব অফ লাইফ'' এ উদ্ধৃত। পৃষ্ঠা ৩৩০। * আমি একজন জীববিজ্ঞানী যে জ্ঞানীয় ঘটনার জৈবিক শিকড় নিয়ে আগ্রহী। ** ভারেলা (১৯৯০); ডি. রুড্রফ (২০০৩) "[http://www.scielo.cl/pdf/bres/v36n1/art05.pdf ফ্রম অটোপয়েসিস টু নিউরোফেনোমেনোলজি: ফ্রান্সিস্কো ভারেলা'স এক্সপ্লোরেশন অফ দ্য বায়োফিজিক্স অফ বিয়িং]" এ উদ্ধৃত। ইন: ''বায়োল রেস'' ৩৬: ২৭-৬৫। * আমি আশা করি আমি পাঠককে এই কথাটি বিবেচনা করতে প্রলুব্ধ করতে পেরেছি যে, আমাদের সামনে মানবিক অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানীয় বিজ্ঞানের মধ্যে অনুরণিত পথ খোঁজার একটি অন্তহীন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মূল্য হিসেবে প্রথম ব্যক্তির বর্ণনাকে (ফার্স্ট-পারসন অ্যাকাউন্টস) ঘটনার একটি বৈধ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করতে হবে। আর তারও বাইরে, প্রপঞ্চতাত্ত্বিক বা ফেনোমেনোলজিক্যাল পরীক্ষার একটি টেকসই ঐতিহ্য গড়ে তুলতে হবে যা আজ আমাদের পাশ্চাত্য বিজ্ঞান এবং বৃহত্তর সংস্কৃতিতে প্রায় অস্তিত্বহীন। ** ভারেলা (১৯৯৬) "নিউরোফেনোমেনোলজি : এ মেথডোলজিক্যাল রেমেডি ফর দ্য হার্ড প্রবলেম"; ''জার্নাল অফ কনশাসনেস স্টাডিজ'', জে. শেয়ার (সম্পাদিত), জুন ১৯৯৬। [http://www.enolagaia.com/Varela.html ফ্রান্সিস্কো জে. ভারেলা ১৯৪৬ - ২০০১], enolagaia.com এ উদ্ধৃত। * গত ১৫ বছরে একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির উত্থান ঘটেছে, যা হলো মূর্ত বা সক্রিয় সংজ্ঞান (এমবডিড অর এনাক্টিভ কগনিশন)। এই নতুন ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে কারণ কম্পিউটেশনালিস্ট মতবাদ বিশ্বের অতি সাধারণ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে: যেমন হাঁটা, প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো বস্তুকে অনুধাবন করা কিংবা কল্পনা। ধীরে ধীরে পাশা উল্টে গিয়ে এখন বিবেচনা করা হচ্ছে যে, মনের ভিত্তি হলো দেহ এবং তার সম্মিলিত কাজ; অর্থাৎ সেন্সরি-মোটর সার্কিটগুলো জীবকে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে টিকে থাকার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মস্তিষ্ককে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় (সিনট্যাকটিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয়), যার রয়েছে রিয়েল-টাইম ভেরিয়েবল এবং সমৃদ্ধ স্ব-সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা (প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো যন্ত্র হিসেবে নয়)। তাই এই অর্থে মন কেবল মাথার ভেতরে নেই, যেহেতু এর শিকড় পুরো শরীরে এবং সেই বর্ধিত পরিবেশে ছড়িয়ে আছে যেখানে জীবটি অবস্থান করে। ** ভারেলা (১৯৯৮) "[http://www.expo-cosmos.or.jp/letter/letter12e.html দ্য কসমস লেটার]", এক্সপো'৯০ ফাউন্ডেশন, জাপান। * একটি ঐক্যবদ্ধ জ্ঞানীয় মুহূর্তের উদ্ভব নির্ভর করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা কার্যকারীভাবে বিশেষায়িত অংশগুলোর সমন্বয়ের ওপর। এখানে আমরা লার্জ-স্কেল ইন্টিগ্রেশন বা বৃহৎ আকারের একীকরণের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছি, যা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ছড়িয়ে থাকা শারীরবৃত্তীয় এবং কার্যকারী সংস্থাকে ভারসাম্য প্রদান করে যাতে সুসংগত আচরণ এবং সংজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। যদিও লার্জ-স্কেল ইন্টিগ্রেশনের সাথে জড়িত প্রক্রিয়াগুলো এখনও অনেকটা অজানা, তবুও আমরা যুক্তি দিচ্ছি যে সবচেয়ে সম্ভাব্য উপায় হলো একাধিক ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড জুড়ে সিনক্রোনি বা সমকালিকতার মাধ্যমে তৈরি হওয়া গতিশীল যোগসূত্র। ** ফ্রান্সিস্কো ভারেলা, জিন-ফিলিপ লাচাক্স, ইউজেনিও রদ্রিগেজ এবং জ্যাক মার্তিনেরি (২০০১) "দ্য ব্রেইনওয়েব: ফেজ সিনক্রোনাইজেশন অ্যান্ড লার্জ-স্কেল ইন্টিগ্রেশন"; ''নেচার রিভিউস ভলিউম ২ (এপ্রিল ২০০১)''। পৃষ্ঠা ২২৯। ([http://www.saminverso.com/brg/archive/varela%202001%20Brainweb-Phase%20synchronization%20and%20large%20scale%20integration.pdf অনলাইন]) * এটি আসলে আমাদের উদ্দেশ্যবাদ বা টেলিলজির অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমাদের একটি সত্তা হিসেবে টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা, বস্তুর ওপর উদ্দেশ্য আরোপ করা নয় যার ফলে উদ্দেশ্যবাদ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক নীতির চেয়ে বরং একটি বাস্তব নীতিতে পরিণত হয় বিজ্ঞানী হওয়ার আগে আমরা প্রথমত জীবন্ত প্রাণী, আর সেই হিসেবে আমাদের মধ্যে সহজাত উদ্দেশ্যবাদের প্রমাণ রয়েছে। এবং অন্যান্য প্রাণীদের তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম পর্যবেক্ষণ করার সময় রাসায়নিক বিকর্ষণকারী পদার্থ থেকে সক্রিয়ভাবে দূরে সরে যাওয়া সাধারণ ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে আমরা আমাদের নিজস্ব প্রমাণের মাধ্যমে উদ্দেশ্যবাদকে জীবজগতের চালিকাশক্তি হিসেবে বুঝতে পারি। জীবন সম্পর্কিত তত্ত্বগুলো কেবল জীবনেরই সেই ভঙ্গুর এবং সংশ্লিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুধাবন করা সম্ভব। ** [[আন্দ্রেয়াস ওয়েবার (লেখক)|আন্দ্রেয়াস ওয়েবার]] এবং ফ্রান্সিস্কো ভারেলা ২০০২। "লাইফ আফটার কান্ট: ন্যাচারাল পারপাসেস অ্যান্ড দ্য অটোপয়েটিক ফাউন্ডেশনস অফ ইন্ডিভিজুয়ালিটি"। ''ফেনোমেনোলজি অ্যান্ড দ্য কগনিটিভ সায়েন্সেস'' ২, ৯৭–১২৫। পৃষ্ঠা ১১০; [[ইভান থম্পসন]], "লাইফ অ্যান্ড মাইন্ড: ফ্রম অটোপয়েসিস টু নিউরোফেনোমেনোলজি। এ ট্রিবিউট টু ফ্রান্সিস্কো ভারেলা।" এ উদ্ধৃত। ''ফেনোমেনোলজি অ্যান্ড দ্য কগনিটিভ সায়েন্সেস'' ৩.৪ (২০০৪): ৩৮১-৩৯৮। === ''অটোপয়েসিস অ্যান্ড কগনিশন: দ্য রিয়ালাইজেশন অফ দ্য লিভিং'' (১৯৮০) === :[[উম্বের্তো মাতুরানা|এইচ.আর. মাতুরানা]], এফ.জে. ভারেলা (১৯৮০) ''অটোপয়েসিস অ্যান্ড কগনিশন: দ্য রিয়ালাইজেশন অফ দ্য লিভিং'' * অটোপয়েটিক সংগঠন বলতে মাতুরানা এবং ভারেলা সেই প্রক্রিয়াগুলোকে বুঝিয়েছেন, যা উপাদান উৎপাদনের একটি নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট রূপের সাথে এমনভাবে জড়িত যা সেই নেটওয়ার্কটিকে উপলব্ধি করার মাধ্যমে একে একটি একক বা সত্তা হিসেবে গঠন করে। ** পৃষ্ঠা ৮০; লি ও. থায়ার এবং জর্জ এ. বার্নেট (১৯৯৭) ''অর্গানাইজেশন-কমিউনিকেশন: এমার্জিং পারসপেক্টিভস, ভলিউম ৫'' এ উদ্ধৃত। পৃষ্ঠা ১৯৩। * যে সম্পর্কগুলো একটি সিস্টেমকে একক বা সত্তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এবং মিথস্ক্রিয়া ও রূপান্তরের গতিশীলতা নির্ধারণ করে যার মধ্য দিয়ে সেই সত্তাটি অতিবাহিত হতে পারে তাই ওই যন্ত্রের সংগঠন তৈরি করে। ** পৃষ্ঠা ১৩৭ === ''দ্য এমবডিড মাইন্ড'' (১৯৯১) === :ফ্রান্সিস্কো জে. ভারেলা, ইভান থম্পসন এবং এলিনর রোশ (১৯৯১) ''দ্য এমবডিড মাইন্ড: কগনিটিভ সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান এক্সপেরিয়েন্স'', এমআইটি প্রেস * বৌদ্ধ শিক্ষকরা প্রায়ই যেমনটি উল্লেখ করেন, জ্ঞান [[প্রজ্ঞা (বৌদ্ধধর্ম)|প্রজ্ঞা]] অর্থে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান নয়। অভিজ্ঞতার বাইরে বা অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা এমন কোনো বিমূর্ত 'জ্ঞাতা' নেই। ** পৃষ্ঠা ২৬; '[http://evenhigherlearning.wordpress.com/2009/05/08/in-7-quotes-or-less-the-embodied-mind-by-francisco-j-varela-evan-thompson-and-eleanor-rosch/ ইন ৭ কোটস অর লেস]'এ আংশিক উদ্ধৃত, evenhigherlearning.wordpress.com, ৮ জুন, ২০০৯। * জ্ঞানীয় বিজ্ঞানের (কগনিটিভ সায়েন্স) [[সাইবারনেটিক্স]] পর্যায়টি তার দীর্ঘমেয়াদী (প্রায়ই নেপথ্য) প্রভাবের পাশাপাশি আশ্চর্যজনকভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু ফলাফল তৈরি করেছে: ** স্নায়ুতন্ত্রের কাজ বোঝার জন্য গাণিতিক যুক্তির ব্যবহার; ** তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের (ডিজিটাল কম্পিউটার হিসেবে) উদ্ভাবন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি স্থাপন করেছে; ** সিস্টেম থিওরির মতো একটি মেটা-ডিসিপ্লিন বা উচ্চতর শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠা, যা বিজ্ঞানের অনেক শাখায় ছাপ ফেলেছে, যেমন প্রকৌশল (সিস্টেম অ্যানালাইসিস, কন্ট্রোল থিওরি), জীববিজ্ঞান (রেগুলেটরি ফিজিওলজি, ইকোলজি), সামাজিক বিজ্ঞান (ফ্যামিলি থেরাপি, স্ট্রাকচারাল অ্যানথ্রোপলজি, ম্যানেজমেন্ট, আরবান স্টাডিজ) এবং অর্থনীতি ([[গেম থিওরি]]); ** সংকেত এবং যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর একটি পরিসংখ্যানগত তত্ত্ব হিসেবে [[তথ্য তত্ত্ব|তথ্য তত্ত্বের]] (ইনফরমেশন থিওরি) বিকাশ; ** স্ব-সংগঠিত সিস্টেমের প্রথম উদাহরণসমূহ। <br>এই তালিকাটি বেশ চিত্তাকর্ষক: আমরা এই ধারণা এবং সরঞ্জামগুলোর অনেকগুলোকে আমাদের জীবনের একীভূত অংশ হিসেবে বিবেচনা করি। ** পৃষ্ঠা ৩৮ * আমাদের সমস্ত দুঃখ এই আত্মমগ্নতার সাথে যুক্ত। সমস্ত লাভ ক্ষতি, আনন্দ ও বেদনা তৈরি হয় কারণ আমরা আমাদের এই অস্পষ্ট অহংবোধের সাথে নিজেদের এতটাই নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ফেলি। আমরা এই "আমি" র সাথে মানসিকভাবে এতটাই জড়িত এবং আসক্ত যে আমরা একে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নিই। ** পৃষ্ঠা ৬৩ * অনেকে এটি মেনে নেবেন যে আমাদের আসলে জগত সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই; আমাদের কাছে কেবল জগতের আমাদের তৈরি রূপান্তর বা ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ সম্পর্কে জ্ঞান আছে। তবুও আমাদের গঠনগত কারণেই আমরা এই রিপ্রেজেন্টেশনগুলোকেই জগত হিসেবে গণ্য করতে বাধ্য হই, কারণ আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এমন মনে হয় যেন এটি একটি প্রদত্ত এবং তাৎক্ষণিক জগত। ** পৃষ্ঠা ১৪২ * অন্যের প্রতি সমব্যথী হওয়ার সম্ভাবনা প্রতিটি মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান, তবে এটি সাধারণত অহংবোধের সাথে মিশে থাকে এবং এর ফলে এটি নিজের স্বীকৃতি এবং আত্ম মূল্যায়নের লালসা মেটানোর প্রয়োজনের সাথে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। যখন কেউ অভ্যাসগত ছকে আটকে থাকে না যখন কেউ কর্মফল বা কারণ ফলাফলের অধীন হয়ে ইচ্ছাকৃত কাজ করে না তখন যে স্বতঃস্ফূর্ত করুণা বা মমত্ববোধের উদয় হয়, তা প্রাপকের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান পাওয়ার আশা ছাড়াই ঘটে। এই প্রতিদানের উদ্বেগ বা অন্যের প্রতিক্রিয়াই আমাদের কাজের মধ্যে উত্তেজনা এবং বাধার সৃষ্টি করে। যখন কোনো কাজ 'লেনদেনের মানসিকতা' ছাড়া করা হয়, তখন সেখানে প্রশান্তি থাকে। একেই বলা হয় পরম (বা তুরীয়) উদারতা। ** পৃষ্ঠা ২৪৯ === ''দ্য ইমারজেন্ট সেলফ'' (১৯৯৫) === ** ভারেলা (১৯৯৫) "দ্য ইমারজেন্ট সেলফ"; জন ব্রকম্যান সম্পাদিত ''দ্য থার্ড কালচার: বিয়ন্ড দ্য সায়েন্টিফিক রেভল্যুশন'' এ। অধ্যায় ১২ ([http://www.edge.org/documents/archive/edge86.html অনলাইন]) * আমার মনে হয় সারা জীবন আমার মনে কেবল একটিই প্রশ্ন ছিল। কেন এই উদ্ভূত সত্তা বা ভার্চুয়াল পরিচয়গুলো মন/দেহ স্তর, কোষ স্তর কিংবা ট্রান্স-অর্গানিজম স্তরে জগত তৈরি করতে সব জায়গায় আবির্ভূত হয়? এই ঘটনাটি এতটাই সৃজনশীল যে এটি সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্র জীবন, মন এবং সমাজ তৈরি করা বন্ধ করে না। তবুও এই উদ্ভূত সত্তাগুলো এমন কিছু অস্থির এবং নিরাধার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে, যা আমাদের সামনে দৃশ্যমান তার দৃঢ়তা এবং এর ভিত্তিহীনতার মধ্যে আমরা একটি আপাত বৈপরীত্য দেখতে পাই। আমার কাছে এটিই একটি প্রধান এবং চিরন্তন প্রশ্ন। * আমি সম্ভবত তিনটি ভিন্ন ধরণের কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যা অনেকের কাছে আলাদা মনে হলেও আমার কাছে একটি অভিন্ন থিম হিসেবে কাজ করে। এগুলো হলো: কোষীয় সংগঠনের জন্য অটোপয়েসিস (স্ব-উৎপাদন) ধারণার প্রবর্তনে আমার অবদান, স্নায়ুতন্ত্র ও সংজ্ঞানের সক্রিয় বা এনাক্টিভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বর্তমান ধারণাগুলোর সংশোধন। * আমি বৌদ্ধ অনুশীলন এবং বৈজ্ঞানিক কাজের মধ্যে দীর্ঘদিনের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে গবেষণালব্ধ একটি সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। * [[বৌদ্ধধর্ম]] একটি অনুশীলন, কোনো বিশ্বাস নয়। প্রতিটি বৌদ্ধই কোনো না কোনোভাবে সাধারণ যাজকতুল্য একজন বিজ্ঞানী যেভাবে তাঁর কাজে লিপ্ত থাকেন, কিংবা একজন লেখকের মন যেভাবে সারাক্ষণ নেপথ্যে থেকে লেখায় মগ্ন থাকে, তাঁরাও সেভাবেই এতে নিবিষ্ট থাকেন। === ভারেলা সম্পর্কে === * ফ্রান্সিস্কো ভারেলা আশ্চর্যজনকভাবে উদ্ভাবনী, স্বাধীনচেতা এবং সৃজনশীল। তিনি এবং উম্বের্তো মাতুরানা যা বলেছেন তার মধ্যে গভীরতা রয়েছে। আবার উল্টোদিকে, একজন কঠোর আণবিক জীববিজ্ঞানীর (মলিকুলার বায়োলজিস্ট) দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো কেবলই অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বিষয়। এই কারণেই তাঁর কাজের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমার ভেতরের সেই অংশটি যা যুক্তিনির্ভর এবং সমালোচনামূলক, তা হয়তো প্রশ্ন তোলে; কিন্তু আমার অন্য অংশটি ইমিউন নেটওয়ার্কের স্ব-প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করা তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলো গ্রহণ করেছে। আমি এগুলো খুব পছন্দ করি। ** [[স্টুয়ার্ট কফম্যান]]; জন ব্রকম্যান সম্পাদিত (১৯৯৫) ''দ্য থার্ড কালচার: বিয়ন্ড দ্য সায়েন্টিফিক রেভল্যুশন'' এ। পৃষ্ঠা ২০৯ ([http://www.edge.org/documents/ThirdCulture/t-Ch.12.html অনলাইন])। * ফ্রান্সিস্কো ছিলেন একজন পরীক্ষামূলক এবং তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী, যিনি তাঁর ভাষায় "উদ্ভূত সত্তা" (ইমারজেন্ট সেলভস) বা "ভার্চুয়াল পরিচয়" (ভার্চুয়াল আইডেন্টিটিস) নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাস্তবতার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অন্তর্নিহিত; যা প্রকৌশল বা তথ্য বিজ্ঞানের রূপকের বদলে স্ব-সংগঠন এবং বৌদ্ধধর্ম-অনুপ্রাণিত জ্ঞানতত্ত্ব থেকে উদ্ভূত রূপকের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ** জন ব্রকম্যান (২০০১) "[http://www.edge.org/documents/archive/edge86.html এজ: দ্য ইমারজেন্ট সেলফ]", edge.org, ৫ জুন ২০০১। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} * [http://www.edge.org/3rd_culture/varela/varela_index.html জন ব্রকম্যান] ফ্রান্সিস্কো ভারেলা: ইন মেমোরিয়াম {{DEFAULTSORT:Varela, Francisco}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৬ এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:২০০১ এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:চিলীয় জীববিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:চিলীয় দার্শনিক]] [[বিষয়শ্রেণী:সাইবারনেটিশিয়ান]] [[বিষয়শ্রেণী:সান্তিয়াগো দে চিলির ব্যক্তি]] aqgf3352jnksjsllhippav69x345xjf ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ 0 12321 76912 75609 2026-04-15T10:23:56Z Oindrojalik Watch 4169 উক্তি যোগ 76912 wikitext text/x-wiki '''[[w:ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ|ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ]]''' ছিল মূলত [[ইরান]] এবং [[ইসরায়েল]]-এর মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ, যা ১৩ জুন ২০২৫ তারিখে শুরু হয়; যখন ইসরায়েল ইরানের প্রধান সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। [[File:President Trump answering reporters on June 24, 2025 - Quote 15.wav|thumb|center|শুনুন, এই দুই দেশ এতো দীর্ঘ সময় ধরে এবং এতোটাই ভয়াবহভাবে লড়াই করছে যে, তারা নিজেরাও জানে না তারা আসলে কী করছে! আপনারা কি সেটা বুঝতে পারছেন?]] [[File:Iran provinces and counties 1956 English.svg|thumb|ইরানকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হলো দেশটিকে তার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। [https://www.bbc.com/persian/articles/cedvzdz5wxpo ]]] [[File:State flag of Iran (1964–1980).svg|thumb|আমি যাই করি না কেন—হোক তা রাশিয়া/ইউক্রেন কিংবা ইসরায়েল/ইরান সমস্যা সমাধান। আমি কোনো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাব না। ফলাফল যাই হোক। কিন্তু জনগণ আসল সত্যটা জানে, আর আমার কাছে সেটাই বড় কথা। [https://www.yahoo.com/news/global-leaders-daddy-strategy-flatter-160000526.html ট্রাম্প]]] [[File:Donald Trump official portrait.jpg|thumb|আমি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, বিশেষ করে ঈশ্বরকে। আমি শুধু বলতে চাই, ‘ঈশ্বর, আমরা আপনাকে ভালোবাসি। আমাদের মহান সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করুন—আমরা তাদেরকেও ভালোবাসি। ঈশ্বর মধ্যপ্রাচ্যের মঙ্গল করুন, ইসরায়েলকে আশীর্বাদ করুন এবং আমেরিকার সহায় হোন।’ ~ [https://www.aljazeera.com/amp/opinions/2025/7/2/did-god-want-trump-to-bomb-iran ডোনাল্ড ট্রাম্প]]] [[চিত্র:2025 Hoisting the flag of Hosseini's mourning over the dome of the shrine of Our Lady of Dignity 20 Mehr.jpg|thumb|যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের তথাকথিত "সর্বোচ্চ নেতা" আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন এমন নির্লজ্জ এবং বোকার মতো দাবি করছেন যে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন? তিনি ভালো করেই জানেন তার এই বক্তব্য একটি ডাহা মিথ্যা। একজন মহান ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তার মিথ্যা বলা সাজে না। তার দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তার তিনটি অশুভ পারমাণবিক কেন্দ্র পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। আমি ঠিক জানতাম তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইসরায়েল বা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে—যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী—তাকে হত্যা করার অনুমতি দিইনি। আমি তাকে এক অত্যন্ত কদর্য এবং অসম্মানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছি। আর এর জন্য তাকে "ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!" বলতে হবে না। প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের একদম শেষ মুহূর্তে আমি ইসরায়েলকে এক বিশাল যুদ্ধবিমানের বহর ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিলাম। যারা সরাসরি তেহরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি বড় কোনো লক্ষ্য হাসিলে যাচ্ছিল। সম্ভবত সেটিই হতে পারত চূড়ান্ত আঘাত! এতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতো এবং বহু ইরানি প্রাণ হারাত। এটি হতে পারত এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করছিলাম, যা ইরানকে দ্রুত পূর্ণ পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ করে দিত।কারণ এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে! কিন্তু না, বিনিময়ে আমি পেলাম শুধুই একটি ক্রোধ, ঘৃণায় আর বিতৃষ্ণায় ভরা বিবৃতি! আমি সাথে সাথে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সব কাজও বন্ধ করে দিলাম। ইরানকে হয় বিশ্বব্যবস্থার ধারায় ফিরতে হবে, নতুবা তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে যাবে। তারা সবসময়ই রাগান্বিত, শত্রুভাবাপন্ন এবং অসুখী থাকে। আর দেখুন এর ফল তারা কী পেয়েছে। একটি ভস্মীভূত, বিধ্বস্ত দেশ যার কোনো ভবিষ্যৎ-ই নেই! একটি তছনছ হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনী, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং চারদিকে শুধুই মৃত্যু মিছিল। তাদের আর কোনো আশা বেছে নেই এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হবে! আমি আশা করছি যে বর্তমান ইরান নেতৃত্বের উপলব্ধি করা উচিত যে, তেতো কথার চেয়ে মিষ্টি কথায় কাজ আরো বেশি হয়। শান্তি!!!<br>—[https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/114756430889057942 ট্রাম্প]]][[File:Crown_Prince_of_IRAN_Reza_PAHLAVI_(3x4_cropped).jpg|thumb|আমরা লড়ব, আমরা মরব, ইরানকে ফিরিয়ে আনবই।~[https://web.archive.org/web/https://www.iranintl.com/202508228257 ]]][https://web.archive.org/web/iranopasmigirim.com/fa ] ==উক্তি== * কমান্ডাররা ভাবতেও পারেননি যে ইসরায়েল সরাসরি তাদের ঘরবাড়িতে হানা দেবে। তারা ভেবেছিল যুদ্ধ বাধলে বুঝি ইসরায়েল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেই শুধু আক্রমণ করবে। কিন্তু প্রথম সারির কমান্ডারদের অন্দরমহলে ঢুকে আঘাত হানবে, এটা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল! আমি নিজেই ১৪০৩ বঙ্গাব্দের (ইরানি ক্যালেন্ডার অনুসারে) এপ্রিলে সরদার রশিদ এবং সরদার বাঘেরিকে বলেছিলাম যে, আমার মতে ইসরায়েল সব কমান্ডারকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরদার রশিদ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, প্রভাবশালী এবং জ্ঞানপিপাসু মানুষ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা যদি বুঝতে পারি তারা এমন কিছু করতে চায়, তবে আমরা এমন সব জায়গায় সরে যাব যেখানে সে পৌঁছাতে পারবে না। আমি বলেছিলাম, সরদার রশিদ, সমস্যাটা এখানেই যে আগে সে আঘাত হানবে, তারপর আমরা বুঝতে পারব। ** [https://web.archive.org/web/20251017154958/https://www.tabnak.ir/fa/news/1334802/%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%B%DB%8C%D8%AF-%D9%88-%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%A8%D8%A7%D9%82%D8%B1%DB%8C-%DA%AF%D9%81%D8%AA%D9%85-%D8%A7%D8%B3%D8%B1%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%84-%D9%85%DB%8C%E2%80%8C%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D8%AF-%D9%87%D9%85%D9%87-%D9%81%D8%B1%D9%85%D8%A7%D9%86%D8%AF%D9%87%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D8%A7-%D8%A8%D8%B2%D9%86%D8%AF সোর্স: তাবনাক] * তেহরানের উচিত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে এবার পারমাণবিক বোমা তৈরি করা। ** ইরানি সংসদ সদস্য [https://www.iranintl.com/en/202509107879 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] * আজ ইরান কেবল টিকে থাকার লড়াই করছে। দুই সপ্তাহ আগে যখন রিপোর্টগুলো শুনলাম, ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ফন্দি আঁটছিল। আমি বললাম, এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। আমরা যদি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ না করতাম, তবে সেই চুক্তি (আব্রাহাম অ্যাকর্ড বা আব্রাহাম চুক্তি) কোনোদিন সম্ভব হতো না। দুটি কারণে। প্রথমত, আরব দেশগুলো তখন এতখানি সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পেত না, কারণ তখন ইরান ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী; যা এখন আর নেই। আর দ্বিতীয়ত, তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর কাছাকাছিও পৌঁছাত, তবে সেই মুহূর্তেই তাদের সেই স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হতো! **—[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] [https://www.iranintl.com/en/202510158814 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *আমরা মাত্র ২০টি একেবারে নতুন B-2 বোমারু বিমানের অর্ডার দিয়েছি। আমি যখন [[:w:ভ্লাদিমির পুতিন|ভ্লাদিমির পুতিনের]] সাথে [[:w:আলাস্কা|আলাস্কায়]] যাচ্ছিলাম, তখন আমরা এমন অনেক বিমানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং পুতিন বলেছিলেন, 'এগুলো সত্যিই জাদুর মতো কাজ করেছে।' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, সত্যিই তাই।' **[https://www.themirror.com/news/politics/donald-trump-claims-no-president-1450138 সোর্স: দ্য মিরর] *আমরা এখন পর্যন্ত যা দেখেছি তা প্রতিরোধের সামান্য কম্পন মাত্র; আসল ভূমিকম্প তো এখনও আসতেই বাকি। **— খুজেস্তান ইমাম [https://www.irna.ir/amp/85969831/ সোর্স: ইরনা] *ইসলামী প্রজাতন্ত্র চায় ইসরায়েলকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে। **— তেহরান ইমাম [https://web.archive.org/web/www.iranintl.com/202509294214 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ] *আমেরিকানদের মনে যা আছে তা-ই তাদের করতে দিন; তবে তারা যেন দেখে নেয় যে তারা আসলে কাদের বিরুদ্ধে লড়তে নেমেছে। **— লারিজানি [https://web.archive.org/web/www.entekhab.ir/fa/news/887745/%D9%BE%DB%8C%D8%B4%D9%86%D9%87%D8%A7%D8%AF-%D9%85%D9%86-%D8%AF%D8%B1-%D8%A8%D8%B1%D8%AC%D8%A7%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D9%86-%D8%A8%D9%88%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%5B%D8%A8%D9%87-%D8%AC%D8%A7%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D9%86%D9%BE%E2%80%8C%D8%A8%DA%A9%5D-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D8%AD%D9%84-%D8%A7%D8%AE%D8%AA%D9%84%D8%A7%D9%81-%D9%86%D8%B8%D8%B1%D9%87%D8%A7-%DB%8C%DA%A9-%D9%86%D9%85%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B2-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%DB%8C%DA%A9-%D9%86%D9%85%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B2-%DB%B1-%DB%B5-%D9%88-%DB%8C%DA%A9-%D9%85%D8%B1%D8%B6%DB%8C%E2%80%8C%D8%A7%D9%84%D8%B7%D8%B1%D9%81%DB%8C%D9%86-%D8%AA%D8%B5%D9%85%DB%8C%D9%85%E2%80%8C%DA%AF%DB%8C%D8%B1%DB%8C-%DA%A9%D9%86%D9%86%D8%AF-%D9%87%D8%B1-%D8%AF%D9%88-%D8%B7%D8%B1%D9%81-%D9%86%D9%BE%D8%B0%DB%8C%D8%B1%D9%81%D8%AA%D9%86%D8%AF-%DA%AF%D9%81%D8%AA%D9%86%D8%AF-%D8%B4%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%B1%D8%B6%DB%8C%E2%80%8C%D8%A7%D9%84%D8%B7%D8%B1%D9%81%DB%8C%D9%86-%D8%AA%D8%AD%D8%AA-%D9%81%D8%B4%D8%A7%D8%B1-%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%A8%DA%AF%DB%8C%D8%B1%D8%AF-%D9%88-%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D9%85%D8%AA-%D8%B7%D8%B1%D9%81-%D9%85%D9%82%D8%A7%D8%A8%D9%84-%D8%A8%D8%BA%D9%84%D8%AA%D8%AF-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%DB%8C%DB%8C%E2%80%8C%D9%87%D8%A7-%D8%A2%D9%86%DA%86%D9%87-%D8%AF%D8%B1-%D8%B0%D9%87%D9%86-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%D9%86%D8%AF-%D8%B1%D8%A7-%D9%87%D9%85-%D8%A7%D9%86%D8%AC%D8%A7%D9%85-%D8%AF%D9%87%D9%86%D8%AF-%D8%AA%D8%A7-%D8%A8%D9%81%D9%87%D9%85%D9%86%D8%AF-%D9%85%D9%82%D8%A7%D8%A8%D9%84-%DA%86%D9%87-%D9%85%D9%84%D8%AA%DB%8C-%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%D9%86%D8%AF সোর্স: ইন্তেখাব আর্কাইভ] *এই সরকার দুর্বল এবং শতধা বিভক্ত। এটি ইতিমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়ছে। এর হাজার হাজার নেতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দলত্যাগ (secede) করার জন্য প্রস্তুত। এর প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো—হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুতিরা—এখন এক কানাগলিতে এসে ঠেকেছে। আসাদের পতন হয়েছে। আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই সরকার এখন অনেক বেশি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন। **[https://www.iranintl.com/202509095461 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *ইরানিরা ইসরায়েলকে এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই এবং আমাদের দেশ পুনরুদ্ধারের যুদ্ধের এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। **— ইরান প্রসপারিটি প্রজেক্ট [https://www.jns.org/iranian-dissidents-visit-israel-to-promote-future-regional-cooperation/ সোর্স: জেএনএস] *ইরান এবং এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকাই এখন প্রধান বিষয়। আমেরিকানদের কিছু সমস্যা রয়েছে এবং তারা আদতে আলোচনার পথ খুঁজছে না। **— সিকিউরিটি কাউন্সিল [https://www.tasnimnews.com/fa/news/1404/06/11/3390759/%D9%84%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D8%AC%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D9%87%D8%A7-%D8%A8%D8%A7-%D8%B7%D8%B1%D8%AD-%D9%85%D8%B3%D8%A7%D8%A6%D9%84%DB%8C-%D9%86%D9%85%DB%8C-%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D9%86%D8%AF-%D9%85%D8%B0%D8%A7%DA%A9%D8%B1%D9%87-%D8%B4%DA%A9%D9%84-%D8%A8%DA%AF%DB%8C%D8%B1%D8%AF সোর্স: তাসনিম নিউজ] *শত্রু এখন ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছে। **— আইআরজিসি (IRGC) [https://www.tasnimnews.com/fa/news/1404/06/11/3390791/%D9%86%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%86%DB%8C-%D8%AF%D8%B4%D9%85%D9%86-%D8%A8%D8%AF%D9%86%D8%A8%D8%A7%D9%84-%D8%A7%D9%86%D8%AA%D9%82%D8%A7%D9%85-%D8%B4%DA%A9%D8%B3%D8%AA-%D8%A7%D8%B2-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A7%D8%B3%D8%AA সোর্স: তাসনিম নিউজ] *আমি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি এবং একটি পারমাণবিক যুদ্ধ রুখে দিয়েছি যা ইরানের সাথে ঘটতে যাচ্ছিল। ওটা অবধারিত ছিল। ইসরায়েলের জন্য আমার চেয়ে বেশি কেউ কিছু করেনি—এমনকি ইরানের ওপর সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোও আমিই করিয়েছি, আমি ওই বিপদটাকে সমূলে উপড়ে ফেলেছি। **— ট্রাম্প [https://web.archive.org/web/www.iranintl.com/en/202509026235 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ] *আমি আত্মবিশ্বাসী যে ইরানি বিশেষজ্ঞরা তাদের ইসরায়েলি সমকক্ষদের সহযোগিতায় কেবল এই শাসনব্যবস্থার তৈরি করা সমস্যাগুলোর সমাধানই করবে না, বরং ভবিষ্যতে ইসরায়েল এবং একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ইরানের মধ্যে 'সাইরাস চুক্তি'র (Cyrus Treaty) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। এটি এমন এক চুক্তি যা দুই জাতির মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করবে, ঠিক যেমন ২৫০০ বছর আগে মহান সাইরাস করেছিলেন। **— রেজা পাহলভি [https://persianepochtimes.com/prince-reza-pahlavis-emphasis-on-the-conclusion-of-the-cyrus-treaty-between-iran-and-israel/ সোর্স: পার্সিয়ান ইপোচ টাইমস] *তাবরিজ, তেহরান এবং ইসফাহান হলো তুর্কি সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু। **— এরদোয়ান [https://web.archive.org/web/20250902154203/https://www.sharghdaily.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%AC%D9%87%D8%A7%D9%86-219/1029810-%D8%A7%D8%B1%D8%AF%D9%88%D8%BA%D8%A7%D9%86-%D8%AA%D8%A8%D8%B1%DB%8C%D8%B2-%D8%A7%D8%B5%D9%81%D9%87%D8%A7%D9%86-%D8%B1%DB%8C-%D8%B1%D8%A7-%D8%A7%D8%B2-%D9%85%D8%B1%D8%A7%DA%A9%D8%B2-%D8%AA%D9%85%D8%AF%D9%86-%D8%AA%D8%B1%DA%A9-%D9%87%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D8%B4%D9%85%D8%B1%D8%AF-%D9%88%DB%8C%D8%AF%D8%A6%D9%88 সোর্স: শারঘ ডেইলি আর্কাইভ] *ইরান কর্তৃক তিনটি দ্বীপের (আবু মুসা ও তুর্কি দ্বীপপুঞ্জ) ব্যাপারে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ অকার্যকর এবং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্বের ঐতিহাসিক ও আইনি সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না। **— জিসিসি (GCC) [http://www.iranintl.com/en/202509019044 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *আমরা যখন প্রথম পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করি, তখন আমাদের প্রকৃত লক্ষ্যই ছিল একটি বোমা তৈরি করা। **— মুতাহার [https://ir.voanews.com/a/8059388.html সোর্স: ভিওএ নিউজ] *আমেরিকা চলে গেছে; এখন আর কতজন বাকি আছে? মাত্র ছয়জন রয়ে গেছে। এর অর্থ হলো সেখানে এখন ইরান, রাশিয়া, চীন এবং তিনটি ইউরোপীয় দেশ আছে। তার মানে এটি এখন 'তিন বনাম তিন' এর লড়াই। আপনারা কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চান? যদি সাতটি দেশ থাকত, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একটি বিষয় থাকত; কিন্তু এখন যেহেতু পরিস্থিতি তিন-তিন, তাই তারা যদি নিয়ম অনুসরণ করতে চায়, তবে বিষয়টি মোটেও এত সহজ হবে না। **— সিকিউরিটি কাউন্সিল [https://web.archive.org/web/20250901184824/https://farsi.khamenei.ir/others-dialog?id=60963 সোর্স: খামেনি ডট আইআর আর্কাইভ] *মন্ত্রিপরিষদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মন্ত্রী ও গভর্নরদের হাতে অর্পণ করা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বিধায় এটি ভেটো (বাতিল) করা হয়েছে। **— সরকার [https://www.bartarinha.ir/بخش-اخبار-روز-20/1541104-قالیবাব-تصمیم-پزشکیان-را-وتو-کرد সোর্স: বারতারিনহা] *ইরান ও চীন হলো এশিয়ার দুই প্রান্তের প্রাচীন সভ্যতার দুটি দেশ, যাদের অঞ্চল ও বিশ্বে এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা রয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির সকল দিক বাস্তবায়ন করা এই লক্ষ্য অর্জনের পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে। **— খামেনি [https://www.indiatoday.in/world/story/supreme-leader-ayatollah-ali-khamenei-strategic-partnership-iran-china-power-to-transform-the-world-2779658-2025-08-31 সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে] *তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে অপরাধী এবং সংগঠিত অপরাধী চক্রের সদস্যদের 'ছদ্মবেশ' (cut-outs) হিসেবে ব্যবহার করছে। **— মাইক বার্গেস, অস্ট্রেলিয়ান কোশার রেস্তোরাঁয় আইআরজিসি-র হামলা প্রসঙ্গে [https://www.bbc.com/news/articles/c9d085n75q3o সোর্স: বিবিসি নিউজ] *নেতানিয়াহুকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে যে ইরানি জনগণের মধ্যে সুখের মাত্রা বা সন্তুষ্টি (Happiness) অত্যন্ত কম। **— আরদাবিল শহরের ইমাম, খামেনির প্রতিনিধি [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237357-%D8%A2%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D9%84%D9%84%D9%87-%D8%B9%D8%A7%D9%85%D9%84%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%D9%86%D8%AA%D8%A7%D9%86%DB%8C%D8%A7%D9%87%D9%88-%DA%AF%D8%B2%D8%A7%D8%B1%D8%B4-%D8%BA%D9%84%D8%B7-%D8%AF%D8%A7%D8%AF%D9%86%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%D9%86%D8%A7%D8%B1%D8%B6%D8%A7%DB%8C%D8%AA%DB%8C-%D8%AF%D8%B1-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%B2%DB%8C%D8%A7%D8%AF-%D8%A7%D8%B3%D8%AA সোর্স: দিদবান ইরান] *সিরিয়ার যুবসমাজ তাদের জন্মভূমি মুক্ত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। **— হাজ আলিকবারি, তেহরানের ইমাম [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237345-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D8%AA%D9%87%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%AC%D9%88%D8%A7%D9%86%D8%A7%D9%86-%D8%B3%D9%88%D8%B1%DB%8C%D9%87-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D9%86%D8%AF-%D8%AA%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%D8%A2%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D9%86%D8%B2%D8%AF%DB%8C%DA%A9-%D8%B3%D8%B1%D8%B2%D9%85%DB%8C%D9%86-%D8%B4%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D8%A7-%D8%A2%D8%B2%D8%A7%D8%AF-%DA%A9%D9%86%D9%86%D8%AF-%D8%A7%D9%82%D8%AF%D8%A7%D9%85-%D8%B3%D9%87-%DA%A9%D8%B4%D9%88%D8%B1-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D9%84%DA%A9%D9%87-%D9%86%D9%86%DA%AF-%D8%A8%D9%88%D8%AF সোর্স: দিদবান ইরান] *পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, বুঝে নিবেন মসিহ—মাহদী হুজ্জাতুল হাসান—এর দ্বিতীয় আগমনের সময় ততই সন্নিকটে। **— শিরাজ শহরের জুমার ইমাম, খামেনির প্রতিনিধি [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237351-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D8%B4%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D8%B2-%D9%87%D8%B1%DA%86%D9%87-%D8%B4%D8%B1%D8%A7%DB%8C%D8%B7-%D8%B3%D8%AE%D8%AA-%D8%AA%D8%B1-%D8%B4%D9%88%D8%AF-%D8%B8%D9%87%D9%88%D8%B1-%D9%86%D8%B2%D8%AF%DB%8C%DA%A9-%D9%85%DB%8C-%D8%B4%D9%88%D8%AF-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7-%D8%B1%D9%88-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D9%87-%D9%85%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%D8%B1%DA%A9%D8%A7%D8%A8-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%B2%D9%85%D8%A7%D9%86-%D9%BE%DB%8C%D8%B1%D9%88%D8%B2-%D9%85%DB%8C-%D8%B4%D9%88%DB%8C%D9%85 সোর্স: দিদবান ইরান] *যদি জাতিসংঘের (UN) নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের 'স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম' (trigger) কার্যকর করা হয়, তবে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হবে। পরবর্তী এই নতুন যুদ্ধে কেবল ইরানের স্বার্থই বিঘ্নিত হবে না, বরং এই অঞ্চলের বহু দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ...আমরা 'পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসারণ চুক্তি' (NPT) ত্যাগ করব এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। **— সিকিউরিটি কমিশন [https://www.iranintl.com/202508290825 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] [https://tejaratnews.com/%D8%B9%D8%B6%D9%88-%DA%A9%D9%85%DB%8C%D8%B3%DB%8C%D9%88%D9%86-%D8%A7%D9%85%D9%86%DB%8C%D8%AA-%D9%85%D9%84%DB%8C-%D8%A7%DA%AF%D8%B1-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7-%D9%85%DA%A9%D8%A7%D9%86%DB%8C%D8%B3 সোর্স: তেজারত নিউজ] *আমাদের এই সরকারের বড় দুর্বলতা হলো যে আমরা গত চার দশকে এদেশের মানুষের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারিনি। **— পর্যটন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী [https://web.archive.org/web/20250828024700/https://www.entekhab.ir/fa/news/881606/%D9%88%D8%B2%DB%8C%D8%B1-%D9%85%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D8%AB-%D9%81%D8%B1%D9%87%D9%86%DA%AF%DB%8C-%D9%86%D9%82%D8%B7%D9%87-%D8%B6%D8%B9%D9%81-%D8%AD%D8%A7%DA%A9%D9%85%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%DA%A9%D9%87-%D9%85%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%DB%B4-%D8%AF%D9%87%D9%87-%DA%AF%D8%B0%D8%B4%D8%AA%D9%87-%D9%86%D8%AA%D9%88%D8%A7%D9%86%D8%B3%D8%AA%D9%87%E2%80%8C%D8%A7%DB%8C%D9%85-%D8%B2%DB%8C%D8%B3%D8%AA-%D8%B4%D8%B1%D8%A7%D9%81%D8%AA%D9%85%D9%86%D8%AF%D8%A7%D9%86%D9%87-%D8%B1%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D1%81%D8%B1%D8%A7%D9%87%D9%85-%DA%A9%D9%86%DB%8C%D9%85 সোর্স: ইন্তেখাব আর্কাইভ] *এটি মার্ক্সবাদ এবং রাজনৈতিক ইসলাম—এই দুই মতাদর্শের এক জগাখিচুড়ি দৃষ্টিভঙ্গির ফল; যা বর্তমানে 'বেলায়েত-ই-ফকিহ' বা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রূপ নিয়েছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন ভুল চিন্তা ও বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে আছে। এই [শাসনব্যবস্থা] ইরানি জাতির সার্বভৌমত্বকে জবরদখল করেছে। **— রাজনৈতিক বন্দিদের লেখা চিঠি [https://kayhan.london/1404/06/04/385183/ সোর্স: কায়হান লন্ডন] *ইউনাইটেড কিংডম, জার্মানি এবং ফ্রান্স—এই তিনটি ইউরোপীয় দেশকে অবশ্যই আইআরজিসি (IRGC)-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে; কোনো আলোচনা দিয়েই এই শাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়, কারণ ইসলামিক রিপাবলিক বর্তমান বিশ্বের জন্য এক চরম হুমকি। **— [https://www.iranintl.com/202508269729 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *আমি নেতানিয়াহুর সাথে একটি বিষয়ে একমত: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ প্রকৃতপক্ষে একজন দুর্বল রাজনীতিবিদ। **— ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী [https://web.archive.org/web/www.afr.com/politics/federal/iran-s-foreign-minister-calls-albanese-a-weak-politician-20250827-p5mq3n সোর্স: এএফআর আর্কাইভ] *ইরানের জন্য এনপিটি (NPT) বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কোনো উপযোগিতা নেই। **— লারিজানি [https://web.archive.org/web/www.ettelaat.com/news/109054 সোর্স: ইত্তেলাত আর্কাইভ] *আমরা লড়ব, আমরা মরব, তবুও ইরানকে আমরা ফিরিয়ে আনব। **পূর্বও নয়, পশ্চিমও নয়—আমরা এখন অন্ধকারে (ব্ল্যাকআউট) ডুবে আছি। **— ইরান সরকার বিরোধী স্লোগান [https://web.archive.org/web/https://www.iranintl.com/202508228257 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ] *রাশিয়া ইসরায়েলকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করেছে। **— [https://english.alarabiya.net/News/middle-east/2025/08/25/iranian-official-accuses-russia-of-providing-intel-on-air-defense-sites-to-israel- সোর্স: আল আরাবিয়া ইংরেজি] *হঠাৎ করেই সব ভুয়া প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা বন্ধ হয়ে গেল। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা অদৃশ্য—কোনো পোস্ট নেই, কোনো শোরগোল নেই, চারদিকে শুধু এক ডিজিটাল নিস্তব্ধতা। **— [https://ukdefencejournal.org.uk/figures-claim-26-of-recent-scot-independence-posts-by-iran/ সোর্স: ইউকে ডিফেন্স জার্নাল] *ইউরোপের রাজধানীতে যুদ্ধ চলাকালীন একদিন তারা ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক সরকারের পতন এবং বিকল্প হিসেবে ইরানের একজন রাজার রাজ্যাভিষেক নিয়ে আলোচনা করেছিল; তাদের মধ্যে একজন ইরানিও উপস্থিত ছিল—ধিক্কার জানাই সেই ইরানিকে। **— [https://web.archive.org/web/www.etemadonline.com/بخش-سیاسی-9/731544-رهبر-انقلاب সোর্স: এতেমাদ অনলাইন আর্কাইভ] *আমার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সমস্যাটির কোনো সমাধান নেই। **— আলী খামেনি [https://www.al-monitor.com/originals/2025/08/iran-will-not-be-obedient-us-demands-supreme-leader-says সোর্স: আল-মনিটর] *আমরা বেশ কয়েকটি দেশে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছি, তবে কৌশলগত কারণে আপাতত আমরা সেই দেশগুলোর নাম প্রকাশ করছি না। **[https://www.iranintl.com/en/202508238927 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *আমি ইরানের একনায়ক খামেনিকে পরামর্শ দিচ্ছি—তিনি যখনই তার বাংকার থেকে বের হবেন, যেন আকাশের দিকে তাকান এবং প্রতিটি গুঞ্জন (buzz) গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। 'রেড ওয়েডিং'-এর (Red Wedding) কুশীলবরা সেখানেই তার জন্য অপেক্ষা করছে। **— ইসরায়েল কাটজ [https://www.iranintl.com/en/202508116593 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না যা আমাদের ক্ষয়িষ্ণু করে তোলে এবং শত্রুকে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রলুব্ধ (greedy) করে। **— সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল [https://www.etemadonline.com/بخش-سیاسی-9/731274-لاریجانی-شورায়-عالی-امنیت-ملی সোর্স: এতেমাদ অনলাইন] *মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইসলাম এবং মানবাধিকারকে ধ্বংস করা। **[https://web.archive.org/web/20250822160248/https://donya-e-eqtesad.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D9%81%DB%8C%D8%AF-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-81/4206753-%D8%A7%D8%Bظ%D9%87%D8%A7%D8%B1%D8%A7%D8%AA-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D9%82%D9%85-%D8%AF%D8%B1%D8%A8%D8%A7%D8%B1%D9%87-%D9%85%D8%B0%D8%A7%DA%A9%D8%B1%D9%87-%D8%A8%D8%A7-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A7%D9%85%D8%B1%D9%88%D8%B2-%D9%85%D9%84%D8%AA-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%AF%D8%B1-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%D8%A8%D8%B1-%DB%8C%D8%B2%DB%8C%D8%AF%DB%8C%D8%A7%D9%86-%D8%B2%D9%85%D8%A7%D9%86-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%B3%D8%AA%D8%AF সোর্স: দোনিয়া-এ-একতেসাদ আর্কাইভ] * যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের তথাকথিত "সর্বোচ্চ নেতা" আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন এমন নির্লজ্জ এবং বোকার মতো দাবি করছেন যে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন? তিনি ভালো করেই জানেন তার এই বক্তব্য একটি ডাহা মিথ্যা। একজন মহান ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তার মিথ্যা বলা সাজে না। তার দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তার তিনটি অশুভ পারমাণবিক কেন্দ্র পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। আমি ঠিক জানতাম তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইসরায়েল বা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে—যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী—তাকে হত্যা করার অনুমতি দিইনি। আমি তাকে এক অত্যন্ত কদর্য এবং অসম্মানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছি। আর এর জন্য তাকে "ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!" বলতে হবে না।<br>প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের একদম শেষ মুহূর্তে আমি ইসরায়েলকে এক বিশাল যুদ্ধবিমানের বহর ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিলাম। যারা সরাসরি তেহরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি বড় কোনো লক্ষ্য হাসিলে যাচ্ছিল। সম্ভবত সেটিই হতে পারত চূড়ান্ত আঘাত! এতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতো এবং বহু ইরানি প্রাণ হারাত। এটি হতে পারত এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করছিলাম, যা ইরানকে দ্রুত পূর্ণ পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ করে দিত।কারণ এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে! কিন্তু না, বিনিময়ে আমি পেলাম শুধুই একটি ক্রোধ, ঘৃণায় আর বিতৃষ্ণায় ভরা বিবৃতি! আমি সাথে সাথে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সব কাজও বন্ধ করে দিলাম। ইরানকে হয় বিশ্বব্যবস্থার ধারায় ফিরতে হবে, নতুবা তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে যাবে। তারা সবসময়ই রাগান্বিত, শত্রুভাবাপন্ন এবং অসুখী থাকে। আর দেখুন এর ফল তারা কী পেয়েছে। একটি ভস্মীভূত, বিধ্বস্ত দেশ যার কোনো ভবিষ্যৎ-ই নেই! একটি তছনছ হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনী, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং চারদিকে শুধুই মৃত্যু মিছিল। তাদের আর কোনো আশা বেছে নেই এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হবে! আমি আশা করছি যে বর্তমান ইরান নেতৃত্বের উপলব্ধি করা উচিত যে, তেতো কথার চেয়ে মিষ্টি কথায় কাজ আরো বেশি হয়। শান্তি!!! ** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/114756430889057942 ডোনাল্ড ট্রাম্প] *যখন আমরা বিশ্বাস করি যে তাদের (ইউরোপীয় দেশগুলোর) 'স্ন্যাপব্যাক' কার্যকর করার কোনো অধিকার নেই, তখন এটা বলাই বাহুল্য যে তারা এর সময়সীমা বাড়ানোরও কোনো অধিকার রাখে না। **— আব্বাস আরাগছি [https://english.alarabiya.net/News/middle-east/2025/08/20/iran-says-europe-has-no-right-to-extend-deadline-for-snapback-sanctions সোর্স: আল-আরাবিয়া] *[নেতানিয়াহু] তিনি একজন ভালো মানুষ এবং তিনি সম্মুখ সমরে লড়ছেন। তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ দেখুন তারা তাকে জেলের ঘানি টানানোর সবরকম চেষ্টা করছে। ভাবা যায়? তিনি একজন সত্যিকারের 'যুদ্ধনায়ক' (war hero), কারণ আমরা একসাথে কাজ করেছি। তিনি যুদ্ধনায়ক, আর আমার মনে হয় আমিও তাই। কেউ হয়তো পাত্তা দেয় না, কিন্তু আমিও একজন যুদ্ধনায়ক; কারণ শেষ পর্যন্ত ওই বিমানগুলো তো আমিই পাঠিয়েছিলাম। **— ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://www.nytimes.com/2025/08/20/world/middleeast/trump-war-hero-netanyahu-iran.html সোর্স: নিউ ইয়র্ক টাইমস] *হয়তো আমাদের পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি ওয়াশিংটনেই আঘাত হানবে। **— [https://nationalsecurityjournal.org/iran-makes-new-threat-perhaps-our-next-missile-will-hit-washington-directly/ সোর্স: ন্যাশনাল সিকিউরিটি জার্নাল] *আমেরিকান এবং জায়নবাদীরা বলে যে তারা শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে; সুতরাং ইরানকেও শক্তিশালী হতে হবে, কারণ প্রকৃতির নিয়মে দুর্বলেরা সবসময় পদদলিত হয়। আমার মনে হয় সামনে আরও একটি যুদ্ধ হতে পারে, আর সেই যুদ্ধের পর হয়তো পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধই থাকবে না। **— [https://www.iranintl.com/en/202508177421 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি] *এই মুহূর্তে ইউরোপের সব দেশই আমাদের নাগালের মধ্যে। আমরা আমাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে আমেরিকার ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে যেতে পারি এবং সেখান থেকে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কসহ অন্যান্য শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারি। **— [https://www.jpost.com/middle-east/iran-news/article-864512 সোর্স: জেরুজালেম পোস্ট] *ইরানকে আবারো মহান করে তুলুন (Make Iran Great Again)। **— [https://m.economictimes.com/news/international/us/trump-declares-miga-make-iran-great-again-these-are-the-leaders-he-might-back-to-replace-the-current-regime/articleshow/122027181.cms সোর্স: ইকোনমিক টাইমস] *নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমরা যেকোনো চড়া মূল্য দিতে প্রস্তুত। **— [https://www.aa.com.tr/en/middle-east/israeli-army-chief-alludes-to-another-strike-on-iran/3659795 সোর্স: আনাদোলু এজেন্সি] *লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ? ইরানের এমন কোনো অভিপ্রায় নেই। **— লারিজানি [https://farsi.alarabiya.net/middle-east/2025/08/14/توییت-لاریجانی-جنجالی-شد-وزیر-خارجه-لبنان-اگر-هم-وقت-داشتم-حاضر-به-دیدارش-نبودم সোর্স: আল আরাবিয়া ফারসি] *আমরা এখনো অনিশ্চিত, তবে বাইরের শত্রু কর্তৃক আমাদের ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। **— খামেনি [https://web.archive.org/web/20250814165711/https://parsi.euronews.com/2025/03/31/irans-leaders-response-to-trumps-threats সোর্স: ইউরোনিউজ আর্কাইভ] [https://web.archive.org/web/20250814165711/https://www.iranintl.com/202503312897 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ] *জনসাধারণের আশ্বস্ত হওয়া উচিত যে, আর কোনো যুদ্ধ ঘটতে যাচ্ছে না। **— ইরান সরকারের মুখপাত্র [https://jahanesanat.ir/%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D9%85%D8%B7%D9%85%D8%A6%D9%86-%D8%A8%D8%A7%D8%B4%D9%86%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%D8%AC%D9%85%DA%AF-%D9%86%D9%85%DB%8C%D8%B4%D9%88%D8%AF/ সোর্স: জাহান-এ-সানাত] *আমাদের সবার জন্য জনগণের সেবক হওয়া ছাড়া এই দেশকে বাঁচানোর আর কোনো পথ খোলা নেই। **— রুহানি [https://www.iranintl.com/en/202508140489 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *(ইসলামী প্রজাতন্ত্র) তাদের 'যুদ্ধও নয়, আলোচনাও নয়'—এই অনড় অবস্থানের মাধ্যমে দেশের 'মর্যাদা ও প্রজ্ঞা' ধূলিসাৎ করেছে। অথচ পরিণামে যুদ্ধ এবং আলোচনা উভয়ই ঘটেছে; আর এখন তারা খোদ ইরানকে রক্ষা করতেই হিমশিম খাচ্ছে। **[https://www.iranintl.com/en/202508140489 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে বাঁধগুলোতে আর কোনো পানি অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি ঠিকই বলেছেন—সবকিছু ভেঙে পড়ছে। এই প্রচণ্ড গ্রীষ্মের দাবদাহে আপনাদের সন্তানদের দেওয়ার মতো এক ফোঁটা স্বচ্ছ ও শীতল পানিও নেই। কী এক চরম ভণ্ডামি! ইরানি জনগণের প্রতি কী প্রবল অবজ্ঞা! ইরানে পানির জন্য যে তৃষ্ণা, তা কেবল স্বাধীনতার তৃষ্ণার সাথেই তুলনা করা চলে। আপনারা এমন নেতাদের পাওয়ার যোগ্য নন, যারা যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে আপনাদের একা ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। একবার ভাবুন, উত্তর-পশ্চিম ইরানের সেই এক সময়ের নয়নাভিরাম উরমিয়া লেক আবারও পুনরুজ্জীবিত করার কথা! **[https://www.ynetnews.com/article/hyekhwtdee সোর্স: ওয়াইনেট নিউজ] [https://www.yahoo.com/news/articles/netanyahu-vows-israeli-help-water-205743787.html সোর্স: ইয়াহু নিউজ] *আমরা মার্কিন (US) আলোচনাকারীদের জানিয়েছিলাম যে আমরা আস্থা তৈরি করতে ইচ্ছুক, কিন্তু মনে হচ্ছে তারা যেন ঘুমের ভান করে আছে। **[https://www.iranintl.com/en/202508120328 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] *পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমোদনের জন্য আমাদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। ট্রিগারে এখন আমাদের আঙুল রাখা আছে। **[https://www.newsweek.com/nuclear-war-program-threat-nato-countries-iran-sanctions-2113137 সোর্স: নিউজউইক] *আপনারা কি যুদ্ধ করতে চান? বেশ, আপনারা তো লড়েছিলেন, কিন্তু তারা আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে। আমরা যদি আবারও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করি, তারা আবারও সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। এমতাবস্থায় আলোচনা ছাড়া আমাদের আর করারই বা কী আছে? **— [https://www.iranintl.com/en/202508119542 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি] *পজেশকিয়ানের "মুখ ফসকে ভুল কথা বলার" প্রবণতা ইদানীং বেড়েছে। **— আইআরজিসি (IRGC) পলিটব্যুরো প্রধান [https://iranwire.com/en/news/143949-irgc-official-criticizes-iranian-presidents-public-statements/ সোর্স: ইরান অয়্যার] *ইরান ছিল ঘৃণার মদদদাতা, এক অতিশয় অশুভ স্থান। তাদের জন্য এমনটা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে, কারণ তারা শুরু করা মাত্রই আমরা ফিরে আসব। আমরা ফিরে আসবই। আর আমার মনে হয় তারা সেটা বোঝে। আমরা ইরানের সাথে যা করেছি তা যদি ভেবে দেখেন... তবে দেখবেন আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন হতে চলেছে। **— প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প [https://www.iranintl.com/en/202508072310 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি] *আপনারা যদি চান, তবে একটি স্বাধীন ইরান আর স্বপ্ন হয়ে থাকবে না। রাজপথে নেমে আসুন। এই ধর্মান্ধদের আর এক মুহূর্তের জন্যও আপনাদের জীবন ধ্বংস করতে দেবেন না। মহান সাইরাসের বংশধর হিসেবে আপনারা এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য। **— বিবি (নেতানিয়াহু) [https://www.i24news.tv/en/news/middle-east/artc-take-to-the-streets-a-free-iran-is-not-a-dream-israeli-pm-addresses-iranian-people সোর্স: আই-২৪ নিউজ] *এমন কোনো করিডোর মার্কিন প্রেসিডেন্টের মালিকানাধীন রুট হবে না, বরং তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাড়াটে সৈন্যদের কবরস্থানে পরিণত হবে। ফলস্বরূপ, ইরান এই বিষয়ে অটল যে তারা দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্বিশাজেই পদক্ষেপ নেবে। **— ইরান শাসন ব্যবস্থার কর্মকর্তা [https://www.newsweek.com/iran-threatens-donald-trump-armenia-azerbaijan-deal-2111615 সোর্স: নিউজউইক] *সাইরাস একদা ইহুদিদের মুক্ত করেছিলেন, আর আজ হয়তো এই ইহুদি রাষ্ট্রই পারস্যবাসীদের মুক্ত করবে। **— বিবি (নেতানিয়াহু) [https://nypost.com/2025/06/17/us-news/netanyahu-calls-khamenei-modern-hitler-vows-to-free-the-persians-as-irans-exiled-crown-prince-pushes-for-uprising/ সোর্স: নিউ ইয়র্ক পোস্ট] *ইরান সরকার দেশত্যাগ করা ইরানিদের বিকল্প হিসেবে শূন্যস্থান পূরণে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ লক্ষ আফগান নাগরিককে দেশে আমদানি করেছে। **— আইআরএমপি (IRMP) [https://web.archive.org/web/20250727021936/https://www.entekhab.ir/fa/news/877082/ সোর্স: এন্তেখাব আর্কাইভ] *আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছি। তারা চাইলে আবার শুরু করতে পারে; তবে যদি তারা তা করে, তবে চোখের পলক ফেলার আগেই আমরা তা আবারও গুঁড়িয়ে দেব। *ইরান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে প্রহৃত হয়েছে... কিন্তু তারা এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কথা বলে। আমি বলতে চাইছি, এমনটা কে করে? আপনি মাত্রই ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং এসেই বলছেন, 'আমরা সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চাই।' কার বুদ্ধিশুদ্ধি এত কম হতে পারে যে সে এই কথা বলবে? **— ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://usa.news-pravda.com/world/2025/07/27/394153.html সোর্স: নিউজ-প্রাভদা] *ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই ইরান-বিরোধী শাসনব্যবস্থা এবং তার সর্পতুল্য নেতা, যারা কয়েক দশক ধরে পরজীবীর মতো ইরানের রক্ত চুষে বেঁচে আছে, তারা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেদের কুৎসিত মুখে দেশপ্রেমের মুখোশ পরেছে; তারা চরম ধৃষ্টতার সাথে আমাদের "ও ইরান" (O Iran) সংগীতটিকে বিকৃত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এই সেই শাসনব্যবস্থা, যারা শুরু থেকেই তাদের নিপীড়ন আর নৃশংস অপরাধকে বৈধতা দিতে ইসলাম ও শিয়া মতবাদকে আঁকড়ে ধরেছিল—যাদের প্রতিটি কাজের মূল ভিত্তিই ছিল ইরান, তার সংস্কৃতি, সভ্যতা, ভূমি, জাতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি চরম শত্রুতা। এখন ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের ইরানের রক্ষক হিসেবে জাহির করছে; অথচ লক্ষণীয় যে, তাদের সেই সন্ত্রাসী ও দমনকারী বাহিনী 'রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস'-এর নামের কোথাও 'ইরান' শব্দটি পর্যন্ত নেই—আর এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে মানানসই। **— রেজা পাহলভি [https://iranwire.com/fa/news-1/143174-%D8%B4%D8%A7%D9%87%D8%B2%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D8%B1%D8%B6%D8%A7-%D9%BE%D9%87%D9%84%D9%88%DB%8C-%D8%AC%D9%85%D9%87%D9%88%D8%B1%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D9%84%D8%A7%D9%85%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%DA%86%D9%87%D8%B1%D9%87-%D9%BE%D9%84%DB%8C%D8%AF%D8%B4-%D9%8核心%D8%A7%D8%A8-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86%DA%AF%D8%B1%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D8%B2%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B3%D8%AA/ সোর্স: ইরানওয়্যার] *ইরান-বিরোধী এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বেপরোয়া নেতা আলী খামেনি আবারও আমাদের দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এটি ইরানের যুদ্ধ নয়, এটি ইরানি জনগণেরও যুদ্ধ নয়। এটি খামেনির যুদ্ধ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের যুদ্ধ। পতনের পরবর্তী প্রথম ১০০ দিন, অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় এবং ইরানি জনগণের দ্বারা গঠিত একটি জাতীয় ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানি জনগণকে এই শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে এবং নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করুন। **— রেজা পাহলভি [https://allisraelnews.com/crown-prince-pahlavi-announces-european-summit-on-iran-future-of-iranian-democracy সোর্স: অল ইসরায়েল নিউজ] *'আমেরিকা কি কেবল বড় শয়তান (Great Satan), নাকি সবচেয়ে বড় শয়তান (Greatest Satan)?' **— ইলোন মাস্ক [https://inshorts.com/en/amp_news/-is-america-great-satan-or-greatest-satan---musk-asks-iran-s-supreme-leader-khamenei-1751000559962 সোর্স: ইনশর্টস] *ইরানি জনগণ বর্তমান ইসলামিক শাসনব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং আশীর্বাদপুষ্ট ইহুদি জাতির প্রতি তাদের মনে কখনোই কোনো বিদ্বেষ ছিল না। ইসলামিক রিপাবলিক আজ তার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে এবং পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে... খামেনি এখন এক ভীত ইঁদুরের মতো আত্মগোপন করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। **— পাহলভী [https://www.msn.com/en-gb/news/other/crown-prince-pahlavi-s-warning-comes-true-as-regime-strongholds-burn/ar-AA1HPeBZ সোর্স: এমএসএন] *ইরানের বিরুদ্ধে আমরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছি। তারা মোটেও সুখে নেই... তারা বোমায় বিধ্বস্ত। জায়গাটি পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কেউ সেখানে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হতেও কয়েক বছর লেগে যাবে। তবে ইরান থেকে আমরা যা চাই, তা-ই আদায় করে নেব। এটি হতে যাচ্ছে এক দ্রুত উদযাপনের মুহূর্ত। আমাদের আঘাত ছিল নিখুঁত—পুরো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মতো। **— ট্রাম্প *ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে, বোমাগুলো স্থাপনার ভেতরে এমনভাবে ঢুকে গিয়েছিল যেন তা একদম মাখন কাটছে। **— ট্রাম্প [https://www.msn.com/en-us/news/world/trump-iran-s-nuclear-program-obliterated-bombs-penetrated-fordo-like-it-was-butter/ar-AA1HDIAU সোর্স: এমএসএন] *নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এটাই হওয়া উচিত যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। **— ফ্রেডরিখ মার্জ [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/14/europe-s-paradoxical-support-for-israel-s-attack-against-iran_6742340_4.html সোর্স: ল্য মঁদ] *আমি ইরানের সাথে কোনো কথা বলছি না, এমনকি তাদের কোনো প্রস্তাবও দিচ্ছি না। **— ট্রাম্প [https://www.timesofisrael.com/trump-im-not-talking-to-iran-nor-offering-it-anything-after-us-struck-nuke-sites/amp/ সোর্স: টাইমস অফ ইসরায়েল] *এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমার গায়ের কাঁটা দিচ্ছে (শিহরণ হচ্ছে)। **— জেনারেল কেইন [https://www.defense.gov/News/News-Stories/Article/Article/4227082/ সোর্স: ইউএস ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও নিউজ১৮] *আমার পুরো প্রশাসনকে ইরানের সাথে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা একটি মহান দেশ হয়ে উঠতে পারে, তবে তার আগে তাদের অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। **— ট্রাম্প [https://www.reuters.com/world/middle-east/trump-says-us-remains-committed-diplomatic-solution-iran-nuclear-issue-2025-06-12/ সোর্স: রয়টার্স] *ইরানের কিছু কট্টরপন্থী নেতা খুব সাহসের সাথে বড় বড় কথা বলেছিলেন, কিন্তু তারা জানতেন না যে কী ঘটতে চলেছে। তারা এখন সবাই মৃত, এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিন... একসময়ের সেই ঐতিহ্যবাহী পারস্য সাম্রাজ্যকে রক্ষা করুন। **— ট্রাম্প [https://www.axios.com/2025/06/13/trump-iran-israel-war-nuclear-talks সোর্স: অ্যাক্সিওস] *মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে ইরানকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে; এই বক্তব্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দিয়ে বের হওয়ার জন্য বড্ড বেশি বড় হয়ে গেছে। আগের কোনো প্রশাসনই এভাবে প্রকাশ্যে এমন কথা বলেনি কারণ এটি একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়। ...প্রতিবারই তারা নতুন কোনো অজুহাত নিয়ে আসে। কখনো সেটি মানবাধিকার, কখনো গণতন্ত্রের সুরক্ষা, আবার কখনো নারী অধিকার। কখনো তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পড়ে থাকে, আবার কখনো পারমাণবিক ইস্যু বা ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে সামনে আনে। তারা আসলে কেবল নানা ধরনের অজুহাতই তৈরি করে। **— সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনি [https://english.khamenei.ir/news/11751/Statement-Iran-must-surrender-is-too-big-for-the-US-president-s সোর্স: খামেনি ডট আইআর] *আমরা খুব ভালো করেই জানি তথাকথিত এই 'সর্বোচ্চ নেতা' কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি একটি অত্যন্ত সহজ লক্ষ্যবস্তু, তবে আপাতত সেখানে নিরাপদেই আছেন। হয়তো আমরা তাকে অন্তত এই মুহূর্তের জন্য বেঁচে থাকতে দিচ্ছি। **— ট্রাম্প [https://www.reuters.com/world/middle-east/succession-plans-irans-khamenei-hit-top-gear-2025-06-23/ সোর্স: রয়টার্স] *এটি আমাদের জন্য 'বার্লিন প্রাচীর' পতনের মতো একটি মুহূর্ত। **— রেজা পাহলভি [https://www.reuters.com/business/media-telecom/regime-change-is-only-solution-iran-shahs-son-says-2025-06-23/ সোর্স: রয়টার্স] *ওই একটি আঘাতই যুদ্ধ শেষ করে দিয়েছে। আমি হিরোশিমার উদাহরণ দিতে চাই না, আমি নাগাসাকির উদাহরণও দিতে চাই না, তবে ওটি ছিল মূলত একই জিনিস—যা যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল। এই আঘাতটিই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে। আমরা যদি ওটিকে ধ্বংস না করতাম, তবে তারা এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেত। **— ট্রাম্প [https://nymag.com/intelligencer/article/trump-iran-strike-hiroshima-bombing.html সোর্স: এনওয়াই ম্যাগ] [[চিত্র:Demonstrations and protests against United States recognition of Jerusalem in Tehran 032.jpg|thumb|দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ইরান কেবল 'আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরায়েল নিপাত যাক'—এসবই বলে এসেছে। ~ ডোনাল্ড ট্রাম্প। [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/22/trump-s-full-remarks-after-us-strikes-on-iran_6742597_4.html ২২ জুন, ২০২৫]]] *মধ্যপ্রাচ্যের ত্রাস এই ইরানকে এখন অবশ্যই শান্তি স্থাপন করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে ভবিষ্যতে আক্রমণগুলো হবে আরও ভয়াবহ এবং আমাদের জন্য অনেক বেশি সহজ। **— ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/22/trump-s-full-remarks-after-us-strikes-on-iran_6742597_4.html ২২ জুন, ২০২৫, সোর্স: লে মন্দে] *তারা জানেই না যে কী চুলটা ছিড়ছে! ** — ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://www.cnn.com/2025/06/24/politics/video/trump-israel-iran-ceasfire-reaction-ldn-digvid সোর্স: সিএনএন] * আমরা জায়নবাদীদের প্রতি বিন্দুমাত্র করুণা দেখাব না। ** — আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি [https://www.aljazeera.com/news/liveblog/2025/6/17/live-israel-iran-trade-attacks-trump-orders-residents-of-tehran-to-flee ১৭ জুন, ২০২৫, সোর্স: আল জাজিরা] * রশ্মি প্রজ্বলিত হয়েছে (Beams are on)। ** — ইলোন মাস্ক [https://theconversation.com/in-the-sky-over-iran-elon-musk-and-starlink-step-into-geopolitics-not-for-the-first-time-259833 সোর্স: দ্য কনভারসেশন] * ওই বোমাগুলো আর ফেলো না। ** — ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://www.ndtv.com/world-news/israel-iran-conflict-ceasefire-donald-trump-trump-tells-israel-dont-drop-bombs-then-drops-an-f-bomb-8749636 সোর্স: এনডিটিভি] [[বিষয়শ্রেণী:ইরান]] [[বিষয়শ্রেণী:ইসরায়েল]] [[বিষয়শ্রেণী:ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] [[বিষয়শ্রেণী:২০২০-এর দশকের ইরান]] [[বিষয়শ্রেণী:ইসরায়েলের ইতিহাস]] [[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ ও বিগ্রহ]] rx2urr3bx5cyhwux8m4w9rbx5n22jkj ডায়ান ফসি 0 12365 76799 76131 2026-04-15T02:39:28Z Sumanta3023 4175 /* বহিঃসংযোগ */ 76799 wikitext text/x-wiki '''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল। [[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]] ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন। ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই। == উক্তি == * এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব। ** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover] * আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে। ** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover] * আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়। ** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র‍্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover] * এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়। ** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up] * আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন। ** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover] == ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি == * মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না। ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন। ** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching] * আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর ''গায়ে'' থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? [https://en.wikipedia.org/wiki/Gombe%20National%20Park গোম্বেতে] যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল। ** ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী [https://en.wikipedia.org/wiki/Bob%20Campbell%20(photographer বব ক্যাম্পবেল] (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে। <br>ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। '''তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।''' ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * ডায়ানের পরিচালনায় গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি কোনো রুয়ান্ডাবাসীকে গরিলাদের আশেপাশে থাকতে দিতেন না তার দাবি ছিল এটি গরিলাদের শিকারিদের কাছে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলবে। যেহেতু না দেখেই একটি বন্দুকের গুলি বা ফাঁদ কার্যকর হতে পারে, তাই এই যুক্তির কোনো মানে হয় না; আর এখন যখন রুয়ান্ডাবাসীরা তাদের সংরক্ষণে পুরোপুরি যুক্ত, তখন শিকারের ঘটনা অনেক কমে গেছে এবং গরিলাদের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ** [https://en.wikipedia.org/wiki/Amy%20Vedder এমি ভেডার], ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ ও প্রাইমাটোলজিস্ট এবং ফসির অধীনে কারিসোক রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রাক্তন সদস্য (২০১৭)। * শিকারি, গবাদি পশুর রাখাল, পার্কের কর্মকর্তা, পশ্চিমা সংরক্ষণবাদী, তাঁর কর্মীবৃন্দের সদস্য, ডজন দুয়েক গবেষক সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মিছিলটি অতীতের অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিপন্ন মাউন্টেন গরিলাদের সুরক্ষার একক লক্ষ্য অর্জনে ফসি তাঁর শত্রুদের দিকে গুলি ছুড়েছেন, তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন, তাদের যৌনাঙ্গে চাবুক মেরেছেন, তাদের গায়ে বনমানুষের বিষ্ঠা মাখিয়েছেন, তাদের গবাদি পশু হত্যা করেছেন, তাদের সম্পত্তি পুড়িয়েছেন, তাদের কাজকে কলঙ্কিত করেছেন এবং তাদের জেলে পাঠিয়েছেন। ** হ্যারল্ড টি. পি. হেইস রচিত [https://en.wikipedia.org/wiki/Harold%20Hayes ''দ্য ডার্ক রোমান্স অফ ডায়ান ফসি''] (১৯৯০)। * ফসি এবং অন্যান্য 'ট্রাইমেটসের' খ্যাতি সত্ত্বেও বিজ্ঞানে নারীরা, বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা এখনও অবহেলিত। আমরা বিজ্ঞানে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য স্কলারশিপ ফান্ড গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছি; পাশাপাশি গরিলাদের কাছাকাছি বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোতে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখছি। ডায়ানের উত্তরাধিকারকে এইভাবে বিশেষ উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটা চমৎকার, যা হয়তো তিনি নিজেও কখনও প্রত্যাশা করেননি। ** ড. তারা স্টয়েনস্কি, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও/প্রধান বিজ্ঞানী, [https://gorillafund.org/uncategorized/dian-fossey-legacy-empowers-women/ ডায়ান ফসি গরিলা ফান্ড] (১৫ জানুয়ারি ২০২৩)। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} {{DEFAULTSORT:Fossey, Dian}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৫-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:প্রাইমাটোলজিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]] sxqsj1axo4yhvqw2ele5h8fspo6vx2x 76800 76799 2026-04-15T02:39:56Z Sumanta3023 4175 /* বহিঃসংযোগ */ 76800 wikitext text/x-wiki '''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল। [[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]] ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন। ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই। == উক্তি == * এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব। ** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover] * আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে। ** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover] * আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়। ** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র‍্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover] * এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়। ** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up] * আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন। ** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover] == ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি == * মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না। ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন। ** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching] * আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর ''গায়ে'' থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? [https://en.wikipedia.org/wiki/Gombe%20National%20Park গোম্বেতে] যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল। ** ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী [https://en.wikipedia.org/wiki/Bob%20Campbell%20(photographer বব ক্যাম্পবেল] (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে। <br>ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। '''তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।''' ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * ডায়ানের পরিচালনায় গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি কোনো রুয়ান্ডাবাসীকে গরিলাদের আশেপাশে থাকতে দিতেন না তার দাবি ছিল এটি গরিলাদের শিকারিদের কাছে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলবে। যেহেতু না দেখেই একটি বন্দুকের গুলি বা ফাঁদ কার্যকর হতে পারে, তাই এই যুক্তির কোনো মানে হয় না; আর এখন যখন রুয়ান্ডাবাসীরা তাদের সংরক্ষণে পুরোপুরি যুক্ত, তখন শিকারের ঘটনা অনেক কমে গেছে এবং গরিলাদের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ** [https://en.wikipedia.org/wiki/Amy%20Vedder এমি ভেডার], ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ ও প্রাইমাটোলজিস্ট এবং ফসির অধীনে কারিসোক রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রাক্তন সদস্য (২০১৭)। * শিকারি, গবাদি পশুর রাখাল, পার্কের কর্মকর্তা, পশ্চিমা সংরক্ষণবাদী, তাঁর কর্মীবৃন্দের সদস্য, ডজন দুয়েক গবেষক সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মিছিলটি অতীতের অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিপন্ন মাউন্টেন গরিলাদের সুরক্ষার একক লক্ষ্য অর্জনে ফসি তাঁর শত্রুদের দিকে গুলি ছুড়েছেন, তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন, তাদের যৌনাঙ্গে চাবুক মেরেছেন, তাদের গায়ে বনমানুষের বিষ্ঠা মাখিয়েছেন, তাদের গবাদি পশু হত্যা করেছেন, তাদের সম্পত্তি পুড়িয়েছেন, তাদের কাজকে কলঙ্কিত করেছেন এবং তাদের জেলে পাঠিয়েছেন। ** হ্যারল্ড টি. পি. হেইস রচিত [https://en.wikipedia.org/wiki/Harold%20Hayes ''দ্য ডার্ক রোমান্স অফ ডায়ান ফসি''] (১৯৯০)। * ফসি এবং অন্যান্য 'ট্রাইমেটসের' খ্যাতি সত্ত্বেও বিজ্ঞানে নারীরা, বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা এখনও অবহেলিত। আমরা বিজ্ঞানে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য স্কলারশিপ ফান্ড গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছি; পাশাপাশি গরিলাদের কাছাকাছি বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোতে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখছি। ডায়ানের উত্তরাধিকারকে এইভাবে বিশেষ উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটা চমৎকার, যা হয়তো তিনি নিজেও কখনও প্রত্যাশা করেননি। ** ড. তারা স্টয়েনস্কি, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও/প্রধান বিজ্ঞানী, [https://gorillafund.org/uncategorized/dian-fossey-legacy-empowers-women/ ডায়ান ফসি গরিলা ফান্ড] (১৫ জানুয়ারি ২০২৩)। == বহিঃসংযোগ == {{Wikipedia}} {{DEFAULTSORT:Fossey, Dian}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৫-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:প্রাইমাটোলজিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]] 4wi19ntrdzll3ih9srju40q9mr0x7th 76801 76800 2026-04-15T02:40:21Z Sumanta3023 4175 /* বহিঃসংযোগ */ 76801 wikitext text/x-wiki '''[[w:ডায়ান ফসি|ডায়ান ফসি]]''' (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩২ – আনুমানিক ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫) ছিলেন একজন মার্কিন [[w:প্রাইমাটোলজি|প্রাইমাটোলজিস্ট]] এবং [[w:সংরক্ষণ আন্দোলন|প্রকৃতি সংরক্ষণবাদী]], যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত [[w:মাউন্টেন গরিলা|মাউন্টেন গরিলা]] গোষ্ঠীর ওপর এক ব্যাপক গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি [[w:রুয়ান্ডা|রুয়ান্ডা]]র পাহাড়ি বনে প্রতিদিন তাদের ওপর গবেষণা চালাতেন, যেখানে কাজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন [[w:প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজি|প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট]] [[w:লুইস লিকি|লুইস লিকি]]। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রকাশিত বই, ‘গরিলাস ইন দ্য মিস্ট’, হলো কারিসোক রিসার্চ সেন্টারে গরিলাদের ওপর তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ববর্তী কর্মজীবনের বিবরণ। এটি ১৯৮৮ সালে [[w:গরিলাস ইন দ্য মিস্ট|একই নামের একটি চলচ্চিত্রে]] রূপায়িত হয়েছিল। [[File:Dian Fossey's grave (cropped).jpg|thumb|ডায়ান ফসির কবর (ক্রপ করা)]] ফসি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য প্রাইমাটোলজিস্ট এবং "[[w:দ্য ট্রাইমেটস|ট্রাইমেটসের]]" একজন সদস্য; এটি লুইস লিকি কর্তৃক নিযুক্ত একদল নারী বিজ্ঞানীর গোষ্ঠী যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে [[w:নরবানর|বৃহৎ বনমানুষ]] ([[w:হোমিনিডি|হোমিনিডি]]) নিয়ে গবেষণা করতেন। এই দলে আরও ছিলেন [[জেন গুডল]], যিনি [[w:শিম্পাঞ্জি|শিম্পাঞ্জি]] নিয়ে গবেষণা করেন এবং [[w:বিরুটে গ্যালডিকাস|বিরুটে গ্যালডিকাস]], যিনি [[w:ওরাঙ্গুটান|ওরাঙ্গুটান]] নিয়ে গবেষণা করেন। ফসি রুয়ান্ডায় ২০ বছর অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহায়তা করেন, শিকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসে পর্যটনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং গরিলাদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন। একটি গরিলা হত্যা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে রুয়ান্ডায় একটি প্রত্যন্ত শিবিরের কেবিনে তাঁকে হত্যা করা হয়। যদিও ফসির আমেরিকান গবেষণা সহকারীকে ''তাঁর অনুপস্থিতিতেই'' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে কে তাঁকে হত্যা করেছে তা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই। == উক্তি == * এই বিশাল নরবানরদের সাথে প্রথম সাক্ষাতে তাদের আচরণের লাজুকতার সাথে মিশে থাকা স্বকীয়তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাবারা ত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের গরিলাদের সম্পর্কে আরও জানতে আমি কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসব। ** ''[https://en.wikipedia.org/wiki/Gorillas%20in%20the%20Mist%20(book গরিলাস ইন দ্য মিস্ট]'' (১৯৮৩) থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/YgGzvE5QfUcC?hl=en&gbpv=1&pg=PA4&printsec=frontcover] * আমার কোনো বন্ধু নেই। গরিলাদের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি যত বেশি জানবেন, মানুষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছা আপনার তত বাড়বে। ** এপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Gorillas_in_the_Mist/xjL6XXL8TrMC?hl=en&gbpv=1&pg=PA421&printsec=frontcover] * আমরা তাকে [এক শিকারিকে] বিবস্ত্র করে আমার কেবিনের বাইরে হাত পা ছড়িয়ে বেঁধে রাখি এবং বিছুটি গাছের ডাল ও পাতা দিয়ে তাকে এমনভাবে প্রহার করি যেন তার ঘাম ছুটে যায়; আমরা বিশেষ করে সেই জায়গাগুলোতে আঘাত করি যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগার কথা। এরপর আমি মেস, ইথার, সুঁচ এবং মাস্ক ব্যবহার করে সাধারণ 'সুমু' বা কালো জাদুর প্রক্রিয়া চালাই এবং সবশেষে ঘুমের ওষুধ দিই। ... একেই বলে 'সংরক্ষণ' শুধু কথা বলা নয়। ** প্রাইমাটোলজিস্ট [[রিচার্ড র‍্যাংহাম]]কে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৭৬)। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=1976%20letter%20dian%20fossey%20Richard%20Wrangham%20%20%E2%80%9Cordinary%20day%E2%80%9D&pg=PT220&printsec=frontcover] * এটি কেবল প্রেসিডেন্টের আদেশের বিষয় হত্যা করুন কারাগারগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং অবশিষ্ট গরিলাদের রক্ষা করার এটাই একমাত্র উপায়। ** রুয়ান্ডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা চিঠি থেকে (১৯৭৯)। [https://archive.org/details/darkromanceofdia00haye/page/242/mode/2up] * আপনি যখন সমস্ত প্রাণের মূল্য বুঝতে পারবেন, তখন আপনি অতীতের ওপর কম জোর দিয়ে ভবিষ্যতের সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে শিখবেন। ** হত্যার শিকার হওয়ার আগে ডায়ান ফসির ডায়েরির শেষ লেখা (১৯৮৫)। [https://www.google.com/books/edition/Made_From_This_Earth/HWTqCQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=When%20you%20realize%20the%20value%20of%20all%20life%2C%20you%20learn%20to%20dwell%20less%20on%20what%20is%20past%20and%20concentrate%20more%20on%20the%20preservation%20of%20the%20future.&pg=PA261&printsec=frontcover] == ডায়ান ফসি সম্পর্কে উক্তি == * মনে হচ্ছে যেন [[মাদার তেরেসা]] এইমাত্র মারা গেছেন। কিন্তু পৃথিবীর মাদার তেরেসারা তাদের শয়নকক্ষে পিটিয়ে হত্যার শিকার হন না। ডায়ানের কিছু সত্যিকারের শত্রু ছিল এবং অন্তত একজন ছিল তার মরণঘাতী শত্রু। কিন্তু আপনি এখন [রুয়ান্ডা] সরকারের কাছ থেকে এসব শুনবেন না। ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * তিমি মাছের জন্য [https://en.wikipedia.org/wiki/Greenpeace গ্রিনপিস] যা, গরিলাদের জন্য ডায়ান ফসি ছিলেন ঠিক তাই। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে সরাসরি কাজে নেমে পড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যা সঠিক মনে করতেন তাই করতেন। তবে তিনি অনেক দিক থেকেই গরিলাদের মতো ছিলেন। আপনি যদি ভয় দেখানো গর্জন আর চিৎকারেই পিছু হটেন, তবে আপনার মনে হবে গরিলা একটা দানব এবং আপনি তাদের কাছে ঘেঁষবেন না। কিন্তু যদি আপনি মেজাজটুকু এড়িয়ে মানুষের সাথে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দেখবেন ডায়ান গরিলাদের মতোই একজন নম্র ও প্রেমময় ব্যক্তি ছিলেন। ** বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী [https://en.wikipedia.org/wiki/Ian%20Redmond ইয়ান রেডমন্ড] (১৯৮৬)। [https://people.com/archive/the-strange-death-of-dian-fossey-vol-25-no-7/] * আমি যখন রুয়ান্ডায় পৌঁছাই, ডায়ান অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক এবং উৎসাহব্যঞ্জক ছিলেন। তিনি কিছুটা ভীতিকরও ছিলেন; শিকারি, পার্কের ভেতরে অবৈধভাবে থাকা গবাদি পশু (যা সেই সময়ে অনেক ছিল) এবং যেসব 'ছাত্র' [https://en.wikipedia.org/wiki/Karisoke%20Research%20Center কারিসোকের] মঙ্গলে নিজেদের শতভাগ উৎসর্গ করত না তাদের প্রতি তার এক দৃঢ় ও আপোষহীন মনোভাব ফুটে উঠত। মূলত মনে হতো তিনি কাউকে ভয় পান না এবং কারোর কাছ থেকেই কোনো আজেবাজে কথা সহ্য করবেন না। একই সঙ্গে তিনি একজন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন, বলা যায় প্রায় মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (২০১৭)। [https://theecologist.org/2017/oct/25/dian-fossey-africas-mountain-gorillas-and-deadly-toll-poaching] * আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরোপুরি ঔপনিবেশিক। বড়দিনে তিনি তাদের অত্যন্ত দামি সব উপহার দিতেন; আবার অন্য সময়ে তাদের অপমান করতেন, তাদের সামনে মাটিতে থুতু ফেলতেন একবার তো আমি তাঁকে একজন কর্মীর ''গায়ে'' থুতু ফেলতে দেখেছি তাদের কেবিনে হুটহাট ঢুকে চুরির অপবাদ দিতেন এবং বেতন কেটে রাখতেন। আফ্রিকানদের প্রতি তাঁর এই আচরণের কারণে দু’জন গবেষক কারিসোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের থাকতে হতো কারণ ওই এলাকায় বেতনভুক্ত কাজ খুব কম ছিল এবং ট্র্যাকার হওয়ার আলাদা একটা সম্মান ছিল। লোকগুলো কখনোই বুঝতে পারত না তিনি কখন তাদের ওপর চিৎকার শুরু করবেন। তিনি যখন ক্যাম্প থেকে বাইরে যেতেন, তখন যেন বিষণ্ণতার মেঘ কেটে যেত; আর বছরের পর বছর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * তিনি তাদের [শিকারিদের] নির্যাতন করতেন। তিনি বিছুটি পাতা দিয়ে তাদের অণ্ডকোষে আঘাত করতেন, তাদের গায়ে থুতু দিতেন, লাথি মারতেন, মুখোশ পরে তাদের অভিশাপ দিতেন এবং জোর করে গলায় ঘুমের ওষুধ ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে তিনি এগুলো করতে ঘৃণা বোধ করেন এবং বনে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য শিকারিদের শ্রদ্ধা করেন; কিন্তু তিনি এতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কাজগুলো করতে পছন্দ করতেন, আবার সেই পছন্দের জন্য অপরাধবোধেও ভুগতেন। তিনি তাদের এতটাই ঘৃণা করতেন। তিনি তাদের ভয়ের পুতুল বানিয়ে ছেড়েছিলেন—ছেঁড়া পোশাক পরা ছোটখাটো মানুষগুলো মাটিতে গড়াগড়ি খেত আর ভয়ে মুখ দিয়ে ফেনা তুলত। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমার মনে হয় শেষ দিকে তিনি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছিলেন। ডায়ান গরিলাদের কাছে গিয়েছিলেন কারণ তিনি তাদের ভালোবাসতেন এবং বন্য পরিবেশ ও একা থাকা পছন্দ করতেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তাদের সংগঠিত করা বা লড়াই করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি মোটেও দক্ষ ছিলেন না, অথচ তিনি কর্তৃত্ব ছাড়তেও পারতেন না। তিনি নিজেকে গৌণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন না। সব ছেড়ে কোথাও পঙ্গু হয়ে মারা যাওয়ার কথা তিনি কখনোই ভাবেননি। তিনি সবসময় একটি চূড়ান্ত সংঘাতের কল্পনা করতেন। তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে দেখতেন, যিনি এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছেন যে তাঁকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এটি একটি নিখুঁত সমাপ্তি ছিল। তিনি যা চেয়েছিলেন তাই পেয়েছেন। চিত্রনাট্যটি তিনি এভাবেই শেষ করতেন। ** প্রাইমাটোলজিস্ট কেলি স্টুয়ার্ট হারকোর্ট (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * এটি সম্ভবত সত্য যে ডায়ান ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং একা শিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবুও তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি যে ভয়াবহ অন্যায়গুলো হতে দেখছেন তা সংশোধন করার এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু তাকে দোষ দেওয়ার আমরা কে? [https://en.wikipedia.org/wiki/Gombe%20National%20Park গোম্বেতে] যদি শিকারিরা শিম্পাঞ্জিদের হুমকি দিত, তবে আমি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম তা আমি জানি না। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল; ফসির মৃত্যুর পর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মেমোরিয়াল ফান্ডরেইজারে বাজানো একটি রেকর্ড করা বার্তা থেকে। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম। যারা তাকে ভালোবাসত তারা সবাই তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তিনি এই জাতীয় কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি ছিলেন নিজের নিয়মে চলা এক মানুষ। ** প্রাণিবিজ্ঞানী এবং প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডল। [https://www.google.com/books/edition/Walking_with_the_Great_Apes/b8xSEQAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&pg=PT221&printsec=frontcover] * তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল; এমন কিছু বিপর্যয় যা শুরুর দিকে তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছিল এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তার স্বভাবকে তিক্ত করে তুলেছিল। অন্য কেউ হলে হাল ছেড়ে দিত। তিনি শারীরিকভাবে কখনোই খুব শক্তিশালী ছিলেন না, কিন্তু তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল এবং গরিলাদের অধ্যয়নের এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তাকে সেখানে টিকিয়ে রেখেছিল। ** ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্রী [https://en.wikipedia.org/wiki/Bob%20Campbell%20(photographer বব ক্যাম্পবেল] (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * আমি কেবল সেই মানুষটিকে চিনতাম যার সাথে আমাকে আট বছর কাজ করতে হয়েছে, এবং তিনি ছিলেন একজন বিষণ্ণ মানুষ। তিনি একসময় তাঁর যে একাগ্রতা ছিল, কেবল সেটির ওপর ভর করেই চলছিলেন। গরিলা যদি তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতো, তবে কেন তিনি খুব একটা গরিলাদের কাছে যেতেন না? তিনি অন্যদের 'অহংবোধ' এর সমালোচনা করতেন, অথচ তিনি নিজেই পুরো স্টেশন এবং দীর্ঘদিনের সব রেকর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি কারিসোক আর গরিলা সবকিছুই নিজের সাথে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি যখন একটি শুমারি করে দেখালাম যে গরিলাদের সংখ্যা বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে, তখন তিনি আমার অর্থায়ন বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন মরে যেতে থাকে। <br>ডায়ান প্রথম ছয় বছরে যা করেছিলেন তার জন্য পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা পেতে পারতেন। তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিল না। অনেক মানুষ ডায়ান ফসি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে আসত এবং তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করতে চাইত। কেউ তাঁর সাথে লড়াই করতে চায়নি। কেউ এই জায়গা দখল করতে চায়নি। তিনি নিজেই অনেক ষড়যন্ত্র আর শত্রু আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন যে ওখানে কেউ টিকতে পারে না, সবাই বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কেবল তিনিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। '''তিনি গরিলাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যাননি। তিনি মারা গেছেন কারণ তিনি ডায়ান ফসির মতো আচরণ করছিলেন।''' ** বাস্তুসংস্থানবিদ বিল ওয়েবার (১৯৮৬)। [https://archive.vanityfair.com/article/share/4a279e67-5c28-4511-94b4-56336b28af38] * ডায়ানের পরিচালনায় গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি কোনো রুয়ান্ডাবাসীকে গরিলাদের আশেপাশে থাকতে দিতেন না তার দাবি ছিল এটি গরিলাদের শিকারিদের কাছে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলবে। যেহেতু না দেখেই একটি বন্দুকের গুলি বা ফাঁদ কার্যকর হতে পারে, তাই এই যুক্তির কোনো মানে হয় না; আর এখন যখন রুয়ান্ডাবাসীরা তাদের সংরক্ষণে পুরোপুরি যুক্ত, তখন শিকারের ঘটনা অনেক কমে গেছে এবং গরিলাদের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ** [https://en.wikipedia.org/wiki/Amy%20Vedder এমি ভেডার], ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ ও প্রাইমাটোলজিস্ট এবং ফসির অধীনে কারিসোক রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রাক্তন সদস্য (২০১৭)। * শিকারি, গবাদি পশুর রাখাল, পার্কের কর্মকর্তা, পশ্চিমা সংরক্ষণবাদী, তাঁর কর্মীবৃন্দের সদস্য, ডজন দুয়েক গবেষক সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মিছিলটি অতীতের অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিপন্ন মাউন্টেন গরিলাদের সুরক্ষার একক লক্ষ্য অর্জনে ফসি তাঁর শত্রুদের দিকে গুলি ছুড়েছেন, তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন, তাদের যৌনাঙ্গে চাবুক মেরেছেন, তাদের গায়ে বনমানুষের বিষ্ঠা মাখিয়েছেন, তাদের গবাদি পশু হত্যা করেছেন, তাদের সম্পত্তি পুড়িয়েছেন, তাদের কাজকে কলঙ্কিত করেছেন এবং তাদের জেলে পাঠিয়েছেন। ** হ্যারল্ড টি. পি. হেইস রচিত [https://en.wikipedia.org/wiki/Harold%20Hayes ''দ্য ডার্ক রোমান্স অফ ডায়ান ফসি''] (১৯৯০)। * ফসি এবং অন্যান্য 'ট্রাইমেটসের' খ্যাতি সত্ত্বেও বিজ্ঞানে নারীরা, বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা এখনও অবহেলিত। আমরা বিজ্ঞানে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য স্কলারশিপ ফান্ড গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছি; পাশাপাশি গরিলাদের কাছাকাছি বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোতে আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখছি। ডায়ানের উত্তরাধিকারকে এইভাবে বিশেষ উপায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটা চমৎকার, যা হয়তো তিনি নিজেও কখনও প্রত্যাশা করেননি। ** ড. তারা স্টয়েনস্কি, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও/প্রধান বিজ্ঞানী, [https://gorillafund.org/uncategorized/dian-fossey-legacy-empowers-women/ ডায়ান ফসি গরিলা ফান্ড] (১৫ জানুয়ারি ২০২৩)। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} {{DEFAULTSORT:Fossey, Dian}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৮৫-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:প্রাইমাটোলজিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নারী বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]] sxqsj1axo4yhvqw2ele5h8fspo6vx2x ভারতে শিক্ষা 0 12379 76664 76663 2026-04-14T12:26:33Z ARI 356 76664 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। ===P=== * In the distant past, in India as in many other countries, all recognized branches of learning had had a religious and philosophic bias. Education was not merely a means for earning a living or an instrument for the acquisition of wealth. It was an initiation into the life of spirit, a training of the human soul in the pursuit of truth and the practice of virtue. ** [[Vijaya Lakshmi Pandit]], [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''The Evolution of India''] (1958), p. 19. ===R=== *Universities are the intellectual sanctuaries of the inner life of the nation. They must train intellectual pioneers, seeking guidance from the past but providing dynamics to realise new dreams. ** Dr S. Radhakrishnan, in the University Education Commission Report, Radhakrishnan, S. 1949. ‘University Education Commission 1948–49’, University Education Commission Report, quoted in Delhi Riots 2020: The Untold Story, by Monika Arora, Sonali Chitalkar, and Prerna Malhotra, 2020. Chapter 2 *All religious schools are equal, but some are less equal than others. This paraphrasing of George Orwell’s parodic commandment typifies the thinking of the State when it comes to Hindu-run schools and educational institutions. The Right to Education Act, or the RTE, is the proverbial Moses staff that makes sure this commandment is obeyed. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 *To summarise the chain of events, the government applies RTE rules selectively to Hindu-run schools, orders them to maintain a 25 per cent EWS quota, does not provide fee reimbursement on time—so much so that back in 2019, as many as 4,000 schools threatened to go on a strike against the delays in fee reimbursement.” Unconcerned, governments threaten schools and blackmail them with land occupancy provisions just to escape paying the reimbursement. Schools are forced to hike fees for all pupils in order to escape debt and closure; the fee increase forces Hindu parents to shift their children to other schools. More and more Hindu parents take their children away from Hindu schools and these children are then welcomed by schools run by minorities, and by virtue of the religious obligations and directive principles of the Constitution laid down for the believers, where preaching, proselytisation and conversion are religious duties, these children are inevitably, sometimes subtly, sometimes directly, put under pressure to convert. Meanwhile, Hindu schools are forced to close down. A recent report estimates that the RTE is responsible for the closure of more than 10,000 Hindu-run schools. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 *If there is only one thing more cruel than not allowing Hindu temples to run their own educational institutions without fear of State intervention and control, it is not allowing Hindus to run their own educational institutions without fear of State intervention and control. And if there is only one thing more cruel than the fact that both these cruelties are being subjected on the Hindus, it is that they are being subjected by the Hindus. Belonging to a Hindu government. In a Hindu Rashtra. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। ===V=== [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.]] *In these modern days there is a greater impetus towards higher education on the European lines, and the trend of opinion is strong towards [[নারী]] getting this higher education. Of course, there are some people in [[ভারত]] who do not want it, but those who do want it carried the day. '''It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.''' **[[স্বামী বিবেকানন্দ]], Women of [[ভারত]] [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] ===W=== *'''No people probably appreciate more justly the importance of instruction than the Hindus'''... They sacrifice all the feelings of wealth, family pride and caste that their [[শিশু]] may have the advantage of good education.... This desire is strongly impressed on the minds of all the Hindus. It is inculcated by their own system, which provided schools in every village.... [the] spirit of enquiry and of liberty has most probably been effected by the soodors [Shudras] who compose the great body of population, and who were in possession of the principal authority and property of the country. ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], c. 1795, cited in “The 'Beautiful Tree' that the [[যুক্তরাজ্য]] destroyed”, Organiser, 28.10.1984 by Ram Swarup. Quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. *The [[ভারত]] system of education was so economical, so effective that some of its features were exported to England and Europe. The "monitor", the "slate", the "group-study" were directly borrowed from the old [[ভারত]] practice.... In this connection we have the testimony of Brigadier-General Alexander Walker, ... he says that the new [[যুক্তরাজ্য]] "system was borrowed from the Brahmans and brought from [[ভারত]] to Europe. It has been made the foundation of the National Schools in every enlightened country. Some gratitude is due to a people from who we have learnt to diffuse among the lower ranks of society instructions by one of the most unerring and economical methods which has ever been invented". According to him, by this method, "the [[শিশু]] are instructed without violence, and by a process peculiarly simple". ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. Chapter 7. *Muslim rule should never atttact any criticism. Destruction of temples by Muslim rulers and invaders should not be mentioned. **West Bengal. Circular, West Bengal Board of Secondary Education, 28 April 1989 (number Syl/89/1). Quoted in Arun Shourie - Eminent Historians: Their Technology, Their Line, Their Fraud, HarperCollins, 1998. Quoted in Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. Chapter 8. Quoted in Rosser, Yvette In Saha, S. C. (2004). Religious fundamentalism in the contemporary world: Critical social and political issues. Quoted in Rao, R. N. (2001). Coalition conundrum: The BJP's trials, tribulations, and triumphs. also in Santosh C. Saha (Ed.), Fundamentalism in the Contemporary World: Critical Social and Political Issues, Lexington Books, Maryland, US, 2004, p. 273 * By annihilating [[Indian literature|native literature]], by sweeping away from all sources of pride and pleasure in their own mental efforts, by rendering a whole people dependent upon a remote and unknown country for all their ideas and the words in which to clothe them, we should degrade their character, depress their energies and render them incapable of aspiring to any intellectual distinction. **(Horace Wilson: “Education of the natives of India”, Asiatic Journal (1836), quoted p.26) quoted from Koenraad Elst, On Modi Time : Merits And Flaws of Hindu Activism In Its Day Of Incumbency – 2015 Ch 29 * I have no doubt that many of you here are fathers and mothers, and have boys and girls in Missionary schools even now. Frankly, do you not think that it is your duty to have them educated as Hindus? For the sake of Government jobs. Are you prepared to sacrifice the interest of your own blood, your own ancestral cultural inheritance, and your own religion? If your boys become doctors, or lawyers and cease to be Hindus, what is the benefit? Is that the ideal transmitted to you by the great Rishis? ** Dr. W. Y. Wantz, M.A., D.Litt., B.Sc. (Oxon.) in : Madhya Pradesh (India), Goel, S. R., Niyogi, M. B. (1998). Vindicated by time: The Niyogi Committee report on Christian missionary activities. ISBN 9789385485121 ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] 1n990ttljh6t9fdqsupb9ffgng979eh 76665 76664 2026-04-14T12:30:55Z ARI 356 76665 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। ===R=== *Universities are the intellectual sanctuaries of the inner life of the nation. They must train intellectual pioneers, seeking guidance from the past but providing dynamics to realise new dreams. ** Dr S. Radhakrishnan, in the University Education Commission Report, Radhakrishnan, S. 1949. ‘University Education Commission 1948–49’, University Education Commission Report, quoted in Delhi Riots 2020: The Untold Story, by Monika Arora, Sonali Chitalkar, and Prerna Malhotra, 2020. Chapter 2 *All religious schools are equal, but some are less equal than others. This paraphrasing of George Orwell’s parodic commandment typifies the thinking of the State when it comes to Hindu-run schools and educational institutions. The Right to Education Act, or the RTE, is the proverbial Moses staff that makes sure this commandment is obeyed. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 *To summarise the chain of events, the government applies RTE rules selectively to Hindu-run schools, orders them to maintain a 25 per cent EWS quota, does not provide fee reimbursement on time—so much so that back in 2019, as many as 4,000 schools threatened to go on a strike against the delays in fee reimbursement.” Unconcerned, governments threaten schools and blackmail them with land occupancy provisions just to escape paying the reimbursement. Schools are forced to hike fees for all pupils in order to escape debt and closure; the fee increase forces Hindu parents to shift their children to other schools. More and more Hindu parents take their children away from Hindu schools and these children are then welcomed by schools run by minorities, and by virtue of the religious obligations and directive principles of the Constitution laid down for the believers, where preaching, proselytisation and conversion are religious duties, these children are inevitably, sometimes subtly, sometimes directly, put under pressure to convert. Meanwhile, Hindu schools are forced to close down. A recent report estimates that the RTE is responsible for the closure of more than 10,000 Hindu-run schools. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 *If there is only one thing more cruel than not allowing Hindu temples to run their own educational institutions without fear of State intervention and control, it is not allowing Hindus to run their own educational institutions without fear of State intervention and control. And if there is only one thing more cruel than the fact that both these cruelties are being subjected on the Hindus, it is that they are being subjected by the Hindus. Belonging to a Hindu government. In a Hindu Rashtra. ** (2023.) Hindus in Hindu Rashtra : Eighth-Class Citizens and Victims of State-Sanctioned Apartheid. by Anand Ranganathan chapter 4 ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। ===V=== [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.]] *In these modern days there is a greater impetus towards higher education on the European lines, and the trend of opinion is strong towards [[নারী]] getting this higher education. Of course, there are some people in [[ভারত]] who do not want it, but those who do want it carried the day. '''It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.''' **[[স্বামী বিবেকানন্দ]], Women of [[ভারত]] [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] ===W=== *'''No people probably appreciate more justly the importance of instruction than the Hindus'''... They sacrifice all the feelings of wealth, family pride and caste that their [[শিশু]] may have the advantage of good education.... This desire is strongly impressed on the minds of all the Hindus. It is inculcated by their own system, which provided schools in every village.... [the] spirit of enquiry and of liberty has most probably been effected by the soodors [Shudras] who compose the great body of population, and who were in possession of the principal authority and property of the country. ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], c. 1795, cited in “The 'Beautiful Tree' that the [[যুক্তরাজ্য]] destroyed”, Organiser, 28.10.1984 by Ram Swarup. Quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. *The [[ভারত]] system of education was so economical, so effective that some of its features were exported to England and Europe. The "monitor", the "slate", the "group-study" were directly borrowed from the old [[ভারত]] practice.... In this connection we have the testimony of Brigadier-General Alexander Walker, ... he says that the new [[যুক্তরাজ্য]] "system was borrowed from the Brahmans and brought from [[ভারত]] to Europe. It has been made the foundation of the National Schools in every enlightened country. Some gratitude is due to a people from who we have learnt to diffuse among the lower ranks of society instructions by one of the most unerring and economical methods which has ever been invented". According to him, by this method, "the [[শিশু]] are instructed without violence, and by a process peculiarly simple". ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. Chapter 7. *Muslim rule should never atttact any criticism. Destruction of temples by Muslim rulers and invaders should not be mentioned. **West Bengal. Circular, West Bengal Board of Secondary Education, 28 April 1989 (number Syl/89/1). Quoted in Arun Shourie - Eminent Historians: Their Technology, Their Line, Their Fraud, HarperCollins, 1998. Quoted in Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. Chapter 8. Quoted in Rosser, Yvette In Saha, S. C. (2004). Religious fundamentalism in the contemporary world: Critical social and political issues. Quoted in Rao, R. N. (2001). Coalition conundrum: The BJP's trials, tribulations, and triumphs. also in Santosh C. Saha (Ed.), Fundamentalism in the Contemporary World: Critical Social and Political Issues, Lexington Books, Maryland, US, 2004, p. 273 * By annihilating [[Indian literature|native literature]], by sweeping away from all sources of pride and pleasure in their own mental efforts, by rendering a whole people dependent upon a remote and unknown country for all their ideas and the words in which to clothe them, we should degrade their character, depress their energies and render them incapable of aspiring to any intellectual distinction. **(Horace Wilson: “Education of the natives of India”, Asiatic Journal (1836), quoted p.26) quoted from Koenraad Elst, On Modi Time : Merits And Flaws of Hindu Activism In Its Day Of Incumbency – 2015 Ch 29 * I have no doubt that many of you here are fathers and mothers, and have boys and girls in Missionary schools even now. Frankly, do you not think that it is your duty to have them educated as Hindus? For the sake of Government jobs. Are you prepared to sacrifice the interest of your own blood, your own ancestral cultural inheritance, and your own religion? If your boys become doctors, or lawyers and cease to be Hindus, what is the benefit? Is that the ideal transmitted to you by the great Rishis? ** Dr. W. Y. Wantz, M.A., D.Litt., B.Sc. (Oxon.) in : Madhya Pradesh (India), Goel, S. R., Niyogi, M. B. (1998). Vindicated by time: The Niyogi Committee report on Christian missionary activities. ISBN 9789385485121 ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] spxpu6y7rh5zjrby3jx5hc80m2v8lj5 76668 76665 2026-04-14T12:35:37Z ARI 356 76668 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই (RTE) হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। ===V=== [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.]] *In these modern days there is a greater impetus towards higher education on the European lines, and the trend of opinion is strong towards [[নারী]] getting this higher education. Of course, there are some people in [[ভারত]] who do not want it, but those who do want it carried the day. '''It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.''' **[[স্বামী বিবেকানন্দ]], Women of [[ভারত]] [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] ===W=== *'''No people probably appreciate more justly the importance of instruction than the Hindus'''... They sacrifice all the feelings of wealth, family pride and caste that their [[শিশু]] may have the advantage of good education.... This desire is strongly impressed on the minds of all the Hindus. It is inculcated by their own system, which provided schools in every village.... [the] spirit of enquiry and of liberty has most probably been effected by the soodors [Shudras] who compose the great body of population, and who were in possession of the principal authority and property of the country. ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], c. 1795, cited in “The 'Beautiful Tree' that the [[যুক্তরাজ্য]] destroyed”, Organiser, 28.10.1984 by Ram Swarup. Quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. *The [[ভারত]] system of education was so economical, so effective that some of its features were exported to England and Europe. The "monitor", the "slate", the "group-study" were directly borrowed from the old [[ভারত]] practice.... In this connection we have the testimony of Brigadier-General Alexander Walker, ... he says that the new [[যুক্তরাজ্য]] "system was borrowed from the Brahmans and brought from [[ভারত]] to Europe. It has been made the foundation of the National Schools in every enlightened country. Some gratitude is due to a people from who we have learnt to diffuse among the lower ranks of society instructions by one of the most unerring and economical methods which has ever been invented". According to him, by this method, "the [[শিশু]] are instructed without violence, and by a process peculiarly simple". ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. Chapter 7. *Muslim rule should never atttact any criticism. Destruction of temples by Muslim rulers and invaders should not be mentioned. **West Bengal. Circular, West Bengal Board of Secondary Education, 28 April 1989 (number Syl/89/1). Quoted in Arun Shourie - Eminent Historians: Their Technology, Their Line, Their Fraud, HarperCollins, 1998. Quoted in Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. Chapter 8. Quoted in Rosser, Yvette In Saha, S. C. (2004). Religious fundamentalism in the contemporary world: Critical social and political issues. Quoted in Rao, R. N. (2001). Coalition conundrum: The BJP's trials, tribulations, and triumphs. also in Santosh C. Saha (Ed.), Fundamentalism in the Contemporary World: Critical Social and Political Issues, Lexington Books, Maryland, US, 2004, p. 273 * By annihilating [[Indian literature|native literature]], by sweeping away from all sources of pride and pleasure in their own mental efforts, by rendering a whole people dependent upon a remote and unknown country for all their ideas and the words in which to clothe them, we should degrade their character, depress their energies and render them incapable of aspiring to any intellectual distinction. **(Horace Wilson: “Education of the natives of India”, Asiatic Journal (1836), quoted p.26) quoted from Koenraad Elst, On Modi Time : Merits And Flaws of Hindu Activism In Its Day Of Incumbency – 2015 Ch 29 * I have no doubt that many of you here are fathers and mothers, and have boys and girls in Missionary schools even now. Frankly, do you not think that it is your duty to have them educated as Hindus? For the sake of Government jobs. Are you prepared to sacrifice the interest of your own blood, your own ancestral cultural inheritance, and your own religion? If your boys become doctors, or lawyers and cease to be Hindus, what is the benefit? Is that the ideal transmitted to you by the great Rishis? ** Dr. W. Y. Wantz, M.A., D.Litt., B.Sc. (Oxon.) in : Madhya Pradesh (India), Goel, S. R., Niyogi, M. B. (1998). Vindicated by time: The Niyogi Committee report on Christian missionary activities. ISBN 9789385485121 ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] plxczly1t0r94uvmpnxzdm96lpucdfp 76669 76668 2026-04-14T12:36:41Z ARI 356 76669 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। ===V=== [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.]] *In these modern days there is a greater impetus towards higher education on the European lines, and the trend of opinion is strong towards [[নারী]] getting this higher education. Of course, there are some people in [[ভারত]] who do not want it, but those who do want it carried the day. '''It is a strange fact that [[University of Oxford|Oxford]] and [[University of Cambridge|Cambridge]] are closed to [[নারী]] today, so are [[Harvard University|Harvard]] and [[Yale University|Yale]]; but [[w:University_of_Calcutta|Calcutta University]] opened its doors to [[নারী]] more than twenty years ago.''' **[[স্বামী বিবেকানন্দ]], Women of [[ভারত]] [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] ===W=== *'''No people probably appreciate more justly the importance of instruction than the Hindus'''... They sacrifice all the feelings of wealth, family pride and caste that their [[শিশু]] may have the advantage of good education.... This desire is strongly impressed on the minds of all the Hindus. It is inculcated by their own system, which provided schools in every village.... [the] spirit of enquiry and of liberty has most probably been effected by the soodors [Shudras] who compose the great body of population, and who were in possession of the principal authority and property of the country. ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], c. 1795, cited in “The 'Beautiful Tree' that the [[যুক্তরাজ্য]] destroyed”, Organiser, 28.10.1984 by Ram Swarup. Quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. *The [[ভারত]] system of education was so economical, so effective that some of its features were exported to England and Europe. The "monitor", the "slate", the "group-study" were directly borrowed from the old [[ভারত]] practice.... In this connection we have the testimony of Brigadier-General Alexander Walker, ... he says that the new [[যুক্তরাজ্য]] "system was borrowed from the Brahmans and brought from [[ভারত]] to Europe. It has been made the foundation of the National Schools in every enlightened country. Some gratitude is due to a people from who we have learnt to diffuse among the lower ranks of society instructions by one of the most unerring and economical methods which has ever been invented". According to him, by this method, "the [[শিশু]] are instructed without violence, and by a process peculiarly simple". ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. Chapter 7. *Muslim rule should never atttact any criticism. Destruction of temples by Muslim rulers and invaders should not be mentioned. **West Bengal. Circular, West Bengal Board of Secondary Education, 28 April 1989 (number Syl/89/1). Quoted in Arun Shourie - Eminent Historians: Their Technology, Their Line, Their Fraud, HarperCollins, 1998. Quoted in Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. Chapter 8. Quoted in Rosser, Yvette In Saha, S. C. (2004). Religious fundamentalism in the contemporary world: Critical social and political issues. Quoted in Rao, R. N. (2001). Coalition conundrum: The BJP's trials, tribulations, and triumphs. also in Santosh C. Saha (Ed.), Fundamentalism in the Contemporary World: Critical Social and Political Issues, Lexington Books, Maryland, US, 2004, p. 273 * By annihilating [[Indian literature|native literature]], by sweeping away from all sources of pride and pleasure in their own mental efforts, by rendering a whole people dependent upon a remote and unknown country for all their ideas and the words in which to clothe them, we should degrade their character, depress their energies and render them incapable of aspiring to any intellectual distinction. **(Horace Wilson: “Education of the natives of India”, Asiatic Journal (1836), quoted p.26) quoted from Koenraad Elst, On Modi Time : Merits And Flaws of Hindu Activism In Its Day Of Incumbency – 2015 Ch 29 * I have no doubt that many of you here are fathers and mothers, and have boys and girls in Missionary schools even now. Frankly, do you not think that it is your duty to have them educated as Hindus? For the sake of Government jobs. Are you prepared to sacrifice the interest of your own blood, your own ancestral cultural inheritance, and your own religion? If your boys become doctors, or lawyers and cease to be Hindus, what is the benefit? Is that the ideal transmitted to you by the great Rishis? ** Dr. W. Y. Wantz, M.A., D.Litt., B.Sc. (Oxon.) in : Madhya Pradesh (India), Goel, S. R., Niyogi, M. B. (1998). Vindicated by time: The Niyogi Committee report on Christian missionary activities. ISBN 9789385485121 ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] rz9n321ia3yagjw7za4ncqg0wbqpzv0 76670 76669 2026-04-14T12:39:11Z ARI 356 76670 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] ===W=== *'''No people probably appreciate more justly the importance of instruction than the Hindus'''... They sacrifice all the feelings of wealth, family pride and caste that their [[শিশু]] may have the advantage of good education.... This desire is strongly impressed on the minds of all the Hindus. It is inculcated by their own system, which provided schools in every village.... [the] spirit of enquiry and of liberty has most probably been effected by the soodors [Shudras] who compose the great body of population, and who were in possession of the principal authority and property of the country. ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], c. 1795, cited in “The 'Beautiful Tree' that the [[যুক্তরাজ্য]] destroyed”, Organiser, 28.10.1984 by Ram Swarup. Quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. *The [[ভারত]] system of education was so economical, so effective that some of its features were exported to England and Europe. The "monitor", the "slate", the "group-study" were directly borrowed from the old [[ভারত]] practice.... In this connection we have the testimony of Brigadier-General Alexander Walker, ... he says that the new [[যুক্তরাজ্য]] "system was borrowed from the Brahmans and brought from [[ভারত]] to Europe. It has been made the foundation of the National Schools in every enlightened country. Some gratitude is due to a people from who we have learnt to diffuse among the lower ranks of society instructions by one of the most unerring and economical methods which has ever been invented". According to him, by this method, "the [[শিশু]] are instructed without violence, and by a process peculiarly simple". ** [[w:Henry Alexander Walker|Brigadier-General Alexander Walker]], quoted from Ram Swarup (2000). On Hinduism: Reviews and reflections. Chapter 7. *Muslim rule should never atttact any criticism. Destruction of temples by Muslim rulers and invaders should not be mentioned. **West Bengal. Circular, West Bengal Board of Secondary Education, 28 April 1989 (number Syl/89/1). Quoted in Arun Shourie - Eminent Historians: Their Technology, Their Line, Their Fraud, HarperCollins, 1998. Quoted in Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. Chapter 8. Quoted in Rosser, Yvette In Saha, S. C. (2004). Religious fundamentalism in the contemporary world: Critical social and political issues. Quoted in Rao, R. N. (2001). Coalition conundrum: The BJP's trials, tribulations, and triumphs. also in Santosh C. Saha (Ed.), Fundamentalism in the Contemporary World: Critical Social and Political Issues, Lexington Books, Maryland, US, 2004, p. 273 * By annihilating [[Indian literature|native literature]], by sweeping away from all sources of pride and pleasure in their own mental efforts, by rendering a whole people dependent upon a remote and unknown country for all their ideas and the words in which to clothe them, we should degrade their character, depress their energies and render them incapable of aspiring to any intellectual distinction. **(Horace Wilson: “Education of the natives of India”, Asiatic Journal (1836), quoted p.26) quoted from Koenraad Elst, On Modi Time : Merits And Flaws of Hindu Activism In Its Day Of Incumbency – 2015 Ch 29 * I have no doubt that many of you here are fathers and mothers, and have boys and girls in Missionary schools even now. Frankly, do you not think that it is your duty to have them educated as Hindus? For the sake of Government jobs. Are you prepared to sacrifice the interest of your own blood, your own ancestral cultural inheritance, and your own religion? If your boys become doctors, or lawyers and cease to be Hindus, what is the benefit? Is that the ideal transmitted to you by the great Rishis? ** Dr. W. Y. Wantz, M.A., D.Litt., B.Sc. (Oxon.) in : Madhya Pradesh (India), Goel, S. R., Niyogi, M. B. (1998). Vindicated by time: The Niyogi Committee report on Christian missionary activities. ISBN 9789385485121 ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] 6fbn38329xr1paw6s99cojgd80wtr84 76764 76670 2026-04-14T22:19:51Z ARI 356 /* W */ 76764 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} ===Z=== *The enrolment of [[ভারতে ইসলাম|Muslim]] children at the primary school level in the relevant period was 12.39 per cent as agai­nst the child population of 16.81 per cent. **In 1984. About under­represen­tation among primary school pupils of Muslim children in education in India. Rafiq Zakaria: The Widening Divide, p.146. <!--- Quoted from Elst, Koenraad. (1997) The Demographic Siege---> ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] dnjtzkgqcmxie6p12kyvsbwsckuoggm 76765 76764 2026-04-14T22:21:11Z ARI 356 /* Z */ 76765 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। ===S=== * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} * সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে [[ভারতে ইসলাম|মুসলিম]] শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ। ** ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: ''দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড'', পৃষ্ঠা ১৪৬। ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] 2d8hlvu68rzioez9aoeduiu2hvc0jc9 76766 76765 2026-04-14T22:21:47Z ARI 356 /* S */ 76766 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} * সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে [[ভারতে ইসলাম|মুসলিম]] শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ। ** ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: ''দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড'', পৃষ্ঠা ১৪৬। ==See also== *[[Nalanda]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] jd3m4gip75q9npeay5c5g1dygdxz0vw 76767 76766 2026-04-14T22:22:12Z ARI 356 /* See also */ 76767 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} * সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে [[ভারতে ইসলাম|মুসলিম]] শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ। ** ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: ''দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড'', পৃষ্ঠা ১৪৬। ==আরও দেখুন== *[[নালন্দা]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == External links == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm Quotes about Education in India] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ Quotes on Great Minds on Indian Education System] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:Education in Asia|India]] [[Category:Education in India| ]] rs3tmq3o864vg3iojzw89gp9l16649n 76768 76767 2026-04-14T22:23:14Z ARI 356 /* External links */ 76768 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * 'চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য' মামলায় [[ভারতের সুপ্রিম কোর্ট]]er সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]er পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} * সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে [[ভারতে ইসলাম|মুসলিম]] শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ। ** ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: ''দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড'', পৃষ্ঠা ১৪৬। ==আরও দেখুন== *[[নালন্দা]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm ভারতে শিক্ষা সম্পর্কে উক্তি] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে মনীষীদের উক্তি] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:এশিয়ায় শিক্ষা|ভারত]] [[Category:ভারতে শিক্ষা| ]] kn52gcu0tn7t16dy8srs1rg17qf92op 76780 76768 2026-04-14T23:08:22Z ARI 356 76780 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Portrait_Gandhi.jpg|thumb|আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না, আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে। বার্মার অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল। ~ [[মহাত্মা গান্ধী]]]] [[চিত্র:Nalanda University India ruins.jpg|thumb|right|নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়]] '''ভারতে শিক্ষা'''র ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় ধর্ম, ভারতীয় গণিত ও ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার মতো প্রথাগত বিষয়গুলো পড়ানোর মাধ্যমে। সাধারণ যুগের আগে প্রাচীন তক্ষশিলা (বর্তমান পাকিস্তানে) এবং নালন্দার মতো কেন্দ্রগুলোতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। == উক্তি == * আমরা ভারতের যে এলাকাগুলো জয় করেছি, সেখান থেকে হিন্দু বিজ্ঞান অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে যেখানে আমাদের হাত এখনো পৌঁছাতে পারেনি, যেমন [[কাশ্মীর]], বেনারস এবং অন্যান্য স্থান। ** আলবিরুনির ইন্ডিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২। জৈন, মীনাক্ষী (২০১১) ''দ্য ইন্ডিয়া দে স: ফরেন অ্যাকাউন্টস'']। * জাতীয় শিক্ষার দাবির জীবন্ত চেতনার অর্থ এই নয় যে আমাদের আবার ভাস্করের [[জ্যোতির্বিজ্ঞান]] এবং [[গণিত]] কিংবা নালন্দার সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। ঠিক যেমন স্বদেশী আন্দোলনের মূল ভাব মানেই রেলগাড়ি বা মোটর ছেড়ে আবার সেই প্রাচীন রথ বা গরুর গাড়িতে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের আসল সম্পর্ক হলো সেই প্রাণশক্তি বা মূল চেতনার সাথে। এখানে লড়াইটা আধুনিকতা বনাম প্রাচীনত্বের নয়, বরং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সভ্যতা বনাম [[ভারত]]ের মন ও প্রকৃতির বৃহত্তর সম্ভাবনার মধ্যে। এটি বর্তমান বনাম অতীতের লড়াই নয়, বরং বর্তমান বনাম ভবিষ্যতের সংগ্রাম। এটি পঞ্চম শতাব্দীতে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সামনের শতাব্দীগুলোর শুভ সূচনা। এটি কেবল পেছনে ফেরা নয়, বরং বর্তমানের কৃত্রিমতা ভেঙে ভারতের নিজস্ব সহজাত সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করা যা আমাদের আত্মা আর ভারতের শক্তি চায়। ভাষা সেটি [[সংস্কৃত ভাষা]] হোক বা অন্য কিছু—তা শেখার পদ্ধতি হওয়া উচিত একদম স্বাভাবিক এবং সহজ, যা মনকে আনন্দ দেয়। সেখানে আমাদের কোনো পুরোনো বা বর্তমান পদ্ধতির ওপর আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং দেশীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করব যাতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছাতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের অতীতের জীবন্ত শক্তি আর ভবিষ্যতের অনাগত সম্ভাবনার মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একইভাবে আমাদের [[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]] বা অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা এমনভাবে শিখতে হবে যাতে আমরা অন্য দেশগুলোর জীবন, আদর্শ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। এটাই হলো প্রকৃত জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্য ও আদর্শ। এর মানে এই নয় যে আধুনিক [[সত্য]] এবং [[জ্ঞান]]-কে অবহেলা করা হবে, বরং নিজেদের সত্তা, মন আর আত্মার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে। পশ্চিমের [[বিজ্ঞান|বৈজ্ঞানিক]], যুক্তিবাদী, শিল্পনির্ভর এবং মেকি গণতান্ত্রিক সভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখে। এই মুহূর্তে সেই ডুবন্ত ভিত্তির ওপর অন্ধভাবে কিছু গড়ে তোলা হবে নিছক বোকামি। যখন পাশ্চাত্যের সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তাবিদরাই এই পড়ন্ত বিকেলে একটি নতুন ও আধ্যাত্মিক সভ্যতার আশায় [[এশিয়া]]র মেধার দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সত্তা আর সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিয়ে [[ইউরোপ]]ে মৃতপ্রায় অতীতের ওপর ভরসা করব এটা ভাবাও অদ্ভুত। **[[অরবিন্দ ঘোষ]], নভেম্বর ১৯২০ ("এ প্রিফেস অন ন্যাশনাল এডুকেশন" শীর্ষক নিবন্ধ থেকে)। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * [ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভারতে চালু করা ব্যবস্থার থেকে আলাদা?] হ্যাঁ, [ভারতে] '''তারা কেবল কেরানি তৈরি করতে চায় এবং এই শিক্ষার আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।''' ** [[অরবিন্দ ঘোষ]], ৭ আগস্ট ১৯২৬। [[অরবিন্দ ঘোষ]], নাহার এস. এবং ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস (প্যারিস) থেকে উদ্ধৃত। ''ইন্ডিয়াজ রিবার্থ: এ সিলেকশন ফ্রম শ্রী অরবিন্দস রাইটিং, টকস অ্যান্ড স্পিচেস''। প্যারিস: ইনস্টিটিউট ডি রিচেচেস ইভোলিউটিভস। ৩য় সংস্করণ (২০০০)। [https://web.archive.org/web/20170826004028/http://bharatvani.org/books/ir/IR_frontpage.htm] * মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ধর্মের কিছু ধরাবাঁধা বুলি শিখিয়েই শিশুদের ধার্মিক এবং নীতিবান করে তোলা যায়। এটি একটি ইউরোপীয় ভুল ধারণা। এর ফলে হয় কেউ যান্ত্রিকভাবে কোনো ধর্মমত মেনে নেয় যা তার অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলে না, নতুবা সে একগুঁয়ে ধর্মান্ধ বা ভণ্ড হয়ে ওঠে। [[ধর্ম]] হলো যাপন করার বিষয়, মুখস্থ করার কোনো বুলি নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশিক্ষা দেওয়া হোক বা না হোক, ধর্মের মূল সুর—অর্থাৎ ঈশ্বর, মানবতা, দেশ এবং অন্যের জন্য ও নিজের জন্য বেঁচে থাকা, এটাকেই প্রতিটি জাতীয় বিদ্যালয়ের আদর্শ করতে হবে। আমাদের স্কুলগুলোতে [[হিন্দুধর্ম]]ের এই চেতনা মিশে থাকাটাই হবে জাতীয়তাবাদের আসল ভিত্তি। কেবল ভারতীয় বিষয় পড়ানো বা হিন্দু শাস্ত্রের ধরাবাঁধা শিক্ষার চেয়ে এটাই আমাদের স্কুলগুলোকে অন্য সব স্কুল থেকে আলাদা করবে। ** শ্রী অরবিন্দ, ''দ্য আওয়ার অফ গড অ্যান্ড আদার রাইটিংস''। ৬. এডুকেশন অ্যান্ড আর্ট, এ সিস্টেম অফ ন্যাশনাল এডুকেশন: সাম প্রিলিমিনারি আইডিয়াস। ৩. দ্য মোরাল নেচার। * এদেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের কত কম খরচে লিখতে শেখানো হয় এবং যে পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ ছাত্ররা তুলনামূলক নতুনদের শেখায়, আর সেই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞানকেও ঝালিয়ে নেয় তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ইংল্যান্ডেও এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা উচিত। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * অসংখ্য মানুষ আছে যারা শিক্ষার এই সুযোগগুলো নিতে পারছে না... আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এর মূল কারণ হলো দেশের ক্রমশ বেড়ে চলা দারিদ্র্য। ভারতীয় সুতি কাপড়ের বদলে আমাদের নিজেদের উৎপাদিত ইংরেজি কাপড়ের ব্যবহারের ফলে গত কয়েক বছরে কারিগর শ্রেণির আয় অনেক কমে গেছে। আমাদের সেনাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নতুন মিত্র দেশগুলোর দূরবর্তী সীমানায় পাঠানোর ফলে শস্যের চাহিদাও কমে গেছে। এছাড়া দেশের মূলধন এদেশীয় সরকার এবং কর্মকর্তাদের হাত থেকে এখন ইউরোপীয়দের হাতে চলে গেছে। আইন অনুযায়ী ইউরোপীয়রা এই অর্থ সাময়িকভাবেও ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে না, ফলে প্রতিদিন এই সম্পদ দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। ভারত সরকারের কঠোর রাজস্ব আদায়ের নীতিও এই পরিস্থিতি উপশমে কোনো সাহায্য করেনি। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির বেশিরভাগ মানুষই এখন তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছেন না। অভাবের কারণে সন্তানদের হাত-পা একটু শক্ত হতে না হতেই তারা তাদের কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * সরকারের এটা নজর এড়ানোর কথা নয় যে, এই জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ৭,০০০ জনও স্কুলে যাচ্ছে না যা উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিরই একটি ভয়াবহ চিত্র। অনেক গ্রামে যেখানে আগে স্কুল ছিল, এখন সেখানে কিছুই নেই। আবার অনেক বড় স্কুলগুলোতে এখন কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অন্যেরা চরম দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে আসতে পারছে না অথবা পড়াশোনার খরচ দিতে পারছে না। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * এই জেলার বিভিন্ন স্কুলের অবস্থা এখন ঠিক এইরকমই, যেখানে এদেশের আঞ্চলিক ভাষায় পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখানো হয়। ভারতে সব সময় যেমনটা হয়ে এসেছে, এই শিক্ষকদের বেতনও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। জ্ঞান হয়তো গর্বের সাথে নিজেকে বিক্রি করতে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু শাসক শক্তির উৎসাহ ছাড়া তা কোনো দেশেই বিকশিত হতে পারেনি। ভারতের এই অংশে একসময় বিজ্ঞানের প্রতি যে সমর্থন দেওয়া হতো, তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটিও রাষ্ট্রীয় সাহায্য পায় না এ কথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের সময়ে বিশেষ করে হিন্দু শাসকদের অধীনে শিক্ষার প্রসারের জন্য অর্থ এবং জমি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হতো। ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস'' নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * রাজস্বের একটি বড় অংশ যা একসময় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বাড়াত, আমাদের শাসনের অধীনে তা এখন অজ্ঞানতাকে লালন করার উপায়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান আগে সরকারের কাছ থেকে যে শক্তিশালী সাহায্য পেত, তা হারিয়ে এখন মানুষের দয়ায় পাওয়া সামান্য আর অনিশ্চিত সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে বিজ্ঞান আগে কখনও এত অসহায় অবস্থায় পড়েনি... ** এ. ডি. ক্যাম্পবেল, বেলারির কালেক্টর। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। ১৮২৩ সালের ১৭ আগস্ট বেলারির কালেক্টর এ. ডি. ক্যাম্পবেলের দেওয়া ভারতীয়দের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অংশ: ১৮৩২ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ফ্রম সিলেক্ট কমিটি অন দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪। * ভারতীয় সংবিধান কার্যত হিন্দুদের অনেক ক্ষেত্রে কম অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অত্যন্ত মূল্যবান অধিকার পেলেও হিন্দুদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশের সংবিধানে এমন অদ্ভুত নিয়ম আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ যদি কেউ ভারতে ইসলামি বা খ্রিস্টধর্মের ধর্মতত্ত্ব শেখানোর জন্য স্কুল খুলতে চায়, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাকে অনুদান দেবে, এমনকি স্কুলের পুরো খরচও হয়তো বহন করবে। কিন্তু আপনি যদি হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে পড়ানোর জন্য একটি স্কুল শুরু করতে চান, তবে সেই স্কুলের অর্থায়নের সম্পূর্ণ বোঝা আপনাকে বা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই নিতে হবে। ** আভাস চ্যাটার্জি, হিন্দু নেশন। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * মাত্র এক প্রজন্মের ইংরেজি শিক্ষাই পরম্পরার সুতো ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি এমন এক অদ্ভুত ও ভাসাভাসা মানুষ তৈরি করে যার কোনো শিকড় নেই, সে এক ধরণের বুদ্ধিভিত্তিক অস্পৃশ্য, যে না প্রাচ্যের না পাশ্চাত্যের, না অতীতের না ভবিষ্যতের। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তার আধ্যাত্মিক অখণ্ডতা হারানো। ভারতের সমস্ত সমস্যার মধ্যে শিক্ষার সমস্যাই সবচেয়ে কঠিন এবং দুঃখজনক। ** আনন্দ কুমারস্বামী। এস. বালকৃষ্ণ রচিত ''লেসনস ফ্রম হিন্দু হিস্ট্রি ইন ১০ এপিসোডস'' (২০২০)। <hr width="50%"/> <span style="font-size:130%; font-weight:bold;">ভারতের সংবিধান</span> * ‘জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কার্যাদি পরিচালনার স্বাধীনতা’ এবং ‘প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী বা তাদের যে কোনো অংশের ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। তারা ধর্মের বিষয়ে নিজেদের কাজ নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া ও তা অর্জন করা এবং আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তি পরিচালনা করার অধিকারও তাদের থাকবে।’ ** ভারতের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।<br>২. প্রথম দফার এই নিয়মটি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যা সরকার পরিচালনা করে ঠিকই কিন্তু কোনো ট্রাস্ট বা এনডাউমেন্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।<br>৩. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিতে বা ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তি নাবালক হলে তার অভিভাবক যদি এতে সম্মতি দেন, তবেই তিনি অংশ নিতে পারবেন। ** ভারতের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * ১. ধর্ম বা ভাষার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সকল সংখ্যালঘুদের তাদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনা করার অধিকার থাকবে। <br>১-ক. কোনো সংখ্যালঘু দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকার যদি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করার জন্য কোনো আইন করে, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই সম্পত্তির বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ যেন এমন হয় যা তাদের এই মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত বা বাতিল না করে। <br>২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেবল এই কারণে বৈষম্য করবে না যে সেটি কোনো ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ** ভারতের সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। * এই অনুচ্ছেদের বা ১৯ অনুচ্ছেদের ১ দফার (ছ) উপ-দফার কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে সামাজিকভাবে এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের অথবা তপশিলি জাতি বা উপজাতিদের উন্নতির জন্য বিশেষ কোনো আইন তৈরিতে বাধা দেবে না। এই বিশেষ নিয়মগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোক বা না হোক। তবে ৩০ অনুচ্ছেদের ১ দফায় উল্লিখিত সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতাভুক্ত হবে না। ** সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ৫ দফা, যা ২০০৬ সালে ইউপিএ সরকার ৯৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপার্থাইড'' (২০২৩), অধ্যায় ৪। <hr width="50%"/> * ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশকের মধ্যেই এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরণের অবহেলা আর অবনতির ছাপ দেখা যায়। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং এর পরবর্তী দশকগুলোতে যে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, তা এশিয়ায় ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের ফলেই শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ (যেখানে ব্রিটিশ রেকর্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মারা গিয়েছিল) ছিল সামনে যা আসছে তার একটি পূর্বাভাস মাত্র। (...) উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অবনতি, পতন আর বঞ্চনার বোধ ভারতীয় মানুষের মনে নাড়া দিতে শুরু করে। আগে যা ঘটেছিল, তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেই এই বোধ তৈরি হয়েছিল। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। ১৯০০ সালের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় বিশ্বাসে পরিণত হয় যে, ব্রিটিশ শাসন দেশকে সবদিক থেকে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কেবল গরিবই হয়ে পড়েনি, বরং চরম অবমাননার শিকার হয়েছে। ভারতীয়দের যা কিছু ছিল তার বেশিরভাগই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তাদের আচার-আচরণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে একটি কথা বেশ জোরালোভাবে সামনে আসে যে, ভারতের এই অজ্ঞতা আর নিরক্ষরতার মূলে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। এর বিপরীতে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্যের শুরুতে ভারতে ব্যাপক শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার চল ছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছিল, ঠিক যেভাবে ভারতের কুটির শিল্প ও শিল্পের পরিকল্পিত ধ্বংস এবং গ্রামবাংলার দারিদ্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল। ** ধরমপাল: ''দ্য বিউটিফুল ট্রি, ইন্ডিজেনাস ইন্ডিয়ান এডুকেশন ইন দ্য এইটিনথ সেঞ্চুরি'' (১৯৮৩)। * শ্রী ধরমপাল পুরনো ব্রিটিশ আর্কাইভ, বিশেষ করে মাদ্রাজের নথিপত্র থেকে প্রমাণ করেছেন যে, এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সেই সময়ের ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অনেক ভালো ছিল। ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন বাংলা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে জরিপ করেছিলেন, তখন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা খারাপ অবস্থায় ছিল। তবুও তাদের সংগ্রহ করা তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আটটি ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবস্থা ইংরেজি ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত ছিল: (১) জনসংখ্যার অনুপাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, (২) এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, (৩) স্কুলে কাটানো সময়ের দৈর্ঘ্য, (৪) শিক্ষকের গুণমান, (৫) শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও বুদ্ধি, (৬) স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, (৭) উচ্চবিত্ত (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য) শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্নবিত্ত (শূদ্র এবং অন্যান্য জাতি) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উচ্চ হার এবং (৮) পাঠ্য বিষয়ের ধরন। ** ধরমপাল, সিতারাম গোয়েলের ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ'' (অধ্যায় ৩, দ্য রেসিডিউ অফ ক্রিশ্চিয়ানিজম, ২০১৫) থেকে উদ্ধৃত। * প্রতিটি হিন্দু গ্রামে একজন করে শিক্ষক ছিলেন, যাদের খরচ দেওয়া হতো সরকারি তহবিল থেকে। কেবল বাংলাতেই ব্রিটিশরা আসার আগে প্রায় আশি হাজার দেশীয় স্কুল ছিল, প্রতি চারশ জন মানুষের জন্য একটি স্কুল। অশোকের সময়ে সাক্ষরতার হার বর্তমান ভারতের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে হয়। শিশুরা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে যেত। তারা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ঢুকত এবং আট বছর বয়সে বের হয়ে আসত। শিক্ষার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয়, পাঠ্য যাই হোক না কেন। মুখস্থ করার পদ্ধতিই ছিল সাধারণ নিয়ম এবং বেদ ছিল প্রধান পাঠ্য। পাটিগণিত এবং প্রাথমিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল চরিত্র গঠন। মেধা ও বুদ্ধির চেয়ে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং শৃঙ্খলা ছিল স্কুলের প্রধান ভিত্তি। কোনো কঠোর শাস্তি বা বেত্রাঘাতের কথা শোনা যায় না। বরং জীবনের সুস্থ এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হতো। আট বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা একজন গুরুর অধীনে যেত। সেখানেই শিক্ষার্থীকে থাকতে হতো, আদর্শগতভাবে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাকে গুরুর সেবা করতে হতো এবং সে ব্রহ্মচর্য, বিনয়, পরিচ্ছন্নতা আর নিরামিষ আহারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকত। সেখানে তাকে "পাঁচটি শাস্ত্র" বা বিজ্ঞানে শিক্ষা দেওয়া হতো: ব্যাকরণ, কারুশিল্প, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শন। সবশেষে তাকে এই বলে বিদায় দেওয়া হতো যে শিক্ষার মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসে শিক্ষকের কাছ থেকে, এক-চতুর্থাংশ নিজের পড়াশোনা থেকে, এক-চতুর্থাংশ সহপাঠীদের কাছ থেকে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ আসে জীবন থেকে। প্রায় ষোলো বছর বয়সে শিক্ষার্থী তার গুরুর কাছ থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারত, যেমন বারাণসী, তক্ষশিলা, বিদর্ভ, অজন্তা, উজ্জয়িনী অথবা নালন্দা। ** [[উইল ডুরান্ট]], ''আওয়ার ওরিয়েন্টাল হেরিটেজ''। * মেকলের নীতি কার্যকর করা হয়েছিল এবং তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। মেকলে-পূর্ব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও ব্রিটিশদের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে সেই ব্যবস্থাটি তৎকালীন ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ শিক্ষাবিদ দল, যাদের 'ওরিয়েন্টালিস্ট' বলা হতো, তারা সংস্কৃত-ভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সভ্যতা থেকে অতটা বিচ্ছিন্ন হতো না যতটা তারা ইংরেজি শিক্ষার কারণে হয়েছে। তারা চাইলে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারত, ঠিক যেভাবে জাপান নিজেকে আধুনিক করে তুলেছিল। ** [[কোনরাড এলস্ট]] ২০০১, ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড'', পৃষ্ঠা ২৬। * বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম] সরকার হিন্দু স্কুলগুলো দখল করার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে নির্মমভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সংগঠনগুলো কি হিন্দু সমাজের কাছে উদ্ধারের জন্য কোনো আবেদন করেছে? তারা কি এই বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো আন্দোলন শুরু করেছে বা রাজনীতিবিদদের করতে বলেছে? স্পষ্টতই হিন্দু রাজনীতিবিদরা যে একটি ন্যায়সঙ্গত হিন্দু স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তাই আমি মনে করি হিন্দু রাজনীতিবিদদের উচিত এটিকে তাদের এক নম্বর ইস্যুতে পরিণত করা। ৩০ অনুচ্ছেদ ৩৭০ অনুচ্ছেদের (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়) চেয়ে অনেক বেশি অন্যায্য এবং ক্ষতিকর। নিজের আগামী প্রজন্মকে হারানোর চেয়ে ভূখণ্ডের সেই অংশটি হারানোও অনেক ভালো। আসল ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের থেকে হিন্দু-বিদ্বেষীদের আলাদা করার জন্যও এটি একটি ভালো সুযোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধর্মের সমান অধিকারের দাবি কেবল হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলা একটি অন্যায়ের অবসান চায়, তাই একে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বলা চলে না। এটি ধর্মের ভিত্তিতে করা একটি প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ করতে চায়। তাই যারা ৩০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রূপকে সমর্থন করবে, তারা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের সমর্থক হিসেবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কেবল ধর্মীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই একটি আইনি বিভাগ হতে পারে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিষয়েও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো হিন্দু মন্দিরের ব্যবস্থাপনা দখল করতে পারে (এবং কেরালার মতো রাজ্যে তা করে থাকে), কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তা পারে না। তারা হিন্দু সংগঠনের শুরু করা স্কুল দখল করতে পারে (যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে করা হয়)। শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলো বাদ দিলেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়। এর ফলে হিন্দু ঐতিহ্য শেখানো এবং স্কুলে একটি হিন্দু পরিবেশ তৈরি করা বাধাগ্রস্ত হয় (যেমন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যালঘু স্কুলগুলো পূর্ণ অধিকার ভোগ করে)। সংবিধানের ধারা এবং উদ্দেশ্য—উভয় ক্ষেত্রেই এবং বাস্তবেও দেখা যায় যে, মন্দির পরিচালনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুরা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্যগুলো অন্তত আংশিকভাবে হিন্দুদের সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। একবার ভেবে দেখুন, এই ধরণের বৈষম্য যদি সংখ্যালঘুদের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে কী ধরণের বক্তৃতা আর আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। ** [[কোনরাড এলস্ট]], ''অযোধ্যা অ্যান্ড আফটার: ইস্যুস বিফোর হিন্দু সোসাইটি'' (১৯৯১)। * কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিবাদীরা কেবল তাদের নিজস্ব মতটি বইপত্রে বারবার আসাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা অন্যান্য মতামত যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে চায়। তাই ১৯৮২ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং পাঠ্যবই পুনর্লিখনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সেখানে বলা হয়েছিল: "মধ্যযুগকে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ।" মার্কসবাদী চাপে এই বিকৃতিবাদ ভারতের সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। ** কোয়েনরাড এলস্ট। ''নিগেশনবাদ ইন ইন্ডিয়া: কনসিলিং দ্য রেকর্ড অফ ইসলাম'', ২০০২। * যারা আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য: মার্কসবাদীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যতটা সম্ভব ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল। ১৯৭০ সালের দিকে [[ইন্দিরা গান্ধী]] তাদের ভারতের একাডেমিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার বামপন্থীদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। তার ঘনিষ্ঠ পি. এন. হাকসার এবং নুরুল হাসান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কসবাদীদের বসিয়ে দেন। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় যখন তার কমিউনিস্ট মিত্ররা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তিনি এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতার কারণে তারা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মার্কসবাদীদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছিলেন। পুরনো সোভিয়েত ঐতিহ্যের মতো তারা সাথে সাথেই সরকারি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত করতে এবং তাদের নিজস্ব সংস্করণ প্রচার করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর [[ভারতীয় জনতা পার্টি|বিজেপি]] নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে 'গ্লাসনস্ত' (স্বচ্ছতা) আনার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মার্কসবাদীরা ইতিহাসের তথাকথিত জাফরানিকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান শুরু করে। ** এলস্ট কে. ''অযোধ্যা, দ্য ফিনালে'' (২০০৩)। * এমনকি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ সংস্কারগুলো পুরোপুরি মঙ্গলজনক ছিল না। মেকলের নীতি আসার আগে দেশীয় শিক্ষা নিয়ে প্রাথমিক ব্রিটিশ রিপোর্টে দেখা গেছে যে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন ব্রিটেনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় ভারতের নিম্নবিত্তদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি ছিল। এলিট এবং ব্যয়বহুল ইংরেজি স্কুলগুলো যতজন নিম্নবর্ণের শিশুকে পড়াতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি শিশু দেশীয় স্কুলে পড়ত। আমাদের জানা মতে, দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ উল্টো কমে গিয়েছিল। ** কোয়েনরাড এলস্ট, ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২) অধ্যায় ৩; ''ধরমপাল: দ্য বিউটিফুল ট্রি'', বিবলিয়া ইমপেক্স, দিল্লি ১৯৮৩ থেকে উদ্ধৃত। * ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হিন্দু সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং আইনি বৈষম্য বজায় রাখার শপথ নিয়েছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০০৬ সালের শিক্ষা অধিকার আইন, যা সংখ্যালঘু স্কুলগুলো বাদে অন্য সব স্কুলের ওপর ব্যয়বহুল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শত শত হিন্দু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। মোদী সরকার হিন্দু-বিরোধী শিক্ষা অধিকার আইন বাতিলের মতো নির্দিষ্ট হিন্দু দাবিগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলো খ্রিস্টান বা মুসলিম হতে পারে, কিন্তু হিন্দু হতে পারে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে হয় সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ করে দেয়, অথবা তাদের কোনো অনুদান ছাড়াই চলতে হয়। ** এলস্ট, কোয়েনরাড। ''হিন্দু ধর্ম অ্যান্ড দ্য কালচার ওয়ারস''। (২০১৯)। নতুন দিল্লি: রূপা। * চার্চগুলো অবশ্যই কোনো নিঃস্বার্থ সেবার জন্য ভারতীয় স্কুল বা হাসপাতালে অর্থ বিনিয়োগ করছে না; তারা এর থেকে লাভ চায়, অর্থাৎ মানুষের ধর্মান্তকরণ। মিশনারি নেটওয়ার্ক হয়তো অনেক কিছু দিতে চায়, কিন্তু শয়তানের মতোই তারা বিনিময়ে আপনার আত্মা চায়। এমনকি নামী স্কুলগুলোতেও হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিজেদের ধর্মের প্রতি সংশয়ী হতে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হয়। আবার যখন খ্রিস্টানদের কোনো রাজনৈতিক দাবি আদায়ের দরকার হয়, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বা স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই খ্রিস্টান স্কুলগুলো কেবল সেবা নয়, বরং ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই এই স্কুলগুলো সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। যখন সংঘ পরিবার কোনো বিদেশি অনুদান ছাড়াই আদিবাসী এলাকায় স্কুল খোলে, তখন সেটিকে "অনুপ্রবেশ" বা "মগজ ধোলাই" হিসেবে নিন্দা করা হয়। অথচ খ্রিস্টান স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ থাকা অন্তত সমানভাবে যুক্তিযুক্ত। ** এলস্ট, কে. ''দ্য প্রবলেম অফ ক্রিশ্চিয়ান মিশনারিজ'', ৭ জুন ১৯৯৯। [https://web.archive.org/web/20190311003524/http://koenraadelst.bharatvani.org/articles/chr/missionaries.html মিশনারিদের সমস্যা] * তারা দেখেছিলেন যে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষর হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা একে মোটেও উন্নত করতে পারেনি। সেখানে বলা হয়েছে, "সাক্ষর শিশুর অনুপাত হলো ৫ জনে ১ জন, যেখানে [[ফ্রান্স]]ে ১৭ জনে ১ জন। তবে এই অবস্থা ইংরেজরা আসার আগে থেকেই ছিল, ঠিক যেমনটা প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে দেখা যেত। তারা এই ব্যবস্থাটি তৈরিই পেয়েছিল এবং এর বিন্দুমাত্র উন্নতি করেনি।" ** (ভিয়েল এবং ফ্রান্স ২০১২: ১২৭, ১৮৭৪ সালের ফিলিপ ভ্যান ডার হেগেনের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত যেখানে তামিলনাড়ুর শিক্ষা ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''দ্য আর্গুমেন্টেটিভ হিন্দু'' (২০১২), অধ্যায়: দ্য কেস ফর ওরিয়েন্টালিজম। * প্রাচীন [[ভারত]]ে সাক্ষরতার হার অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, [[সংস্কৃত ভাষা]] এবং গুরুকুলগুলোর কারণে। ** ডেভিড ফ্রলি, রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনসের'' ভূমিকা। * '''আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলছি যে আমার দেওয়া তথ্যগুলো কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। আজকের ভারত ৫০ বা ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরক্ষর হয়ে পড়েছে, এবং [[মিয়ানমার]]ের অবস্থাও ঠিক একই রকম। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ শাসকরা যখন এই দেশে এসেছিল, তারা এখানকার ব্যবস্থাগুলোকে সংস্কার করার বদলে বরং সেগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা মাটির ওপরটা খুঁড়ে কেবল শিকড় দেখার চেষ্টা করল এবং এরপর সেগুলোকে ওভাবেই ফেলে রাখল, যার ফলে এই সুন্দর মহীরুহটি অকালেই প্রাণ হারাল।''' ** [[মহাত্মা গান্ধী]], চ্যাটাম হাউস, লন্ডন (২০ অক্টোবর ১৯৩১)। ধরমপাল রচিত ''এসেনশিয়াল রাইটিংস অফ ধরমপাল'' এবং সীতারাম গোয়েল রচিত ''হিন্দু সোসাইটি আন্ডার সিজ''। [http://web.archive.org/web/20170202032436/http://bharatvani.org/books/hsus/ch4.htm] * গান্ধীজি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, যে দেশে একদম সাধারণ মানুষও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে [[রামায়ণ]] পাঠ করে, সেই দেশে শিক্ষার প্রসার এবং মান অবশ্যই অত্যন্ত উন্নত হতে হবে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায়: দ্য হিন্দু ভিউ অফ এডুকেশন। * তথাকথিত "জাতীয় সংহতি"র এই উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনার স্বরূপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “মধ্যযুগকে কোনো অন্ধকার যুগ বা হিন্দুদের ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতের সময় হিসেবে তুলে ধরা নিষিদ্ধ... একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি শিক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি কুচক্রী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ভেবেই আমার বুক কেঁপে উঠছে। এটি আসলে চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মগজ ধোলাইয়ের একটি সুকৌশল প্রচেষ্টা। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা এই পরীক্ষাটি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে প্রয়োগ করে। আর সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া এবং মিথ্যে প্রচার করার এই বিকৃত কর্মসূচিটি এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যার প্রতীকে খোদাই করা আছে [[সত্যমেব জয়তে]]... বাকি যা আছে তা হলো আমাদের শিশুদের কাছে মিথ্যে বলার অথবা তাদের সামনে সত্যকে একদমই আড়াল করার সুপারিশ।" ** [[সীতারাম গোয়েল]], ''দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া'' (১৯৯৪)। * কৃত্রিম পণ্যে বোঝাই এই কাফেলা অবশ্য সামনে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে। আট বছর পর (১৯৮২) জানা গেল যে, সমগ্র ভারতের স্কুলের ইতিহাস ও ভাষার পাঠ্যবই শীঘ্রই আমূল সংশোধন করা হবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনাকাঙ্ক্ষিত পাঠ্যবইগুলো বাদ দেওয়ার এবং এমন সব বিষয় সরিয়ে ফেলার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি শুরু করেছে যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে। ... বামপন্থী অধ্যাপকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, “সাম্প্রদায়িক সমস্যার” প্রধান কারণ হলো “আমাদের সাধারণ মানুষের” অতীতে বাস করার “বাজে অভ্যাস”। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ইতিহাস বা ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না। তারা সবাই একবাক্যে সম্মত হয়েছিলেন যে ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে “মধ্যযুগীয় মুসলিম আমল” পুনর্লিখন করা উচিত। তারা দাবি করেছিলেন যে, এটিই হলো “জাতীয় সংহতি”র রাজপথ। ** সীতারাম গোয়েল, ''দ্য ক্যালকাটা কুরআন পিটিশন'' (১৯৮৬)। * নেহরুর মেয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার খেলাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়ার লড়াইয়ে তিনি কংগ্রেস দলকে বিভক্ত করেছিলেন এবং কমিউনিস্টদের সাথে জোট বেঁধেছিলেন। সুপরিচিত কমিউনিস্ট এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিদের শাসক কংগ্রেস দলে, কেন্দ্রে ও রাজ্যের সরকারে এবং সারা দেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। “ইতিহাসবিদদের” মুসলিম-মার্কসবাদী জোট পন্ডিত নেহরুর আমলেই ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস দখল করে নিয়েছিল এবং অনেক সৎ ইতিহাসবিদকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন এই জোটকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই জোট ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-ও দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্কুলের পাঠ্যবই তৈরির নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যাতে সারা দেশ থেকে কমিউনিস্ট অধ্যাপকদের একত্রিত করা যায় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু-বিরোধী সব ধরণের প্রচারণার একটি ফ্রন্টলাইন ব্রিগেড তৈরি করা যায়। ** গোয়েল, এস. আর. এবং অন্যান্য (১৯৯৩)। ''হিন্দু টেম্পলস: হোয়াট হ্যাপেনড টু দেম''। * স্বামীনাথন গুরুমূর্তি... ব্যাখ্যা করেছেন:... আমি নিশ্চিত যে হিন্দুদের সাথে রাজনৈতিকভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমি আমাদের সংবিধানের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পারি। .... ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। (...) জগমোহন... ‘৩০ অনুচ্ছেদের অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন’ অনুভব করেন এবং মনে করেন যে, ‘৩০ অনুচ্ছেদ সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে হিন্দু সমাজের ওপর বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে’। ** স্বামীনাথন গুরুমূর্তি, সাক্ষাৎকার, ১৯৯০ এবং জগমোহন (১৯৯৫), কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম'' থেকে উদ্ধৃত। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুক্তি দেন যে, ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্বীকৃতি না দেওয়া, যা তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পক্ষপাতিত্ব—প্রকৃতপক্ষে একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা ভারতীয় ইতিহাসের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ভারতীয়দের তাদের অতীতের মহিমা থেকে বঞ্চিত করেছিল। সংঘ পরিবারের মতে, ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করা যাতে ঔপনিবেশিক প্রজাদের অনুগত রাখা যায়। অধিকন্তু, ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরও এটি থেমে থাকেনি এবং এই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য আজও শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যায়। ফলস্বরূপ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন যে ‘হিন্দু মানসের উপনিবেশমুক্তি’ বা ডিকলোনাইজেশনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এখন তাদের কর্তব্য। এলস্টর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ করতে মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক দশা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। হিন্দুধর্মকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার প্রয়োজন এই কারণে দেখা দিয়েছে যে, তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শগুলো (প্রধানত ইসলাম) ভারতের কিছু ভৌগোলিক অংশে এবং সামাজিক স্তরে হিন্দুধর্মকে শারীরিকভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে এবং (প্রধানত পাশ্চাত্য মতাদর্শগুলো) অনেক নামধারী হিন্দুর মধ্যে হিন্দু চেতনাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ** (রাউটলেজ অ্যাডভান্সেস ইন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ ১৭) গুইচার্ড, সিলভি - ''দ্য কনস্ট্রাকশন অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া: টেক্সটবুকস, কন্ট্রোভার্সিস অ্যান্ড পলিটিক্স''-রাউটলেজ (২০১০), কোয়েনরাড এলস্টের ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড''। * ম্যাক্স মুলার ব্রিটিশ শাসনের আগে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি নথি এবং মিশনারিদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন যে, তখন বাংলায় ৮০,০০০ দেশীয় স্কুল ছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪০০ জন মানুষের জন্য একটি করে স্কুল ছিল। লাডলো তার ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন যে, যেসব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরনো রূপ বজায় রেখেছে, সেখানে শিশুরা সাধারণত পড়তে, লিখতে আর সাধারণ অঙ্ক কষতে পারে। কিন্তু আমরা যেখানে বাংলার মতো গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছি, সেখানে গ্রামের স্কুলগুলোও হারিয়ে গেছে। ** কিয়ার হার্ডি, তার ''ইন্ডিয়া'' বইয়ে; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * যদি বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন যে ইতিহাসের জ্ঞান একদম স্থির করে দেওয়া হবে এবং এর কোনো গঠনমূলক পর্যালোচনা বা পুনর্লিখন আর কখনও করা যাবে না, তবে প্রত্নতত্ত্ব দিয়ে আর্য আক্রমণের তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়ার অনেক পরেও কি আমরা কোমলমতি শিশুদের তা পড়িয়ে যাব? আমরা যদি এই ধরণের অর্থহীন বিষয় পড়ানো চালিয়ে যাই, তবে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ব। আরও বড় ভুল রয়েছে তুর্কি আক্রমণকে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্যের কারণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে! আদালত যদি এই ত্রুটিপূর্ণ ইতিহাসকেই সমর্থন করে, তবে আমরা একটি মার্কসবাদী আদর্শিক ধর্মতন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ব। বিজ্ঞ বিচারকরা কি নিজেরা এই পাঠ্যবইগুলোর প্রতিটি লাইন পড়ে দেখবেন এবং ইতিহাসের ওপর নিজেদের জানাশোনার ভিত্তিতে সেগুলো বিচার করবেন? নাকি তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক গোষ্ঠীর যুক্তি শুনবেন এবং তাঁদের নিজস্ব উৎসগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেবেন, যেভাবে আইনজীবীরা তাঁদের মামলা পেশ করেন? এভাবে কতগুলো মূল পাঠ্য পরীক্ষা করা হবে এবং কত সময়ের মধ্যে? কোন ঐতিহাসিক উৎসগুলো গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন? এই মামলা থেকে আসা প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে আদালত কক্ষ কোনো পাণ্ডিত্য দেখানোর জায়গা নয়। আশা করি বিজ্ঞ বিচারকরা এমন এক পথে হাঁটা থেকে বিরত থাকবেন যেখানে স্বয়ং দেবতারাও যেতে ভয় পান। ** সন্ধ্যা জৈন, ''দ্য পায়োনিয়ার, ইরেজিস্টিবল আইডিওলজি, ডিসপেনসেবল এডুকেশন'', যা ২৬ মার্চ ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। * সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বামপন্থীদের কাছ থেকে কারণ তাদের নিজেদের কুকীর্তিগুলো আড়াল করতে হতো। তারা ভয় পাচ্ছিল যে তাদের সাজানো পাঠ্যক্রম সবার সামনে ধরা পড়ে যাবে। তাদের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইগুলো শেখায় কীভাবে লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কিন্তু সেখানে [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]], সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা গান্ধীর অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ** মুরলি মনোহর জোশী, [https://indianexpress.com/article/news-archive/ive-only-taken-education-a-step-forward-many-have-told-me-its-the-finest-syllabi-ever/ ‘আমি শিক্ষাকে কেবল এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এটি এযাবৎকালের সেরা সিলেবাস’] * “[[ভারত]]জুড়ে স্কুলের ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবইগুলো খুব শীঘ্রই বড় ধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে মিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ধাপে ধাপে কর্মসূচি শুরু করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় বইগুলো বাদ দেওয়া যায়। এছাড়া জাতীয় ঐক্য আর সামাজিক সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সেই অনুযায়ী, “এনসিইআরটি-র তৈরি করা নির্দেশিকা মেনে কুড়িটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।” ** কুমি কাপুর, ভারত এক্সপ্রেস, ১৭ জানুয়ারি ১৯৮২। সীতারাম গোয়েল (২০০১) রচিত দ্য স্টোরি অফ ইসলামিক ইম্পেরিয়ালিজম ইন ইন্ডিয়া। {{আইএসবিএন|৯৭৮৮১৮৫৯৯০২৩১}}। * দিল্লির মুসলিম শাসন আমলের ইতিহাস মূলত নিষ্ঠুরতা আর অপশাসনের জন্যই পরিচিত। ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে ‘ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বিষয়’ বলাটা আসলে অন্যায্য। একজন ইতিহাস লেখক তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সম্রাটকে ভালো বা মন্দ অথবা ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায্য বলতে পারেন, সম্রাটের ধর্ম যাই হোক না কেন। এই পাঠ্যবইটিকে ইতিহাসের একটি ‘যৌক্তিক হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে দেখা উচিত, একে মুসলমানদের ওপর কোনো ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ** এম. কেম্পসন। শিব প্রসাদের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি বিতর্কিত পাঠ্যবই সম্পর্কে, যা কিছু মুসলমানের মতে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অংশ ছিল। দাউদ আলী সম্পাদিত *''ইনভোকিং দ্য পাস্ট: দ্য ইউজেস অফ হিস্ট্রি ইন সাউথ এশিয়া'' (১৯৯৯, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। * সাধারণত হিন্দু ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো মন্দির আর মঠের সাথে যুক্ত থাকায় হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থাকে দমন করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই মঠ আর মন্দিরগুলো নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা হতো এবং সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যেত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোও। কুতুবউদ্দিন আইবেক আজমীরে বিশালদেবের সংস্কৃত কলেজ ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে ''আড়াই দিন কা ঝোপড়া'' নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন। পূর্বাঞ্চলে ১১৯৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি বিহারের ওদন্তপুরী, নালন্দা এবং বিক্রমশীলার মতো বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করেন। ... কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে প্রায় আওরঙ্গজেবের সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ মুসলিম শাসকই স্কুল আর মন্দির ভাঙার কাজ চালিয়ে গেছেন। আওরঙ্গজেব এই কাজে ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী, যদিও তিনি এর কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। ... আমি বহু বছর দিল্লি, ভোপাল এবং হায়দ্রাবাদে (দাক্ষিণাত্য) বসবাস করেছি। এই জায়গাগুলোর কোথাও আমি মধ্যযুগীয় সময়ের টিকে থাকা কোনো মন্দির খুঁজে পাইনি। হিন্দু শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত স্কুল আর ব্রাহ্মণ শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এই শিক্ষক আর স্কুলগুলো মূলত শহরাঞ্চলের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল। আর স্কুল, শিক্ষক এবং মন্দির-এই তিনটিকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। ** কে. এস. লাল (১৯৯৯)। ''থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অফ মুসলিম স্টেট ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৭। * ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইতিহাস পুনর্লিখনের জন্য কিছু নির্দেশিকা তৈরি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের পরিপন্থী’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে’ এমন সব বিষয় ইতিহাস আর ভাষার পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালের ২৮শে এপ্রিল স্কুল আর প্রকাশকদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ‘ভারতে মুসলিম শাসন’ অধ্যায়ে কিছু ‘সংশোধনী’ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—যেমন সোমনাথ মন্দিরে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, হিন্দুদের প্রতি আওরঙ্গজেবের নীতি ইত্যাদি। এই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম আক্রমণকারী আর শাসকদের মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা যাবে না।’ পশ্চিমবঙ্গের ওই বিজ্ঞপ্তির একটি নির্দেশ ছিল যে ‘স্কুল আর প্রকাশকদের জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তকরণের কথা এড়িয়ে যেতে বা বাদ দিতে বলা হয়েছে... সত্য নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৯৩০-৪০ এর দশক থেকেই মুসলিম আর কমিউনিস্ট ঐতিহাসিকরা করার চেষ্টা করছিলেন। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহেরু সরকারের নীতির কারণে রাষ্ট্র তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ আর মার্কসবাদী ঐতিহাসিকদের কবজায় চলে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চer টাকা আর নির্দেশ পেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আর স্টালিনপন্থী ঐতিহাসিকরা ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য স্কুলের আর কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে বিকৃত এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যে তথ্য প্রচার করতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এটি চলে আসছে। ...’ ** কে. এস. লাল, ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * একদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেই সব প্রাচীন কীর্তিগুলো রক্ষা করছে যা ইসলামিক ধ্বংসলীলার সাক্ষী, অন্যদিকে ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যেন বলা হয় যে কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ে একরকম পড়ছে, আবার যখন তারা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণে যাচ্ছে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দেখছে। ইতিহাসের বই কেবল ভারতেই লেখা হয় না; এগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও লেখা হয়। জাতীয় সংহতির দোহাই দিয়ে এখানে যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোতে তা গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপের গবেষকরাও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহাসিকদের বলা মিথ্যেগুলো খুব সহজেই সেখানে ধরা পড়ে যায়। মথুরা ভ্রমণকারী হাজার হাজার তীর্থযাত্রী কিংবা বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির আর জ্ঞানবাপী মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো মুঘল ধ্বংসলীলা এবং মুসলিম শাসকদের হিন্দু অনুভূতির প্রতি চরম অবজ্ঞার কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। ** কে. এস. লাল (১৯৯২)। ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া''। নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। অধ্যায় ৩ (কে. এস. লালের হিস্টোরিক্যাল এসেস-এও পাওয়া যায়)। * ভারতের দেশীয় শিক্ষা শাস্ত্রের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাধারণ জীবনযাপনকেও ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দিয়েছিল। গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, যা কেবল স্থানীয় প্রশাসনই নয় বরং রাজস্ব আর বিচার ব্যবস্থাও সাধারণ মানুষের হাতে রেখেছিল, তা সমাজের সব স্তরে শিক্ষার প্রসারে অনেক সাহায্য করত। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষকের নিজের বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ যদি স্কুল না হয়; গুরুমুখী বা নহরাস পড়তে আর লিখতে পারা যদি বর্ণমালা জানা না হয়, তবে সব আলোচনাই অর্থহীন। কিন্তু যদি স্কুল বলতে দেশীয় স্কুল বোঝায়, যদি পড়া আর লেখার জ্ঞান বলতে দেশীয় লিপির জ্ঞান বোঝায়, যদি শিক্ষা বা বিজ্ঞান বলতে প্রাচ্যের জ্ঞান আর বিজ্ঞান বোঝায় তবে পাঞ্জাব দখলের সময় আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। ** জি. ডব্লিউ. লাইটনার, হিস্ট্রি অফ ইন্ডিজেনাস এডুকেশন ইন দ্য পাঞ্জাব সিন্স অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড ইন ১৮৮২। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। অধ্যায় ৭। * যে সব হিন্দু গ্রাম তাদের পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে, সেখানে জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে এমন কোনো শিশু নেই যে পড়তে, লিখতে বা অঙ্ক কষতে পারে না; এমনকি গণিতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু বাংলার মতো জায়গায় যেখানে আমাদের কারণে গ্রামীণ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে স্কুল ব্যবস্থাও একইভাবে হারিয়ে গেছে। ** লাডলোর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'' থেকে উদ্ধৃত। অধ্যায় ৭। * তবুও, অন্তত বিজেপি আর তাদের সমর্থকদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল যে ভারতই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার সূতিকাগার। কেবল নানা ধরণের উদ্ভাবন বা অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতই বাকি বিশ্বকে সভ্য করেছে বলে তারা মনে করত। চীনারা হয়তো এটা শুনে অবাক হতে পারে যে তারা আসলে হিন্দু যোদ্ধাদেরই বংশধর। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় ভাষা সংস্কৃত হলো অন্য সব ভাষার জননী। সংস্কৃত ভাষায় লেখা প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ-কেই গণিতসহ আধুনিক প্রায় সব জ্ঞানের ভিত্তি বলে ধরা হতো। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে এই সব কিছু শিখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জোশী নতুন বই প্রবর্তন করেন। এই বইগুলোতে যোগব্যায়াম, সংস্কৃত, জ্যোতিষশাস্ত্র, বৈদিক গণিত এবং বৈদিক সংস্কৃতির মতো "ভারতীয়" বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্কুল বোর্ড আর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এমন সব হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বসিয়ে দেন যাদের ঐতিহাসিক হিসেবে যোগ্যতার চেয়ে ভারতের অতীত আর সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লির নামী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিকাল রিসার্চ-কে বলা হয়েছিল যে প্রাচীন ভারতের জন্য তাদের ঐতিহাসিককে সরিয়ে সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কারণ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা এবং খ্রিস্টান ও মুসলমানদের ওপর তাঁর আক্রমণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিবাদ করেছিল। ভারতীয় শিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর এই সব হাস্যকর চেষ্টার পেছনে একটি গভীর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি আর তাদের সমর্থকরা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, এটি ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মূল্যবোধের প্রতিফলন যেখানে গরুর প্রতি ভক্তি আর গোমাংস খাওয়ার প্রতি বিদ্বেষ জড়িত ছিল। তাদের এই ভারতে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের মতো বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য খুব একটা জায়গা বা সহনশীলতা ছিল না। ** মার্গারেট ম্যাকমিলান, ''দ্য ইউজেস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস অফ হিস্ট্রি'' (২০০৮), পৃষ্ঠা ৮০-৮১। * কিন্তু এই মানুষদের উন্নত করা আর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পূর্ববর্তী কাজটা কীভাবে করা হবে? আমাদের স্কুলগুলো থেকেই শুরু করতে হবে... এভাবেই আমরা আমাদের ভারতীয় স্কুলপড়ুয়াদের খ্রিস্টধর্মের সত্যকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব। ** মোনিয়ার মোনিয়ার-উইলিয়ামস। ''মডার্ন ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ানস'', ১৮৭৮। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * ভারতকে আবার জয় করতে হবে, আর সেই দ্বিতীয় জয় হতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে। ** ম্যাক্স মুলার, ১৮৬৮ সালের ডিসেম্বরে ডিউক অফ আর্গিলকে লেখা চিঠি। অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * প্রতিটি তরুণ ব্রাহ্মণ... যারা আমাদের কলেজে ভূগোল শেখে, তারা হিন্দু পুরাণের কথা শুনলে হাসে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে। জন ক্লাইভ রচিত ''মেকলে'' থেকে উদ্ধৃত; অরুণ শৌরী (১৯৯৪) রচিত ''মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া: কন্টিনিউইটিস, চেঞ্জেস, ডিলেমাস''। নতুন দিল্লি: রূপা অ্যান্ড কোং, ১৯৯৪। * আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করা অসম্ভব। আমাদের এখন এমন একটি শ্রেণি তৈরি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে যারা আমাদের এবং আমাদের শাসিত কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দোভাষী হতে পারে। এমন একদল মানুষ যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা এবং বুদ্ধিতে ইংরেজ হবে। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, [http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00generallinks/macaulay/txt_minute_education_1835.html মিনিট অন এডুকেশন] (১৮৩৫)। * আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের এই শিক্ষা পরিকল্পনা যদি অনুসরণ করা হয়, তবে আজ থেকে ত্রিশ বছর পর বাংলার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একজনও মূর্তিপূজারী থাকবে না। ** টমাস ব্যাবিংটন মেকলে, ১৮৩৬ সালে তার বাবাকে লেখা চিঠি। ইন্ডিয়ান চার্চ হিস্ট্রি রিভিউ, ডিসেম্বর ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৮৭-এ উদ্ধৃত। সীতারাম গোয়েলের ''হিস্ট্রি অফ হিন্দু-ক্রিশ্চিয়ান এনকাউন্টারস'', ৩০৪ থেকে ১৯৯৬ (২০১৬), অধ্যায় ১৩ থেকে উদ্ধৃত। {{ISBN|৯৭৮৮১৮৫৯৯০৩৫৪।}} * হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি যদি রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো মৌলিক অধিকার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ** কে. আর. মালকানি। কোয়েনরাড এলস্ট (২০০১) রচিত ''ডিকলোনাইজিং দ্য হিন্দু মাইন্ড: আইডিওলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অফ হিন্দু রিভাইভালিজম''। নতুন দিল্লি: রূপা। পৃষ্ঠা ৫২৫। * প্রখ্যাত গান্ধীবাদী ধরমপাল ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে, উনবিংশ শতাব্দীতে অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে শূদ্র শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ... সেই সময়ে প্রচুর সংখ্যক স্কুল থাকার পাশাপাশি বাংলা আর বিহারের প্রতিটি জেলায় প্রায় একশটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সারা ভারতে এই সংখ্যা দ্রুত কমে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা এটাও লক্ষ্য করেছিল যে ব্যাকরণ, অভিধানতত্ত্ব, গণিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, আইন এবং দর্শন শেখানোর জন্য সংস্কৃত বই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ....এছাড়া ভারতের শুরুর দিকের ব্রিটিশ শাসনামলে কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের তুলনায় ভারতের সাধারণ মানুষের শিক্ষা অনেক বেশি উন্নত আর বিস্তৃত ছিল। ....ধরমপালের মতে, ব্রিটিশরা পরে এই সংস্কৃত-ভিত্তিক ব্যবস্থার বদলে তাদের নিজস্ব ইংরেজি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য নিম্নস্তরের কেরানি তৈরি করা। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * সেই প্রতিবেদনে প্রথাগত পাঠশালা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলা হয়েছিল যে সেখানে শিক্ষক আর ছাত্রের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় যোগাযোগ ছিল। যেখানে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে মানুষের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চারিত হতো, অথচ আধুনিক ব্যবস্থায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি হারে শিক্ষা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রথাগত ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত এবং সেখানে সময়সূচী বা পাঠ্যক্রমের কোনো কড়াকড়ি ছিল না। ** রাজীব মালহোত্রা, ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত''। * ধর্মের রক্ষক জানতে পারলেন যে তাতা, মুলতান এবং বিশেষ করে বারাণসীতে অবিশ্বাসী ব্রাহ্মণরা তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে মিথ্যা বই পড়াত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের গুণগ্রাহী ও শিক্ষার্থীরা এই নিকৃষ্ট শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এই পথভ্রষ্ট মানুষদের কাছে আসত। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যগ্র সম্রাট সকল প্রদেশের গভর্নরদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা বিধর্মীদের স্কুল আর মন্দিরগুলো ভেঙে ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই অবিশ্বাসীদের ধর্মশিক্ষা ও জনসমক্ষে ধর্মচর্চা বন্ধ করে দেয়। ** ''মাসির-ই-আলমগিরি'', স্যার যদুনাথ সরকার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত, কলকাতা, ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ৫১-৬০। * তাই ডক্টর ডাফ খ্রিস্টান শিক্ষায় পরিপূর্ণ ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে এবং সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাহ্মণদের ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ডক্টর ডাফের এই উদাহরণ অন্য মিশনারিরাও অনুসরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সরকারি অঢেল সহায়তায় ভারতের সব প্রান্তে হাই স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালের সরকারি ডেসপ্যাচে বলা হয়েছিল যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া শিক্ষা হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ক্যানন মোজলে খ্রিস্টধর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে উষ্ণ সমর্থন জানান এবং যুক্তি দেন যে তাদের ‘তথাকথিত ঈশ্বরহীন শিক্ষা ভারতীয় মনকে রিক্ত করে দিয়েছিল এবং তা পূর্ণ হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করেছিল’। ১৮৫৩ সালের সংসদীয় কমিটির সামনে বেশ কয়েকজন সাক্ষী নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি স্কুলগুলো খ্রিস্টধর্মের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছিল (''মেহিউ: খ্রিস্টীয়ানিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া : পৃষ্ঠা ১৭৭'')। শিক্ষা সংক্রান্ত এই ডেসপ্যাচের মূল নীতি ছিল সম্ভবত এমন যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞান প্রদান করবে, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষভাবে একই কাজ করবে। এই উদ্দেশ্যে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি অনুদান পেতে শুরু করে এবং প্রায় সব মাধ্যমিক স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায় (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭০)। সরকারের শিক্ষা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের স্বার্থকে অভিন্ন হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা ছিল... মিশনারিরা নিশ্চিতভাবেই সব ধরণের ও সব স্তরের শিক্ষাকে ভারতকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ** মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। * সামগ্রিকভাবে শিক্ষা এবং বিশেষ করে পাঠ্যক্রম তৈরির প্রক্রিয়া যে সব উন্নয়নশীল দেশ কিছুকাল আগেও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল সেখানে আজও অতীতের অবশেষগুলোর গভীর প্রভাব রয়ে গেছে। ** ''ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন--এ ডিসকাশন ডকুমেন্ট'', এনসিইআরটি, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা ৯ – ১০। ইভেট ক্লেয়ার রসার (২০০৩) রচিত ''কারিকুলাম অ্যাজ ডেসটিনি: ফোর্জিং ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ইন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ'' (অস্টিন: ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস)। * সুদূর অতীতে, অন্য অনেক দেশের মতো ভারতেও, বিদ্যার্জনের স্বীকৃত সকল শাখারই একটি ধর্মীয় এবং দার্শনিক ঝোঁক বা ভিত্তি ছিল। শিক্ষা কেবল জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় বা স্রেফ সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক জীবনের এক দীক্ষা, এবং সত্যের অন্বেষণ ও পুণ্য বা সচ্চরিত্র অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। ** বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, [https://www.google.com/books/edition/The_Evolution_of_India/xjoEAAAAYAAJ?hl=en ''দ্য ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া''] (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ১৯। * বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জাতির অভ্যন্তরীণ জীবনের বৌদ্ধিক অভয়ারণ্য। এগুলোকে অবশ্যই অতীত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এমন বৌদ্ধিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে হবে, যারা নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতিশক্তি জোগান দেবে। ** ডক্টর এস. রাধাকৃষ্ণন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে, রাধাকৃষ্ণন, এস. ১৯৪৯। ‘ইউনিভার্সিটি এডুকেশন কমিশন ১৯৪৮–৪৯’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, মনিকা অরোরা, সোনালী চিতলকর এবং প্রেরণা মালহোত্রা রচিত ''দিল্লি রায়টস ২০২০: দ্য আনটোল্ড স্টোরি'' (২০২০)। দ্বিতীয় অধ্যায়। * সব ধর্মীয় বিদ্যালয়ই সমান, কিন্তু কিছু বিদ্যালয় অন্যদের চেয়ে কম সমান। জর্জ অরওয়েলের বিদ্রূপাত্মক আদেশের এই ভাবানুবাদটি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটায়। রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই হলো সেই প্রবাদপ্রতিম মুসার লাঠি যা নিশ্চিত করে যে এই আদেশটি যেন মেনে চলা হয়। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ঘটনার পরম্পরা সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে বাছাই করে আরটিই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে, তাদের ২৫ শতাংশ ইডব্লিউএস (অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়, সময়মতো ফির টাকা ফেরত (রিইমবার্সমেন্ট) দেয় না-অবস্থা এতটাই খারাপ যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪,০০০ বিদ্যালয় ফির টাকা ফেরত পেতে বিলম্বের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন সরকারগুলো স্রেফ ফির টাকা দেওয়া এড়াতে জমি দখলের বিধান দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইল করে। ঋণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে বিদ্যালয়গুলো সব শিক্ষার্থীর ফি বাড়াতে বাধ্য হয়; ফির এই বৃদ্ধি হিন্দু অভিভাবকদের বাধ্য করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিতে। ক্রমশ বেশি সংখ্যক হিন্দু অভিভাবক হিন্দু বিদ্যালয় থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সংখ্যালঘু পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো সেই শিশুদের স্বাগত জানাচ্ছে; এবং বিশ্বাসীদের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ও নির্দেশমূলক নীতির বদৌলতে, যেখানে ধর্মপ্রচার, প্রচারণা এবং ধর্মান্তরিত করা ধর্মীয় কর্তব্য, সেখানে এই শিশুরা অনিবার্যভাবে কখনও সূক্ষ্মভাবে, কখনও সরাসরি ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপের মুখে পড়ে। এদিকে, হিন্দু বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের অনুমান অনুযায়ী, আরটিই ১০,০০০-এরও বেশি হিন্দু-পরিচালিত বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * হিন্দু মন্দিরগুলোকে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়ার চেয়ে যদি নিষ্ঠুরতর কোনো কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের ভয় ছাড়াই তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে না দেওয়া। এবং হিন্দুদের ওপর এই উভয় নিষ্ঠুরতাই চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে যদি আরও নিষ্ঠুর কোনো সত্য থেকে থাকে, তবে তা হলো এই যে এগুলো হিন্দুদের দ্বারাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি হিন্দু সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে। একটি হিন্দু রাষ্ট্রে। ** (২০২৩.) আনন্দ রঙ্গনাথন রচিত ''হিন্দুস ইন হিন্দু রাষ্ট্র: এইটথ-ক্লাস সিটিজেনস অ্যান্ড ভিকটিমস অফ স্টেট-স্যাংশনড অ্যাপারথাইড'', চতুর্থ অধ্যায়। * ১৯৫০-এর দশকে [[জওহরলাল নেহেরু]] সরকারের অধীনে তৈরি হওয়া সংস্কৃত কমিশন রিপোর্টেও অনুরূপ অনেক মতামত ব্যক্ত করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে: "এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত যে প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তহস্তে পৃষ্ঠপোষকতা করত, কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তাদের নিজেদের মতো করে বিকশিত হতে দিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে ব্রিটিশদের দ্বারা বিঘ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল: 'মৌখিক পাঠদান, নৈতিক শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া, পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতি...' ... সংস্কৃত যে ভারতের প্রধান সংহতি শক্তি এবং প্রায় ৪০ কোটি মানুষের এই ভারত যে শুধুমাত্র সংস্কৃতের কারণেই একটি দেশ, আধ ডজন বা তার বেশি দেশ নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটির ওপর আমরা কখনোই খুব বেশি জোর দিতে পারব না।" ** সংস্কৃত কমিশন রিপোর্ট; রাজীব মালহোত্রা রচিত ''দ্য ব্যাটেল ফর সংস্কৃত'' * কোনো যুক্তিবাদী মানুষই প্রাচীনকালের [[হিন্দু]]দের অত্যন্ত বিস্তৃত [[জ্ঞান|শিক্ষার]] প্রশংসা করতে অস্বীকার করবেন না। তাঁরা [সংস্কৃত ভাষায়] যে সব বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন তা প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে প্রায় সব ধরণের [[বিজ্ঞান]] চর্চা করা হতো। তাঁরা যেভাবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন তা প্রমাণ করে যে হিন্দুদের পণ্ডিতরা প্রাচীনকালের অন্য যে কোনো পণ্ডিতের তুলনায় কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তাঁদের [[দর্শন]] গ্রন্থ এবং আইন শাস্ত্রগুলো যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, গবেষকরা তাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তত বেশি নিশ্চিত হবেন। ** হার বিলাস সারদা; [https://books.google.co.in/books?id=Ti4QAAAAYAAJ ''হিন্দু সুপিরিয়রিটি: অ্যান অ্যাটেম্পট টু ডিটারমাইন দ্য পজিশন অফ দ্য হিন্দু রেস ইন দ্য স্কেল অফ নেশনস''], রাজপুতানা প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ১৯০৬, পৃষ্ঠা ২০৪। * পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ১৯৮৯ সালে এই নির্দেশ জারি করেছিল যে 'মুসলিম শাসন কখনোই যেন কোনো সমালোচনার মুখে না পড়ে। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়।' (...) মার্কসবাদীরা শিক্ষা দপ্তরের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ফলে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি দিকই সেই ধরণের পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপনের শিকার হবে যা আমরা বাংলায় দেখেছি—এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো 'প্রগতিশীলদের' সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং বাকিদের চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। ... এক কথায়, কোনো জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নেই, কোনো গণহত্যা নেই, কোনো মন্দির ধ্বংস নেই। ... তৎকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকরা কাফেরদের [মূল পাঠে উল্লিখিত] নরকে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। মুসলিম ঐতিহাসিকরা সবসময় শাসকের প্রশংসা করেছেন তার ধ্বংস করা মন্দিরগুলোর জন্য, ... ''দ্য হেদায়া''র মতো আইন গ্রন্থগুলো ঠিক সেই সব বিকল্পের কথাই বলে যেগুলোর ইঙ্গিত এই ছোট্ট পাঠ্যবইগুলোতে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই একদম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের জন্য এক ধরণের বস্তুনিষ্ঠ ধামাচাপা। আর আজ যদি কেউ এই পাঠ্যবইগুলোতে সত্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে চিৎকার ওঠে, "ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন।" ... আমরা যেমন দেখেছি, ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট অংশটি ছিল কার্যত এই যে ভারতে ইসলামি শাসন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক উল্লেখ থাকা চলবে না। যদিও তৎকালীন ইসলামি লেখকরা এই বিষয়গুলোই উদ্‌যাপন করেছিলেন, তবুও মুসলিম শাসকদের দ্বারা মন্দির ধ্বংস, হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত অসংখ্য অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কোনো উল্লেখ থাকা চলবে না। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে অংশগুলো বাদ দিতে হবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্প অংশগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যে অংশগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে বড়জোর সত্যকে খুব নগণ্য করে দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, যে অংশগুলো ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেগুলো ছিল ডাহা মিথ্যে: যেমন জজিয়া কর দিয়ে হিন্দুরা আলাউদ্দিন খলজির মতো ইসলামি শাসকের অধীনে 'স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারত! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আজ যে পাঠ্যবইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে কেবল ইসলামি শাসনের নিষ্ঠুরতা মুছে ফেলার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত এবং গভীর নকশা চোখে পড়ে। ... বাংলায় এই 'শিক্ষাবিদদের' অবস্থান অবশ্যই অনেক সহজ হয়েছে কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আধিপত্য কেবল সেই রাজ্যের শিক্ষাদান এবং 'গবেষণা' প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই জাতীয় স্তরেও শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরণের 'মতবাদ' চাপিয়ে দেওয়া দেখতে পাওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। আর বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশনের টান এতই শক্তিশালী এবং এই নিয়ন্ত্রক মাফিয়ারা একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ারের জন্য এতই মারাত্মক হতে পারে যে, অনেক সময় শিক্ষাবিদ নিজে তাঁদের প্রস্তাব বা 'তত্ত্বগুলোর' সাথে পুরোপুরি একমত না হয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কথাগুলোই আওড়ান। নয়তো তাঁর পাণ্ডুলিপি এনসিইআরটির মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হবে না, উদাহরণস্বরূপ, সেটি পর্যালোচনাই করা হবে না...। ** অরুণ শৌরী; ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', ১৯৯৮ (২০১৪), হার্পার কলিন্স। * ''চেব্রোলু লীলা প্রসাদ রাও এবং অন্যান্য বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য এবং অন্যান্য'' মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায় আমাদের আবারও দেখিয়ে দেয় যে [[ভারতের সংবিধান]] পঞ্চম তফশিল, যা [[আদিবাসী (ভারত)|আদিবাসীদের]] [[সংখ্যালঘু অধিকার|অধিকার]] রক্ষার জন্য তৈরি, তা কতটা কম বোঝা গেছে। রায়ের যুক্তিগুলো যা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ২০০০ সালের একটি আদেশকে বাতিল করেছে যেখানে রাজ্যের তফশিলি এলাকার শিক্ষক পদে তফশিলি উপজাতিদের জন্য ১০০% [[ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা|সংরক্ষণ]] দেওয়া হয়েছিল পঞ্চম তফশিলের পুরো কাঠামোটি ভেঙে ফেলার বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। যদি শিক্ষক পদে ১০০% সংরক্ষণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে উপজাতিদের জমি হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া, অথবা অবিভক্ত [[ভারত]]ের পঞ্চম তফশিল এলাকায় আদিবাসী বহির্ভূতদের খনি লিজ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া 'সমতা' মামলার রায়টি উল্টে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত এই উভয় বিষয়ই আদিবাসী বহির্ভূতদের প্রতি 'বৈষম্য' বলে গণ্য হবে। যেহেতু অন্য জেলাগুলো থেকে আদিবাসী বহির্ভূতরা তফশিলি এলাকাগুলোতে ভিড় করছে এবং এর ফলে স্পষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে, তাই পঞ্চম তফশিলের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তুলে দেওয়ার দাবি কেবল জোরালোই হচ্ছে। ** [[নন্দিনী সুন্দর]]; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ২০০০ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আদেশটির লক্ষ্য ছিল তফশিলি এলাকাগুলোতে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষকদের ব্যাপক অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান করা। তফশিলি এলাকাগুলোর সমস্যার সাথে সামান্যতম পরিচিত যে কেউ জানেন যে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকরা প্রায়শই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলোতে যেতে বা সেখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভাষা। নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীসহ অনেক আদিবাসী বহির্ভূত মানুষ বছরের পর বছর আদিবাসী এলাকায় বাস করলেও আদিবাসী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব শিশুদের মৌলিক শিক্ষাকে ব্যাহত করে। বিচারকরা আমাদের বলেন যে "কেবল আদিবাসীরাই আদিবাসীদের পড়াবে এটি একটি বিরক্তিকর ধারণা" (অনুচ্ছেদ ১৩৩), কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে ধারণাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ছড়িয়ে আছে এবং এই ধরণের রায়গুলোতে প্রতিফলিত হয় তা হলো কেবল আদিবাসী বহির্ভূতরাই আদিবাসীদের পড়াবে যাতে তাদের "উন্নত এবং মূলধারায় আনা" যায়। কারণ "তাদের ভাষা এবং তাদের আদিম জীবনযাপন তাদের মূলধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সাধারণ আইন দ্বারা শাসিত হওয়ার অযোগ্য করে তোলে" (অনুচ্ছেদ ১০৭)। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো ২০০১ সালে একই বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এস. বি. সিনহার (সংখ্যালঘু) ব্যক্ত করা মত, যেখানে আদিবাসী বহির্ভূত শিক্ষকদের স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি দক্ষ এবং মেধাবী বলে ধরা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৮৬); এবং "শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এটি প্রয়োজন যে তাদের বর্ণ নির্বিশেষে এমন শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া যারা বেশি জ্ঞানী এবং মেধাবী" (অনুচ্ছেদ ১২৬)। সুপ্রিম কোর্টের যখন বলা যে, "তাদের মানব চিড়িয়াখানা এবং আদিম সংস্কৃতি ও নাচের আমোদের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়" (চেব্রোলু মামলার অনুচ্ছেদ ১০৭), তখন তা এমন এক মানসিকতাকে প্রকাশ করে যা তফশিলি উপজাতিদের সেই নজরেই দেখে, বরং এমন মানুষ হিসেবে নয় যাদের নিজস্ব শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সংস্থাপনগুলো শিক্ষাকে একটি 'সভ্য করার মিশন' হিসেবে দেখেছে যাতে আদিবাসী এবং দলিতদের উচ্চবর্ণের মানসিক ক্লোনে পরিণত করা যায়, এমনকি তারা যদি নিম্নমানের কাজে নিযুক্ত থাকে তবুও। মেধার সংজ্ঞা কেবল এই লক্ষ্য অর্জনের দক্ষতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বরং দেশীয় পরিবেশগত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং রোল মডেল হিসেবে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। যদিও অনেক আদিবাসী শিক্ষকও আদিবাসী বহির্ভূতদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারণাটি নিজেদের মধ্যে গেঁথে নিয়েছেন, তবুও তফশিলি এলাকাগুলোতে শতভাগ আদিবাসী শিক্ষক থাকা এই তুচ্ছতাচ্ছিল্য দূর করার একটি ছোট পদক্ষেপ। ** নন্দিনী সুন্দর; [https://thewire.in/rights/why-india-needs-scheduled-tribes-to-educate-future-judges ''হোয়াই ইন্ডিয়া নিডস শিডিউলড ট্রাইবস টু এডুকেট ফিউচার জাজেস''], ২৮ এপ্রিল ২০২০, ''দ্য ওয়্যাইর''। * ভারতের শিক্ষার দুটি লক্ষ্য ছিল, যা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একটি ছিল আমাদের শরীর ও মন, আমাদের স্নায়ু ও প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করা... হিন্দু শিক্ষার আরও একটি লক্ষ্য ছিল যার সম্পর্কে আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব। প্রাচীন ঋষিরা কোনো জিনিসের মূল নীতি, তার উৎস এবং ভিত্তির গভীরে যেতে চাইতেন। তাঁরা কোনো মাঝামাঝি অবস্থায় সন্তুষ্ট হতেন না। উদাহরণস্বরূপ, তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য এলোমেলো বিষয়ের ওপর তথ্য সরবরাহ করা ছিল না, বরং মনের সঠিক গঠন ও বিকাশ ঘটানো ছিল যা সব তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্লেষণ করে। একইভাবে, জ্ঞানের সন্ধানে তাদের লক্ষ্য কেবল কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে বাহ্যিক আংশিক জ্ঞান ছিল না। বরং তাঁরা গভীরতর জ্ঞান খুঁজতেন এবং সেই উৎস-জ্ঞানের সন্ধান করতেন যা সব জ্ঞান এবং সব বিজ্ঞানের উৎস। তাঁরা চিন্তা ও ধ্যান করে দেখেছিলেন যে "মন হলো সব সংকল্পের মিলনস্থল"; এবং একইভাবে তাঁরা দেখেছিলেন যে "হৃদয় হলো সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মিলনস্থল"। তাই মন যদি সব সংকল্প ও সিদ্ধান্তের উৎস হয়, তবে আমরা মনকে জয় করার মাধ্যমেই সংকল্পকে জয় করতে পারি। একইভাবে হৃদয় যদি সব বিজ্ঞান ও জ্ঞানের উৎস হয়, তবে আমরা হৃদয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমেই সব বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই, এই হৃদ-সমুদ্র মন্থন করেই অনেক বিজ্ঞান [[ভারত]]েএসেছিল। ** রাম স্বরূপ (২০০০)। ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৬। * এটি সত্য যে কয়েক দশক ধরে যখন কংগ্রেস ভারতকে শাসন করেছে, তখন ইতিহাসের পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব বামপন্থী ঐতিহাসিকদের দেওয়া হয়েছিল যারা ভারতের অতীতকে একটি বিকৃত চশমা দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত [[রোমিলা থাপার]] এতটাই এগিয়ে গেছেন যে তিনি অস্বীকার করেছেন যে মুসলিম আক্রমণকারীরা আমাদের মূর্তিপূজারী কাফেরদের মন্দির ধ্বংস করেছিল। নিঃসন্দেহে তিনি যদি আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস নিয়ে লিখতেন, তবে তিনি হয়তো অস্বীকার করতেন যে [[তালেবান]] বামিয়ানের বুদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছে এবং বলতেন যে সেগুলো নিজেদের থেকেই ভেঙে পড়েছে। ** তভলিন সিং; ফিফথ কলাম: কালচারাল রিনিউয়াল, ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ২০১৯। * [ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে...] "এমন এক শ্রেণির আত্মম্ভরী যুবকের উত্থান হয়েছে যারা পশ্চিমা মানুষের আচার-আচরণ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে ভারতের সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করাকে একটি আধুনিক ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করেছে।" ** এ. সি. স্কট; ''দ্য থিয়েটার ইন এশিয়া'', পৃষ্ঠা ৫১-এ উদ্ধৃত। তালগেরির ব্লগে উদ্ধৃত। এই নিবন্ধটি ২০০৫ সালে কোয়েনরাড এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট'' নামক সীতারাম গোয়েল স্মারক গ্রন্থে এস. তালগেরি রচিত "''সীতারাম গোয়েল, মেমোরিজ অ্যান্ড আইডিয়াস''" নামক নিবন্ধের একটি প্রধান অংশ। * এটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে যে আমি এই দেশে স্কুল ও কলেজে পড়েছি অথচ বিশ্ব ইতিহাসে হিন্দু সভ্যতার বিশাল অবদান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এটি আমাকে কষ্ট দেয় যে আজও আমাদের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়ুক বা দামি বেসরকারি স্কুলে, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই বের হয়ে আসে [...] আপনি এমন কোনো ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে পারেন না যে সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না। আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা ৫০ বছর এই সভ্যতার হিন্দু শিকড়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে কাটিয়ে দিয়েছি। ভারতীয় সভ্যতার দেওয়ার মতো কিছু নেই—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ঔপনিবেশিক গণশিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমরা কিছুই করিনি [...] আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি আমাদের এই অবজ্ঞা [...] এটি কি এমন একটি দেশের প্রমাণ নয় যেটি আজও মনেপ্রাণে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রয়েছে? আমাদের নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের এই অবজ্ঞা আজকাল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও লুফে নেয় [...] ** তভলিন সিং; ''ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'', ১৩ জুন ২০০৪। ২০০৫ সালে গোয়েল ও এলস্ট সম্পাদিত ''ইন্ডিয়াজ অনলি কমিউনালিস্ট: ইন কমমেমোরেশন অফ সীতারাম গোয়েল''। * ভারত রাষ্ট্র ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে ইতিহাসের বয়ান দখল করতে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে বর্তমান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আমাদের স্কুল ও কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা ইতিহাস, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের ইতিহাসকে ধ্বংস করা...</br>একটি সঠিক ইতিহাসে কেবল গৌরবের সময়গুলোই নয় বরং অবক্ষয়ের মুহূর্তগুলো, হাতছাড়া হওয়া সুযোগগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কথাও নথিভুক্ত করা উচিত। এটি অতীতের দামী ভুলগুলো থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা দেবে...</br>আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তিগুলো কী পরিমাণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ করেছে তা পড়া সত্যিই উদ্বেগজনক। এই শক্তিগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ফাঁপা করার জন্য সেগুলোর মধ্যে প্রবেশ করেছে...</br>বর্তমান কাজটি ইউপিএ জমানায় এনসিইআরটি-র সাথে যে আপস করা হয়েছিল তাকে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষমতাচ্যুত জোটের উভয় মেয়াদেই দেশের হিন্দু আদর্শকে উপড়ে ফেলার চেষ্টাকারী বিভেদকামী শক্তিগুলোর স্বার্থে ইতিহাসকে পুরোপুরি পুনর্লিখন করা হয়েছে। শিশুদের কোমলমতি মনের দখল নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভারত ভাঙার শক্তিগুলোর বয়ান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়। ইতিহাসবিদদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে পাঠ্যবইগুলো পুনর্লিখনের এখনই উপযুক্ত সময় যাতে আমাদের দেশের বয়ান সততার সাথে চিত্রিত করা হয়। আমাদের জাতির অতীত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সাফল্যে ভরপুর। বর্তমান ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলো কেবল সেই সাফল্যগুলোকে খাটো করে না বরং দেশের শিশুদের হীনম্মন্যতা আর একে অপরের প্রতি ঘৃণার বোঝা বহন করতে বাধ্য করে। এই বইগুলো যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে তা সংশোধন করা উচিত। ** সুব্রামনিয়ান স্বামী; এন. আত্রি ও এম. এ. সাগর রচিত ''ব্রেইনওয়াশড রিপাবলিক'' (২০১৭)-এর ভূমিকা। * ১৯৭০ সালে ডক্টর টরকাটো তার ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি'' বইটি প্রকাশ করেন। এটি সরকারি ক্যাথলিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেখানে তিনি লেখেন, "ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলো তাদের ধর্ম-নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করে... ৭৬ ক্যাথলিক নেতারা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পেছনের কারণগুলো জনসমক্ষে বলতে দ্বিধা করেন না। এই কারণগুলো তাঁদের কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় শিক্ষা যতই স্থূল হোক না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো প্রকাশ্যেই শেখান। তাছাড়া, এই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হিন্দু সমাজ এবং অন্যান্য সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ক্যাথলিক নেতাদের মতে, তাদের স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাথলিক তরুণদের শিক্ষিত করা। আর এই উদ্দেশ্যে তাঁরা রোমান ক্যাথলিক ধর্মের কট্টর শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করেন। "সলিডালিটিজ, নিউম্যান ক্লাবস, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মজবুত করতে এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবনকে আরও গভীর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। সহজ কথায় এর অর্থ হলো নিজেদের আত্মার মুক্তি এবং পরোক্ষভাবে যারা ক্যাথলিক নয় তাদের ধর্মান্তরিত করা, কারণ তাদের মতে তারা স্বর্গে যাওয়ার অযোগ্য। কোনো পদমর্যাদার কারণে নয় বরং সুযোগ পেলেই সহপাঠীদের কাছে মুক্তির সেই মহিমান্বিত দুয়ারের কার্যকারিতা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত, যাকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় ব্যাপ্টিজমের সংস্কার বলা হয়...। "রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে যা বলা হলো তা অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মান্তরকারী ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের নবী এবং স্বর্গীয় বাণীর মাধ্যমে তাদের অন্য মানুষদের আত্মা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের তারা অবিশ্বাসী বলে ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয়দের শিক্ষা দেওয়ার অধিকার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নাকি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর হাতে। আমরা জানি যে তারা সংবিধানের সেই ধারাগুলোর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভুল ধারণা আর কুসংস্কার ছড়াতে দ্বিধা করে না যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষমতা দেয়। এভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রূপকথা আর সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দেয় যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় জাতির প্রধান স্বার্থের জন্য চরম ক্ষতিকর।" ** ডক্টর টরকাটো। ''এডুকেশন: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড ফিলোসফি''। ঈশ্বর শরণ রচিত ''দ্য মিথ অফ সেন্ট থমাস অ্যান্ড দ্য মাইলাপুর শিবা টেম্পল''। তৃতীয় সংস্করণ। ২০১০। [[File:WiR education 2023.svg|thumb|right|এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েল; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।]] * বর্তমান এই আধুনিক দিনে ইউরোপীয় ধাঁচে উচ্চশিক্ষার প্রতি এক ব্যাপক আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে এবং নারীদের এই উচ্চশিক্ষা পাওয়ার স্বপক্ষে জনমত এখন বেশ শক্তিশালী। অবশ্যই, [[ভারত]]ে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এটি চান না, কিন্তু যারা এটি চান তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। '''এটি একটি অদ্ভুত তথ্য যে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ আজও নারীদের জন্য বন্ধ, তেমনি হার্ভার্ড এবং ইয়েলও; কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে নারীদের জন্য তার দরজা খুলে দিয়েছিল।''' ** [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ভারতের নারী [http://www.vivekananda.net/Lectures/WomenOfIndia.html] * '''সম্ভবত হিন্দুদের চেয়ে শিক্ষার গুরুত্ব কেউ এত ভালোভাবে বোঝে না'''... তারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সম্পদ, পারিবারিক মর্যাদা এবং বর্ণের সমস্ত মোহ বিসর্জন দিতে পারে। এই আকাঙ্ক্ষা সকল হিন্দুর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাদের নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাই এই শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি গ্রামে স্কুল ছিল। অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং স্বাধীনতার এই চেতনা সম্ভবত শূদ্রদের কারণেই এসেছে, যারা মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল এবং যাদের হাতে এদেশের প্রধান ক্ষমতা ও সম্পদ ছিল। ** ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার, আনু. ১৭৯৫। রাম স্বরূপের ''দ্য 'বিউটিফুল ট্রি' দ্যাট দ্য যুক্তরাজ্য ডেসট্রয়েড'', অর্গানাইজার, ২৮.১০.১৯৮৪-এ উদ্ধৃত। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস''। * [[ভারত]]ের শিক্ষা ব্যবস্থা এতই সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ছিল যে এর কিছু বৈশিষ্ট্য ইংল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল। "মনিটর পদ্ধতি'", "স্লেট" এবং "দলগত পড়াশোনা" সরাসরি ভারতের প্রাচীন চর্চা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকারের সাক্ষ্য পাই। তিনি বলেন যে নতুন [[যুক্তরাজ্য|ব্রিটিশ]] "পদ্ধতিটি ব্রাহ্মণদের থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এবং ভারত থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিটি আধুনিক দেশের জাতীয় স্কুলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এদেশের মানুষের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত যাদের কাছ থেকে আমরা সমাজের নিম্ন স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য এমন একটি নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি শিখেছি যা আগে কখনও আবিষ্কৃত হয়নি"। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে "[[শিশু]]দের ওপর কোনো জোর না খাটিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়"। ** [[w:Henry Alexander Walker|ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল আলেকজান্ডার ওয়াকার]]। রাম স্বরূপ (২০০০) রচিত ''অন হিন্দুইজম: রিভিউস অ্যান্ড রিফ্লেকশনস'', অধ্যায় ৭। * মুসলিম শাসনের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। মুসলিম শাসক ও আক্রমণকারীদের দ্বারা মন্দির ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। ** পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৯ (নম্বর এসওয়ায়এল/৮৯/১)। অরুণ শৌরী রচিত ''এমিনেন্ট হিস্টোরিয়ানস: দেয়ার টেকনোলজি, দেয়ার লাইন, দেয়ার ফ্রড'', হার্পার কলিন্স, ১৯৯৮-এ উদ্ধৃত। কে. এস. লাল (১৯৯২) রচিত ''দ্য লিগ্যাসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'', নতুন দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন, অধ্যায় ৮ থেকে উদ্ধৃত। এছাড়া সন্তোষ সি. সাহা সম্পাদিত ''ফান্ডামেন্টালিজম ইন দ্য কন্টেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড: ক্রিটিক্যাল সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইস্যুস'', লেক্সিংটন বুকস, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪, পৃষ্ঠা ২৭৩। * দেশীয় সাহিত্য বিলুপ্ত করে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার গর্ব আর আনন্দ কেড়ে নিয়ে এবং একটি পুরো জাতিকে তাদের সমস্ত ধারণা ও ভাষার জন্য একটি দূরবর্তী ও অজানা দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে আমরা তাদের চরিত্রকে ছোট করছি। এর ফলে তাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে এবং তারা কোনো ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ** (হোরাস উইলসন: ''এডুকেশন অফ দ্য নেটিভস অফ ইন্ডিয়া'', এশিয়াটিক জার্নাল (১৮৩৬), পৃষ্ঠা ২৬-এ উদ্ধৃত)। কোয়েনরাড এলস্ট রচিত ''অন মোদী টাইম: মেরিটস অ্যান্ড ফ্লজ অফ হিন্দু অ্যাক্টিভিজম ইন ইটস ডে অফ ইনকামবেন্সি'' – ২০১৫, অধ্যায় ২৯ থেকে উদ্ধৃত। * আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বাবা এবং মা, যাদের ছেলে-মেয়েরা এখনো মিশনারি স্কুলে পড়ে। আমি খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের কি মনে হয় না যে তাদের হিন্দু হিসেবে বড় করা আপনাদের দায়িত্ব? স্রেফ সরকারি চাকরির জন্য কি আপনারা আপনাদের সন্তানদের স্বার্থ, আপনাদের পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? আপনাদের ছেলেরা যদি ডাক্তার বা উকিল হয় কিন্তু হিন্দু না থাকে, তবে লাভ কী? এটাই কি মহান ঋষিদের থেকে পাওয়া আপনাদের আদর্শ? ** ডক্টর ডব্লিউ. ওয়াই. ওয়ান্টজ। মধ্যপ্রদেশ (ভারত), গোয়েল, এস. আর., নিয়োগী, এম. বি. (১৯৯৮)। ''ভিন্ডিকেটেড বাই টাইম: দ্য নিয়োগী কমিটি রিপোর্ট অন ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি অ্যাক্টিভিটিস''। {{আইএসবিএন|৯৭৮৯৩৮৫৪৮৫১২১}} * সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে [[ভারতে ইসলাম|মুসলিম]] শিশুদের ভর্তির হার ছিল ১২.৩৯ শতাংশ, যেখানে মোট শিশু জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত ছিল ১৬.৮১ শতাংশ। ** ১৯৮৪ সালে। ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুসলিম শিশুদের কম প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে। রফিক জাকারিয়া: ''দ্য ওয়াইডেনিং ডিভাইড'', পৃষ্ঠা ১৪৬। ==আরও দেখুন== *[[নালন্দা]] *[[অরবিন্দ ঘোষ]] == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} *[http://www.hinduwisdom.info/Education_in_Ancient_India.htm ভারতে শিক্ষা সম্পর্কে উক্তি] *[https://pragyata.com/great-minds-on-indian-education-system/ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে মনীষীদের উক্তি] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত]] [[বিষয়শ্রেণী:দেশ অনুযায়ী শিক্ষাবিদ|India]] [[Category:এশিয়ায় শিক্ষা|ভারত]] [[Category:ভারতে শিক্ষা| ]] 2mqawawbs70tdu8q4kgtlwtwfuakz9u জন হার্ভে কেলোগ 0 12407 76672 76187 2026-04-14T12:52:16Z NusJaS 273 76672 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. ([[২৬ ফেব্রুয়ারি]], [[১৮৫২]] – [[১৪ ডিসেম্বর]], [[১৯৪৩]]) {{w|ব্যাটল ক্রিক, মিশিগান|মিশিগানের ব্যাটল ক্রিকের}} একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." s9f9unyinvq8eohtamd9tu96475v7fy 76673 76672 2026-04-14T12:53:00Z NusJaS 273 76673 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫২ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩) {{w|মিশিগান|মিশিগানের}} ব্যাটল ক্রিকের একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." 4caykomtqtnem46jaccgmhpec6vgtpu 76686 76673 2026-04-14T13:35:52Z NusJaS 273 76686 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫২ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩) {{w|মিশিগান|মিশিগানের}} ব্যাটল ক্রিকের একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." * গত কয়েক বছর ধরে দেশে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল সাহিত্য নৈতিকতার আরেকটি বড় শত্রু। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এসব প্রচারক রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিচের উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের সামগ্রী ধ্বংস করে এই অবৈধ ব্যবসা দমনের জন্য ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন:<br> "নিচের বিবৃতি থেকে আপনারা দেখতে পাবেন, আমি এই বহুরূপী দানবের একটি অংশ আংশিকভাবে উন্মোচন করতে পেরেছি। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণটি বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে। আমি এগুলো বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করেছি:<br> "এক লক্ষ বিরাশি হাজারের বেশি অশ্লীল ছবি, স্টেরিওস্কোপিক এবং অন্যান্য ছবি; পাঁচ টনের বেশি অশ্লীল বই এবং পুস্তিকা; একুশ হাজারের বেশি মুদ্রিত অশ্লীল চিঠির পাতা; পাঁচ হাজারের বেশি অশ্লীল মাইক্রোস্কোপিক ঘড়ি, ছুরির লকেট এবং আংটি; ছবি ও স্টেরিওস্কোপিক দৃশ্য ছাপানোর জন্য প্রায় ছয়শ পঁচিশটি অশ্লীল নেগেটিভ প্লেট; তিনশ পঞ্চাশটি অশ্লীল খোদাই করা স্টিল ও তামার প্লেট; কুড়িটি অশ্লীল লিথোগ্রাফিক পাথর ধ্বংস করা হয়েছে; পাঁচশটির বেশি অশ্লীল কাঠের খোদাই; অশ্লীল বই ছাপানোর জন্য পাঁচ টনের বেশি স্টেরিওটাইপ প্লেট; প্রায় ছয় হাজার অশ্লীল স্বচ্ছ তাস; ত্রিশ হাজারের বেশি অশ্লীল ও অনৈতিক রাবারের জিনিসপত্র; রাবারের জিনিস তৈরির জন্য বারো সেট বা সাতশ পাউন্ডের বেশি সিসার ছাঁচ; প্রায় চার হাজার ছয়শটি বাজেয়াপ্ত করা সংবাদপত্র; এসব পণ্য অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পনেরো হাজার চিঠি; বাজেয়াপ্ত করা হিসাবের খাতায় প্রায় ছয় হাজার ডিলারের নাম; বাজেয়াপ্ত চিঠি ও হিসাবের খাতা বাদেও ডিলারদের হাতে থাকা সাত হাজারের বেশি নামের তালিকা, যা প্রচারপত্র বা ক্যাটালগ পাঠানোর জন্য পণ্য হিসেবে বিক্রি হয়; এবং ১৮৭১ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে পঞ্চাশ জনের বেশি ডিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" <br> "এই লোকগুলো প্রথমে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং পরে প্রচারপত্র পাঠিয়ে এসব জঘন্য জিনিস ছড়ায়। তারা এই পদ্ধতিতে হাজার হাজার নাম সংগ্রহ করে। কখনো কোনো সন্তানকে সেখানে ভর্তি করানোর ভান করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ক্যাটালগ আনিয়ে নেয়। আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল-কলেজের সব পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীর ডিরেক্টরি তৈরি করার, বা অবিবাহিতদের আদমশুমারি করার কথা বলে প্রচারপত্র পাঠায়। এমনকি এমন তালিকা পাঠানোর জন্য নামপ্রতি পাঁচ সেন্ট দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। আমার বলার অপেক্ষা রাখে না, এই টাকা খুব কমই পাঠানো হয় বা একেবারেই পাঠানো হয় না। তবে বিজ্ঞাপনের জবাবে আসা নামগুলোর পাশাপাশি এই নামগুলোও অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে কেউ এই জঘন্য ব্যবসায় নামতে চাইলে তাকে শুধু ওই নামের তালিকা কিনলেই চলে। তখন আপনার অজান্তেই আপনার ছেলে বা মেয়ের হাতে এসব শয়তানি ক্যাটালগ চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।" ** পৃ. ১৮৬-১৮৮ * ডা. লুইসের উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় সি এল মেরিয়াম বলেন: "আমরা দেখতে পেয়েছি, অশ্লীল সাহিত্যের ডিলাররা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। এগুলোর দায়িত্বে থাকে স্কুলের সবচেয়ে বখাটে ছেলেরা। বিক্রেতারা এই ছেলেদের বেছে নিয়ে টাকা দেয়। তারা নিউইয়র্ক সিটিতে এর আগে প্রকাশিত একশ চুয়াল্লিশটি অশ্লীল বইয়ের যেকোনোটি খণ্ডপ্রতি দশ সেন্টের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।" ** পৃ. ১৮৮ * তবে এটি একটি বেদনাদায়ক সত্য, আইনের আওতায় থাকা প্রতিটি বাজে বই পুরোপুরি ধ্বংস করলেও এই অপকর্মের প্রতিকার হবে না। কারণ আমাদের আধুনিক সাহিত্যও একই ভাইরাসে পূর্ণ। এটি অপরিহার্যভাবে কম জঘন্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। সুন্দর কল্পচিত্র দিয়ে এটি অর্ধেক ঢাকা থাকে বা রসিকতা দিয়ে সাজানো থাকে। তবুও এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং কোনো আইন এর নাগাল পায় না। সাহিত্যের মানসম্মত লেখকদের রচনায় অশ্লীলতার ছড়াছড়ি রয়েছে। সম্প্রতি যেসব অশ্লীল সাহিত্য দমনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো নিঃসন্দেহে তার চেয়েও বেশি তরুণদের মনে কামুক কৌতূহল জাগাতে এবং আবেগ ও অনৈতিকতাকে উসকে দিতে এবং লালন করতে ভূমিকা রেখেছে। পাপের দৃশ্যগুলো যত নিখুঁতভাবে আঁকা হয়, সেগুলো তত বেশি বিপজ্জনকভাবে প্রলুব্ধকর হয়ে ওঠে। উপন্যাস পড়া হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ১৮৮-১৮৯ * '''অলসতা:''' এই অপকর্মটি সাধারণত আগেরটির সাথে যুক্ত থাকে। পবিত্রতা বজায় রাখতে মনকে ব্যস্ত রাখতে হবে। কাজ না থাকলে এই শূন্যতা দ্রুত অপবিত্র চিন্তায় ভরে যায়। অলসতার মাঝে বেড়ে ওঠার চেয়ে সন্তানের জন্য খারাপ কিছু হতে পারে না। এতে তার নৈতিকতা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিরাম মানসিক ব্যস্ততাই অপবিত্রতার বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ। যেসব অকর্মণ্য বাবু বারে আড্ডা দিয়ে, রাস্তার মোড়ে ঘুরে বেড়িয়ে বা রাজপথে সদম্ভে হেঁটে সময় নষ্ট করে জীবন কাটায়, তারা আর যাই হোক পবিত্র নয়। একইভাবে যেসব অকর্মণ্য যুবতী সোফা বা ইজিচেয়ারে বসে কোনো বোকাটে উপন্যাস পড়ে জীবন পার করে দেয় বা দিবাস্বপ্ন দেখে জীবনের মূল্যবান সময় অলসভাবে কাটায়, তারা খুব কমই মানুষের ধারণায় থাকা পবিত্রতার আদর্শ হয়। যদি কারও জন্মগতভাবে পাপের প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, তবে এমন জীবন খুব দ্রুত একটি অসুস্থ ও অপবিত্র কল্পনার জন্ম দেবে। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * '''পোশাক এবং কামুকতা:''' দুটি উপায়ে ফ্যাশনেবল পোশাক অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়। যথা: ১. এর অপচয় বা অতিরিক্ত মূল্যের কারণে; ২. শরীরের অপব্যবহারের মাধ্যমে। <br> অপচয় কীভাবে অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়? এটি পাপের প্রলোভন তৈরি করে। যারা চমৎকার ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, অভিজাত বাদামি পাথরের বাড়িতে বাস করে এবং অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সব ধরনের বিলাসবহুল জিনিসপত্রে পরিবেষ্টিত থাকে, সেসব জমকালো পোশাক পরা নারীদের এটি প্রভাবিত করে না। কারণ দামি পোশাক তাদের জন্য কোনো প্রলোভন নয়। কিন্তু কম সুবিধাপ্রাপ্ত অথচ সমান যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের কাছে এসব সুন্দর পোশাক ও জমকালো সাজসজ্জার প্রদর্শনী অত্যন্ত শক্তিশালী প্রলোভন। কঠোর পরিশ্রম করে কোনোমতে নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানো গরিব নারী দর্জির কোনো বৈধ প্রশংসাকারী থাকে না। সৎ থেকে নিজের সতীত্ব বজায় রাখতে গেলে তাকে সাধারণ পোশাক পরতে হয়। তখন তার অহংকারী বোনেরা তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। সে সর্বত্র দেখতে পায়, পোশাকই একজন নারীকে ভদ্রমহিলা হিসেবে গড়ে তোলে—এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। রাস্তায় কেউ তাকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেয় না। তার ক্লান্ত হাত থেকে ফসকে পড়ে যাওয়া প্যাকেটটি তুলে দিতেও কেউ এগিয়ে আসে না। ক্লান্তিতে কাঁপতে থাকা অবস্থায় সে কোনো ভিড় ট্রেনে উঠলেও কেউ তাকে বসার জায়গা দেয় না। অথচ তার পেছনে আসা জমকালো পোশাক পরা নারীকে সঙ্গে সঙ্গেই জায়গা করে দেওয়া হয়। সে এই পার্থক্য খেয়াল করে। অপরিচিতদের সম্মান বা সমীহ পাওয়ার আশায় সে পরিণতি নিয়ে না ভেবেই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ১৯০-১৯১ * নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমাদের বড় শহরগুলোতে শত শত যুবতী আছে, যারা খাবার ও জ্বালানি কেনার পাশাপাশি একটি স্যাঁতসেঁতে চিলেকোঠার ভাড়া মেটানোর মতো সামান্য টাকা আয় করতে পারে। তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দেওয়া এই উপদেশটি মেনে নেয়, "তোমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য এমন কোনো ভদ্রলোক বন্ধু জোগাড় করো যে তোমার পোশাকের খরচ চালাবে।" অন্যেরা নিজেদের সম্মানজনকভাবে সাজিয়ে রাখতে তাদের সামান্য আয়ের সবটুকু খরচ করে ফেলে। এরপর তারা কোনো হৃদয়হীন ও কামুক তরুণ লম্পটের সাথে থাকা-খাওয়া ভাগ করে নেয়। শহরের জীবনে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যক্তিরা এবং আমাদের মহানগরের ঠিক কেন্দ্রে থাকা হাজার হাজার মানুষের এ ধরনের পতিতাবৃত্তির ভয়াবহ বিস্তৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যুবতীরা বরফের মতো পবিত্র হয়ে আমাদের বড় শহরগুলোতে যায়। তারা লাভজনক কোনো কাজ পায় না। রোজকার পাপের সংস্পর্শে আসার কারণে পাপের প্রতি তাদের প্রাথমিক তীব্র ঘৃণা ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্রমশ এটি তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনের কল্পনা একজন কঠোর পরিশ্রমী দর্জি মেয়েকে প্রলুব্ধ করে। সুন্দর পোশাক এবং আরামদায়ক বাসস্থান সেই প্রলোভনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সে হার মানে এবং বিয়ের ঝামেলা ছাড়াই একটি বাড়ির বিনিময়ে নিজের শরীর বিক্রি করে দেয়। <br> লাইসেন্স আইন পাস বা অধ্যাদেশ জারি করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যা করতে পারে, সাধারণ পোশাক পরার মাধ্যমে ধনী নারীরা এই সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ে তার চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানে কি খ্রিষ্টান নারীদের কোনো দায়িত্ব নেই? কয়েক বছর আগে ন্যাশভিলের কিছু নারী সঠিক পথে সামান্য একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নিচের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এই দৃষ্টান্ত কেউ অনুসরণ করেছে বলে আমরা শুনিনি:<br> "টেনেসির ন্যাশভিলের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চের নারী সদস্যরা একমত হয়েছেন যে, তারা রবিবারে সব ধরনের সাজসজ্জা বর্জন করবেন। তারা সংগতি ছাড়া অন্য কোনো গয়না পরবেন না এবং এরপর থেকে সাধারণ ক্যালিকো পোশাক পরে চার্চে আসবেন।" <br> এই হিতকর পদক্ষেপটি শুধু রবিবার নয়, সপ্তাহের অন্য সব দিনেও সম্প্রসারিত করা হলে এটি আরও যুগান্তকারী সংস্কার হতো। যদিও পোশাকের উপাদান হিসেবে শুধু ক্যালিকো ব্যবহারের কোনো কারণ আমরা দেখি না। বছরের কিছু ঋতুতে এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। ** পৃ. ১৯১-১৯২ * '''ফ্যাশন ও পাপ:''' শরীরের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পোশাক কীভাবে পাপের প্রতি প্ররোচিত করে, তা দেখা যাক। ১. ফ্যাশনের কারণে নারীদের ফিতা বা কর্সেট দিয়ে কোমর চেপে রাখতে হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডের দিকে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিরাস্থ রক্ত পেছনের দিকে সংবেদনশীল প্রজনন অঙ্গগুলোতে জমা হয়। এভাবে রক্ত জমে যাওয়ার ফলে পরাবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে পাশবিক প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২. পোশাক পরার ধরন হিসেবে কোমর থেকে বেশ কয়েকটি ভারী পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়। যেখানে পোশাকের সবচেয়ে কম প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত পোশাক রাখার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এটি অস্বাভাবিক স্থানীয় তাপ তৈরি করে। ৩. পা ও হাত-পায়ে এত পাতলা কাপড় পরার প্রথা রয়েছে যে সেগুলো সব সময় ঠান্ডার শিকার হয়। এটি রক্ত চলাচলকে আরও ভারসাম্যহীন করে তোলে এবং স্থানীয় এই সমস্যা বাড়াতে আরেকটি উপাদান যোগ করে। <br> উল্লেখ করা যেতে পারে এমন অন্যান্য কারণসহ এই সব কারণ মিলে প্রায় প্রতিনিয়ত কাজ করে স্থায়ী স্থানীয় রক্তজমাট বাঁধার পাশাপাশি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর গোলযোগ সৃষ্টি করে। শেষের এই গোলযোগগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হিস্টিরিয়ার প্রধান রোগতাত্ত্বিক অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এটি নিম্বোম্যানিয়া নামক অদ্ভুত রোগের কারণ। এর উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে একজন স্বাভাবিক পবিত্র ও বিনয়ী যুবতী চরম উচ্ছৃঙ্খল কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। এই ব্যাধি সৃষ্টির পেছনে ফ্যাশনেবল পোশাকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। ** পৃ. ১৯২-১৯৩ * '''পোশাকে সংস্কার প্রয়োজন:''' এসব অপকর্মের প্রতিকার এবং এগুলো থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সংস্কার। শরীরের সাথে পোশাক এমনভাবে মানানসই হতে হবে যেন প্রতিটি অঙ্গ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোনো কর্সেট, ব্যান্ড, বেল্ট বা অন্য কোনো সংকোচনের মাধ্যম যেন রক্ত চলাচলে বাধা না দেয়। কোমরবন্ধনী বা সঠিক সাসপেন্ডারের মাধ্যমে কাঁধ থেকে পোশাক ঝুলিয়ে রাখা উচিত। শরীরের অন্যান্য অংশের মতো হাত-পায়েও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে। স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তাগুলো কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা পোশাক সংস্কারের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি চমৎকার বই থেকে জানা যেতে পারে। এগুলোর যেকোনোটি এই বইয়ের প্রকাশক বা তাদের এজেন্টদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া সম্ভব। ** পৃ. ১৯৩-১৯৪ * '''ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা:''' এই ক্ষেত্রে ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খারাপ নিয়ামকের প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা বলতে আমরা এক ধরনের অতিরিক্ত আসক্তিকে বোঝাই। সাধারণত ধনী বা অভিজাত শ্রেণির মানুষ এর জন্য গর্ববোধ করে। এই শ্রেণির মানুষদের মাঝে পরিচিত কোনো সাধারণ মাতালকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এমন ব্যক্তিকে খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা হয়। তবে একইভাবে একজন সম্পূর্ণ মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিকেও এড়িয়ে চলা হয়। তাকে অন্তত একজন ধর্মান্ধ বা চরমপন্থী হিসেবে দেখা হয়। এই শ্রেণির মানুষের কাছে শিষ্টাচারের খাতিরে ওয়াইন পান করা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। ওয়াইনের পাশাপাশি তারা প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের মসলাদার খাবার, মসলা, চাটনি, চর্বিযুক্ত মাংস এবং সব ধরনের সুস্বাদু খাবার ও ডেজার্ট খায়। এগুলোকে সাধারণ উত্তেজক পদার্থের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। <br> এসব আসক্তি শরীরের সেই অংশকে উত্তেজিত করে, যার সাধারণত উত্তেজনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণের বেশি প্রয়োজন। একজন প্রাক্তন গভর্নর সম্প্রতি আমাদের কাছে একজন বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকের সম্মানে আয়োজিত একটি জমকালো রাজনৈতিক নৈশভোজের বর্ণনা দিয়েছেন। এতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। নৈশভোজটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছিল এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে টানা খাবার ও ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল। একই অজুহাতে আমাদের বড় বড় অনেক শহরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বহু অনুষ্ঠানে জননেতারা এমন মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ায় অভ্যস্ত জেনে আমরা অবাক হই না যে, তাদের অনেকেই নৈতিকভাবে স্খলিত মানুষ। ** পৃ. ১৯৪-১৯৫ * বিলাসবহুলতার প্রবণতা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। রোমের নাগরিকেরা ধনী হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন গ্রহণ করার আগে রোম কখনোই উচ্ছৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়নি। দরকারী কাজে মনকে পুরোপুরি ব্যস্ত রাখার চেয়ে সুস্থ নৈতিকতার জন্য বেশি সহায়ক আর কিছুই নেই। ফ্যাশনেবল অলসতা সদ্গুণের চরম শত্রু। যেসব তরুণ বা তরুণী অলস দিবাস্বপ্ন দেখে অথবা কিছু মহলে চলা আড্ডার অধিকাংশ জুড়ে থাকা অর্থহীন কথাবার্তা বলে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে, তারা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম ঝুঁকিতে থাকে। ফ্যাশনেবল সমাজের অনেক প্রথা ও রীতি পাপের দরজা খুলে দেয় বলে মনে হয়। এগুলো ছলনার আশ্রয় নিয়ে প্রথমদিকে অজান্তেই তরুণ ও অনভিজ্ঞদের পবিত্রতা এবং সদ্গুণের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। উচ্চবিত্ত বলে পরিচিত শ্রেণির মধ্যে প্রতিবছর অনৈতিকতার পরিমাণ বাড়ছে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। মাঝে মাঝেই উচ্চবিত্তদের জীবনের কোনো না কোনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তাদের দুর্নীতির বিশাল অংশটি সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। সব ভদ্র সমাজে খোলাখুলি উচ্ছৃঙ্খলতাকে অবশ্যই ঘৃণার চোখে দেখা হয়। তা সত্ত্বেও সম্পদ ও অর্জন মানুষের অনেক পাপ ঢেকে দেয়। <br> খারাপ ও দুষ্ট লোকদের দেওয়া এই স্বাধীনতা ফ্যাশনেবল সমাজের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর একটি। এমন ব্যক্তিরা নিজেদের সাথে যে নৈতিক পরিবেশ বহন করে, তা ভয়ংকর উপাস গাছের চেয়েও বেশি মারাত্মক। ** পৃ. ১৯৫-১৯৬ * '''রাউন্ড ড্যান্স:''' নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে ব্যায়াম বা ক্যালিসথেনিক্সের অংশ হিসেবে অন্যান্য নাচের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, রাউন্ড ড্যান্স, বিশেষ করে ওয়াল্টজের পক্ষে এমন কোনো অজুহাত দাঁড় করানো যায় না। এর সাথে জড়িত উচ্ছৃঙ্খলতা, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক, মধ্যরাতের ভোজ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে শরীর প্রদর্শিত হওয়া এবং অশালীন পোশাক ইত্যাদির পাশাপাশি এটি খুব স্পষ্টভাবে দেখানো যায় যে, আবেগকে উদ্দীপ্ত করতে এবং অপবিত্র কামনা জাগিয়ে তুলতে নাচের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এটি প্রায়শই অপবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যায়। এগুলো কঠোর নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং মন ও শরীর উভয়েরই ক্ষতি করে। <br> প্রখ্যাত পেত্রার্ক বলেছেন, "নাচ হলো কামনার উদ্দীপক—এমন একটি বৃত্ত যার কেন্দ্রে স্বয়ং শয়তান থাকে। যেসব নারী এতে অংশ নেয়, তাদের অনেকেই অসৎ হয়ে বাড়ি ফেরে, বেশিরভাগই উদাসীন থাকে, কেউ ভালো হয় না।" ** পৃ. ১৯৬ * এ বিষয়ে আমরা দ্য ড্যান্স অব ডেথ নামের একটি ছোট বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারি। বইটির লেখক এই বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং নিচের কথাগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেছেন:<br> "মৃদু গ্যাসলাইটের নিচে আমাদের সামনে দ্রুতবেগে বিশটি মূর্তি ঘুরছে। আমি বিশটি 'মূর্তি' বলছি—তবে প্রতিটিই জোড়া। নাচ শুরুর আগে এগুলো চল্লিশটি ছিল। বিশটি ভাসমান দৃশ্য—প্রতিটিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী। পিয়ানো, হার্প এবং বেহালার মাতাল সুরের তালে তালে বিশজন নারী সমসংখ্যক পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আমাদের সামনে ঢেউয়ের মতো দুলছে এবং মাথা ঘোরানো গতিতে ঘুরছে। <br> "কিন্তু একটু কাছে আসুন—দেখা যাক এই অলৌকিক ঘটনা কীভাবে ঘটে। আপনি কি ওই জুটিকে খেয়াল করছেন, যারা সাবলীলতা ও আবেগে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। চলুন, এই জুটিকে উদাহরণ হিসেবে নিই। পুরুষটি বলিষ্ঠ, চটপটে ও শক্তিশালী; নারীটি লম্বা, নমনীয়, ছিপছিপে এবং তার গড়ন ও রূপ কতই না সুন্দর! নারীর মাথাটি পুরুষের কাঁধে রাখা, তার মুখ পুরুষের দিকে তোলা। তার খালি হাত প্রায় পুরুষের গলা জড়িয়ে আছে। তার ফুলে ওঠা বুক পুরুষের বুকের সাথে প্রবলভাবে ওঠানামা করছে। তারা মুখোমুখি ঘুরছে, পুরুষের হাত-পা নারীর হাত-পায়ের সাথে জড়িয়ে আছে। নারীর নমনীয় কোমরে ডান হাত শক্ত করে জড়িয়ে পুরুষটি তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়, যতক্ষণ না তার সুন্দর শরীরের প্রতিটি বাঁক কামুক স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়। নারী তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে কিছুই দেখে না। ঘরে নরম সুর বাজতে থাকে, কিন্তু সে কিছুই শোনে না। পুরুষটি তাকে মেঝের ওপর দ্রুত ঘোরায় অথবা তাকে নিজের আলিঙ্গনে এদিক-ওদিক বাঁকায়। <br> "শেষের দিকের একটি নিচু ও করুন সুরের সাথে সাথে বাজনা থেমে যায়। তার মূর্ছিত চেতনা ফিরে আসে। আহ, এমনই কি হতে হবে! হ্যাঁ; তার সঙ্গী তাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দেয়। ক্লান্ত হয়ে সঙ্গীর বাহুতে ভর দিয়ে, চোখের আনন্দ মুছে গিয়ে এবং গালের লাল আভা মিলিয়ে গিয়ে—দুর্বল, নিস্তেজ, উদাসীন ও ক্লান্ত অবস্থায়—তাকে একটি আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে তার ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে যতটা সম্ভব শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। এরপর তাকে নতুন কোনো আলিঙ্গনে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।" ** পৃ. ১৯৭-১৯৮ * আমি যখন ওয়াল্টজ নাচতাম, সেই দিনগুলোর নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে একজন তরুণীর মন ও মানসিকতা তুলে ধরার সাহস করছি। <br> "সেই সময় আমি পোলকা বা ভার্সোভিয়ানের পরোয়া করতাম না। পুরনো ধাঁচের মানি মাস্ক বা ভার্জিনিয়া রিল নিয়ে তো আরও কম ভাবতাম। আমি অবাক হতাম যে মানুষ এসব ধীরগতির নাচে প্রশংসা করার মতো কী পায়। কিন্তু ওয়াল্টজের নরম ভেসে চলায় আমি এক অদ্ভুত আনন্দ পেতাম, যা বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। শুধু নাচের কথা ভাবলেই আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেত। আমার সঙ্গী যখন নাচের জন্য আমার কথা দেওয়া হাতটি ধরতে আসত, তখন আমি মাঝে মাঝে আমার গালে একটু আভা অনুভব করতাম। আগের মতো খোলাখুলি আনন্দে আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না। <br> "কিন্তু আমার বিভ্রান্তির চরম মুহূর্তটি আসত, যখন তার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে এবং ঘোরার কারণে মাথা ঘোরা অবস্থায় এক অদ্ভুত, মিষ্টি শিহরণ আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিত। এটি আমাকে দুর্বল ও প্রায় ক্ষমতাহীন করে তুলত। তখন আমাকে ঘিরে থাকা সেই বাহুটির ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকত না। যদি আমার সঙ্গী অজ্ঞতা, দক্ষতার অভাব বা সরলতার কারণে আমার এই সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুভূতিগুলো জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হতো, তবে আমি তার সাথে দ্বিতীয়বার নাচতাম না। <br> "আমি খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বলছি। আমি যখন বলি যে আমি কী অনুভব করতাম, বা এই তথাকথিত নাচ থেকে আমার পাওয়া আসল ও সবচেয়ে বড় আনন্দগুলো কী ছিল তা আমি বুঝতাম না, তখন আমি আশা করি সবাই আমার কথা বিশ্বাস করবে। কিন্তু তখন যদি না-বোঝা আনন্দে আমার গাল লাল হয়ে উঠত, তবে আজ যখন আমি এসব নিয়ে ভাবি, তখন লজ্জায় আমার গাল ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শক্তিশালী পুরুষদের স্পর্শে তৈরি হওয়া শারীরিক আবেগের প্রতিই আমি মুগ্ধ ছিলাম—নাচের প্রতি নয়, এমনকি সেই পুরুষদের প্রতিও নয়।" <br> "এভাবে আমার সবচেয়ে নিচু প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটেছিল। আমি আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলাম। প্রথমে লাজুক দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারলেও, দ্রুত আমি আরও সাহসী দৃষ্টি মেলাতে সক্ষম হয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওয়াল্টজ আমার এবং আমার সাথে নাচা যেকোনো ব্যক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী, মিষ্টি এবং সম্পূর্ণ কামুক আনন্দে পরিণত হয়েছিল। সেখানে বুকের সাথে বুক কাঁপত, হাতে হাত ধরা থাকত এবং চোখ এমন জ্বলন্ত শব্দ খুঁজত যা ঠোঁট দিয়ে বলার সাহস হতো না।" ** পৃ. ১৯৯-২০০ * "তবুও আমাদের শেখানো হয়েছিল যে নাচ করা ঠিক। আমাদের বাবা-মা নাচতেন, আমাদের বন্ধুরাও নাচত এবং আমাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমি আরও বলব, আমার সাথে মেলামেশা করা মেয়েদের মধ্যে একজন বাদে সবারই নাচের বিষয়ে প্রায় একই অভিজ্ঞতা ছিল। সবাই একই রকম অদ্ভুত মিষ্টি অনুভূতি পেত। কেন বা কী বুঝতে না পারলেও, ওয়াল্টজের স্বাধীনতার চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ মিলনের এক প্রায় অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত। <br> "এখন আমি বিবাহিত এবং আমার নিজের সংসার ও সন্তান আছে। আমি অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, আমার এই অভিজ্ঞতাই আমাকে নিশ্চিতভাবে আমার ছোট মেয়েদের এমন বিপজ্জনক আনন্দে জড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সাহায্য করবে। কিন্তু শুরুতে পবিত্র ও নিষ্পাপ থাকা একজন তরুণী যদি আমার বলা কথাগুলো অনুভব করতে পারে, তবে একজন বিবাহিত নারীর অভিজ্ঞতা কেমন হবে? চোখের প্রতিটি চাহনি, মাথার প্রতিটি ঝোঁক এবং প্রতিটি ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনের অর্থ সে জানে। আর তা জেনে সে এর প্রতিদান দেয়। এভাবে সে দ্রুত ও নিশ্চিত পথে বিপজ্জনক এবং অসম্মানজনক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।" ** পৃ. ২০১-২০২ * '''আধুনিক জীবনযাপন:''' আগে বলা সব কারণ বাদেও আধুনিক জীবনযাপনের অভ্যাসের ফলে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সরাসরি কামুকতাকে উসকে দেয়। অতিরিক্ত গরম ঘর, বসে বসে করা কাজ, পেশির বদলে মানসিক ও স্নায়বিক সংগঠনের বিকাশ, স্কুলে মুখস্থ করার প্রথা, স্কুলের বাচ্চাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত মেলামেশার সুযোগ, বিভিন্ন পাবলিক বিনোদন, বলনাচ, চার্চের মেলা এবং আরও অনেক কিছুর অবক্ষয়ী প্রভাব এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব কিছুই যৌন ক্রিয়ার অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং অকালপক্বতার দিকে ধাবিত করে। <br> আধুনিক জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কারও পক্ষে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকা প্রায় অসম্ভব—একথা বলা মোটেও অতিরঞ্জন নয়। ঈশ্বরের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি নিশ্চিতভাবেই সত্য। তবে স্বেচ্ছায় করা পাপের ফল ঠেকাতে ঈশ্বর কখনোই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটান না। ** পৃ. ২০৩-২০৪ * সব পরিস্থিতিতে যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নাম কন্টিনেন্স বা ইন্দ্রিয়দমন। অন্যদিকে চ্যাস্টিটি বা পবিত্রতা হলো কেবল বেআইনি যৌন কাজ থেকে বিরত থাকা। আমাদের যেমন শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা আছে, তেমনি ইন্দ্রিয়দমনও মানসিক ও শারীরিক উভয়ই হওয়া উচিত। পবিত্রতা বিষয়ক অনেক পর্যবেক্ষণ ইন্দ্রিয়দমনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অপবিত্রতা ও ইন্দ্রিয়দমনে ব্যর্থতার কারণগুলো একই। মানসিক ও শারীরিক পবিত্রতার মধ্যে যে সম্পর্ক, মানসিক ও শারীরিক ইন্দ্রিয়দমনের মধ্যেও একই সম্পর্ক রয়েছে। ** পৃ. ২০৫ * '''ইন্দ্রিয়দমন ক্ষতিকর নয়:''' এমনকি অনেক চিকিৎসকও বেশ যুক্তির সাথেই দাবি করেছেন যে, প্রজনন অঙ্গের পূর্ণ বিকাশের পর সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়দমন বজায় রাখলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই অবস্থানের পক্ষে দেওয়া সব যুক্তি উল্লেখ করার দরকার নেই। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এগুলো এতই তুচ্ছ যে, এগুলোতে মনোযোগ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। আমরা মূলত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। এর মাধ্যমে আমরা দেখাব যে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল। নিঃসন্দেহে এগুলো মানুষের প্রাকৃতিক অনুকূল পক্ষপাতের কারণেই এত ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। নিজের পছন্দের সাথে মিলে যায় এমন কিছু বিশ্বাস করা সহজ। একপেশে ধারণার পক্ষে সামান্য একটি অনুমানও অন্য পক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ** পৃ. ২০৫-২০৬ * '''দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি:''' একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের পর যৌন মিলনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকে না। সপ্তম আদেশের যে দাম্পত্য জীবনেও যৌন আচরণের ওপর কোনো প্রভাব আছে, তা খুব কম মানুষই সন্দেহ করে। অথচ নারী-পুরুষের স্বীকারোক্তি ও বিবৃতি বিশ্বাস করলে দেখা যায়, নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশার চেয়ে বৈধ পতিতাবৃত্তি আরও সাধারণ একটি অপরাধ। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা এতটাই প্রচলিত এবং সংস্কারের দ্বারা এতটাই সুরক্ষিত যে, কোনো লেখক বা বক্তার সত্য জানা থাকলেও এবং তা প্রকাশের ইচ্ছে থাকলেও, প্রকাশ করা রীতিমতো বিপজ্জনক। সঠিক নীতিগুলো তুলে ধরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে উপহাস করা হয়, নিন্দা করা হয়, কলঙ্কিত করা হয় এবং সম্ভব হলে থামিয়ে দেওয়া হয়। লেখককে গালাগাল করা হয়, তার কাজের নিন্দা করে তাকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়। তাকে চরমপন্থী, ধর্মান্ধ বা তপস্বী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এমনকি কেউ তার পবিত্রতা বা পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুললে সে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতে পারে। ** পৃ. ২১৬ * "ডিম্বাশয় এবং এর ভেতরে থাকা ডিম্বাণুগুলো নির্দিষ্ট ঋতুতে নিয়মিত বিকাশ লাভ করে বা আকারে বাড়ে। ... নিম্ন শ্রেণির সব প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রজনন মৌসুম এলেই আগে অসম্পূর্ণ ও নিষ্ক্রিয় থাকা কিছু ডিম্বাণু আকারে বড় হতে শুরু করে এবং এদের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসে।" <br> "বেশিরভাগ মাছ ও সরীসৃপ এবং পাখিদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার এবং নির্গত হওয়ার এই নিয়মিত প্রক্রিয়াটি বছরে মাত্র একবার ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি বছরে একবার, বছরে দুবার, দুই মাস পরপর বা এমনকি প্রতি মাসেও ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি নিয়মিত বিরতিতে ঘটে। এটি অন্যান্য বেশিরভাগ শারীরিক কাজের মতো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।" <br> "বেশিরভাগ নিম্ন শ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষদের অণ্ডকোষের একটি পর্যায়ক্রমিক বিকাশ ঘটে, যা নারীদের ডিম্বাশয়ের বিকাশের সময়ের সাথে মিলে যায়। প্রজনন মৌসুম ঘনিয়ে এলে নারীদের ডিম্বাশয় বড় হওয়ার ও ডিম্বাণু পাকতে শুরু করার সাথে সাথে পুরুষদের অণ্ডকোষও আকারে বাড়ে এবং শুক্রাণুতে ভরে ওঠে। একই সময়ে প্রজননের অন্যান্য সহায়ক অঙ্গগুলোও অণ্ডকোষের এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপে অংশ নেয়। এগুলো রক্তবাহী হয়ে ওঠে এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য তৈরি হয়।" ** পৃ. ২১৯ * "এ প্রসঙ্গে এটি একটি চমকপ্রদ তথ্য যে, এসব প্রাণীর স্ত্রীরা কেবল ঋতুচক্রের সময় এবং তার ঠিক পরেই পুরুষদের কাছে আসতে দেয়। অর্থাৎ, ঠিক তখনই যখন ডিম্বাণুটি সদ্য নির্গত হয় এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। অন্য সময়, যখন যৌন মিলন নিশ্চিতভাবেই নিষ্ফল হবে, তখন প্রাণীর প্রবৃত্তি তাকে এটি এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে। একইভাবে, লিঙ্গভেদে এই মিলনকে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা এবং এর নিষিক্ত হওয়ার ক্ষমতার সময়ের সাথে মেলানো হয়।" <br> "ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হওয়ার পরপরই ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। যদি ওই সময়ে যৌন মিলন ঘটে, তবে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু নারীর প্রজনন পথের কোনো একটি অংশে মিলিত হয় এবং নিষিক্তকরণ সম্পন্ন হয়। ... অন্যদিকে, যদি সহবাস না হয়, তবে ডিম্বাণুটি নিষিক্ত না হয়েই জরায়ুর দিকে নেমে যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর জীবনীশক্তি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত জরায়ুর নিঃসরণের সাথে বেরিয়ে যায়।" <br> "তাই এটি সহজেই বোঝা যায়, কেন অন্য সময়ের চেয়ে ঋতুচক্রের সময় যৌন মিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ... নির্গত হওয়ার আগে ডিম্বাণুটি অপরিপক্ব থাকে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। আর ঋতুচক্র পার হয়ে যাওয়ার পর এটি ধীরে ধীরে তার সতেজতা ও জীবনীশক্তি হারায়।" ** পৃ. ২২০-২২১ * শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অতিরিক্ত তথ্য হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঋতুস্রাবের ঠিক পরপরই নারীরা যৌন আকাঙ্ক্ষা বেশি অনুভব করে। এমনকি এমন দাবিও করা হয়েছে যে, রোগ বা অন্য কোনো কারণে অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত না হলে নারী কেবল এই সময়েই সত্যিকারের যৌন প্রবৃত্তি অনুভব করে। ** পৃ. ২২২ * "যে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে একজন পতিতার মতো আচরণ করে এবং আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য রাখে না, সে একজন খারাপ স্বামী। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো: খাওয়া-দাওয়ার মতো এখানেও মেটানোর মতো একটি ক্ষুধা থাকে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা না মিটিয়ে তা পূরণ করা যায় না। তবে যেহেতু প্রকৃতি এই আকাঙ্ক্ষা ও তৃপ্তিকে অন্য উদ্দেশ্যে তৈরি করেছে, তাই এগুলোকে কখনোই সেই উদ্দেশ্য থেকে আলাদা করা উচিত নয়।" ** পৃ. ২২৪ * "এটি একটি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অবিবাহিত ব্যক্তি মনে করেন তাদের স্বাধীনতার দ্বার কোনো নিয়ম বা বাধা ছাড়াই পুরোপুরি উন্মুক্ত (তাই তারা সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন)। বৈধ অনুমতির বেআইনি ব্যবহারের ফলে তারা অসংযম ও কামনার চূড়ান্ত পরিণতির স্বাদ পেয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে শুধু সংযমী এবং বিনয়ী হতে দিন।" <br> আরেকজন লেখক খুব জোর দিয়ে বলেছেন, "এটি একটি সাধারণ বিশ্বাস যে, আইনিভাবে বিবাহিত হওয়ায় একজন পুরুষ ও নারী কোনো বাধা ছাড়াই কামুকতা চর্চা করার বিশেষ সুবিধা পান। এটি ভুল। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। প্রকৃতি মানুষের তৈরি আইনকে স্বীকৃতি দেয় না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তি পেতে হয়, তেমনি বৈধ বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে শাস্তি পেতে হয়। অবিবাহিত পুরুষ বা নারীর মতো বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যৌন মিলন সমানভাবে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এটি আক্ষরিক অর্থেই বৈধ পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।" ** পৃ. ২২৫ * কিন্তু যৌন বিপদের বিরুদ্ধে যেকোনো সতর্কবার্তাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, যদি না তা বিবাহিত ব্যক্তিদের না বুঝে করা অতিরিক্ত যৌন মিলনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা দেখেছি, প্রাণদায়ী তরল ঘন ঘন নির্গত হওয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের অত্যধিক উত্তেজনা মারাত্মক ক্ষতিকর। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মতো দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফলাফল একই হয়। যে বিবাহিত পুরুষ মনে করেন, বিবাহিত হওয়ায় তিনি যতবার খুশি যৌন মিলন করলেও তা অতিরিক্ত হবে না, তিনি নিশ্চিতভাবেই অবিবাহিত লম্পটদের মতোই ভোগান্তির শিকার হবেন। বরং অজ্ঞতার কারণে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ লম্পটরা তাদের খারাপ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে ও কিছু নিয়ম মেনে চলতে শেখে, যা এই বিবাহিত পুরুষটি জানেন না। অনেক পুরুষ বিয়ের আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ সংযমী জীবনযাপন করেন, তাদের স্ত্রীরাও তা-ই করেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই তারা প্রতি রাতে যৌন মিলনে লিপ্ত হন। তাদের দুজনের কেউই জানেন না যে এই বারবার যৌন মিলন আসলে এক ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, যা তাদের শরীর সহ্য করতে পারে না। পুরুষের জন্য এটি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস ডেকে আনে। শরীর খারাপ হওয়ার আগ পর্যন্ত, কখনো কখনো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভ্যাস চলতে থাকে। অবশেষে যখন রোগী চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, তখন তিনি জানতে পেরে অবাক হন যে তার কষ্টের কারণ হলো না বুঝে করা এই অতিরিক্ত যৌন মিলন। বিবাহিত দম্পতিরা প্রায়ই মনে করেন, খাবার খাওয়ার মতোই নিয়মিত এবং প্রায় ততবারই যৌন মিলন করা যায়। যতক্ষণ না তাদের বিপদের কথা জানানো হয়, ততক্ষণ তাদের মাথায় এই চিন্তাই আসে না যে তারা ভয়ঙ্কর এবং প্রায় অপরাধমূলক বাড়াবাড়ি করছেন। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ তারা যে চিকিৎসকের কাছে যান, তিনি খুব কমই এই কারণটির কথা উল্লেখ করেন।" <br> "অনেকে মনে করেন, জিমন্যাস্টিকস বা ব্যায়াম করলে যেমন পেশির জোর বাড়ে, তেমনি এই কাজের মাধ্যমেও তাদের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা, যা শুধরানো দরকার। এমন রোগীদের জানানো উচিত যে, প্রতিবার যৌন মিলনের সময় শরীরে বিশাল ধাক্কা লাগে। আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অঙ্গগুলোর জন্য শুক্রাণু নির্গত হওয়া বিশেষ করে ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের বাড়াবাড়ির কারণেই অকালবার্ধক্য এবং প্রজনন অঙ্গের নানা সমস্যা দেখা দেয়।" ** পৃ. ২২৬-২২৭ * অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট দুর্বলতার দুটি কারণ রয়েছে: শুক্রাণু কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক উত্তেজনা। ডা. গার্নার শুক্রাণুর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: <br> "শুক্রাণু হলো রক্তের সবচেয়ে বিশুদ্ধ নির্যাস। ... প্রকৃতি এটি কেবল জীবন সৃষ্টির জন্যই তৈরি করেনি, বরং ব্যক্তির নিজের পুষ্টির জন্যও তৈরি করেছে। বস্তুতপক্ষে, নিষিক্তকরণ তরল পুনরায় শোষিত হলে তা পুরো শরীরে নতুন শক্তি এবং এমন এক পৌরুষ দেয়, যা আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।" ** পৃ. ২২৮ * '''একজন ফরাসি চিকিৎসকের সাক্ষ্য:''' বেশ পরিচিত একজন ফরাসি লেখক এই বিষয়ে বলেন:<br> শুক্রাণু তৈরি এবং জোর করে তা বের করে দেওয়ার জন্য শরীরের মতো এত মূল্য আর কাউকে দিতে হয় না। হিসেব করে দেখা গেছে, এক আউন্স শুক্রাণু চল্লিশ আউন্স রক্তের সমান। ... শুক্রাণুই পুরো মানুষের মূল সারাংশ। তাই ফার্নেল বলেছেন, "Totus homo semen est." এটি জীবনের মলম। ... যা জীবন দেয়, তা জীবন বাঁচানোর জন্যই তৈরি। ** পৃ. ২২৮-২২৯ * এটি একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খ্রিষ্টান বিশ্বের নারীদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। তাদের মানসিক শক্তিও অনিশ্চিত ও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তারা সময়ের আগেই চিন্তায় জর্জরিত, বলিরেখা যুক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। তারা এমন অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা একসময়কার চিকিৎসকদের কাছে প্রায় অজানা ছিল। কিন্তু এখন এসব রোগ সমাজের বয়স্ক নারীদের, এমনকি কখনো কখনো সবচেয়ে কম বয়সী মেয়েদের কাছেও অতি পরিচিত এবং সাধারণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ** পৃ. ২৩১-২৩২ * "আমরা সমকামিতা ও পায়ুকামের মতো প্রকৃতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের কথা শুনি। সব সুস্থমস্তিষ্কের মানুষ এর তীব্র নিন্দা করেন। আইনও এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি বিশেষভাবে কঠোর। এসব অপরাধের শাস্তি এক থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ব্যভিচারের শাস্তি মাত্র ষাট দিনের কারাদণ্ড এবং একশ ডলারের কম জরিমানা। কিন্তু এখানে একটি খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, কনডমের ব্যবহার এবং নিষিক্তকরণ প্রতিরোধী ইনজেকশন নেওয়াও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ কি না এবং একইভাবে আমাদের ঘৃণা ও অবজ্ঞার যোগ্য কি না। এছাড়া আমরা যখন প্রাণিজগতের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই তারা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তখনই মিলিত হয় যখন স্ত্রী-প্রাণীটি সঠিক শারীরিক অবস্থায় থাকে এবং স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়। এটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষের মিলন প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে এবং এর ফলাফল অন্যান্য যেকোনো অপরাধের চেয়েও খারাপ হতে পারে। যে শিশুর জন্ম নারী চায়নি, সেই শিশু কি সেই সুখকর গঠন নিয়ে জন্মাবে যা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই তাদের সন্তানের জন্য আন্তরিকভাবে চাওয়া উচিত এবং দেওয়া উচিত? আর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর কথা ভাবুন, প্রতিটি শিশুরই কি অধিকার নেই যে সে হবে ভালোবাসার প্রতীক? 'গ্রেট এক্সপেকটেশনস'-এর ছোট্ট পিপ একটি বড় শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে বলেছিল, 'আমার সাথে সবসময় এমন আচরণ করা হতো যেন আমি যুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতার পরোয়া না করে এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিষেধ সত্ত্বেও জোর করে জন্মেছি।' আমরা তরুণদের বাবা-মাকে সম্মান করতে বলি। কিন্তু একবারও ভেবে দেখি না যে, যেসব বাবা-মায়ের স্বার্থপরতা ও অবহেলার কারণে তাদের সন্তানেরা বংশগত নানা রোগে ভোগে, তারা আদৌ সম্মানের যোগ্য কি না।" ** পৃ. ২৩৫-২৩৬ * '''ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক মিলন:''' আমাদের নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতায় বেশ কয়েকবার প্রমাণিত নিচের কথাগুলো প্রকৃতির নিয়মের আরও ভয়ানক লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে: <br> "অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, মাসিক চলাকালীন সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করার দরকার নেই। কারণ তারা মনে করেন পরিচ্ছন্নতা এবং রুচিবোধের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই এই ক্ষুধা মেটানো থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই পৃথিবীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা খুব কমই জানেন। প্রায়ই স্বামীরা আমাকে জানান যে তারা কয়েক বছর ধরে তাদের স্ত্রীদের সাথে দিনে এক বা একাধিকবার যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকেননি। আর রুগ্ন শরীর ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী অগণিত নারী আমাকে এমন সব তথ্য দিয়েছেন যে আমি স্বামীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৩৭ * এই অনুচ্ছেদে আলোচনা করা সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ হলো আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপকর্মগুলো। মানুষ অজ্ঞতার কারণে বা সরাসরি ফলাফলের পরোয়া না করে নিয়মিত বাড়াবাড়ি করে। এরপর প্রজনন কাজের স্বাভাবিক ফল ঠেকাতে নানা ধরনের উপায় ব্যবহার করে একে নিষ্ফল করার চেষ্টা করে। এই স্পষ্টভাবে লেখা বইটিতেও এসব পদ্ধতির নাম উল্লেখ করা শালীনতার চরম লঙ্ঘন হবে। তবে এর নিখুঁত বর্ণনারও প্রয়োজন নেই, কারণ যাদের এই সতর্কবার্তা দরকার, তারা সবাই এসব কাজে ব্যবহৃত সব নোংরা জিনিসের সাথে খুব ভালোভাবেই পরিচিত। এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখকদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াই সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। নিচের অনুচ্ছেদগুলো প্রখ্যাত মেয়ারের লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার উদ্ধৃতি আগেও বেশ কয়েকবার দেওয়া হয়েছে: <br> "সহবাসের স্বাভাবিক পরিণতি ধ্বংস করতে লম্পটদের আবিষ্কার করা অগণিত ফন্দির একটাই উদ্দেশ্য থাকে।" ** পৃ. ২৫০ * '''দাম্পত্য জীবনে অনানিজম (অপব্যবহার):''' "যেসব লজ্জাজনক কৌশল নিয়ে আমরা কথা বলেছি, তার মাধ্যমে দাম্পত্য বিছানা অপবিত্র করার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আদিপুস্তকের (জেনেসিস) ৩৮ অধ্যায়ের ৬ এবং এর পরের আয়াতগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে: 'আর এমন হলো, যখন সে [অনান] তার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গেল, তখন সে তা মাটিতে ফেলে দিল, যেন সে তার ভাইকে বংশধর না দেয়। সে যা করেছিল তা প্রভুর চোখে খারাপ লেগেছিল; তাই তিনি তাকে মেরে ফেললেন।' <br> এখান থেকেই দাম্পত্য জীবনে অনানিজম নামটি এসেছে। <br> কেউ বলতে পারবে না এই বিকৃতি কতটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কেবল এর পরিণতি দেখলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এমন মানুষের মধ্যেও এটি দেখা যায়, যারা সামান্য পাপ করতেও ভয় পায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে। তবুও অনেক স্বামী জানেন যে, প্রকৃতি প্রায়শই সবচেয়ে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশকেও ব্যর্থ করে দেয় এবং যে অধিকারকে তারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করে। তাতে কী; তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায় এবং অভ্যাসের বশে তারা জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোতে বিষ ঢেলে দেয়, অথচ যে পরিণতি তারা এড়াতে চায়, তা এড়ানোর কোনো নিশ্চয়তাই থাকে না। তাই কে জানে, যে শিশুগুলো প্রায়শই দুর্বল এবং রুগ্ন হয়, তারা এই অপূর্ণ প্রজননের ফল কি না এবং প্রজনন ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কহীন অন্য কোনো চিন্তার কারণে তারা প্রভাবিত কি না? এটি মনে করা কি যৌক্তিক নয় যে, স্বাভাবিক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ব্যাহত হওয়ায় গর্ভধারণ শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে? আর এ থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীটি কি টেরাটোলজি বা বিকলাঙ্গতা বিষয়ক বইয়ে বর্ণিত কোনো দানব নয়?" ** পৃ. ২৫১ * "আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য রয়েছে যা নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে, অস্বাভাবিক যৌন মিলন নারীর ওপর কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে আমরা এগুলো প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয় মনে করি। সব চিকিৎসকই এগুলো কমবেশি দেখেছেন। আমাদের না বলা কথাগুলো পূরণ করতে তাদের কেবল স্মৃতি হাতড়ানোই যথেষ্ট। ডা. ফ্রান্সিস ডেভে বলেন, 'তবে এটি বোঝা কঠিন নয় যে, ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেও তা না মেটানোর মাধ্যমে এ ধরনের অনুশীলন নারীর প্রজননতন্ত্রে কতটা গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। পুরো প্রজননতন্ত্র জুড়ে এক গভীর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয় চরম উত্তেজনার অবস্থায় পৌঁছায়, এমন এক ঝড় যা স্বাভাবিক উপায়ে শান্ত হয় না। এক ধরনের স্নায়বিক অতি-উত্তেজনা থেকেই যায়। তখন এমন অবস্থা হয় যেন একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়ে তার ক্ষুধা চরমভাবে বাড়িয়ে তোলার পর মুখের কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জরায়ু এবং পুরো প্রজননতন্ত্রের সংবেদনশীলতা অযথাই উসকে দেওয়া হয়। বারবার এমন হওয়ার কারণেই মূলত নারীদের প্রজননতন্ত্রে অদ্ভুত সব স্নায়বিক রোগের উৎপত্তি ঘটে। এই বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস অনেকগুলো পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বিবাহিত দম্পতির স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যেও দুর্ভাগ্যজনক পরিবর্তন আসে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসা ধীরে ধীরে এমন একটি কাজের পুনরাবৃত্তিতে মুছে যায়, যা দাম্পত্য বিছানাকে কলুষিত করে। সেখান থেকে কিছু কঠিন অনুভূতির জন্ম নেয়, কিছু গভীর ছাপ পড়ে যা ধীরে ধীরে বেড়ে এমন সব কেলেঙ্কারিপূর্ণ বিচ্ছেদের জন্ম দেয়, যার আসল উদ্দেশ্য সমাজ খুব কমই জানতে পারে।" ** পৃ. ২৫২-২৫৩ * "যদি এই ঘৃণ্য প্রথাগুলোর অনুপ্রবেশের কারণে পরিবারগুলোর সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন চরম হুমকির মুখে পড়ে, তবে আমরা আগেই যেমন বলেছি, নারীদের স্বাস্থ্যেরও ভয়ানক ক্ষতি হয়। আমাদের মতে, অনেক স্নায়বিক ব্যথার এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে আমরা যেসব নারীকে প্রশ্ন করেছি, তাদের অনেকেই এই মতকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু যেটি আমাদের কাছে অবিসংবাদিত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তা হলো জরায়ুর সমস্যা, বিবাহিত নারীদের স্নায়বিক দুর্বলতা এবং দাম্পত্য জীবনে অবিবাহিত তরুণীদের মতো হিস্টিরিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া। স্বামীদের দাম্পত্য জীবনের বদভ্যাসই এর কারণ। তাছাড়া আরও একটি মারাত্মক রোগ প্রতিদিন বাড়ছে। এর বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এটি দ্রুত একটি মহামারির আকার নেবে। আমরা জরায়ুর ক্ষয়রোগের কথা বলছি। এই ভয়ংকর রোগের কারণগুলোর মধ্যে আমরা সভ্যতার নামে আসা নতুন নতুন অভ্যাস এবং বিশেষ করে আজকাল প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নানা কৌশলকে সবার ওপরে রাখতে দ্বিধা করি না। প্রজনন না হলেও প্রজনন ক্ষমতা উত্তেজিত হলে আমরা এসব ছদ্ম-রোগের উদ্ভব হতে দেখি। তাই পতিতাদের মধ্যে জরায়ুর পলিপ এবং স্কিরাস [ক্যানসার] সাধারণত বেশি দেখা যায়। আমরা যদি বিবেচনা করি যে কীভাবে শুক্রাণু নির্গমন এবং জরায়ুর মুখে এর স্পর্শ নারীর জন্য প্রজনন কাজের চরম তৃপ্তি হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক ও মানসিক আবেগকে শান্ত করে পুরো শরীরকে শিথিল করে দেয়, তবে এই রোগ সৃষ্টির পেছনের কারণ বোঝা সহজ হয়।" ** পৃ. ২৫৩-২৫৪ * নিচের লেখাটি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছ থেকে নেওয়া, যিনি বহু বছর ধরে নারীদের রোগের প্রতি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন এবং একটি নামকরা মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন: <br> "এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শারীরিকভাবে ক্ষতিকর। এগুলোর কিছু কিছু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ যৌন মিলনের কারণে উভয় পক্ষের যে ক্ষতি হয়, তা বুঝতে ইচ্ছুক যে কারও কাছেই এটি পরিষ্কার করা হয়েছে। ঠান্ডা পানিতে ধোওয়া, অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট আধান এবং নানা ধরনের ওষুধের মিশ্রণ মেশানো ধোওয়ার পানির সাধারণ ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকটি বুঝতে কারও খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ফুলে ওঠা এবং ঘা হয়ে যাওয়া কোনো অঙ্গে ঠান্ডা পানি যতই সহজ এবং আশ্চর্য রকম উপকারী হোক না কেন, খুব কম মানুষই বাত বা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হাঁটু বা এরিসিপেলাসে আক্রান্ত মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতে সাহস করবেন। <br> ... অথচ যৌন মিলনের সময় যখন স্নায়বিক ও শারীরিক উত্তেজনার পারদ চরমে থাকে এবং এই কাজে জড়িত অঙ্গগুলো রক্তে ভরে ওঠে, তখন কি আপনি মনে করেন যে কোনো ক্ষতি ছাড়াই আপনি শরীরের ভেতরে ক্রমাগত ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি ঢালতে পারবেন? প্রায়শই নারীরা শুক্রাণুর জীবাণুগুলোকে তাদের স্বাভাবিক কাজ শেষ করার আগেই গলিয়ে ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব শক্তিশালী অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হঠাৎ করে অঙ্গগুলোর গ্রন্থিযুক্ত গঠনকে সংকুচিত করে ও বন্ধ করে দেয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর শেষ পরিণতি হলো দুর্বলতা ও ক্লান্তি, যা লিউকোরিয়া, প্রোল্যাপস এবং অন্যান্য রোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৫৪-২৫৫ * "সবশেষে, পাতলা রাবার বা গোল্ডবিটার স্কিন দিয়ে তৈরি আবরণগুলোর কথা বলতে হয়, যা প্রায়শই পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কথিত আছে যে মাদাম দ্য স্ট্যাল এদের সম্পর্কে বলেছিলেন, 'এগুলো সুরক্ষার জন্য মাকড়সার জাল এবং ভালোবাসার বিরুদ্ধে প্রাচীর।' এসবের ব্যবহার নিশ্চিতভাবেই এমন এক লজ্জা ও বিরক্তির জন্ম দেয়, যা পবিত্র হৃদয় ও বিশুদ্ধ অনুভূতির সত্যিকারের আনন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এগুলো লম্পট ও পতিতালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলো মানুষের সত্যিকারের অনুভূতি এবং পবিত্র দাম্পত্য জীবনকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে আনে। তাছাড়া যে সুরক্ষার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়, খুব সীমিত পরিসর ছাড়া এরা সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। উপরন্তু, এগুলো বাইরের বস্তু হিসেবে বিরক্তি তৈরি করে শরীরে কিছু ক্ষত সৃষ্টি করে (যেমনটি সেরা আধুনিক ফরাসি লেখকরা দাবি করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এদের প্রভাব সম্পর্কে বেশি জানেন)। এগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং এগুলো ব্যবহারের সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবও প্রায়শই মারাত্মক আকার ধারণ করে। <br> "আমি এসব মাধ্যম নিয়ে আর বেশি কথা বলব না। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সাথে খেলা করা এবং প্রকৃতির পবিত্র অধিকারগুলোকে প্রতারণা ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা—ব্যবহৃত উপায়গুলো যত সহজই মনে হোক না কেন—যে কত বড় দায়িত্ব নেওয়া এবং কতটা ভয়ংকর ঝুঁকি, তা বোঝানোর জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট। জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা হোক বা রাস্তায় পড়ে থাকা বিশাল পাথর, কোনো ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ যা-ই হোক না কেন, তার পরিণতি একই এবং ক্ষতিও সমান। এসব শারীরিক প্রতারণার ফল হলো নৈতিক অবক্ষয়, শারীরিক অক্ষমতা, অকাল ক্লান্তি ও বার্ধক্য। এগুলো আমাদের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রতিদিনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, 'সততাই সেরা নীতি।'" ** পৃ. ২৫৫-২৫৬ * প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এসব পাপের প্রভাব অনেক সময় ঘটনার কয়েক বছর পরও বোঝা যায় না। এমনকি যখন বোঝা যায়, তখনও খুব কম ক্ষেত্রেই আসল কারণটিকে দোষ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি মানুষ বহু বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু একবারও সন্দেহ করেনি যে তাদের এই কষ্টের কারণ প্রকৃতির নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এভাবে তৈরি হওয়া জরায়ুর রোগগুলো এই শ্রেণির সবচেয়ে জেদি রোগ। এগুলো প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক মারাত্মক হয়। ফিলাডেলফিয়ার ডা. উইলিয়াম গুডেল সম্প্রতি এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, গর্ভধারণ রোধ করার চেষ্টা করা ডিম্বাশয়ের প্রোল্যাপসের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, যা খুবই পরিচিত এবং যন্ত্রণাদায়ক রোগ। কখনো কখনো সহানুভূতি থেকে বা আশপাশের অঙ্গগুলোতে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঙ্গ, বিশেষ করে মূত্রাশয় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। <br> আমরা প্রায়শই যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, যারা এসব চর্চা করেছে, তাদের বোঝানো যে এটি আত্মা ও শরীর উভয়ের বিরুদ্ধেই কত বড় পাপ। সব সতর্কতা এবং হয়তো ভোগান্তির পরও, প্রায়শই এই প্রথা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। খুব বেশি ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নিয়মের প্রতি এই অনীহা একজন স্বার্থপর স্বামীর অনুভূতিহীন ও অযৌক্তিক দাবির কারণে ঘটে থাকে। ** পৃ. ২৫৭-২৫৮ * নিজেদের দেওয়া শারীরিক কাঠামোর অখণ্ডতা নষ্ট করার কী নৈতিক অধিকার নারী বা পুরুষের আছে, যার জন্য তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য? অবশ্যই কোনো অধিকার নেই। কারণ যে মানুষ নিজেকে তিলে তিলে ধ্বংস করে, সে গলা কেটে বা মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা ব্যক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম খুনি নয়। অপরাধ একই—মানুষের জীবন ছোট করা—তা নিজের ক্ষতি করা হোক বা অন্যের। এই বিষয়ে অন্তত তিনজন ভুক্তভোগী থাকেন; স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তান। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভবত স্বামী একাই এই পাপের জন্য দায়ী। ** পৃ. ২৬০ * আগেই দেখানো হয়েছে যে, নারীদের ডিম্বাণু এবং পুরুষদের শুক্রাণু—এই দুটি উপাদানের প্রাথমিক রূপেই মানবদেহ তৈরির সব উপাদান থাকে। একা এর কোনোটিই নিজের বর্তমান অবস্থার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে না। তবে যেই মুহূর্তে এই দুটি উপাদান মিলিত হয়, তখনই নিষিক্তকরণ ঘটে এবং ব্যক্তিজীবনের শুরু হয়। সেই মুহূর্ত থেকে বছরখানেক পর পরিণত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শুধুই বিকাশের। পরের কোনো মুহূর্তেই একদম নতুন কিছু যোগ হয় না। এসব তথ্য বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, গর্ভধারণের ঠিক মুহূর্তটিতেই ভ্রূণাবস্থায় থাকা মানবশিশু জীবনের সম্পূর্ণ অধিকার লাভ করে। এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র মানবশিশু, যার আত্মা ও শরীর রয়েছে, যদিও তা অত্যন্ত অপরিপক্ব। প্রজনন কাজের সময় গর্ভধারণ হতে পারে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বা এরপর গর্ভধারণ রোধ করার জন্য কোনো উপায় ব্যবহার করা হলে এবং তা সফল হলে, তা এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া গর্ভধারণের সেই সূক্ষ্ম পরিণতিকে ধ্বংস করেই হয়। যা আগে বলা হয়েছে, এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব—নিশ্চিতভাবেই জন্মের আগের যেকোনো সময়ের মতো স্বাধীন। <br> মানুষের জীবন নেওয়া কি অনৈতিক? শিশু হত্যা কি পাপ? জন্মের সময় কোনো শিশুকে শ্বাসরোধ করে মারা কি অপরাধ? মায়ের গর্ভে থাকা অর্ধগঠিত কোনো মানবশিশুকে ধ্বংস করা কি খুনের পর্যায়ে পড়ে? কে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর 'না' দেওয়ার সাহস করবে? তাহলে প্রজনন কাজের সবচেয়ে সাম্প্রতিক পরিণতিকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যে সমানভাবেই একটি খুন, তা কে অস্বীকার করতে পারে? <br> অস্তিত্বের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সংঘটিত অসংখ্য খুনের হিসাব কে রাখতে পারে? কিছু মানুষের আত্মার ওপর থাকা এই অপরাধবোধের বোঝা কে পরিমাপ করতে পারে? আর কে জানে এভাবে কতগুলো উজ্জ্বল আলো শুরুতেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে? কত প্রতিশ্রুতিশীল মানব চারা গাছকে অঙ্কুরিত হওয়ার সময়ই নির্মমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? এটি কি আশা করা যায় যে, শেষ বিচারের দিন ন্যায়ের পাল্লায় অজ্ঞতার অজুহাত এই অগণিত খুনের অকাট্য প্রমাণের চেয়ে বেশি ভারী হবে? ** পৃ. ২৬২-২৬৩ * এটি দাবি করা হবে যে এই প্রাথমিক ধ্বংসগুলো খুন নয়। খুন একটি ভয়ানক শব্দ। কাজ হিসেবে এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এর ব্যক্তিগত দায়ভার সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যে মানুষ এই অভিযোগ থেকে পিছপা হবে না, সে মানুষের নামের অযোগ্য—বরং সে আস্ত একটি পশু। তবুও বাস্তবতাকে সরাসরি দেখা এবং একটি আলোকিত বিবেকের সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা না হওয়া প্রয়োজন। আমরা এমন একটি লেখার অংশ উদ্ধৃত করছি, যা আমরা অন্য জায়গায় পুরোটা দিয়েছি। এটি সেই একই বিশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া, যার উদ্ধৃতি আমরা আগেও দিয়েছি: <br> "বস্তুতপক্ষে, গর্ভধারণের পর এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন বলা যায় যে শিশুটির প্রাণ নেই। আর নড়াচড়া করার আগেই মানুষের জীবন ধ্বংস করা নড়াচড়ার পরের সময়ের মতোই জঘন্য ও নিশ্চিত অপরাধ। কিন্তু আপনি হয়তো আপনার ভয়ংকর কাজটির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলবেন: 'ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলছেন, যদি এটি কেবল প্রাণীজীবন হয়, যা বড়জোর সাধারণ জীবনীশক্তির সমান, তবে এখানে কোনো মন বা আত্মা ধ্বংস করা হচ্ছে না। তাই এতে কোনো অপরাধ নেই।' পৃথিবীতে থাকা সব ডিম ধ্বংস করে সব পাখিকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা যতটা নিশ্চিত, আপনার এই কাজের মাধ্যমে ডিম্বাণুর ভেতরে থাকা মানবশিশু ও তার ভেতরের আত্মাকে ধ্বংস করাও ততটাই নিশ্চিত। ... <br> খুন সব সময়ই পাপের। আর খুন হলো যেকোনো পর্যায়ে থাকা মানুষের ইচ্ছাকৃত ধ্বংসসাধন। তা প্রাথমিক ভ্রূণাবস্থা থেকে শুরু করে বয়সের ভারে নুব্জ ও সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্যহীন থাকা সাধারণ প্রাণীজীবন—যেকোনো অবস্থাতেই হতে পারে।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৬২-২৬৩ * '''অসুবিধা:''' বিবাহিতরা চিৎকার করে বলে উঠবেন, "আমরা কী করব?" দুর্বল মায়েদের যাদের কাঁধে আগে থেকেই অনেক সন্তানের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের শরীর আর গর্ভধারণের কষ্ট ও বোঝা বইতে সক্ষম নয়, অথচ তাদের কামুক স্বামীরা শারীরিক মিলনের দাবি করেই চলেছেন—তারা এই সত্য মেনে নিয়েই হতাশার সুরে প্রশ্ন করবেন, "আমরা কী করব?" আমরা প্রথমে পরের দলটির প্রশ্নের উত্তর দেব। বিখ্যাত ইংরেজ যুক্তিবিদ মিস্টার মিল, তার "দ্য সাবজেকশন অব উইমেন" বইয়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণাটি এভাবেই তুলে ধরেছেন: "স্ত্রীকে যতই নিষ্ঠুর এক স্বৈরাচারীর সাথে বেঁধে রাখা হোক না কেন—এমনকি সে যদি জানে যে তার স্বামী তাকে ঘৃণা করে, তাকে নির্যাতন করাই যদি স্বামীর নিত্যদিনের আনন্দ হয় এবং তাকে ঘৃণা না করাটা যদি তার কাছে অসম্ভব মনে হয়—তবুও স্বামী জোর করে তার ওপর এমন পাশবিক কাজ চালাতে পারে, যা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, আর এই কাজ একজন মানুষকে সবচেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দেয়।" ** পৃ. ২৬৩-২৬৪ * '''নারীর অধিকার:''' বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী তার সব ব্যক্তিগত অধিকার বিসর্জন দেয় না। স্বামী স্ত্রীকে মারধর করলে বা কোনোভাবে শারীরিক আঘাত করলে বা এমনকি অবহেলা করলেও আইন তা স্বীকার করে। তাহলে অন্য কোনো নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার সে কেন পাবে না? বা অন্তত পাশবিক লালসার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে সে কেন অস্বীকার করতে পারবে না? বিয়ের পরও সে তার নিজের শরীরের মালিক থাকে। ন্যায়বিচার, সাম্য এবং এমনকি নৈতিকতার জ্ঞান হারিয়ে কে এমন দাবি করতে পারে যে, তার নিজের শরীরের ওপর জোর খাটানোর অনুমতি দেওয়ার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা তার আছে? ** পৃ. ২৬৪ * '''কী করতে হবে:''' এবার প্রথম দলের প্রশ্নের উত্তরে আসি। বিবাহিত দম্পতিরা মিলে গর্ভধারণ রোধের সব উপায় ছেড়ে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। এর আসল ও স্বাভাবিক সমাধান সম্ভবত 'ইন্দ্রিয়দমন' এবং 'দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি' শিরোনামের নিচে দেওয়া পরামর্শগুলোতে পাওয়া যাবে। সেখানে বলা নীতিগুলো মেনে জীবনযাপন করলে এসব এবং এর মতো আরও হাজারো সমস্যা এড়ানো যাবে। এতে শারীরিক আনন্দ কম থাকলেও আধ্যাত্মিক আনন্দ অনেক বেশি থাকবে। পাশবিক ভালোবাসা কম হলেও আধ্যাত্মিক মিলন বেশি হবে। স্থূলতা কমবে, পবিত্রতা বাড়বে। পাশবিক বিকাশ কম হবে এবং সদ্গুণ, পবিত্রতা ও সমস্ত খ্রিষ্টীয় গুণাবলি চর্চার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। <br> "তবে মৃত্যুর আগে এমন জীবনযাপন অসম্ভব।" যারা পরীক্ষা করে দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এমনটা ভাবেন। শেকার সম্প্রদায় এমন নীতিগুলো শুধু শেখায় না, বরং নিজেরাও চর্চা করে বলে দাবি করে। আগে বলা ইন্দ্রিয়দমনের জোরালো সহায়ক উপায়গুলোর মাধ্যমে এটিকে যতটা কঠিন ভাবা হয়, বাস্তবে তা ততটা কঠিন না-ও হতে পারে। ** পৃ. ২৬৫ * '''আপস:''' অনেকে, হয়তো বেশিরভাগ মানুষই, প্রকৃতির এই শিক্ষা মেনে নিতে পারবে না যে শারীরিক মিলনকে কেবল প্রজননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যরা সত্যকে মেনে নিয়ে বলবেন যে "আত্মা ইচ্ছুক" হলেও "শরীর দুর্বল"। তারা জিজ্ঞেস করবেন, "বর্তমান জীবনযাপনের এই মারাত্মক ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচার জন্য কি কোনো আপস করা যায় না?" তারা হয়তো নিচের তথ্যগুলোতে একটি ভালো উপায় বা অন্তত সেরা উপায়ের ধারণা খুঁজে পেতে পারেন। যদিও একে পুরোপুরি বিপদমুক্ত বা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায় বলা যায় না: <br> "নারীদের ঋতুস্রাব গর্ভধারণের উপযুক্ততার প্রমাণ দেয়। স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর ছয় থেকে আট দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকে। কেবল এই সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করতে পারে। ঋতুস্রাব শুরুর পর থেকে বারো দিন পার হতে দিন, এরপর গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এই সময় ইন্দ্রিয়দমন স্বাস্থ্যকর, নৈতিক এবং দোষমুক্ত।" <br> ওপরের কথার সাথে এটি যোগ করা উচিত যে, প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি গর্ভধারণ থেকে বাঁচার কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। ইন্দ্রিয়দমনের এই সময় ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত চৌদ্দ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়া উচিত। যুক্তিসংগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্রাব শুরুর তিন বা চার দিন আগে থেকে আরও সংযম পালন করা দরকার। <br> অনেক লেখক আরেকটি পরামর্শ দেন যা নিশ্চিতভাবেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত আলাদা বিছানায় ঘুমানো। এমন অভ্যাস নিঃসন্দেহে যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। আলাদা ঘর, বা অন্তত পর্দা দিয়ে বিছানা আলাদা করার পরামর্শ কিছু সম্মানিত চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, এমন পদ্ধতি উভয় পক্ষকেই সঠিকভাবে সকালে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ দেবে এবং সেই স্বাভাবিক লজ্জাবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করবে যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ ঠেকাতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে কাজ করে। অনেকেই পরামর্শটি ভালো মনে করবেন এবং বাস্তব জীবনে কাজে লাগাবেন। সিঙ্গল বিছানায় ঘুমানোর প্রথাটি ইউরোপের উচ্চবিত্তদের মাঝে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বলে শোনা যায়। ** পৃ. ২৬৭ * "যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিষ্কার উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি। ... বৈধ কারণ ছাড়া এই কামনা বা অন্য কোনো আবেগের তৃপ্তি ঘটানো নিঃসন্দেহে প্রকৃতির নিয়মের লঙ্ঘন। প্রকৃতির নিয়ম বিবেচনা করে এবং এর ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও শারীরিক ক্ষতি থেকে এটি বোঝা যায়।" <br> "যেসব প্রাণীর ভুল করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিখুঁত প্রবৃত্তি রয়েছে এবং যাদের ভালো-মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নেই, তারা কেবল নির্দিষ্ট সময়েই মিলিত হয়, যখন আনন্দ এবং বংশবৃদ্ধি দুটোই সম্ভব। তাদের জন্য এভাবেই ঠিক করা হয়েছে যে উদ্দেশ্য ও উপায় কখনোই আলাদা হবে না। যেহেতু সর্বজ্ঞানী ঈশ্বর তাদের এই প্রবৃত্তি দিয়েছেন এবং অন্য কোনোভাবে কাজ করার ক্ষমতা না দেওয়ায় তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাই এটি পরিষ্কার যে এটি 'তাঁর আইন'। একই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং একই উদ্দেশ্যের অধিকারী সবার জন্যই এই আইন মেনে চলা উচিত। কেবল মানুষ এই আইন মানবে কি মানবে না সেই স্বাধীনতা পেয়েছে বলেই, এর মানে এই নয় যে তারা সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বা অবাধ্যতার ফল ভোগ করার হাত থেকে বেঁচে যাবে।" <br> "যেহেতু যৌন আনন্দের উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি, তাই ওপরের আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে যৌন ক্রিয়াকে এর আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ বংশবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, বা যদি বংশবৃদ্ধি অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও উপায়টি ব্যবহার করা হয়, তবে ক্ষতি অবধারিত।" <br> "দাম্পত্য জীবনে লাগামহীন যৌন মিলনে দোষের কিছু নেই—এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব কম নয়। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে অবাধ স্বাধীনতার মতো মনে করা হয়, যেখানে কোনো বাধা থাকার দরকার নেই বলে ধরা হয়। তবুও যখন উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব কেবল তখনই আনন্দ নেওয়া যাবে—এই নিয়মে যদি সামান্যতম সত্যতাও থাকে, তবে অন্যান্য যেকোনো শারীরিক আনন্দের মতো দাম্পত্য জীবনেও এই আনন্দ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। <br> "সবচেয়ে সভ্য সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আইনে নিষেধ নেই এমন কিছু পাপ বা ভুল হতে পারে না। গর্ভকালীন সময়ে সহবাসের ওপর তারা কোনো নিষেধ দেখেনি। এমন অভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য ও দৈহিক বিকাশের যে ক্ষতি হয়, সেদিকেও তাদের নজর যায়নি। ফলে সারা জীবন ধরে এই বিষয়ে তাদের আচরণ নির্ধারিত হয়েছে কেবল নিজেদের ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে। <br> "বিবাহিত জীবনে এই নিয়ম ভাঙলে স্বামীর কোনো বড় শারীরিক ক্ষতি হয় না। দুর্বলতা, ব্যথা, পেশিতে টান ধরা এবং মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি কখনো কখনো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফল হিসেবে দেখা যায়। তবে একটি বড় ক্ষতি হলো অবাধ স্বাধীনতার কারণে ধীরে ধীরে যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাওয়া। এভাবেই সাধারণ অর্থে যারা সম্পূর্ণ ধার্মিক, এবং যারা অবাধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে—উভয় পক্ষের মধ্যেই কামুক রক্ত লালন করা হয়। <br> "বিবাহিতদের মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্ত্রী এবং সন্তান। প্রাণিজগতের বিষয়টি বিবেচনা করলে এর আংশিক কারণ বোঝা যায়। প্রাণিজগতে কখন পুরুষ প্রাণীটি কাছে আসবে তা স্ত্রী প্রাণীটি ঠিক করে। অসময়ে পুরুষটি এগোলে স্ত্রী প্রাণীটির সহজাত প্রবৃত্তি তাকে চরম আক্রোশে রুখে দাঁড়াতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য করে। প্রকৃতি তার প্রতিটি কাজেই যে বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তা যারা সামান্যও জানেন, তারা সন্দেহ করবেন না যে গর্ভাবস্থায় সব প্রাণীর যৌন মিলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই কোনো ভালো ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আর যদি এটি তাদের জন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য পূরণ করে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে বিপরীতটা কেন খারাপ উদ্দেশ্য পূরণ করবে না? আমাদের শারীরিক গঠন ও কাজ অনেকটাই তাদের মতো। আর প্রজনন পদ্ধতি ও নিয়মের ক্ষেত্রে তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। ওই সময়ে তাদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ক্ষমতা আমাদের আছে বলেই সেটি সঠিক হয়ে যায় না। "মানুষের ঠিক-ভুল বোঝার কোনো সহজাত প্রবৃত্তি না থাকায়, অন্যান্য অনেক কাজের মতো সহবাসের বিষয়টিও যুক্তি বা ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বা বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিকতার ওপর। কারণ এই বিষয়ে কী সঠিক এবং কী গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে যুক্তির পরামর্শ নেওয়া হয় না বা তাকে আলোকিত করা হয় না। প্রকৃতির নিয়মে, প্রবৃত্তিগতভাবেই কখন পুরুষের আগমন গ্রহণযোগ্য হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায়। <br> "কিন্তু কেউ কেউ বলতে পারেন যে এই বিষয়ে সে অসহায়। বিয়ের আগে কেউ তার অনুমতি ছাড়া কাছে আসার সাহস করে না; তাহলে বিয়ের পরও এই সম্মানের জায়গাটি তৈরি করার জন্য পুরুষদের কেন শিক্ষিত করা হবে না? স্ত্রী তার দাসীও নয়, সম্পত্তিও নয়; অথবা বিয়ের বন্ধন তাকে কোনো অস্বাভাবিক দাবি পূরণে বাধ্য করে না।" ** "দ্য টেন লজ অব হেলথ", উদ্ধৃতি পৃ. ২৬৭-২৭১ * '''আধুনিক কোনো অপরাধ নয়'''—যদিও আধুনিক যুগে এই অপরাধ বিশাল আকার ধারণ করেছে, তবুও এটি কোনোভাবেই নতুন কোনো অপরাধ নয়, তা নিচের অনুচ্ছেদ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে:— <br> "রোমান, মেডেস, কেনানাইট, ব্যাবিলনীয় এবং অন্যান্য প্রাচ্যের দেশগুলোতেও শিশুহত্যা এবং তাদের ফেলে আসা একটি প্রথা ছিল। কেবল ইসরায়েলি এবং মিসরীয়রা এর ব্যতিক্রম ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা নিছক খেয়ালের বশে তাদের সন্তানদের হত্যা করত। নরওয়েজিয়ানরা তাদের সন্তানদের যত্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে মুখে একটু খাবার দিয়ে গাছের শিকড় বা পাথরের নিচে রেখে আসত, যাতে বন্য পশুরা তাদের খেয়ে না ফেলে। চীনাদের মধ্যেও শিশুহত্যার অনুমতি ছিল। গত শতাব্দীতেও আমরা দেখেছি পেকিনের রাস্তায় প্রতিদিন মৃত শিশুদের লাশ কুড়ানোর জন্য গাড়ি ঘুরত। আজ বাবা-মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেখানে এতিমখানা রয়েছে। জাপানে, দক্ষিণ মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে, ওতাহেইটে এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বন্য জাতির মধ্যেও একই প্রথা দেখা যায়। গিনির জ্যাগাররা নিজেদের সন্তানদের খেয়ে ফেলে বলে শোনা যায়।" <br> গ্রিকরা পরিকল্পিতভাবে শিশুহত্যা করত। একসময় তাদের আইনে পঙ্গু বা দুর্বল শিশুদের মেরে ফেলার নির্দেশ ছিল। বিভিন্ন জাতির মধ্যে এই অপরাধের মূল উদ্দেশ্য মনে হতো সন্তান লালন-পালনের ঝামেলা এড়ানো বা অতিরিক্ত জনসংখ্যা কমানো। যারা বর্তমানে এই অপরাধগুলো করে, তাদের উদ্দেশ্যের চেয়ে এটি খুব একটা আলাদা নয়। <br> মায়ের পেটে শিশুটি নড়াচড়া করার পর তাকে ধ্বংস করাকে ইনফ্যান্টিসাইড বা শিশুহত্যা বলা হয়; আর এর আগের সময়ের ঘটনাটিকে সাধারণত অ্যাবরশন বা গর্ভপাত বলা হয়। শিশুটি নড়াচড়া করার আগে তার কোনো আত্মা বা ব্যক্তিগত জীবন থাকে না—এটি একটি আধুনিক ধারণা। এই ভুল ধারণাটি আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি। প্রাচীনকালের মানুষেরা সমান যুক্তি দিয়েই দাবি করত যে জন্মের আগে শিশুর কোনো আলাদা জীবন থাকে না। এ কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা নির্দ্বিধায় শিশুহত্যা করত। "প্লেটো এবং অ্যারিস্টোটল এই প্রথার সমর্থক ছিলেন। এই স্টোইক দার্শনিকরা এই ভয়ংকর প্রথার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলতেন যে, জরায়ুর জীবন শেষ করে শিশুটি যখন শ্বাস নিতে শুরু করে, কেবল তখনই সে আত্মা লাভ করে। এর ফলে তাদের যুক্তি দাঁড়ায়, শিশুটির যেহেতু জীবন নেই, তাই তাকে ধ্বংস করা কোনো খুন নয়।" ** পৃ. ২৭২-২৭৪ 91grdog5ws6e3k6yxec8ui9y4rbrtcp 76690 76686 2026-04-14T13:49:49Z NusJaS 273 76690 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫২ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩) {{w|মিশিগান|মিশিগানের}} ব্যাটল ক্রিকের একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." * গত কয়েক বছর ধরে দেশে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল সাহিত্য নৈতিকতার আরেকটি বড় শত্রু। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এসব প্রচারক রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিচের উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের সামগ্রী ধ্বংস করে এই অবৈধ ব্যবসা দমনের জন্য ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন:<br> "নিচের বিবৃতি থেকে আপনারা দেখতে পাবেন, আমি এই বহুরূপী দানবের একটি অংশ আংশিকভাবে উন্মোচন করতে পেরেছি। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণটি বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে। আমি এগুলো বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করেছি:<br> "এক লক্ষ বিরাশি হাজারের বেশি অশ্লীল ছবি, স্টেরিওস্কোপিক এবং অন্যান্য ছবি; পাঁচ টনের বেশি অশ্লীল বই এবং পুস্তিকা; একুশ হাজারের বেশি মুদ্রিত অশ্লীল চিঠির পাতা; পাঁচ হাজারের বেশি অশ্লীল মাইক্রোস্কোপিক ঘড়ি, ছুরির লকেট এবং আংটি; ছবি ও স্টেরিওস্কোপিক দৃশ্য ছাপানোর জন্য প্রায় ছয়শ পঁচিশটি অশ্লীল নেগেটিভ প্লেট; তিনশ পঞ্চাশটি অশ্লীল খোদাই করা স্টিল ও তামার প্লেট; কুড়িটি অশ্লীল লিথোগ্রাফিক পাথর ধ্বংস করা হয়েছে; পাঁচশটির বেশি অশ্লীল কাঠের খোদাই; অশ্লীল বই ছাপানোর জন্য পাঁচ টনের বেশি স্টেরিওটাইপ প্লেট; প্রায় ছয় হাজার অশ্লীল স্বচ্ছ তাস; ত্রিশ হাজারের বেশি অশ্লীল ও অনৈতিক রাবারের জিনিসপত্র; রাবারের জিনিস তৈরির জন্য বারো সেট বা সাতশ পাউন্ডের বেশি সিসার ছাঁচ; প্রায় চার হাজার ছয়শটি বাজেয়াপ্ত করা সংবাদপত্র; এসব পণ্য অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পনেরো হাজার চিঠি; বাজেয়াপ্ত করা হিসাবের খাতায় প্রায় ছয় হাজার ডিলারের নাম; বাজেয়াপ্ত চিঠি ও হিসাবের খাতা বাদেও ডিলারদের হাতে থাকা সাত হাজারের বেশি নামের তালিকা, যা প্রচারপত্র বা ক্যাটালগ পাঠানোর জন্য পণ্য হিসেবে বিক্রি হয়; এবং ১৮৭১ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে পঞ্চাশ জনের বেশি ডিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" <br> "এই লোকগুলো প্রথমে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং পরে প্রচারপত্র পাঠিয়ে এসব জঘন্য জিনিস ছড়ায়। তারা এই পদ্ধতিতে হাজার হাজার নাম সংগ্রহ করে। কখনো কোনো সন্তানকে সেখানে ভর্তি করানোর ভান করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ক্যাটালগ আনিয়ে নেয়। আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল-কলেজের সব পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীর ডিরেক্টরি তৈরি করার, বা অবিবাহিতদের আদমশুমারি করার কথা বলে প্রচারপত্র পাঠায়। এমনকি এমন তালিকা পাঠানোর জন্য নামপ্রতি পাঁচ সেন্ট দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। আমার বলার অপেক্ষা রাখে না, এই টাকা খুব কমই পাঠানো হয় বা একেবারেই পাঠানো হয় না। তবে বিজ্ঞাপনের জবাবে আসা নামগুলোর পাশাপাশি এই নামগুলোও অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে কেউ এই জঘন্য ব্যবসায় নামতে চাইলে তাকে শুধু ওই নামের তালিকা কিনলেই চলে। তখন আপনার অজান্তেই আপনার ছেলে বা মেয়ের হাতে এসব শয়তানি ক্যাটালগ চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।" ** পৃ. ১৮৬-১৮৮ * ডা. লুইসের উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় সি এল মেরিয়াম বলেন: "আমরা দেখতে পেয়েছি, অশ্লীল সাহিত্যের ডিলাররা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। এগুলোর দায়িত্বে থাকে স্কুলের সবচেয়ে বখাটে ছেলেরা। বিক্রেতারা এই ছেলেদের বেছে নিয়ে টাকা দেয়। তারা নিউইয়র্ক সিটিতে এর আগে প্রকাশিত একশ চুয়াল্লিশটি অশ্লীল বইয়ের যেকোনোটি খণ্ডপ্রতি দশ সেন্টের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।" ** পৃ. ১৮৮ * তবে এটি একটি বেদনাদায়ক সত্য, আইনের আওতায় থাকা প্রতিটি বাজে বই পুরোপুরি ধ্বংস করলেও এই অপকর্মের প্রতিকার হবে না। কারণ আমাদের আধুনিক সাহিত্যও একই ভাইরাসে পূর্ণ। এটি অপরিহার্যভাবে কম জঘন্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। সুন্দর কল্পচিত্র দিয়ে এটি অর্ধেক ঢাকা থাকে বা রসিকতা দিয়ে সাজানো থাকে। তবুও এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং কোনো আইন এর নাগাল পায় না। সাহিত্যের মানসম্মত লেখকদের রচনায় অশ্লীলতার ছড়াছড়ি রয়েছে। সম্প্রতি যেসব অশ্লীল সাহিত্য দমনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো নিঃসন্দেহে তার চেয়েও বেশি তরুণদের মনে কামুক কৌতূহল জাগাতে এবং আবেগ ও অনৈতিকতাকে উসকে দিতে এবং লালন করতে ভূমিকা রেখেছে। পাপের দৃশ্যগুলো যত নিখুঁতভাবে আঁকা হয়, সেগুলো তত বেশি বিপজ্জনকভাবে প্রলুব্ধকর হয়ে ওঠে। উপন্যাস পড়া হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ১৮৮-১৮৯ * '''অলসতা:''' এই অপকর্মটি সাধারণত আগেরটির সাথে যুক্ত থাকে। পবিত্রতা বজায় রাখতে মনকে ব্যস্ত রাখতে হবে। কাজ না থাকলে এই শূন্যতা দ্রুত অপবিত্র চিন্তায় ভরে যায়। অলসতার মাঝে বেড়ে ওঠার চেয়ে সন্তানের জন্য খারাপ কিছু হতে পারে না। এতে তার নৈতিকতা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিরাম মানসিক ব্যস্ততাই অপবিত্রতার বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ। যেসব অকর্মণ্য বাবু বারে আড্ডা দিয়ে, রাস্তার মোড়ে ঘুরে বেড়িয়ে বা রাজপথে সদম্ভে হেঁটে সময় নষ্ট করে জীবন কাটায়, তারা আর যাই হোক পবিত্র নয়। একইভাবে যেসব অকর্মণ্য যুবতী সোফা বা ইজিচেয়ারে বসে কোনো বোকাটে উপন্যাস পড়ে জীবন পার করে দেয় বা দিবাস্বপ্ন দেখে জীবনের মূল্যবান সময় অলসভাবে কাটায়, তারা খুব কমই মানুষের ধারণায় থাকা পবিত্রতার আদর্শ হয়। যদি কারও জন্মগতভাবে পাপের প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, তবে এমন জীবন খুব দ্রুত একটি অসুস্থ ও অপবিত্র কল্পনার জন্ম দেবে। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * '''পোশাক এবং কামুকতা:''' দুটি উপায়ে ফ্যাশনেবল পোশাক অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়। যথা: ১. এর অপচয় বা অতিরিক্ত মূল্যের কারণে; ২. শরীরের অপব্যবহারের মাধ্যমে। <br> অপচয় কীভাবে অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়? এটি পাপের প্রলোভন তৈরি করে। যারা চমৎকার ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, অভিজাত বাদামি পাথরের বাড়িতে বাস করে এবং অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সব ধরনের বিলাসবহুল জিনিসপত্রে পরিবেষ্টিত থাকে, সেসব জমকালো পোশাক পরা নারীদের এটি প্রভাবিত করে না। কারণ দামি পোশাক তাদের জন্য কোনো প্রলোভন নয়। কিন্তু কম সুবিধাপ্রাপ্ত অথচ সমান যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের কাছে এসব সুন্দর পোশাক ও জমকালো সাজসজ্জার প্রদর্শনী অত্যন্ত শক্তিশালী প্রলোভন। কঠোর পরিশ্রম করে কোনোমতে নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানো গরিব নারী দর্জির কোনো বৈধ প্রশংসাকারী থাকে না। সৎ থেকে নিজের সতীত্ব বজায় রাখতে গেলে তাকে সাধারণ পোশাক পরতে হয়। তখন তার অহংকারী বোনেরা তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। সে সর্বত্র দেখতে পায়, পোশাকই একজন নারীকে ভদ্রমহিলা হিসেবে গড়ে তোলে—এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। রাস্তায় কেউ তাকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেয় না। তার ক্লান্ত হাত থেকে ফসকে পড়ে যাওয়া প্যাকেটটি তুলে দিতেও কেউ এগিয়ে আসে না। ক্লান্তিতে কাঁপতে থাকা অবস্থায় সে কোনো ভিড় ট্রেনে উঠলেও কেউ তাকে বসার জায়গা দেয় না। অথচ তার পেছনে আসা জমকালো পোশাক পরা নারীকে সঙ্গে সঙ্গেই জায়গা করে দেওয়া হয়। সে এই পার্থক্য খেয়াল করে। অপরিচিতদের সম্মান বা সমীহ পাওয়ার আশায় সে পরিণতি নিয়ে না ভেবেই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ১৯০-১৯১ * নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমাদের বড় শহরগুলোতে শত শত যুবতী আছে, যারা খাবার ও জ্বালানি কেনার পাশাপাশি একটি স্যাঁতসেঁতে চিলেকোঠার ভাড়া মেটানোর মতো সামান্য টাকা আয় করতে পারে। তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দেওয়া এই উপদেশটি মেনে নেয়, "তোমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য এমন কোনো ভদ্রলোক বন্ধু জোগাড় করো যে তোমার পোশাকের খরচ চালাবে।" অন্যেরা নিজেদের সম্মানজনকভাবে সাজিয়ে রাখতে তাদের সামান্য আয়ের সবটুকু খরচ করে ফেলে। এরপর তারা কোনো হৃদয়হীন ও কামুক তরুণ লম্পটের সাথে থাকা-খাওয়া ভাগ করে নেয়। শহরের জীবনে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যক্তিরা এবং আমাদের মহানগরের ঠিক কেন্দ্রে থাকা হাজার হাজার মানুষের এ ধরনের পতিতাবৃত্তির ভয়াবহ বিস্তৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যুবতীরা বরফের মতো পবিত্র হয়ে আমাদের বড় শহরগুলোতে যায়। তারা লাভজনক কোনো কাজ পায় না। রোজকার পাপের সংস্পর্শে আসার কারণে পাপের প্রতি তাদের প্রাথমিক তীব্র ঘৃণা ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্রমশ এটি তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনের কল্পনা একজন কঠোর পরিশ্রমী দর্জি মেয়েকে প্রলুব্ধ করে। সুন্দর পোশাক এবং আরামদায়ক বাসস্থান সেই প্রলোভনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সে হার মানে এবং বিয়ের ঝামেলা ছাড়াই একটি বাড়ির বিনিময়ে নিজের শরীর বিক্রি করে দেয়। <br> লাইসেন্স আইন পাস বা অধ্যাদেশ জারি করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যা করতে পারে, সাধারণ পোশাক পরার মাধ্যমে ধনী নারীরা এই সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ে তার চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানে কি খ্রিষ্টান নারীদের কোনো দায়িত্ব নেই? কয়েক বছর আগে ন্যাশভিলের কিছু নারী সঠিক পথে সামান্য একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নিচের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এই দৃষ্টান্ত কেউ অনুসরণ করেছে বলে আমরা শুনিনি:<br> "টেনেসির ন্যাশভিলের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চের নারী সদস্যরা একমত হয়েছেন যে, তারা রবিবারে সব ধরনের সাজসজ্জা বর্জন করবেন। তারা সংগতি ছাড়া অন্য কোনো গয়না পরবেন না এবং এরপর থেকে সাধারণ ক্যালিকো পোশাক পরে চার্চে আসবেন।" <br> এই হিতকর পদক্ষেপটি শুধু রবিবার নয়, সপ্তাহের অন্য সব দিনেও সম্প্রসারিত করা হলে এটি আরও যুগান্তকারী সংস্কার হতো। যদিও পোশাকের উপাদান হিসেবে শুধু ক্যালিকো ব্যবহারের কোনো কারণ আমরা দেখি না। বছরের কিছু ঋতুতে এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। ** পৃ. ১৯১-১৯২ * '''ফ্যাশন ও পাপ:''' শরীরের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পোশাক কীভাবে পাপের প্রতি প্ররোচিত করে, তা দেখা যাক। ১. ফ্যাশনের কারণে নারীদের ফিতা বা কর্সেট দিয়ে কোমর চেপে রাখতে হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডের দিকে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিরাস্থ রক্ত পেছনের দিকে সংবেদনশীল প্রজনন অঙ্গগুলোতে জমা হয়। এভাবে রক্ত জমে যাওয়ার ফলে পরাবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে পাশবিক প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২. পোশাক পরার ধরন হিসেবে কোমর থেকে বেশ কয়েকটি ভারী পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়। যেখানে পোশাকের সবচেয়ে কম প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত পোশাক রাখার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এটি অস্বাভাবিক স্থানীয় তাপ তৈরি করে। ৩. পা ও হাত-পায়ে এত পাতলা কাপড় পরার প্রথা রয়েছে যে সেগুলো সব সময় ঠান্ডার শিকার হয়। এটি রক্ত চলাচলকে আরও ভারসাম্যহীন করে তোলে এবং স্থানীয় এই সমস্যা বাড়াতে আরেকটি উপাদান যোগ করে। <br> উল্লেখ করা যেতে পারে এমন অন্যান্য কারণসহ এই সব কারণ মিলে প্রায় প্রতিনিয়ত কাজ করে স্থায়ী স্থানীয় রক্তজমাট বাঁধার পাশাপাশি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর গোলযোগ সৃষ্টি করে। শেষের এই গোলযোগগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হিস্টিরিয়ার প্রধান রোগতাত্ত্বিক অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এটি নিম্বোম্যানিয়া নামক অদ্ভুত রোগের কারণ। এর উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে একজন স্বাভাবিক পবিত্র ও বিনয়ী যুবতী চরম উচ্ছৃঙ্খল কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। এই ব্যাধি সৃষ্টির পেছনে ফ্যাশনেবল পোশাকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। ** পৃ. ১৯২-১৯৩ * '''পোশাকে সংস্কার প্রয়োজন:''' এসব অপকর্মের প্রতিকার এবং এগুলো থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সংস্কার। শরীরের সাথে পোশাক এমনভাবে মানানসই হতে হবে যেন প্রতিটি অঙ্গ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোনো কর্সেট, ব্যান্ড, বেল্ট বা অন্য কোনো সংকোচনের মাধ্যম যেন রক্ত চলাচলে বাধা না দেয়। কোমরবন্ধনী বা সঠিক সাসপেন্ডারের মাধ্যমে কাঁধ থেকে পোশাক ঝুলিয়ে রাখা উচিত। শরীরের অন্যান্য অংশের মতো হাত-পায়েও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে। স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তাগুলো কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা পোশাক সংস্কারের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি চমৎকার বই থেকে জানা যেতে পারে। এগুলোর যেকোনোটি এই বইয়ের প্রকাশক বা তাদের এজেন্টদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া সম্ভব। ** পৃ. ১৯৩-১৯৪ * '''ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা:''' এই ক্ষেত্রে ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খারাপ নিয়ামকের প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা বলতে আমরা এক ধরনের অতিরিক্ত আসক্তিকে বোঝাই। সাধারণত ধনী বা অভিজাত শ্রেণির মানুষ এর জন্য গর্ববোধ করে। এই শ্রেণির মানুষদের মাঝে পরিচিত কোনো সাধারণ মাতালকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এমন ব্যক্তিকে খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা হয়। তবে একইভাবে একজন সম্পূর্ণ মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিকেও এড়িয়ে চলা হয়। তাকে অন্তত একজন ধর্মান্ধ বা চরমপন্থী হিসেবে দেখা হয়। এই শ্রেণির মানুষের কাছে শিষ্টাচারের খাতিরে ওয়াইন পান করা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। ওয়াইনের পাশাপাশি তারা প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের মসলাদার খাবার, মসলা, চাটনি, চর্বিযুক্ত মাংস এবং সব ধরনের সুস্বাদু খাবার ও ডেজার্ট খায়। এগুলোকে সাধারণ উত্তেজক পদার্থের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। <br> এসব আসক্তি শরীরের সেই অংশকে উত্তেজিত করে, যার সাধারণত উত্তেজনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণের বেশি প্রয়োজন। একজন প্রাক্তন গভর্নর সম্প্রতি আমাদের কাছে একজন বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকের সম্মানে আয়োজিত একটি জমকালো রাজনৈতিক নৈশভোজের বর্ণনা দিয়েছেন। এতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। নৈশভোজটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছিল এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে টানা খাবার ও ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল। একই অজুহাতে আমাদের বড় বড় অনেক শহরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বহু অনুষ্ঠানে জননেতারা এমন মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ায় অভ্যস্ত জেনে আমরা অবাক হই না যে, তাদের অনেকেই নৈতিকভাবে স্খলিত মানুষ। ** পৃ. ১৯৪-১৯৫ * বিলাসবহুলতার প্রবণতা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। রোমের নাগরিকেরা ধনী হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন গ্রহণ করার আগে রোম কখনোই উচ্ছৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়নি। দরকারী কাজে মনকে পুরোপুরি ব্যস্ত রাখার চেয়ে সুস্থ নৈতিকতার জন্য বেশি সহায়ক আর কিছুই নেই। ফ্যাশনেবল অলসতা সদ্গুণের চরম শত্রু। যেসব তরুণ বা তরুণী অলস দিবাস্বপ্ন দেখে অথবা কিছু মহলে চলা আড্ডার অধিকাংশ জুড়ে থাকা অর্থহীন কথাবার্তা বলে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে, তারা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম ঝুঁকিতে থাকে। ফ্যাশনেবল সমাজের অনেক প্রথা ও রীতি পাপের দরজা খুলে দেয় বলে মনে হয়। এগুলো ছলনার আশ্রয় নিয়ে প্রথমদিকে অজান্তেই তরুণ ও অনভিজ্ঞদের পবিত্রতা এবং সদ্গুণের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। উচ্চবিত্ত বলে পরিচিত শ্রেণির মধ্যে প্রতিবছর অনৈতিকতার পরিমাণ বাড়ছে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। মাঝে মাঝেই উচ্চবিত্তদের জীবনের কোনো না কোনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তাদের দুর্নীতির বিশাল অংশটি সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। সব ভদ্র সমাজে খোলাখুলি উচ্ছৃঙ্খলতাকে অবশ্যই ঘৃণার চোখে দেখা হয়। তা সত্ত্বেও সম্পদ ও অর্জন মানুষের অনেক পাপ ঢেকে দেয়। <br> খারাপ ও দুষ্ট লোকদের দেওয়া এই স্বাধীনতা ফ্যাশনেবল সমাজের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর একটি। এমন ব্যক্তিরা নিজেদের সাথে যে নৈতিক পরিবেশ বহন করে, তা ভয়ংকর উপাস গাছের চেয়েও বেশি মারাত্মক। ** পৃ. ১৯৫-১৯৬ * '''রাউন্ড ড্যান্স:''' নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে ব্যায়াম বা ক্যালিসথেনিক্সের অংশ হিসেবে অন্যান্য নাচের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, রাউন্ড ড্যান্স, বিশেষ করে ওয়াল্টজের পক্ষে এমন কোনো অজুহাত দাঁড় করানো যায় না। এর সাথে জড়িত উচ্ছৃঙ্খলতা, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক, মধ্যরাতের ভোজ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে শরীর প্রদর্শিত হওয়া এবং অশালীন পোশাক ইত্যাদির পাশাপাশি এটি খুব স্পষ্টভাবে দেখানো যায় যে, আবেগকে উদ্দীপ্ত করতে এবং অপবিত্র কামনা জাগিয়ে তুলতে নাচের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এটি প্রায়শই অপবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যায়। এগুলো কঠোর নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং মন ও শরীর উভয়েরই ক্ষতি করে। <br> প্রখ্যাত পেত্রার্ক বলেছেন, "নাচ হলো কামনার উদ্দীপক—এমন একটি বৃত্ত যার কেন্দ্রে স্বয়ং শয়তান থাকে। যেসব নারী এতে অংশ নেয়, তাদের অনেকেই অসৎ হয়ে বাড়ি ফেরে, বেশিরভাগই উদাসীন থাকে, কেউ ভালো হয় না।" ** পৃ. ১৯৬ * এ বিষয়ে আমরা দ্য ড্যান্স অব ডেথ নামের একটি ছোট বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারি। বইটির লেখক এই বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং নিচের কথাগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেছেন:<br> "মৃদু গ্যাসলাইটের নিচে আমাদের সামনে দ্রুতবেগে বিশটি মূর্তি ঘুরছে। আমি বিশটি 'মূর্তি' বলছি—তবে প্রতিটিই জোড়া। নাচ শুরুর আগে এগুলো চল্লিশটি ছিল। বিশটি ভাসমান দৃশ্য—প্রতিটিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী। পিয়ানো, হার্প এবং বেহালার মাতাল সুরের তালে তালে বিশজন নারী সমসংখ্যক পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আমাদের সামনে ঢেউয়ের মতো দুলছে এবং মাথা ঘোরানো গতিতে ঘুরছে। <br> "কিন্তু একটু কাছে আসুন—দেখা যাক এই অলৌকিক ঘটনা কীভাবে ঘটে। আপনি কি ওই জুটিকে খেয়াল করছেন, যারা সাবলীলতা ও আবেগে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। চলুন, এই জুটিকে উদাহরণ হিসেবে নিই। পুরুষটি বলিষ্ঠ, চটপটে ও শক্তিশালী; নারীটি লম্বা, নমনীয়, ছিপছিপে এবং তার গড়ন ও রূপ কতই না সুন্দর! নারীর মাথাটি পুরুষের কাঁধে রাখা, তার মুখ পুরুষের দিকে তোলা। তার খালি হাত প্রায় পুরুষের গলা জড়িয়ে আছে। তার ফুলে ওঠা বুক পুরুষের বুকের সাথে প্রবলভাবে ওঠানামা করছে। তারা মুখোমুখি ঘুরছে, পুরুষের হাত-পা নারীর হাত-পায়ের সাথে জড়িয়ে আছে। নারীর নমনীয় কোমরে ডান হাত শক্ত করে জড়িয়ে পুরুষটি তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়, যতক্ষণ না তার সুন্দর শরীরের প্রতিটি বাঁক কামুক স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়। নারী তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে কিছুই দেখে না। ঘরে নরম সুর বাজতে থাকে, কিন্তু সে কিছুই শোনে না। পুরুষটি তাকে মেঝের ওপর দ্রুত ঘোরায় অথবা তাকে নিজের আলিঙ্গনে এদিক-ওদিক বাঁকায়। <br> "শেষের দিকের একটি নিচু ও করুন সুরের সাথে সাথে বাজনা থেমে যায়। তার মূর্ছিত চেতনা ফিরে আসে। আহ, এমনই কি হতে হবে! হ্যাঁ; তার সঙ্গী তাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দেয়। ক্লান্ত হয়ে সঙ্গীর বাহুতে ভর দিয়ে, চোখের আনন্দ মুছে গিয়ে এবং গালের লাল আভা মিলিয়ে গিয়ে—দুর্বল, নিস্তেজ, উদাসীন ও ক্লান্ত অবস্থায়—তাকে একটি আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে তার ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে যতটা সম্ভব শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। এরপর তাকে নতুন কোনো আলিঙ্গনে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।" ** পৃ. ১৯৭-১৯৮ * আমি যখন ওয়াল্টজ নাচতাম, সেই দিনগুলোর নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে একজন তরুণীর মন ও মানসিকতা তুলে ধরার সাহস করছি। <br> "সেই সময় আমি পোলকা বা ভার্সোভিয়ানের পরোয়া করতাম না। পুরনো ধাঁচের মানি মাস্ক বা ভার্জিনিয়া রিল নিয়ে তো আরও কম ভাবতাম। আমি অবাক হতাম যে মানুষ এসব ধীরগতির নাচে প্রশংসা করার মতো কী পায়। কিন্তু ওয়াল্টজের নরম ভেসে চলায় আমি এক অদ্ভুত আনন্দ পেতাম, যা বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। শুধু নাচের কথা ভাবলেই আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেত। আমার সঙ্গী যখন নাচের জন্য আমার কথা দেওয়া হাতটি ধরতে আসত, তখন আমি মাঝে মাঝে আমার গালে একটু আভা অনুভব করতাম। আগের মতো খোলাখুলি আনন্দে আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না। <br> "কিন্তু আমার বিভ্রান্তির চরম মুহূর্তটি আসত, যখন তার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে এবং ঘোরার কারণে মাথা ঘোরা অবস্থায় এক অদ্ভুত, মিষ্টি শিহরণ আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিত। এটি আমাকে দুর্বল ও প্রায় ক্ষমতাহীন করে তুলত। তখন আমাকে ঘিরে থাকা সেই বাহুটির ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকত না। যদি আমার সঙ্গী অজ্ঞতা, দক্ষতার অভাব বা সরলতার কারণে আমার এই সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুভূতিগুলো জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হতো, তবে আমি তার সাথে দ্বিতীয়বার নাচতাম না। <br> "আমি খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বলছি। আমি যখন বলি যে আমি কী অনুভব করতাম, বা এই তথাকথিত নাচ থেকে আমার পাওয়া আসল ও সবচেয়ে বড় আনন্দগুলো কী ছিল তা আমি বুঝতাম না, তখন আমি আশা করি সবাই আমার কথা বিশ্বাস করবে। কিন্তু তখন যদি না-বোঝা আনন্দে আমার গাল লাল হয়ে উঠত, তবে আজ যখন আমি এসব নিয়ে ভাবি, তখন লজ্জায় আমার গাল ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শক্তিশালী পুরুষদের স্পর্শে তৈরি হওয়া শারীরিক আবেগের প্রতিই আমি মুগ্ধ ছিলাম—নাচের প্রতি নয়, এমনকি সেই পুরুষদের প্রতিও নয়।" <br> "এভাবে আমার সবচেয়ে নিচু প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটেছিল। আমি আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলাম। প্রথমে লাজুক দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারলেও, দ্রুত আমি আরও সাহসী দৃষ্টি মেলাতে সক্ষম হয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওয়াল্টজ আমার এবং আমার সাথে নাচা যেকোনো ব্যক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী, মিষ্টি এবং সম্পূর্ণ কামুক আনন্দে পরিণত হয়েছিল। সেখানে বুকের সাথে বুক কাঁপত, হাতে হাত ধরা থাকত এবং চোখ এমন জ্বলন্ত শব্দ খুঁজত যা ঠোঁট দিয়ে বলার সাহস হতো না।" ** পৃ. ১৯৯-২০০ * "তবুও আমাদের শেখানো হয়েছিল যে নাচ করা ঠিক। আমাদের বাবা-মা নাচতেন, আমাদের বন্ধুরাও নাচত এবং আমাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমি আরও বলব, আমার সাথে মেলামেশা করা মেয়েদের মধ্যে একজন বাদে সবারই নাচের বিষয়ে প্রায় একই অভিজ্ঞতা ছিল। সবাই একই রকম অদ্ভুত মিষ্টি অনুভূতি পেত। কেন বা কী বুঝতে না পারলেও, ওয়াল্টজের স্বাধীনতার চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ মিলনের এক প্রায় অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত। <br> "এখন আমি বিবাহিত এবং আমার নিজের সংসার ও সন্তান আছে। আমি অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, আমার এই অভিজ্ঞতাই আমাকে নিশ্চিতভাবে আমার ছোট মেয়েদের এমন বিপজ্জনক আনন্দে জড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সাহায্য করবে। কিন্তু শুরুতে পবিত্র ও নিষ্পাপ থাকা একজন তরুণী যদি আমার বলা কথাগুলো অনুভব করতে পারে, তবে একজন বিবাহিত নারীর অভিজ্ঞতা কেমন হবে? চোখের প্রতিটি চাহনি, মাথার প্রতিটি ঝোঁক এবং প্রতিটি ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনের অর্থ সে জানে। আর তা জেনে সে এর প্রতিদান দেয়। এভাবে সে দ্রুত ও নিশ্চিত পথে বিপজ্জনক এবং অসম্মানজনক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।" ** পৃ. ২০১-২০২ * '''আধুনিক জীবনযাপন:''' আগে বলা সব কারণ বাদেও আধুনিক জীবনযাপনের অভ্যাসের ফলে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সরাসরি কামুকতাকে উসকে দেয়। অতিরিক্ত গরম ঘর, বসে বসে করা কাজ, পেশির বদলে মানসিক ও স্নায়বিক সংগঠনের বিকাশ, স্কুলে মুখস্থ করার প্রথা, স্কুলের বাচ্চাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত মেলামেশার সুযোগ, বিভিন্ন পাবলিক বিনোদন, বলনাচ, চার্চের মেলা এবং আরও অনেক কিছুর অবক্ষয়ী প্রভাব এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব কিছুই যৌন ক্রিয়ার অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং অকালপক্বতার দিকে ধাবিত করে। <br> আধুনিক জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কারও পক্ষে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকা প্রায় অসম্ভব—একথা বলা মোটেও অতিরঞ্জন নয়। ঈশ্বরের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি নিশ্চিতভাবেই সত্য। তবে স্বেচ্ছায় করা পাপের ফল ঠেকাতে ঈশ্বর কখনোই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটান না। ** পৃ. ২০৩-২০৪ * সব পরিস্থিতিতে যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নাম কন্টিনেন্স বা ইন্দ্রিয়দমন। অন্যদিকে চ্যাস্টিটি বা পবিত্রতা হলো কেবল বেআইনি যৌন কাজ থেকে বিরত থাকা। আমাদের যেমন শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা আছে, তেমনি ইন্দ্রিয়দমনও মানসিক ও শারীরিক উভয়ই হওয়া উচিত। পবিত্রতা বিষয়ক অনেক পর্যবেক্ষণ ইন্দ্রিয়দমনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অপবিত্রতা ও ইন্দ্রিয়দমনে ব্যর্থতার কারণগুলো একই। মানসিক ও শারীরিক পবিত্রতার মধ্যে যে সম্পর্ক, মানসিক ও শারীরিক ইন্দ্রিয়দমনের মধ্যেও একই সম্পর্ক রয়েছে। ** পৃ. ২০৫ * '''ইন্দ্রিয়দমন ক্ষতিকর নয়:''' এমনকি অনেক চিকিৎসকও বেশ যুক্তির সাথেই দাবি করেছেন যে, প্রজনন অঙ্গের পূর্ণ বিকাশের পর সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়দমন বজায় রাখলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই অবস্থানের পক্ষে দেওয়া সব যুক্তি উল্লেখ করার দরকার নেই। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এগুলো এতই তুচ্ছ যে, এগুলোতে মনোযোগ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। আমরা মূলত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। এর মাধ্যমে আমরা দেখাব যে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল। নিঃসন্দেহে এগুলো মানুষের প্রাকৃতিক অনুকূল পক্ষপাতের কারণেই এত ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। নিজের পছন্দের সাথে মিলে যায় এমন কিছু বিশ্বাস করা সহজ। একপেশে ধারণার পক্ষে সামান্য একটি অনুমানও অন্য পক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ** পৃ. ২০৫-২০৬ * '''দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি:''' একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের পর যৌন মিলনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকে না। সপ্তম আদেশের যে দাম্পত্য জীবনেও যৌন আচরণের ওপর কোনো প্রভাব আছে, তা খুব কম মানুষই সন্দেহ করে। অথচ নারী-পুরুষের স্বীকারোক্তি ও বিবৃতি বিশ্বাস করলে দেখা যায়, নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশার চেয়ে বৈধ পতিতাবৃত্তি আরও সাধারণ একটি অপরাধ। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা এতটাই প্রচলিত এবং সংস্কারের দ্বারা এতটাই সুরক্ষিত যে, কোনো লেখক বা বক্তার সত্য জানা থাকলেও এবং তা প্রকাশের ইচ্ছে থাকলেও, প্রকাশ করা রীতিমতো বিপজ্জনক। সঠিক নীতিগুলো তুলে ধরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে উপহাস করা হয়, নিন্দা করা হয়, কলঙ্কিত করা হয় এবং সম্ভব হলে থামিয়ে দেওয়া হয়। লেখককে গালাগাল করা হয়, তার কাজের নিন্দা করে তাকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়। তাকে চরমপন্থী, ধর্মান্ধ বা তপস্বী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এমনকি কেউ তার পবিত্রতা বা পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুললে সে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতে পারে। ** পৃ. ২১৬ * "ডিম্বাশয় এবং এর ভেতরে থাকা ডিম্বাণুগুলো নির্দিষ্ট ঋতুতে নিয়মিত বিকাশ লাভ করে বা আকারে বাড়ে। ... নিম্ন শ্রেণির সব প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রজনন মৌসুম এলেই আগে অসম্পূর্ণ ও নিষ্ক্রিয় থাকা কিছু ডিম্বাণু আকারে বড় হতে শুরু করে এবং এদের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসে।" <br> "বেশিরভাগ মাছ ও সরীসৃপ এবং পাখিদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার এবং নির্গত হওয়ার এই নিয়মিত প্রক্রিয়াটি বছরে মাত্র একবার ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি বছরে একবার, বছরে দুবার, দুই মাস পরপর বা এমনকি প্রতি মাসেও ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি নিয়মিত বিরতিতে ঘটে। এটি অন্যান্য বেশিরভাগ শারীরিক কাজের মতো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।" <br> "বেশিরভাগ নিম্ন শ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষদের অণ্ডকোষের একটি পর্যায়ক্রমিক বিকাশ ঘটে, যা নারীদের ডিম্বাশয়ের বিকাশের সময়ের সাথে মিলে যায়। প্রজনন মৌসুম ঘনিয়ে এলে নারীদের ডিম্বাশয় বড় হওয়ার ও ডিম্বাণু পাকতে শুরু করার সাথে সাথে পুরুষদের অণ্ডকোষও আকারে বাড়ে এবং শুক্রাণুতে ভরে ওঠে। একই সময়ে প্রজননের অন্যান্য সহায়ক অঙ্গগুলোও অণ্ডকোষের এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপে অংশ নেয়। এগুলো রক্তবাহী হয়ে ওঠে এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য তৈরি হয়।" ** পৃ. ২১৯ * "এ প্রসঙ্গে এটি একটি চমকপ্রদ তথ্য যে, এসব প্রাণীর স্ত্রীরা কেবল ঋতুচক্রের সময় এবং তার ঠিক পরেই পুরুষদের কাছে আসতে দেয়। অর্থাৎ, ঠিক তখনই যখন ডিম্বাণুটি সদ্য নির্গত হয় এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। অন্য সময়, যখন যৌন মিলন নিশ্চিতভাবেই নিষ্ফল হবে, তখন প্রাণীর প্রবৃত্তি তাকে এটি এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে। একইভাবে, লিঙ্গভেদে এই মিলনকে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা এবং এর নিষিক্ত হওয়ার ক্ষমতার সময়ের সাথে মেলানো হয়।" <br> "ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হওয়ার পরপরই ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। যদি ওই সময়ে যৌন মিলন ঘটে, তবে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু নারীর প্রজনন পথের কোনো একটি অংশে মিলিত হয় এবং নিষিক্তকরণ সম্পন্ন হয়। ... অন্যদিকে, যদি সহবাস না হয়, তবে ডিম্বাণুটি নিষিক্ত না হয়েই জরায়ুর দিকে নেমে যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর জীবনীশক্তি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত জরায়ুর নিঃসরণের সাথে বেরিয়ে যায়।" <br> "তাই এটি সহজেই বোঝা যায়, কেন অন্য সময়ের চেয়ে ঋতুচক্রের সময় যৌন মিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ... নির্গত হওয়ার আগে ডিম্বাণুটি অপরিপক্ব থাকে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। আর ঋতুচক্র পার হয়ে যাওয়ার পর এটি ধীরে ধীরে তার সতেজতা ও জীবনীশক্তি হারায়।" ** পৃ. ২২০-২২১ * শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অতিরিক্ত তথ্য হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঋতুস্রাবের ঠিক পরপরই নারীরা যৌন আকাঙ্ক্ষা বেশি অনুভব করে। এমনকি এমন দাবিও করা হয়েছে যে, রোগ বা অন্য কোনো কারণে অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত না হলে নারী কেবল এই সময়েই সত্যিকারের যৌন প্রবৃত্তি অনুভব করে। ** পৃ. ২২২ * "যে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে একজন পতিতার মতো আচরণ করে এবং আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য রাখে না, সে একজন খারাপ স্বামী। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো: খাওয়া-দাওয়ার মতো এখানেও মেটানোর মতো একটি ক্ষুধা থাকে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা না মিটিয়ে তা পূরণ করা যায় না। তবে যেহেতু প্রকৃতি এই আকাঙ্ক্ষা ও তৃপ্তিকে অন্য উদ্দেশ্যে তৈরি করেছে, তাই এগুলোকে কখনোই সেই উদ্দেশ্য থেকে আলাদা করা উচিত নয়।" ** পৃ. ২২৪ * "এটি একটি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অবিবাহিত ব্যক্তি মনে করেন তাদের স্বাধীনতার দ্বার কোনো নিয়ম বা বাধা ছাড়াই পুরোপুরি উন্মুক্ত (তাই তারা সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন)। বৈধ অনুমতির বেআইনি ব্যবহারের ফলে তারা অসংযম ও কামনার চূড়ান্ত পরিণতির স্বাদ পেয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে শুধু সংযমী এবং বিনয়ী হতে দিন।" <br> আরেকজন লেখক খুব জোর দিয়ে বলেছেন, "এটি একটি সাধারণ বিশ্বাস যে, আইনিভাবে বিবাহিত হওয়ায় একজন পুরুষ ও নারী কোনো বাধা ছাড়াই কামুকতা চর্চা করার বিশেষ সুবিধা পান। এটি ভুল। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। প্রকৃতি মানুষের তৈরি আইনকে স্বীকৃতি দেয় না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তি পেতে হয়, তেমনি বৈধ বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে শাস্তি পেতে হয়। অবিবাহিত পুরুষ বা নারীর মতো বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যৌন মিলন সমানভাবে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এটি আক্ষরিক অর্থেই বৈধ পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।" ** পৃ. ২২৫ * কিন্তু যৌন বিপদের বিরুদ্ধে যেকোনো সতর্কবার্তাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, যদি না তা বিবাহিত ব্যক্তিদের না বুঝে করা অতিরিক্ত যৌন মিলনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা দেখেছি, প্রাণদায়ী তরল ঘন ঘন নির্গত হওয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের অত্যধিক উত্তেজনা মারাত্মক ক্ষতিকর। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মতো দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফলাফল একই হয়। যে বিবাহিত পুরুষ মনে করেন, বিবাহিত হওয়ায় তিনি যতবার খুশি যৌন মিলন করলেও তা অতিরিক্ত হবে না, তিনি নিশ্চিতভাবেই অবিবাহিত লম্পটদের মতোই ভোগান্তির শিকার হবেন। বরং অজ্ঞতার কারণে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ লম্পটরা তাদের খারাপ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে ও কিছু নিয়ম মেনে চলতে শেখে, যা এই বিবাহিত পুরুষটি জানেন না। অনেক পুরুষ বিয়ের আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ সংযমী জীবনযাপন করেন, তাদের স্ত্রীরাও তা-ই করেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই তারা প্রতি রাতে যৌন মিলনে লিপ্ত হন। তাদের দুজনের কেউই জানেন না যে এই বারবার যৌন মিলন আসলে এক ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, যা তাদের শরীর সহ্য করতে পারে না। পুরুষের জন্য এটি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস ডেকে আনে। শরীর খারাপ হওয়ার আগ পর্যন্ত, কখনো কখনো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভ্যাস চলতে থাকে। অবশেষে যখন রোগী চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, তখন তিনি জানতে পেরে অবাক হন যে তার কষ্টের কারণ হলো না বুঝে করা এই অতিরিক্ত যৌন মিলন। বিবাহিত দম্পতিরা প্রায়ই মনে করেন, খাবার খাওয়ার মতোই নিয়মিত এবং প্রায় ততবারই যৌন মিলন করা যায়। যতক্ষণ না তাদের বিপদের কথা জানানো হয়, ততক্ষণ তাদের মাথায় এই চিন্তাই আসে না যে তারা ভয়ঙ্কর এবং প্রায় অপরাধমূলক বাড়াবাড়ি করছেন। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ তারা যে চিকিৎসকের কাছে যান, তিনি খুব কমই এই কারণটির কথা উল্লেখ করেন।" <br> "অনেকে মনে করেন, জিমন্যাস্টিকস বা ব্যায়াম করলে যেমন পেশির জোর বাড়ে, তেমনি এই কাজের মাধ্যমেও তাদের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা, যা শুধরানো দরকার। এমন রোগীদের জানানো উচিত যে, প্রতিবার যৌন মিলনের সময় শরীরে বিশাল ধাক্কা লাগে। আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অঙ্গগুলোর জন্য শুক্রাণু নির্গত হওয়া বিশেষ করে ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের বাড়াবাড়ির কারণেই অকালবার্ধক্য এবং প্রজনন অঙ্গের নানা সমস্যা দেখা দেয়।" ** পৃ. ২২৬-২২৭ * অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট দুর্বলতার দুটি কারণ রয়েছে: শুক্রাণু কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক উত্তেজনা। ডা. গার্নার শুক্রাণুর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: <br> "শুক্রাণু হলো রক্তের সবচেয়ে বিশুদ্ধ নির্যাস। ... প্রকৃতি এটি কেবল জীবন সৃষ্টির জন্যই তৈরি করেনি, বরং ব্যক্তির নিজের পুষ্টির জন্যও তৈরি করেছে। বস্তুতপক্ষে, নিষিক্তকরণ তরল পুনরায় শোষিত হলে তা পুরো শরীরে নতুন শক্তি এবং এমন এক পৌরুষ দেয়, যা আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।" ** পৃ. ২২৮ * '''একজন ফরাসি চিকিৎসকের সাক্ষ্য:''' বেশ পরিচিত একজন ফরাসি লেখক এই বিষয়ে বলেন:<br> শুক্রাণু তৈরি এবং জোর করে তা বের করে দেওয়ার জন্য শরীরের মতো এত মূল্য আর কাউকে দিতে হয় না। হিসেব করে দেখা গেছে, এক আউন্স শুক্রাণু চল্লিশ আউন্স রক্তের সমান। ... শুক্রাণুই পুরো মানুষের মূল সারাংশ। তাই ফার্নেল বলেছেন, "Totus homo semen est." এটি জীবনের মলম। ... যা জীবন দেয়, তা জীবন বাঁচানোর জন্যই তৈরি। ** পৃ. ২২৮-২২৯ * এটি একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খ্রিষ্টান বিশ্বের নারীদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। তাদের মানসিক শক্তিও অনিশ্চিত ও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তারা সময়ের আগেই চিন্তায় জর্জরিত, বলিরেখা যুক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। তারা এমন অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা একসময়কার চিকিৎসকদের কাছে প্রায় অজানা ছিল। কিন্তু এখন এসব রোগ সমাজের বয়স্ক নারীদের, এমনকি কখনো কখনো সবচেয়ে কম বয়সী মেয়েদের কাছেও অতি পরিচিত এবং সাধারণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ** পৃ. ২৩১-২৩২ * "আমরা সমকামিতা ও পায়ুকামের মতো প্রকৃতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের কথা শুনি। সব সুস্থমস্তিষ্কের মানুষ এর তীব্র নিন্দা করেন। আইনও এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি বিশেষভাবে কঠোর। এসব অপরাধের শাস্তি এক থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ব্যভিচারের শাস্তি মাত্র ষাট দিনের কারাদণ্ড এবং একশ ডলারের কম জরিমানা। কিন্তু এখানে একটি খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, কনডমের ব্যবহার এবং নিষিক্তকরণ প্রতিরোধী ইনজেকশন নেওয়াও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ কি না এবং একইভাবে আমাদের ঘৃণা ও অবজ্ঞার যোগ্য কি না। এছাড়া আমরা যখন প্রাণিজগতের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই তারা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তখনই মিলিত হয় যখন স্ত্রী-প্রাণীটি সঠিক শারীরিক অবস্থায় থাকে এবং স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়। এটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষের মিলন প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে এবং এর ফলাফল অন্যান্য যেকোনো অপরাধের চেয়েও খারাপ হতে পারে। যে শিশুর জন্ম নারী চায়নি, সেই শিশু কি সেই সুখকর গঠন নিয়ে জন্মাবে যা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই তাদের সন্তানের জন্য আন্তরিকভাবে চাওয়া উচিত এবং দেওয়া উচিত? আর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর কথা ভাবুন, প্রতিটি শিশুরই কি অধিকার নেই যে সে হবে ভালোবাসার প্রতীক? 'গ্রেট এক্সপেকটেশনস'-এর ছোট্ট পিপ একটি বড় শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে বলেছিল, 'আমার সাথে সবসময় এমন আচরণ করা হতো যেন আমি যুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতার পরোয়া না করে এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিষেধ সত্ত্বেও জোর করে জন্মেছি।' আমরা তরুণদের বাবা-মাকে সম্মান করতে বলি। কিন্তু একবারও ভেবে দেখি না যে, যেসব বাবা-মায়ের স্বার্থপরতা ও অবহেলার কারণে তাদের সন্তানেরা বংশগত নানা রোগে ভোগে, তারা আদৌ সম্মানের যোগ্য কি না।" ** পৃ. ২৩৫-২৩৬ * '''ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক মিলন:''' আমাদের নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতায় বেশ কয়েকবার প্রমাণিত নিচের কথাগুলো প্রকৃতির নিয়মের আরও ভয়ানক লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে: <br> "অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, মাসিক চলাকালীন সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করার দরকার নেই। কারণ তারা মনে করেন পরিচ্ছন্নতা এবং রুচিবোধের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই এই ক্ষুধা মেটানো থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই পৃথিবীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা খুব কমই জানেন। প্রায়ই স্বামীরা আমাকে জানান যে তারা কয়েক বছর ধরে তাদের স্ত্রীদের সাথে দিনে এক বা একাধিকবার যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকেননি। আর রুগ্ন শরীর ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী অগণিত নারী আমাকে এমন সব তথ্য দিয়েছেন যে আমি স্বামীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৩৭ * এই অনুচ্ছেদে আলোচনা করা সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ হলো আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপকর্মগুলো। মানুষ অজ্ঞতার কারণে বা সরাসরি ফলাফলের পরোয়া না করে নিয়মিত বাড়াবাড়ি করে। এরপর প্রজনন কাজের স্বাভাবিক ফল ঠেকাতে নানা ধরনের উপায় ব্যবহার করে একে নিষ্ফল করার চেষ্টা করে। এই স্পষ্টভাবে লেখা বইটিতেও এসব পদ্ধতির নাম উল্লেখ করা শালীনতার চরম লঙ্ঘন হবে। তবে এর নিখুঁত বর্ণনারও প্রয়োজন নেই, কারণ যাদের এই সতর্কবার্তা দরকার, তারা সবাই এসব কাজে ব্যবহৃত সব নোংরা জিনিসের সাথে খুব ভালোভাবেই পরিচিত। এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখকদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াই সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। নিচের অনুচ্ছেদগুলো প্রখ্যাত মেয়ারের লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার উদ্ধৃতি আগেও বেশ কয়েকবার দেওয়া হয়েছে: <br> "সহবাসের স্বাভাবিক পরিণতি ধ্বংস করতে লম্পটদের আবিষ্কার করা অগণিত ফন্দির একটাই উদ্দেশ্য থাকে।" ** পৃ. ২৫০ * '''দাম্পত্য জীবনে অনানিজম (অপব্যবহার):''' "যেসব লজ্জাজনক কৌশল নিয়ে আমরা কথা বলেছি, তার মাধ্যমে দাম্পত্য বিছানা অপবিত্র করার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আদিপুস্তকের (জেনেসিস) ৩৮ অধ্যায়ের ৬ এবং এর পরের আয়াতগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে: 'আর এমন হলো, যখন সে [অনান] তার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গেল, তখন সে তা মাটিতে ফেলে দিল, যেন সে তার ভাইকে বংশধর না দেয়। সে যা করেছিল তা প্রভুর চোখে খারাপ লেগেছিল; তাই তিনি তাকে মেরে ফেললেন।' <br> এখান থেকেই দাম্পত্য জীবনে অনানিজম নামটি এসেছে। <br> কেউ বলতে পারবে না এই বিকৃতি কতটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কেবল এর পরিণতি দেখলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এমন মানুষের মধ্যেও এটি দেখা যায়, যারা সামান্য পাপ করতেও ভয় পায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে। তবুও অনেক স্বামী জানেন যে, প্রকৃতি প্রায়শই সবচেয়ে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশকেও ব্যর্থ করে দেয় এবং যে অধিকারকে তারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করে। তাতে কী; তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায় এবং অভ্যাসের বশে তারা জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোতে বিষ ঢেলে দেয়, অথচ যে পরিণতি তারা এড়াতে চায়, তা এড়ানোর কোনো নিশ্চয়তাই থাকে না। তাই কে জানে, যে শিশুগুলো প্রায়শই দুর্বল এবং রুগ্ন হয়, তারা এই অপূর্ণ প্রজননের ফল কি না এবং প্রজনন ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কহীন অন্য কোনো চিন্তার কারণে তারা প্রভাবিত কি না? এটি মনে করা কি যৌক্তিক নয় যে, স্বাভাবিক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ব্যাহত হওয়ায় গর্ভধারণ শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে? আর এ থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীটি কি টেরাটোলজি বা বিকলাঙ্গতা বিষয়ক বইয়ে বর্ণিত কোনো দানব নয়?" ** পৃ. ২৫১ * "আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য রয়েছে যা নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে, অস্বাভাবিক যৌন মিলন নারীর ওপর কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে আমরা এগুলো প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয় মনে করি। সব চিকিৎসকই এগুলো কমবেশি দেখেছেন। আমাদের না বলা কথাগুলো পূরণ করতে তাদের কেবল স্মৃতি হাতড়ানোই যথেষ্ট। ডা. ফ্রান্সিস ডেভে বলেন, 'তবে এটি বোঝা কঠিন নয় যে, ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেও তা না মেটানোর মাধ্যমে এ ধরনের অনুশীলন নারীর প্রজননতন্ত্রে কতটা গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। পুরো প্রজননতন্ত্র জুড়ে এক গভীর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয় চরম উত্তেজনার অবস্থায় পৌঁছায়, এমন এক ঝড় যা স্বাভাবিক উপায়ে শান্ত হয় না। এক ধরনের স্নায়বিক অতি-উত্তেজনা থেকেই যায়। তখন এমন অবস্থা হয় যেন একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়ে তার ক্ষুধা চরমভাবে বাড়িয়ে তোলার পর মুখের কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জরায়ু এবং পুরো প্রজননতন্ত্রের সংবেদনশীলতা অযথাই উসকে দেওয়া হয়। বারবার এমন হওয়ার কারণেই মূলত নারীদের প্রজননতন্ত্রে অদ্ভুত সব স্নায়বিক রোগের উৎপত্তি ঘটে। এই বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস অনেকগুলো পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বিবাহিত দম্পতির স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যেও দুর্ভাগ্যজনক পরিবর্তন আসে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসা ধীরে ধীরে এমন একটি কাজের পুনরাবৃত্তিতে মুছে যায়, যা দাম্পত্য বিছানাকে কলুষিত করে। সেখান থেকে কিছু কঠিন অনুভূতির জন্ম নেয়, কিছু গভীর ছাপ পড়ে যা ধীরে ধীরে বেড়ে এমন সব কেলেঙ্কারিপূর্ণ বিচ্ছেদের জন্ম দেয়, যার আসল উদ্দেশ্য সমাজ খুব কমই জানতে পারে।" ** পৃ. ২৫২-২৫৩ * "যদি এই ঘৃণ্য প্রথাগুলোর অনুপ্রবেশের কারণে পরিবারগুলোর সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন চরম হুমকির মুখে পড়ে, তবে আমরা আগেই যেমন বলেছি, নারীদের স্বাস্থ্যেরও ভয়ানক ক্ষতি হয়। আমাদের মতে, অনেক স্নায়বিক ব্যথার এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে আমরা যেসব নারীকে প্রশ্ন করেছি, তাদের অনেকেই এই মতকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু যেটি আমাদের কাছে অবিসংবাদিত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তা হলো জরায়ুর সমস্যা, বিবাহিত নারীদের স্নায়বিক দুর্বলতা এবং দাম্পত্য জীবনে অবিবাহিত তরুণীদের মতো হিস্টিরিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া। স্বামীদের দাম্পত্য জীবনের বদভ্যাসই এর কারণ। তাছাড়া আরও একটি মারাত্মক রোগ প্রতিদিন বাড়ছে। এর বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এটি দ্রুত একটি মহামারির আকার নেবে। আমরা জরায়ুর ক্ষয়রোগের কথা বলছি। এই ভয়ংকর রোগের কারণগুলোর মধ্যে আমরা সভ্যতার নামে আসা নতুন নতুন অভ্যাস এবং বিশেষ করে আজকাল প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নানা কৌশলকে সবার ওপরে রাখতে দ্বিধা করি না। প্রজনন না হলেও প্রজনন ক্ষমতা উত্তেজিত হলে আমরা এসব ছদ্ম-রোগের উদ্ভব হতে দেখি। তাই পতিতাদের মধ্যে জরায়ুর পলিপ এবং স্কিরাস [ক্যানসার] সাধারণত বেশি দেখা যায়। আমরা যদি বিবেচনা করি যে কীভাবে শুক্রাণু নির্গমন এবং জরায়ুর মুখে এর স্পর্শ নারীর জন্য প্রজনন কাজের চরম তৃপ্তি হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক ও মানসিক আবেগকে শান্ত করে পুরো শরীরকে শিথিল করে দেয়, তবে এই রোগ সৃষ্টির পেছনের কারণ বোঝা সহজ হয়।" ** পৃ. ২৫৩-২৫৪ * নিচের লেখাটি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছ থেকে নেওয়া, যিনি বহু বছর ধরে নারীদের রোগের প্রতি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন এবং একটি নামকরা মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন: <br> "এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শারীরিকভাবে ক্ষতিকর। এগুলোর কিছু কিছু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ যৌন মিলনের কারণে উভয় পক্ষের যে ক্ষতি হয়, তা বুঝতে ইচ্ছুক যে কারও কাছেই এটি পরিষ্কার করা হয়েছে। ঠান্ডা পানিতে ধোওয়া, অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট আধান এবং নানা ধরনের ওষুধের মিশ্রণ মেশানো ধোওয়ার পানির সাধারণ ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকটি বুঝতে কারও খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ফুলে ওঠা এবং ঘা হয়ে যাওয়া কোনো অঙ্গে ঠান্ডা পানি যতই সহজ এবং আশ্চর্য রকম উপকারী হোক না কেন, খুব কম মানুষই বাত বা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হাঁটু বা এরিসিপেলাসে আক্রান্ত মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতে সাহস করবেন। <br> ... অথচ যৌন মিলনের সময় যখন স্নায়বিক ও শারীরিক উত্তেজনার পারদ চরমে থাকে এবং এই কাজে জড়িত অঙ্গগুলো রক্তে ভরে ওঠে, তখন কি আপনি মনে করেন যে কোনো ক্ষতি ছাড়াই আপনি শরীরের ভেতরে ক্রমাগত ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি ঢালতে পারবেন? প্রায়শই নারীরা শুক্রাণুর জীবাণুগুলোকে তাদের স্বাভাবিক কাজ শেষ করার আগেই গলিয়ে ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব শক্তিশালী অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হঠাৎ করে অঙ্গগুলোর গ্রন্থিযুক্ত গঠনকে সংকুচিত করে ও বন্ধ করে দেয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর শেষ পরিণতি হলো দুর্বলতা ও ক্লান্তি, যা লিউকোরিয়া, প্রোল্যাপস এবং অন্যান্য রোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৫৪-২৫৫ * "সবশেষে, পাতলা রাবার বা গোল্ডবিটার স্কিন দিয়ে তৈরি আবরণগুলোর কথা বলতে হয়, যা প্রায়শই পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কথিত আছে যে মাদাম দ্য স্ট্যাল এদের সম্পর্কে বলেছিলেন, 'এগুলো সুরক্ষার জন্য মাকড়সার জাল এবং ভালোবাসার বিরুদ্ধে প্রাচীর।' এসবের ব্যবহার নিশ্চিতভাবেই এমন এক লজ্জা ও বিরক্তির জন্ম দেয়, যা পবিত্র হৃদয় ও বিশুদ্ধ অনুভূতির সত্যিকারের আনন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এগুলো লম্পট ও পতিতালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলো মানুষের সত্যিকারের অনুভূতি এবং পবিত্র দাম্পত্য জীবনকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে আনে। তাছাড়া যে সুরক্ষার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়, খুব সীমিত পরিসর ছাড়া এরা সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। উপরন্তু, এগুলো বাইরের বস্তু হিসেবে বিরক্তি তৈরি করে শরীরে কিছু ক্ষত সৃষ্টি করে (যেমনটি সেরা আধুনিক ফরাসি লেখকরা দাবি করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এদের প্রভাব সম্পর্কে বেশি জানেন)। এগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং এগুলো ব্যবহারের সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবও প্রায়শই মারাত্মক আকার ধারণ করে। <br> "আমি এসব মাধ্যম নিয়ে আর বেশি কথা বলব না। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সাথে খেলা করা এবং প্রকৃতির পবিত্র অধিকারগুলোকে প্রতারণা ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা—ব্যবহৃত উপায়গুলো যত সহজই মনে হোক না কেন—যে কত বড় দায়িত্ব নেওয়া এবং কতটা ভয়ংকর ঝুঁকি, তা বোঝানোর জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট। জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা হোক বা রাস্তায় পড়ে থাকা বিশাল পাথর, কোনো ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ যা-ই হোক না কেন, তার পরিণতি একই এবং ক্ষতিও সমান। এসব শারীরিক প্রতারণার ফল হলো নৈতিক অবক্ষয়, শারীরিক অক্ষমতা, অকাল ক্লান্তি ও বার্ধক্য। এগুলো আমাদের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রতিদিনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, 'সততাই সেরা নীতি।'" ** পৃ. ২৫৫-২৫৬ * প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এসব পাপের প্রভাব অনেক সময় ঘটনার কয়েক বছর পরও বোঝা যায় না। এমনকি যখন বোঝা যায়, তখনও খুব কম ক্ষেত্রেই আসল কারণটিকে দোষ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি মানুষ বহু বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু একবারও সন্দেহ করেনি যে তাদের এই কষ্টের কারণ প্রকৃতির নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এভাবে তৈরি হওয়া জরায়ুর রোগগুলো এই শ্রেণির সবচেয়ে জেদি রোগ। এগুলো প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক মারাত্মক হয়। ফিলাডেলফিয়ার ডা. উইলিয়াম গুডেল সম্প্রতি এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, গর্ভধারণ রোধ করার চেষ্টা করা ডিম্বাশয়ের প্রোল্যাপসের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, যা খুবই পরিচিত এবং যন্ত্রণাদায়ক রোগ। কখনো কখনো সহানুভূতি থেকে বা আশপাশের অঙ্গগুলোতে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঙ্গ, বিশেষ করে মূত্রাশয় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। <br> আমরা প্রায়শই যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, যারা এসব চর্চা করেছে, তাদের বোঝানো যে এটি আত্মা ও শরীর উভয়ের বিরুদ্ধেই কত বড় পাপ। সব সতর্কতা এবং হয়তো ভোগান্তির পরও, প্রায়শই এই প্রথা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। খুব বেশি ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নিয়মের প্রতি এই অনীহা একজন স্বার্থপর স্বামীর অনুভূতিহীন ও অযৌক্তিক দাবির কারণে ঘটে থাকে। ** পৃ. ২৫৭-২৫৮ * নিজেদের দেওয়া শারীরিক কাঠামোর অখণ্ডতা নষ্ট করার কী নৈতিক অধিকার নারী বা পুরুষের আছে, যার জন্য তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য? অবশ্যই কোনো অধিকার নেই। কারণ যে মানুষ নিজেকে তিলে তিলে ধ্বংস করে, সে গলা কেটে বা মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা ব্যক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম খুনি নয়। অপরাধ একই—মানুষের জীবন ছোট করা—তা নিজের ক্ষতি করা হোক বা অন্যের। এই বিষয়ে অন্তত তিনজন ভুক্তভোগী থাকেন; স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তান। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভবত স্বামী একাই এই পাপের জন্য দায়ী। ** পৃ. ২৬০ * আগেই দেখানো হয়েছে যে, নারীদের ডিম্বাণু এবং পুরুষদের শুক্রাণু—এই দুটি উপাদানের প্রাথমিক রূপেই মানবদেহ তৈরির সব উপাদান থাকে। একা এর কোনোটিই নিজের বর্তমান অবস্থার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে না। তবে যেই মুহূর্তে এই দুটি উপাদান মিলিত হয়, তখনই নিষিক্তকরণ ঘটে এবং ব্যক্তিজীবনের শুরু হয়। সেই মুহূর্ত থেকে বছরখানেক পর পরিণত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শুধুই বিকাশের। পরের কোনো মুহূর্তেই একদম নতুন কিছু যোগ হয় না। এসব তথ্য বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, গর্ভধারণের ঠিক মুহূর্তটিতেই ভ্রূণাবস্থায় থাকা মানবশিশু জীবনের সম্পূর্ণ অধিকার লাভ করে। এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র মানবশিশু, যার আত্মা ও শরীর রয়েছে, যদিও তা অত্যন্ত অপরিপক্ব। প্রজনন কাজের সময় গর্ভধারণ হতে পারে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বা এরপর গর্ভধারণ রোধ করার জন্য কোনো উপায় ব্যবহার করা হলে এবং তা সফল হলে, তা এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া গর্ভধারণের সেই সূক্ষ্ম পরিণতিকে ধ্বংস করেই হয়। যা আগে বলা হয়েছে, এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব—নিশ্চিতভাবেই জন্মের আগের যেকোনো সময়ের মতো স্বাধীন। <br> মানুষের জীবন নেওয়া কি অনৈতিক? শিশু হত্যা কি পাপ? জন্মের সময় কোনো শিশুকে শ্বাসরোধ করে মারা কি অপরাধ? মায়ের গর্ভে থাকা অর্ধগঠিত কোনো মানবশিশুকে ধ্বংস করা কি খুনের পর্যায়ে পড়ে? কে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর 'না' দেওয়ার সাহস করবে? তাহলে প্রজনন কাজের সবচেয়ে সাম্প্রতিক পরিণতিকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যে সমানভাবেই একটি খুন, তা কে অস্বীকার করতে পারে? <br> অস্তিত্বের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সংঘটিত অসংখ্য খুনের হিসাব কে রাখতে পারে? কিছু মানুষের আত্মার ওপর থাকা এই অপরাধবোধের বোঝা কে পরিমাপ করতে পারে? আর কে জানে এভাবে কতগুলো উজ্জ্বল আলো শুরুতেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে? কত প্রতিশ্রুতিশীল মানব চারা গাছকে অঙ্কুরিত হওয়ার সময়ই নির্মমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? এটি কি আশা করা যায় যে, শেষ বিচারের দিন ন্যায়ের পাল্লায় অজ্ঞতার অজুহাত এই অগণিত খুনের অকাট্য প্রমাণের চেয়ে বেশি ভারী হবে? ** পৃ. ২৬২-২৬৩ * এটি দাবি করা হবে যে এই প্রাথমিক ধ্বংসগুলো খুন নয়। খুন একটি ভয়ানক শব্দ। কাজ হিসেবে এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এর ব্যক্তিগত দায়ভার সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যে মানুষ এই অভিযোগ থেকে পিছপা হবে না, সে মানুষের নামের অযোগ্য—বরং সে আস্ত একটি পশু। তবুও বাস্তবতাকে সরাসরি দেখা এবং একটি আলোকিত বিবেকের সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা না হওয়া প্রয়োজন। আমরা এমন একটি লেখার অংশ উদ্ধৃত করছি, যা আমরা অন্য জায়গায় পুরোটা দিয়েছি। এটি সেই একই বিশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া, যার উদ্ধৃতি আমরা আগেও দিয়েছি: <br> "বস্তুতপক্ষে, গর্ভধারণের পর এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন বলা যায় যে শিশুটির প্রাণ নেই। আর নড়াচড়া করার আগেই মানুষের জীবন ধ্বংস করা নড়াচড়ার পরের সময়ের মতোই জঘন্য ও নিশ্চিত অপরাধ। কিন্তু আপনি হয়তো আপনার ভয়ংকর কাজটির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলবেন: 'ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলছেন, যদি এটি কেবল প্রাণীজীবন হয়, যা বড়জোর সাধারণ জীবনীশক্তির সমান, তবে এখানে কোনো মন বা আত্মা ধ্বংস করা হচ্ছে না। তাই এতে কোনো অপরাধ নেই।' পৃথিবীতে থাকা সব ডিম ধ্বংস করে সব পাখিকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা যতটা নিশ্চিত, আপনার এই কাজের মাধ্যমে ডিম্বাণুর ভেতরে থাকা মানবশিশু ও তার ভেতরের আত্মাকে ধ্বংস করাও ততটাই নিশ্চিত। ... <br> খুন সব সময়ই পাপের। আর খুন হলো যেকোনো পর্যায়ে থাকা মানুষের ইচ্ছাকৃত ধ্বংসসাধন। তা প্রাথমিক ভ্রূণাবস্থা থেকে শুরু করে বয়সের ভারে নুব্জ ও সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্যহীন থাকা সাধারণ প্রাণীজীবন—যেকোনো অবস্থাতেই হতে পারে।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৬২-২৬৩ * '''অসুবিধা:''' বিবাহিতরা চিৎকার করে বলে উঠবেন, "আমরা কী করব?" দুর্বল মায়েদের যাদের কাঁধে আগে থেকেই অনেক সন্তানের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের শরীর আর গর্ভধারণের কষ্ট ও বোঝা বইতে সক্ষম নয়, অথচ তাদের কামুক স্বামীরা শারীরিক মিলনের দাবি করেই চলেছেন—তারা এই সত্য মেনে নিয়েই হতাশার সুরে প্রশ্ন করবেন, "আমরা কী করব?" আমরা প্রথমে পরের দলটির প্রশ্নের উত্তর দেব। বিখ্যাত ইংরেজ যুক্তিবিদ মিস্টার মিল, তার "দ্য সাবজেকশন অব উইমেন" বইয়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণাটি এভাবেই তুলে ধরেছেন: "স্ত্রীকে যতই নিষ্ঠুর এক স্বৈরাচারীর সাথে বেঁধে রাখা হোক না কেন—এমনকি সে যদি জানে যে তার স্বামী তাকে ঘৃণা করে, তাকে নির্যাতন করাই যদি স্বামীর নিত্যদিনের আনন্দ হয় এবং তাকে ঘৃণা না করাটা যদি তার কাছে অসম্ভব মনে হয়—তবুও স্বামী জোর করে তার ওপর এমন পাশবিক কাজ চালাতে পারে, যা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, আর এই কাজ একজন মানুষকে সবচেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দেয়।" ** পৃ. ২৬৩-২৬৪ * '''নারীর অধিকার:''' বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী তার সব ব্যক্তিগত অধিকার বিসর্জন দেয় না। স্বামী স্ত্রীকে মারধর করলে বা কোনোভাবে শারীরিক আঘাত করলে বা এমনকি অবহেলা করলেও আইন তা স্বীকার করে। তাহলে অন্য কোনো নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার সে কেন পাবে না? বা অন্তত পাশবিক লালসার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে সে কেন অস্বীকার করতে পারবে না? বিয়ের পরও সে তার নিজের শরীরের মালিক থাকে। ন্যায়বিচার, সাম্য এবং এমনকি নৈতিকতার জ্ঞান হারিয়ে কে এমন দাবি করতে পারে যে, তার নিজের শরীরের ওপর জোর খাটানোর অনুমতি দেওয়ার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা তার আছে? ** পৃ. ২৬৪ * '''কী করতে হবে:''' এবার প্রথম দলের প্রশ্নের উত্তরে আসি। বিবাহিত দম্পতিরা মিলে গর্ভধারণ রোধের সব উপায় ছেড়ে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। এর আসল ও স্বাভাবিক সমাধান সম্ভবত 'ইন্দ্রিয়দমন' এবং 'দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি' শিরোনামের নিচে দেওয়া পরামর্শগুলোতে পাওয়া যাবে। সেখানে বলা নীতিগুলো মেনে জীবনযাপন করলে এসব এবং এর মতো আরও হাজারো সমস্যা এড়ানো যাবে। এতে শারীরিক আনন্দ কম থাকলেও আধ্যাত্মিক আনন্দ অনেক বেশি থাকবে। পাশবিক ভালোবাসা কম হলেও আধ্যাত্মিক মিলন বেশি হবে। স্থূলতা কমবে, পবিত্রতা বাড়বে। পাশবিক বিকাশ কম হবে এবং সদ্গুণ, পবিত্রতা ও সমস্ত খ্রিষ্টীয় গুণাবলি চর্চার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। <br> "তবে মৃত্যুর আগে এমন জীবনযাপন অসম্ভব।" যারা পরীক্ষা করে দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এমনটা ভাবেন। শেকার সম্প্রদায় এমন নীতিগুলো শুধু শেখায় না, বরং নিজেরাও চর্চা করে বলে দাবি করে। আগে বলা ইন্দ্রিয়দমনের জোরালো সহায়ক উপায়গুলোর মাধ্যমে এটিকে যতটা কঠিন ভাবা হয়, বাস্তবে তা ততটা কঠিন না-ও হতে পারে। ** পৃ. ২৬৫ * '''আপস:''' অনেকে, হয়তো বেশিরভাগ মানুষই, প্রকৃতির এই শিক্ষা মেনে নিতে পারবে না যে শারীরিক মিলনকে কেবল প্রজননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যরা সত্যকে মেনে নিয়ে বলবেন যে "আত্মা ইচ্ছুক" হলেও "শরীর দুর্বল"। তারা জিজ্ঞেস করবেন, "বর্তমান জীবনযাপনের এই মারাত্মক ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচার জন্য কি কোনো আপস করা যায় না?" তারা হয়তো নিচের তথ্যগুলোতে একটি ভালো উপায় বা অন্তত সেরা উপায়ের ধারণা খুঁজে পেতে পারেন। যদিও একে পুরোপুরি বিপদমুক্ত বা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায় বলা যায় না: <br> "নারীদের ঋতুস্রাব গর্ভধারণের উপযুক্ততার প্রমাণ দেয়। স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর ছয় থেকে আট দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকে। কেবল এই সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করতে পারে। ঋতুস্রাব শুরুর পর থেকে বারো দিন পার হতে দিন, এরপর গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এই সময় ইন্দ্রিয়দমন স্বাস্থ্যকর, নৈতিক এবং দোষমুক্ত।" <br> ওপরের কথার সাথে এটি যোগ করা উচিত যে, প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি গর্ভধারণ থেকে বাঁচার কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। ইন্দ্রিয়দমনের এই সময় ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত চৌদ্দ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়া উচিত। যুক্তিসংগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্রাব শুরুর তিন বা চার দিন আগে থেকে আরও সংযম পালন করা দরকার। <br> অনেক লেখক আরেকটি পরামর্শ দেন যা নিশ্চিতভাবেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত আলাদা বিছানায় ঘুমানো। এমন অভ্যাস নিঃসন্দেহে যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। আলাদা ঘর, বা অন্তত পর্দা দিয়ে বিছানা আলাদা করার পরামর্শ কিছু সম্মানিত চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, এমন পদ্ধতি উভয় পক্ষকেই সঠিকভাবে সকালে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ দেবে এবং সেই স্বাভাবিক লজ্জাবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করবে যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ ঠেকাতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে কাজ করে। অনেকেই পরামর্শটি ভালো মনে করবেন এবং বাস্তব জীবনে কাজে লাগাবেন। সিঙ্গল বিছানায় ঘুমানোর প্রথাটি ইউরোপের উচ্চবিত্তদের মাঝে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বলে শোনা যায়। ** পৃ. ২৬৭ * "যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিষ্কার উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি। ... বৈধ কারণ ছাড়া এই কামনা বা অন্য কোনো আবেগের তৃপ্তি ঘটানো নিঃসন্দেহে প্রকৃতির নিয়মের লঙ্ঘন। প্রকৃতির নিয়ম বিবেচনা করে এবং এর ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও শারীরিক ক্ষতি থেকে এটি বোঝা যায়।" <br> "যেসব প্রাণীর ভুল করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিখুঁত প্রবৃত্তি রয়েছে এবং যাদের ভালো-মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নেই, তারা কেবল নির্দিষ্ট সময়েই মিলিত হয়, যখন আনন্দ এবং বংশবৃদ্ধি দুটোই সম্ভব। তাদের জন্য এভাবেই ঠিক করা হয়েছে যে উদ্দেশ্য ও উপায় কখনোই আলাদা হবে না। যেহেতু সর্বজ্ঞানী ঈশ্বর তাদের এই প্রবৃত্তি দিয়েছেন এবং অন্য কোনোভাবে কাজ করার ক্ষমতা না দেওয়ায় তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাই এটি পরিষ্কার যে এটি 'তাঁর আইন'। একই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং একই উদ্দেশ্যের অধিকারী সবার জন্যই এই আইন মেনে চলা উচিত। কেবল মানুষ এই আইন মানবে কি মানবে না সেই স্বাধীনতা পেয়েছে বলেই, এর মানে এই নয় যে তারা সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বা অবাধ্যতার ফল ভোগ করার হাত থেকে বেঁচে যাবে।" <br> "যেহেতু যৌন আনন্দের উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি, তাই ওপরের আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে যৌন ক্রিয়াকে এর আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ বংশবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, বা যদি বংশবৃদ্ধি অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও উপায়টি ব্যবহার করা হয়, তবে ক্ষতি অবধারিত।" <br> "দাম্পত্য জীবনে লাগামহীন যৌন মিলনে দোষের কিছু নেই—এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব কম নয়। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে অবাধ স্বাধীনতার মতো মনে করা হয়, যেখানে কোনো বাধা থাকার দরকার নেই বলে ধরা হয়। তবুও যখন উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব কেবল তখনই আনন্দ নেওয়া যাবে—এই নিয়মে যদি সামান্যতম সত্যতাও থাকে, তবে অন্যান্য যেকোনো শারীরিক আনন্দের মতো দাম্পত্য জীবনেও এই আনন্দ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। <br> "সবচেয়ে সভ্য সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আইনে নিষেধ নেই এমন কিছু পাপ বা ভুল হতে পারে না। গর্ভকালীন সময়ে সহবাসের ওপর তারা কোনো নিষেধ দেখেনি। এমন অভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য ও দৈহিক বিকাশের যে ক্ষতি হয়, সেদিকেও তাদের নজর যায়নি। ফলে সারা জীবন ধরে এই বিষয়ে তাদের আচরণ নির্ধারিত হয়েছে কেবল নিজেদের ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে। <br> "বিবাহিত জীবনে এই নিয়ম ভাঙলে স্বামীর কোনো বড় শারীরিক ক্ষতি হয় না। দুর্বলতা, ব্যথা, পেশিতে টান ধরা এবং মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি কখনো কখনো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফল হিসেবে দেখা যায়। তবে একটি বড় ক্ষতি হলো অবাধ স্বাধীনতার কারণে ধীরে ধীরে যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাওয়া। এভাবেই সাধারণ অর্থে যারা সম্পূর্ণ ধার্মিক, এবং যারা অবাধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে—উভয় পক্ষের মধ্যেই কামুক রক্ত লালন করা হয়। <br> "বিবাহিতদের মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্ত্রী এবং সন্তান। প্রাণিজগতের বিষয়টি বিবেচনা করলে এর আংশিক কারণ বোঝা যায়। প্রাণিজগতে কখন পুরুষ প্রাণীটি কাছে আসবে তা স্ত্রী প্রাণীটি ঠিক করে। অসময়ে পুরুষটি এগোলে স্ত্রী প্রাণীটির সহজাত প্রবৃত্তি তাকে চরম আক্রোশে রুখে দাঁড়াতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য করে। প্রকৃতি তার প্রতিটি কাজেই যে বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তা যারা সামান্যও জানেন, তারা সন্দেহ করবেন না যে গর্ভাবস্থায় সব প্রাণীর যৌন মিলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই কোনো ভালো ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আর যদি এটি তাদের জন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য পূরণ করে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে বিপরীতটা কেন খারাপ উদ্দেশ্য পূরণ করবে না? আমাদের শারীরিক গঠন ও কাজ অনেকটাই তাদের মতো। আর প্রজনন পদ্ধতি ও নিয়মের ক্ষেত্রে তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। ওই সময়ে তাদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ক্ষমতা আমাদের আছে বলেই সেটি সঠিক হয়ে যায় না। "মানুষের ঠিক-ভুল বোঝার কোনো সহজাত প্রবৃত্তি না থাকায়, অন্যান্য অনেক কাজের মতো সহবাসের বিষয়টিও যুক্তি বা ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বা বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিকতার ওপর। কারণ এই বিষয়ে কী সঠিক এবং কী গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে যুক্তির পরামর্শ নেওয়া হয় না বা তাকে আলোকিত করা হয় না। প্রকৃতির নিয়মে, প্রবৃত্তিগতভাবেই কখন পুরুষের আগমন গ্রহণযোগ্য হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায়। <br> "কিন্তু কেউ কেউ বলতে পারেন যে এই বিষয়ে সে অসহায়। বিয়ের আগে কেউ তার অনুমতি ছাড়া কাছে আসার সাহস করে না; তাহলে বিয়ের পরও এই সম্মানের জায়গাটি তৈরি করার জন্য পুরুষদের কেন শিক্ষিত করা হবে না? স্ত্রী তার দাসীও নয়, সম্পত্তিও নয়; অথবা বিয়ের বন্ধন তাকে কোনো অস্বাভাবিক দাবি পূরণে বাধ্য করে না।" ** "দ্য টেন লজ অব হেলথ", উদ্ধৃতি পৃ. ২৬৭-২৭১ * '''আধুনিক কোনো অপরাধ নয়'''—যদিও আধুনিক যুগে এই অপরাধ বিশাল আকার ধারণ করেছে, তবুও এটি কোনোভাবেই নতুন কোনো অপরাধ নয়, তা নিচের অনুচ্ছেদ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে:— <br> "রোমান, মেডেস, কেনানাইট, ব্যাবিলনীয় এবং অন্যান্য প্রাচ্যের দেশগুলোতেও শিশুহত্যা এবং তাদের ফেলে আসা একটি প্রথা ছিল। কেবল ইসরায়েলি এবং মিসরীয়রা এর ব্যতিক্রম ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা নিছক খেয়ালের বশে তাদের সন্তানদের হত্যা করত। নরওয়েজিয়ানরা তাদের সন্তানদের যত্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে মুখে একটু খাবার দিয়ে গাছের শিকড় বা পাথরের নিচে রেখে আসত, যাতে বন্য পশুরা তাদের খেয়ে না ফেলে। চীনাদের মধ্যেও শিশুহত্যার অনুমতি ছিল। গত শতাব্দীতেও আমরা দেখেছি পেকিনের রাস্তায় প্রতিদিন মৃত শিশুদের লাশ কুড়ানোর জন্য গাড়ি ঘুরত। আজ বাবা-মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেখানে এতিমখানা রয়েছে। জাপানে, দক্ষিণ মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে, ওতাহেইটে এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বন্য জাতির মধ্যেও একই প্রথা দেখা যায়। গিনির জ্যাগাররা নিজেদের সন্তানদের খেয়ে ফেলে বলে শোনা যায়।" <br> গ্রিকরা পরিকল্পিতভাবে শিশুহত্যা করত। একসময় তাদের আইনে পঙ্গু বা দুর্বল শিশুদের মেরে ফেলার নির্দেশ ছিল। বিভিন্ন জাতির মধ্যে এই অপরাধের মূল উদ্দেশ্য মনে হতো সন্তান লালন-পালনের ঝামেলা এড়ানো বা অতিরিক্ত জনসংখ্যা কমানো। যারা বর্তমানে এই অপরাধগুলো করে, তাদের উদ্দেশ্যের চেয়ে এটি খুব একটা আলাদা নয়। <br> মায়ের পেটে শিশুটি নড়াচড়া করার পর তাকে ধ্বংস করাকে ইনফ্যান্টিসাইড বা শিশুহত্যা বলা হয়; আর এর আগের সময়ের ঘটনাটিকে সাধারণত অ্যাবরশন বা গর্ভপাত বলা হয়। শিশুটি নড়াচড়া করার আগে তার কোনো আত্মা বা ব্যক্তিগত জীবন থাকে না—এটি একটি আধুনিক ধারণা। এই ভুল ধারণাটি আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি। প্রাচীনকালের মানুষেরা সমান যুক্তি দিয়েই দাবি করত যে জন্মের আগে শিশুর কোনো আলাদা জীবন থাকে না। এ কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা নির্দ্বিধায় শিশুহত্যা করত। "প্লেটো এবং অ্যারিস্টোটল এই প্রথার সমর্থক ছিলেন। এই স্টোইক দার্শনিকরা এই ভয়ংকর প্রথার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলতেন যে, জরায়ুর জীবন শেষ করে শিশুটি যখন শ্বাস নিতে শুরু করে, কেবল তখনই সে আত্মা লাভ করে। এর ফলে তাদের যুক্তি দাঁড়ায়, শিশুটির যেহেতু জীবন নেই, তাই তাকে ধ্বংস করা কোনো খুন নয়।" ** পৃ. ২৭২-২৭৪ * '''অপরাধের কারণ:''' পাপের ফল লুকানো, মাতৃত্বের বোঝা এড়ানো, আরাম ও ভ্রমণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি কারণে বা মাতৃত্ব একটি অশালীন ব্যাপার—এমন ভুল ধারণা থেকে একজন মা তার অসহায় সন্তানকে নির্মমভাবে ধ্বংস করতে পারেন। তবে এটি নিঃসন্দেহে সত্য যে, এই পাপের প্রধান কারণ এসবের অনেক গভীরে লুকিয়ে আছে। গর্ভের সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়া মায়ের অপরাধের বর্ণনায় সবচেয়ে কঠোর ও তীব্র ভাষা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি ওই নারীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দুর্ভাগ্যজনক শিশুটির জন্ম দিয়েছে, তার সম্পর্কে খুব কমই কথা বলা হয়। চিকিৎসক, ধর্মযাজক এবং নীতিবিদরা এ বিষয়ে অনেক কথা বললেও এবং অনেক কিছু লিখলেও, এটি মনে করা যৌক্তিক যে তারা সংস্কারের পথে খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না। যতক্ষণ না তারা এসব দুঃখজনক ঘটনায় পুরুষের ভূমিকা স্বীকার করছেন এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সংস্কারের দাবি তুলছেন, ততক্ষণ এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। "গর্ভধারণ রোধ" বিষয়ের আলোচনায় আগেই বলা হয়েছে, এই অপকর্মের শুরু হয় "দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি" থেকে। নারী তার নিজের শরীরের একমাত্র মালিক এবং প্রস্তুত না থাকলে প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন না করেই পুরুষের আগমন প্রত্যাখ্যান করার অধিকার তার রয়েছে। এই প্রাকৃতিক নিয়মকে উপেক্ষা করার ফলেই এমনটি ঘটে। ** পৃ. ২৮০ * '''অপরাধের হাতিয়ার:''' "নানা উপায়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়। কখনো কখনো নৈতিক বলে দাবি করা সংবাদপত্রগুলোতে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত শক্তিশালী ওষুধের মাধ্যমে এটি করা হয়! বিজ্ঞাপনগুলো এত সুকৌশলে লেখা থাকে যে, সতর্কতার মোড়কে ওষুধটির গর্ভপাত ঘটানোর ক্ষমতার কথা ঠিকই জানিয়ে দেওয়া হয়। কখনো গোপন প্রচারপত্রের মাধ্যমে এই তথ্য ছড়ানো হয়। তবে সাধারণত পেশাদার গর্ভপাতকারীরাই এই কাজ বেশি করে থাকে। তারা ইশারায় নিজেদের বিজ্ঞাপন দেয়, অথবা বারবার এই কাজ করে পরিচিতি লাভ করে। বেশ কিছু নারী সংকোচ বা লজ্জার কারণে নিজেরাই নিজেদের গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে। এরপর তারা অন্যদেরও একই কাজ করতে স্বেচ্ছায় শেখায় এবং উৎসাহিত করে।" ** পৃ. ২৮০ * '''এই অস্বাভাবিক অপরাধের ফল:''' চিকিৎসকদের সর্বজনীন মত হলো, গর্ভপাতের প্রভাব শিশুর পাশাপাশি মায়ের জন্যও প্রায় সমানভাবে মারাত্মক। এতে কষ্টের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। শিশুর কষ্ট (যদি আদৌ থাকে) সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, নিজের প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এই ভয়ংকর নির্যাতনের ধাক্কা সামলে উঠলেও মাকে সারা জীবন কষ্ট বা দুর্দশার মধ্যে কাটাতে হয়। পরিসংখ্যানে প্রমাণিত হয়েছে, এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি "স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে পনেরো গুণ বেশি।" একজন বিশিষ্ট চিকিৎসা-লেখক দাবি করেছেন, কুড়িবার স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে একবার গর্ভপাত করালে একজন নারী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে ডা. গার্নার বলেন:- <br> "আমরা জানি একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বড় পরিবার পালনের পরিশ্রমে নারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আমরা এই কথার সাথে কিছুটা একমত হতে পারি। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি আরও বেশি লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বংশবৃদ্ধি এড়াতে যেসব চেষ্টা করা হয়, তা স্বাস্থ্য ও শরীরের জন্য দশ হাজার গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। মন ও হৃদয়ের অবক্ষয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, যা লাল গাল বা শারীরিক শক্তি দিয়ে মাপা যায় না।" ** পৃ. ২৮০-২৮১ * '''অবাঞ্ছিত শিশু:''' কিন্তু ধরুন, মা তার সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় সফল হলেন না; এমনটা হতেই পারে। তখন কী ভয়ংকর ফল হতে পারে! মায়ের এই খুনে মানসিকতা যে ওই অবাঞ্ছিত শিশুর চরিত্রে স্থায়ীভাবে দাগ কেটে যাবে এবং তাকে খুনখারাপির দিকে স্বভাবতই ধাবিত করবে, তা কে সন্দেহ করতে পারে? <br> আবার একটি জঘন্য চিন্তার কথা ধরুন। শিশুটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো, যার ফলে তার কোমল শরীরটি ভয়ংকরভাবে বিকৃত হয়ে গেল। এমন একটি শিশু যখন জন্ম নেবে, তখন তার ওপর চালানো নিষ্ঠুর নির্যাতনের কী ভয়ংকর প্রমাণই না তার ওই পঙ্গু ও বিকৃত শরীরে ফুটে উঠবে! ** পৃ. ২৮১ * '''প্রতিকার:''' এই বিশাল অপকর্ম কখনো নির্মূল করা যাবে কি না, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর প্রতিকার করতে হলে পাশবিক কামুকদের ভদ্র খ্রিষ্টান বানাতে হবে। ফ্যাশনের প্রলুব্ধকর দাসত্ব থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে। জীবন ও এর দায়িত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা উপড়ে ফেলতে হবে। এককথায়, সমাজে বিপ্লব আনতে হবে। এই অপরাধ গোপনে করা হয়। অনেক সময় অপরাধী নিজে ছাড়া আর কেউই এই অপকর্মের কথা জানতে পারে না। খুব কম ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা এমনভাবে সামনে আসে যা আবছাভাবে বোঝা যায়। তাই যেকোনো বেসামরিক আইনের অকার্যকারিতাই এখানে স্পষ্ট। তবে এই সমস্যাটি ভয়াবহ এবং দিন দিন বাড়ছে। এই অপরাধের স্রোত থামাতে এবং ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কি কোনো চেষ্টাই করা হবে না? অন্তত একটি চেষ্টা তো করা উচিত। প্রতিটি খ্রিষ্টান তাদের মিম্বর থেকে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিক। সত্যকে এত পরিষ্কার ভাষায় বলা হোক যেন ভুল বোঝার কোনো অবকাশ না থাকে। যারা এই অত্যন্ত জঘন্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত, তাদের খুনি হিসেবেই দেখা হোক, কারণ তারা আসলেই তা-ই। তাদের আসল নৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক। ** পৃ. ২৮২-২৮৩ * '''প্রতিনিধির মাধ্যমে খুন:''' "বর্তমানে একধরনের শিশুহত্যা রয়েছে, যা খুব একটা পরিচিত না হলেও আরও বেশি বিপজ্জনক। কারণ এটি কোনো শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যায়। এমন অনেক বাবা-মা আছেন, যারা নিজেদের সন্তান ধ্বংস করার কথা ভাবলে ভয়ে শিউরে ওঠেন, অথচ তারা এদের হাত থেকে মুক্তি পেতেও খুব আগ্রহী থাকেন। এরপর তারা কোনো অনুশোচনা ছাড়াই এদের এমন সব আয়ার হাতে তুলে দেন, যাদের কাছে বাচ্চা রেখে গেলে তারা কখনো বাচ্চা ফেরত দেয় না বলে কুখ্যাতি রয়েছে। এই হতভাগ্য ছোট ছোট প্রাণীগুলো অনাহার ও খারাপ আচরণের শিকার হয়ে মরতে বাধ্য হয়। <br> "এই নিরপরাধ ভুক্তভোগীদের সংখ্যা কল্পনার চেয়েও বেশি। সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে আদালতে পাঠানো চিহ্নিত শিশুহত্যার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই এদের সংখ্যা বেশি।" ** পৃ. ২৮৩ * '''সামাজিক ব্যাধি''' <br> ইতিহাসের শুরু থেকেই অবৈধ যৌন মিলন মানবতার গায়ে এক কলঙ্ক হয়ে আছে। বর্তমানে এটি এমন এক জঘন্য আলসারের মতো সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুকে কুরে কুরে খাচ্ছে, যেন এক মারাত্মক কুষ্ঠরোগ, যা আধুনিক সংস্কৃতির সবচেয়ে সুন্দর অর্জনগুলোর মাঝেও তার কুৎসিত বিকৃতি প্রকাশ করছে। আমাদের বড় শহরগুলো পাপের আস্তানায় ভরপুর। এসব জায়গার নিয়মিত বাসিন্দারা নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং পথচারীদের সামনে নিজেদের কুখ্যাতি জাহির করে। ইউরোপের অনেক বড় শহরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব পাপের আস্তানাকে আইনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেখানে পতিতালয়ের মালিকদের লাইসেন্স ফি দিতে হয়। অন্য কথায়, তাদের সহমানুষদের "নরকের তলদেশে" নিয়ে যাওয়ার অধিকার কিনে নিতে হয়। <br> বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর, এমনকি মহানগর থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে-কানাচেও পাপের আস্তানা দেখা যায়। প্রতিটি সেনাবাহিনীর সাথেই থাকে পতিতাদের দল। পুরুষরা যেখানেই যায়, এই নারীরাও তাদের পিছু পিছু যায়। এমনকি সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে দুর্গম খনি শ্রমিকদের ক্যাম্পেও এরা পৌঁছে যায়। <br> কিন্তু শুধু পতিতালয় আর ভ্রাম্যমাণ পতিতাদের দিয়ে এই বিশাল ও ভয়ংকর অপকর্মের পুরোটা বোঝানো সম্ভব নয়। <br> অনৈতিক নারীদের একটি শ্রেণি রয়েছে, যারা নিজেদের সম্মানজনক বলে মনে করে। এদের সংখ্যা সম্ভবত আগে উল্লেখ করা সাধারণ পতিতাদের চেয়েও বেশি। খুব কম মানুষই এদের আসল রূপ জানে। এরা খুব জাঁকজমকের সাথে জীবন কাটায় এবং ভদ্র সমাজে মেলামেশা করে। আড়ালে এরা টাকার লোভে বা কেবল নিজেদের কামুকতা মেটাতে সীমাহীন উচ্ছৃঙ্খলতায় লিপ্ত হয়। সাধারণ পতিতাদের চেয়ে "রক্ষিতা" হিসেবে রাখা নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। ** পৃ. ২৮৪-২৮৫ * '''প্রাচীনকালের অপবিত্রতা:''' আমরা প্রায়ই মনে করি, বর্তমান যুগই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্ছৃঙ্খল যুগ। উনবিংশ শতাব্দীতে পাপ তার চরম সীমায় পৌঁছেছে। সব যুগের কামুক রক্ত একত্রিত হয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কামুক এক মানবজাতির জন্ম দিয়েছে। আগের কোনো যুগ বর্তমানের চেয়েও বেশি জঘন্য হতে পারে—এমনটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও এমন সময় ছিল যখন কামুকতা এখনকার চেয়েও বেশি লাগামহীন ছিল। তখন পাপ ছিল সর্বজনীন এবং পবিত্রতা বলতে কিছু ছিল না। ইতিহাসের কিছু তথ্যের দিকে তাকালেই এটি প্রমাণ হবে। বর্তমানের অনৈতিকতাকে জায়েজ করতে আমরা এসব ঘটনার উল্লেখ করছি না। বরং জাতিগুলোর পতনে পাপ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে, তা দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য। <br> পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা বুঝতে পারি, বন্যার আগে পৃথিবীতে এমন এক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা এর পরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ছিল। ওই কামুক প্রজন্ম ও তাদের নোংরা কাজগুলোকে চিরতরে মুছে ফেলা সেই বিপর্যয় থেকে বাঁচার যোগ্য ছিল মাত্র আটজন মানুষ। <br> কিন্তু মানুষ দ্রুতই আবার পাপে জড়িয়ে পড়ে। আমরা দেখতে পাই, শুরুর দিকের অ্যাসিরীয়রা পবিত্রতাকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করত। সেখানকার রাজারা চরম কামুকতায় মেতে থাকত। <br> টলেমিদের উচ্ছৃঙ্খলতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো পাপ হতে পারে না। তারা আলেকজান্দ্রিয়াকে একটি পতিতালয়ে এবং পুরো মিসরকে পাপের আস্তানায় পরিণত করেছিল। হেরোডোটাস বলেছেন, "চিওপসের পিরামিড তৈরি করেছিল ওই রাজার মেয়ের প্রেমিকেরা। আর অসংখ্যবার নিজেকে বিলিয়ে না দিলে সে কখনোই এই স্মৃতিস্তম্ভটি এত উঁচু করতে পারত না।" ইতিহাস ওই রানি ক্লিওপেট্রার রোমাঞ্চকর অভিযানের কথাও বলে, যে তার রূপ দিয়ে বিশ্বের দুই প্রভুকে মুগ্ধ ও প্রলুব্ধ করেছিল এবং যার কামুকতা তার সৌন্দর্যকেও হার মানিয়েছিল। <br> টায়ার ও সিডন, মিডিয়া, ফিনিশিয়া, সিরিয়া এবং পুরো প্রাচ্য যৌনতায় ডুবে ছিল। ব্যভিচার তাদের উপাসনার অংশে পরিণত হয়েছিল। নারীরা শহরের রাস্তাগুলোতে সবচেয়ে অশ্লীল ও জঘন্য দৃশ্য প্রদর্শন করে বেড়াত। এসব জাতির মধ্যে একজনও পবিত্র নারী পাওয়া যেত না। কারণ হেরোডোটাসের মতে, দেশের আইন অনুযায়ী যুবতীরা "তাদের জীবনে একবার ভেনাসের মন্দিরে অপরিচিতদের কামনার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য ছিল এবং কাউকে ফেরানোর অনুমতি তাদের ছিল না।" <br> সেন্ট অগাস্টিন বলেছেন, তার সময়েও ফিনিশিয়ায় এসব ধর্মীয় উচ্ছৃঙ্খলতা চলত। এমনকি চতুর্থ শতাব্দীতে কনস্ট্যান্টাইন যেসব মন্দিরে এসব হতো তা ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত এগুলো চলতে থাকে। <br> গ্রিকদের মধ্যে ব্যাকাস এবং ফ্যালাসের উপাসনায় একই ধরনের দুর্নীতি প্রচলিত ছিল। অর্ধেক নগ্ন মেয়েরা "স্যাটায়ারের ছদ্মবেশে থাকা পুরুষদের সাথে কামুক নাচ নেচে" এটি উদ্‌যাপন করত। বস্তুতপক্ষে, এক্স. বুর্জোয়া যেমনটি বলেছেন, "গ্রিসে পতিতাবৃত্তি সম্মানজনক ছিল।" সবচেয়ে বিশিষ্ট নারীরা ছিল পতিতা। আর জ্ঞানী সক্রেটিসকে আধুনিক যুগে অনায়াসেই একজন লম্পট বলা যেত। <br> রোমান সম্রাটদের আমলে কামনার কাছে আত্মসমর্পণের বিষয়টি আরও সম্পূর্ণ ছিল। রোম "তার বিজয়ের জাঁকজমক দিয়ে বিশ্বকে অবাক করার পর, নিজ চরম নির্লজ্জতা দিয়েও বিশ্বকে অবাক করেছিল।" <br> মহান সিজার এতটাই লম্পট ছিলেন যে তাকে "সব নারীর স্বামী উপাধি পাওয়ার যোগ্য" বলা হতো। অ্যান্টনি এবং অগাস্টাসও একইভাবে কুখ্যাত ছিলেন। রাজদরবারের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই কামুকতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওভিড, ক্যাটুলাস এবং ওই সময়ের অন্যান্য কবিদের লেখা কামুক কবিতাগুলো একে আরও উসকে দিত। <br> টাইবেরিয়াস নির্লজ্জতার নতুন নতুন রূপ আবিষ্কারে এমন বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছিলেন যে, সেগুলোর নামকরণের জন্য নতুন শব্দ তৈরি করতে হয়েছিল। ক্যালিগুলা সবার সামনেই নিজের সব বোনের সাথে ব্যভিচারের ভয়ংকর অপরাধ করতেন। তার প্রাসাদ ছিল একটি পতিতালয়। রোমান সম্রাজ্ঞী মেসালিনা একজন পতিতার ছদ্মবেশ নিতেন এবং তার জঘন্য উচ্ছৃঙ্খলতায় সবচেয়ে পতিত নারীদেরও ছাড়িয়ে যেতেন। রোমান সম্রাট ভিটেলিয়াস পেটপুরে খাওয়ার পর বমি করার ওষুধ খেতেন, যাতে তিনি আবার তার পেটুকপনা শুরু করতে পারেন। আরও চরম কামুকতার বশবর্তী হয়ে তিনি নানা ধরনের উত্তেজক ওষুধ ও মিশ্রণ খেয়ে নিজের মেটানো কামনাসনাকে আবার জাগিয়ে তুলতেন। <br> সবচেয়ে কুখ্যাত সম্রাট নিরো বন্য পশুর ছদ্মবেশে রোমের পাবলিক থিয়েটারের মঞ্চে ধর্ষণ করতেন। <br> এই জঘন্য কামুকতা যদি শুধু রাজপরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে হয়তো প্রাচীনকালের মানুষের পবিত্রতার প্রতি কিছুটা সম্মান ধরে রাখা যেত। কিন্তু এই জঘন্য সংক্রমণ এত ছোট গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। এটি পুরো সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, যতক্ষণ না পচনের কারণে সেগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। এমন একটি জাতির অবস্থা কেমন হতে পারে, যারা নিজেদের সম্রাটকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় মহানগরীর রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে, আর তাকে টেনে নিয়ে যায় তারই মতো নগ্ন নারীরা? হেলিওগ্যাবালাস রোমে ঠিক এমন কাজই করেছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিসের মতোই ফ্রান্সেও পবিত্রতা প্রায় বিরল ছিল। <br> অভিজাতরা তাদের এলাকার সব যুবতীকে রক্ষিতা হিসেবে রাখত। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজন ছিল জারজ সন্তান। বিপ্লবের ঠিক আগে, পবিত্রতা এতটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল যে, একজন নারীকে সৎ থাকার জন্য রীতিমতো ক্ষমা চাইতে হতো! <br> এসব জঘন্য ঘটনার মধ্যেই আমরা জাতিগুলোর পতনের সবচেয়ে শক্তিশালী কারণগুলোর একটি খুঁজে পাই। উচ্ছৃঙ্খলতা তাদের জীবনীশক্তি কেড়ে নিয়েছিল এবং তাদের বীরত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল। যারা বিশ্ব জয় করেছিল, তারা নিজেদের পাশবিক কামনার কাছেই বন্দী হয়ে পড়েছিল। এভাবেই অ্যাসিরীয়, মেডেস, গ্রিক এবং রোমানরা একে একে নিজেদের কামনার শিকার হয়ে পতন ডেকে এনেছিল এবং তুলনামূলক বেশি পবিত্র উত্তরসূরিদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল। এমনকি ওই যুগের সবচেয়ে আলোকিত জাতি ইহুদিরাও মূর্তিপূজার সাথে যুক্ত এই একই পাপে একাধিকবার পতিত হয়েছিল। মিডিয়ানাইটদের দ্বারা তাদের প্রলুব্ধ হওয়া এর একটি উদাহরণ। <br> নিঃসন্দেহে আধুনিক যুগ প্রাচীন যুগের চেয়ে খারাপ কোনো কামুকতার দৃশ্য তুলে ধরে না। আর এটা কি দাবি করা যায় যে, বর্তমানের সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে এতটা জঘন্য কিছু দেখা যায়? কিন্তু বর্তমানে কামুকতায় স্থূলতা কম থাকলেও, মানুষের নৈতিক স্খলন প্রাচীনকালের চেয়েও বেশি হতে পারে। আলোকিত খ্রিষ্টধর্ম নৈতিকতার মান বাড়িয়ে দিয়েছে। সপ্তম আদেশের বিষয়ে খ্রিষ্টের ভাষ্য প্রাচীন মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর পবিত্রতার দাবি করে। এমনকি ইহুদিদের মধ্যেও কি ডেভিড, সলোমন এবং ধার্মিক জ্যাকবের একাধিক স্ত্রী ছিল না? ফলে বর্তমানে পবিত্রতার সামান্য লঙ্ঘনও আগের যুগের বড় কোনো স্খলনের মতোই চরম পতন হিসেবে গণ্য হয়। আর এর জন্য সমান কঠোর নৈতিক শাস্তিও পেতে হয়। <br> আমরা দেখেছি "সামাজিক ব্যাধি" কতটা সর্বজনীন। এটি মানুষের মতোই পুরোনো একটি পাপ। এটি দেখায় যে তার বিকৃত প্রকৃতিতে এটি কতটা গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। প্রশ্ন ওঠে, এত ভয়ংকর একটি পাপের কারণ কী? প্রকৃতির নিয়মের ওপর এত বড় আঘাতের কারণ কী? মানবজাতির ওপর এত ভয়ংকর অভিশাপের কারণ কী? ** পৃ. ২৮৫-২৯০ * '''কামুক রক্ত:''' কামুক প্রবৃত্তি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। লম্পটদের সন্তানেরা প্রায় নিশ্চিতভাবেই লম্পট এবং পতিতা হয়। ইতিহাস এর অসংখ্য উদাহরণ দেয়। অগাস্টাসের মেয়ে তার বাবার মতোই অপবিত্র ছিল এবং তার নাতনিও তার মতোই অনৈতিক ছিল। ডেভিডের ছেলেদের মধ্যেও বাবার দুর্বলতার স্পষ্ট ছাপ দেখা গিয়েছিল। আমননের ব্যভিচার এবং সলোমনের কামুকতার কথাই ধরুন। সলোমনের সাতশ স্ত্রী এবং তিনশ উপপত্নী ছিল। সলোমনের ছেলেও একইভাবে একজন কুখ্যাত বহুগামী ছিল, যার সম্পর্কে ইতিহাসে বলা হয়েছে, "সে অনেক স্ত্রী কামনা করত।" তার নাতিও তার দুর্বল রাজ্য যতটা অনুমোদন দেয় ততগুলো স্ত্রী গ্রহণের মাধ্যমে একই প্রবৃত্তির প্রমাণ দিয়েছিল। এই কামুক প্রবৃত্তির উৎস খুঁজতে আরও পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ডেভিড জুদাহর বংশধর। জুদাহ ও তার পুত্রবধূর অবৈধ মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া ফারেক্সের মাধ্যমেই এই বংশধারা ডেভিড পর্যন্ত পৌঁছেছে। <br> এটি মনে করা কি অযৌক্তিক যে, যেই অস্বাভাবিক কামনা ডেভিডকে বাথশেবার সাথে ব্যভিচার এবং পরে তার স্বামীকে হত্যার মতো জীবনের সবচেয়ে জঘন্য পাপ করতে বাধ্য করেছিল, তা আসলে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া এক বংশগত প্রবৃত্তি ছিল? এই প্রবৃত্তি হয়তো তার জীবনের শুরুর দিকের কর্মঠ ও সাধারণ জীবনযাপনের কারণে সুপ্ত ছিল। কিন্তু রাজকীয় অলসতা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশে তা পূর্ণ শক্তিতে জেগে ওঠে। বংশগতির জানা নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি মিলে গেলে এমন প্রবণতা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। <br> সন্তানের মধ্যে খারাপ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যৌন মিলনের প্রভাব নিয়ে এই বইয়ের অন্য জায়গায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে শুধু বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। শারীরবিদ্যা নিশ্চিতভাবে দেখায় যে, যেসব বাবা-মায়ের ছেলেরা লম্পট এবং মেয়েরা পতিতা হয়েছে, তারা নিজেরাই সন্তানদের মধ্যে সেই প্রবৃত্তি বুনে দিয়েছিলেন যা তাদের অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ২৯০-২৯২ * '''পেটুকপনা:''' বংশগতির পরেই খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবকে পূর্বশর্ত হিসেবে ধরা উচিত। এটি একটি পরীক্ষিত সত্য যে "সব লম্পটরাই বড় খাদক বা বিখ্যাত ভোজনরসিক হয়ে থাকে।" গোলমরিচ, সরিষা, আদা, মসলা, ট্রাফল, ওয়াইন এবং সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় প্রজনন অঙ্গের ওপর কতটা উত্তেজক প্রভাব ফেলে, তা সবারই জানা। চা ও কফি যৌন অঙ্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকেন্দ্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে সরাসরি পাশবিক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে। শিশুদের যখন এসব খাবার খাওয়ানো হয়, বা তাদের খাবারের সাথে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা মাঝে মাঝে "খারাপ পথে" গেলে অবাক হওয়ার কী আছে? কত মায়েরা নার্সারিতে সন্তানদের পবিত্রতার নীতি শেখানোর পাশাপাশি অজান্তেই ডাইনিং টেবিলে তাদের আবেগকে এমনভাবে উসকে দেন যে, পাপ প্রায় শারীরিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়! <br> পর্যাপ্ত ব্যায়ামের পাশাপাশি মসলামুক্ত সাধারণ খাবার আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। <br> অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দেওয়ায় তামাকের প্রভাব। ** পৃ. ২৯২ * '''অকালপক্ব যৌনতা:''' শিশুদের মধ্যে প্রেমের ভান করা এবং যৌন কামনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে যৌন বৈশিষ্ট্যের অকাল বিকাশের কারণগুলো আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এটি নিশ্চিত যে, যেসব অনুভূতি কেবল বয়ঃসন্ধি বা তার পরের বয়সের জন্য মানানসই, সেগুলোর অকাল বিকাশের চেয়ে পবিত্রতার জন্য বেশি বিপজ্জনক আর কিছুই হতে পারে না। খুব অল্পবয়সী কোনো মেয়েকে পরিণত বয়সের উচ্ছৃঙ্খল নারীদের মতো আচরণ করতে দেখাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও খুব একটা বিরল নয়। <br> "পুরুষদের কামুকতা"—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে "সামাজিক ব্যাধি"-এর জন্য পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। এখানেও সাধারণ নীতিটি প্রযোজ্য—চাহিদা অনুযায়ী জোগান ঠিক হয়। পতিতাবৃত্তির গ্রাহকেরা যদি হঠাৎ করে পবিত্র হয়ে তাদের সমর্থন তুলে নেয়, তবে এই জঘন্য ব্যবসা কত দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে! পুরুষদের এমন পবিত্রতার জোয়ারের ফলে পতিতালয়ের বাসিন্দারাও ইন্দ্রিয়দমনকারী, বা অন্তত পবিত্র হয়ে উঠবে। <br> আবার, ঘৃণ্য রোগ ও ভয়ংকর মৃত্যুর কারণে পতিতাদের সংখ্যা দ্রুত কমলেও, সেই শূন্যস্থান পূরণ হয় হতভাগ্য মেয়েদের দিয়ে। আর এই মেয়েদের পতনের জন্য অবিশ্বস্ত প্রেমিক বা চতুর, হৃদয়হীন লম্পটরাই মূলত দায়ী। যে দুর্বল মেয়ে অতিরিক্ত বিশ্বাসের কারণে প্রতারিত হয় এবং নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারায়, আত্মীয়স্বজন তাকে অস্বীকার করে, পরিচিতরা তাকে এড়িয়ে চলে। এরপর তাকে টাকা, বন্ধু বা চরিত্র ছাড়াই এক নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ছুড়ে ফেলা হয়। সে কী করতে পারে? বদনাম তার পিছু ছাড়ে না বলে সে সম্মানজনক কাজ পায় না। তার সামনে কেবল একটি দরজাই খোলা থাকে বলে মনে হয়, যে দরজাটি সে নিজের অজান্তেই খুলেছিল। হতাশায় সে "নরকের খোলা পথে" পা বাড়ায় এবং তার প্রথম দুঃখজনক ভুলের সাথে এক লজ্জাজনক জীবন যোগ করে। এদিকে যে শয়তান তাকে প্রতারণা করেছিল, সে সমাজে তার অবস্থান ঠিকই বজায় রাখে এবং আরেকজন শিকার ধরার জন্য তার কৌশল চালাতে থাকে। এখানে কি কোনো অন্যায্য বৈষম্য নেই? যে নারী প্রতারিত হয়েছে, সমাজ তাকে যেভাবে কলঙ্কিত করে, প্রতারণাকারীকেও কি অন্তত ততটাই কলঙ্কিত করা উচিত নয়? <br> '''ফ্যাশন'''- পোশাক, সুন্দর জামাকাপড়, দামি গয়না এবং ধনী নারীদের সব ধরনের সাজসজ্জার প্রলোভন অনেক ক্ষেত্রেই গরিব দর্জি, কারখানার কর্মী এবং কাজের মেয়েদের দুর্বল পবিত্রতার জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। তারা এত বেশি পাপ দেখেছে যে পাপের প্রতি তাদের সেই সহজাত ঘৃণাবোধ হয়তো হারিয়ে গেছে। আরামদায়ক জীবন পাওয়ার আশায়, যার মানে হলো তাদের লোকদেখানো স্বভাব মেটানো, তারা এই পৃথিবীর মানসিক শান্তি এবং পরকালের সব আশা বিসর্জন দেয়। বিনিময়ে তারা পায় কেবল কিছু মূল্যহীন চাকচিক্য, সহমানুষের অবজ্ঞা এবং একগাদা ঘৃণ্য রোগ। ** পৃ. ২৯৩-২৯৫ * '''প্রাথমিক শিক্ষার অভাব:''' একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ চরিত্র অনেকাংশেই তার প্রাথমিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে—এই সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। যদি একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা এবং বিনয় শেখানো হয়, তবে মন পাপের আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। এর বদলে যদি শিশুটিকে কোনো শিক্ষা ছাড়াই বড় হতে দেওয়া হয়, যদি সবচেয়ে যত্ন করে রাখা মাটিতেও দেরিতে হলেও নিশ্চিতভাবে পড়তে থাকা পাপের বীজগুলোকে অঙ্কুরিত হতে দেওয়া হয়, যদি পাপের প্রথম কুঁড়িগুলোকে সাথে সাথে ছিঁড়ে না ফেলে বড় হতে ও ফুটতে দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে আত্মার মধ্যে পাপের আগাছা বেড়ে উঠবে এবং নির্লজ্জ জীবনের মাধ্যমে তার ভয়ংকর ফল ফলাবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। <br> যে পথ দিয়ে শিশুর কচি মনে পাপ ঢুকতে পারে, তা পাহারা না দেওয়া এবং সতর্ক শিক্ষা ও পবিত্র উদাহরণের মাধ্যমে পাপের বিরুদ্ধে বাধা তৈরি না করার ফলে অনেক নিষ্পাপ আত্মা পাপের আক্রমণের শিকার হয় এবং সহজেই কামনার শিকার হয়। বাচ্চাদের যদি রাস্তায়, মোড়ের মুদি দোকানে, বা সেলুনের আশপাশে ঘুরে বড় হতে দেওয়া হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যে পাশবিক আবেগ জোরালোভাবে বেড়ে উঠবে। নিচের লেখাটি এমন একজনের লেখা থেকে নেওয়া, যার কলম আমেরিকার তরুণদের জন্য এক অমূল্য আশীর্বাদ:— "ছেলেরা তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে প্রথম যে শিক্ষাগুলো পায় তার মধ্যে অন্যতম হলো ভাষার অপবিত্রতা। আর এর পরপরই আসে চিন্তার অপবিত্রতা। ... বাল্যকালের শিক্ষা যখন এমন হয়, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই যে নারী সম্পর্কে পুরুষদের প্রধান ধারণাগুলো প্রায়শই অপবিত্রতা এবং কামুকতার হয়। ... তাই তরুণদের জীবনের ইতিহাসে আমরা অবাক হই না যে, তারা কোনো না কোনোভাবে এবং বিভিন্ন উপায়ে প্রলোভনের কাছে হার মানে। নিঃসন্দেহে অনেকের ক্ষেত্রেই এই আসক্তি ক্ষণস্থায়ী বা হঠাৎ করে ঘটে এবং তা অভ্যাসে পরিণত হয় না। এটিকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মনে করা হয় না। অনুশোচনা ছাড়া কখনোই এর কাছে হার মানা হয় না। ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। কিন্তু পাশবিক প্রবৃত্তি নৈতিকতাকে হার মানায়। তবুও নিয়ম ভাঙার পর সবসময় দুঃখ এবং অনুশোচনা আসে। <br> "তবে অনেকের ক্ষেত্রেই ভয় হয় যে, অবস্থা এমন থাকে না। কামুক ছবি নিয়ে ভেবে এবং কামুক কথাবার্তা বলে তাদের মন কলুষিত হয়ে যায়। তাদের বাধা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। প্রলোভন তাদের পরাস্ত করে না, বরং তারাই এর খোঁজ করে। তাদের কাছে এই নিয়ম ভাঙা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং চরিত্রের দাগ গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।" ** পৃ. ২৯৫-২৯৬ * '''আবেগপ্রবণ সাহিত্য:''' অন্য প্রসঙ্গে আমরা বিশেষভাবে সেসব খারাপ, অশ্লীল বই ও ছবির কথা উল্লেখ করেছি, যা গোপনে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছড়ানো হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছি। এই অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমন আশা পুরোপুরি বৃথা নয়। তবে আরেকটি অপকর্মের কোনো বাস্তব প্রতিকার আছে বলে মনে হয় না, যা কম জঘন্য ও অশ্লীল উপায়ে হলেও শেষ পর্যন্ত একই পরিণতি ডেকে আনে। আমরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবেগপ্রবণ সাহিত্যের কথা বলছি। শহরের ও স্কুলের লাইব্রেরি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, এমনকি সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলোও এমন বইয়ে ভরপুর। এসব বইয়ে হয়তো ভালো নৈতিক শিক্ষা থাকতে পারে, কিন্তু এর সাথে এমন কিছু উপাদানও থাকে যা অন্ধকারের সাথে আলোর মতোই নৈতিকতার পবিত্রতার চরম পরিপন্থী। শিশু-কিশোরদের লেখকেরা মনে করেন তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে "প্রেম, প্রণয় ও পরিণয়"-এর গল্প একেবারেই অপরিহার্য। এই "ধর্মীয় উপন্যাস"-গুলোর কয়েকটি আসলে ওই সব পরিচিত ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, যারা ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কোনো ভান করেন না। সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলো সাধারণত পুরোপুরি এই ধরনের বই দিয়ে তৈরি হয় না। কিন্তু কেউ যদি কষ্ট করে এসব লাইব্রেরির বইগুলো দেখেন, তবে তিনি বাইরের চেহারা দেখেই সবচেয়ে ক্ষতিকর বইগুলো বেছে নিতে পারবেন। বইগুলোর মলাট ছেঁড়াফাঁড়া থাকবে এবং বারবার ধরার কারণে এর প্রান্তগুলো ময়লায় কালো হয়ে থাকবে। এসব বইয়ের "নৈতিক" অংশগুলোর অগভীর একঘেয়েমিতে শিশুরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সেগুলো না পড়েই চোখ বুলিয়ে যায়। তারা আগ্রহের সাথে কেবল সেই অংশগুলোই বেছে নিয়ে পড়ে, যেখানে কোনো প্রেমের রোমাঞ্চকর ও বোকাটে গল্প থাকে। এ ধরনের সাহিত্য শিশুদের মনে অকালপক্ব কল্পনা ও কৌতূহল জাগায় এবং এমন এক আবেগপ্রবণতা লালন করে, যা প্রায়শই অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি ডেকে আনে। বাবা-মা তাদের মনে কখনো পাপের চিন্তা ঢুকেছে বলে টের পাওয়ার অনেক আগেই এসবের প্রভাবে অল্পবয়সী মেয়েরা প্রায়শই লজ্জাজনক জীবন শুরু করতে প্ররোচিত হয়। <br> একজন জোরালো লেখকের নিচের কথাগুলো এই বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে:- <br> "আপনি কোনো কোট ছিঁড়ে গেলে বা ফুলদানি ভেঙে গেলে তা মেরামত করতে পারেন। কিন্তু কোথায় সেলাই করা হয়েছে বা ভেঙেছিল, তা সবসময়ই বোঝা যাবে। আপনার হৃদয়ে এমন ক্ষতি করতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে, যা কোনো সময়ই পুরোপুরি মেরামত করতে পারে না। আপনার সন্তানের লাইব্রেরি ভালোভাবে খেয়াল করুন। দেখুন ঘুমাতে যাওয়ার পর বালিশের কাছে গ্যাসলাইট জ্বেলে সে কোন বইটি পড়ে। বইটি সানডে স্কুলের বলেই যে তা ভালো, এমনটা সবসময় ধরে নেবেন না। যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করুন 'কে' এটি লিখেছেন, কে এর ছবি এঁকেছেন, কে প্রকাশ করেছেন এবং কে এটি বিক্রি করেছেন। <br> "মনে হচ্ছে আজকের সাহিত্যে মিসরের দশটি মহামারি ফিরে এসেছে, আর ব্যাঙ ও উকুনগুলো লাফিয়ে আমাদের বসার ঘরের টেবিলে উঠে এসেছে। <br> "বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের পড়তে দেখে খুশি হন। কিন্তু তারা কী পড়ছে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত হওয়া উচিত। কলেরা বা টাইফয়েড হওয়ার জন্য আপনাকে মহামারি কবলিত এলাকায় এক-দুদিন হাঁটতে হবে না। তেমনি নৈতিক অস্বাস্থ্যের একটি ঢেউ আত্মাকে চিরতরে অসুস্থ ও ধ্বংস করে দেবে। হয়তো না বুঝেই আপনি একটি খারাপ বই পড়েছেন। আপনার কি সেটার কথা পুরোপুরি মনে নেই? হ্যাঁ, মনে আছে! এবং সম্ভবত আপনি কখনোই এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আপনার চরিত্র যতই দৃঢ় এবং উন্নত হোক না কেন, কখনোই একটি খারাপ বই পড়বেন না। প্রথম অধ্যায় শেষ করার আগেই আপনি এর গতিবিধি বুঝতে পারবেন। যদি ছবি, লেখার ধরন বা গল্পের মধ্যে শয়তানের পায়ের ছাপ দেখতে পান, তবে তা দূরে ছুড়ে ফেলুন। <br> "তবে আমার মনে হয়, সপ্তাহে একবার প্রকাশিত অনেক পারিবারিক পত্রিকা থেকে বেশি বিপদের আশঙ্কা আছে। সেগুলোতে থাকে পাপ ও লজ্জার গল্প, যা জঘন্য ইঙ্গিতে ভরা। আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য যতটুকু সম্ভব, এরা ততটুকুই নিচে নামে। আমি কোনোটির নাম বলছি না। শুধু বলছি, কিছু অভিজাত টেবিলে এমন 'পারিবারিক সংবাদপত্র' রাখা থাকে যা আক্ষরিক অর্থেই নরকের বমি। <br> "ধ্বংসের পথ খুব সস্তা। ফিলাডেলফিয়ায় যেতে তিন ডলার, বোস্টনে ছয় ডলার এবং সাভানায় তেত্রিশ ডলার লাগে। কিন্তু দশ সেন্ট দিয়ে একটি খারাপ পত্রিকা কিনলে আপনি নরকে যাওয়ার এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি পাকাপাকি টিকিট পেতে পারেন। এই ট্রেনে থামার জায়গা খুব কম এবং এর শেষ গন্তব্য হবে নরওয়াকের ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটে চলা ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়ার মতো—হঠাৎ, ভয়ংকর, প্রাণঘাতী, যেখান থেকে আর কখনোই ওঠা যাবে না।" ** পৃ. ২৯৬-২৯৯ * '''দারিদ্র্য:''' দারিদ্র্যের প্রবল চাপকে পতিতাবৃত্তির একটি কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এটি অস্বীকার করা যায় না যে বড় শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে এটি যুবতীর লজ্জাজনক জীবনে প্রবেশের তাৎক্ষণিক কারণ হতে পারে। তবুও জোর দিয়ে বলা যায় যে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই তার প্রাথমিক শিক্ষায় ঘাটতি ছিল। কারণ পবিত্রতার সঠিক সম্মান দিয়ে বড় হওয়া একজন নারী পবিত্রতার চেয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়াকে বেছে নেবেন। আবার দারিদ্র্য কোনো অজুহাত হতে পারে না। কারণ প্রতিটি শহরে অভাবী দরিদ্রদের সাহায্য করার ব্যবস্থা থাকে এবং সত্যিই যোগ্য এমন কাউকে কষ্ট পেতে হয় না। ** পৃ. ২৯৯-৩০০ * সম্ভবত অজ্ঞতার চেয়ে বেশি আর কিছুই পাপকে লালন করে না। অনেক ব্যতিক্রম থাকলেও পতিতারা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই অজ্ঞ শ্রেণি থেকে আসে। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির মধ্যে পাপ তার সবচেয়ে জঘন্য রূপ দেখায় এবং অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতি কামুকতার বিরোধী। সাধারণত বুদ্ধির বিকাশের সাথে সাথে পাশবিক আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি ঠিক যে, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও বড় লম্পট হয়েছেন এবং ইতালির কামুক বোরগিয়া ও মেদিসিরা শিল্প ও সাহিত্যকে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু এগুলো কেবল আপাত ব্যতিক্রম। কারণ মানসিক সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাব না থাকলে এই ব্যক্তিরা পাপের আরও কত গভীরে তলিয়ে যেতেন, তা কে জানে? <br> ডেসলান্ডেস বলেছেন, "বুদ্ধি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে প্রজনন সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।" সব উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে গেলেও পাশবিক আবেগগুলো টিকে থাকে বলে মনে হয়। নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে ক্লিনিকে মেডিকেল ক্লাসের সামনে আনা একজন বোকার মধ্যে আমরা এর প্রমাণ দেখেছি। ওই রোগী জন্ম থেকেই বোকা ছিল এবং তাকে দেখতে অত্যন্ত জঘন্য মনে হতো। গড়পড়তা কুকুরের চেয়ে বেশি বুদ্ধি তার ছিল না। কিন্তু তার পাশবিক প্রবৃত্তি এতটাই প্রবল ছিল যে তা প্রায় অনিয়ন্ত্রিত ছিল। বস্তুতপক্ষে, তার মধ্যে একজন জঘন্য লম্পট হওয়ার প্রমাণ দেখা গিয়েছিল এবং সে সবচেয়ে খারাপ ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। মানসিক রোগীদের মধ্যে অস্বাভাবিক যৌন উত্তেজনার সাধারণ ব্যাপকতা একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। ** পৃ. ৩০০-৩০১ * আগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রোগ প্রজনন অঙ্গে জ্বালাপোড়া এবং রক্তজমাটের কারণ হয়, যা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই অপবিত্রতা ডেকে আনে। এমনটা প্রায়শই ঘটে যে, পবিত্র চিন্তার অভাবে যৌন অঙ্গগুলোতে স্থায়ী রক্তজমাটের অবস্থা তৈরি হয়। তখন যুবতীদের মধ্যে কামুক মিলনের এমন এক তীব্র উন্মাদনা দেখা দেয়, যা কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি না পাওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মেটে না। অবশ্য একজন দক্ষ চিকিৎসকের অধীনে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিলে ভিন্ন কথা। "নিনফোম্যানিয়া" নামের এই রোগটি ভালো পরিবারের অনেক যুবতীর পতনের কারণ হয়েছে। তারা বিলাসবহুলভাবে এবং অলসতায় বড় হয়েছিল, কিন্তু কখনোই পবিত্রতা বা আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও পায়নি। কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, কৃমি, যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং মূত্র ও যৌনাঙ্গের অন্যান্য কম সাধারণ রোগগুলো যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। ** পৃ. ৩০১-৩০২ * '''যৌন রোগের বংশগত প্রভাব:''' যে নিয়ম ভাঙে, শুধু সেই কষ্ট পায় না। সে বিয়ে করলে তার শিশু সন্তানটি বেঁচে গেলে পরবর্তী বছরগুলোতে তার বাবার পাপের প্রভাব তার মধ্যে দেখা যায়। এটি রোগের শেষ পর্যায়ের রূপ নিয়ে প্রকাশ পায়। স্ক্রোফুলা, ক্ষয়রোগ, ক্যানসার, রিকেটস, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ, ক্যারিজ বা নেক্রোসিসের কারণে হাড়ের ক্ষয় এবং অন্যান্য রোগ এভাবেই তৈরি হয়। <br> তবে সাধারণত শিশুটি জন্মের আগেই মারা যায়, অথবা কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে দুর্দশাগ্রস্ত জীবনযাপন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ছোট শিশুদের দেখতে খুব করুণ লাগে। তাদের মুখগুলো দশ বা বারো বছরের শিশুর মতো বয়স্ক মনে হয়। প্রায়ই মৃত্যুর আগে তাদের শরীর কঙ্কালের মতো জীর্ণ হয়ে যায়। তাদের ফাঁপা ও দুর্বল কান্না শুনলে শ্রোতার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে এবং এটি যৌন পাপের ভয়ংকর পরিণতি স্থায়ীভাবে মনে করিয়ে দেয়। প্রসূতি হাসপাতালগুলোতে এমন শুকনো শিশুর অভাব নেই। <br> যে শিশুরা শৈশবের পরেও বেঁচে থাকে, তাদের মধ্যে এই ক্ষতিকর প্রভাব খাঁজকাটা ও বিকৃত দাঁত এবং অন্যান্য ত্রুটির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। প্রায়শই শিশুর মুখের ভেতরে তাকালে দেখা যায় যে নরম তালু, এবং সম্ভবত শক্ত তালুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ** পৃ. ৩০৬ * ১. লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিকে আইনের সুরক্ষায় আনার মুহূর্তেই এটি তার অর্ধেক বদনাম হারিয়ে ফেলে এবং জুয়া খেলা ও মদ বিক্রির মতোই সম্মানজনক হয়ে ওঠে। <br> ২. ব্যভিচারের মতো এত জঘন্য একটি অপরাধকে চুরি বা সবচেয়ে নিচু স্তরের জুয়া খেলার চেয়ে বেশি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে কেন? প্রতারণা ও ছলনা বা চুরির মাধ্যমে কারও টাকা কেড়ে নেওয়ার চেয়ে, এক ধাক্কায় তার স্বাস্থ্য, পবিত্রতা এবং মনের শান্তি কেড়ে নেওয়া কি মানুষের বিরুদ্ধে কম অপরাধ? ** পৃ. ৩০৯ * শিশুদের শুরু থেকেই পবিত্রতাকে সম্মান করতে এবং কামুকতাকে ঘৃণা করতে শেখানো উচিত। ছেলেদের এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত যেন তারা নারীর নামের সাথে কেবল পবিত্র, সতী এবং মহৎ চিন্তাই মেলাতে পারে। "বিচার কেলেঙ্কারি" এবং এই ধরনের বিষয়গুলোর অবাধ আলোচনা নারীর চরিত্রের জন্য এবং শিশুদের মনে নোংরা কল্পনা তৈরির জন্য যতটা ক্ষতিকর, ততটা ক্ষতিকর খুব কম জিনিসই আছে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন ও জীবন্ত কল্পনা অনেক মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক আগেই এমন নোংরা বিষয়ের পচা রহস্য ভেদ করে ফেলে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন কোনো না কোনোভাবে ব্যস্ত থাকবেই। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের এমন চিন্তায় ভরিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের মহৎ ও পবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যাবে। <br> '''আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখানো:''' প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা এবং প্রয়োজন হলেই আত্মত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশুর নৈতিক শিক্ষার আরেকটি অপরিহার্য অংশ হলো সঠিক উদ্দেশ্য গড়ে তোলা। কোনো আনন্দদায়ক পুরস্কার পাওয়ার আশা বা কোনো ভয়ংকর শাস্তির ভয়ের বাইরে শিশুকে সঠিক কাজ করার অন্য কোনো মহৎ উদ্দেশ্য না দেখালে সে নিশ্চিতভাবেই একজন চরম স্বার্থপর মানুষ হিসেবে বড় হবে। তখন অন্য মানুষের কী হবে সেদিকে খেয়াল না করে কেবল নিজের ভালোটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। আর সে যদি নিজেকে বোঝাতে পারে যে কোনো কাজ করে সে যে আনন্দ পাবে, তা সম্ভাব্য শাস্তির ঝুঁকির চেয়ে বেশি হবে, তবে সে নির্দ্বিধায় সেই কাজটি করবে। "এটি কি ঠিক? বা মহৎ? বা পবিত্র?"—এই প্রশ্নটি সে একবারও ভাববে না। নিজের খাতিরে সঠিক কাজকে ভালোবাসা—এটিই নৈতিক চরিত্র গঠনের একমাত্র শক্ত ভিত্তি। মার খাওয়া বা অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকা (কখনো কখনো ব্যবহার করা এক ভয়ংকর শাস্তি) থেকে বাঁচতে, বা এমনকি "আগুন ও গন্ধকের হ্রদ" থেকে বাঁচতে শিশুদের সঠিক কাজ করতে শেখানো উচিত নয়। নতুন খেলনা, বই, বেড়ানোর সুযোগ বা এমনকি স্বর্গের আনন্দের মতো প্রতিশ্রুত পুরস্কার দিয়েও তাদের ভালো কাজের জন্য বারবার প্রলুব্ধ করা ঠিক নয়। এসব প্রলোভন স্বার্থপর এবং এগুলোকে কাজের "প্রধান" উদ্দেশ্য বানালে তা নিশ্চিতভাবেই চরিত্রকে সংকুচিত করে এবং জীবনকে ছোট করে দেয়। এর চেয়ে বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনে সঠিক, সত্য, পবিত্রতা এবং সদ্গুণের প্রতি ভালোবাসা এবং এগুলোর বিপরীতের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করুন। তাহলে সে তার জীবন পরিচালনা করার মতো একটি যোগ্য নীতি পাবে। তখন সে আবেগ, পাপ এবং কামনার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে। এভাবে শিক্ষিত মন এমন এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকে, যেখান থেকে সব খারাপ মানুষ ও শয়তান মিলেও তাকে সরাতে পারে না, যতক্ষণ সে তার মহৎ নীতিগুলোতে অটল থাকে। ** পৃ. ৩১১-৩১২ * নারী-পুরুষের অবৈধ মিলন যদি জঘন্য পাপ হয়, তবে স্বমেহন বা নিজেকে অপবিত্র করা তার চেয়ে দ্বিগুণ জঘন্য অপরাধ। প্রকৃতির বিরুদ্ধে পাপ হিসেবে সমকামিতা ছাড়া এর কোনো তুলনা নেই (দেখুন আদিপুস্তক ১৯: ৫, বিচারক ১৯: ২২)। এটি সব যৌন অপব্যবহারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ এটি সবচেয়ে বেশি করা হয়। স্বাভাবিক উপায়ের বাইরে যৌনাঙ্গের যেকোনো উত্তেজনাই হলো এই পাপ। এটি নিজেকে অপবিত্র করা, নিজের ক্ষতি করা, স্বমেহন, অনানিজম, ম্যানুসুপ্রেশন, স্বেচ্ছায় দূষণ, একাকী বা গোপন পাপ এবং অন্যান্য ব্যাখ্যামূলক নামে পরিচিত। এই পাপটি এত বেশি বিস্তৃত কারণ এর চর্চার কোনো সীমা নেই। এর বারবার পুনরাবৃত্তি ভুক্তভোগীকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য এক মোহের জালে আটকে ফেলে। এটি একেবারে ছোটবেলায় শুরু হতে পারে এবং সারা জীবন চলতে পারে। <br> কোনো সতর্কতা দেওয়া না হলেও, নিয়ম ভঙ্গকারী যেন প্রবৃত্তিগতভাবেই জানে যে সে একটি বড় ভুল করছে। কারণ সে সযত্নে তার অভ্যাসটি অন্যের চোখের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। একাকিত্বে সে নিজেকে কলুষিত করে এবং নিজের হাতেই এই বিশ্ব ও পরকালের সব সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেয়। এমনকি কঠোরভাবে সতর্ক করার পরও, সে প্রায়শই এই পশুর চেয়েও খারাপ অভ্যাস চালিয়ে যায়। এক মুহূর্তের পাগলাটে কামনার জন্য সে জেনেশুনে তার স্বাস্থ্য ও সুখের অধিকার বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ৩১৫ * বিশিষ্ট লেখকদের সাক্ষ্য:—একজন চিকিৎসা-লেখক বলেছেন, "আমার মতে, প্লেগ, যুদ্ধ, গুটিবসন্ত বা অনুরূপ কোনো রোগই অনানিজমের এই ক্ষতিকর অভ্যাসের মতো মানবতার জন্য এতটা ধ্বংসাত্মক ফল বয়ে আনেনি। এটি সভ্য সমাজের ধ্বংসকারী উপাদান, যা প্রতিনিয়ত কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে একটি জাতির স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।" <br> "নিজেকে অপবিত্র করার এই পাপ, যাকে সাধারণত অনানের পাপ বলে মনে করা হয়, এটি পতিত মানুষের করা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কাজগুলোর একটি। অনেক দিক থেকে এটি সাধারণ পতিতাবৃত্তির চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ। পতিতার সাথে অপরাধমূলক সম্পর্কের কথা ভেবে শিউরে ওঠা অনেক মানুষ এটি করলেও এর পরিণতি আরও ভয়ংকর।" ** ডা. অ্যাডাম ক্লার্কের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * "এমন একটি বিষয়ে কথা বলতে যতই খারাপ লাগুক না কেন, কর্তব্যের চরম অবহেলা ছাড়া এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্ভাগ্যবশত, এর ভয়াবহ দিকটি এ পর্যন্ত সেভাবে তুলে ধরা হয়নি। 'সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো এটি খুব কমই সন্দেহ করা হয়।' অনেক ফ্যাকাশে চেহারা এবং দুর্বল ও স্নায়বিক অনুভূতির জন্য অন্য কারণগুলোকে দায়ী করা হয়, অথচ সব ক্ষতির মূলে থাকে এটি।" ** স্যার ডব্লিউ. সি. এলিসের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * এই অপকর্মের ভয়াবহ বিস্তারের বিষয়ে আমাদের আর কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা নিচের কথাগুলো দিয়ে শেষ করব:— <br> "স্বমেহনের ক্ষতিকর এবং অবক্ষয়ী অভ্যাসটি সাধারণত যতটা ধারণা করা হয়, তার চেয়ে নারী-পুরুষ উভয় তরুণের মধ্যেই অনেক বেশি সাধারণ এবং বিস্তৃত।" "বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার পরে তরুণদের মধ্যে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, তার একটি বড় অংশের কারণ হলো স্বমেহন। এতে এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে তা মানুষের জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেয় এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।" "কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সময় বৃদ্ধি এবং অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে যেসব দুর্বলতা দেখা দেয় বলে মনে করা হয়, তার অনেকগুলোই আসলে এই অভ্যাসের কারণে হয়।" ** বোস্টন মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল জার্নালের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * অপবিত্রতার যেসব কারণ নিয়ে আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। এগুলোর প্রায় সবই সামাজিক পাপের পাশাপাশি একাকী পাপের জন্যও দায়ী। অকালপক্ব যৌনতা, অলসতা, ক্ষতিকর সাহিত্য, অস্বাভাবিক যৌন বাসনা, উত্তেজক খাবার, পেটুকপনা, বসে বসে করা কাজ, কামুক ছবি এবং জীবনের অনেক অস্বাভাবিক অবস্থা এই জঘন্য অভ্যাস উসকে দিতে জোরালো ভূমিকা রাখে। তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খারাপ সঙ্গ, দুষ্ট বা অজ্ঞ নার্স এবং স্থানীয় রোগ বা অস্বাভাবিকতা। এগুলো নিয়ে আমরা বিশেষভাবে আলোচনা করব, কারণ অন্য কোথাও এগুলোর বিষয়ে এতটা বিস্তারিত বলা হয়নি। ** পৃ. ৩২১ * '''খারাপ সঙ্গ:''' একটি শিশুকে হয়তো সবচেয়ে বেশি যত্ন নিয়ে বড় করা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হয়তো তাকে সব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সযত্নে দূরে রাখা হয়েছে। দশ বা বারো বছর বয়সে যখন তাকে প্রথমবার দূরে স্কুলে পাঠানো হয়, তখন সে হয়তো পাপমুক্ত থাকে। কিন্তু যখন সে তার সহপাঠীদের সাথে মেশে, তখন সে দ্রুতই দেখে যে তারা এমন এক অভ্যাসে লিপ্ত যা তার কাছে নতুন। আগে থেকে সতর্ক না থাকায় সে দ্রুত তাদের ওই নোংরা দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এবং দ্রুতই এই পাপে মজে যায়। হাজার হাজার শিশু স্কুলে তাদের এই অবক্ষয়ী অভ্যাসের প্রথম পাঠ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাক্ষ্য দেয় যে প্রায়শই স্কুল চলাকালীন সময়ে, প্রায় শিক্ষকের চোখের সামনেই এর চর্চা করা হয়। তবে যেখানে এই সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়, তা হলো ঘুমানোর ঘর। যেখানে একাধিক ব্যক্তি একই বিছানায় ঘুমায় বা কয়েকজন একই ঘরে ঘুমায়, সেখানেই এটি বেশি হয়। <br> শরীর ও নৈতিকতার পবিত্রতার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদা ঘুমানোর ঘর ও একক বিছানার চেয়ে অপরিহার্য আর কিছুই নেই। এমন ব্যবস্থা তরুণদের অনেক খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করবে এবং একাকিত্বের সুযোগ দেবে, যা প্রতিটি তরুণের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারের জন্য প্রয়োজন। শারীরিক উপকারের একটি বড় দিক হলো প্রতিদিন সকালে পুরো শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করার সুযোগ, যা নৈতিকতার পবিত্রতার মতোই প্রায় অপরিহার্য। এই পরামর্শ মেয়েদের ঘুমানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই পদ্ধতিটি যেখানে সেরা হবে না, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা সত্যিই খুব কম। ** পৃ. ৩২২ * '''স্কুলে দুর্নীতি:''' ডা. অ্যাক্টন বলেন, "রোগীরা আমাকে স্কুলে যা দেখেছে বা যার ফাঁদে পড়েছে বলে জানিয়েছে, তা ছাপানোর সাহস আমার নেই। আমি আশা করতে চাই যে এমন জঘন্য ঘটনাগুলো অতীতের বিষয়।" এর আগে পবিত্র ছিল এমন কোনো স্কুলে একটিমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলের প্রবেশ (যদিও এমন স্কুল খুবই বিরল) খুব দ্রুতই প্রায় পুরো স্কুলটিকে কলুষিত করে দেবে। গুটিবসন্ত বা হলুদ জ্বরের সংক্রমণের চেয়ে এই খারাপ সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং এটি কোনো অংশে কম মারাত্মক নয়। <br> এই বিপদ শুধু পাবলিক বা শহরের স্কুলে নয়, সবচেয়ে নামকরা ও প্রাইভেট স্কুলেও রয়েছে। একজন বাবা তার দুই ছেলেকে কয়েক বছর ধরে একজন প্রাইভেট শিক্ষিকার কাছে রেখেছিলেন। এরপর কয়েকজন নির্বাচিত পরিবারের অল্পসংখ্যক ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এক নারীর চালানো একটি ছোট স্কুলে তাদের ভর্তি করেন। যখন একজন চিকিৎসক তাকে জানালেন যে তার ছেলেদের মধ্যে নিজেকে অপব্যবহার করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি অত্যন্ত অবাক হন। তিনি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তারা ইতোমধ্যেই একজন ছোট সহপাঠীর কাছ থেকে শিখে কয়েক বছর ধরে এই জঘন্য অভ্যাসে লিপ্ত। <br> আমরা এমন একটি ঘটনার কথা জানি যেখানে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর কারণে একটি নির্জন ও অভিজাত এলাকার প্রাইভেট স্কুল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেক সতর্ক শিক্ষক দেখেছেন, সাহিত্য, গণিত বা যেকোনো বিজ্ঞানে অসাধারণ প্রতিভার প্রতিশ্রুতি দেওয়া তার প্রিয় শিক্ষার্থীর চোখ থেকে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার আলো হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে গেছে। তাকে বাধ্য হয়ে এই মারাত্মক উপাস গাছের ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখতে হয়েছে, যা প্রায়শই সবচেয়ে সেরা ও সুন্দর মানব ফুলগুলোকে তার শিকার হিসেবে দাবি করে। ** পৃ. ৩২৩-৩২৪ * '''দুষ্ট আয়া:''' যেসব ক্ষেত্রে খুব অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, সেখানে সাধারণত আয়ারাই এই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। হয়তো তারা এই অভ্যাসের প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও অসংখ্য ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছোট বাচ্চাদের শান্ত করতে আয়াদের তাদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা বা সুড়সুড়ি দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক অভ্যাস নয়। তারা একে বাচ্চাদের শান্ত করার একটি দ্রুত উপায় হিসেবে দেখে এবং পরিণতির কথা না ভেবে বা না জেনেই এর আশ্রয় নেয়। <br> '''অস্বাভাবিক ঘটনা নয়:''' নিউইয়র্কের বেলভ্যু হসপিটাল কলেজের অধ্যাপক লাস্ক আমাদের সামনে তার মেডিকেল ক্লাসে এমন একটি ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন যা তিনি নিজে দেখেছেন। একটি বড় পরিবারের সব বাচ্চাকে এক দুষ্ট আয়া ঘুমাতে যাওয়ার পর শান্ত রাখার জন্য এই অভ্যাসটি শিখিয়েছিল। যে জঘন্য মানসিকতা একজন মানুষকে এভাবে শৈশবের নিষ্পাপতা কেড়ে নিতে এবং ইহকাল ও পরকালের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে প্ররোচিত করে, তা প্রায় যেকোনো অপরাধ করার মতোই নিচু। সত্যি বলতে, ওই আয়া যদি ঠান্ডা মাথায় ওই নিষ্পাপ শিশুদের গলা কেটে ফেলত, তবে অপরাধটি সম্ভবত এর চেয়ে খারাপ হতো না; হয়তো সেটি শিশুদের জন্যই ভালো হতো। ** পৃ. ৩২৪ * '''পাপের শিক্ষক:''' এমন কেউ কি এই লেখাগুলো পড়ছেন, যিনি কখনো অন্য কাউকে এত জঘন্য এবং এত ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনা এই পাপ শিখিয়েছেন—যে পরিণতি প্ররোচনাকারীর ওপর নয়, বরং হতভাগ্য শিকারের ওপর পড়ে? এমন ব্যক্তি যেন ছালার কাপড় পরে এবং ছাই মেখে সারা জীবন প্রায়শ্চিত্ত করে। এত জঘন্য অপরাধের সামান্যতম প্রায়শ্চিত্ত করার একমাত্র উপায় হলো, এই বিপদের মুখে থাকা লোকদের সতর্ক করার জন্য নিজের সাধ্যমতো সব করা। যখন সব মানুষ তাদের কর্মের ফল পাবে, তখন এমন ব্যক্তির শাস্তি কী হবে, যে সম্পূর্ণ অনুশোচনার মাধ্যমে এবং এতটা জঘন্যভাবে করা ধ্বংসের কাজ মেরামতের চেষ্টা করে জীবন কাটিয়ে নিজের কাজের পরিণতির ভার কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করেনি? <br> বাচ্চাদের ক্লান্ত হওয়ার আগেই খুব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পাঠানো, "তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য" বা শাস্তিস্বরূপ—এটি একটি গুরুতর ভুল। কারণ এতে এই অপকর্মের সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চাদের কোনো ঘরে একা আটকে রাখাও সমানভাবে নিন্দনীয়। কারণ এটি অন্তত এই কাজ করার পক্ষে সহায়ক হতে পারে এবং এটি ধরা পড়ার একটি ভালো সুযোগ করে দিতে পারে। বাচ্চাদের একাকিত্ব খোঁজার অভ্যাস গড়ে উঠতে দেওয়াও একই ধরনের একটি ক্ষতিকর ব্যাপার। ** পৃ. ৩২৬-৩২৭ * '''নিজেকে অপব্যবহারের লক্ষণ:''' এই অপকর্ম তার শিকারের চারপাশে যে জাল বোনে তা অত্যন্ত শক্তিশালী। যখন দীর্ঘদিন ধরে এতে আসক্ত থাকে, তখন এর সুতাগুলো তার সব চিন্তাভাবনা, তার অভ্যাস এবং তার অস্তিত্বের সাথে এত নিখুঁতভাবে জড়িয়ে যায় যে, শুরুতে এটি শনাক্ত করতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে তখন এটি কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ। এটি শনাক্ত করা প্রায়শই সহজ কাজ নয়। কারণ ভুক্তভোগী তার পাপ লুকানোর জন্য সব ধরনের চালাকির আশ্রয় নেবে এবং প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে মিথ্যে বলতেও দ্বিধা করবে না। সফলভাবে এটি করার জন্য প্রথমত যারা এই অভ্যাস করে তাদের লক্ষণগুলো এবং দ্বিতীয়ত ওই ব্যক্তিদের অভ্যাসগুলোর সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৩০ * '''সন্দেহজনক লক্ষণ:''' শিশু বা তরুণের মানসিক ও শারীরিক চরিত্র এবং অভ্যাসে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিপদের মারাত্মক সন্দেহ জাগতে পারে। বাবা-মা বা অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেন সম্ভব হলে এটি উপড়ে ফেলা যায়:— <br> ১. ''সাধারণ দুর্বলতা:'' আগে সুস্থ থাকা কোনো শিশুর মধ্যে কৃশতা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, ঠোঁট ও মাড়ির রং হারিয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তির সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দিলে এবং তা যদি অভ্যন্তরীণ কোনো রোগ, কৃমি, শোক, অতিরিক্ত কাজ, খারাপ বাতাস বা খারাপ খাবারের মতো অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে না হয়ে থাকে এবং আবহাওয়া বদলানো বা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও দ্রুত সেরে না ওঠে, তবে সেই ব্যক্তি স্বভাবতই যত সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকুক না কেন, নির্দ্বিধায় একে একাকী পাপের ফল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভুল খুব কমই হবে। ** পৃ. ৩৩২-৩৩৩ * ৩. ''অকাল ও ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ:'' এই লক্ষণটি আগের দুটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যখন অতিরিক্ত পড়াশোনা, অতিরিক্ত কাজ, ব্যায়ামের অভাব এবং অনুরূপ অন্যান্য স্বাভাবিক কারণগুলো এর জন্য দায়ী করা যায় না, তখন একে নিজেকে অপব্যবহার করার ফল বলে ধরে নেওয়া উচিত। যৌনাঙ্গের অকাল ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অভ্যাসটি দ্রুত শুরু হলে, বয়ঃসন্ধি প্রাপ্তিকে ত্বরান্বিত করে। তবে একই সাথে জীবনীশক্তি এতটা কেড়ে নেয় যে, এই সময়ে সাধারণত বৃদ্ধি এবং বিকাশে যে বাড়তি শক্তি দেখা যায়, শরীর তা দেখাতে পারে না। ফলে শরীর ছোট থাকে বা যতটা বিকাশ হওয়ার কথা ছিল ততটা হয় না। শরীরের পাশাপাশি মনও খর্বাকৃতির হয়ে যায়। কখনো কখনো বিকাশের অভাবে শরীরের চেয়ে মন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার কখনো এর উল্টোটাও হয়। পুরুষদের শারীরিক সংগঠনে এই ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ দেখা যায় গলার আওয়াজের গভীরতা ও জোর স্বাভাবিকভাবে না বাড়ায়; দাড়ির অপর্যাপ্ত বৃদ্ধিতে; বুকের ছাতি পূর্ণ না হওয়ায় এবং কাঁধ চওড়া না হওয়ায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক নারীত্বের বিশেষ গুণগুলোর বিকাশে ব্যর্থতার মাধ্যমে মন এবং চরিত্রে এর খর্বকারী প্রভাব দেখা যায়। এ ধরনের লক্ষণগুলো সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা উচিত, কারণ কেবল শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কারণেই এগুলো দেখা দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৩-৩৩৪ * ১০. ''অবিশ্বাসযোগ্যতা:'' শিশুর মধ্যে এটি দেখা দিলে তার অভ্যাসের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। যদি সে আগে এমন না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে অমনোযোগী, উদাসীন এবং ভুলোমনা হয়ে যায়, যাতে তার ওপর আর ভরসা করা যায় না, তবে এর জন্য একাকী আসক্তিকে দায়ী করুন। এই অপকর্মের মিথ্যাবাদিতা গড়ে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। আগে সৎ থাকা একটি শিশু এর ক্ষতিকর প্রভাবে দ্রুতই একজন ঘোরতর মিথ্যাবাদীতে পরিণত হবে। ** পৃ. ৩৩৬ * ১১. ''একাকিত্বের প্রতি ভালোবাসা:'' এটি একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক লক্ষণ। প্রায় কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শিশুরা স্বভাবতই মিশুক হয়। একা থাকতে তাদের স্বাভাবিক ভয় কাজ করে। যখন কোনো শিশু পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই নিয়মিত নিভৃতে থাকতে চায়, তখন তার মধ্যে পাপপূর্ণ অভ্যাসের সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে। গোয়ালঘর, চিলেকোঠা, টয়লেট এবং কখনো কখনো জঙ্গলের নির্জন জায়গাগুলো স্বমেহনকারীদের প্রিয় জায়গা। তাদের অলক্ষ্যে সতর্কতার সাথে অনুসরণ করে নজরে রাখা উচিত। ** পৃ. ৩৩৬ * ১৫. ''সহজেই ভয় পাওয়া:'' অল্পবয়সী স্বমেহনকারীদের মধ্যে এটি প্রচুর দেখা যায়, যদিও সহজে ভয় পাওয়া সব মানুষই খারাপ হয় না। তবে এটি নিশ্চিত যে এই অপকর্ম স্বাভাবিক ভয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং এক অস্বাভাবিক ভীতি তৈরি করে। ভুক্তভোগীর মন সব সময় বিপদের অজানা আশঙ্কায় ভরা থাকে। সে প্রায়ই পেছন ফিরে তাকায়, সব আলমারি বা পায়খানার ভেতর উঁকি দেয়, বিছানার নিচে তাকায় এবং ক্রমাগত আসন্ন বিপদের ভয় প্রকাশ করে। এ ধরনের কাজ একটি অসুস্থ কল্পনার ফল, যা যৌঙ্গিসংগত কারণেই সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৮ * ১৯. শিশুদের মধ্যে ''দুর্বল পিঠ, হাত-পায়ে ব্যথা এবং জয়েন্টের আড়ষ্টতা'' এই অভ্যাসের পরিচিত লক্ষণ। এসব শিশুর প্রায়ই ঝুঁকে থাকার কারণে প্রথম সমস্যাটি দেখা দেয়। উল্লেখিত অভ্যাসটিই এসব অবস্থার একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি এত বেশি ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, একে একটি সন্দেহজনক লক্ষণ হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ** পৃ. ৩৩৯-৩৪০ * ২১. এই পাপে আসক্ত ব্যক্তির ''হাঁটার ধরন'' সাধারণত এমন একজনকে তার কথা বলে দেবে যে এ ধরনের মানুষের হাঁটার প্রায় সব সময়ের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো চিনতে শিখেছে। শিশুর ক্ষেত্রে পা টেনে টেনে হাঁটাকে সন্দেহ করতে হবে। দ্রুত হাঁটার সময় ছেলেদের মধ্যে সেই সাবলীলতা দেখা যায় না যা স্বাভাবিক হাঁটার বৈশিষ্ট্য। বরং তারা এমনভাবে হাঁটে যেন তাদের কোমর শক্ত হয়ে গেছে এবং তাদের পাগুলো যেন কবজা দিয়ে শরীরের সাথে লাগানো কোনো খুঁটি। মেয়েদের হাঁটার ধরনেও মোচড় থাকে যা প্রায় একই রকম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তবে তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা একটু কঠিন, কারণ নারীরা প্রায়শই তাদের হাঁটার ধরনে অনেক বেশি "ভাব" দেখায়। হাঁটার অস্থিতিশীলতা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই দেখা যায়, বিশেষ করে পরিণত পর্যায়ে। ** পৃ. ৩৪০ * ২২. বিছানায় শুয়ে থাকার '''খারাপ ভঙ্গিগুলো''' এমন লক্ষণ যা খেয়াল করা উচিত। কোনো শিশু যদি সব সময় পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকে বা প্রায়ই তার হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে সে আগে থেকে আসক্ত না হয়ে থাকলেও অন্তত এই অভ্যাস গড়ে তোলার খুব কাছাকাছি আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ** পৃ. ৩৪০ * ২৩. বয়ঃসন্ধির পর মহিলাদের মধ্যে '''স্তনের বিকাশের অভাব''' নিজেকে অপবিত্র করার একটি সাধারণ ফল। তবুও এটি বলা পুরোপুরি অনিরাপদ হবে যে, ছোট স্তনযুক্ত প্রতিটি নারীই এই পাপে আসক্ত। বিশেষ করে বর্তমানে যখন "প্যাড"-এর ধ্রুব চাপ এবং তাপের কারণে প্রায়ই স্বাভাবিক সুন্দর বিকাশ নষ্ট হয়ে যায়। তবে এই লক্ষণটিকে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ** পৃ. ৩৪০-৩৪৩ * ২৪. '''খামখেয়ালি ক্ষুধা:''' গোপন পাপে আসক্ত শিশুদের এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অভ্যাসের শুরুতে তারা প্রায় সবসময়ই খাবারের প্রতি প্রচণ্ড খাইখাই স্বভাব দেখায় এবং সবচেয়ে পেটুক মানুষের মতো গপগপ করে খায়। অভ্যাসটি পোক্ত হওয়ার সাথে সাথে হজমশক্তি কমে যায়। তখন ক্ষুধা কখনো প্রায় থাকেই না, আবার কখনো মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। <br> ২৫. এ ধরনের শিশুদের একটি খুব সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অস্বাভাবিক, ক্ষতিকারক এবং উত্তেজক জিনিসের প্রতি তাদের প্রবল আসক্তি। প্রায় সবাই লবণ, গোলমরিচ, মসলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, ভিনেগার, সরিষা, ঘোড়া-মুলা এবং অনুরূপ জিনিসগুলোর প্রতি খুব আসক্ত থাকে। খাবার ছাড়াই এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া সন্দেহের যথেষ্ট কারণ হতে পারে। ** পৃ. ৩৪১ * ২৭. সাধারণ খাবারের প্রতি অনীহা হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এই পাপের শিকার কোনো ব্যক্তির মধ্যে নিশ্চিতভাবেই থাকবে। মসলা এবং অন্যান্য স্বাদবর্ধক দিয়ে ঝাল এবং উত্তেজক না করা কোনো খাবার সে ঘেন্না করে বলে মনে হয় এবং তাকে সেটি খাওয়ানো যায় না। <br> ২৮. '''তামাকের ব্যবহার''' হলো একটি জোরালো সম্ভাব্য প্রমাণ যে একটি ছেলে এর চেয়েও বেশি নোংরা অভ্যাসে আসক্ত। এই নিয়মের ব্যতিক্রম খুব কমই আছে। আদৌ আছে কি না তা নিয়েও আমাদের কিছুটা সন্দেহ আছে। যে প্রভাবগুলো একটি ছেলেকে তামাক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো তাকে একাকী পাপের দিকেও নিয়ে যাবে এবং প্রতিটি পাপ অন্যটিকে বাড়িয়ে তুলবে। ** পৃ. ৩৪২ * ৩০. মুখে ''ব্রণ'' বা ''ফুসকুড়ি'' সন্দেহজনক লক্ষণগুলোর মধ্যে পড়ে, বিশেষ করে যখন সেগুলো মুখের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি কপালেও দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার কয়েক বছর পর পর্যন্ত উভয় লিঙ্গের মধ্যেই চিবুকে মাঝে মাঝে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ব্যায়ামের অভাবে রক্ত কিছুটা দূষিত হতে পারে—এটি ছাড়া এর আর কোনো অর্থ নেই। <br> ৩১. ''হাতের নখ কামড়ানো'' এই পাপে আসক্ত মেয়েদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ অভ্যাস। এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নখের গোড়ায় সামান্য ঘা বা আলসার এবং এক বা একাধিক আঙুলে (সাধারণত ডান হাতের প্রথম দুটি আঙুলে) আঁচিল দেখা যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৪২-৩৪৩ * ৩৭. শিশুদের মধ্যে ''মৃগীরোগের আক্রমণ'' প্রায়শই খারাপ অভ্যাসের ফল হতে পারে। <br> ৩৮. ''বিছানা ভেজানো'' এমন একটি উত্তেজনার প্রমাণ যা এই অভ্যাসের সাথে যুক্ত থাকতে পারে; এটি খতিয়ে দেখা উচিত। <br> ৩৯. ''কথাবার্তার অপবিত্রতা'' এবং অশ্লীল গল্পের প্রতি আসক্তি মনের এমন একটি অবস্থা তুলে ধরে, যা এই পাপে আসক্ত নয় এমন তরুণদের মধ্যে থাকে না। <br> আগেই বলা হয়েছে, ওপরের লক্ষণগুলোর কোনো একটিকেই কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই অভ্যাস থাকার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে এর যেকোনো একটিই সন্দেহ এবং সতর্কতার জন্ম দিতে পারে এবং তা করা উচিত। অভ্যাসটি যদি সত্যিই থেকে থাকে, তবে অন্যান্য লক্ষণগুলো চোখে পড়ার আগে অল্প সময়ই পার হবে। আর যখন কয়েকটি লক্ষণ একই দিকে নির্দেশ করে, তখন প্রমাণটিকে প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে নিয়মিত নজর রাখলে নিশ্চিত লক্ষণগুলো আজ বা কাল ধরা পড়বেই। এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকবে না। অবশ্যই এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন সে বুঝতে না পারে যে তাকে নজরে রাখা হচ্ছে। কারণ এতে সে এত ভালোভাবে সতর্ক হয়ে যেতে পারে যে, তাকে হয়তো আর ধরাই যাবে না। ** পৃ. ৩৪৪ * '''নিশ্চিত লক্ষণ:''' একাকী পাপের সম্পূর্ণ নিশ্চিত লক্ষণ খুবই কম। অবশ্যই এর মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিতটি হলো হাতেনাতে ধরা। কখনো কখনো এটি কঠিন হয়, কারণ এই জঘন্য কাজের আসক্তরা তাদের এই নোংরা অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত নিপুণ চালাকি করে। যদি দেখা যায় কোনো শিশু বেশ নিয়মিত কোনো নির্দিষ্ট নির্জন জায়গায় যায়, তবে প্রয়োজনে টানা কয়েক দিন তাকে সযত্নে অনুসরণ করে আড়ালে থেকে নজরে রাখা উচিত। অনেক শিশু ঘুমাতে যাওয়ার পর রাতে এই অভ্যাস করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘুমাতে যাওয়ার পর যদি দ্রুত শান্ত হয়ে যায় এবং দেখলে মনে হয় সে ঘুমাচ্ছে, তবে কোনো অজুহাতে দ্রুত তার গায়ের কাপড় সরিয়ে ফেলতে হবে। ছেলের ক্ষেত্রে যদি লিঙ্গ শক্ত অবস্থায় থাকে এবং হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই তাকে স্বমেহনকারী হিসেবে গণ্য করা যায় এবং এতে কোনো ভুল হবে না। যদি তাকে উত্তেজনার মধ্যে পাওয়া যায়, অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি নাড়ির স্পন্দন দেখে যদি রক্ত সঞ্চালন বাড়তি মনে হয়, বা ঘর্মাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তার অপরাধ নিশ্চিত, এমনকি সে ঘুমিয়ে থাকার ভান করলেও। নিঃসন্দেহে সে বেশ কিছুদিন ধরে এই পাপে আসক্ত, যার ফলে সে এতটা ধূর্ত হয়ে উঠেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতিতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেখা যাবে, অন্যান্য যৌনাঙ্গের সাথে ভগাঙ্কুরেও রক্ত জমে আছে, এবং অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে তা ভিজে আছে। অন্যান্য অবস্থাও ছেলেদের মতোই হবে। ** পৃ. ৩৪৫ * বয়ঃসন্ধির আগে, উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই যৌনাঙ্গে এই পাপের প্রভাব হলো সংবেদনশীল অংশগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে তা এই পাপের বেশ নিশ্চিত প্রমাণ। মেয়েদের ক্ষেত্রে যোনিপথ প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় এবং লিউকোরিয়া দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধির পর, অঙ্গগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়ে যায় এবং অস্বাভাবিকভাবে ঢিলে ও সংকুচিত হয়ে যায়। <br> যাদের দায়িত্বে শিশুরা আছে, তাদের এই সব লক্ষণ ভালোভাবে আয়ত্ত করা উচিত। যদি এগুলোর জন্য ক্রমাগত নজর রাখা না-ও হয় (যা একটি বিরক্তিকর কাজ হবে), তবুও এগুলো দেখা দেওয়ামাত্র শনাক্ত করার জন্য তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আর কোনো সন্দেহ না থাকা পর্যন্ত সাবধানে অন্যান্য লক্ষণগুলো খুঁজতে হবে। ** পৃ. ৩৪৬ * ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত, যা সাধারণত কামুক স্বপ্নের সাথে ঘটে, তাকে নকটার্নাল পলিউশন বা স্বপ্নদোষ বলা হয়। প্রায়ই একে "স্পার্মাটোরিয়া" বলা হয়, যদিও এই শব্দটির ব্যবহার নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে। এর সবচেয়ে সঠিক ব্যবহার হলো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতের সাথে থাকা পুরো লক্ষণগুলোর সমষ্টির ক্ষেত্রে। <br> স্বমেহনকারী যতদিন তার নোংরা অভ্যাস চালিয়ে যায়, ততদিন সে এই রোগ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু যখন সে শুধরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্বেচ্ছায় নিজেকে অপবিত্র করা বন্ধ করে, তখন সে অবাক ও বিরক্ত হয়ে দেখে যে, তার কোনো চেষ্টা ছাড়াই ঘুমের মধ্যে একই রকম নোংরা স্খলন ঘটে। তখন সে বুঝতে শুরু করে যে সে কতটা ক্ষতি করেছে। একই রাতের স্খলন চলতে থাকে, কখনো কখনো এক রাতেই কয়েকবার ঘটে, যা তার সীমাহীন লজ্জা ও হতাশার কারণ হয়। সে আশা করে সমস্যাটি এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তার আশা বৃথা। চিকিৎসা না করালে এটি হয়তো চলতেই থাকবে যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় যে ধ্বংস শুরু করেছিল তা সম্পন্ন হয়। <br> এই রোগটি যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফল। বিবাহিত পুরুষরা যারা দাম্পত্য সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছেন, তারা যখন কোনো কারণে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বাধ্য হন, তখন তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। যারা মানসিক অপবিত্রতায় আসক্ত, শারীরিকভাবে সংযমী হলেও তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটতে পারে। যারা কঠোরভাবে সংযমী থেকেছেন এবং নিজের মনকে কামুক কল্পনায় মগ্ন হতে দেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ** পৃ. ৩৫৩-৩৫৪ * অপবিত্র চিন্তা দুইভাবে ক্ষতিকর কাজ করে। প্রথমত, এগুলো অণ্ডকোষের কাজ বাড়িয়ে দেয়, ফলে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে অতিরিক্ত ভরে যায়। জেগে থাকা অবস্থায় কামুক চিন্তাই কামুক স্বপ্নের প্রধান কারণ। ** পৃ. ৩৫৪ * কিছু পরিস্থিতি স্খলনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়, এবং এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে এরা যে ক্ষতি করবে তা আরও ত্বরান্বিত করে। যেমন রাতে মূত্রাশয় ও পেট খালি না করা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, উত্তেজক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা এবং যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করে এমন যেকোনো কিছু। সব কারণের মধ্যে প্রেমময় বা কামুক চিন্তা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। চা ও কফি, মসলা ও অন্যান্য উপকরণ এবং প্রাণিজ খাবারের এই দিকে একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। বিছানায় শোয়ার কিছু বিশেষ ভঙ্গিও উদ্দীপক বা পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। যেমন পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো। পালকের বিছানা ও বালিশ এবং বিছানায় খুব গরম কাপড়ও একই কারণে ক্ষতিকর। <br> স্বপ্নদোষের হার একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি দীর্ঘ ও অনিয়মিত বিরতিতে একবার থেকে শুরু করে সপ্তাহে দুই-তিনবার বা অনেকবার হতে পারে। আমরা এমন একটি ঘটনা দেখেছি যেখানে এক রাতেই চারবার হয়েছে। <br> একটি স্বপ্নদোষের তাৎক্ষণিক প্রভাব কতবার ঘটে এবং ব্যক্তির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। যদি খুব কম হয়, এবং অপেক্ষাকৃত সবল ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে ভরে যাওয়ার পর ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সাময়িক স্বস্তির অনুভূতি হতে পারে। এই কারণেই অনেকে মনে করেন যে স্বপ্নদোষ স্বাভাবিক এবং উপকারী। এই বিষয়টি একটু পরে আলোচনা করা হবে। <br> যদি স্বপ্নদোষ বেশি হয়, অথবা যদি তা স্বভাবতই দুর্বল গঠনের কারও ক্ষেত্রে ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো অবসাদ, ক্লান্তি, অনীহা এবং প্রায়ই ভারী মানসিক বা শারীরিক কাজ করার অক্ষমতা, হতাশা যা প্রায়শই নিরাশায় এবং এমনকি আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। এর সাথে স্থানীয় জ্বালাপোড়া বাড়ে এবং "সাধারণ প্রভাব" শিরোনামে উল্লেখিত সব অস্বাভাবিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। মাথাব্যথা, বদহজম, পিঠ ও হাঁটুর দুর্বলতা, রক্ত চলাচলে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা কমে যাওয়া—এগুলোর মাত্র কয়েকটি। ** পৃ. ৩৫৫-৩৫৬ * '''মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষ হওয়া কি দরকারি বা ক্ষতিকারক নয়?'''- একজন ব্যক্তি হয়তো দৃশ্যত খুব বেশি ক্ষতি ছাড়াই মাসে একবারের মতো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতে কয়েক বছর ধরে ভুগতে পারেন—ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের কাছে এটি একটি মীমাংসিত সত্য বলে মনে হয়, এবং এটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও ভালোভাবে প্রমাণিত। তবুও এমন মানুষও আছেন যারা এর চেয়ে বেশি না হলেও মারাত্মকভাবে ভোগেন। কিন্তু মাসে একবারের বেশি বীর্যপাত হলে তা নিশ্চিতভাবেই বড় ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে, এমনকি তাৎক্ষণিক কোনো খারাপ প্রভাব চোখে না পড়লেও। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হয়তো তা চোখে পড়ে না। এই অবস্থানকে সমর্থন করার জন্য যদি যুক্তির প্রয়োজন হয়—যা হওয়া উচিত নয়—তবে আমরা এই তথ্যটি উল্লেখ করব যে, যারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে সংযমী, এবং সব সময় সংযমী থেকেছেন (যদি এমন বিরল মানুষ পাওয়া যায়), তাদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটে না। যারা নিখুঁত পবিত্রতার আদর্শের সবচেয়ে কাছাকাছি, তাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কম ঘটে। তাই যখনই এটি ঘটে, তাকে কোনো না কোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের প্রমাণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে এ ধরনের বীর্যপাত স্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৫৬-৩৫৭ * '''বীর্যপাত স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় নয়:''' যদি এই যুক্তি দেওয়া হয় যে, অতিরিক্ত ভরে যাওয়া সেমিনাল ভেসিকলগুলো খালি করার জন্য মাঝে মাঝে বীর্যপাত হওয়া প্রয়োজন, তবে আমাদের উত্তর হলো: অপবিত্রতার অজুহাত হিসেবেও একই যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে মূল্যহীন। একইভাবে যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে বমি করা একটি প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় এবং স্বাস্থ্যকর কাজ, এবং এটি নিয়মিত হওয়া উচিত। কারণ একজন ব্যক্তি তার পেট এত বেশি ভরে ফেলতে পারেন যে, প্রতিকার হিসেবে এই কাজটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। বমি করা একটি রোগগ্রস্ত কাজ, একটি প্যাথলজিক্যাল প্রক্রিয়া, এবং এটি ব্যক্তির স্বেচ্ছায় নিয়ম ভাঙার কারণে ঘটে। তাই এটি পেটুকপনার মতোই অপ্রয়োজনীয় এবং কিছু পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়লেও এটি জীবনীশক্তির অপচয় করে। স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রেও তাই। একজন ব্যক্তি যদি তার মনকে অপবিত্র বিষয়ে মগ্ন হতে দেয়, কামুক স্বপ্ন দেখে এবং মানসিক কামুকতায় মেতে থাকে, তবে সে হয়তো প্রতিকার হিসেবে একটি বীর্যপাতকে প্রায় প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে। তবুও, অত্যাবশ্যক তরল হারানোর কারণে সে ঠিক ততটাই কষ্ট পাবে, যেন সে নিজের কামনার কারণেই এটিকে এতটা প্রয়োজনীয় করে তোলেনি। যেমন পুষ্টিকর খাবার বমি করে বের করে দেওয়ার চেয়ে পেটে রেখে হজম করা তার জন্য অনেক ভালো হতো, তেমনি শরীরের ভেতরে বীর্য ধরে রাখাও তার জন্য ভালো হতো। শরীর এটিকে প্রক্রিয়াজাত করে সম্ভবত কিছু টিস্যু মেরামতে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাত। ** পৃ. ৩৫৭-৩৫৮ * একজন প্রখ্যাত ইংরেজ চিকিৎসক ডা. মিলটন, যিনি এই রোগের কয়েক হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন, তিনি এই বিষয়ে তার একটি বইয়ে বলেছেন:- <br> "মাসে একবারের বেশি হলেই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আমি জানি আমার এই কথা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে আমি এর পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমার হাতে এটিকে সঠিক প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য না আসা পর্যন্ত আমি এটি বলিনি।" <br> "আমার পাঠকদের বেশিরভাগই জানেন, চিকিৎসকদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে যৌবনে কয়েকবার স্বপ্নদোষ হলে ক্ষতি না হয়ে বরং ভালো হয়। অস্বাভাবিক রক্তজমাটের ঘটনা ছাড়া একটি অস্বাভাবিক স্খলন কীভাবে ভালো করতে পারে, তা বোঝা কঠিন। তবে আমি নিজেকে বুঝিয়েছি যে এই নীতিটি ভুল। স্বপ্নদোষের কারণে ছেলেদের কখনোই সত্যিই ভালো লাগে না। প্রায়ই তাদের স্পষ্টভাবে খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে তাদের মনে হতে পারে যে একধরনের স্বস্তি মিলেছে, কিন্তু এটি অনেকটা মাতালের রাম খাওয়ার পর পাওয়া স্বস্তির মতোই। জীবনের শুরুতে বারবার পেট ভরে খেলেও হয়তো ক্ষতি বোঝা যায় না, কিন্তু খুব কম মানুষই যুক্তি দেবেন যে অতিরিক্ত খাওয়া ভালো। আসল কথা হলো, স্বপ্নদোষ সব সময় কমবেশি ক্ষতিকর। যৌবনে সবসময় এটি দৃশ্যমান হয় না। যেকোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বপ্নদোষের কারণে হওয়া ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। তবে এগুলো প্রত্যেকটি তার নিজের মতো করে সেই ক্লান্তি এবং দুর্বলতায় অবদান রাখে, যার অভিযোগ রোগী একদিন করবেই।" ** পৃ. ৩৫৮-৩৫৯ * '''দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ:''' রোগ বাড়ার সাথে সাথে যৌনাঙ্গের জ্বালাপোড়া এবং দুর্বলতা এত বেড়ে যায় যে সামান্য যৌন উত্তেজনাতেই লিঙ্গ শক্ত হয় এবং বীর্যপাত ঘটে। কোনো নারীর নিছক উপস্থিতি বা তার কথা চিন্তা করলেই কামুক অনুভূতির সাথে স্বপ্নদোষ হতে পারে। কিন্তু কিছুদিন পর যৌনাঙ্গ এতটাই রোগাক্রান্ত এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে সামান্য যান্ত্রিক উত্তেজনা, যেমন কাপড়ের ঘষা, বসে থাকা বা ঘোড়ায় চড়লেই নিঃসরণ ঘটে। এর সাথে কোনো ধরনের অনুভূতি থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে। প্রায়ই জ্বলুনি বা কমবেশি ব্যথার অনুভূতি হয়। লিঙ্গ শক্ত হয় না। এমনকি মলত্যাগের সময় জোর দিলেও বা অস্বাভাবিক পাতলা পায়খানা আটকানোর প্রবল চেষ্টাতেও নিঃসরণ ঘটতে পারে। ** পৃ. ৩৫৯ * আবার, বীর্য যে শরীরের সব তরলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সজীব, এবং এটি দ্রুত তৈরি করতে জীবনীশক্তির এক প্রবল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তা সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞরাই ভালোভাবে সমর্থন করেছেন। কিছু বিশিষ্ট চিকিৎসক আরও বিশ্বাস করেন যে, বীর্য শরীর দ্বারা শোষিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট টিস্যু, বিশেষ করে স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের টিস্যু তৈরি ও পূরণে খুব দরকারী। যদিও সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞ এই মতের সাথে একমত নন, তবে নিচের তথ্যগুলো এটিকে সমর্থন করে বলে মনে হয়:- <br> ১. স্নায়ু এবং শুক্রাণুর গঠন প্রায় একই। <br> ২. খোজাদের মতো বয়ঃসন্ধির আগে যাদের অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়, তারা কখনোই পুরোপুরি বিকশিত হতে পারে না। <br> যৌনাঙ্গের ব্যবহারে (তা স্বাভাবিক হোক বা অস্বাভাবিক) যে স্নায়বিক ধাক্কা লাগে, তা শরীরের ওপর পড়া সবচেয়ে গভীর ধাক্কা। <br> পুরো স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর দুর্বল শরীরের ওপর এর প্রভাব মাঝে মাঝে এত জোরালো হয় যে কাজের সময়ই মৃত্যু ঘটে। পরবর্তী ক্লান্তি স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনার সমানুপাতিক হয়। ** পৃ. ৩৬৪-৩৬৫ * আগামী প্রজন্মের জন্য, যারা কামুকতার এই যুগে ছড়িয়ে থাকা খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে এখনও নিষ্পাপ, এই ক্ষতিকর অভ্যাস কীভাবে ঠেকানো যায় তা এই বিষয়ের সাথে যুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই বিষয়টি বিশেষ করে বাবা-মায়ের জন্য আগ্রহের হওয়া উচিত। কারণ যারা নিজেরা কামুক, তারাও এমন জীবনের কুফল যথেষ্ট দেখেছেন এবং চান তাদের সন্তানরা পবিত্র থাকুক। সত্যি বলতে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। আমরা মাঝে মাঝে এমন বাবা-মায়ের কথা জানতে পারি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্তানদের পাপে জড়িয়েছেন, যেন তারা তাদের নিজেদের লজ্জা ও নরকবাসের ভাগীদার করতে চান। ** পৃ. ৩৭৮ * একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা শেখায় এমন সব প্রভাব ও মাধ্যমগুলো সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো উচিত। এগুলো নিয়ে আমরা আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই এখানে আর পুনরাবৃত্তি করছি না। বর্তমান অংশের সাথে মিলিয়ে পাঠকদের এই বিষয়ের অংশটি আবার পড়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। বাবা-মা যদি নিজেরাই এই পাপে জড়িয়ে থাকেন, তবে তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তানদের ওপর জন্মগত ও গর্ভকালীন প্রভাবগুলো যেন যতটা সম্ভব পবিত্র হয়। এতে সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাপের প্রবণতা পাবে না। <br> দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচারক ও সঙ্গীদের এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো পরিচারক পবিত্র বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সন্দেহ করা উচিত। এমনকি শিশুদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাদের বিশেষভাবে শেখানো উচিত, কারণ স্রেফ অজ্ঞতার কারণেও তারা অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। ** পৃ. ৩৭৯ * '''সঠিক সময়ে সতর্কতা:''' কিন্তু পবিত্র পরিবেশ এবং অন্যান্য সব অনুকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, যদি শিশুকে তার বিপদ সম্পর্কে না জানানো হয়, তবে সে পরিচারক বা দুর্নীতিগ্রস্ত খেলার সাথীদের ফাঁদে পড়তে পারে, অথবা নিজেই কোনো মারাত্মক আবিষ্কার করতে পারে। তাই অভ্যাস গড়ে ওঠার আগেই শিশুদের এই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার দায়িত্ব আসে। বাবা-মা বিপদের কথা জানলেও এই দায়িত্বটি খুব কমই পালন করেন। তারা কোনোভাবে নিজেদের বোঝান যে অন্যেরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলেও তাদের সন্তানরা অন্তত পবিত্র। "তাদের" সন্তানরা যে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো সন্তান নয়, তারা যে পবিত্রতা ও নিষ্পাপতার নিখুঁত উদাহরণ নয়—এই বাস্তবটি বোঝা বাবা-মায়ের জন্য প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় নিয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলতে বাবা-মায়ের এক অদ্ভুত ও অযৌক্তিক সংকোচ কাজ করে। ফলে তাদের তরুণ, জিজ্ঞাসু মন সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে যায়, যদি না তারা হঠাৎ করে কোনো নোংরা মাধ্যম থেকে এ বিষয়ে জানতে পারে। <br> শিশু বা তরুণদের যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে কথা বলার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি এই বইয়ের ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে, যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। <br> ছোটবেলা থেকেই শিশুকে যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে শেখানো উচিত এবং একে একটি খুব খারাপ কাজ হিসেবে দেখতে শেখানো উচিত। যখন শিশুটি বোঝার এবং যুক্তি দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় হয়, তখন তাকে এর ক্ষতিকর পরিণতি সম্পর্কে আরও জানানো যেতে পারে। তারপর, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্বাভাবিক জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর জন্য অঙ্গগুলোর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানো যেতে পারে। <br> এই পথ অনুসরণ করা হলে কতজনকে যে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যেত! অন্য কাউকে, বিশেষ করে শিশুদের কিছু শেখানোর আগে বাবা-মায়ের নিজেদেরই অঙ্গগুলোর আসল কাজ সম্পর্কে জানা অবশ্যই প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৭৯-৩৮০ * যখন এই অভ্যাস এবং এর প্রভাব খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে, তখন এটি সারিয়ে তোলা খুব সহজ হয়। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে, কারণ তাদের মধ্যে শুরু হওয়া ক্ষতিগুলো অনৈচ্ছিক স্বপ্নদোষের রূপ নেয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কাজটি বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব ভালো থাকে, তবে শর্ত হলো রোগীর সহযোগিতা পেতে হবে। এটি ছাড়া খুব কমই কিছু করা সম্ভব। তবে সেসব ক্ষেত্রে শুরুতেই রোগীকে বলে দেওয়া ভালো যে, বছরের পর বছর ধরে করা পাপের খারাপ কাজগুলো ঠিক করা কোনো সহজ কাজ নয়। এটি কেবল দৃঢ় চেষ্টা, ভালো কাজের প্রতি অবিচল লেগে থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই করা সম্ভব। যারা দীর্ঘকাল ধরে এই পাপ করেছে বা এর প্রভাবে দীর্ঘকাল ধরে মারাত্মকভাবে ভুগেছে, তারা এমন এক ক্ষতি করেছে যা শত চেষ্টার পরও কমবেশি সারা জীবন থাকবে। তবুও তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ যদি এই রোগকে থামানো না হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের আরও বড় ক্ষতি হবে। আর সেই ক্ষতি প্রতিরোধ করার মাধ্যমেই তারা অমূল্য উপকার পেতে পারে। ** পৃ. ৩৮২ * ''শিশুদের ক্ষেত্রে'', বিশেষ করে যারা সম্প্রতি এই অভ্যাসটি শিখেছে, শিশুটি যদি উপদেশ বোঝার মতো বড় হয়, তবে এর পাপের কথা বলে এবং এর ভয়ংকর পরিণতিগুলোর সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে এটি ভাঙানো যেতে পারে। বিশ্বস্ত সতর্কতার পাশাপাশি শিশুর মনোযোগ পুরোপুরি কাজ, পড়াশোনা বা মনোরম বিনোদনে আটকে রাখতে হবে। তাকে কোনোভাবেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, পাছে সে প্রলোভনের কাছে হার মানে। কাজ একটি চমৎকার প্রতিকার। এমন কাজ যা তাকে সত্যিই খুব ক্লান্ত করে তুলবে, যাতে বিছানায় যাওয়ার পর নিজেকে অপবিত্র করার কোনো ইচ্ছা তার না থাকে। এমন শিশুকে একজন বিশ্বস্ত বয়স্ক মানুষের তত্ত্বাবধানে রাখা সবচেয়ে ভালো। তার বিশেষ দায়িত্ব হবে অভ্যাসটি পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত দিনরাত তাকে নজরে রাখা। <br> ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, যাদের কাছে নৈতিক বিবেচনার কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই, অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। যৌনাঙ্গে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হাত বেঁধে রাখাও সফল হয়। তবে এটি সবসময় কাজ করবে না। কারণ তারা প্রায়ই পা নেড়ে বা পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে অন্যভাবে অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার পথ বের করে নেবে। অঙ্গগুলো একটি খাঁচা দিয়ে ঢেকে রাখার পদ্ধতি পুরোপুরি সফল হয়েছে। ছোট ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রায় সবসময়ই সফল হয় এমন একটি প্রতিকার হলো খতনা। বিশেষ করে যখন সামান্য ফাইমোসিস থাকে। '''অস্ত্রোপচারটি একজন সার্জনকে অবশ না করেই করা উচিত। কারণ এই অস্ত্রোপচারের সময় হওয়া অল্প সময়ের ব্যথাটি মনের ওপর একটি স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলবে,''' বিশেষ করে যদি এটিকে শাস্তির ধারণা হিসেবে যুক্ত করা হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে ভালোভাবে করা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকা ব্যথাটি এই অভ্যাসটিকে বাধাগ্রস্ত করে। আর যদি এটি আগে খুব বেশি পোক্ত না হয়ে থাকে, তবে তা ভুলে যেতে পারে এবং আবার শুরু না-ও করতে পারে। যদি শিশুটিকে নজরদারিতে রাখার কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে এত সতর্কতার সাথে নজরে রাখতে হবে যেন সে ধরা না পড়ে কিছুতেই নিয়ম ভাঙতে না পারে। যদি তাকে আংশিকভাবে নজরে রাখা হয়, তবে সে দ্রুতই চোখ এড়িয়ে যেতে শেখে, এবং এর ফলে সে তার পাপে আরও ধূর্ত হয়ে ওঠে। ** পৃ. ৩৮৩-৩৮৪ * শারীরবিদ্যা শিক্ষা দেয় যে, আমরা যা খাই তা থেকেই আমাদের চিন্তার জন্ম হয়। যে ব্যক্তি শুকরের মাংস, মিহি আটার রুটি, চর্বিযুক্ত পাই ও কেক এবং মসলা খায়, চা ও কফি পান করে এবং তামাক ব্যবহার করে, তার চিন্তায় পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা আর ওড়ার চেষ্টা করা প্রায় একই। সে শারীরিকভাবে পবিত্র থাকলে তা একটি বিশাল অর্জন হবে। তবে ঐশ্বরিক কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া মানসিকভাবে পবিত্র থাকা তার পক্ষে অসম্ভব। <br> যার চিন্তাধারা পাপের নোংরা পথে এত বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে চলে যায়, এবং স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে ধাবিত হয়—এমন ব্যক্তিকে সবচেয়ে সাধারণ, পবিত্র এবং অনুত্তেজক খাবার নিশ্চিত করতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। <br> খাবার বিষয়ে নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা প্রয়োজন:— <br> ১. "কখনো অতিরিক্ত খাবেন না।" এক বেলায় খুব বেশি খেলে পরের বেলায় উপোস করুন। শরীরকে নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিন এবং ভবিষ্যতে এমন নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে বাধা তৈরি করুন। পেটুকপনা পবিত্রতার জন্য মারাত্মক। যার যৌনাঙ্গ অপব্যবহারের কারণে দুর্বল হয়ে গেছে, অতিরিক্ত খেলে তার স্বপ্নদোষসহ অন্যান্য ক্ষতি নিশ্চিতভাবে হবে। <br> ২. "দিনে মাত্র দুবার খাবেন।" আর যদি রাতের খাবার খেতেই হয়, তবে তা খুব হালকা এবং সবচেয়ে সাধারণ খাবার, যেমন ফল, বা ফল এবং রুটি হওয়া উচিত। ঘুমাতে যাওয়ার চার বা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কিছুই খাওয়া উচিত নয়। আর তিনটার পর কিছু না খাওয়াই অনেক ভালো। প্রাচীনকালের মানুষ দিনে মাত্র দুবার খেতেন। তাহলে আধুনিক যুগের মানুষ তিন বা চারবার কেন খাবেন? পেটে হজম না হওয়া খাবার থাকলে ঘুম ব্যাহত হবে, স্বপ্ন বেশি দেখা যাবে এবং বারবার স্বপ্নদোষ হবে। জীবনের একটি সবচেয়ে বাধ্যতামূলক নিয়ম হওয়া উচিত, "কখনো ভরা পেটে ঘুমাতে যাবেন না।" এই নিয়ম ভাঙাই ভয়ংকর স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের প্রধান কারণ। <br> ৩. "সব উত্তেজক খাবার বর্জন করুন।" এর মধ্যে মশলা, গোলমরিচ, আদা, সরিষা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এসেন্স, সব ধরনের স্বাদবর্ধক, লবণ, আচার ইত্যাদির পাশাপাশি সব ধরনের প্রাণিজ খাবারও থাকবে। মাছ, মুরগি, ঝিনুক, ডিম এবং দুধও বাদ দেওয়া যাবে না। যারা সারাজীবন এসব খেয়ে অভ্যস্ত, তারা যে একবারে এগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন তা আশা করা কঠিন। হয়তো অনেকেই এগুলো কখনোই পুরোপুরি ছাড়তে পারবেন না। তবুও তাদের জন্য এগুলো ছেড়ে দেওয়াই ভালো হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে কেবল চর্বিহীন গরুর বা খাসির মাংস, খুব অল্প পরিমাণে লবণ এবং পরিমিত পরিমাণে দুধ খাওয়া যেতে পারে। এগুলো যতটা সম্ভব কম খাবেন—"যত কম, তত ভালো।" <br> ৪. "উত্তেজক পানীয়" আরও কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। ওয়াইন, বিয়ার, চা এবং কফি কোনো পরিস্থিতিতেই খাওয়া উচিত নয়। যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করায় কফির প্রভাব কুখ্যাত। চকোলেটও বাদ দেওয়া উচিত। যারা এটি ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন, তারাও এর সুপারিশ করেন। তারা জানেন না যে এতে চা ও কফির মতোই কার্যত একটি বিষ রয়েছে। <br> সব ধরনের গরম পানীয় এড়ানো উচিত। <br> তামাক পানীয় না হলেও আরেকটি উত্তেজক। এটি অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত। <br> ৫. যেসব খাবার নিষেধ করা হয়েছে, সেগুলোর বদলে ফল, শস্য এবং শাকসবজি খান। এ ধরনের খাবারের অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যকর এবং অনুত্তেজক। যারা অতিরিক্ত যৌন মিলনের কারণে ভুগছেন, তাদের খাবারে গ্রাহাম ফ্লাওয়ার, ওটমিল এবং পাকা ফল অবশ্যই থাকা উচিত। ** পৃ. ৩৯১-৩৯৩ * ১. সব মানুষের সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম দরকার। নিয়ম হওয়া উচিত, তাড়াতাড়ি ঘুমান এবং ক্লান্তি দূর হওয়া পর্যন্ত ঘুমান। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভোরে ওঠা উপকারী নয়। <br> ২. সকালে ঘুম ভাঙামাত্রই উঠে পড়ুন, যদি তা চারটার পর হয়। দ্বিতীয়বার ঘুমানো সাধারণত ক্লান্তি দূর করে না, বরং বিপজ্জনক। কারণ স্বপ্নদোষ বেশিরভাগ সময় এই সময়েই হয়। <br> ৩. রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রাতের খাবারের ঠিক আগে কয়েক মিনিট ঘুমান। এই সময়ে আধা ঘণ্টার বিশ্রাম অসাধারণভাবে সতেজ করে। এমনকি পনেরো মিনিট ঘুমালেও খুব সতেজ লাগে। দুপুরের খাবারের পর ঘুমাবেন না। কারণ এতে স্বপ্নদোষ হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। আর সাধারণত দুপুরের খাবারের পরের ঘুম ক্লান্তি দূর করে না এবং বদহজম তৈরি করে। <br> ৪. পেট বা মূত্রাশয় ভরা রেখে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। ঘুমানোর ঠিক আগে মূত্রাশয় খালি করা উচিত। রাতে প্রস্রাব করার জন্য এক বা দুবার ওঠার অভ্যাস করাও ভালো। <br> ৫. ঘুমানোর ভঙ্গিও কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ। পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে স্বপ্নদোষের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এক কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। রাতের খাবার খেয়ে থাকলে ডান কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। কারণ এই ভঙ্গি খাবারকে পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে সাহায্য করে, যা হজমের জন্য দরকারি। <br> ঘুমন্ত অবস্থায় রোগী যেন পিঠের ওপর ভর দিয়ে না ঘুমায়, তা ঠেকাতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয় এবং কখনো কখনো তা কাজেও দেয়। অ্যাক্টনের পরামর্শ দেওয়া সবচেয়ে সহজ কৌশলটি হলো একটি তোয়ালের মাঝখানে একটি গিট বাঁধা। এরপর তোয়ালেটি শরীরের সাথে এমনভাবে বাঁধা হয় যেন গিটটি পিঠের মাঝামাঝি থাকে। ঘুমন্ত ব্যক্তি পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুরলে গিটের চাপের কারণে যে অস্বস্তিকর অনুভূতি হবে, তা প্রায়ই এটি ঠেকাতে পুরোপুরি কাজ করবে। কেউ কেউ একই কাজের জন্য পিঠে এক টুকরো কাঠ বেঁধে রাখেন। আবার কেউ কেউ বিছানার খুঁটির সাথে এক হাত বেঁধে রাখার অভ্যাস করেন। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা উচিত নয়, তবে চিকিৎসার অন্যান্য উপায়ের সাথে এগুলোও চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। <br> ৬. নরম বিছানা এবং বালিশ সাবধানে এড়িয়ে চলতে হবে। শক্ত বিছানা পাওয়া গেলে পালকের বিছানা ব্যবহার করা উচিত নয়। নিচে একটি ভাঁজ করা কম্বল বিছিয়ে মেঝেতে ঘুমানো আরও ভালো। নরম বালিশ মাথা গরম করে, যেমন নরম বিছানা শরীরের অন্যান্য অংশ গরম করে। চুল দিয়ে তৈরি তোশক, অথবা ভুট্টার খোসা, ওট খড় বা এক্সেলসিয়র দিয়ে তৈরি বিছানা—যার ওপর দুই বা তিনটি কম্বল বা একটি নকশি করা সুতির তোশক থাকে—খুব স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক বিছানা হয়। <br> ৭. অতিরিক্ত ভারী আবরণও সমান যত্নে এড়ানো উচিত। গ্রীষ্মকালে যতটা সম্ভব পাতলা আবরণ এবং শীতকালে আরামের সাথে মানানসই সবচেয়ে হালকা আবরণ ব্যবহার করা উচিত। খুব গরম অবস্থায় ঘুমানো প্রায়ই রাতের স্বপ্নদোষ উসকে দেয়। <br> ৮. ঘুমানোর ঘরে থাকার সময় এবং দিনের বেলা ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে ভুলবেন না। এটি এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে সকালের রোদ্দুর আসে। ঘরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা ভালো। এগুলো বাতাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে এবং ঘরের মন ভালো করা পরিবেশও বাড়াবে। ** পৃ. ৩৯৩-৩৯৫ * '''স্বপ্ন:''' যারা রাতের স্বপ্নদোষে ভোগেন, তাদের জন্য এটি অনেক আগ্রহের একটি বিষয়। কারণ এ ঘটনাগুলো প্রায় সবসময়ই কামুক স্বপ্নের সাথে যুক্ত থাকে। <br> সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘুমে কোনো স্বপ্ন থাকে না; চেতনা পুরোপুরি স্থগিত থাকে। স্বপ্ন দেখার সাধারণ পর্যায়ে এক অদ্ভুত ধরনের চেতনা কাজ করে। তখন ইচ্ছাশক্তি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকলেও মনের অনেক ক্ষমতা কমবেশি সক্রিয় থাকে। কার্পেন্টার সাধারণ স্বপ্ন এবং জেগে থাকার মাঝখানের আরেকটি চেতনার স্তরের কথা বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি অবস্থা "যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টার চেতনা থাকে যে সে স্বপ্ন দেখছে। তার মনের সামনে আসা ছবিগুলোর অবাস্তবতা সম্পর্কে সে সচেতন থাকে। সে চাইলে আনন্দদায়ক হলে স্বপ্নটিকে দীর্ঘ করার জন্য সচেতন এবং সফল চেষ্টাও করতে পারে, আর বিরক্তিকর হলে তা দূর করতে পারে। এভাবেই সে একধরনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেখায়, যা সত্যিকারের স্বপ্নের ক্ষেত্রে একেবারেই থাকে না।" ** পৃ. ৩৯৬-৩৯৭ * '''স্বপ্ন কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?'''- তথ্য প্রমাণ করে যে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। স্বপ্নদোষের একটি বড় অংশ ডা. কার্পেন্টারের বর্ণনা করা ওই অবস্থাতেই ঘটে, যেখানে ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সকালের ঘুমের সময় মনের সাধারণ অবস্থা এটাই থাকে। কেউ যদি দৃঢ়ভাবে ঠিক করে যে সে ঘুমে হোক বা জেগে হোক, যখনই অপবিত্র চিন্তা আসবে, তখনই সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়বে, তবে সে দেখবে যে কেবল এই আধা-চেতন অবস্থাতেই নয়, বরং আরও গভীর ঘুমের মধ্যেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ** পৃ. ৩৯৭ * জেগে থাকার সময় চিন্তাগুলো কেমন থাকে, তার ওপর ঘুমের সময়ও চিন্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি নির্ভর করে। পুরোপুরি সচেতন থাকার সময় মনকে নিয়ন্ত্রণ করলে, অচেতন বা আধা-চেতন থাকার সময়ও মন নিয়ন্ত্রিত হবে। <br> এ বিষয়ে ডা. অ্যাক্টন খুব যথার্থ কিছু কথা বলেছেন:- <br> "রোগীরা আপনাকে বলবে যে তারা তাদের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে 'পারে না'। এটি সত্য নয়। যারা জেগে থাকার সময়ের চিন্তা এবং ঘুমের সময়ের স্বপ্নের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারা জানেন যে এগুলো ঢিলেঢালাভাবে যুক্ত। ঘুমে বা জাগরণে 'চরিত্র' একই থাকে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, একজন মানুষ যদি দিনের বেলা তার চিন্তাভাবনাকে কামুক বিষয়ে মগ্ন থাকতে দেয়, তবে রাতে সে তার মনকে কামুক স্বপ্নে ভরা দেখতে পাবে। একটি অন্যটির ফল। আর রাতের স্বপ্নদোষ হলো এর স্বাভাবিক পরিণতি, বিশেষ করে যখন দিনের বেলার আসক্তি যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। জেগে থাকার সময় যে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে আমরা যৌন আকাঙ্ক্ষা দমন করিনি, ঘুমিয়ে পড়ার পর সেই ইচ্ছাশক্তি আমাদের দিনের বেলার সাহসের চেয়েও বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া জাগরণের চিন্তার ঘুমন্ত প্রতিধ্বনি থেকে রক্ষা করবে না।" ** পৃ. ৩৯৮-৩৯৯ * প্রায় সব পরিস্থিতিতেই স্বাস্থ্যের জন্য রোজ গোসল করা অপরিহার্য। এই শ্রেণির রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে দরকারি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ভালোভাবে গোসল করা উচিত। সাধারণ "ঠান্ডা জলে গোসল" কারও জন্যই ভালো নয়, বিশেষ করে সকালে। যদিও অসাধারণ সহনশীলতার অধিকারী কেউ কেউ এটি খুব ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। তবে সেমিনাল দুর্বলতায় ভোগা রোগীদের প্রায়ই "ঠান্ডা জলে গোসল" করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুবই ক্ষতিকর। কারণ তাদের রোগ তাদের জীবনীশক্তি এতটাই কমিয়ে দিয়েছে যে তারা এত কঠিন চিকিৎসা সহ্য করতে পারে না। <br> রোদে গোসল, ইলেকট্রিক গোসল, স্প্রে, ডুব দিয়ে গোসল এবং গোসলের অন্যান্য ধরনগুলো তাদের জন্য খুব উপকারী, যারা নিয়ম ভাঙার প্রভাবে ভুগছেন। ** পৃ. ৩৯৯ * স্পার্মাটোরিয়ার বিশেষ চিকিৎসা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে নিউইয়র্কের একজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক আমাদের বলেছিলেন, "যখন কোনো তরুণ স্বপ্নদোষে ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাকে টনিক দিই এবং ''কোনো নারীর কাছে পাঠাই''।" হাতুড়েদের কথা বাদই দিলাম, এমনকি পেশাদার চিকিৎসকদের মধ্যেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি অস্বাভাবিক নয়—এ বিষয়টি যতটা সত্য, ততটাই দুঃখজনক। এমন শত শত তরুণ আছে যাদের নৈতিকতা এ ধরনের উপদেশের কারণে ধ্বংস হয়েছে। অন্তত অবৈধ সম্পর্কের দিক থেকে তারা পবিত্র অভ্যাসে বড় হয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা খুব প্রবল হলেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু একজন চিকিৎসক যখন প্রতিকার হিসেবে ব্যভিচার করার পরামর্শ দেন, তখন তারা অনেক সময় খুব সহজেই নিজেদের পবিত্রতা বিসর্জন দেয় এবং এমন এক পাপের জীবন শুরু করে যা থেকে তাদের বাঁচানো যেত। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, অনেক তরুণ ইচ্ছা করেই এমন চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়, যাদের এই ধরনের প্রতিকার দেওয়ার অভ্যাস আছে বলে তারা জানে। <br> কত সাধারণভাবে এই পথটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুব কম মানুষই জানে। আর তা হাতুড়েদের মাধ্যমে নয়, বরং নিয়মিত পেশার সদস্যদের মাধ্যমে। একজন চিকিৎসা-বন্ধু আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি এমন একটি ঘটনার কথা জানেন যেখানে একজন গ্রামের চিকিৎসক এক সংযমী তরুণকে বড় শহরে গিয়ে পতিতাদের সাথে এক বছর বা তার বেশি সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা সে মেনেও নিয়েছিল। তার পরবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। তবে এটি খুবই সম্ভব যে, এই প্রতিকার নেওয়া অন্য বেশিরভাগ তরুণের মতো সেও দ্রুতই এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যা তার আগের অবস্থার কোনো উন্নতি না করেই তার অবস্থাকে আগের চেয়ে দশ গুণ খারাপ করে দিয়েছিল। এই পথ নিলে বড়জোর এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন হয়। তবে এর চেয়েও বড় কথা হলো, একটি রোগের অনৈচ্ছিক ফলকে সবচেয়ে জঘন্য চরিত্রের একটি স্বেচ্ছাকৃত পাপে পরিণত করা হয়। এটি এমন একটি অপরাধ যেখানে দুজন অংশ নেয় এবং এটি কেবল প্রকৃতির বিরুদ্ধেই নয়, নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি চরম অবমাননা। ** পৃ. ৪০০-৪০১ * '''বিয়ে:''' আরেক শ্রেণির চিকিৎসক নৈতিকতার প্রতি আরও বেশি সম্মান দেখিয়ে আত্ম-অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের সব সমস্যার নিশ্চিত নিরাময় হিসেবে বিয়ের পরামর্শ দেন। তবে তারা প্রকৃত অক্ষমতার বিষয়টিকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখতে পারেন। এই পরামর্শের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আপত্তি তোলা যেতে পারে; আমরা নিচের আপত্তিগুলো জানাচ্ছি:- <br> ১. এটি কোনো প্রতিকার নয়। কারণ অবৈধ সম্পর্কের মতো "বৈধ পতিতাবৃত্তিও" কেবল এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন, যার খারাপ প্রভাবগুলোতে খুব একটা পার্থক্য নেই। <br> ২. এটি যদি প্রতিকার হতোও, তবুও তা সমর্থনযোগ্য হতো না। কারণ এর ব্যবহারের ফলে দাম্পত্য সম্পর্কের অপব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠত, যেমনটি অন্য জায়গায় দেখানো হয়েছে। <br> ৩. আরেকটি কারণ হিসেবে (যদি এটি "ভালো" কারণ হয়) জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, একজন মানুষের একজন স্ত্রীকে ওষুধের শিশি হিসেবে ব্যবহার করার কী অধিকার আছে? মিস্টার অ্যাক্টন খুব সুন্দরভাবে জিজ্ঞেস করেছেন, "একজন যুবতী, যাকে একটি আত্মকেন্দ্রিক হিসেবের বলির পাঁঠা বানানো হয়, সে কী এমন করেছে যে তার জন্য অপেক্ষা করা এমন জীবনের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে? কে তাকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে দেখার অধিকার দিয়েছে? আর কে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তার বিশ্রাম এবং তার বাকি জীবনের সুখ এতটা হালকাভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অধিকার পেয়েছে?" ** পৃ. ৪০২ * '''ওষুধ, আংটি ইত্যাদি:''' কোনো শ্রেণির রোগীদের ওপর ওষুধ যদি নিজে থেকে কাজ করতে পারে, তবে এই শ্রেণির রোগীদের জন্য তা নিশ্চিতভাবেই অর্থহীন। পুরো মেটেরিয়া মেডিকাতে এমন কোনো শিকড়, লতাপাতা, নির্যাস বা মিশ্রণ নেই যা একাই স্বপ্নদোষে ভোগা কাউকে সুস্থ করতে পারে। বছরের পর বছর ওষুধ খেয়ে হাজার হাজার হতভাগ্য মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে। একজন চিকিৎসক হয়তো রোগীকে পার্জ করবেন এবং স্যালাইভেট করবেন। আরেকজন তাকে ফসফরাস, কুইনাইন বা এরগট গেলাবেন। আরেকজন তাকে আয়রন খাওয়াবেন। আরেকজন তাকে লিপুলিন, কর্পূর এবং ডিজিটালিন দেবেন। আবার আরেকজন তাকে আফিম, বেলেডোনা এবং ক্লোরাল দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখবেন। আরেকজন পারগেটিভস এবং ডাইউরেটিকস দেবেন। আর কেউ কেউ এমনও থাকবেন যারা সুযোগ পেলে পুরো ফার্মাকোপিয়া বেচারার পেটে ঢেলে দেবেন, যদি তারা তাকে দিয়ে মুখটা যথেষ্ট বড় করে খোলাতে পারেন। <br> এইসব বেচারাদের যেভাবে ফোসকা তোলা হয়, পোড়ানো হয়, ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং অন্যান্য নানা উপায়ে নির্যাতন করা হয়, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। তবুও তারা প্রায়ই হাসিমুখে এগুলো সহ্য করে। তারা মনে করে এটা তাদের পাপের জন্য উপযুক্ত শাস্তি এবং হয়তো ভাবে এই নির্মম শাস্তির মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হবে। এসব পদ্ধতির ফলে কখনো কখনো সাময়িকভাবে স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়। কিন্তু রোগী এতে সুস্থ হয় না এবং দ্রুতই রোগ ফিরে আসে। <br> স্বপ্নদোষ ঠেকানোর জন্য আংটি, পেসারি এবং অসংখ্য যান্ত্রিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ বৃথা। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা যায় না। এসব যন্ত্রের কয়েকটি বেশ উদ্ভাবনী হলেও এগুলো সবই মূল্যহীন। এগুলোর পেছনে সময় এবং অর্থ ব্যয় করা নিছক বোকামি। ** পৃ. ৪১১-৪১২ * নিজেকে অপবিত্র করার পাপটি একজন মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে নিচু এবং সবচেয়ে অবক্ষয়ী পাপগুলোর একটি। এটি পশুর চেয়েও খারাপ। যারা এটি করে, তারা নিজেদেরকে শ্বাস নেওয়া সবচেয়ে নিচু প্রাণীর চেয়েও অনেক নিচে নামিয়ে দেয়। ** পৃ. ৪২৮ === ১৯০৩ === ==== ''দ্য লিভিং টেম্পল'' ==== : <small>ব্যাটল ক্রিক, এমআই: গুড হেলথ পাবলিশিং কোম্পানি, (১৯০৩)। [https://babel.hathitrust.org/cgi/pt?id=hvd.hw1vwg;view=1up;seq=15 সম্পূর্ণ পাঠ অনলাইনে] উপলব্ধ।</small> * মহান শিক্ষক বলেছিলেন, "তোমার ছেলে যদি রুটি চায়, তুমি কি তাকে পাথর দেবে?" শরীর রুটি চায়, প্রাণদায়ী খাবার চায়। কিন্তু তার বদলে কতবার আমরা তাকে আচার, সবুজ জলপাই, ভাজা খাবার এবং নানা ধরনের জঘন্য মিশ্রণের মতো সহজে হজম না হওয়া অস্বাস্থ্যকর আবর্জনা দিই, যা শরীরে জীবনের বদলে মৃত্যু নিয়ে আসে। কতবার এমন হয় যে, শরীর যখন বিশুদ্ধ, প্রাণদায়ী পানি চায়, তখন আমরা তাকে বিয়ার, হুইস্কি, ওয়াইন, চা বা কফির মতো রোগ সৃষ্টিকারী পানীয় দিই। ** পৃ. ৫৮ * মানুষ গৃহপালিত পশুর মতোই তার গবাদিপশু, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি পালন করে। তার সন্তানেরা মেষশাবকদের খেলার সাথী বানায়। মাঠে তার ষাঁড়গুলো তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। দয়ার প্রতিদান হিসেবে তারা ভালোবাসা দেয়। তারা মানুষের ওপর কতটা ভরসা করে! কত বিশ্বস্ততার সাথে সেবা করে! শীতের কুয়াশার সাথে সাথে আসে একটি অশুভ দিন—গণহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, রক্তপাত এবং কসাইগিরির দিন। দা আর কুঠার নিয়ে সে তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—যে ভেড়া তার হাতে চুমু খেয়েছিল, যে ষাঁড় তার মাঠে লাঙ্গল টেনেছিল। চারপাশ আতঙ্কের চিৎকার, আর্তনাদ এবং হতাশার কান্নায় ভরে ওঠে। মাটি গরম রক্তে ভিজে যায় এবং লাশে ভরে ওঠে। ** পৃ. ১৮৬ * "মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ"-এর চেয়েও আরও ব্যাপক এবং সর্বজনীন একটি ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। আসুন আমরা "জীবের ভ্রাতৃত্ববোধ" নিয়ে চিন্তা করি এবং কথা বলি। আসুন আমরা ষাঁড়ের মধ্যে এমন এক ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী স্বজন দেখি, যে আমাদের সম্মানের যোগ্য। আসুন আমরা ভেড়াকে এমন এক নম্র ও বাধ্য সহযোদ্ধা হিসেবে দেখি এবং স্বীকার করি, যে আমাদের কাছে সুরক্ষা এবং প্রশংসা চায়। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * আসুন আমরা ভুলে না যাই যে, সূর্যের আলো হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদের হাসি। সূর্যের আলো হলো স্বর্গের আলো, জীবন এবং গৌরব, সত্যিকারের শেকিনাহ, সেই বাস্তব উপস্থিতি যা দিয়ে মন্দির সবচেয়ে বেশি পূর্ণ হওয়া দরকার। আর শীতল বাতাস হলো স্বর্গের নিঃশ্বাস, এক সত্যিকারের জীবনদায়ী [[বার্তাবাহক]], যা তার ডানায় ভর করে সুস্থতা নিয়ে আসে। ** পৃ. ৪১২ * যে ব্যক্তি একটি পরিষ্কার মাথা চান, এমন একটি মস্তিষ্ক চান যা চারপাশের মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম প্রভাবগুলোর প্রতি তীব্রভাবে সজাগ থাকবে, তার নিয়ন্ত্রিত শারীরিক অঙ্গগুলোর প্রতিটি ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে, মহাজাগতিক চিন্তার অসীম উৎস থেকে ধারণা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং ঈশ্বরকে অনুসরণ করে মহৎ চিন্তা করতে পারবে, তাকে অবশ্যই সহজ, সংযমী এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে এবং সব ধরনের ক্ষতিকর ও নিম্নমানের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি সবচেয়ে ভালো খাবার বেছে নেবেন। এগুলোর মধ্যে থাকবে ফল, বাদাম, শিমজাতীয় খাবার এবং ডেক্সট্রিনাইজড শস্য—অর্থাৎ, ভালোভাবে সেঁকা শস্যের তৈরি খাবার, টোস্ট করা রুটি, টোস্ট করা গমের ফ্লেক্স ইত্যাদি। তিনি পরিমিত খাবেন, কখনোই পেট ভরে খাবেন না। তিনি প্রতিদিন অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা বাইরে ব্যায়াম করবেন, যতটা সম্ভব খোলা বাতাসে থাকবেন। তিনি রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি জোরদার ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন এবং রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনবার একটি গরম পরিষ্কারক গোসল করবেন। তিনি নিজের মন ও শরীরের প্রতিটি শক্তি দরকারী কাজের জন্য জমিয়ে রাখবেন। তিনি সবচেয়ে ব্যাপক অর্থে একজন ধার্মিকের মতো বাঁচার চেষ্টা করবেন। ** পৃ. ৪২২-৪২৩ * মানুষ যতদিন তার শরীরকে একটি আনন্দের বীণা হিসেবে দেখবে এবং এর তারগুলো যতদিন বাজানো যাবে ততদিন এতে বাজাতে থাকবে, ততদিন কোয়ারেন্টাইন আইন এবং খুঁটিনাটি স্বাস্থ্যবিধি থাকা সত্ত্বেও সে শারীরিক অবক্ষয় এবং অধঃপতনের পথেই হাঁটতে থাকবে। কিন্তু যখন সে তার ঐশ্বরিক উৎস ও দায়িত্বগুলো বুঝবে এবং নিজেকে সৃষ্টির মুকুট হিসেবে চিনতে পারবে, যখন সে বুঝবে তার শরীর এক মূল্যবান জিনিস, যাকে পবিত্রভাবে রক্ষা করতে হবে, উন্নত করতে হবে, প্রসারিত করতে হবে এবং এই পৃথিবীতে মানবতার সেবার জন্য পবিত্র করতে হবে এবং পরকালে উন্নতি ও আনন্দের অনন্ত সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে, কেবল তখনই সে তার পতিত অবস্থা থেকে সেই চূড়ার দিকে উঠতে শুরু করবে, যেখানে সে আবার সৃষ্টির মুকুট, ঈশ্বরের সেরা সৃষ্টি, "পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রাণীদের আদর্শ" হিসেবে দাঁড়াতে পারবে। ** পৃ. ৪৩১-৪৩২ === ১৯০৯ === * এটি লক্ষ্য করা বেশ আগ্রহের বিষয় যে, সারা বিশ্বের বিজ্ঞানমনস্ক মানুষরা এই সত্যটি বুঝতে শুরু করেছেন যে, প্রাণীর মাংস একটি বিশুদ্ধ পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং এটি বিষাক্ত পদার্থে মিশ্রিত, যা মূলত প্রাণীর জীবনের স্বাভাবিক বর্জ্যের মতো। ** [[চার্লস ওয়েবস্টার লিডবিটার|সি. ডব্লিউ. লিডবিটার]] রচিত ''[https://books.google.it/books?id=WufWAAAAMAAJ সাম গ্লিম্পসেস অব অকাল্টিজম: অ্যানসিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন]'' (রাজপুত প্রেস, ১৯০৯, পৃ. ২৬৫) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯১৩ === * উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ—কয়লা এবং কাঠ—থেকেই সেই শক্তি আসে যা আমাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালায়, ট্রেন টানে, স্টিমশিপ চালায় এবং সভ্যতার কাজ করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ থেকেই সব প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই শক্তি পায়, যা পেশি ও মানসিক কাজের মাধ্যমে প্রাণীর জীবনে প্রকাশিত হয়। উদ্ভিদ গড়ে তোলে, প্রাণী ধ্বংস করে। উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে; প্রাণী শক্তি ক্ষয় করে। লোকোমোটিভ বা প্রাণী—যেকোনোটির মাধ্যমেই শক্তির প্রকাশ ঘটুক না কেন, এর ফলে নানা ধরনের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। প্রাণীর কাজ করা টিস্যুগুলো কেবল এই কারণেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে যে, সেগুলো রক্ত দ্বারা ক্রমাগত ধুয়ে পরিষ্কার হয়। রক্ত তাদের ভেতর ও চারপাশ দিয়ে বয়ে চলা এমন এক অবিরাম স্রোত, যা বিষাক্ত পদার্থগুলো তৈরি হওয়ার সাথে সাথে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। শিরাস্থ রক্তের এই রূপ তার বিষাক্ত পদার্থের কারণেই হয়, যা কিডনি, ফুসফুস, ত্বক এবং অন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মৃত প্রাণীর মাংসে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো প্রচুর পরিমাণে থাকে। মৃত্যুর মুহূর্তেই শরীর থেকে এগুলো বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যদিও মৃত্যুর পরও বেশ কিছুক্ষণ এগুলো তৈরি হতে থাকে। সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট ফরাসি সার্জন মন্তব্য করেছেন যে 'বিফ টি (গরুর মাংসের নির্যাস) আক্ষরিক অর্থেই বিষের একটি দ্রবণ।' ** সি. ডব্লিউ. লিডবিটার রচিত ''[[ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম]]'' (১৯১৩) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯২১ === * মানুষের পুষ্টির জন্য এমন কোনো প্রয়োজনীয় বা কাঙ্ক্ষিত উপাদান মাংস বা প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায় না, যা উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া যায় না বা তা থেকে তৈরি করা যায় না। ** ''দ্য নিউ ডায়েটেটিকস, হোয়াট টু ইট অ্যান্ড হাউ: অ্যা গাইড টু সায়েন্টিফিক ফিডিং ইন হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ'', ব্যাটল ক্রিক, এমআই: দ্য মডার্ন মেডিসিন পাবলিশিং কো., ১৯২১, [https://books.google.it/books?id=TNsMAwAAQBAJ&pg=PA366 পৃ. ৩৬৬]। === ১৯৩৫ === * সব ধরনের জাতিগত পরীক্ষায় প্রমাণিত, নিজেদের দেশের এমন এক জনগোষ্ঠীকে তাড়িয়ে দেওয়া, যাদের রক্ত তাদের নিজেদের রক্তের চেয়ে অনেক উন্নত... ** "জার্মানি'স ফিউটাইল এফোর্ট অ্যাট রেস বেটারমেন্ট" (অক্টোবর ১৯৩৫) নামক ''গুড হেলথ''-এর একটি সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া। ব্রায়ান সি. উইলসন রচিত ডা. জন হার্ভে কেলগ অ্যান্ড দ্য রিলিজিয়ন অব বায়োলজিক লিভিং (২০১৪ সালে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=rwwxBQAAQBAJ&pg=PA215 ২১৫ নম্বর পৃষ্ঠায়] এবং [[w:হাওয়ার্ড মার্কেল|হাওয়ার্ড মার্কেল]] রচিত "দ্য কেলগস: দ্য ব্যাটিলিং ব্রাদার্স অব ব্যাটল ক্রিক" (২০১৭ সালে প্যানথিয়ন বুকস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=GIsuDwAAQBAJ&pg=PA313 ৩১৩ নম্বর পৃষ্ঠায়] উদ্ধৃত। === ১৯৩৮ === * কোনো চারণভূমিতে পড়ে থাকা মরা গরু বা ভেড়াকে পচা মাংস বা মরা পশু হিসেবে ধরা হয়। একই মরা পশুর মাংস যখন সাজিয়ে কসাইয়ের দোকানে ঝোলানো হয়, তখন তা খাবার হিসেবে চলে! সাবধানে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখলে বেড়ার কোনায় পড়ে থাকা মরা পশু আর কসাইয়ের দোকানের মরা পশুর মধ্যে খুব কম বা কোনো পার্থক্যই চোখে না পড়তে পারে। দুটোই কোলন জীবাণুতে গিজগিজ করে এবং পচা দুর্গন্ধে ভরা থাকে। ** দাহ্যভাই এইচ. জানি রচিত ''[https://books.google.it/books?id=HSHOAAAAMAAJ রোমান্স অব দ্য কাউ]'' (দ্য বোম্বে হিউম্যানিটারিয়ান লিগ, ১৯৩৮, পৃ. ৮১) বইয়ে উদ্ধৃত। == বহিঃসংযোগ == *{{উইকিপিডিয়া-ইনলাইন}} *{{উইকিসংকলন-ইনলাইন|Author:John Harvey Kellogg}} *{{কমনসক্যাট-ইনলাইন}} {{ডিফল্টসর্ট:কেলগ, জন হার্ভে}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৩-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:স্বাস্থ্য কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:মিশিগানের চিকিৎসক]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:ইউজেনিসিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:নিরামিষভোজী কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা]] ao2jh6ds0bjz01y1x2dt1d8o4nvt40t 76696 76690 2026-04-14T14:02:12Z NusJaS 273 /* বহিঃসংযোগ */ 76696 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫২ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩) {{w|মিশিগান|মিশিগানের}} ব্যাটল ক্রিকের একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." * গত কয়েক বছর ধরে দেশে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল সাহিত্য নৈতিকতার আরেকটি বড় শত্রু। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এসব প্রচারক রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিচের উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের সামগ্রী ধ্বংস করে এই অবৈধ ব্যবসা দমনের জন্য ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন:<br> "নিচের বিবৃতি থেকে আপনারা দেখতে পাবেন, আমি এই বহুরূপী দানবের একটি অংশ আংশিকভাবে উন্মোচন করতে পেরেছি। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণটি বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে। আমি এগুলো বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করেছি:<br> "এক লক্ষ বিরাশি হাজারের বেশি অশ্লীল ছবি, স্টেরিওস্কোপিক এবং অন্যান্য ছবি; পাঁচ টনের বেশি অশ্লীল বই এবং পুস্তিকা; একুশ হাজারের বেশি মুদ্রিত অশ্লীল চিঠির পাতা; পাঁচ হাজারের বেশি অশ্লীল মাইক্রোস্কোপিক ঘড়ি, ছুরির লকেট এবং আংটি; ছবি ও স্টেরিওস্কোপিক দৃশ্য ছাপানোর জন্য প্রায় ছয়শ পঁচিশটি অশ্লীল নেগেটিভ প্লেট; তিনশ পঞ্চাশটি অশ্লীল খোদাই করা স্টিল ও তামার প্লেট; কুড়িটি অশ্লীল লিথোগ্রাফিক পাথর ধ্বংস করা হয়েছে; পাঁচশটির বেশি অশ্লীল কাঠের খোদাই; অশ্লীল বই ছাপানোর জন্য পাঁচ টনের বেশি স্টেরিওটাইপ প্লেট; প্রায় ছয় হাজার অশ্লীল স্বচ্ছ তাস; ত্রিশ হাজারের বেশি অশ্লীল ও অনৈতিক রাবারের জিনিসপত্র; রাবারের জিনিস তৈরির জন্য বারো সেট বা সাতশ পাউন্ডের বেশি সিসার ছাঁচ; প্রায় চার হাজার ছয়শটি বাজেয়াপ্ত করা সংবাদপত্র; এসব পণ্য অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পনেরো হাজার চিঠি; বাজেয়াপ্ত করা হিসাবের খাতায় প্রায় ছয় হাজার ডিলারের নাম; বাজেয়াপ্ত চিঠি ও হিসাবের খাতা বাদেও ডিলারদের হাতে থাকা সাত হাজারের বেশি নামের তালিকা, যা প্রচারপত্র বা ক্যাটালগ পাঠানোর জন্য পণ্য হিসেবে বিক্রি হয়; এবং ১৮৭১ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে পঞ্চাশ জনের বেশি ডিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" <br> "এই লোকগুলো প্রথমে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং পরে প্রচারপত্র পাঠিয়ে এসব জঘন্য জিনিস ছড়ায়। তারা এই পদ্ধতিতে হাজার হাজার নাম সংগ্রহ করে। কখনো কোনো সন্তানকে সেখানে ভর্তি করানোর ভান করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ক্যাটালগ আনিয়ে নেয়। আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল-কলেজের সব পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীর ডিরেক্টরি তৈরি করার, বা অবিবাহিতদের আদমশুমারি করার কথা বলে প্রচারপত্র পাঠায়। এমনকি এমন তালিকা পাঠানোর জন্য নামপ্রতি পাঁচ সেন্ট দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। আমার বলার অপেক্ষা রাখে না, এই টাকা খুব কমই পাঠানো হয় বা একেবারেই পাঠানো হয় না। তবে বিজ্ঞাপনের জবাবে আসা নামগুলোর পাশাপাশি এই নামগুলোও অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে কেউ এই জঘন্য ব্যবসায় নামতে চাইলে তাকে শুধু ওই নামের তালিকা কিনলেই চলে। তখন আপনার অজান্তেই আপনার ছেলে বা মেয়ের হাতে এসব শয়তানি ক্যাটালগ চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।" ** পৃ. ১৮৬-১৮৮ * ডা. লুইসের উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় সি এল মেরিয়াম বলেন: "আমরা দেখতে পেয়েছি, অশ্লীল সাহিত্যের ডিলাররা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। এগুলোর দায়িত্বে থাকে স্কুলের সবচেয়ে বখাটে ছেলেরা। বিক্রেতারা এই ছেলেদের বেছে নিয়ে টাকা দেয়। তারা নিউইয়র্ক সিটিতে এর আগে প্রকাশিত একশ চুয়াল্লিশটি অশ্লীল বইয়ের যেকোনোটি খণ্ডপ্রতি দশ সেন্টের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।" ** পৃ. ১৮৮ * তবে এটি একটি বেদনাদায়ক সত্য, আইনের আওতায় থাকা প্রতিটি বাজে বই পুরোপুরি ধ্বংস করলেও এই অপকর্মের প্রতিকার হবে না। কারণ আমাদের আধুনিক সাহিত্যও একই ভাইরাসে পূর্ণ। এটি অপরিহার্যভাবে কম জঘন্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। সুন্দর কল্পচিত্র দিয়ে এটি অর্ধেক ঢাকা থাকে বা রসিকতা দিয়ে সাজানো থাকে। তবুও এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং কোনো আইন এর নাগাল পায় না। সাহিত্যের মানসম্মত লেখকদের রচনায় অশ্লীলতার ছড়াছড়ি রয়েছে। সম্প্রতি যেসব অশ্লীল সাহিত্য দমনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো নিঃসন্দেহে তার চেয়েও বেশি তরুণদের মনে কামুক কৌতূহল জাগাতে এবং আবেগ ও অনৈতিকতাকে উসকে দিতে এবং লালন করতে ভূমিকা রেখেছে। পাপের দৃশ্যগুলো যত নিখুঁতভাবে আঁকা হয়, সেগুলো তত বেশি বিপজ্জনকভাবে প্রলুব্ধকর হয়ে ওঠে। উপন্যাস পড়া হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ১৮৮-১৮৯ * '''অলসতা:''' এই অপকর্মটি সাধারণত আগেরটির সাথে যুক্ত থাকে। পবিত্রতা বজায় রাখতে মনকে ব্যস্ত রাখতে হবে। কাজ না থাকলে এই শূন্যতা দ্রুত অপবিত্র চিন্তায় ভরে যায়। অলসতার মাঝে বেড়ে ওঠার চেয়ে সন্তানের জন্য খারাপ কিছু হতে পারে না। এতে তার নৈতিকতা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিরাম মানসিক ব্যস্ততাই অপবিত্রতার বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ। যেসব অকর্মণ্য বাবু বারে আড্ডা দিয়ে, রাস্তার মোড়ে ঘুরে বেড়িয়ে বা রাজপথে সদম্ভে হেঁটে সময় নষ্ট করে জীবন কাটায়, তারা আর যাই হোক পবিত্র নয়। একইভাবে যেসব অকর্মণ্য যুবতী সোফা বা ইজিচেয়ারে বসে কোনো বোকাটে উপন্যাস পড়ে জীবন পার করে দেয় বা দিবাস্বপ্ন দেখে জীবনের মূল্যবান সময় অলসভাবে কাটায়, তারা খুব কমই মানুষের ধারণায় থাকা পবিত্রতার আদর্শ হয়। যদি কারও জন্মগতভাবে পাপের প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, তবে এমন জীবন খুব দ্রুত একটি অসুস্থ ও অপবিত্র কল্পনার জন্ম দেবে। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * '''পোশাক এবং কামুকতা:''' দুটি উপায়ে ফ্যাশনেবল পোশাক অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়। যথা: ১. এর অপচয় বা অতিরিক্ত মূল্যের কারণে; ২. শরীরের অপব্যবহারের মাধ্যমে। <br> অপচয় কীভাবে অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়? এটি পাপের প্রলোভন তৈরি করে। যারা চমৎকার ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, অভিজাত বাদামি পাথরের বাড়িতে বাস করে এবং অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সব ধরনের বিলাসবহুল জিনিসপত্রে পরিবেষ্টিত থাকে, সেসব জমকালো পোশাক পরা নারীদের এটি প্রভাবিত করে না। কারণ দামি পোশাক তাদের জন্য কোনো প্রলোভন নয়। কিন্তু কম সুবিধাপ্রাপ্ত অথচ সমান যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের কাছে এসব সুন্দর পোশাক ও জমকালো সাজসজ্জার প্রদর্শনী অত্যন্ত শক্তিশালী প্রলোভন। কঠোর পরিশ্রম করে কোনোমতে নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানো গরিব নারী দর্জির কোনো বৈধ প্রশংসাকারী থাকে না। সৎ থেকে নিজের সতীত্ব বজায় রাখতে গেলে তাকে সাধারণ পোশাক পরতে হয়। তখন তার অহংকারী বোনেরা তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। সে সর্বত্র দেখতে পায়, পোশাকই একজন নারীকে ভদ্রমহিলা হিসেবে গড়ে তোলে—এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। রাস্তায় কেউ তাকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেয় না। তার ক্লান্ত হাত থেকে ফসকে পড়ে যাওয়া প্যাকেটটি তুলে দিতেও কেউ এগিয়ে আসে না। ক্লান্তিতে কাঁপতে থাকা অবস্থায় সে কোনো ভিড় ট্রেনে উঠলেও কেউ তাকে বসার জায়গা দেয় না। অথচ তার পেছনে আসা জমকালো পোশাক পরা নারীকে সঙ্গে সঙ্গেই জায়গা করে দেওয়া হয়। সে এই পার্থক্য খেয়াল করে। অপরিচিতদের সম্মান বা সমীহ পাওয়ার আশায় সে পরিণতি নিয়ে না ভেবেই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ১৯০-১৯১ * নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমাদের বড় শহরগুলোতে শত শত যুবতী আছে, যারা খাবার ও জ্বালানি কেনার পাশাপাশি একটি স্যাঁতসেঁতে চিলেকোঠার ভাড়া মেটানোর মতো সামান্য টাকা আয় করতে পারে। তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দেওয়া এই উপদেশটি মেনে নেয়, "তোমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য এমন কোনো ভদ্রলোক বন্ধু জোগাড় করো যে তোমার পোশাকের খরচ চালাবে।" অন্যেরা নিজেদের সম্মানজনকভাবে সাজিয়ে রাখতে তাদের সামান্য আয়ের সবটুকু খরচ করে ফেলে। এরপর তারা কোনো হৃদয়হীন ও কামুক তরুণ লম্পটের সাথে থাকা-খাওয়া ভাগ করে নেয়। শহরের জীবনে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যক্তিরা এবং আমাদের মহানগরের ঠিক কেন্দ্রে থাকা হাজার হাজার মানুষের এ ধরনের পতিতাবৃত্তির ভয়াবহ বিস্তৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যুবতীরা বরফের মতো পবিত্র হয়ে আমাদের বড় শহরগুলোতে যায়। তারা লাভজনক কোনো কাজ পায় না। রোজকার পাপের সংস্পর্শে আসার কারণে পাপের প্রতি তাদের প্রাথমিক তীব্র ঘৃণা ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্রমশ এটি তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনের কল্পনা একজন কঠোর পরিশ্রমী দর্জি মেয়েকে প্রলুব্ধ করে। সুন্দর পোশাক এবং আরামদায়ক বাসস্থান সেই প্রলোভনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সে হার মানে এবং বিয়ের ঝামেলা ছাড়াই একটি বাড়ির বিনিময়ে নিজের শরীর বিক্রি করে দেয়। <br> লাইসেন্স আইন পাস বা অধ্যাদেশ জারি করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যা করতে পারে, সাধারণ পোশাক পরার মাধ্যমে ধনী নারীরা এই সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ে তার চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানে কি খ্রিষ্টান নারীদের কোনো দায়িত্ব নেই? কয়েক বছর আগে ন্যাশভিলের কিছু নারী সঠিক পথে সামান্য একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নিচের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এই দৃষ্টান্ত কেউ অনুসরণ করেছে বলে আমরা শুনিনি:<br> "টেনেসির ন্যাশভিলের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চের নারী সদস্যরা একমত হয়েছেন যে, তারা রবিবারে সব ধরনের সাজসজ্জা বর্জন করবেন। তারা সংগতি ছাড়া অন্য কোনো গয়না পরবেন না এবং এরপর থেকে সাধারণ ক্যালিকো পোশাক পরে চার্চে আসবেন।" <br> এই হিতকর পদক্ষেপটি শুধু রবিবার নয়, সপ্তাহের অন্য সব দিনেও সম্প্রসারিত করা হলে এটি আরও যুগান্তকারী সংস্কার হতো। যদিও পোশাকের উপাদান হিসেবে শুধু ক্যালিকো ব্যবহারের কোনো কারণ আমরা দেখি না। বছরের কিছু ঋতুতে এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। ** পৃ. ১৯১-১৯২ * '''ফ্যাশন ও পাপ:''' শরীরের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পোশাক কীভাবে পাপের প্রতি প্ররোচিত করে, তা দেখা যাক। ১. ফ্যাশনের কারণে নারীদের ফিতা বা কর্সেট দিয়ে কোমর চেপে রাখতে হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডের দিকে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিরাস্থ রক্ত পেছনের দিকে সংবেদনশীল প্রজনন অঙ্গগুলোতে জমা হয়। এভাবে রক্ত জমে যাওয়ার ফলে পরাবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে পাশবিক প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২. পোশাক পরার ধরন হিসেবে কোমর থেকে বেশ কয়েকটি ভারী পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়। যেখানে পোশাকের সবচেয়ে কম প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত পোশাক রাখার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এটি অস্বাভাবিক স্থানীয় তাপ তৈরি করে। ৩. পা ও হাত-পায়ে এত পাতলা কাপড় পরার প্রথা রয়েছে যে সেগুলো সব সময় ঠান্ডার শিকার হয়। এটি রক্ত চলাচলকে আরও ভারসাম্যহীন করে তোলে এবং স্থানীয় এই সমস্যা বাড়াতে আরেকটি উপাদান যোগ করে। <br> উল্লেখ করা যেতে পারে এমন অন্যান্য কারণসহ এই সব কারণ মিলে প্রায় প্রতিনিয়ত কাজ করে স্থায়ী স্থানীয় রক্তজমাট বাঁধার পাশাপাশি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর গোলযোগ সৃষ্টি করে। শেষের এই গোলযোগগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হিস্টিরিয়ার প্রধান রোগতাত্ত্বিক অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এটি নিম্বোম্যানিয়া নামক অদ্ভুত রোগের কারণ। এর উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে একজন স্বাভাবিক পবিত্র ও বিনয়ী যুবতী চরম উচ্ছৃঙ্খল কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। এই ব্যাধি সৃষ্টির পেছনে ফ্যাশনেবল পোশাকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। ** পৃ. ১৯২-১৯৩ * '''পোশাকে সংস্কার প্রয়োজন:''' এসব অপকর্মের প্রতিকার এবং এগুলো থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সংস্কার। শরীরের সাথে পোশাক এমনভাবে মানানসই হতে হবে যেন প্রতিটি অঙ্গ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোনো কর্সেট, ব্যান্ড, বেল্ট বা অন্য কোনো সংকোচনের মাধ্যম যেন রক্ত চলাচলে বাধা না দেয়। কোমরবন্ধনী বা সঠিক সাসপেন্ডারের মাধ্যমে কাঁধ থেকে পোশাক ঝুলিয়ে রাখা উচিত। শরীরের অন্যান্য অংশের মতো হাত-পায়েও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে। স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তাগুলো কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা পোশাক সংস্কারের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি চমৎকার বই থেকে জানা যেতে পারে। এগুলোর যেকোনোটি এই বইয়ের প্রকাশক বা তাদের এজেন্টদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া সম্ভব। ** পৃ. ১৯৩-১৯৪ * '''ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা:''' এই ক্ষেত্রে ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খারাপ নিয়ামকের প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা বলতে আমরা এক ধরনের অতিরিক্ত আসক্তিকে বোঝাই। সাধারণত ধনী বা অভিজাত শ্রেণির মানুষ এর জন্য গর্ববোধ করে। এই শ্রেণির মানুষদের মাঝে পরিচিত কোনো সাধারণ মাতালকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এমন ব্যক্তিকে খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা হয়। তবে একইভাবে একজন সম্পূর্ণ মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিকেও এড়িয়ে চলা হয়। তাকে অন্তত একজন ধর্মান্ধ বা চরমপন্থী হিসেবে দেখা হয়। এই শ্রেণির মানুষের কাছে শিষ্টাচারের খাতিরে ওয়াইন পান করা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। ওয়াইনের পাশাপাশি তারা প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের মসলাদার খাবার, মসলা, চাটনি, চর্বিযুক্ত মাংস এবং সব ধরনের সুস্বাদু খাবার ও ডেজার্ট খায়। এগুলোকে সাধারণ উত্তেজক পদার্থের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। <br> এসব আসক্তি শরীরের সেই অংশকে উত্তেজিত করে, যার সাধারণত উত্তেজনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণের বেশি প্রয়োজন। একজন প্রাক্তন গভর্নর সম্প্রতি আমাদের কাছে একজন বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকের সম্মানে আয়োজিত একটি জমকালো রাজনৈতিক নৈশভোজের বর্ণনা দিয়েছেন। এতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। নৈশভোজটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছিল এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে টানা খাবার ও ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল। একই অজুহাতে আমাদের বড় বড় অনেক শহরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বহু অনুষ্ঠানে জননেতারা এমন মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ায় অভ্যস্ত জেনে আমরা অবাক হই না যে, তাদের অনেকেই নৈতিকভাবে স্খলিত মানুষ। ** পৃ. ১৯৪-১৯৫ * বিলাসবহুলতার প্রবণতা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। রোমের নাগরিকেরা ধনী হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন গ্রহণ করার আগে রোম কখনোই উচ্ছৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়নি। দরকারী কাজে মনকে পুরোপুরি ব্যস্ত রাখার চেয়ে সুস্থ নৈতিকতার জন্য বেশি সহায়ক আর কিছুই নেই। ফ্যাশনেবল অলসতা সদ্গুণের চরম শত্রু। যেসব তরুণ বা তরুণী অলস দিবাস্বপ্ন দেখে অথবা কিছু মহলে চলা আড্ডার অধিকাংশ জুড়ে থাকা অর্থহীন কথাবার্তা বলে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে, তারা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম ঝুঁকিতে থাকে। ফ্যাশনেবল সমাজের অনেক প্রথা ও রীতি পাপের দরজা খুলে দেয় বলে মনে হয়। এগুলো ছলনার আশ্রয় নিয়ে প্রথমদিকে অজান্তেই তরুণ ও অনভিজ্ঞদের পবিত্রতা এবং সদ্গুণের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। উচ্চবিত্ত বলে পরিচিত শ্রেণির মধ্যে প্রতিবছর অনৈতিকতার পরিমাণ বাড়ছে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। মাঝে মাঝেই উচ্চবিত্তদের জীবনের কোনো না কোনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তাদের দুর্নীতির বিশাল অংশটি সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। সব ভদ্র সমাজে খোলাখুলি উচ্ছৃঙ্খলতাকে অবশ্যই ঘৃণার চোখে দেখা হয়। তা সত্ত্বেও সম্পদ ও অর্জন মানুষের অনেক পাপ ঢেকে দেয়। <br> খারাপ ও দুষ্ট লোকদের দেওয়া এই স্বাধীনতা ফ্যাশনেবল সমাজের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর একটি। এমন ব্যক্তিরা নিজেদের সাথে যে নৈতিক পরিবেশ বহন করে, তা ভয়ংকর উপাস গাছের চেয়েও বেশি মারাত্মক। ** পৃ. ১৯৫-১৯৬ * '''রাউন্ড ড্যান্স:''' নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে ব্যায়াম বা ক্যালিসথেনিক্সের অংশ হিসেবে অন্যান্য নাচের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, রাউন্ড ড্যান্স, বিশেষ করে ওয়াল্টজের পক্ষে এমন কোনো অজুহাত দাঁড় করানো যায় না। এর সাথে জড়িত উচ্ছৃঙ্খলতা, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক, মধ্যরাতের ভোজ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে শরীর প্রদর্শিত হওয়া এবং অশালীন পোশাক ইত্যাদির পাশাপাশি এটি খুব স্পষ্টভাবে দেখানো যায় যে, আবেগকে উদ্দীপ্ত করতে এবং অপবিত্র কামনা জাগিয়ে তুলতে নাচের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এটি প্রায়শই অপবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যায়। এগুলো কঠোর নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং মন ও শরীর উভয়েরই ক্ষতি করে। <br> প্রখ্যাত পেত্রার্ক বলেছেন, "নাচ হলো কামনার উদ্দীপক—এমন একটি বৃত্ত যার কেন্দ্রে স্বয়ং শয়তান থাকে। যেসব নারী এতে অংশ নেয়, তাদের অনেকেই অসৎ হয়ে বাড়ি ফেরে, বেশিরভাগই উদাসীন থাকে, কেউ ভালো হয় না।" ** পৃ. ১৯৬ * এ বিষয়ে আমরা দ্য ড্যান্স অব ডেথ নামের একটি ছোট বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারি। বইটির লেখক এই বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং নিচের কথাগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেছেন:<br> "মৃদু গ্যাসলাইটের নিচে আমাদের সামনে দ্রুতবেগে বিশটি মূর্তি ঘুরছে। আমি বিশটি 'মূর্তি' বলছি—তবে প্রতিটিই জোড়া। নাচ শুরুর আগে এগুলো চল্লিশটি ছিল। বিশটি ভাসমান দৃশ্য—প্রতিটিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী। পিয়ানো, হার্প এবং বেহালার মাতাল সুরের তালে তালে বিশজন নারী সমসংখ্যক পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আমাদের সামনে ঢেউয়ের মতো দুলছে এবং মাথা ঘোরানো গতিতে ঘুরছে। <br> "কিন্তু একটু কাছে আসুন—দেখা যাক এই অলৌকিক ঘটনা কীভাবে ঘটে। আপনি কি ওই জুটিকে খেয়াল করছেন, যারা সাবলীলতা ও আবেগে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। চলুন, এই জুটিকে উদাহরণ হিসেবে নিই। পুরুষটি বলিষ্ঠ, চটপটে ও শক্তিশালী; নারীটি লম্বা, নমনীয়, ছিপছিপে এবং তার গড়ন ও রূপ কতই না সুন্দর! নারীর মাথাটি পুরুষের কাঁধে রাখা, তার মুখ পুরুষের দিকে তোলা। তার খালি হাত প্রায় পুরুষের গলা জড়িয়ে আছে। তার ফুলে ওঠা বুক পুরুষের বুকের সাথে প্রবলভাবে ওঠানামা করছে। তারা মুখোমুখি ঘুরছে, পুরুষের হাত-পা নারীর হাত-পায়ের সাথে জড়িয়ে আছে। নারীর নমনীয় কোমরে ডান হাত শক্ত করে জড়িয়ে পুরুষটি তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়, যতক্ষণ না তার সুন্দর শরীরের প্রতিটি বাঁক কামুক স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়। নারী তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে কিছুই দেখে না। ঘরে নরম সুর বাজতে থাকে, কিন্তু সে কিছুই শোনে না। পুরুষটি তাকে মেঝের ওপর দ্রুত ঘোরায় অথবা তাকে নিজের আলিঙ্গনে এদিক-ওদিক বাঁকায়। <br> "শেষের দিকের একটি নিচু ও করুন সুরের সাথে সাথে বাজনা থেমে যায়। তার মূর্ছিত চেতনা ফিরে আসে। আহ, এমনই কি হতে হবে! হ্যাঁ; তার সঙ্গী তাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দেয়। ক্লান্ত হয়ে সঙ্গীর বাহুতে ভর দিয়ে, চোখের আনন্দ মুছে গিয়ে এবং গালের লাল আভা মিলিয়ে গিয়ে—দুর্বল, নিস্তেজ, উদাসীন ও ক্লান্ত অবস্থায়—তাকে একটি আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে তার ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে যতটা সম্ভব শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। এরপর তাকে নতুন কোনো আলিঙ্গনে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।" ** পৃ. ১৯৭-১৯৮ * আমি যখন ওয়াল্টজ নাচতাম, সেই দিনগুলোর নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে একজন তরুণীর মন ও মানসিকতা তুলে ধরার সাহস করছি। <br> "সেই সময় আমি পোলকা বা ভার্সোভিয়ানের পরোয়া করতাম না। পুরনো ধাঁচের মানি মাস্ক বা ভার্জিনিয়া রিল নিয়ে তো আরও কম ভাবতাম। আমি অবাক হতাম যে মানুষ এসব ধীরগতির নাচে প্রশংসা করার মতো কী পায়। কিন্তু ওয়াল্টজের নরম ভেসে চলায় আমি এক অদ্ভুত আনন্দ পেতাম, যা বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। শুধু নাচের কথা ভাবলেই আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেত। আমার সঙ্গী যখন নাচের জন্য আমার কথা দেওয়া হাতটি ধরতে আসত, তখন আমি মাঝে মাঝে আমার গালে একটু আভা অনুভব করতাম। আগের মতো খোলাখুলি আনন্দে আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না। <br> "কিন্তু আমার বিভ্রান্তির চরম মুহূর্তটি আসত, যখন তার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে এবং ঘোরার কারণে মাথা ঘোরা অবস্থায় এক অদ্ভুত, মিষ্টি শিহরণ আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিত। এটি আমাকে দুর্বল ও প্রায় ক্ষমতাহীন করে তুলত। তখন আমাকে ঘিরে থাকা সেই বাহুটির ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকত না। যদি আমার সঙ্গী অজ্ঞতা, দক্ষতার অভাব বা সরলতার কারণে আমার এই সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুভূতিগুলো জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হতো, তবে আমি তার সাথে দ্বিতীয়বার নাচতাম না। <br> "আমি খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বলছি। আমি যখন বলি যে আমি কী অনুভব করতাম, বা এই তথাকথিত নাচ থেকে আমার পাওয়া আসল ও সবচেয়ে বড় আনন্দগুলো কী ছিল তা আমি বুঝতাম না, তখন আমি আশা করি সবাই আমার কথা বিশ্বাস করবে। কিন্তু তখন যদি না-বোঝা আনন্দে আমার গাল লাল হয়ে উঠত, তবে আজ যখন আমি এসব নিয়ে ভাবি, তখন লজ্জায় আমার গাল ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শক্তিশালী পুরুষদের স্পর্শে তৈরি হওয়া শারীরিক আবেগের প্রতিই আমি মুগ্ধ ছিলাম—নাচের প্রতি নয়, এমনকি সেই পুরুষদের প্রতিও নয়।" <br> "এভাবে আমার সবচেয়ে নিচু প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটেছিল। আমি আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলাম। প্রথমে লাজুক দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারলেও, দ্রুত আমি আরও সাহসী দৃষ্টি মেলাতে সক্ষম হয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওয়াল্টজ আমার এবং আমার সাথে নাচা যেকোনো ব্যক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী, মিষ্টি এবং সম্পূর্ণ কামুক আনন্দে পরিণত হয়েছিল। সেখানে বুকের সাথে বুক কাঁপত, হাতে হাত ধরা থাকত এবং চোখ এমন জ্বলন্ত শব্দ খুঁজত যা ঠোঁট দিয়ে বলার সাহস হতো না।" ** পৃ. ১৯৯-২০০ * "তবুও আমাদের শেখানো হয়েছিল যে নাচ করা ঠিক। আমাদের বাবা-মা নাচতেন, আমাদের বন্ধুরাও নাচত এবং আমাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমি আরও বলব, আমার সাথে মেলামেশা করা মেয়েদের মধ্যে একজন বাদে সবারই নাচের বিষয়ে প্রায় একই অভিজ্ঞতা ছিল। সবাই একই রকম অদ্ভুত মিষ্টি অনুভূতি পেত। কেন বা কী বুঝতে না পারলেও, ওয়াল্টজের স্বাধীনতার চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ মিলনের এক প্রায় অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত। <br> "এখন আমি বিবাহিত এবং আমার নিজের সংসার ও সন্তান আছে। আমি অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, আমার এই অভিজ্ঞতাই আমাকে নিশ্চিতভাবে আমার ছোট মেয়েদের এমন বিপজ্জনক আনন্দে জড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সাহায্য করবে। কিন্তু শুরুতে পবিত্র ও নিষ্পাপ থাকা একজন তরুণী যদি আমার বলা কথাগুলো অনুভব করতে পারে, তবে একজন বিবাহিত নারীর অভিজ্ঞতা কেমন হবে? চোখের প্রতিটি চাহনি, মাথার প্রতিটি ঝোঁক এবং প্রতিটি ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনের অর্থ সে জানে। আর তা জেনে সে এর প্রতিদান দেয়। এভাবে সে দ্রুত ও নিশ্চিত পথে বিপজ্জনক এবং অসম্মানজনক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।" ** পৃ. ২০১-২০২ * '''আধুনিক জীবনযাপন:''' আগে বলা সব কারণ বাদেও আধুনিক জীবনযাপনের অভ্যাসের ফলে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সরাসরি কামুকতাকে উসকে দেয়। অতিরিক্ত গরম ঘর, বসে বসে করা কাজ, পেশির বদলে মানসিক ও স্নায়বিক সংগঠনের বিকাশ, স্কুলে মুখস্থ করার প্রথা, স্কুলের বাচ্চাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত মেলামেশার সুযোগ, বিভিন্ন পাবলিক বিনোদন, বলনাচ, চার্চের মেলা এবং আরও অনেক কিছুর অবক্ষয়ী প্রভাব এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব কিছুই যৌন ক্রিয়ার অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং অকালপক্বতার দিকে ধাবিত করে। <br> আধুনিক জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কারও পক্ষে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকা প্রায় অসম্ভব—একথা বলা মোটেও অতিরঞ্জন নয়। ঈশ্বরের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি নিশ্চিতভাবেই সত্য। তবে স্বেচ্ছায় করা পাপের ফল ঠেকাতে ঈশ্বর কখনোই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটান না। ** পৃ. ২০৩-২০৪ * সব পরিস্থিতিতে যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নাম কন্টিনেন্স বা ইন্দ্রিয়দমন। অন্যদিকে চ্যাস্টিটি বা পবিত্রতা হলো কেবল বেআইনি যৌন কাজ থেকে বিরত থাকা। আমাদের যেমন শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা আছে, তেমনি ইন্দ্রিয়দমনও মানসিক ও শারীরিক উভয়ই হওয়া উচিত। পবিত্রতা বিষয়ক অনেক পর্যবেক্ষণ ইন্দ্রিয়দমনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অপবিত্রতা ও ইন্দ্রিয়দমনে ব্যর্থতার কারণগুলো একই। মানসিক ও শারীরিক পবিত্রতার মধ্যে যে সম্পর্ক, মানসিক ও শারীরিক ইন্দ্রিয়দমনের মধ্যেও একই সম্পর্ক রয়েছে। ** পৃ. ২০৫ * '''ইন্দ্রিয়দমন ক্ষতিকর নয়:''' এমনকি অনেক চিকিৎসকও বেশ যুক্তির সাথেই দাবি করেছেন যে, প্রজনন অঙ্গের পূর্ণ বিকাশের পর সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়দমন বজায় রাখলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই অবস্থানের পক্ষে দেওয়া সব যুক্তি উল্লেখ করার দরকার নেই। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এগুলো এতই তুচ্ছ যে, এগুলোতে মনোযোগ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। আমরা মূলত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। এর মাধ্যমে আমরা দেখাব যে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল। নিঃসন্দেহে এগুলো মানুষের প্রাকৃতিক অনুকূল পক্ষপাতের কারণেই এত ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। নিজের পছন্দের সাথে মিলে যায় এমন কিছু বিশ্বাস করা সহজ। একপেশে ধারণার পক্ষে সামান্য একটি অনুমানও অন্য পক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ** পৃ. ২০৫-২০৬ * '''দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি:''' একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের পর যৌন মিলনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকে না। সপ্তম আদেশের যে দাম্পত্য জীবনেও যৌন আচরণের ওপর কোনো প্রভাব আছে, তা খুব কম মানুষই সন্দেহ করে। অথচ নারী-পুরুষের স্বীকারোক্তি ও বিবৃতি বিশ্বাস করলে দেখা যায়, নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশার চেয়ে বৈধ পতিতাবৃত্তি আরও সাধারণ একটি অপরাধ। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা এতটাই প্রচলিত এবং সংস্কারের দ্বারা এতটাই সুরক্ষিত যে, কোনো লেখক বা বক্তার সত্য জানা থাকলেও এবং তা প্রকাশের ইচ্ছে থাকলেও, প্রকাশ করা রীতিমতো বিপজ্জনক। সঠিক নীতিগুলো তুলে ধরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে উপহাস করা হয়, নিন্দা করা হয়, কলঙ্কিত করা হয় এবং সম্ভব হলে থামিয়ে দেওয়া হয়। লেখককে গালাগাল করা হয়, তার কাজের নিন্দা করে তাকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়। তাকে চরমপন্থী, ধর্মান্ধ বা তপস্বী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এমনকি কেউ তার পবিত্রতা বা পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুললে সে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতে পারে। ** পৃ. ২১৬ * "ডিম্বাশয় এবং এর ভেতরে থাকা ডিম্বাণুগুলো নির্দিষ্ট ঋতুতে নিয়মিত বিকাশ লাভ করে বা আকারে বাড়ে। ... নিম্ন শ্রেণির সব প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রজনন মৌসুম এলেই আগে অসম্পূর্ণ ও নিষ্ক্রিয় থাকা কিছু ডিম্বাণু আকারে বড় হতে শুরু করে এবং এদের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসে।" <br> "বেশিরভাগ মাছ ও সরীসৃপ এবং পাখিদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার এবং নির্গত হওয়ার এই নিয়মিত প্রক্রিয়াটি বছরে মাত্র একবার ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি বছরে একবার, বছরে দুবার, দুই মাস পরপর বা এমনকি প্রতি মাসেও ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি নিয়মিত বিরতিতে ঘটে। এটি অন্যান্য বেশিরভাগ শারীরিক কাজের মতো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।" <br> "বেশিরভাগ নিম্ন শ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষদের অণ্ডকোষের একটি পর্যায়ক্রমিক বিকাশ ঘটে, যা নারীদের ডিম্বাশয়ের বিকাশের সময়ের সাথে মিলে যায়। প্রজনন মৌসুম ঘনিয়ে এলে নারীদের ডিম্বাশয় বড় হওয়ার ও ডিম্বাণু পাকতে শুরু করার সাথে সাথে পুরুষদের অণ্ডকোষও আকারে বাড়ে এবং শুক্রাণুতে ভরে ওঠে। একই সময়ে প্রজননের অন্যান্য সহায়ক অঙ্গগুলোও অণ্ডকোষের এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপে অংশ নেয়। এগুলো রক্তবাহী হয়ে ওঠে এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য তৈরি হয়।" ** পৃ. ২১৯ * "এ প্রসঙ্গে এটি একটি চমকপ্রদ তথ্য যে, এসব প্রাণীর স্ত্রীরা কেবল ঋতুচক্রের সময় এবং তার ঠিক পরেই পুরুষদের কাছে আসতে দেয়। অর্থাৎ, ঠিক তখনই যখন ডিম্বাণুটি সদ্য নির্গত হয় এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। অন্য সময়, যখন যৌন মিলন নিশ্চিতভাবেই নিষ্ফল হবে, তখন প্রাণীর প্রবৃত্তি তাকে এটি এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে। একইভাবে, লিঙ্গভেদে এই মিলনকে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা এবং এর নিষিক্ত হওয়ার ক্ষমতার সময়ের সাথে মেলানো হয়।" <br> "ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হওয়ার পরপরই ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। যদি ওই সময়ে যৌন মিলন ঘটে, তবে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু নারীর প্রজনন পথের কোনো একটি অংশে মিলিত হয় এবং নিষিক্তকরণ সম্পন্ন হয়। ... অন্যদিকে, যদি সহবাস না হয়, তবে ডিম্বাণুটি নিষিক্ত না হয়েই জরায়ুর দিকে নেমে যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর জীবনীশক্তি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত জরায়ুর নিঃসরণের সাথে বেরিয়ে যায়।" <br> "তাই এটি সহজেই বোঝা যায়, কেন অন্য সময়ের চেয়ে ঋতুচক্রের সময় যৌন মিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ... নির্গত হওয়ার আগে ডিম্বাণুটি অপরিপক্ব থাকে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। আর ঋতুচক্র পার হয়ে যাওয়ার পর এটি ধীরে ধীরে তার সতেজতা ও জীবনীশক্তি হারায়।" ** পৃ. ২২০-২২১ * শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অতিরিক্ত তথ্য হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঋতুস্রাবের ঠিক পরপরই নারীরা যৌন আকাঙ্ক্ষা বেশি অনুভব করে। এমনকি এমন দাবিও করা হয়েছে যে, রোগ বা অন্য কোনো কারণে অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত না হলে নারী কেবল এই সময়েই সত্যিকারের যৌন প্রবৃত্তি অনুভব করে। ** পৃ. ২২২ * "যে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে একজন পতিতার মতো আচরণ করে এবং আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য রাখে না, সে একজন খারাপ স্বামী। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো: খাওয়া-দাওয়ার মতো এখানেও মেটানোর মতো একটি ক্ষুধা থাকে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা না মিটিয়ে তা পূরণ করা যায় না। তবে যেহেতু প্রকৃতি এই আকাঙ্ক্ষা ও তৃপ্তিকে অন্য উদ্দেশ্যে তৈরি করেছে, তাই এগুলোকে কখনোই সেই উদ্দেশ্য থেকে আলাদা করা উচিত নয়।" ** পৃ. ২২৪ * "এটি একটি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অবিবাহিত ব্যক্তি মনে করেন তাদের স্বাধীনতার দ্বার কোনো নিয়ম বা বাধা ছাড়াই পুরোপুরি উন্মুক্ত (তাই তারা সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন)। বৈধ অনুমতির বেআইনি ব্যবহারের ফলে তারা অসংযম ও কামনার চূড়ান্ত পরিণতির স্বাদ পেয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে শুধু সংযমী এবং বিনয়ী হতে দিন।" <br> আরেকজন লেখক খুব জোর দিয়ে বলেছেন, "এটি একটি সাধারণ বিশ্বাস যে, আইনিভাবে বিবাহিত হওয়ায় একজন পুরুষ ও নারী কোনো বাধা ছাড়াই কামুকতা চর্চা করার বিশেষ সুবিধা পান। এটি ভুল। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। প্রকৃতি মানুষের তৈরি আইনকে স্বীকৃতি দেয় না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তি পেতে হয়, তেমনি বৈধ বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে শাস্তি পেতে হয়। অবিবাহিত পুরুষ বা নারীর মতো বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যৌন মিলন সমানভাবে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এটি আক্ষরিক অর্থেই বৈধ পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।" ** পৃ. ২২৫ * কিন্তু যৌন বিপদের বিরুদ্ধে যেকোনো সতর্কবার্তাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, যদি না তা বিবাহিত ব্যক্তিদের না বুঝে করা অতিরিক্ত যৌন মিলনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা দেখেছি, প্রাণদায়ী তরল ঘন ঘন নির্গত হওয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের অত্যধিক উত্তেজনা মারাত্মক ক্ষতিকর। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মতো দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফলাফল একই হয়। যে বিবাহিত পুরুষ মনে করেন, বিবাহিত হওয়ায় তিনি যতবার খুশি যৌন মিলন করলেও তা অতিরিক্ত হবে না, তিনি নিশ্চিতভাবেই অবিবাহিত লম্পটদের মতোই ভোগান্তির শিকার হবেন। বরং অজ্ঞতার কারণে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ লম্পটরা তাদের খারাপ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে ও কিছু নিয়ম মেনে চলতে শেখে, যা এই বিবাহিত পুরুষটি জানেন না। অনেক পুরুষ বিয়ের আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ সংযমী জীবনযাপন করেন, তাদের স্ত্রীরাও তা-ই করেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই তারা প্রতি রাতে যৌন মিলনে লিপ্ত হন। তাদের দুজনের কেউই জানেন না যে এই বারবার যৌন মিলন আসলে এক ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, যা তাদের শরীর সহ্য করতে পারে না। পুরুষের জন্য এটি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস ডেকে আনে। শরীর খারাপ হওয়ার আগ পর্যন্ত, কখনো কখনো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভ্যাস চলতে থাকে। অবশেষে যখন রোগী চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, তখন তিনি জানতে পেরে অবাক হন যে তার কষ্টের কারণ হলো না বুঝে করা এই অতিরিক্ত যৌন মিলন। বিবাহিত দম্পতিরা প্রায়ই মনে করেন, খাবার খাওয়ার মতোই নিয়মিত এবং প্রায় ততবারই যৌন মিলন করা যায়। যতক্ষণ না তাদের বিপদের কথা জানানো হয়, ততক্ষণ তাদের মাথায় এই চিন্তাই আসে না যে তারা ভয়ঙ্কর এবং প্রায় অপরাধমূলক বাড়াবাড়ি করছেন। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ তারা যে চিকিৎসকের কাছে যান, তিনি খুব কমই এই কারণটির কথা উল্লেখ করেন।" <br> "অনেকে মনে করেন, জিমন্যাস্টিকস বা ব্যায়াম করলে যেমন পেশির জোর বাড়ে, তেমনি এই কাজের মাধ্যমেও তাদের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা, যা শুধরানো দরকার। এমন রোগীদের জানানো উচিত যে, প্রতিবার যৌন মিলনের সময় শরীরে বিশাল ধাক্কা লাগে। আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অঙ্গগুলোর জন্য শুক্রাণু নির্গত হওয়া বিশেষ করে ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের বাড়াবাড়ির কারণেই অকালবার্ধক্য এবং প্রজনন অঙ্গের নানা সমস্যা দেখা দেয়।" ** পৃ. ২২৬-২২৭ * অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট দুর্বলতার দুটি কারণ রয়েছে: শুক্রাণু কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক উত্তেজনা। ডা. গার্নার শুক্রাণুর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: <br> "শুক্রাণু হলো রক্তের সবচেয়ে বিশুদ্ধ নির্যাস। ... প্রকৃতি এটি কেবল জীবন সৃষ্টির জন্যই তৈরি করেনি, বরং ব্যক্তির নিজের পুষ্টির জন্যও তৈরি করেছে। বস্তুতপক্ষে, নিষিক্তকরণ তরল পুনরায় শোষিত হলে তা পুরো শরীরে নতুন শক্তি এবং এমন এক পৌরুষ দেয়, যা আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।" ** পৃ. ২২৮ * '''একজন ফরাসি চিকিৎসকের সাক্ষ্য:''' বেশ পরিচিত একজন ফরাসি লেখক এই বিষয়ে বলেন:<br> শুক্রাণু তৈরি এবং জোর করে তা বের করে দেওয়ার জন্য শরীরের মতো এত মূল্য আর কাউকে দিতে হয় না। হিসেব করে দেখা গেছে, এক আউন্স শুক্রাণু চল্লিশ আউন্স রক্তের সমান। ... শুক্রাণুই পুরো মানুষের মূল সারাংশ। তাই ফার্নেল বলেছেন, "Totus homo semen est." এটি জীবনের মলম। ... যা জীবন দেয়, তা জীবন বাঁচানোর জন্যই তৈরি। ** পৃ. ২২৮-২২৯ * এটি একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খ্রিষ্টান বিশ্বের নারীদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। তাদের মানসিক শক্তিও অনিশ্চিত ও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তারা সময়ের আগেই চিন্তায় জর্জরিত, বলিরেখা যুক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। তারা এমন অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা একসময়কার চিকিৎসকদের কাছে প্রায় অজানা ছিল। কিন্তু এখন এসব রোগ সমাজের বয়স্ক নারীদের, এমনকি কখনো কখনো সবচেয়ে কম বয়সী মেয়েদের কাছেও অতি পরিচিত এবং সাধারণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ** পৃ. ২৩১-২৩২ * "আমরা সমকামিতা ও পায়ুকামের মতো প্রকৃতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের কথা শুনি। সব সুস্থমস্তিষ্কের মানুষ এর তীব্র নিন্দা করেন। আইনও এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি বিশেষভাবে কঠোর। এসব অপরাধের শাস্তি এক থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ব্যভিচারের শাস্তি মাত্র ষাট দিনের কারাদণ্ড এবং একশ ডলারের কম জরিমানা। কিন্তু এখানে একটি খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, কনডমের ব্যবহার এবং নিষিক্তকরণ প্রতিরোধী ইনজেকশন নেওয়াও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ কি না এবং একইভাবে আমাদের ঘৃণা ও অবজ্ঞার যোগ্য কি না। এছাড়া আমরা যখন প্রাণিজগতের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই তারা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তখনই মিলিত হয় যখন স্ত্রী-প্রাণীটি সঠিক শারীরিক অবস্থায় থাকে এবং স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়। এটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষের মিলন প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে এবং এর ফলাফল অন্যান্য যেকোনো অপরাধের চেয়েও খারাপ হতে পারে। যে শিশুর জন্ম নারী চায়নি, সেই শিশু কি সেই সুখকর গঠন নিয়ে জন্মাবে যা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই তাদের সন্তানের জন্য আন্তরিকভাবে চাওয়া উচিত এবং দেওয়া উচিত? আর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর কথা ভাবুন, প্রতিটি শিশুরই কি অধিকার নেই যে সে হবে ভালোবাসার প্রতীক? 'গ্রেট এক্সপেকটেশনস'-এর ছোট্ট পিপ একটি বড় শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে বলেছিল, 'আমার সাথে সবসময় এমন আচরণ করা হতো যেন আমি যুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতার পরোয়া না করে এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিষেধ সত্ত্বেও জোর করে জন্মেছি।' আমরা তরুণদের বাবা-মাকে সম্মান করতে বলি। কিন্তু একবারও ভেবে দেখি না যে, যেসব বাবা-মায়ের স্বার্থপরতা ও অবহেলার কারণে তাদের সন্তানেরা বংশগত নানা রোগে ভোগে, তারা আদৌ সম্মানের যোগ্য কি না।" ** পৃ. ২৩৫-২৩৬ * '''ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক মিলন:''' আমাদের নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতায় বেশ কয়েকবার প্রমাণিত নিচের কথাগুলো প্রকৃতির নিয়মের আরও ভয়ানক লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে: <br> "অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, মাসিক চলাকালীন সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করার দরকার নেই। কারণ তারা মনে করেন পরিচ্ছন্নতা এবং রুচিবোধের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই এই ক্ষুধা মেটানো থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই পৃথিবীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা খুব কমই জানেন। প্রায়ই স্বামীরা আমাকে জানান যে তারা কয়েক বছর ধরে তাদের স্ত্রীদের সাথে দিনে এক বা একাধিকবার যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকেননি। আর রুগ্ন শরীর ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী অগণিত নারী আমাকে এমন সব তথ্য দিয়েছেন যে আমি স্বামীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৩৭ * এই অনুচ্ছেদে আলোচনা করা সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ হলো আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপকর্মগুলো। মানুষ অজ্ঞতার কারণে বা সরাসরি ফলাফলের পরোয়া না করে নিয়মিত বাড়াবাড়ি করে। এরপর প্রজনন কাজের স্বাভাবিক ফল ঠেকাতে নানা ধরনের উপায় ব্যবহার করে একে নিষ্ফল করার চেষ্টা করে। এই স্পষ্টভাবে লেখা বইটিতেও এসব পদ্ধতির নাম উল্লেখ করা শালীনতার চরম লঙ্ঘন হবে। তবে এর নিখুঁত বর্ণনারও প্রয়োজন নেই, কারণ যাদের এই সতর্কবার্তা দরকার, তারা সবাই এসব কাজে ব্যবহৃত সব নোংরা জিনিসের সাথে খুব ভালোভাবেই পরিচিত। এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখকদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াই সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। নিচের অনুচ্ছেদগুলো প্রখ্যাত মেয়ারের লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার উদ্ধৃতি আগেও বেশ কয়েকবার দেওয়া হয়েছে: <br> "সহবাসের স্বাভাবিক পরিণতি ধ্বংস করতে লম্পটদের আবিষ্কার করা অগণিত ফন্দির একটাই উদ্দেশ্য থাকে।" ** পৃ. ২৫০ * '''দাম্পত্য জীবনে অনানিজম (অপব্যবহার):''' "যেসব লজ্জাজনক কৌশল নিয়ে আমরা কথা বলেছি, তার মাধ্যমে দাম্পত্য বিছানা অপবিত্র করার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আদিপুস্তকের (জেনেসিস) ৩৮ অধ্যায়ের ৬ এবং এর পরের আয়াতগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে: 'আর এমন হলো, যখন সে [অনান] তার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গেল, তখন সে তা মাটিতে ফেলে দিল, যেন সে তার ভাইকে বংশধর না দেয়। সে যা করেছিল তা প্রভুর চোখে খারাপ লেগেছিল; তাই তিনি তাকে মেরে ফেললেন।' <br> এখান থেকেই দাম্পত্য জীবনে অনানিজম নামটি এসেছে। <br> কেউ বলতে পারবে না এই বিকৃতি কতটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কেবল এর পরিণতি দেখলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এমন মানুষের মধ্যেও এটি দেখা যায়, যারা সামান্য পাপ করতেও ভয় পায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে। তবুও অনেক স্বামী জানেন যে, প্রকৃতি প্রায়শই সবচেয়ে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশকেও ব্যর্থ করে দেয় এবং যে অধিকারকে তারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করে। তাতে কী; তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায় এবং অভ্যাসের বশে তারা জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোতে বিষ ঢেলে দেয়, অথচ যে পরিণতি তারা এড়াতে চায়, তা এড়ানোর কোনো নিশ্চয়তাই থাকে না। তাই কে জানে, যে শিশুগুলো প্রায়শই দুর্বল এবং রুগ্ন হয়, তারা এই অপূর্ণ প্রজননের ফল কি না এবং প্রজনন ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কহীন অন্য কোনো চিন্তার কারণে তারা প্রভাবিত কি না? এটি মনে করা কি যৌক্তিক নয় যে, স্বাভাবিক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ব্যাহত হওয়ায় গর্ভধারণ শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে? আর এ থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীটি কি টেরাটোলজি বা বিকলাঙ্গতা বিষয়ক বইয়ে বর্ণিত কোনো দানব নয়?" ** পৃ. ২৫১ * "আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য রয়েছে যা নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে, অস্বাভাবিক যৌন মিলন নারীর ওপর কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে আমরা এগুলো প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয় মনে করি। সব চিকিৎসকই এগুলো কমবেশি দেখেছেন। আমাদের না বলা কথাগুলো পূরণ করতে তাদের কেবল স্মৃতি হাতড়ানোই যথেষ্ট। ডা. ফ্রান্সিস ডেভে বলেন, 'তবে এটি বোঝা কঠিন নয় যে, ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেও তা না মেটানোর মাধ্যমে এ ধরনের অনুশীলন নারীর প্রজননতন্ত্রে কতটা গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। পুরো প্রজননতন্ত্র জুড়ে এক গভীর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয় চরম উত্তেজনার অবস্থায় পৌঁছায়, এমন এক ঝড় যা স্বাভাবিক উপায়ে শান্ত হয় না। এক ধরনের স্নায়বিক অতি-উত্তেজনা থেকেই যায়। তখন এমন অবস্থা হয় যেন একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়ে তার ক্ষুধা চরমভাবে বাড়িয়ে তোলার পর মুখের কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জরায়ু এবং পুরো প্রজননতন্ত্রের সংবেদনশীলতা অযথাই উসকে দেওয়া হয়। বারবার এমন হওয়ার কারণেই মূলত নারীদের প্রজননতন্ত্রে অদ্ভুত সব স্নায়বিক রোগের উৎপত্তি ঘটে। এই বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস অনেকগুলো পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বিবাহিত দম্পতির স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যেও দুর্ভাগ্যজনক পরিবর্তন আসে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসা ধীরে ধীরে এমন একটি কাজের পুনরাবৃত্তিতে মুছে যায়, যা দাম্পত্য বিছানাকে কলুষিত করে। সেখান থেকে কিছু কঠিন অনুভূতির জন্ম নেয়, কিছু গভীর ছাপ পড়ে যা ধীরে ধীরে বেড়ে এমন সব কেলেঙ্কারিপূর্ণ বিচ্ছেদের জন্ম দেয়, যার আসল উদ্দেশ্য সমাজ খুব কমই জানতে পারে।" ** পৃ. ২৫২-২৫৩ * "যদি এই ঘৃণ্য প্রথাগুলোর অনুপ্রবেশের কারণে পরিবারগুলোর সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন চরম হুমকির মুখে পড়ে, তবে আমরা আগেই যেমন বলেছি, নারীদের স্বাস্থ্যেরও ভয়ানক ক্ষতি হয়। আমাদের মতে, অনেক স্নায়বিক ব্যথার এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে আমরা যেসব নারীকে প্রশ্ন করেছি, তাদের অনেকেই এই মতকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু যেটি আমাদের কাছে অবিসংবাদিত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তা হলো জরায়ুর সমস্যা, বিবাহিত নারীদের স্নায়বিক দুর্বলতা এবং দাম্পত্য জীবনে অবিবাহিত তরুণীদের মতো হিস্টিরিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া। স্বামীদের দাম্পত্য জীবনের বদভ্যাসই এর কারণ। তাছাড়া আরও একটি মারাত্মক রোগ প্রতিদিন বাড়ছে। এর বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এটি দ্রুত একটি মহামারির আকার নেবে। আমরা জরায়ুর ক্ষয়রোগের কথা বলছি। এই ভয়ংকর রোগের কারণগুলোর মধ্যে আমরা সভ্যতার নামে আসা নতুন নতুন অভ্যাস এবং বিশেষ করে আজকাল প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নানা কৌশলকে সবার ওপরে রাখতে দ্বিধা করি না। প্রজনন না হলেও প্রজনন ক্ষমতা উত্তেজিত হলে আমরা এসব ছদ্ম-রোগের উদ্ভব হতে দেখি। তাই পতিতাদের মধ্যে জরায়ুর পলিপ এবং স্কিরাস [ক্যানসার] সাধারণত বেশি দেখা যায়। আমরা যদি বিবেচনা করি যে কীভাবে শুক্রাণু নির্গমন এবং জরায়ুর মুখে এর স্পর্শ নারীর জন্য প্রজনন কাজের চরম তৃপ্তি হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক ও মানসিক আবেগকে শান্ত করে পুরো শরীরকে শিথিল করে দেয়, তবে এই রোগ সৃষ্টির পেছনের কারণ বোঝা সহজ হয়।" ** পৃ. ২৫৩-২৫৪ * নিচের লেখাটি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছ থেকে নেওয়া, যিনি বহু বছর ধরে নারীদের রোগের প্রতি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন এবং একটি নামকরা মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন: <br> "এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শারীরিকভাবে ক্ষতিকর। এগুলোর কিছু কিছু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ যৌন মিলনের কারণে উভয় পক্ষের যে ক্ষতি হয়, তা বুঝতে ইচ্ছুক যে কারও কাছেই এটি পরিষ্কার করা হয়েছে। ঠান্ডা পানিতে ধোওয়া, অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট আধান এবং নানা ধরনের ওষুধের মিশ্রণ মেশানো ধোওয়ার পানির সাধারণ ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকটি বুঝতে কারও খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ফুলে ওঠা এবং ঘা হয়ে যাওয়া কোনো অঙ্গে ঠান্ডা পানি যতই সহজ এবং আশ্চর্য রকম উপকারী হোক না কেন, খুব কম মানুষই বাত বা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হাঁটু বা এরিসিপেলাসে আক্রান্ত মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতে সাহস করবেন। <br> ... অথচ যৌন মিলনের সময় যখন স্নায়বিক ও শারীরিক উত্তেজনার পারদ চরমে থাকে এবং এই কাজে জড়িত অঙ্গগুলো রক্তে ভরে ওঠে, তখন কি আপনি মনে করেন যে কোনো ক্ষতি ছাড়াই আপনি শরীরের ভেতরে ক্রমাগত ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি ঢালতে পারবেন? প্রায়শই নারীরা শুক্রাণুর জীবাণুগুলোকে তাদের স্বাভাবিক কাজ শেষ করার আগেই গলিয়ে ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব শক্তিশালী অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হঠাৎ করে অঙ্গগুলোর গ্রন্থিযুক্ত গঠনকে সংকুচিত করে ও বন্ধ করে দেয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর শেষ পরিণতি হলো দুর্বলতা ও ক্লান্তি, যা লিউকোরিয়া, প্রোল্যাপস এবং অন্যান্য রোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৫৪-২৫৫ * "সবশেষে, পাতলা রাবার বা গোল্ডবিটার স্কিন দিয়ে তৈরি আবরণগুলোর কথা বলতে হয়, যা প্রায়শই পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কথিত আছে যে মাদাম দ্য স্ট্যাল এদের সম্পর্কে বলেছিলেন, 'এগুলো সুরক্ষার জন্য মাকড়সার জাল এবং ভালোবাসার বিরুদ্ধে প্রাচীর।' এসবের ব্যবহার নিশ্চিতভাবেই এমন এক লজ্জা ও বিরক্তির জন্ম দেয়, যা পবিত্র হৃদয় ও বিশুদ্ধ অনুভূতির সত্যিকারের আনন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এগুলো লম্পট ও পতিতালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলো মানুষের সত্যিকারের অনুভূতি এবং পবিত্র দাম্পত্য জীবনকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে আনে। তাছাড়া যে সুরক্ষার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়, খুব সীমিত পরিসর ছাড়া এরা সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। উপরন্তু, এগুলো বাইরের বস্তু হিসেবে বিরক্তি তৈরি করে শরীরে কিছু ক্ষত সৃষ্টি করে (যেমনটি সেরা আধুনিক ফরাসি লেখকরা দাবি করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এদের প্রভাব সম্পর্কে বেশি জানেন)। এগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং এগুলো ব্যবহারের সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবও প্রায়শই মারাত্মক আকার ধারণ করে। <br> "আমি এসব মাধ্যম নিয়ে আর বেশি কথা বলব না। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সাথে খেলা করা এবং প্রকৃতির পবিত্র অধিকারগুলোকে প্রতারণা ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা—ব্যবহৃত উপায়গুলো যত সহজই মনে হোক না কেন—যে কত বড় দায়িত্ব নেওয়া এবং কতটা ভয়ংকর ঝুঁকি, তা বোঝানোর জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট। জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা হোক বা রাস্তায় পড়ে থাকা বিশাল পাথর, কোনো ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ যা-ই হোক না কেন, তার পরিণতি একই এবং ক্ষতিও সমান। এসব শারীরিক প্রতারণার ফল হলো নৈতিক অবক্ষয়, শারীরিক অক্ষমতা, অকাল ক্লান্তি ও বার্ধক্য। এগুলো আমাদের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রতিদিনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, 'সততাই সেরা নীতি।'" ** পৃ. ২৫৫-২৫৬ * প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এসব পাপের প্রভাব অনেক সময় ঘটনার কয়েক বছর পরও বোঝা যায় না। এমনকি যখন বোঝা যায়, তখনও খুব কম ক্ষেত্রেই আসল কারণটিকে দোষ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি মানুষ বহু বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু একবারও সন্দেহ করেনি যে তাদের এই কষ্টের কারণ প্রকৃতির নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এভাবে তৈরি হওয়া জরায়ুর রোগগুলো এই শ্রেণির সবচেয়ে জেদি রোগ। এগুলো প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক মারাত্মক হয়। ফিলাডেলফিয়ার ডা. উইলিয়াম গুডেল সম্প্রতি এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, গর্ভধারণ রোধ করার চেষ্টা করা ডিম্বাশয়ের প্রোল্যাপসের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, যা খুবই পরিচিত এবং যন্ত্রণাদায়ক রোগ। কখনো কখনো সহানুভূতি থেকে বা আশপাশের অঙ্গগুলোতে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঙ্গ, বিশেষ করে মূত্রাশয় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। <br> আমরা প্রায়শই যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, যারা এসব চর্চা করেছে, তাদের বোঝানো যে এটি আত্মা ও শরীর উভয়ের বিরুদ্ধেই কত বড় পাপ। সব সতর্কতা এবং হয়তো ভোগান্তির পরও, প্রায়শই এই প্রথা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। খুব বেশি ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নিয়মের প্রতি এই অনীহা একজন স্বার্থপর স্বামীর অনুভূতিহীন ও অযৌক্তিক দাবির কারণে ঘটে থাকে। ** পৃ. ২৫৭-২৫৮ * নিজেদের দেওয়া শারীরিক কাঠামোর অখণ্ডতা নষ্ট করার কী নৈতিক অধিকার নারী বা পুরুষের আছে, যার জন্য তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য? অবশ্যই কোনো অধিকার নেই। কারণ যে মানুষ নিজেকে তিলে তিলে ধ্বংস করে, সে গলা কেটে বা মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা ব্যক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম খুনি নয়। অপরাধ একই—মানুষের জীবন ছোট করা—তা নিজের ক্ষতি করা হোক বা অন্যের। এই বিষয়ে অন্তত তিনজন ভুক্তভোগী থাকেন; স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তান। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভবত স্বামী একাই এই পাপের জন্য দায়ী। ** পৃ. ২৬০ * আগেই দেখানো হয়েছে যে, নারীদের ডিম্বাণু এবং পুরুষদের শুক্রাণু—এই দুটি উপাদানের প্রাথমিক রূপেই মানবদেহ তৈরির সব উপাদান থাকে। একা এর কোনোটিই নিজের বর্তমান অবস্থার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে না। তবে যেই মুহূর্তে এই দুটি উপাদান মিলিত হয়, তখনই নিষিক্তকরণ ঘটে এবং ব্যক্তিজীবনের শুরু হয়। সেই মুহূর্ত থেকে বছরখানেক পর পরিণত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শুধুই বিকাশের। পরের কোনো মুহূর্তেই একদম নতুন কিছু যোগ হয় না। এসব তথ্য বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, গর্ভধারণের ঠিক মুহূর্তটিতেই ভ্রূণাবস্থায় থাকা মানবশিশু জীবনের সম্পূর্ণ অধিকার লাভ করে। এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র মানবশিশু, যার আত্মা ও শরীর রয়েছে, যদিও তা অত্যন্ত অপরিপক্ব। প্রজনন কাজের সময় গর্ভধারণ হতে পারে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বা এরপর গর্ভধারণ রোধ করার জন্য কোনো উপায় ব্যবহার করা হলে এবং তা সফল হলে, তা এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া গর্ভধারণের সেই সূক্ষ্ম পরিণতিকে ধ্বংস করেই হয়। যা আগে বলা হয়েছে, এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব—নিশ্চিতভাবেই জন্মের আগের যেকোনো সময়ের মতো স্বাধীন। <br> মানুষের জীবন নেওয়া কি অনৈতিক? শিশু হত্যা কি পাপ? জন্মের সময় কোনো শিশুকে শ্বাসরোধ করে মারা কি অপরাধ? মায়ের গর্ভে থাকা অর্ধগঠিত কোনো মানবশিশুকে ধ্বংস করা কি খুনের পর্যায়ে পড়ে? কে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর 'না' দেওয়ার সাহস করবে? তাহলে প্রজনন কাজের সবচেয়ে সাম্প্রতিক পরিণতিকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যে সমানভাবেই একটি খুন, তা কে অস্বীকার করতে পারে? <br> অস্তিত্বের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সংঘটিত অসংখ্য খুনের হিসাব কে রাখতে পারে? কিছু মানুষের আত্মার ওপর থাকা এই অপরাধবোধের বোঝা কে পরিমাপ করতে পারে? আর কে জানে এভাবে কতগুলো উজ্জ্বল আলো শুরুতেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে? কত প্রতিশ্রুতিশীল মানব চারা গাছকে অঙ্কুরিত হওয়ার সময়ই নির্মমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? এটি কি আশা করা যায় যে, শেষ বিচারের দিন ন্যায়ের পাল্লায় অজ্ঞতার অজুহাত এই অগণিত খুনের অকাট্য প্রমাণের চেয়ে বেশি ভারী হবে? ** পৃ. ২৬২-২৬৩ * এটি দাবি করা হবে যে এই প্রাথমিক ধ্বংসগুলো খুন নয়। খুন একটি ভয়ানক শব্দ। কাজ হিসেবে এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এর ব্যক্তিগত দায়ভার সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যে মানুষ এই অভিযোগ থেকে পিছপা হবে না, সে মানুষের নামের অযোগ্য—বরং সে আস্ত একটি পশু। তবুও বাস্তবতাকে সরাসরি দেখা এবং একটি আলোকিত বিবেকের সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা না হওয়া প্রয়োজন। আমরা এমন একটি লেখার অংশ উদ্ধৃত করছি, যা আমরা অন্য জায়গায় পুরোটা দিয়েছি। এটি সেই একই বিশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া, যার উদ্ধৃতি আমরা আগেও দিয়েছি: <br> "বস্তুতপক্ষে, গর্ভধারণের পর এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন বলা যায় যে শিশুটির প্রাণ নেই। আর নড়াচড়া করার আগেই মানুষের জীবন ধ্বংস করা নড়াচড়ার পরের সময়ের মতোই জঘন্য ও নিশ্চিত অপরাধ। কিন্তু আপনি হয়তো আপনার ভয়ংকর কাজটির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলবেন: 'ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলছেন, যদি এটি কেবল প্রাণীজীবন হয়, যা বড়জোর সাধারণ জীবনীশক্তির সমান, তবে এখানে কোনো মন বা আত্মা ধ্বংস করা হচ্ছে না। তাই এতে কোনো অপরাধ নেই।' পৃথিবীতে থাকা সব ডিম ধ্বংস করে সব পাখিকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা যতটা নিশ্চিত, আপনার এই কাজের মাধ্যমে ডিম্বাণুর ভেতরে থাকা মানবশিশু ও তার ভেতরের আত্মাকে ধ্বংস করাও ততটাই নিশ্চিত। ... <br> খুন সব সময়ই পাপের। আর খুন হলো যেকোনো পর্যায়ে থাকা মানুষের ইচ্ছাকৃত ধ্বংসসাধন। তা প্রাথমিক ভ্রূণাবস্থা থেকে শুরু করে বয়সের ভারে নুব্জ ও সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্যহীন থাকা সাধারণ প্রাণীজীবন—যেকোনো অবস্থাতেই হতে পারে।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৬২-২৬৩ * '''অসুবিধা:''' বিবাহিতরা চিৎকার করে বলে উঠবেন, "আমরা কী করব?" দুর্বল মায়েদের যাদের কাঁধে আগে থেকেই অনেক সন্তানের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের শরীর আর গর্ভধারণের কষ্ট ও বোঝা বইতে সক্ষম নয়, অথচ তাদের কামুক স্বামীরা শারীরিক মিলনের দাবি করেই চলেছেন—তারা এই সত্য মেনে নিয়েই হতাশার সুরে প্রশ্ন করবেন, "আমরা কী করব?" আমরা প্রথমে পরের দলটির প্রশ্নের উত্তর দেব। বিখ্যাত ইংরেজ যুক্তিবিদ মিস্টার মিল, তার "দ্য সাবজেকশন অব উইমেন" বইয়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণাটি এভাবেই তুলে ধরেছেন: "স্ত্রীকে যতই নিষ্ঠুর এক স্বৈরাচারীর সাথে বেঁধে রাখা হোক না কেন—এমনকি সে যদি জানে যে তার স্বামী তাকে ঘৃণা করে, তাকে নির্যাতন করাই যদি স্বামীর নিত্যদিনের আনন্দ হয় এবং তাকে ঘৃণা না করাটা যদি তার কাছে অসম্ভব মনে হয়—তবুও স্বামী জোর করে তার ওপর এমন পাশবিক কাজ চালাতে পারে, যা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, আর এই কাজ একজন মানুষকে সবচেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দেয়।" ** পৃ. ২৬৩-২৬৪ * '''নারীর অধিকার:''' বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী তার সব ব্যক্তিগত অধিকার বিসর্জন দেয় না। স্বামী স্ত্রীকে মারধর করলে বা কোনোভাবে শারীরিক আঘাত করলে বা এমনকি অবহেলা করলেও আইন তা স্বীকার করে। তাহলে অন্য কোনো নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার সে কেন পাবে না? বা অন্তত পাশবিক লালসার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে সে কেন অস্বীকার করতে পারবে না? বিয়ের পরও সে তার নিজের শরীরের মালিক থাকে। ন্যায়বিচার, সাম্য এবং এমনকি নৈতিকতার জ্ঞান হারিয়ে কে এমন দাবি করতে পারে যে, তার নিজের শরীরের ওপর জোর খাটানোর অনুমতি দেওয়ার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা তার আছে? ** পৃ. ২৬৪ * '''কী করতে হবে:''' এবার প্রথম দলের প্রশ্নের উত্তরে আসি। বিবাহিত দম্পতিরা মিলে গর্ভধারণ রোধের সব উপায় ছেড়ে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। এর আসল ও স্বাভাবিক সমাধান সম্ভবত 'ইন্দ্রিয়দমন' এবং 'দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি' শিরোনামের নিচে দেওয়া পরামর্শগুলোতে পাওয়া যাবে। সেখানে বলা নীতিগুলো মেনে জীবনযাপন করলে এসব এবং এর মতো আরও হাজারো সমস্যা এড়ানো যাবে। এতে শারীরিক আনন্দ কম থাকলেও আধ্যাত্মিক আনন্দ অনেক বেশি থাকবে। পাশবিক ভালোবাসা কম হলেও আধ্যাত্মিক মিলন বেশি হবে। স্থূলতা কমবে, পবিত্রতা বাড়বে। পাশবিক বিকাশ কম হবে এবং সদ্গুণ, পবিত্রতা ও সমস্ত খ্রিষ্টীয় গুণাবলি চর্চার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। <br> "তবে মৃত্যুর আগে এমন জীবনযাপন অসম্ভব।" যারা পরীক্ষা করে দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এমনটা ভাবেন। শেকার সম্প্রদায় এমন নীতিগুলো শুধু শেখায় না, বরং নিজেরাও চর্চা করে বলে দাবি করে। আগে বলা ইন্দ্রিয়দমনের জোরালো সহায়ক উপায়গুলোর মাধ্যমে এটিকে যতটা কঠিন ভাবা হয়, বাস্তবে তা ততটা কঠিন না-ও হতে পারে। ** পৃ. ২৬৫ * '''আপস:''' অনেকে, হয়তো বেশিরভাগ মানুষই, প্রকৃতির এই শিক্ষা মেনে নিতে পারবে না যে শারীরিক মিলনকে কেবল প্রজননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যরা সত্যকে মেনে নিয়ে বলবেন যে "আত্মা ইচ্ছুক" হলেও "শরীর দুর্বল"। তারা জিজ্ঞেস করবেন, "বর্তমান জীবনযাপনের এই মারাত্মক ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচার জন্য কি কোনো আপস করা যায় না?" তারা হয়তো নিচের তথ্যগুলোতে একটি ভালো উপায় বা অন্তত সেরা উপায়ের ধারণা খুঁজে পেতে পারেন। যদিও একে পুরোপুরি বিপদমুক্ত বা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায় বলা যায় না: <br> "নারীদের ঋতুস্রাব গর্ভধারণের উপযুক্ততার প্রমাণ দেয়। স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর ছয় থেকে আট দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকে। কেবল এই সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করতে পারে। ঋতুস্রাব শুরুর পর থেকে বারো দিন পার হতে দিন, এরপর গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এই সময় ইন্দ্রিয়দমন স্বাস্থ্যকর, নৈতিক এবং দোষমুক্ত।" <br> ওপরের কথার সাথে এটি যোগ করা উচিত যে, প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি গর্ভধারণ থেকে বাঁচার কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। ইন্দ্রিয়দমনের এই সময় ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত চৌদ্দ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়া উচিত। যুক্তিসংগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্রাব শুরুর তিন বা চার দিন আগে থেকে আরও সংযম পালন করা দরকার। <br> অনেক লেখক আরেকটি পরামর্শ দেন যা নিশ্চিতভাবেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত আলাদা বিছানায় ঘুমানো। এমন অভ্যাস নিঃসন্দেহে যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। আলাদা ঘর, বা অন্তত পর্দা দিয়ে বিছানা আলাদা করার পরামর্শ কিছু সম্মানিত চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, এমন পদ্ধতি উভয় পক্ষকেই সঠিকভাবে সকালে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ দেবে এবং সেই স্বাভাবিক লজ্জাবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করবে যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ ঠেকাতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে কাজ করে। অনেকেই পরামর্শটি ভালো মনে করবেন এবং বাস্তব জীবনে কাজে লাগাবেন। সিঙ্গল বিছানায় ঘুমানোর প্রথাটি ইউরোপের উচ্চবিত্তদের মাঝে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বলে শোনা যায়। ** পৃ. ২৬৭ * "যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিষ্কার উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি। ... বৈধ কারণ ছাড়া এই কামনা বা অন্য কোনো আবেগের তৃপ্তি ঘটানো নিঃসন্দেহে প্রকৃতির নিয়মের লঙ্ঘন। প্রকৃতির নিয়ম বিবেচনা করে এবং এর ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও শারীরিক ক্ষতি থেকে এটি বোঝা যায়।" <br> "যেসব প্রাণীর ভুল করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিখুঁত প্রবৃত্তি রয়েছে এবং যাদের ভালো-মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নেই, তারা কেবল নির্দিষ্ট সময়েই মিলিত হয়, যখন আনন্দ এবং বংশবৃদ্ধি দুটোই সম্ভব। তাদের জন্য এভাবেই ঠিক করা হয়েছে যে উদ্দেশ্য ও উপায় কখনোই আলাদা হবে না। যেহেতু সর্বজ্ঞানী ঈশ্বর তাদের এই প্রবৃত্তি দিয়েছেন এবং অন্য কোনোভাবে কাজ করার ক্ষমতা না দেওয়ায় তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাই এটি পরিষ্কার যে এটি 'তাঁর আইন'। একই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং একই উদ্দেশ্যের অধিকারী সবার জন্যই এই আইন মেনে চলা উচিত। কেবল মানুষ এই আইন মানবে কি মানবে না সেই স্বাধীনতা পেয়েছে বলেই, এর মানে এই নয় যে তারা সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বা অবাধ্যতার ফল ভোগ করার হাত থেকে বেঁচে যাবে।" <br> "যেহেতু যৌন আনন্দের উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি, তাই ওপরের আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে যৌন ক্রিয়াকে এর আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ বংশবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, বা যদি বংশবৃদ্ধি অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও উপায়টি ব্যবহার করা হয়, তবে ক্ষতি অবধারিত।" <br> "দাম্পত্য জীবনে লাগামহীন যৌন মিলনে দোষের কিছু নেই—এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব কম নয়। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে অবাধ স্বাধীনতার মতো মনে করা হয়, যেখানে কোনো বাধা থাকার দরকার নেই বলে ধরা হয়। তবুও যখন উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব কেবল তখনই আনন্দ নেওয়া যাবে—এই নিয়মে যদি সামান্যতম সত্যতাও থাকে, তবে অন্যান্য যেকোনো শারীরিক আনন্দের মতো দাম্পত্য জীবনেও এই আনন্দ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। <br> "সবচেয়ে সভ্য সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আইনে নিষেধ নেই এমন কিছু পাপ বা ভুল হতে পারে না। গর্ভকালীন সময়ে সহবাসের ওপর তারা কোনো নিষেধ দেখেনি। এমন অভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য ও দৈহিক বিকাশের যে ক্ষতি হয়, সেদিকেও তাদের নজর যায়নি। ফলে সারা জীবন ধরে এই বিষয়ে তাদের আচরণ নির্ধারিত হয়েছে কেবল নিজেদের ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে। <br> "বিবাহিত জীবনে এই নিয়ম ভাঙলে স্বামীর কোনো বড় শারীরিক ক্ষতি হয় না। দুর্বলতা, ব্যথা, পেশিতে টান ধরা এবং মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি কখনো কখনো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফল হিসেবে দেখা যায়। তবে একটি বড় ক্ষতি হলো অবাধ স্বাধীনতার কারণে ধীরে ধীরে যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাওয়া। এভাবেই সাধারণ অর্থে যারা সম্পূর্ণ ধার্মিক, এবং যারা অবাধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে—উভয় পক্ষের মধ্যেই কামুক রক্ত লালন করা হয়। <br> "বিবাহিতদের মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্ত্রী এবং সন্তান। প্রাণিজগতের বিষয়টি বিবেচনা করলে এর আংশিক কারণ বোঝা যায়। প্রাণিজগতে কখন পুরুষ প্রাণীটি কাছে আসবে তা স্ত্রী প্রাণীটি ঠিক করে। অসময়ে পুরুষটি এগোলে স্ত্রী প্রাণীটির সহজাত প্রবৃত্তি তাকে চরম আক্রোশে রুখে দাঁড়াতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য করে। প্রকৃতি তার প্রতিটি কাজেই যে বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তা যারা সামান্যও জানেন, তারা সন্দেহ করবেন না যে গর্ভাবস্থায় সব প্রাণীর যৌন মিলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই কোনো ভালো ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আর যদি এটি তাদের জন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য পূরণ করে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে বিপরীতটা কেন খারাপ উদ্দেশ্য পূরণ করবে না? আমাদের শারীরিক গঠন ও কাজ অনেকটাই তাদের মতো। আর প্রজনন পদ্ধতি ও নিয়মের ক্ষেত্রে তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। ওই সময়ে তাদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ক্ষমতা আমাদের আছে বলেই সেটি সঠিক হয়ে যায় না। "মানুষের ঠিক-ভুল বোঝার কোনো সহজাত প্রবৃত্তি না থাকায়, অন্যান্য অনেক কাজের মতো সহবাসের বিষয়টিও যুক্তি বা ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বা বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিকতার ওপর। কারণ এই বিষয়ে কী সঠিক এবং কী গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে যুক্তির পরামর্শ নেওয়া হয় না বা তাকে আলোকিত করা হয় না। প্রকৃতির নিয়মে, প্রবৃত্তিগতভাবেই কখন পুরুষের আগমন গ্রহণযোগ্য হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায়। <br> "কিন্তু কেউ কেউ বলতে পারেন যে এই বিষয়ে সে অসহায়। বিয়ের আগে কেউ তার অনুমতি ছাড়া কাছে আসার সাহস করে না; তাহলে বিয়ের পরও এই সম্মানের জায়গাটি তৈরি করার জন্য পুরুষদের কেন শিক্ষিত করা হবে না? স্ত্রী তার দাসীও নয়, সম্পত্তিও নয়; অথবা বিয়ের বন্ধন তাকে কোনো অস্বাভাবিক দাবি পূরণে বাধ্য করে না।" ** "দ্য টেন লজ অব হেলথ", উদ্ধৃতি পৃ. ২৬৭-২৭১ * '''আধুনিক কোনো অপরাধ নয়'''—যদিও আধুনিক যুগে এই অপরাধ বিশাল আকার ধারণ করেছে, তবুও এটি কোনোভাবেই নতুন কোনো অপরাধ নয়, তা নিচের অনুচ্ছেদ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে:— <br> "রোমান, মেডেস, কেনানাইট, ব্যাবিলনীয় এবং অন্যান্য প্রাচ্যের দেশগুলোতেও শিশুহত্যা এবং তাদের ফেলে আসা একটি প্রথা ছিল। কেবল ইসরায়েলি এবং মিসরীয়রা এর ব্যতিক্রম ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা নিছক খেয়ালের বশে তাদের সন্তানদের হত্যা করত। নরওয়েজিয়ানরা তাদের সন্তানদের যত্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে মুখে একটু খাবার দিয়ে গাছের শিকড় বা পাথরের নিচে রেখে আসত, যাতে বন্য পশুরা তাদের খেয়ে না ফেলে। চীনাদের মধ্যেও শিশুহত্যার অনুমতি ছিল। গত শতাব্দীতেও আমরা দেখেছি পেকিনের রাস্তায় প্রতিদিন মৃত শিশুদের লাশ কুড়ানোর জন্য গাড়ি ঘুরত। আজ বাবা-মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেখানে এতিমখানা রয়েছে। জাপানে, দক্ষিণ মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে, ওতাহেইটে এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বন্য জাতির মধ্যেও একই প্রথা দেখা যায়। গিনির জ্যাগাররা নিজেদের সন্তানদের খেয়ে ফেলে বলে শোনা যায়।" <br> গ্রিকরা পরিকল্পিতভাবে শিশুহত্যা করত। একসময় তাদের আইনে পঙ্গু বা দুর্বল শিশুদের মেরে ফেলার নির্দেশ ছিল। বিভিন্ন জাতির মধ্যে এই অপরাধের মূল উদ্দেশ্য মনে হতো সন্তান লালন-পালনের ঝামেলা এড়ানো বা অতিরিক্ত জনসংখ্যা কমানো। যারা বর্তমানে এই অপরাধগুলো করে, তাদের উদ্দেশ্যের চেয়ে এটি খুব একটা আলাদা নয়। <br> মায়ের পেটে শিশুটি নড়াচড়া করার পর তাকে ধ্বংস করাকে ইনফ্যান্টিসাইড বা শিশুহত্যা বলা হয়; আর এর আগের সময়ের ঘটনাটিকে সাধারণত অ্যাবরশন বা গর্ভপাত বলা হয়। শিশুটি নড়াচড়া করার আগে তার কোনো আত্মা বা ব্যক্তিগত জীবন থাকে না—এটি একটি আধুনিক ধারণা। এই ভুল ধারণাটি আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি। প্রাচীনকালের মানুষেরা সমান যুক্তি দিয়েই দাবি করত যে জন্মের আগে শিশুর কোনো আলাদা জীবন থাকে না। এ কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা নির্দ্বিধায় শিশুহত্যা করত। "প্লেটো এবং অ্যারিস্টোটল এই প্রথার সমর্থক ছিলেন। এই স্টোইক দার্শনিকরা এই ভয়ংকর প্রথার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলতেন যে, জরায়ুর জীবন শেষ করে শিশুটি যখন শ্বাস নিতে শুরু করে, কেবল তখনই সে আত্মা লাভ করে। এর ফলে তাদের যুক্তি দাঁড়ায়, শিশুটির যেহেতু জীবন নেই, তাই তাকে ধ্বংস করা কোনো খুন নয়।" ** পৃ. ২৭২-২৭৪ * '''অপরাধের কারণ:''' পাপের ফল লুকানো, মাতৃত্বের বোঝা এড়ানো, আরাম ও ভ্রমণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি কারণে বা মাতৃত্ব একটি অশালীন ব্যাপার—এমন ভুল ধারণা থেকে একজন মা তার অসহায় সন্তানকে নির্মমভাবে ধ্বংস করতে পারেন। তবে এটি নিঃসন্দেহে সত্য যে, এই পাপের প্রধান কারণ এসবের অনেক গভীরে লুকিয়ে আছে। গর্ভের সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়া মায়ের অপরাধের বর্ণনায় সবচেয়ে কঠোর ও তীব্র ভাষা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি ওই নারীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দুর্ভাগ্যজনক শিশুটির জন্ম দিয়েছে, তার সম্পর্কে খুব কমই কথা বলা হয়। চিকিৎসক, ধর্মযাজক এবং নীতিবিদরা এ বিষয়ে অনেক কথা বললেও এবং অনেক কিছু লিখলেও, এটি মনে করা যৌক্তিক যে তারা সংস্কারের পথে খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না। যতক্ষণ না তারা এসব দুঃখজনক ঘটনায় পুরুষের ভূমিকা স্বীকার করছেন এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সংস্কারের দাবি তুলছেন, ততক্ষণ এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। "গর্ভধারণ রোধ" বিষয়ের আলোচনায় আগেই বলা হয়েছে, এই অপকর্মের শুরু হয় "দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি" থেকে। নারী তার নিজের শরীরের একমাত্র মালিক এবং প্রস্তুত না থাকলে প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন না করেই পুরুষের আগমন প্রত্যাখ্যান করার অধিকার তার রয়েছে। এই প্রাকৃতিক নিয়মকে উপেক্ষা করার ফলেই এমনটি ঘটে। ** পৃ. ২৮০ * '''অপরাধের হাতিয়ার:''' "নানা উপায়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়। কখনো কখনো নৈতিক বলে দাবি করা সংবাদপত্রগুলোতে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত শক্তিশালী ওষুধের মাধ্যমে এটি করা হয়! বিজ্ঞাপনগুলো এত সুকৌশলে লেখা থাকে যে, সতর্কতার মোড়কে ওষুধটির গর্ভপাত ঘটানোর ক্ষমতার কথা ঠিকই জানিয়ে দেওয়া হয়। কখনো গোপন প্রচারপত্রের মাধ্যমে এই তথ্য ছড়ানো হয়। তবে সাধারণত পেশাদার গর্ভপাতকারীরাই এই কাজ বেশি করে থাকে। তারা ইশারায় নিজেদের বিজ্ঞাপন দেয়, অথবা বারবার এই কাজ করে পরিচিতি লাভ করে। বেশ কিছু নারী সংকোচ বা লজ্জার কারণে নিজেরাই নিজেদের গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে। এরপর তারা অন্যদেরও একই কাজ করতে স্বেচ্ছায় শেখায় এবং উৎসাহিত করে।" ** পৃ. ২৮০ * '''এই অস্বাভাবিক অপরাধের ফল:''' চিকিৎসকদের সর্বজনীন মত হলো, গর্ভপাতের প্রভাব শিশুর পাশাপাশি মায়ের জন্যও প্রায় সমানভাবে মারাত্মক। এতে কষ্টের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। শিশুর কষ্ট (যদি আদৌ থাকে) সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, নিজের প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এই ভয়ংকর নির্যাতনের ধাক্কা সামলে উঠলেও মাকে সারা জীবন কষ্ট বা দুর্দশার মধ্যে কাটাতে হয়। পরিসংখ্যানে প্রমাণিত হয়েছে, এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি "স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে পনেরো গুণ বেশি।" একজন বিশিষ্ট চিকিৎসা-লেখক দাবি করেছেন, কুড়িবার স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে একবার গর্ভপাত করালে একজন নারী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে ডা. গার্নার বলেন:- <br> "আমরা জানি একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বড় পরিবার পালনের পরিশ্রমে নারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আমরা এই কথার সাথে কিছুটা একমত হতে পারি। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি আরও বেশি লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বংশবৃদ্ধি এড়াতে যেসব চেষ্টা করা হয়, তা স্বাস্থ্য ও শরীরের জন্য দশ হাজার গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। মন ও হৃদয়ের অবক্ষয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, যা লাল গাল বা শারীরিক শক্তি দিয়ে মাপা যায় না।" ** পৃ. ২৮০-২৮১ * '''অবাঞ্ছিত শিশু:''' কিন্তু ধরুন, মা তার সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় সফল হলেন না; এমনটা হতেই পারে। তখন কী ভয়ংকর ফল হতে পারে! মায়ের এই খুনে মানসিকতা যে ওই অবাঞ্ছিত শিশুর চরিত্রে স্থায়ীভাবে দাগ কেটে যাবে এবং তাকে খুনখারাপির দিকে স্বভাবতই ধাবিত করবে, তা কে সন্দেহ করতে পারে? <br> আবার একটি জঘন্য চিন্তার কথা ধরুন। শিশুটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো, যার ফলে তার কোমল শরীরটি ভয়ংকরভাবে বিকৃত হয়ে গেল। এমন একটি শিশু যখন জন্ম নেবে, তখন তার ওপর চালানো নিষ্ঠুর নির্যাতনের কী ভয়ংকর প্রমাণই না তার ওই পঙ্গু ও বিকৃত শরীরে ফুটে উঠবে! ** পৃ. ২৮১ * '''প্রতিকার:''' এই বিশাল অপকর্ম কখনো নির্মূল করা যাবে কি না, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর প্রতিকার করতে হলে পাশবিক কামুকদের ভদ্র খ্রিষ্টান বানাতে হবে। ফ্যাশনের প্রলুব্ধকর দাসত্ব থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে। জীবন ও এর দায়িত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা উপড়ে ফেলতে হবে। এককথায়, সমাজে বিপ্লব আনতে হবে। এই অপরাধ গোপনে করা হয়। অনেক সময় অপরাধী নিজে ছাড়া আর কেউই এই অপকর্মের কথা জানতে পারে না। খুব কম ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা এমনভাবে সামনে আসে যা আবছাভাবে বোঝা যায়। তাই যেকোনো বেসামরিক আইনের অকার্যকারিতাই এখানে স্পষ্ট। তবে এই সমস্যাটি ভয়াবহ এবং দিন দিন বাড়ছে। এই অপরাধের স্রোত থামাতে এবং ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কি কোনো চেষ্টাই করা হবে না? অন্তত একটি চেষ্টা তো করা উচিত। প্রতিটি খ্রিষ্টান তাদের মিম্বর থেকে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিক। সত্যকে এত পরিষ্কার ভাষায় বলা হোক যেন ভুল বোঝার কোনো অবকাশ না থাকে। যারা এই অত্যন্ত জঘন্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত, তাদের খুনি হিসেবেই দেখা হোক, কারণ তারা আসলেই তা-ই। তাদের আসল নৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক। ** পৃ. ২৮২-২৮৩ * '''প্রতিনিধির মাধ্যমে খুন:''' "বর্তমানে একধরনের শিশুহত্যা রয়েছে, যা খুব একটা পরিচিত না হলেও আরও বেশি বিপজ্জনক। কারণ এটি কোনো শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যায়। এমন অনেক বাবা-মা আছেন, যারা নিজেদের সন্তান ধ্বংস করার কথা ভাবলে ভয়ে শিউরে ওঠেন, অথচ তারা এদের হাত থেকে মুক্তি পেতেও খুব আগ্রহী থাকেন। এরপর তারা কোনো অনুশোচনা ছাড়াই এদের এমন সব আয়ার হাতে তুলে দেন, যাদের কাছে বাচ্চা রেখে গেলে তারা কখনো বাচ্চা ফেরত দেয় না বলে কুখ্যাতি রয়েছে। এই হতভাগ্য ছোট ছোট প্রাণীগুলো অনাহার ও খারাপ আচরণের শিকার হয়ে মরতে বাধ্য হয়। <br> "এই নিরপরাধ ভুক্তভোগীদের সংখ্যা কল্পনার চেয়েও বেশি। সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে আদালতে পাঠানো চিহ্নিত শিশুহত্যার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই এদের সংখ্যা বেশি।" ** পৃ. ২৮৩ * '''সামাজিক ব্যাধি''' <br> ইতিহাসের শুরু থেকেই অবৈধ যৌন মিলন মানবতার গায়ে এক কলঙ্ক হয়ে আছে। বর্তমানে এটি এমন এক জঘন্য আলসারের মতো সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুকে কুরে কুরে খাচ্ছে, যেন এক মারাত্মক কুষ্ঠরোগ, যা আধুনিক সংস্কৃতির সবচেয়ে সুন্দর অর্জনগুলোর মাঝেও তার কুৎসিত বিকৃতি প্রকাশ করছে। আমাদের বড় শহরগুলো পাপের আস্তানায় ভরপুর। এসব জায়গার নিয়মিত বাসিন্দারা নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং পথচারীদের সামনে নিজেদের কুখ্যাতি জাহির করে। ইউরোপের অনেক বড় শহরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব পাপের আস্তানাকে আইনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেখানে পতিতালয়ের মালিকদের লাইসেন্স ফি দিতে হয়। অন্য কথায়, তাদের সহমানুষদের "নরকের তলদেশে" নিয়ে যাওয়ার অধিকার কিনে নিতে হয়। <br> বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর, এমনকি মহানগর থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে-কানাচেও পাপের আস্তানা দেখা যায়। প্রতিটি সেনাবাহিনীর সাথেই থাকে পতিতাদের দল। পুরুষরা যেখানেই যায়, এই নারীরাও তাদের পিছু পিছু যায়। এমনকি সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে দুর্গম খনি শ্রমিকদের ক্যাম্পেও এরা পৌঁছে যায়। <br> কিন্তু শুধু পতিতালয় আর ভ্রাম্যমাণ পতিতাদের দিয়ে এই বিশাল ও ভয়ংকর অপকর্মের পুরোটা বোঝানো সম্ভব নয়। <br> অনৈতিক নারীদের একটি শ্রেণি রয়েছে, যারা নিজেদের সম্মানজনক বলে মনে করে। এদের সংখ্যা সম্ভবত আগে উল্লেখ করা সাধারণ পতিতাদের চেয়েও বেশি। খুব কম মানুষই এদের আসল রূপ জানে। এরা খুব জাঁকজমকের সাথে জীবন কাটায় এবং ভদ্র সমাজে মেলামেশা করে। আড়ালে এরা টাকার লোভে বা কেবল নিজেদের কামুকতা মেটাতে সীমাহীন উচ্ছৃঙ্খলতায় লিপ্ত হয়। সাধারণ পতিতাদের চেয়ে "রক্ষিতা" হিসেবে রাখা নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। ** পৃ. ২৮৪-২৮৫ * '''প্রাচীনকালের অপবিত্রতা:''' আমরা প্রায়ই মনে করি, বর্তমান যুগই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্ছৃঙ্খল যুগ। উনবিংশ শতাব্দীতে পাপ তার চরম সীমায় পৌঁছেছে। সব যুগের কামুক রক্ত একত্রিত হয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কামুক এক মানবজাতির জন্ম দিয়েছে। আগের কোনো যুগ বর্তমানের চেয়েও বেশি জঘন্য হতে পারে—এমনটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও এমন সময় ছিল যখন কামুকতা এখনকার চেয়েও বেশি লাগামহীন ছিল। তখন পাপ ছিল সর্বজনীন এবং পবিত্রতা বলতে কিছু ছিল না। ইতিহাসের কিছু তথ্যের দিকে তাকালেই এটি প্রমাণ হবে। বর্তমানের অনৈতিকতাকে জায়েজ করতে আমরা এসব ঘটনার উল্লেখ করছি না। বরং জাতিগুলোর পতনে পাপ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে, তা দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য। <br> পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা বুঝতে পারি, বন্যার আগে পৃথিবীতে এমন এক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা এর পরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ছিল। ওই কামুক প্রজন্ম ও তাদের নোংরা কাজগুলোকে চিরতরে মুছে ফেলা সেই বিপর্যয় থেকে বাঁচার যোগ্য ছিল মাত্র আটজন মানুষ। <br> কিন্তু মানুষ দ্রুতই আবার পাপে জড়িয়ে পড়ে। আমরা দেখতে পাই, শুরুর দিকের অ্যাসিরীয়রা পবিত্রতাকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করত। সেখানকার রাজারা চরম কামুকতায় মেতে থাকত। <br> টলেমিদের উচ্ছৃঙ্খলতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো পাপ হতে পারে না। তারা আলেকজান্দ্রিয়াকে একটি পতিতালয়ে এবং পুরো মিসরকে পাপের আস্তানায় পরিণত করেছিল। হেরোডোটাস বলেছেন, "চিওপসের পিরামিড তৈরি করেছিল ওই রাজার মেয়ের প্রেমিকেরা। আর অসংখ্যবার নিজেকে বিলিয়ে না দিলে সে কখনোই এই স্মৃতিস্তম্ভটি এত উঁচু করতে পারত না।" ইতিহাস ওই রানি ক্লিওপেট্রার রোমাঞ্চকর অভিযানের কথাও বলে, যে তার রূপ দিয়ে বিশ্বের দুই প্রভুকে মুগ্ধ ও প্রলুব্ধ করেছিল এবং যার কামুকতা তার সৌন্দর্যকেও হার মানিয়েছিল। <br> টায়ার ও সিডন, মিডিয়া, ফিনিশিয়া, সিরিয়া এবং পুরো প্রাচ্য যৌনতায় ডুবে ছিল। ব্যভিচার তাদের উপাসনার অংশে পরিণত হয়েছিল। নারীরা শহরের রাস্তাগুলোতে সবচেয়ে অশ্লীল ও জঘন্য দৃশ্য প্রদর্শন করে বেড়াত। এসব জাতির মধ্যে একজনও পবিত্র নারী পাওয়া যেত না। কারণ হেরোডোটাসের মতে, দেশের আইন অনুযায়ী যুবতীরা "তাদের জীবনে একবার ভেনাসের মন্দিরে অপরিচিতদের কামনার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য ছিল এবং কাউকে ফেরানোর অনুমতি তাদের ছিল না।" <br> সেন্ট অগাস্টিন বলেছেন, তার সময়েও ফিনিশিয়ায় এসব ধর্মীয় উচ্ছৃঙ্খলতা চলত। এমনকি চতুর্থ শতাব্দীতে কনস্ট্যান্টাইন যেসব মন্দিরে এসব হতো তা ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত এগুলো চলতে থাকে। <br> গ্রিকদের মধ্যে ব্যাকাস এবং ফ্যালাসের উপাসনায় একই ধরনের দুর্নীতি প্রচলিত ছিল। অর্ধেক নগ্ন মেয়েরা "স্যাটায়ারের ছদ্মবেশে থাকা পুরুষদের সাথে কামুক নাচ নেচে" এটি উদ্‌যাপন করত। বস্তুতপক্ষে, এক্স. বুর্জোয়া যেমনটি বলেছেন, "গ্রিসে পতিতাবৃত্তি সম্মানজনক ছিল।" সবচেয়ে বিশিষ্ট নারীরা ছিল পতিতা। আর জ্ঞানী সক্রেটিসকে আধুনিক যুগে অনায়াসেই একজন লম্পট বলা যেত। <br> রোমান সম্রাটদের আমলে কামনার কাছে আত্মসমর্পণের বিষয়টি আরও সম্পূর্ণ ছিল। রোম "তার বিজয়ের জাঁকজমক দিয়ে বিশ্বকে অবাক করার পর, নিজ চরম নির্লজ্জতা দিয়েও বিশ্বকে অবাক করেছিল।" <br> মহান সিজার এতটাই লম্পট ছিলেন যে তাকে "সব নারীর স্বামী উপাধি পাওয়ার যোগ্য" বলা হতো। অ্যান্টনি এবং অগাস্টাসও একইভাবে কুখ্যাত ছিলেন। রাজদরবারের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই কামুকতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওভিড, ক্যাটুলাস এবং ওই সময়ের অন্যান্য কবিদের লেখা কামুক কবিতাগুলো একে আরও উসকে দিত। <br> টাইবেরিয়াস নির্লজ্জতার নতুন নতুন রূপ আবিষ্কারে এমন বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছিলেন যে, সেগুলোর নামকরণের জন্য নতুন শব্দ তৈরি করতে হয়েছিল। ক্যালিগুলা সবার সামনেই নিজের সব বোনের সাথে ব্যভিচারের ভয়ংকর অপরাধ করতেন। তার প্রাসাদ ছিল একটি পতিতালয়। রোমান সম্রাজ্ঞী মেসালিনা একজন পতিতার ছদ্মবেশ নিতেন এবং তার জঘন্য উচ্ছৃঙ্খলতায় সবচেয়ে পতিত নারীদেরও ছাড়িয়ে যেতেন। রোমান সম্রাট ভিটেলিয়াস পেটপুরে খাওয়ার পর বমি করার ওষুধ খেতেন, যাতে তিনি আবার তার পেটুকপনা শুরু করতে পারেন। আরও চরম কামুকতার বশবর্তী হয়ে তিনি নানা ধরনের উত্তেজক ওষুধ ও মিশ্রণ খেয়ে নিজের মেটানো কামনাসনাকে আবার জাগিয়ে তুলতেন। <br> সবচেয়ে কুখ্যাত সম্রাট নিরো বন্য পশুর ছদ্মবেশে রোমের পাবলিক থিয়েটারের মঞ্চে ধর্ষণ করতেন। <br> এই জঘন্য কামুকতা যদি শুধু রাজপরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে হয়তো প্রাচীনকালের মানুষের পবিত্রতার প্রতি কিছুটা সম্মান ধরে রাখা যেত। কিন্তু এই জঘন্য সংক্রমণ এত ছোট গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। এটি পুরো সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, যতক্ষণ না পচনের কারণে সেগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। এমন একটি জাতির অবস্থা কেমন হতে পারে, যারা নিজেদের সম্রাটকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় মহানগরীর রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে, আর তাকে টেনে নিয়ে যায় তারই মতো নগ্ন নারীরা? হেলিওগ্যাবালাস রোমে ঠিক এমন কাজই করেছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিসের মতোই ফ্রান্সেও পবিত্রতা প্রায় বিরল ছিল। <br> অভিজাতরা তাদের এলাকার সব যুবতীকে রক্ষিতা হিসেবে রাখত। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজন ছিল জারজ সন্তান। বিপ্লবের ঠিক আগে, পবিত্রতা এতটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল যে, একজন নারীকে সৎ থাকার জন্য রীতিমতো ক্ষমা চাইতে হতো! <br> এসব জঘন্য ঘটনার মধ্যেই আমরা জাতিগুলোর পতনের সবচেয়ে শক্তিশালী কারণগুলোর একটি খুঁজে পাই। উচ্ছৃঙ্খলতা তাদের জীবনীশক্তি কেড়ে নিয়েছিল এবং তাদের বীরত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল। যারা বিশ্ব জয় করেছিল, তারা নিজেদের পাশবিক কামনার কাছেই বন্দী হয়ে পড়েছিল। এভাবেই অ্যাসিরীয়, মেডেস, গ্রিক এবং রোমানরা একে একে নিজেদের কামনার শিকার হয়ে পতন ডেকে এনেছিল এবং তুলনামূলক বেশি পবিত্র উত্তরসূরিদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল। এমনকি ওই যুগের সবচেয়ে আলোকিত জাতি ইহুদিরাও মূর্তিপূজার সাথে যুক্ত এই একই পাপে একাধিকবার পতিত হয়েছিল। মিডিয়ানাইটদের দ্বারা তাদের প্রলুব্ধ হওয়া এর একটি উদাহরণ। <br> নিঃসন্দেহে আধুনিক যুগ প্রাচীন যুগের চেয়ে খারাপ কোনো কামুকতার দৃশ্য তুলে ধরে না। আর এটা কি দাবি করা যায় যে, বর্তমানের সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে এতটা জঘন্য কিছু দেখা যায়? কিন্তু বর্তমানে কামুকতায় স্থূলতা কম থাকলেও, মানুষের নৈতিক স্খলন প্রাচীনকালের চেয়েও বেশি হতে পারে। আলোকিত খ্রিষ্টধর্ম নৈতিকতার মান বাড়িয়ে দিয়েছে। সপ্তম আদেশের বিষয়ে খ্রিষ্টের ভাষ্য প্রাচীন মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর পবিত্রতার দাবি করে। এমনকি ইহুদিদের মধ্যেও কি ডেভিড, সলোমন এবং ধার্মিক জ্যাকবের একাধিক স্ত্রী ছিল না? ফলে বর্তমানে পবিত্রতার সামান্য লঙ্ঘনও আগের যুগের বড় কোনো স্খলনের মতোই চরম পতন হিসেবে গণ্য হয়। আর এর জন্য সমান কঠোর নৈতিক শাস্তিও পেতে হয়। <br> আমরা দেখেছি "সামাজিক ব্যাধি" কতটা সর্বজনীন। এটি মানুষের মতোই পুরোনো একটি পাপ। এটি দেখায় যে তার বিকৃত প্রকৃতিতে এটি কতটা গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। প্রশ্ন ওঠে, এত ভয়ংকর একটি পাপের কারণ কী? প্রকৃতির নিয়মের ওপর এত বড় আঘাতের কারণ কী? মানবজাতির ওপর এত ভয়ংকর অভিশাপের কারণ কী? ** পৃ. ২৮৫-২৯০ * '''কামুক রক্ত:''' কামুক প্রবৃত্তি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। লম্পটদের সন্তানেরা প্রায় নিশ্চিতভাবেই লম্পট এবং পতিতা হয়। ইতিহাস এর অসংখ্য উদাহরণ দেয়। অগাস্টাসের মেয়ে তার বাবার মতোই অপবিত্র ছিল এবং তার নাতনিও তার মতোই অনৈতিক ছিল। ডেভিডের ছেলেদের মধ্যেও বাবার দুর্বলতার স্পষ্ট ছাপ দেখা গিয়েছিল। আমননের ব্যভিচার এবং সলোমনের কামুকতার কথাই ধরুন। সলোমনের সাতশ স্ত্রী এবং তিনশ উপপত্নী ছিল। সলোমনের ছেলেও একইভাবে একজন কুখ্যাত বহুগামী ছিল, যার সম্পর্কে ইতিহাসে বলা হয়েছে, "সে অনেক স্ত্রী কামনা করত।" তার নাতিও তার দুর্বল রাজ্য যতটা অনুমোদন দেয় ততগুলো স্ত্রী গ্রহণের মাধ্যমে একই প্রবৃত্তির প্রমাণ দিয়েছিল। এই কামুক প্রবৃত্তির উৎস খুঁজতে আরও পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ডেভিড জুদাহর বংশধর। জুদাহ ও তার পুত্রবধূর অবৈধ মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া ফারেক্সের মাধ্যমেই এই বংশধারা ডেভিড পর্যন্ত পৌঁছেছে। <br> এটি মনে করা কি অযৌক্তিক যে, যেই অস্বাভাবিক কামনা ডেভিডকে বাথশেবার সাথে ব্যভিচার এবং পরে তার স্বামীকে হত্যার মতো জীবনের সবচেয়ে জঘন্য পাপ করতে বাধ্য করেছিল, তা আসলে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া এক বংশগত প্রবৃত্তি ছিল? এই প্রবৃত্তি হয়তো তার জীবনের শুরুর দিকের কর্মঠ ও সাধারণ জীবনযাপনের কারণে সুপ্ত ছিল। কিন্তু রাজকীয় অলসতা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশে তা পূর্ণ শক্তিতে জেগে ওঠে। বংশগতির জানা নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি মিলে গেলে এমন প্রবণতা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। <br> সন্তানের মধ্যে খারাপ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যৌন মিলনের প্রভাব নিয়ে এই বইয়ের অন্য জায়গায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে শুধু বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। শারীরবিদ্যা নিশ্চিতভাবে দেখায় যে, যেসব বাবা-মায়ের ছেলেরা লম্পট এবং মেয়েরা পতিতা হয়েছে, তারা নিজেরাই সন্তানদের মধ্যে সেই প্রবৃত্তি বুনে দিয়েছিলেন যা তাদের অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ২৯০-২৯২ * '''পেটুকপনা:''' বংশগতির পরেই খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবকে পূর্বশর্ত হিসেবে ধরা উচিত। এটি একটি পরীক্ষিত সত্য যে "সব লম্পটরাই বড় খাদক বা বিখ্যাত ভোজনরসিক হয়ে থাকে।" গোলমরিচ, সরিষা, আদা, মসলা, ট্রাফল, ওয়াইন এবং সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় প্রজনন অঙ্গের ওপর কতটা উত্তেজক প্রভাব ফেলে, তা সবারই জানা। চা ও কফি যৌন অঙ্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকেন্দ্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে সরাসরি পাশবিক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে। শিশুদের যখন এসব খাবার খাওয়ানো হয়, বা তাদের খাবারের সাথে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা মাঝে মাঝে "খারাপ পথে" গেলে অবাক হওয়ার কী আছে? কত মায়েরা নার্সারিতে সন্তানদের পবিত্রতার নীতি শেখানোর পাশাপাশি অজান্তেই ডাইনিং টেবিলে তাদের আবেগকে এমনভাবে উসকে দেন যে, পাপ প্রায় শারীরিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়! <br> পর্যাপ্ত ব্যায়ামের পাশাপাশি মসলামুক্ত সাধারণ খাবার আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। <br> অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দেওয়ায় তামাকের প্রভাব। ** পৃ. ২৯২ * '''অকালপক্ব যৌনতা:''' শিশুদের মধ্যে প্রেমের ভান করা এবং যৌন কামনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে যৌন বৈশিষ্ট্যের অকাল বিকাশের কারণগুলো আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এটি নিশ্চিত যে, যেসব অনুভূতি কেবল বয়ঃসন্ধি বা তার পরের বয়সের জন্য মানানসই, সেগুলোর অকাল বিকাশের চেয়ে পবিত্রতার জন্য বেশি বিপজ্জনক আর কিছুই হতে পারে না। খুব অল্পবয়সী কোনো মেয়েকে পরিণত বয়সের উচ্ছৃঙ্খল নারীদের মতো আচরণ করতে দেখাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও খুব একটা বিরল নয়। <br> "পুরুষদের কামুকতা"—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে "সামাজিক ব্যাধি"-এর জন্য পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। এখানেও সাধারণ নীতিটি প্রযোজ্য—চাহিদা অনুযায়ী জোগান ঠিক হয়। পতিতাবৃত্তির গ্রাহকেরা যদি হঠাৎ করে পবিত্র হয়ে তাদের সমর্থন তুলে নেয়, তবে এই জঘন্য ব্যবসা কত দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে! পুরুষদের এমন পবিত্রতার জোয়ারের ফলে পতিতালয়ের বাসিন্দারাও ইন্দ্রিয়দমনকারী, বা অন্তত পবিত্র হয়ে উঠবে। <br> আবার, ঘৃণ্য রোগ ও ভয়ংকর মৃত্যুর কারণে পতিতাদের সংখ্যা দ্রুত কমলেও, সেই শূন্যস্থান পূরণ হয় হতভাগ্য মেয়েদের দিয়ে। আর এই মেয়েদের পতনের জন্য অবিশ্বস্ত প্রেমিক বা চতুর, হৃদয়হীন লম্পটরাই মূলত দায়ী। যে দুর্বল মেয়ে অতিরিক্ত বিশ্বাসের কারণে প্রতারিত হয় এবং নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারায়, আত্মীয়স্বজন তাকে অস্বীকার করে, পরিচিতরা তাকে এড়িয়ে চলে। এরপর তাকে টাকা, বন্ধু বা চরিত্র ছাড়াই এক নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ছুড়ে ফেলা হয়। সে কী করতে পারে? বদনাম তার পিছু ছাড়ে না বলে সে সম্মানজনক কাজ পায় না। তার সামনে কেবল একটি দরজাই খোলা থাকে বলে মনে হয়, যে দরজাটি সে নিজের অজান্তেই খুলেছিল। হতাশায় সে "নরকের খোলা পথে" পা বাড়ায় এবং তার প্রথম দুঃখজনক ভুলের সাথে এক লজ্জাজনক জীবন যোগ করে। এদিকে যে শয়তান তাকে প্রতারণা করেছিল, সে সমাজে তার অবস্থান ঠিকই বজায় রাখে এবং আরেকজন শিকার ধরার জন্য তার কৌশল চালাতে থাকে। এখানে কি কোনো অন্যায্য বৈষম্য নেই? যে নারী প্রতারিত হয়েছে, সমাজ তাকে যেভাবে কলঙ্কিত করে, প্রতারণাকারীকেও কি অন্তত ততটাই কলঙ্কিত করা উচিত নয়? <br> '''ফ্যাশন'''- পোশাক, সুন্দর জামাকাপড়, দামি গয়না এবং ধনী নারীদের সব ধরনের সাজসজ্জার প্রলোভন অনেক ক্ষেত্রেই গরিব দর্জি, কারখানার কর্মী এবং কাজের মেয়েদের দুর্বল পবিত্রতার জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। তারা এত বেশি পাপ দেখেছে যে পাপের প্রতি তাদের সেই সহজাত ঘৃণাবোধ হয়তো হারিয়ে গেছে। আরামদায়ক জীবন পাওয়ার আশায়, যার মানে হলো তাদের লোকদেখানো স্বভাব মেটানো, তারা এই পৃথিবীর মানসিক শান্তি এবং পরকালের সব আশা বিসর্জন দেয়। বিনিময়ে তারা পায় কেবল কিছু মূল্যহীন চাকচিক্য, সহমানুষের অবজ্ঞা এবং একগাদা ঘৃণ্য রোগ। ** পৃ. ২৯৩-২৯৫ * '''প্রাথমিক শিক্ষার অভাব:''' একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ চরিত্র অনেকাংশেই তার প্রাথমিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে—এই সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। যদি একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা এবং বিনয় শেখানো হয়, তবে মন পাপের আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। এর বদলে যদি শিশুটিকে কোনো শিক্ষা ছাড়াই বড় হতে দেওয়া হয়, যদি সবচেয়ে যত্ন করে রাখা মাটিতেও দেরিতে হলেও নিশ্চিতভাবে পড়তে থাকা পাপের বীজগুলোকে অঙ্কুরিত হতে দেওয়া হয়, যদি পাপের প্রথম কুঁড়িগুলোকে সাথে সাথে ছিঁড়ে না ফেলে বড় হতে ও ফুটতে দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে আত্মার মধ্যে পাপের আগাছা বেড়ে উঠবে এবং নির্লজ্জ জীবনের মাধ্যমে তার ভয়ংকর ফল ফলাবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। <br> যে পথ দিয়ে শিশুর কচি মনে পাপ ঢুকতে পারে, তা পাহারা না দেওয়া এবং সতর্ক শিক্ষা ও পবিত্র উদাহরণের মাধ্যমে পাপের বিরুদ্ধে বাধা তৈরি না করার ফলে অনেক নিষ্পাপ আত্মা পাপের আক্রমণের শিকার হয় এবং সহজেই কামনার শিকার হয়। বাচ্চাদের যদি রাস্তায়, মোড়ের মুদি দোকানে, বা সেলুনের আশপাশে ঘুরে বড় হতে দেওয়া হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যে পাশবিক আবেগ জোরালোভাবে বেড়ে উঠবে। নিচের লেখাটি এমন একজনের লেখা থেকে নেওয়া, যার কলম আমেরিকার তরুণদের জন্য এক অমূল্য আশীর্বাদ:— "ছেলেরা তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে প্রথম যে শিক্ষাগুলো পায় তার মধ্যে অন্যতম হলো ভাষার অপবিত্রতা। আর এর পরপরই আসে চিন্তার অপবিত্রতা। ... বাল্যকালের শিক্ষা যখন এমন হয়, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই যে নারী সম্পর্কে পুরুষদের প্রধান ধারণাগুলো প্রায়শই অপবিত্রতা এবং কামুকতার হয়। ... তাই তরুণদের জীবনের ইতিহাসে আমরা অবাক হই না যে, তারা কোনো না কোনোভাবে এবং বিভিন্ন উপায়ে প্রলোভনের কাছে হার মানে। নিঃসন্দেহে অনেকের ক্ষেত্রেই এই আসক্তি ক্ষণস্থায়ী বা হঠাৎ করে ঘটে এবং তা অভ্যাসে পরিণত হয় না। এটিকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মনে করা হয় না। অনুশোচনা ছাড়া কখনোই এর কাছে হার মানা হয় না। ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। কিন্তু পাশবিক প্রবৃত্তি নৈতিকতাকে হার মানায়। তবুও নিয়ম ভাঙার পর সবসময় দুঃখ এবং অনুশোচনা আসে। <br> "তবে অনেকের ক্ষেত্রেই ভয় হয় যে, অবস্থা এমন থাকে না। কামুক ছবি নিয়ে ভেবে এবং কামুক কথাবার্তা বলে তাদের মন কলুষিত হয়ে যায়। তাদের বাধা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। প্রলোভন তাদের পরাস্ত করে না, বরং তারাই এর খোঁজ করে। তাদের কাছে এই নিয়ম ভাঙা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং চরিত্রের দাগ গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।" ** পৃ. ২৯৫-২৯৬ * '''আবেগপ্রবণ সাহিত্য:''' অন্য প্রসঙ্গে আমরা বিশেষভাবে সেসব খারাপ, অশ্লীল বই ও ছবির কথা উল্লেখ করেছি, যা গোপনে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছড়ানো হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছি। এই অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমন আশা পুরোপুরি বৃথা নয়। তবে আরেকটি অপকর্মের কোনো বাস্তব প্রতিকার আছে বলে মনে হয় না, যা কম জঘন্য ও অশ্লীল উপায়ে হলেও শেষ পর্যন্ত একই পরিণতি ডেকে আনে। আমরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবেগপ্রবণ সাহিত্যের কথা বলছি। শহরের ও স্কুলের লাইব্রেরি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, এমনকি সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলোও এমন বইয়ে ভরপুর। এসব বইয়ে হয়তো ভালো নৈতিক শিক্ষা থাকতে পারে, কিন্তু এর সাথে এমন কিছু উপাদানও থাকে যা অন্ধকারের সাথে আলোর মতোই নৈতিকতার পবিত্রতার চরম পরিপন্থী। শিশু-কিশোরদের লেখকেরা মনে করেন তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে "প্রেম, প্রণয় ও পরিণয়"-এর গল্প একেবারেই অপরিহার্য। এই "ধর্মীয় উপন্যাস"-গুলোর কয়েকটি আসলে ওই সব পরিচিত ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, যারা ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কোনো ভান করেন না। সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলো সাধারণত পুরোপুরি এই ধরনের বই দিয়ে তৈরি হয় না। কিন্তু কেউ যদি কষ্ট করে এসব লাইব্রেরির বইগুলো দেখেন, তবে তিনি বাইরের চেহারা দেখেই সবচেয়ে ক্ষতিকর বইগুলো বেছে নিতে পারবেন। বইগুলোর মলাট ছেঁড়াফাঁড়া থাকবে এবং বারবার ধরার কারণে এর প্রান্তগুলো ময়লায় কালো হয়ে থাকবে। এসব বইয়ের "নৈতিক" অংশগুলোর অগভীর একঘেয়েমিতে শিশুরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সেগুলো না পড়েই চোখ বুলিয়ে যায়। তারা আগ্রহের সাথে কেবল সেই অংশগুলোই বেছে নিয়ে পড়ে, যেখানে কোনো প্রেমের রোমাঞ্চকর ও বোকাটে গল্প থাকে। এ ধরনের সাহিত্য শিশুদের মনে অকালপক্ব কল্পনা ও কৌতূহল জাগায় এবং এমন এক আবেগপ্রবণতা লালন করে, যা প্রায়শই অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি ডেকে আনে। বাবা-মা তাদের মনে কখনো পাপের চিন্তা ঢুকেছে বলে টের পাওয়ার অনেক আগেই এসবের প্রভাবে অল্পবয়সী মেয়েরা প্রায়শই লজ্জাজনক জীবন শুরু করতে প্ররোচিত হয়। <br> একজন জোরালো লেখকের নিচের কথাগুলো এই বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে:- <br> "আপনি কোনো কোট ছিঁড়ে গেলে বা ফুলদানি ভেঙে গেলে তা মেরামত করতে পারেন। কিন্তু কোথায় সেলাই করা হয়েছে বা ভেঙেছিল, তা সবসময়ই বোঝা যাবে। আপনার হৃদয়ে এমন ক্ষতি করতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে, যা কোনো সময়ই পুরোপুরি মেরামত করতে পারে না। আপনার সন্তানের লাইব্রেরি ভালোভাবে খেয়াল করুন। দেখুন ঘুমাতে যাওয়ার পর বালিশের কাছে গ্যাসলাইট জ্বেলে সে কোন বইটি পড়ে। বইটি সানডে স্কুলের বলেই যে তা ভালো, এমনটা সবসময় ধরে নেবেন না। যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করুন 'কে' এটি লিখেছেন, কে এর ছবি এঁকেছেন, কে প্রকাশ করেছেন এবং কে এটি বিক্রি করেছেন। <br> "মনে হচ্ছে আজকের সাহিত্যে মিসরের দশটি মহামারি ফিরে এসেছে, আর ব্যাঙ ও উকুনগুলো লাফিয়ে আমাদের বসার ঘরের টেবিলে উঠে এসেছে। <br> "বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের পড়তে দেখে খুশি হন। কিন্তু তারা কী পড়ছে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত হওয়া উচিত। কলেরা বা টাইফয়েড হওয়ার জন্য আপনাকে মহামারি কবলিত এলাকায় এক-দুদিন হাঁটতে হবে না। তেমনি নৈতিক অস্বাস্থ্যের একটি ঢেউ আত্মাকে চিরতরে অসুস্থ ও ধ্বংস করে দেবে। হয়তো না বুঝেই আপনি একটি খারাপ বই পড়েছেন। আপনার কি সেটার কথা পুরোপুরি মনে নেই? হ্যাঁ, মনে আছে! এবং সম্ভবত আপনি কখনোই এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আপনার চরিত্র যতই দৃঢ় এবং উন্নত হোক না কেন, কখনোই একটি খারাপ বই পড়বেন না। প্রথম অধ্যায় শেষ করার আগেই আপনি এর গতিবিধি বুঝতে পারবেন। যদি ছবি, লেখার ধরন বা গল্পের মধ্যে শয়তানের পায়ের ছাপ দেখতে পান, তবে তা দূরে ছুড়ে ফেলুন। <br> "তবে আমার মনে হয়, সপ্তাহে একবার প্রকাশিত অনেক পারিবারিক পত্রিকা থেকে বেশি বিপদের আশঙ্কা আছে। সেগুলোতে থাকে পাপ ও লজ্জার গল্প, যা জঘন্য ইঙ্গিতে ভরা। আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য যতটুকু সম্ভব, এরা ততটুকুই নিচে নামে। আমি কোনোটির নাম বলছি না। শুধু বলছি, কিছু অভিজাত টেবিলে এমন 'পারিবারিক সংবাদপত্র' রাখা থাকে যা আক্ষরিক অর্থেই নরকের বমি। <br> "ধ্বংসের পথ খুব সস্তা। ফিলাডেলফিয়ায় যেতে তিন ডলার, বোস্টনে ছয় ডলার এবং সাভানায় তেত্রিশ ডলার লাগে। কিন্তু দশ সেন্ট দিয়ে একটি খারাপ পত্রিকা কিনলে আপনি নরকে যাওয়ার এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি পাকাপাকি টিকিট পেতে পারেন। এই ট্রেনে থামার জায়গা খুব কম এবং এর শেষ গন্তব্য হবে নরওয়াকের ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটে চলা ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়ার মতো—হঠাৎ, ভয়ংকর, প্রাণঘাতী, যেখান থেকে আর কখনোই ওঠা যাবে না।" ** পৃ. ২৯৬-২৯৯ * '''দারিদ্র্য:''' দারিদ্র্যের প্রবল চাপকে পতিতাবৃত্তির একটি কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এটি অস্বীকার করা যায় না যে বড় শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে এটি যুবতীর লজ্জাজনক জীবনে প্রবেশের তাৎক্ষণিক কারণ হতে পারে। তবুও জোর দিয়ে বলা যায় যে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই তার প্রাথমিক শিক্ষায় ঘাটতি ছিল। কারণ পবিত্রতার সঠিক সম্মান দিয়ে বড় হওয়া একজন নারী পবিত্রতার চেয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়াকে বেছে নেবেন। আবার দারিদ্র্য কোনো অজুহাত হতে পারে না। কারণ প্রতিটি শহরে অভাবী দরিদ্রদের সাহায্য করার ব্যবস্থা থাকে এবং সত্যিই যোগ্য এমন কাউকে কষ্ট পেতে হয় না। ** পৃ. ২৯৯-৩০০ * সম্ভবত অজ্ঞতার চেয়ে বেশি আর কিছুই পাপকে লালন করে না। অনেক ব্যতিক্রম থাকলেও পতিতারা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই অজ্ঞ শ্রেণি থেকে আসে। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির মধ্যে পাপ তার সবচেয়ে জঘন্য রূপ দেখায় এবং অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতি কামুকতার বিরোধী। সাধারণত বুদ্ধির বিকাশের সাথে সাথে পাশবিক আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি ঠিক যে, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও বড় লম্পট হয়েছেন এবং ইতালির কামুক বোরগিয়া ও মেদিসিরা শিল্প ও সাহিত্যকে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু এগুলো কেবল আপাত ব্যতিক্রম। কারণ মানসিক সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাব না থাকলে এই ব্যক্তিরা পাপের আরও কত গভীরে তলিয়ে যেতেন, তা কে জানে? <br> ডেসলান্ডেস বলেছেন, "বুদ্ধি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে প্রজনন সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।" সব উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে গেলেও পাশবিক আবেগগুলো টিকে থাকে বলে মনে হয়। নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে ক্লিনিকে মেডিকেল ক্লাসের সামনে আনা একজন বোকার মধ্যে আমরা এর প্রমাণ দেখেছি। ওই রোগী জন্ম থেকেই বোকা ছিল এবং তাকে দেখতে অত্যন্ত জঘন্য মনে হতো। গড়পড়তা কুকুরের চেয়ে বেশি বুদ্ধি তার ছিল না। কিন্তু তার পাশবিক প্রবৃত্তি এতটাই প্রবল ছিল যে তা প্রায় অনিয়ন্ত্রিত ছিল। বস্তুতপক্ষে, তার মধ্যে একজন জঘন্য লম্পট হওয়ার প্রমাণ দেখা গিয়েছিল এবং সে সবচেয়ে খারাপ ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। মানসিক রোগীদের মধ্যে অস্বাভাবিক যৌন উত্তেজনার সাধারণ ব্যাপকতা একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। ** পৃ. ৩০০-৩০১ * আগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রোগ প্রজনন অঙ্গে জ্বালাপোড়া এবং রক্তজমাটের কারণ হয়, যা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই অপবিত্রতা ডেকে আনে। এমনটা প্রায়শই ঘটে যে, পবিত্র চিন্তার অভাবে যৌন অঙ্গগুলোতে স্থায়ী রক্তজমাটের অবস্থা তৈরি হয়। তখন যুবতীদের মধ্যে কামুক মিলনের এমন এক তীব্র উন্মাদনা দেখা দেয়, যা কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি না পাওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মেটে না। অবশ্য একজন দক্ষ চিকিৎসকের অধীনে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিলে ভিন্ন কথা। "নিনফোম্যানিয়া" নামের এই রোগটি ভালো পরিবারের অনেক যুবতীর পতনের কারণ হয়েছে। তারা বিলাসবহুলভাবে এবং অলসতায় বড় হয়েছিল, কিন্তু কখনোই পবিত্রতা বা আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও পায়নি। কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, কৃমি, যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং মূত্র ও যৌনাঙ্গের অন্যান্য কম সাধারণ রোগগুলো যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। ** পৃ. ৩০১-৩০২ * '''যৌন রোগের বংশগত প্রভাব:''' যে নিয়ম ভাঙে, শুধু সেই কষ্ট পায় না। সে বিয়ে করলে তার শিশু সন্তানটি বেঁচে গেলে পরবর্তী বছরগুলোতে তার বাবার পাপের প্রভাব তার মধ্যে দেখা যায়। এটি রোগের শেষ পর্যায়ের রূপ নিয়ে প্রকাশ পায়। স্ক্রোফুলা, ক্ষয়রোগ, ক্যানসার, রিকেটস, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ, ক্যারিজ বা নেক্রোসিসের কারণে হাড়ের ক্ষয় এবং অন্যান্য রোগ এভাবেই তৈরি হয়। <br> তবে সাধারণত শিশুটি জন্মের আগেই মারা যায়, অথবা কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে দুর্দশাগ্রস্ত জীবনযাপন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ছোট শিশুদের দেখতে খুব করুণ লাগে। তাদের মুখগুলো দশ বা বারো বছরের শিশুর মতো বয়স্ক মনে হয়। প্রায়ই মৃত্যুর আগে তাদের শরীর কঙ্কালের মতো জীর্ণ হয়ে যায়। তাদের ফাঁপা ও দুর্বল কান্না শুনলে শ্রোতার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে এবং এটি যৌন পাপের ভয়ংকর পরিণতি স্থায়ীভাবে মনে করিয়ে দেয়। প্রসূতি হাসপাতালগুলোতে এমন শুকনো শিশুর অভাব নেই। <br> যে শিশুরা শৈশবের পরেও বেঁচে থাকে, তাদের মধ্যে এই ক্ষতিকর প্রভাব খাঁজকাটা ও বিকৃত দাঁত এবং অন্যান্য ত্রুটির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। প্রায়শই শিশুর মুখের ভেতরে তাকালে দেখা যায় যে নরম তালু, এবং সম্ভবত শক্ত তালুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ** পৃ. ৩০৬ * ১. লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিকে আইনের সুরক্ষায় আনার মুহূর্তেই এটি তার অর্ধেক বদনাম হারিয়ে ফেলে এবং জুয়া খেলা ও মদ বিক্রির মতোই সম্মানজনক হয়ে ওঠে। <br> ২. ব্যভিচারের মতো এত জঘন্য একটি অপরাধকে চুরি বা সবচেয়ে নিচু স্তরের জুয়া খেলার চেয়ে বেশি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে কেন? প্রতারণা ও ছলনা বা চুরির মাধ্যমে কারও টাকা কেড়ে নেওয়ার চেয়ে, এক ধাক্কায় তার স্বাস্থ্য, পবিত্রতা এবং মনের শান্তি কেড়ে নেওয়া কি মানুষের বিরুদ্ধে কম অপরাধ? ** পৃ. ৩০৯ * শিশুদের শুরু থেকেই পবিত্রতাকে সম্মান করতে এবং কামুকতাকে ঘৃণা করতে শেখানো উচিত। ছেলেদের এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত যেন তারা নারীর নামের সাথে কেবল পবিত্র, সতী এবং মহৎ চিন্তাই মেলাতে পারে। "বিচার কেলেঙ্কারি" এবং এই ধরনের বিষয়গুলোর অবাধ আলোচনা নারীর চরিত্রের জন্য এবং শিশুদের মনে নোংরা কল্পনা তৈরির জন্য যতটা ক্ষতিকর, ততটা ক্ষতিকর খুব কম জিনিসই আছে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন ও জীবন্ত কল্পনা অনেক মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক আগেই এমন নোংরা বিষয়ের পচা রহস্য ভেদ করে ফেলে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন কোনো না কোনোভাবে ব্যস্ত থাকবেই। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের এমন চিন্তায় ভরিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের মহৎ ও পবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যাবে। <br> '''আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখানো:''' প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা এবং প্রয়োজন হলেই আত্মত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশুর নৈতিক শিক্ষার আরেকটি অপরিহার্য অংশ হলো সঠিক উদ্দেশ্য গড়ে তোলা। কোনো আনন্দদায়ক পুরস্কার পাওয়ার আশা বা কোনো ভয়ংকর শাস্তির ভয়ের বাইরে শিশুকে সঠিক কাজ করার অন্য কোনো মহৎ উদ্দেশ্য না দেখালে সে নিশ্চিতভাবেই একজন চরম স্বার্থপর মানুষ হিসেবে বড় হবে। তখন অন্য মানুষের কী হবে সেদিকে খেয়াল না করে কেবল নিজের ভালোটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। আর সে যদি নিজেকে বোঝাতে পারে যে কোনো কাজ করে সে যে আনন্দ পাবে, তা সম্ভাব্য শাস্তির ঝুঁকির চেয়ে বেশি হবে, তবে সে নির্দ্বিধায় সেই কাজটি করবে। "এটি কি ঠিক? বা মহৎ? বা পবিত্র?"—এই প্রশ্নটি সে একবারও ভাববে না। নিজের খাতিরে সঠিক কাজকে ভালোবাসা—এটিই নৈতিক চরিত্র গঠনের একমাত্র শক্ত ভিত্তি। মার খাওয়া বা অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকা (কখনো কখনো ব্যবহার করা এক ভয়ংকর শাস্তি) থেকে বাঁচতে, বা এমনকি "আগুন ও গন্ধকের হ্রদ" থেকে বাঁচতে শিশুদের সঠিক কাজ করতে শেখানো উচিত নয়। নতুন খেলনা, বই, বেড়ানোর সুযোগ বা এমনকি স্বর্গের আনন্দের মতো প্রতিশ্রুত পুরস্কার দিয়েও তাদের ভালো কাজের জন্য বারবার প্রলুব্ধ করা ঠিক নয়। এসব প্রলোভন স্বার্থপর এবং এগুলোকে কাজের "প্রধান" উদ্দেশ্য বানালে তা নিশ্চিতভাবেই চরিত্রকে সংকুচিত করে এবং জীবনকে ছোট করে দেয়। এর চেয়ে বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনে সঠিক, সত্য, পবিত্রতা এবং সদ্গুণের প্রতি ভালোবাসা এবং এগুলোর বিপরীতের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করুন। তাহলে সে তার জীবন পরিচালনা করার মতো একটি যোগ্য নীতি পাবে। তখন সে আবেগ, পাপ এবং কামনার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে। এভাবে শিক্ষিত মন এমন এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকে, যেখান থেকে সব খারাপ মানুষ ও শয়তান মিলেও তাকে সরাতে পারে না, যতক্ষণ সে তার মহৎ নীতিগুলোতে অটল থাকে। ** পৃ. ৩১১-৩১২ * নারী-পুরুষের অবৈধ মিলন যদি জঘন্য পাপ হয়, তবে স্বমেহন বা নিজেকে অপবিত্র করা তার চেয়ে দ্বিগুণ জঘন্য অপরাধ। প্রকৃতির বিরুদ্ধে পাপ হিসেবে সমকামিতা ছাড়া এর কোনো তুলনা নেই (দেখুন আদিপুস্তক ১৯: ৫, বিচারক ১৯: ২২)। এটি সব যৌন অপব্যবহারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ এটি সবচেয়ে বেশি করা হয়। স্বাভাবিক উপায়ের বাইরে যৌনাঙ্গের যেকোনো উত্তেজনাই হলো এই পাপ। এটি নিজেকে অপবিত্র করা, নিজের ক্ষতি করা, স্বমেহন, অনানিজম, ম্যানুসুপ্রেশন, স্বেচ্ছায় দূষণ, একাকী বা গোপন পাপ এবং অন্যান্য ব্যাখ্যামূলক নামে পরিচিত। এই পাপটি এত বেশি বিস্তৃত কারণ এর চর্চার কোনো সীমা নেই। এর বারবার পুনরাবৃত্তি ভুক্তভোগীকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য এক মোহের জালে আটকে ফেলে। এটি একেবারে ছোটবেলায় শুরু হতে পারে এবং সারা জীবন চলতে পারে। <br> কোনো সতর্কতা দেওয়া না হলেও, নিয়ম ভঙ্গকারী যেন প্রবৃত্তিগতভাবেই জানে যে সে একটি বড় ভুল করছে। কারণ সে সযত্নে তার অভ্যাসটি অন্যের চোখের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। একাকিত্বে সে নিজেকে কলুষিত করে এবং নিজের হাতেই এই বিশ্ব ও পরকালের সব সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেয়। এমনকি কঠোরভাবে সতর্ক করার পরও, সে প্রায়শই এই পশুর চেয়েও খারাপ অভ্যাস চালিয়ে যায়। এক মুহূর্তের পাগলাটে কামনার জন্য সে জেনেশুনে তার স্বাস্থ্য ও সুখের অধিকার বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ৩১৫ * বিশিষ্ট লেখকদের সাক্ষ্য:—একজন চিকিৎসা-লেখক বলেছেন, "আমার মতে, প্লেগ, যুদ্ধ, গুটিবসন্ত বা অনুরূপ কোনো রোগই অনানিজমের এই ক্ষতিকর অভ্যাসের মতো মানবতার জন্য এতটা ধ্বংসাত্মক ফল বয়ে আনেনি। এটি সভ্য সমাজের ধ্বংসকারী উপাদান, যা প্রতিনিয়ত কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে একটি জাতির স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।" <br> "নিজেকে অপবিত্র করার এই পাপ, যাকে সাধারণত অনানের পাপ বলে মনে করা হয়, এটি পতিত মানুষের করা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কাজগুলোর একটি। অনেক দিক থেকে এটি সাধারণ পতিতাবৃত্তির চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ। পতিতার সাথে অপরাধমূলক সম্পর্কের কথা ভেবে শিউরে ওঠা অনেক মানুষ এটি করলেও এর পরিণতি আরও ভয়ংকর।" ** ডা. অ্যাডাম ক্লার্কের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * "এমন একটি বিষয়ে কথা বলতে যতই খারাপ লাগুক না কেন, কর্তব্যের চরম অবহেলা ছাড়া এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্ভাগ্যবশত, এর ভয়াবহ দিকটি এ পর্যন্ত সেভাবে তুলে ধরা হয়নি। 'সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো এটি খুব কমই সন্দেহ করা হয়।' অনেক ফ্যাকাশে চেহারা এবং দুর্বল ও স্নায়বিক অনুভূতির জন্য অন্য কারণগুলোকে দায়ী করা হয়, অথচ সব ক্ষতির মূলে থাকে এটি।" ** স্যার ডব্লিউ. সি. এলিসের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * এই অপকর্মের ভয়াবহ বিস্তারের বিষয়ে আমাদের আর কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা নিচের কথাগুলো দিয়ে শেষ করব:— <br> "স্বমেহনের ক্ষতিকর এবং অবক্ষয়ী অভ্যাসটি সাধারণত যতটা ধারণা করা হয়, তার চেয়ে নারী-পুরুষ উভয় তরুণের মধ্যেই অনেক বেশি সাধারণ এবং বিস্তৃত।" "বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার পরে তরুণদের মধ্যে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, তার একটি বড় অংশের কারণ হলো স্বমেহন। এতে এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে তা মানুষের জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেয় এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।" "কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সময় বৃদ্ধি এবং অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে যেসব দুর্বলতা দেখা দেয় বলে মনে করা হয়, তার অনেকগুলোই আসলে এই অভ্যাসের কারণে হয়।" ** বোস্টন মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল জার্নালের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * অপবিত্রতার যেসব কারণ নিয়ে আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। এগুলোর প্রায় সবই সামাজিক পাপের পাশাপাশি একাকী পাপের জন্যও দায়ী। অকালপক্ব যৌনতা, অলসতা, ক্ষতিকর সাহিত্য, অস্বাভাবিক যৌন বাসনা, উত্তেজক খাবার, পেটুকপনা, বসে বসে করা কাজ, কামুক ছবি এবং জীবনের অনেক অস্বাভাবিক অবস্থা এই জঘন্য অভ্যাস উসকে দিতে জোরালো ভূমিকা রাখে। তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খারাপ সঙ্গ, দুষ্ট বা অজ্ঞ নার্স এবং স্থানীয় রোগ বা অস্বাভাবিকতা। এগুলো নিয়ে আমরা বিশেষভাবে আলোচনা করব, কারণ অন্য কোথাও এগুলোর বিষয়ে এতটা বিস্তারিত বলা হয়নি। ** পৃ. ৩২১ * '''খারাপ সঙ্গ:''' একটি শিশুকে হয়তো সবচেয়ে বেশি যত্ন নিয়ে বড় করা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হয়তো তাকে সব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সযত্নে দূরে রাখা হয়েছে। দশ বা বারো বছর বয়সে যখন তাকে প্রথমবার দূরে স্কুলে পাঠানো হয়, তখন সে হয়তো পাপমুক্ত থাকে। কিন্তু যখন সে তার সহপাঠীদের সাথে মেশে, তখন সে দ্রুতই দেখে যে তারা এমন এক অভ্যাসে লিপ্ত যা তার কাছে নতুন। আগে থেকে সতর্ক না থাকায় সে দ্রুত তাদের ওই নোংরা দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এবং দ্রুতই এই পাপে মজে যায়। হাজার হাজার শিশু স্কুলে তাদের এই অবক্ষয়ী অভ্যাসের প্রথম পাঠ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাক্ষ্য দেয় যে প্রায়শই স্কুল চলাকালীন সময়ে, প্রায় শিক্ষকের চোখের সামনেই এর চর্চা করা হয়। তবে যেখানে এই সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়, তা হলো ঘুমানোর ঘর। যেখানে একাধিক ব্যক্তি একই বিছানায় ঘুমায় বা কয়েকজন একই ঘরে ঘুমায়, সেখানেই এটি বেশি হয়। <br> শরীর ও নৈতিকতার পবিত্রতার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদা ঘুমানোর ঘর ও একক বিছানার চেয়ে অপরিহার্য আর কিছুই নেই। এমন ব্যবস্থা তরুণদের অনেক খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করবে এবং একাকিত্বের সুযোগ দেবে, যা প্রতিটি তরুণের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারের জন্য প্রয়োজন। শারীরিক উপকারের একটি বড় দিক হলো প্রতিদিন সকালে পুরো শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করার সুযোগ, যা নৈতিকতার পবিত্রতার মতোই প্রায় অপরিহার্য। এই পরামর্শ মেয়েদের ঘুমানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই পদ্ধতিটি যেখানে সেরা হবে না, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা সত্যিই খুব কম। ** পৃ. ৩২২ * '''স্কুলে দুর্নীতি:''' ডা. অ্যাক্টন বলেন, "রোগীরা আমাকে স্কুলে যা দেখেছে বা যার ফাঁদে পড়েছে বলে জানিয়েছে, তা ছাপানোর সাহস আমার নেই। আমি আশা করতে চাই যে এমন জঘন্য ঘটনাগুলো অতীতের বিষয়।" এর আগে পবিত্র ছিল এমন কোনো স্কুলে একটিমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলের প্রবেশ (যদিও এমন স্কুল খুবই বিরল) খুব দ্রুতই প্রায় পুরো স্কুলটিকে কলুষিত করে দেবে। গুটিবসন্ত বা হলুদ জ্বরের সংক্রমণের চেয়ে এই খারাপ সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং এটি কোনো অংশে কম মারাত্মক নয়। <br> এই বিপদ শুধু পাবলিক বা শহরের স্কুলে নয়, সবচেয়ে নামকরা ও প্রাইভেট স্কুলেও রয়েছে। একজন বাবা তার দুই ছেলেকে কয়েক বছর ধরে একজন প্রাইভেট শিক্ষিকার কাছে রেখেছিলেন। এরপর কয়েকজন নির্বাচিত পরিবারের অল্পসংখ্যক ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এক নারীর চালানো একটি ছোট স্কুলে তাদের ভর্তি করেন। যখন একজন চিকিৎসক তাকে জানালেন যে তার ছেলেদের মধ্যে নিজেকে অপব্যবহার করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি অত্যন্ত অবাক হন। তিনি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তারা ইতোমধ্যেই একজন ছোট সহপাঠীর কাছ থেকে শিখে কয়েক বছর ধরে এই জঘন্য অভ্যাসে লিপ্ত। <br> আমরা এমন একটি ঘটনার কথা জানি যেখানে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর কারণে একটি নির্জন ও অভিজাত এলাকার প্রাইভেট স্কুল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেক সতর্ক শিক্ষক দেখেছেন, সাহিত্য, গণিত বা যেকোনো বিজ্ঞানে অসাধারণ প্রতিভার প্রতিশ্রুতি দেওয়া তার প্রিয় শিক্ষার্থীর চোখ থেকে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার আলো হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে গেছে। তাকে বাধ্য হয়ে এই মারাত্মক উপাস গাছের ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখতে হয়েছে, যা প্রায়শই সবচেয়ে সেরা ও সুন্দর মানব ফুলগুলোকে তার শিকার হিসেবে দাবি করে। ** পৃ. ৩২৩-৩২৪ * '''দুষ্ট আয়া:''' যেসব ক্ষেত্রে খুব অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, সেখানে সাধারণত আয়ারাই এই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। হয়তো তারা এই অভ্যাসের প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও অসংখ্য ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছোট বাচ্চাদের শান্ত করতে আয়াদের তাদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা বা সুড়সুড়ি দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক অভ্যাস নয়। তারা একে বাচ্চাদের শান্ত করার একটি দ্রুত উপায় হিসেবে দেখে এবং পরিণতির কথা না ভেবে বা না জেনেই এর আশ্রয় নেয়। <br> '''অস্বাভাবিক ঘটনা নয়:''' নিউইয়র্কের বেলভ্যু হসপিটাল কলেজের অধ্যাপক লাস্ক আমাদের সামনে তার মেডিকেল ক্লাসে এমন একটি ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন যা তিনি নিজে দেখেছেন। একটি বড় পরিবারের সব বাচ্চাকে এক দুষ্ট আয়া ঘুমাতে যাওয়ার পর শান্ত রাখার জন্য এই অভ্যাসটি শিখিয়েছিল। যে জঘন্য মানসিকতা একজন মানুষকে এভাবে শৈশবের নিষ্পাপতা কেড়ে নিতে এবং ইহকাল ও পরকালের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে প্ররোচিত করে, তা প্রায় যেকোনো অপরাধ করার মতোই নিচু। সত্যি বলতে, ওই আয়া যদি ঠান্ডা মাথায় ওই নিষ্পাপ শিশুদের গলা কেটে ফেলত, তবে অপরাধটি সম্ভবত এর চেয়ে খারাপ হতো না; হয়তো সেটি শিশুদের জন্যই ভালো হতো। ** পৃ. ৩২৪ * '''পাপের শিক্ষক:''' এমন কেউ কি এই লেখাগুলো পড়ছেন, যিনি কখনো অন্য কাউকে এত জঘন্য এবং এত ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনা এই পাপ শিখিয়েছেন—যে পরিণতি প্ররোচনাকারীর ওপর নয়, বরং হতভাগ্য শিকারের ওপর পড়ে? এমন ব্যক্তি যেন ছালার কাপড় পরে এবং ছাই মেখে সারা জীবন প্রায়শ্চিত্ত করে। এত জঘন্য অপরাধের সামান্যতম প্রায়শ্চিত্ত করার একমাত্র উপায় হলো, এই বিপদের মুখে থাকা লোকদের সতর্ক করার জন্য নিজের সাধ্যমতো সব করা। যখন সব মানুষ তাদের কর্মের ফল পাবে, তখন এমন ব্যক্তির শাস্তি কী হবে, যে সম্পূর্ণ অনুশোচনার মাধ্যমে এবং এতটা জঘন্যভাবে করা ধ্বংসের কাজ মেরামতের চেষ্টা করে জীবন কাটিয়ে নিজের কাজের পরিণতির ভার কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করেনি? <br> বাচ্চাদের ক্লান্ত হওয়ার আগেই খুব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পাঠানো, "তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য" বা শাস্তিস্বরূপ—এটি একটি গুরুতর ভুল। কারণ এতে এই অপকর্মের সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চাদের কোনো ঘরে একা আটকে রাখাও সমানভাবে নিন্দনীয়। কারণ এটি অন্তত এই কাজ করার পক্ষে সহায়ক হতে পারে এবং এটি ধরা পড়ার একটি ভালো সুযোগ করে দিতে পারে। বাচ্চাদের একাকিত্ব খোঁজার অভ্যাস গড়ে উঠতে দেওয়াও একই ধরনের একটি ক্ষতিকর ব্যাপার। ** পৃ. ৩২৬-৩২৭ * '''নিজেকে অপব্যবহারের লক্ষণ:''' এই অপকর্ম তার শিকারের চারপাশে যে জাল বোনে তা অত্যন্ত শক্তিশালী। যখন দীর্ঘদিন ধরে এতে আসক্ত থাকে, তখন এর সুতাগুলো তার সব চিন্তাভাবনা, তার অভ্যাস এবং তার অস্তিত্বের সাথে এত নিখুঁতভাবে জড়িয়ে যায় যে, শুরুতে এটি শনাক্ত করতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে তখন এটি কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ। এটি শনাক্ত করা প্রায়শই সহজ কাজ নয়। কারণ ভুক্তভোগী তার পাপ লুকানোর জন্য সব ধরনের চালাকির আশ্রয় নেবে এবং প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে মিথ্যে বলতেও দ্বিধা করবে না। সফলভাবে এটি করার জন্য প্রথমত যারা এই অভ্যাস করে তাদের লক্ষণগুলো এবং দ্বিতীয়ত ওই ব্যক্তিদের অভ্যাসগুলোর সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৩০ * '''সন্দেহজনক লক্ষণ:''' শিশু বা তরুণের মানসিক ও শারীরিক চরিত্র এবং অভ্যাসে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিপদের মারাত্মক সন্দেহ জাগতে পারে। বাবা-মা বা অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেন সম্ভব হলে এটি উপড়ে ফেলা যায়:— <br> ১. ''সাধারণ দুর্বলতা:'' আগে সুস্থ থাকা কোনো শিশুর মধ্যে কৃশতা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, ঠোঁট ও মাড়ির রং হারিয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তির সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দিলে এবং তা যদি অভ্যন্তরীণ কোনো রোগ, কৃমি, শোক, অতিরিক্ত কাজ, খারাপ বাতাস বা খারাপ খাবারের মতো অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে না হয়ে থাকে এবং আবহাওয়া বদলানো বা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও দ্রুত সেরে না ওঠে, তবে সেই ব্যক্তি স্বভাবতই যত সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকুক না কেন, নির্দ্বিধায় একে একাকী পাপের ফল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভুল খুব কমই হবে। ** পৃ. ৩৩২-৩৩৩ * ৩. ''অকাল ও ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ:'' এই লক্ষণটি আগের দুটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যখন অতিরিক্ত পড়াশোনা, অতিরিক্ত কাজ, ব্যায়ামের অভাব এবং অনুরূপ অন্যান্য স্বাভাবিক কারণগুলো এর জন্য দায়ী করা যায় না, তখন একে নিজেকে অপব্যবহার করার ফল বলে ধরে নেওয়া উচিত। যৌনাঙ্গের অকাল ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অভ্যাসটি দ্রুত শুরু হলে, বয়ঃসন্ধি প্রাপ্তিকে ত্বরান্বিত করে। তবে একই সাথে জীবনীশক্তি এতটা কেড়ে নেয় যে, এই সময়ে সাধারণত বৃদ্ধি এবং বিকাশে যে বাড়তি শক্তি দেখা যায়, শরীর তা দেখাতে পারে না। ফলে শরীর ছোট থাকে বা যতটা বিকাশ হওয়ার কথা ছিল ততটা হয় না। শরীরের পাশাপাশি মনও খর্বাকৃতির হয়ে যায়। কখনো কখনো বিকাশের অভাবে শরীরের চেয়ে মন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার কখনো এর উল্টোটাও হয়। পুরুষদের শারীরিক সংগঠনে এই ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ দেখা যায় গলার আওয়াজের গভীরতা ও জোর স্বাভাবিকভাবে না বাড়ায়; দাড়ির অপর্যাপ্ত বৃদ্ধিতে; বুকের ছাতি পূর্ণ না হওয়ায় এবং কাঁধ চওড়া না হওয়ায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক নারীত্বের বিশেষ গুণগুলোর বিকাশে ব্যর্থতার মাধ্যমে মন এবং চরিত্রে এর খর্বকারী প্রভাব দেখা যায়। এ ধরনের লক্ষণগুলো সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা উচিত, কারণ কেবল শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কারণেই এগুলো দেখা দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৩-৩৩৪ * ১০. ''অবিশ্বাসযোগ্যতা:'' শিশুর মধ্যে এটি দেখা দিলে তার অভ্যাসের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। যদি সে আগে এমন না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে অমনোযোগী, উদাসীন এবং ভুলোমনা হয়ে যায়, যাতে তার ওপর আর ভরসা করা যায় না, তবে এর জন্য একাকী আসক্তিকে দায়ী করুন। এই অপকর্মের মিথ্যাবাদিতা গড়ে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। আগে সৎ থাকা একটি শিশু এর ক্ষতিকর প্রভাবে দ্রুতই একজন ঘোরতর মিথ্যাবাদীতে পরিণত হবে। ** পৃ. ৩৩৬ * ১১. ''একাকিত্বের প্রতি ভালোবাসা:'' এটি একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক লক্ষণ। প্রায় কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শিশুরা স্বভাবতই মিশুক হয়। একা থাকতে তাদের স্বাভাবিক ভয় কাজ করে। যখন কোনো শিশু পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই নিয়মিত নিভৃতে থাকতে চায়, তখন তার মধ্যে পাপপূর্ণ অভ্যাসের সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে। গোয়ালঘর, চিলেকোঠা, টয়লেট এবং কখনো কখনো জঙ্গলের নির্জন জায়গাগুলো স্বমেহনকারীদের প্রিয় জায়গা। তাদের অলক্ষ্যে সতর্কতার সাথে অনুসরণ করে নজরে রাখা উচিত। ** পৃ. ৩৩৬ * ১৫. ''সহজেই ভয় পাওয়া:'' অল্পবয়সী স্বমেহনকারীদের মধ্যে এটি প্রচুর দেখা যায়, যদিও সহজে ভয় পাওয়া সব মানুষই খারাপ হয় না। তবে এটি নিশ্চিত যে এই অপকর্ম স্বাভাবিক ভয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং এক অস্বাভাবিক ভীতি তৈরি করে। ভুক্তভোগীর মন সব সময় বিপদের অজানা আশঙ্কায় ভরা থাকে। সে প্রায়ই পেছন ফিরে তাকায়, সব আলমারি বা পায়খানার ভেতর উঁকি দেয়, বিছানার নিচে তাকায় এবং ক্রমাগত আসন্ন বিপদের ভয় প্রকাশ করে। এ ধরনের কাজ একটি অসুস্থ কল্পনার ফল, যা যৌঙ্গিসংগত কারণেই সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৮ * ১৯. শিশুদের মধ্যে ''দুর্বল পিঠ, হাত-পায়ে ব্যথা এবং জয়েন্টের আড়ষ্টতা'' এই অভ্যাসের পরিচিত লক্ষণ। এসব শিশুর প্রায়ই ঝুঁকে থাকার কারণে প্রথম সমস্যাটি দেখা দেয়। উল্লেখিত অভ্যাসটিই এসব অবস্থার একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি এত বেশি ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, একে একটি সন্দেহজনক লক্ষণ হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ** পৃ. ৩৩৯-৩৪০ * ২১. এই পাপে আসক্ত ব্যক্তির ''হাঁটার ধরন'' সাধারণত এমন একজনকে তার কথা বলে দেবে যে এ ধরনের মানুষের হাঁটার প্রায় সব সময়ের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো চিনতে শিখেছে। শিশুর ক্ষেত্রে পা টেনে টেনে হাঁটাকে সন্দেহ করতে হবে। দ্রুত হাঁটার সময় ছেলেদের মধ্যে সেই সাবলীলতা দেখা যায় না যা স্বাভাবিক হাঁটার বৈশিষ্ট্য। বরং তারা এমনভাবে হাঁটে যেন তাদের কোমর শক্ত হয়ে গেছে এবং তাদের পাগুলো যেন কবজা দিয়ে শরীরের সাথে লাগানো কোনো খুঁটি। মেয়েদের হাঁটার ধরনেও মোচড় থাকে যা প্রায় একই রকম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তবে তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা একটু কঠিন, কারণ নারীরা প্রায়শই তাদের হাঁটার ধরনে অনেক বেশি "ভাব" দেখায়। হাঁটার অস্থিতিশীলতা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই দেখা যায়, বিশেষ করে পরিণত পর্যায়ে। ** পৃ. ৩৪০ * ২২. বিছানায় শুয়ে থাকার '''খারাপ ভঙ্গিগুলো''' এমন লক্ষণ যা খেয়াল করা উচিত। কোনো শিশু যদি সব সময় পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকে বা প্রায়ই তার হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে সে আগে থেকে আসক্ত না হয়ে থাকলেও অন্তত এই অভ্যাস গড়ে তোলার খুব কাছাকাছি আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ** পৃ. ৩৪০ * ২৩. বয়ঃসন্ধির পর মহিলাদের মধ্যে '''স্তনের বিকাশের অভাব''' নিজেকে অপবিত্র করার একটি সাধারণ ফল। তবুও এটি বলা পুরোপুরি অনিরাপদ হবে যে, ছোট স্তনযুক্ত প্রতিটি নারীই এই পাপে আসক্ত। বিশেষ করে বর্তমানে যখন "প্যাড"-এর ধ্রুব চাপ এবং তাপের কারণে প্রায়ই স্বাভাবিক সুন্দর বিকাশ নষ্ট হয়ে যায়। তবে এই লক্ষণটিকে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ** পৃ. ৩৪০-৩৪৩ * ২৪. '''খামখেয়ালি ক্ষুধা:''' গোপন পাপে আসক্ত শিশুদের এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অভ্যাসের শুরুতে তারা প্রায় সবসময়ই খাবারের প্রতি প্রচণ্ড খাইখাই স্বভাব দেখায় এবং সবচেয়ে পেটুক মানুষের মতো গপগপ করে খায়। অভ্যাসটি পোক্ত হওয়ার সাথে সাথে হজমশক্তি কমে যায়। তখন ক্ষুধা কখনো প্রায় থাকেই না, আবার কখনো মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। <br> ২৫. এ ধরনের শিশুদের একটি খুব সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অস্বাভাবিক, ক্ষতিকারক এবং উত্তেজক জিনিসের প্রতি তাদের প্রবল আসক্তি। প্রায় সবাই লবণ, গোলমরিচ, মসলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, ভিনেগার, সরিষা, ঘোড়া-মুলা এবং অনুরূপ জিনিসগুলোর প্রতি খুব আসক্ত থাকে। খাবার ছাড়াই এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া সন্দেহের যথেষ্ট কারণ হতে পারে। ** পৃ. ৩৪১ * ২৭. সাধারণ খাবারের প্রতি অনীহা হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এই পাপের শিকার কোনো ব্যক্তির মধ্যে নিশ্চিতভাবেই থাকবে। মসলা এবং অন্যান্য স্বাদবর্ধক দিয়ে ঝাল এবং উত্তেজক না করা কোনো খাবার সে ঘেন্না করে বলে মনে হয় এবং তাকে সেটি খাওয়ানো যায় না। <br> ২৮. '''তামাকের ব্যবহার''' হলো একটি জোরালো সম্ভাব্য প্রমাণ যে একটি ছেলে এর চেয়েও বেশি নোংরা অভ্যাসে আসক্ত। এই নিয়মের ব্যতিক্রম খুব কমই আছে। আদৌ আছে কি না তা নিয়েও আমাদের কিছুটা সন্দেহ আছে। যে প্রভাবগুলো একটি ছেলেকে তামাক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো তাকে একাকী পাপের দিকেও নিয়ে যাবে এবং প্রতিটি পাপ অন্যটিকে বাড়িয়ে তুলবে। ** পৃ. ৩৪২ * ৩০. মুখে ''ব্রণ'' বা ''ফুসকুড়ি'' সন্দেহজনক লক্ষণগুলোর মধ্যে পড়ে, বিশেষ করে যখন সেগুলো মুখের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি কপালেও দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার কয়েক বছর পর পর্যন্ত উভয় লিঙ্গের মধ্যেই চিবুকে মাঝে মাঝে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ব্যায়ামের অভাবে রক্ত কিছুটা দূষিত হতে পারে—এটি ছাড়া এর আর কোনো অর্থ নেই। <br> ৩১. ''হাতের নখ কামড়ানো'' এই পাপে আসক্ত মেয়েদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ অভ্যাস। এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নখের গোড়ায় সামান্য ঘা বা আলসার এবং এক বা একাধিক আঙুলে (সাধারণত ডান হাতের প্রথম দুটি আঙুলে) আঁচিল দেখা যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৪২-৩৪৩ * ৩৭. শিশুদের মধ্যে ''মৃগীরোগের আক্রমণ'' প্রায়শই খারাপ অভ্যাসের ফল হতে পারে। <br> ৩৮. ''বিছানা ভেজানো'' এমন একটি উত্তেজনার প্রমাণ যা এই অভ্যাসের সাথে যুক্ত থাকতে পারে; এটি খতিয়ে দেখা উচিত। <br> ৩৯. ''কথাবার্তার অপবিত্রতা'' এবং অশ্লীল গল্পের প্রতি আসক্তি মনের এমন একটি অবস্থা তুলে ধরে, যা এই পাপে আসক্ত নয় এমন তরুণদের মধ্যে থাকে না। <br> আগেই বলা হয়েছে, ওপরের লক্ষণগুলোর কোনো একটিকেই কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই অভ্যাস থাকার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে এর যেকোনো একটিই সন্দেহ এবং সতর্কতার জন্ম দিতে পারে এবং তা করা উচিত। অভ্যাসটি যদি সত্যিই থেকে থাকে, তবে অন্যান্য লক্ষণগুলো চোখে পড়ার আগে অল্প সময়ই পার হবে। আর যখন কয়েকটি লক্ষণ একই দিকে নির্দেশ করে, তখন প্রমাণটিকে প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে নিয়মিত নজর রাখলে নিশ্চিত লক্ষণগুলো আজ বা কাল ধরা পড়বেই। এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকবে না। অবশ্যই এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন সে বুঝতে না পারে যে তাকে নজরে রাখা হচ্ছে। কারণ এতে সে এত ভালোভাবে সতর্ক হয়ে যেতে পারে যে, তাকে হয়তো আর ধরাই যাবে না। ** পৃ. ৩৪৪ * '''নিশ্চিত লক্ষণ:''' একাকী পাপের সম্পূর্ণ নিশ্চিত লক্ষণ খুবই কম। অবশ্যই এর মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিতটি হলো হাতেনাতে ধরা। কখনো কখনো এটি কঠিন হয়, কারণ এই জঘন্য কাজের আসক্তরা তাদের এই নোংরা অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত নিপুণ চালাকি করে। যদি দেখা যায় কোনো শিশু বেশ নিয়মিত কোনো নির্দিষ্ট নির্জন জায়গায় যায়, তবে প্রয়োজনে টানা কয়েক দিন তাকে সযত্নে অনুসরণ করে আড়ালে থেকে নজরে রাখা উচিত। অনেক শিশু ঘুমাতে যাওয়ার পর রাতে এই অভ্যাস করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘুমাতে যাওয়ার পর যদি দ্রুত শান্ত হয়ে যায় এবং দেখলে মনে হয় সে ঘুমাচ্ছে, তবে কোনো অজুহাতে দ্রুত তার গায়ের কাপড় সরিয়ে ফেলতে হবে। ছেলের ক্ষেত্রে যদি লিঙ্গ শক্ত অবস্থায় থাকে এবং হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই তাকে স্বমেহনকারী হিসেবে গণ্য করা যায় এবং এতে কোনো ভুল হবে না। যদি তাকে উত্তেজনার মধ্যে পাওয়া যায়, অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি নাড়ির স্পন্দন দেখে যদি রক্ত সঞ্চালন বাড়তি মনে হয়, বা ঘর্মাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তার অপরাধ নিশ্চিত, এমনকি সে ঘুমিয়ে থাকার ভান করলেও। নিঃসন্দেহে সে বেশ কিছুদিন ধরে এই পাপে আসক্ত, যার ফলে সে এতটা ধূর্ত হয়ে উঠেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতিতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেখা যাবে, অন্যান্য যৌনাঙ্গের সাথে ভগাঙ্কুরেও রক্ত জমে আছে, এবং অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে তা ভিজে আছে। অন্যান্য অবস্থাও ছেলেদের মতোই হবে। ** পৃ. ৩৪৫ * বয়ঃসন্ধির আগে, উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই যৌনাঙ্গে এই পাপের প্রভাব হলো সংবেদনশীল অংশগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে তা এই পাপের বেশ নিশ্চিত প্রমাণ। মেয়েদের ক্ষেত্রে যোনিপথ প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় এবং লিউকোরিয়া দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধির পর, অঙ্গগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়ে যায় এবং অস্বাভাবিকভাবে ঢিলে ও সংকুচিত হয়ে যায়। <br> যাদের দায়িত্বে শিশুরা আছে, তাদের এই সব লক্ষণ ভালোভাবে আয়ত্ত করা উচিত। যদি এগুলোর জন্য ক্রমাগত নজর রাখা না-ও হয় (যা একটি বিরক্তিকর কাজ হবে), তবুও এগুলো দেখা দেওয়ামাত্র শনাক্ত করার জন্য তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আর কোনো সন্দেহ না থাকা পর্যন্ত সাবধানে অন্যান্য লক্ষণগুলো খুঁজতে হবে। ** পৃ. ৩৪৬ * ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত, যা সাধারণত কামুক স্বপ্নের সাথে ঘটে, তাকে নকটার্নাল পলিউশন বা স্বপ্নদোষ বলা হয়। প্রায়ই একে "স্পার্মাটোরিয়া" বলা হয়, যদিও এই শব্দটির ব্যবহার নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে। এর সবচেয়ে সঠিক ব্যবহার হলো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতের সাথে থাকা পুরো লক্ষণগুলোর সমষ্টির ক্ষেত্রে। <br> স্বমেহনকারী যতদিন তার নোংরা অভ্যাস চালিয়ে যায়, ততদিন সে এই রোগ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু যখন সে শুধরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্বেচ্ছায় নিজেকে অপবিত্র করা বন্ধ করে, তখন সে অবাক ও বিরক্ত হয়ে দেখে যে, তার কোনো চেষ্টা ছাড়াই ঘুমের মধ্যে একই রকম নোংরা স্খলন ঘটে। তখন সে বুঝতে শুরু করে যে সে কতটা ক্ষতি করেছে। একই রাতের স্খলন চলতে থাকে, কখনো কখনো এক রাতেই কয়েকবার ঘটে, যা তার সীমাহীন লজ্জা ও হতাশার কারণ হয়। সে আশা করে সমস্যাটি এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তার আশা বৃথা। চিকিৎসা না করালে এটি হয়তো চলতেই থাকবে যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় যে ধ্বংস শুরু করেছিল তা সম্পন্ন হয়। <br> এই রোগটি যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফল। বিবাহিত পুরুষরা যারা দাম্পত্য সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছেন, তারা যখন কোনো কারণে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বাধ্য হন, তখন তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। যারা মানসিক অপবিত্রতায় আসক্ত, শারীরিকভাবে সংযমী হলেও তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটতে পারে। যারা কঠোরভাবে সংযমী থেকেছেন এবং নিজের মনকে কামুক কল্পনায় মগ্ন হতে দেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ** পৃ. ৩৫৩-৩৫৪ * অপবিত্র চিন্তা দুইভাবে ক্ষতিকর কাজ করে। প্রথমত, এগুলো অণ্ডকোষের কাজ বাড়িয়ে দেয়, ফলে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে অতিরিক্ত ভরে যায়। জেগে থাকা অবস্থায় কামুক চিন্তাই কামুক স্বপ্নের প্রধান কারণ। ** পৃ. ৩৫৪ * কিছু পরিস্থিতি স্খলনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়, এবং এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে এরা যে ক্ষতি করবে তা আরও ত্বরান্বিত করে। যেমন রাতে মূত্রাশয় ও পেট খালি না করা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, উত্তেজক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা এবং যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করে এমন যেকোনো কিছু। সব কারণের মধ্যে প্রেমময় বা কামুক চিন্তা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। চা ও কফি, মসলা ও অন্যান্য উপকরণ এবং প্রাণিজ খাবারের এই দিকে একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। বিছানায় শোয়ার কিছু বিশেষ ভঙ্গিও উদ্দীপক বা পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। যেমন পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো। পালকের বিছানা ও বালিশ এবং বিছানায় খুব গরম কাপড়ও একই কারণে ক্ষতিকর। <br> স্বপ্নদোষের হার একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি দীর্ঘ ও অনিয়মিত বিরতিতে একবার থেকে শুরু করে সপ্তাহে দুই-তিনবার বা অনেকবার হতে পারে। আমরা এমন একটি ঘটনা দেখেছি যেখানে এক রাতেই চারবার হয়েছে। <br> একটি স্বপ্নদোষের তাৎক্ষণিক প্রভাব কতবার ঘটে এবং ব্যক্তির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। যদি খুব কম হয়, এবং অপেক্ষাকৃত সবল ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে ভরে যাওয়ার পর ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সাময়িক স্বস্তির অনুভূতি হতে পারে। এই কারণেই অনেকে মনে করেন যে স্বপ্নদোষ স্বাভাবিক এবং উপকারী। এই বিষয়টি একটু পরে আলোচনা করা হবে। <br> যদি স্বপ্নদোষ বেশি হয়, অথবা যদি তা স্বভাবতই দুর্বল গঠনের কারও ক্ষেত্রে ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো অবসাদ, ক্লান্তি, অনীহা এবং প্রায়ই ভারী মানসিক বা শারীরিক কাজ করার অক্ষমতা, হতাশা যা প্রায়শই নিরাশায় এবং এমনকি আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। এর সাথে স্থানীয় জ্বালাপোড়া বাড়ে এবং "সাধারণ প্রভাব" শিরোনামে উল্লেখিত সব অস্বাভাবিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। মাথাব্যথা, বদহজম, পিঠ ও হাঁটুর দুর্বলতা, রক্ত চলাচলে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা কমে যাওয়া—এগুলোর মাত্র কয়েকটি। ** পৃ. ৩৫৫-৩৫৬ * '''মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষ হওয়া কি দরকারি বা ক্ষতিকারক নয়?'''- একজন ব্যক্তি হয়তো দৃশ্যত খুব বেশি ক্ষতি ছাড়াই মাসে একবারের মতো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতে কয়েক বছর ধরে ভুগতে পারেন—ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের কাছে এটি একটি মীমাংসিত সত্য বলে মনে হয়, এবং এটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও ভালোভাবে প্রমাণিত। তবুও এমন মানুষও আছেন যারা এর চেয়ে বেশি না হলেও মারাত্মকভাবে ভোগেন। কিন্তু মাসে একবারের বেশি বীর্যপাত হলে তা নিশ্চিতভাবেই বড় ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে, এমনকি তাৎক্ষণিক কোনো খারাপ প্রভাব চোখে না পড়লেও। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হয়তো তা চোখে পড়ে না। এই অবস্থানকে সমর্থন করার জন্য যদি যুক্তির প্রয়োজন হয়—যা হওয়া উচিত নয়—তবে আমরা এই তথ্যটি উল্লেখ করব যে, যারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে সংযমী, এবং সব সময় সংযমী থেকেছেন (যদি এমন বিরল মানুষ পাওয়া যায়), তাদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটে না। যারা নিখুঁত পবিত্রতার আদর্শের সবচেয়ে কাছাকাছি, তাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কম ঘটে। তাই যখনই এটি ঘটে, তাকে কোনো না কোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের প্রমাণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে এ ধরনের বীর্যপাত স্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৫৬-৩৫৭ * '''বীর্যপাত স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় নয়:''' যদি এই যুক্তি দেওয়া হয় যে, অতিরিক্ত ভরে যাওয়া সেমিনাল ভেসিকলগুলো খালি করার জন্য মাঝে মাঝে বীর্যপাত হওয়া প্রয়োজন, তবে আমাদের উত্তর হলো: অপবিত্রতার অজুহাত হিসেবেও একই যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে মূল্যহীন। একইভাবে যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে বমি করা একটি প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় এবং স্বাস্থ্যকর কাজ, এবং এটি নিয়মিত হওয়া উচিত। কারণ একজন ব্যক্তি তার পেট এত বেশি ভরে ফেলতে পারেন যে, প্রতিকার হিসেবে এই কাজটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। বমি করা একটি রোগগ্রস্ত কাজ, একটি প্যাথলজিক্যাল প্রক্রিয়া, এবং এটি ব্যক্তির স্বেচ্ছায় নিয়ম ভাঙার কারণে ঘটে। তাই এটি পেটুকপনার মতোই অপ্রয়োজনীয় এবং কিছু পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়লেও এটি জীবনীশক্তির অপচয় করে। স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রেও তাই। একজন ব্যক্তি যদি তার মনকে অপবিত্র বিষয়ে মগ্ন হতে দেয়, কামুক স্বপ্ন দেখে এবং মানসিক কামুকতায় মেতে থাকে, তবে সে হয়তো প্রতিকার হিসেবে একটি বীর্যপাতকে প্রায় প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে। তবুও, অত্যাবশ্যক তরল হারানোর কারণে সে ঠিক ততটাই কষ্ট পাবে, যেন সে নিজের কামনার কারণেই এটিকে এতটা প্রয়োজনীয় করে তোলেনি। যেমন পুষ্টিকর খাবার বমি করে বের করে দেওয়ার চেয়ে পেটে রেখে হজম করা তার জন্য অনেক ভালো হতো, তেমনি শরীরের ভেতরে বীর্য ধরে রাখাও তার জন্য ভালো হতো। শরীর এটিকে প্রক্রিয়াজাত করে সম্ভবত কিছু টিস্যু মেরামতে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাত। ** পৃ. ৩৫৭-৩৫৮ * একজন প্রখ্যাত ইংরেজ চিকিৎসক ডা. মিলটন, যিনি এই রোগের কয়েক হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন, তিনি এই বিষয়ে তার একটি বইয়ে বলেছেন:- <br> "মাসে একবারের বেশি হলেই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আমি জানি আমার এই কথা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে আমি এর পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমার হাতে এটিকে সঠিক প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য না আসা পর্যন্ত আমি এটি বলিনি।" <br> "আমার পাঠকদের বেশিরভাগই জানেন, চিকিৎসকদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে যৌবনে কয়েকবার স্বপ্নদোষ হলে ক্ষতি না হয়ে বরং ভালো হয়। অস্বাভাবিক রক্তজমাটের ঘটনা ছাড়া একটি অস্বাভাবিক স্খলন কীভাবে ভালো করতে পারে, তা বোঝা কঠিন। তবে আমি নিজেকে বুঝিয়েছি যে এই নীতিটি ভুল। স্বপ্নদোষের কারণে ছেলেদের কখনোই সত্যিই ভালো লাগে না। প্রায়ই তাদের স্পষ্টভাবে খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে তাদের মনে হতে পারে যে একধরনের স্বস্তি মিলেছে, কিন্তু এটি অনেকটা মাতালের রাম খাওয়ার পর পাওয়া স্বস্তির মতোই। জীবনের শুরুতে বারবার পেট ভরে খেলেও হয়তো ক্ষতি বোঝা যায় না, কিন্তু খুব কম মানুষই যুক্তি দেবেন যে অতিরিক্ত খাওয়া ভালো। আসল কথা হলো, স্বপ্নদোষ সব সময় কমবেশি ক্ষতিকর। যৌবনে সবসময় এটি দৃশ্যমান হয় না। যেকোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বপ্নদোষের কারণে হওয়া ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। তবে এগুলো প্রত্যেকটি তার নিজের মতো করে সেই ক্লান্তি এবং দুর্বলতায় অবদান রাখে, যার অভিযোগ রোগী একদিন করবেই।" ** পৃ. ৩৫৮-৩৫৯ * '''দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ:''' রোগ বাড়ার সাথে সাথে যৌনাঙ্গের জ্বালাপোড়া এবং দুর্বলতা এত বেড়ে যায় যে সামান্য যৌন উত্তেজনাতেই লিঙ্গ শক্ত হয় এবং বীর্যপাত ঘটে। কোনো নারীর নিছক উপস্থিতি বা তার কথা চিন্তা করলেই কামুক অনুভূতির সাথে স্বপ্নদোষ হতে পারে। কিন্তু কিছুদিন পর যৌনাঙ্গ এতটাই রোগাক্রান্ত এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে সামান্য যান্ত্রিক উত্তেজনা, যেমন কাপড়ের ঘষা, বসে থাকা বা ঘোড়ায় চড়লেই নিঃসরণ ঘটে। এর সাথে কোনো ধরনের অনুভূতি থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে। প্রায়ই জ্বলুনি বা কমবেশি ব্যথার অনুভূতি হয়। লিঙ্গ শক্ত হয় না। এমনকি মলত্যাগের সময় জোর দিলেও বা অস্বাভাবিক পাতলা পায়খানা আটকানোর প্রবল চেষ্টাতেও নিঃসরণ ঘটতে পারে। ** পৃ. ৩৫৯ * আবার, বীর্য যে শরীরের সব তরলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সজীব, এবং এটি দ্রুত তৈরি করতে জীবনীশক্তির এক প্রবল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তা সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞরাই ভালোভাবে সমর্থন করেছেন। কিছু বিশিষ্ট চিকিৎসক আরও বিশ্বাস করেন যে, বীর্য শরীর দ্বারা শোষিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট টিস্যু, বিশেষ করে স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের টিস্যু তৈরি ও পূরণে খুব দরকারী। যদিও সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞ এই মতের সাথে একমত নন, তবে নিচের তথ্যগুলো এটিকে সমর্থন করে বলে মনে হয়:- <br> ১. স্নায়ু এবং শুক্রাণুর গঠন প্রায় একই। <br> ২. খোজাদের মতো বয়ঃসন্ধির আগে যাদের অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়, তারা কখনোই পুরোপুরি বিকশিত হতে পারে না। <br> যৌনাঙ্গের ব্যবহারে (তা স্বাভাবিক হোক বা অস্বাভাবিক) যে স্নায়বিক ধাক্কা লাগে, তা শরীরের ওপর পড়া সবচেয়ে গভীর ধাক্কা। <br> পুরো স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর দুর্বল শরীরের ওপর এর প্রভাব মাঝে মাঝে এত জোরালো হয় যে কাজের সময়ই মৃত্যু ঘটে। পরবর্তী ক্লান্তি স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনার সমানুপাতিক হয়। ** পৃ. ৩৬৪-৩৬৫ * আগামী প্রজন্মের জন্য, যারা কামুকতার এই যুগে ছড়িয়ে থাকা খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে এখনও নিষ্পাপ, এই ক্ষতিকর অভ্যাস কীভাবে ঠেকানো যায় তা এই বিষয়ের সাথে যুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই বিষয়টি বিশেষ করে বাবা-মায়ের জন্য আগ্রহের হওয়া উচিত। কারণ যারা নিজেরা কামুক, তারাও এমন জীবনের কুফল যথেষ্ট দেখেছেন এবং চান তাদের সন্তানরা পবিত্র থাকুক। সত্যি বলতে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। আমরা মাঝে মাঝে এমন বাবা-মায়ের কথা জানতে পারি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্তানদের পাপে জড়িয়েছেন, যেন তারা তাদের নিজেদের লজ্জা ও নরকবাসের ভাগীদার করতে চান। ** পৃ. ৩৭৮ * একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা শেখায় এমন সব প্রভাব ও মাধ্যমগুলো সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো উচিত। এগুলো নিয়ে আমরা আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই এখানে আর পুনরাবৃত্তি করছি না। বর্তমান অংশের সাথে মিলিয়ে পাঠকদের এই বিষয়ের অংশটি আবার পড়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। বাবা-মা যদি নিজেরাই এই পাপে জড়িয়ে থাকেন, তবে তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তানদের ওপর জন্মগত ও গর্ভকালীন প্রভাবগুলো যেন যতটা সম্ভব পবিত্র হয়। এতে সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাপের প্রবণতা পাবে না। <br> দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচারক ও সঙ্গীদের এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো পরিচারক পবিত্র বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সন্দেহ করা উচিত। এমনকি শিশুদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাদের বিশেষভাবে শেখানো উচিত, কারণ স্রেফ অজ্ঞতার কারণেও তারা অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। ** পৃ. ৩৭৯ * '''সঠিক সময়ে সতর্কতা:''' কিন্তু পবিত্র পরিবেশ এবং অন্যান্য সব অনুকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, যদি শিশুকে তার বিপদ সম্পর্কে না জানানো হয়, তবে সে পরিচারক বা দুর্নীতিগ্রস্ত খেলার সাথীদের ফাঁদে পড়তে পারে, অথবা নিজেই কোনো মারাত্মক আবিষ্কার করতে পারে। তাই অভ্যাস গড়ে ওঠার আগেই শিশুদের এই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার দায়িত্ব আসে। বাবা-মা বিপদের কথা জানলেও এই দায়িত্বটি খুব কমই পালন করেন। তারা কোনোভাবে নিজেদের বোঝান যে অন্যেরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলেও তাদের সন্তানরা অন্তত পবিত্র। "তাদের" সন্তানরা যে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো সন্তান নয়, তারা যে পবিত্রতা ও নিষ্পাপতার নিখুঁত উদাহরণ নয়—এই বাস্তবটি বোঝা বাবা-মায়ের জন্য প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় নিয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলতে বাবা-মায়ের এক অদ্ভুত ও অযৌক্তিক সংকোচ কাজ করে। ফলে তাদের তরুণ, জিজ্ঞাসু মন সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে যায়, যদি না তারা হঠাৎ করে কোনো নোংরা মাধ্যম থেকে এ বিষয়ে জানতে পারে। <br> শিশু বা তরুণদের যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে কথা বলার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি এই বইয়ের ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে, যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। <br> ছোটবেলা থেকেই শিশুকে যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে শেখানো উচিত এবং একে একটি খুব খারাপ কাজ হিসেবে দেখতে শেখানো উচিত। যখন শিশুটি বোঝার এবং যুক্তি দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় হয়, তখন তাকে এর ক্ষতিকর পরিণতি সম্পর্কে আরও জানানো যেতে পারে। তারপর, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্বাভাবিক জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর জন্য অঙ্গগুলোর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানো যেতে পারে। <br> এই পথ অনুসরণ করা হলে কতজনকে যে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যেত! অন্য কাউকে, বিশেষ করে শিশুদের কিছু শেখানোর আগে বাবা-মায়ের নিজেদেরই অঙ্গগুলোর আসল কাজ সম্পর্কে জানা অবশ্যই প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৭৯-৩৮০ * যখন এই অভ্যাস এবং এর প্রভাব খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে, তখন এটি সারিয়ে তোলা খুব সহজ হয়। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে, কারণ তাদের মধ্যে শুরু হওয়া ক্ষতিগুলো অনৈচ্ছিক স্বপ্নদোষের রূপ নেয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কাজটি বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব ভালো থাকে, তবে শর্ত হলো রোগীর সহযোগিতা পেতে হবে। এটি ছাড়া খুব কমই কিছু করা সম্ভব। তবে সেসব ক্ষেত্রে শুরুতেই রোগীকে বলে দেওয়া ভালো যে, বছরের পর বছর ধরে করা পাপের খারাপ কাজগুলো ঠিক করা কোনো সহজ কাজ নয়। এটি কেবল দৃঢ় চেষ্টা, ভালো কাজের প্রতি অবিচল লেগে থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই করা সম্ভব। যারা দীর্ঘকাল ধরে এই পাপ করেছে বা এর প্রভাবে দীর্ঘকাল ধরে মারাত্মকভাবে ভুগেছে, তারা এমন এক ক্ষতি করেছে যা শত চেষ্টার পরও কমবেশি সারা জীবন থাকবে। তবুও তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ যদি এই রোগকে থামানো না হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের আরও বড় ক্ষতি হবে। আর সেই ক্ষতি প্রতিরোধ করার মাধ্যমেই তারা অমূল্য উপকার পেতে পারে। ** পৃ. ৩৮২ * ''শিশুদের ক্ষেত্রে'', বিশেষ করে যারা সম্প্রতি এই অভ্যাসটি শিখেছে, শিশুটি যদি উপদেশ বোঝার মতো বড় হয়, তবে এর পাপের কথা বলে এবং এর ভয়ংকর পরিণতিগুলোর সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে এটি ভাঙানো যেতে পারে। বিশ্বস্ত সতর্কতার পাশাপাশি শিশুর মনোযোগ পুরোপুরি কাজ, পড়াশোনা বা মনোরম বিনোদনে আটকে রাখতে হবে। তাকে কোনোভাবেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, পাছে সে প্রলোভনের কাছে হার মানে। কাজ একটি চমৎকার প্রতিকার। এমন কাজ যা তাকে সত্যিই খুব ক্লান্ত করে তুলবে, যাতে বিছানায় যাওয়ার পর নিজেকে অপবিত্র করার কোনো ইচ্ছা তার না থাকে। এমন শিশুকে একজন বিশ্বস্ত বয়স্ক মানুষের তত্ত্বাবধানে রাখা সবচেয়ে ভালো। তার বিশেষ দায়িত্ব হবে অভ্যাসটি পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত দিনরাত তাকে নজরে রাখা। <br> ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, যাদের কাছে নৈতিক বিবেচনার কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই, অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। যৌনাঙ্গে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হাত বেঁধে রাখাও সফল হয়। তবে এটি সবসময় কাজ করবে না। কারণ তারা প্রায়ই পা নেড়ে বা পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে অন্যভাবে অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার পথ বের করে নেবে। অঙ্গগুলো একটি খাঁচা দিয়ে ঢেকে রাখার পদ্ধতি পুরোপুরি সফল হয়েছে। ছোট ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রায় সবসময়ই সফল হয় এমন একটি প্রতিকার হলো খতনা। বিশেষ করে যখন সামান্য ফাইমোসিস থাকে। '''অস্ত্রোপচারটি একজন সার্জনকে অবশ না করেই করা উচিত। কারণ এই অস্ত্রোপচারের সময় হওয়া অল্প সময়ের ব্যথাটি মনের ওপর একটি স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলবে,''' বিশেষ করে যদি এটিকে শাস্তির ধারণা হিসেবে যুক্ত করা হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে ভালোভাবে করা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকা ব্যথাটি এই অভ্যাসটিকে বাধাগ্রস্ত করে। আর যদি এটি আগে খুব বেশি পোক্ত না হয়ে থাকে, তবে তা ভুলে যেতে পারে এবং আবার শুরু না-ও করতে পারে। যদি শিশুটিকে নজরদারিতে রাখার কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে এত সতর্কতার সাথে নজরে রাখতে হবে যেন সে ধরা না পড়ে কিছুতেই নিয়ম ভাঙতে না পারে। যদি তাকে আংশিকভাবে নজরে রাখা হয়, তবে সে দ্রুতই চোখ এড়িয়ে যেতে শেখে, এবং এর ফলে সে তার পাপে আরও ধূর্ত হয়ে ওঠে। ** পৃ. ৩৮৩-৩৮৪ * শারীরবিদ্যা শিক্ষা দেয় যে, আমরা যা খাই তা থেকেই আমাদের চিন্তার জন্ম হয়। যে ব্যক্তি শুকরের মাংস, মিহি আটার রুটি, চর্বিযুক্ত পাই ও কেক এবং মসলা খায়, চা ও কফি পান করে এবং তামাক ব্যবহার করে, তার চিন্তায় পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা আর ওড়ার চেষ্টা করা প্রায় একই। সে শারীরিকভাবে পবিত্র থাকলে তা একটি বিশাল অর্জন হবে। তবে ঐশ্বরিক কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া মানসিকভাবে পবিত্র থাকা তার পক্ষে অসম্ভব। <br> যার চিন্তাধারা পাপের নোংরা পথে এত বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে চলে যায়, এবং স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে ধাবিত হয়—এমন ব্যক্তিকে সবচেয়ে সাধারণ, পবিত্র এবং অনুত্তেজক খাবার নিশ্চিত করতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। <br> খাবার বিষয়ে নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা প্রয়োজন:— <br> ১. "কখনো অতিরিক্ত খাবেন না।" এক বেলায় খুব বেশি খেলে পরের বেলায় উপোস করুন। শরীরকে নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিন এবং ভবিষ্যতে এমন নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে বাধা তৈরি করুন। পেটুকপনা পবিত্রতার জন্য মারাত্মক। যার যৌনাঙ্গ অপব্যবহারের কারণে দুর্বল হয়ে গেছে, অতিরিক্ত খেলে তার স্বপ্নদোষসহ অন্যান্য ক্ষতি নিশ্চিতভাবে হবে। <br> ২. "দিনে মাত্র দুবার খাবেন।" আর যদি রাতের খাবার খেতেই হয়, তবে তা খুব হালকা এবং সবচেয়ে সাধারণ খাবার, যেমন ফল, বা ফল এবং রুটি হওয়া উচিত। ঘুমাতে যাওয়ার চার বা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কিছুই খাওয়া উচিত নয়। আর তিনটার পর কিছু না খাওয়াই অনেক ভালো। প্রাচীনকালের মানুষ দিনে মাত্র দুবার খেতেন। তাহলে আধুনিক যুগের মানুষ তিন বা চারবার কেন খাবেন? পেটে হজম না হওয়া খাবার থাকলে ঘুম ব্যাহত হবে, স্বপ্ন বেশি দেখা যাবে এবং বারবার স্বপ্নদোষ হবে। জীবনের একটি সবচেয়ে বাধ্যতামূলক নিয়ম হওয়া উচিত, "কখনো ভরা পেটে ঘুমাতে যাবেন না।" এই নিয়ম ভাঙাই ভয়ংকর স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের প্রধান কারণ। <br> ৩. "সব উত্তেজক খাবার বর্জন করুন।" এর মধ্যে মশলা, গোলমরিচ, আদা, সরিষা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এসেন্স, সব ধরনের স্বাদবর্ধক, লবণ, আচার ইত্যাদির পাশাপাশি সব ধরনের প্রাণিজ খাবারও থাকবে। মাছ, মুরগি, ঝিনুক, ডিম এবং দুধও বাদ দেওয়া যাবে না। যারা সারাজীবন এসব খেয়ে অভ্যস্ত, তারা যে একবারে এগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন তা আশা করা কঠিন। হয়তো অনেকেই এগুলো কখনোই পুরোপুরি ছাড়তে পারবেন না। তবুও তাদের জন্য এগুলো ছেড়ে দেওয়াই ভালো হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে কেবল চর্বিহীন গরুর বা খাসির মাংস, খুব অল্প পরিমাণে লবণ এবং পরিমিত পরিমাণে দুধ খাওয়া যেতে পারে। এগুলো যতটা সম্ভব কম খাবেন—"যত কম, তত ভালো।" <br> ৪. "উত্তেজক পানীয়" আরও কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। ওয়াইন, বিয়ার, চা এবং কফি কোনো পরিস্থিতিতেই খাওয়া উচিত নয়। যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করায় কফির প্রভাব কুখ্যাত। চকোলেটও বাদ দেওয়া উচিত। যারা এটি ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন, তারাও এর সুপারিশ করেন। তারা জানেন না যে এতে চা ও কফির মতোই কার্যত একটি বিষ রয়েছে। <br> সব ধরনের গরম পানীয় এড়ানো উচিত। <br> তামাক পানীয় না হলেও আরেকটি উত্তেজক। এটি অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত। <br> ৫. যেসব খাবার নিষেধ করা হয়েছে, সেগুলোর বদলে ফল, শস্য এবং শাকসবজি খান। এ ধরনের খাবারের অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যকর এবং অনুত্তেজক। যারা অতিরিক্ত যৌন মিলনের কারণে ভুগছেন, তাদের খাবারে গ্রাহাম ফ্লাওয়ার, ওটমিল এবং পাকা ফল অবশ্যই থাকা উচিত। ** পৃ. ৩৯১-৩৯৩ * ১. সব মানুষের সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম দরকার। নিয়ম হওয়া উচিত, তাড়াতাড়ি ঘুমান এবং ক্লান্তি দূর হওয়া পর্যন্ত ঘুমান। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভোরে ওঠা উপকারী নয়। <br> ২. সকালে ঘুম ভাঙামাত্রই উঠে পড়ুন, যদি তা চারটার পর হয়। দ্বিতীয়বার ঘুমানো সাধারণত ক্লান্তি দূর করে না, বরং বিপজ্জনক। কারণ স্বপ্নদোষ বেশিরভাগ সময় এই সময়েই হয়। <br> ৩. রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রাতের খাবারের ঠিক আগে কয়েক মিনিট ঘুমান। এই সময়ে আধা ঘণ্টার বিশ্রাম অসাধারণভাবে সতেজ করে। এমনকি পনেরো মিনিট ঘুমালেও খুব সতেজ লাগে। দুপুরের খাবারের পর ঘুমাবেন না। কারণ এতে স্বপ্নদোষ হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। আর সাধারণত দুপুরের খাবারের পরের ঘুম ক্লান্তি দূর করে না এবং বদহজম তৈরি করে। <br> ৪. পেট বা মূত্রাশয় ভরা রেখে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। ঘুমানোর ঠিক আগে মূত্রাশয় খালি করা উচিত। রাতে প্রস্রাব করার জন্য এক বা দুবার ওঠার অভ্যাস করাও ভালো। <br> ৫. ঘুমানোর ভঙ্গিও কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ। পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে স্বপ্নদোষের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এক কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। রাতের খাবার খেয়ে থাকলে ডান কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। কারণ এই ভঙ্গি খাবারকে পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে সাহায্য করে, যা হজমের জন্য দরকারি। <br> ঘুমন্ত অবস্থায় রোগী যেন পিঠের ওপর ভর দিয়ে না ঘুমায়, তা ঠেকাতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয় এবং কখনো কখনো তা কাজেও দেয়। অ্যাক্টনের পরামর্শ দেওয়া সবচেয়ে সহজ কৌশলটি হলো একটি তোয়ালের মাঝখানে একটি গিট বাঁধা। এরপর তোয়ালেটি শরীরের সাথে এমনভাবে বাঁধা হয় যেন গিটটি পিঠের মাঝামাঝি থাকে। ঘুমন্ত ব্যক্তি পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুরলে গিটের চাপের কারণে যে অস্বস্তিকর অনুভূতি হবে, তা প্রায়ই এটি ঠেকাতে পুরোপুরি কাজ করবে। কেউ কেউ একই কাজের জন্য পিঠে এক টুকরো কাঠ বেঁধে রাখেন। আবার কেউ কেউ বিছানার খুঁটির সাথে এক হাত বেঁধে রাখার অভ্যাস করেন। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা উচিত নয়, তবে চিকিৎসার অন্যান্য উপায়ের সাথে এগুলোও চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। <br> ৬. নরম বিছানা এবং বালিশ সাবধানে এড়িয়ে চলতে হবে। শক্ত বিছানা পাওয়া গেলে পালকের বিছানা ব্যবহার করা উচিত নয়। নিচে একটি ভাঁজ করা কম্বল বিছিয়ে মেঝেতে ঘুমানো আরও ভালো। নরম বালিশ মাথা গরম করে, যেমন নরম বিছানা শরীরের অন্যান্য অংশ গরম করে। চুল দিয়ে তৈরি তোশক, অথবা ভুট্টার খোসা, ওট খড় বা এক্সেলসিয়র দিয়ে তৈরি বিছানা—যার ওপর দুই বা তিনটি কম্বল বা একটি নকশি করা সুতির তোশক থাকে—খুব স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক বিছানা হয়। <br> ৭. অতিরিক্ত ভারী আবরণও সমান যত্নে এড়ানো উচিত। গ্রীষ্মকালে যতটা সম্ভব পাতলা আবরণ এবং শীতকালে আরামের সাথে মানানসই সবচেয়ে হালকা আবরণ ব্যবহার করা উচিত। খুব গরম অবস্থায় ঘুমানো প্রায়ই রাতের স্বপ্নদোষ উসকে দেয়। <br> ৮. ঘুমানোর ঘরে থাকার সময় এবং দিনের বেলা ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে ভুলবেন না। এটি এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে সকালের রোদ্দুর আসে। ঘরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা ভালো। এগুলো বাতাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে এবং ঘরের মন ভালো করা পরিবেশও বাড়াবে। ** পৃ. ৩৯৩-৩৯৫ * '''স্বপ্ন:''' যারা রাতের স্বপ্নদোষে ভোগেন, তাদের জন্য এটি অনেক আগ্রহের একটি বিষয়। কারণ এ ঘটনাগুলো প্রায় সবসময়ই কামুক স্বপ্নের সাথে যুক্ত থাকে। <br> সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘুমে কোনো স্বপ্ন থাকে না; চেতনা পুরোপুরি স্থগিত থাকে। স্বপ্ন দেখার সাধারণ পর্যায়ে এক অদ্ভুত ধরনের চেতনা কাজ করে। তখন ইচ্ছাশক্তি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকলেও মনের অনেক ক্ষমতা কমবেশি সক্রিয় থাকে। কার্পেন্টার সাধারণ স্বপ্ন এবং জেগে থাকার মাঝখানের আরেকটি চেতনার স্তরের কথা বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি অবস্থা "যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টার চেতনা থাকে যে সে স্বপ্ন দেখছে। তার মনের সামনে আসা ছবিগুলোর অবাস্তবতা সম্পর্কে সে সচেতন থাকে। সে চাইলে আনন্দদায়ক হলে স্বপ্নটিকে দীর্ঘ করার জন্য সচেতন এবং সফল চেষ্টাও করতে পারে, আর বিরক্তিকর হলে তা দূর করতে পারে। এভাবেই সে একধরনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেখায়, যা সত্যিকারের স্বপ্নের ক্ষেত্রে একেবারেই থাকে না।" ** পৃ. ৩৯৬-৩৯৭ * '''স্বপ্ন কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?'''- তথ্য প্রমাণ করে যে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। স্বপ্নদোষের একটি বড় অংশ ডা. কার্পেন্টারের বর্ণনা করা ওই অবস্থাতেই ঘটে, যেখানে ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সকালের ঘুমের সময় মনের সাধারণ অবস্থা এটাই থাকে। কেউ যদি দৃঢ়ভাবে ঠিক করে যে সে ঘুমে হোক বা জেগে হোক, যখনই অপবিত্র চিন্তা আসবে, তখনই সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়বে, তবে সে দেখবে যে কেবল এই আধা-চেতন অবস্থাতেই নয়, বরং আরও গভীর ঘুমের মধ্যেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ** পৃ. ৩৯৭ * জেগে থাকার সময় চিন্তাগুলো কেমন থাকে, তার ওপর ঘুমের সময়ও চিন্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি নির্ভর করে। পুরোপুরি সচেতন থাকার সময় মনকে নিয়ন্ত্রণ করলে, অচেতন বা আধা-চেতন থাকার সময়ও মন নিয়ন্ত্রিত হবে। <br> এ বিষয়ে ডা. অ্যাক্টন খুব যথার্থ কিছু কথা বলেছেন:- <br> "রোগীরা আপনাকে বলবে যে তারা তাদের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে 'পারে না'। এটি সত্য নয়। যারা জেগে থাকার সময়ের চিন্তা এবং ঘুমের সময়ের স্বপ্নের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারা জানেন যে এগুলো ঢিলেঢালাভাবে যুক্ত। ঘুমে বা জাগরণে 'চরিত্র' একই থাকে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, একজন মানুষ যদি দিনের বেলা তার চিন্তাভাবনাকে কামুক বিষয়ে মগ্ন থাকতে দেয়, তবে রাতে সে তার মনকে কামুক স্বপ্নে ভরা দেখতে পাবে। একটি অন্যটির ফল। আর রাতের স্বপ্নদোষ হলো এর স্বাভাবিক পরিণতি, বিশেষ করে যখন দিনের বেলার আসক্তি যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। জেগে থাকার সময় যে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে আমরা যৌন আকাঙ্ক্ষা দমন করিনি, ঘুমিয়ে পড়ার পর সেই ইচ্ছাশক্তি আমাদের দিনের বেলার সাহসের চেয়েও বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া জাগরণের চিন্তার ঘুমন্ত প্রতিধ্বনি থেকে রক্ষা করবে না।" ** পৃ. ৩৯৮-৩৯৯ * প্রায় সব পরিস্থিতিতেই স্বাস্থ্যের জন্য রোজ গোসল করা অপরিহার্য। এই শ্রেণির রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে দরকারি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ভালোভাবে গোসল করা উচিত। সাধারণ "ঠান্ডা জলে গোসল" কারও জন্যই ভালো নয়, বিশেষ করে সকালে। যদিও অসাধারণ সহনশীলতার অধিকারী কেউ কেউ এটি খুব ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। তবে সেমিনাল দুর্বলতায় ভোগা রোগীদের প্রায়ই "ঠান্ডা জলে গোসল" করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুবই ক্ষতিকর। কারণ তাদের রোগ তাদের জীবনীশক্তি এতটাই কমিয়ে দিয়েছে যে তারা এত কঠিন চিকিৎসা সহ্য করতে পারে না। <br> রোদে গোসল, ইলেকট্রিক গোসল, স্প্রে, ডুব দিয়ে গোসল এবং গোসলের অন্যান্য ধরনগুলো তাদের জন্য খুব উপকারী, যারা নিয়ম ভাঙার প্রভাবে ভুগছেন। ** পৃ. ৩৯৯ * স্পার্মাটোরিয়ার বিশেষ চিকিৎসা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে নিউইয়র্কের একজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক আমাদের বলেছিলেন, "যখন কোনো তরুণ স্বপ্নদোষে ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাকে টনিক দিই এবং ''কোনো নারীর কাছে পাঠাই''।" হাতুড়েদের কথা বাদই দিলাম, এমনকি পেশাদার চিকিৎসকদের মধ্যেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি অস্বাভাবিক নয়—এ বিষয়টি যতটা সত্য, ততটাই দুঃখজনক। এমন শত শত তরুণ আছে যাদের নৈতিকতা এ ধরনের উপদেশের কারণে ধ্বংস হয়েছে। অন্তত অবৈধ সম্পর্কের দিক থেকে তারা পবিত্র অভ্যাসে বড় হয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা খুব প্রবল হলেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু একজন চিকিৎসক যখন প্রতিকার হিসেবে ব্যভিচার করার পরামর্শ দেন, তখন তারা অনেক সময় খুব সহজেই নিজেদের পবিত্রতা বিসর্জন দেয় এবং এমন এক পাপের জীবন শুরু করে যা থেকে তাদের বাঁচানো যেত। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, অনেক তরুণ ইচ্ছা করেই এমন চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়, যাদের এই ধরনের প্রতিকার দেওয়ার অভ্যাস আছে বলে তারা জানে। <br> কত সাধারণভাবে এই পথটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুব কম মানুষই জানে। আর তা হাতুড়েদের মাধ্যমে নয়, বরং নিয়মিত পেশার সদস্যদের মাধ্যমে। একজন চিকিৎসা-বন্ধু আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি এমন একটি ঘটনার কথা জানেন যেখানে একজন গ্রামের চিকিৎসক এক সংযমী তরুণকে বড় শহরে গিয়ে পতিতাদের সাথে এক বছর বা তার বেশি সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা সে মেনেও নিয়েছিল। তার পরবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। তবে এটি খুবই সম্ভব যে, এই প্রতিকার নেওয়া অন্য বেশিরভাগ তরুণের মতো সেও দ্রুতই এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যা তার আগের অবস্থার কোনো উন্নতি না করেই তার অবস্থাকে আগের চেয়ে দশ গুণ খারাপ করে দিয়েছিল। এই পথ নিলে বড়জোর এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন হয়। তবে এর চেয়েও বড় কথা হলো, একটি রোগের অনৈচ্ছিক ফলকে সবচেয়ে জঘন্য চরিত্রের একটি স্বেচ্ছাকৃত পাপে পরিণত করা হয়। এটি এমন একটি অপরাধ যেখানে দুজন অংশ নেয় এবং এটি কেবল প্রকৃতির বিরুদ্ধেই নয়, নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি চরম অবমাননা। ** পৃ. ৪০০-৪০১ * '''বিয়ে:''' আরেক শ্রেণির চিকিৎসক নৈতিকতার প্রতি আরও বেশি সম্মান দেখিয়ে আত্ম-অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের সব সমস্যার নিশ্চিত নিরাময় হিসেবে বিয়ের পরামর্শ দেন। তবে তারা প্রকৃত অক্ষমতার বিষয়টিকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখতে পারেন। এই পরামর্শের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আপত্তি তোলা যেতে পারে; আমরা নিচের আপত্তিগুলো জানাচ্ছি:- <br> ১. এটি কোনো প্রতিকার নয়। কারণ অবৈধ সম্পর্কের মতো "বৈধ পতিতাবৃত্তিও" কেবল এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন, যার খারাপ প্রভাবগুলোতে খুব একটা পার্থক্য নেই। <br> ২. এটি যদি প্রতিকার হতোও, তবুও তা সমর্থনযোগ্য হতো না। কারণ এর ব্যবহারের ফলে দাম্পত্য সম্পর্কের অপব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠত, যেমনটি অন্য জায়গায় দেখানো হয়েছে। <br> ৩. আরেকটি কারণ হিসেবে (যদি এটি "ভালো" কারণ হয়) জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, একজন মানুষের একজন স্ত্রীকে ওষুধের শিশি হিসেবে ব্যবহার করার কী অধিকার আছে? মিস্টার অ্যাক্টন খুব সুন্দরভাবে জিজ্ঞেস করেছেন, "একজন যুবতী, যাকে একটি আত্মকেন্দ্রিক হিসেবের বলির পাঁঠা বানানো হয়, সে কী এমন করেছে যে তার জন্য অপেক্ষা করা এমন জীবনের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে? কে তাকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে দেখার অধিকার দিয়েছে? আর কে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তার বিশ্রাম এবং তার বাকি জীবনের সুখ এতটা হালকাভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অধিকার পেয়েছে?" ** পৃ. ৪০২ * '''ওষুধ, আংটি ইত্যাদি:''' কোনো শ্রেণির রোগীদের ওপর ওষুধ যদি নিজে থেকে কাজ করতে পারে, তবে এই শ্রেণির রোগীদের জন্য তা নিশ্চিতভাবেই অর্থহীন। পুরো মেটেরিয়া মেডিকাতে এমন কোনো শিকড়, লতাপাতা, নির্যাস বা মিশ্রণ নেই যা একাই স্বপ্নদোষে ভোগা কাউকে সুস্থ করতে পারে। বছরের পর বছর ওষুধ খেয়ে হাজার হাজার হতভাগ্য মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে। একজন চিকিৎসক হয়তো রোগীকে পার্জ করবেন এবং স্যালাইভেট করবেন। আরেকজন তাকে ফসফরাস, কুইনাইন বা এরগট গেলাবেন। আরেকজন তাকে আয়রন খাওয়াবেন। আরেকজন তাকে লিপুলিন, কর্পূর এবং ডিজিটালিন দেবেন। আবার আরেকজন তাকে আফিম, বেলেডোনা এবং ক্লোরাল দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখবেন। আরেকজন পারগেটিভস এবং ডাইউরেটিকস দেবেন। আর কেউ কেউ এমনও থাকবেন যারা সুযোগ পেলে পুরো ফার্মাকোপিয়া বেচারার পেটে ঢেলে দেবেন, যদি তারা তাকে দিয়ে মুখটা যথেষ্ট বড় করে খোলাতে পারেন। <br> এইসব বেচারাদের যেভাবে ফোসকা তোলা হয়, পোড়ানো হয়, ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং অন্যান্য নানা উপায়ে নির্যাতন করা হয়, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। তবুও তারা প্রায়ই হাসিমুখে এগুলো সহ্য করে। তারা মনে করে এটা তাদের পাপের জন্য উপযুক্ত শাস্তি এবং হয়তো ভাবে এই নির্মম শাস্তির মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হবে। এসব পদ্ধতির ফলে কখনো কখনো সাময়িকভাবে স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়। কিন্তু রোগী এতে সুস্থ হয় না এবং দ্রুতই রোগ ফিরে আসে। <br> স্বপ্নদোষ ঠেকানোর জন্য আংটি, পেসারি এবং অসংখ্য যান্ত্রিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ বৃথা। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা যায় না। এসব যন্ত্রের কয়েকটি বেশ উদ্ভাবনী হলেও এগুলো সবই মূল্যহীন। এগুলোর পেছনে সময় এবং অর্থ ব্যয় করা নিছক বোকামি। ** পৃ. ৪১১-৪১২ * নিজেকে অপবিত্র করার পাপটি একজন মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে নিচু এবং সবচেয়ে অবক্ষয়ী পাপগুলোর একটি। এটি পশুর চেয়েও খারাপ। যারা এটি করে, তারা নিজেদেরকে শ্বাস নেওয়া সবচেয়ে নিচু প্রাণীর চেয়েও অনেক নিচে নামিয়ে দেয়। ** পৃ. ৪২৮ === ১৯০৩ === ==== ''দ্য লিভিং টেম্পল'' ==== : <small>ব্যাটল ক্রিক, এমআই: গুড হেলথ পাবলিশিং কোম্পানি, (১৯০৩)। [https://babel.hathitrust.org/cgi/pt?id=hvd.hw1vwg;view=1up;seq=15 সম্পূর্ণ পাঠ অনলাইনে] উপলব্ধ।</small> * মহান শিক্ষক বলেছিলেন, "তোমার ছেলে যদি রুটি চায়, তুমি কি তাকে পাথর দেবে?" শরীর রুটি চায়, প্রাণদায়ী খাবার চায়। কিন্তু তার বদলে কতবার আমরা তাকে আচার, সবুজ জলপাই, ভাজা খাবার এবং নানা ধরনের জঘন্য মিশ্রণের মতো সহজে হজম না হওয়া অস্বাস্থ্যকর আবর্জনা দিই, যা শরীরে জীবনের বদলে মৃত্যু নিয়ে আসে। কতবার এমন হয় যে, শরীর যখন বিশুদ্ধ, প্রাণদায়ী পানি চায়, তখন আমরা তাকে বিয়ার, হুইস্কি, ওয়াইন, চা বা কফির মতো রোগ সৃষ্টিকারী পানীয় দিই। ** পৃ. ৫৮ * মানুষ গৃহপালিত পশুর মতোই তার গবাদিপশু, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি পালন করে। তার সন্তানেরা মেষশাবকদের খেলার সাথী বানায়। মাঠে তার ষাঁড়গুলো তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। দয়ার প্রতিদান হিসেবে তারা ভালোবাসা দেয়। তারা মানুষের ওপর কতটা ভরসা করে! কত বিশ্বস্ততার সাথে সেবা করে! শীতের কুয়াশার সাথে সাথে আসে একটি অশুভ দিন—গণহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, রক্তপাত এবং কসাইগিরির দিন। দা আর কুঠার নিয়ে সে তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—যে ভেড়া তার হাতে চুমু খেয়েছিল, যে ষাঁড় তার মাঠে লাঙ্গল টেনেছিল। চারপাশ আতঙ্কের চিৎকার, আর্তনাদ এবং হতাশার কান্নায় ভরে ওঠে। মাটি গরম রক্তে ভিজে যায় এবং লাশে ভরে ওঠে। ** পৃ. ১৮৬ * "মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ"-এর চেয়েও আরও ব্যাপক এবং সর্বজনীন একটি ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। আসুন আমরা "জীবের ভ্রাতৃত্ববোধ" নিয়ে চিন্তা করি এবং কথা বলি। আসুন আমরা ষাঁড়ের মধ্যে এমন এক ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী স্বজন দেখি, যে আমাদের সম্মানের যোগ্য। আসুন আমরা ভেড়াকে এমন এক নম্র ও বাধ্য সহযোদ্ধা হিসেবে দেখি এবং স্বীকার করি, যে আমাদের কাছে সুরক্ষা এবং প্রশংসা চায়। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * আসুন আমরা ভুলে না যাই যে, সূর্যের আলো হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদের হাসি। সূর্যের আলো হলো স্বর্গের আলো, জীবন এবং গৌরব, সত্যিকারের শেকিনাহ, সেই বাস্তব উপস্থিতি যা দিয়ে মন্দির সবচেয়ে বেশি পূর্ণ হওয়া দরকার। আর শীতল বাতাস হলো স্বর্গের নিঃশ্বাস, এক সত্যিকারের জীবনদায়ী [[বার্তাবাহক]], যা তার ডানায় ভর করে সুস্থতা নিয়ে আসে। ** পৃ. ৪১২ * যে ব্যক্তি একটি পরিষ্কার মাথা চান, এমন একটি মস্তিষ্ক চান যা চারপাশের মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম প্রভাবগুলোর প্রতি তীব্রভাবে সজাগ থাকবে, তার নিয়ন্ত্রিত শারীরিক অঙ্গগুলোর প্রতিটি ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে, মহাজাগতিক চিন্তার অসীম উৎস থেকে ধারণা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং ঈশ্বরকে অনুসরণ করে মহৎ চিন্তা করতে পারবে, তাকে অবশ্যই সহজ, সংযমী এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে এবং সব ধরনের ক্ষতিকর ও নিম্নমানের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি সবচেয়ে ভালো খাবার বেছে নেবেন। এগুলোর মধ্যে থাকবে ফল, বাদাম, শিমজাতীয় খাবার এবং ডেক্সট্রিনাইজড শস্য—অর্থাৎ, ভালোভাবে সেঁকা শস্যের তৈরি খাবার, টোস্ট করা রুটি, টোস্ট করা গমের ফ্লেক্স ইত্যাদি। তিনি পরিমিত খাবেন, কখনোই পেট ভরে খাবেন না। তিনি প্রতিদিন অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা বাইরে ব্যায়াম করবেন, যতটা সম্ভব খোলা বাতাসে থাকবেন। তিনি রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি জোরদার ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন এবং রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনবার একটি গরম পরিষ্কারক গোসল করবেন। তিনি নিজের মন ও শরীরের প্রতিটি শক্তি দরকারী কাজের জন্য জমিয়ে রাখবেন। তিনি সবচেয়ে ব্যাপক অর্থে একজন ধার্মিকের মতো বাঁচার চেষ্টা করবেন। ** পৃ. ৪২২-৪২৩ * মানুষ যতদিন তার শরীরকে একটি আনন্দের বীণা হিসেবে দেখবে এবং এর তারগুলো যতদিন বাজানো যাবে ততদিন এতে বাজাতে থাকবে, ততদিন কোয়ারেন্টাইন আইন এবং খুঁটিনাটি স্বাস্থ্যবিধি থাকা সত্ত্বেও সে শারীরিক অবক্ষয় এবং অধঃপতনের পথেই হাঁটতে থাকবে। কিন্তু যখন সে তার ঐশ্বরিক উৎস ও দায়িত্বগুলো বুঝবে এবং নিজেকে সৃষ্টির মুকুট হিসেবে চিনতে পারবে, যখন সে বুঝবে তার শরীর এক মূল্যবান জিনিস, যাকে পবিত্রভাবে রক্ষা করতে হবে, উন্নত করতে হবে, প্রসারিত করতে হবে এবং এই পৃথিবীতে মানবতার সেবার জন্য পবিত্র করতে হবে এবং পরকালে উন্নতি ও আনন্দের অনন্ত সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে, কেবল তখনই সে তার পতিত অবস্থা থেকে সেই চূড়ার দিকে উঠতে শুরু করবে, যেখানে সে আবার সৃষ্টির মুকুট, ঈশ্বরের সেরা সৃষ্টি, "পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রাণীদের আদর্শ" হিসেবে দাঁড়াতে পারবে। ** পৃ. ৪৩১-৪৩২ === ১৯০৯ === * এটি লক্ষ্য করা বেশ আগ্রহের বিষয় যে, সারা বিশ্বের বিজ্ঞানমনস্ক মানুষরা এই সত্যটি বুঝতে শুরু করেছেন যে, প্রাণীর মাংস একটি বিশুদ্ধ পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং এটি বিষাক্ত পদার্থে মিশ্রিত, যা মূলত প্রাণীর জীবনের স্বাভাবিক বর্জ্যের মতো। ** [[চার্লস ওয়েবস্টার লিডবিটার|সি. ডব্লিউ. লিডবিটার]] রচিত ''[https://books.google.it/books?id=WufWAAAAMAAJ সাম গ্লিম্পসেস অব অকাল্টিজম: অ্যানসিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন]'' (রাজপুত প্রেস, ১৯০৯, পৃ. ২৬৫) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯১৩ === * উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ—কয়লা এবং কাঠ—থেকেই সেই শক্তি আসে যা আমাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালায়, ট্রেন টানে, স্টিমশিপ চালায় এবং সভ্যতার কাজ করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ থেকেই সব প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই শক্তি পায়, যা পেশি ও মানসিক কাজের মাধ্যমে প্রাণীর জীবনে প্রকাশিত হয়। উদ্ভিদ গড়ে তোলে, প্রাণী ধ্বংস করে। উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে; প্রাণী শক্তি ক্ষয় করে। লোকোমোটিভ বা প্রাণী—যেকোনোটির মাধ্যমেই শক্তির প্রকাশ ঘটুক না কেন, এর ফলে নানা ধরনের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। প্রাণীর কাজ করা টিস্যুগুলো কেবল এই কারণেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে যে, সেগুলো রক্ত দ্বারা ক্রমাগত ধুয়ে পরিষ্কার হয়। রক্ত তাদের ভেতর ও চারপাশ দিয়ে বয়ে চলা এমন এক অবিরাম স্রোত, যা বিষাক্ত পদার্থগুলো তৈরি হওয়ার সাথে সাথে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। শিরাস্থ রক্তের এই রূপ তার বিষাক্ত পদার্থের কারণেই হয়, যা কিডনি, ফুসফুস, ত্বক এবং অন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মৃত প্রাণীর মাংসে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো প্রচুর পরিমাণে থাকে। মৃত্যুর মুহূর্তেই শরীর থেকে এগুলো বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যদিও মৃত্যুর পরও বেশ কিছুক্ষণ এগুলো তৈরি হতে থাকে। সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট ফরাসি সার্জন মন্তব্য করেছেন যে 'বিফ টি (গরুর মাংসের নির্যাস) আক্ষরিক অর্থেই বিষের একটি দ্রবণ।' ** সি. ডব্লিউ. লিডবিটার রচিত ''[[ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম]]'' (১৯১৩) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯২১ === * মানুষের পুষ্টির জন্য এমন কোনো প্রয়োজনীয় বা কাঙ্ক্ষিত উপাদান মাংস বা প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায় না, যা উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া যায় না বা তা থেকে তৈরি করা যায় না। ** ''দ্য নিউ ডায়েটেটিকস, হোয়াট টু ইট অ্যান্ড হাউ: অ্যা গাইড টু সায়েন্টিফিক ফিডিং ইন হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ'', ব্যাটল ক্রিক, এমআই: দ্য মডার্ন মেডিসিন পাবলিশিং কো., ১৯২১, [https://books.google.it/books?id=TNsMAwAAQBAJ&pg=PA366 পৃ. ৩৬৬]। === ১৯৩৫ === * সব ধরনের জাতিগত পরীক্ষায় প্রমাণিত, নিজেদের দেশের এমন এক জনগোষ্ঠীকে তাড়িয়ে দেওয়া, যাদের রক্ত তাদের নিজেদের রক্তের চেয়ে অনেক উন্নত... ** "জার্মানি'স ফিউটাইল এফোর্ট অ্যাট রেস বেটারমেন্ট" (অক্টোবর ১৯৩৫) নামক ''গুড হেলথ''-এর একটি সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া। ব্রায়ান সি. উইলসন রচিত ডা. জন হার্ভে কেলগ অ্যান্ড দ্য রিলিজিয়ন অব বায়োলজিক লিভিং (২০১৪ সালে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=rwwxBQAAQBAJ&pg=PA215 ২১৫ নম্বর পৃষ্ঠায়] এবং [[w:হাওয়ার্ড মার্কেল|হাওয়ার্ড মার্কেল]] রচিত "দ্য কেলগস: দ্য ব্যাটিলিং ব্রাদার্স অব ব্যাটল ক্রিক" (২০১৭ সালে প্যানথিয়ন বুকস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=GIsuDwAAQBAJ&pg=PA313 ৩১৩ নম্বর পৃষ্ঠায়] উদ্ধৃত। === ১৯৩৮ === * কোনো চারণভূমিতে পড়ে থাকা মরা গরু বা ভেড়াকে পচা মাংস বা মরা পশু হিসেবে ধরা হয়। একই মরা পশুর মাংস যখন সাজিয়ে কসাইয়ের দোকানে ঝোলানো হয়, তখন তা খাবার হিসেবে চলে! সাবধানে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখলে বেড়ার কোনায় পড়ে থাকা মরা পশু আর কসাইয়ের দোকানের মরা পশুর মধ্যে খুব কম বা কোনো পার্থক্যই চোখে না পড়তে পারে। দুটোই কোলন জীবাণুতে গিজগিজ করে এবং পচা দুর্গন্ধে ভরা থাকে। ** দাহ্যভাই এইচ. জানি রচিত ''[https://books.google.it/books?id=HSHOAAAAMAAJ রোমান্স অব দ্য কাউ]'' (দ্য বোম্বে হিউম্যানিটারিয়ান লিগ, ১৯৩৮, পৃ. ৮১) বইয়ে উদ্ধৃত। == বহিঃসংযোগ == *{{উইকিপিডিয়া}} *{{উইকিসংকলন|Author:John Harvey Kellogg}} {{ডিফল্টসর্ট:কেলগ, জন হার্ভে}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৩-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:ইউজেনিসিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:নিরামিষভোজী কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা]] 2cvtph5p4o4yrb6o3gqp0de8hgtnfhx 76697 76696 2026-04-14T14:05:03Z NusJaS 273 /* বহিঃসংযোগ */ 76697 wikitext text/x-wiki [[Image:John Harvey Kellogg ggbain.15047.jpg|thumb|{{w|জন হার্ভে কেলগ}}]] '''{{w|জন হার্ভে কেলগ}}''' এম.ডি. (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫২ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩) {{w|মিশিগান|মিশিগানের}} ব্যাটল ক্রিকের একজন মার্কিন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি [[w:বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞান|হোলিস্টিক]] পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি [[w:স্যানিটোরিয়াম|স্যানিটোরিয়াম]] চালাতেন। সেখানে তিনি মূলত {{w|পুষ্টি|পুষ্টি}}, {{w|এনিমা|এনিমা}} ও [[ব্যায়াম|ব্যায়ামের]] ওপর জোর দিতেন। স্বাস্থ্যের জন্য কেলগ [[নিরামিষবাদ|নিরামিষভোজনের]] পক্ষে ছিলেন। তিনি তার ভাই উইল কিথ কেলগের}} সাথে মিলে {{w|কর্ন ফ্লেক্স|কর্ন ফ্লেক্স}} নামের প্রাতরাশ {{w|খাদ্যশস্য|সিরিয়াল}} আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি আমেরিকান মেডিকেল মিশনারি কলেজ}} প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ==উক্তি== ===১৮৮১=== ==== ''প্লেইন ফ্যাক্টস ফর ওল্ড অ্যান্ড ইয়াং'' ==== : <small> বার্লিংটন, আইএ: সেগনার অ্যান্ড কনডিট, (১৮৮১) [https://www.gutenberg.org/files/19924/19924-h/19924-h.htm সম্পূর্ণ পাঠ্য অনলাইনে উপলব্ধ]। </small> * এই কাজটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশকরা কোনো ক্ষমা চাইছেন না। এতে উন্মোচিত হওয়া কুফলগুলোর ব্যাপক বিস্তারই এর প্রকাশের জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ। এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়গুলো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকা চরম অজ্ঞতা দূর করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। এই খণ্ডে থাকা তথ্যগুলো সঠিকভাবে ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এটি সম্ভব। ** পৃষ্ঠা v * যৌন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী আইন এবং এগুলো লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলো সম্পর্কে প্রকৃতির শিক্ষা আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিষয়ের ব্যবহারিক অংশটি শুরু করার আগে প্রজননের শারীরস্থানের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে। বইয়ের এই অংশে কোনো ধরনের অশালীন প্রকাশ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে শালীনতার কোনো অতি-রক্ষণশীল ধারণার কাছে ধারণার স্পষ্টতা বিসর্জন দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে করা হয়নি। আশা করা যায় পাঠকরা মনে রাখবেন বিজ্ঞানের ভাষা সবসময়ই শুদ্ধ। কেবল কলুষিত কল্পনার মাধ্যমেই এটি অপবিত্র হয়ে ওঠে। ** পৃষ্ঠা vi * কোনো একক ব্যক্তির অস্তিত্বের চেয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুপাতে প্রজনন অঙ্গগুলোকে মানবদেহের অন্য যেকোনো অঙ্গের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে রাখা যেতে পারে। কারণ এই অঙ্গগুলোর ওপর মানুষ সৃষ্টির মতো সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনপ্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। প্রকৃতির এই উচ্চতর মর্যাদার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একটি ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। প্রজনন কার্যকলাপের অপব্যবহারের জন্য প্রকৃতি কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর সবচেয়ে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। অপব্যবহারের এই ক্ষমতা প্রায় একচেটিয়াভাবে কেবল মানুষেরই রয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যৌন সীমালঙ্ঘনের ভয়ানক শাস্তির শিকার হয়। <br> প্রজনন ক্ষমতার "ব্যবহার" সম্ভবত মানুষের পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে উচ্চতর শারীরিক কাজ। এর "অপব্যবহার" নিশ্চিতভাবেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক তাদের জীবনের সুখ বা দুঃখ অনেকাংশে নির্ধারণ করে, তা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষকেরই সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাই এই বিষয়টি যথাযথ মনোযোগ ও সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমরা যতই সযত্নে এটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটি অনিবার্যভাবেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে। কেবল নিখুঁত সততার সাথে এবং আবেগমুক্ত মন নিয়েই এটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক বিষয়টি জানার ও "করার" জন্য প্রার্থনাপূর্ণ আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭ * '''অকাল যৌনতা:''' মানবজীবনে এমন দুটি সময় রয়েছে যখন [[sexual|যৌন]] প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণ [[dormant|সুপ্ত]] থাকা উচিত। [[nature|প্রকৃতি]] [[perverted|বিকৃত]] না হলে বাস্তবে তা-ই হয়। প্রথম সময়টি হলো শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো বার্ধক্যের সময়। <br> প্রাকৃতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে বড় করা হলে বয়ঃসন্ধির আগে শিশুদের কোনো যৌন ধারণা বা অনুভূতি থাকবে না। তাদের মাথায় যৌন বিষয়ে কোনো লালসাপূর্ণ চিন্তাও আসবে না। সেই সময় পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রটি অনুন্নত অবস্থায় সুপ্ত থাকা উচিত। বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কেবল প্রশংসনীয় ও মানানসই ভাই-বোনের স্নেহই প্রকাশ পাওয়া উচিত। <br> এই স্বাভাবিক অবস্থাটি সবসময় বজায় থাকলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের হতো। তবে আধুনিক বাড়িগুলোতে এটি খুব কমই দেখা যায়, যা একটি দুঃখজনক সত্য। শিশু ঠিকমতো হাঁটতে শেখার আগেই অনেক সময় যৌন আবেগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেড়ার বাচ্চা ও অন্যান্য অল্পবয়সী প্রাণীর মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায় বলে এই অকালপক্বতাকে অসাধারণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, যৌন প্রবৃত্তির বিকাশ প্রাণীর আয়ুর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ভেড়ার মতো স্বল্পজীবী প্রাণীর জন্ম এবং যৌন চাহিদা ও পুরুষত্ব অর্জনের মধ্যে খুব অল্প সময় থাকে। কিন্তু মানুষের মতো দীর্ঘায়ু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রকাশ অনেক পরে ঘটে বা ঘটা উচিত। কিছু কীটপতঙ্গ তাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার সাথে সাথেই যৌন কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তারা মারা যায়। ** পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮ * অনেক সময় অকাল যৌনতার প্রকাশ খুব একটা প্রকট হয় না। তবে এটি প্রায় সমানভাবেই বিপজ্জনক। ডা. অ্যাক্টন নামের একজন বিশিষ্ট ইংরেজ শল্যচিকিৎসকের কথা আমরা প্রায়ই উদ্ধৃত করব। তিনি এই বিষয়ে চমৎকার কিছু মন্তব্য করেছেন:-<br> "কোনো ছেলের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা থাকলে তা বোঝার জন্য সামান্য লক্ষণই যথেষ্ট। সে সুনির্দিষ্ট পছন্দ দেখায়। আপনি দেখবেন সে একটি মেয়েকে আলাদা করে বেছে নিচ্ছে এবং তার সঙ্গ থেকে (একজন ছেলের জন্য) অস্বাভাবিক আনন্দ পাচ্ছে। তার এই 'ঝোঁক' কোনো ছেলের স্বাভাবিক ভালো স্বভাবের রূপ নেয় না। বরং সাধারণত পরবর্তী সময়ের জন্য সংরক্ষিত ছোট ছোট মনোযোগগুলো প্রমাণ করে যে তার অনুভূতি ভিন্ন এবং দুঃখজনকভাবে অকালপক্ব। তাকে দৃশ্যত সুস্থ এবং অন্য ছেলেদের সাথে খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে। তারপরও তার মধ্যে নিজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতার সামান্য কিন্তু অশুভ লক্ষণ থাকে। মেয়েটির সাথে তার খেলা আর ভাইদের সাথে তার খেলার মধ্যে পার্থক্য থাকে। মেয়েটির প্রতি তার দয়া একটু বেশিই গভীর হয়। সে তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু কেন করে তা সে নিজেও জানে না। সে তাকে এমনভাবে আদর করে যা বেদনাদায়কভাবে আবেগের এক অস্পষ্ট সূচনার ইঙ্গিত দেয়। কেউ তার কোনো দোষ ধরতে পারে না। সে কোনো ভুল করে না। বাবা-মা ও বন্ধুরা তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার দেখে আনন্দিত হন এবং এই আগাম খুনসুটি দেখে বেশ মজাই পান। তারা বুদ্ধিমান হলে বরং গভীর উদ্বেগ বোধ করতেন। একজন চিকিৎসকের সুযোগ পেলে তাদের সতর্ক করা উচিত। এই সন্দেহমুক্ত ও নিরীহ ছেলেটিকে সতর্ক নজরে রাখা উচিত এবং তার অস্বাভাবিক প্রবণতা বাড়াতে পারে এমন সব প্রভাব থেকে দূরে রাখা উচিত। তা না করলে সেই চিকিৎসক অবিশ্বস্ত বা নির্বোধ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন।" ** পৃষ্ঠা ১১৯-১২০ * যৌন প্রবৃত্তির অকাল বিকাশ শৈশবের সাথে জড়িত আমাদের সব ধারণার পরিপন্থিই নয়, বরং এটি আসন্ন পুরুষত্বের জন্যও বিপজ্জনক। এই ধরনের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ছেলেটির ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রেখে তার স্বাস্থ্য ও সরলতা রক্ষা করা যাবে কি না। নাকি অকাল যৌনতা ও অযত্নের কারণে নষ্ট হওয়া আরেকটি ভগ্ন স্বাস্থ্য ও আহত বিবেক তৈরি হবে। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে এই ধরনের ক্ষেত্রে এই অকাল যৌন প্রবৃত্তির সাথে প্রায়ই একটি আধা-যৌন ক্ষমতাও থাকে। চিকিৎসকদের বাইরে খুব কম মানুষই জানেন যে কত অল্প বয়সে একটি শিশু ইরেকশন অনুভব করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, সকালে বিছানা থেকে তোলার পর একটি ছোট শিশু সাথে সাথে প্রস্রাব করতে পারে না। বাবা-মা এবং নার্সরা এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো যে, এটি প্রায়ই কমবেশি একটি সম্পূর্ণ ইরেকশনের ওপর নির্ভর করে। ** পৃষ্ঠা ১২০ * এই ব্যাধির কারণ সম্পর্কে ডা. অ্যাক্টনের কিছু পর্যবেক্ষণ আমরা আবার উদ্ধৃত করছি। এটি সত্যিই একটি গুরুতর ব্যাধি:-<br>"আমি 'বংশগত' প্রবণতাকে কোনোভাবেই সবচেয়ে কম সাধারণ হিসেবে নির্দিষ্ট করব না... আমি বিশ্বাস করি, শরীর ও মনের মতো আবেগের ক্ষেত্রেও পিতার পাপ প্রায়ই সন্তানদের ওপর বর্তায়। আমি নিশ্চিত, কোনো পুরুষ বা নারী অভ্যাসবশত যৌন আবেগে লিপ্ত হলে... তার সন্তানদের মধ্যেও একই পথ অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত থাকে। কেবল এভাবেই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রকম অভ্যাস ও অনুভূতিতে লিপ্ত হওয়ার আগাম এবং দৃশ্যত প্রায় অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারি।" ** পৃষ্ঠা ১২১-১২২ * আজকাল শিশু-কিশোরদের পার্টি খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে চার-পাঁচ বছর থেকে শুরু করে দশ-বারো বছর বয়সী উভয় লিঙ্গের শিশুরাই চমৎকার অকালপক্বতা ও নিখুঁতভাবে ফ্যাশনেবল ডিনারে বড়দের আচরণের অনুকরণ করে। এর যত নিন্দাই করা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের মেলামেশা তাদের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের আগেই প্রকাশ করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভুয়া বিয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও জনপ্রিয় বিনোদন। এই ঘটনাটি এর একটি বড় প্রমাণ। এত বিপজ্জনক বিনোদনে শিশুদের উৎসাহিত করতে বা অনুমতি দিতে গিয়ে বাবা-মা বড় ধরনের ভুল করেন। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। <br> আধুনিক জীবনযাপন, অনুপযুক্ত পোশাক, স্কুলগুলোতে জোর করে পড়ানোর ব্যবস্থা, বয়স্ক ব্যক্তিদের অশালীন উদাহরণ এবং বিশেষ করে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্কদের দেওয়া উত্তেজক ও উদ্দীপক খাবার যৌন আবেগের বিকাশে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। "সতীত্ব" শিরোনামের অধীনে এই বিষয়টি আবার আলোচনা করা হয়েছে। <br> অশ্লীল বই ও পত্রিকা, অশালীন ছবি এবং খারাপ যোগাযোগও এর অন্যতম কারণ, যা পরে আরও আলোচনা করা হবে। ** পৃষ্ঠা ১২২-১২৩ * '''বার্ধক্যের যৌনতা:''' শৈশবের মতো বার্ধক্যও এমন একটি সময় যখন অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত না হলে প্রজনন কাজগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যৌন জীবন বয়ঃসন্ধিকালের সাথে শুরু হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে শেষ হয়। এই সময়টি "মেনোপজ" বা "জীবনের মোড়" নামে পরিচিত। প্রকৃতির সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সময়ে সমস্ত কার্যকলাপে বিরতি আসা উচিত। এই নিয়ম উপেক্ষা করা হলে রোগ, অকাল ক্ষয় এবং সম্ভবত স্থানীয় অবক্ষয় হওয়া নিশ্চিত। বিনা শাস্তিতে প্রকৃতির অপব্যবহার করা যায় না। <br> পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। উদ্দীপনার মাধ্যমে বেশ বৃদ্ধ বয়সেও এতে লিপ্ত হওয়া যেতে পারে। তবে এর ফলে আয়ু কমে যায় এবং হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্যারিস বলেছেন, "বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছাতে চাইলে একজন বয়স্ক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো 'সময়মতো বৃদ্ধ হতে শেখা'।" <br> শোনা যায়, সিসেরোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তখনও ভালোবাসার আনন্দে লিপ্ত হন কি না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "ঈশ্বর রক্ষা করুন, কোনো বন্য ও ক্ষিপ্ত প্রভুর মতো আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি।" <br> কিছু পণ্ডিত চিকিৎসক পুরুষদের শারীরিক কার্যকলাপের সঠিক সীমা পঞ্চাশ বছর নির্ধারণ করেছেন। তবে এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তিনি কামুকতার মাধ্যমে নিজের আয়ু কমানোর জন্য নিজেকে দোষী করতে না চান। এই পদক্ষেপের অন্যান্য কারণ পরে তুলে ধরা হবে। <br> আবেগ প্রশ্রয় দিলে এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু শক্তিকে উদ্দীপিত করা হলে, অসতর্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই "স্যাটিরিয়াসিস" নামের একটি ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হন। এটি তাদের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও বাড়াবাড়ি করতে বাধ্য করে। সারাজীবন ধরে প্রশ্রয় ও তৃপ্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আবেগগুলো এভাবেই কখনো কখনো বার্ধক্যে এসে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ** পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪ * '''বিবাহ:''' এই বইয়ের পরিসর ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনারই সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক বই লেখা হয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এগুলোর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * বিবাহের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবজাতির সংরক্ষণ ছিল। তবে এর আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১২৪ * '''বিয়ের সময়:''' শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান সঠিকভাবে বিয়ের প্রথম গ্রহণযোগ্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। শরীর সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সময়টিই হলো এই সময়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিশ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চব্বিশ বছরের আগে নয়। এই বয়সের আগেই শারীরিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেও হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয় না। তাই বিকাশও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। <br> আধুনিক জাতিগুলোর ক্ষেত্রে মনে হয় যেন শারীরবৃত্তীয় কোনো ধারণা ছাড়াই বিয়ের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের দেওয়ানি আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। অথবা তারা বয়ঃসন্ধি ও পূর্ণাঙ্গতা একই জিনিস বলে ভুল ধারণা নিয়ে এগুলো করেছে। বিবাহিত জীবনে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন বয়সগুলো লক্ষ্য করা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অবক্ষয়ের দিকে যাওয়া রোমানরা নারীদের জন্য তেরো এবং পুরুষদের জন্য পনেরো বছর বয়সকে আইনি বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গ্রিক আইনপ্রণেতা লাইকারগাস নারীদের জন্য সতেরো এবং পুরুষদের জন্য সাঁইত্রিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছিলেন। প্লেটো এই বয়স বিশ ও ত্রিশ বছর নির্ধারণ করেছিলেন। প্রুশিয়াতে এই বয়স যথাক্রমে পনেরো ও উনিশ। অস্ট্রিয়ায় ষোলো ও বিশ। আর ফ্রান্সে যথাক্রমে ষোলো ও আঠারো। <br> মেয়ার বলেছেন, "সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে নারীদের জন্য বিয়ের স্বাভাবিক সময় বিশ বছর এবং পুরুষদের জন্য চব্বিশ বছর।" ** পৃষ্ঠা ১২৫ * '''বংশগতির সূত্রের প্রয়োগ:''' বংশগতির শারীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে একটু ভাবলেই শরীর পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ পাওয়া যাবে। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রজননকে বোঝায়। ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে। আমরা আগেই দেখেছি যে, এই উপাদানগুলো তাদের উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে। ধারণা করা হয় এগুলো ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরি, যা নতুন প্রাণীর কোষ ও অঙ্গে পরিণত হওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি কণা তার উৎপাদনকারী পিতামাতার ভেতরের কোষের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তাই নতুন প্রাণীর নিখুঁত হওয়াটা মূলত যৌন উপাদানের অখণ্ডতা ও নিখুঁত হওয়ার ওপর নির্ভর করে। শরীর অসম্পূর্ণ থাকলে প্রজনন উপাদানগুলোও অসম্পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সন্তানও একইভাবে অপরিণত হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬ * '''বাল্যবিবাহ:''' আগের অনুচ্ছেদে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ উল্লেখিত বয়সের আগে বিয়ের নিন্দা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যাদের বিকাশ অস্বাভাবিকভাবে ধীর, তাদের জন্য হয়তো বিশ ও চব্বিশ বছর বয়সটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অন্যান্য কারণে বাল্যবিবাহকে নিরুৎসাহিত করার আরও অনেক যুক্তি থাকতে পারে। তবে শুধু প্রজননের শারীরবৃত্তীয় দিক থেকেই বাল্যবিবাহকে সমর্থন না করার আরও কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। <br> ১. শরীরের বিকাশের সময় বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ নিখুঁত করার জন্য এর সমস্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। বাইরের কোনো কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপাদান থাকে না। <br> ২. প্রজনন কার্যকলাপ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লান্তিকর। অনুন্নত ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব হলো বৃদ্ধি আটকে দেওয়া, গঠন দুর্বল করা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেওয়া। <br> ৩. নারীদের ওপর এর প্রভাব পুরুষদের চেয়েও বেশি খারাপ। কারণ স্নায়বিক শক্তি ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি, সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কাজের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাকে এর বোঝা ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। মায়ের অন্যান্য দায়িত্বের জন্য তার অযোগ্যতার কথা তো বাদই দিলাম। দেশে এত বালিকা-মা থাকলে, হাজার হাজার দুর্ভাগা মানুষের বিকাশ কখনোই শৈশব পেরোতে না পারাটা কি কোনো আশ্চর্যের বিষয়? অনেক চল্লিশ বছর বয়সী মানুষের মন ও বিচারবুদ্ধি আঠারো বছরের একজন সুঠাম ছেলের মতোই শিশুর মতো ও অপরিণত থাকে। তারা পাকার আগে ছিঁড়ে নেওয়া শুকনো ফলের মতো। ঠিকমতো পাকতে দেওয়া মিষ্টি ও রসালো ফলের মতো তারা কখনোই হতে পারে না। তারা অপরিবর্তনীয় ছাঁচে গড়া। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারা তাদের সন্তানদেরও একই ত্রুটিগুলো দেবে। সন্তানরা সেগুলো আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এভাবেই বিলুপ্তির মাধ্যমে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষতি বাড়তেই থাকবে। ** পৃষ্ঠা ১২৬-১২৭ * এই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত বইয়ের একজন সুপরিচিত লেখক অত্যন্ত জোর দিয়ে একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, বিয়ের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের সবসময় এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারা যতটা সম্ভব তাদের নিজেদের মতো। তার মতে, হুবহু একই রকম মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত মিলন ঘটাতে পারে। এই তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ফ্রেনোলজির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্ত্রী বা স্বামী খুঁজছেন এমন কারও নিজের মাথার একটি ফ্রেনোলজিক্যাল চার্ট নেওয়া উচিত। এরপর উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত সেটি সবার কাছে পাঠানো উচিত। যদি কারও পরিচিত মহলে তার মতো একই প্রবণতা বা স্বভাবের কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি না থাকে, তবে পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ** পৃষ্ঠা ১২৮ * এই নিয়ম অনুযায়ী, খুব বেশি লড়াকু কোনো পুরুষ বা নারীর এমন সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত যারও একইভাবে ঝগড়া করার প্রবণতা রয়েছে। তাহলে আমরা কী পাব? একটি সুখী, তৃপ্ত ও সুরেলা জীবনের উপাদান? না, এর বদলে হয় বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দ্রুত মামলা হবে, নয়তো বাড়িতে অনবরত অশান্তি লেগেই থাকবে। এটি পার্থিব নরকের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি অবস্থা। স্বার্থপর, কিপটে ও টাকা জমানোর নেশায় মত্ত কাউকে অবশ্যই এমন একজন নারীকেই বিয়ে করতে হবে যে একইভাবে লোভী ও কিপটে। এরপর তারা একসাথে পোকামাকড় ও মরিচা ধরার জন্য বা স্বার্থান্বেষী আত্মীয়দের ঝগড়া করার জন্য টাকা ও সম্পদ জমাতে পারবে। তারা দুজনেই অনাহার ও জমে যাওয়ার ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম বিন্দুতে এসে অন্যকে বঞ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত তারা মারা যাবে, মারা যাওয়ার সাথে সাথেই সহমানুষরা তাদের ভুলে যাবে এবং মহান বিচারসভায় তাদের ছাগলদের দলে পাঠানো হবে। একজন অকর্মণ্য ও অপব্যয়ী মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে একজন একইভাবে অপরিচ্ছন্ন ও অমিতব্যয়ী স্ত্রী বেছে নেওয়া উচিত। বাতিকগ্রস্ত মানুষের একই রকম অসুস্থ কল্পনা থাকা সঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তির পুরো মানসিক গঠন তার কানের পেছনে থাকে, তাকে অবশ্যই একই রকম পশুর স্বভাব থাকা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। দুঃখজনকভাবে ভারসাম্যহীন মানসিক গঠনের কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রী হিসেবে একই ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা থাকা একজন নারীকে খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। <br> এই ধরনের পরিকল্পনা থেকে কী ধরনের পারিবারিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তা যে কেউই এক নজরে বুঝতে পারবে। ভারসাম্যহীন মেজাজের নারী-পুরুষরা আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিপরীত প্রবণতার কোনো সঙ্গীর উদাহরণ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে, ভুল প্রবণতার একজন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত খারাপ উদাহরণের মাধ্যমে তার পাপের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এভাবে মানবজাতির খুব ছোট একটি অংশ ছাড়া বাকি সবার জন্যই বিবাহিত জীবন অশান্তি ও অবক্ষয়ের কারণ হবে। <br> আর এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কেমন হবে? ভিন্ন চরিত্রের কারণে সন্তানদের মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতাগুলো পরিবর্তন বা হয়তো মুছে যাওয়ার বদলে সেগুলো দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়বে। স্বার্থপর বাবা-মায়ের সন্তানরা চোর হবে। অপব্যয়ীদের সন্তানরা ভিখারি হবে। বাতিকগ্রস্ত বাবা-মায়ের সন্তানরা পাগলাটে হবে। আর কামুক বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা হবে পশুর মতো চরিত্রহীন। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অবক্ষয় চললে মানবজাতি হয় ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো ডারউইনের আদিম বানরে ফিরে যাবে। <br> উল্লেখিত তত্ত্বের ওপর আমাদের কঠোর সমালোচনা থেকে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা বিপরীত পথের, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন রুচি, লক্ষ্য ও মেজাজের ব্যক্তিদের মধ্যে বিয়ের পক্ষপাতী। এই ধরনের জোটও নিঃসন্দেহে বিপরীত চরিত্রের জোটের মতোই শোচনীয় ফলাফল বয়ে আনবে। প্রায় অন্য সব বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও সত্যটি এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি অবস্থান করে। জীবনসঙ্গী নিয়ে আলোচনা করার সময়, এত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আনন্দদায়ক করার জন্য মেজাজের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ** পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ * '''বয়সের পার্থক্য:''' প্রকৃতি ও প্রথা—উভয় দিক থেকেই মনে হয় স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়া উচিত। এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে বয়সের পার্থক্য যখন ত্রিশ, চল্লিশ বা এমনকি পঞ্চাশ বা তারও বেশি বছরের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রকৃতির অপব্যবহার করা হয়, রুচিবোধ ক্ষুণ্ন হয় এবং এমনকি নৈতিকতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের বেমানান জোট উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর। কিশোরী বয়স পার হওয়া বা তার চেয়েও কম বয়সী কোনো তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়া একজন বৃদ্ধ মানুষের এর পেছনে খুব মহৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। এটি তাকে হঠাৎ মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি তার অকাল ক্ষয় নিশ্চিত করে। একজন রাজা একবার এই ধরনের কাজকে "আত্মহত্যার সবচেয়ে আনন্দদায়ক রূপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। তবে আমরা সন্দেহ করি এই ধরনের অস্বাভাবিক মিলনের কিছু দিক খুব একটা উপভোগ্য নয়। <br> বৃদ্ধদের জন্য এই ধরনের বিয়ের বড় বিপদের একটি কারণ হলো যৌন কাজের ক্লান্তিকর প্রভাব। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়। ডা. অ্যাক্টন নিম্নলিখিত প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো করেছেন:-<br> "যৌন খিঁচুনির ফলে স্নায়ুতন্ত্রের তীব্র আক্রমণ সত্যিই এত গুরুতর যে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সবসময় বিপদমুক্ত থাকে না। দুর্বল হৃদযন্ত্রের পুরুষরা এই কাজের সময় মারাও গেছেন। মাঝে মাঝেই আমরা বিয়ের রাতে পুরুষদের মৃত পাওয়ার খবর পাই।" <br> "এই ঘটনাগুলো যতই ব্যতিক্রমী হোক না কেন, এগুলো সতর্কবার্তা। এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, যে কাজটি দুর্বলকে ধ্বংস করতে পারে, শক্তিশালীদেরও তা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়।" <br> "এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা অল্পবয়সী স্ত্রীদের বিয়ে করেন। এর ফলে তারা পক্ষাঘাত, মস্তিষ্ক নরম হয়ে যাওয়া এবং বোকামির শিকার হয়ে এর মাশুল গোনেন।" ** পৃষ্ঠা ১৩২ * ডা. গার্ডনার অ্যাবে মউরিকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে পঞ্চাশ বছর বয়সের পর একজন বিবেকবান মানুষের ভালোবাসার আনন্দ ত্যাগ করা উচিত। প্রতিবার তিনি নিজেকে এই তৃপ্তি দিলে তা তার কফিনের ওপর এক দলা মাটি ফেলার মতোই।" <br> ডা. গার্ডনার আরও বলেন: "মানবতার প্রতিটি যুগে, পিতৃতান্ত্রিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান দিন পর্যন্ত এই ধরনের জোট গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির পরিপন্থি এই জোটগুলো তৈরি হয় প্রায় অকর্মণ্য বৃদ্ধ পুরুষ এবং দরিদ্র তরুণীদের মধ্যে। মেয়েদের বাবা-মা পদমর্যাদার জন্য তাদের বলিদান করেন, অথবা তারা সোনার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দেন। অন্যায়ভাবে যুক্ত হওয়া দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করলে, এই দানবীয় জোটগুলোর এমন কিছু দিক রয়েছে যার যথাযথ নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। চলুন এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিই যে তরুণীর পূর্ণ সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ইচ্ছার ওপর বাইরের কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি (যা সাধারণত নিয়মে পরিণত হয়েছে)। তারপরও অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে অনুশোচনা নিয়ে আসবে। এই ক্ষতিকর জিনিসের কোনো প্রতিকার না থাকায় অনুশোচনা আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি আইনি সম্মতির জন্য জোর করা বা প্রায়ই একই জিনিস বোঝানো 'প্ররোচনা' প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে ফলাফল আরও দ্রুত ও তীব্র হতো। এই মুহূর্ত থেকে অসুখী শিকারের কাছে সাধারণ জীবন ঘৃণ্য হয়ে ওঠে। তার বহন করা শিকল এতই ভারী যে তার শূন্য হৃদয়ে 'অপরাধমূলক আশা' জেগে ওঠে। আসলে বৃদ্ধের ভালোবাসা তার কাছে হাস্যকর ও ভয়ানক হয়ে ওঠে। যে হতভাগ্য ব্যক্তিকে এটি মেনে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে পারি না। এক মুহূর্ত ভাবলেই আমরা এমন এক বিকর্ষণ অনুভব করব যা কেবল অজাচারের ধারণার সাথেই তুলনা করা যায়। ... তাই আমরা প্রায়শই কী দেখতে পাই? হয় মেয়েটি ক্ষোভের সাথে এই অভিশপ্ত বন্ধন ভেঙে ফেলে, নয়তো সে নিজেকে এর কাছে সঁপে দেয়। এরপর সে পরকীয়ার মাধ্যমে নিজের আত্মার শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। সবচেয়ে সম্মানজনক প্রবৃত্তি, সবচেয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সবচেয়ে বৈধ আশাগুলোকে অবজ্ঞা করা এই অপবিত্র মিলনগুলোর হতাশাজনক চিত্র এমনই। এই চরিত্রহীন বৃদ্ধদের অবিবেচনাপ্রসূত বা বোকা অহংকারের জন্য ঠিক এমনই ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যারা বিকৃত কামনার খোঁজে নিজেদের জীবনের শেষ নিশ্বাসও অপচয় করে।" ** পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩ * আসুন আবার ডা. গার্ডনারের কথা শোনা যাক:- <br> "বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া শিশুদের চেহারায় স্বভাবতই এক ধরনের গম্ভীর ও বিষণ্ণ ভাব ছড়িয়ে থাকে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একই বয়সী ছোট শিশুদের যে শিশুসুলভ অভিব্যক্তি সবাইকে আনন্দ দেয়, এটি পরিষ্কারভাবেই তার উল্টো। বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। এটি এতই প্রকট হয় যে সবাই এটি নিয়ে কথা বলে এবং পৃথিবী একে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। বয়স্ক মায়েরা ভান করেন যেন এটি তরুণ কাঁধের ওপর একটি বয়স্ক মাথা। তারা এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেন এবং ঘটনাটি প্রায়ই কোষ্ঠীবিচারকে সত্য প্রমাণ করে। বহু বছর ধরে আমাদের মনোযোগ এই বিষয়টির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এই ধরনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বেশিরভাগই দুর্বল, অলস ও লসিকাগ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভোগে। তারা যক্ষ্মায় আক্রান্ত না হলেও দীর্ঘজীবনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না।" ** পৃষ্ঠা ১৩৪ * বৃদ্ধ বয়সে সেমিনাল ফ্লুইডের গুণগত মান ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর উপাদানগুলো সর্বোত্তম অবস্থায় থাকলেও কেবল বার্ধক্য, দুর্বলতা, অবক্ষয় ও জীর্ণতাকেই তুলে ধরতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডা. অ্যাক্টন বলেন,- <br> "তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হই যে, বৃদ্ধ পুরুষদের সন্তানদের বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সত্য প্রমাণ করে। এই ধরনের বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের দিকে একবার তাকান। এর মূল্য কী? আমি যতদূর দেখেছি, এটি সবচেয়ে খারাপ ধরনের। নষ্ট হয়ে যাওয়া শৈশব, দুর্বল ও অকালপক্ব যৌবন, উচ্ছৃঙ্খল পুরুষত্ব এবং আগাম ও অকাল মৃত্যু।" <br> সবেমাত্র আলোচনা করা চরিত্রগুলোর বিপরীত দিকের মিলন, যেখানে একজন তরুণ তার চেয়ে অনেক বয়স্ক একজন নারীকে বিয়ে করে, তা অন্য শ্রেণির তুলনায় বেশ বিরল। শারীরিক প্রভাবের দিক থেকে এগুলো হয়তো কম শোচনীয়। কিন্তু তারপরও এগুলো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এগুলো খুব কমই কোনো পবিত্র উদ্দেশ্য থেকে তৈরি হয় এবং এর কোনো ভালো দিকও নেই। এই ধরনের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানরা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও মানবতার করুণ নিদর্শন হয়। <br> এই ধরনের লজ্জাজনক মিলন থেকে পারিবারিক যে দুর্দশা তৈরি হতে পারে, তা আমরা খুব কমই উল্লেখ করেছি। কোনো বিপত্নীক যদি একজন অল্পবয়সী মেয়েকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের (যারা হয়তো মেয়েটির মায়ের বয়সী) দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে সেখানে এমন এক পারিবারিক নরক তৈরির সব উপাদানই উপস্থিত থাকে, যার তুলনা কেবল ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সাথেই করা যেতে পারে। সন্তান জন্ম নিলে বাবা বা মা কেউই তাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্য থাকেন না। বয়সের কারণে বাবা মেজাজি, অনিশ্চিত ও শিশুসুলভ হয়ে যান। আজ খুব নমনীয় থাকলে, কাল আবার খুব কঠোর হন। মা খিটখিটে, শিশুসুলভ, প্রশ্রয়দানকারী, অধৈর্য এবং মাতৃত্বের জন্য অযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রেও অদক্ষ হন। এই সব অপশাসনের মধ্যে শিশুটি শৃঙ্খলাহীন, অশিক্ষিত ও অবাধ্য হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে তার বাবা-মায়ের জন্য এক দুর্দশা, বন্ধুদের জন্য এক কলঙ্ক এবং নিজের জন্য এক অসম্মান। <br> "আমি তাকে নিয়ে কী করব? আর সে আমাকে নিয়ে কী করবে?" আঠারো বছর বয়সী এক মেয়েকে তার বাবা-মা একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে এই প্রশ্নটি করেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি তরুণীর এই প্রশ্নটি করা ভালো। ** পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫ * সবচেয়ে সুরেলা বৈবাহিক মিলন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো আমরা আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইলেও তা করা অর্থহীন হবে। কারণ আবেগীয় পক্ষপাত ছাড়াই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে এ ধরনের জোট খুব বিরল ঘটনা ছাড়া আগে কখনো তৈরি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। এমন কোনো পরিকল্পনা বিদ্যমান সমস্যাগুলোর লক্ষণীয় কোনো সমাধান আনতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশ্বের বেশিরভাগ অসুখ যে বেমানান বিয়ে থেকে আসে, তা এতই স্পষ্ট যে তা উপেক্ষা করা যায়Dependencies. However, mutual understanding through mutual approach can avert nearly all this unhappiness. ** পৃষ্ঠা ১৩৬ * আমরা যে অর্থে শব্দটি ব্যবহার করি, সেই অর্থে প্রেম নিবেদন করা স্পষ্টভাবে একটি মার্কিন প্রথা। অন্যান্য সভ্য দেশের সামাজিক আইনগুলো এমন যে, তা আমাদের দেশে যৌবনে বিপরীত লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশার সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই বিদেশি সামাজিক প্রথাগুলোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এই তথ্যটি দিচ্ছি না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দারুণ সুবিধা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো এর সমান বা তার চেয়েও বড় অন্যান্য খারাপ দিকগুলোকে উসকে দেয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে মার্কিন খোলামেলা আচরণের কুফলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্যই আমরা কেবল এই বিষয়টি উল্লেখ করছি। <br> একজন ফরাসি গৃহিণী এই ভেবে আঁতকে উঠবেন যে, কোনো যুবক তার মেয়েকে একা সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় কোনো বক্তৃতা, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার কথা বলছে। আর পরিবারের বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আলো নিভিয়ে বসার ঘরে সারারাত জেগে থাকার অনুমতি চাইলে তো কথাই নেই। ফ্রান্সে সম্মানজনক মানুষদের মধ্যে এ ধরনের স্বাধীনতা সহ্য করা হয় না। কোনো যুবক এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাকে সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তাকে চরিত্রবান মানুষের সাথে মেলামেশার অযোগ্য হিসেবে দেখা হবে। কোনো যুবক কোনো তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে, সে তরুণী এবং তার মা, বা একজন খালা বা বড় বোন দুজনের সাথেই দেখা করে। সে কখনো মেয়েটিকে একা দেখে না। সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার বা কোনো বিনোদনের জায়গায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তাকে অবশ্যই তরুণীর কোনো বান্ধবীকেও আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সে-ও অন্তত সাথে যাবে। নির্জন চাঁদের আলোয় ঘোরাঘুরি বা মার্কিন প্রেমের প্রথাগুলোর মতো অন্য কোনো সাধারণ সুযোগ এখানে নেই। আমরা অনেক জাতির মধ্যে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলোর সমর্থক নই। বিশ্বের সব যুগেই এর উদাহরণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন অ্যাসিরীয়দের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ত্রীদের বিক্রি করার প্রথা ছিল। সব নারীর স্বামী পাওয়া নিশ্চিত করতে সুন্দরীদের জন্য পাওয়া টাকা কম সুন্দরীদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া হতো। প্রাচীনকালে ব্যাবিলনেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে রাশিয়াতেও এর চর্চা হয়েছে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অ্যাসিরীয়দের অনুসরণ করা একই পদ্ধতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে হুইট সানডের দিন স্ত্রীদের বার্ষিক বিক্রি অনুষ্ঠিত হতো। <br> প্রথম দিকের ইহুদিদের মধ্যে বাবা-মায়েরাই ছেলেদের জন্য স্ত্রী বেছে নিতেন বলে মনে হয়। আইজ্যাকের ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ভৃত্যের ওপর দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে সেই ভৃত্যকে স্ত্রী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য মনে করা হয়েছিল। কিছু প্রাচ্য দেশে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই প্রথা চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীকে একে অপরের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। গত শতাব্দীর মেক্সিকান ও ব্রাজিলিয়ানদের মতো হাঙ্গেরিয়ানরা প্রায়ই দোলনায় থাকার সময়ই তাদের শিশুদের বাগদান সম্পন্ন করে। কিছু দেশে এমনকি জন্মের আগেই মেয়েদের শর্তসাপেক্ষে বাগদান করার প্রথাও ছিল। আদিম মোরাভিয়ানরা স্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলেও কিছুটা প্রাচীন ইহুদি প্রথাই মেনে চলতেন বলে মনে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরাই প্রেমের সব কাজ করতেন, যা খুব একটা বেশি ছিল না। কোনো যুবকের স্ত্রী প্রয়োজন হলে সম্প্রদায়ের বিয়ের যোগ্য তরুণীদের মধ্যে লটারি করে তার জন্য একজন সাহায্যকারী বেছে নেওয়া হতো। ঈশ্বর এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেন ধরে নিয়ে যুবকটি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকত। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে একজন বেমানান বা অবাঞ্ছিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার ঝুঁকি, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে খুব বেশি ছিল বলে আমরা মনে করি না। <br> আগেই বলা হয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক ধাপগুলো পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি হিসেবে আমরা এই প্রথাগুলো তুলে ধরছি না। বরং আমরা বিনা দ্বিধায় এগুলোকে নৈতিক ও অন্যান্য কারণে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ঘোষণা করছি। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের জোট অত্যন্ত অসন্তোষজনক ছিল। ** পৃষ্ঠা ১৩৬-১৩৯ * অন্যান্য বিভিন্ন দেশে বর্ণিত প্রথাগুলোর ঠিক বিপরীত বিয়ের প্রথাও প্রচলিত ছিল। আরভিংয়ের "নিকারবোকার্স হিস্ট্রি অব নিউ ইয়র্ক"-এ এই দেশের এবং অন্যান্য দেশের কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথার কিছুটা হাস্যকর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে জীবিত মানুষের স্মৃতিতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এটি এখনও পুরোপুরি অপ্রচলিত হয়নি বলেও বলা হয়। লেখক নিউ ইয়র্কে প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা ডাচদের সামাজিক প্রথা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি অদ্ভুত প্রথার বর্ণনা দিয়েছেন। এটি "বান্ডলিং" নামে বেশি পরিচিত। উভয় লিঙ্গের তরুণ-তরুণীদের পালন করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার এটি। তারা সাধারণত এর মাধ্যমেই তাদের উৎসব শেষ করত। সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থি অংশটি ধর্মীয় কড়াকড়ির সাথে এটি বজায় রাখত। সেই প্রাচীন যুগে এই অনুষ্ঠানটিকে বিয়ের জন্য একটি অপরিহার্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। আমাদের প্রেম নিবেদন যেখানে শেষ হয়, তাদের প্রেম নিবেদন সেখানেই শুরু হতো। এর মাধ্যমে তারা বিয়ের আগেই একে অপরের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেত। দার্শনিকরা একে একটি সুখী মিলনের নিশ্চিত ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছেন। এভাবেই এই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান লোকেরা অনেক আগে থেকেই দরকষাকষির চতুরতা দেখিয়েছে, যা তাদের এরপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। <br> "তাই আমি ইয়ানোকি বা ইয়াঙ্কি জাতির অতুলনীয় বৃদ্ধির জন্য মূলত এই বিচক্ষণ প্রথাটিকেই দায়ী করি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সত্য এবং আদালতের রেকর্ড ও প্যারিশ রেজিস্টার দ্বারা ভালোভাবে প্রমাণিত যে, যেখানেই বান্ডলিং প্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানেই আইনের লাইসেন্স বা পাদ্রিদের সুবিধা ছাড়াই রাজ্যে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক শক্তিশালী শিশু জন্ম নিত।" ** পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ * আমরা দীর্ঘ প্রেম এবং দীর্ঘ বাগদানের বিরোধী। এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, বরং প্রায়ই অনেক ক্ষতির কারণ হয়। কিছু পরিস্থিতি থাকতে পারে যেখানে দীর্ঘ বাগদান প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাধারণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। <br> অন্যদিকে তাড়াহুড়ো করে করা বিয়ে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিশেষ করে যখন খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে সত্যিকারের ভালোবাসার চেয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এটি করার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিণতির বিষয়। এটি সবচেয়ে সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। লটারির টিকিট কেনা কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান পুরস্কার পাওয়ার যতটা নিশ্চয়তা পায়, তার চেয়ে বেশি কোনো সুখের নিশ্চয়তা ছাড়াই প্রায়ই মানুষ বিয়ে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একে অপরের আসল চরিত্র সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানতে পারে, যা তারা কয়েক মাস প্রেম করেও জানতে পারেনি। আমরা প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বলি, লাফ দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখুন। সাবধানে, সতর্কতার সাথে ও প্রার্থনার সাথে বিবেচনা করুন। অন্ধকারে লাফ দেওয়া একটি ভয়ানক ঝুঁকি। এটি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে পারিবারিক নরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তৈরি করে। কোনো সুন্দর মুখ, সুন্দর কথা, চমৎকার বা চটকদার আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন না। বরং বাইরের চাকচিক্যের বদলে বিনয়, সরলতা, আন্তরিকতা, নৈতিকতা এবং মন ও হৃদয়ের গুণাবলি বেছে নিন। <br> একজন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, "এই বিষয়গুলোতে উপদেশ দেওয়া বোকামি। কারণ কোনো ব্যক্তি অন্য সব বিষয়ে যতই সংবেদনশীল ও যুক্তিবাদী হোক না কেন, এই বিষয়ে কেউ উপদেশ মানবে না। আবেগ ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং যুক্তি তার নিয়ন্ত্রণ হারায়।" প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি পুরোপুরি সত্য। আমরা স্নেহে বিশ্বাস করি। আবেগের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। যারা নিয়ম মেনে সব বিয়ে করতে চায়, তাদের তত্ত্বের প্রতি আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু এই বিষয়ে যুক্তিকেও তার কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এমন সময় আসতে পারে যখন আবেগের অপ্রতিরোধ্য শক্তি যুক্তি ও বিচারবোধকে পেছনে ফেলে দিতে পারে। তবে এর আগে এমন একটা সময় ছিল যখন বিচারবোধ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারত। প্রতিটি তরুণ-তরুণী যেন আবেগের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। একবার যুক্তি চাপা পড়ে গেলে ব্যক্তি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। এই বিপদ থেকে পালানোর চেয়ে এটি প্রতিরোধ করা অনেক বেশি ভালো ও সহজ। ** পৃষ্ঠা ১৪১-১৪২ * '''খুনসুটি:''' বিপরীত লিঙ্গের নির্দোষ মেলামেশার ছদ্মবেশে বর্তমানে এই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটির যথাযথ নিন্দা প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট জোরদার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বেশিরভাগ মানুষই খুনসুটিকে ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন। এমনকি কেউ কেউ একে উপকারী বলেও মনে করেন। তারা দাবি করেন যে এই ধরনের মেলামেশা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তরুণদের সমাজের রীতিনীতি ও জগতের সাথে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে। খুনসুটিকে চরম ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করতে আমাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। যারা এতে লিপ্ত হয়, তাদের মানসিক, নৈতিক ও শারীরিক গঠনের ওপর এটি একইভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যে তরুণী খুনসুটির আবেগে মুগ্ধ হয়ে কেবল তরুণদের মনোযোগ পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাদের সঙ্গ পেতে চায়, সে এমন এক স্কুলে নিজেকে শিক্ষিত করছে যা তাকে পারিবারিক শান্তি ও সুখ উপভোগ করার জন্য পুরোপুরি অযোগ্য করে তুলবে। এমনকি তার নিজের দিক থেকে আসা শর্তগুলো ছাড়া অন্য সব শর্ত পূরণ হলেও সে সেই সুখ উপভোগ করতে পারবে না। এর চেয়েও বড় কথা, সে খুব সম্ভবত অপচয়, রাত জাগা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক পরা ইত্যাদির মাধ্যমে আজীবন ভোগার মতো রোগের ভিত্তি তৈরি করছে। এগুলো আমাদের আলোচনার এই পাপের প্রায় নিশ্চিত অনুষঙ্গ। ক্ষতিকর উত্তেজনার মতো অবাস্তব উপভোগের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য সে নিশ্চিতভাবেই সত্যিকারের সুখের একটি জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। <br> এটি সত্য হতে পারে এবং নিঃসন্দেহে ঘটনাটি এমন যে, খুনসুটির অপরাধের বড় অংশটি নারীদের ঘাড়েই চাপে। তবে পুরুষ খুনসুটিবাজদের মতো জঘন্য প্রাণীও রয়েছে। সাধারণভাবে, যে তরুণী খুনসুটিকে সময় কাটানোর মাধ্যম বানায়, পুরুষ খুনসুটিবাজ তার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চরিত্র। সে খুনসুটিবাজের চেয়েও বেশি কিছু। দশটির মধ্যে নয়টি ক্ষেত্রেই সে একজন লম্পটও বটে। খুনসুটি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র ও সরল মানুষদের ক্ষতি করে নিজের নিচু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। সে মুগ্ধ করা ও ষড়যন্ত্রের শিল্পে দক্ষ। সে ধীরে ধীরে তার শিকারের চারপাশে জাল বোনে। মেয়েটি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই নিজের চরিত্র হারিয়ে ফেলে। <br> এই ধরনের হতভাগ্যদের তাদের নিজেদের জন্য সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত নরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সমাজ এই কামুক ভিলেনদের দিয়ে ভর্তি। তারা নিজেদের সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবারের বসার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। তারা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে সবসময় উপস্থিত থাকে। ধার্মিক হওয়ার ভান করে নিজেদের কুখ্যাত পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারলে তারা বল-রুম, থিয়েটার ও গির্জায় ঘুরে বেড়ায়। প্রভাব ফেলার জন্য তারা মাঝে মাঝেই ধর্মীয় ভণ্ডামির মজুদ ব্যবহার করে। তারা সমাজের হাঙর। তারা প্রায়ই কোনো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল রত্নগুলোকে তাদের বিশাল মুখে আটকে ফেলে। পুরুষ খুনসুটিবাজ একটি দানব। প্রতিটি পুরুষের তাকে ঘৃণা করা উচিত। প্রতিটি নারীর তাকে ঘৃণ্য সামাজিক কুষ্ঠরোগী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪ * খুনসুটি কেবল তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সংক্রমণ ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার-পাম্পের শূন্যস্থানে যেমন বাতাস থাকে না, তেমনি তাদের মাথাও যৌন সম্পর্কের সব চিন্তা থেকে শূন্য থাকা উচিত। আমাদের সাধারণ স্কুলগুলোতে এবং মূলত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এই ধরনের মনোভাব বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজের পেশার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন প্রতিটি শিক্ষকই এই অকালপক্ব ও ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। এই ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে একজন স্বাভাবিক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক অগ্রগতির জন্য নিজের সব আশা নষ্ট হতে দেখে শিক্ষক বহুবার দুঃখ পেয়েছেন। এই ধরনের প্রলোভনের শিকার ছেলে-মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়টি হলো বয়ঃসন্ধিকালের ঠিক পরের সময়, অথবা বারো থেকে আঠারো বা বিশ বছর বয়সের মধ্যে। আমাদের পশ্চিমা একটি রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একবার এই সংকটময় সময়টিকে "মানুষের বাচ্চা বয়সের যন্ত্রণাদায়ক সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা খুব একটা বেমানান ছিল না। এই সংকটময় সময়টি একবার নিরাপদে পার হয়ে গেলে ব্যক্তিটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। কিন্তু কতজন এই অগ্নিপরীক্ষা না পুড়ে পার হতে ব্যর্থ হয়! <br> এই বিষয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি হলো, অনেক বাবা-মা প্রায়ই নীরব থাকেন বা এমনকি সক্রিয়ভাবে নিজেদের সন্তানদের এই পথেই উৎসাহিত করেন। তারা যে জঘন্য বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে তারা যেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এই বিষয়ে বাবা-মায়ের জ্ঞান প্রয়োজন। সন্তান লালন-পালন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হিসেবে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫ * একশ বছর আগে একাধিক স্ত্রী রাখার প্রকাশ্য যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা অসম্ভব ছিল। কোনো সভ্য দেশে বহুগামিতা তখনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ভিত্তি পায়নি। কিছু অসভ্য ও বর্বর উপজাতির মধ্যে এটি খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, একে একটি অসভ্য ও অবমাননাকর প্রথা হিসেবে দেখা হতো। এটি ছিল অজ্ঞতা ও চরম কামুকতার ফসল এবং এক কামুক যুগের ধ্বংসাবশেষ। এখন আর তা সত্য নয়। এমনকি সমস্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোকিত এই দেশেও, যেখানে সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানসিক বিকাশের আরও বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও বহুগামিতা ঈশ্বর ও মানুষের সব আইনকে অমান্য করে তার ভয়ংকর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এটা ঠিক যে, মানবতা ও স্বর্গের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধ করা ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ শালীনতার ক্রোধ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা অঞ্চলগুলোর দূরবর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও এই পচনশীল ক্ষতের দুর্গন্ধ প্রতিদিন আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি জাতির ইতিমধ্যে খুব একটা কঠোর না হওয়া নৈতিকতাকেও দূষিত করছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৬ * আমরা অত্যন্ত জোর দিয়ে এই দাবি অস্বীকার করছি যে, বহুগামিতা বাইবেল দ্বারা শেখানো বা অনুমোদিত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মিশরীয় দাসত্বের অন্ধকারে ছিল, এমন লোকদের মধ্যে এটি সহ্য করা হলেও কখনোই এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, অনুপ্রাণিত লেখকরা ঈশ্বর ও প্রকৃতির আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট কুফলগুলোর অসংখ্য উদাহরণ দিতে স্পষ্টতই কষ্ট করেছেন। ** পৃষ্ঠা ১৪৭ * প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একটি সত্য হলো, সাধারণভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের আবেগ বেশি শক্তিশালী। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীদের কাছে এমন মাত্রার যৌন চাহিদা দাবি করেন, যা তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়। এমনকি নিজেদের চরম ক্ষতি না করে তাদের পক্ষে তা দেওয়াও অসম্ভব। তবে কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে, এই দাবিগুলো অত্যাবশ্যক, এগুলো স্বাভাবিক, বা এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উভয়ের জন্যই উপকারী। এর বিপরীতে, যৌন প্রবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিমিতিবোধ পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকারী এবং মানুষের সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৪৮ * পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও, জোরপূর্বক ব্রহ্মচর্যের প্রতিকার হিসেবে বহুগামিতা চালু করার মতো পার্থক্য খুব একটা বড় নয়। যাই হোক না কেন, সব অবিবাহিত পুরুষকে স্ত্রী না দেওয়া পর্যন্ত এটি অপ্রয়োজনীয় হবে। তখন আরও ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ বিপুল সংখ্যক নারী বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিয়ে করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নিজেদের আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলার পাশাপাশি কেবল জাতির অবক্ষয়ই ঘটাবেন। <br> আবার, এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে নারীদের তুলনায় বেশি পুরুষ শিশু জন্ম নেয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের আধিক্য মূলত ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি মৃত্যুহার এবং দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের ক্ষতির কারণে ঘটে। যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে লিঙ্গের আপেক্ষিক সংখ্যার এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, এমনও হতে পারে যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। <br> আবার, কেবল খুব ঘনবসতিপূর্ণ ও দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করা কিছু সম্প্রদায়েই পুরুষদের তুলনায় নারী বেশি। যেমনটি ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং পূর্বের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে দেখা যায়। নতুন বসতি স্থাপন করা সব দেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? কিছু দেশে যেমনটি দেখা যায়, একজন নারীকে কি একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত? আমাদের বহুগামী উত্তর দেন, "ওহ! না। একজন নারী একাধিক পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না। এমনকি সে একজন স্বামীর যৌন চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই একাধিক স্বামী থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষ নারীর চেয়ে ভিন্নভাবে গঠিত হওয়ায়, সে যেকোনো সংখ্যক নারীকে ভালোবাসতে পারে। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।" ** পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯ * আমরা কি সেই মহান প্রাচীন পৌত্তলিকদের কাছে অনেক বেশি ঋণী নই? তারা প্রায় সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া তারা রাজনৈতিক অর্থনীতির আরও ভালো ব্যবস্থা এবং পুরো ব্যক্তির সুষম সংস্কৃতির জন্য আরও ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুনিয়া এরপর আর কখনো দেখেনি। ** পৃষ্ঠা ১৫১ * পুরুষের যৌন চাহিদা মেটাতে যদি তার একাধিক নারী থাকার বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে স্রষ্টা কেন শুধু একজন ইভ তৈরি করার মতো অদূরদর্শী হলেন? আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় বের করার মতোই দুটি, তিনটি বা আধা ডজন হাড় বের করাও সমান সহজ ছিল। আর পুরো পৃথিবী তখনো জনবসতিপূর্ণ হতে বাকি ছিল, তাই একাধিক স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করত। নিশ্চয়ই, বহুগামিতা যদি কখনো প্রয়োজনীয় বা ক্ষমার যোগ্য হতো, তবে শুরুতেই এর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। <br> আবার, নূহ যখন সব প্রজাতির পশুপাখি সাথে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন, তখন তিনি কোনো কোনোটি জোড়ায় জোড়ায় এবং কোনো কোনোটি সাতটি করে নিয়েছিলেন। এটি থেকে আমরা অন্তত সন্দেহ করতে পারি যে, তিনি বহুগামী ও একগামী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কেবল একজন স্ত্রী নিয়েছিলেন এবং তার প্রত্যেক ছেলের জন্যও একজন করেই স্ত্রী নিয়েছিলেন। এর বদলে দুটি বা আধা ডজন নয় কেন? বহুগামিতা নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর জনসংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিস্ময়করভাবে ত্বরান্বিত করত। কিন্তু নূহ ছিলেন একগামী। এমন তথ্য দেখার পর যদি বলা হয় একগামিতা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পৌত্তলিকতা থেকে এসেছে, তবে তা হবে ঈশ্বরের নিন্দা করার শামিল। ** পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২ * সম্ভবত এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের দু-এক কথা যোগ করা উচিত। একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকার বিষয়টি বহুগামিতার চেয়েও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অনেক বড় ক্ষোভ বলে মনে হয়। এই প্রথা বর্তমানে কয়েকটি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটি তিব্বতে খুব সাধারণ একটি বিষয়। সেখানে কোনো নারীর এক পরিবারের ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনকে বিয়ে করার চুক্তির মধ্যে পরিবারের অন্য সব ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাচীন মিডিয়াদের মধ্যেও বহুপতিত্ব সাধারণ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, মিডিয়ারা বহুগামিতা ও বহুপতিত্ব উভয়ই চর্চা করত। অন্তত সাতজন স্ত্রী না থাকলে কোনো পুরুষকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না। একইভাবে অন্তত পাঁচজন স্বামী না থাকলে নারীদেরও সাধারণ সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হতো না। সেই দেশে কোনো নারীর আগে থেকেই বিবাহিত হওয়াটা, এমনকি স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতেও এবং বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা ছাড়াই, পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। যারা বহুগামিতার যৌক্তিকতা বজায় রাখেন, তাদের বিপরীত প্রথার ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বিবেচনা করা ভালো। মানব সংবিধানে যেকোনো একটির ভিত্তি থাকার বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো সমান ভালো কারণ রয়েছে বলে মনে হয়। ** পৃষ্ঠা ১৫২-১৫৩ * বর্তমান সময়ের আরেকটি বড় কুফল এবং সমাজের সবচেয়ে পবিত্র স্বার্থগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে হুমকির মুখে ফেলা একটি বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদের সহজলভ্যতা। কিছু রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলো এতটাই শিথিল যে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত মানুষ উল্লেখিত রাজ্যগুলোতে যায়। আইনের এই শিথিলতার ফলে তাড়াহুড়ো করে ও অবিবেচনাপ্রসূত বিয়ে উৎসাহিত হয়। এর ফলে একজন বেমানান সঙ্গীর কাছ থেকে পালানো এত সহজ হয়ে যায় যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। <br> মহান শিক্ষকের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের বাইবেলীয় নিয়ম এই অবক্ষয়ের যুগে খুব কমই মানা হয়। তিনি কেবল ব্যভিচারকেই বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। অথচ আমরা এখন বিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে তুচ্ছ সমস্যার কারণে তাদের পবিত্র বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে দেখি। কোনো দম্পতি একে অপরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পরিবর্তন চাইলে তাদের শুধু নিউ ইয়র্ক বা শিকাগোর কোনো আইনজীবীর কাছে ফি পাঠাতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের প্রতিজ্ঞা বাতিলের আইনি কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। <br> মানব আইনে সমর্থন থাকলেও, ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই নির্লজ্জ ছেলেখেলাকে স্বয়ং ঈশ্বর সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষেত্রের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক আইনের এত বেশি প্রয়োজন নেই। বিয়ের চুক্তিকে আমাদের আইনে এমন একটি চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা বর্তমানের মতো এত সহজে তৈরি বা বাতিল করা যায় না। কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্যই এটি বাতিল হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায়ই যে বিপরীত পথ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নৈতিকতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনগুলো বলতে গেলে অসতীত্বের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে। ** পৃষ্ঠা ১৫৪ * "তুমি ব্যভিচার করবে না।" "যে কেউ কামুক দৃষ্টিতে কোনো নারীর দিকে তাকায়, সে তার মনে আগেই ব্যভিচার করে ফেলেছে।" <br> এই দুটি শাস্ত্রবাক্যে আমরা অসতীত্বের একটি সম্পূর্ণ সংজ্ঞা পাই। সপ্তম আজ্ঞা এবং এর ওপর ত্রাণকর্তার মন্তব্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সতীত্বের জন্য কেবল বাইরের কাজই নয়, বরং চিন্তার পবিত্রতাও প্রয়োজন। অপবিত্র চিন্তা ও অসতী কাজ দুটিই সপ্তম আজ্ঞার লঙ্ঘন। আমরা আরও দেখব যে, মনের অসতীত্ব নৈতিক আইনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এই সীমালঙ্ঘনের মাত্রার সমান শারীরিক শাস্তি এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪ * '''মানসিক অসতীত্ব:''' যে ব্যক্তি কামুক মেলামেশার দৃশ্যগুলোর মধ্যে তার কল্পনাকে অবাধে ছুটে চলতে দেয়, তার নিজেকে সতী মনে করাটা বৃথা। যে মানুষের ঠোঁট লম্পটতার গল্প বলতে ভালোবাসে, যার চোখ অশ্লীল ছবি দেখে তৃপ্ত হয়, যে সবসময় কোনো নির্দোষ শব্দ বা কাজের অর্থ বিকৃত করে নোংরামিতে রূপ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং যে নির্লজ্জ কাজের জ্বলন্ত বর্ণনা পড়ে আনন্দ পায়—এমন মানুষ চরিত্রবান নয়। সে হয়তো কখনো প্রকাশ্যে কোনো অসতী কাজ করেনি। কিন্তু রাস্তায় কোনো সুন্দরী নারীকে দেখে সে যদি কল্পনায় তার শরীরের গোপন অঙ্গে হাত না দিয়ে পার হতে না পারে, তবে সে একজন প্রকাশ্য লম্পটের চেয়ে মাত্র এক ধাপ ওপরে রয়েছে। সে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীনের মতোই অসতী। <br> মানুষ হয়তো এই মানসিক ব্যভিচার দেখতে পায় না। সে হয়তো এই নোংরা কল্পনাগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু একজন এসব দেখেন এবং মনে রাখেন। এগুলো আত্মায় তাদের ভয়ংকর দাগ রেখে যায়। এগুলো মনকে নোংরা করে ও কলুষিত করে। জীবনের প্রতিটি দিনের হিসাব যেমন স্বর্গের খাতায় ছবির মতো ফুটে থাকে, তেমনি এগুলোও তাদের সব জন্মগত ভয়ংকর রূপ নিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ** পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৫ * নোংরা চিন্তা একবার মনে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে কুষ্ঠরোগের মতো লেগে থাকে। এগুলো মহামারির মতো ক্ষয় করে, দূষিত করে ও সংক্রামিত করে। এই নোংরা অভিশাপ ও নৈতিক সংক্রমণে একবার সংক্রামিত হলে, কেবল সর্বশক্তিমানের ক্ষমতাই সেই আত্মাকে কামনার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৭৫ * এটি একটি বিস্তৃত ও মারাত্মক ভুল ধারণা যে, কেবল বাইরের কাজই ক্ষতিকর। সতীত্বের নিয়মগুলো কেবল শারীরিকভাবে লঙ্ঘন করলেই রোগ দেখা দেবে, এটাও একটি ভুল ধারণা। আমরা দেখেছি কেবল মানসিক পাপ থেকেই পাশবিক অপব্যবহারের সব প্রভাব তৈরি হয়। <br> আমি এই কারণে মারাত্মক রোগ এবং চরম ভোগান্তি খুঁজে পেয়েছি। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এই ঘটনাগুলো ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই এমন তরুণদের মধ্যে এসব দেখতে পাই, যাদের সাধারণত ব্রহ্মচারী বলা হয় বা যারা নিজেদের তা-ই মনে করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে যে, এই ধরনের অপবিত্র চিন্তা বা কাজের পর হস্তমৈথুন বা ব্যভিচার না করা হলে, তারা সমাজে অশালীন বা কামুক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যদের অনুভূতিকে নৈতিক অপরাধ ছাড়াই উত্তেজিত করতে পারে। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন ব্যক্তিদের বলতে হয় যে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদের গঠন ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন অনেক যুবক আছে যারা রাস্তায় শুধু মেয়েদের প্রলুব্ধ করা ছাড়া বাকি সব ধরনের কামুক পরিচয় তৈরি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। এমন অনেকেই আছে যারা যৌন উত্তেজনার আশায় নিম্নমানের বিনোদনের জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। পতিতাদের সাথে বাড়ি যাওয়া ছাড়া তারা মূলত সব দিক থেকেই পুরোপুরি অনৈতিক জীবনযাপন করে। এই ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুরুষত্বহীনতায় ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে অতীতের এই বাজে অভ্যাসগুলোর প্রভাব থাকতে পারে বলে জানালে তারা অবাক হয়। ** পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭ * "যৌনাঙ্গগুলোর আসল ব্যবহার ছাড়াই সেই সব কামুক 'দিবাস্বপ্ন' এবং ভালোবাসার মোহ সাধারণ দুর্বলতা, নারীসুলভ আচরণ, কার্যকলাপে ব্যাঘাত, আগাম রোগ এবং এমনকি আগাম মৃত্যুরও কারণ হয়। তরুণরা—বিশেষ করে যারা অলস, কামুক, বসে থেকে কাজ করা ও নার্ভাস—তারা এগুলোতে অত্যন্ত বেশি জড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে চিন্তার এই অসতীত্ব—মনের এই ব্যভিচারই—মানব পরিবারের জন্য অসীম ক্ষতির শুরু।" ** পৃষ্ঠা ১৭৭ * দৃশ্যত মানবজাতির বেশিরভাগের কাছে প্রেম বা যৌন ভালোবাসা মানেই কামনা। এই ক্ষমতাকে এতটাই নিচে নামানো ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে যে, এটিকে প্রায় কামুকতার সমার্থক হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে। সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন একটি উচ্চতর ও পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা মানুষের ভেতরের পশুকে তৃপ্ত করার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে। সমাজে মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে মনে হতে পারে যে, কামুক তৃপ্তির সুযোগই বিশ্বের বেশিরভাগ নারী-পুরুষের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই পর্যবেক্ষণের সাথে আমরা যদি পুলিশ আদালত ও কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর নোংরা প্রকাশগুলো যোগ করি, তবে এই মতামতের একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি যেসব মন্ত্রীর "পালের দৃষ্টান্ত" হওয়ার কথা, তারাও বরং "অন্ধদের অন্ধ নেতা" হয়ে অন্যদের সাথেই একই গর্তে পড়েন। স্বাভাবিক প্রবৃত্তির এই বিকৃতি এবং সতীত্ব থেকে এই হুট করে সরে যাওয়া, যা সমাজের একটি ছোট অংশকে চমকে দেয় এবং অন্য অংশকে এক নোংরা আনন্দ দেয়, তা মানসিক অসতীত্বেরই ফসল। "নোংরা স্বপ্নদর্শীরা বুঝতে পারার আগেই কাজেও নোংরা হয়ে যায়।" মস্তিষ্ক যেমন চিন্তাকে গঠন করে, তেমনি চিন্তাও মস্তিষ্ককে গঠন করে। যে ব্যক্তি কামুক বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজের কল্পনা সঁপে দেয়, সে খুব দ্রুত কামুকতার স্রোতে ভেসে যায়। বিপদ বোঝার আগেই সে নিজেকে কামনার পাঁকে গভীরভাবে আটকে পড়তে দেখে। সে হয়তো একটি সুন্দর বাইরের আবরণ বজায় রাখতে পারে। কিন্তু প্রতারণা তার পচা আত্মার নোংরামি পরিষ্কার করতে পারে না। কতজন চার্চের সদস্য ধার্মিকতার আবরণে আবর্জনার স্তূপে ভরা আত্মা বহন করেন, তা কোনো মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। কতগুলো মিম্বর "সাদা করা সমাধি" দিয়ে ভরা, তা কেবল বিচারের দিনই প্রকাশ পাবে। ** পৃষ্ঠা ১৭৮-১৭৯ * "হৃদয়ের পূর্ণতা থেকেই মুখ কথা বলে।" "মানুষ যে প্রতিটি অকেজো কথা বলবে, বিচারের দিন তাকে তার হিসাব দিতে হবে।" "তোমার কথার মাধ্যমেই তুমি নিন্দিত হবে।" মথি ১২: ৩৪, ৩৬, ৩৭। এই তিনটি ছোট বাক্যে খ্রিষ্ট এই অনুচ্ছেদের বিষয়ের পুরো নৈতিক দিকটি তুলে ধরেছেন। যে কেউ তার এই ভারী কথাগুলো ভালোভাবে ভেবে দেখলে, তার আর কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হবে না। নোংরা কথা বলা মানুষেরা শুধু এক মুহূর্ত ভাবুক যে, শেষ বিচারের দিনে হিসাব নেওয়ার জন্য কত অসংখ্য "অকেজো", নোংরা কথা অপেক্ষা করছে। এরপর তাদের ভাবতে দিন যে, সর্বশক্তিমানের সামনে এবং পুরো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সামনে যখন সবাইকে কঠোর বিচার দেওয়া হবে, তখন তাদের অপরাধী আত্মায় কত বড় নিন্দার বোঝা নেমে আসবে। <br> ছেলে ও যুবকদের মধ্যে নোংরা গল্প বলা, বাজে জোকসে লিপ্ত হওয়া, অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া এবং রাস্তায় পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি নারীকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করার প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এই ধরনের অভ্যাস পবিত্র চিন্তাগুলো ধ্বংস করে দেয়। এগুলো সতীত্বের প্রতি সম্মান নষ্ট করে। এগুলো মনকে অশ্লীলতার চোরাবালিতে পরিণত করে এবং প্রকাশ্য অশালীন কাজের দিকে নিয়ে যায়। <br> কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল ছেলে ও যুবকরাই দায়ী নয়। প্রায়ই তারা বয়স্কদের কাছ থেকে পাপের এই ভাষা শেখে। আর তরুণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে এই পাপ যদি জঘন্য হয়, তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কতটা ঘৃণ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। <br> আর নারীরাও এই অভিশপ্ত বিষয়ে তাদের অংশের বাইরে নন। পাপের এই ভূতটি সেলাই-চক্র, পার্লার এবং এমনকি ক্লাবরুমগুলোতেও তাড়া করে ফেরে। অবশ্যই, তারা সাধারণত ওই অশালীনতার সেই গভীর অন্ধকারে নামেন না, যেখানে পুরুষরা যান। কিন্তু তারা একই নোংরা চিন্তাগুলো আরও সূক্ষ্ম শব্দে সাজান এবং অস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে শব্দের চেয়েও বেশি নোংরামি লুকিয়ে রাখেন। যেসব নারী নিজেদের সতীত্বের দুর্লভ আদর্শ বলে মনে করেন, তাদের কাছে সর্বশেষ কেলেঙ্কারির আলোচনা, মিসেস এ বা মিস্টার বি-র সতীত্ব নিয়ে জল্পনা এবং এই মানুষের মেয়ের "পতন" বা ওই মানুষের ছেলের ভালোবাসার অভিযান নিয়ে গুঞ্জন করার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ** পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০ * পুরুষালি পবিত্রতা নারীদের শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই সতী বলে বিবেচনা করতে ভালোবাসে। এটি তাকে পবিত্রতা ও অজেয় গুণের ধারণা দিয়ে ঘিরে রাখতে চায়। তবে এই উপসংহার এড়ানোর কোনো উপায় নেই যে, যারা অন্যদের সতীত্ব হারানো দেখে আনন্দ পায় এবং প্রলোভনের সর্বশেষ ঘটনা বা নতুন কেলেঙ্কারির মতো সন্দেহজনক বিনোদনে তৃপ্তি খোঁজে, তাদের নিজেদের হৃদয় পবিত্র করা এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণু সতীত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে ভ্রমণকারীরা সেই সব পাপের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন, খ্রিষ্টধর্মের নৈতিক বাধাগুলো দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া কোনো জাতির মধ্যে যা থাকার কথা। তাদের বন্য পরিবেশে প্রথম আবিষ্কারের সময়, তারা সভ্যতার পাপ ও এর ফলে সৃষ্ট রোগগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সব বাধা থাকা সত্ত্বেও সভ্য জীবনের পরিমার্জন ও বিকৃতিতে এমন কিছু আছে, যা সতীত্বের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কি সেই প্রভাবগুলো খুঁজে বের করতে পারি? হ্যাঁ, সেগুলো আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সেগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলোতে ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়। এমনকি ধ্বংসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই সেগুলোর ওপর কোনো সন্দেহও হয় না। ** পৃষ্ঠা ১৮১ * আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, কোনো নিগ্রো যেমন ককেশীয় হতে পারে না, তেমনি কামনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুও স্বভাবগতভাবে সতী হতে পারে না। তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ রয়েছে। আমরা দেখব যে এটি পিতা-মাতা এবং সন্তান উভয়কেই প্রভাবিত করে। শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যে "অকাল যৌনতা" অংশে উল্লেখ করা সব প্রভাব কাজ করতে থাকে। <br> আট বা দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের একসাথে ঘুমাতে দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি যেখানে সাত বা আট বছরের ছোট ছেলেদের চৌদ্দ বা ষোলো বছরের মেয়েদের সাথে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এমন সব মানুষের দ্বারা অত্যন্ত লজ্জাজনক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যাদের এই ধরনের অশালীনতার জন্য সন্দেহও করা যেত না। এমন একটি ঘটনায় আট বছরের একটি ছোট ছেলে তার চেয়ে কয়েক বছরের বড় তিন মেয়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। বড় মেয়েটি প্রজননের "কাজের পদ্ধতি" সম্পর্কে ছোটদের শেখানোর জন্য সেই ছেলেটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। লিঙ্গের শারীরিক পার্থক্য দেখার সুযোগ দেয় বা এই কোমল বয়সে পুরোপুরি সুপ্ত থাকা আবেগগুলোকে উত্তেজিত করে, এমন সব পরিস্থিতিতে অন্তত চার বা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই বিপরীত লিঙ্গের শিশুদের সতর্কতার সাথে একে অপরের থেকে আলাদা করা উচিত। ** পৃষ্ঠা ১৮২ * '''খাদ্যাভ্যাস বনাম সতীত্ব:''' সভ্যতার বিকৃত প্রভাবে একেবারে শৈশব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্ধক্য পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাস ও পবিত্রতার মধ্যে একটি প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকে। কখনো কখনো (আমরা আশা করি খুব কমই) অসহায় শিশু তার মায়ের বুকের দুধের সাথেই কামুক কামনার নির্যাস পান করে এবং এর মাধ্যমেই তার গঠনের পর্যায়ে থাকা মস্তিষ্কে পাপের ছাপ পড়ে। সাধারণ খাবার খাওয়ার বয়স হলে শিশুর কোমল পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার মসলাযুক্ত খাবার, উদ্দীপক সস, প্রাণীজ খাবার, মিষ্টি এবং শেষ না হওয়া নানা স্বাদের লোভনীয় খাবার দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই চা ও কফিও এর তালিকায় যুক্ত হয়। লবণ, গোলমরিচ, আদা, সরিষা ও নানা ধরনের মসলা তার দৈনন্দিন খাবারের গুণমান নষ্ট করে। বদহজমে বা তার দুর্বল শরীরের কারণে শৈশবের রোগগুলোর দ্রুত শিকার হয়ে সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মারা নাও যায়, তবে জীবনের শুরুতেই তার পরিপাকতন্ত্র সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। <br> উত্তেজক উদ্দীপক ও মসলা তার স্নায়ুকে দুর্বল ও খিটখিটে করে তোলে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও ব্যাহত করে। এভাবে সেগুলো পরোক্ষভাবে যৌনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সহানুভূতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আরও প্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। মাংস, মসলা, ডিম, চা, কফি, চকলেট এবং সব উদ্দীপক প্রজনন অঙ্গগুলোর ওপর সরাসরি জোরালো প্রভাব ফেলে। এগুলো নির্দিষ্ট ওই জায়গায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। আর মস্তিষ্কের সাথে স্নায়বিক সহানুভূতির মাধ্যমে আবেগগুলো জেগে ওঠে। <br> অতিরিক্ত খাওয়া, দুই বেলার খাবারের মাঝে খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, হজম না হওয়া খাবার খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে যৌন অঙ্গগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যাই রক্তের গুণমান নষ্ট করে। অপরিপক্ব ও ঠিকমতো হজম না হওয়া খাবারে ভরা দুর্বল রক্ত স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। বিশেষ করে প্রজনন কাজ নিয়ন্ত্রণকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর জন্য এটি বেশি অস্বস্তিকর। এই অস্বস্তি রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি করে। আর এটি যৌন কামনাকে উত্তেজিত করে। উত্তেজিত আবেগগুলো স্থানীয় এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এভাবেই প্রতিটি জিনিস একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। <br> এভাবেই এই উত্তেজক কারণগুলো যৌবন ও তার পরের বছরগুলোতেও তাদের গোপন কাজ চালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনেই এগুলো তাদের সন্তানদের ধ্বংস করে। এমনভাবে আবেগের ঝড় উসকে দেয় যা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ** পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪ * কোনো যাজকের নৈতিকতার শিথিলতার কথা শুনলে আমরা স্বভাবতই অত্যন্ত বিরক্ত হই। আমরা মনে করি যে, সহমানুষদের সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথ শেখানো যার কাজ, তার নিজেরই অনৈতিকতার দাগ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। কিন্তু এই মন্ত্রীদের কীভাবে খাওয়ানো হয় তা বিবেচনা করলে, আমরা অন্তত কিছু মাত্রায় তাদের দোষ ক্ষমা করার সাময়িক প্রবণতা দমন করতে পারি না। মন্ত্রী চা খেতে গেলে তাকে সবচেয়ে দামি কেক, সেরা জেলি, সবচেয়ে তীব্র সস এবং সবচেয়ে ভালো ময়দার তৈরি রুটি পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণ গৃহিণী ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেন না যে, তিনি এমন আবেগের আগুনে ঘি ঢালছেন যা তার মেয়ের বা এমনকি নিজের সতীত্বকেও বিপদে ফেলতে পারে। কামুকতা একবার জেগে উঠলে, এমনকি কোনো মন্ত্রীর মধ্যেও তা যুক্তি বা বিবেকের কোনো জায়গা রাখে না। নারীরা যদি তাদের মন্ত্রীদের সতীত্ব রক্ষা করতে চান, তবে তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে আরও বেশি খাওয়ানো উচিত। মন্ত্রীরা কোনো ধোয়া তুলসী পাতা নন। ** পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫ * '''তামাক ও পাপ:''' তামাক ব্যবহারের মতো নোংরা অভ্যাসটি নৈতিকতার ওপর যে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে খুব কম মানুষই সচেতন। অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা অনুন্নত অঙ্গগুলোকে উত্তেজিত করে ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি এক সময়ের চরিত্রবান ও পবিত্র তরুণকে কামনার এক প্রকৃত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে। এটি তার ভেতরের আবেগের আগুন থেকে অশ্লীলতার স্রোত ও কামুকতার সালফারযুক্ত ধোঁয়া উগলে দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চললে তামাকের চূড়ান্ত প্রভাব হয় পুরুষত্বহীনতা। তবে এটি কেবল আগের অতিরিক্ত উত্তেজনারই অপরিহার্য ফল। অনেক ধূমপায়ী যে কামুক দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে, তা এক ধরনের ব্যভিচার। এমনকি কোনো পশুর পক্ষেও যদি এমন অপরাধ করা সম্ভব হতো, তবে তারও লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত ছিল। মানসিক লম্পট কেবল পতিতালয় ও শহরের নারীদের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না। তার নোংরা কল্পনায় কামুক কল্পনা যেখানেই তাকে নিয়ে যায়, সেখানেই সে সতীত্বের পবিত্রতা নষ্ট করে। <br> আমরা সচেতন যে আমরা তামাকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছি। নগ্ন সত্য প্রকাশ করতে আমরা দ্বিধা করিনি। তারপরও আমাদের মনে হয় না যে আমরা এই নোংরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবকে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলেছি। একই কারণে মদের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও ততটা বা প্রায় ততটাই বলা যেতে পারে। ** পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬ * সতীত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো অশ্লীল সাহিত্য। এটি বহু বছর ধরে দেশে প্লাবন বয়ে আনছে। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এই এজেন্টদের একটি করে কপি রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার ও তাদের পণ্য ধ্বংস করে এই ব্যবসা দমনের জন্য কিছুকাল ধরে ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে কাজ করেছেন:-<br> "আমি এই বহু-মাথাওয়ালা দানবটিকে আংশিকভাবে উন্মোচন করতে সফল হয়েছি। নিম্নলিখিত বিবৃতিটি দেখলেই আপনি তা বুঝতে পারবেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিকারে বাড়ানো যেতে পারে..." * গত কয়েক বছর ধরে দেশে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল সাহিত্য নৈতিকতার আরেকটি বড় শত্রু। গোপন সংস্থার মাধ্যমে ছড়ানো এই বইগুলো সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতিটি বড় স্কুলেই খারাপ মানুষ ও তাদের শয়তান প্রভুর এসব প্রচারক রয়েছে। এই অপকর্মের ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে অ্যান্টনি কমস্টকের একটি প্রকাশিত চিঠির নিচের উদ্ধৃতিগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি প্রকাশকদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের সামগ্রী ধ্বংস করে এই অবৈধ ব্যবসা দমনের জন্য ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন:<br> "নিচের বিবৃতি থেকে আপনারা দেখতে পাবেন, আমি এই বহুরূপী দানবের একটি অংশ আংশিকভাবে উন্মোচন করতে পেরেছি। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণটি বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে। আমি এগুলো বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করেছি:<br> "এক লক্ষ বিরাশি হাজারের বেশি অশ্লীল ছবি, স্টেরিওস্কোপিক এবং অন্যান্য ছবি; পাঁচ টনের বেশি অশ্লীল বই এবং পুস্তিকা; একুশ হাজারের বেশি মুদ্রিত অশ্লীল চিঠির পাতা; পাঁচ হাজারের বেশি অশ্লীল মাইক্রোস্কোপিক ঘড়ি, ছুরির লকেট এবং আংটি; ছবি ও স্টেরিওস্কোপিক দৃশ্য ছাপানোর জন্য প্রায় ছয়শ পঁচিশটি অশ্লীল নেগেটিভ প্লেট; তিনশ পঞ্চাশটি অশ্লীল খোদাই করা স্টিল ও তামার প্লেট; কুড়িটি অশ্লীল লিথোগ্রাফিক পাথর ধ্বংস করা হয়েছে; পাঁচশটির বেশি অশ্লীল কাঠের খোদাই; অশ্লীল বই ছাপানোর জন্য পাঁচ টনের বেশি স্টেরিওটাইপ প্লেট; প্রায় ছয় হাজার অশ্লীল স্বচ্ছ তাস; ত্রিশ হাজারের বেশি অশ্লীল ও অনৈতিক রাবারের জিনিসপত্র; রাবারের জিনিস তৈরির জন্য বারো সেট বা সাতশ পাউন্ডের বেশি সিসার ছাঁচ; প্রায় চার হাজার ছয়শটি বাজেয়াপ্ত করা সংবাদপত্র; এসব পণ্য অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পনেরো হাজার চিঠি; বাজেয়াপ্ত করা হিসাবের খাতায় প্রায় ছয় হাজার ডিলারের নাম; বাজেয়াপ্ত চিঠি ও হিসাবের খাতা বাদেও ডিলারদের হাতে থাকা সাত হাজারের বেশি নামের তালিকা, যা প্রচারপত্র বা ক্যাটালগ পাঠানোর জন্য পণ্য হিসেবে বিক্রি হয়; এবং ১৮৭১ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে পঞ্চাশ জনের বেশি ডিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" <br> "এই লোকগুলো প্রথমে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং পরে প্রচারপত্র পাঠিয়ে এসব জঘন্য জিনিস ছড়ায়। তারা এই পদ্ধতিতে হাজার হাজার নাম সংগ্রহ করে। কখনো কোনো সন্তানকে সেখানে ভর্তি করানোর ভান করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ক্যাটালগ আনিয়ে নেয়। আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল-কলেজের সব পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীর ডিরেক্টরি তৈরি করার, বা অবিবাহিতদের আদমশুমারি করার কথা বলে প্রচারপত্র পাঠায়। এমনকি এমন তালিকা পাঠানোর জন্য নামপ্রতি পাঁচ সেন্ট দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। আমার বলার অপেক্ষা রাখে না, এই টাকা খুব কমই পাঠানো হয় বা একেবারেই পাঠানো হয় না। তবে বিজ্ঞাপনের জবাবে আসা নামগুলোর পাশাপাশি এই নামগুলোও অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে কেউ এই জঘন্য ব্যবসায় নামতে চাইলে তাকে শুধু ওই নামের তালিকা কিনলেই চলে। তখন আপনার অজান্তেই আপনার ছেলে বা মেয়ের হাতে এসব শয়তানি ক্যাটালগ চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।" ** পৃ. ১৮৬-১৮৮ * ডা. লুইসের উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় সি এল মেরিয়াম বলেন: "আমরা দেখতে পেয়েছি, অশ্লীল সাহিত্যের ডিলাররা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। এগুলোর দায়িত্বে থাকে স্কুলের সবচেয়ে বখাটে ছেলেরা। বিক্রেতারা এই ছেলেদের বেছে নিয়ে টাকা দেয়। তারা নিউইয়র্ক সিটিতে এর আগে প্রকাশিত একশ চুয়াল্লিশটি অশ্লীল বইয়ের যেকোনোটি খণ্ডপ্রতি দশ সেন্টের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।" ** পৃ. ১৮৮ * তবে এটি একটি বেদনাদায়ক সত্য, আইনের আওতায় থাকা প্রতিটি বাজে বই পুরোপুরি ধ্বংস করলেও এই অপকর্মের প্রতিকার হবে না। কারণ আমাদের আধুনিক সাহিত্যও একই ভাইরাসে পূর্ণ। এটি অপরিহার্যভাবে কম জঘন্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। সুন্দর কল্পচিত্র দিয়ে এটি অর্ধেক ঢাকা থাকে বা রসিকতা দিয়ে সাজানো থাকে। তবুও এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং কোনো আইন এর নাগাল পায় না। সাহিত্যের মানসম্মত লেখকদের রচনায় অশ্লীলতার ছড়াছড়ি রয়েছে। সম্প্রতি যেসব অশ্লীল সাহিত্য দমনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো নিঃসন্দেহে তার চেয়েও বেশি তরুণদের মনে কামুক কৌতূহল জাগাতে এবং আবেগ ও অনৈতিকতাকে উসকে দিতে এবং লালন করতে ভূমিকা রেখেছে। পাপের দৃশ্যগুলো যত নিখুঁতভাবে আঁকা হয়, সেগুলো তত বেশি বিপজ্জনকভাবে প্রলুব্ধকর হয়ে ওঠে। উপন্যাস পড়া হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ১৮৮-১৮৯ * '''অলসতা:''' এই অপকর্মটি সাধারণত আগেরটির সাথে যুক্ত থাকে। পবিত্রতা বজায় রাখতে মনকে ব্যস্ত রাখতে হবে। কাজ না থাকলে এই শূন্যতা দ্রুত অপবিত্র চিন্তায় ভরে যায়। অলসতার মাঝে বেড়ে ওঠার চেয়ে সন্তানের জন্য খারাপ কিছু হতে পারে না। এতে তার নৈতিকতা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিরাম মানসিক ব্যস্ততাই অপবিত্রতার বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ। যেসব অকর্মণ্য বাবু বারে আড্ডা দিয়ে, রাস্তার মোড়ে ঘুরে বেড়িয়ে বা রাজপথে সদম্ভে হেঁটে সময় নষ্ট করে জীবন কাটায়, তারা আর যাই হোক পবিত্র নয়। একইভাবে যেসব অকর্মণ্য যুবতী সোফা বা ইজিচেয়ারে বসে কোনো বোকাটে উপন্যাস পড়ে জীবন পার করে দেয় বা দিবাস্বপ্ন দেখে জীবনের মূল্যবান সময় অলসভাবে কাটায়, তারা খুব কমই মানুষের ধারণায় থাকা পবিত্রতার আদর্শ হয়। যদি কারও জন্মগতভাবে পাপের প্রতি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, তবে এমন জীবন খুব দ্রুত একটি অসুস্থ ও অপবিত্র কল্পনার জন্ম দেবে। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * '''পোশাক এবং কামুকতা:''' দুটি উপায়ে ফ্যাশনেবল পোশাক অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়। যথা: ১. এর অপচয় বা অতিরিক্ত মূল্যের কারণে; ২. শরীরের অপব্যবহারের মাধ্যমে। <br> অপচয় কীভাবে অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়? এটি পাপের প্রলোভন তৈরি করে। যারা চমৎকার ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, অভিজাত বাদামি পাথরের বাড়িতে বাস করে এবং অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সব ধরনের বিলাসবহুল জিনিসপত্রে পরিবেষ্টিত থাকে, সেসব জমকালো পোশাক পরা নারীদের এটি প্রভাবিত করে না। কারণ দামি পোশাক তাদের জন্য কোনো প্রলোভন নয়। কিন্তু কম সুবিধাপ্রাপ্ত অথচ সমান যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের কাছে এসব সুন্দর পোশাক ও জমকালো সাজসজ্জার প্রদর্শনী অত্যন্ত শক্তিশালী প্রলোভন। কঠোর পরিশ্রম করে কোনোমতে নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানো গরিব নারী দর্জির কোনো বৈধ প্রশংসাকারী থাকে না। সৎ থেকে নিজের সতীত্ব বজায় রাখতে গেলে তাকে সাধারণ পোশাক পরতে হয়। তখন তার অহংকারী বোনেরা তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। সে সর্বত্র দেখতে পায়, পোশাকই একজন নারীকে ভদ্রমহিলা হিসেবে গড়ে তোলে—এটি একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। রাস্তায় কেউ তাকে যাওয়ার জন্য পথ ছেড়ে দেয় না। তার ক্লান্ত হাত থেকে ফসকে পড়ে যাওয়া প্যাকেটটি তুলে দিতেও কেউ এগিয়ে আসে না। ক্লান্তিতে কাঁপতে থাকা অবস্থায় সে কোনো ভিড় ট্রেনে উঠলেও কেউ তাকে বসার জায়গা দেয় না। অথচ তার পেছনে আসা জমকালো পোশাক পরা নারীকে সঙ্গে সঙ্গেই জায়গা করে দেওয়া হয়। সে এই পার্থক্য খেয়াল করে। অপরিচিতদের সম্মান বা সমীহ পাওয়ার আশায় সে পরিণতি নিয়ে না ভেবেই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ১৯০-১৯১ * নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমাদের বড় শহরগুলোতে শত শত যুবতী আছে, যারা খাবার ও জ্বালানি কেনার পাশাপাশি একটি স্যাঁতসেঁতে চিলেকোঠার ভাড়া মেটানোর মতো সামান্য টাকা আয় করতে পারে। তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দেওয়া এই উপদেশটি মেনে নেয়, "তোমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য এমন কোনো ভদ্রলোক বন্ধু জোগাড় করো যে তোমার পোশাকের খরচ চালাবে।" অন্যেরা নিজেদের সম্মানজনকভাবে সাজিয়ে রাখতে তাদের সামান্য আয়ের সবটুকু খরচ করে ফেলে। এরপর তারা কোনো হৃদয়হীন ও কামুক তরুণ লম্পটের সাথে থাকা-খাওয়া ভাগ করে নেয়। শহরের জীবনে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যক্তিরা এবং আমাদের মহানগরের ঠিক কেন্দ্রে থাকা হাজার হাজার মানুষের এ ধরনের পতিতাবৃত্তির ভয়াবহ বিস্তৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যুবতীরা বরফের মতো পবিত্র হয়ে আমাদের বড় শহরগুলোতে যায়। তারা লাভজনক কোনো কাজ পায় না। রোজকার পাপের সংস্পর্শে আসার কারণে পাপের প্রতি তাদের প্রাথমিক তীব্র ঘৃণা ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্রমশ এটি তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনের কল্পনা একজন কঠোর পরিশ্রমী দর্জি মেয়েকে প্রলুব্ধ করে। সুন্দর পোশাক এবং আরামদায়ক বাসস্থান সেই প্রলোভনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সে হার মানে এবং বিয়ের ঝামেলা ছাড়াই একটি বাড়ির বিনিময়ে নিজের শরীর বিক্রি করে দেয়। <br> লাইসেন্স আইন পাস বা অধ্যাদেশ জারি করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যা করতে পারে, সাধারণ পোশাক পরার মাধ্যমে ধনী নারীরা এই সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ে তার চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানে কি খ্রিষ্টান নারীদের কোনো দায়িত্ব নেই? কয়েক বছর আগে ন্যাশভিলের কিছু নারী সঠিক পথে সামান্য একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নিচের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এই দৃষ্টান্ত কেউ অনুসরণ করেছে বলে আমরা শুনিনি:<br> "টেনেসির ন্যাশভিলের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চের নারী সদস্যরা একমত হয়েছেন যে, তারা রবিবারে সব ধরনের সাজসজ্জা বর্জন করবেন। তারা সংগতি ছাড়া অন্য কোনো গয়না পরবেন না এবং এরপর থেকে সাধারণ ক্যালিকো পোশাক পরে চার্চে আসবেন।" <br> এই হিতকর পদক্ষেপটি শুধু রবিবার নয়, সপ্তাহের অন্য সব দিনেও সম্প্রসারিত করা হলে এটি আরও যুগান্তকারী সংস্কার হতো। যদিও পোশাকের উপাদান হিসেবে শুধু ক্যালিকো ব্যবহারের কোনো কারণ আমরা দেখি না। বছরের কিছু ঋতুতে এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। ** পৃ. ১৯১-১৯২ * '''ফ্যাশন ও পাপ:''' শরীরের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পোশাক কীভাবে পাপের প্রতি প্ররোচিত করে, তা দেখা যাক। ১. ফ্যাশনের কারণে নারীদের ফিতা বা কর্সেট দিয়ে কোমর চেপে রাখতে হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডের দিকে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিরাস্থ রক্ত পেছনের দিকে সংবেদনশীল প্রজনন অঙ্গগুলোতে জমা হয়। এভাবে রক্ত জমে যাওয়ার ফলে পরাবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে পাশবিক প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২. পোশাক পরার ধরন হিসেবে কোমর থেকে বেশ কয়েকটি ভারী পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়। যেখানে পোশাকের সবচেয়ে কম প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত পোশাক রাখার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এটি অস্বাভাবিক স্থানীয় তাপ তৈরি করে। ৩. পা ও হাত-পায়ে এত পাতলা কাপড় পরার প্রথা রয়েছে যে সেগুলো সব সময় ঠান্ডার শিকার হয়। এটি রক্ত চলাচলকে আরও ভারসাম্যহীন করে তোলে এবং স্থানীয় এই সমস্যা বাড়াতে আরেকটি উপাদান যোগ করে। <br> উল্লেখ করা যেতে পারে এমন অন্যান্য কারণসহ এই সব কারণ মিলে প্রায় প্রতিনিয়ত কাজ করে স্থায়ী স্থানীয় রক্তজমাট বাঁধার পাশাপাশি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর গোলযোগ সৃষ্টি করে। শেষের এই গোলযোগগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হিস্টিরিয়ার প্রধান রোগতাত্ত্বিক অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এটি নিম্বোম্যানিয়া নামক অদ্ভুত রোগের কারণ। এর উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে একজন স্বাভাবিক পবিত্র ও বিনয়ী যুবতী চরম উচ্ছৃঙ্খল কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। এই ব্যাধি সৃষ্টির পেছনে ফ্যাশনেবল পোশাকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। ** পৃ. ১৯২-১৯৩ * '''পোশাকে সংস্কার প্রয়োজন:''' এসব অপকর্মের প্রতিকার এবং এগুলো থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সংস্কার। শরীরের সাথে পোশাক এমনভাবে মানানসই হতে হবে যেন প্রতিটি অঙ্গ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোনো কর্সেট, ব্যান্ড, বেল্ট বা অন্য কোনো সংকোচনের মাধ্যম যেন রক্ত চলাচলে বাধা না দেয়। কোমরবন্ধনী বা সঠিক সাসপেন্ডারের মাধ্যমে কাঁধ থেকে পোশাক ঝুলিয়ে রাখা উচিত। শরীরের অন্যান্য অংশের মতো হাত-পায়েও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে। স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তাগুলো কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা পোশাক সংস্কারের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি চমৎকার বই থেকে জানা যেতে পারে। এগুলোর যেকোনোটি এই বইয়ের প্রকাশক বা তাদের এজেন্টদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া সম্ভব। ** পৃ. ১৯৩-১৯৪ * '''ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা:''' এই ক্ষেত্রে ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খারাপ নিয়ামকের প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। ফ্যাশনেবল উচ্ছৃঙ্খলতা বলতে আমরা এক ধরনের অতিরিক্ত আসক্তিকে বোঝাই। সাধারণত ধনী বা অভিজাত শ্রেণির মানুষ এর জন্য গর্ববোধ করে। এই শ্রেণির মানুষদের মাঝে পরিচিত কোনো সাধারণ মাতালকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এমন ব্যক্তিকে খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলা হয়। তবে একইভাবে একজন সম্পূর্ণ মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিকেও এড়িয়ে চলা হয়। তাকে অন্তত একজন ধর্মান্ধ বা চরমপন্থী হিসেবে দেখা হয়। এই শ্রেণির মানুষের কাছে শিষ্টাচারের খাতিরে ওয়াইন পান করা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। ওয়াইনের পাশাপাশি তারা প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের মসলাদার খাবার, মসলা, চাটনি, চর্বিযুক্ত মাংস এবং সব ধরনের সুস্বাদু খাবার ও ডেজার্ট খায়। এগুলোকে সাধারণ উত্তেজক পদার্থের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। <br> এসব আসক্তি শরীরের সেই অংশকে উত্তেজিত করে, যার সাধারণত উত্তেজনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণের বেশি প্রয়োজন। একজন প্রাক্তন গভর্নর সম্প্রতি আমাদের কাছে একজন বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকের সম্মানে আয়োজিত একটি জমকালো রাজনৈতিক নৈশভোজের বর্ণনা দিয়েছেন। এতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছিলেন। নৈশভোজটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছিল এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে টানা খাবার ও ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল। একই অজুহাতে আমাদের বড় বড় অনেক শহরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বহু অনুষ্ঠানে জননেতারা এমন মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ায় অভ্যস্ত জেনে আমরা অবাক হই না যে, তাদের অনেকেই নৈতিকভাবে স্খলিত মানুষ। ** পৃ. ১৯৪-১৯৫ * বিলাসবহুলতার প্রবণতা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। রোমের নাগরিকেরা ধনী হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন গ্রহণ করার আগে রোম কখনোই উচ্ছৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়নি। দরকারী কাজে মনকে পুরোপুরি ব্যস্ত রাখার চেয়ে সুস্থ নৈতিকতার জন্য বেশি সহায়ক আর কিছুই নেই। ফ্যাশনেবল অলসতা সদ্গুণের চরম শত্রু। যেসব তরুণ বা তরুণী অলস দিবাস্বপ্ন দেখে অথবা কিছু মহলে চলা আড্ডার অধিকাংশ জুড়ে থাকা অর্থহীন কথাবার্তা বলে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করে, তারা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম ঝুঁকিতে থাকে। ফ্যাশনেবল সমাজের অনেক প্রথা ও রীতি পাপের দরজা খুলে দেয় বলে মনে হয়। এগুলো ছলনার আশ্রয় নিয়ে প্রথমদিকে অজান্তেই তরুণ ও অনভিজ্ঞদের পবিত্রতা এবং সদ্গুণের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। উচ্চবিত্ত বলে পরিচিত শ্রেণির মধ্যে প্রতিবছর অনৈতিকতার পরিমাণ বাড়ছে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। মাঝে মাঝেই উচ্চবিত্তদের জীবনের কোনো না কোনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তাদের দুর্নীতির বিশাল অংশটি সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। সব ভদ্র সমাজে খোলাখুলি উচ্ছৃঙ্খলতাকে অবশ্যই ঘৃণার চোখে দেখা হয়। তা সত্ত্বেও সম্পদ ও অর্জন মানুষের অনেক পাপ ঢেকে দেয়। <br> খারাপ ও দুষ্ট লোকদের দেওয়া এই স্বাধীনতা ফ্যাশনেবল সমাজের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর একটি। এমন ব্যক্তিরা নিজেদের সাথে যে নৈতিক পরিবেশ বহন করে, তা ভয়ংকর উপাস গাছের চেয়েও বেশি মারাত্মক। ** পৃ. ১৯৫-১৯৬ * '''রাউন্ড ড্যান্স:''' নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে ব্যায়াম বা ক্যালিসথেনিক্সের অংশ হিসেবে অন্যান্য নাচের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, রাউন্ড ড্যান্স, বিশেষ করে ওয়াল্টজের পক্ষে এমন কোনো অজুহাত দাঁড় করানো যায় না। এর সাথে জড়িত উচ্ছৃঙ্খলতা, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, ফ্যাশনেবল পোশাক, মধ্যরাতের ভোজ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে শরীর প্রদর্শিত হওয়া এবং অশালীন পোশাক ইত্যাদির পাশাপাশি এটি খুব স্পষ্টভাবে দেখানো যায় যে, আবেগকে উদ্দীপ্ত করতে এবং অপবিত্র কামনা জাগিয়ে তুলতে নাচের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। এটি প্রায়শই অপবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যায়। এগুলো কঠোর নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং মন ও শরীর উভয়েরই ক্ষতি করে। <br> প্রখ্যাত পেত্রার্ক বলেছেন, "নাচ হলো কামনার উদ্দীপক—এমন একটি বৃত্ত যার কেন্দ্রে স্বয়ং শয়তান থাকে। যেসব নারী এতে অংশ নেয়, তাদের অনেকেই অসৎ হয়ে বাড়ি ফেরে, বেশিরভাগই উদাসীন থাকে, কেউ ভালো হয় না।" ** পৃ. ১৯৬ * এ বিষয়ে আমরা দ্য ড্যান্স অব ডেথ নামের একটি ছোট বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারি। বইটির লেখক এই বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং নিচের কথাগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেছেন:<br> "মৃদু গ্যাসলাইটের নিচে আমাদের সামনে দ্রুতবেগে বিশটি মূর্তি ঘুরছে। আমি বিশটি 'মূর্তি' বলছি—তবে প্রতিটিই জোড়া। নাচ শুরুর আগে এগুলো চল্লিশটি ছিল। বিশটি ভাসমান দৃশ্য—প্রতিটিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী। পিয়ানো, হার্প এবং বেহালার মাতাল সুরের তালে তালে বিশজন নারী সমসংখ্যক পুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আমাদের সামনে ঢেউয়ের মতো দুলছে এবং মাথা ঘোরানো গতিতে ঘুরছে। <br> "কিন্তু একটু কাছে আসুন—দেখা যাক এই অলৌকিক ঘটনা কীভাবে ঘটে। আপনি কি ওই জুটিকে খেয়াল করছেন, যারা সাবলীলতা ও আবেগে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। চলুন, এই জুটিকে উদাহরণ হিসেবে নিই। পুরুষটি বলিষ্ঠ, চটপটে ও শক্তিশালী; নারীটি লম্বা, নমনীয়, ছিপছিপে এবং তার গড়ন ও রূপ কতই না সুন্দর! নারীর মাথাটি পুরুষের কাঁধে রাখা, তার মুখ পুরুষের দিকে তোলা। তার খালি হাত প্রায় পুরুষের গলা জড়িয়ে আছে। তার ফুলে ওঠা বুক পুরুষের বুকের সাথে প্রবলভাবে ওঠানামা করছে। তারা মুখোমুখি ঘুরছে, পুরুষের হাত-পা নারীর হাত-পায়ের সাথে জড়িয়ে আছে। নারীর নমনীয় কোমরে ডান হাত শক্ত করে জড়িয়ে পুরুষটি তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়, যতক্ষণ না তার সুন্দর শরীরের প্রতিটি বাঁক কামুক স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়। নারী তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে কিছুই দেখে না। ঘরে নরম সুর বাজতে থাকে, কিন্তু সে কিছুই শোনে না। পুরুষটি তাকে মেঝের ওপর দ্রুত ঘোরায় অথবা তাকে নিজের আলিঙ্গনে এদিক-ওদিক বাঁকায়। <br> "শেষের দিকের একটি নিচু ও করুন সুরের সাথে সাথে বাজনা থেমে যায়। তার মূর্ছিত চেতনা ফিরে আসে। আহ, এমনই কি হতে হবে! হ্যাঁ; তার সঙ্গী তাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দেয়। ক্লান্ত হয়ে সঙ্গীর বাহুতে ভর দিয়ে, চোখের আনন্দ মুছে গিয়ে এবং গালের লাল আভা মিলিয়ে গিয়ে—দুর্বল, নিস্তেজ, উদাসীন ও ক্লান্ত অবস্থায়—তাকে একটি আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে তার ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে যতটা সম্ভব শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। এরপর তাকে নতুন কোনো আলিঙ্গনে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।" ** পৃ. ১৯৭-১৯৮ * আমি যখন ওয়াল্টজ নাচতাম, সেই দিনগুলোর নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে একজন তরুণীর মন ও মানসিকতা তুলে ধরার সাহস করছি। <br> "সেই সময় আমি পোলকা বা ভার্সোভিয়ানের পরোয়া করতাম না। পুরনো ধাঁচের মানি মাস্ক বা ভার্জিনিয়া রিল নিয়ে তো আরও কম ভাবতাম। আমি অবাক হতাম যে মানুষ এসব ধীরগতির নাচে প্রশংসা করার মতো কী পায়। কিন্তু ওয়াল্টজের নরম ভেসে চলায় আমি এক অদ্ভুত আনন্দ পেতাম, যা বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। শুধু নাচের কথা ভাবলেই আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেত। আমার সঙ্গী যখন নাচের জন্য আমার কথা দেওয়া হাতটি ধরতে আসত, তখন আমি মাঝে মাঝে আমার গালে একটু আভা অনুভব করতাম। আগের মতো খোলাখুলি আনন্দে আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না। <br> "কিন্তু আমার বিভ্রান্তির চরম মুহূর্তটি আসত, যখন তার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে এবং ঘোরার কারণে মাথা ঘোরা অবস্থায় এক অদ্ভুত, মিষ্টি শিহরণ আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিত। এটি আমাকে দুর্বল ও প্রায় ক্ষমতাহীন করে তুলত। তখন আমাকে ঘিরে থাকা সেই বাহুটির ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকত না। যদি আমার সঙ্গী অজ্ঞতা, দক্ষতার অভাব বা সরলতার কারণে আমার এই সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুভূতিগুলো জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হতো, তবে আমি তার সাথে দ্বিতীয়বার নাচতাম না। <br> "আমি খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বলছি। আমি যখন বলি যে আমি কী অনুভব করতাম, বা এই তথাকথিত নাচ থেকে আমার পাওয়া আসল ও সবচেয়ে বড় আনন্দগুলো কী ছিল তা আমি বুঝতাম না, তখন আমি আশা করি সবাই আমার কথা বিশ্বাস করবে। কিন্তু তখন যদি না-বোঝা আনন্দে আমার গাল লাল হয়ে উঠত, তবে আজ যখন আমি এসব নিয়ে ভাবি, তখন লজ্জায় আমার গাল ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শক্তিশালী পুরুষদের স্পর্শে তৈরি হওয়া শারীরিক আবেগের প্রতিই আমি মুগ্ধ ছিলাম—নাচের প্রতি নয়, এমনকি সেই পুরুষদের প্রতিও নয়।" <br> "এভাবে আমার সবচেয়ে নিচু প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটেছিল। আমি আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলাম। প্রথমে লাজুক দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারলেও, দ্রুত আমি আরও সাহসী দৃষ্টি মেলাতে সক্ষম হয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওয়াল্টজ আমার এবং আমার সাথে নাচা যেকোনো ব্যক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী, মিষ্টি এবং সম্পূর্ণ কামুক আনন্দে পরিণত হয়েছিল। সেখানে বুকের সাথে বুক কাঁপত, হাতে হাত ধরা থাকত এবং চোখ এমন জ্বলন্ত শব্দ খুঁজত যা ঠোঁট দিয়ে বলার সাহস হতো না।" ** পৃ. ১৯৯-২০০ * "তবুও আমাদের শেখানো হয়েছিল যে নাচ করা ঠিক। আমাদের বাবা-মা নাচতেন, আমাদের বন্ধুরাও নাচত এবং আমাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমি আরও বলব, আমার সাথে মেলামেশা করা মেয়েদের মধ্যে একজন বাদে সবারই নাচের বিষয়ে প্রায় একই অভিজ্ঞতা ছিল। সবাই একই রকম অদ্ভুত মিষ্টি অনুভূতি পেত। কেন বা কী বুঝতে না পারলেও, ওয়াল্টজের স্বাধীনতার চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ মিলনের এক প্রায় অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত। <br> "এখন আমি বিবাহিত এবং আমার নিজের সংসার ও সন্তান আছে। আমি অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, আমার এই অভিজ্ঞতাই আমাকে নিশ্চিতভাবে আমার ছোট মেয়েদের এমন বিপজ্জনক আনন্দে জড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সাহায্য করবে। কিন্তু শুরুতে পবিত্র ও নিষ্পাপ থাকা একজন তরুণী যদি আমার বলা কথাগুলো অনুভব করতে পারে, তবে একজন বিবাহিত নারীর অভিজ্ঞতা কেমন হবে? চোখের প্রতিটি চাহনি, মাথার প্রতিটি ঝোঁক এবং প্রতিটি ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনের অর্থ সে জানে। আর তা জেনে সে এর প্রতিদান দেয়। এভাবে সে দ্রুত ও নিশ্চিত পথে বিপজ্জনক এবং অসম্মানজনক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।" ** পৃ. ২০১-২০২ * '''আধুনিক জীবনযাপন:''' আগে বলা সব কারণ বাদেও আধুনিক জীবনযাপনের অভ্যাসের ফলে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সরাসরি কামুকতাকে উসকে দেয়। অতিরিক্ত গরম ঘর, বসে বসে করা কাজ, পেশির বদলে মানসিক ও স্নায়বিক সংগঠনের বিকাশ, স্কুলে মুখস্থ করার প্রথা, স্কুলের বাচ্চাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত মেলামেশার সুযোগ, বিভিন্ন পাবলিক বিনোদন, বলনাচ, চার্চের মেলা এবং আরও অনেক কিছুর অবক্ষয়ী প্রভাব এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব কিছুই যৌন ক্রিয়ার অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং অকালপক্বতার দিকে ধাবিত করে। <br> আধুনিক জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কারও পক্ষে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকা প্রায় অসম্ভব—একথা বলা মোটেও অতিরঞ্জন নয়। ঈশ্বরের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি নিশ্চিতভাবেই সত্য। তবে স্বেচ্ছায় করা পাপের ফল ঠেকাতে ঈশ্বর কখনোই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটান না। ** পৃ. ২০৩-২০৪ * সব পরিস্থিতিতে যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নাম কন্টিনেন্স বা ইন্দ্রিয়দমন। অন্যদিকে চ্যাস্টিটি বা পবিত্রতা হলো কেবল বেআইনি যৌন কাজ থেকে বিরত থাকা। আমাদের যেমন শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা আছে, তেমনি ইন্দ্রিয়দমনও মানসিক ও শারীরিক উভয়ই হওয়া উচিত। পবিত্রতা বিষয়ক অনেক পর্যবেক্ষণ ইন্দ্রিয়দমনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অপবিত্রতা ও ইন্দ্রিয়দমনে ব্যর্থতার কারণগুলো একই। মানসিক ও শারীরিক পবিত্রতার মধ্যে যে সম্পর্ক, মানসিক ও শারীরিক ইন্দ্রিয়দমনের মধ্যেও একই সম্পর্ক রয়েছে। ** পৃ. ২০৫ * '''ইন্দ্রিয়দমন ক্ষতিকর নয়:''' এমনকি অনেক চিকিৎসকও বেশ যুক্তির সাথেই দাবি করেছেন যে, প্রজনন অঙ্গের পূর্ণ বিকাশের পর সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়দমন বজায় রাখলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই অবস্থানের পক্ষে দেওয়া সব যুক্তি উল্লেখ করার দরকার নেই। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এগুলো এতই তুচ্ছ যে, এগুলোতে মনোযোগ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। আমরা মূলত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। এর মাধ্যমে আমরা দেখাব যে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল। নিঃসন্দেহে এগুলো মানুষের প্রাকৃতিক অনুকূল পক্ষপাতের কারণেই এত ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। নিজের পছন্দের সাথে মিলে যায় এমন কিছু বিশ্বাস করা সহজ। একপেশে ধারণার পক্ষে সামান্য একটি অনুমানও অন্য পক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ** পৃ. ২০৫-২০৬ * '''দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি:''' একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের পর যৌন মিলনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকে না। সপ্তম আদেশের যে দাম্পত্য জীবনেও যৌন আচরণের ওপর কোনো প্রভাব আছে, তা খুব কম মানুষই সন্দেহ করে। অথচ নারী-পুরুষের স্বীকারোক্তি ও বিবৃতি বিশ্বাস করলে দেখা যায়, নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশার চেয়ে বৈধ পতিতাবৃত্তি আরও সাধারণ একটি অপরাধ। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা এতটাই প্রচলিত এবং সংস্কারের দ্বারা এতটাই সুরক্ষিত যে, কোনো লেখক বা বক্তার সত্য জানা থাকলেও এবং তা প্রকাশের ইচ্ছে থাকলেও, প্রকাশ করা রীতিমতো বিপজ্জনক। সঠিক নীতিগুলো তুলে ধরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে উপহাস করা হয়, নিন্দা করা হয়, কলঙ্কিত করা হয় এবং সম্ভব হলে থামিয়ে দেওয়া হয়। লেখককে গালাগাল করা হয়, তার কাজের নিন্দা করে তাকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়। তাকে চরমপন্থী, ধর্মান্ধ বা তপস্বী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এমনকি কেউ তার পবিত্রতা বা পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুললে সে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতে পারে। ** পৃ. ২১৬ * "ডিম্বাশয় এবং এর ভেতরে থাকা ডিম্বাণুগুলো নির্দিষ্ট ঋতুতে নিয়মিত বিকাশ লাভ করে বা আকারে বাড়ে। ... নিম্ন শ্রেণির সব প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রজনন মৌসুম এলেই আগে অসম্পূর্ণ ও নিষ্ক্রিয় থাকা কিছু ডিম্বাণু আকারে বড় হতে শুরু করে এবং এদের গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসে।" <br> "বেশিরভাগ মাছ ও সরীসৃপ এবং পাখিদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার এবং নির্গত হওয়ার এই নিয়মিত প্রক্রিয়াটি বছরে মাত্র একবার ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি বছরে একবার, বছরে দুবার, দুই মাস পরপর বা এমনকি প্রতি মাসেও ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি নিয়মিত বিরতিতে ঘটে। এটি অন্যান্য বেশিরভাগ শারীরিক কাজের মতো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।" <br> "বেশিরভাগ নিম্ন শ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষদের অণ্ডকোষের একটি পর্যায়ক্রমিক বিকাশ ঘটে, যা নারীদের ডিম্বাশয়ের বিকাশের সময়ের সাথে মিলে যায়। প্রজনন মৌসুম ঘনিয়ে এলে নারীদের ডিম্বাশয় বড় হওয়ার ও ডিম্বাণু পাকতে শুরু করার সাথে সাথে পুরুষদের অণ্ডকোষও আকারে বাড়ে এবং শুক্রাণুতে ভরে ওঠে। একই সময়ে প্রজননের অন্যান্য সহায়ক অঙ্গগুলোও অণ্ডকোষের এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপে অংশ নেয়। এগুলো রক্তবাহী হয়ে ওঠে এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য তৈরি হয়।" ** পৃ. ২১৯ * "এ প্রসঙ্গে এটি একটি চমকপ্রদ তথ্য যে, এসব প্রাণীর স্ত্রীরা কেবল ঋতুচক্রের সময় এবং তার ঠিক পরেই পুরুষদের কাছে আসতে দেয়। অর্থাৎ, ঠিক তখনই যখন ডিম্বাণুটি সদ্য নির্গত হয় এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। অন্য সময়, যখন যৌন মিলন নিশ্চিতভাবেই নিষ্ফল হবে, তখন প্রাণীর প্রবৃত্তি তাকে এটি এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে। একইভাবে, লিঙ্গভেদে এই মিলনকে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা এবং এর নিষিক্ত হওয়ার ক্ষমতার সময়ের সাথে মেলানো হয়।" <br> "ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হওয়ার পরপরই ডিম্বাণুটি নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। যদি ওই সময়ে যৌন মিলন ঘটে, তবে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু নারীর প্রজনন পথের কোনো একটি অংশে মিলিত হয় এবং নিষিক্তকরণ সম্পন্ন হয়। ... অন্যদিকে, যদি সহবাস না হয়, তবে ডিম্বাণুটি নিষিক্ত না হয়েই জরায়ুর দিকে নেমে যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর জীবনীশক্তি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত জরায়ুর নিঃসরণের সাথে বেরিয়ে যায়।" <br> "তাই এটি সহজেই বোঝা যায়, কেন অন্য সময়ের চেয়ে ঋতুচক্রের সময় যৌন মিলন হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ... নির্গত হওয়ার আগে ডিম্বাণুটি অপরিপক্ব থাকে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। আর ঋতুচক্র পার হয়ে যাওয়ার পর এটি ধীরে ধীরে তার সতেজতা ও জীবনীশক্তি হারায়।" ** পৃ. ২২০-২২১ * শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অতিরিক্ত তথ্য হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঋতুস্রাবের ঠিক পরপরই নারীরা যৌন আকাঙ্ক্ষা বেশি অনুভব করে। এমনকি এমন দাবিও করা হয়েছে যে, রোগ বা অন্য কোনো কারণে অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত না হলে নারী কেবল এই সময়েই সত্যিকারের যৌন প্রবৃত্তি অনুভব করে। ** পৃ. ২২২ * "যে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে একজন পতিতার মতো আচরণ করে এবং আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য রাখে না, সে একজন খারাপ স্বামী। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো: খাওয়া-দাওয়ার মতো এখানেও মেটানোর মতো একটি ক্ষুধা থাকে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা না মিটিয়ে তা পূরণ করা যায় না। তবে যেহেতু প্রকৃতি এই আকাঙ্ক্ষা ও তৃপ্তিকে অন্য উদ্দেশ্যে তৈরি করেছে, তাই এগুলোকে কখনোই সেই উদ্দেশ্য থেকে আলাদা করা উচিত নয়।" ** পৃ. ২২৪ * "এটি একটি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অবিবাহিত ব্যক্তি মনে করেন তাদের স্বাধীনতার দ্বার কোনো নিয়ম বা বাধা ছাড়াই পুরোপুরি উন্মুক্ত (তাই তারা সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন)। বৈধ অনুমতির বেআইনি ব্যবহারের ফলে তারা অসংযম ও কামনার চূড়ান্ত পরিণতির স্বাদ পেয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে শুধু সংযমী এবং বিনয়ী হতে দিন।" <br> আরেকজন লেখক খুব জোর দিয়ে বলেছেন, "এটি একটি সাধারণ বিশ্বাস যে, আইনিভাবে বিবাহিত হওয়ায় একজন পুরুষ ও নারী কোনো বাধা ছাড়াই কামুকতা চর্চা করার বিশেষ সুবিধা পান। এটি ভুল। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। প্রকৃতি মানুষের তৈরি আইনকে স্বীকৃতি দেয় না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তি পেতে হয়, তেমনি বৈধ বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে শাস্তি পেতে হয়। অবিবাহিত পুরুষ বা নারীর মতো বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যৌন মিলন সমানভাবে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এটি আক্ষরিক অর্থেই বৈধ পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।" ** পৃ. ২২৫ * কিন্তু যৌন বিপদের বিরুদ্ধে যেকোনো সতর্কবার্তাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, যদি না তা বিবাহিত ব্যক্তিদের না বুঝে করা অতিরিক্ত যৌন মিলনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা দেখেছি, প্রাণদায়ী তরল ঘন ঘন নির্গত হওয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের অত্যধিক উত্তেজনা মারাত্মক ক্ষতিকর। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মতো দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফলাফল একই হয়। যে বিবাহিত পুরুষ মনে করেন, বিবাহিত হওয়ায় তিনি যতবার খুশি যৌন মিলন করলেও তা অতিরিক্ত হবে না, তিনি নিশ্চিতভাবেই অবিবাহিত লম্পটদের মতোই ভোগান্তির শিকার হবেন। বরং অজ্ঞতার কারণে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ লম্পটরা তাদের খারাপ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে ও কিছু নিয়ম মেনে চলতে শেখে, যা এই বিবাহিত পুরুষটি জানেন না। অনেক পুরুষ বিয়ের আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ সংযমী জীবনযাপন করেন, তাদের স্ত্রীরাও তা-ই করেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই তারা প্রতি রাতে যৌন মিলনে লিপ্ত হন। তাদের দুজনের কেউই জানেন না যে এই বারবার যৌন মিলন আসলে এক ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, যা তাদের শরীর সহ্য করতে পারে না। পুরুষের জন্য এটি আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস ডেকে আনে। শরীর খারাপ হওয়ার আগ পর্যন্ত, কখনো কখনো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভ্যাস চলতে থাকে। অবশেষে যখন রোগী চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, তখন তিনি জানতে পেরে অবাক হন যে তার কষ্টের কারণ হলো না বুঝে করা এই অতিরিক্ত যৌন মিলন। বিবাহিত দম্পতিরা প্রায়ই মনে করেন, খাবার খাওয়ার মতোই নিয়মিত এবং প্রায় ততবারই যৌন মিলন করা যায়। যতক্ষণ না তাদের বিপদের কথা জানানো হয়, ততক্ষণ তাদের মাথায় এই চিন্তাই আসে না যে তারা ভয়ঙ্কর এবং প্রায় অপরাধমূলক বাড়াবাড়ি করছেন। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ তারা যে চিকিৎসকের কাছে যান, তিনি খুব কমই এই কারণটির কথা উল্লেখ করেন।" <br> "অনেকে মনে করেন, জিমন্যাস্টিকস বা ব্যায়াম করলে যেমন পেশির জোর বাড়ে, তেমনি এই কাজের মাধ্যমেও তাদের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা, যা শুধরানো দরকার। এমন রোগীদের জানানো উচিত যে, প্রতিবার যৌন মিলনের সময় শরীরে বিশাল ধাক্কা লাগে। আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অঙ্গগুলোর জন্য শুক্রাণু নির্গত হওয়া বিশেষ করে ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের বাড়াবাড়ির কারণেই অকালবার্ধক্য এবং প্রজনন অঙ্গের নানা সমস্যা দেখা দেয়।" ** পৃ. ২২৬-২২৭ * অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট দুর্বলতার দুটি কারণ রয়েছে: শুক্রাণু কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক উত্তেজনা। ডা. গার্নার শুক্রাণুর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: <br> "শুক্রাণু হলো রক্তের সবচেয়ে বিশুদ্ধ নির্যাস। ... প্রকৃতি এটি কেবল জীবন সৃষ্টির জন্যই তৈরি করেনি, বরং ব্যক্তির নিজের পুষ্টির জন্যও তৈরি করেছে। বস্তুতপক্ষে, নিষিক্তকরণ তরল পুনরায় শোষিত হলে তা পুরো শরীরে নতুন শক্তি এবং এমন এক পৌরুষ দেয়, যা আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।" ** পৃ. ২২৮ * '''একজন ফরাসি চিকিৎসকের সাক্ষ্য:''' বেশ পরিচিত একজন ফরাসি লেখক এই বিষয়ে বলেন:<br> শুক্রাণু তৈরি এবং জোর করে তা বের করে দেওয়ার জন্য শরীরের মতো এত মূল্য আর কাউকে দিতে হয় না। হিসেব করে দেখা গেছে, এক আউন্স শুক্রাণু চল্লিশ আউন্স রক্তের সমান। ... শুক্রাণুই পুরো মানুষের মূল সারাংশ। তাই ফার্নেল বলেছেন, "Totus homo semen est." এটি জীবনের মলম। ... যা জীবন দেয়, তা জীবন বাঁচানোর জন্যই তৈরি। ** পৃ. ২২৮-২২৯ * এটি একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খ্রিষ্টান বিশ্বের নারীদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। তাদের মানসিক শক্তিও অনিশ্চিত ও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তারা সময়ের আগেই চিন্তায় জর্জরিত, বলিরেখা যুক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। তারা এমন অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা একসময়কার চিকিৎসকদের কাছে প্রায় অজানা ছিল। কিন্তু এখন এসব রোগ সমাজের বয়স্ক নারীদের, এমনকি কখনো কখনো সবচেয়ে কম বয়সী মেয়েদের কাছেও অতি পরিচিত এবং সাধারণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ** পৃ. ২৩১-২৩২ * "আমরা সমকামিতা ও পায়ুকামের মতো প্রকৃতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের কথা শুনি। সব সুস্থমস্তিষ্কের মানুষ এর তীব্র নিন্দা করেন। আইনও এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি বিশেষভাবে কঠোর। এসব অপরাধের শাস্তি এক থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ব্যভিচারের শাস্তি মাত্র ষাট দিনের কারাদণ্ড এবং একশ ডলারের কম জরিমানা। কিন্তু এখানে একটি খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, কনডমের ব্যবহার এবং নিষিক্তকরণ প্রতিরোধী ইনজেকশন নেওয়াও প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ কি না এবং একইভাবে আমাদের ঘৃণা ও অবজ্ঞার যোগ্য কি না। এছাড়া আমরা যখন প্রাণিজগতের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই তারা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তখনই মিলিত হয় যখন স্ত্রী-প্রাণীটি সঠিক শারীরিক অবস্থায় থাকে এবং স্বেচ্ছায় সম্মতি দেয়। এটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে নারী-পুরুষের মিলন প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে এবং এর ফলাফল অন্যান্য যেকোনো অপরাধের চেয়েও খারাপ হতে পারে। যে শিশুর জন্ম নারী চায়নি, সেই শিশু কি সেই সুখকর গঠন নিয়ে জন্মাবে যা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই তাদের সন্তানের জন্য আন্তরিকভাবে চাওয়া উচিত এবং দেওয়া উচিত? আর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর কথা ভাবুন, প্রতিটি শিশুরই কি অধিকার নেই যে সে হবে ভালোবাসার প্রতীক? 'গ্রেট এক্সপেকটেশনস'-এর ছোট্ট পিপ একটি বড় শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে বলেছিল, 'আমার সাথে সবসময় এমন আচরণ করা হতো যেন আমি যুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতার পরোয়া না করে এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিষেধ সত্ত্বেও জোর করে জন্মেছি।' আমরা তরুণদের বাবা-মাকে সম্মান করতে বলি। কিন্তু একবারও ভেবে দেখি না যে, যেসব বাবা-মায়ের স্বার্থপরতা ও অবহেলার কারণে তাদের সন্তানেরা বংশগত নানা রোগে ভোগে, তারা আদৌ সম্মানের যোগ্য কি না।" ** পৃ. ২৩৫-২৩৬ * '''ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক মিলন:''' আমাদের নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতায় বেশ কয়েকবার প্রমাণিত নিচের কথাগুলো প্রকৃতির নিয়মের আরও ভয়ানক লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে: <br> "অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, মাসিক চলাকালীন সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করার দরকার নেই। কারণ তারা মনে করেন পরিচ্ছন্নতা এবং রুচিবোধের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই এই ক্ষুধা মেটানো থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই পৃথিবীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা খুব কমই জানেন। প্রায়ই স্বামীরা আমাকে জানান যে তারা কয়েক বছর ধরে তাদের স্ত্রীদের সাথে দিনে এক বা একাধিকবার যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকেননি। আর রুগ্ন শরীর ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী অগণিত নারী আমাকে এমন সব তথ্য দিয়েছেন যে আমি স্বামীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৩৭ * এই অনুচ্ছেদে আলোচনা করা সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ হলো আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপকর্মগুলো। মানুষ অজ্ঞতার কারণে বা সরাসরি ফলাফলের পরোয়া না করে নিয়মিত বাড়াবাড়ি করে। এরপর প্রজনন কাজের স্বাভাবিক ফল ঠেকাতে নানা ধরনের উপায় ব্যবহার করে একে নিষ্ফল করার চেষ্টা করে। এই স্পষ্টভাবে লেখা বইটিতেও এসব পদ্ধতির নাম উল্লেখ করা শালীনতার চরম লঙ্ঘন হবে। তবে এর নিখুঁত বর্ণনারও প্রয়োজন নেই, কারণ যাদের এই সতর্কবার্তা দরকার, তারা সবাই এসব কাজে ব্যবহৃত সব নোংরা জিনিসের সাথে খুব ভালোভাবেই পরিচিত। এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখকদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াই সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। নিচের অনুচ্ছেদগুলো প্রখ্যাত মেয়ারের লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার উদ্ধৃতি আগেও বেশ কয়েকবার দেওয়া হয়েছে: <br> "সহবাসের স্বাভাবিক পরিণতি ধ্বংস করতে লম্পটদের আবিষ্কার করা অগণিত ফন্দির একটাই উদ্দেশ্য থাকে।" ** পৃ. ২৫০ * '''দাম্পত্য জীবনে অনানিজম (অপব্যবহার):''' "যেসব লজ্জাজনক কৌশল নিয়ে আমরা কথা বলেছি, তার মাধ্যমে দাম্পত্য বিছানা অপবিত্র করার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আদিপুস্তকের (জেনেসিস) ৩৮ অধ্যায়ের ৬ এবং এর পরের আয়াতগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে: 'আর এমন হলো, যখন সে [অনান] তার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গেল, তখন সে তা মাটিতে ফেলে দিল, যেন সে তার ভাইকে বংশধর না দেয়। সে যা করেছিল তা প্রভুর চোখে খারাপ লেগেছিল; তাই তিনি তাকে মেরে ফেললেন।' <br> এখান থেকেই দাম্পত্য জীবনে অনানিজম নামটি এসেছে। <br> কেউ বলতে পারবে না এই বিকৃতি কতটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কেবল এর পরিণতি দেখলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এমন মানুষের মধ্যেও এটি দেখা যায়, যারা সামান্য পাপ করতেও ভয় পায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিবেক এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে। তবুও অনেক স্বামী জানেন যে, প্রকৃতি প্রায়শই সবচেয়ে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশকেও ব্যর্থ করে দেয় এবং যে অধিকারকে তারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তা পুনরুদ্ধার করে। তাতে কী; তারা তাদের কাজ চালিয়ে যায় এবং অভ্যাসের বশে তারা জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোতে বিষ ঢেলে দেয়, অথচ যে পরিণতি তারা এড়াতে চায়, তা এড়ানোর কোনো নিশ্চয়তাই থাকে না। তাই কে জানে, যে শিশুগুলো প্রায়শই দুর্বল এবং রুগ্ন হয়, তারা এই অপূর্ণ প্রজননের ফল কি না এবং প্রজনন ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কহীন অন্য কোনো চিন্তার কারণে তারা প্রভাবিত কি না? এটি মনে করা কি যৌক্তিক নয় যে, স্বাভাবিক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ব্যাহত হওয়ায় গর্ভধারণ শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে? আর এ থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীটি কি টেরাটোলজি বা বিকলাঙ্গতা বিষয়ক বইয়ে বর্ণিত কোনো দানব নয়?" ** পৃ. ২৫১ * "আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য রয়েছে যা নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে, অস্বাভাবিক যৌন মিলন নারীর ওপর কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে আমরা এগুলো প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয় মনে করি। সব চিকিৎসকই এগুলো কমবেশি দেখেছেন। আমাদের না বলা কথাগুলো পূরণ করতে তাদের কেবল স্মৃতি হাতড়ানোই যথেষ্ট। ডা. ফ্রান্সিস ডেভে বলেন, 'তবে এটি বোঝা কঠিন নয় যে, ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেও তা না মেটানোর মাধ্যমে এ ধরনের অনুশীলন নারীর প্রজননতন্ত্রে কতটা গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। পুরো প্রজননতন্ত্র জুড়ে এক গভীর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয় চরম উত্তেজনার অবস্থায় পৌঁছায়, এমন এক ঝড় যা স্বাভাবিক উপায়ে শান্ত হয় না। এক ধরনের স্নায়বিক অতি-উত্তেজনা থেকেই যায়। তখন এমন অবস্থা হয় যেন একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়ে তার ক্ষুধা চরমভাবে বাড়িয়ে তোলার পর মুখের কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জরায়ু এবং পুরো প্রজননতন্ত্রের সংবেদনশীলতা অযথাই উসকে দেওয়া হয়। বারবার এমন হওয়ার কারণেই মূলত নারীদের প্রজননতন্ত্রে অদ্ভুত সব স্নায়বিক রোগের উৎপত্তি ঘটে। এই বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস অনেকগুলো পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বিবাহিত দম্পতির স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যেও দুর্ভাগ্যজনক পরিবর্তন আসে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসা ধীরে ধীরে এমন একটি কাজের পুনরাবৃত্তিতে মুছে যায়, যা দাম্পত্য বিছানাকে কলুষিত করে। সেখান থেকে কিছু কঠিন অনুভূতির জন্ম নেয়, কিছু গভীর ছাপ পড়ে যা ধীরে ধীরে বেড়ে এমন সব কেলেঙ্কারিপূর্ণ বিচ্ছেদের জন্ম দেয়, যার আসল উদ্দেশ্য সমাজ খুব কমই জানতে পারে।" ** পৃ. ২৫২-২৫৩ * "যদি এই ঘৃণ্য প্রথাগুলোর অনুপ্রবেশের কারণে পরিবারগুলোর সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন চরম হুমকির মুখে পড়ে, তবে আমরা আগেই যেমন বলেছি, নারীদের স্বাস্থ্যেরও ভয়ানক ক্ষতি হয়। আমাদের মতে, অনেক স্নায়বিক ব্যথার এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে আমরা যেসব নারীকে প্রশ্ন করেছি, তাদের অনেকেই এই মতকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু যেটি আমাদের কাছে অবিসংবাদিত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তা হলো জরায়ুর সমস্যা, বিবাহিত নারীদের স্নায়বিক দুর্বলতা এবং দাম্পত্য জীবনে অবিবাহিত তরুণীদের মতো হিস্টিরিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া। স্বামীদের দাম্পত্য জীবনের বদভ্যাসই এর কারণ। তাছাড়া আরও একটি মারাত্মক রোগ প্রতিদিন বাড়ছে। এর বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এটি দ্রুত একটি মহামারির আকার নেবে। আমরা জরায়ুর ক্ষয়রোগের কথা বলছি। এই ভয়ংকর রোগের কারণগুলোর মধ্যে আমরা সভ্যতার নামে আসা নতুন নতুন অভ্যাস এবং বিশেষ করে আজকাল প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নানা কৌশলকে সবার ওপরে রাখতে দ্বিধা করি না। প্রজনন না হলেও প্রজনন ক্ষমতা উত্তেজিত হলে আমরা এসব ছদ্ম-রোগের উদ্ভব হতে দেখি। তাই পতিতাদের মধ্যে জরায়ুর পলিপ এবং স্কিরাস [ক্যানসার] সাধারণত বেশি দেখা যায়। আমরা যদি বিবেচনা করি যে কীভাবে শুক্রাণু নির্গমন এবং জরায়ুর মুখে এর স্পর্শ নারীর জন্য প্রজনন কাজের চরম তৃপ্তি হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক ও মানসিক আবেগকে শান্ত করে পুরো শরীরকে শিথিল করে দেয়, তবে এই রোগ সৃষ্টির পেছনের কারণ বোঝা সহজ হয়।" ** পৃ. ২৫৩-২৫৪ * নিচের লেখাটি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছ থেকে নেওয়া, যিনি বহু বছর ধরে নারীদের রোগের প্রতি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন এবং একটি নামকরা মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন: <br> "এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শারীরিকভাবে ক্ষতিকর। এগুলোর কিছু কিছু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ যৌন মিলনের কারণে উভয় পক্ষের যে ক্ষতি হয়, তা বুঝতে ইচ্ছুক যে কারও কাছেই এটি পরিষ্কার করা হয়েছে। ঠান্ডা পানিতে ধোওয়া, অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট আধান এবং নানা ধরনের ওষুধের মিশ্রণ মেশানো ধোওয়ার পানির সাধারণ ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকটি বুঝতে কারও খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ফুলে ওঠা এবং ঘা হয়ে যাওয়া কোনো অঙ্গে ঠান্ডা পানি যতই সহজ এবং আশ্চর্য রকম উপকারী হোক না কেন, খুব কম মানুষই বাত বা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হাঁটু বা এরিসিপেলাসে আক্রান্ত মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতে সাহস করবেন। <br> ... অথচ যৌন মিলনের সময় যখন স্নায়বিক ও শারীরিক উত্তেজনার পারদ চরমে থাকে এবং এই কাজে জড়িত অঙ্গগুলো রক্তে ভরে ওঠে, তখন কি আপনি মনে করেন যে কোনো ক্ষতি ছাড়াই আপনি শরীরের ভেতরে ক্রমাগত ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি ঢালতে পারবেন? প্রায়শই নারীরা শুক্রাণুর জীবাণুগুলোকে তাদের স্বাভাবিক কাজ শেষ করার আগেই গলিয়ে ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব শক্তিশালী অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হঠাৎ করে অঙ্গগুলোর গ্রন্থিযুক্ত গঠনকে সংকুচিত করে ও বন্ধ করে দেয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর শেষ পরিণতি হলো দুর্বলতা ও ক্লান্তি, যা লিউকোরিয়া, প্রোল্যাপস এবং অন্যান্য রোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৫৪-২৫৫ * "সবশেষে, পাতলা রাবার বা গোল্ডবিটার স্কিন দিয়ে তৈরি আবরণগুলোর কথা বলতে হয়, যা প্রায়শই পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কথিত আছে যে মাদাম দ্য স্ট্যাল এদের সম্পর্কে বলেছিলেন, 'এগুলো সুরক্ষার জন্য মাকড়সার জাল এবং ভালোবাসার বিরুদ্ধে প্রাচীর।' এসবের ব্যবহার নিশ্চিতভাবেই এমন এক লজ্জা ও বিরক্তির জন্ম দেয়, যা পবিত্র হৃদয় ও বিশুদ্ধ অনুভূতির সত্যিকারের আনন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এগুলো লম্পট ও পতিতালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলো মানুষের সত্যিকারের অনুভূতি এবং পবিত্র দাম্পত্য জীবনকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে আনে। তাছাড়া যে সুরক্ষার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়, খুব সীমিত পরিসর ছাড়া এরা সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। উপরন্তু, এগুলো বাইরের বস্তু হিসেবে বিরক্তি তৈরি করে শরীরে কিছু ক্ষত সৃষ্টি করে (যেমনটি সেরা আধুনিক ফরাসি লেখকরা দাবি করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এদের প্রভাব সম্পর্কে বেশি জানেন)। এগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং এগুলো ব্যবহারের সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবও প্রায়শই মারাত্মক আকার ধারণ করে। <br> "আমি এসব মাধ্যম নিয়ে আর বেশি কথা বলব না। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সাথে খেলা করা এবং প্রকৃতির পবিত্র অধিকারগুলোকে প্রতারণা ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা—ব্যবহৃত উপায়গুলো যত সহজই মনে হোক না কেন—যে কত বড় দায়িত্ব নেওয়া এবং কতটা ভয়ংকর ঝুঁকি, তা বোঝানোর জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট। জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা হোক বা রাস্তায় পড়ে থাকা বিশাল পাথর, কোনো ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ যা-ই হোক না কেন, তার পরিণতি একই এবং ক্ষতিও সমান। এসব শারীরিক প্রতারণার ফল হলো নৈতিক অবক্ষয়, শারীরিক অক্ষমতা, অকাল ক্লান্তি ও বার্ধক্য। এগুলো আমাদের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রতিদিনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, 'সততাই সেরা নীতি।'" ** পৃ. ২৫৫-২৫৬ * প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এসব পাপের প্রভাব অনেক সময় ঘটনার কয়েক বছর পরও বোঝা যায় না। এমনকি যখন বোঝা যায়, তখনও খুব কম ক্ষেত্রেই আসল কারণটিকে দোষ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি মানুষ বহু বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু একবারও সন্দেহ করেনি যে তাদের এই কষ্টের কারণ প্রকৃতির নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এভাবে তৈরি হওয়া জরায়ুর রোগগুলো এই শ্রেণির সবচেয়ে জেদি রোগ। এগুলো প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক মারাত্মক হয়। ফিলাডেলফিয়ার ডা. উইলিয়াম গুডেল সম্প্রতি এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, গর্ভধারণ রোধ করার চেষ্টা করা ডিম্বাশয়ের প্রোল্যাপসের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, যা খুবই পরিচিত এবং যন্ত্রণাদায়ক রোগ। কখনো কখনো সহানুভূতি থেকে বা আশপাশের অঙ্গগুলোতে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঙ্গ, বিশেষ করে মূত্রাশয় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। <br> আমরা প্রায়শই যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, যারা এসব চর্চা করেছে, তাদের বোঝানো যে এটি আত্মা ও শরীর উভয়ের বিরুদ্ধেই কত বড় পাপ। সব সতর্কতা এবং হয়তো ভোগান্তির পরও, প্রায়শই এই প্রথা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। খুব বেশি ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নিয়মের প্রতি এই অনীহা একজন স্বার্থপর স্বামীর অনুভূতিহীন ও অযৌক্তিক দাবির কারণে ঘটে থাকে। ** পৃ. ২৫৭-২৫৮ * নিজেদের দেওয়া শারীরিক কাঠামোর অখণ্ডতা নষ্ট করার কী নৈতিক অধিকার নারী বা পুরুষের আছে, যার জন্য তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য? অবশ্যই কোনো অধিকার নেই। কারণ যে মানুষ নিজেকে তিলে তিলে ধ্বংস করে, সে গলা কেটে বা মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা ব্যক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম খুনি নয়। অপরাধ একই—মানুষের জীবন ছোট করা—তা নিজের ক্ষতি করা হোক বা অন্যের। এই বিষয়ে অন্তত তিনজন ভুক্তভোগী থাকেন; স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তান। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভবত স্বামী একাই এই পাপের জন্য দায়ী। ** পৃ. ২৬০ * আগেই দেখানো হয়েছে যে, নারীদের ডিম্বাণু এবং পুরুষদের শুক্রাণু—এই দুটি উপাদানের প্রাথমিক রূপেই মানবদেহ তৈরির সব উপাদান থাকে। একা এর কোনোটিই নিজের বর্তমান অবস্থার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে না। তবে যেই মুহূর্তে এই দুটি উপাদান মিলিত হয়, তখনই নিষিক্তকরণ ঘটে এবং ব্যক্তিজীবনের শুরু হয়। সেই মুহূর্ত থেকে বছরখানেক পর পরিণত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শুধুই বিকাশের। পরের কোনো মুহূর্তেই একদম নতুন কিছু যোগ হয় না। এসব তথ্য বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, গর্ভধারণের ঠিক মুহূর্তটিতেই ভ্রূণাবস্থায় থাকা মানবশিশু জীবনের সম্পূর্ণ অধিকার লাভ করে। এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র মানবশিশু, যার আত্মা ও শরীর রয়েছে, যদিও তা অত্যন্ত অপরিপক্ব। প্রজনন কাজের সময় গর্ভধারণ হতে পারে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বা এরপর গর্ভধারণ রোধ করার জন্য কোনো উপায় ব্যবহার করা হলে এবং তা সফল হলে, তা এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া গর্ভধারণের সেই সূক্ষ্ম পরিণতিকে ধ্বংস করেই হয়। যা আগে বলা হয়েছে, এটি যেকোনো সময়ের মতোই একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব—নিশ্চিতভাবেই জন্মের আগের যেকোনো সময়ের মতো স্বাধীন। <br> মানুষের জীবন নেওয়া কি অনৈতিক? শিশু হত্যা কি পাপ? জন্মের সময় কোনো শিশুকে শ্বাসরোধ করে মারা কি অপরাধ? মায়ের গর্ভে থাকা অর্ধগঠিত কোনো মানবশিশুকে ধ্বংস করা কি খুনের পর্যায়ে পড়ে? কে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর 'না' দেওয়ার সাহস করবে? তাহলে প্রজনন কাজের সবচেয়ে সাম্প্রতিক পরিণতিকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যে সমানভাবেই একটি খুন, তা কে অস্বীকার করতে পারে? <br> অস্তিত্বের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সংঘটিত অসংখ্য খুনের হিসাব কে রাখতে পারে? কিছু মানুষের আত্মার ওপর থাকা এই অপরাধবোধের বোঝা কে পরিমাপ করতে পারে? আর কে জানে এভাবে কতগুলো উজ্জ্বল আলো শুরুতেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে? কত প্রতিশ্রুতিশীল মানব চারা গাছকে অঙ্কুরিত হওয়ার সময়ই নির্মমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? এটি কি আশা করা যায় যে, শেষ বিচারের দিন ন্যায়ের পাল্লায় অজ্ঞতার অজুহাত এই অগণিত খুনের অকাট্য প্রমাণের চেয়ে বেশি ভারী হবে? ** পৃ. ২৬২-২৬৩ * এটি দাবি করা হবে যে এই প্রাথমিক ধ্বংসগুলো খুন নয়। খুন একটি ভয়ানক শব্দ। কাজ হিসেবে এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এর ব্যক্তিগত দায়ভার সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যে মানুষ এই অভিযোগ থেকে পিছপা হবে না, সে মানুষের নামের অযোগ্য—বরং সে আস্ত একটি পশু। তবুও বাস্তবতাকে সরাসরি দেখা এবং একটি আলোকিত বিবেকের সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা না হওয়া প্রয়োজন। আমরা এমন একটি লেখার অংশ উদ্ধৃত করছি, যা আমরা অন্য জায়গায় পুরোটা দিয়েছি। এটি সেই একই বিশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া, যার উদ্ধৃতি আমরা আগেও দিয়েছি: <br> "বস্তুতপক্ষে, গর্ভধারণের পর এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন বলা যায় যে শিশুটির প্রাণ নেই। আর নড়াচড়া করার আগেই মানুষের জীবন ধ্বংস করা নড়াচড়ার পরের সময়ের মতোই জঘন্য ও নিশ্চিত অপরাধ। কিন্তু আপনি হয়তো আপনার ভয়ংকর কাজটির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলবেন: 'ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলছেন, যদি এটি কেবল প্রাণীজীবন হয়, যা বড়জোর সাধারণ জীবনীশক্তির সমান, তবে এখানে কোনো মন বা আত্মা ধ্বংস করা হচ্ছে না। তাই এতে কোনো অপরাধ নেই।' পৃথিবীতে থাকা সব ডিম ধ্বংস করে সব পাখিকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা যতটা নিশ্চিত, আপনার এই কাজের মাধ্যমে ডিম্বাণুর ভেতরে থাকা মানবশিশু ও তার ভেতরের আত্মাকে ধ্বংস করাও ততটাই নিশ্চিত। ... <br> খুন সব সময়ই পাপের। আর খুন হলো যেকোনো পর্যায়ে থাকা মানুষের ইচ্ছাকৃত ধ্বংসসাধন। তা প্রাথমিক ভ্রূণাবস্থা থেকে শুরু করে বয়সের ভারে নুব্জ ও সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্যহীন থাকা সাধারণ প্রাণীজীবন—যেকোনো অবস্থাতেই হতে পারে।" ** ডা. গার্নারের উদ্ধৃতি, পৃ. ২৬২-২৬৩ * '''অসুবিধা:''' বিবাহিতরা চিৎকার করে বলে উঠবেন, "আমরা কী করব?" দুর্বল মায়েদের যাদের কাঁধে আগে থেকেই অনেক সন্তানের দায়িত্ব রয়েছে, যাদের শরীর আর গর্ভধারণের কষ্ট ও বোঝা বইতে সক্ষম নয়, অথচ তাদের কামুক স্বামীরা শারীরিক মিলনের দাবি করেই চলেছেন—তারা এই সত্য মেনে নিয়েই হতাশার সুরে প্রশ্ন করবেন, "আমরা কী করব?" আমরা প্রথমে পরের দলটির প্রশ্নের উত্তর দেব। বিখ্যাত ইংরেজ যুক্তিবিদ মিস্টার মিল, তার "দ্য সাবজেকশন অব উইমেন" বইয়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণাটি এভাবেই তুলে ধরেছেন: "স্ত্রীকে যতই নিষ্ঠুর এক স্বৈরাচারীর সাথে বেঁধে রাখা হোক না কেন—এমনকি সে যদি জানে যে তার স্বামী তাকে ঘৃণা করে, তাকে নির্যাতন করাই যদি স্বামীর নিত্যদিনের আনন্দ হয় এবং তাকে ঘৃণা না করাটা যদি তার কাছে অসম্ভব মনে হয়—তবুও স্বামী জোর করে তার ওপর এমন পাশবিক কাজ চালাতে পারে, যা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, আর এই কাজ একজন মানুষকে সবচেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দেয়।" ** পৃ. ২৬৩-২৬৪ * '''নারীর অধিকার:''' বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী তার সব ব্যক্তিগত অধিকার বিসর্জন দেয় না। স্বামী স্ত্রীকে মারধর করলে বা কোনোভাবে শারীরিক আঘাত করলে বা এমনকি অবহেলা করলেও আইন তা স্বীকার করে। তাহলে অন্য কোনো নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার সে কেন পাবে না? বা অন্তত পাশবিক লালসার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে সে কেন অস্বীকার করতে পারবে না? বিয়ের পরও সে তার নিজের শরীরের মালিক থাকে। ন্যায়বিচার, সাম্য এবং এমনকি নৈতিকতার জ্ঞান হারিয়ে কে এমন দাবি করতে পারে যে, তার নিজের শরীরের ওপর জোর খাটানোর অনুমতি দেওয়ার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা তার আছে? ** পৃ. ২৬৪ * '''কী করতে হবে:''' এবার প্রথম দলের প্রশ্নের উত্তরে আসি। বিবাহিত দম্পতিরা মিলে গর্ভধারণ রোধের সব উপায় ছেড়ে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। এর আসল ও স্বাভাবিক সমাধান সম্ভবত 'ইন্দ্রিয়দমন' এবং 'দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি' শিরোনামের নিচে দেওয়া পরামর্শগুলোতে পাওয়া যাবে। সেখানে বলা নীতিগুলো মেনে জীবনযাপন করলে এসব এবং এর মতো আরও হাজারো সমস্যা এড়ানো যাবে। এতে শারীরিক আনন্দ কম থাকলেও আধ্যাত্মিক আনন্দ অনেক বেশি থাকবে। পাশবিক ভালোবাসা কম হলেও আধ্যাত্মিক মিলন বেশি হবে। স্থূলতা কমবে, পবিত্রতা বাড়বে। পাশবিক বিকাশ কম হবে এবং সদ্গুণ, পবিত্রতা ও সমস্ত খ্রিষ্টীয় গুণাবলি চর্চার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। <br> "তবে মৃত্যুর আগে এমন জীবনযাপন অসম্ভব।" যারা পরীক্ষা করে দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এমনটা ভাবেন। শেকার সম্প্রদায় এমন নীতিগুলো শুধু শেখায় না, বরং নিজেরাও চর্চা করে বলে দাবি করে। আগে বলা ইন্দ্রিয়দমনের জোরালো সহায়ক উপায়গুলোর মাধ্যমে এটিকে যতটা কঠিন ভাবা হয়, বাস্তবে তা ততটা কঠিন না-ও হতে পারে। ** পৃ. ২৬৫ * '''আপস:''' অনেকে, হয়তো বেশিরভাগ মানুষই, প্রকৃতির এই শিক্ষা মেনে নিতে পারবে না যে শারীরিক মিলনকে কেবল প্রজননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যরা সত্যকে মেনে নিয়ে বলবেন যে "আত্মা ইচ্ছুক" হলেও "শরীর দুর্বল"। তারা জিজ্ঞেস করবেন, "বর্তমান জীবনযাপনের এই মারাত্মক ক্ষতিগুলো থেকে বাঁচার জন্য কি কোনো আপস করা যায় না?" তারা হয়তো নিচের তথ্যগুলোতে একটি ভালো উপায় বা অন্তত সেরা উপায়ের ধারণা খুঁজে পেতে পারেন। যদিও একে পুরোপুরি বিপদমুক্ত বা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায় বলা যায় না: <br> "নারীদের ঋতুস্রাব গর্ভধারণের উপযুক্ততার প্রমাণ দেয়। স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর ছয় থেকে আট দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকে। কেবল এই সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ নারী গর্ভধারণ করতে পারে। ঋতুস্রাব শুরুর পর থেকে বারো দিন পার হতে দিন, এরপর গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এই সময় ইন্দ্রিয়দমন স্বাস্থ্যকর, নৈতিক এবং দোষমুক্ত।" <br> ওপরের কথার সাথে এটি যোগ করা উচিত যে, প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি গর্ভধারণ থেকে বাঁচার কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। ইন্দ্রিয়দমনের এই সময় ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত চৌদ্দ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়া উচিত। যুক্তিসংগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্রাব শুরুর তিন বা চার দিন আগে থেকে আরও সংযম পালন করা দরকার। <br> অনেক লেখক আরেকটি পরামর্শ দেন যা নিশ্চিতভাবেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত আলাদা বিছানায় ঘুমানো। এমন অভ্যাস নিঃসন্দেহে যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। আলাদা ঘর, বা অন্তত পর্দা দিয়ে বিছানা আলাদা করার পরামর্শ কিছু সম্মানিত চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, এমন পদ্ধতি উভয় পক্ষকেই সঠিকভাবে সকালে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ দেবে এবং সেই স্বাভাবিক লজ্জাবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করবে যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ ঠেকাতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে কাজ করে। অনেকেই পরামর্শটি ভালো মনে করবেন এবং বাস্তব জীবনে কাজে লাগাবেন। সিঙ্গল বিছানায় ঘুমানোর প্রথাটি ইউরোপের উচ্চবিত্তদের মাঝে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বলে শোনা যায়। ** পৃ. ২৬৭ * "যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিষ্কার উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি। ... বৈধ কারণ ছাড়া এই কামনা বা অন্য কোনো আবেগের তৃপ্তি ঘটানো নিঃসন্দেহে প্রকৃতির নিয়মের লঙ্ঘন। প্রকৃতির নিয়ম বিবেচনা করে এবং এর ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও শারীরিক ক্ষতি থেকে এটি বোঝা যায়।" <br> "যেসব প্রাণীর ভুল করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিখুঁত প্রবৃত্তি রয়েছে এবং যাদের ভালো-মন্দের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নেই, তারা কেবল নির্দিষ্ট সময়েই মিলিত হয়, যখন আনন্দ এবং বংশবৃদ্ধি দুটোই সম্ভব। তাদের জন্য এভাবেই ঠিক করা হয়েছে যে উদ্দেশ্য ও উপায় কখনোই আলাদা হবে না। যেহেতু সর্বজ্ঞানী ঈশ্বর তাদের এই প্রবৃত্তি দিয়েছেন এবং অন্য কোনোভাবে কাজ করার ক্ষমতা না দেওয়ায় তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাই এটি পরিষ্কার যে এটি 'তাঁর আইন'। একই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং একই উদ্দেশ্যের অধিকারী সবার জন্যই এই আইন মেনে চলা উচিত। কেবল মানুষ এই আইন মানবে কি মানবে না সেই স্বাধীনতা পেয়েছে বলেই, এর মানে এই নয় যে তারা সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বা অবাধ্যতার ফল ভোগ করার হাত থেকে বেঁচে যাবে।" <br> "যেহেতু যৌন আনন্দের উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি, তাই ওপরের আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে যৌন ক্রিয়াকে এর আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ বংশবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, বা যদি বংশবৃদ্ধি অসম্ভব হওয়া সত্ত্বেও উপায়টি ব্যবহার করা হয়, তবে ক্ষতি অবধারিত।" <br> "দাম্পত্য জীবনে লাগামহীন যৌন মিলনে দোষের কিছু নেই—এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব কম নয়। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে অবাধ স্বাধীনতার মতো মনে করা হয়, যেখানে কোনো বাধা থাকার দরকার নেই বলে ধরা হয়। তবুও যখন উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব কেবল তখনই আনন্দ নেওয়া যাবে—এই নিয়মে যদি সামান্যতম সত্যতাও থাকে, তবে অন্যান্য যেকোনো শারীরিক আনন্দের মতো দাম্পত্য জীবনেও এই আনন্দ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। <br> "সবচেয়ে সভ্য সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আইনে নিষেধ নেই এমন কিছু পাপ বা ভুল হতে পারে না। গর্ভকালীন সময়ে সহবাসের ওপর তারা কোনো নিষেধ দেখেনি। এমন অভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য ও দৈহিক বিকাশের যে ক্ষতি হয়, সেদিকেও তাদের নজর যায়নি। ফলে সারা জীবন ধরে এই বিষয়ে তাদের আচরণ নির্ধারিত হয়েছে কেবল নিজেদের ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে। <br> "বিবাহিত জীবনে এই নিয়ম ভাঙলে স্বামীর কোনো বড় শারীরিক ক্ষতি হয় না। দুর্বলতা, ব্যথা, পেশিতে টান ধরা এবং মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি কখনো কখনো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফল হিসেবে দেখা যায়। তবে একটি বড় ক্ষতি হলো অবাধ স্বাধীনতার কারণে ধীরে ধীরে যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাওয়া। এভাবেই সাধারণ অর্থে যারা সম্পূর্ণ ধার্মিক, এবং যারা অবাধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে—উভয় পক্ষের মধ্যেই কামুক রক্ত লালন করা হয়। <br> "বিবাহিতদের মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্ত্রী এবং সন্তান। প্রাণিজগতের বিষয়টি বিবেচনা করলে এর আংশিক কারণ বোঝা যায়। প্রাণিজগতে কখন পুরুষ প্রাণীটি কাছে আসবে তা স্ত্রী প্রাণীটি ঠিক করে। অসময়ে পুরুষটি এগোলে স্ত্রী প্রাণীটির সহজাত প্রবৃত্তি তাকে চরম আক্রোশে রুখে দাঁড়াতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য করে। প্রকৃতি তার প্রতিটি কাজেই যে বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তা যারা সামান্যও জানেন, তারা সন্দেহ করবেন না যে গর্ভাবস্থায় সব প্রাণীর যৌন মিলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই কোনো ভালো ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আর যদি এটি তাদের জন্য কোনো ভালো উদ্দেশ্য পূরণ করে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে বিপরীতটা কেন খারাপ উদ্দেশ্য পূরণ করবে না? আমাদের শারীরিক গঠন ও কাজ অনেকটাই তাদের মতো। আর প্রজনন পদ্ধতি ও নিয়মের ক্ষেত্রে তাদের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। ওই সময়ে তাদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ক্ষমতা আমাদের আছে বলেই সেটি সঠিক হয়ে যায় না। "মানুষের ঠিক-ভুল বোঝার কোনো সহজাত প্রবৃত্তি না থাকায়, অন্যান্য অনেক কাজের মতো সহবাসের বিষয়টিও যুক্তি বা ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বা বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিকতার ওপর। কারণ এই বিষয়ে কী সঠিক এবং কী গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে যুক্তির পরামর্শ নেওয়া হয় না বা তাকে আলোকিত করা হয় না। প্রকৃতির নিয়মে, প্রবৃত্তিগতভাবেই কখন পুরুষের আগমন গ্রহণযোগ্য হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায়। <br> "কিন্তু কেউ কেউ বলতে পারেন যে এই বিষয়ে সে অসহায়। বিয়ের আগে কেউ তার অনুমতি ছাড়া কাছে আসার সাহস করে না; তাহলে বিয়ের পরও এই সম্মানের জায়গাটি তৈরি করার জন্য পুরুষদের কেন শিক্ষিত করা হবে না? স্ত্রী তার দাসীও নয়, সম্পত্তিও নয়; অথবা বিয়ের বন্ধন তাকে কোনো অস্বাভাবিক দাবি পূরণে বাধ্য করে না।" ** "দ্য টেন লজ অব হেলথ", উদ্ধৃতি পৃ. ২৬৭-২৭১ * '''আধুনিক কোনো অপরাধ নয়'''—যদিও আধুনিক যুগে এই অপরাধ বিশাল আকার ধারণ করেছে, তবুও এটি কোনোভাবেই নতুন কোনো অপরাধ নয়, তা নিচের অনুচ্ছেদ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে:— <br> "রোমান, মেডেস, কেনানাইট, ব্যাবিলনীয় এবং অন্যান্য প্রাচ্যের দেশগুলোতেও শিশুহত্যা এবং তাদের ফেলে আসা একটি প্রথা ছিল। কেবল ইসরায়েলি এবং মিসরীয়রা এর ব্যতিক্রম ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা নিছক খেয়ালের বশে তাদের সন্তানদের হত্যা করত। নরওয়েজিয়ানরা তাদের সন্তানদের যত্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে মুখে একটু খাবার দিয়ে গাছের শিকড় বা পাথরের নিচে রেখে আসত, যাতে বন্য পশুরা তাদের খেয়ে না ফেলে। চীনাদের মধ্যেও শিশুহত্যার অনুমতি ছিল। গত শতাব্দীতেও আমরা দেখেছি পেকিনের রাস্তায় প্রতিদিন মৃত শিশুদের লাশ কুড়ানোর জন্য গাড়ি ঘুরত। আজ বাবা-মায়ের ফেলে যাওয়া সন্তানদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেখানে এতিমখানা রয়েছে। জাপানে, দক্ষিণ মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে, ওতাহেইটে এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বন্য জাতির মধ্যেও একই প্রথা দেখা যায়। গিনির জ্যাগাররা নিজেদের সন্তানদের খেয়ে ফেলে বলে শোনা যায়।" <br> গ্রিকরা পরিকল্পিতভাবে শিশুহত্যা করত। একসময় তাদের আইনে পঙ্গু বা দুর্বল শিশুদের মেরে ফেলার নির্দেশ ছিল। বিভিন্ন জাতির মধ্যে এই অপরাধের মূল উদ্দেশ্য মনে হতো সন্তান লালন-পালনের ঝামেলা এড়ানো বা অতিরিক্ত জনসংখ্যা কমানো। যারা বর্তমানে এই অপরাধগুলো করে, তাদের উদ্দেশ্যের চেয়ে এটি খুব একটা আলাদা নয়। <br> মায়ের পেটে শিশুটি নড়াচড়া করার পর তাকে ধ্বংস করাকে ইনফ্যান্টিসাইড বা শিশুহত্যা বলা হয়; আর এর আগের সময়ের ঘটনাটিকে সাধারণত অ্যাবরশন বা গর্ভপাত বলা হয়। শিশুটি নড়াচড়া করার আগে তার কোনো আত্মা বা ব্যক্তিগত জীবন থাকে না—এটি একটি আধুনিক ধারণা। এই ভুল ধারণাটি আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি। প্রাচীনকালের মানুষেরা সমান যুক্তি দিয়েই দাবি করত যে জন্মের আগে শিশুর কোনো আলাদা জীবন থাকে না। এ কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা নির্দ্বিধায় শিশুহত্যা করত। "প্লেটো এবং অ্যারিস্টোটল এই প্রথার সমর্থক ছিলেন। এই স্টোইক দার্শনিকরা এই ভয়ংকর প্রথার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলতেন যে, জরায়ুর জীবন শেষ করে শিশুটি যখন শ্বাস নিতে শুরু করে, কেবল তখনই সে আত্মা লাভ করে। এর ফলে তাদের যুক্তি দাঁড়ায়, শিশুটির যেহেতু জীবন নেই, তাই তাকে ধ্বংস করা কোনো খুন নয়।" ** পৃ. ২৭২-২৭৪ * '''অপরাধের কারণ:''' পাপের ফল লুকানো, মাতৃত্বের বোঝা এড়ানো, আরাম ও ভ্রমণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি কারণে বা মাতৃত্ব একটি অশালীন ব্যাপার—এমন ভুল ধারণা থেকে একজন মা তার অসহায় সন্তানকে নির্মমভাবে ধ্বংস করতে পারেন। তবে এটি নিঃসন্দেহে সত্য যে, এই পাপের প্রধান কারণ এসবের অনেক গভীরে লুকিয়ে আছে। গর্ভের সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়া মায়ের অপরাধের বর্ণনায় সবচেয়ে কঠোর ও তীব্র ভাষা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি ওই নারীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দুর্ভাগ্যজনক শিশুটির জন্ম দিয়েছে, তার সম্পর্কে খুব কমই কথা বলা হয়। চিকিৎসক, ধর্মযাজক এবং নীতিবিদরা এ বিষয়ে অনেক কথা বললেও এবং অনেক কিছু লিখলেও, এটি মনে করা যৌক্তিক যে তারা সংস্কারের পথে খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না। যতক্ষণ না তারা এসব দুঃখজনক ঘটনায় পুরুষের ভূমিকা স্বীকার করছেন এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সংস্কারের দাবি তুলছেন, ততক্ষণ এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। "গর্ভধারণ রোধ" বিষয়ের আলোচনায় আগেই বলা হয়েছে, এই অপকর্মের শুরু হয় "দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি" থেকে। নারী তার নিজের শরীরের একমাত্র মালিক এবং প্রস্তুত না থাকলে প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন না করেই পুরুষের আগমন প্রত্যাখ্যান করার অধিকার তার রয়েছে। এই প্রাকৃতিক নিয়মকে উপেক্ষা করার ফলেই এমনটি ঘটে। ** পৃ. ২৮০ * '''অপরাধের হাতিয়ার:''' "নানা উপায়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়। কখনো কখনো নৈতিক বলে দাবি করা সংবাদপত্রগুলোতে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপিত শক্তিশালী ওষুধের মাধ্যমে এটি করা হয়! বিজ্ঞাপনগুলো এত সুকৌশলে লেখা থাকে যে, সতর্কতার মোড়কে ওষুধটির গর্ভপাত ঘটানোর ক্ষমতার কথা ঠিকই জানিয়ে দেওয়া হয়। কখনো গোপন প্রচারপত্রের মাধ্যমে এই তথ্য ছড়ানো হয়। তবে সাধারণত পেশাদার গর্ভপাতকারীরাই এই কাজ বেশি করে থাকে। তারা ইশারায় নিজেদের বিজ্ঞাপন দেয়, অথবা বারবার এই কাজ করে পরিচিতি লাভ করে। বেশ কিছু নারী সংকোচ বা লজ্জার কারণে নিজেরাই নিজেদের গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে। এরপর তারা অন্যদেরও একই কাজ করতে স্বেচ্ছায় শেখায় এবং উৎসাহিত করে।" ** পৃ. ২৮০ * '''এই অস্বাভাবিক অপরাধের ফল:''' চিকিৎসকদের সর্বজনীন মত হলো, গর্ভপাতের প্রভাব শিশুর পাশাপাশি মায়ের জন্যও প্রায় সমানভাবে মারাত্মক। এতে কষ্টের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। শিশুর কষ্ট (যদি আদৌ থাকে) সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, নিজের প্রকৃতির বিরুদ্ধে করা এই ভয়ংকর নির্যাতনের ধাক্কা সামলে উঠলেও মাকে সারা জীবন কষ্ট বা দুর্দশার মধ্যে কাটাতে হয়। পরিসংখ্যানে প্রমাণিত হয়েছে, এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি "স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে পনেরো গুণ বেশি।" একজন বিশিষ্ট চিকিৎসা-লেখক দাবি করেছেন, কুড়িবার স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে একবার গর্ভপাত করালে একজন নারী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে ডা. গার্নার বলেন:- <br> "আমরা জানি একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বড় পরিবার পালনের পরিশ্রমে নারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আমরা এই কথার সাথে কিছুটা একমত হতে পারি। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি আরও বেশি লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বংশবৃদ্ধি এড়াতে যেসব চেষ্টা করা হয়, তা স্বাস্থ্য ও শরীরের জন্য দশ হাজার গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। মন ও হৃদয়ের অবক্ষয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, যা লাল গাল বা শারীরিক শক্তি দিয়ে মাপা যায় না।" ** পৃ. ২৮০-২৮১ * '''অবাঞ্ছিত শিশু:''' কিন্তু ধরুন, মা তার সন্তানের জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় সফল হলেন না; এমনটা হতেই পারে। তখন কী ভয়ংকর ফল হতে পারে! মায়ের এই খুনে মানসিকতা যে ওই অবাঞ্ছিত শিশুর চরিত্রে স্থায়ীভাবে দাগ কেটে যাবে এবং তাকে খুনখারাপির দিকে স্বভাবতই ধাবিত করবে, তা কে সন্দেহ করতে পারে? <br> আবার একটি জঘন্য চিন্তার কথা ধরুন। শিশুটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো, যার ফলে তার কোমল শরীরটি ভয়ংকরভাবে বিকৃত হয়ে গেল। এমন একটি শিশু যখন জন্ম নেবে, তখন তার ওপর চালানো নিষ্ঠুর নির্যাতনের কী ভয়ংকর প্রমাণই না তার ওই পঙ্গু ও বিকৃত শরীরে ফুটে উঠবে! ** পৃ. ২৮১ * '''প্রতিকার:''' এই বিশাল অপকর্ম কখনো নির্মূল করা যাবে কি না, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর প্রতিকার করতে হলে পাশবিক কামুকদের ভদ্র খ্রিষ্টান বানাতে হবে। ফ্যাশনের প্রলুব্ধকর দাসত্ব থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে। জীবন ও এর দায়িত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা উপড়ে ফেলতে হবে। এককথায়, সমাজে বিপ্লব আনতে হবে। এই অপরাধ গোপনে করা হয়। অনেক সময় অপরাধী নিজে ছাড়া আর কেউই এই অপকর্মের কথা জানতে পারে না। খুব কম ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা এমনভাবে সামনে আসে যা আবছাভাবে বোঝা যায়। তাই যেকোনো বেসামরিক আইনের অকার্যকারিতাই এখানে স্পষ্ট। তবে এই সমস্যাটি ভয়াবহ এবং দিন দিন বাড়ছে। এই অপরাধের স্রোত থামাতে এবং ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কি কোনো চেষ্টাই করা হবে না? অন্তত একটি চেষ্টা তো করা উচিত। প্রতিটি খ্রিষ্টান তাদের মিম্বর থেকে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিক। সত্যকে এত পরিষ্কার ভাষায় বলা হোক যেন ভুল বোঝার কোনো অবকাশ না থাকে। যারা এই অত্যন্ত জঘন্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত, তাদের খুনি হিসেবেই দেখা হোক, কারণ তারা আসলেই তা-ই। তাদের আসল নৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক। ** পৃ. ২৮২-২৮৩ * '''প্রতিনিধির মাধ্যমে খুন:''' "বর্তমানে একধরনের শিশুহত্যা রয়েছে, যা খুব একটা পরিচিত না হলেও আরও বেশি বিপজ্জনক। কারণ এটি কোনো শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যায়। এমন অনেক বাবা-মা আছেন, যারা নিজেদের সন্তান ধ্বংস করার কথা ভাবলে ভয়ে শিউরে ওঠেন, অথচ তারা এদের হাত থেকে মুক্তি পেতেও খুব আগ্রহী থাকেন। এরপর তারা কোনো অনুশোচনা ছাড়াই এদের এমন সব আয়ার হাতে তুলে দেন, যাদের কাছে বাচ্চা রেখে গেলে তারা কখনো বাচ্চা ফেরত দেয় না বলে কুখ্যাতি রয়েছে। এই হতভাগ্য ছোট ছোট প্রাণীগুলো অনাহার ও খারাপ আচরণের শিকার হয়ে মরতে বাধ্য হয়। <br> "এই নিরপরাধ ভুক্তভোগীদের সংখ্যা কল্পনার চেয়েও বেশি। সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে আদালতে পাঠানো চিহ্নিত শিশুহত্যার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই এদের সংখ্যা বেশি।" ** পৃ. ২৮৩ * '''সামাজিক ব্যাধি''' <br> ইতিহাসের শুরু থেকেই অবৈধ যৌন মিলন মানবতার গায়ে এক কলঙ্ক হয়ে আছে। বর্তমানে এটি এমন এক জঘন্য আলসারের মতো সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুকে কুরে কুরে খাচ্ছে, যেন এক মারাত্মক কুষ্ঠরোগ, যা আধুনিক সংস্কৃতির সবচেয়ে সুন্দর অর্জনগুলোর মাঝেও তার কুৎসিত বিকৃতি প্রকাশ করছে। আমাদের বড় শহরগুলো পাপের আস্তানায় ভরপুর। এসব জায়গার নিয়মিত বাসিন্দারা নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং পথচারীদের সামনে নিজেদের কুখ্যাতি জাহির করে। ইউরোপের অনেক বড় শহরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব পাপের আস্তানাকে আইনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেখানে পতিতালয়ের মালিকদের লাইসেন্স ফি দিতে হয়। অন্য কথায়, তাদের সহমানুষদের "নরকের তলদেশে" নিয়ে যাওয়ার অধিকার কিনে নিতে হয়। <br> বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর, এমনকি মহানগর থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে-কানাচেও পাপের আস্তানা দেখা যায়। প্রতিটি সেনাবাহিনীর সাথেই থাকে পতিতাদের দল। পুরুষরা যেখানেই যায়, এই নারীরাও তাদের পিছু পিছু যায়। এমনকি সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে দুর্গম খনি শ্রমিকদের ক্যাম্পেও এরা পৌঁছে যায়। <br> কিন্তু শুধু পতিতালয় আর ভ্রাম্যমাণ পতিতাদের দিয়ে এই বিশাল ও ভয়ংকর অপকর্মের পুরোটা বোঝানো সম্ভব নয়। <br> অনৈতিক নারীদের একটি শ্রেণি রয়েছে, যারা নিজেদের সম্মানজনক বলে মনে করে। এদের সংখ্যা সম্ভবত আগে উল্লেখ করা সাধারণ পতিতাদের চেয়েও বেশি। খুব কম মানুষই এদের আসল রূপ জানে। এরা খুব জাঁকজমকের সাথে জীবন কাটায় এবং ভদ্র সমাজে মেলামেশা করে। আড়ালে এরা টাকার লোভে বা কেবল নিজেদের কামুকতা মেটাতে সীমাহীন উচ্ছৃঙ্খলতায় লিপ্ত হয়। সাধারণ পতিতাদের চেয়ে "রক্ষিতা" হিসেবে রাখা নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। ** পৃ. ২৮৪-২৮৫ * '''প্রাচীনকালের অপবিত্রতা:''' আমরা প্রায়ই মনে করি, বর্তমান যুগই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্ছৃঙ্খল যুগ। উনবিংশ শতাব্দীতে পাপ তার চরম সীমায় পৌঁছেছে। সব যুগের কামুক রক্ত একত্রিত হয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কামুক এক মানবজাতির জন্ম দিয়েছে। আগের কোনো যুগ বর্তমানের চেয়েও বেশি জঘন্য হতে পারে—এমনটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও এমন সময় ছিল যখন কামুকতা এখনকার চেয়েও বেশি লাগামহীন ছিল। তখন পাপ ছিল সর্বজনীন এবং পবিত্রতা বলতে কিছু ছিল না। ইতিহাসের কিছু তথ্যের দিকে তাকালেই এটি প্রমাণ হবে। বর্তমানের অনৈতিকতাকে জায়েজ করতে আমরা এসব ঘটনার উল্লেখ করছি না। বরং জাতিগুলোর পতনে পাপ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে, তা দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য। <br> পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা বুঝতে পারি, বন্যার আগে পৃথিবীতে এমন এক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা এর পরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ছিল। ওই কামুক প্রজন্ম ও তাদের নোংরা কাজগুলোকে চিরতরে মুছে ফেলা সেই বিপর্যয় থেকে বাঁচার যোগ্য ছিল মাত্র আটজন মানুষ। <br> কিন্তু মানুষ দ্রুতই আবার পাপে জড়িয়ে পড়ে। আমরা দেখতে পাই, শুরুর দিকের অ্যাসিরীয়রা পবিত্রতাকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করত। সেখানকার রাজারা চরম কামুকতায় মেতে থাকত। <br> টলেমিদের উচ্ছৃঙ্খলতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো পাপ হতে পারে না। তারা আলেকজান্দ্রিয়াকে একটি পতিতালয়ে এবং পুরো মিসরকে পাপের আস্তানায় পরিণত করেছিল। হেরোডোটাস বলেছেন, "চিওপসের পিরামিড তৈরি করেছিল ওই রাজার মেয়ের প্রেমিকেরা। আর অসংখ্যবার নিজেকে বিলিয়ে না দিলে সে কখনোই এই স্মৃতিস্তম্ভটি এত উঁচু করতে পারত না।" ইতিহাস ওই রানি ক্লিওপেট্রার রোমাঞ্চকর অভিযানের কথাও বলে, যে তার রূপ দিয়ে বিশ্বের দুই প্রভুকে মুগ্ধ ও প্রলুব্ধ করেছিল এবং যার কামুকতা তার সৌন্দর্যকেও হার মানিয়েছিল। <br> টায়ার ও সিডন, মিডিয়া, ফিনিশিয়া, সিরিয়া এবং পুরো প্রাচ্য যৌনতায় ডুবে ছিল। ব্যভিচার তাদের উপাসনার অংশে পরিণত হয়েছিল। নারীরা শহরের রাস্তাগুলোতে সবচেয়ে অশ্লীল ও জঘন্য দৃশ্য প্রদর্শন করে বেড়াত। এসব জাতির মধ্যে একজনও পবিত্র নারী পাওয়া যেত না। কারণ হেরোডোটাসের মতে, দেশের আইন অনুযায়ী যুবতীরা "তাদের জীবনে একবার ভেনাসের মন্দিরে অপরিচিতদের কামনার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য ছিল এবং কাউকে ফেরানোর অনুমতি তাদের ছিল না।" <br> সেন্ট অগাস্টিন বলেছেন, তার সময়েও ফিনিশিয়ায় এসব ধর্মীয় উচ্ছৃঙ্খলতা চলত। এমনকি চতুর্থ শতাব্দীতে কনস্ট্যান্টাইন যেসব মন্দিরে এসব হতো তা ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত এগুলো চলতে থাকে। <br> গ্রিকদের মধ্যে ব্যাকাস এবং ফ্যালাসের উপাসনায় একই ধরনের দুর্নীতি প্রচলিত ছিল। অর্ধেক নগ্ন মেয়েরা "স্যাটায়ারের ছদ্মবেশে থাকা পুরুষদের সাথে কামুক নাচ নেচে" এটি উদ্‌যাপন করত। বস্তুতপক্ষে, এক্স. বুর্জোয়া যেমনটি বলেছেন, "গ্রিসে পতিতাবৃত্তি সম্মানজনক ছিল।" সবচেয়ে বিশিষ্ট নারীরা ছিল পতিতা। আর জ্ঞানী সক্রেটিসকে আধুনিক যুগে অনায়াসেই একজন লম্পট বলা যেত। <br> রোমান সম্রাটদের আমলে কামনার কাছে আত্মসমর্পণের বিষয়টি আরও সম্পূর্ণ ছিল। রোম "তার বিজয়ের জাঁকজমক দিয়ে বিশ্বকে অবাক করার পর, নিজ চরম নির্লজ্জতা দিয়েও বিশ্বকে অবাক করেছিল।" <br> মহান সিজার এতটাই লম্পট ছিলেন যে তাকে "সব নারীর স্বামী উপাধি পাওয়ার যোগ্য" বলা হতো। অ্যান্টনি এবং অগাস্টাসও একইভাবে কুখ্যাত ছিলেন। রাজদরবারের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই কামুকতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওভিড, ক্যাটুলাস এবং ওই সময়ের অন্যান্য কবিদের লেখা কামুক কবিতাগুলো একে আরও উসকে দিত। <br> টাইবেরিয়াস নির্লজ্জতার নতুন নতুন রূপ আবিষ্কারে এমন বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছিলেন যে, সেগুলোর নামকরণের জন্য নতুন শব্দ তৈরি করতে হয়েছিল। ক্যালিগুলা সবার সামনেই নিজের সব বোনের সাথে ব্যভিচারের ভয়ংকর অপরাধ করতেন। তার প্রাসাদ ছিল একটি পতিতালয়। রোমান সম্রাজ্ঞী মেসালিনা একজন পতিতার ছদ্মবেশ নিতেন এবং তার জঘন্য উচ্ছৃঙ্খলতায় সবচেয়ে পতিত নারীদেরও ছাড়িয়ে যেতেন। রোমান সম্রাট ভিটেলিয়াস পেটপুরে খাওয়ার পর বমি করার ওষুধ খেতেন, যাতে তিনি আবার তার পেটুকপনা শুরু করতে পারেন। আরও চরম কামুকতার বশবর্তী হয়ে তিনি নানা ধরনের উত্তেজক ওষুধ ও মিশ্রণ খেয়ে নিজের মেটানো কামনাসনাকে আবার জাগিয়ে তুলতেন। <br> সবচেয়ে কুখ্যাত সম্রাট নিরো বন্য পশুর ছদ্মবেশে রোমের পাবলিক থিয়েটারের মঞ্চে ধর্ষণ করতেন। <br> এই জঘন্য কামুকতা যদি শুধু রাজপরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে হয়তো প্রাচীনকালের মানুষের পবিত্রতার প্রতি কিছুটা সম্মান ধরে রাখা যেত। কিন্তু এই জঘন্য সংক্রমণ এত ছোট গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। এটি পুরো সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, যতক্ষণ না পচনের কারণে সেগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে। এমন একটি জাতির অবস্থা কেমন হতে পারে, যারা নিজেদের সম্রাটকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় মহানগরীর রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে, আর তাকে টেনে নিয়ে যায় তারই মতো নগ্ন নারীরা? হেলিওগ্যাবালাস রোমে ঠিক এমন কাজই করেছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিসের মতোই ফ্রান্সেও পবিত্রতা প্রায় বিরল ছিল। <br> অভিজাতরা তাদের এলাকার সব যুবতীকে রক্ষিতা হিসেবে রাখত। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজন ছিল জারজ সন্তান। বিপ্লবের ঠিক আগে, পবিত্রতা এতটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল যে, একজন নারীকে সৎ থাকার জন্য রীতিমতো ক্ষমা চাইতে হতো! <br> এসব জঘন্য ঘটনার মধ্যেই আমরা জাতিগুলোর পতনের সবচেয়ে শক্তিশালী কারণগুলোর একটি খুঁজে পাই। উচ্ছৃঙ্খলতা তাদের জীবনীশক্তি কেড়ে নিয়েছিল এবং তাদের বীরত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল। যারা বিশ্ব জয় করেছিল, তারা নিজেদের পাশবিক কামনার কাছেই বন্দী হয়ে পড়েছিল। এভাবেই অ্যাসিরীয়, মেডেস, গ্রিক এবং রোমানরা একে একে নিজেদের কামনার শিকার হয়ে পতন ডেকে এনেছিল এবং তুলনামূলক বেশি পবিত্র উত্তরসূরিদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল। এমনকি ওই যুগের সবচেয়ে আলোকিত জাতি ইহুদিরাও মূর্তিপূজার সাথে যুক্ত এই একই পাপে একাধিকবার পতিত হয়েছিল। মিডিয়ানাইটদের দ্বারা তাদের প্রলুব্ধ হওয়া এর একটি উদাহরণ। <br> নিঃসন্দেহে আধুনিক যুগ প্রাচীন যুগের চেয়ে খারাপ কোনো কামুকতার দৃশ্য তুলে ধরে না। আর এটা কি দাবি করা যায় যে, বর্তমানের সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে এতটা জঘন্য কিছু দেখা যায়? কিন্তু বর্তমানে কামুকতায় স্থূলতা কম থাকলেও, মানুষের নৈতিক স্খলন প্রাচীনকালের চেয়েও বেশি হতে পারে। আলোকিত খ্রিষ্টধর্ম নৈতিকতার মান বাড়িয়ে দিয়েছে। সপ্তম আদেশের বিষয়ে খ্রিষ্টের ভাষ্য প্রাচীন মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর পবিত্রতার দাবি করে। এমনকি ইহুদিদের মধ্যেও কি ডেভিড, সলোমন এবং ধার্মিক জ্যাকবের একাধিক স্ত্রী ছিল না? ফলে বর্তমানে পবিত্রতার সামান্য লঙ্ঘনও আগের যুগের বড় কোনো স্খলনের মতোই চরম পতন হিসেবে গণ্য হয়। আর এর জন্য সমান কঠোর নৈতিক শাস্তিও পেতে হয়। <br> আমরা দেখেছি "সামাজিক ব্যাধি" কতটা সর্বজনীন। এটি মানুষের মতোই পুরোনো একটি পাপ। এটি দেখায় যে তার বিকৃত প্রকৃতিতে এটি কতটা গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। প্রশ্ন ওঠে, এত ভয়ংকর একটি পাপের কারণ কী? প্রকৃতির নিয়মের ওপর এত বড় আঘাতের কারণ কী? মানবজাতির ওপর এত ভয়ংকর অভিশাপের কারণ কী? ** পৃ. ২৮৫-২৯০ * '''কামুক রক্ত:''' কামুক প্রবৃত্তি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। লম্পটদের সন্তানেরা প্রায় নিশ্চিতভাবেই লম্পট এবং পতিতা হয়। ইতিহাস এর অসংখ্য উদাহরণ দেয়। অগাস্টাসের মেয়ে তার বাবার মতোই অপবিত্র ছিল এবং তার নাতনিও তার মতোই অনৈতিক ছিল। ডেভিডের ছেলেদের মধ্যেও বাবার দুর্বলতার স্পষ্ট ছাপ দেখা গিয়েছিল। আমননের ব্যভিচার এবং সলোমনের কামুকতার কথাই ধরুন। সলোমনের সাতশ স্ত্রী এবং তিনশ উপপত্নী ছিল। সলোমনের ছেলেও একইভাবে একজন কুখ্যাত বহুগামী ছিল, যার সম্পর্কে ইতিহাসে বলা হয়েছে, "সে অনেক স্ত্রী কামনা করত।" তার নাতিও তার দুর্বল রাজ্য যতটা অনুমোদন দেয় ততগুলো স্ত্রী গ্রহণের মাধ্যমে একই প্রবৃত্তির প্রমাণ দিয়েছিল। এই কামুক প্রবৃত্তির উৎস খুঁজতে আরও পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ডেভিড জুদাহর বংশধর। জুদাহ ও তার পুত্রবধূর অবৈধ মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া ফারেক্সের মাধ্যমেই এই বংশধারা ডেভিড পর্যন্ত পৌঁছেছে। <br> এটি মনে করা কি অযৌক্তিক যে, যেই অস্বাভাবিক কামনা ডেভিডকে বাথশেবার সাথে ব্যভিচার এবং পরে তার স্বামীকে হত্যার মতো জীবনের সবচেয়ে জঘন্য পাপ করতে বাধ্য করেছিল, তা আসলে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া এক বংশগত প্রবৃত্তি ছিল? এই প্রবৃত্তি হয়তো তার জীবনের শুরুর দিকের কর্মঠ ও সাধারণ জীবনযাপনের কারণে সুপ্ত ছিল। কিন্তু রাজকীয় অলসতা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশে তা পূর্ণ শক্তিতে জেগে ওঠে। বংশগতির জানা নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি মিলে গেলে এমন প্রবণতা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। <br> সন্তানের মধ্যে খারাপ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে বাড়াবাড়ি, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যৌন মিলনের প্রভাব নিয়ে এই বইয়ের অন্য জায়গায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে শুধু বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। শারীরবিদ্যা নিশ্চিতভাবে দেখায় যে, যেসব বাবা-মায়ের ছেলেরা লম্পট এবং মেয়েরা পতিতা হয়েছে, তারা নিজেরাই সন্তানদের মধ্যে সেই প্রবৃত্তি বুনে দিয়েছিলেন যা তাদের অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ** পৃ. ২৯০-২৯২ * '''পেটুকপনা:''' বংশগতির পরেই খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবকে পূর্বশর্ত হিসেবে ধরা উচিত। এটি একটি পরীক্ষিত সত্য যে "সব লম্পটরাই বড় খাদক বা বিখ্যাত ভোজনরসিক হয়ে থাকে।" গোলমরিচ, সরিষা, আদা, মসলা, ট্রাফল, ওয়াইন এবং সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় প্রজনন অঙ্গের ওপর কতটা উত্তেজক প্রভাব ফেলে, তা সবারই জানা। চা ও কফি যৌন অঙ্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকেন্দ্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে সরাসরি পাশবিক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে। শিশুদের যখন এসব খাবার খাওয়ানো হয়, বা তাদের খাবারের সাথে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা মাঝে মাঝে "খারাপ পথে" গেলে অবাক হওয়ার কী আছে? কত মায়েরা নার্সারিতে সন্তানদের পবিত্রতার নীতি শেখানোর পাশাপাশি অজান্তেই ডাইনিং টেবিলে তাদের আবেগকে এমনভাবে উসকে দেন যে, পাপ প্রায় শারীরিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়! <br> পর্যাপ্ত ব্যায়ামের পাশাপাশি মসলামুক্ত সাধারণ খাবার আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। <br> অপবিত্রতার দিকে ঠেলে দেওয়ায় তামাকের প্রভাব। ** পৃ. ২৯২ * '''অকালপক্ব যৌনতা:''' শিশুদের মধ্যে প্রেমের ভান করা এবং যৌন কামনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে যৌন বৈশিষ্ট্যের অকাল বিকাশের কারণগুলো আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এটি নিশ্চিত যে, যেসব অনুভূতি কেবল বয়ঃসন্ধি বা তার পরের বয়সের জন্য মানানসই, সেগুলোর অকাল বিকাশের চেয়ে পবিত্রতার জন্য বেশি বিপজ্জনক আর কিছুই হতে পারে না। খুব অল্পবয়সী কোনো মেয়েকে পরিণত বয়সের উচ্ছৃঙ্খল নারীদের মতো আচরণ করতে দেখাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও খুব একটা বিরল নয়। <br> "পুরুষদের কামুকতা"—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে "সামাজিক ব্যাধি"-এর জন্য পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। এখানেও সাধারণ নীতিটি প্রযোজ্য—চাহিদা অনুযায়ী জোগান ঠিক হয়। পতিতাবৃত্তির গ্রাহকেরা যদি হঠাৎ করে পবিত্র হয়ে তাদের সমর্থন তুলে নেয়, তবে এই জঘন্য ব্যবসা কত দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে! পুরুষদের এমন পবিত্রতার জোয়ারের ফলে পতিতালয়ের বাসিন্দারাও ইন্দ্রিয়দমনকারী, বা অন্তত পবিত্র হয়ে উঠবে। <br> আবার, ঘৃণ্য রোগ ও ভয়ংকর মৃত্যুর কারণে পতিতাদের সংখ্যা দ্রুত কমলেও, সেই শূন্যস্থান পূরণ হয় হতভাগ্য মেয়েদের দিয়ে। আর এই মেয়েদের পতনের জন্য অবিশ্বস্ত প্রেমিক বা চতুর, হৃদয়হীন লম্পটরাই মূলত দায়ী। যে দুর্বল মেয়ে অতিরিক্ত বিশ্বাসের কারণে প্রতারিত হয় এবং নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারায়, আত্মীয়স্বজন তাকে অস্বীকার করে, পরিচিতরা তাকে এড়িয়ে চলে। এরপর তাকে টাকা, বন্ধু বা চরিত্র ছাড়াই এক নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ছুড়ে ফেলা হয়। সে কী করতে পারে? বদনাম তার পিছু ছাড়ে না বলে সে সম্মানজনক কাজ পায় না। তার সামনে কেবল একটি দরজাই খোলা থাকে বলে মনে হয়, যে দরজাটি সে নিজের অজান্তেই খুলেছিল। হতাশায় সে "নরকের খোলা পথে" পা বাড়ায় এবং তার প্রথম দুঃখজনক ভুলের সাথে এক লজ্জাজনক জীবন যোগ করে। এদিকে যে শয়তান তাকে প্রতারণা করেছিল, সে সমাজে তার অবস্থান ঠিকই বজায় রাখে এবং আরেকজন শিকার ধরার জন্য তার কৌশল চালাতে থাকে। এখানে কি কোনো অন্যায্য বৈষম্য নেই? যে নারী প্রতারিত হয়েছে, সমাজ তাকে যেভাবে কলঙ্কিত করে, প্রতারণাকারীকেও কি অন্তত ততটাই কলঙ্কিত করা উচিত নয়? <br> '''ফ্যাশন'''- পোশাক, সুন্দর জামাকাপড়, দামি গয়না এবং ধনী নারীদের সব ধরনের সাজসজ্জার প্রলোভন অনেক ক্ষেত্রেই গরিব দর্জি, কারখানার কর্মী এবং কাজের মেয়েদের দুর্বল পবিত্রতার জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। তারা এত বেশি পাপ দেখেছে যে পাপের প্রতি তাদের সেই সহজাত ঘৃণাবোধ হয়তো হারিয়ে গেছে। আরামদায়ক জীবন পাওয়ার আশায়, যার মানে হলো তাদের লোকদেখানো স্বভাব মেটানো, তারা এই পৃথিবীর মানসিক শান্তি এবং পরকালের সব আশা বিসর্জন দেয়। বিনিময়ে তারা পায় কেবল কিছু মূল্যহীন চাকচিক্য, সহমানুষের অবজ্ঞা এবং একগাদা ঘৃণ্য রোগ। ** পৃ. ২৯৩-২৯৫ * '''প্রাথমিক শিক্ষার অভাব:''' একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ চরিত্র অনেকাংশেই তার প্রাথমিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে—এই সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। যদি একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা এবং বিনয় শেখানো হয়, তবে মন পাপের আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। এর বদলে যদি শিশুটিকে কোনো শিক্ষা ছাড়াই বড় হতে দেওয়া হয়, যদি সবচেয়ে যত্ন করে রাখা মাটিতেও দেরিতে হলেও নিশ্চিতভাবে পড়তে থাকা পাপের বীজগুলোকে অঙ্কুরিত হতে দেওয়া হয়, যদি পাপের প্রথম কুঁড়িগুলোকে সাথে সাথে ছিঁড়ে না ফেলে বড় হতে ও ফুটতে দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে আত্মার মধ্যে পাপের আগাছা বেড়ে উঠবে এবং নির্লজ্জ জীবনের মাধ্যমে তার ভয়ংকর ফল ফলাবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। <br> যে পথ দিয়ে শিশুর কচি মনে পাপ ঢুকতে পারে, তা পাহারা না দেওয়া এবং সতর্ক শিক্ষা ও পবিত্র উদাহরণের মাধ্যমে পাপের বিরুদ্ধে বাধা তৈরি না করার ফলে অনেক নিষ্পাপ আত্মা পাপের আক্রমণের শিকার হয় এবং সহজেই কামনার শিকার হয়। বাচ্চাদের যদি রাস্তায়, মোড়ের মুদি দোকানে, বা সেলুনের আশপাশে ঘুরে বড় হতে দেওয়া হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যে পাশবিক আবেগ জোরালোভাবে বেড়ে উঠবে। নিচের লেখাটি এমন একজনের লেখা থেকে নেওয়া, যার কলম আমেরিকার তরুণদের জন্য এক অমূল্য আশীর্বাদ:— "ছেলেরা তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে প্রথম যে শিক্ষাগুলো পায় তার মধ্যে অন্যতম হলো ভাষার অপবিত্রতা। আর এর পরপরই আসে চিন্তার অপবিত্রতা। ... বাল্যকালের শিক্ষা যখন এমন হয়, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই যে নারী সম্পর্কে পুরুষদের প্রধান ধারণাগুলো প্রায়শই অপবিত্রতা এবং কামুকতার হয়। ... তাই তরুণদের জীবনের ইতিহাসে আমরা অবাক হই না যে, তারা কোনো না কোনোভাবে এবং বিভিন্ন উপায়ে প্রলোভনের কাছে হার মানে। নিঃসন্দেহে অনেকের ক্ষেত্রেই এই আসক্তি ক্ষণস্থায়ী বা হঠাৎ করে ঘটে এবং তা অভ্যাসে পরিণত হয় না। এটিকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মনে করা হয় না। অনুশোচনা ছাড়া কখনোই এর কাছে হার মানা হয় না। ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। কিন্তু পাশবিক প্রবৃত্তি নৈতিকতাকে হার মানায়। তবুও নিয়ম ভাঙার পর সবসময় দুঃখ এবং অনুশোচনা আসে। <br> "তবে অনেকের ক্ষেত্রেই ভয় হয় যে, অবস্থা এমন থাকে না। কামুক ছবি নিয়ে ভেবে এবং কামুক কথাবার্তা বলে তাদের মন কলুষিত হয়ে যায়। তাদের বাধা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। প্রলোভন তাদের পরাস্ত করে না, বরং তারাই এর খোঁজ করে। তাদের কাছে এই নিয়ম ভাঙা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং চরিত্রের দাগ গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।" ** পৃ. ২৯৫-২৯৬ * '''আবেগপ্রবণ সাহিত্য:''' অন্য প্রসঙ্গে আমরা বিশেষভাবে সেসব খারাপ, অশ্লীল বই ও ছবির কথা উল্লেখ করেছি, যা গোপনে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছড়ানো হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছি। এই অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমন আশা পুরোপুরি বৃথা নয়। তবে আরেকটি অপকর্মের কোনো বাস্তব প্রতিকার আছে বলে মনে হয় না, যা কম জঘন্য ও অশ্লীল উপায়ে হলেও শেষ পর্যন্ত একই পরিণতি ডেকে আনে। আমরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবেগপ্রবণ সাহিত্যের কথা বলছি। শহরের ও স্কুলের লাইব্রেরি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, এমনকি সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলোও এমন বইয়ে ভরপুর। এসব বইয়ে হয়তো ভালো নৈতিক শিক্ষা থাকতে পারে, কিন্তু এর সাথে এমন কিছু উপাদানও থাকে যা অন্ধকারের সাথে আলোর মতোই নৈতিকতার পবিত্রতার চরম পরিপন্থী। শিশু-কিশোরদের লেখকেরা মনে করেন তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে "প্রেম, প্রণয় ও পরিণয়"-এর গল্প একেবারেই অপরিহার্য। এই "ধর্মীয় উপন্যাস"-গুলোর কয়েকটি আসলে ওই সব পরিচিত ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, যারা ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কোনো ভান করেন না। সানডে স্কুলের লাইব্রেরিগুলো সাধারণত পুরোপুরি এই ধরনের বই দিয়ে তৈরি হয় না। কিন্তু কেউ যদি কষ্ট করে এসব লাইব্রেরির বইগুলো দেখেন, তবে তিনি বাইরের চেহারা দেখেই সবচেয়ে ক্ষতিকর বইগুলো বেছে নিতে পারবেন। বইগুলোর মলাট ছেঁড়াফাঁড়া থাকবে এবং বারবার ধরার কারণে এর প্রান্তগুলো ময়লায় কালো হয়ে থাকবে। এসব বইয়ের "নৈতিক" অংশগুলোর অগভীর একঘেয়েমিতে শিশুরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সেগুলো না পড়েই চোখ বুলিয়ে যায়। তারা আগ্রহের সাথে কেবল সেই অংশগুলোই বেছে নিয়ে পড়ে, যেখানে কোনো প্রেমের রোমাঞ্চকর ও বোকাটে গল্প থাকে। এ ধরনের সাহিত্য শিশুদের মনে অকালপক্ব কল্পনা ও কৌতূহল জাগায় এবং এমন এক আবেগপ্রবণতা লালন করে, যা প্রায়শই অত্যন্ত দুঃখজনক পরিণতি ডেকে আনে। বাবা-মা তাদের মনে কখনো পাপের চিন্তা ঢুকেছে বলে টের পাওয়ার অনেক আগেই এসবের প্রভাবে অল্পবয়সী মেয়েরা প্রায়শই লজ্জাজনক জীবন শুরু করতে প্ররোচিত হয়। <br> একজন জোরালো লেখকের নিচের কথাগুলো এই বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে:- <br> "আপনি কোনো কোট ছিঁড়ে গেলে বা ফুলদানি ভেঙে গেলে তা মেরামত করতে পারেন। কিন্তু কোথায় সেলাই করা হয়েছে বা ভেঙেছিল, তা সবসময়ই বোঝা যাবে। আপনার হৃদয়ে এমন ক্ষতি করতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে, যা কোনো সময়ই পুরোপুরি মেরামত করতে পারে না। আপনার সন্তানের লাইব্রেরি ভালোভাবে খেয়াল করুন। দেখুন ঘুমাতে যাওয়ার পর বালিশের কাছে গ্যাসলাইট জ্বেলে সে কোন বইটি পড়ে। বইটি সানডে স্কুলের বলেই যে তা ভালো, এমনটা সবসময় ধরে নেবেন না। যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করুন 'কে' এটি লিখেছেন, কে এর ছবি এঁকেছেন, কে প্রকাশ করেছেন এবং কে এটি বিক্রি করেছেন। <br> "মনে হচ্ছে আজকের সাহিত্যে মিসরের দশটি মহামারি ফিরে এসেছে, আর ব্যাঙ ও উকুনগুলো লাফিয়ে আমাদের বসার ঘরের টেবিলে উঠে এসেছে। <br> "বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের পড়তে দেখে খুশি হন। কিন্তু তারা কী পড়ছে, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত হওয়া উচিত। কলেরা বা টাইফয়েড হওয়ার জন্য আপনাকে মহামারি কবলিত এলাকায় এক-দুদিন হাঁটতে হবে না। তেমনি নৈতিক অস্বাস্থ্যের একটি ঢেউ আত্মাকে চিরতরে অসুস্থ ও ধ্বংস করে দেবে। হয়তো না বুঝেই আপনি একটি খারাপ বই পড়েছেন। আপনার কি সেটার কথা পুরোপুরি মনে নেই? হ্যাঁ, মনে আছে! এবং সম্ভবত আপনি কখনোই এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আপনার চরিত্র যতই দৃঢ় এবং উন্নত হোক না কেন, কখনোই একটি খারাপ বই পড়বেন না। প্রথম অধ্যায় শেষ করার আগেই আপনি এর গতিবিধি বুঝতে পারবেন। যদি ছবি, লেখার ধরন বা গল্পের মধ্যে শয়তানের পায়ের ছাপ দেখতে পান, তবে তা দূরে ছুড়ে ফেলুন। <br> "তবে আমার মনে হয়, সপ্তাহে একবার প্রকাশিত অনেক পারিবারিক পত্রিকা থেকে বেশি বিপদের আশঙ্কা আছে। সেগুলোতে থাকে পাপ ও লজ্জার গল্প, যা জঘন্য ইঙ্গিতে ভরা। আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য যতটুকু সম্ভব, এরা ততটুকুই নিচে নামে। আমি কোনোটির নাম বলছি না। শুধু বলছি, কিছু অভিজাত টেবিলে এমন 'পারিবারিক সংবাদপত্র' রাখা থাকে যা আক্ষরিক অর্থেই নরকের বমি। <br> "ধ্বংসের পথ খুব সস্তা। ফিলাডেলফিয়ায় যেতে তিন ডলার, বোস্টনে ছয় ডলার এবং সাভানায় তেত্রিশ ডলার লাগে। কিন্তু দশ সেন্ট দিয়ে একটি খারাপ পত্রিকা কিনলে আপনি নরকে যাওয়ার এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি পাকাপাকি টিকিট পেতে পারেন। এই ট্রেনে থামার জায়গা খুব কম এবং এর শেষ গন্তব্য হবে নরওয়াকের ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটে চলা ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়ার মতো—হঠাৎ, ভয়ংকর, প্রাণঘাতী, যেখান থেকে আর কখনোই ওঠা যাবে না।" ** পৃ. ২৯৬-২৯৯ * '''দারিদ্র্য:''' দারিদ্র্যের প্রবল চাপকে পতিতাবৃত্তির একটি কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এটি অস্বীকার করা যায় না যে বড় শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে এটি যুবতীর লজ্জাজনক জীবনে প্রবেশের তাৎক্ষণিক কারণ হতে পারে। তবুও জোর দিয়ে বলা যায় যে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই তার প্রাথমিক শিক্ষায় ঘাটতি ছিল। কারণ পবিত্রতার সঠিক সম্মান দিয়ে বড় হওয়া একজন নারী পবিত্রতার চেয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়াকে বেছে নেবেন। আবার দারিদ্র্য কোনো অজুহাত হতে পারে না। কারণ প্রতিটি শহরে অভাবী দরিদ্রদের সাহায্য করার ব্যবস্থা থাকে এবং সত্যিই যোগ্য এমন কাউকে কষ্ট পেতে হয় না। ** পৃ. ২৯৯-৩০০ * সম্ভবত অজ্ঞতার চেয়ে বেশি আর কিছুই পাপকে লালন করে না। অনেক ব্যতিক্রম থাকলেও পতিতারা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই অজ্ঞ শ্রেণি থেকে আসে। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির মধ্যে পাপ তার সবচেয়ে জঘন্য রূপ দেখায় এবং অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতি কামুকতার বিরোধী। সাধারণত বুদ্ধির বিকাশের সাথে সাথে পাশবিক আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি ঠিক যে, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও বড় লম্পট হয়েছেন এবং ইতালির কামুক বোরগিয়া ও মেদিসিরা শিল্প ও সাহিত্যকে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু এগুলো কেবল আপাত ব্যতিক্রম। কারণ মানসিক সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাব না থাকলে এই ব্যক্তিরা পাপের আরও কত গভীরে তলিয়ে যেতেন, তা কে জানে? <br> ডেসলান্ডেস বলেছেন, "বুদ্ধি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে প্রজনন সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।" সব উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে গেলেও পাশবিক আবেগগুলো টিকে থাকে বলে মনে হয়। নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে ক্লিনিকে মেডিকেল ক্লাসের সামনে আনা একজন বোকার মধ্যে আমরা এর প্রমাণ দেখেছি। ওই রোগী জন্ম থেকেই বোকা ছিল এবং তাকে দেখতে অত্যন্ত জঘন্য মনে হতো। গড়পড়তা কুকুরের চেয়ে বেশি বুদ্ধি তার ছিল না। কিন্তু তার পাশবিক প্রবৃত্তি এতটাই প্রবল ছিল যে তা প্রায় অনিয়ন্ত্রিত ছিল। বস্তুতপক্ষে, তার মধ্যে একজন জঘন্য লম্পট হওয়ার প্রমাণ দেখা গিয়েছিল এবং সে সবচেয়ে খারাপ ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। মানসিক রোগীদের মধ্যে অস্বাভাবিক যৌন উত্তেজনার সাধারণ ব্যাপকতা একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। ** পৃ. ৩০০-৩০১ * আগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রোগ প্রজনন অঙ্গে জ্বালাপোড়া এবং রক্তজমাটের কারণ হয়, যা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই অপবিত্রতা ডেকে আনে। এমনটা প্রায়শই ঘটে যে, পবিত্র চিন্তার অভাবে যৌন অঙ্গগুলোতে স্থায়ী রক্তজমাটের অবস্থা তৈরি হয়। তখন যুবতীদের মধ্যে কামুক মিলনের এমন এক তীব্র উন্মাদনা দেখা দেয়, যা কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি না পাওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মেটে না। অবশ্য একজন দক্ষ চিকিৎসকের অধীনে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিলে ভিন্ন কথা। "নিনফোম্যানিয়া" নামের এই রোগটি ভালো পরিবারের অনেক যুবতীর পতনের কারণ হয়েছে। তারা বিলাসবহুলভাবে এবং অলসতায় বড় হয়েছিল, কিন্তু কখনোই পবিত্রতা বা আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও পায়নি। কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, কৃমি, যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং মূত্র ও যৌনাঙ্গের অন্যান্য কম সাধারণ রোগগুলো যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। ** পৃ. ৩০১-৩০২ * '''যৌন রোগের বংশগত প্রভাব:''' যে নিয়ম ভাঙে, শুধু সেই কষ্ট পায় না। সে বিয়ে করলে তার শিশু সন্তানটি বেঁচে গেলে পরবর্তী বছরগুলোতে তার বাবার পাপের প্রভাব তার মধ্যে দেখা যায়। এটি রোগের শেষ পর্যায়ের রূপ নিয়ে প্রকাশ পায়। স্ক্রোফুলা, ক্ষয়রোগ, ক্যানসার, রিকেটস, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ, ক্যারিজ বা নেক্রোসিসের কারণে হাড়ের ক্ষয় এবং অন্যান্য রোগ এভাবেই তৈরি হয়। <br> তবে সাধারণত শিশুটি জন্মের আগেই মারা যায়, অথবা কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে দুর্দশাগ্রস্ত জীবনযাপন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ছোট শিশুদের দেখতে খুব করুণ লাগে। তাদের মুখগুলো দশ বা বারো বছরের শিশুর মতো বয়স্ক মনে হয়। প্রায়ই মৃত্যুর আগে তাদের শরীর কঙ্কালের মতো জীর্ণ হয়ে যায়। তাদের ফাঁপা ও দুর্বল কান্না শুনলে শ্রোতার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে এবং এটি যৌন পাপের ভয়ংকর পরিণতি স্থায়ীভাবে মনে করিয়ে দেয়। প্রসূতি হাসপাতালগুলোতে এমন শুকনো শিশুর অভাব নেই। <br> যে শিশুরা শৈশবের পরেও বেঁচে থাকে, তাদের মধ্যে এই ক্ষতিকর প্রভাব খাঁজকাটা ও বিকৃত দাঁত এবং অন্যান্য ত্রুটির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। প্রায়শই শিশুর মুখের ভেতরে তাকালে দেখা যায় যে নরম তালু, এবং সম্ভবত শক্ত তালুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ** পৃ. ৩০৬ * ১. লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিকে আইনের সুরক্ষায় আনার মুহূর্তেই এটি তার অর্ধেক বদনাম হারিয়ে ফেলে এবং জুয়া খেলা ও মদ বিক্রির মতোই সম্মানজনক হয়ে ওঠে। <br> ২. ব্যভিচারের মতো এত জঘন্য একটি অপরাধকে চুরি বা সবচেয়ে নিচু স্তরের জুয়া খেলার চেয়ে বেশি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে কেন? প্রতারণা ও ছলনা বা চুরির মাধ্যমে কারও টাকা কেড়ে নেওয়ার চেয়ে, এক ধাক্কায় তার স্বাস্থ্য, পবিত্রতা এবং মনের শান্তি কেড়ে নেওয়া কি মানুষের বিরুদ্ধে কম অপরাধ? ** পৃ. ৩০৯ * শিশুদের শুরু থেকেই পবিত্রতাকে সম্মান করতে এবং কামুকতাকে ঘৃণা করতে শেখানো উচিত। ছেলেদের এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত যেন তারা নারীর নামের সাথে কেবল পবিত্র, সতী এবং মহৎ চিন্তাই মেলাতে পারে। "বিচার কেলেঙ্কারি" এবং এই ধরনের বিষয়গুলোর অবাধ আলোচনা নারীর চরিত্রের জন্য এবং শিশুদের মনে নোংরা কল্পনা তৈরির জন্য যতটা ক্ষতিকর, ততটা ক্ষতিকর খুব কম জিনিসই আছে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন ও জীবন্ত কল্পনা অনেক মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক আগেই এমন নোংরা বিষয়ের পচা রহস্য ভেদ করে ফেলে। শিশুদের জিজ্ঞাসু মন কোনো না কোনোভাবে ব্যস্ত থাকবেই। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের এমন চিন্তায় ভরিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের মহৎ ও পবিত্র কাজের দিকে নিয়ে যাবে। <br> '''আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখানো:''' প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা এবং প্রয়োজন হলেই আত্মত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশুর নৈতিক শিক্ষার আরেকটি অপরিহার্য অংশ হলো সঠিক উদ্দেশ্য গড়ে তোলা। কোনো আনন্দদায়ক পুরস্কার পাওয়ার আশা বা কোনো ভয়ংকর শাস্তির ভয়ের বাইরে শিশুকে সঠিক কাজ করার অন্য কোনো মহৎ উদ্দেশ্য না দেখালে সে নিশ্চিতভাবেই একজন চরম স্বার্থপর মানুষ হিসেবে বড় হবে। তখন অন্য মানুষের কী হবে সেদিকে খেয়াল না করে কেবল নিজের ভালোটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। আর সে যদি নিজেকে বোঝাতে পারে যে কোনো কাজ করে সে যে আনন্দ পাবে, তা সম্ভাব্য শাস্তির ঝুঁকির চেয়ে বেশি হবে, তবে সে নির্দ্বিধায় সেই কাজটি করবে। "এটি কি ঠিক? বা মহৎ? বা পবিত্র?"—এই প্রশ্নটি সে একবারও ভাববে না। নিজের খাতিরে সঠিক কাজকে ভালোবাসা—এটিই নৈতিক চরিত্র গঠনের একমাত্র শক্ত ভিত্তি। মার খাওয়া বা অন্ধকার ঘরে বন্দি থাকা (কখনো কখনো ব্যবহার করা এক ভয়ংকর শাস্তি) থেকে বাঁচতে, বা এমনকি "আগুন ও গন্ধকের হ্রদ" থেকে বাঁচতে শিশুদের সঠিক কাজ করতে শেখানো উচিত নয়। নতুন খেলনা, বই, বেড়ানোর সুযোগ বা এমনকি স্বর্গের আনন্দের মতো প্রতিশ্রুত পুরস্কার দিয়েও তাদের ভালো কাজের জন্য বারবার প্রলুব্ধ করা ঠিক নয়। এসব প্রলোভন স্বার্থপর এবং এগুলোকে কাজের "প্রধান" উদ্দেশ্য বানালে তা নিশ্চিতভাবেই চরিত্রকে সংকুচিত করে এবং জীবনকে ছোট করে দেয়। এর চেয়ে বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনে সঠিক, সত্য, পবিত্রতা এবং সদ্গুণের প্রতি ভালোবাসা এবং এগুলোর বিপরীতের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করুন। তাহলে সে তার জীবন পরিচালনা করার মতো একটি যোগ্য নীতি পাবে। তখন সে আবেগ, পাপ এবং কামনার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে। এভাবে শিক্ষিত মন এমন এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকে, যেখান থেকে সব খারাপ মানুষ ও শয়তান মিলেও তাকে সরাতে পারে না, যতক্ষণ সে তার মহৎ নীতিগুলোতে অটল থাকে। ** পৃ. ৩১১-৩১২ * নারী-পুরুষের অবৈধ মিলন যদি জঘন্য পাপ হয়, তবে স্বমেহন বা নিজেকে অপবিত্র করা তার চেয়ে দ্বিগুণ জঘন্য অপরাধ। প্রকৃতির বিরুদ্ধে পাপ হিসেবে সমকামিতা ছাড়া এর কোনো তুলনা নেই (দেখুন আদিপুস্তক ১৯: ৫, বিচারক ১৯: ২২)। এটি সব যৌন অপব্যবহারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ এটি সবচেয়ে বেশি করা হয়। স্বাভাবিক উপায়ের বাইরে যৌনাঙ্গের যেকোনো উত্তেজনাই হলো এই পাপ। এটি নিজেকে অপবিত্র করা, নিজের ক্ষতি করা, স্বমেহন, অনানিজম, ম্যানুসুপ্রেশন, স্বেচ্ছায় দূষণ, একাকী বা গোপন পাপ এবং অন্যান্য ব্যাখ্যামূলক নামে পরিচিত। এই পাপটি এত বেশি বিস্তৃত কারণ এর চর্চার কোনো সীমা নেই। এর বারবার পুনরাবৃত্তি ভুক্তভোগীকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য এক মোহের জালে আটকে ফেলে। এটি একেবারে ছোটবেলায় শুরু হতে পারে এবং সারা জীবন চলতে পারে। <br> কোনো সতর্কতা দেওয়া না হলেও, নিয়ম ভঙ্গকারী যেন প্রবৃত্তিগতভাবেই জানে যে সে একটি বড় ভুল করছে। কারণ সে সযত্নে তার অভ্যাসটি অন্যের চোখের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। একাকিত্বে সে নিজেকে কলুষিত করে এবং নিজের হাতেই এই বিশ্ব ও পরকালের সব সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেয়। এমনকি কঠোরভাবে সতর্ক করার পরও, সে প্রায়শই এই পশুর চেয়েও খারাপ অভ্যাস চালিয়ে যায়। এক মুহূর্তের পাগলাটে কামনার জন্য সে জেনেশুনে তার স্বাস্থ্য ও সুখের অধিকার বিসর্জন দেয়। ** পৃ. ৩১৫ * বিশিষ্ট লেখকদের সাক্ষ্য:—একজন চিকিৎসা-লেখক বলেছেন, "আমার মতে, প্লেগ, যুদ্ধ, গুটিবসন্ত বা অনুরূপ কোনো রোগই অনানিজমের এই ক্ষতিকর অভ্যাসের মতো মানবতার জন্য এতটা ধ্বংসাত্মক ফল বয়ে আনেনি। এটি সভ্য সমাজের ধ্বংসকারী উপাদান, যা প্রতিনিয়ত কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে একটি জাতির স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।" <br> "নিজেকে অপবিত্র করার এই পাপ, যাকে সাধারণত অনানের পাপ বলে মনে করা হয়, এটি পতিত মানুষের করা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কাজগুলোর একটি। অনেক দিক থেকে এটি সাধারণ পতিতাবৃত্তির চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ। পতিতার সাথে অপরাধমূলক সম্পর্কের কথা ভেবে শিউরে ওঠা অনেক মানুষ এটি করলেও এর পরিণতি আরও ভয়ংকর।" ** ডা. অ্যাডাম ক্লার্কের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * "এমন একটি বিষয়ে কথা বলতে যতই খারাপ লাগুক না কেন, কর্তব্যের চরম অবহেলা ছাড়া এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্ভাগ্যবশত, এর ভয়াবহ দিকটি এ পর্যন্ত সেভাবে তুলে ধরা হয়নি। 'সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো এটি খুব কমই সন্দেহ করা হয়।' অনেক ফ্যাকাশে চেহারা এবং দুর্বল ও স্নায়বিক অনুভূতির জন্য অন্য কারণগুলোকে দায়ী করা হয়, অথচ সব ক্ষতির মূলে থাকে এটি।" ** স্যার ডব্লিউ. সি. এলিসের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * এই অপকর্মের ভয়াবহ বিস্তারের বিষয়ে আমাদের আর কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা নিচের কথাগুলো দিয়ে শেষ করব:— <br> "স্বমেহনের ক্ষতিকর এবং অবক্ষয়ী অভ্যাসটি সাধারণত যতটা ধারণা করা হয়, তার চেয়ে নারী-পুরুষ উভয় তরুণের মধ্যেই অনেক বেশি সাধারণ এবং বিস্তৃত।" "বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার পরে তরুণদের মধ্যে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, তার একটি বড় অংশের কারণ হলো স্বমেহন। এতে এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে তা মানুষের জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেয় এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।" "কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সময় বৃদ্ধি এবং অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে যেসব দুর্বলতা দেখা দেয় বলে মনে করা হয়, তার অনেকগুলোই আসলে এই অভ্যাসের কারণে হয়।" ** বোস্টন মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল জার্নালের উদ্ধৃতি, পৃ. ৩১৮ * অপবিত্রতার যেসব কারণ নিয়ে আগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। এগুলোর প্রায় সবই সামাজিক পাপের পাশাপাশি একাকী পাপের জন্যও দায়ী। অকালপক্ব যৌনতা, অলসতা, ক্ষতিকর সাহিত্য, অস্বাভাবিক যৌন বাসনা, উত্তেজক খাবার, পেটুকপনা, বসে বসে করা কাজ, কামুক ছবি এবং জীবনের অনেক অস্বাভাবিক অবস্থা এই জঘন্য অভ্যাস উসকে দিতে জোরালো ভূমিকা রাখে। তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খারাপ সঙ্গ, দুষ্ট বা অজ্ঞ নার্স এবং স্থানীয় রোগ বা অস্বাভাবিকতা। এগুলো নিয়ে আমরা বিশেষভাবে আলোচনা করব, কারণ অন্য কোথাও এগুলোর বিষয়ে এতটা বিস্তারিত বলা হয়নি। ** পৃ. ৩২১ * '''খারাপ সঙ্গ:''' একটি শিশুকে হয়তো সবচেয়ে বেশি যত্ন নিয়ে বড় করা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হয়তো তাকে সব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সযত্নে দূরে রাখা হয়েছে। দশ বা বারো বছর বয়সে যখন তাকে প্রথমবার দূরে স্কুলে পাঠানো হয়, তখন সে হয়তো পাপমুক্ত থাকে। কিন্তু যখন সে তার সহপাঠীদের সাথে মেশে, তখন সে দ্রুতই দেখে যে তারা এমন এক অভ্যাসে লিপ্ত যা তার কাছে নতুন। আগে থেকে সতর্ক না থাকায় সে দ্রুত তাদের ওই নোংরা দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এবং দ্রুতই এই পাপে মজে যায়। হাজার হাজার শিশু স্কুলে তাদের এই অবক্ষয়ী অভ্যাসের প্রথম পাঠ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাক্ষ্য দেয় যে প্রায়শই স্কুল চলাকালীন সময়ে, প্রায় শিক্ষকের চোখের সামনেই এর চর্চা করা হয়। তবে যেখানে এই সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়, তা হলো ঘুমানোর ঘর। যেখানে একাধিক ব্যক্তি একই বিছানায় ঘুমায় বা কয়েকজন একই ঘরে ঘুমায়, সেখানেই এটি বেশি হয়। <br> শরীর ও নৈতিকতার পবিত্রতার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদা ঘুমানোর ঘর ও একক বিছানার চেয়ে অপরিহার্য আর কিছুই নেই। এমন ব্যবস্থা তরুণদের অনেক খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করবে এবং একাকিত্বের সুযোগ দেবে, যা প্রতিটি তরুণের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারের জন্য প্রয়োজন। শারীরিক উপকারের একটি বড় দিক হলো প্রতিদিন সকালে পুরো শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করার সুযোগ, যা নৈতিকতার পবিত্রতার মতোই প্রায় অপরিহার্য। এই পরামর্শ মেয়েদের ঘুমানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই পদ্ধতিটি যেখানে সেরা হবে না, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা সত্যিই খুব কম। ** পৃ. ৩২২ * '''স্কুলে দুর্নীতি:''' ডা. অ্যাক্টন বলেন, "রোগীরা আমাকে স্কুলে যা দেখেছে বা যার ফাঁদে পড়েছে বলে জানিয়েছে, তা ছাপানোর সাহস আমার নেই। আমি আশা করতে চাই যে এমন জঘন্য ঘটনাগুলো অতীতের বিষয়।" এর আগে পবিত্র ছিল এমন কোনো স্কুলে একটিমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলের প্রবেশ (যদিও এমন স্কুল খুবই বিরল) খুব দ্রুতই প্রায় পুরো স্কুলটিকে কলুষিত করে দেবে। গুটিবসন্ত বা হলুদ জ্বরের সংক্রমণের চেয়ে এই খারাপ সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং এটি কোনো অংশে কম মারাত্মক নয়। <br> এই বিপদ শুধু পাবলিক বা শহরের স্কুলে নয়, সবচেয়ে নামকরা ও প্রাইভেট স্কুলেও রয়েছে। একজন বাবা তার দুই ছেলেকে কয়েক বছর ধরে একজন প্রাইভেট শিক্ষিকার কাছে রেখেছিলেন। এরপর কয়েকজন নির্বাচিত পরিবারের অল্পসংখ্যক ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এক নারীর চালানো একটি ছোট স্কুলে তাদের ভর্তি করেন। যখন একজন চিকিৎসক তাকে জানালেন যে তার ছেলেদের মধ্যে নিজেকে অপব্যবহার করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি অত্যন্ত অবাক হন। তিনি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তারা ইতোমধ্যেই একজন ছোট সহপাঠীর কাছ থেকে শিখে কয়েক বছর ধরে এই জঘন্য অভ্যাসে লিপ্ত। <br> আমরা এমন একটি ঘটনার কথা জানি যেখানে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর কারণে একটি নির্জন ও অভিজাত এলাকার প্রাইভেট স্কুল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেক সতর্ক শিক্ষক দেখেছেন, সাহিত্য, গণিত বা যেকোনো বিজ্ঞানে অসাধারণ প্রতিভার প্রতিশ্রুতি দেওয়া তার প্রিয় শিক্ষার্থীর চোখ থেকে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার আলো হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে গেছে। তাকে বাধ্য হয়ে এই মারাত্মক উপাস গাছের ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখতে হয়েছে, যা প্রায়শই সবচেয়ে সেরা ও সুন্দর মানব ফুলগুলোকে তার শিকার হিসেবে দাবি করে। ** পৃ. ৩২৩-৩২৪ * '''দুষ্ট আয়া:''' যেসব ক্ষেত্রে খুব অল্প বয়সেই এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, সেখানে সাধারণত আয়ারাই এই ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। হয়তো তারা এই অভ্যাসের প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও অসংখ্য ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছোট বাচ্চাদের শান্ত করতে আয়াদের তাদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা বা সুড়সুড়ি দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক অভ্যাস নয়। তারা একে বাচ্চাদের শান্ত করার একটি দ্রুত উপায় হিসেবে দেখে এবং পরিণতির কথা না ভেবে বা না জেনেই এর আশ্রয় নেয়। <br> '''অস্বাভাবিক ঘটনা নয়:''' নিউইয়র্কের বেলভ্যু হসপিটাল কলেজের অধ্যাপক লাস্ক আমাদের সামনে তার মেডিকেল ক্লাসে এমন একটি ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন যা তিনি নিজে দেখেছেন। একটি বড় পরিবারের সব বাচ্চাকে এক দুষ্ট আয়া ঘুমাতে যাওয়ার পর শান্ত রাখার জন্য এই অভ্যাসটি শিখিয়েছিল। যে জঘন্য মানসিকতা একজন মানুষকে এভাবে শৈশবের নিষ্পাপতা কেড়ে নিতে এবং ইহকাল ও পরকালের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে প্ররোচিত করে, তা প্রায় যেকোনো অপরাধ করার মতোই নিচু। সত্যি বলতে, ওই আয়া যদি ঠান্ডা মাথায় ওই নিষ্পাপ শিশুদের গলা কেটে ফেলত, তবে অপরাধটি সম্ভবত এর চেয়ে খারাপ হতো না; হয়তো সেটি শিশুদের জন্যই ভালো হতো। ** পৃ. ৩২৪ * '''পাপের শিক্ষক:''' এমন কেউ কি এই লেখাগুলো পড়ছেন, যিনি কখনো অন্য কাউকে এত জঘন্য এবং এত ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনা এই পাপ শিখিয়েছেন—যে পরিণতি প্ররোচনাকারীর ওপর নয়, বরং হতভাগ্য শিকারের ওপর পড়ে? এমন ব্যক্তি যেন ছালার কাপড় পরে এবং ছাই মেখে সারা জীবন প্রায়শ্চিত্ত করে। এত জঘন্য অপরাধের সামান্যতম প্রায়শ্চিত্ত করার একমাত্র উপায় হলো, এই বিপদের মুখে থাকা লোকদের সতর্ক করার জন্য নিজের সাধ্যমতো সব করা। যখন সব মানুষ তাদের কর্মের ফল পাবে, তখন এমন ব্যক্তির শাস্তি কী হবে, যে সম্পূর্ণ অনুশোচনার মাধ্যমে এবং এতটা জঘন্যভাবে করা ধ্বংসের কাজ মেরামতের চেষ্টা করে জীবন কাটিয়ে নিজের কাজের পরিণতির ভার কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করেনি? <br> বাচ্চাদের ক্লান্ত হওয়ার আগেই খুব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পাঠানো, "তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য" বা শাস্তিস্বরূপ—এটি একটি গুরুতর ভুল। কারণ এতে এই অপকর্মের সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চাদের কোনো ঘরে একা আটকে রাখাও সমানভাবে নিন্দনীয়। কারণ এটি অন্তত এই কাজ করার পক্ষে সহায়ক হতে পারে এবং এটি ধরা পড়ার একটি ভালো সুযোগ করে দিতে পারে। বাচ্চাদের একাকিত্ব খোঁজার অভ্যাস গড়ে উঠতে দেওয়াও একই ধরনের একটি ক্ষতিকর ব্যাপার। ** পৃ. ৩২৬-৩২৭ * '''নিজেকে অপব্যবহারের লক্ষণ:''' এই অপকর্ম তার শিকারের চারপাশে যে জাল বোনে তা অত্যন্ত শক্তিশালী। যখন দীর্ঘদিন ধরে এতে আসক্ত থাকে, তখন এর সুতাগুলো তার সব চিন্তাভাবনা, তার অভ্যাস এবং তার অস্তিত্বের সাথে এত নিখুঁতভাবে জড়িয়ে যায় যে, শুরুতে এটি শনাক্ত করতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী যেকোনো সময়ের চেয়ে তখন এটি কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ। এটি শনাক্ত করা প্রায়শই সহজ কাজ নয়। কারণ ভুক্তভোগী তার পাপ লুকানোর জন্য সব ধরনের চালাকির আশ্রয় নেবে এবং প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে মিথ্যে বলতেও দ্বিধা করবে না। সফলভাবে এটি করার জন্য প্রথমত যারা এই অভ্যাস করে তাদের লক্ষণগুলো এবং দ্বিতীয়ত ওই ব্যক্তিদের অভ্যাসগুলোর সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৩০ * '''সন্দেহজনক লক্ষণ:''' শিশু বা তরুণের মানসিক ও শারীরিক চরিত্র এবং অভ্যাসে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিপদের মারাত্মক সন্দেহ জাগতে পারে। বাবা-মা বা অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেন সম্ভব হলে এটি উপড়ে ফেলা যায়:— <br> ১. ''সাধারণ দুর্বলতা:'' আগে সুস্থ থাকা কোনো শিশুর মধ্যে কৃশতা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, ঠোঁট ও মাড়ির রং হারিয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তির সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দিলে এবং তা যদি অভ্যন্তরীণ কোনো রোগ, কৃমি, শোক, অতিরিক্ত কাজ, খারাপ বাতাস বা খারাপ খাবারের মতো অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে না হয়ে থাকে এবং আবহাওয়া বদলানো বা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও দ্রুত সেরে না ওঠে, তবে সেই ব্যক্তি স্বভাবতই যত সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকুক না কেন, নির্দ্বিধায় একে একাকী পাপের ফল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভুল খুব কমই হবে। ** পৃ. ৩৩২-৩৩৩ * ৩. ''অকাল ও ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ:'' এই লক্ষণটি আগের দুটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যখন অতিরিক্ত পড়াশোনা, অতিরিক্ত কাজ, ব্যায়ামের অভাব এবং অনুরূপ অন্যান্য স্বাভাবিক কারণগুলো এর জন্য দায়ী করা যায় না, তখন একে নিজেকে অপব্যবহার করার ফল বলে ধরে নেওয়া উচিত। যৌনাঙ্গের অকাল ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অভ্যাসটি দ্রুত শুরু হলে, বয়ঃসন্ধি প্রাপ্তিকে ত্বরান্বিত করে। তবে একই সাথে জীবনীশক্তি এতটা কেড়ে নেয় যে, এই সময়ে সাধারণত বৃদ্ধি এবং বিকাশে যে বাড়তি শক্তি দেখা যায়, শরীর তা দেখাতে পারে না। ফলে শরীর ছোট থাকে বা যতটা বিকাশ হওয়ার কথা ছিল ততটা হয় না। শরীরের পাশাপাশি মনও খর্বাকৃতির হয়ে যায়। কখনো কখনো বিকাশের অভাবে শরীরের চেয়ে মন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার কখনো এর উল্টোটাও হয়। পুরুষদের শারীরিক সংগঠনে এই ত্রুটিপূর্ণ বিকাশ দেখা যায় গলার আওয়াজের গভীরতা ও জোর স্বাভাবিকভাবে না বাড়ায়; দাড়ির অপর্যাপ্ত বৃদ্ধিতে; বুকের ছাতি পূর্ণ না হওয়ায় এবং কাঁধ চওড়া না হওয়ায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক নারীত্বের বিশেষ গুণগুলোর বিকাশে ব্যর্থতার মাধ্যমে মন এবং চরিত্রে এর খর্বকারী প্রভাব দেখা যায়। এ ধরনের লক্ষণগুলো সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা উচিত, কারণ কেবল শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কারণেই এগুলো দেখা দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৩-৩৩৪ * ১০. ''অবিশ্বাসযোগ্যতা:'' শিশুর মধ্যে এটি দেখা দিলে তার অভ্যাসের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। যদি সে আগে এমন না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে অমনোযোগী, উদাসীন এবং ভুলোমনা হয়ে যায়, যাতে তার ওপর আর ভরসা করা যায় না, তবে এর জন্য একাকী আসক্তিকে দায়ী করুন। এই অপকর্মের মিথ্যাবাদিতা গড়ে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। আগে সৎ থাকা একটি শিশু এর ক্ষতিকর প্রভাবে দ্রুতই একজন ঘোরতর মিথ্যাবাদীতে পরিণত হবে। ** পৃ. ৩৩৬ * ১১. ''একাকিত্বের প্রতি ভালোবাসা:'' এটি একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক লক্ষণ। প্রায় কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শিশুরা স্বভাবতই মিশুক হয়। একা থাকতে তাদের স্বাভাবিক ভয় কাজ করে। যখন কোনো শিশু পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই নিয়মিত নিভৃতে থাকতে চায়, তখন তার মধ্যে পাপপূর্ণ অভ্যাসের সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে। গোয়ালঘর, চিলেকোঠা, টয়লেট এবং কখনো কখনো জঙ্গলের নির্জন জায়গাগুলো স্বমেহনকারীদের প্রিয় জায়গা। তাদের অলক্ষ্যে সতর্কতার সাথে অনুসরণ করে নজরে রাখা উচিত। ** পৃ. ৩৩৬ * ১৫. ''সহজেই ভয় পাওয়া:'' অল্পবয়সী স্বমেহনকারীদের মধ্যে এটি প্রচুর দেখা যায়, যদিও সহজে ভয় পাওয়া সব মানুষই খারাপ হয় না। তবে এটি নিশ্চিত যে এই অপকর্ম স্বাভাবিক ভয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং এক অস্বাভাবিক ভীতি তৈরি করে। ভুক্তভোগীর মন সব সময় বিপদের অজানা আশঙ্কায় ভরা থাকে। সে প্রায়ই পেছন ফিরে তাকায়, সব আলমারি বা পায়খানার ভেতর উঁকি দেয়, বিছানার নিচে তাকায় এবং ক্রমাগত আসন্ন বিপদের ভয় প্রকাশ করে। এ ধরনের কাজ একটি অসুস্থ কল্পনার ফল, যা যৌঙ্গিসংগত কারণেই সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। ** পৃ. ৩৩৮ * ১৯. শিশুদের মধ্যে ''দুর্বল পিঠ, হাত-পায়ে ব্যথা এবং জয়েন্টের আড়ষ্টতা'' এই অভ্যাসের পরিচিত লক্ষণ। এসব শিশুর প্রায়ই ঝুঁকে থাকার কারণে প্রথম সমস্যাটি দেখা দেয়। উল্লেখিত অভ্যাসটিই এসব অবস্থার একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি এত বেশি ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, একে একটি সন্দেহজনক লক্ষণ হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ** পৃ. ৩৩৯-৩৪০ * ২১. এই পাপে আসক্ত ব্যক্তির ''হাঁটার ধরন'' সাধারণত এমন একজনকে তার কথা বলে দেবে যে এ ধরনের মানুষের হাঁটার প্রায় সব সময়ের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো চিনতে শিখেছে। শিশুর ক্ষেত্রে পা টেনে টেনে হাঁটাকে সন্দেহ করতে হবে। দ্রুত হাঁটার সময় ছেলেদের মধ্যে সেই সাবলীলতা দেখা যায় না যা স্বাভাবিক হাঁটার বৈশিষ্ট্য। বরং তারা এমনভাবে হাঁটে যেন তাদের কোমর শক্ত হয়ে গেছে এবং তাদের পাগুলো যেন কবজা দিয়ে শরীরের সাথে লাগানো কোনো খুঁটি। মেয়েদের হাঁটার ধরনেও মোচড় থাকে যা প্রায় একই রকম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তবে তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা একটু কঠিন, কারণ নারীরা প্রায়শই তাদের হাঁটার ধরনে অনেক বেশি "ভাব" দেখায়। হাঁটার অস্থিতিশীলতা উভয় লিঙ্গের মধ্যেই দেখা যায়, বিশেষ করে পরিণত পর্যায়ে। ** পৃ. ৩৪০ * ২২. বিছানায় শুয়ে থাকার '''খারাপ ভঙ্গিগুলো''' এমন লক্ষণ যা খেয়াল করা উচিত। কোনো শিশু যদি সব সময় পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকে বা প্রায়ই তার হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে সে আগে থেকে আসক্ত না হয়ে থাকলেও অন্তত এই অভ্যাস গড়ে তোলার খুব কাছাকাছি আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ** পৃ. ৩৪০ * ২৩. বয়ঃসন্ধির পর মহিলাদের মধ্যে '''স্তনের বিকাশের অভাব''' নিজেকে অপবিত্র করার একটি সাধারণ ফল। তবুও এটি বলা পুরোপুরি অনিরাপদ হবে যে, ছোট স্তনযুক্ত প্রতিটি নারীই এই পাপে আসক্ত। বিশেষ করে বর্তমানে যখন "প্যাড"-এর ধ্রুব চাপ এবং তাপের কারণে প্রায়ই স্বাভাবিক সুন্দর বিকাশ নষ্ট হয়ে যায়। তবে এই লক্ষণটিকে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ** পৃ. ৩৪০-৩৪৩ * ২৪. '''খামখেয়ালি ক্ষুধা:''' গোপন পাপে আসক্ত শিশুদের এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অভ্যাসের শুরুতে তারা প্রায় সবসময়ই খাবারের প্রতি প্রচণ্ড খাইখাই স্বভাব দেখায় এবং সবচেয়ে পেটুক মানুষের মতো গপগপ করে খায়। অভ্যাসটি পোক্ত হওয়ার সাথে সাথে হজমশক্তি কমে যায়। তখন ক্ষুধা কখনো প্রায় থাকেই না, আবার কখনো মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। <br> ২৫. এ ধরনের শিশুদের একটি খুব সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অস্বাভাবিক, ক্ষতিকারক এবং উত্তেজক জিনিসের প্রতি তাদের প্রবল আসক্তি। প্রায় সবাই লবণ, গোলমরিচ, মসলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, ভিনেগার, সরিষা, ঘোড়া-মুলা এবং অনুরূপ জিনিসগুলোর প্রতি খুব আসক্ত থাকে। খাবার ছাড়াই এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া সন্দেহের যথেষ্ট কারণ হতে পারে। ** পৃ. ৩৪১ * ২৭. সাধারণ খাবারের প্রতি অনীহা হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এই পাপের শিকার কোনো ব্যক্তির মধ্যে নিশ্চিতভাবেই থাকবে। মসলা এবং অন্যান্য স্বাদবর্ধক দিয়ে ঝাল এবং উত্তেজক না করা কোনো খাবার সে ঘেন্না করে বলে মনে হয় এবং তাকে সেটি খাওয়ানো যায় না। <br> ২৮. '''তামাকের ব্যবহার''' হলো একটি জোরালো সম্ভাব্য প্রমাণ যে একটি ছেলে এর চেয়েও বেশি নোংরা অভ্যাসে আসক্ত। এই নিয়মের ব্যতিক্রম খুব কমই আছে। আদৌ আছে কি না তা নিয়েও আমাদের কিছুটা সন্দেহ আছে। যে প্রভাবগুলো একটি ছেলেকে তামাক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো তাকে একাকী পাপের দিকেও নিয়ে যাবে এবং প্রতিটি পাপ অন্যটিকে বাড়িয়ে তুলবে। ** পৃ. ৩৪২ * ৩০. মুখে ''ব্রণ'' বা ''ফুসকুড়ি'' সন্দেহজনক লক্ষণগুলোর মধ্যে পড়ে, বিশেষ করে যখন সেগুলো মুখের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি কপালেও দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধিকালে এবং তার কয়েক বছর পর পর্যন্ত উভয় লিঙ্গের মধ্যেই চিবুকে মাঝে মাঝে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ব্যায়ামের অভাবে রক্ত কিছুটা দূষিত হতে পারে—এটি ছাড়া এর আর কোনো অর্থ নেই। <br> ৩১. ''হাতের নখ কামড়ানো'' এই পাপে আসক্ত মেয়েদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ অভ্যাস। এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নখের গোড়ায় সামান্য ঘা বা আলসার এবং এক বা একাধিক আঙুলে (সাধারণত ডান হাতের প্রথম দুটি আঙুলে) আঁচিল দেখা যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৪২-৩৪৩ * ৩৭. শিশুদের মধ্যে ''মৃগীরোগের আক্রমণ'' প্রায়শই খারাপ অভ্যাসের ফল হতে পারে। <br> ৩৮. ''বিছানা ভেজানো'' এমন একটি উত্তেজনার প্রমাণ যা এই অভ্যাসের সাথে যুক্ত থাকতে পারে; এটি খতিয়ে দেখা উচিত। <br> ৩৯. ''কথাবার্তার অপবিত্রতা'' এবং অশ্লীল গল্পের প্রতি আসক্তি মনের এমন একটি অবস্থা তুলে ধরে, যা এই পাপে আসক্ত নয় এমন তরুণদের মধ্যে থাকে না। <br> আগেই বলা হয়েছে, ওপরের লক্ষণগুলোর কোনো একটিকেই কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই অভ্যাস থাকার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে এর যেকোনো একটিই সন্দেহ এবং সতর্কতার জন্ম দিতে পারে এবং তা করা উচিত। অভ্যাসটি যদি সত্যিই থেকে থাকে, তবে অন্যান্য লক্ষণগুলো চোখে পড়ার আগে অল্প সময়ই পার হবে। আর যখন কয়েকটি লক্ষণ একই দিকে নির্দেশ করে, তখন প্রমাণটিকে প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে নিয়মিত নজর রাখলে নিশ্চিত লক্ষণগুলো আজ বা কাল ধরা পড়বেই। এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকবে না। অবশ্যই এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন সে বুঝতে না পারে যে তাকে নজরে রাখা হচ্ছে। কারণ এতে সে এত ভালোভাবে সতর্ক হয়ে যেতে পারে যে, তাকে হয়তো আর ধরাই যাবে না। ** পৃ. ৩৪৪ * '''নিশ্চিত লক্ষণ:''' একাকী পাপের সম্পূর্ণ নিশ্চিত লক্ষণ খুবই কম। অবশ্যই এর মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিতটি হলো হাতেনাতে ধরা। কখনো কখনো এটি কঠিন হয়, কারণ এই জঘন্য কাজের আসক্তরা তাদের এই নোংরা অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত নিপুণ চালাকি করে। যদি দেখা যায় কোনো শিশু বেশ নিয়মিত কোনো নির্দিষ্ট নির্জন জায়গায় যায়, তবে প্রয়োজনে টানা কয়েক দিন তাকে সযত্নে অনুসরণ করে আড়ালে থেকে নজরে রাখা উচিত। অনেক শিশু ঘুমাতে যাওয়ার পর রাতে এই অভ্যাস করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘুমাতে যাওয়ার পর যদি দ্রুত শান্ত হয়ে যায় এবং দেখলে মনে হয় সে ঘুমাচ্ছে, তবে কোনো অজুহাতে দ্রুত তার গায়ের কাপড় সরিয়ে ফেলতে হবে। ছেলের ক্ষেত্রে যদি লিঙ্গ শক্ত অবস্থায় থাকে এবং হাত যৌনাঙ্গের কাছে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই তাকে স্বমেহনকারী হিসেবে গণ্য করা যায় এবং এতে কোনো ভুল হবে না। যদি তাকে উত্তেজনার মধ্যে পাওয়া যায়, অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি নাড়ির স্পন্দন দেখে যদি রক্ত সঞ্চালন বাড়তি মনে হয়, বা ঘর্মাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তার অপরাধ নিশ্চিত, এমনকি সে ঘুমিয়ে থাকার ভান করলেও। নিঃসন্দেহে সে বেশ কিছুদিন ধরে এই পাপে আসক্ত, যার ফলে সে এতটা ধূর্ত হয়ে উঠেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতিতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেখা যাবে, অন্যান্য যৌনাঙ্গের সাথে ভগাঙ্কুরেও রক্ত জমে আছে, এবং অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে তা ভিজে আছে। অন্যান্য অবস্থাও ছেলেদের মতোই হবে। ** পৃ. ৩৪৫ * বয়ঃসন্ধির আগে, উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই যৌনাঙ্গে এই পাপের প্রভাব হলো সংবেদনশীল অংশগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে তা এই পাপের বেশ নিশ্চিত প্রমাণ। মেয়েদের ক্ষেত্রে যোনিপথ প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় এবং লিউকোরিয়া দেখা দেয়। বয়ঃসন্ধির পর, অঙ্গগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়ে যায় এবং অস্বাভাবিকভাবে ঢিলে ও সংকুচিত হয়ে যায়। <br> যাদের দায়িত্বে শিশুরা আছে, তাদের এই সব লক্ষণ ভালোভাবে আয়ত্ত করা উচিত। যদি এগুলোর জন্য ক্রমাগত নজর রাখা না-ও হয় (যা একটি বিরক্তিকর কাজ হবে), তবুও এগুলো দেখা দেওয়ামাত্র শনাক্ত করার জন্য তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আর কোনো সন্দেহ না থাকা পর্যন্ত সাবধানে অন্যান্য লক্ষণগুলো খুঁজতে হবে। ** পৃ. ৩৪৬ * ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত, যা সাধারণত কামুক স্বপ্নের সাথে ঘটে, তাকে নকটার্নাল পলিউশন বা স্বপ্নদোষ বলা হয়। প্রায়ই একে "স্পার্মাটোরিয়া" বলা হয়, যদিও এই শব্দটির ব্যবহার নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে। এর সবচেয়ে সঠিক ব্যবহার হলো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতের সাথে থাকা পুরো লক্ষণগুলোর সমষ্টির ক্ষেত্রে। <br> স্বমেহনকারী যতদিন তার নোংরা অভ্যাস চালিয়ে যায়, ততদিন সে এই রোগ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু যখন সে শুধরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্বেচ্ছায় নিজেকে অপবিত্র করা বন্ধ করে, তখন সে অবাক ও বিরক্ত হয়ে দেখে যে, তার কোনো চেষ্টা ছাড়াই ঘুমের মধ্যে একই রকম নোংরা স্খলন ঘটে। তখন সে বুঝতে শুরু করে যে সে কতটা ক্ষতি করেছে। একই রাতের স্খলন চলতে থাকে, কখনো কখনো এক রাতেই কয়েকবার ঘটে, যা তার সীমাহীন লজ্জা ও হতাশার কারণ হয়। সে আশা করে সমস্যাটি এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তার আশা বৃথা। চিকিৎসা না করালে এটি হয়তো চলতেই থাকবে যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় যে ধ্বংস শুরু করেছিল তা সম্পন্ন হয়। <br> এই রোগটি যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের ফল। বিবাহিত পুরুষরা যারা দাম্পত্য সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছেন, তারা যখন কোনো কারণে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বাধ্য হন, তখন তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। যারা মানসিক অপবিত্রতায় আসক্ত, শারীরিকভাবে সংযমী হলেও তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটতে পারে। যারা কঠোরভাবে সংযমী থেকেছেন এবং নিজের মনকে কামুক কল্পনায় মগ্ন হতে দেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ** পৃ. ৩৫৩-৩৫৪ * অপবিত্র চিন্তা দুইভাবে ক্ষতিকর কাজ করে। প্রথমত, এগুলো অণ্ডকোষের কাজ বাড়িয়ে দেয়, ফলে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে অতিরিক্ত ভরে যায়। জেগে থাকা অবস্থায় কামুক চিন্তাই কামুক স্বপ্নের প্রধান কারণ। ** পৃ. ৩৫৪ * কিছু পরিস্থিতি স্খলনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়, এবং এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে এরা যে ক্ষতি করবে তা আরও ত্বরান্বিত করে। যেমন রাতে মূত্রাশয় ও পেট খালি না করা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া, উত্তেজক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা এবং যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করে এমন যেকোনো কিছু। সব কারণের মধ্যে প্রেমময় বা কামুক চিন্তা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। চা ও কফি, মসলা ও অন্যান্য উপকরণ এবং প্রাণিজ খাবারের এই দিকে একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। বিছানায় শোয়ার কিছু বিশেষ ভঙ্গিও উদ্দীপক বা পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। যেমন পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো। পালকের বিছানা ও বালিশ এবং বিছানায় খুব গরম কাপড়ও একই কারণে ক্ষতিকর। <br> স্বপ্নদোষের হার একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি দীর্ঘ ও অনিয়মিত বিরতিতে একবার থেকে শুরু করে সপ্তাহে দুই-তিনবার বা অনেকবার হতে পারে। আমরা এমন একটি ঘটনা দেখেছি যেখানে এক রাতেই চারবার হয়েছে। <br> একটি স্বপ্নদোষের তাৎক্ষণিক প্রভাব কতবার ঘটে এবং ব্যক্তির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। যদি খুব কম হয়, এবং অপেক্ষাকৃত সবল ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেমিনাল ভেসিকলগুলো বীর্যে ভরে যাওয়ার পর ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সাময়িক স্বস্তির অনুভূতি হতে পারে। এই কারণেই অনেকে মনে করেন যে স্বপ্নদোষ স্বাভাবিক এবং উপকারী। এই বিষয়টি একটু পরে আলোচনা করা হবে। <br> যদি স্বপ্নদোষ বেশি হয়, অথবা যদি তা স্বভাবতই দুর্বল গঠনের কারও ক্ষেত্রে ঘটে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো অবসাদ, ক্লান্তি, অনীহা এবং প্রায়ই ভারী মানসিক বা শারীরিক কাজ করার অক্ষমতা, হতাশা যা প্রায়শই নিরাশায় এবং এমনকি আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। এর সাথে স্থানীয় জ্বালাপোড়া বাড়ে এবং "সাধারণ প্রভাব" শিরোনামে উল্লেখিত সব অস্বাভাবিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। মাথাব্যথা, বদহজম, পিঠ ও হাঁটুর দুর্বলতা, রক্ত চলাচলে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা কমে যাওয়া—এগুলোর মাত্র কয়েকটি। ** পৃ. ৩৫৫-৩৫৬ * '''মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষ হওয়া কি দরকারি বা ক্ষতিকারক নয়?'''- একজন ব্যক্তি হয়তো দৃশ্যত খুব বেশি ক্ষতি ছাড়াই মাসে একবারের মতো অনৈচ্ছিক বীর্যপাতে কয়েক বছর ধরে ভুগতে পারেন—ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের কাছে এটি একটি মীমাংসিত সত্য বলে মনে হয়, এবং এটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও ভালোভাবে প্রমাণিত। তবুও এমন মানুষও আছেন যারা এর চেয়ে বেশি না হলেও মারাত্মকভাবে ভোগেন। কিন্তু মাসে একবারের বেশি বীর্যপাত হলে তা নিশ্চিতভাবেই বড় ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে, এমনকি তাৎক্ষণিক কোনো খারাপ প্রভাব চোখে না পড়লেও। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হয়তো তা চোখে পড়ে না। এই অবস্থানকে সমর্থন করার জন্য যদি যুক্তির প্রয়োজন হয়—যা হওয়া উচিত নয়—তবে আমরা এই তথ্যটি উল্লেখ করব যে, যারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে সংযমী, এবং সব সময় সংযমী থেকেছেন (যদি এমন বিরল মানুষ পাওয়া যায়), তাদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটে না। যারা নিখুঁত পবিত্রতার আদর্শের সবচেয়ে কাছাকাছি, তাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কম ঘটে। তাই যখনই এটি ঘটে, তাকে কোনো না কোনো ধরনের অতিরিক্ত যৌন মিলনের প্রমাণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে এ ধরনের বীর্যপাত স্বাভাবিক নয়। ** পৃ. ৩৫৬-৩৫৭ * '''বীর্যপাত স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় নয়:''' যদি এই যুক্তি দেওয়া হয় যে, অতিরিক্ত ভরে যাওয়া সেমিনাল ভেসিকলগুলো খালি করার জন্য মাঝে মাঝে বীর্যপাত হওয়া প্রয়োজন, তবে আমাদের উত্তর হলো: অপবিত্রতার অজুহাত হিসেবেও একই যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে মূল্যহীন। একইভাবে যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে বমি করা একটি প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় এবং স্বাস্থ্যকর কাজ, এবং এটি নিয়মিত হওয়া উচিত। কারণ একজন ব্যক্তি তার পেট এত বেশি ভরে ফেলতে পারেন যে, প্রতিকার হিসেবে এই কাজটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। বমি করা একটি রোগগ্রস্ত কাজ, একটি প্যাথলজিক্যাল প্রক্রিয়া, এবং এটি ব্যক্তির স্বেচ্ছায় নিয়ম ভাঙার কারণে ঘটে। তাই এটি পেটুকপনার মতোই অপ্রয়োজনীয় এবং কিছু পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়লেও এটি জীবনীশক্তির অপচয় করে। স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রেও তাই। একজন ব্যক্তি যদি তার মনকে অপবিত্র বিষয়ে মগ্ন হতে দেয়, কামুক স্বপ্ন দেখে এবং মানসিক কামুকতায় মেতে থাকে, তবে সে হয়তো প্রতিকার হিসেবে একটি বীর্যপাতকে প্রায় প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে। তবুও, অত্যাবশ্যক তরল হারানোর কারণে সে ঠিক ততটাই কষ্ট পাবে, যেন সে নিজের কামনার কারণেই এটিকে এতটা প্রয়োজনীয় করে তোলেনি। যেমন পুষ্টিকর খাবার বমি করে বের করে দেওয়ার চেয়ে পেটে রেখে হজম করা তার জন্য অনেক ভালো হতো, তেমনি শরীরের ভেতরে বীর্য ধরে রাখাও তার জন্য ভালো হতো। শরীর এটিকে প্রক্রিয়াজাত করে সম্ভবত কিছু টিস্যু মেরামতে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাত। ** পৃ. ৩৫৭-৩৫৮ * একজন প্রখ্যাত ইংরেজ চিকিৎসক ডা. মিলটন, যিনি এই রোগের কয়েক হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন, তিনি এই বিষয়ে তার একটি বইয়ে বলেছেন:- <br> "মাসে একবারের বেশি হলেই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আমি জানি আমার এই কথা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে আমি এর পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমার হাতে এটিকে সঠিক প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য না আসা পর্যন্ত আমি এটি বলিনি।" <br> "আমার পাঠকদের বেশিরভাগই জানেন, চিকিৎসকদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে যৌবনে কয়েকবার স্বপ্নদোষ হলে ক্ষতি না হয়ে বরং ভালো হয়। অস্বাভাবিক রক্তজমাটের ঘটনা ছাড়া একটি অস্বাভাবিক স্খলন কীভাবে ভালো করতে পারে, তা বোঝা কঠিন। তবে আমি নিজেকে বুঝিয়েছি যে এই নীতিটি ভুল। স্বপ্নদোষের কারণে ছেলেদের কখনোই সত্যিই ভালো লাগে না। প্রায়ই তাদের স্পষ্টভাবে খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে তাদের মনে হতে পারে যে একধরনের স্বস্তি মিলেছে, কিন্তু এটি অনেকটা মাতালের রাম খাওয়ার পর পাওয়া স্বস্তির মতোই। জীবনের শুরুতে বারবার পেট ভরে খেলেও হয়তো ক্ষতি বোঝা যায় না, কিন্তু খুব কম মানুষই যুক্তি দেবেন যে অতিরিক্ত খাওয়া ভালো। আসল কথা হলো, স্বপ্নদোষ সব সময় কমবেশি ক্ষতিকর। যৌবনে সবসময় এটি দৃশ্যমান হয় না। যেকোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বপ্নদোষের কারণে হওয়া ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। তবে এগুলো প্রত্যেকটি তার নিজের মতো করে সেই ক্লান্তি এবং দুর্বলতায় অবদান রাখে, যার অভিযোগ রোগী একদিন করবেই।" ** পৃ. ৩৫৮-৩৫৯ * '''দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ:''' রোগ বাড়ার সাথে সাথে যৌনাঙ্গের জ্বালাপোড়া এবং দুর্বলতা এত বেড়ে যায় যে সামান্য যৌন উত্তেজনাতেই লিঙ্গ শক্ত হয় এবং বীর্যপাত ঘটে। কোনো নারীর নিছক উপস্থিতি বা তার কথা চিন্তা করলেই কামুক অনুভূতির সাথে স্বপ্নদোষ হতে পারে। কিন্তু কিছুদিন পর যৌনাঙ্গ এতটাই রোগাক্রান্ত এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে সামান্য যান্ত্রিক উত্তেজনা, যেমন কাপড়ের ঘষা, বসে থাকা বা ঘোড়ায় চড়লেই নিঃসরণ ঘটে। এর সাথে কোনো ধরনের অনুভূতি থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে। প্রায়ই জ্বলুনি বা কমবেশি ব্যথার অনুভূতি হয়। লিঙ্গ শক্ত হয় না। এমনকি মলত্যাগের সময় জোর দিলেও বা অস্বাভাবিক পাতলা পায়খানা আটকানোর প্রবল চেষ্টাতেও নিঃসরণ ঘটতে পারে। ** পৃ. ৩৫৯ * আবার, বীর্য যে শরীরের সব তরলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সজীব, এবং এটি দ্রুত তৈরি করতে জীবনীশক্তির এক প্রবল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তা সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞরাই ভালোভাবে সমর্থন করেছেন। কিছু বিশিষ্ট চিকিৎসক আরও বিশ্বাস করেন যে, বীর্য শরীর দ্বারা শোষিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট টিস্যু, বিশেষ করে স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের টিস্যু তৈরি ও পূরণে খুব দরকারী। যদিও সব শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞ এই মতের সাথে একমত নন, তবে নিচের তথ্যগুলো এটিকে সমর্থন করে বলে মনে হয়:- <br> ১. স্নায়ু এবং শুক্রাণুর গঠন প্রায় একই। <br> ২. খোজাদের মতো বয়ঃসন্ধির আগে যাদের অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়, তারা কখনোই পুরোপুরি বিকশিত হতে পারে না। <br> যৌনাঙ্গের ব্যবহারে (তা স্বাভাবিক হোক বা অস্বাভাবিক) যে স্নায়বিক ধাক্কা লাগে, তা শরীরের ওপর পড়া সবচেয়ে গভীর ধাক্কা। <br> পুরো স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর দুর্বল শরীরের ওপর এর প্রভাব মাঝে মাঝে এত জোরালো হয় যে কাজের সময়ই মৃত্যু ঘটে। পরবর্তী ক্লান্তি স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনার সমানুপাতিক হয়। ** পৃ. ৩৬৪-৩৬৫ * আগামী প্রজন্মের জন্য, যারা কামুকতার এই যুগে ছড়িয়ে থাকা খারাপ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে এখনও নিষ্পাপ, এই ক্ষতিকর অভ্যাস কীভাবে ঠেকানো যায় তা এই বিষয়ের সাথে যুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই বিষয়টি বিশেষ করে বাবা-মায়ের জন্য আগ্রহের হওয়া উচিত। কারণ যারা নিজেরা কামুক, তারাও এমন জীবনের কুফল যথেষ্ট দেখেছেন এবং চান তাদের সন্তানরা পবিত্র থাকুক। সত্যি বলতে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। আমরা মাঝে মাঝে এমন বাবা-মায়ের কথা জানতে পারি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্তানদের পাপে জড়িয়েছেন, যেন তারা তাদের নিজেদের লজ্জা ও নরকবাসের ভাগীদার করতে চান। ** পৃ. ৩৭৮ * একেবারে ছোটবেলা থেকেই পবিত্রতা শেখায় এমন সব প্রভাব ও মাধ্যমগুলো সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো উচিত। এগুলো নিয়ে আমরা আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই এখানে আর পুনরাবৃত্তি করছি না। বর্তমান অংশের সাথে মিলিয়ে পাঠকদের এই বিষয়ের অংশটি আবার পড়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। বাবা-মা যদি নিজেরাই এই পাপে জড়িয়ে থাকেন, তবে তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তানদের ওপর জন্মগত ও গর্ভকালীন প্রভাবগুলো যেন যতটা সম্ভব পবিত্র হয়। এতে সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাপের প্রবণতা পাবে না। <br> দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচারক ও সঙ্গীদের এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো পরিচারক পবিত্র বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সন্দেহ করা উচিত। এমনকি শিশুদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাদের বিশেষভাবে শেখানো উচিত, কারণ স্রেফ অজ্ঞতার কারণেও তারা অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। ** পৃ. ৩৭৯ * '''সঠিক সময়ে সতর্কতা:''' কিন্তু পবিত্র পরিবেশ এবং অন্যান্য সব অনুকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, যদি শিশুকে তার বিপদ সম্পর্কে না জানানো হয়, তবে সে পরিচারক বা দুর্নীতিগ্রস্ত খেলার সাথীদের ফাঁদে পড়তে পারে, অথবা নিজেই কোনো মারাত্মক আবিষ্কার করতে পারে। তাই অভ্যাস গড়ে ওঠার আগেই শিশুদের এই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার দায়িত্ব আসে। বাবা-মা বিপদের কথা জানলেও এই দায়িত্বটি খুব কমই পালন করেন। তারা কোনোভাবে নিজেদের বোঝান যে অন্যেরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলেও তাদের সন্তানরা অন্তত পবিত্র। "তাদের" সন্তানরা যে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো সন্তান নয়, তারা যে পবিত্রতা ও নিষ্পাপতার নিখুঁত উদাহরণ নয়—এই বাস্তবটি বোঝা বাবা-মায়ের জন্য প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় নিয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলতে বাবা-মায়ের এক অদ্ভুত ও অযৌক্তিক সংকোচ কাজ করে। ফলে তাদের তরুণ, জিজ্ঞাসু মন সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে যায়, যদি না তারা হঠাৎ করে কোনো নোংরা মাধ্যম থেকে এ বিষয়ে জানতে পারে। <br> শিশু বা তরুণদের যৌন অঙ্গ বা এর কাজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে কথা বলার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি এই বইয়ের ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে, যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। <br> ছোটবেলা থেকেই শিশুকে যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে শেখানো উচিত এবং একে একটি খুব খারাপ কাজ হিসেবে দেখতে শেখানো উচিত। যখন শিশুটি বোঝার এবং যুক্তি দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় হয়, তখন তাকে এর ক্ষতিকর পরিণতি সম্পর্কে আরও জানানো যেতে পারে। তারপর, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্বাভাবিক জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর জন্য অঙ্গগুলোর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানো যেতে পারে। <br> এই পথ অনুসরণ করা হলে কতজনকে যে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যেত! অন্য কাউকে, বিশেষ করে শিশুদের কিছু শেখানোর আগে বাবা-মায়ের নিজেদেরই অঙ্গগুলোর আসল কাজ সম্পর্কে জানা অবশ্যই প্রয়োজন। ** পৃ. ৩৭৯-৩৮০ * যখন এই অভ্যাস এবং এর প্রভাব খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে, তখন এটি সারিয়ে তোলা খুব সহজ হয়। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে, কারণ তাদের মধ্যে শুরু হওয়া ক্ষতিগুলো অনৈচ্ছিক স্বপ্নদোষের রূপ নেয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কাজটি বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব ভালো থাকে, তবে শর্ত হলো রোগীর সহযোগিতা পেতে হবে। এটি ছাড়া খুব কমই কিছু করা সম্ভব। তবে সেসব ক্ষেত্রে শুরুতেই রোগীকে বলে দেওয়া ভালো যে, বছরের পর বছর ধরে করা পাপের খারাপ কাজগুলো ঠিক করা কোনো সহজ কাজ নয়। এটি কেবল দৃঢ় চেষ্টা, ভালো কাজের প্রতি অবিচল লেগে থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই করা সম্ভব। যারা দীর্ঘকাল ধরে এই পাপ করেছে বা এর প্রভাবে দীর্ঘকাল ধরে মারাত্মকভাবে ভুগেছে, তারা এমন এক ক্ষতি করেছে যা শত চেষ্টার পরও কমবেশি সারা জীবন থাকবে। তবুও তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ যদি এই রোগকে থামানো না হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের আরও বড় ক্ষতি হবে। আর সেই ক্ষতি প্রতিরোধ করার মাধ্যমেই তারা অমূল্য উপকার পেতে পারে। ** পৃ. ৩৮২ * ''শিশুদের ক্ষেত্রে'', বিশেষ করে যারা সম্প্রতি এই অভ্যাসটি শিখেছে, শিশুটি যদি উপদেশ বোঝার মতো বড় হয়, তবে এর পাপের কথা বলে এবং এর ভয়ংকর পরিণতিগুলোর সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে এটি ভাঙানো যেতে পারে। বিশ্বস্ত সতর্কতার পাশাপাশি শিশুর মনোযোগ পুরোপুরি কাজ, পড়াশোনা বা মনোরম বিনোদনে আটকে রাখতে হবে। তাকে কোনোভাবেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, পাছে সে প্রলোভনের কাছে হার মানে। কাজ একটি চমৎকার প্রতিকার। এমন কাজ যা তাকে সত্যিই খুব ক্লান্ত করে তুলবে, যাতে বিছানায় যাওয়ার পর নিজেকে অপবিত্র করার কোনো ইচ্ছা তার না থাকে। এমন শিশুকে একজন বিশ্বস্ত বয়স্ক মানুষের তত্ত্বাবধানে রাখা সবচেয়ে ভালো। তার বিশেষ দায়িত্ব হবে অভ্যাসটি পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত দিনরাত তাকে নজরে রাখা। <br> ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, যাদের কাছে নৈতিক বিবেচনার কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই, অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। যৌনাঙ্গে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হাত বেঁধে রাখাও সফল হয়। তবে এটি সবসময় কাজ করবে না। কারণ তারা প্রায়ই পা নেড়ে বা পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে অন্যভাবে অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার পথ বের করে নেবে। অঙ্গগুলো একটি খাঁচা দিয়ে ঢেকে রাখার পদ্ধতি পুরোপুরি সফল হয়েছে। ছোট ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রায় সবসময়ই সফল হয় এমন একটি প্রতিকার হলো খতনা। বিশেষ করে যখন সামান্য ফাইমোসিস থাকে। '''অস্ত্রোপচারটি একজন সার্জনকে অবশ না করেই করা উচিত। কারণ এই অস্ত্রোপচারের সময় হওয়া অল্প সময়ের ব্যথাটি মনের ওপর একটি স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলবে,''' বিশেষ করে যদি এটিকে শাস্তির ধারণা হিসেবে যুক্ত করা হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে ভালোভাবে করা যেতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকা ব্যথাটি এই অভ্যাসটিকে বাধাগ্রস্ত করে। আর যদি এটি আগে খুব বেশি পোক্ত না হয়ে থাকে, তবে তা ভুলে যেতে পারে এবং আবার শুরু না-ও করতে পারে। যদি শিশুটিকে নজরদারিতে রাখার কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে এত সতর্কতার সাথে নজরে রাখতে হবে যেন সে ধরা না পড়ে কিছুতেই নিয়ম ভাঙতে না পারে। যদি তাকে আংশিকভাবে নজরে রাখা হয়, তবে সে দ্রুতই চোখ এড়িয়ে যেতে শেখে, এবং এর ফলে সে তার পাপে আরও ধূর্ত হয়ে ওঠে। ** পৃ. ৩৮৩-৩৮৪ * শারীরবিদ্যা শিক্ষা দেয় যে, আমরা যা খাই তা থেকেই আমাদের চিন্তার জন্ম হয়। যে ব্যক্তি শুকরের মাংস, মিহি আটার রুটি, চর্বিযুক্ত পাই ও কেক এবং মসলা খায়, চা ও কফি পান করে এবং তামাক ব্যবহার করে, তার চিন্তায় পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা আর ওড়ার চেষ্টা করা প্রায় একই। সে শারীরিকভাবে পবিত্র থাকলে তা একটি বিশাল অর্জন হবে। তবে ঐশ্বরিক কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া মানসিকভাবে পবিত্র থাকা তার পক্ষে অসম্ভব। <br> যার চিন্তাধারা পাপের নোংরা পথে এত বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে চলে যায়, এবং স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে ধাবিত হয়—এমন ব্যক্তিকে সবচেয়ে সাধারণ, পবিত্র এবং অনুত্তেজক খাবার নিশ্চিত করতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। <br> খাবার বিষয়ে নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা প্রয়োজন:— <br> ১. "কখনো অতিরিক্ত খাবেন না।" এক বেলায় খুব বেশি খেলে পরের বেলায় উপোস করুন। শরীরকে নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিন এবং ভবিষ্যতে এমন নিয়ম ভাঙার বিরুদ্ধে বাধা তৈরি করুন। পেটুকপনা পবিত্রতার জন্য মারাত্মক। যার যৌনাঙ্গ অপব্যবহারের কারণে দুর্বল হয়ে গেছে, অতিরিক্ত খেলে তার স্বপ্নদোষসহ অন্যান্য ক্ষতি নিশ্চিতভাবে হবে। <br> ২. "দিনে মাত্র দুবার খাবেন।" আর যদি রাতের খাবার খেতেই হয়, তবে তা খুব হালকা এবং সবচেয়ে সাধারণ খাবার, যেমন ফল, বা ফল এবং রুটি হওয়া উচিত। ঘুমাতে যাওয়ার চার বা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কিছুই খাওয়া উচিত নয়। আর তিনটার পর কিছু না খাওয়াই অনেক ভালো। প্রাচীনকালের মানুষ দিনে মাত্র দুবার খেতেন। তাহলে আধুনিক যুগের মানুষ তিন বা চারবার কেন খাবেন? পেটে হজম না হওয়া খাবার থাকলে ঘুম ব্যাহত হবে, স্বপ্ন বেশি দেখা যাবে এবং বারবার স্বপ্নদোষ হবে। জীবনের একটি সবচেয়ে বাধ্যতামূলক নিয়ম হওয়া উচিত, "কখনো ভরা পেটে ঘুমাতে যাবেন না।" এই নিয়ম ভাঙাই ভয়ংকর স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের প্রধান কারণ। <br> ৩. "সব উত্তেজক খাবার বর্জন করুন।" এর মধ্যে মশলা, গোলমরিচ, আদা, সরিষা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এসেন্স, সব ধরনের স্বাদবর্ধক, লবণ, আচার ইত্যাদির পাশাপাশি সব ধরনের প্রাণিজ খাবারও থাকবে। মাছ, মুরগি, ঝিনুক, ডিম এবং দুধও বাদ দেওয়া যাবে না। যারা সারাজীবন এসব খেয়ে অভ্যস্ত, তারা যে একবারে এগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন তা আশা করা কঠিন। হয়তো অনেকেই এগুলো কখনোই পুরোপুরি ছাড়তে পারবেন না। তবুও তাদের জন্য এগুলো ছেড়ে দেওয়াই ভালো হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে কেবল চর্বিহীন গরুর বা খাসির মাংস, খুব অল্প পরিমাণে লবণ এবং পরিমিত পরিমাণে দুধ খাওয়া যেতে পারে। এগুলো যতটা সম্ভব কম খাবেন—"যত কম, তত ভালো।" <br> ৪. "উত্তেজক পানীয়" আরও কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। ওয়াইন, বিয়ার, চা এবং কফি কোনো পরিস্থিতিতেই খাওয়া উচিত নয়। যৌনাঙ্গকে উত্তেজিত করায় কফির প্রভাব কুখ্যাত। চকোলেটও বাদ দেওয়া উচিত। যারা এটি ক্ষতিকর নয় বলে মনে করেন, তারাও এর সুপারিশ করেন। তারা জানেন না যে এতে চা ও কফির মতোই কার্যত একটি বিষ রয়েছে। <br> সব ধরনের গরম পানীয় এড়ানো উচিত। <br> তামাক পানীয় না হলেও আরেকটি উত্তেজক। এটি অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত। <br> ৫. যেসব খাবার নিষেধ করা হয়েছে, সেগুলোর বদলে ফল, শস্য এবং শাকসবজি খান। এ ধরনের খাবারের অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যকর এবং অনুত্তেজক। যারা অতিরিক্ত যৌন মিলনের কারণে ভুগছেন, তাদের খাবারে গ্রাহাম ফ্লাওয়ার, ওটমিল এবং পাকা ফল অবশ্যই থাকা উচিত। ** পৃ. ৩৯১-৩৯৩ * ১. সব মানুষের সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম দরকার। নিয়ম হওয়া উচিত, তাড়াতাড়ি ঘুমান এবং ক্লান্তি দূর হওয়া পর্যন্ত ঘুমান। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ভোরে ওঠা উপকারী নয়। <br> ২. সকালে ঘুম ভাঙামাত্রই উঠে পড়ুন, যদি তা চারটার পর হয়। দ্বিতীয়বার ঘুমানো সাধারণত ক্লান্তি দূর করে না, বরং বিপজ্জনক। কারণ স্বপ্নদোষ বেশিরভাগ সময় এই সময়েই হয়। <br> ৩. রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রাতের খাবারের ঠিক আগে কয়েক মিনিট ঘুমান। এই সময়ে আধা ঘণ্টার বিশ্রাম অসাধারণভাবে সতেজ করে। এমনকি পনেরো মিনিট ঘুমালেও খুব সতেজ লাগে। দুপুরের খাবারের পর ঘুমাবেন না। কারণ এতে স্বপ্নদোষ হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। আর সাধারণত দুপুরের খাবারের পরের ঘুম ক্লান্তি দূর করে না এবং বদহজম তৈরি করে। <br> ৪. পেট বা মূত্রাশয় ভরা রেখে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। ঘুমানোর ঠিক আগে মূত্রাশয় খালি করা উচিত। রাতে প্রস্রাব করার জন্য এক বা দুবার ওঠার অভ্যাস করাও ভালো। <br> ৫. ঘুমানোর ভঙ্গিও কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ। পিঠের বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে স্বপ্নদোষের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এক কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। রাতের খাবার খেয়ে থাকলে ডান কাত হয়ে ঘুমানো ভালো। কারণ এই ভঙ্গি খাবারকে পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে সাহায্য করে, যা হজমের জন্য দরকারি। <br> ঘুমন্ত অবস্থায় রোগী যেন পিঠের ওপর ভর দিয়ে না ঘুমায়, তা ঠেকাতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয় এবং কখনো কখনো তা কাজেও দেয়। অ্যাক্টনের পরামর্শ দেওয়া সবচেয়ে সহজ কৌশলটি হলো একটি তোয়ালের মাঝখানে একটি গিট বাঁধা। এরপর তোয়ালেটি শরীরের সাথে এমনভাবে বাঁধা হয় যেন গিটটি পিঠের মাঝামাঝি থাকে। ঘুমন্ত ব্যক্তি পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুরলে গিটের চাপের কারণে যে অস্বস্তিকর অনুভূতি হবে, তা প্রায়ই এটি ঠেকাতে পুরোপুরি কাজ করবে। কেউ কেউ একই কাজের জন্য পিঠে এক টুকরো কাঠ বেঁধে রাখেন। আবার কেউ কেউ বিছানার খুঁটির সাথে এক হাত বেঁধে রাখার অভ্যাস করেন। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা উচিত নয়, তবে চিকিৎসার অন্যান্য উপায়ের সাথে এগুলোও চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। <br> ৬. নরম বিছানা এবং বালিশ সাবধানে এড়িয়ে চলতে হবে। শক্ত বিছানা পাওয়া গেলে পালকের বিছানা ব্যবহার করা উচিত নয়। নিচে একটি ভাঁজ করা কম্বল বিছিয়ে মেঝেতে ঘুমানো আরও ভালো। নরম বালিশ মাথা গরম করে, যেমন নরম বিছানা শরীরের অন্যান্য অংশ গরম করে। চুল দিয়ে তৈরি তোশক, অথবা ভুট্টার খোসা, ওট খড় বা এক্সেলসিয়র দিয়ে তৈরি বিছানা—যার ওপর দুই বা তিনটি কম্বল বা একটি নকশি করা সুতির তোশক থাকে—খুব স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক বিছানা হয়। <br> ৭. অতিরিক্ত ভারী আবরণও সমান যত্নে এড়ানো উচিত। গ্রীষ্মকালে যতটা সম্ভব পাতলা আবরণ এবং শীতকালে আরামের সাথে মানানসই সবচেয়ে হালকা আবরণ ব্যবহার করা উচিত। খুব গরম অবস্থায় ঘুমানো প্রায়ই রাতের স্বপ্নদোষ উসকে দেয়। <br> ৮. ঘুমানোর ঘরে থাকার সময় এবং দিনের বেলা ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে ভুলবেন না। এটি এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে সকালের রোদ্দুর আসে। ঘরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা ভালো। এগুলো বাতাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে এবং ঘরের মন ভালো করা পরিবেশও বাড়াবে। ** পৃ. ৩৯৩-৩৯৫ * '''স্বপ্ন:''' যারা রাতের স্বপ্নদোষে ভোগেন, তাদের জন্য এটি অনেক আগ্রহের একটি বিষয়। কারণ এ ঘটনাগুলো প্রায় সবসময়ই কামুক স্বপ্নের সাথে যুক্ত থাকে। <br> সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘুমে কোনো স্বপ্ন থাকে না; চেতনা পুরোপুরি স্থগিত থাকে। স্বপ্ন দেখার সাধারণ পর্যায়ে এক অদ্ভুত ধরনের চেতনা কাজ করে। তখন ইচ্ছাশক্তি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকলেও মনের অনেক ক্ষমতা কমবেশি সক্রিয় থাকে। কার্পেন্টার সাধারণ স্বপ্ন এবং জেগে থাকার মাঝখানের আরেকটি চেতনার স্তরের কথা বর্ণনা করেছেন। এটি এমন একটি অবস্থা "যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টার চেতনা থাকে যে সে স্বপ্ন দেখছে। তার মনের সামনে আসা ছবিগুলোর অবাস্তবতা সম্পর্কে সে সচেতন থাকে। সে চাইলে আনন্দদায়ক হলে স্বপ্নটিকে দীর্ঘ করার জন্য সচেতন এবং সফল চেষ্টাও করতে পারে, আর বিরক্তিকর হলে তা দূর করতে পারে। এভাবেই সে একধরনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেখায়, যা সত্যিকারের স্বপ্নের ক্ষেত্রে একেবারেই থাকে না।" ** পৃ. ৩৯৬-৩৯৭ * '''স্বপ্ন কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?'''- তথ্য প্রমাণ করে যে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। স্বপ্নদোষের একটি বড় অংশ ডা. কার্পেন্টারের বর্ণনা করা ওই অবস্থাতেই ঘটে, যেখানে ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সকালের ঘুমের সময় মনের সাধারণ অবস্থা এটাই থাকে। কেউ যদি দৃঢ়ভাবে ঠিক করে যে সে ঘুমে হোক বা জেগে হোক, যখনই অপবিত্র চিন্তা আসবে, তখনই সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়বে, তবে সে দেখবে যে কেবল এই আধা-চেতন অবস্থাতেই নয়, বরং আরও গভীর ঘুমের মধ্যেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ** পৃ. ৩৯৭ * জেগে থাকার সময় চিন্তাগুলো কেমন থাকে, তার ওপর ঘুমের সময়ও চিন্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি নির্ভর করে। পুরোপুরি সচেতন থাকার সময় মনকে নিয়ন্ত্রণ করলে, অচেতন বা আধা-চেতন থাকার সময়ও মন নিয়ন্ত্রিত হবে। <br> এ বিষয়ে ডা. অ্যাক্টন খুব যথার্থ কিছু কথা বলেছেন:- <br> "রোগীরা আপনাকে বলবে যে তারা তাদের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে 'পারে না'। এটি সত্য নয়। যারা জেগে থাকার সময়ের চিন্তা এবং ঘুমের সময়ের স্বপ্নের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারা জানেন যে এগুলো ঢিলেঢালাভাবে যুক্ত। ঘুমে বা জাগরণে 'চরিত্র' একই থাকে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, একজন মানুষ যদি দিনের বেলা তার চিন্তাভাবনাকে কামুক বিষয়ে মগ্ন থাকতে দেয়, তবে রাতে সে তার মনকে কামুক স্বপ্নে ভরা দেখতে পাবে। একটি অন্যটির ফল। আর রাতের স্বপ্নদোষ হলো এর স্বাভাবিক পরিণতি, বিশেষ করে যখন দিনের বেলার আসক্তি যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। জেগে থাকার সময় যে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে আমরা যৌন আকাঙ্ক্ষা দমন করিনি, ঘুমিয়ে পড়ার পর সেই ইচ্ছাশক্তি আমাদের দিনের বেলার সাহসের চেয়েও বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া জাগরণের চিন্তার ঘুমন্ত প্রতিধ্বনি থেকে রক্ষা করবে না।" ** পৃ. ৩৯৮-৩৯৯ * প্রায় সব পরিস্থিতিতেই স্বাস্থ্যের জন্য রোজ গোসল করা অপরিহার্য। এই শ্রেণির রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে দরকারি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ভালোভাবে গোসল করা উচিত। সাধারণ "ঠান্ডা জলে গোসল" কারও জন্যই ভালো নয়, বিশেষ করে সকালে। যদিও অসাধারণ সহনশীলতার অধিকারী কেউ কেউ এটি খুব ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। তবে সেমিনাল দুর্বলতায় ভোগা রোগীদের প্রায়ই "ঠান্ডা জলে গোসল" করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুবই ক্ষতিকর। কারণ তাদের রোগ তাদের জীবনীশক্তি এতটাই কমিয়ে দিয়েছে যে তারা এত কঠিন চিকিৎসা সহ্য করতে পারে না। <br> রোদে গোসল, ইলেকট্রিক গোসল, স্প্রে, ডুব দিয়ে গোসল এবং গোসলের অন্যান্য ধরনগুলো তাদের জন্য খুব উপকারী, যারা নিয়ম ভাঙার প্রভাবে ভুগছেন। ** পৃ. ৩৯৯ * স্পার্মাটোরিয়ার বিশেষ চিকিৎসা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে নিউইয়র্কের একজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক আমাদের বলেছিলেন, "যখন কোনো তরুণ স্বপ্নদোষে ভুগে আমার কাছে আসে, তখন আমি তাকে টনিক দিই এবং ''কোনো নারীর কাছে পাঠাই''।" হাতুড়েদের কথা বাদই দিলাম, এমনকি পেশাদার চিকিৎসকদের মধ্যেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি অস্বাভাবিক নয়—এ বিষয়টি যতটা সত্য, ততটাই দুঃখজনক। এমন শত শত তরুণ আছে যাদের নৈতিকতা এ ধরনের উপদেশের কারণে ধ্বংস হয়েছে। অন্তত অবৈধ সম্পর্কের দিক থেকে তারা পবিত্র অভ্যাসে বড় হয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা খুব প্রবল হলেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু একজন চিকিৎসক যখন প্রতিকার হিসেবে ব্যভিচার করার পরামর্শ দেন, তখন তারা অনেক সময় খুব সহজেই নিজেদের পবিত্রতা বিসর্জন দেয় এবং এমন এক পাপের জীবন শুরু করে যা থেকে তাদের বাঁচানো যেত। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, অনেক তরুণ ইচ্ছা করেই এমন চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়, যাদের এই ধরনের প্রতিকার দেওয়ার অভ্যাস আছে বলে তারা জানে। <br> কত সাধারণভাবে এই পথটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তা খুব কম মানুষই জানে। আর তা হাতুড়েদের মাধ্যমে নয়, বরং নিয়মিত পেশার সদস্যদের মাধ্যমে। একজন চিকিৎসা-বন্ধু আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি এমন একটি ঘটনার কথা জানেন যেখানে একজন গ্রামের চিকিৎসক এক সংযমী তরুণকে বড় শহরে গিয়ে পতিতাদের সাথে এক বছর বা তার বেশি সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা সে মেনেও নিয়েছিল। তার পরবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। তবে এটি খুবই সম্ভব যে, এই প্রতিকার নেওয়া অন্য বেশিরভাগ তরুণের মতো সেও দ্রুতই এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যা তার আগের অবস্থার কোনো উন্নতি না করেই তার অবস্থাকে আগের চেয়ে দশ গুণ খারাপ করে দিয়েছিল। এই পথ নিলে বড়জোর এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন হয়। তবে এর চেয়েও বড় কথা হলো, একটি রোগের অনৈচ্ছিক ফলকে সবচেয়ে জঘন্য চরিত্রের একটি স্বেচ্ছাকৃত পাপে পরিণত করা হয়। এটি এমন একটি অপরাধ যেখানে দুজন অংশ নেয় এবং এটি কেবল প্রকৃতির বিরুদ্ধেই নয়, নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি চরম অবমাননা। ** পৃ. ৪০০-৪০১ * '''বিয়ে:''' আরেক শ্রেণির চিকিৎসক নৈতিকতার প্রতি আরও বেশি সম্মান দেখিয়ে আত্ম-অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের সব সমস্যার নিশ্চিত নিরাময় হিসেবে বিয়ের পরামর্শ দেন। তবে তারা প্রকৃত অক্ষমতার বিষয়টিকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখতে পারেন। এই পরামর্শের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আপত্তি তোলা যেতে পারে; আমরা নিচের আপত্তিগুলো জানাচ্ছি:- <br> ১. এটি কোনো প্রতিকার নয়। কারণ অবৈধ সম্পর্কের মতো "বৈধ পতিতাবৃত্তিও" কেবল এক ধরনের স্খলনের বদলে আরেক ধরনের স্খলন, যার খারাপ প্রভাবগুলোতে খুব একটা পার্থক্য নেই। <br> ২. এটি যদি প্রতিকার হতোও, তবুও তা সমর্থনযোগ্য হতো না। কারণ এর ব্যবহারের ফলে দাম্পত্য সম্পর্কের অপব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠত, যেমনটি অন্য জায়গায় দেখানো হয়েছে। <br> ৩. আরেকটি কারণ হিসেবে (যদি এটি "ভালো" কারণ হয়) জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, একজন মানুষের একজন স্ত্রীকে ওষুধের শিশি হিসেবে ব্যবহার করার কী অধিকার আছে? মিস্টার অ্যাক্টন খুব সুন্দরভাবে জিজ্ঞেস করেছেন, "একজন যুবতী, যাকে একটি আত্মকেন্দ্রিক হিসেবের বলির পাঁঠা বানানো হয়, সে কী এমন করেছে যে তার জন্য অপেক্ষা করা এমন জীবনের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে? কে তাকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে দেখার অধিকার দিয়েছে? আর কে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তার বিশ্রাম এবং তার বাকি জীবনের সুখ এতটা হালকাভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অধিকার পেয়েছে?" ** পৃ. ৪০২ * '''ওষুধ, আংটি ইত্যাদি:''' কোনো শ্রেণির রোগীদের ওপর ওষুধ যদি নিজে থেকে কাজ করতে পারে, তবে এই শ্রেণির রোগীদের জন্য তা নিশ্চিতভাবেই অর্থহীন। পুরো মেটেরিয়া মেডিকাতে এমন কোনো শিকড়, লতাপাতা, নির্যাস বা মিশ্রণ নেই যা একাই স্বপ্নদোষে ভোগা কাউকে সুস্থ করতে পারে। বছরের পর বছর ওষুধ খেয়ে হাজার হাজার হতভাগ্য মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে। একজন চিকিৎসক হয়তো রোগীকে পার্জ করবেন এবং স্যালাইভেট করবেন। আরেকজন তাকে ফসফরাস, কুইনাইন বা এরগট গেলাবেন। আরেকজন তাকে আয়রন খাওয়াবেন। আরেকজন তাকে লিপুলিন, কর্পূর এবং ডিজিটালিন দেবেন। আবার আরেকজন তাকে আফিম, বেলেডোনা এবং ক্লোরাল দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখবেন। আরেকজন পারগেটিভস এবং ডাইউরেটিকস দেবেন। আর কেউ কেউ এমনও থাকবেন যারা সুযোগ পেলে পুরো ফার্মাকোপিয়া বেচারার পেটে ঢেলে দেবেন, যদি তারা তাকে দিয়ে মুখটা যথেষ্ট বড় করে খোলাতে পারেন। <br> এইসব বেচারাদের যেভাবে ফোসকা তোলা হয়, পোড়ানো হয়, ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং অন্যান্য নানা উপায়ে নির্যাতন করা হয়, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। তবুও তারা প্রায়ই হাসিমুখে এগুলো সহ্য করে। তারা মনে করে এটা তাদের পাপের জন্য উপযুক্ত শাস্তি এবং হয়তো ভাবে এই নির্মম শাস্তির মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হবে। এসব পদ্ধতির ফলে কখনো কখনো সাময়িকভাবে স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়। কিন্তু রোগী এতে সুস্থ হয় না এবং দ্রুতই রোগ ফিরে আসে। <br> স্বপ্নদোষ ঠেকানোর জন্য আংটি, পেসারি এবং অসংখ্য যান্ত্রিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ বৃথা। এগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা যায় না। এসব যন্ত্রের কয়েকটি বেশ উদ্ভাবনী হলেও এগুলো সবই মূল্যহীন। এগুলোর পেছনে সময় এবং অর্থ ব্যয় করা নিছক বোকামি। ** পৃ. ৪১১-৪১২ * নিজেকে অপবিত্র করার পাপটি একজন মানুষের পক্ষে করা সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে নিচু এবং সবচেয়ে অবক্ষয়ী পাপগুলোর একটি। এটি পশুর চেয়েও খারাপ। যারা এটি করে, তারা নিজেদেরকে শ্বাস নেওয়া সবচেয়ে নিচু প্রাণীর চেয়েও অনেক নিচে নামিয়ে দেয়। ** পৃ. ৪২৮ === ১৯০৩ === ==== ''দ্য লিভিং টেম্পল'' ==== : <small>ব্যাটল ক্রিক, এমআই: গুড হেলথ পাবলিশিং কোম্পানি, (১৯০৩)। [https://babel.hathitrust.org/cgi/pt?id=hvd.hw1vwg;view=1up;seq=15 সম্পূর্ণ পাঠ অনলাইনে] উপলব্ধ।</small> * মহান শিক্ষক বলেছিলেন, "তোমার ছেলে যদি রুটি চায়, তুমি কি তাকে পাথর দেবে?" শরীর রুটি চায়, প্রাণদায়ী খাবার চায়। কিন্তু তার বদলে কতবার আমরা তাকে আচার, সবুজ জলপাই, ভাজা খাবার এবং নানা ধরনের জঘন্য মিশ্রণের মতো সহজে হজম না হওয়া অস্বাস্থ্যকর আবর্জনা দিই, যা শরীরে জীবনের বদলে মৃত্যু নিয়ে আসে। কতবার এমন হয় যে, শরীর যখন বিশুদ্ধ, প্রাণদায়ী পানি চায়, তখন আমরা তাকে বিয়ার, হুইস্কি, ওয়াইন, চা বা কফির মতো রোগ সৃষ্টিকারী পানীয় দিই। ** পৃ. ৫৮ * মানুষ গৃহপালিত পশুর মতোই তার গবাদিপশু, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি পালন করে। তার সন্তানেরা মেষশাবকদের খেলার সাথী বানায়। মাঠে তার ষাঁড়গুলো তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। দয়ার প্রতিদান হিসেবে তারা ভালোবাসা দেয়। তারা মানুষের ওপর কতটা ভরসা করে! কত বিশ্বস্ততার সাথে সেবা করে! শীতের কুয়াশার সাথে সাথে আসে একটি অশুভ দিন—গণহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, রক্তপাত এবং কসাইগিরির দিন। দা আর কুঠার নিয়ে সে তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—যে ভেড়া তার হাতে চুমু খেয়েছিল, যে ষাঁড় তার মাঠে লাঙ্গল টেনেছিল। চারপাশ আতঙ্কের চিৎকার, আর্তনাদ এবং হতাশার কান্নায় ভরে ওঠে। মাটি গরম রক্তে ভিজে যায় এবং লাশে ভরে ওঠে। ** পৃ. ১৮৬ * "মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ"-এর চেয়েও আরও ব্যাপক এবং সর্বজনীন একটি ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। আসুন আমরা "জীবের ভ্রাতৃত্ববোধ" নিয়ে চিন্তা করি এবং কথা বলি। আসুন আমরা ষাঁড়ের মধ্যে এমন এক ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী স্বজন দেখি, যে আমাদের সম্মানের যোগ্য। আসুন আমরা ভেড়াকে এমন এক নম্র ও বাধ্য সহযোদ্ধা হিসেবে দেখি এবং স্বীকার করি, যে আমাদের কাছে সুরক্ষা এবং প্রশংসা চায়। ** পৃ. ১৮৯-১৯০ * আসুন আমরা ভুলে না যাই যে, সূর্যের আলো হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদের হাসি। সূর্যের আলো হলো স্বর্গের আলো, জীবন এবং গৌরব, সত্যিকারের শেকিনাহ, সেই বাস্তব উপস্থিতি যা দিয়ে মন্দির সবচেয়ে বেশি পূর্ণ হওয়া দরকার। আর শীতল বাতাস হলো স্বর্গের নিঃশ্বাস, এক সত্যিকারের জীবনদায়ী [[বার্তাবাহক]], যা তার ডানায় ভর করে সুস্থতা নিয়ে আসে। ** পৃ. ৪১২ * যে ব্যক্তি একটি পরিষ্কার মাথা চান, এমন একটি মস্তিষ্ক চান যা চারপাশের মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম প্রভাবগুলোর প্রতি তীব্রভাবে সজাগ থাকবে, তার নিয়ন্ত্রিত শারীরিক অঙ্গগুলোর প্রতিটি ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে, মহাজাগতিক চিন্তার অসীম উৎস থেকে ধারণা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং ঈশ্বরকে অনুসরণ করে মহৎ চিন্তা করতে পারবে, তাকে অবশ্যই সহজ, সংযমী এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে এবং সব ধরনের ক্ষতিকর ও নিম্নমানের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি সবচেয়ে ভালো খাবার বেছে নেবেন। এগুলোর মধ্যে থাকবে ফল, বাদাম, শিমজাতীয় খাবার এবং ডেক্সট্রিনাইজড শস্য—অর্থাৎ, ভালোভাবে সেঁকা শস্যের তৈরি খাবার, টোস্ট করা রুটি, টোস্ট করা গমের ফ্লেক্স ইত্যাদি। তিনি পরিমিত খাবেন, কখনোই পেট ভরে খাবেন না। তিনি প্রতিদিন অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা বাইরে ব্যায়াম করবেন, যতটা সম্ভব খোলা বাতাসে থাকবেন। তিনি রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি জোরদার ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন এবং রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনবার একটি গরম পরিষ্কারক গোসল করবেন। তিনি নিজের মন ও শরীরের প্রতিটি শক্তি দরকারী কাজের জন্য জমিয়ে রাখবেন। তিনি সবচেয়ে ব্যাপক অর্থে একজন ধার্মিকের মতো বাঁচার চেষ্টা করবেন। ** পৃ. ৪২২-৪২৩ * মানুষ যতদিন তার শরীরকে একটি আনন্দের বীণা হিসেবে দেখবে এবং এর তারগুলো যতদিন বাজানো যাবে ততদিন এতে বাজাতে থাকবে, ততদিন কোয়ারেন্টাইন আইন এবং খুঁটিনাটি স্বাস্থ্যবিধি থাকা সত্ত্বেও সে শারীরিক অবক্ষয় এবং অধঃপতনের পথেই হাঁটতে থাকবে। কিন্তু যখন সে তার ঐশ্বরিক উৎস ও দায়িত্বগুলো বুঝবে এবং নিজেকে সৃষ্টির মুকুট হিসেবে চিনতে পারবে, যখন সে বুঝবে তার শরীর এক মূল্যবান জিনিস, যাকে পবিত্রভাবে রক্ষা করতে হবে, উন্নত করতে হবে, প্রসারিত করতে হবে এবং এই পৃথিবীতে মানবতার সেবার জন্য পবিত্র করতে হবে এবং পরকালে উন্নতি ও আনন্দের অনন্ত সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে, কেবল তখনই সে তার পতিত অবস্থা থেকে সেই চূড়ার দিকে উঠতে শুরু করবে, যেখানে সে আবার সৃষ্টির মুকুট, ঈশ্বরের সেরা সৃষ্টি, "পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রাণীদের আদর্শ" হিসেবে দাঁড়াতে পারবে। ** পৃ. ৪৩১-৪৩২ === ১৯০৯ === * এটি লক্ষ্য করা বেশ আগ্রহের বিষয় যে, সারা বিশ্বের বিজ্ঞানমনস্ক মানুষরা এই সত্যটি বুঝতে শুরু করেছেন যে, প্রাণীর মাংস একটি বিশুদ্ধ পুষ্টিকর খাবার নয়, বরং এটি বিষাক্ত পদার্থে মিশ্রিত, যা মূলত প্রাণীর জীবনের স্বাভাবিক বর্জ্যের মতো। ** [[চার্লস ওয়েবস্টার লিডবিটার|সি. ডব্লিউ. লিডবিটার]] রচিত ''[https://books.google.it/books?id=WufWAAAAMAAJ সাম গ্লিম্পসেস অব অকাল্টিজম: অ্যানসিয়েন্ট অ্যান্ড মডার্ন]'' (রাজপুত প্রেস, ১৯০৯, পৃ. ২৬৫) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯১৩ === * উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ—কয়লা এবং কাঠ—থেকেই সেই শক্তি আসে যা আমাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালায়, ট্রেন টানে, স্টিমশিপ চালায় এবং সভ্যতার কাজ করে। উদ্ভিজ্জ জগৎ থেকেই সব প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই শক্তি পায়, যা পেশি ও মানসিক কাজের মাধ্যমে প্রাণীর জীবনে প্রকাশিত হয়। উদ্ভিদ গড়ে তোলে, প্রাণী ধ্বংস করে। উদ্ভিদ শক্তি সঞ্চয় করে; প্রাণী শক্তি ক্ষয় করে। লোকোমোটিভ বা প্রাণী—যেকোনোটির মাধ্যমেই শক্তির প্রকাশ ঘটুক না কেন, এর ফলে নানা ধরনের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। প্রাণীর কাজ করা টিস্যুগুলো কেবল এই কারণেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে যে, সেগুলো রক্ত দ্বারা ক্রমাগত ধুয়ে পরিষ্কার হয়। রক্ত তাদের ভেতর ও চারপাশ দিয়ে বয়ে চলা এমন এক অবিরাম স্রোত, যা বিষাক্ত পদার্থগুলো তৈরি হওয়ার সাথে সাথে তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। শিরাস্থ রক্তের এই রূপ তার বিষাক্ত পদার্থের কারণেই হয়, যা কিডনি, ফুসফুস, ত্বক এবং অন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মৃত প্রাণীর মাংসে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো প্রচুর পরিমাণে থাকে। মৃত্যুর মুহূর্তেই শরীর থেকে এগুলো বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যদিও মৃত্যুর পরও বেশ কিছুক্ষণ এগুলো তৈরি হতে থাকে। সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট ফরাসি সার্জন মন্তব্য করেছেন যে 'বিফ টি (গরুর মাংসের নির্যাস) আক্ষরিক অর্থেই বিষের একটি দ্রবণ।' ** সি. ডব্লিউ. লিডবিটার রচিত ''[[ভেজিটেরিয়ানিজম অ্যান্ড অকাল্টিজম]]'' (১৯১৩) বইয়ে উদ্ধৃত। === ১৯২১ === * মানুষের পুষ্টির জন্য এমন কোনো প্রয়োজনীয় বা কাঙ্ক্ষিত উপাদান মাংস বা প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায় না, যা উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া যায় না বা তা থেকে তৈরি করা যায় না। ** ''দ্য নিউ ডায়েটেটিকস, হোয়াট টু ইট অ্যান্ড হাউ: অ্যা গাইড টু সায়েন্টিফিক ফিডিং ইন হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ'', ব্যাটল ক্রিক, এমআই: দ্য মডার্ন মেডিসিন পাবলিশিং কো., ১৯২১, [https://books.google.it/books?id=TNsMAwAAQBAJ&pg=PA366 পৃ. ৩৬৬]। === ১৯৩৫ === * সব ধরনের জাতিগত পরীক্ষায় প্রমাণিত, নিজেদের দেশের এমন এক জনগোষ্ঠীকে তাড়িয়ে দেওয়া, যাদের রক্ত তাদের নিজেদের রক্তের চেয়ে অনেক উন্নত... ** "জার্মানি'স ফিউটাইল এফোর্ট অ্যাট রেস বেটারমেন্ট" (অক্টোবর ১৯৩৫) নামক ''গুড হেলথ''-এর একটি সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া। ব্রায়ান সি. উইলসন রচিত ডা. জন হার্ভে কেলগ অ্যান্ড দ্য রিলিজিয়ন অব বায়োলজিক লিভিং (২০১৪ সালে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=rwwxBQAAQBAJ&pg=PA215 ২১৫ নম্বর পৃষ্ঠায়] এবং [[w:হাওয়ার্ড মার্কেল|হাওয়ার্ড মার্কেল]] রচিত "দ্য কেলগস: দ্য ব্যাটিলিং ব্রাদার্স অব ব্যাটল ক্রিক" (২০১৭ সালে প্যানথিয়ন বুকস থেকে প্রকাশিত) বইয়ের [https://books.google.ca/books?id=GIsuDwAAQBAJ&pg=PA313 ৩১৩ নম্বর পৃষ্ঠায়] উদ্ধৃত। === ১৯৩৮ === * কোনো চারণভূমিতে পড়ে থাকা মরা গরু বা ভেড়াকে পচা মাংস বা মরা পশু হিসেবে ধরা হয়। একই মরা পশুর মাংস যখন সাজিয়ে কসাইয়ের দোকানে ঝোলানো হয়, তখন তা খাবার হিসেবে চলে! সাবধানে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখলে বেড়ার কোনায় পড়ে থাকা মরা পশু আর কসাইয়ের দোকানের মরা পশুর মধ্যে খুব কম বা কোনো পার্থক্যই চোখে না পড়তে পারে। দুটোই কোলন জীবাণুতে গিজগিজ করে এবং পচা দুর্গন্ধে ভরা থাকে। ** দাহ্যভাই এইচ. জানি রচিত ''[https://books.google.it/books?id=HSHOAAAAMAAJ রোমান্স অব দ্য কাউ]'' (দ্য বোম্বে হিউম্যানিটারিয়ান লিগ, ১৯৩৮, পৃ. ৮১) বইয়ে উদ্ধৃত। == বহিঃসংযোগ == *{{উইকিপিডিয়া}} *{{উইকিসংকলন|Author:John Harvey Kellogg}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৩-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:ইউজেনিসিস্ট]] [[বিষয়শ্রেণী:নিরামিষভোজী কর্মী]] [[বিষয়শ্রেণী:কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতা]] cdkfitg9c30homxn04l8pz8f2fd7nof আল খোয়ারিজমি 0 12408 76793 76368 2026-04-15T02:08:39Z Oindrojalik Watch 4169 সংশোধন 76793 wikitext text/x-wiki [[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb|[[:w:আল-খোয়ারিজমি|আল-খোয়ারিজমির]] জন্মবার্ষিকী স্মরণে ১৯৮৩ সালে [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়ন]] থেকে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকিট।<br>আল-খোয়ারিজমির ১২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৮৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এই ডাকটিকিটটিতে তাঁর নাম এবং ১২০০ বছর উদযাপনের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর জন্মকাল ও বিশ্বব্যাপী তাঁর গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।]] '''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়। == উক্তি == * [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি। ** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১। * আমি যখন গভীরভাবে খেয়াল করলাম মানুষ আসলে গণিতের কাছে কী চায়, তখন বুঝলাম সবকিছুই শেষপর্যন্ত একটি সংখ্যায় গিয়ে ঠেকে। আমি আরও দেখলাম, প্রতিটি বড় সংখ্যা আসলে অনেকগুলো ১ বা ছোট এককের সমষ্টি। অর্থাৎ যেকোনো সংখ্যাকে ভেঙে একদম ছোট এককে নিয়ে আসা সম্ভব। ** '''''আল-খোয়ারিজমি''''', ''আল-কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জবর ওয় আল-মুকাবালা'', ভূমিকাংশ, ফ্রেডরিক রোজেন কর্তৃক ১৮৩১ সালের ইংরেজি অনুবাদ। উইলবার হল লাইব্রেরি (http://www.wilbourhall.org/index.html#algebra) * ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’ ** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ। ** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত। ** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২। == আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি == * আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল! ** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২। ** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 । * বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো। ** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 * আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।” ** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 * আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল। ** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 [[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]] * বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়। ** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫) * অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়। ** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।] * "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।" ** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।] == বহিঃসংযোগ == {{Wikipedia}} * [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি) * [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)] * [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি] {{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}} [[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]] [[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:ইরানের ব্যক্তি]] abptiag5908aqsr77taubd15adl2tbt 76803 76793 2026-04-15T02:49:50Z Oindrojalik Watch 4169 /* উক্তি */ 76803 wikitext text/x-wiki [[File:1983 CPA 5426 (1).png|thumb|[[:w:আল-খোয়ারিজমি|আল-খোয়ারিজমির]] জন্মবার্ষিকী স্মরণে ১৯৮৩ সালে [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়ন]] থেকে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকিট।<br>আল-খোয়ারিজমির ১২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৮৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এই ডাকটিকিটটিতে তাঁর নাম এবং ১২০০ বছর উদযাপনের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর জন্মকাল ও বিশ্বব্যাপী তাঁর গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।]] '''[[:w:আল-খোয়ারিজমি|মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি]]''' (محمد بن موسی خوارزمی) বা '''আল-খোয়ারিজমি''' (আনু. ৭৮০ - ৮৫০) ছিলেন একজন [[:w:পারস্য|পারসিক]] [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]], [[:w:জ্যোতির্বিজ্ঞানী|জ্যোতির্বিজ্ঞানী]], জ্যোতিষী এবং [[:w:ভূগোলবিদ|ভূগোলবিদ]]। তার নাম থেকেই মূলত ''[[:w:অ্যালগরিদম|অ্যালগরিদম]]'' ও তার কালজয়ী গ্রন্থ ''[[:w:আল-জাবর|আল-জাবর]]'' থেকে '[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]' শব্দ দুটির উৎপত্তি। আনুমানিক ৮২০ সালে তিনি [[:w:বাগদাদ|বাগদাদ]] ও [[:w:আব্বাসীয় খিলাফত|আব্বাসীয় খিলাফতের]] সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার বলে বিবেচিত [[:w:বাইতুল হিকমাহ|বাইতুল হিকমাহর]] প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। বীজগণিতের ওপর তার রচিত গ্রন্থ রৈখিক এবং [[:w:দ্বিঘাত সমীকরণ|দ্বিঘাত সমীকরণের]] প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেছিল। [[:w:গণিত|গণিতে]] তার এই অবদানের জন্য তাকে ''''বীজগণিতের জনক'''' বলে অভিহিত করা হয়। == উক্তি == * [[:w:বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] প্রতি সেই অনুরাগ, সেই সৌজন্য এবং কৃপা যা [[:w:আল্লাহ|আল্লাহ]] বিদ্বানদের প্রতি প্রদর্শন করেন, যে ক্ষিপ্রতার সাথে তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায করেন এবং প্রতিকূলতা দূরীকরণে তাঁদের সুরক্ষা ও সমর্থন দান করেন—তা-ই আমাকে ‘আল-জবর’ এবং ‘আল-মুকাবিলা’ পদ্ধতির হিসাব সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত রচনা সংকলন করতে উৎসাহিত করেছে. যেখানে আমি কেবল [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] সবচাইতে সহজ এবং উপযোগী বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি। ** উদ্ধৃতি উৎস: '''''ভিক্টর জে. কাটজ''''' (২০০৯) ''এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন''। পৃষ্ঠা ২৭১ (উক্তিটি যে উৎস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে)। * আমি যখন গভীরভাবে খেয়াল করলাম মানুষ আসলে গণিতের কাছে কী চায়, তখন বুঝলাম সবকিছুই শেষপর্যন্ত একটি সংখ্যায় গিয়ে ঠেকে। আমি আরও দেখলাম, প্রতিটি বড় সংখ্যা আসলে অনেকগুলো ১ বা ছোট এককের সমষ্টি। অর্থাৎ যেকোনো সংখ্যাকে ভেঙে একদম ছোট এককে নিয়ে আসা সম্ভব। ** '''''আল-খোয়ারিজমি''''', ''আল-কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জবর ওয় আল-মুকাবালা'', ভূমিকাংশ, ফ্রেডরিক রোজেন কর্তৃক ১৮৩১ সালের ইংরেজি অনুবাদ। উইলবার হল লাইব্রেরি (http://www.wilbourhall.org/index.html#algebra) * ‘পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল বর্ণনা করা এবং সমস্ত স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুঃসাধ্য কাজ হবে। যেহেতু অগণিত সময় এবং সীমাহীন অঞ্চলের জন্য [[:w:দ্রাঘিমাংশ|দ্রাঘিমাংশগুলো]] আরিনের (পৃথিবীর একটি কল্পিত কেন্দ্রবিন্দু) সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই [[:w:জ্যামিতি|জ্যামিতিক]] এবং গাণিতিক নিয়মের মাধ্যমে সেই মূলবিন্দু থেকে অন্যান্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করা জটিল হবে না। যদি আমরা এই স্থান (অর্থাৎ আরিন) থেকে দ্রাঘিমাংশে সরে যাই, তবে [[:w:গ্রহ|গ্রহগুলোর]] গড় অবস্থান গণনার জন্য আমাদের অবস্থান এবং আরিনের লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’ ** উজ্জয়িনী শহরকে ([[:w:ভারত|ভারতকে]]) ‘আরিন’ হিসেবে উল্লেখ। ** আল-খোয়ারিজমির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল বা ''জিক আল-সিন্দহিন্দ'' থেকে, যা প্রথমে আথেলার্ড অফ বাথ কর্তৃক আরবি থেকে ল্যাটিনে এবং পরবর্তীতে ও. নিউজেবাউয়ার কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত। ** উদ্ধৃতি উৎস: '''''[[:w:ভাস্কর পণ্ডিত|ভাস্কর কাম্বলে]]''''', ''দ্য ইমপ্যারিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড'', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২। == আল-খোয়ারিজমিকে নিয়ে অন্যদের উক্তি == * আমি ঠিক করেছি যারা এ পর্যন্ত [[:w:বীজগণিত|বীজগণিত]] নিয়ে লিখেছেন, তাদের কাজগুলো আগে খতিয়ে দেখব। যাতে তারা যা যা এড়িয়ে গেছেন আমি সেগুলো পূরণ করতে পারি। লেখকের সংখ্যা তো অগণিত, আর তাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-কেই এই পথের পথিকৃৎ মনে করা হয়। আমার তো বিশ্বাস 'আলজেবরা' শব্দটির জন্মও তাঁর হাত ধরেই। কারণ কয়েক বছর আগে [[:w:লুকা পাচিওলি|ব্রাদার লুকা পাচিওলি]] যখন [[:w:লাতিন ভাষা|লাতিন]] আর [[:w:ইতালীয় ভাষা|ইতালীয়]] ভাষায় এই শাস্ত্র নিয়ে লিখতে বসলেন, তিনি বলেছিলেন যে 'আলজেবরা' শব্দটি আরবি এবং এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবকও [[:w:আরব জাতি|আরবরাই]]। তাঁর পরের অনেক লেখকই চোখ বন্ধ করে এই কথা বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু ইদানীং [[:w:ভ্যাটিকান লাইব্রেরি|ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে]] [[:w:আলেকজান্দ্রিয়া|আলেকজান্দ্রিয়ার]] গ্রিক লেখক [[:w:দিওফান্তোস|দিওফান্তোসের]] একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে [...] সেখানে দেখলাম তিনি বারবার ভারতীয় লেখকদের কথা উল্লেখ করছেন। আর তখনই আমি উপলব্ধি করলাম—আরবদের অনেক আগেই ভারতীয়রা এই শাস্ত্রে দড় ছিল! ** ১৬শ শতাব্দীর ইতালীয় গণিতবিদ '''''[[:w:রাফায়েল বোমবেল্লি|রাফায়েল বোমবেল্লি]]''''', 'ল’আলজেবরা' , প্রকাশকাল: ১৫৭২। ** ফোভেল, জে. এবং জে. গ্রে-এর 'দ্য হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্স: এ রিডার' (ম্যাকমিলান, ১৯৮৭)-এ উদ্ধৃত। এছাড়া উদ্ধৃত হয়েছে: ভাস্কর কাম্বলে, 'দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড', গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 । * বীজগণিতের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শুরুর দিকের আরবরা দিওফান্তোস কিংবা হিন্দবাসীদের গাণিতিক চিহ্ন বা সংকেতগুলো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আল-খোয়ারিজমির বীজগণিত পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাঁর উপস্থাপনা ছিল পুরোপুরি অলঙ্কারিক। অর্থাৎ সেখানে কোনো গাণিতিক প্রতীকের বালাই ছিল না, কেবল কথার ছলে সব হিসাব করা হতো। ** '''''ফ্লোরিয়ান কাজোরি''''', কাজোরি, এ হিস্ট্রি অফ ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন, ভলিউম. ১, ১৯৯৩, উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 * আল-খোয়ারিজমি “গ্রিকদের কাছ থেকে বীজগণিত গ্রহণ করেননি। তাকে হয় এটি নিজে উদ্ভাবন করতে হয়েছে, নতুবা তিনি এটি ভারতীয়দের কাছ থেকে নিয়েছেন। এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে দ্বিতীয়টিই আমার কাছে সবচাইতে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।” ** '''''পিয়েত্রো কোসালি''''', যিনি বীজগণিতের ইতিহাসের ওপর একটি বিস্তারিত মনোগ্রাফ লিখেছেন; হেফার, আলব্রেখট-এর ‘দ্য রিসেপশন অফ অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্স বাই ওয়েস্টার্ন হিস্টোরিয়ানস’-এ উদ্ধৃত। ইন: অ্যানসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিপস ইনটু ম্যাথমেটিক্স, সম্পাদিত: বি. এস. যাদব এবং মান মোহন, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৫২। বিরখাউজার, ২০১১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 * আল-খোয়ারিজমি যে ডায়োফ্যান্টাস থেকে ধার করেছেন তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে আরবরা তাদের বীজগণিতের প্রাথমিক জ্ঞান হিন্দুদের কাছ থেকে পেয়েছিল, যারা তাদের দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি এবং গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল। ** '''''রোজেন ফ্রেডরিক'''''। ''দ্য আলজেবরা অফ মোহাম্মদ বিন মুসা''। লন্ডন: ১৮৩১। উদ্ধৃত: ভাস্কর কাম্বলে, দ্য ইম্পেরিশেবল সিড: হাউ হিন্দু ম্যাথমেটিক্স চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হোয়াই দিস হিস্ট্রি ওয়াজ ইরেজড, গরুড় প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ২০২২ ISBN 9798885750189 [[File:Image-Al-Kitāb al-muḫtaṣar fī ḥisāb al-ğabr wa-l-muqābala.jpg|thumb|আল খোয়ারিজমির আল-জাবর গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠা]] * বহুসংস্কৃতিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিশুদের পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বন্দি করার মতো হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সভ্যতা এবং [[:w:ইতিহাস|ইতিহাস]] সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলো এই সত্যে খুব কমই আগ্রহী হতে পারে যে, যখন একজন আধুনিক [[:w:গণিতবিদ|গণিতবিদ]] একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত নবম শতাব্দীর মহান মুসলিম গণিতবিদ [[:w:আল-খোওয়ারিজমি|আল-খোওয়ারিজমির]] ধর্মনিরপেক্ষ অবদানকেই স্মরণ করেন, যাঁর নাম থেকে অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে ("[[:w:আলজেবরা|আলজেবরা]]" শব্দটি এসেছে তাঁর গ্রন্থ 'আল-জবর ওয়া আল-মুকাবিলা' থেকে)। সেকেলে ঘরানার [[:w:ব্রিটিশ|ব্রিটিশদের]] পাশাপাশি নবীন ব্রিটিশদেরও এই চমৎকার সংযোগগুলো উদযাপন না করার কোনো কারণ নেই। পৃথিবী কোনো একক ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর ফেডারেশন নয়। আশা করা যায়, [[:w:যুক্তরাজ্য|ব্রিটেনও]] তা নয়। ** '''''[[:w:অমর্ত্য সেন|অমর্ত্য সেন]]''''', ''সলিউশন টু কালচারাল কনফিউশন ইজ ফ্রিডম অ্যান্ড রিজন'', ''ফিন্যান্সিয়াল টাইমস''(২৯ নভেম্বর, ২০০৫) * অবশ্যই আরবরা নিজেরা কখনোই এই উদ্ভাবনের দাবি করেনি, তারা সংখ্যার রূপ এবং স্থানীয় মানের বৈশিষ্ট্যের জন্য সর্বদা হিন্দুদের কাছ থেকে তাদের ঋণের কথা স্বীকার করেছে। এই লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন [[:w:বাগদাদ|বাগদাদের]] [[:w:ইসলামি স্বর্ণযুগ|স্বর্ণযুগের]] মহান শিক্ষক, যিনি প্রথমদিকের আরব লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গণিতশাস্ত্রের ধ্রুপদী কাজগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন এবং অবশেষে জাগ্রত [[:w:ইউরোপ|ইউরোপের]] কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই মানুষটি ছিলেন খোয়ারিজম থেকে আসা মোসেসের পুত্র মোহাম্মদ, বা আরবীয় রীতিতে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি, একজন প্রগাঢ় পণ্ডিত ব্যক্তি যার কাছে বর্তমান বিশ্বের বীজগণিত এবং পাটিগণিতের জ্ঞান অনেক ঋণী। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ প্রায়ই আসবে এবং তিনি যে পাটিগণিত লিখেছিলেন (যা সম্ভবত অ্যাডে লার্ড অফ বাথ ১১৩০ সালের দিকে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করেছিলেন), সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সংখ্যাগুলো হিন্দুদের অবদান। পরবর্তী আরব লেখকরাও বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা [[:w:পাটিগণিত|পাটিগণিতের]] জন্য ''ইলম হিন্দি'' বা "ভারতীয় বিজ্ঞান" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, এমনকি কখনো কখনো শুধু 'হিন্দি' বিশেষণটিও ব্যবহার করা হয়। ** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন , [https://archive.org/details/b24863816/page/4/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ৪-৫।] * "এটির একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, [[:w:সিন্দ ইবনে আলী|সিন্দ ইবনে আলীর]] নামে চালিয়ে দেওয়া কিছু কাজ আসলে আল-খাওয়ারিজমির। যাঁর নাম ঠিক তাঁর নামের আগেই আসে।" ** '''''ডেভিড ইউজিন স্মিথ''''' এবং লুই চার্লস কার্পিনস্কি, ''দ্য হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমারেলস'' (১৯১১) অধ্যায় ১. আর্লি আইডিয়াস অফ দেয়ার অরিজিন, [https://archive.org/details/b24863816/page/10/mode/1up?view=theater পৃষ্ঠা ১০।] == বহিঃসংযোগ == {{Wikipedia}} * [https://mathshistory.st-andrews.ac.uk/Biographies/Al-Khwarizmi/ ম্যাকটিউটর আর্কাইভে আল-খোয়ারিজমির জীবনী] (ইংরেজি) * [https://archive.org/details/robertofchesters00muha আর্কাইভ ডট অর্গে আল-খোয়ারিজমির ‘আল-জবর’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ (রবার্ট অফ চেস্টার)] * [https://www.britannica.com/biography/al-Khwarizmi এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আল-খোয়ারিজমি] {{DEFAULTSORT:খোয়ারিজমি, মুহাম্মদ ইবনে মুসা}} [[বিষয়শ্রেণী:মুসলিম]] [[বিষয়শ্রেণী:জ্যোতির্বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:গণিতবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:৮৫০-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:ইরানের ব্যক্তি]] 9w3f5ru2tksc3ye2090tnm59z19ovfq ফ্রেড ব্রুকস 0 12420 76770 76540 2026-04-14T22:30:25Z ARI 356 সংশোধন; পরিষ্কার 76770 wikitext text/x-wiki [[File:Fred Brooks.jpg|thumb|right|"''একটি বিলম্বিত সফটওয়্যার প্রকল্পে জনবল যোগ করলে সেটি আরও বিলম্বিত হয়।''"]] '''[[w:ফ্রেড ব্রুকস|ফ্রেডরিক ফিলিপস ব্রুকস, জুনিয়র]]''' (১৯ এপ্রিল, ১৯৩১ – ১৭ নভেম্বর, ২০২২) ছিলেন একজন কম্পিউটার আর্কিটেক্ট, সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি আইবিএমের সিস্টেম/৩৬০ কম্পিউটার ফ্যামিলির হার্ডওয়্যার এবং পরবর্তীতে ওএস/৩৬০ এর উন্নয়ন কাজ পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। পরবর্তীতে তিনি এই প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ 'দ্য মিথিক্যাল ম্যান-মান্থে'' অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন। ব্রুকস ১৯৯৯ সালে টুরিং পুরস্কার এবং আরও অনেক পুরস্কার লাভ করেন। == উক্তি == * আর্কিটেকচার শব্দটি এখানে একজন প্রোগ্রামারের দৃষ্টিতে একটি সিস্টেমের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ এর ধারণাগত কাঠামো এবং কার্যকারী আচরণ; যা ডেটা প্রবাহ ও নিয়ন্ত্রণ বিন্যাস, লজিক্যাল ডিজাইন এবং ফিজিক্যাল ইমপ্লিমেন্টেশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ** জিন আমডাহল, গেরিট ব্লাউ এবং ফ্রেড ব্রুকস (১৯৬৪) "আর্কিটেকচার অফ দ্য আইবিএম সিস্টেম।" ''আইবিএম জার্নাল অফ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট'' খণ্ড ৮ (২) পৃষ্ঠা ৮৭-১০১। * ধীরগতির সিস্টেমের বিরুদ্ধে অন্তহীন যুদ্ধে একজন প্রোগ্রামারের প্রাথমিক অস্ত্র হলো মডিউলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করা। আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত মডিউলগুলোর ডেটা স্ট্রাকচার পুনর্গঠন করা। ** ব্রুকস (১৯৭৫, অধ্যায় ৯); স্টিভ সি. ম্যাককনেল রচিত ''কোড কমপ্লিট: এ প্র্যাকটিক্যাল হ্যান্ডবুক অফ সফটওয়্যার কনস্ট্রাকশন''। * একটি প্রকল্পে আপনি যে সময়ের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৭০ শতাংশ) ব্যয় করেন তা আসলে চিন্তা করার পেছনে ব্যয় হয়, এবং কোনো সরঞ্জাম, তা যতই উন্নত হোক না কেন, আপনার হয়ে চিন্তা করে দিতে পারে না। ফলস্বরূপ, কোনো সরঞ্জাম যদি আপনার হয়ে চিন্তা করা বাদে বাকি সব কাজও করে দেয় যদি এটি ১০০ শতাংশ কোড লেখে, ১০০ শতাংশ ডকুমেন্টেশন তৈরি করে, ১০০ শতাংশ টেস্টিং করে, সিডি-রম বার্ন করে, বক্সে ভরে গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়েও দেয় তবুও আপনি বড়জোর উৎপাদনশীলতায় ৩০ শতাংশ উন্নতির আশা করতে পারেন। এর চেয়ে ভালো কিছু করতে হলে, আপনাকে আপনার চিন্তা করার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। ** {{Citation | url = https://web.archive.org/web/20101203040216/http://www.javaworld.com/javaworld/jw-07-1999/jw-07-toolbox.html?page=7 | publisher = জাভা ওয়ার্ল্ড | year = ১৯৯৯ | month = জুলাই | title = টুলবক্স}} [ভাবানুবাদ] থেকে উদ্ধৃত। *কেউ কেউ বইটিকে "সফটওয়্যার প্রকৌশলের বাইবেল" বলে অভিহিত করেছেন। আমি একটি বিষয়ে এর সাথে একমত: তা হলো, সবাই এটি উদ্ধৃত করে, কিছু মানুষ এটি পড়ে এবং খুব অল্প সংখ্যক মানুষ এটি মেনে চলে। ** ১৬ ডিসেম্বর ২০০৫ এ ফরচুন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ''কোটেড অফেন, ফলোড রেয়ারলি'' নিবন্ধে উদ্ধৃত; ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত বই ''দ্য মিথিক্যাল ম্যান-মান্থ'' প্রসঙ্গে। [http://money.cnn.com/magazines/fortune/fortune_archive/2005/12/12/8363107/index.htm] *জব কন্ট্রোল ল্যাঙ্গুয়েজ (জেসিএল) হলো আজ পর্যন্ত যেকোনো স্থানে, যেকোনো ব্যক্তির দ্বারা, যেকোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা সবচেয়ে জঘন্য প্রোগ্রামিং ভাষা। ** {{Citation | url = http://www.youtube.com/watch?v=8c0_Lzb1CJw#t=01h19m00s | title = ''দ্য আইবিএম সিস্টেম/৩৬০ রেভোলিউশন'' | publisher = কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম কর্তৃক রেকর্ডকৃত | date = ৭ এপ্রিল ২০০৪}} === ''দ্য মিথিক্যাল ম্যান-মান্থ: এসেস অন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং'' (১৯৭৫, ১৯৯৫) === <small>মূলত ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত; পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৯৯৫ সালের বর্ধিত ''অ্যানিভার্সারি এডিশন'' (২য় সংস্করণ) থেকে নেওয়া হয়েছে, অ্যাডিসন-ওয়েসলি, {{ISBN|0-201-83595-9}}</small> * একজন প্রোগ্রামার, একজন কবির মতো, বিশুদ্ধ চিন্তার উপাদান থেকে সামান্য দূরে থেকে কাজ করেন। তিনি কল্পনার পরিশ্রমে বাতাস থেকে বাতাসে তাঁর আকাশকুসুম দুর্গ নির্মাণ করেন। সৃষ্টির খুব কম মাধ্যমই এত নমনীয়, ঘষেমেজে নতুন রূপ দেওয়া এত সহজ, এবং মহৎ ধারণাগত কাঠামো বাস্তবায়নে এত সহজে সক্ষম। <br>তবুও প্রোগ্রাম কাঠামো কবির শব্দের মতো নয়; এটি এই অর্থে বাস্তব যে এটি চলে এবং কাজ করে, এবং কাঠামোটি থেকে আলাদা দৃশ্যমান ফলাফল তৈরি করে। পৌরাণিক কাহিনী ও কিংবদন্তির জাদু আমাদের সময়ে সত্য হয়ে উঠেছে। কেউ কীবোর্ডে সঠিক মন্ত্র টাইপ করে, আর অমনি একটি ডিসপ্লে স্ক্রিন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, এমন কিছু দেখায় যা আগে কখনও ছিল না বা হতে পারত না। ** পৃষ্ঠা ৭। * একটি সন্তান ধারণের জন্য নয় মাস সময় লাগে, সেখানে কতজন নারীকে নিযুক্ত করা হলো তা কোনো বড় বিষয় নয়। ** পৃষ্ঠা ১৭; দ্রষ্টব্য থিওডোর ফন কারমান (১৯৫৭): "সবাই জানে যে একজন মহিলার সন্তান হতে নয় মাস সময় লাগে। কিন্তু তোমরা আমেরিকানরা মনে করো যদি তোমরা নয়জন নারীকে গর্ভবতী করো, তবে তোমরা এক মাসেই একটি সন্তান পেতে পারো।" * '''ব্রুকসের সূত্র''': ''একটি বিলম্বিত সফটওয়্যার প্রকল্পে জনবল যোগ করলে সেটি আরও বিলম্বিত হয়।'' ** পৃষ্ঠা ২৫ (মূলে বাঁকা অক্ষরে, এখানে গাঢ় করা হয়েছে)। * "দ্বিতীয় সিস্টেম প্রভাব": <br /> একজন আর্কিটেক্টের প্রথম কাজ সাধারণত পরিমিত এবং পরিচ্ছন্ন হয়। তিনি জানেন যে তিনি কী করছেন তা নিয়ে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন, তাই তিনি এটি সাবধানে এবং খুব সংযমের সাথে করেন। <br /> যখন তিনি প্রথম কাজটি ডিজাইন করেন, তখন একের পর এক বাড়তি সুবিধা এবং অলঙ্করণের ধারণা তাঁর মাথায় আসতে থাকে। এগুলো "পরের বার" ব্যবহারের জন্য জমা করে রাখা হয়। শীঘ্র বা বিলম্বে প্রথম সিস্টেমটি শেষ হয়, আর আর্কিটেক্ট দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এবং সেই শ্রেণির সিস্টেমে তাঁর দক্ষতা প্রমাণের মাধ্যমে একটি দ্বিতীয় সিস্টেম তৈরির জন্য প্রস্তুত হন। <br /> এই দ্বিতীয় সিস্টেমটি হলো একজন মানুষের ডিজাইন করা সবচেয়ে বিপজ্জনক সিস্টেম। যখন তিনি তাঁর তৃতীয় এবং পরবর্তী সিস্টেমগুলো করেন, তখন তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতাগুলো একে অপরকে নিশ্চিত করবে যে এই ধরনের সিস্টেমের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো আসলে কী; এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো তাঁকে বুঝতে সাহায্য করবে তাঁর অভিজ্ঞতার কোন অংশগুলো বিশেষ এবং কোনগুলো সাধারণীকরণের যোগ্য নয়। <br /> সাধারণ প্রবণতা হলো দ্বিতীয় সিস্টেমটিকে অতিরিক্ত ডিজাইন করা, যেখানে প্রথম সিস্টেমে সাবধানতার সাথে সরিয়ে রাখা সমস্ত ধারণা এবং বাড়তি সুবিধাগুলো ব্যবহার করা হয়। এর ফলাফল, ওভিড-এর ভাষায়, একটি "বিশাল স্তূপ"। ** পৃষ্ঠা ৫৫। * একটি প্রাচীন প্রবাদ সতর্ক করে, "কখনও দুটি ক্রোনোমিটার নিয়ে সমুদ্রে যেও না; হয় একটি নাও, নয়তো তিনটি।" ** পৃষ্ঠা ৬৪। * আমাকে তোমার ফ্লোচার্ট দেখাও আর টেবিলগুলো লুকিয়ে রাখো, আমি বিভ্রান্ত হতেই থাকব। আমাকে তোমার টেবিলগুলো দেখাও, তখন সাধারণত আমার আর তোমার ফ্লোচার্টের প্রয়োজন হবে না; সেগুলো এমনিতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ** পৃষ্ঠা ১০২–৩। * তাই ব্যবস্থাপনার প্রশ্নটি এটি নয় যে, আপনি একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেম তৈরি করে সেটি ফেলে দেবেন ''কি না''। আপনি সেটি ''করবেনই''। সুতরাং, ''একটি ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই করুন; আপনি যেভাবেই হোক তা করবেনই।'' ** পৃষ্ঠা ১১৬ (মূলে বাঁকা অক্ষরে)। * ''একটি প্রকল্প কীভাবে এক বছর পিছিয়ে যায়? প্রতিদিন একদিন একদিন করে।'' ** পৃষ্ঠা ১৫৩ (মূলে বাঁকা অক্ষর এবং উপবৃত্ত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে)। * সাংগঠনিক কাঠামোটি প্রাথমিকভাবে প্রথম সিস্টেম ডিজাইনের প্রতিফলন ঘটাবে, যা নিশ্চিতভাবেই সঠিক নয়। একজন মানুষ শেখার সাথে সাথে তার ডিজাইন পরিবর্তন করে সিস্টেম পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যবস্থাপনা কাঠামোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। === ''নো সিলভার বুলেট'' (১৯৮৬) === <small>পৃষ্ঠাসংখ্যা উপরে উল্লিখিত ''দ্য মিথিক্যাল ম্যান-মান্থ, অ্যানিভার্সারি এডিশন''এর ১৬তম অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। <br/> মূলত ''ইনফরমেশন প্রসেসিং ১৯৮৬, প্রসিডিংস অফ দ্য আইএফআইপি টেনথ ওয়ার্ল্ড কম্পিউটিং কনফারেন্স'', এইচ. কে. কুগলার সম্পাদিত, এলসেভিয়ার সায়েন্স, ১৯৮৬, পৃষ্ঠা ১০৬৯-১০৭৬ এ প্রকাশিত। এছাড়াও এটি আইইইই ম্যাগাজিন ''কম্পিউটার'', '''২০''', ৪ (এপ্রিল, ১৯৮৭), পৃষ্ঠা ৪৩-৫৭ এ পুনঃমুদ্রিত হয়েছে।</small> * একটি সফটওয়্যার সত্তার সারমর্ম হলো পরস্পর সংযুক্ত ধারণাসমূহের একটি কাঠামো: ''আমি বিশ্বাস করি সফটওয়্যার তৈরির কঠিন অংশটি হলো এই ধারণাগত কাঠামোর স্পেসিফিকেশন, ডিজাইন এবং টেস্টিং; এটিকে উপস্থাপন করার পরিশ্রম বা সেই উপস্থাপনার নির্ভুলতা যাচাই করা নয়।'' ** পৃষ্ঠা ১৮২ (মূলে বাঁকা অক্ষরে)। * সফটওয়্যারের জটিলতা একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তাই, কোনো সফটওয়্যার সত্তার বর্ণনা থেকে যদি এর জটিলতাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা প্রায়শই এর সারমর্মকেও বাদ দিয়ে দেয়। ** পৃষ্ঠা ১৮৩। * আইন্সটাইন বারবার যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রকৃতির অবশ্যই সরলীকৃত ব্যাখ্যা থাকতে হবে, কারণ ঈশ্বর খামখেয়ালি বা উদ্দেশ্যহীন নন। সফটওয়্যার প্রকৌশলীর ভাগ্যে এমন কোনো বিশ্বাস জোটে না। তাকে যে বিপুল জটিলতা আয়ত্ত করতে হয়, তার বেশিরভাগই হলো উদ্দেশ্যহীন জটিলতা কারণ সেগুলো ঈশ্বরের বদলে বিভিন্ন মানুষের দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে। ** পৃষ্ঠা ১৮৪। * এমনকি নিখুঁত প্রোগ্রাম যাচাইকরণ কেবল এটিই প্রতিষ্ঠিত করতে পারে যে একটি প্রোগ্রাম তার স্পেসিফিকেশন বা শর্তাবলি পূরণ করে। একটি প্রোগ্রাম তৈরির মূল সারমর্মের অনেকটা জুড়েই থাকে আসলে সেই স্পেসিফিকেশনের ত্রুটি সংশোধন করা। ** পৃষ্ঠা ১৯৫। * একের পর এক গবেষণা দেখাচ্ছে যে, সেরা ডিজাইনাররা এমন কাঠামো তৈরি করেন যা দ্রুততর, ক্ষুদ্রতর, সরলতর, অধিকতর স্পষ্ট এবং কম পরিশ্রমে তৈরি। একজন মহান ডিজাইনার এবং একজন সাধারণ ডিজাইনারের কাজের মধ্যে পার্থক্য প্রায় দশ গুণ। ** পৃষ্ঠা ২০২। * সামান্য অতীতচারণা করলেই দেখা যায় যে, যদিও অনেক চমৎকার এবং দরকারী সফটওয়্যার সিস্টেম কমিটির দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে এবং বহুমুখী প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, তবুও সেই সফটওয়্যার সিস্টেমগুলোই অনুরাগী সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে যেগুলো একজন বা খুব অল্প কয়েকজন মহান ডিজাইনারের মস্তিষ্কপ্রসূত। ** পৃষ্ঠা ২০২। == বহিঃসংযোগ == {{wikipedia}} {{DEFAULTSORT:Brooks, Fred}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:২০২২-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:নর্থ ক্যারোলাইনার ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:টুরিং পুরস্কার বিজয়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] b63z79jz7n60gcjo1eowc0fp1o4n5xp ফেদেরিকো ফাগিন 0 12431 76677 76452 2026-04-14T13:13:21Z SMontaha32 3112 /* উক্তি */ 76677 wikitext text/x-wiki [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == * মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip],''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না। **[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) * পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) * সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] r5kf0ho8ynst1a6n3j0h4axpagjzbs5 76678 76677 2026-04-14T13:14:49Z SMontaha32 3112 /* উক্তি */ 76678 wikitext text/x-wiki [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == * মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip],''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না। **[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) * পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) * সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] 61dxw2c97223p58bz2dpr115t3ex9x8 76679 76678 2026-04-14T13:16:10Z SMontaha32 3112 76679 wikitext text/x-wiki [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == * মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip],''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না। **[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) * পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «ঈশ্বর আছেন এবং তাঁর নাম ওয়ান (এক)»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) * সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "আধ্যাত্মিকতা এবং বিজ্ঞান তাদের সমষ্টির চেয়েও বেশি"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] 4mhmf3l3lbwcr0vuwkfz9hj9x77h22q 76680 76679 2026-04-14T13:18:06Z SMontaha32 3112 76680 wikitext text/x-wiki [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == * মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip],''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না। **[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ ওয়্যার্ড নেক্সট ফেস্ট ত্রেন্তিনো] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) * পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «Dio c'è e si chiama Uno»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «Dio c'è e si chiama Uno»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "spiritualità e scienza sono più della loro somma"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) * সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "spiritualità e scienza sono più della loro somma"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] agz489yp0vdmyqymbqljg3pc1t06zzk 76725 76680 2026-04-14T17:29:50Z SMontaha32 3112 /* উক্তি */ 76725 wikitext text/x-wiki [[File:Federico Faggin (cropped).jpg|thumb|right|২০১১ সালে ফেদেরিকো ফাজিন]] '''[[w:ফেদেরিকো ফাজিন|ফেদেরিকো ফাজিন]]''' (জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৪১) একজন ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা। == উক্তি == * মানবজাতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। হয় তাকে এই বিশ্বাসে ফিরে আসতে হবে যে মানুষের প্রকৃতি যন্ত্র থেকে ভিন্ন নতুবা সে যন্ত্রের ভিড়ে একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ঝুঁকিটা এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের চেয়ে ভালো হয়ে উঠবে।বরং ঝুঁকি হলো আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের এবং আমাদের মনিবদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেব। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip], ''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত রূপও কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না। কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যা যন্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। আত্মসচেতনতা, স্বাধীন ইচ্ছা, সংশয় এবং অনুভূতি। **[https://innovazione.tiscali.it/intelligenza-artificiale/articoli/lectio-fisico-faggin-nessuna-ia-potra-mai-sostituire-uomo-00001/ L' intelligenza artificiale sostituirà l'uomo? La risposta di Federico Faggin, padre del microchip],''তিসকালি নতিৎসিয়ে'' (৯ মে, ২০২৪) * কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত সৃজনশীলতা এমন কিছু তৈরি করে যা আগে কখনো ছিল না। এটি কেবল বিদ্যমান জিনিসের সংমিশ্রণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা যদি এটিকে এই থিয়েটারটি নতুন করে সাজাতে বলি, তবে এআই ঘরে থাকা চেয়ারগুলো কেবল এলোমেলো করবে। কিন্তু এটি আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এর কাজ আমাদের পছন্দ হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, ওই চেয়ারগুলো আমাদের তৈরি করা তথ্যের অ্যালগরিদম থেকেই এসেছে। কম্পিউটার প্রতীকের মধ্যকার সম্পর্ক চিনতে পারে, কিন্তু সে বুঝতে পারে না। আর এটা বোঝার ভান করা নিরর্থক, কারণ সে কখনোই কিছুই বুঝবে না। **[https://www.wired.it/article/federico-faggin-wired-next-fest-2024-trentino/ Wired Next Festa Trentino] (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) * পদার্থ হলো সেই কালি, যা দিয়ে চেতনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখে। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * আমরা আধ্যাত্মিক সত্তা, সাময়িকভাবে একটি শারীরিক শরীরে বন্দী, যা যন্ত্রের মতো। কিন্তু আমরা যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। আমরা চেতনা, অসীম এবং অবিভাজ্য সত্তা। ** এলেওনোরা চিওদা (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২), ''[https://www.repubblica.it/tecnologia/dossier/speciale-itw-2022/2022/09/10/news/faggin_intervista-364947457/amp/ ফেদেরিকো ফাজিন: "Siamo molto più delle macchine"]'', ''রেপুবলিকা ডট ইট''। * একটি রোবট কখনোই আমাদের মতো হতে পারবে না। এটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা মাত্র, এটি কেবল তাই করে যা আমরা করতে বলি। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়াকোমো ডি'আরিয়ানোর সাথে আমি চেতনার প্রথম তত্ত্বটি তৈরি করেছি। কোয়ান্টাম তথ্য এবং চেতনার মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে এবং এই সংযোগের মাধ্যমেই আমরা এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, যা আগে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «Dio c'è e si chiama Uno»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * প্রকৃত বাস্তবতা হলো অভ্যন্তরীণ, কোয়ান্টাম এবং ব্যক্তিগত। সচেতন সত্তা হিসেবে আমরা 'ওয়ান' বা 'এক'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'ওয়ান' বা 'এক' হলো অস্তিত্বের সবটুকু, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। ** সিলভিয়া বোম্বিনো (১৩ অক্টোবর, ২০২২), [https://www.vanityfair.it/article/federico-faggin-fisico-coscienza-dio-ce-e-si-chiama-uno-vita-morte/amp ''ফেদেরিকো ফাজিন: «Dio c'è e si chiama Uno»''], ''ভ্যানিটি ফেয়ার''। * চেতনা হলো বোঝার ক্ষমতা। অর্থাৎ, অনুভূতি ও আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করা এবং তাদের অর্থ বুঝতে পারা। এটি কম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। চেতনা এমন একটি ঘটনা যা আরও গভীর বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত, যা স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং যাকে ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল 'কোয়ান্টাম স্টেট' বা কোয়ান্টাম অবস্থাই সচেতন অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারে। তাই অনিবার্যভাবেই, পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং সময়ের আগেই চেতনার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ভৌত বিষয়গুলো বাস্তবের চেয়ে বেশি ভার্চুয়াল, এগুলো একটি সচেতন ক্ষেত্রের সৃষ্টি। এই ক্ষেত্রটি শরীরের মাধ্যমে স্থান-কালে চলমান বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম অবস্থা হলো ''কোয়ালিয়া'' বা অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব, যা একটি সচেতন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ''কোয়ালিয়া'' কেবল সেই ক্ষেত্র দ্বারাই জানা সম্ভব যা ওই অবস্থায় থাকে এবং এটি গাণিতিক ধারণা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রে-এর নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "spiritualità e scienza sono più della loro somma"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) * সিলিকন ভ্যালিতে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি বস্তুবাদী এবং হ্রাসবাদী। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষ একটি যন্ত্র এবং বাস্তবতা স্থান-কালে চলমান বস্তুর ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা বর্ণনাযোগ্য। এটি আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রতারণা, যা বিক্রির জন্য লোগো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দর্শনে, চেতনা এবং অভিজ্ঞতাকে কেবল সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিমাপ করা এবং গাণিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব, যদিও বাস্তবে তা নয়। একারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। **ফেদেরিকো ফাজিন। দাভিদে রেদের নিবন্ধে উদ্ধৃত, ''[https://www.avvenire.it/agora/pagine/faggin-spiritualit-e-scienza-sono-pi-della-loro-somma ফাজিন: "spiritualità e scienza sono più della loro somma"]'', ''[[w:en: Avvenire|আভেনিয়েরে ডট ইট]]'' (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪) == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভাবক]] [[বিষয়শ্রেণী:অভিবাসী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী]] 9ac48kdx6xpzoyl18aae52qtu3k42rl আ ফ ম খালিদ হোসেন 0 12437 76835 76468 2026-04-15T05:43:20Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76835 wikitext text/x-wiki [[File:Religious Advisor Dr. A.F.M. Khalid Hossain 2025-07-13 (PID-0000974) (cropped).jpg|থাম্ব]] '''[[w:আ ফ ম খালিদ হোসেন|আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন]]''' (জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯; '''ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন''' নামে সর্বাধিক পরিচিত) একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত। তিনি [[w:মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার|বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের]] সাবেক উপদেষ্টা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর শিক্ষা উপদেষ্টা, [[w:হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ|হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের]] নায়েবে আমীর, ''মাসিক আত তাওহীদের'' সম্পাদক, ''বালাগুশ শরকের'' সহকারী সম্পাদক এবং [[w:আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম|আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের]] কুরআনিক সায়েন্সেস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক। ==উক্তি== * বই জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম। জাতির চেতনা ও ইতিহাসকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার বই।’ ** ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঢাকয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব গেটে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৭ হিজরি উপলক্ষে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন । [https://www.banglatribune.com/national/915127/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%AE-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0 এই অনুষ্ঠানে] বলেছেন। * আত্মশুদ্ধ মানুষ তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং দুর্নীতি, অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা কমিয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ** ২ এপ্রিল ২০২৬ বরিশালে চরমোনাই মাহফিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে [https://dailynayadiganta.com/bangladesh/country-news/18YueEdnTmCO এই বক্তব্য দেয়ার] সময়ে বলেছেন। * আমাদের মধ্যে ছোটখাটো কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। অতীতে ছিল, এখনও আছে, আগামীতেও থাকবে। এরপরও বৃহত্তর স্বার্থে মুসলমানদের কুরআন ও সুন্নাহর ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ** ৮ ফেব্রুয়ার ২০২৫ ঢাকার আশুলিয়ায় ‘কাইচাবাড়ী রোডে মুসলিম জীবনে সুন্নাহর গুরুত্ব শীর্ষক [https://www.banglatribune.com/others/885039/%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%90%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE এই আলোচনা সভায়] বলেছেন। * কোনো শয়তান-বেয়াদবকে এক সেকেন্ডের জন্য ছাড় দেবো না। তোমার মতো যদু-মধু ফেসবুকারদের কথায় আমি রাষ্ট্র পরিচালনা করবো না। আমাকে যদি ব্যর্থ করে দিতে চাও, তুমি ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ফেসবুকের মুখাপেক্ষী নই।’ ** ১১ অক্টোবর ২০২৪ নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসায় ইসলামি মহাসম্মেলনে [https://thedailycampus.com/national/156234/%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8B-%E0%A6%AF%E0%A6%A6%E0%A7%81-%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE এই প্রধান অতিথির বক্তব্যে] বলেছেন। ১২ অক্টোবর ২০২৪। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৯-এ জন্ম]] on2p76l4jb994qef51vd9u4i530clow পহেলা বৈশাখ:সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ 0 12440 76920 76405 2026-04-15T10:50:21Z JIBON 2570 দ্রুত অপসারণের জন্য ট্যাগ করা হলো ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76920 wikitext text/x-wiki {{অপ|অনর্থক পাতা}} **মানুষের পক্ষে নববর্ষ কে অন্তরের মধ্যে গ্রহণ করা একটা কঠিন সাধনা, এ তার পক্ষে স্বাভাবিক ঘটনা নয়। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর :নববর্ষ নিয়ন্ত্রিত জীবনের সুনিয়ন্ত্রিত উৎসব হল বাংলা নববর্ষ। বাঙালিদের জীবনে বিশেষত বাংলাদেশে বর্তমানে পহেলা বৈশাখ একেবারে অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।হাজার বছরের কাল পরিক্রমায় ঠিক কবে হতে এ উৎসব বাঙালির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হয়েছে সেটির বিস্তার গবেষণা হলেও পন্ডিত বর্গ কোন একক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। উৎসবের সঙ্গে সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে শোবার আগ পর্যন্ত আমরা যা কিছু করি তাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি যেমন আছে তার রূপান্তরও তেমন আছে। হাজার বছরের আগের সংস্কৃতি যেমন বিলুপ্ত হতে পারে তেমনি পরিবর্তিত রূপে চলতেও পারে। **এডওয়ার্ড বার্নেট টেইলার বলেছেন, "Culture or civilization taken in its wide ethnographic sense ;is that complex whole which includes knowledge, belief, art, moral, laws,custom and any other capabilities and habits acquired by man as a member of society. " অর্থাৎ মানুষের বিশ্বাস, আচার-আচরণ এবং জ্ঞানের একটি সমন্বিত প্যাটার্ন কে বলা যায় সংস্কৃতি। ভাষা, সাহিত্য, ধারণা, ধর্ম ও বিশ্বাস, রীতিনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও নিয়ম-কানুন, উৎসব ও পার্বণ,শিল্পকর্ম এবং প্রতিদিনের কাজে লাগে এমন সব হাতিয়ার নিয়েই সংস্কৃতি। মানুষের বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং উৎসব সংস্কৃতির আকর বলেই প্রতিয়মান হয়। কিন্তু বিবর্তনের ইতিহাস যদি অবলোকন করা যায় তবে প্রাচীন রীতিনীতির সঙ্গে বর্তমানের কিছু কার্যকারণ সূত্র খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। **গোপাল হালদার বলেছেন, "মানুষেরই সংস্কৃতি আছে, অন্য জীবের সংস্কৃতি বলিয়া কিছু নাই। তাহার- অর্থ মানুষ হিসেবে মানুষের আসল পরিচয়ই হলো মানুষের সংস্কৃতি। " মানুষ যেহেতু কারণে অকারণে বদলায় সেহেতু সংস্কৃতির রূপান্তর অনিবার্য। তা সে হোক জীবনের তাগিদে বা জীবিকার তাগিদে। পহেলা বৈশাখের পহেলা শব্দের ব্যুৎপত্তি প্রথম> পধমিল্ল>পহইল্ল>পহিলা>পহেলা>পয়লা। আর 'বিশাখা' নক্ষত্রের নাম হতে বৈশাখ নামটি এসেছে। বিভিন্ন পন্ডিতের মতামত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আকবরের তারিখ ই ইলাহি বঙ্গাব্দের মূল। কিন্তু এটি সৌরবছর হিসেবে গণনা করা হয়। বাংলা সনের প্রবর্তনে হিজরী সনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।মূলত ৯৬৩ হিজরী হতে সৌর বছর কেন্দ্রিক বাংলা সন গণনা শুরু হয়। বর্তমানে বাংলা একাডেমি কতৃক সংস্কারকৃত বাংলা ক্যালেন্ডার সারা বাংলাদেশে অনুসৃত হচ্ছে। phyjtjhc4zc76qomcq7efz1wi1ssie1 ব্যবহারকারী আলাপ:রাকিবুল হাসান রাসেল 3 12457 76777 76495 2026-04-14T23:02:24Z ~2026-22971-31 5166 76777 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় রাকিবুল হাসান রাসেল,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২১:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ধন্যবাদ == আমার কাজ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল|রাকিবুল হাসান রাসেল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাকিবুল হাসান রাসেল#top|আলাপ]]) ২১:২৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) helal [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) dys27g03tawxwcdojk62lfo9au1z2ln 76778 76777 2026-04-14T23:04:11Z ~2026-22971-31 5166 /* শিবরাম পুর */ নতুন অনুচ্ছেদ 76778 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় রাকিবুল হাসান রাসেল,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২১:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ধন্যবাদ == আমার কাজ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল|রাকিবুল হাসান রাসেল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাকিবুল হাসান রাসেল#top|আলাপ]]) ২১:২৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) helal [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == শিবরাম পুর == ৬০০০ [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ees5qz0877391kbsni9tqbc40iht54q 76779 76778 2026-04-14T23:06:30Z ~2026-22971-31 5166 76779 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় রাকিবুল হাসান রাসেল,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ২১:১৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == ধন্যবাদ == আমার কাজ ঠিক আছে? [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল|রাকিবুল হাসান রাসেল]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাকিবুল হাসান রাসেল#top|আলাপ]]) ২১:২৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) helal [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == শিবরাম পুর == ৬০০০ [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) ৩০০০ [[বিশেষ:অবদান/&#126;2026-22971-31|&#126;2026-22971-31]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:&#126;2026-22971-31|আলাপ]]) ২৩:০৬, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) s5hfb4vjrwi1vsnn1lg0rdgqkbqh937 হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 0 12461 76682 76527 2026-04-14T13:29:47Z Nil Nandy 2294 /* প্রাচীন বাংলার গৌরব */ 76682 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] 98c5fy4jmj1aiuezgfhauf545vdp9yl 76685 76682 2026-04-14T13:34:57Z Nil Nandy 2294 /* প্রাচীন বাংলার গৌরব */ 76685 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] t5d20m6ab7bsilgt65sf7lpiiwseey2 76687 76685 2026-04-14T13:46:10Z Nil Nandy 2294 /* প্রাচীন বাংলার গৌরব */ 76687 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] t10fi85e8g8bhy3e5masxwzmxymmgq3 76694 76687 2026-04-14T13:54:45Z Nil Nandy 2294 /* কাঞ্চনমালা */ 76694 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] lpb411d39ncx6tf29v94te4vx344fxo 76702 76694 2026-04-14T14:28:56Z Nil Nandy 2294 /* বাল্মীকির জয় */ 76702 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] ewmcr68txe2g9e4lou3ipcmlzl2kihh 76822 76702 2026-04-15T05:09:20Z Nil Nandy 2294 /* ভারতমহিলা */ 76822 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন| ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। * পৃষ্ঠা ১০ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] gpwmnqbrdpahk6uad1v3qyjlkpn8wbh 76823 76822 2026-04-15T05:11:45Z Nil Nandy 2294 /* ভারতমহিলা */ 76823 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। * পৃষ্ঠা ১০ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] cpt08burrz0og8ia8gj0i1sutg0lq1w 76824 76823 2026-04-15T05:15:38Z Nil Nandy 2294 /* ভারতমহিলা */ 76824 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] btqg8iqo7l2h176cfmo9u4pe0vjzngj 76825 76824 2026-04-15T05:19:21Z Nil Nandy 2294 /* ভারতমহিলা */ 76825 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ *ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি? ** পৃষ্ঠা ৩৩ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা],বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] b493pl1veiq1jv1l1yiao0ko5d4ypgk 76829 76825 2026-04-15T05:32:53Z Nil Nandy 2294 /* হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা */ 76829 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ *ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি? ** পৃষ্ঠা ৩৩ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা], বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> *যখন প্রথম চারি দিকে বাঙ্গালা স্কুল বসান হইতেছিল এবং লোকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, চরিতাবলী, কথামালা পড়িয়া বাঙ্গালা শিখিতেছিল, তখন তাহারা মনে করিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয়ই বাঙ্গালা ভাষার জন্মদাতা। কারণ, তাহারা ইংরাজীর অনুবাদ মাত্র পড়িত, বাঙ্গালা ভাষার যে আবার একটা সাহিত্য আছে এবং তাহার যে আবার একটা ইতিহাস আছে, ইহা কাহারও ধারণাই ছিল না। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ১ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] 9i5exm73ztpiy9ofewk9rmio8heyhei 76830 76829 2026-04-15T05:36:25Z Nil Nandy 2294 /* হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা */ 76830 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ *ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি? ** পৃষ্ঠা ৩৩ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা], বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> *যখন প্রথম চারি দিকে বাঙ্গালা স্কুল বসান হইতেছিল এবং লোকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, চরিতাবলী, কথামালা পড়িয়া বাঙ্গালা শিখিতেছিল, তখন তাহারা মনে করিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয়ই বাঙ্গালা ভাষার জন্মদাতা। কারণ, তাহারা ইংরাজীর অনুবাদ মাত্র পড়িত, বাঙ্গালা ভাষার যে আবার একটা সাহিত্য আছে এবং তাহার যে আবার একটা ইতিহাস আছে, ইহা কাহারও ধারণাই ছিল না। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ১ *আমি প্রায় পাঁচ শত পুঁথি সংগ্রহ করিয়াছিলাম। এশিয়াটিক সোসাইটির জনই সংগ্রহ করিয়াছিলাম, এশিয়াটিক সোসাইটিতে আছে। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ৩ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] f3q0klwa3amznswtr7j8t4fn7mayfsd 76832 76830 2026-04-15T05:40:27Z Nil Nandy 2294 76832 wikitext text/x-wiki '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ *ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি? ** পৃষ্ঠা ৩৩ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা], বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> *যখন প্রথম চারি দিকে বাঙ্গালা স্কুল বসান হইতেছিল এবং লোকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, চরিতাবলী, কথামালা পড়িয়া বাঙ্গালা শিখিতেছিল, তখন তাহারা মনে করিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয়ই বাঙ্গালা ভাষার জন্মদাতা। কারণ, তাহারা ইংরাজীর অনুবাদ মাত্র পড়িত, বাঙ্গালা ভাষার যে আবার একটা সাহিত্য আছে এবং তাহার যে আবার একটা ইতিহাস আছে, ইহা কাহারও ধারণাই ছিল না। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ১ *আমি প্রায় পাঁচ শত পুঁথি সংগ্রহ করিয়াছিলাম। এশিয়াটিক সোসাইটির জনই সংগ্রহ করিয়াছিলাম, এশিয়াটিক সোসাইটিতে আছে। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ৩ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] 8hpxappu1ltdjhhwgq1oia2hu7ejsr2 76868 76832 2026-04-15T07:16:03Z Nil Nandy 2294 /* হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা */ 76868 wikitext text/x-wiki '''[[:w:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী|মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]]''' <sup>সি.আই.ই, এফআরএএস</sup> (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত [[বাঙালি]] ভারততত্ত্ববিদ, [[সংস্কৃত]] বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যের]] [[ইতিহাস]] রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল '''হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য'''। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন [[চর্যাপদ|চর্যাপদের]] আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। ==উক্তি== ===প্রাচীন বাংলার গৌরব=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10996 প্রাচীন বাংলার গৌরব], বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়</small> *চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্‌ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়। **বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮ *আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল। **বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২ *তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না। **তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮ ===কাঞ্চনমালা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.338858 কাঞ্চনমালা], গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্</small> *পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি? **পৃষ্ঠা ২ ===বাল্মীকির জয়=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.289311 বাল্মীকির জয়], মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.</small> *বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।<br>বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।<br>আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!! **পৃষ্ঠা ১১ ===ভারতমহিলা=== <small>[https://archive.org/embed/in.ernet.dli.2015.316624 ভারতমহিলা], সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী</small> *যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে। **পৃষ্ঠা ১০ *স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। **পৃষ্ঠা ১১ *ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি? ** পৃষ্ঠা ৩৩ ===হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা=== <small>[https://archive.org/embed/dli.bengal.10689.10140 হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা], বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ</small> *যখন প্রথম চারি দিকে বাঙ্গালা স্কুল বসান হইতেছিল এবং লোকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, চরিতাবলী, কথামালা পড়িয়া বাঙ্গালা শিখিতেছিল, তখন তাহারা মনে করিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয়ই বাঙ্গালা ভাষার জন্মদাতা। কারণ, তাহারা ইংরাজীর অনুবাদ মাত্র পড়িত, বাঙ্গালা ভাষার যে আবার একটা সাহিত্য আছে এবং তাহার যে আবার একটা ইতিহাস আছে, ইহা কাহারও ধারণাই ছিল না। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ১ *আমি প্রায় পাঁচ শত পুঁথি সংগ্রহ করিয়াছিলাম। এশিয়াটিক সোসাইটির জন্যই সংগ্রহ করিয়াছিলাম, এশিয়াটিক সোসাইটিতে আছে। **মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ৩ ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৮৫৩-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৩১-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাসবিদ]] 53i3xaraad02069iwp5vrm50wrng33u পরকাল সম্পর্কে কুরআন 0 12468 76692 76636 2026-04-14T13:52:20Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76692 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''কুরআনে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * ** * ** * ** * ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): * ** * ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): * ** * ** * ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): * ** * ** সূরা ২১ (আল-আনবিয়া): * ** * ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): * ** * ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ২৪ (আন-নুর): * ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): * ** * ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): * ** সূরা ২৭ (আন-নামল): * ** * ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): * ** * ** * ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): * ** * ** সূরা ৩০ (আর-রুম): * ** * ** * ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): * ** * ** * ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): * ** সূরা ৩৪ (সাবা'): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৩৫ (ফাতির): * ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): * ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): * ** * ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): * ** * ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): * ** * ** == আরও দেখুন == bd0tu7bgaxshzdy6ouwdkz58m9dcfe3 76695 76692 2026-04-14T13:58:37Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76695 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''কুরআনে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * ** * ** * ** * ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): * ** * ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): * ** * ** * ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): * ** * ** সূরা ২১ (আল-আনবিয়া): * ** * ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): * ** * ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ২৪ (আন-নুর): * ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): * ** * ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): * ** সূরা ২৭ (আন-নামল): * ** * ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): * ** * ** * ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): * ** * ** সূরা ৩০ (আর-রুম): * ** * ** * ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): * ** * ** * ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): * ** সূরা ৩৪ (সাবা'): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৩৫ (ফাতির): * ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): * ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): * ** * ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): * ** * ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): * ** * ** * ** সূরা ৪১ (হা মিম): * ** * ** * ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): * ** * ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): * ** * ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): * ** == আরও দেখুন == kkj50pmfrw82fnleackeyn7slsmxf4x 76708 76695 2026-04-14T15:26:52Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76708 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''কুরআনে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * ** * ** * ** * ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): * ** * ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): * ** * ** * ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): * ** * ** সূরা ২১ (আল-আনবিয়া): * ** * ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): * ** * ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ২৪ (আন-নুর): * ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): * ** * ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): * ** সূরা ২৭ (আন-নামল): * ** * ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): * ** * ** * ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): * ** * ** সূরা ৩০ (আর-রুম): * ** * ** * ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): * ** * ** * ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): * ** সূরা ৩৪ (সাবা'): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৩৫ (ফাতির): * ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): * ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): * ** * ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): * ** * ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): * ** * ** * ** সূরা ৪১ (হা মিম): * ** * ** * ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): * ** * ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): * ** * ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): * ** * ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): * ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): * ** * ** সূরা ৫০ (ক্বফ): * ** * ** সূরা ৫২ (আত-তুর): * ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): * ** * ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): * ** * ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): * ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): * ** * ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): * ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): * ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): * ** * ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): * ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): * ** * ** * ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): * ** * ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): * ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): * ** * ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): * ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): * ** * ** সূরা ৮০ (আবাসা): * ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): * ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিত্বর): * ** * ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): * ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == cd4en3v666dxwa36lsf13b19hmztsje 76741 76708 2026-04-14T18:18:47Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76741 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''কুরআনে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): * ** সূরা ৩৪ (সাবা'): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৩৫ (ফাতির): * ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): * ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): * ** * ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): * ** * ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): * ** * ** * ** * ** * ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): * ** * ** * ** সূরা ৪১ (হা মিম): * ** * ** * ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): * ** * ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): * ** * ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): * ** * ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): * ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): * ** * ** সূরা ৫০ (ক্বফ): * ** * ** সূরা ৫২ (আত-তুর): * ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): * ** * ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): * ** * ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): * ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): * ** * ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): * ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): * ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): * ** * ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): * ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): * ** * ** * ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): * ** * ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): * ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): * ** * ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): * ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): * ** * ** সূরা ৮০ (আবাসা): * ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): * ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিত্বর): * ** * ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): * ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == 38a5fjomtfnfbc48suyv6ak7jt2c44o 76818 76741 2026-04-15T04:05:11Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76818 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''কুরআনে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): * ** * ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): * ** * ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): * ** * ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): * ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): * ** * ** সূরা ৫০ (ক্বফ): * ** * ** সূরা ৫২ (আত-তুর): * ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): * ** * ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): * ** * ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): * ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): * ** * ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): * ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): * ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): * ** * ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): * ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): * ** * ** * ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): * ** * ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): * ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): * ** * ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): * ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): * ** * ** সূরা ৮০ (আবাসা): * ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): * ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিত্বর): * ** * ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): * ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == djcy4a5yaqvkhmnorgxt4reyevmd7c1 76819 76818 2026-04-15T04:07:32Z Tanbiruzzaman 806 76819 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): * ** * ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): * ** * ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): * ** * ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): * ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): * ** * ** সূরা ৫০ (ক্বফ): * ** * ** সূরা ৫২ (আত-তুর): * ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): * ** * ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): * ** * ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): * ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): * ** * ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): * ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): * ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): * ** * ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): * ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): * ** * ** * ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): * ** * ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): * ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): * ** * ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): * ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): * ** * ** সূরা ৮০ (আবাসা): * ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): * ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিত্বর): * ** * ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): * ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == 27f33gtvinjdyb5orcfvoscihcfg9or 76888 76819 2026-04-15T08:49:24Z Tanbiruzzaman 806 76888 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): * ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): * ** * ** সূরা ৫০ (ক্বফ): * ** * ** সূরা ৫২ (আত-তুর): * ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): * ** * ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): * ** * ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): * ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): * ** * ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): * ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): * ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): * ** * ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): * ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): * ** * ** * ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): * ** * ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): * ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): * ** * ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): * ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): * ** * ** সূরা ৮০ (আবাসা): * ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): * ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিত্বর): * ** * ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): * ** * ** * ** * ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): * ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == 1gsvln4d4mseo1rkoydladt4x4vfk36 76914 76888 2026-04-15T10:33:46Z Tanbiruzzaman 806 76914 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): * ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): * ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): * ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): * ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): * ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): * ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): * ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): * ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): * ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): * ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): * ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): * ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): * ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): * ** == আরও দেখুন == q7h5kv921axjbz2p1rjl18c7v0lc3yx 76926 76914 2026-04-15T11:46:32Z Tanbiruzzaman 806 /* উক্তি */ 76926 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * সুতরাং স্মরণ করিয়ে দাও, স্মরণ করানোই তো কল্যাণকর। যে ভয় করে সে স্মরণ করবে, আর সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি তা পরিহার করবে, যে মহা অগ্নিতে দগ্ধ হবে। অতঃপর সেখানে সে বাঁচবেও না, মরবেও না। নিশ্চয়ই সে-ই সফলকাম, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর প্রার্থনা করে। কিন্তু তোমরা এই দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো, অথচ পরকালই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতে, অর্থাৎ ইব্রাহিম ও মুসার ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): ৯-১৯ * তোমার কাছে কি সেই মহাবিপর্যয়ের সংবাদ এসেছে? সেদিন অনেক মুখ হবে বিষণ্ণ, তারা পরিশ্রমে ও খাটুনিতে মত্ত থাকবে, জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে, ফুটন্ত ঝর্ণার জল পান করতে বাধ্য হবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত, যা তাদের ক্ষুধা মেটাবে না, পুষ্টিও দেবে না। সেদিন অনেক মুখ হবে আনন্দিত, তাদের প্রচেষ্টার জন্য উৎফুল্ল, এক উন্নত উদ্যানে, যেখানে তুমি কোনো বৃথা কথা শুনবে না। সেখানে আছে এক ঝর্ণা যা বয়ে চলেছে। সেখানে রয়েছে উঁচুতে স্থাপিত সিংহাসন, প্রস্তুত পানপাত্র, সারিবদ্ধ আসন এবং বিছানো গালিচা। ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): ১-১৬ * না, যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমার প্রভু ফেরেশতাদের সারি সারি নিয়ে আসবেন; এবং সেদিন জাহান্নাম প্রকাশ পাবে। সেদিন মানুষ সচেতন হবে, কিন্তু তখন সচেতন হয়ে কী লাভ হবে? সে বলবে: হায়, যদি আমি আমার জীবনের জন্য আগেই লোক পাঠাতাম! কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে শাস্তি দেবেন, সেভাবে আর কেউ দিতে পারবে না। আর সেদিন তিনি যেভাবে বাঁধবেন, সেভাবে আর কেউ বাঁধতে পারবে না। হে প্রশান্তিময় আত্মা, তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্টচিত্তে, প্রীতিকর হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের মাঝে প্রবেশ করো, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো! ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): ২১-৩০ * আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে যে তার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই? সে বলবে, আমি অনেক সম্পদ নষ্ট করেছি। সে কি মনে করে যে কেউ তাকে দেখে না? আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দিইনি এবং তার জন্য দুটি সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে দিইনি? কিন্তু সে চড়াইয়ের পথে পা বাড়ায় না; আর কিসে তুমি বুঝবে চড়াইয়ের পথ কী? (তা হলো) একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা ক্ষুধার দিনে নিকটাত্মীয় কোনো এতিমকে আহার দেওয়া, কিংবা ধুলোয় পড়ে থাকা কোনো দরিদ্রকে খাওয়ানো। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের ও দয়ার উপদেশ দেয়। এরাই ডানপন্থী। আর যারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করে, তারা বামপন্থী। এরা পরিবেষ্টিত হবে জাহান্নামের আগুনে। ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): ৪-২০ * তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নিবেদিত। অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে, নিজের কর্তব্য পালন করে এবং যা ভালো তা গ্রহণ করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই। আর যে ব্যক্তি কৃপণ এবং নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করে, আর যা ভালো তা প্রত্যাখ্যান করে, আমি তার জন্য কষ্টের পথ সুগম করে দিই। আর তার ধ্বংসের সময় তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। আমার কাজতো শুধু পথ দেখানোর, এবং নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই। সুতরাং আমি তোমাদেরকে সেই জ্বলন্ত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করছি। তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি, যে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তা থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তি, যে কর্তব্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, যে নিজেকে পবিত্র রেখে নিজের সম্পদ দান করে, এবং তার কাছে পুরস্কার হিসেবে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ছাড়া আর কোনো অনুগ্রহ নেই। আর তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন। ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): ৪-২১ * নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনি, তবে তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা কখনো শেষ হবে না। অতএব এরপর বিচার সম্পর্কে তোমাকে কে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহই কি সর্বোত্তম বিচারক নন? ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): ৪-৮ * আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করে এবং মূর্তি পূজারীরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে, সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি। তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছেই রয়েছে—চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যই, যে তার রবকে ভয় করে। ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): ৬-৮ * যখন পৃথিবী তার কম্পনে কম্পিত হবে, এবং পৃথিবী তার বোঝা বহন করে আনবে, আর মানুষ বলবে: তার কী হয়েছে? সেই দিন সে তার সংবাদ জানাবে, যেন তোমার প্রভু তাকে ওহী নাযিল করেছেন। সেই দিন মানুষ বিভিন্ন রূপে বেরিয়ে আসবে, যেন তাদের কর্মফল তাদের দেখানো হয়। সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখবে। ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): ১-৮ * নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই তিনি এর সাক্ষী। এবং অবশ্যই সম্পদের লোভে সে কৃপণ। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা পুনরুত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশিত হবে? নিশ্চয়ই তাদের রব আজ তাদের সম্পর্কে অবগত। ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): ৬-১১ * সেই মহাবিপদ! কী সেই মহাবিপদ? আর কিসে তুমি জানবে সেই মহাবিপদ কত ভয়াবহ? সেই দিন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো, আর পর্বতমালা হবে আঁচড়ানো পশমের মতো। অতঃপর যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি, সে এক সুখময় জীবন যাপন করবে। আর যার পুণ্যের পরিমাণ কম, অতল গহ্বর তার জন্য হবে জননী। আর কিসে তুমি জানবে তা কী? এক জ্বলন্ত অগ্নি। ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): ১-১১ * প্রাচুর্য তোমাকে বিপথে চালিত করে, যতক্ষণ না তুমি কবরের কাছে পৌঁছাও। না, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে, না, আবারও, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে। না, যদি তুমি নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে পারতে! তুমি অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তখন তুমি তা দৃষ্টির নিশ্চয়তায় দেখবে; তখন সেই দিনে তোমাকে অবশ্যই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): ১-৮ * দুর্ভোগ প্রত্যেক নিন্দাকারী ও অপবাদকারীর জন্য! যে সম্পদ সঞ্চয় করে ও তা হিসেব করে—সে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে স্থায়ী করবে। না, তাকে অবশ্যই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা হবে; আর কিসে তোমাকে উপলব্ধি করাবে সেই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয় কী? তা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা অন্তরসমূহের উপর উঠে আসে। নিশ্চয়ই তা দীর্ঘ স্তম্ভের আকারে সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): ১-৯ * আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। সে অগ্নিশিখা সৃষ্টিকারী আগুনে দগ্ধ হবে—এবং তার স্ত্রী, যে কিনা অপবাদের বাহক; তার গলায় থাকবে পাকানো দড়ির ফাঁস! ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): ১-৫ * যখন সেই ঘটনাটি ঘটবে, তখন তার অবশ্যম্ভাবিতা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না; যা কাউকে লাঞ্ছিত করবে, কাউকে মহিমান্বিত করবে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে। আর তোমরা তিন প্রকারের হবে। সুতরাং যারা ডান পাশে থাকবে, তারা কতই না সুখী! আর যারা বামে থাকবে, তারা কতই না হতভাগ্য! আর যারা অগ্রগামী, তারাই অগ্রগামী—এরাই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে। জান্নাতে থাকবে প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক মানুষ এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকে অল্প কিছু মানুষ। তারা খোদাই করা সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে থাকবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির-কিশোররেরা, যাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কলস এবং পবিত্র পানীয়ের পেয়ালা। এতে তাদের মাথাব্যথা হবে না, তারা মাতালও হবে না। আর থাকবে তাদের পছন্দের ফল, তাদের আকাঙ্ক্ষিত পাখির মাংস এবং গুপ্ত মুক্তার মতো পবিত্র ও সুন্দর প্রাণী। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ এই পুরস্কার। তারা সেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না -- বরং শুনবে শুধু এই বাণী, শান্তি! শান্তি! আর ডান পাশের লোকেরা; কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে এমন উদ্যানে, সেখানে কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে, আর থোকা থোকা কলাগাছের মাঝে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর কলকল করে বয়ে চলা পানিতে, আর প্রচুর ফলে, যা কিছু রুদ্ধ বা নিষিদ্ধ নয়, এবং সুউচ্চ শয্যায়। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এক (নতুন) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে কুমারী, প্রেমময়ী, সমবয়স্কা বানিয়েছি, ডান পাশের লোকদের জন্য। প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী, এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকেও এক বিশাল জনগোষ্ঠী। আর বাম পাশের লোকেরা; কতই না হতভাগ্য বাম পাশের দল! তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাসে আর ফুটন্ত পানিতে, আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সতেজকারীও নয়। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে আরামে জীবনযাপন করত। আর তারা মহা সীমালঙ্ঘনে অবিচল ছিল। আর তারা বলত: যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে? অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের লোকেরা অবশ্যই এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হবে। অতঃপর তোমরা, হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, যাক্কুম বৃক্ষের ফল খাবে এবং তা দিয়ে তোমাদের উদর পূর্ণ করবে। তারপর তা থেকে ফুটন্ত পানি পান করবে; আর তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে। প্রতিদান দিবসে এটাই তাদের আপ্যায়ন। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ১-৫৬ * তবে কেন এমন হয় না যে, যখন তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত আসে, আর তোমরা তখন তা দেখ—এবং আমি তোমাদের চেয়েও তার নিকটতর, অথচ তোমরা তা দেখো না—তাহলে কেন, যদি তোমরা কর্তৃত্বের অধীন না হও, তবে তা ফিরিয়ে দাও না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? অতঃপর যদি সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুখ, অনুগ্রহ এবং এক পরম জান্নাত। আর যদি সে ডানপন্থীদের একজন হয়, তবে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন এবং জাহান্নামের আগুন। নিশ্চয়ই এটি এক সুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ৮৩-৯৬ == আরও দেখুন == d33o7g1xaz0yb3fdsd0gd4f8f475jx2 76928 76926 2026-04-15T11:47:44Z Tanbiruzzaman 806 /* আরও দেখুন */ 76928 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * সুতরাং স্মরণ করিয়ে দাও, স্মরণ করানোই তো কল্যাণকর। যে ভয় করে সে স্মরণ করবে, আর সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি তা পরিহার করবে, যে মহা অগ্নিতে দগ্ধ হবে। অতঃপর সেখানে সে বাঁচবেও না, মরবেও না। নিশ্চয়ই সে-ই সফলকাম, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর প্রার্থনা করে। কিন্তু তোমরা এই দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো, অথচ পরকালই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতে, অর্থাৎ ইব্রাহিম ও মুসার ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): ৯-১৯ * তোমার কাছে কি সেই মহাবিপর্যয়ের সংবাদ এসেছে? সেদিন অনেক মুখ হবে বিষণ্ণ, তারা পরিশ্রমে ও খাটুনিতে মত্ত থাকবে, জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে, ফুটন্ত ঝর্ণার জল পান করতে বাধ্য হবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত, যা তাদের ক্ষুধা মেটাবে না, পুষ্টিও দেবে না। সেদিন অনেক মুখ হবে আনন্দিত, তাদের প্রচেষ্টার জন্য উৎফুল্ল, এক উন্নত উদ্যানে, যেখানে তুমি কোনো বৃথা কথা শুনবে না। সেখানে আছে এক ঝর্ণা যা বয়ে চলেছে। সেখানে রয়েছে উঁচুতে স্থাপিত সিংহাসন, প্রস্তুত পানপাত্র, সারিবদ্ধ আসন এবং বিছানো গালিচা। ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): ১-১৬ * না, যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমার প্রভু ফেরেশতাদের সারি সারি নিয়ে আসবেন; এবং সেদিন জাহান্নাম প্রকাশ পাবে। সেদিন মানুষ সচেতন হবে, কিন্তু তখন সচেতন হয়ে কী লাভ হবে? সে বলবে: হায়, যদি আমি আমার জীবনের জন্য আগেই লোক পাঠাতাম! কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে শাস্তি দেবেন, সেভাবে আর কেউ দিতে পারবে না। আর সেদিন তিনি যেভাবে বাঁধবেন, সেভাবে আর কেউ বাঁধতে পারবে না। হে প্রশান্তিময় আত্মা, তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্টচিত্তে, প্রীতিকর হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের মাঝে প্রবেশ করো, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো! ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): ২১-৩০ * আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে যে তার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই? সে বলবে, আমি অনেক সম্পদ নষ্ট করেছি। সে কি মনে করে যে কেউ তাকে দেখে না? আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দিইনি এবং তার জন্য দুটি সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে দিইনি? কিন্তু সে চড়াইয়ের পথে পা বাড়ায় না; আর কিসে তুমি বুঝবে চড়াইয়ের পথ কী? (তা হলো) একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা ক্ষুধার দিনে নিকটাত্মীয় কোনো এতিমকে আহার দেওয়া, কিংবা ধুলোয় পড়ে থাকা কোনো দরিদ্রকে খাওয়ানো। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের ও দয়ার উপদেশ দেয়। এরাই ডানপন্থী। আর যারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করে, তারা বামপন্থী। এরা পরিবেষ্টিত হবে জাহান্নামের আগুনে। ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): ৪-২০ * তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নিবেদিত। অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে, নিজের কর্তব্য পালন করে এবং যা ভালো তা গ্রহণ করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই। আর যে ব্যক্তি কৃপণ এবং নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করে, আর যা ভালো তা প্রত্যাখ্যান করে, আমি তার জন্য কষ্টের পথ সুগম করে দিই। আর তার ধ্বংসের সময় তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। আমার কাজতো শুধু পথ দেখানোর, এবং নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই। সুতরাং আমি তোমাদেরকে সেই জ্বলন্ত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করছি। তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি, যে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তা থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তি, যে কর্তব্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, যে নিজেকে পবিত্র রেখে নিজের সম্পদ দান করে, এবং তার কাছে পুরস্কার হিসেবে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ছাড়া আর কোনো অনুগ্রহ নেই। আর তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন। ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): ৪-২১ * নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনি, তবে তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা কখনো শেষ হবে না। অতএব এরপর বিচার সম্পর্কে তোমাকে কে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহই কি সর্বোত্তম বিচারক নন? ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): ৪-৮ * আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করে এবং মূর্তি পূজারীরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে, সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি। তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছেই রয়েছে—চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যই, যে তার রবকে ভয় করে। ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): ৬-৮ * যখন পৃথিবী তার কম্পনে কম্পিত হবে, এবং পৃথিবী তার বোঝা বহন করে আনবে, আর মানুষ বলবে: তার কী হয়েছে? সেই দিন সে তার সংবাদ জানাবে, যেন তোমার প্রভু তাকে ওহী নাযিল করেছেন। সেই দিন মানুষ বিভিন্ন রূপে বেরিয়ে আসবে, যেন তাদের কর্মফল তাদের দেখানো হয়। সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখবে। ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): ১-৮ * নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই তিনি এর সাক্ষী। এবং অবশ্যই সম্পদের লোভে সে কৃপণ। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা পুনরুত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশিত হবে? নিশ্চয়ই তাদের রব আজ তাদের সম্পর্কে অবগত। ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): ৬-১১ * সেই মহাবিপদ! কী সেই মহাবিপদ? আর কিসে তুমি জানবে সেই মহাবিপদ কত ভয়াবহ? সেই দিন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো, আর পর্বতমালা হবে আঁচড়ানো পশমের মতো। অতঃপর যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি, সে এক সুখময় জীবন যাপন করবে। আর যার পুণ্যের পরিমাণ কম, অতল গহ্বর তার জন্য হবে জননী। আর কিসে তুমি জানবে তা কী? এক জ্বলন্ত অগ্নি। ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): ১-১১ * প্রাচুর্য তোমাকে বিপথে চালিত করে, যতক্ষণ না তুমি কবরের কাছে পৌঁছাও। না, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে, না, আবারও, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে। না, যদি তুমি নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে পারতে! তুমি অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তখন তুমি তা দৃষ্টির নিশ্চয়তায় দেখবে; তখন সেই দিনে তোমাকে অবশ্যই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): ১-৮ * দুর্ভোগ প্রত্যেক নিন্দাকারী ও অপবাদকারীর জন্য! যে সম্পদ সঞ্চয় করে ও তা হিসেব করে—সে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে স্থায়ী করবে। না, তাকে অবশ্যই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা হবে; আর কিসে তোমাকে উপলব্ধি করাবে সেই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয় কী? তা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা অন্তরসমূহের উপর উঠে আসে। নিশ্চয়ই তা দীর্ঘ স্তম্ভের আকারে সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): ১-৯ * আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। সে অগ্নিশিখা সৃষ্টিকারী আগুনে দগ্ধ হবে—এবং তার স্ত্রী, যে কিনা অপবাদের বাহক; তার গলায় থাকবে পাকানো দড়ির ফাঁস! ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): ১-৫ * যখন সেই ঘটনাটি ঘটবে, তখন তার অবশ্যম্ভাবিতা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না; যা কাউকে লাঞ্ছিত করবে, কাউকে মহিমান্বিত করবে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে। আর তোমরা তিন প্রকারের হবে। সুতরাং যারা ডান পাশে থাকবে, তারা কতই না সুখী! আর যারা বামে থাকবে, তারা কতই না হতভাগ্য! আর যারা অগ্রগামী, তারাই অগ্রগামী—এরাই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে। জান্নাতে থাকবে প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক মানুষ এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকে অল্প কিছু মানুষ। তারা খোদাই করা সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে থাকবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির-কিশোররেরা, যাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কলস এবং পবিত্র পানীয়ের পেয়ালা। এতে তাদের মাথাব্যথা হবে না, তারা মাতালও হবে না। আর থাকবে তাদের পছন্দের ফল, তাদের আকাঙ্ক্ষিত পাখির মাংস এবং গুপ্ত মুক্তার মতো পবিত্র ও সুন্দর প্রাণী। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ এই পুরস্কার। তারা সেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না -- বরং শুনবে শুধু এই বাণী, শান্তি! শান্তি! আর ডান পাশের লোকেরা; কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে এমন উদ্যানে, সেখানে কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে, আর থোকা থোকা কলাগাছের মাঝে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর কলকল করে বয়ে চলা পানিতে, আর প্রচুর ফলে, যা কিছু রুদ্ধ বা নিষিদ্ধ নয়, এবং সুউচ্চ শয্যায়। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এক (নতুন) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে কুমারী, প্রেমময়ী, সমবয়স্কা বানিয়েছি, ডান পাশের লোকদের জন্য। প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী, এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকেও এক বিশাল জনগোষ্ঠী। আর বাম পাশের লোকেরা; কতই না হতভাগ্য বাম পাশের দল! তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাসে আর ফুটন্ত পানিতে, আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সতেজকারীও নয়। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে আরামে জীবনযাপন করত। আর তারা মহা সীমালঙ্ঘনে অবিচল ছিল। আর তারা বলত: যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে? অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের লোকেরা অবশ্যই এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হবে। অতঃপর তোমরা, হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, যাক্কুম বৃক্ষের ফল খাবে এবং তা দিয়ে তোমাদের উদর পূর্ণ করবে। তারপর তা থেকে ফুটন্ত পানি পান করবে; আর তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে। প্রতিদান দিবসে এটাই তাদের আপ্যায়ন। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ১-৫৬ * তবে কেন এমন হয় না যে, যখন তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত আসে, আর তোমরা তখন তা দেখ—এবং আমি তোমাদের চেয়েও তার নিকটতর, অথচ তোমরা তা দেখো না—তাহলে কেন, যদি তোমরা কর্তৃত্বের অধীন না হও, তবে তা ফিরিয়ে দাও না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? অতঃপর যদি সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুখ, অনুগ্রহ এবং এক পরম জান্নাত। আর যদি সে ডানপন্থীদের একজন হয়, তবে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন এবং জাহান্নামের আগুন। নিশ্চয়ই এটি এক সুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ৮৩-৯৬ == আরও দেখুন == * [[কুরআনে ন্যায়বিচার]] 7td37mz0mxd27ruc9z8frn9dnqswvxl 76929 76928 2026-04-15T11:48:28Z Tanbiruzzaman 806 /* আরও দেখুন */ 76929 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * সুতরাং স্মরণ করিয়ে দাও, স্মরণ করানোই তো কল্যাণকর। যে ভয় করে সে স্মরণ করবে, আর সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি তা পরিহার করবে, যে মহা অগ্নিতে দগ্ধ হবে। অতঃপর সেখানে সে বাঁচবেও না, মরবেও না। নিশ্চয়ই সে-ই সফলকাম, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর প্রার্থনা করে। কিন্তু তোমরা এই দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো, অথচ পরকালই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতে, অর্থাৎ ইব্রাহিম ও মুসার ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): ৯-১৯ * তোমার কাছে কি সেই মহাবিপর্যয়ের সংবাদ এসেছে? সেদিন অনেক মুখ হবে বিষণ্ণ, তারা পরিশ্রমে ও খাটুনিতে মত্ত থাকবে, জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে, ফুটন্ত ঝর্ণার জল পান করতে বাধ্য হবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত, যা তাদের ক্ষুধা মেটাবে না, পুষ্টিও দেবে না। সেদিন অনেক মুখ হবে আনন্দিত, তাদের প্রচেষ্টার জন্য উৎফুল্ল, এক উন্নত উদ্যানে, যেখানে তুমি কোনো বৃথা কথা শুনবে না। সেখানে আছে এক ঝর্ণা যা বয়ে চলেছে। সেখানে রয়েছে উঁচুতে স্থাপিত সিংহাসন, প্রস্তুত পানপাত্র, সারিবদ্ধ আসন এবং বিছানো গালিচা। ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): ১-১৬ * না, যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমার প্রভু ফেরেশতাদের সারি সারি নিয়ে আসবেন; এবং সেদিন জাহান্নাম প্রকাশ পাবে। সেদিন মানুষ সচেতন হবে, কিন্তু তখন সচেতন হয়ে কী লাভ হবে? সে বলবে: হায়, যদি আমি আমার জীবনের জন্য আগেই লোক পাঠাতাম! কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে শাস্তি দেবেন, সেভাবে আর কেউ দিতে পারবে না। আর সেদিন তিনি যেভাবে বাঁধবেন, সেভাবে আর কেউ বাঁধতে পারবে না। হে প্রশান্তিময় আত্মা, তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্টচিত্তে, প্রীতিকর হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের মাঝে প্রবেশ করো, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো! ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): ২১-৩০ * আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে যে তার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই? সে বলবে, আমি অনেক সম্পদ নষ্ট করেছি। সে কি মনে করে যে কেউ তাকে দেখে না? আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দিইনি এবং তার জন্য দুটি সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে দিইনি? কিন্তু সে চড়াইয়ের পথে পা বাড়ায় না; আর কিসে তুমি বুঝবে চড়াইয়ের পথ কী? (তা হলো) একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা ক্ষুধার দিনে নিকটাত্মীয় কোনো এতিমকে আহার দেওয়া, কিংবা ধুলোয় পড়ে থাকা কোনো দরিদ্রকে খাওয়ানো। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের ও দয়ার উপদেশ দেয়। এরাই ডানপন্থী। আর যারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করে, তারা বামপন্থী। এরা পরিবেষ্টিত হবে জাহান্নামের আগুনে। ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): ৪-২০ * তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নিবেদিত। অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে, নিজের কর্তব্য পালন করে এবং যা ভালো তা গ্রহণ করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই। আর যে ব্যক্তি কৃপণ এবং নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করে, আর যা ভালো তা প্রত্যাখ্যান করে, আমি তার জন্য কষ্টের পথ সুগম করে দিই। আর তার ধ্বংসের সময় তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। আমার কাজতো শুধু পথ দেখানোর, এবং নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই। সুতরাং আমি তোমাদেরকে সেই জ্বলন্ত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করছি। তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি, যে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তা থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তি, যে কর্তব্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, যে নিজেকে পবিত্র রেখে নিজের সম্পদ দান করে, এবং তার কাছে পুরস্কার হিসেবে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ছাড়া আর কোনো অনুগ্রহ নেই। আর তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন। ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): ৪-২১ * নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনি, তবে তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা কখনো শেষ হবে না। অতএব এরপর বিচার সম্পর্কে তোমাকে কে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহই কি সর্বোত্তম বিচারক নন? ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): ৪-৮ * আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করে এবং মূর্তি পূজারীরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে, সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি। তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছেই রয়েছে—চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যই, যে তার রবকে ভয় করে। ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): ৬-৮ * যখন পৃথিবী তার কম্পনে কম্পিত হবে, এবং পৃথিবী তার বোঝা বহন করে আনবে, আর মানুষ বলবে: তার কী হয়েছে? সেই দিন সে তার সংবাদ জানাবে, যেন তোমার প্রভু তাকে ওহী নাযিল করেছেন। সেই দিন মানুষ বিভিন্ন রূপে বেরিয়ে আসবে, যেন তাদের কর্মফল তাদের দেখানো হয়। সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখবে। ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): ১-৮ * নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই তিনি এর সাক্ষী। এবং অবশ্যই সম্পদের লোভে সে কৃপণ। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা পুনরুত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশিত হবে? নিশ্চয়ই তাদের রব আজ তাদের সম্পর্কে অবগত। ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): ৬-১১ * সেই মহাবিপদ! কী সেই মহাবিপদ? আর কিসে তুমি জানবে সেই মহাবিপদ কত ভয়াবহ? সেই দিন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো, আর পর্বতমালা হবে আঁচড়ানো পশমের মতো। অতঃপর যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি, সে এক সুখময় জীবন যাপন করবে। আর যার পুণ্যের পরিমাণ কম, অতল গহ্বর তার জন্য হবে জননী। আর কিসে তুমি জানবে তা কী? এক জ্বলন্ত অগ্নি। ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): ১-১১ * প্রাচুর্য তোমাকে বিপথে চালিত করে, যতক্ষণ না তুমি কবরের কাছে পৌঁছাও। না, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে, না, আবারও, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে। না, যদি তুমি নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে পারতে! তুমি অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তখন তুমি তা দৃষ্টির নিশ্চয়তায় দেখবে; তখন সেই দিনে তোমাকে অবশ্যই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): ১-৮ * দুর্ভোগ প্রত্যেক নিন্দাকারী ও অপবাদকারীর জন্য! যে সম্পদ সঞ্চয় করে ও তা হিসেব করে—সে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে স্থায়ী করবে। না, তাকে অবশ্যই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা হবে; আর কিসে তোমাকে উপলব্ধি করাবে সেই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয় কী? তা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা অন্তরসমূহের উপর উঠে আসে। নিশ্চয়ই তা দীর্ঘ স্তম্ভের আকারে সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): ১-৯ * আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। সে অগ্নিশিখা সৃষ্টিকারী আগুনে দগ্ধ হবে—এবং তার স্ত্রী, যে কিনা অপবাদের বাহক; তার গলায় থাকবে পাকানো দড়ির ফাঁস! ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): ১-৫ * যখন সেই ঘটনাটি ঘটবে, তখন তার অবশ্যম্ভাবিতা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না; যা কাউকে লাঞ্ছিত করবে, কাউকে মহিমান্বিত করবে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে। আর তোমরা তিন প্রকারের হবে। সুতরাং যারা ডান পাশে থাকবে, তারা কতই না সুখী! আর যারা বামে থাকবে, তারা কতই না হতভাগ্য! আর যারা অগ্রগামী, তারাই অগ্রগামী—এরাই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে। জান্নাতে থাকবে প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক মানুষ এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকে অল্প কিছু মানুষ। তারা খোদাই করা সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে থাকবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির-কিশোররেরা, যাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কলস এবং পবিত্র পানীয়ের পেয়ালা। এতে তাদের মাথাব্যথা হবে না, তারা মাতালও হবে না। আর থাকবে তাদের পছন্দের ফল, তাদের আকাঙ্ক্ষিত পাখির মাংস এবং গুপ্ত মুক্তার মতো পবিত্র ও সুন্দর প্রাণী। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ এই পুরস্কার। তারা সেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না -- বরং শুনবে শুধু এই বাণী, শান্তি! শান্তি! আর ডান পাশের লোকেরা; কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে এমন উদ্যানে, সেখানে কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে, আর থোকা থোকা কলাগাছের মাঝে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর কলকল করে বয়ে চলা পানিতে, আর প্রচুর ফলে, যা কিছু রুদ্ধ বা নিষিদ্ধ নয়, এবং সুউচ্চ শয্যায়। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এক (নতুন) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে কুমারী, প্রেমময়ী, সমবয়স্কা বানিয়েছি, ডান পাশের লোকদের জন্য। প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী, এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকেও এক বিশাল জনগোষ্ঠী। আর বাম পাশের লোকেরা; কতই না হতভাগ্য বাম পাশের দল! তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাসে আর ফুটন্ত পানিতে, আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সতেজকারীও নয়। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে আরামে জীবনযাপন করত। আর তারা মহা সীমালঙ্ঘনে অবিচল ছিল। আর তারা বলত: যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে? অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের লোকেরা অবশ্যই এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হবে। অতঃপর তোমরা, হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, যাক্কুম বৃক্ষের ফল খাবে এবং তা দিয়ে তোমাদের উদর পূর্ণ করবে। তারপর তা থেকে ফুটন্ত পানি পান করবে; আর তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে। প্রতিদান দিবসে এটাই তাদের আপ্যায়ন। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ১-৫৬ * তবে কেন এমন হয় না যে, যখন তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত আসে, আর তোমরা তখন তা দেখ—এবং আমি তোমাদের চেয়েও তার নিকটতর, অথচ তোমরা তা দেখো না—তাহলে কেন, যদি তোমরা কর্তৃত্বের অধীন না হও, তবে তা ফিরিয়ে দাও না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? অতঃপর যদি সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুখ, অনুগ্রহ এবং এক পরম জান্নাত। আর যদি সে ডানপন্থীদের একজন হয়, তবে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন এবং জাহান্নামের আগুন। নিশ্চয়ই এটি এক সুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ৮৩-৯৬ == আরও দেখুন == * [[কুরআনে ন্যায়বিচার]] [[বিষয়শ্রেণী:কুরআন]] [[বিষয়শ্রেণী:ন্যায়বিচার]] i4clc8ijszw6pksnalqeiqd3shksk4x 76930 76929 2026-04-15T11:48:50Z Tanbiruzzaman 806 /* আরও দেখুন */ 76930 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * সুতরাং স্মরণ করিয়ে দাও, স্মরণ করানোই তো কল্যাণকর। যে ভয় করে সে স্মরণ করবে, আর সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি তা পরিহার করবে, যে মহা অগ্নিতে দগ্ধ হবে। অতঃপর সেখানে সে বাঁচবেও না, মরবেও না। নিশ্চয়ই সে-ই সফলকাম, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর প্রার্থনা করে। কিন্তু তোমরা এই দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো, অথচ পরকালই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতে, অর্থাৎ ইব্রাহিম ও মুসার ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): ৯-১৯ * তোমার কাছে কি সেই মহাবিপর্যয়ের সংবাদ এসেছে? সেদিন অনেক মুখ হবে বিষণ্ণ, তারা পরিশ্রমে ও খাটুনিতে মত্ত থাকবে, জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে, ফুটন্ত ঝর্ণার জল পান করতে বাধ্য হবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত, যা তাদের ক্ষুধা মেটাবে না, পুষ্টিও দেবে না। সেদিন অনেক মুখ হবে আনন্দিত, তাদের প্রচেষ্টার জন্য উৎফুল্ল, এক উন্নত উদ্যানে, যেখানে তুমি কোনো বৃথা কথা শুনবে না। সেখানে আছে এক ঝর্ণা যা বয়ে চলেছে। সেখানে রয়েছে উঁচুতে স্থাপিত সিংহাসন, প্রস্তুত পানপাত্র, সারিবদ্ধ আসন এবং বিছানো গালিচা। ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): ১-১৬ * না, যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমার প্রভু ফেরেশতাদের সারি সারি নিয়ে আসবেন; এবং সেদিন জাহান্নাম প্রকাশ পাবে। সেদিন মানুষ সচেতন হবে, কিন্তু তখন সচেতন হয়ে কী লাভ হবে? সে বলবে: হায়, যদি আমি আমার জীবনের জন্য আগেই লোক পাঠাতাম! কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে শাস্তি দেবেন, সেভাবে আর কেউ দিতে পারবে না। আর সেদিন তিনি যেভাবে বাঁধবেন, সেভাবে আর কেউ বাঁধতে পারবে না। হে প্রশান্তিময় আত্মা, তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্টচিত্তে, প্রীতিকর হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের মাঝে প্রবেশ করো, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো! ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): ২১-৩০ * আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে যে তার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই? সে বলবে, আমি অনেক সম্পদ নষ্ট করেছি। সে কি মনে করে যে কেউ তাকে দেখে না? আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দিইনি এবং তার জন্য দুটি সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে দিইনি? কিন্তু সে চড়াইয়ের পথে পা বাড়ায় না; আর কিসে তুমি বুঝবে চড়াইয়ের পথ কী? (তা হলো) একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা ক্ষুধার দিনে নিকটাত্মীয় কোনো এতিমকে আহার দেওয়া, কিংবা ধুলোয় পড়ে থাকা কোনো দরিদ্রকে খাওয়ানো। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের ও দয়ার উপদেশ দেয়। এরাই ডানপন্থী। আর যারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করে, তারা বামপন্থী। এরা পরিবেষ্টিত হবে জাহান্নামের আগুনে। ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): ৪-২০ * তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নিবেদিত। অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে, নিজের কর্তব্য পালন করে এবং যা ভালো তা গ্রহণ করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই। আর যে ব্যক্তি কৃপণ এবং নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করে, আর যা ভালো তা প্রত্যাখ্যান করে, আমি তার জন্য কষ্টের পথ সুগম করে দিই। আর তার ধ্বংসের সময় তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। আমার কাজতো শুধু পথ দেখানোর, এবং নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই। সুতরাং আমি তোমাদেরকে সেই জ্বলন্ত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করছি। তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি, যে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তা থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তি, যে কর্তব্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, যে নিজেকে পবিত্র রেখে নিজের সম্পদ দান করে, এবং তার কাছে পুরস্কার হিসেবে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ছাড়া আর কোনো অনুগ্রহ নেই। আর তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন। ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): ৪-২১ * নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনি, তবে তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা কখনো শেষ হবে না। অতএব এরপর বিচার সম্পর্কে তোমাকে কে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহই কি সর্বোত্তম বিচারক নন? ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): ৪-৮ * আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করে এবং মূর্তি পূজারীরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে, সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি। তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছেই রয়েছে—চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যই, যে তার রবকে ভয় করে। ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): ৬-৮ * যখন পৃথিবী তার কম্পনে কম্পিত হবে, এবং পৃথিবী তার বোঝা বহন করে আনবে, আর মানুষ বলবে: তার কী হয়েছে? সেই দিন সে তার সংবাদ জানাবে, যেন তোমার প্রভু তাকে ওহী নাযিল করেছেন। সেই দিন মানুষ বিভিন্ন রূপে বেরিয়ে আসবে, যেন তাদের কর্মফল তাদের দেখানো হয়। সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখবে। ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): ১-৮ * নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই তিনি এর সাক্ষী। এবং অবশ্যই সম্পদের লোভে সে কৃপণ। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা পুনরুত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশিত হবে? নিশ্চয়ই তাদের রব আজ তাদের সম্পর্কে অবগত। ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): ৬-১১ * সেই মহাবিপদ! কী সেই মহাবিপদ? আর কিসে তুমি জানবে সেই মহাবিপদ কত ভয়াবহ? সেই দিন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো, আর পর্বতমালা হবে আঁচড়ানো পশমের মতো। অতঃপর যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি, সে এক সুখময় জীবন যাপন করবে। আর যার পুণ্যের পরিমাণ কম, অতল গহ্বর তার জন্য হবে জননী। আর কিসে তুমি জানবে তা কী? এক জ্বলন্ত অগ্নি। ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): ১-১১ * প্রাচুর্য তোমাকে বিপথে চালিত করে, যতক্ষণ না তুমি কবরের কাছে পৌঁছাও। না, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে, না, আবারও, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে। না, যদি তুমি নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে পারতে! তুমি অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তখন তুমি তা দৃষ্টির নিশ্চয়তায় দেখবে; তখন সেই দিনে তোমাকে অবশ্যই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): ১-৮ * দুর্ভোগ প্রত্যেক নিন্দাকারী ও অপবাদকারীর জন্য! যে সম্পদ সঞ্চয় করে ও তা হিসেব করে—সে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে স্থায়ী করবে। না, তাকে অবশ্যই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা হবে; আর কিসে তোমাকে উপলব্ধি করাবে সেই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয় কী? তা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা অন্তরসমূহের উপর উঠে আসে। নিশ্চয়ই তা দীর্ঘ স্তম্ভের আকারে সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): ১-৯ * আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। সে অগ্নিশিখা সৃষ্টিকারী আগুনে দগ্ধ হবে—এবং তার স্ত্রী, যে কিনা অপবাদের বাহক; তার গলায় থাকবে পাকানো দড়ির ফাঁস! ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): ১-৫ * যখন সেই ঘটনাটি ঘটবে, তখন তার অবশ্যম্ভাবিতা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না; যা কাউকে লাঞ্ছিত করবে, কাউকে মহিমান্বিত করবে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে। আর তোমরা তিন প্রকারের হবে। সুতরাং যারা ডান পাশে থাকবে, তারা কতই না সুখী! আর যারা বামে থাকবে, তারা কতই না হতভাগ্য! আর যারা অগ্রগামী, তারাই অগ্রগামী—এরাই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে। জান্নাতে থাকবে প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক মানুষ এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকে অল্প কিছু মানুষ। তারা খোদাই করা সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে থাকবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির-কিশোররেরা, যাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কলস এবং পবিত্র পানীয়ের পেয়ালা। এতে তাদের মাথাব্যথা হবে না, তারা মাতালও হবে না। আর থাকবে তাদের পছন্দের ফল, তাদের আকাঙ্ক্ষিত পাখির মাংস এবং গুপ্ত মুক্তার মতো পবিত্র ও সুন্দর প্রাণী। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ এই পুরস্কার। তারা সেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না -- বরং শুনবে শুধু এই বাণী, শান্তি! শান্তি! আর ডান পাশের লোকেরা; কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে এমন উদ্যানে, সেখানে কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে, আর থোকা থোকা কলাগাছের মাঝে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর কলকল করে বয়ে চলা পানিতে, আর প্রচুর ফলে, যা কিছু রুদ্ধ বা নিষিদ্ধ নয়, এবং সুউচ্চ শয্যায়। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এক (নতুন) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে কুমারী, প্রেমময়ী, সমবয়স্কা বানিয়েছি, ডান পাশের লোকদের জন্য। প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী, এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকেও এক বিশাল জনগোষ্ঠী। আর বাম পাশের লোকেরা; কতই না হতভাগ্য বাম পাশের দল! তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাসে আর ফুটন্ত পানিতে, আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সতেজকারীও নয়। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে আরামে জীবনযাপন করত। আর তারা মহা সীমালঙ্ঘনে অবিচল ছিল। আর তারা বলত: যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে? অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের লোকেরা অবশ্যই এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হবে। অতঃপর তোমরা, হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, যাক্কুম বৃক্ষের ফল খাবে এবং তা দিয়ে তোমাদের উদর পূর্ণ করবে। তারপর তা থেকে ফুটন্ত পানি পান করবে; আর তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে। প্রতিদান দিবসে এটাই তাদের আপ্যায়ন। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ১-৫৬ * তবে কেন এমন হয় না যে, যখন তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত আসে, আর তোমরা তখন তা দেখ—এবং আমি তোমাদের চেয়েও তার নিকটতর, অথচ তোমরা তা দেখো না—তাহলে কেন, যদি তোমরা কর্তৃত্বের অধীন না হও, তবে তা ফিরিয়ে দাও না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? অতঃপর যদি সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুখ, অনুগ্রহ এবং এক পরম জান্নাত। আর যদি সে ডানপন্থীদের একজন হয়, তবে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন এবং জাহান্নামের আগুন। নিশ্চয়ই এটি এক সুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ৮৩-৯৬ == আরও দেখুন == * [[কুরআনে ন্যায়বিচার]] [[বিষয়শ্রেণী:কুরআন]] [[বিষয়শ্রেণী:ভবিষ্যত]] 8om4xahlaumaicp48r3r27mknmkqeu1 76931 76930 2026-04-15T11:49:48Z Tanbiruzzaman 806 76931 wikitext text/x-wiki পবিত্র ধর্মগ্রন্থ '''[[কুরআন]]ে''' পরকাল জীবন সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কেয়ামত, কবর থেকে পুনরুত্থান, মানবজাতির বিচার, চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাত এবং চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুন। == উক্তি == * এবং সেই দিনের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সতর্ক রাখো, যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার পক্ষে কোনো সুপারিশ গৃহীত হবে না, তার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৪৮ * অথচ তোমরাই তো তোমাদের জাতিকে হত্যা করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তাদের ঘর থেকে বিতাড়িত করো, অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে উস্কানি দাও এবং সীমা লঙ্ঘন করো। আর যদি তারা তোমাদের কাছে বন্দী হয়ে আসত, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে, অথচ তাদের বিতাড়িত করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তাহলে কি তোমরা কিতাবের এক অংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশে অবিশ্বাস করো? তবে তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফেরত পাঠানো হবে। আর তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন নন। এরাই তারা, যারা পরকালের জন্য এই দুনিয়ার জীবন কিনে নেয়, সুতরাং তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ):৮৫-৮৬ * বল, যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাসস্থল অন্য লোক ব্যাতীত বিশেষভাবে তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামণা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনো তা কমণা করবে না, এবং আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ৯৪-৯৫ * আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, এবং খ্রিস্টানরাও বলে, ইহুদিরা কোনো ভালো কিছুর অনুসরণ করে না, অথচ তারা একই কিতাব পাঠ করে। জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা তাদের মতোই কথা বলে। সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে বিচার করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যে মানুষকে আল্লাহর মসজিদ থেকে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের জন্য ভয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা শোভনীয় ছিল না। তাদের জন্য এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১১৩-১১৪ * এবং সেই দিনের জন্য সতর্ক থেকো, যেদিন কোনো প্রাণী অন্যের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদানও গৃহীত হবে না, তার সুপারিশেও কোনো লাভ হবে না এবং তারাও কোনো সাহায্য পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৩ * আর যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরটিকে একটি নিরাপদ নগরী বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূলের জোগান দিন, তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: আর যে অবিশ্বাস করবে, আমি তাকে অল্প সময়ের জন্য ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করব। আর তা এক নিকৃষ্ট গন্তব্য। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১২৬ * তথাপি এমন কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে উপাসনার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে, যাদেরকে তারা আল্লাহর মতোই ভালোবাসে। আর যারা বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী। আর হায়, যদি অন্যায়কারীরা দেখতে পেত, যখন তারা শাস্তি দেখবে, যে ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এবং আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর! যখন অনুগামীরা তাদের অনুসারীদের ত্যাগ করে, এবং তারা শাস্তি দেখে ও তাদের বন্ধন ছিন্ন হতে দেখে। আর অনুসারীরা বলবে: যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরাও তাদের ত্যাগ করতাম, যেমন তারা আমাদের ত্যাগ করেছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে তীব্র অনুশোচনায় ফেলবেন এবং তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ১৬৫-১৬৭ * আর যখন তোমরা তোমাদের ইবাদত সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রশংসা করতে, বরং আরও আন্তরিকভাবে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন। আর তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২০০-২০১ * তারা এই আশায়ই অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের কাছে আসবেন এবং বিষয়টি (পূর্বেই) নির্ধারিত। আর সকল কিছুই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১০ * তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। বলো: এতে যুদ্ধ করা একটি গুরুতর অপরাধ। আর আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেওয়া, তাঁকে ও পবিত্র মসজিদকে অস্বীকার করা এবং এর অধিবাসীদেরকে তা থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর অপরাধ। আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করবে না, যদি তারা পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ধর্ম থেকে ফিরে যায়, সে কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। এদেরই কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে নিষ্ফল হয়ে যায়। আর তারাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। ** সূরা ২ (আল বাকারাহ): ২১৭ * যারা আল্লাহর বাণীকে অবিশ্বাস করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতে চায় ও ন্যায়বিচারের আদেশকারী মানুষদের হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। এরাই তারা, যাদের কর্ম এই দুনিয়া ও পরকালে কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেয়, কিন্তু তাদের একটি দল ফিরে যায় এবং তারা সরে পড়ে। এর কারণ হলো, তারা বলে: জাহান্নামের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য; এবং তারা যা মিথ্যা রচনা করে, তা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদেরকে ধোঁকা দেয়। অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্রিত করব, যে দিন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই? আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ২১-২৫ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা তার কৃত সৎকর্ম এবং কৃত মন্দকর্মের ফল ভোগ করবে এবং চাইবে যে, তার ও সেই (মন্দ) কাজের মধ্যে যেন অনেক দূরত্ব থাকত। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে সতর্ক করছেন। এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময়। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৩০ * যখন ফেরেশতারা বললেন: হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর মাধ্যমে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ, ঈসা, মারিয়ামের পুত্র, যিনি এই দুনিয়া ও পরকালে সমাদৃত এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৪৫ * যখন আল্লাহ বললেন: হে ঈসা, আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং আমার কাছে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করব, অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে মুক্ত করব এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, তাদেরকে অবিশ্বাসীদের উপরে স্থান দেব। অতঃপর আমার কাছেই তোমার প্রত্যাবর্তন, সুতরাং যে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ আছে, সে বিষয়ে আমিই ফয়সালা করে দেব। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৫৫ * যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের জন্য সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, পুনরুত্থানের দিনে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৭৭ * আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অন্বেষণ করে, তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ৮৫ * সেই দিনে, যখন (কিছু) মুখমণ্ডল সাদা হয়ে যাবে এবং (কিছু) মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো, তাদের বলছি: তোমরা কি ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। আর যাদের মুখমণ্ডল সাদা, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। ** সূরা ৩ (আল ইমরান): ১০৬-১০৭ * কিন্তু কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব? সেদিন যারা রাসূলের অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা করেছিল, তারা চাইবে যে পৃথিবী যেন তাদের সাথে মিশে যায়। আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো সত্যই গোপন করতে পারবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৪১-৪২ * যারা আমার বাণীসমূহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো। যতবারই তাদের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া হবে, আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া প্রদান করবো, যাতে তারা শাস্তির আস্বাদ লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৫৬ * তুমি কি তাদের দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল: তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। কিন্তু যখন তাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করা হয়, তখন দেখো! তাদের একটি দল মানুষকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, অথবা তার চেয়েও বেশি ভয় করে, এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করেছ? তুমি কি আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দিতে পারো না? বলো: এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণস্থায়ী, এবং যে তার কর্তব্য পালন করে, তার জন্য পরকালই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। ** সূরা ৪ (আন-নিসা): ৭৭ * যারা অবিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্তিপণ দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ও তার অনুরূপ কিছু থাকলেও তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। ** সূরা ৫ (আল-মা'য়িদাহ): ৩৬-৩৭ * আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, সেদিন আমি তাদেরকে বলব, যারা (আল্লাহর সাথে) উপাস্য স্থাপন করেছে: তোমাদের সেই অংশীদার উপাস্যগুলো কোথায়, যাদের কথা তোমরা বলেছিলে? তখন তাদের অজুহাত শুধু এইটুকুই হবে যে, তারা বলবে: আল্লাহর কসম, আমাদের রব! আমরা বহুঈশ্বরবাদী ছিলাম না। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২২-২৩ * আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো! আমরা আমাদের রবের বাণী প্রত্যাখ্যান করতাম না, বরং মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং যা তারা আগে গোপন করেছিল, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়, তবে তারা অবশ্যই সেই কাজে ফিরে যাবে যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ, এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে! তিনি বলবেন: এটাই কি সত্য নয়? তারা বলবে: হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম! তিনি বলবেন: তাহলে শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে, অবশেষে যখন তাদের উপর হঠাৎ সেই মুহূর্ত এসে পড়বে, তখন তারা বলবে: হায়, আমাদের কী দুঃখ, কেন আমরা তা অবহেলা করেছি! আর তারা তাদের বোঝা পিঠে বহন করে। এখন নিশ্চয়ই যা তারা বহন করে তা মন্দ! আর এই দুনিয়ার জীবন একটি খেলা ও নিষ্ফল ক্রীড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম। তবে কি তোমরা বোঝো না? ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ২৭-৩২ * আর তার চেয়ে বড় জালিয়াত কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই অবতীর্ণ হয়নি; এবং যে বলে: ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার অনুরূপ কিছু অবতীর্ণ করতে পারি’? আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে, তবে তোমাদের আত্মা সমর্পণ করো। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দেওয়া হলো, কারণ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ছাড়া অন্য কথা বলেছ এবং তাঁর বাণীসমূহকে অবজ্ঞা করেছ। আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে একে একে এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে যে তারা তোমাদের অংশীদার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা সম্পর্কে তোমরা দাবি করেছিলে, তা তোমাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ৯৩-৯৪ * আর সেই দিনে, যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন: হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের এক বিরাট অংশকে তুলে নিয়েছ। আর মানুষের মধ্য থেকে তাদের বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদে পৌঁছে গেছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলে। তিনি বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের বাসস্থান—তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে আল্লাহ যা চান সেরূপ ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১২৮-১৩০ * তারা ফেরেশতাদের আগমন, তোমার রবের আগমন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবধি অপেক্ষা করে। যেদিন তোমার রবের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হবে, সেদিন সেই বিশ্বাস সেই আত্মার কোনো উপকারে আসবে না, যে পূর্বে বিশ্বাস করেনি এবং তার বিশ্বাসের দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। বলুন: অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। ** সূরা ৬ (আল-আন'আম): ১৫৮ * আর সেই দিনের বিচার হবে ন্যায়সঙ্গত; সুতরাং যাদের নেক আমল ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের নেক আমল হালকা, তারাই নিজেদের আত্মাকে ধ্বংস করেছে, কারণ তারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করেছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৮-৯ * তিনি বলবেন: তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে যাওয়া জিন ও মানুষের জাতিসমূহের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো। যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা তাদের সহ জাতিকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একে অপরের অনুসরণ করে তাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের শেষজন প্রথমজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং তুমি এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দাও। তিনি বলবেন: প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর তাদের প্রথমজন শেষজনকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোনো প্রাধান্য নেই, সুতরাং তোমরা যা অর্জন করেছ, তার শাস্তি আস্বাদন করো। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৩৮-৩৯ * তাদের জন্য থাকবে জাহান্নামের শয্যা এবং তার আচ্ছাদন। আর এভাবেই আমি অন্যায়কারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি কোনো আত্মার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কর্তব্য আরোপ করি না; তারাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু বিদ্বেষ আছে, আমি তা দূর করে দেব; তাদের নিচে নদী বয়ে চলে। আর তারা বলবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই পথ দেখিয়েছেন! আর আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন, তবে আমরা এই পথ খুঁজে পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন। আর তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে দেওয়া হয়েছে। আর জান্নাতের মালিকরা জাহান্নামের সঙ্গীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের রব আমাদেরকে যা সত্য বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা পেয়েছি; তোমরাও কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা সত্য বলে পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্যে একজন ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিশাপ সেই অন্যায়কারীদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়, আর পরকালে তারা কাফের। আর তাদের মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। আর উত্তম স্থানসমূহে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের চিহ্ন দ্বারা সকলকে চেনে। আর তারা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তারা এখনো তাতে প্রবেশ করেনি, যদিও তারা আশা রাখে। আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের সঙ্গীদের দিকে ফেরে, তখন তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অন্যায়কারীদের সাথে রেখো না। আর উত্তম স্থানসমূহের মালিকরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চেনা লোকদের ডেকে বলে: তোমাদের সম্পদ সঞ্চয় ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করেছিলে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন না? জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমাদের কোনো ভয় নেই, আর তোমরা দুঃখিতও হবে না। আর জাহান্নামের সঙ্গীরা জান্নাতের মালিকদের ডেকে বলে: আমাদের উপর কিছু পানি অথবা আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু রেখেছেন, তা থেকে কিছু ঢেলে দাও। তারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য উভয়কেই হারাম করেছেন, যারা তাদের ধর্মকে এক নিষ্ফল খেলা ও ক্রীড়া মনে করে এবং এই দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিল এবং যেমন তারা আমার বার্তাগুলোকে অস্বীকার করেছিল। আর নিশ্চয়ই আমি তাদের জন্য এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জ্ঞান দ্বারা সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তারা কি এর চূড়ান্ত পরিণতি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? যেদিন এর চূড়ান্ত পরিণতি আসবে, সেদিন যারা পূর্বে একে অবহেলা করেছিল, তারা বলবে: নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের পক্ষে কি কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে আমরা যা করেছি তার থেকে ভিন্ন কিছু করি? নিশ্চয়ই তারা তাদের আত্মাকে হারিয়েছে এবং যা তারা গড়ে তুলেছিল তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ** সূরা ৭ (আল-আ'রফ): ৪১-৫৩ * হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই বহু আইনজ্ঞ ও সন্ন্যাসী মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে বাধা দেয়। আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দাও। যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, সেদিন তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। এটাই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার আস্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৩৪-৩৫ * আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। এছাড়াও রয়েছে চিরস্থায়ী আবাসের জান্নাতে উত্তম বাসস্থান। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য। ** সূরা ৯ (আল-বার'আত): ৭২ * যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে না, এবং এই দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার বাণী উপেক্ষা করে—তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাস হলো জাহান্নাম। যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের ঈমানের দ্বারা তাদের পথ দেখান; তাদের আনন্দময় জান্নাতের নিচে নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদের জয়ধ্বনি হবে, ‘হে আল্লাহ, তোমার পবিত্রতা’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘শান্তি’! আর তাদের শেষ জয়ধ্বনি হবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব!’ আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য মন্দের পরিণতি ত্বরান্বিত করতেন, যেমন তারা সৎকর্মের জন্য করে, তবে তাদের ধ্বংস অবশ্যই নির্ধারিত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘনের মধ্যে, অন্ধের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই, যাদের আমার সাথে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৭-১১ * তিনিই তোমাদেরকে স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করান; অবশেষে যখন তোমরা জাহাজে থাকো এবং সেগুলো মনোরম বাতাসে চলতে থাকে ও তোমরা তাতে আনন্দিত হও, তখন এক প্রচণ্ড বাতাস তোমাদেরকে গ্রাস করে এবং চারদিক থেকে ঢেউ আছড়ে পড়ে, আর তোমরা মনে করো যে তোমরা চারিদিক থেকে পরিবেষ্টিত হয়ে গেছো। তখন তোমরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে প্রার্থনা করো: যদি তুমি আমাদেরকে এ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন দেখো! তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহী হয়ে আছে। হে মানুষ, তোমাদের এই বিদ্রোহ তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, যা এই পার্থিব জীবনের এক বিধান মাত্র। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, সুতরাং তোমরা যা করেছ, আমি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেব। এই পার্থিব জীবনের উপমা তো কেবল সেই পানির মতো, যা আমি মেঘ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে পৃথিবীর তৃণভূমি প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। অবশেষে যখন পৃথিবী তার স্বর্ণবস্ত্র পরিধান করে ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা নিজেদেরকে তার মালিক মনে করে, তখন দিন বা রাতে তার কাছে আমার আদেশ আসে, আর আমি তাকে এমনভাবে শস্যের মতো করে দিই, যেন গতকালও তা সতেজ ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা স্পষ্ট করে দিই। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম (পুরস্কার) এবং তার চেয়েও বেশি। অন্ধকার বা অপমান তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না। এরাই জান্নাতের মালিক; সেখানেই তারা থাকবে। আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের জন্য মন্দের শাস্তিও মন্দের মতোই এবং লাঞ্ছনা তাদেরকে আবৃত করবে; আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ থাকবে না—যেন তাদের মুখমণ্ডল রাতের ঘন অন্ধকারের খণ্ডাংশ দিয়ে আবৃত। এরাই জাহান্নামের সঙ্গী; সেখানেই তারা থাকবে। আর সেই দিনে যখন আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব, তখন আমি তাদের বলব, যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার করেছিল: তোমরা যেখানে আছ সেখানেই থাকো, তোমরা এবং তোমাদের অংশীদার-উপাসকগণ। অতঃপর আমি তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব এবং তাদের অংশীদাররা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী যে, তোমরা যে আমাদের ইবাদত কর, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্বের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ২২-৩০ * আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্রিত করবেন, সেদিন তারা এমনভাবে একে অপরকে চিনতে পারবে, যেন তারা দিনের মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করে না। ** সূরা ১০ (ইউনুস): ৪৫ * যে এই দুনিয়ার জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা সেখানেই তাদের কর্মের প্রতিদান দিই এবং তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেখানে তাদের সমস্ত কাজ নিষ্ফল এবং তাদের কর্ম নিষ্ফল। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৫-১৬ * আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে? এদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের রবের বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর অভিশাপ সেই জালিমদের উপর, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয় এবং সেই পথকে বক্র করতে চায়। আর পরকালে তারা কাফির। ** সূরা ১১ (হুদ): ১৮-১৯ * আর অবশ্যই আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও এক প্রিয় কর্তৃত্বসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশই পালন করেছিল এবং ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না। সে কিয়ামতের দিনে তার জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করবে। আর কী নিকৃষ্ট সেই স্থান, যেখানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে! আর এই দুনিয়াতে ও কিয়ামতের দিনে তারা এক অভিশাপ দ্বারা আচ্ছন্ন হবে। কী নিকৃষ্ট সেই উপহার, যা দেওয়া হবে! ** সূরা ১১ (হুদ): ৯৬-৯৯ * আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। আর আল্লাহ ব্যতীত তারা যে সকল উপাস্যকে ডাকত, তোমার রবের বিধান যখন বাস্তবায়িত হলো, তখন সেগুলো তাদের কোনো কাজেই এলো না। আর তারা তাদের সাথে ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই যোগ করেনি। আর এটাই তোমার রবের শাস্তি, যখন তিনি সেই জনপদগুলোকে শাস্তি দেন, যেগুলো অন্যায়কারী। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর। নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। সেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং সেদিন প্রত্যক্ষ করার দিন। আর আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত এতে বিলম্ব করি না। যেদিন তা আসবে, সেদিন কোনো আত্মাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কথা বলবে না; সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুখী হবে এবং কেউ কেউ সুখী হবে। অতঃপর যারা অসুখী হবে, তারা জাহান্নামে থাকবে; সেখানে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ও আর্তনাদ করবে—আকাশ ও পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন তারা সেখানেই থাকবে, তবে তোমার রবের ইচ্ছানুযায়ী। নিশ্চয়ই তোমার রব যা করতে চান, তাই করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান হবে, তারা জান্নাতে ততদিন থাকবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছানুযায়ী—এমন এক উপহার যা কখনো ছিন্ন করা যাবে না। ** সূরা ১১ (হুদ): ১০১-১০৮ * তবে তিনিই কি সেই সত্তা, যিনি প্রত্যেক আত্মার কর্মের উপর নজর রাখেন? অথচ তারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে! বলুন: তাদের নাম দাও। তোমরা কি তাঁকে এমন কিছুর কথা জানাবে যা তিনি জানেন না, যা পৃথিবীতে আছে, অথবা কোনো বাহ্যিক কথার কথা? বরং তাদের পরিকল্পনা অবিশ্বাসীদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পথ থেকে দূরে রাখা হয়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট রাখেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শাস্তি রয়েছে এবং পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরও কঠিন। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি উপমা: সেখানে নদী প্রবাহিত হয়। তার ফল অফুরন্ত এবং প্রাচুর্যময়। যারা কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য এমনই পরিণতি; আর অবিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি হলো জাহান্নাম। ** সূরা ১৩ (আর-র'দ): ৩৩-৩৫ * আর তারা সকলেই আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে, অতঃপর দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল আত্মম্ভরী: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, তোমরা কি আমাদের থেকে আল্লাহর শাস্তির কোনো অংশই এড়াতে পারবে? তারা বলবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, তবে আমরাও তোমাদেরকে পথ দেখাতাম। আমরা কাঁদি বা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য তাতে কোনোই লাভ নেই; আমাদের জন্য কোনো নিস্তার নেই। আর যখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে সত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অতঃপর তোমাদেরকে ব্যর্থ করেছি। আর তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার আনুগত্য করেছিলে; সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, বরং নিজেদেরকেই দোষ দাও। আমি তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি না, আর তোমরাও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো না। আমি তোমাদের দ্বারা পূর্বে আমাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করার বিষয়টি অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় এবং তারা সেখানে তাদের রবের অনুমতিতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের অভিবাদন হলো, শান্তি! ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ২১-২৩ * আর তোমরা মনে করো না যে, অন্যায়কারীরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিনের জন্য অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চোখ ভয়ে বিস্ফারিত হবে, তারা মাথা উঁচু করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। আর মানুষকে সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন তাদের উপর শাস্তি নেমে আসবে, তখন অন্যায়কারীরা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে নিকট ভবিষ্যতে অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। তোমরা কি পূর্বে শপথ করোনি যে, তোমাদের কোনো মৃত্যু হবে না? আর তোমরা তাদের আবাসে বসবাস করো, যারা নিজেদের উপর অন্যায় করেছে, এবং তোমাদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছি এবং আমি তাদেরকে তোমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ বানিয়েছি। আর তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই রয়েছে, যদিও তাদের পরিকল্পনা এমন যে, তা দ্বারা পর্বতমালাও স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শাস্তির প্রতিপালক। সেই দিনে, যখন পৃথিবী এক ভিন্ন পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আকাশও, আর তারা এক ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর দিকে উপস্থিত হবে। আর সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখবে—তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডল আগুনে আবৃত থাকবে, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। এটি মানুষের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা এর দ্বারা সতর্ক হয়, যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনিই এক আল্লাহ এবং যাতে জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা আমলে নেয়। ** সূরা ১৪ (ইব্রাহিম): ৪২-৫২ * অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের খাতিরে তোমরা শত্রুতা করেছিলে? যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: নিশ্চয়ই এই দিনে কাফিরদের উপর লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল বর্তায়, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে, অথচ তারা নিজেদের প্রতিই অবিচার করে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করবে: আমরা কোনো মন্দ কাজ করিনি। বরং আল্লাহই জানেন তোমরা কী করেছ। সুতরাং জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানেই বসবাসের জন্য। অহংকারীদের বাসস্থান নিঃসন্দেহে মন্দ। আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের রব কী অবতীর্ণ করেছেন? তারা বলে, উত্তম। কারণ যারা এই দুনিয়ায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তা উত্তম। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস আরও উত্তম। আর যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের আবাস নিঃসন্দেহে উত্তম—চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়; সেখানে তাদের যা ইচ্ছা তাই রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন যারা নিজ কর্তব্য পালন করে, যাদেরকে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করেন এবং বলেন: তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার কৃতকর্মের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ২৭-৩২ * আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো, তখন কাফিরদেরকে (অজুহাত দেখানোর) অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে না। আর যখন অন্যায়কারীরা সেই শাস্তি দেখবে, তখন তা তাদের জন্য সহজ করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। আর যারা (আল্লাহর সাথে) অংশীদার স্থাপন করেছিল, তারা যখন তাদের অংশীদার-উপাসকদের দেখবে, তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তো আমাদের সেই অংশীদার-উপাসক, যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে ডাকতাম। কিন্তু তারা তাদেরকে এই কথা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা মিথ্যাবাদী। আর সেই দিনে তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যা কিছু নির্মাণ করত, তা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। যারা অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দেয়, আমি তাদের শাস্তির উপর আরও শাস্তি আরোপ করব, কারণ তারা ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। আর সেই দিনে, যখন আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং এদের বিরুদ্ধে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে। এবং যারা আত্মসমর্পণ করে, তাদের জন্য রয়েছে পথনির্দেশ, করুণা ও সুসংবাদ। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ৮৪-৮৯ * যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করে—সে এমন ব্যক্তি নয় যে বাধ্য হয়ে এমনটা করে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ থাকে, বরং সে-ই যে স্বেচ্ছায় কুফরের জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে—তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এর কারণ হলো, তারা পরকালের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে পথ দেখান না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও চোখ আল্লাহ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং এরাই হলো উদাসীন। নিঃসন্দেহে পরকালে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১০৬-১০৯ * সেই দিনে প্রত্যেক আত্মা নিজের জন্য মিনতি করতে আসবে, এবং প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। ** সূরা ১৬ (আন-নাহল): ১১১ * হতে পারে তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তোমরা (অসততার দিকে) ফিরে যাও, তবে আমিও (শাস্তির দিকে) ফিরে যাব। আর আমি কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে কারাগার বানিয়েছি। নিশ্চয়ই এই কুরআন সরলতম পথের দিকে পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। আর মানুষ মন্দের জন্য প্রার্থনা করে, অথচ তার উচিত ছিল ভালোর জন্য প্রার্থনা করা; এবং মানুষ সর্বদা তাড়াহুড়ো করে। আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি, অতঃপর রাতের নিদর্শনকে বিলুপ্ত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে প্রকাশ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে পারো এবং বছর গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জানতে পারো। আর আমি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিনে তার জন্য এমন একটি কিতাব পেশ করব যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। তোমার কিতাব পড়ো। আজ তোমার নিজের আত্মাই তোমার বিরুদ্ধে হিসাবনিকাশের জন্য যথেষ্ট। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৮-১৪ * যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন কামনা করে, আমি তাতে তার জন্য যা ইচ্ছা তাই ত্বরান্বিত করি, যার জন্য আমি ইচ্ছা করি, অতঃপর আমি তাকে জাহান্নাম নির্ধারণ করে দিই; সে সেখানে ঘৃণিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে। আর যে পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথভাবে চেষ্টা করে ও মুমিন হয়, তাদের চেষ্টারই প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। তোমার রবের অনুগ্রহ থেকে আমি এদের এবং তাদের সকলকেই সাহায্য করি, আর তোমার রবের অনুগ্রহ অসীম। দেখো, আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের চেয়ে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। আর নিশ্চয়ই পরকাল মর্যাদায় ও উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতর। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ১৮-২১ * আর তারা বলবে: যখন আমরা অস্থি ও ক্ষয়প্রাপ্ত কণা হয়ে যাব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে? বলো: তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও, অথবা এমন কোনো কঠিন বস্তু হও যা তোমাদের মনেও জীবন ধারণ করতে পারে না! কিন্তু তারা বলবে: কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে? বলো: তিনি, যিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। তবুও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়বে এবং বলবে, কখন তা ঘটবে? বলো: হয়তো তা নিকটবর্তী হয়েছে। যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, সেদিন তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর প্রশংসা করবে এবং তোমাদের মনে হবে যে তোমরা অল্পই বিলম্ব করেছিলে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৪৯-৫২ * সেই দিনে আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার সাথে ডাকব। অতঃপর যার ডান হাতে তার কিতাব দেওয়া হবে, তারা তাদের কিতাব পড়বে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। আর যে এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথ থেকে আরও দূরে সরে যাবে। ** সূরা ১৭ (আল-ইসর'): ৭১-৭২ * আর সেই দিন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে বিলীন করে দেব এবং তুমি দেখবে পৃথিবী এক সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমি তাদেরকে একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই পিছনে ফেলে রাখব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। এখন নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে সেভাবেই এসেছ, যেভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। আর কিতাবটি রাখা হলো এবং তুমি দেখবে অপরাধীরা তাতে যা আছে তা নিয়ে ভীত। তারা বলবে, ‘হায় আমাদের জন্য আফসোস, এ কেমন কিতাব!’ এটি ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেয় না, বরং সেগুলোর সব হিসেব করে। আর তারা তাদের কৃতকর্মকে নিজেদের সামনে দেখতে পায়। আর তোমার রব কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমের কাছে আত্মসমর্পণ করো,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই আত্মসমর্পণ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং সে তার রবের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। তাহলে কি তোমরা তাকে ও তার বংশধরদেরকে আমার পরিবর্তে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় অত্যন্ত মন্দ। আমি তাদেরকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করতে দিইনি। আর যারা পথভ্রষ্ট করে, আমি তাদেরকে সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। এবং একদিন তিনি বলবেন: তাদেরকে ডাকো, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। আর অপরাধীরা জাহান্নাম দেখবে এবং জানবে যে, তারা তাতে পতিত হতে চলেছে এবং তা থেকে তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৪৭-৫৩ * আর সেই দিন আমি তাদের কয়েকজনকে অন্যদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং শিঙা বাজানো হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করব এবং সেই দিন আমি কাফিরদের সামনে উন্মুক্ত জাহান্নাম বের করে আনব। ** সূরা ১৮ (আল-কাহফ): ৯৯-১০০ * যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে, সেদিন তারা কত স্পষ্টভাবে শুনবে ও দেখবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছে। আর তাদেরকে সেই অনুতাপের দিনের বিষয়ে সতর্ক করে দাও, যেদিন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আর তারা (এখন) উদাসীন এবং তারা বিশ্বাস করে না। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৩৮-৩৯ * [আল্লাহ] আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর সেবায় ধৈর্য ধারণ করো। তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে চেনো? আর মানুষ বলে: আমি যখন মৃত হব, তখন কি আমাকে সত্যিই জীবিত করে বের করা হবে? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম, যখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর কসম! আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নামের চারপাশে নতজানু করে আনব। তারপর আমি প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহীদেরকে বের করে আনব। আবার, আমিই সবচেয়ে ভালো জানি কারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে আসবে না। এটা তোমার প্রভুর এক অবশ্যম্ভাবী বিধান। আর আমি তাদেরকে রক্ষা করব যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে এবং অন্যায়কারীদেরকে সেখানে নতজানু করে রেখে দেব। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৬৫-৭২ * সেই দিন, যেদিন আমি অনুগতদেরকে সম্মান লাভের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে একত্রিত করব এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশুর মতো জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তাদের সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, সে ব্যতীত যে পরম করুণাময়ের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ। ** সূরা ১৯ (মরিয়ম): ৮৫-৮৭ * তোমার রব একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং আমি তোমাকে পূর্ববর্তী ঘটনাসমূহের সংবাদ জানাই। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে একটি উপদেশ দিয়েছি। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিনে সে অবশ্যই একটি বোঝা বহন করবে, তাতেই সে থাকবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য বোঝা হবে মন্দ—যেদিন শিঙা ফুঁকা হবে; এবং সেদিন আমি পাপী, নীল-চোখওয়ালাদের একত্রিত করব, তারা গোপনে পরামর্শ করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন বিলম্ব করেছিলে। আমিই সবচেয়ে ভালো জানি তারা কী বলে, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিটি বলবে: তোমরা মাত্র একদিন বিলম্ব করেছিলে। আর তারা তোমাকে পর্বতমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: আমার রব সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো ছড়িয়ে দেবেন, তারপর সেটিকে একটি সমতল, মসৃণ ও সমান জায়গায় পরিণত করবেন, যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা অসমতলতা দেখতে পাবে না। সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীকে অনুসরণ করবে, যাঁর মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সামনে স্বর ক্ষীণ হয়ে যায়, ফলে তুমি এক মৃদু ধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাও না। সেই দিনে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হন, তা ছাড়া আর কারো সুপারিশই ফলপ্রসূ হয় না। তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পিছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন, অথচ তারা জ্ঞান দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এবং সেই চিরঞ্জীব, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সামনে মুখমণ্ডল নত হবে। আর যে পাপ বহন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ৯৮-১১১ * আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিনে অন্ধ করে পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে অন্ধ করে কেন পুনরুত্থিত করলে, অথচ আমি তো দেখতে পেতাম?” তিনি বলবেন, “এভাবেই তো আমার বাণী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা উপেক্ষা করেছ। আর এভাবেই আজ তুমি পরিত্যক্ত হলে।” আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দিই, যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের বাণীতে বিশ্বাস করে না। আর নিশ্চয়ই পরকালের শাস্তি আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী। ** সূরা ২০ (ত্ব-হা): ১২৪-১২৭ * আর কিয়ামতের দিনে আমি একটি ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কোনো আত্মার প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হবে না। আর যদি এক দানা সর্ষের ওজনও হয়, আমি তা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৪৭ * এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেরিয়ে আসবে। আর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি নিকটবর্তী হবে, তখন দেখো, অবিশ্বাসীদের চোখ স্থিরভাবে খোলা থাকবে: হায় আমাদের জন্য আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম; বরং আমরা অবিচারী ছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা জাহান্নামের জ্বালানি: সেখানেই তোমাদের যেতে হবে। যদি এগুলো উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে আসত না। আর সকলেই সেখানে থাকবে, কারণ সেখানে তাদের জন্য রয়েছে আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পায় না। যাদের জন্য কল্যাণ আমাদের পক্ষ থেকে আগেই চলে গেছে, তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তারা এর ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং তারা সেখানেই থাকবে যা তাদের আত্মা কামনা করে। মহাবিপদ তাদেরকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে: এটাই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন, যেদিন আমি আকাশকে এমনভাবে গুটিয়ে নেব, যেমনভাবে লিখিত লিপি গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আমি এর পুনরাবৃত্তি করব। আমার উপর এক বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি। আমি তা সম্পন্ন করব। আর অবশ্যই আমি কিতাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর লিখে রেখেছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হবে। ** সূরা ২১ (আল-আম্বিয়া): ৯৬-১০৫ * হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের আঘাত এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নারী তার স্তন্যদান ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভ ত্যাগ করবে, আর তুমি পুরুষদেরকে মাতালের মতো দেখবে, অথচ তারা মাতাল হবে না, বরং আল্লাহর শাস্তি হবে কঠোর। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে—তার জন্য লেখা আছে যে, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে। হে লোকসকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান থাকো, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে, তারপর জীবনের এক ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছি; গঠনে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ, যাতে আমি তোমাদের জন্য সবকিছু স্পষ্ট করে দিতে পারি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গর্ভে রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে তোমরা পূর্ণবয়স্ক হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যাকে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং এমনও আছে যাকে জীবনের নিকৃষ্টতম পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়, ফলে জ্ঞান লাভের পর সে কিছুই জানে না। আর তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখতে পাও, কিন্তু যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আলোড়িত হয়ে ফুলে ওঠে এবং সব ধরনের সুন্দর উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ১-৫ * যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা বিষয়কে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কঠিন হৃদয়ের। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা যেন জানতে পারে যে, এটাই তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। সুতরাং তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তাঁর সামনে তাদের অন্তর বিনয়ী হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহই বিশ্বাসীদেরকে সঠিক পথের পথপ্রদর্শক। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা এ বিষয়ে সন্দেহ থেকে মুক্ত হবে না, যতক্ষণ না হঠাৎ করে তাদের উপর কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা তাদের উপর ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তি আপতিত হয়। সেই দিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তারা আনন্দময় জান্নাতে থাকবে। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। ** সূরা ২২ (আল-হাজ্জ্ব): ৫৩-৫৭ * অতঃপর আমি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালাম, এই বলে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না? আর তার সম্প্রদায়ের সেই সর্দাররা, যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিল, এবং যাদেরকে আমি এই দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ভোগ-বিলাস দিয়েছিলাম, তারা বলল: "এ তো তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষ, তোমরা যা খাও তাই খায় এবং তোমরা যা পান করো তাই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতোই একজন নশ্বর মানুষের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, যখন তোমরা মৃত হয়ে ধুলো ও হাড়ে পরিণত হবে, তখনও তোমাদেরকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব, তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই, এই দুনিয়ায়ই আমরা মরি এবং আমরা বাঁচি এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না। সে তো এমন একজন মানুষ যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, এবং আমরা তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করব না।" তিনি বললেন: "হে আমার প্রতিপালক, তারা যেন আমাকে মিথ্যাবাদী না বলে, সে ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।" আল্লাহ বললেন: "অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৩২-৪০ * বরং তারা তো পূর্বপুরুষদের কথারই অনুরূপ কথা বলে। তারা বলে: "যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে তো এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও দেওয়া হয়েছিল। এগুলো তো অতীতের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়!" বলুন: পৃথিবী এবং তাতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহর।" বলুন: "তবে কি তোমরা তা মানবে না?" বলুন: "সাত আকাশের প্রভু এবং পরাক্রমশালী সিংহাসনের প্রভু কে?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে কি তোমরা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে না?" বলুন: "তিনি কে, যার হাতে সমস্ত কিছুর রাজত্ব এবং তিনি তাঁকে রক্ষা করেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে কেউই সুরক্ষিত নয়, যদি তোমরা জানো?" তারা বলবে "আল্লাহ"। বলুন: "তবে তোমরা কোথা থেকে প্রতারিত হচ্ছো?" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৮১-৮৯ * অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু ঘটে, তখন সে বলে: "হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরিয়ে দাও, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।" মোটেই না! এটা তো তার বলা একটি কথা মাত্র। আর তাদের সামনে রয়েছে এক অন্তরায়, সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তাদের পুনরুত্থান ঘটবে। সুতরাং যখন শিঙা বাজানো হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরের কাছে কিছু চাইবেও না। অতঃপর যাদের সৎকর্ম ভারী, তারাই সফলকাম। আর যাদের সৎকর্ম হালকা, তারাই আত্মা হারানো ব্যক্তি, যারা জাহান্নামে অবস্থান করবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং সেখানে তারা কঠিন শাস্তিতে থাকবে। আমার বাণী কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি, কিন্তু তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে? তারা বলবে: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর বিপদ এসে পড়েছিল এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি ছিলাম। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তা থেকে বের করে আনুন; অতঃপর যদি আমরা (মন্দের দিকে) ফিরে যাই, তবে আমরা অন্যায়কারী হব।" তিনি বলবেন: "তোরা হীন অবস্থায় এখানে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলিস না।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ৯৯-১০৮ * নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের একটি দল ছিল যারা বলেছিল: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস করি, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর দয়াকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তোমরা তাদের উপহাস করেছিলে, এমনকি তারা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। নিশ্চয়ই আমি আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করেছি, কারণ তারা ধৈর্যশীল ছিল, আর তারাই সফলকাম। তিনি বলবেন: "তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে: "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছিলাম, কিন্তু যারা হিসাব রাখে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন: "তোমরা তো অল্পই অবস্থান করেছিলে, যদি জানতে! তাহলে কি তোমরা মনে করো যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থকভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? সুতরাং আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনিই সত্য রাজা! তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অনুগ্রহের আরশের প্রতিপালক।" ** সূরা ২৩ (আল-মু'মিনুন): ১০৯-১১৬ * যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য। ** সূরা ২৪ (আন-নুর): ২৪-২৫ * কিন্তু তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আর যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, তার জন্য আমি এক জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। যখন তা দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে এর কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে শৃঙ্খলিত করে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করবে। আজ ধ্বংসের জন্য একবার প্রার্থনা করো না, বরং বারবার ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করো। বলো: এটা কি উত্তম, নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি অনুগতদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য পুরস্কার ও আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাদের জন্য তা রয়েছে যা তারা কামনা করে, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি। আর যেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যা কিছুর ইবাদত করে, সেগুলোকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি বলবেন: "তুমিই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছ, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?" তারা বলবে: "তোমারই মহিমা! তোমার ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। তুমিইতো তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভোগবিলাসে লিপ্ত করিয়েছিলে, অবশেষে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা এক পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হলো।" সুতরাং তারা তোমার কথায় তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তখন তুমি অমঙ্গল প্রতিহত করতে পারবে না এবং সাহায্যও লাভ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব। ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ১১-১৯ * আর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: "কেন আমাদের কাছে ফেরেশতাদের পাঠানো হয়নি, অথবা (কেন) আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না?" নিশ্চয়ই তারা আত্মগর্বে পূর্ণ এবং মহা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়। যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে: "একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক তৈরি হোক!" আর তারা যা করেছে, আমি তা ফিরিয়ে নেব এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণার মতো করে দেব। সেদিন জান্নাতের মালিকরা আরও উত্তম ও সুন্দরতর বিশ্রামস্থলে থাকবে। আর যেদিন আকাশ মেঘে বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যেভাবে পাঠানো হয়, সেভাবেই পাঠানো হবে। সেদিন রাজত্ব ন্যায্যভাবেই পরম করুণাময়ের হবে এবং সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন হবে। আর সেদিন অন্যায়কারী নিজের হাত কামড়ে বলবে: "হায়! যদি আমি রাসূলের সাথে পথ চলতাম! হায় আমার আফসোস! যদি আমি এমন একজনকে বন্ধু না বানাতাম! নিশ্চয়ই সেই স্মারকটি আমার কাছে আসার পরেও সে আমাকে তা থেকে বিপথে চালিত করেছিল। আর শয়তান মানুষকে সর্বদা পরিত্যাগ করে।" ** সূরা ২৫ (আল-ফুরকান): ২১-২৯ * সেই দিন, যখন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে-ই ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে এক সুস্থ অন্তর নিয়ে আসবে। আর অনুগতদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হবে এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, নাকি নিজেদের সাহায্য করতে পারে? অতঃপর তাদেরকে, পথভ্রষ্টদেরকে এবং শয়তানের সকল বাহিনীকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে বলবে, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম, যেদিন আমি তোমাদেরকে জগৎসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ করেছিলাম। আর অপরাধী ছাড়া কেউই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেনি। সুতরাং আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো প্রকৃত বন্ধুও নেই। এখন যদি আমরা একবার ফিরে যেতে পারতাম, তবে আমরা মুমিন হয়ে যেতাম। ** সূরা ২৬ (আশ-শু'আরা): ৮৮-১০২ * বরং তাদের জ্ঞান পরকাল পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা এ বিষয়ে সন্দিহান। বরং তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: যখন আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা ধূলিকণায় পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বপুরুষদেরকেও এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো পূর্বপুরুষদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়! ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৬৬-৬৮ * আর সেই দিন, যখন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্রিত করব, যারা আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা আসবে, তিনি বলবেন, তোমরা কি আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারোনি? অথবা তোমরা কী করেছিলে? আর তাদের বিরুদ্ধে বিধান কার্যকর হবে, কারণ তারা অন্যায়কারী ছিল, সুতরাং তারা কথা বলবে না। তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিন সৃষ্টি করেছি আলো দেওয়ার জন্য? নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর সেই দিন, যখন শিঙা বাজানো হবে, তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা আতঙ্কে আচ্ছন্ন হবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ব্যতীত। আর সকলেই তাঁর কাছে নতজানু হয়ে উপস্থিত হবে। আর তুমি পর্বতমালাকে দেখছ—যাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত মনে কর—সেগুলো মেঘের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে; এ তো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি সবকিছু নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। যে ভালো কিছু নিয়ে আসবে, সে তার চেয়েও উত্তম কিছু পাবে; আর সেদিন তারা আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর যে মন্দ কাজ করে, তাদেরকে আগুনে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে। তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া কি কোনো পুরস্কার পেয়েছ? ** সূরা ২৭ (আন-নামল): ৮৩-৯০ * আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং বলবেন: কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার মনে করতে? যাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, এরাই তারা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম—আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। তোমার সামনে আমরা নিজেদের নির্দোষিতা ঘোষণা করছি। তারা কখনো আমাদের উপাসনা করেনি। আর বলা হবে: তোমাদের অংশীদার-উপাসকদেরকে ডাকো। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! যদি তারা সঠিক পথ অনুসরণ করত। আর সেই দিন, যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন, অতঃপর বলবেন: তোমরা রাসূলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে? সেই দিন তাদের কাছে অজুহাতসমূহ অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, সম্ভবত সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৬২-৬৭ * আর সেই দিনের কথা, যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “আমার সেই সঙ্গীরা কোথায়, যাদেরকে নিয়ে তোমরা ভান করেছিলে?” এবং আমি প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহরই এবং যা তারা উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৭৪-৭৫ * পরকালের সেই আবাস আমি তাদেরকেই নির্ধারণ করি, যাদের পৃথিবীতে আত্মগৌরব করার কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আর উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্য, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। ** সূরা ২৮ (আল-ক্বসস): ৮৩ * আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব নির্ধারণ করেছিলাম। আমি তাকে এই দুনিয়াতেই তার পুরস্কার দিয়েছি এবং পরকালে তিনি অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ২৭ * আর তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না থাকত, তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর এসে পড়ত। আর অবশ্যই তা তাদের উপর হঠাৎ করেই আসবে, যখন তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তারা তোমার কাছে শাস্তি ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ করে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে — সেই দিন, যেদিন শাস্তি তাদেরকে উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আবৃত করবে। আর তিনি বলবেন: তোমরা যা করেছ তার আস্বাদ নাও। হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার পৃথিবী বিশাল, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো। প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করতে হবে, অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে একটি আবাস দান করব, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, তারা সেখানেই স্থায়ী থাকবে। কর্মঠদের পুরস্কার উত্তম। ** সূরা ২৯ (আল-'আনকাবুত): ৫৩-৫৮ * তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে তারা উদাসীন। তারা কি অন্তরে চিন্তা করে না? আল্লাহ আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যসহ এবং এক নির্ধারিত সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিশ্চয়ই অধিকাংশ মানুষ তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম):৭-৮ * আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরুৎপাদন করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আর তাদের অংশীদার-উপাসকদের মধ্য থেকে তাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না এবং তারা তাদের অংশীদার-উপাসকদের অস্বীকার করবে। আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন তাদেরকে পরস্পর থেকে পৃথক করে দেওয়া হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এক জান্নাতে সুখী করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার বাণী ও পরকালের সাক্ষাৎকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ১১-১৬ * আর যেদিন কিয়ামত আসবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা মাত্র এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। এভাবেই তাদেরকে সর্বদা বিমুখ করা হয়। আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে, তারা বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলে — সুতরাং এটাই কিয়ামতের দিন — কিন্তু তোমরা জানতে না। সুতরাং সেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৩০ (আর-রুম): ৫৫-৫৭ * আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক আত্মাকে তার সঠিক পথ দেখাতে পারতাম, কিন্তু আমার বাণীই ছিল ন্যায়সঙ্গত; আমি অবশ্যই জাহান্নামকে জিন ও মানুষ দিয়ে একত্রে পূর্ণ করব। সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎ ভুলে গেছ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরিত্যাগ করব; এবং তোমরা যা করেছ তার জন্য স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৩-১৪ * তবে মুমিন ব্যক্তি কি সীমালঙ্ঘনকারীর মতো? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, এক আশ্রয়স্থল—তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ। আর যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা তা থেকে বের হতে চায়, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদেরকে বলা হয়: সেই জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। আর নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বৃহত্তর শাস্তির পূর্বে নিকটবর্তী শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। আর তার চেয়ে বড় পাপাচারী আর কে আছে, যাকে তার রবের বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের কাছ থেকে কঠোর শাস্তি আদায় করি। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ১৮-২২ * আর আমিই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহ কোরো না এবং আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়েছিলাম। আর যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত, তখন আমি তাদের মধ্য থেকে আমার আদেশে পথপ্রদর্শনের জন্য নেতা বানিয়েছিলাম। আর তারা আমার বাণী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যকার সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। ** সূরা ৩২ (আস-সাজদাহ): ২৩-২৫ * নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে; সেখানে তারা কোনো রক্ষাকর্তা বা সাহায্যকারী পাবে না। যেদিন তাদের নেতাদেরকে আগুনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে: হায়! যদি আমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! এবং তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তো কেবল আমাদের নেতা ও মহান ব্যক্তিদেরই আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপে অভিশপ্ত করুন। ** সূরা ৩৩ (আল-আহযাব): ৬৪-৬৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: কেয়ামত আমাদের কাছে কখনো আসবে না। বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞাতা! তা অবশ্যই তোমাদের কাছে আসবে। আসমান ও জমিনে এক অণু পরিমাণও তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়, বরং (সবকিছু) এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যাতে তিনি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও এক সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা আমার বাণীর বিরোধিতা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালায়, তাদের জন্য রয়েছে এক ভয়ংকর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩-৫ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমি কি তোমাদেরকে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেব, যে তোমাদেরকে জানাবে যে, যখন তোমাদেরকে চূড়ান্তভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে, তখন তোমাদেরকে এক নতুন সৃষ্টিতে রাখা হবে? সে কি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনা করেছে, নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে? বরং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি ও চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৭-৮ * আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলে: আমরা এই কুরআনে বিশ্বাস করি না, আর এর আগের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না। আর যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন অন্যায়কারীদেরকে তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হয়, আর তারা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়! যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: তোমরা না থাকলে আমরা মুমিন হতাম। যারা অহংকারী ছিল, তারা দুর্বল মনে করা লোকদেরকে বলে: তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম? না, তোমরাই দোষী ছিলে। আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল, তারা অহংকারীদেরকে বলে: না, এটা ছিল দিনরাত তোমাদেরই পরিকল্পনা, যখন তোমরা আমাদেরকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সাথে অন্যকে সম্পৃক্ত করতে বলেছিলে। আর তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন তারা অনুতপ্ত হবে। আর আমি অবিশ্বাসীদের গলায় শিকল পরিয়ে দিই। তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৩১-৩৩ * আর সেই দিনে যখন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে বলবেন: এরা কি তোমাদের উপাসনা করত? তারা বলবে: তোমারই মহিমা! তুমিই পবিত্র মহান, তারা নয়; বরং তারা জিনদের উপাসনা করত; তাদের অধিকাংশই তাদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। সুতরাং সেই দিনে তোমরা পরস্পরের লাভ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদেরকে বলব, যারা পাপী ছিল: সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৪০-৪২ * আর তুমি কি দেখতে পারতে যখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, কিন্তু (তখন) তাদের কোনো নিস্তার থাকবে না এবং তাদেরকে নিকটবর্তী স্থান থেকে পাকড়াও করা হবে; আর তারা বলবে: আমরা এতে বিশ্বাস করি। আর তারা দূরবর্তী স্থান থেকে কীভাবে (ঈমানে) উপনীত হবে? অথচ তারা তো পূর্বেও এতে অবিশ্বাস করেছিল এবং তারা দূর থেকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অনুমান করে থাকে। আর তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে তাদের অনুসারীদের সাথে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা এক উদ্বেগজনক সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ** সূরা ৩৪ (সাবা'): ৫১-৫৪ * চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করে—সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার বালা পরানো হয় এবং তাদের পোশাক হয় রেশমের। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করেছেন! নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী, যিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে এমন এক ঘরে অবতরণ করিয়েছেন যা চিরস্থায়ী; সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও আমাদেরকে পীড়িত করে না। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; তাদের জন্য তা শেষ হয় না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে, আর এর শাস্তিও তাদের জন্য হালকা করা হয় না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞের উপর শাস্তি প্রয়োগ করি। আর সেখানে তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে বের করে আনুন! আমরা যা করতাম, তার চেয়ে ভিন্ন সৎকর্ম করব! আমি কি তোমাদেরকে যথেষ্ট দীর্ঘ জীবন দিইনি, যেন যে মনস্থির করতে চায় সে মনস্থির করে? আর তোমাদের কাছে এসেছিলেন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা তা আস্বাদন করো; কারণ পাপীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ** সূরা ৩৫ (ফাতির): ৩৩-৩৭ * আর শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা তাদের কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। তারা বলবে: হায় আমাদের জন্য দুর্ভোগ, যিনি আমাদেরকে আমাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছেন? এটাই সেই প্রতিশ্রুতি যা দয়ালু আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো কেবল একটি আর্তনাদ, আর দেখো! তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। সুতরাং এই দিনে কোনো আত্মার প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না এবং তোমরা যা করেছ তা ছাড়া আর কোনো পুরস্কার পাবে না। নিশ্চয়ই জান্নাতের মালিকরা সেদিন এক সুখকর অবস্থায় থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ায়, উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য ফলমূল রয়েছে এবং তারা যা চায় তাই পাবে। শান্তি! এক দয়ালু রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী। আর আজ তোমরা সরে যাও, হে অপরাধীগণ! আমি কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি, হে আদম সন্তানগণ, যে তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা আমার ইবাদত করবে। এটাই সঠিক পথ। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মধ্য থেকে বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল। তোমরা কি তখন বুঝতে পারোনি? এটাই সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আজই তাতে প্রবেশ কর, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সেদিন আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের উপার্জনের সাক্ষ্য দেবে। ** সূরা ৩৬ (ইয়াসিন): ৫১-৬৫ * আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। আর বলুন: এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন আমরা মৃত এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে, নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের অপমানিত করা হবে। সুতরাং তখন শুধু একটিই আর্তনাদ হবে, যখন তারা দেখবে। আর তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! এটাই প্রতিদানের দিন। এটাই বিচারের দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। যারা অন্যায় করেছে ও তাদের সঙ্গীদের এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যার উপাসনা করত, তাদের একত্রিত করো, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাও। আর তাদেরকে থামিয়ে দাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো না? বরং সেদিন তারা বশীভূত হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরকে প্রশ্ন করতে করতে অন্যদের দিকে ফিরে বলবে: নিশ্চয়ই তোমরা আমাদের কাছে সঠিক পথ দিয়ে আসতে। তারা বলবে: না, তোমরা নিজেরাই মুমিন ছিলে না। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে এক উচ্ছৃঙ্খল জাতি। সুতরাং আমাদের রবের বাণী আমাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: আমরা অবশ্যই এর আস্বাদন করব। আমরাই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই ভ্রান্তিতে ছিলাম। সুতরাং সেদিন তারা শাস্তির অংশীদার হবে। এভাবেই আমি অপরাধীদের সাথে আচরণ করি। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ১৫-৩৪ * তারা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিল, যখন তাদেরকে বলা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; এবং তারা বলল: আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব? না, সে তো সত্য এনেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করে। নিশ্চয়ই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমরা যা করেছ, তা ছাড়া তোমাদের কোনো প্রতিদান দেওয়া হবে না — আল্লাহর বান্দা, যারা পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে এক পরিচিত জীবিকা: ফলমূল। আর তারা সম্মানিত, আনন্দময় উদ্যানসমূহে, পরস্পরের মুখোমুখি সিংহাসনে। তাদের চারপাশে প্রবাহিত পানির একটি পাত্র রাখা হবে, যা হবে সাদা এবং পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তা তাদের বিবেক কেড়ে নেয় না, আর এতে তারা ক্লান্তও হয় না। আর তাদের সাথে রয়েছে সেইসব লোক যারা দৃষ্টিতে বিনয়ী, যাদের চোখ দুটি সুন্দর, যেন সযত্নে সুরক্ষিত ডিমের মতো। অতঃপর তাদের কেউ কেউ অন্যদের দিকে ফিরে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলবে: নিশ্চয়ই আমার একজন সঙ্গী ছিল, যে বলেছিল: তুমি কি সত্যিই গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত? যখন আমরা মৃত এবং ধূলি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে? সে বলবে: তুমি কি দেখবে? অতঃপর সে নিচের দিকে তাকালো এবং নিজেকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পেল। সে বলবে: আল্লাহর কসম! তুমি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলে এবং যদি আমার রবের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমি পুনরুজ্জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আমাদের কি মৃত্যু হবে না, আমাদের পূর্ববর্তী মৃত্যু ব্যতীত? এবং আমাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে না? নিশ্চয়ই এটাই মহাসাফল্য। অতএব, এর অনুরূপ কিছুর জন্যই কর্মীরা কাজ করুক। এটাই কি উত্তম আপ্যায়ন, নাকি যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয়ই আমি একে অন্যায়কারীদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। এটি এমন একটি বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশে জন্মায় — এর ফল যেন সাপের মাথা। অতঃপর তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে তাদের পেট পূর্ণ করবে। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা এর পরে ফুটন্ত পানি পান করবে। অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তারা নিশ্চয়ই তাদের পূর্বপুরুষদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পেয়েছিল, সুতরাং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর তাদের পূর্বেও অধিকাংশ প্রাচীন জাতিই নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ** সূরা ৩৭ (আস-সফ্ফাত): ৩৫-৭১ * আর স্মরণ করো আমার বান্দা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিলেন ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি পবিত্র গুণ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছিলাম, আর তা হলো (শেষ) আবাস স্মরণ রাখা। আর নিশ্চয়ই তারা আমার কাছে ছিল মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তম। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৪৫-৪৭ * এ তো এক বাহিনী যারা তোমাদের দিকে বেপরোয়াভাবে ধেয়ে আসছে—তাদের জন্য কোনো স্বাগত নেই! নিশ্চয়ই তারা আগুনে পুড়বে। তারা বলে: না! তুমি—তোমার জন্যও কোনো স্বাগত নেই! তুমিই তো আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছ, কী নিকৃষ্ট এই বিশ্রামস্থল। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, যে-ই আমাদের জন্য এটা প্রস্তুত করেছে, তাকে জাহান্নামে আরও বেশি, দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আর তারা বলে: আমাদের কী হয়েছে?—যাদেরকে আমরা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গণ্য করতাম, তাদের তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা কি (কেবল) তাদেরকে অবজ্ঞা করতাম, নাকি আমাদের চোখ তাদের দেখতে পায় না? জাহান্নামবাসীদের পরস্পরের সঙ্গে এই বিবাদই তো প্রকৃত সত্য। ** সূরা ৩৮ (ছ্বদ): ৫৯-৬৪ * যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের কাছেই, তারপর তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের অন্তরের সকল বিষয় জানেন। আর যখন কোনো মানুষ বিপদে পড়ে, তখন সে তার রবকে ডাকে, তাঁর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর যখন তিনি তাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে, যাতে সে (মানুষকে) তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন: অল্প সময়ের জন্য তোমার অকৃতজ্ঞতা উপভোগ করো, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৭-৮ * বলুন: আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক কঠিন দিনের শাস্তির। বলুন: আমি আল্লাহরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো। বলুন: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের এবং নিজেদের সম্প্রদায়কে হারায়। আর নিশ্চয়ই এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য থাকবে উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আচ্ছাদন। এর দ্বারাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীত করেন; সুতরাং আমার প্রতি তোমাদের কর্তব্যে দৃঢ় থাকো, হে আমার বান্দারা। আর যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার সেই বান্দাদের সুসংবাদ দাও, যারা বাণী শোনে এবং তার সর্বোত্তমটি অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হলো জ্ঞানী ব্যক্তি। যার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে—তুমি কি তাকে বাঁচাতে পারবে যে জাহান্নামে রয়েছে? কিন্তু যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ স্থান, তাদের উপরে আরও উচ্চতর স্থান, যা তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ১৩-২০ * অতঃপর নিশ্চয়ই পুনরুত্থানের দিনে তোমরা তোমাদের রবের সামনে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাহলে তার চেয়ে বড় জালিয়াত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা উচ্চারণ করে এবং সত্য তার কাছে এলে তা অস্বীকার করে? কাফিরদের জন্য কি জাহান্নামে কোনো আবাসস্থল নেই? ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৩১-৩২ * বলুন: হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞাতা, যে বিষয়ে আপনার বান্দারা মতভেদ করে, আপনিই তাদের মধ্যে বিচার করেন। আর যারা অন্যায় করে, তারা যদি পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তৎসদৃশ সবকিছু দিয়েও দিত, তবে কিয়ামতের দিনের শাস্তির মন্দ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের অবশ্যই তা পেশ করতে হতো। আর যা তারা কখনো চিন্তাও করেনি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এবং তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা-ই তাদের ঘিরে ফেলবে। ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৪৬-৪৮ * বরং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞ হও। আর তারা আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয় না; এবং কিয়ামতের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁর মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমণ্ডল তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তিনি পবিত্র! এবং তারা তাঁর সাথে যা অংশীদার করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর শিঙা বাজানো হবে, ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের চান তারা ছাড়া। অতঃপর আবার শিঙা বাজানো হবে, আর দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে, অপেক্ষায় থাকবে। আর পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হবে, এবং কিতাব অবনমিত হবে, এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে, এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করা হবে, আর তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর প্রত্যেক আত্মাকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং তারা যা করে, সে সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন? তারা বলে: হ্যাঁ। কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হলো। বলা হয়: জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। আর যারা তাদের রবের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাদেরকে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছায়, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তার রক্ষকেরা তাদেরকে বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা পবিত্র জীবনযাপন করেছ, সুতরাং সেখানে প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো। আর তারা বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন; আমরা জান্নাতে আমাদের ইচ্ছামত বসবাস করি। কর্মঠদের পুরস্কার কতই না উত্তম। আর তুমি দেখবে ফেরেশতারা ক্ষমতার আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে এবং তাদের রবের প্রশংসায় মহিমা ঘোষণা করছে। এবং তাদের বিচার করা হয় ন্যায়বিচারের সাথে, এবং বলা হয়: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা! ** সূরা ৩৯ (আয-জুমার): ৬৬-৭৫ * যারা অবিশ্বাস করে, তাদের বলা হয়: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর ঘৃণা, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তা এখনকার তোমাদের নিজেদের প্রতি ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে দুইবার মৃত্যু দিয়েছ এবং দুইবার জীবন দিয়েছ; সুতরাং আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করি। তাহলে কি পরিত্রাণের কোনো পথ আছে? এর কারণ হলো, যখন শুধু আল্লাহকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে, আর যখন তাঁর সাথে অংশীদার দেওয়া হয়েছিল, তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে। সুতরাং বিচার আল্লাহরই, যিনি মহান, পরাক্রমশালী। তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখান এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে জীবিকা বর্ষণ করেন, আর যে তাঁর দিকে ফেরে, সে ছাড়া আর কেউ তাঁর কথা ভাবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে, যদিও অবিশ্বাসীরা বিমুখ। তিনি মর্যাদার ঊর্ধ্বে, ক্ষমতার আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশে রূহকে আলোরূপে প্রকাশ করেন, যাতে তিনি (মানুষকে) সাক্ষাতের দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন—যেদিন তারা বেরিয়ে আসবে। তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। আজ রাজত্ব কার? এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর। আজ প্রত্যেক আত্মাকে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোনো অবিচার নেই! নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আর তাদেরকে আসন্ন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যেদিন অন্তরসমূহ দুঃখে কণ্ঠনালীতে এসে দাঁড়াবে। পাপাচারীদের কোনো বন্ধু থাকবে না, আর এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার আনুগত্য করা যায়। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ১০-১৮ * আর যখন তারা জাহান্নামে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তখন দুর্বলরা গর্বিতদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম; তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের একটি অংশ রেহাই দেবে? গর্বিতরা বলবে: এখন আমরা সবাই এর মধ্যে আছি; আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের মধ্যে বিচার করে দিয়েছেন। আর জাহান্নামে থাকা ব্যক্তিরা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে: তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি আমাদের শাস্তি একদিনের জন্য হালকা করে দেন। তারা বলবে: তোমাদের রাসূলগণ কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আসেননি? তারা বলবে: হ্যাঁ। তারা বলবে: তাহলে প্রার্থনা করো। আর কাফিরদের প্রার্থনা কেবল পথভ্রষ্টই হয়। আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে এই দুনিয়ার জীবনে এবং সেই দিনে সাহায্য করি, যেদিন সাক্ষীরা জেগে উঠবে—যেদিন তাদের অজুহাত অন্যায়কারীদের কোনো উপকারে আসবে না, আর তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৪৭-৫২ * তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা আল্লাহর বাণী নিয়ে বিতর্ক করে? তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? — যারা কিতাবকে এবং যা দিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরানো হবে। তাদেরকে গরম পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তারপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে: আল্লাহ ছাড়া আর কাকে তোমরা স্থাপন করতে? তারা বলবে, তারা আমাদেরকে ব্যর্থ করেছে; বরং আমরা এর আগে আর কোনো কিছুর কাছেই প্রার্থনা করতাম না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এর কারণ হলো, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দম্ভ করেছ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছ। জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো এবং সেখানেই বসবাস করো; অহংকারীদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট। ** সূরা ৪০ (আল-মু'মিন): ৭১-৭৬ * আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াকে বলবে, “তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ?” তারা বলবে, “আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর তোমরা নিজেদেরকে আবৃত করোনি, পাছে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। বরং তোমরা ভেবেছিলে যে, তোমরা যা করেছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না। আর তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই মন্দ ধারণাই তোমাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছে। সুতরাং তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে, তবে জাহান্নামই তাদের আবাস। আর যদি তারা অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, তবে তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আমি তাদের জন্য সঙ্গী নিযুক্ত করেছি, ফলে তারা তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তোলে। এবং তাদের পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিন ও মানব জাতিসমূহের মধ্যে যে বাণী, তা তাদের বিরুদ্ধে সত্য প্রমাণিত হয়েছে; তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ১৯-২৫ * সুতরাং যারা অবিশ্বাস করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্টতম অংশের জন্য আমি অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। এটাই আল্লাহর শত্রুদের পুরস্কার—জাহান্নাম। সেখানেই তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস। আমার বাণী অস্বীকার করার প্রতিদান। আর যারা অবিশ্বাস করে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও, যাতে আমরা তাদেরকে আমাদের পদদলিত করতে পারি এবং তারা যেন সর্বনিম্ন স্তরের হয়। যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, এবং সঠিক পথে চলতে থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতরণ করে এবং বলে: ভয় পেয়ো না, দুঃখিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমি এই দুনিয়া ও পরকালে তোমাদের বন্ধু এবং সেখানেই তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের আত্মা কামনা করে এবং যা তোমরা প্রার্থনা করো। ক্ষমাশীল, দয়ালুর পক্ষ থেকে এক স্বাগত উপহার। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ২৭-৩২ * তাঁরই প্রতি কিয়ামতের জ্ঞান নিবেদিত। আর কোনো ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না, এবং কোনো নারীও তাঁর জ্ঞান ছাড়া সন্তান প্রসব করে না। আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন: আমার সঙ্গীরা কোথায়? তখন তারা বলবে: আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের কেউই এর সাক্ষী হতে পারবে না। আর যাদেরকে তারা আগে ডেকেছিল, তারা তাদেরকে ব্যর্থ করবে এবং তারা জানবে যে, তারা রক্ষা পাবে না। ** সূরা ৪১ (হা মিম): ৪৭-৪৮ * যে পরকালের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তার শস্যক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করি এবং যে এই দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তাকে তা থেকেই দান করি এবং পরকালে তার কোনো অংশ নেই। অথবা তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন কোনো ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেন না? আর যদি বিচারের বাণী না থাকত, তবে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তুমি দেখছ, অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের কারণে ভীত, এবং তা তাদের উপর আপতিত হবেই। আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের তৃণভূমিতে রয়েছে—তাদের রবের কাছে যা ইচ্ছা তাই আছে। এটাই মহান অনুগ্রহ। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ২০-২২ * আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, তিনি ছাড়া তার কোনো বন্ধু নেই। আর তুমি পাপাচারীদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি দেখবে, তারা বলবে, ফিরে আসার কি কোনো পথ আছে? আর তুমি তাদেরকে তার সামনে উপস্থিত হতে দেখবে, তারা লাঞ্ছনার কারণে নিজেদেরকে নত করবে এবং ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকাবে। আর মুমিনরা বলবে: নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিনে নিজেদেরকে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হারায়। এখন নিশ্চয়ই পাপাচারীরা স্থায়ী শাস্তির মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া তাদের সাহায্য করার মতো কোনো বন্ধু থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় রাখেন, সে কোনো পথ খুঁজে পায় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি দিন আসার পূর্বে তোমার রবের কথা শোনো, যা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সেই দিনে তোমাদের কোনো আশ্রয় থাকবে না, আর অস্বীকার করাও তোমাদের কাজ হবে না। ** সূরা ৪২ (আশ-শুরা): ৪৪-৪৭ * অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসে, তখন সে বলে: হায়, যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! অংশীদার স্থাপন কতই না মন্দ। আর যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছ, তাই আজ এই শাস্তিতে অংশীদার হওয়ায় তোমাদের কোনো লাভ হবে না। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৩৮-৩৯ * নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সঠিক পথ। কিন্তু তাদের মধ্যে দলমত বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য দুর্ভোগ, এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির জন্য! তারা কি সেই মুহূর্তটি ছাড়া আর কিছুর জন্য অপেক্ষা করে, যা তাদের উপর হঠাৎ এসে পড়বে, অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না? সেই দিনে বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে তারা ছাড়া যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে। হে আমার বান্দারা, এই দিনে তোমাদের জন্য কোনো ভয় নেই, আর তোমরা তাদেরও দুঃখ দেবে না যারা আমার বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সুখী করা হয়েছে। তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বর্ণের বাটি ও পানপাত্র, আর তাতে রয়েছে এমন সব জিনিস যা তাদের আত্মা আকাঙ্ক্ষা করে এবং চোখ আনন্দ দেয়, আর সেখানেই তোমরা থাকবে। আর এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। তোমাদের জন্য সেখানে খাওয়ার জন্য প্রচুর ফল রয়েছে। নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে। তাদের জন্য এর কোনো উপশম হবে না এবং তারা এতেই হতাশ হবে। আর আমি তাদের প্রতি কোনো অবিচার করিনি, বরং তারাই ছিল অবিচারী। আর তারা আর্তনাদ করে বলে: হে মালিক, আমার রব যেন আমাদের বিনাশ করেন। তিনি বলবেন: তোমরা এখানেই থাকবে। ** সূরা ৪৩ (আয-জুখরুফ): ৬৪-৭৭ * সুতরাং সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ এক সুস্পষ্ট খরা নিয়ে আসবে, যা মানুষকে আবৃত করবে। এটা এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দাও—নিশ্চয়ই আমরা মুমিন। কখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে? আর নিশ্চয়ই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তবুও তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল: এ তো (অন্যদের দ্বারা) শেখানো এক ব্যক্তি, এক উন্মাদ! আমি শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেব, (কিন্তু) তোমরা অবশ্যই (মন্দের দিকে) ফিরে যাবে। যেদিন আমি (তাদেরকে) সবচেয়ে কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি অবশ্যই তার প্রতিদান আদায় করব। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ১০-১৬ * এরাই তো বলে: আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমাদের আর পুনরুত্থান হবে না। সুতরাং আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা কি উত্তম, নাকি তুব্বা'র জাতি এবং তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, কারণ নিশ্চয়ই তারা অপরাধী ছিল। আর আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি তাদের সত্যসহই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। নিশ্চয়ই বিচার দিবস তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত দিন, যেদিন বন্ধু বন্ধুকে কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এবং তারাও সাহায্য পাবে না — কেবল তারা ছাড়া, যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য, গলিত পিতলের মতো; তা তাদের উদরে ফুটন্ত পানির মতো ফুঁসতে থাকে। তাকে ধরো, তারপর তাকে জাহান্নামের মাঝে টেনে নিয়ে যাও; অতঃপর তার মাথায় ফুটন্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও — আস্বাদন করো — তুমিই তো পরাক্রমশালী, সম্মানিত! নিশ্চয়ই এটাই তোমরা সন্দেহ করেছিলে। যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তারা অবশ্যই এক নিরাপদ স্থানে রয়েছে—জান্নাত ও ঝর্ণাধারায়, উত্তম ও ঘন রেশম পরিহিত অবস্থায়, পরস্পরের মুখোমুখি—এভাবেই (হবে)। আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। সেখানে তারা নিরাপদে প্রত্যেক ফলের জন্য আহ্বান করে—সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃত্যুর আস্বাদ পায় না; এবং তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন—এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। এটাই হলো মহান সাফল্য। ** সূরা ৪৪ (আদ-দুখান): ৩৪-৫৭ * আর আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক আত্মা তার কর্মফলের পুরস্কার পায় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তুমি কি তাকে দেখছ, যে তার উপাস্যের জন্য নিজের আকাঙ্ক্ষাকে গ্রহণ করে, আর আল্লাহ তাকে জেনেশুনে ভ্রান্তিতে রাখেন, এবং তার শ্রবণশক্তি ও অন্তরকে মোহর করে দেন এবং তার দৃষ্টিতে আবরণ দিয়ে দেন? অতঃপর আল্লাহর পরে কে তাকে পথ দেখাতে পারে? তুমি কি তা খেয়াল করবে না? আর তারা বলে: আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই নেই; আমরা মরি এবং বাঁচি এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না, আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে। আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের একমাত্র যুক্তি হলো এই যে, তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বলো: আল্লাহ তোমাদের জীবন দেন, অতঃপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে পুনরুত্থানের দিনে একত্রিত করবেন, যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যার অনুসারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর তুমি দেখবে প্রত্যেক জাতি নতজানু হচ্ছে। প্রত্যেক জাতিকে তাদের কর্মফলের জন্য ডাকা হবে। আজ তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হলো। এটাই আমার সেই আমলনামা যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ সাক্ষ্য দেয়। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তা আমি লিখে রেখেছি। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদের রব তাদেরকে তাঁর করুণার মধ্যে প্রবেশ করাবেন। এটাই সুস্পষ্ট সাফল্য। আর যারা অবিশ্বাস করেছিল—তোমাদের কাছে কি আমার বাণীসমূহ পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ছিলে অহংকারী এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। আর যখন বলা হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বললে: আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা একে কেবল একটি অনুমান মনে করি এবং আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। আর তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করেছিল, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। আর বলা হবে: আজ আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করছি, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকে অবহেলা করেছিলে, আর তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহর বাণীকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। সুতরাং সেই দিন তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহও করা হবে না। ** সূরা ৪৫ (আল-যাতসিয়াহ্): ২২-৩৫ * আর যে তার পিতামাতাকে বলে: ধিক তোমাদের! তোমরা কি আমাকে এই বলে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে হাজির করা হবে, যখন আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে? আর তারা উভয়েই আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলে: দুর্ভোগ তোমার! বিশ্বাস করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু সে বলে: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরাই তারা, যাদের বিরুদ্ধে এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়, জিন জাতি এবং তাদের পূর্বে মৃত মানুষদের মধ্যে। নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্য তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান দেন এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা না হয়। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে হাজির করা হবে: তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনের ভালো জিনিসগুলো ত্যাগ করেছিলে এবং সেগুলো ভোগ করেছিলে; সুতরাং আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনার শাস্তি দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিলে এবং সীমালঙ্ঘন করেছিলে। ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ১৭-২০ * তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তা সৃষ্টিতে ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতকে জীবন দান করতে সক্ষম? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, সেদিন কি এটা সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতঃপর শাস্তি আস্বাদন করো, কারণ তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো, যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষগণ, রাসূলগণ, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের জন্য (তাদের ধ্বংস) ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত ফল দেখবে, (তা হবে) যেন তারা দিনের এক ঘণ্টা ছাড়া আর বিলম্ব করেনি। (তোমারই দায়িত্ব) মুক্তি দেওয়া। তাহলে কি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে? ** সূরা ৪৬ (আল-আহক্বফ): ৩৩-৩৫ * আর শিঙা বাজানো হয়। সেটাই হলো ভীতি প্রদর্শনের দিন। আর প্রত্যেক আত্মা আসে, তার সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ও একজন সাক্ষী নিয়ে। তুমি তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমার থেকে তোমার আবরণ সরিয়ে দিয়েছি, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আর তার সঙ্গী বলবে: এটাই তো আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ, বিদ্রোহী, সৎকাজের নিষেধকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহবাদীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, যে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থাপন করে, সুতরাং তাকে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তার সঙ্গী বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই অনেক দূর ভ্রান্তিতে চলে গেছে। তিনি বলবেন: আমার সামনে বিতর্ক করো না, আর আমি তো তোমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, আর আমি বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচারী নই। সেই দিনে যখন আমি জাহান্নামকে বলব: তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? আর সে বলবে: আর কি আছে? আর যারা মন্দ থেকে নিজেদের রক্ষা করে, তাদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করা হয়—(তা) দূরবর্তী নয়। তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে, (সীমা) মেনে চলে—যে গোপনে পরম করুণাময়কে ভয় করে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আসে: শান্তিতে তাতে প্রবেশ করো। এটাই হলো স্থায়ীত্বের দিন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে তাদের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু, এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরও বেশি। আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছিলাম, যারা শক্তিতে তাদের চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী ছিল! অতঃপর তারা বিভিন্ন দেশে বিচরণ করত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি? নিশ্চয়ই এতে তার জন্য একটি উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে অথবা যে শোনে এবং সাক্ষী। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ২০-৩৭ * আর সেই দিনে শোনো, যেদিন ঘোষক নিকটবর্তী কোনো স্থান থেকে আহ্বান করবে—যেদিন তারা সেই আহ্বান সত্যই শুনতে পাবে। সেটাই বেরিয়ে আসার দিন। নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, আর আমারই কাছে তাদের চূড়ান্ত আগমন—যেদিন ভূমি তাদের থেকে বিদীর্ণ হয়ে যাবে, দ্রুত বেরিয়ে আসার দিন। সেই সমাবেশ আমার জন্য সহজ। তারা যা বলে, তা আমিই সবচেয়ে ভালো জানি, আর তুমি তাদের বাধ্য করার কেউ নও। সুতরাং যে আমার ভয়কে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দাও। ** সূরা ৫০ (ক্বফ): ৪১-৪৫ * তোমার রবের শাস্তি অবশ্যই আসবে -- তা নিবারণ করার কেউ নেই; সেই দিনে, যেদিন আকাশমণ্ডল আলোড়িত হবে, আর পর্বতমালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেদিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা অনর্থক কথায় মত্ত থাকে। যেদিন তাদেরকে সজোরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলেছ। এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? এতে দগ্ধ হও, অতঃপর ধৈর্য ধারণ করো, অথবা সহ্য করো না, তোমাদের জন্য উভয় সমান। তোমরা যা করেছ, তারই প্রতিদান পাবে। কর্তব্যপরায়ণরা অবশ্যই জান্নাত ও পরম সুখে থাকবে, তাদের রব যা দিয়েছেন তার জন্য তারা আনন্দিত হবে; এবং তাদের রব তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তোমরা যা করেছ, তার জন্য আনন্দের সাথে খাও ও পান করো, সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে, আর আমি তাদেরকে পবিত্র ও সুন্দরদের সাথে মিলিত করব। আর যারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে—আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্রিত করে দিই এবং তাদের কোনো কাজ থেকেই আমি তাদের বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আর আমি তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফলমূল ও মাংস দিয়ে সাহায্য করব। তারা তাতে একে অপরের কাছে একটি পেয়ালা হস্তান্তর করে, যাতে কোনো অনর্থকতা বা পাপ নেই। আর তাদের ছেলেরা তাদের চারপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করে, যেন তারা গুপ্ত মুক্তা। আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, বলবে: নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের ব্যাপারে ভীত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও তাঁকে ডেকেছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়। ** সূরা ৫২ (আত-তুর): ৭-২৮ * সেদিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দেখবে, তাদের পূণ্য তাদের সামনে ও ডান পাশে জ্বলজ্বল করবে। সেদিন তোমাদের জন্য সুসংবাদ—এমন জান্নাত যেখানে নদী বয়ে চলে, সেখানেই তোমাদের স্থায়ী বসবাস! এটাই হলো মহাসাফল্য। সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদেরকে বলবে: আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে ধার নিতে পারি। তখন বলা হবে: ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। অতঃপর তাদের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরে থাকবে করুণা এবং বাইরে থাকবে শাস্তি। তারা তাদের কাছে আর্তনাদ করে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে: হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রলোভনে ফেলেছিলে, এবং তোমরা অপেক্ষা করেছিলে ও সন্দেহ করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পৌঁছালো, এবং প্রধান ধোঁকাবাজ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকা দিলো। সুতরাং সেদিন তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস হলো জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের মালিক এবং মন্দই তোমাদের আশ্রয়স্থল। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১২-১৫ * আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই তাদের রবের কাছে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও তাদের আলো। আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার বাণী প্রত্যাখ্যান করে, তারা জাহান্নামের বাসিন্দা। জেনে রাখো, এই দুনিয়া জীবন তো কেবলই খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, নিজেদের মধ্যে অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এটা বৃষ্টির মতো, যা গাছপালা বৃদ্ধিতে কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ হতে দেখো, তারপর তা তুষে পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি, আল্লাহর ক্ষমা এবং তাঁর সন্তুষ্টি। আর এই দুনিয়া জীবন কেবলই এক অনর্থকতার উৎস। ** সূরা ৫৭ (আল হাদিদ): ১৯-২০ * সেই দিনে যখন আল্লাহ তাদের সকলকে একসাথে পুনরুত্থিত করবেন এবং তারা যা করেছে তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা লিপিবদ্ধ করেন, আর তারা তা ভুলে যায়। এবং আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী। তুমি কি দেখো না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ সে সব জানেন? তিনজনের মধ্যে কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, বরং তিনি তাদের চতুর্থ; পাঁচজনের মধ্যেও হয় না, বরং তিনি তাদের ষষ্ঠ; এর চেয়ে কম বা বেশির মধ্যেও হয় না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন; অতঃপর পুনরুত্থানের দিনে তিনি তাদের কৃতকর্মের কথা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞাতা। তুমি কি তাদের দেখো না, যাদের জন্য গোপন পরামর্শ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অতঃপর তারা সেই দিকেই ফিরে যায় যা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল এবং পাপ, বিদ্রোহ ও রাসূলের অবাধ্যতার জন্য গোপন পরামর্শ করে। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তারা তোমাকে এমন অভিবাদন জানায় যা দিয়ে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানান না এবং মনে মনে বলে: আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ কেন আমাদের শাস্তি দেন না? তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; তারা সেখানে জ্বলবে এবং মন্দই তাদের আশ্রয়স্থল! হে মুমিনগণ, যখন তোমরা একান্তে পরামর্শ করো, তখন পরস্পরকে পাপ, বিদ্রোহ এবং রাসূলের অবাধ্যতার পরামর্শ দিও না, বরং পরস্পরকে কল্যাণ ও কর্তব্য পালনের পরামর্শ দাও। আর আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। ** সূরা ৫৮ (আল-মুযাদিলাহ): * শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে: অবিশ্বাস করো। কিন্তু যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে: আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণতি হলো এই যে, তারা উভয়েই জাহান্নামে থাকবে এবং সেখানেই তাদের জীবন কাটবে। আর এটাই হলো অন্যায়কারীদের পুরস্কার। ** সূরা ৫৯ (আল-হাশর): ১৬-১৭ * হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আর তার উপরে রয়েছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না, বরং যেমন আদেশ করা হয়, তারা তেমনই করে। হে অবিশ্বাসীগণ, আজ কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যেমন করেছ, তেমনই ফল পাবে। হে মুমিনগণ, আন্তরিক তওবার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। হতে পারে তোমাদের রব তোমাদের থেকে তোমাদের অনিষ্ট দূর করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়, সেই দিনে যেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান হাতে দ্যুতি ছড়াবে — তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলোকে পূর্ণাঙ্গ করে দাও এবং আমাদেরকে সুরক্ষা দান করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। ** সূরা ৬৬ (আত তাহরিম): ৬-৮ * আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং মন্দই হলো তাদের আশ্রয়স্থল। যখন তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার প্রচণ্ড আর্তনাদ শুনতে পাবে, যা ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম করে। যখনই কোনো দলকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়, তার রক্ষকেরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে: তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি? তারা বলে: হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা কেবল মহা ভ্রান্তিতে আছ। আর তারা বলে: যদি আমরা শুনতাম বা চিন্তা করতাম, তবে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না। এভাবেই তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, কারণ জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীরা সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে। ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ৬-১১ * বলুন: তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বৃদ্ধি করেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। আর তারা বলে: আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে এই হুমকি কখন কার্যকর হবে? বলুন: জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। কিন্তু যখন তারা তা নিকটবর্তী হতে দেখবে, তখন অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ হয়ে যাবে এবং বলা হবে: এটাই তো সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা আহ্বান করতে। বলুন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন? বরং তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু কে অবিশ্বাসীদেরকে এই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? ** সূরা ৬৭ (আল-মুলক): ২৪-২৮ * যেদিন কঠিন বিপদ আসবে, এবং তাদেরকে সিজদা করতে বলা হবে, কিন্তু তারা তা করতে পারবে না—তাদের দৃষ্টি নত হবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ নিরাপদ থাকা অবস্থাতেই তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। সুতরাং যে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে, তাকে আমার সাথে একা ছেড়ে দাও। আমি ধাপে ধাপে তাদেরকে এমন এক জায়গা থেকে ধরে ফেলব, যেখান থেকে তারা জানে না। আর আমি তাদের প্রতি সহনশীল, নিশ্চয়ই আমার পরিকল্পনা সুদৃঢ়। ** সূরা ৬৮ (আল-ক্বলাম): ৪২-৪৫ * সুতরাং যখন শিঙা এক ফুঁকে বেজে উঠবে, আর পৃথিবী ও পর্বতমালা এক আঘাতে উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে — সেদিনই সেই ঘটনা ঘটবে, আর আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর ফেরেশতারা তার দুই পাশে থাকবে। আর তাদের উপরে সেদিন আটজন তোমার প্রভুর ক্ষমতার সিংহাসন বহন করবে। সেদিন তুমি সকলের দৃষ্টিগোচর হবে — তোমার কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না। অতঃপর যাকে তার ডান হাতে কিতাব দেওয়া হবে, সে বলবে: দেখো! আমার কিতাবটি পড়ো। আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে এক পরম সুখের জীবনে থাকবে, এক উন্নত উদ্যানে, যার ফল সন্নিকটে। বিগত দিনে তুমি যা পাঠিয়েছিলে, তার জন্য আনন্দে খাও ও পান করো। আর যাকে তার বাম হাতে কিতাব দেওয়া হবে — সে বলবে: হায়! যদি আমার কিতাবটি আমাকে না দেওয়া হতো! আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী ছিল! হায়! যদি (মৃত্যু) আমার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটাতো! আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে আসেনি। আমার কর্তৃত্ব আমার কাছ থেকে চলে গেছে। তাকে ধরো, অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো, অতঃপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে আবদ্ধ করো। নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং দরিদ্রকে আহার দিতেও উৎসাহিত করেনি। সুতরাং আজ এখানে তার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই, আর বর্জ্য ছাড়া তার কোনো প্রিয়জনও নেই, যা কেবল অন্যায়কারীরাই ভক্ষণ করে। ** সূরা ৬৯ (আল-হাক্কহ): ১৩-৩৭ * যেদিন আকাশ হবে গলিত পিতলের মতো, আর পর্বতমালা হবে পশমের মতো; আর কোনো বন্ধু বন্ধুর কাছে কিছু চাইবে না, যদিও তাদের তা দেখতে বাধ্য করা হয়। সেই দিনের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য অপরাধী চাইবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের, তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের এবং পৃথিবীর সকল কিছুর কাছে—কিন্তু তাকে রক্ষা করো—কখনোই না! নিশ্চয়ই এ এক জ্বলন্ত অগ্নি, যা প্রান্তভাগ ছিঁড়ে ফেলে—যে পিছু হটে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং সঞ্চয় করে পরে আটকে রাখে, তাকেই সে গ্রাস করবে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৮-১৮ * সুতরাং তাদেরকে বৃথা আলাপ ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতে দাও, যতক্ষণ না তারা তাদের সেই প্রতিশ্রুত দিনটির মুখোমুখি হয়—যেদিন তারা কবর থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসবে, যেন কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেছে, তাদের চোখ নত, লজ্জা তাদের আবৃত করে থাকবে। এমনই সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। ** সূরা ৭০ (আল-মা'আরিজ): ৪২-৪৪ * সেই দিনে, যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফেরাউনের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলাম। অতএব, যদি তোমরা অবিশ্বাস করো, তবে সেই দিনে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে, যেদিন শিশুদের চুল বৃদ্ধ হয়ে যাবে? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যে ইচ্ছুক, সে যেন তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করে। ** সূরা ৭৩ (আল-মুজাম্মিল): ১৪-১৯ * নিশ্চয়ই যখন শিঙা ধ্বনিত হবে, সেদিনই হবে সেই দিন—এক কঠিন দিন, অবিশ্বাসীদের জন্য যা মোটেই সহজ নয়। আমাকে তার সাথে একা ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি, দিয়েছি বিপুল সম্পদ, তার সান্নিধ্যে বসবাসকারী পুত্রসন্তানগণ, এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছি, অথচ সে চায় আমি যেন তাকে আরও দিই! কখনোই না! নিশ্চয়ই সে আমার বাণীর বিরোধী। আমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত করব। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৮-১৭ * নিশ্চয়ই সে চিন্তা-ভাবনা করে সংকল্প করেছিল, কিন্তু সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! আবারও, সে যেভাবে সংকল্প করেছিল, সেভাবেই যেন তার ধ্বংস হয়! তারপর সে তাকালো, তারপর ভ্রূকুটি ও রুষ্টমুখো হলো, তারপর ফিরে তাকালো এবং গর্বে ফুলে উঠলো, তারপর বললো: এটা তো প্রাচীনকালের জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! এটা তো এক নশ্বর মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে জাহান্নাম কী? তা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না, কিছুই রেহাই দেয় না। তা নশ্বর মানুষকে দগ্ধ করে। এর উপরে রয়েছে উনিশটি। আর আমি ফেরেশতা ছাড়া আর কাউকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি এবং আমি তাদের সংখ্যা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই করিনি, যাতে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিত হতে পারে এবং যারা বিশ্বাস করে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুমিনরা যেন সন্দেহ না করে; আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে পারে: আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভ্রান্তিতে রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটা মরণশীলদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা মাত্র। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ১৮-৩১ * প্রত্যেক প্রাণই তার উপার্জনের জন্য দায়বদ্ধ, ডানপন্থী লোকেরা ব্যতীত। জান্নাতে তারা একে অপরকে অপরাধীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে: কী তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা বলবে: আমরা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; দরিদ্রদের আহার দিতাম না; এবং আমরা অসার বক্তাদের সাথে অসার কথায় লিপ্ত থাকতাম; এবং আমরা বিচার দিবসকে মিথ্যা বলতাম; যতক্ষণ না অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদের গ্রাস করল। সুতরাং, অন্যের সুপারিশ বা সুপারিশকারীরা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ** সূরা ৭৪ (আল-মুদ্দাস্সির): ৩৮-৪৮ * না, আমি পুনরুত্থান দিবসের শপথ করি! না, আমি আত্ম-অভিযোগকারী আত্মার শপথ করি! মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থি সংগ্রহ করব না? হ্যাঁ, আমি তার সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গ করতে ক্ষমতাবান। না, মানুষ তার সামনেই মন্দ কাজ করে যেতে চায়। সে জিজ্ঞাসা করে: পুনরুত্থান দিবস কবে? সুতরাং যখন দৃষ্টি বিভ্রান্ত হবে, এবং চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, এবং সূর্য ও চাঁদ একত্রিত হবে — সেদিন মানুষ বলবে, কোথায় পালাব? না! কোনো আশ্রয় নেই! সেদিন তোমার রবের কাছেই বিশ্রামের স্থান। সেদিন মানুষকে জানানো হবে সে পূর্বে কী পাঠিয়েছিল এবং কী স্থগিত রেখেছিল। না, মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ, যদিও সে অজুহাত দেখায়। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ১-১৫ * না, বরং তোমরা বর্তমান জীবনকে ভালোবাসো এবং পরকালকে অবহেলা করো। সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অন্য কিছু মুখ বিষণ্ণ হবে, তারা জানবে যে তাদের উপর এক মহাবিপদ আপতিত হবে। ** সূরা ৭৫ (আল-ক্বিয়ামাহ): ২০-২৫ * নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। সৎকর্মশীলরা অবশ্যই কর্পূর মিশ্রিত পেয়ালা থেকে পান করে—যা এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করে এবং যা প্রচুর পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তারা অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যার অমঙ্গল ব্যাপক। আর তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে দরিদ্র, এতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করে। আমি তোমাদেরকে খাওয়াই, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না। নিশ্চয়ই আমি আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক দিনকে ভয় করি। সুতরাং আল্লাহ তাদের থেকে সেই দিনের অমঙ্গল দূর করবেন এবং তাদেরকে জাঁকজমক ও সুখের সাক্ষাৎ দেবেন; আর তাদের দৃঢ়তার জন্য তাদেরকে পুরস্কার দেবেন এক উদ্যান ও রেশম বস্ত্র, যেখানে তারা উঁচু পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা সূর্যের অতিরিক্ত উত্তাপ বা তীব্র শীত কিছুই দেখবে না। আর এর ছায়া তাদের উপর ঘন হয়ে থাকবে এবং এর ফল তাদের নিকটবর্তী ও সহজলভ্য করে দেওয়া হবে। আর তাদের চারপাশে রাখা হয় রূপার পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা, যা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং রূপা দিয়ে তৈরি—পরিবেশনকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী তা পূর্ণ করবে। আর তাতে তাদেরকে যান্জাবীল মিশ্রিত এক পেয়ালা পানীয় পান করানো হবে—এটি সেখানের সালসাবিল নামক এক ঝর্ণার জল। আর তাদের চারপাশে ঘুরতে থাকবে চিরকিশোরগণ, যাদের বয়সে কোনো পরিবর্তন হবে না; যখন তুমি তাদের দেখবে, তখন তাদেরকে বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো মনে করবে। আর যখন তুমি সেদিকে তাকাবে, তখন তুমি দেখবে ভোগ বিলাসের উপকরণ ও এক বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে উৎকৃষ্ট সবুজ রেশম ও মোটা ব্রোকেডের পোশাক, এবং তারা রূপার নির্মিত কংকন দিয়ে সজ্জিত, আর তাদের প্রভু তাদেরকে এক বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন। নিশ্চয়ই এটি তোমাদের জন্য পুরস্কার এবং তোমাদের প্রচেষ্টার প্রতিদানে দেওয়া হবে। ** সূরা ৭৬ (আল-ইনসান): ৪-২২ * সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, এবং যখন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হবে, এবং যখন পর্বতমালা ধূলিকণার মতো উড়ে যাবে, এবং যখন দূতগণকে তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে বাধ্য করা হবে, তখন কোন দিনে এই দণ্ড নির্ধারিত? সেই সিদ্ধান্তের দিনে। আর কিসে তুমি উপলব্ধি করবে সেই সিদ্ধান্তের দিনটি কী? ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ৮-১৪ * এগিয়ে চলো তার দিকে, যাকে তুমি মিথ্যা বলেছিলে। এগিয়ে চলো সেই ছায়ার দিকে, যার তিনটি শাখা আছে, যা অগ্নিশিখার বিরুদ্ধে শীতলও নয়, কার্যকরও নয়। তা প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, যেন সেগুলো তামাটে রঙের উট। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই দিন যেদিন তারা কথা বলতে পারে না, অজুহাত দেখানোরও অনুমতি পায় না। ধিক সেই দিনে প্রত্যাখ্যানকারীদের! এই সেই সিদ্ধান্তের দিন, যেদিন আমি তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের একত্রিত করেছি। ** সূরা ৭৭ (আল-মুরসালাত): ২৯-৩৮ * নিশ্চয়ই বিচারের দিন নির্ধারিত হয়েছে — সেই দিন যেদিন শিঙা বাজানো হবে, আর তোমরা সৈন্যদলের মতো বেরিয়ে আসবে, এবং আকাশ খুলে দেওয়া হবে, ফলে তা দরজার মতো হয়ে যাবে, এবং পর্বতমালা সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবলই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য এক আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করবে। সেখানে তারা শীতলতা বা পানীয়ের স্বাদ পাবে না, বরং পাবে ফুটন্ত ও তীব্র শীতল পানি, যার উপযুক্ত প্রতিদান তারা পাবে। নিশ্চয়ই তারা হিসাবকে ভয় করেনি এবং আমার বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। আর আমি সবকিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি, সুতরাং তোমরা আস্বাদন করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য শাস্তি ছাড়া আর কিছুই যোগ করব না। নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য, জান্নাত ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র, এবং সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী, আর একটি পবিত্র পেয়ালা। সেখানে তারা কোনো অনর্থক কথা বা মিথ্যা শুনবে না — তোমার রবের পক্ষ থেকে এ এক পুরস্কার, এক পর্যাপ্ত উপহার; যিনি আকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—পরম করুণাময়, তারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেও সক্ষম নয়। সেই দিন, যখন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; তখন একমাত্র সে-ই কথা বলবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন এবং সে সঠিক কথা বলবে। এটাই সেই প্রকৃত দিন, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে, সে তার রবের কাছে আশ্রয় নিতে পারে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করছি—সেই দিন, যেদিন মানুষ দেখবে তার নিজের হাত পূর্বেই যা পাঠিয়েছিল, এবং অবিশ্বাসী বলবে, হায়! যদি আমি ধূলিকণা হয়ে যেতাম! ** সূরা ৭৮ (আন-নাবা): ১৭-৪০ * যেদিন কম্পমান ব্যক্তি কম্পিত হবে—তারই পরিণতি ঘটবে। সেদিন হৃদয়গুলো কম্পিত হবে, তাদের চোখ নত হবে। তারা বলবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের আদি অবস্থায় ফিরে যাব? কী! পচা হাড় হওয়ার পর? তারা বলবে; তাহলে তো প্রত্যাবর্তন হবে ক্ষতিসহ। এ তো কেবল একটিমাত্র আর্তনাদ, আর দেখো! তারা জেগে উঠবে। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৬-১৪ * সুতরাং যখন সেই মহাবিপদ আসবে; যেদিন মানুষ তার সকল সাধনা স্মরণ করবে, এবং যে দেখে তার কাছে জাহান্নাম প্রকাশিত হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই জাহান্নামই তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় এবং হীন কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংযত রাখে, তার জন্য নিশ্চয়ই জান্নাতই তার আবাস। তারা তোমাকে সেই মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, কখন তা ঘটবে, যে বিষয়ে তুমি স্মরণ করিয়ে দাও? এর গন্তব্য তোমার রবের কাছেই। তুমি তো কেবল তার জন্য সতর্ককারী, যে একে ভয় করে। যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন এমন হবে যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল বিলম্ব করেছিল। ** সূরা ৭৯ (আন-নাজি'আত): ৩৪-৪৬ * কিন্তু যখন সেই কান ফাটানো চিৎকার আসবে, যেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও পুত্রদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন যথেষ্ট চিন্তা থাকবে যে, সে অন্যদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে। সেদিন মুখগুলো হবে উজ্জ্বল, হাসিখুশি আর আনন্দময়। আর সেদিন মুখগুলোতে থাকবে ধুলো, অন্ধকার ছেয়ে থাকবে? তারাই কাফির, পাপিষ্ঠ। ** সূরা ৮০ (আবাসা): ৩৩-৪২ * যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর যখন তারারা ধূলিবর্ণ ধারণ করবে, আর যখন পর্বতমালা বিলীন হয়ে যাবে, আর যখন উটদের পরিত্যাগ করা হবে, আর যখন বন্য পশুদের একত্রিত করা হবে, আর যখন নগরীগুলো স্ফীত হয়ে উঠবে, আর যখন মানুষ একতাবদ্ধ হবে, আর যখন জীবন্ত সমাহিতকে জিজ্ঞাসা করা হবে কোন পাপে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর যখন গ্রন্থসমূহ বিছিয়ে দেওয়া হবে, আর যখন আকাশের আবরণ উন্মোচিত হবে, আর যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে কী প্রস্তুত করেছে। ** সূরা ৮১ (আত-তাকভীর): ১-১৪ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন নক্ষত্ররাজি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, আর যখন নদীগুলো বয়ে চলবে, আর যখন কবরগুলো উন্মুক্ত হবে — তখন প্রতিটি আত্মা জানতে পারবে, সে আগে কী পাঠিয়েছিল আর কী আটকে রেখেছিল। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১-৫ * নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পরম আনন্দে রয়েছে, আর পাপীরা জ্বলন্ত আগুনে রয়েছে। বিচার দিবসে তারা সেখানে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে তাদের কোনো অনুপস্থিতি থাকবে না। আর কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? আবার, কিসে তোমাকে বোঝানো যাবে বিচার দিবস কী? সেই দিন, যেদিন কোনো আত্মা অন্য কোনো আত্মার জন্য কোনো কিছুরই নিয়ন্ত্রণ করবে না। আর সেই দিনের আদেশ আল্লাহর। ** সূরা ৮২ (আল-ইনফিতর): ১৩-১৯ * ধিক্ সেই প্রতারকদের! যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নেওয়ার সময় পুরোটাই নিয়ে নেয়, অথচ যখন অন্যদেরকে মাপে বা মেপে দেয়, তখন প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, এক মহাদিনের জন্য তাদের পুনরুত্থান ঘটবে? — সেই দিন, যেদিন মানুষ জগৎসমূহের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১-৬ * সেই দিন অস্বীকারকারীদের জন্য দুর্ভোগ! যারা বিচার দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর এর সাথে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কেবল প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, প্রত্যেক পাপী ব্যক্তি; যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে, “এ তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!” বরং তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের অন্তরে মরিচা মাত্র। না, নিশ্চয়ই সেই দিন তাদেরকে তাদের রবের কাছ থেকে বঞ্চিত করা হবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। অতঃপর বলা হবে: “এটাই ছিল সেই বিষয়, যার সাথে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে।” ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ১০-১৭ * এটি একটি লিখিত গ্রন্থ। যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তারা এর সাক্ষী। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলেরা পরম আনন্দে রয়েছে, উঁচু পালঙ্কে আসীন হয়ে তাকিয়ে আছে — তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পাও। তাদেরকে পান করানো হয় এক পবিত্র, মোহর করা পানীয়। এর মোহরটি কস্তুরী দিয়ে করা। আর এর জন্যই যেন আকাঙ্ক্ষীরা আকাঙ্ক্ষা করে। এবং এতে উপর থেকে আসা পানি মিশ্রিত থাকে — এমন এক ঝর্ণা, যেখান থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা পান করে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ২০-২৮ * সুতরাং আজ বিশ্বাসীরা কাফিরদের দেখে হাসে—উঁচু আসনে বসে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। নিশ্চয়ই কাফিররা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। ** সূরা ৮৩ (আল-মুত্বফ্ফিফুন): ৩৪-৩৬ * যখন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়; এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হয়, এবং তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যায়, এবং তার রবের কথা শোনে ও উপযুক্ত হয়ে যায়। হে মানুষ, তোমাকে অবশ্যই তোমার রবের উদ্দেশ্যে কঠোর প্রচেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি তাঁর সাথে মিলিত হও। অতঃপর, যাকে তার কিতাব ডান হাতে দেওয়া হয়, তার হিসাব নেওয়া হবে সহজ পদ্ধতিতে, এবং সে আনন্দিতচিত্তে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে। আর যাকে তার কিতাব পিঠের পেছনে দেওয়া হয়, সে ধ্বংসের আহ্বান করবে, এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দিত ছিল। নিশ্চয়ই সে ভেবেছিল যে সে আর কখনো (আল্লাহর কাছে) ফিরবে না। ** সূরা ৮৪ (আল-ইনশিক্বক): ১-১৪ * সুতরাং মানুষ যেন ভেবে দেখে, তাকে কী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবাহিত পানি থেকে, যা পিঠ ও পাঁজরের মধ্যভাগ থেকে আসে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশিত হবে, সেদিন তার কোনো শক্তি বা সাহায্যকারী থাকবে না। ** সূরা ৮৬ (আত-ত্বরিক্ব): ৫-১০ * সুতরাং স্মরণ করিয়ে দাও, স্মরণ করানোই তো কল্যাণকর। যে ভয় করে সে স্মরণ করবে, আর সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি তা পরিহার করবে, যে মহা অগ্নিতে দগ্ধ হবে। অতঃপর সেখানে সে বাঁচবেও না, মরবেও না। নিশ্চয়ই সে-ই সফলকাম, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর প্রার্থনা করে। কিন্তু তোমরা এই দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো, অথচ পরকালই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতে, অর্থাৎ ইব্রাহিম ও মুসার ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। ** সূরা ৮৭ (আল-আ'লা): ৯-১৯ * তোমার কাছে কি সেই মহাবিপর্যয়ের সংবাদ এসেছে? সেদিন অনেক মুখ হবে বিষণ্ণ, তারা পরিশ্রমে ও খাটুনিতে মত্ত থাকবে, জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে, ফুটন্ত ঝর্ণার জল পান করতে বাধ্য হবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত, যা তাদের ক্ষুধা মেটাবে না, পুষ্টিও দেবে না। সেদিন অনেক মুখ হবে আনন্দিত, তাদের প্রচেষ্টার জন্য উৎফুল্ল, এক উন্নত উদ্যানে, যেখানে তুমি কোনো বৃথা কথা শুনবে না। সেখানে আছে এক ঝর্ণা যা বয়ে চলেছে। সেখানে রয়েছে উঁচুতে স্থাপিত সিংহাসন, প্রস্তুত পানপাত্র, সারিবদ্ধ আসন এবং বিছানো গালিচা। ** সূরা ৮৮ (আল-গশিয়াহ): ১-১৬ * না, যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমার প্রভু ফেরেশতাদের সারি সারি নিয়ে আসবেন; এবং সেদিন জাহান্নাম প্রকাশ পাবে। সেদিন মানুষ সচেতন হবে, কিন্তু তখন সচেতন হয়ে কী লাভ হবে? সে বলবে: হায়, যদি আমি আমার জীবনের জন্য আগেই লোক পাঠাতাম! কিন্তু সেদিন তিনি যেভাবে শাস্তি দেবেন, সেভাবে আর কেউ দিতে পারবে না। আর সেদিন তিনি যেভাবে বাঁধবেন, সেভাবে আর কেউ বাঁধতে পারবে না। হে প্রশান্তিময় আত্মা, তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্টচিত্তে, প্রীতিকর হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের মাঝে প্রবেশ করো, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো! ** সূরা ৮৯ (আল-ফাজর): ২১-৩০ * আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে যে তার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই? সে বলবে, আমি অনেক সম্পদ নষ্ট করেছি। সে কি মনে করে যে কেউ তাকে দেখে না? আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দিইনি এবং তার জন্য দুটি সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে দিইনি? কিন্তু সে চড়াইয়ের পথে পা বাড়ায় না; আর কিসে তুমি বুঝবে চড়াইয়ের পথ কী? (তা হলো) একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা ক্ষুধার দিনে নিকটাত্মীয় কোনো এতিমকে আহার দেওয়া, কিংবা ধুলোয় পড়ে থাকা কোনো দরিদ্রকে খাওয়ানো। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের ও দয়ার উপদেশ দেয়। এরাই ডানপন্থী। আর যারা আমার বাণীকে অবিশ্বাস করে, তারা বামপন্থী। এরা পরিবেষ্টিত হবে জাহান্নামের আগুনে। ** সূরা ৯০ (আল-বালাদ): ৪-২০ * তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নিবেদিত। অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে, নিজের কর্তব্য পালন করে এবং যা ভালো তা গ্রহণ করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দিই। আর যে ব্যক্তি কৃপণ এবং নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করে, আর যা ভালো তা প্রত্যাখ্যান করে, আমি তার জন্য কষ্টের পথ সুগম করে দিই। আর তার ধ্বংসের সময় তার সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না। আমার কাজতো শুধু পথ দেখানোর, এবং নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই। সুতরাং আমি তোমাদেরকে সেই জ্বলন্ত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করছি। তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি, যে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তা থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তি, যে কর্তব্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, যে নিজেকে পবিত্র রেখে নিজের সম্পদ দান করে, এবং তার কাছে পুরস্কার হিসেবে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অন্বেষণ ছাড়া আর কোনো অনুগ্রহ নেই। আর তিনি শীঘ্রই সন্তুষ্ট হবেন। ** সূরা ৯২ (আল-লাইল): ৪-২১ * নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনি, তবে তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে। সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা কখনো শেষ হবে না। অতএব এরপর বিচার সম্পর্কে তোমাকে কে মিথ্যাবাদী বলতে পারে? আল্লাহই কি সর্বোত্তম বিচারক নন? ** সূরা ৯৫ (আত-ত্বীন): ৪-৮ * আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করে এবং মূর্তি পূজারীরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে, সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারাই সর্বোত্তম সৃষ্টি। তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছেই রয়েছে—চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যই, যে তার রবকে ভয় করে। ** সূরা ৯৮ (আল-বায়্যিনাহ্): ৬-৮ * যখন পৃথিবী তার কম্পনে কম্পিত হবে, এবং পৃথিবী তার বোঝা বহন করে আনবে, আর মানুষ বলবে: তার কী হয়েছে? সেই দিন সে তার সংবাদ জানাবে, যেন তোমার প্রভু তাকে ওহী নাযিল করেছেন। সেই দিন মানুষ বিভিন্ন রূপে বেরিয়ে আসবে, যেন তাদের কর্মফল তাদের দেখানো হয়। সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখবে। ** সূরা ৯৯ (আয যিলযাল): ১-৮ * নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই তিনি এর সাক্ষী। এবং অবশ্যই সম্পদের লোভে সে কৃপণ। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা পুনরুত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশিত হবে? নিশ্চয়ই তাদের রব আজ তাদের সম্পর্কে অবগত। ** সূরা ১০০ (আল-'আদিয়াত): ৬-১১ * সেই মহাবিপদ! কী সেই মহাবিপদ? আর কিসে তুমি জানবে সেই মহাবিপদ কত ভয়াবহ? সেই দিন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো, আর পর্বতমালা হবে আঁচড়ানো পশমের মতো। অতঃপর যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি, সে এক সুখময় জীবন যাপন করবে। আর যার পুণ্যের পরিমাণ কম, অতল গহ্বর তার জন্য হবে জননী। আর কিসে তুমি জানবে তা কী? এক জ্বলন্ত অগ্নি। ** সূরা ১০১ (আল-ক্বরিয়াহ্): ১-১১ * প্রাচুর্য তোমাকে বিপথে চালিত করে, যতক্ষণ না তুমি কবরের কাছে পৌঁছাও। না, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে, না, আবারও, তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে। না, যদি তুমি নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে পারতে! তুমি অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে; তখন তুমি তা দৃষ্টির নিশ্চয়তায় দেখবে; তখন সেই দিনে তোমাকে অবশ্যই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ** সূরা ১০২ (আত-তাকাসুর): ১-৮ * দুর্ভোগ প্রত্যেক নিন্দাকারী ও অপবাদকারীর জন্য! যে সম্পদ সঞ্চয় করে ও তা হিসেব করে—সে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে স্থায়ী করবে। না, তাকে অবশ্যই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা হবে; আর কিসে তোমাকে উপলব্ধি করাবে সেই নিষ্পেষণকারী বিপর্যয় কী? তা হলো আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা অন্তরসমূহের উপর উঠে আসে। নিশ্চয়ই তা দীর্ঘ স্তম্ভের আকারে সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। ** সূরা ১০৪ (আল-হুমাযাহ): ১-৯ * আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হবে এবং সে নিজেও ধ্বংস হবে। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। সে অগ্নিশিখা সৃষ্টিকারী আগুনে দগ্ধ হবে—এবং তার স্ত্রী, যে কিনা অপবাদের বাহক; তার গলায় থাকবে পাকানো দড়ির ফাঁস! ** সূরা ১১১ (আল-লাহাব): ১-৫ * যখন সেই ঘটনাটি ঘটবে, তখন তার অবশ্যম্ভাবিতা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না; যা কাউকে লাঞ্ছিত করবে, কাউকে মহিমান্বিত করবে। যখন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে কম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে। আর তোমরা তিন প্রকারের হবে। সুতরাং যারা ডান পাশে থাকবে, তারা কতই না সুখী! আর যারা বামে থাকবে, তারা কতই না হতভাগ্য! আর যারা অগ্রগামী, তারাই অগ্রগামী—এরাই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে। জান্নাতে থাকবে প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক মানুষ এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকে অল্প কিছু মানুষ। তারা খোদাই করা সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে থাকবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির-কিশোররেরা, যাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কলস এবং পবিত্র পানীয়ের পেয়ালা। এতে তাদের মাথাব্যথা হবে না, তারা মাতালও হবে না। আর থাকবে তাদের পছন্দের ফল, তাদের আকাঙ্ক্ষিত পাখির মাংস এবং গুপ্ত মুক্তার মতো পবিত্র ও সুন্দর প্রাণী। তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ এই পুরস্কার। তারা সেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না -- বরং শুনবে শুধু এই বাণী, শান্তি! শান্তি! আর ডান পাশের লোকেরা; কতই না ভাগ্যবান ডান পাশের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে এমন উদ্যানে, সেখানে কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে, আর থোকা থোকা কলাগাছের মাঝে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর কলকল করে বয়ে চলা পানিতে, আর প্রচুর ফলে, যা কিছু রুদ্ধ বা নিষিদ্ধ নয়, এবং সুউচ্চ শয্যায়। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে এক (নতুন) সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে কুমারী, প্রেমময়ী, সমবয়স্কা বানিয়েছি, ডান পাশের লোকদের জন্য। প্রথম প্রজন্মের মধ্য থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী, এবং পরবর্তীকালের মধ্য থেকেও এক বিশাল জনগোষ্ঠী। আর বাম পাশের লোকেরা; কতই না হতভাগ্য বাম পাশের দল! তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাসে আর ফুটন্ত পানিতে, আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সতেজকারীও নয়। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে আরামে জীবনযাপন করত। আর তারা মহা সীমালঙ্ঘনে অবিচল ছিল। আর তারা বলত: যখন আমরা মারা যাব এবং ধুলো ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরুত্থান হবে? অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদের? বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের লোকেরা অবশ্যই এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে একত্রিত হবে। অতঃপর তোমরা, হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, যাক্কুম বৃক্ষের ফল খাবে এবং তা দিয়ে তোমাদের উদর পূর্ণ করবে। তারপর তা থেকে ফুটন্ত পানি পান করবে; আর তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে। প্রতিদান দিবসে এটাই তাদের আপ্যায়ন। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ১-৫৬ * তবে কেন এমন হয় না যে, যখন তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত আসে, আর তোমরা তখন তা দেখ—এবং আমি তোমাদের চেয়েও তার নিকটতর, অথচ তোমরা তা দেখো না—তাহলে কেন, যদি তোমরা কর্তৃত্বের অধীন না হও, তবে তা ফিরিয়ে দাও না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? অতঃপর যদি সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুখ, অনুগ্রহ এবং এক পরম জান্নাত। আর যদি সে ডানপন্থীদের একজন হয়, তবে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের একজন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন এবং জাহান্নামের আগুন। নিশ্চয়ই এটি এক সুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো। ** সূরা ৫৬ (আল-ওয়াক্বিয়াহ): ৮৩-৯৬ == আরও দেখুন == * [[কুরআনে ন্যায়বিচার]] [[বিষয়শ্রেণী:কুরআন]] [[বিষয়শ্রেণী:ভবিষ্যত]] 5jb9r4qzgosbakxaf79397kj7y45j8s আইরিস মারডক 0 12472 76808 76607 2026-04-15T03:23:50Z Sumanta3023 4175 76808 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। po068byhelrmibk63i1a15psnfpk1sj 76809 76808 2026-04-15T03:27:22Z Sumanta3023 4175 76809 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। == উক্তি == [[File:Rembrandt_Harmensz._van_Rijn_-_The_Return_of_the_Prodigal_Son.jpg|thumb|right|ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।]] * এই অল্পবয়সী প্রাণীটির সান্নিধ্যে তিনি এখন যে আনন্দ অনুভব করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনো অপরাধবোধ বা কষ্ট ছিল না; এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর এই অনুরাগের শারীরিক লক্ষণগুলোও আবিষ্কার করলেন, তখনও তিনি ভয় পেলেন না। বরং তিনি প্রফুল্ল ও প্রশান্ত চিত্তে নিকের সাথে দেখা করে যেতে লাগলেন যখনই তাঁর সাধারণ কর্তব্যের প্রয়োজনে তা মনে হতো, এবং নিজের আধ্যাত্মিক জীবনের নবঅর্জিত দৃঢ়তা ও যুক্তিসঙ্গত স্থৈর্যের জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানালেন। ** ''[[w:দ্য বেল|দ্য বেল]]'' (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৯১। * '''একটি সুন্দর জীবনের প্রধান শর্ত হলো... নিজের কোনো ভাবমূর্তি বা ইমেজ ছাড়াই বেঁচে থাকা।''' ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৯। * আমরা কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই ভালোবাসতে শিখতে পারি। ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ১৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ২১৯। h9hgu2ky70soobp6w0dzfhizvasmlp9 76810 76809 2026-04-15T03:35:26Z Sumanta3023 4175 /* উক্তি */ 76810 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। == উক্তি == [[File:Rembrandt_Harmensz._van_Rijn_-_The_Return_of_the_Prodigal_Son.jpg|thumb|right|ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।]] * এই অল্পবয়সী প্রাণীটির সান্নিধ্যে তিনি এখন যে আনন্দ অনুভব করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনো অপরাধবোধ বা কষ্ট ছিল না; এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর এই অনুরাগের শারীরিক লক্ষণগুলোও আবিষ্কার করলেন, তখনও তিনি ভয় পেলেন না। বরং তিনি প্রফুল্ল ও প্রশান্ত চিত্তে নিকের সাথে দেখা করে যেতে লাগলেন যখনই তাঁর সাধারণ কর্তব্যের প্রয়োজনে তা মনে হতো, এবং নিজের আধ্যাত্মিক জীবনের নবঅর্জিত দৃঢ়তা ও যুক্তিসঙ্গত স্থৈর্যের জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানালেন। ** ''[[w:দ্য বেল|দ্য বেল]]'' (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৯১। * '''একটি সুন্দর জীবনের প্রধান শর্ত হলো... নিজের কোনো ভাবমূর্তি বা ইমেজ ছাড়াই বেঁচে থাকা।''' ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৯। * আমরা কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই ভালোবাসতে শিখতে পারি। ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ১৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ২১৯। * '''ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।''' ** "দ্য সাবলাইম অ্যান্ড দ্য গুড", *শিকাগো রিভিউ*, খণ্ড ১৩, সংখ্যা ৩ (শরৎ ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫১। * মানুষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকে কেবল মিথ্যা আর অমঙ্গলই জন্ম নেয়। ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ৬১। * '''যেই সম্পর্কগুলোকে আমরা খুব সহজভাবে বা অবধারিত ধরে নিই, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত স্বস্তির কোনো বিকল্প হয় না।''' ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ১৮১। * আমার মনে হয় একজন নারী হওয়া অনেকটা আইরিশ হওয়ার মতোই... সবাই বলে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার, কিন্তু দিনশেষে আপনাকে দ্বিতীয় স্থানটিই মেনে নিতে হয়। ** ''[[w:দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন|দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন]]'' (১৯৬৫), অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ৩০। * ভালো হওয়াটা দিনশেষে আসলে স্বভাব বা মেজাজের একটি বিষয় মাত্র। ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ১৪, পৃষ্ঠা ১২৭। ** মারডক এই অভিমতটি তাঁর সৃষ্ট চরিত্র কেট গ্রের ওপর আরোপ করেছেন। এটি তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল না। [[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right|সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে...]] * '''সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। আর অভিশপ্ত হওয়া বলতে বোঝায় একজনের সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তরে অনবরত নিজের কথা নিয়ে যন্ত্রণাদায়ক ঘোরের মধ্যে নিমগ্ন থাকা।''' ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ২২। * '''ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।''' ** ''[[w:এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট|এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট]]'' (১৯৭০); ২০০১, পৃষ্ঠা ১৭০। * আমরা যদি মনোযোগ দেওয়ার আগের কাজটুকুকে উপেক্ষা করি এবং কেবল পছন্দের মুহূর্তটির শূন্যতাকে লক্ষ্য করি, তবে সম্ভবত আমরা স্বাধীনতাকে বাহ্যিক আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেলব, কারণ তা ছাড়া স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করার মতো আর কিছুই আমাদের সামনে থাকে না। কিন্তু আমরা যদি বিবেচনা করি যে মনোযোগের কাজটুকু আসলে কেমন, কীভাবে '''এটি অবিরাম চলতে থাকে''', এবং কতটা অদৃশ্যভাবে '''এটি আমাদের চারপাশে মূল্যবোধের কাঠামো তৈরি করে''', তবে পছন্দের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোতে কেন বেছে নেওয়ার অধিকাংশ কাজ আগে থেকেই সম্পন্ন হয়ে থাকে তা দেখে আমরা আর অবাক হব না। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৩৬। * আমাদের সান্ত্বনা দেয় এমন প্রায় সব কিছুই আসলে এক প্রকার মিথ্যা। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৫৯। * লেখালেখি করা অনেকটা বিয়ে করার মতো। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা উচিত নয় যতক্ষণ না কেউ নিজের ভাগ্যে বিস্মিত হয়। ** ''[[w:দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স (উপন্যাস)|দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স]]'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১০। * '''সকল শিল্পই হলো এক বিশেষ উপায়ে পুণ্যবান হয়ে ওঠার সংগ্রাম।''' ** ''দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৮১। * শোকাতুর হওয়া বা স্বজন হারানো হলো এমন এক অন্ধকার যা যারা স্বজন হারায়নি তাদের কল্পনার অগম্য। ** ''দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৩৭। * '''খাবার খেতে হলে, দাঁতে দাঁত মিলতে হবে।''' ** ''[[w:দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন|দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন]]'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৬৬। * '''অহংকারের পাপ কারো জীবনে ছোট বা বড় ঘটনা হতে পারে, আর আহত দম্ভ হতে পারে ক্ষণস্থায়ী আলপিনের খোঁচা অথবা নিজেকে ধ্বংস করার মতো কিংবা এমনকি খুনে উন্মাদনা।''' সম্ভবত ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ বা প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে আহত দম্ভের কারণেই বেশি মানুষ নিজেকে এবং অন্যদের হত্যা করে। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৭৬। [[File:Glory 2004.04.650.jpg|thumb|right|সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।]] * হুইট মেইনেল ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী; জীবনের শুরুর দিকেই তিনি একটি বুদ্ধিভিত্তিক গোলকধাঁধায় আটকে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আর কখনোই বের হতে পারেননি। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৫। * ছেলেটির প্রতি নিজের যৌন অনুভূতি দেখে স্টুয়ার্ট মোটেও বিচলিত হননি। ** ''[[w:দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস|দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস]]'' (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ২৪৭। * '''শিল্প হলো মানুষের আত্মার সর্বশেষ চাতুর্য যা দেবতাদের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বরং অন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হবে।''' ** "আর্ট অ্যান্ড এরোস: এ ডায়ালগ অ্যাবাউট আর্ট", ''অ্যাকাস্টোস: টু প্লেটোনিক ডায়ালগস'' (১৯৮৬)। * '''সম্ভবত বিভ্রান্তিকর নৈতিক আবেগ কিংকর্তব্যবিমূঢ় উদাসীনতার চেয়ে অনেক ভালো।''' ** ''[[w:দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড|দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড]]'' (১৯৮৭), পৃষ্ঠা ২৪৮। * '''সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।''' ** ''[[w:দ্য অবজারভার|দ্য অবজারভার]]'', ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭-এ উদ্ধৃত। * কিন্তু কল্পনাপ্রসূত ফ্যান্টাসি মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয় এবং পর্নোগ্রাফি শিল্পের জন্য মৃত্যুর সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৪৩। [[File:Bahía Onelli Parque Nacional Los Glaciares Patagonia Argentina Luca Galuzzi 2005.JPG|thumb|right|একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।]] * আমি বলতে পারি যে, যেকোনো কিছুকেই আন্তরিকভাবে উপাসনা করার মাধ্যমে পবিত্র করে তোলা সম্ভব। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৩২২। 67wtll9x2h1mqs4jsey6bs8yh8fvfbj 76811 76810 2026-04-15T03:40:18Z Sumanta3023 4175 76811 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। == উক্তি == [[File:Rembrandt_Harmensz._van_Rijn_-_The_Return_of_the_Prodigal_Son.jpg|thumb|right|ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।]] * এই অল্পবয়সী প্রাণীটির সান্নিধ্যে তিনি এখন যে আনন্দ অনুভব করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনো অপরাধবোধ বা কষ্ট ছিল না; এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর এই অনুরাগের শারীরিক লক্ষণগুলোও আবিষ্কার করলেন, তখনও তিনি ভয় পেলেন না। বরং তিনি প্রফুল্ল ও প্রশান্ত চিত্তে নিকের সাথে দেখা করে যেতে লাগলেন যখনই তাঁর সাধারণ কর্তব্যের প্রয়োজনে তা মনে হতো, এবং নিজের আধ্যাত্মিক জীবনের নবঅর্জিত দৃঢ়তা ও যুক্তিসঙ্গত স্থৈর্যের জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানালেন। ** ''[[w:দ্য বেল|দ্য বেল]]'' (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৯১। * '''একটি সুন্দর জীবনের প্রধান শর্ত হলো... নিজের কোনো ভাবমূর্তি বা ইমেজ ছাড়াই বেঁচে থাকা।''' ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৯। * আমরা কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই ভালোবাসতে শিখতে পারি। ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ১৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ২১৯। * '''ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।''' ** "দ্য সাবলাইম অ্যান্ড দ্য গুড", *শিকাগো রিভিউ*, খণ্ড ১৩, সংখ্যা ৩ (শরৎ ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫১। * মানুষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকে কেবল মিথ্যা আর অমঙ্গলই জন্ম নেয়। ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ৬১। * '''যেই সম্পর্কগুলোকে আমরা খুব সহজভাবে বা অবধারিত ধরে নিই, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত স্বস্তির কোনো বিকল্প হয় না।''' ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ১৮১। * আমার মনে হয় একজন নারী হওয়া অনেকটা আইরিশ হওয়ার মতোই... সবাই বলে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার, কিন্তু দিনশেষে আপনাকে দ্বিতীয় স্থানটিই মেনে নিতে হয়। ** ''[[w:দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন|দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন]]'' (১৯৬৫), অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ৩০। * ভালো হওয়াটা দিনশেষে আসলে স্বভাব বা মেজাজের একটি বিষয় মাত্র। ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ১৪, পৃষ্ঠা ১২৭। ** মারডক এই অভিমতটি তাঁর সৃষ্ট চরিত্র কেট গ্রের ওপর আরোপ করেছেন। এটি তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল না। [[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right|সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে...]] * '''সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। আর অভিশপ্ত হওয়া বলতে বোঝায় একজনের সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তরে অনবরত নিজের কথা নিয়ে যন্ত্রণাদায়ক ঘোরের মধ্যে নিমগ্ন থাকা।''' ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ২২। * '''ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।''' ** ''[[w:এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট|এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট]]'' (১৯৭০); ২০০১, পৃষ্ঠা ১৭০। * আমরা যদি মনোযোগ দেওয়ার আগের কাজটুকুকে উপেক্ষা করি এবং কেবল পছন্দের মুহূর্তটির শূন্যতাকে লক্ষ্য করি, তবে সম্ভবত আমরা স্বাধীনতাকে বাহ্যিক আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেলব, কারণ তা ছাড়া স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করার মতো আর কিছুই আমাদের সামনে থাকে না। কিন্তু আমরা যদি বিবেচনা করি যে মনোযোগের কাজটুকু আসলে কেমন, কীভাবে '''এটি অবিরাম চলতে থাকে''', এবং কতটা অদৃশ্যভাবে '''এটি আমাদের চারপাশে মূল্যবোধের কাঠামো তৈরি করে''', তবে পছন্দের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোতে কেন বেছে নেওয়ার অধিকাংশ কাজ আগে থেকেই সম্পন্ন হয়ে থাকে তা দেখে আমরা আর অবাক হব না। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৩৬। * আমাদের সান্ত্বনা দেয় এমন প্রায় সব কিছুই আসলে এক প্রকার মিথ্যা। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৫৯। * লেখালেখি করা অনেকটা বিয়ে করার মতো। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা উচিত নয় যতক্ষণ না কেউ নিজের ভাগ্যে বিস্মিত হয়। ** ''[[w:দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স (উপন্যাস)|দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স]]'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১০। * '''সকল শিল্পই হলো এক বিশেষ উপায়ে পুণ্যবান হয়ে ওঠার সংগ্রাম।''' ** ''দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৮১। * শোকাতুর হওয়া বা স্বজন হারানো হলো এমন এক অন্ধকার যা যারা স্বজন হারায়নি তাদের কল্পনার অগম্য। ** ''দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৩৭। * '''খাবার খেতে হলে, দাঁতে দাঁত মিলতে হবে।''' ** ''[[w:দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন|দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন]]'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৬৬। * '''অহংকারের পাপ কারো জীবনে ছোট বা বড় ঘটনা হতে পারে, আর আহত দম্ভ হতে পারে ক্ষণস্থায়ী আলপিনের খোঁচা অথবা নিজেকে ধ্বংস করার মতো কিংবা এমনকি খুনে উন্মাদনা।''' সম্ভবত ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ বা প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে আহত দম্ভের কারণেই বেশি মানুষ নিজেকে এবং অন্যদের হত্যা করে। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৭৬। [[File:Glory 2004.04.650.jpg|thumb|right|সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।]] * হুইট মেইনেল ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী; জীবনের শুরুর দিকেই তিনি একটি বুদ্ধিভিত্তিক গোলকধাঁধায় আটকে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আর কখনোই বের হতে পারেননি। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৫। * ছেলেটির প্রতি নিজের যৌন অনুভূতি দেখে স্টুয়ার্ট মোটেও বিচলিত হননি। ** ''[[w:দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস|দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস]]'' (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ২৪৭। * '''শিল্প হলো মানুষের আত্মার সর্বশেষ চাতুর্য যা দেবতাদের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বরং অন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হবে।''' ** "আর্ট অ্যান্ড এরোস: এ ডায়ালগ অ্যাবাউট আর্ট", ''অ্যাকাস্টোস: টু প্লেটোনিক ডায়ালগস'' (১৯৮৬)। * '''সম্ভবত বিভ্রান্তিকর নৈতিক আবেগ কিংকর্তব্যবিমূঢ় উদাসীনতার চেয়ে অনেক ভালো।''' ** ''[[w:দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড|দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড]]'' (১৯৮৭), পৃষ্ঠা ২৪৮। * '''সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।''' ** ''[[w:দ্য অবজারভার|দ্য অবজারভার]]'', ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭-এ উদ্ধৃত। * কিন্তু কল্পনাপ্রসূত ফ্যান্টাসি মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয় এবং পর্নোগ্রাফি শিল্পের জন্য মৃত্যুর সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৪৩। [[File:Bahía Onelli Parque Nacional Los Glaciares Patagonia Argentina Luca Galuzzi 2005.JPG|thumb|right|একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।]] * আমি বলতে পারি যে, যেকোনো কিছুকেই আন্তরিকভাবে উপাসনা করার মাধ্যমে পবিত্র করে তোলা সম্ভব। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৩২২। * '''সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহের দূরের মানুষরা যখন আমাদের পাঠানো কোনো তরঙ্গ খুঁজে পাবে, তখন তারা কেবল একটি অবিরাম চিৎকারই শুনতে পাবে।''' ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫০৯। * সাধারণ অর্থে এই ধারণাটি এক ধরনের সান্ত্বনা দেয় যে কেউ কোনো একটি নির্দিষ্ট বিপর্যয়ে বেঁচে থাকবে না, কারণ এটি সেই বিপর্যয়কে বিলুপ্ত করে দেওয়ারই সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫৩২। * '''একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।''' ** ''[[w:দ্য টাইমস|দ্য টাইমস]]'' (৬ জুলাই ১৯৮৯) এ উদ্ধৃত। ===''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'' (১৯৫৩)=== <small>''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'', পেঙ্গুইন, ১৯৮৯</small> * বর্তমানে একমাত্র সন্তুষ্ট [[যুক্তিবিদ]] হলেন সংকীর্ণমনা বিজ্ঞানী অথবা মার্কসবাদীরা। ** অধ্যায় ৭, পৃষ্ঠা ১১৩ * নিজের চরিত্র সম্পর্কে গভীর চিন্তা প্রায়শই এক অদ্ভুত শূন্যতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে; এবং কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে খুব ভালো করে চেনে, তবে সে মাঝেমধ্যে সেই ব্যক্তির মধ্যেও একই রকম শূন্যতার আভাস পেতে পারে। (এটি বন্ধুত্বের অন্যতম এক অদ্ভুত বিশেষাধিকার।) ** অধ্যায় ৮, পৃষ্ঠা ১১৯ * সকল অধিবিদ্যামূলক তত্ত্বই শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক বা প্রত্যক্ষবাদী আক্রমণের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১২৭ * দর্শনের ভূমিকা হলো মানবজাতির আত্মসচেতনতাকে প্রসারিত এবং গভীর করা এ কথা বলা যেতে পারে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১৩৭ * উপন্যাস, অর্থাৎ যথাযথ উপন্যাস বলতে যা বোঝায়, তা হলো মানুষের একে অপরের প্রতি আচরণের বিষয়, আর তাই এটি মানুষের মূল্যবোধ সম্পর্কিত। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮ * আমরা জানি যে শেখানোর মতো প্রকৃত শিক্ষাটি হলো এই যে মানুষ মূল্যবান এবং অনন্য; কিন্তু আদর্শবাদ এবং বিমূর্ত ধারণা ছাড়া আমরা এটি প্রকাশ করতে সক্ষম বলে মনে হয় না। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৪৮ (বইটির সমাপনী বাক্য) {{Misattributed begin}} 2q3igryc6nu7ta8zyqh699g10a19sbc 76812 76811 2026-04-15T03:47:48Z Sumanta3023 4175 /* উক্তি */ 76812 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। == উক্তি == [[File:Rembrandt_Harmensz._van_Rijn_-_The_Return_of_the_Prodigal_Son.jpg|thumb|right|ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।]] * এই অল্পবয়সী প্রাণীটির সান্নিধ্যে তিনি এখন যে আনন্দ অনুভব করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনো অপরাধবোধ বা কষ্ট ছিল না; এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর এই অনুরাগের শারীরিক লক্ষণগুলোও আবিষ্কার করলেন, তখনও তিনি ভয় পেলেন না। বরং তিনি প্রফুল্ল ও প্রশান্ত চিত্তে নিকের সাথে দেখা করে যেতে লাগলেন যখনই তাঁর সাধারণ কর্তব্যের প্রয়োজনে তা মনে হতো, এবং নিজের আধ্যাত্মিক জীবনের নবঅর্জিত দৃঢ়তা ও যুক্তিসঙ্গত স্থৈর্যের জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানালেন। ** ''[[w:দ্য বেল|দ্য বেল]]'' (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৯১। * '''একটি সুন্দর জীবনের প্রধান শর্ত হলো... নিজের কোনো ভাবমূর্তি বা ইমেজ ছাড়াই বেঁচে থাকা।''' ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৯। * আমরা কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই ভালোবাসতে শিখতে পারি। ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ১৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ২১৯। * '''ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।''' ** "দ্য সাবলাইম অ্যান্ড দ্য গুড", *শিকাগো রিভিউ*, খণ্ড ১৩, সংখ্যা ৩ (শরৎ ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫১। * মানুষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকে কেবল মিথ্যা আর অমঙ্গলই জন্ম নেয়। ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ৬১। * '''যেই সম্পর্কগুলোকে আমরা খুব সহজভাবে বা অবধারিত ধরে নিই, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত স্বস্তির কোনো বিকল্প হয় না।''' ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ১৮১। * আমার মনে হয় একজন নারী হওয়া অনেকটা আইরিশ হওয়ার মতোই... সবাই বলে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার, কিন্তু দিনশেষে আপনাকে দ্বিতীয় স্থানটিই মেনে নিতে হয়। ** ''[[w:দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন|দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন]]'' (১৯৬৫), অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ৩০। * ভালো হওয়াটা দিনশেষে আসলে স্বভাব বা মেজাজের একটি বিষয় মাত্র। ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ১৪, পৃষ্ঠা ১২৭। ** মারডক এই অভিমতটি তাঁর সৃষ্ট চরিত্র কেট গ্রের ওপর আরোপ করেছেন। এটি তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল না। [[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right|সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে...]] * '''সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। আর অভিশপ্ত হওয়া বলতে বোঝায় একজনের সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তরে অনবরত নিজের কথা নিয়ে যন্ত্রণাদায়ক ঘোরের মধ্যে নিমগ্ন থাকা।''' ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ২২। * '''ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।''' ** ''[[w:এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট|এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট]]'' (১৯৭০); ২০০১, পৃষ্ঠা ১৭০। * আমরা যদি মনোযোগ দেওয়ার আগের কাজটুকুকে উপেক্ষা করি এবং কেবল পছন্দের মুহূর্তটির শূন্যতাকে লক্ষ্য করি, তবে সম্ভবত আমরা স্বাধীনতাকে বাহ্যিক আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেলব, কারণ তা ছাড়া স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করার মতো আর কিছুই আমাদের সামনে থাকে না। কিন্তু আমরা যদি বিবেচনা করি যে মনোযোগের কাজটুকু আসলে কেমন, কীভাবে '''এটি অবিরাম চলতে থাকে''', এবং কতটা অদৃশ্যভাবে '''এটি আমাদের চারপাশে মূল্যবোধের কাঠামো তৈরি করে''', তবে পছন্দের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোতে কেন বেছে নেওয়ার অধিকাংশ কাজ আগে থেকেই সম্পন্ন হয়ে থাকে তা দেখে আমরা আর অবাক হব না। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৩৬। * আমাদের সান্ত্বনা দেয় এমন প্রায় সব কিছুই আসলে এক প্রকার মিথ্যা। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৫৯। * লেখালেখি করা অনেকটা বিয়ে করার মতো। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা উচিত নয় যতক্ষণ না কেউ নিজের ভাগ্যে বিস্মিত হয়। ** ''[[w:দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স (উপন্যাস)|দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স]]'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১০। * '''সকল শিল্পই হলো এক বিশেষ উপায়ে পুণ্যবান হয়ে ওঠার সংগ্রাম।''' ** ''দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৮১। * শোকাতুর হওয়া বা স্বজন হারানো হলো এমন এক অন্ধকার যা যারা স্বজন হারায়নি তাদের কল্পনার অগম্য। ** ''দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৩৭। * '''খাবার খেতে হলে, দাঁতে দাঁত মিলতে হবে।''' ** ''[[w:দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন|দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন]]'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৬৬। * '''অহংকারের পাপ কারো জীবনে ছোট বা বড় ঘটনা হতে পারে, আর আহত দম্ভ হতে পারে ক্ষণস্থায়ী আলপিনের খোঁচা অথবা নিজেকে ধ্বংস করার মতো কিংবা এমনকি খুনে উন্মাদনা।''' সম্ভবত ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ বা প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে আহত দম্ভের কারণেই বেশি মানুষ নিজেকে এবং অন্যদের হত্যা করে। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৭৬। [[File:Glory 2004.04.650.jpg|thumb|right|সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।]] * হুইট মেইনেল ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী; জীবনের শুরুর দিকেই তিনি একটি বুদ্ধিভিত্তিক গোলকধাঁধায় আটকে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আর কখনোই বের হতে পারেননি। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৫। * ছেলেটির প্রতি নিজের যৌন অনুভূতি দেখে স্টুয়ার্ট মোটেও বিচলিত হননি। ** ''[[w:দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস|দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস]]'' (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ২৪৭। * '''শিল্প হলো মানুষের আত্মার সর্বশেষ চাতুর্য যা দেবতাদের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বরং অন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হবে।''' ** "আর্ট অ্যান্ড এরোস: এ ডায়ালগ অ্যাবাউট আর্ট", ''অ্যাকাস্টোস: টু প্লেটোনিক ডায়ালগস'' (১৯৮৬)। * '''সম্ভবত বিভ্রান্তিকর নৈতিক আবেগ কিংকর্তব্যবিমূঢ় উদাসীনতার চেয়ে অনেক ভালো।''' ** ''[[w:দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড|দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড]]'' (১৯৮৭), পৃষ্ঠা ২৪৮। * '''সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।''' ** ''[[w:দ্য অবজারভার|দ্য অবজারভার]]'', ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭-এ উদ্ধৃত। * কিন্তু কল্পনাপ্রসূত ফ্যান্টাসি মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয় এবং পর্নোগ্রাফি শিল্পের জন্য মৃত্যুর সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৪৩। [[File:Bahía Onelli Parque Nacional Los Glaciares Patagonia Argentina Luca Galuzzi 2005.JPG|thumb|right|একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।]] * আমি বলতে পারি যে, যেকোনো কিছুকেই আন্তরিকভাবে উপাসনা করার মাধ্যমে পবিত্র করে তোলা সম্ভব। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৩২২। * '''সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহের দূরের মানুষরা যখন আমাদের পাঠানো কোনো তরঙ্গ খুঁজে পাবে, তখন তারা কেবল একটি অবিরাম চিৎকারই শুনতে পাবে।''' ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫০৯। * সাধারণ অর্থে এই ধারণাটি এক ধরনের সান্ত্বনা দেয় যে কেউ কোনো একটি নির্দিষ্ট বিপর্যয়ে বেঁচে থাকবে না, কারণ এটি সেই বিপর্যয়কে বিলুপ্ত করে দেওয়ারই সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫৩২। * '''একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।''' ** ''[[w:দ্য টাইমস|দ্য টাইমস]]'' (৬ জুলাই ১৯৮৯) এ উদ্ধৃত। ===''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'' (১৯৫৩)=== <small>''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'', পেঙ্গুইন, ১৯৮৯</small> * বর্তমানে একমাত্র সন্তুষ্ট [[যুক্তিবিদ]] হলেন সংকীর্ণমনা বিজ্ঞানী অথবা মার্কসবাদীরা। ** অধ্যায় ৭, পৃষ্ঠা ১১৩ * নিজের চরিত্র সম্পর্কে গভীর চিন্তা প্রায়শই এক অদ্ভুত শূন্যতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে; এবং কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে খুব ভালো করে চেনে, তবে সে মাঝেমধ্যে সেই ব্যক্তির মধ্যেও একই রকম শূন্যতার আভাস পেতে পারে। (এটি বন্ধুত্বের অন্যতম এক অদ্ভুত বিশেষাধিকার।) ** অধ্যায় ৮, পৃষ্ঠা ১১৯ * সকল অধিবিদ্যামূলক তত্ত্বই শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক বা প্রত্যক্ষবাদী আক্রমণের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১২৭ * দর্শনের ভূমিকা হলো মানবজাতির আত্মসচেতনতাকে প্রসারিত এবং গভীর করা এ কথা বলা যেতে পারে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১৩৭ * উপন্যাস, অর্থাৎ যথাযথ উপন্যাস বলতে যা বোঝায়, তা হলো মানুষের একে অপরের প্রতি আচরণের বিষয়, আর তাই এটি মানুষের মূল্যবোধ সম্পর্কিত। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮ * আমরা জানি যে শেখানোর মতো প্রকৃত শিক্ষাটি হলো এই যে মানুষ মূল্যবান এবং অনন্য; কিন্তু আদর্শবাদ এবং বিমূর্ত ধারণা ছাড়া আমরা এটি প্রকাশ করতে সক্ষম বলে মনে হয় না। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৪৮ (বইটির সমাপনী বাক্য) {{Misattributed begin}} == ভুল আরোপ করা হয়েছে == * আমি নিজেকে [[মেরি টাইলার মুর|মেরি টাইলার মুরের]] মতো নয়, বরং রোডার মতো দেখি। ** এটি আইরিস মারডকের উক্তি নয়, বরং অভিনেত্রী এবং কৌতুকভিনেতা [[রোজি ও'ডোনেল|রোজি ও'ডোনেলের]] উক্তি। জর্জ মেয়ার রচিত ''রোজি ও'ডোনেল: হার ট্রু স্টোরি'' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৮১ দ্রষ্টব্য। {{Misattributed end}} == আইরিস মারডক সম্পর্কে উক্তি == * তাঁর চাতুর্যপূর্ণ ভঙ্গিটির মধ্যে এমন কিছু একটা আছে যা আমি সাধারণত অনুকরণ করার কথা ভাবি না, কিন্তু এর মধ্যে খুব চমৎকার কিছু একটা লুকিয়ে আছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো হয়তো খুন বা ধর্ষণের মতো কাজ করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা জগতের মহত্ত্ব বা ভালো কী তা নিয়ে ভাবছে; এই ধরনের এক বিচিত্র সহাবস্থান সেখানে দেখা যায়। ** [[লুইস গ্লিক]], [https://www.pw.org/content/internal_tapestries সাক্ষাৎকার] (২০১৪) * আমি এখনও ব্রিটিশ নারী লেখকদের প্রতি খুব টান অনুভব করি, বিশেষ করে আইরিস মারডক এবং তাঁর সেই অসম্ভব রহস্যময় চরিত্রগুলো এবং তাদের করা দার্শনিক প্রশ্নগুলোর প্রতি। ** [[ভ্যালেরি মাইনার]], ডোনা পেরি রচিত ''ব্যাকটক: উইমেন রাইটার্স স্পিক আউট'' (১৯৯৩) এ দেওয়া সাক্ষাৎকার। ==বহিঃসংযোগ== {{wikipedia}} *[http://robotwisdom2.blogspot.com/2008/03/quotable-iris-murdoch.html কোটেবল আইরিস মারডক (লিঙ্কসহ)] {{DEFAULTSORT:Murdoch, Iris}} [[বিষয়শ্রেণী:বুকার পুরস্কার বিজয়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের ঔপন্যাসিক]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের নাট্যকার]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের শিক্ষাবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের দার্শনিক]] [[বিষয়শ্রেণী:এলজিবিটি ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:নাস্তিক]] [[বিষয়শ্রেণী:আইরিশ সমাজতান্ত্রিক]] [[বিষয়শ্রেণী:নারী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:ডাবলিনের ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯১৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯৯-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:২০তম শতাব্দীর ব্রিটিশ কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] 22yk3d56nmn8gxz7i7uj2rujca7tp49 76813 76812 2026-04-15T03:48:40Z Sumanta3023 4175 76813 wikitext text/x-wiki [[File:Lilla iris randers.jpg|thumb|right|ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।]] '''[[w:আইরিস মারডক|ডেম জিন আইরিস মারডক]]''' (১৫ জুলাই ১৯১৯ – ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক। তিনি তাঁর সেইসব উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত যেগুলোতে সমৃদ্ধ চরিত্রায়ন এবং আকর্ষণীয় কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যেগুলোর বিষয়বস্তু সাধারণত নৈতিকতা বা যৌনতা সম্পর্কিত। তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ২০০১ সালে ''[[w:আইরিস (২০০১ চলচ্চিত্র)|আইরিস]]'' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। == উক্তি == [[File:Rembrandt_Harmensz._van_Rijn_-_The_Return_of_the_Prodigal_Son.jpg|thumb|right|ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।]] * এই অল্পবয়সী প্রাণীটির সান্নিধ্যে তিনি এখন যে আনন্দ অনুভব করছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনো অপরাধবোধ বা কষ্ট ছিল না; এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর এই অনুরাগের শারীরিক লক্ষণগুলোও আবিষ্কার করলেন, তখনও তিনি ভয় পেলেন না। বরং তিনি প্রফুল্ল ও প্রশান্ত চিত্তে নিকের সাথে দেখা করে যেতে লাগলেন যখনই তাঁর সাধারণ কর্তব্যের প্রয়োজনে তা মনে হতো, এবং নিজের আধ্যাত্মিক জীবনের নবঅর্জিত দৃঢ়তা ও যুক্তিসঙ্গত স্থৈর্যের জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানালেন। ** ''[[w:দ্য বেল|দ্য বেল]]'' (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৯১। * '''একটি সুন্দর জীবনের প্রধান শর্ত হলো... নিজের কোনো ভাবমূর্তি বা ইমেজ ছাড়াই বেঁচে থাকা।''' ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ১১৯। * আমরা কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই ভালোবাসতে শিখতে পারি। ** ''দ্য বেল'' (১৯৫৮), অধ্যায় ১৯; ২০০১, পৃষ্ঠা ২১৯। * '''ভালোবাসা হলো এই অত্যন্ত কঠিন উপলব্ধি যে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুও বাস্তব। ভালোবাসা, এবং একইভাবে শিল্প ও নীতিবোধ হলো বাস্তবতার আবিষ্কার।''' ** "দ্য সাবলাইম অ্যান্ড দ্য গুড", *শিকাগো রিভিউ*, খণ্ড ১৩, সংখ্যা ৩ (শরৎ ১৯৫৯), পৃষ্ঠা ৫১। * মানুষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকে কেবল মিথ্যা আর অমঙ্গলই জন্ম নেয়। ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ৬১। * '''যেই সম্পর্কগুলোকে আমরা খুব সহজভাবে বা অবধারিত ধরে নিই, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত স্বস্তির কোনো বিকল্প হয় না।''' ** ''এ সেভার্ড হেড'' (১৯৬১); ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ১৮১। * আমার মনে হয় একজন নারী হওয়া অনেকটা আইরিশ হওয়ার মতোই... সবাই বলে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার, কিন্তু দিনশেষে আপনাকে দ্বিতীয় স্থানটিই মেনে নিতে হয়। ** ''[[w:দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন|দ্য রেড অ্যান্ড দ্য গ্রিন]]'' (১৯৬৫), অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ৩০। * ভালো হওয়াটা দিনশেষে আসলে স্বভাব বা মেজাজের একটি বিষয় মাত্র। ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ১৪, পৃষ্ঠা ১২৭। ** মারডক এই অভিমতটি তাঁর সৃষ্ট চরিত্র কেট গ্রের ওপর আরোপ করেছেন। এটি তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল না। [[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right|সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে...]] * '''সুখ হলো এমন একটি বিষয় যেখানে একজনের অতি সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তর ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত থাকে এবং নিজের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। আর অভিশপ্ত হওয়া বলতে বোঝায় একজনের সাধারণ দৈনন্দিন চেতনার স্তরে অনবরত নিজের কথা নিয়ে যন্ত্রণাদায়ক ঘোরের মধ্যে নিমগ্ন থাকা।''' ** ''দ্য নাইস অ্যান্ড দ্য গুড'' (১৯৬৮), অধ্যায় ২২। * '''ফুলহীন কোনো গ্রহ থেকে আসা মানুষরা ভাববে যে, আমাদের চারপাশে এমন সব জিনিস রয়েছে দেখে আমরা নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আনন্দে পাগল হয়ে থাকি।''' ** ''[[w:এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট|এ ফেয়ারলি অনারেবল ডিফিট]]'' (১৯৭০); ২০০১, পৃষ্ঠা ১৭০। * আমরা যদি মনোযোগ দেওয়ার আগের কাজটুকুকে উপেক্ষা করি এবং কেবল পছন্দের মুহূর্তটির শূন্যতাকে লক্ষ্য করি, তবে সম্ভবত আমরা স্বাধীনতাকে বাহ্যিক আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেলব, কারণ তা ছাড়া স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করার মতো আর কিছুই আমাদের সামনে থাকে না। কিন্তু আমরা যদি বিবেচনা করি যে মনোযোগের কাজটুকু আসলে কেমন, কীভাবে '''এটি অবিরাম চলতে থাকে''', এবং কতটা অদৃশ্যভাবে '''এটি আমাদের চারপাশে মূল্যবোধের কাঠামো তৈরি করে''', তবে পছন্দের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোতে কেন বেছে নেওয়ার অধিকাংশ কাজ আগে থেকেই সম্পন্ন হয়ে থাকে তা দেখে আমরা আর অবাক হব না। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৩৬। * আমাদের সান্ত্বনা দেয় এমন প্রায় সব কিছুই আসলে এক প্রকার মিথ্যা। ** ''দ্য সোভেরেন্টি অফ গুড'' (১৯৭০), পৃষ্ঠা ৫৯। * লেখালেখি করা অনেকটা বিয়ে করার মতো। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা উচিত নয় যতক্ষণ না কেউ নিজের ভাগ্যে বিস্মিত হয়। ** ''[[w:দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স (উপন্যাস)|দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স]]'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১০। * '''সকল শিল্পই হলো এক বিশেষ উপায়ে পুণ্যবান হয়ে ওঠার সংগ্রাম।''' ** ''দ্য ব্ল্যাক প্রিন্স'' (১৯৭৩); ২০০৩, পৃষ্ঠা ১৮১। * শোকাতুর হওয়া বা স্বজন হারানো হলো এমন এক অন্ধকার যা যারা স্বজন হারায়নি তাদের কল্পনার অগম্য। ** ''দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৩৭। * '''খাবার খেতে হলে, দাঁতে দাঁত মিলতে হবে।''' ** ''[[w:দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন|দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন লাভ মেশিন]]'' (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৬৬। * '''অহংকারের পাপ কারো জীবনে ছোট বা বড় ঘটনা হতে পারে, আর আহত দম্ভ হতে পারে ক্ষণস্থায়ী আলপিনের খোঁচা অথবা নিজেকে ধ্বংস করার মতো কিংবা এমনকি খুনে উন্মাদনা।''' সম্ভবত ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ বা প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে আহত দম্ভের কারণেই বেশি মানুষ নিজেকে এবং অন্যদের হত্যা করে। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ৭৬। [[File:Glory 2004.04.650.jpg|thumb|right|সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।]] * হুইট মেইনেল ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী; জীবনের শুরুর দিকেই তিনি একটি বুদ্ধিভিত্তিক গোলকধাঁধায় আটকে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আর কখনোই বের হতে পারেননি। ** ''দ্য ফিলোসফার্স পিউপিল'' (১৯৮৩), পৃষ্ঠা ১৬৫। * ছেলেটির প্রতি নিজের যৌন অনুভূতি দেখে স্টুয়ার্ট মোটেও বিচলিত হননি। ** ''[[w:দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস|দ্য গুড অ্যাপ্রেন্টিস]]'' (১৯৮৫), পৃষ্ঠা ২৪৭। * '''শিল্প হলো মানুষের আত্মার সর্বশেষ চাতুর্য যা দেবতাদের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বরং অন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হবে।''' ** "আর্ট অ্যান্ড এরোস: এ ডায়ালগ অ্যাবাউট আর্ট", ''অ্যাকাস্টোস: টু প্লেটোনিক ডায়ালগস'' (১৯৮৬)। * '''সম্ভবত বিভ্রান্তিকর নৈতিক আবেগ কিংকর্তব্যবিমূঢ় উদাসীনতার চেয়ে অনেক ভালো।''' ** ''[[w:দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড|দ্য বুক অ্যান্ড দ্য ব্রাদারহুড]]'' (১৯৮৭), পৃষ্ঠা ২৪৮। * '''সাম্যের চিৎকার সবাইকে নিচে টেনে নামায়।''' ** ''[[w:দ্য অবজারভার|দ্য অবজারভার]]'', ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ এ উদ্ধৃত। * কিন্তু কল্পনাপ্রসূত ফ্যান্টাসি মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয় এবং পর্নোগ্রাফি শিল্পের জন্য মৃত্যুর সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৪৩। [[File:Bahía Onelli Parque Nacional Los Glaciares Patagonia Argentina Luca Galuzzi 2005.JPG|thumb|right|একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।]] * আমি বলতে পারি যে, যেকোনো কিছুকেই আন্তরিকভাবে উপাসনা করার মাধ্যমে পবিত্র করে তোলা সম্ভব। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৩২২। * '''সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহের দূরের মানুষরা যখন আমাদের পাঠানো কোনো তরঙ্গ খুঁজে পাবে, তখন তারা কেবল একটি অবিরাম চিৎকারই শুনতে পাবে।''' ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫০৯। * সাধারণ অর্থে এই ধারণাটি এক ধরনের সান্ত্বনা দেয় যে কেউ কোনো একটি নির্দিষ্ট বিপর্যয়ে বেঁচে থাকবে না, কারণ এটি সেই বিপর্যয়কে বিলুপ্ত করে দেওয়ারই সমান। ** ''দ্য মেসেজ টু দ্য প্ল্যানেট'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫৩২। * '''একটি খারাপ সমালোচনা পাতাগোনিয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে কি না তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ।''' ** ''[[w:দ্য টাইমস|দ্য টাইমস]]'' (৬ জুলাই ১৯৮৯) এ উদ্ধৃত। ===''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'' (১৯৫৩)=== <small>''সার্ত্র: রোমান্টিক র‍্যাশনালিষ্ট'', পেঙ্গুইন, ১৯৮৯</small> * বর্তমানে একমাত্র সন্তুষ্ট [[যুক্তিবিদ]] হলেন সংকীর্ণমনা বিজ্ঞানী অথবা মার্কসবাদীরা। ** অধ্যায় ৭, পৃষ্ঠা ১১৩ * নিজের চরিত্র সম্পর্কে গভীর চিন্তা প্রায়শই এক অদ্ভুত শূন্যতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে; এবং কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে খুব ভালো করে চেনে, তবে সে মাঝেমধ্যে সেই ব্যক্তির মধ্যেও একই রকম শূন্যতার আভাস পেতে পারে। (এটি বন্ধুত্বের অন্যতম এক অদ্ভুত বিশেষাধিকার।) ** অধ্যায় ৮, পৃষ্ঠা ১১৯ * সকল অধিবিদ্যামূলক তত্ত্বই শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক বা প্রত্যক্ষবাদী আক্রমণের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১২৭ * দর্শনের ভূমিকা হলো মানবজাতির আত্মসচেতনতাকে প্রসারিত এবং গভীর করা এ কথা বলা যেতে পারে। ** অধ্যায় ৯, পৃষ্ঠা ১৩৭ * উপন্যাস, অর্থাৎ যথাযথ উপন্যাস বলতে যা বোঝায়, তা হলো মানুষের একে অপরের প্রতি আচরণের বিষয়, আর তাই এটি মানুষের মূল্যবোধ সম্পর্কিত। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮ * আমরা জানি যে শেখানোর মতো প্রকৃত শিক্ষাটি হলো এই যে মানুষ মূল্যবান এবং অনন্য; কিন্তু আদর্শবাদ এবং বিমূর্ত ধারণা ছাড়া আমরা এটি প্রকাশ করতে সক্ষম বলে মনে হয় না। ** অধ্যায় ১০, পৃষ্ঠা ১৪৮ (বইটির সমাপনী বাক্য) {{Misattributed begin}} == ভুল আরোপ করা হয়েছে == * আমি নিজেকে [[মেরি টাইলার মুর|মেরি টাইলার মুরের]] মতো নয়, বরং রোডার মতো দেখি। ** এটি আইরিস মারডকের উক্তি নয়, বরং অভিনেত্রী এবং কৌতুকভিনেতা [[রোজি ও'ডোনেল|রোজি ও'ডোনেলের]] উক্তি। জর্জ মেয়ার রচিত ''রোজি ও'ডোনেল: হার ট্রু স্টোরি'' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৮১ দ্রষ্টব্য। {{Misattributed end}} == আইরিস মারডক সম্পর্কে উক্তি == * তাঁর চাতুর্যপূর্ণ ভঙ্গিটির মধ্যে এমন কিছু একটা আছে যা আমি সাধারণত অনুকরণ করার কথা ভাবি না, কিন্তু এর মধ্যে খুব চমৎকার কিছু একটা লুকিয়ে আছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো হয়তো খুন বা ধর্ষণের মতো কাজ করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা জগতের মহত্ত্ব বা ভালো কী তা নিয়ে ভাবছে; এই ধরনের এক বিচিত্র সহাবস্থান সেখানে দেখা যায়। ** [[লুইস গ্লিক]], [https://www.pw.org/content/internal_tapestries সাক্ষাৎকার] (২০১৪) * আমি এখনও ব্রিটিশ নারী লেখকদের প্রতি খুব টান অনুভব করি, বিশেষ করে আইরিস মারডক এবং তাঁর সেই অসম্ভব রহস্যময় চরিত্রগুলো এবং তাদের করা দার্শনিক প্রশ্নগুলোর প্রতি। ** [[ভ্যালেরি মাইনার]], ডোনা পেরি রচিত ''ব্যাকটক: উইমেন রাইটার্স স্পিক আউট'' (১৯৯৩) এ দেওয়া সাক্ষাৎকার। ==বহিঃসংযোগ== {{wikipedia}} *[http://robotwisdom2.blogspot.com/2008/03/quotable-iris-murdoch.html কোটেবল আইরিস মারডক (লিঙ্কসহ)] {{DEFAULTSORT:Murdoch, Iris}} [[বিষয়শ্রেণী:বুকার পুরস্কার বিজয়ী]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের ঔপন্যাসিক]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের নাট্যকার]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের শিক্ষাবিদ]] [[বিষয়শ্রেণী:আয়ারল্যান্ডের দার্শনিক]] [[বিষয়শ্রেণী:এলজিবিটি ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:নাস্তিক]] [[বিষয়শ্রেণী:আইরিশ সমাজতান্ত্রিক]] [[বিষয়শ্রেণী:নারী লেখক]] [[বিষয়শ্রেণী:ডাবলিনের ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯১৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯৯-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:২০তম শতাব্দীর ব্রিটিশ কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] aznt4ptx0m6xf4tr0xu5zn6ey4spp2h হাবিব ওয়াহিদ 0 12477 76758 76641 2026-04-14T21:21:04Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76758 wikitext text/x-wiki [[w:হাবিব ওয়াহিদ|হাবিব ওয়াহিদ]] (যিনি '''হাবিব''' নামেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত) (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] জনপ্রিয় সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাংলা লোকগীতির ফিউশনের সাথে টেকনো এবং শহুরে বিটের সমন্বয়ের জন্যে সমধিক পরিচিত। স্বল্প পরিচিত লোকগীতিকে আরো ভাল সুর দিয়ে, রিমিক্স করে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলছেন তিনি। তিনি মূলত [[হাসন রাজা]], [[শাহ আবদুল করিম]], আমির উদ্দীন প্রমুখ মরমী সঙ্গীত শিল্পীদের গানকে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ কারণে অনেকের কাছেই তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ বিভিন্ন শিল্পীর সাথে অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কে সাথে নিয়েই উপহার দিয়েছেন বেশির ভাগ গান। হাবিব ওয়াহিদ সদ্য সুপারস্টার [[দেব (অভিনেতা)|দেব]] অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ''বিন্দাস'' চলচ্চিত্রে ''তোমাকে ছেড়ে আমি'' শিরোনামে গান গেয়েছেন। তার সহশিল্পী ছিলেন তুলসী কুমার। == উক্তি== * ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করা হয়, তাই আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূলশক্তি শ্রোতার ভালোবাসা। নিরলস কাজে ডুবে থাকা আর মনের অতল ডুব দিয়েই সুর তুলে আনার চেষ্টা করেছি সব সময়। ** [https://samakal.com/entertainment/article/315112/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE:-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূল শক্তি শ্রোতার ভালোবাসা: হাবিব] ==হাবিব ওয়াহিদ সম্পর্কে উক্তি== * হাবিব যদি নিজেকে লিজেন্ড ভাবে, সেটা হবে তার ভুল ভাবনা। ** [[w:ফেরদৌস ওয়াহিদ|ফেরদৌস ওয়াহিদ]] সম্প্রতি [https://www.somoynews.tv/news/2026-04-13/N1sJSQ2W এই সাক্ষাৎকারে] হাবিবকে নিয়ে কথা বলেছেন। সময় টিভি, == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] m36bylu8faid9wm60zgrfxbw4gf07u6 76759 76758 2026-04-14T21:26:43Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */ 76759 wikitext text/x-wiki [[w:হাবিব ওয়াহিদ|হাবিব ওয়াহিদ]] (যিনি '''হাবিব''' নামেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত) (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] জনপ্রিয় সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাংলা লোকগীতির ফিউশনের সাথে টেকনো এবং শহুরে বিটের সমন্বয়ের জন্যে সমধিক পরিচিত। স্বল্প পরিচিত লোকগীতিকে আরো ভাল সুর দিয়ে, রিমিক্স করে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলছেন তিনি। তিনি মূলত [[হাসন রাজা]], [[শাহ আবদুল করিম]], আমির উদ্দীন প্রমুখ মরমী সঙ্গীত শিল্পীদের গানকে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ কারণে অনেকের কাছেই তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ বিভিন্ন শিল্পীর সাথে অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কে সাথে নিয়েই উপহার দিয়েছেন বেশির ভাগ গান। হাবিব ওয়াহিদ সদ্য সুপারস্টার [[দেব (অভিনেতা)|দেব]] অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ''বিন্দাস'' চলচ্চিত্রে ''তোমাকে ছেড়ে আমি'' শিরোনামে গান গেয়েছেন। তার সহশিল্পী ছিলেন তুলসী কুমার। == উক্তি== * ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করা হয়, তাই আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূলশক্তি শ্রোতার ভালোবাসা। নিরলস কাজে ডুবে থাকা আর মনের অতল ডুব দিয়েই সুর তুলে আনার চেষ্টা করেছি সব সময়। ** (হাবিব; সমকাল; ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫);[https://samakal.com/entertainment/article/315112/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE:-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূল শক্তি শ্রোতার ভালোবাসা: হাবিব] ==হাবিব ওয়াহিদ সম্পর্কে উক্তি== * হাবিব যদি নিজেকে লিজেন্ড ভাবে, সেটা হবে তার ভুল ভাবনা। ** [[w:ফেরদৌস ওয়াহিদ|ফেরদৌস ওয়াহিদ]] সম্প্রতি [https://www.somoynews.tv/news/2026-04-13/N1sJSQ2W এই সাক্ষাৎকারে] হাবিবকে নিয়ে কথা বলেছেন। সময় টিভি, == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] gvwnn4u4w4d95vyzo11rdhp6ldcss9h 76760 76759 2026-04-14T21:37:54Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76760 wikitext text/x-wiki [[w:হাবিব ওয়াহিদ|হাবিব ওয়াহিদ]] (যিনি '''হাবিব''' নামেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত) (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] জনপ্রিয় সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাংলা লোকগীতির ফিউশনের সাথে টেকনো এবং শহুরে বিটের সমন্বয়ের জন্যে সমধিক পরিচিত। স্বল্প পরিচিত লোকগীতিকে আরো ভাল সুর দিয়ে, রিমিক্স করে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলছেন তিনি। তিনি মূলত [[হাসন রাজা]], [[শাহ আবদুল করিম]], আমির উদ্দীন প্রমুখ মরমী সঙ্গীত শিল্পীদের গানকে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ কারণে অনেকের কাছেই তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ বিভিন্ন শিল্পীর সাথে অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কে সাথে নিয়েই উপহার দিয়েছেন বেশির ভাগ গান। হাবিব ওয়াহিদ সদ্য সুপারস্টার [[দেব (অভিনেতা)|দেব]] অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ''বিন্দাস'' চলচ্চিত্রে ''তোমাকে ছেড়ে আমি'' শিরোনামে গান গেয়েছেন। তার সহশিল্পী ছিলেন তুলসী কুমার। == উক্তি== * ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করা হয়, তাই আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূলশক্তি শ্রোতার ভালোবাসা। নিরলস কাজে ডুবে থাকা আর মনের অতল ডুব দিয়েই সুর তুলে আনার চেষ্টা করেছি সব সময়। ** (হাবিব; সমকাল; ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫);[https://samakal.com/entertainment/article/315112/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE:-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূল শক্তি শ্রোতার ভালোবাসা: হাবিব] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম নাসার আবিষ্কার দেখার পর থেকে আমার মন বলছে, মঙ্গল গ্রহ একসময় পৃথিবীর মতো ছিল। ** প্রথম আলো, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com fb নির্বাচিত স্ট্যাটাস] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম, হৃদয় ঘরে আসো। ** ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com fb নির্বাচিত স্ট্যাটাস] ==হাবিব ওয়াহিদ সম্পর্কে উক্তি== * হাবিব যদি নিজেকে লিজেন্ড ভাবে, সেটা হবে তার ভুল ভাবনা। ** [[w:ফেরদৌস ওয়াহিদ|ফেরদৌস ওয়াহিদ]] সম্প্রতি [https://www.somoynews.tv/news/2026-04-13/N1sJSQ2W এই সাক্ষাৎকারে] হাবিবকে নিয়ে কথা বলেছেন। সময় টিভি, == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 0myc5cxnsrwfacy6ed8uv3hquzbmhym 76761 76760 2026-04-14T21:39:44Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76761 wikitext text/x-wiki [[w:হাবিব ওয়াহিদ|হাবিব ওয়াহিদ]] (যিনি '''হাবিব''' নামেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত) (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] জনপ্রিয় সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাংলা লোকগীতির ফিউশনের সাথে টেকনো এবং শহুরে বিটের সমন্বয়ের জন্যে সমধিক পরিচিত। স্বল্প পরিচিত লোকগীতিকে আরো ভাল সুর দিয়ে, রিমিক্স করে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলছেন তিনি। তিনি মূলত [[হাসন রাজা]], [[শাহ আবদুল করিম]], আমির উদ্দীন প্রমুখ মরমী সঙ্গীত শিল্পীদের গানকে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ কারণে অনেকের কাছেই তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ বিভিন্ন শিল্পীর সাথে অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কে সাথে নিয়েই উপহার দিয়েছেন বেশির ভাগ গান। হাবিব ওয়াহিদ সদ্য সুপারস্টার [[দেব (অভিনেতা)|দেব]] অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ''বিন্দাস'' চলচ্চিত্রে ''তোমাকে ছেড়ে আমি'' শিরোনামে গান গেয়েছেন। তার সহশিল্পী ছিলেন তুলসী কুমার। == উক্তি== * ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করা হয়, তাই আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূলশক্তি শ্রোতার ভালোবাসা। নিরলস কাজে ডুবে থাকা আর মনের অতল ডুব দিয়েই সুর তুলে আনার চেষ্টা করেছি সব সময়। ** (হাবিব; সমকাল; ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫);[https://samakal.com/entertainment/article/315112/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE:-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূল শক্তি শ্রোতার ভালোবাসা: হাবিব] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম নাসার আবিষ্কার দেখার পর থেকে আমার মন বলছে, মঙ্গল গ্রহ একসময় পৃথিবীর মতো ছিল। ** প্রথম আলো, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com ফেসবুক নির্বাচিত স্ট্যাটাস] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম, হৃদয় ঘরে আসো। ** ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com ফেসবুক নির্বাচিত স্ট্যাটাস] ==হাবিব ওয়াহিদ সম্পর্কে উক্তি== * হাবিব যদি নিজেকে লিজেন্ড ভাবে, সেটা হবে তার ভুল ভাবনা। ** [[w:ফেরদৌস ওয়াহিদ|ফেরদৌস ওয়াহিদ]] সম্প্রতি [https://www.somoynews.tv/news/2026-04-13/N1sJSQ2W এই সাক্ষাৎকারে] হাবিবকে নিয়ে কথা বলেছেন। সময় টিভি, == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] a9ot9tkd69n8itltb7ultrdwi3iybbz 76837 76761 2026-04-15T05:50:50Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 ছবি 76837 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Habib Wahid in 2022.jpg|থাম্ব]] [[w:হাবিব ওয়াহিদ|হাবিব ওয়াহিদ]] (যিনি '''হাবিব''' নামেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত) (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯) একজন [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]] জনপ্রিয় সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং সংগীত পরিচালক। তিনি বাংলা লোকগীতির ফিউশনের সাথে টেকনো এবং শহুরে বিটের সমন্বয়ের জন্যে সমধিক পরিচিত। স্বল্প পরিচিত লোকগীতিকে আরো ভাল সুর দিয়ে, রিমিক্স করে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলছেন তিনি। তিনি মূলত [[হাসন রাজা]], [[শাহ আবদুল করিম]], আমির উদ্দীন প্রমুখ মরমী সঙ্গীত শিল্পীদের গানকে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ কারণে অনেকের কাছেই তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। হাবিব ওয়াহিদ বিভিন্ন শিল্পীর সাথে অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কে সাথে নিয়েই উপহার দিয়েছেন বেশির ভাগ গান। হাবিব ওয়াহিদ সদ্য সুপারস্টার [[দেব (অভিনেতা)|দেব]] অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ''বিন্দাস'' চলচ্চিত্রে ''তোমাকে ছেড়ে আমি'' শিরোনামে গান গেয়েছেন। তার সহশিল্পী ছিলেন তুলসী কুমার। == উক্তি== * ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করা হয়, তাই আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূলশক্তি শ্রোতার ভালোবাসা। নিরলস কাজে ডুবে থাকা আর মনের অতল ডুব দিয়েই সুর তুলে আনার চেষ্টা করেছি সব সময়। ** (হাবিব; সমকাল; ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫);[https://samakal.com/entertainment/article/315112/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE:-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC আমাকে দিয়ে যা কিছু হয়েছে, তার মূল শক্তি শ্রোতার ভালোবাসা: হাবিব] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম নাসার আবিষ্কার দেখার পর থেকে আমার মন বলছে, মঙ্গল গ্রহ একসময় পৃথিবীর মতো ছিল। ** প্রথম আলো, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com ফেসবুক নির্বাচিত স্ট্যাটাস] * মনের দুয়ার খুলে দিলাম, হৃদয় ঘরে আসো। ** ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত [https://www.prothomalo.com/lifestyle/fb-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-2?utm_source=chatgpt.com ফেসবুক নির্বাচিত স্ট্যাটাস] ==হাবিব ওয়াহিদ সম্পর্কে উক্তি== * হাবিব যদি নিজেকে লিজেন্ড ভাবে, সেটা হবে তার ভুল ভাবনা। ** [[w:ফেরদৌস ওয়াহিদ|ফেরদৌস ওয়াহিদ]] সম্প্রতি [https://www.somoynews.tv/news/2026-04-13/N1sJSQ2W এই সাক্ষাৎকারে] হাবিবকে নিয়ে কথা বলেছেন। সময় টিভি, == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 6ixlmqhhrcq1kpsga08rnkmxlxwpam0 জাইমা রহমান 0 12478 76740 76645 2026-04-14T18:18:43Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */ 76740 wikitext text/x-wiki [[w:জাইমা রহমান|জাইমা জারনাজ রহমান]] (জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫),''' '''যিনি '''জাইমা রহমান''' নামে বেশি পরিচিত, একজন বাংলাদেশী আইনজীবী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] একমাত্র সন্তান। তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী [[খালেদা জিয়া]] এবং প্রাক্তন [[রাষ্ট্রপতি]] [[জিয়াউর রহমান|জিয়াউর রহমানের]] নাতনী। ==উক্তি== * রাজনীতি এবং সমাজে ভিন্নমত থাকবে। কিন্তু ভিন্নমতের হলেও একসাথে বসে আলোচনা করাই গণতন্ত্রের অংশ ** ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকায় খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক [https://dailyinqilab.com/bangladesh/article/854390 সভায় এমন মন্তব্য] বলেছেন। * যখন নারীদের প্রান্তে ঠেলে না দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা শুধু নিজেদের জীবনই বদলায় না, তারা বদলে দেয় তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশ যদি প্রকৃত অগ্রগতি চায়, তাহলে প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার। ক্ষমতায়ন শুধু শ্রেণিকক্ষ, শুধু অফিস বা শুধু নীতিনির্ধারণে থেমে থাকতে পারে না। এটি পৌঁছাতে হবে আমাদের ঘরে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং আমাদের মানসিকতায়। এর দায়িত্ব আমাদের সবার।’ ** ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে উইমেন শেপিং দ্য নেশন পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ [https://www.prothomalo.com/bangladesh/vxj6i6jrp0 এই বক্তব্য] বলেছেন। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯৫-এ জন্ম]] fn1g9utbpzxcx3ullkarrjomjggzpov 76744 76740 2026-04-14T18:37:21Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76744 wikitext text/x-wiki [[w:জাইমা রহমান|জাইমা জারনাজ রহমান]] (জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫),''' '''যিনি '''জাইমা রহমান''' নামে বেশি পরিচিত, একজন বাংলাদেশী আইনজীবী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] একমাত্র সন্তান। তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী [[খালেদা জিয়া]] এবং প্রাক্তন [[রাষ্ট্রপতি]] [[জিয়াউর রহমান|জিয়াউর রহমানের]] নাতনী। ==উক্তি== * রাজনীতি এবং সমাজে ভিন্নমত থাকবে। কিন্তু ভিন্নমতের হলেও একসাথে বসে আলোচনা করাই গণতন্ত্রের অংশ ** ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকায় খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক [https://dailyinqilab.com/bangladesh/article/854390 সভায় এমন মন্তব্য] বলেছেন। * যখন নারীদের প্রান্তে ঠেলে না দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা শুধু নিজেদের জীবনই বদলায় না, তারা বদলে দেয় তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশ যদি প্রকৃত অগ্রগতি চায়, তাহলে প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার। ক্ষমতায়ন শুধু শ্রেণিকক্ষ, শুধু অফিস বা শুধু নীতিনির্ধারণে থেমে থাকতে পারে না। এটি পৌঁছাতে হবে আমাদের ঘরে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং আমাদের মানসিকতায়। এর দায়িত্ব আমাদের সবার।’ ** ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে উইমেন শেপিং দ্য নেশন পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ [https://www.prothomalo.com/bangladesh/vxj6i6jrp0 এই বক্তব্য] বলেছেন। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ * আজ এখানে উপস্থিত সবাই একরকম নই। আমাদের আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তারপরও আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করছি, কারণ আমরা সবাই দেশের জন্য ভাবছি। এই ভিন্নতার মধ্য দিয়েই একে অপরের কথা শোনা ও আলোচনা করাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য। ** ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত [https://www.ittefaq.com.bd/770844/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE এই এক আলোচনা সভায়] বলেছেন। ইত্তেফাক, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯৫-এ জন্ম]] 68x0e1b9skj3x5p4mzt2wi6iui9adlz ব্যবহারকারী:Usarker 2 12480 76675 2026-04-14T13:05:59Z Usarker 5144 "গোরস্থানের কবর খুঁড়িয়া মৃতেরা বাহির হয়ে, সাবধান পদে ঘুরিছে ফিরিছে ঘুমন্ত লোকালয়ে। মৃত জননীরা ছেলে মেয়েদের ঘরের দুয়ার ধরি, দেখিছে তাদের জোনাকি আলোয় ক্ষুধাতুর আঁ..." দিয়ে পাতা তৈরি 76675 wikitext text/x-wiki গোরস্থানের কবর খুঁড়িয়া মৃতেরা বাহির হয়ে, সাবধান পদে ঘুরিছে ফিরিছে ঘুমন্ত লোকালয়ে। মৃত জননীরা ছেলে মেয়েদের ঘরের দুয়ার ধরি, দেখিছে তাদের জোনাকি আলোয় ক্ষুধাতুর আঁখি ভরি - [[জসীম উদ্‌দীন]]---{[[পুর্ব্বরাগ]] ([[সোজন বাদিয়ার ঘাট]])} 00q1lya371egua2xf00uk0ctk7hrc10 জুনো দিয়াজ 0 12481 76683 2026-04-14T13:32:19Z Usarker 5144 "[[File:Junot Díaz (cropped).jpg|alt=Junot Diaz in 2012|thumb|২০০৭ সালে জুনো]] জুনোট ডিয়াজ (জন্ম ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৮) একজন ডোমিনিকান-আমেরিকান লেখক, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এ সৃজনশীল লেখালেখি প্রফ..." দিয়ে পাতা তৈরি 76683 wikitext text/x-wiki [[File:Junot Díaz (cropped).jpg|alt=Junot Diaz in 2012|thumb|২০০৭ সালে জুনো]] জুনোট ডিয়াজ (জন্ম ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৮) একজন ডোমিনিকান-আমেরিকান লেখক, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এ সৃজনশীল লেখালেখি প্রফেসর এবং বস্টন রিভিউ-তে কথাসাহিত্য সম্পাদক। ==উক্তি== * এই জীবনটা আমি আগে যতটা ভাবতাম, তার চেয়ে অনেক বেশি সাহস দাবি করে। এখানে বড় হতে হতে আমি সব সময় নানারকম বীরত্বপূর্ণ কল্পনা করতাম, কিন্তু বুঝতেই পারিনি যে আসলে যা সময়ের সাথে গড়ে উঠছিল, তা-ই হবে সবচেয়ে বড় বীরত্বপূর্ণ অভিযাত্রা— যেটা কিনা বেঁচে থাকা এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করা। এই কাজটা করতে যতটা সাহস লাগে, তা আমার কখনোই ছিল না। ** [http://www.playboy.com/articles/junot-diaz-brief-history প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রোফাইল অনুসারে (আগষ্ট ২০১৩)] * আমি এমন এক জগতে বড় হয়েছি—খুবই নিউ জার্সি-কেন্দ্রিক, আমেরিকান, ডোমিনিকান, অভিবাসী, আফ্রিকান-আমেরিকান, লাতিনো এক জগতে। আর, জানেন, আমি যে স্কুলে পড়েছি, সেখানেও প্রায় একই অবস্থা ছিল। কলেজেও তাই—যেখানে মূলত আমাকে নারীদের সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে কল্পনা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। বরং বৃহত্তর সংস্কৃতি, স্থানীয় সংস্কৃতি, আশেপাশের মানুষ, টিভির মানুষ—সবাই মিলে আমাকে এমনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে যে নারীরা যেন পুরুষদের চেয়ে কিছুটা নিম্নতর। তাই আমি মনে করি, অনেক পুরুষের জন্য আমাদের যাত্রার একটা বড় অংশ হলো এই সীমিত কল্পনাশক্তির সঙ্গে লড়াই করা, এর মুখোমুখি হওয়া, এবং এমনভাবে বিকশিত হওয়া যাতে আমরা শুধু নারীদের সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে কল্পনা করতে পারি না, বরং আমরা নারীদের প্রতি যা করি—যেগুলো আমরা প্রায়ই হালকাভাবে করি, না ভেবেই করি, সহজে এড়িয়ে যাই—সেগুলো যে আসলে গভীরভাবে সমস্যাপূর্ণ এবং আরেকজন মানুষকে আঘাত করে, তা যেন বুঝতে পারি। এটা শুনতে খুব সহজ একটা বিষয় মনে হয়। অনেকেই বলে, “সত্যি? এটা কি এত বড় কোনো জ্ঞান বা কল্পনার পরিবর্তন?” কিন্তু অনেক পুরুষের জন্য, সত্যিই তা-ই। ** [http://www.npr.org/2012/09/11/160252399/fidelity-in-fiction-junot-diaz-deconstructs-a-cheater এনপিআর ইন্টারভিউ (সেপ্টেম্বর ২০১২)] * আমাদের অভিবাসী সম্প্রদায় এবং অভিবাসী অভিজ্ঞতার ধারণা খুব নৈতিকমুখী। আমার মনে হয় আমাদের বাস্তবতা হলো উইলিয়াম গিবসন টনি মরিসনের সঙ্গে দেখা হওয়ার মত, কিন্তু আমরা যেভাবে অভিবাসীদের নৈতিকতা ব্যাখ্যা করছি, সেটা যেন চসারের যুগের মতো। ** [https://www.ft.com/content/a438f98e-01f4-11e4-bb71-00144feab7de লাঞ্চ উইথ এফটি ইন্টারভিউ (জুলাই ২০১৪)] * আমরা একটি পিতৃতান্ত্রিক কল্পনাশক্তির মধ্যে বাস করি, যেখানে পুরুষরা নারীদের সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে কল্পনা করতে পারে না। আসল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এইসব তিক্ত অনুভূতি কিভাবে আমাদের মধ্যে বাস করছে, কিভাবে এটা আমাদের জীবনে নিহিত, আমরা যদি ‘ভাল মানুষ’ও হই—এটা এক জনকে চিন্তা করতে বাধ্য করবে। ** [https://www.ft.com/content/a438f98e-01f4-11e4-bb71-00144feab7de লাঞ্চ উইথ এফটি ইন্টারভিউ (জুলাই ২০১৪)] * যদি তুমি মনে করো স্যালসা শেখা হলো তোমার ভবিষ্যত, তাহলে স্যালসা ক্লাসগুলোতে তুমি প্রায় অসহনীয় হবে না। ** [https://www.ft.com/content/a438f98e-01f4-11e4-bb71-00144feab7de Lunch with the FT interview (July 2014)] ==তার সম্পর্কে উক্তি== * ভয় ছাড়াই লেখা, কারণ আমার বন্ধু জুনো ডিয়াজ যেমন বলেছেন, “একজন লেখক, লেখক হয়ে উঠে কারণ যখন কোনো আশা নেই, যখন তুমি যা করো তাতে কোনো প্রতিশ্রুতির চিহ্ন দেখা যায় না, তবুও তুমি লেখা চালিয়ে যাও।” ** [[এডউইজ ড্যান্টিক্যাট]] ‘‘ক্রিয়েট ডেঞ্জারাসলি: দ্য ইমিগ্রান্ট আর্টিস্ট অ্যাট ওয়ার্ক’’ (২০১০) * আমি এখন আমার সৃজনশীল লেখালেখির ক্লাসে তার লেখা বা কাজগুলো শেখাই, যাতে শিক্ষার্থীরা লেখায় একটি অন্যরকম কণ্ঠ, ভাষা এবং খাঁটি সাহসী সততার অনুভূতি পায়। **২০১৩ সাক্ষাৎকার, ‘‘কনভারসেশনস উইথ [[নালো হপকিনসন]]’’ সম্পাদক: ইসাইয়া ল্যাভেন্ডার ৩ * জুনো ডিয়াজ, যিনি একজন বড় [[সায়েন্স ফিকশন]] ভক্ত। ** ২০০৫ সাক্ষাৎকার, ‘‘কনভারসেশনস উইথ [[নালো হপকিনসন]]’’ সম্পাদক: ইসাইয়া ল্যাভেন্ডার ৩ * যখন আমি প্রথমবার জুনো ডিয়াজের ছোট গল্পের সংগ্রহ ‘‘ড্রাউন’’ পড়লাম, তখনই প্রথমবার মনে হলো নিজেকেই জানলাম। ** [[লিলিয়াম রিভেরা]] [https://pen.org/pen-ten-interview-lilliam-rivera/সাক্ষাৎকার] (২০১৯) == বাহ্যিক লিঙ্ক == {{উইকিপিডিয়া}} {{DEFAULTSORT:ডিয়াজ, জুনো}} [[বিষয়শ্রেনী:যুক্তরাষ্ট্রের ঔপন্যাসিকরা]] [[বিষয়শ্রেনী:যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদকরা]] [[বিষয়শ্রেনী:যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদরা]] [[বিষয়শ্রেনী:১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণকারী]] [[বিষয়শ্রেনী:জীবিত মানুষ]] [[বিষয়শ্রেনী:যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক]] [[বিষয়শ্রেনী:ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মানুষ]] [[বিষয়শ্রেনী:ম্যাকআর্থার ফেলো]] [[বিষয়শ্রেনী:কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেনী:পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী]] [[বিষয়শ্রেনী:রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী]] e8yg5502g0obo9o75zfuc54anfh5duq আলাপ:জুনো দিয়াজ 1 12482 76684 2026-04-14T13:34:24Z Usarker 5144 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76684 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm ইয়োন ফসে 0 12483 76688 2026-04-14T13:48:21Z Usarker 5144 "[[File:Writer Jon Fosse (cropped).jpg|thumb|right|ইয়োন ফসে]] ইয়োন ফসে (জন্ম ১৯৫৯) একজন নরওয়েজিয়ান লেখক, অনুবাদক এবং নাট্যকার। ২০২৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন “তার উদ্ভাবনী নাটক এবং গদ..." দিয়ে পাতা তৈরি 76688 wikitext text/x-wiki [[File:Writer Jon Fosse (cropped).jpg|thumb|right|ইয়োন ফসে]] ইয়োন ফসে (জন্ম ১৯৫৯) একজন নরওয়েজিয়ান লেখক, অনুবাদক এবং নাট্যকার। ২০২৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন “তার উদ্ভাবনী নাটক এবং গদ্যর জন্য, যা অব্যক্ত কথাগুলিকে কণ্ঠ প্রদান করে।” ==উক্তি== * যখন আমি ছোট ছিলাম, আমি প্রথমে সহজে বিশ্বাসী ছিলাম না, তখনও নয়, কিন্তু পরে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল এবং সাথে সাথে আমার লেখাও বদলে গেল। যখন আমি কাজ শুরু করি, আমি একেবারে নতুনভাবে শুরু করি; আমি কোনো নথি তৈরি করি না বা গবেষণা করে নিজেকে প্রস্তুত করি না, বরং যা করছি তা অন্য কিছুর মধ্যে রূপান্তর করার চেষ্টা করি। আমার জন্য, লেখা মানে শোনা, এবং আমার কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে হলে প্রতিবার এটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে হবে। আমার ইচ্ছা হলো এমন কিছু সৃষ্টি করা যা আগে সেখানে ছিল না। ** মার্কো'র ইন্টারভিউ থেকে, ''[https://www.agi.it/cultura/news/2025-03-25/premio-nobel-letteratura-jon-fosse-30601618/ Il Nobel Fosse all'Agi: "La voce di Dio è silenzio"]'', [[w:Agenzia Giornalistica Italia|agi.it]] (ইতালীয়; ২৫ মার্চ, ২০২৫) * আমি যখন ২০ বছর বয়সী ছিলাম তখন আমার প্রথম উপন্যাস লিখেছি, এখন আমার বয়স ৬৫, তাই আমি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে এই সৃষ্টির অনুশীলন করছি, কিন্তু লেখার উত্তেজনাপূর্ণ দিক সবসময়ই লেখাটি নিজেই। কাজটি পুনরায় পড়াই শুধু নয়, যা সাধারণভাবে গণ্য হয়, বরং এটি অজানার ভেতরে যাত্রা। হঠাৎ করে আমার মনে হয় যে যা আমি লিখছি তা কোথাও ইতিমধ্যেই প্রস্তুত, আমার বাইরে, আর আমার কাজ শুধু এটিকে পৃষ্ঠায় তুলে ধরা, এটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগেই। একজন নির্ধর্মী হিসেবে যেমন আমি ছিলাম, এটি বোঝা এবং ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা মানে স্বীকার করা যে অদৃশ্য কিছু জিনিস আছে। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই আমি এমন কিছুতে বিশ্বাস করতে শুরু করি যা আগে বিশ্বাস করিনি: ঈশ্বরের অস্তিত্ব। ** মার্কো'র ইন্টারভিউ থেকে, ''[https://www.agi.it/cultura/news/2025-03-25/premio-nobel-letteratura-jon-fosse-30601618/ Il Nobel Fosse all'Agi: "La voce di Dio è silenzio"]'', [[w:Agenzia Giornalistica Italia|agi.it]] (ইতালীয়; ২৫ মার্চ, ২০২৫) * ঈশ্বর হল একত্রে তিনটি(Trinity) যা এককভাবে বোঝানো সম্ভব নয়। কিছু সময় আমি কুয়েকারদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম: কোনো সাধনা নেই, কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় বিধান নেই। সেখানে একটি প্রার্থনার কক্ষ ছিল, সবচেয়ে সাধারণভাবে সজ্জিত, এবং আমরা সেখানে নীরব বৃত্তে বসে অভ্যন্তরীণ আলো খুঁজতাম। যা আমি ঈশ্বর বলি এবং যা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আছে, তা আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কিছু বলে। এগুলো প্রোটেস্ট্যান্ট মূলের চরম রূপের রহস্যবাদ এবং আধ্যাত্মিকতা, কিন্তু এই অবস্থান থেকে শুরু করেও একজন শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের রহস্যের সম্মুখীন হয়। একটি রহস্য যা কুয়েকার এবং ক্যাথলিক ধর্মকে একত্রিত করে, যার কাছে আমি পরে ধর্মান্তরিত হয়েছি। ** মার্কো'র ইন্টারভিউ থেকে, ''[https://www.agi.it/cultura/news/2025-03-25/premio-nobel-letteratura-jon-fosse-30601618/ Il Nobel Fosse all'Agi: "La voce di Dio è silenzio"]'', [[w:Agenzia Giornalistica Italia|agi.it]] (ইতালীয়; ২৫ মার্চ, ২০২৫) ==বাহ্যিক লিঙ্ক== {{উইকিপিডিয়া}} {{অথরিটি কন্ট্রোল}} {{DEFAULTSORT:ফসে, ইয়োন}} [[বিষয়:১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণকারী]] [[বিষয়:নরওয়েতে নোবেল বিজয়ী]] [[বিষয়:নরওয়ের ক্যাথলিক]] [[বিষয়:নরওয়ের নাট্যকার]] [[বিষয়:নরওয়ের ঔপন্যাসিক]] [[বিষয়:নরওয়ের অনুবাদক]] [[বিষয়:জীবিত মানুষ]] [[বিষয়:নরওয়ের কবি]] [[বিষয়:সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী]] imvvhm02jh88e0k470kmrpjt3gg39a0 আলাপ:ইয়োন ফসে 1 12484 76689 2026-04-14T13:48:47Z Usarker 5144 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76689 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm মেরি স্টোপস 0 12485 76698 2026-04-14T14:12:57Z Usarker 5144 "[[File:Marie Stopes at the time of the marriage with Mr. H.V. Roe. Wellcome M0017375 (cropped).jpg|thumb|]] '''[[w:Marie Stopes|মারি শার্লট কারমাইকেল স্টোপস]]''' (১৫ অক্টোবর ১৮৮০ – ২ অক্টোবর ১৯৫৮) একজন ব্রিটিশ লেখক, প্রাচীন উদ্ভিদবিদ্যাবিদ এবং ইউজেনিক্..." দিয়ে পাতা তৈরি 76698 wikitext text/x-wiki [[File:Marie Stopes at the time of the marriage with Mr. H.V. Roe. Wellcome M0017375 (cropped).jpg|thumb|]] '''[[w:Marie Stopes|মারি শার্লট কারমাইকেল স্টোপস]]''' (১৫ অক্টোবর ১৮৮০ – ২ অক্টোবর ১৯৫৮) একজন ব্রিটিশ লেখক, প্রাচীন উদ্ভিদবিদ্যাবিদ এবং ইউজেনিক্স ও মহিলাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী ছিলেন। ==উক্তি== * আমরা সাধারণ আমেরিকান ব্যবসায়ীর সঙ্গে খুব সহমর্মী নই, এবং তাকে ঘোর চিন্তায় ও উৎকণ্ঠায় দেখতে পেলে আমরা প্রায়ই দয়া অনুভব করেছি। যিনি ঘুমহীন এবং উদ্বিগ্নভাবে ডলার কামাইয়ের পথ খুঁজছেন, আর তার অত্যধিক সজ্জিত, অতিরিক্ত খরচী ও অলস স্ত্রী দ্বারা প্রায় অতিনিয়ন্ত্রিত হন। যে সকল স্ত্রী'রা কখনও কখনও দাবি করেন যে তার আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য তার সন্তান হবে না। এমন স্বামী-স্ত্রীর যুগল এই দেশেও পাওয়া যায়; তারা মূলত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উচ্চস্তরের উৎপাদন। তবু এমন স্ত্রী'রা কল্পনা করে যে তারা মহিলাদের মুক্তির পক্ষে কাজ করছে। ** "Revolting Woman in the Novel", unattributed in [[w:Workers' Dreadnought|''The Workers' Dreadnought'']], [https://archive.org/details/per_workers-dreadnought_the-womans-dreadnought_1918-11-09_5_33/page/n1/mode/2up?q=%22not+much+in+sympathy+with+the+typical%22 vol. 5, no. 33] (9 November 1918), p. 1,110, col. 3; attributed to Stopes in David Mitchell, [https://archive.org/details/fightingpankhurs1967unse/page/70/mode/2up?q=%22typical+hustling%22 ''The Fighting Pankhursts: A Study in Tenacity''] (নিউ ইর্য়ক: ম্যাকমিলান, ১৯৬৭), পাতা ২, চ্যাপ্টার ১ * ষোল বছর বয়সে আমি অহংকারী ছিলাম কারণ কেউ আমাকে প্রশংসা করেছিল। আমার পিতা বলেছিলেন: "ষোল বছর বয়সে সুন্দর হওয়ার কোনো কৃতিত্ব তুমি নিতে পারো না। যদি তুমি ষাট বছর বয়সে সুন্দর হও, তা হবে তোমার আত্মার কৃতিত্ব। তখন তুমি এতে গর্বিত হতে পারো এবং এজন্য ভালোবাসাও পাবে।" ** উইলিয়াম এল. স্টিডজার এ উক্তকৃত, [https://archive.org/details/therearesermonsi0000stid/page/88/mode/2up?q=%22at+sixteen%22 ''There Are Sermons in Stories''] (আবিংডন-কোকবারি প্রেস, ১৯৪২), পাতা ৮৯ === [[w:Married Love|''বিবাহিত ভালোবাসা'']] (১৯১৮) === :<small>'''লন্ডন: এ. সি. ফিফিল্ড'''</small> * প্রতিটি হৃদয় স্বভাবতই জানে যে শুধুমাত্র একজন সঙ্গীই আত্মার সমস্ত সম্ভাব্য মহত্ত্বকে পূর্ণরূপে বোঝার ক্ষমতা রাখতে পারে, এবং সেই শিশুসুলভ বিস্ময়ের জন্য কোমল হাসি রাখতে পারে যা এমন মায়াময়ভাবে রয়ে যায় এমনকি সাদা চুলের কেশেও। ** অধ্যায় ১ * তার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ এবং সর্বোচ্চ প্রকাশে, সেলিবেটের আদর্শ একটি বিশ্বব্যাপী ভালোবাসাকে ঘোষণা করেছে, যা ঘর এবং সন্তানের সীমিত মানবিক ভালোবাসার স্থলে এসেছে। অনেক সাধু ও মুনি, সংস্কারক এবং ধর্মতাত্ত্বিকরা তাদের জীবন এই আদর্শের উপর মডেল করেছেন। কিন্তু এমন ব্যক্তিদের জাতির ''আদর্শ'' হিসেবে নেওয়া যায় না, কারণ তারা জাতির মূল প্রবাহের বাইরে: তারা শাখার মত যা ফুল দিতে পারে, কিন্তু কখনও শারীরিক আকারে ফল দিতে পারে না। ** অধ্যায় ১ * সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব হল সেই ব্যক্তি, যে সচেতনভাবে বা অবচেতনভাবে আমাদের অস্তিত্বের গভীর শারীরিক আইন মেনে চলে এমনভাবে যে আত্মা যতটা সম্ভব সাহায্য পায় এবং দেহ থেকে সর্বনিম্ন বাধা পায়। ** অধ্যায় ১ * প্রিয়জনের সাধারণ, মিষ্টি রঙের মাংস থেকে, যাকে আমাদের প্রাণীসুলভ প্রবৃত্তি আকর্ষণ করতে উদ্দীপিত করে, শুধু নতুন শারীরিক জীবনের বিস্ময়ই জন্মায় না, বরং মানবিক সহমর্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয় এবং আধ্যাত্মিক বোঝাপড়ার উজ্জ্বলতা আসে যা একজন একা কখনোই অর্জন করতে পারত না। ** অধ্যায় ১ * আমাদের দেহের কাঠামোর নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান হলো কামুক কৌতূহল এবং লজ্জাজনক লালসার সবচেয়ে নিশ্চিত সুরক্ষা। ** অধ্যায় ৫ * পুরুষ ও স্ত্রী প্রতিটি মিলন, যদিও তারা বহু বছর ধরে সঙ্গী হয়েছেন, তা একটি নতুন অভিযান হওয়া উচিত; প্রতিটি বিজয়কে নতুন করে প্রণয়ী করা উচিত। ** অধ্যায় ১০ === স্টোপস সম্পর্কে উক্তি === * মেরি স্টোপস, মধ্যযুগের ব্রিটেনে [[প্রজনন নিয়ন্ত্রণ]] এর মহান প্রচারক, সেই সময়ের অনেক [[প্রগতিশীল]] মানুষের মতোই একজন তীক্ষ্ণ [[ইউজেনিক্স|ইউজেনিকিস্ট]] (বিশুদ্ধ জিন বহনকারী প্রজনন ব্যবস্থা) ছিলেন। ১৯৩৫ সালে, তিনি [[নাজি]] [[বার্লিন]]-এ জনসংখ্যা বিজ্ঞানের একটি কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩৯ সালের আগস্টে, তিনি এমনকি [[হিটলার]]কে তার ভয়ঙ্কর কবিতার একটি খণ্ড পাঠিয়েছিলেন, সঙ্গে ভালোবাসা সম্পর্কে এক সুমিষ্ট চিঠি। তবে এই সব কিছুকে বর্তমানে "[[জন্মনিয়ন্ত্রণ|প্রজনন অধিকার]]" নামে পরিচিত বিষয়গুলোর প্রতি মেরি স্টোপসের গ্রহণযোগ্যতার চলমান প্রগতিশীল প্রশংসার মাধ্যমে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ** [[পিটার হিচেন্স]], [https://www.firstthings.com/web-exclusives/2019/09/hitler-the-progressive "হিটলার: প্রগ্রেসিভ"]. [[w:First Things|''ফার্স্ট থিংস'']] (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯) === বাহ্যিক লিঙ্ক === {{উইকিপিডিয়া-ইনলাইন}} {{DEFAULTSORT:স্টোপস, মেরি}} [[বিষয়:১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণকারী]] [[বিষয়:১৯৫৮ সালে মৃত্যু]] [[বিষয়:ইংল্যান্ডের নারীবাদী]] [[বিষয়:ইংল্যান্ডের অ-কাল্পনিক লেখক]] [[বিষয়:ইউজেনিকিস্ট]] [[বিষয়:ইংল্যান্ডের উদ্ভিদবিজ্ঞানী]] [[বিষয়:মহিলাদের অধিকার কর্মী]] [[বিষয়:ইংল্যান্ডের মহিলা কর্মী]] [[বিষয়:ইংল্যান্ডের নারী লেখক]] [[বিষয়:১৮৮০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নারী]] bwv5z6g06ihy561ln7ulv3jnnamy4cf আলাপ:মেরি স্টোপস 1 12486 76699 2026-04-14T14:13:11Z Usarker 5144 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76699 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm আর্নেস্ট হেমিংওয়ে 0 12487 76700 2026-04-14T14:18:12Z SMontaha32 3112 "[[File:Ernest Hemingway 1950.jpg|thumb|right|সত্যিই একটি মজার বই লিখতে হলে একজন মানুষকে অনেক ধকল সহ্য করতে হয়।]] '''[[w:Ernest Hemingway|আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে]]''' (২১ জুলাই, ১৮৯৯ – ২ জুলাই, ১৯৬১) ছিলেন একজন আমেরিকান..." দিয়ে পাতা তৈরি 76700 wikitext text/x-wiki [[File:Ernest Hemingway 1950.jpg|thumb|right|সত্যিই একটি মজার বই লিখতে হলে একজন মানুষকে অনেক ধকল সহ্য করতে হয়।]] '''[[w:Ernest Hemingway|আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে]]''' (২১ জুলাই, ১৮৯৯ – ২ জুলাই, ১৯৬১) ছিলেন একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক এবং সাংবাদিক। তার মিতব্যয়ী এবং [[w:Iceberg Theory|সংক্ষিপ্ত]] লিখনশৈলী [[w:20th century in literature|বিংশ শতাব্দীর কথাসাহিত্যে]] গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদিকে, তার রোমাঞ্চকর জীবন ও জনমানসে থাকা তার ভাবমূর্তি পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। হেমিংওয়ে ১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তার অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৪ সালে [[w:Nobel Prize in Literature|সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার]] লাভ করেন। তিনি সাতটি উপন্যাস, ছয়টি ছোটগল্প সংকলন এবং দুটি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর আরও তিনটি উপন্যাস, চারটি ছোটগল্প সংকলন এবং তিনটি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার অনেক কাজই [[w:American literature|আমেরিকান সাহিত্যের]] ধ্রুপদী নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। 6vt4ipcjei6ka4nyfogllri4xn5ssok 76701 76700 2026-04-14T14:20:16Z SMontaha32 3112 76701 wikitext text/x-wiki [[File:Ernest Hemingway 1950.jpg|thumb|right|সত্যিই একটি মজার বই লিখতে হলে একজন মানুষকে অনেক ধকল সহ্য করতে হয়।]] '''আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে''' (২১ জুলাই, ১৮৯৯ – ২ জুলাই, ১৯৬১) ছিলেন একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক এবং সাংবাদিক। তার মিতব্যয়ী এবং [[w:আইসবার্গ তত্ত্ব|সংক্ষিপ্ত]] লিখনশৈলী [[w:সাহিত্যে 20 শতক|বিংশ শতাব্দীর কথাসাহিত্যে]] গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদিকে, তার রোমাঞ্চকর জীবন ও জনমানসে থাকা তার ভাবমূর্তি পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। হেমিংওয়ে ১৯২০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তার অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৪ সালে [[w:সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার|সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার]] লাভ করেন। তিনি সাতটি উপন্যাস, ছয়টি ছোটগল্প সংকলন এবং দুটি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর আরও তিনটি উপন্যাস, চারটি ছোটগল্প সংকলন এবং তিনটি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার অনেক কাজই [[w:আমেরিকান সাহিত্য|আমেরিকান সাহিত্যের]] ধ্রুপদী নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। b3kburvkxxagstpad3au6u07zdwgwer গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক 0 12488 76716 2026-04-14T16:11:00Z Nil Nandy 2294 "{{কাজ চলছে}} ==উক্তি==" দিয়ে পাতা তৈরি 76716 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} ==উক্তি== 085kif8ptftcf92vb19ty3dsno7nu8v 76718 76716 2026-04-14T16:14:46Z Nil Nandy 2294 76718 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 1l7ukgx6iv5m27dqmvvb2cd5yau2cr3 76787 76718 2026-04-15T00:58:12Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76787 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 92txw2j0l84bn0qlyxusjo8u7pswe52 76788 76787 2026-04-15T01:00:20Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76788 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} j6qo4clpw119lkv359hib7u77i6m3i6 76789 76788 2026-04-15T01:01:53Z Nil Nandy 2294 উইকিপিডিয়া থেকে 76789 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} '''গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক''' ([[আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা|আধ্বব]]: gaĕ͜òt̪.t̪ri t͡ʃɔk.krò.bòr.(t̪)t̪i) (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] [[সাহিত্য সমালোচনা|সাহিত্য সমালোচক]], [[তত্ত্ব|তাত্ত্বিক]] এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রের]] [[কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক।<ref>[http://www.columbia.edu/cu/english/fac_profiles.htm#gcs4 Columbia faculty profile]</ref> তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে [[উত্তর উপনিবেশবাদ|উত্তর উপনিবেশবাদের]] সূচনাকারী লেখা “Can the Subaltern Speak?” এবং [[জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “De la grammatologie” বইটিকে মূল [[ফরাসি]] থেকে [[ইংরেজি]] [[অনুবাদ]] করা, যেটির ইংরেজি নাম “On Grammatology”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী [[মার্কসবাদ|মার্ক্সীয়]]–[[নারীবাদী]] অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} focgghxkzdeexazzdgesg1jyedrk0re 76790 76789 2026-04-15T01:08:38Z Nil Nandy 2294 76790 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 23qxstkdqpftid4dzhc0a9cf4t87yzy 76791 76790 2026-04-15T01:19:23Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76791 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} jdisj8olpmf6c5bj0ykvrkj294igezw 76792 76791 2026-04-15T01:27:20Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */অনুবাদ 76792 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 69jia8fydcedpk3go5bnrpfzy6ss6ee 76794 76792 2026-04-15T02:17:57Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76794 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} kgiy1ork2z7jhfdkn5xjlzyak2tf91m 76795 76794 2026-04-15T02:20:29Z Nil Nandy 2294 76795 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} nc33v5vydk3uqxrgvh49pvsg43vjaug 76796 76795 2026-04-15T02:22:59Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76796 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 8f97txbrcgc6xs1wmkcqihj15ttki0r 76797 76796 2026-04-15T02:25:47Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76797 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} s5rcj15jcrxw4toqo3r7qdp1tqbdgvi 76798 76797 2026-04-15T02:32:00Z Nil Nandy 2294 /* উক্তি */ 76798 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== *খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! **গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের সাহায্যের কথা প্রসঙ্গে তার উক্তি। উৎস: [https://robbar.in/recent-affairs/an-article-about-holberg-award-winner-gayatri-chakravorty-spivak/ খেতে দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু শিক্ষা দেওয়া?– গায়ত্রীদির এই কথাটা আমাকে ভাবিয়েছিল] ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} due71w0e3pgzkjmpw3ic8muucvwxbm3 76802 76798 2026-04-15T02:49:34Z Nil Nandy 2294 /* উক্তি */ 76802 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== *খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! **গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের সাহায্যের কথা প্রসঙ্গে তার উক্তি। উৎস: [https://robbar.in/recent-affairs/an-article-about-holberg-award-winner-gayatri-chakravorty-spivak/ খেতে দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু শিক্ষা দেওয়া?– গায়ত্রীদির এই কথাটা আমাকে ভাবিয়েছিল] *আমি বর্তমানে একটি বিখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে একজন ফেলো হিসেবে কর্মরত। এবং উপনিবেশবাদের এমন ঐতিহাসিক আছেন, যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার দুই জীবনেও জানার চেয়ে বেশি জানেন। কিন্তু এই বছর জুড়ে, যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে এবং যা সবাইকে বিব্রত করেছে, তা হলো, মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই... **চক্রবর্তী-স্পিভাক, ১৯৯১, উদ্ধৃত: চক্রবর্তী, ডি. কে., ১৯৯৭। [https://www.researchgate.net/publication/272715047_Colonial_Indology_Sociopolitics_of_the_Ancient_Indian_Past_by_Dilip_K_Chakrabarti_Munshiram_Manoharial_Publishers_New_Dehli_India_1997 কলোনিয়াল ইন্দোলজি: সোসিয়োপলিটিক্স অব দি এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান পাস্ট]। নয়াদিল্লি: মুন্সিরাম মনোহরলাল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৫ ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} 7fb6b5c5sqy41yfqvihsxletn8el7g9 76804 76802 2026-04-15T02:55:44Z Nil Nandy 2294 76804 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। ==উক্তি== *খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! **গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের সাহায্যের কথা প্রসঙ্গে তার উক্তি। উৎস: [https://robbar.in/recent-affairs/an-article-about-holberg-award-winner-gayatri-chakravorty-spivak/ খেতে দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু শিক্ষা দেওয়া?– গায়ত্রীদির এই কথাটা আমাকে ভাবিয়েছিল] *আমি বর্তমানে একটি বিখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে একজন ফেলো হিসেবে কর্মরত। এবং উপনিবেশবাদের এমন ঐতিহাসিক আছেন, যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার দুই জীবনেও জানার চেয়ে বেশি জানেন। কিন্তু এই বছর জুড়ে, যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে এবং যা সবাইকে বিব্রত করেছে, তা হলো, মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই... **চক্রবর্তী-স্পিভাক, ১৯৯১, উদ্ধৃত: চক্রবর্তী, ডি. কে., ১৯৯৭। [https://www.researchgate.net/publication/272715047_Colonial_Indology_Sociopolitics_of_the_Ancient_Indian_Past_by_Dilip_K_Chakrabarti_Munshiram_Manoharial_Publishers_New_Dehli_India_1997 কলোনিয়াল ইন্দোলজি: সোসিয়োপলিটিক্স অব দি এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান পাস্ট]। নয়াদিল্লি: মুন্সিরাম মনোহরলাল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৫ ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় মার্ক্সবাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় নারীবাদী]] cck5y7zx42nclao7wlirz3jtbovtapj 76805 76804 2026-04-15T02:59:43Z Nil Nandy 2294 76805 wikitext text/x-wiki {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। [[File:Gayatri Chakravorty Spivak at Goldsmiths College.jpg|থাম্ব|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] ==উক্তি== *খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! **গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের সাহায্যের কথা প্রসঙ্গে তার উক্তি। উৎস: [https://robbar.in/recent-affairs/an-article-about-holberg-award-winner-gayatri-chakravorty-spivak/ খেতে দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু শিক্ষা দেওয়া?– গায়ত্রীদির এই কথাটা আমাকে ভাবিয়েছিল] *আমি বর্তমানে একটি বিখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে একজন ফেলো হিসেবে কর্মরত। এবং উপনিবেশবাদের এমন ঐতিহাসিক আছেন, যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার দুই জীবনেও জানার চেয়ে বেশি জানেন। কিন্তু এই বছর জুড়ে, যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে এবং যা সবাইকে বিব্রত করেছে, তা হলো, মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই... **চক্রবর্তী-স্পিভাক, ১৯৯১, উদ্ধৃত: চক্রবর্তী, ডি. কে., ১৯৯৭। [https://www.researchgate.net/publication/272715047_Colonial_Indology_Sociopolitics_of_the_Ancient_Indian_Past_by_Dilip_K_Chakrabarti_Munshiram_Manoharial_Publishers_New_Dehli_India_1997 কলোনিয়াল ইন্দোলজি: সোসিয়োপলিটিক্স অব দি এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান পাস্ট]। নয়াদিল্লি: মুন্সিরাম মনোহরলাল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৫ ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক এভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু এই উপমা, এই গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং এই বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html In the Gaudy Supermarket] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all Creating a Stir Wherever She Goes] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় মার্ক্সবাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় নারীবাদী]] dp0j3fx5f8pfoq4pb4yo8dcuphvu5ix 76806 76805 2026-04-15T03:04:07Z Nil Nandy 2294 /* তার সম্পর্কে উক্তি */ 76806 wikitext text/x-wiki {{bw|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক}} (জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২) একজন [[ভারতীয়]] সাহিত্য সমালোচক, তাত্ত্বিক এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উত্তর উপনিবেশবাদের সূচনাকারী লেখা “ক্যান দি সাবঅল্টার্ন স্পিক?” এবং [[:w:জাক দেরিদা|জাক দেরিদার]] “দে লা গ্রামাতোলজি” বইটিকে মূল ফরাসি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা, যেটির ইংরেজি নাম “অন গ্র্যামাটোলজি”; তিনি তার একটি নিবন্ধে এর বাংলা নামকরণ করেছেন “লিপিতত্ত্বপ্রসঙ্গ”। স্পিভাক নিজেকে বাস্তববাদী মার্ক্সীয়–নারীবাদী অবিনির্মাণিক হিসেবে পরিচিত করেন। [[File:Gayatri Chakravorty Spivak at Goldsmiths College.jpg|থাম্ব|গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] ==উক্তি== *খেতে দেওয়া সহজ কথা। পাউরুটি আর জেলি দাও, চুকে গেল। কিন্তু সমস্যাটা কী জানো– একবার দেবে, দু’বার দেবে, তারপর আর দিতে পারবে না। বরং শিক্ষা দাও ওদের। ওদের ঠিক করে শিক্ষা দিলে ওরা নিজেরাই নিজের পাউরুটি আর জেলি জোগাড় করে নিতে পারবে। আমার কাছে ওটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! **গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের সাহায্যের কথা প্রসঙ্গে তার উক্তি। উৎস: [https://robbar.in/recent-affairs/an-article-about-holberg-award-winner-gayatri-chakravorty-spivak/ খেতে দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু শিক্ষা দেওয়া?– গায়ত্রীদির এই কথাটা আমাকে ভাবিয়েছিল] *আমি বর্তমানে একটি বিখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে একজন ফেলো হিসেবে কর্মরত। এবং উপনিবেশবাদের এমন ঐতিহাসিক আছেন, যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার দুই জীবনেও জানার চেয়ে বেশি জানেন। কিন্তু এই বছর জুড়ে, যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে এবং যা সবাইকে বিব্রত করেছে, তা হলো, মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই... **চক্রবর্তী-স্পিভাক, ১৯৯১, উদ্ধৃত: চক্রবর্তী, ডি. কে., ১৯৯৭। [https://www.researchgate.net/publication/272715047_Colonial_Indology_Sociopolitics_of_the_Ancient_Indian_Past_by_Dilip_K_Chakrabarti_Munshiram_Manoharial_Publishers_New_Dehli_India_1997 কলোনিয়াল ইন্দোলজি: সোসিয়োপলিটিক্স অব দি এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান পাস্ট]। নয়াদিল্লি: মুন্সিরাম মনোহরলাল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৫ ==তার সম্পর্কে উক্তি== *গায়ত্রী খুবই বুদ্ধিমতী স্কলার। সারাজীবন ধরে পুরস্কারের মোহ ত্যাগ করেই গায়ত্রী কাজ করে গিয়েছেন।<br>স্বীকৃতি তাঁর সেই কাজের জন্যই এসেছে। তাঁকে কখনও স্বীকৃতি বা পুরস্কারের পিছনে ছুটতে দেখিনি। ভালো লাগছে এ কথা ভেবে যে একজন যোগ্য মানুষের কাছেই এই স্বীকৃতি গিয়েছে। **{{bw|গৌতম ভদ্র}}, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *উনি বাঙালি মেয়ে। তাই বাঙালি হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ওঁর পোস্ট কলোনিয়াল লিটারেচার, ডিকনস্ট্রাকশন, কালচারাল স্টাডিজ় এবং ফেমিনিজ়মের উপরে অসাধারণ সব কাজ রয়েছে। **অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস, গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *এটা জেনে ভালো লাগছে যে যোগ্য একজন মানুষকেই এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। **ইতিহাসবিদ ও অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়,গায়ত্রীর হলবার্গ পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদে। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *সমালোচনামূলক ব্যাখ্যার জন্য পাশ্চাত্য চিন্তার মূল ভাবনাকে গ্রহণ করেছেন স্পিভাক। কিন্তু তাঁর সমালোচনার অন্তরে রয়েছে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাস। আধুনিক বিশ্বের ভাবনার মূল কেন্দ্র ও প্রান্তসীমা, দু’টিকেই সমান ভাবে স্পর্শ করেছেন তিনি। **হাইকি ক্রিগার,হলবার্গ কমিটির চেয়ারম্যান,গায়ত্রীকে মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যা করার সময়। উৎস: [https://eisamay.com/west-bengal-news/kolkata-news/indian-scholar-gayatri-chakravorty-spivak-wins-nobel-prize-in-humanities/200356489.cms হিউম্যানিটিজ়ের ‘নোবেল’ পেলেন গায়ত্রী স্পিভাক] *ঔপনিবেশিক সমাজগুলো যদি স্পিভাকের ভাষায় ‘ধারাবাহিক বাধা, সময়ের এমন এক বারবার ছিঁড়ে যাওয়া যা জোড়া যায় না’ এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার নিজের অতিরিক্ত তথ্যবহুল ও অতিরঞ্জিত গদ্যের ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই কথা প্রযোজ্য। তিনি নিজেও, প্রত্যাশিতভাবেই, বইটির এই মেরুদণ্ড-ভাঙা কাঠামোকে পাঠ করেন ঠিক ঐভাবেই ‘স্বীকৃত পাণ্ডিত্যপূর্ণ বা সমালোচনামূলক চর্চা’ থেকে প্রচলিত রীতিবিরোধী বিচ্যুতি হিসেবে। কিন্তু ঐ উপমা, ঐ গুরুগম্ভীর পরিভাষা, এবং ঐ বেপরোয়া ধারণা যে আপনি তার কথার অর্থ জানেন, অথবা আপনি না জানলেও তিনি তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না, এসব যতটা প্রচলিত পাণ্ডিত্যের প্রতি চপেটাঘাত, ঠিক ততটাই শিক্ষায়তনিক গোষ্ঠীর অতিসংকেতায়ন। **{{bw|টেরি ইগলটন}},[https://web.archive.org/web/20061210174722/http://www.lrb.co.uk/v21/n10/eagl01_.html ইন দ্যা গউডি সুপারমার্কেট] '' লন্ডন রিভিউ অব বুকস'' (১৩ মে ১৯৯৯) *স্পিভাক বিস্ময়করভাবে এত বহুবিধ চিন্তাধারার অধিকারী এবং কোনো সংশ্লেষণ ছাড়াই বিভিন্ন ধারণাকে পাশাপাশি স্থাপন করতে এত আগ্রহী যে, কোনো প্রশ্নে তার সঠিক অবস্থান কোথায় তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। **স্টিফেন হওয়ে, নিউ স্টেটসম্যান। উৎস: [https://web.archive.org/web/20160320030722/http://www.nytimes.com/2002/02/09/arts/creating-a-stir-wherever-she-goes.html?pagewanted=all ক্রিয়েটিং অ্যা স্টিয়ার হোয়্যারএভার শি গোস] *এডওয়ার্ড সৈয়দ, হোমি ভাবা এবং গায়ত্রী স্পিভাকের মতো প্রচলিত উত্তর-ঔপনিবেশিক ত্রয়ীর পাশাপাশি আরও অনেক পূর্বসূরি রয়েছেন। ওঁরা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমাদের ফ্রাঞ্জ ফানোঁ, আইমে সেসেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বদেরও স্মরণ করতে হবে। **এল্লা শোহাট, [https://www.buala.org/en/to-read/an-interview-with-ella-shohat-and-robert-stam ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে] ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৪২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় মার্ক্সবাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় নারীবাদী]] 0q8l1hilx8u2v5pwphz1tdyvqx13qwp কনকচাঁপা 0 12489 76728 2026-04-14T17:48:52Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 নতুন নিবন্ধ 76728 wikitext text/x-wiki [[w:কনকচাঁপা|কনকচাঁপা]] (জন্ম: [[সেপ্টেম্বর ১১|১১ সেপ্টেম্বর]], ১৯৬৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান এখনো কোটি শ্রোতার মুখে মুখে। তিনি রাজনীতির সাথেও যুক্ত রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে [[সিরাজগঞ্জ-১]] কাজিপুর আসনে [[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল]] মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ==উক্তি== == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} eti426pm7hv9b0g8bglj66wigfsyx6j 76729 76728 2026-04-14T17:50:41Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* বহিঃসংযোগ */ 76729 wikitext text/x-wiki [[w:কনকচাঁপা|কনকচাঁপা]] (জন্ম: [[সেপ্টেম্বর ১১|১১ সেপ্টেম্বর]], ১৯৬৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান এখনো কোটি শ্রোতার মুখে মুখে। তিনি রাজনীতির সাথেও যুক্ত রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে [[সিরাজগঞ্জ-১]] কাজিপুর আসনে [[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল]] মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ==উক্তি== == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৬৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 6mmin5oe100frumitnlmbu4nrqhgto0 76730 76729 2026-04-14T17:51:56Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76730 wikitext text/x-wiki [[w:কনকচাঁপা|কনকচাঁপা]] (জন্ম: [[সেপ্টেম্বর ১১|১১ সেপ্টেম্বর]], ১৯৬৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান এখনো কোটি শ্রোতার মুখে মুখে। তিনি রাজনীতির সাথেও যুক্ত রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে [[সিরাজগঞ্জ-১]] কাজিপুর আসনে [[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল]] মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ==উক্তি== * শিল্পী হতে আগ্রহী মানুষটিকে অবশ্যই গান ধারণ করার মতো কণ্ঠ থাকতে হবে। একজন সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন গানের ওস্তাদের কাছে গান শিখতে হবে ধৈর্যের সঙ্গে, নিয়ম মেনে। বাংলা ভাষার উচ্চারণ, বানান, প্রক্ষেপণ পরিষ্কার হওয়ার মতো শিক্ষা থাকতে হবে বা সেই শিক্ষা নিতে হবে। ভেবে দেখেন, আমাদের দেশের নামকরা শিল্পীরা কখনোই তাঁর গানে গ্রামের ভাষা টেনে আনেন না। তাল বুঝতে হবে। তালকানা কখনোই গাইতে পারে না।’ **২২ জুলাই ২০১৮ [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE গানের বিনিময়ে পয়সার জন্য ছুটবেন না: কনকচাঁপা] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৬৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] ialetmr7pld9c4ztyaqma8s9xozarto 76731 76730 2026-04-14T17:55:31Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76731 wikitext text/x-wiki [[w:কনকচাঁপা|কনকচাঁপা]] (জন্ম: [[সেপ্টেম্বর ১১|১১ সেপ্টেম্বর]], ১৯৬৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান এখনো কোটি শ্রোতার মুখে মুখে। তিনি রাজনীতির সাথেও যুক্ত রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে [[সিরাজগঞ্জ-১]] কাজিপুর আসনে [[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল]] মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ==উক্তি== * শিল্পী হতে আগ্রহী মানুষটিকে অবশ্যই গান ধারণ করার মতো কণ্ঠ থাকতে হবে। একজন সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন গানের ওস্তাদের কাছে গান শিখতে হবে ধৈর্যের সঙ্গে, নিয়ম মেনে। বাংলা ভাষার উচ্চারণ, বানান, প্রক্ষেপণ পরিষ্কার হওয়ার মতো শিক্ষা থাকতে হবে বা সেই শিক্ষা নিতে হবে। ভেবে দেখেন, আমাদের দেশের নামকরা শিল্পীরা কখনোই তাঁর গানে গ্রামের ভাষা টেনে আনেন না। তাল বুঝতে হবে। তালকানা কখনোই গাইতে পারে না।’ **২২ জুলাই ২০১৮ [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE গানের বিনিময়ে পয়সার জন্য ছুটবেন না: কনকচাঁপা] বলেছেন। * গানকে রাজমুকুট না পরাতে পারেন কিন্তু তাই বলে তাকে স্যান্ডো গেঞ্জি পরাবেন না। গানের উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যান। গানকে নিচে নামাবেন না। ভালো করে নিজে শুনে দেখেন আপনার কণ্ঠে মানু‌ষের মনে প্রশান্তি আনার মতো সুর আছে কি না! সত্যি সত্যিই নিজের কণ্ঠের প্রতি সুবিচার করুন। সে রকম কণ্ঠ না হলে গান গেয়ে মানুষকে জ্বালাবেন না! গান গাইতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ভালো শ্রোতাদেরও অনেক সম্মান আছে।’ **২২ জুলাই ২০১৮ [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE গানের বিনিময়ে পয়সার জন্য ছুটবেন না: কনকচাঁপা] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৬৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 0x47mz7wya26x1g22enn9m9csi08wij 76734 76731 2026-04-14T18:00:16Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76734 wikitext text/x-wiki [[w:কনকচাঁপা|কনকচাঁপা]] (জন্ম: [[সেপ্টেম্বর ১১|১১ সেপ্টেম্বর]], ১৯৬৯) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান এখনো কোটি শ্রোতার মুখে মুখে। তিনি রাজনীতির সাথেও যুক্ত রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে [[সিরাজগঞ্জ-১]] কাজিপুর আসনে [[বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল]] মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ==উক্তি== * শিল্পী হতে আগ্রহী মানুষটিকে অবশ্যই গান ধারণ করার মতো কণ্ঠ থাকতে হবে। একজন সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন গানের ওস্তাদের কাছে গান শিখতে হবে ধৈর্যের সঙ্গে, নিয়ম মেনে। বাংলা ভাষার উচ্চারণ, বানান, প্রক্ষেপণ পরিষ্কার হওয়ার মতো শিক্ষা থাকতে হবে বা সেই শিক্ষা নিতে হবে। ভেবে দেখেন, আমাদের দেশের নামকরা শিল্পীরা কখনোই তাঁর গানে গ্রামের ভাষা টেনে আনেন না। তাল বুঝতে হবে। তালকানা কখনোই গাইতে পারে না।’ **২২ জুলাই ২০১৮ [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE গানের বিনিময়ে পয়সার জন্য ছুটবেন না: কনকচাঁপা] বলেছেন। * গানকে রাজমুকুট না পরাতে পারেন কিন্তু তাই বলে তাকে স্যান্ডো গেঞ্জি পরাবেন না। গানের উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যান। গানকে নিচে নামাবেন না। ভালো করে নিজে শুনে দেখেন আপনার কণ্ঠে মানু‌ষের মনে প্রশান্তি আনার মতো সুর আছে কি না! সত্যি সত্যিই নিজের কণ্ঠের প্রতি সুবিচার করুন। সে রকম কণ্ঠ না হলে গান গেয়ে মানুষকে জ্বালাবেন না! গান গাইতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ভালো শ্রোতাদেরও অনেক সম্মান আছে।’ **২২ জুলাই ২০১৮ [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE গানের বিনিময়ে পয়সার জন্য ছুটবেন না: কনকচাঁপা] বলেছেন। * কুমির, কুকুর, হায়েনা, বাঘ-সিংহ কেউ না। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ। ** ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৮টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ফেসবুক । [https://www.ittefaq.com.bd/783952/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B9-%E0%A6%A8%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%9F%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE নিজের ফেসবুক] স্ট্যাটাসে বলেছেন। ইত্তেফাক,১২ এপ্রিল ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৬৯-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] tedyv7vdsuhbjs5h3ty6as0fwv6ojad আলাপ:কলেরা 1 12490 76739 2026-04-14T18:18:23Z Salil Kumar Mukherjee 39 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76739 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm ব্যবহারকারী আলাপ:Ahmadullahmail 3 12492 76746 2026-04-14T19:13:04Z অভ্যর্থনা কমিটি বট 1112 উইকিউক্তিতে স্বাগত! 76746 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় Ahmadullahmail,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ১৯:১৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) b1j63gr9w9482e2xjobojlecaz0y79x আয়মান সাদিক 0 12493 76754 2026-04-14T19:33:46Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 নতুন নিবন্ধ 76754 wikitext text/x-wiki [[w:আয়মান সাদিক|আয়মান সাদিক]] একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, [[ব্যবসায় উদ্যোগ|উদ্যোক্তা]] এবং [[w:টেন মিনিট স্কুল|টেন মিনিট স্কুলের]] প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনামূল্যে (কিছু সংখ্যক) শিক্ষণীয় সামগ্রী প্রদান করে। তিনি কুইন্স ইয়াং লিডার পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন এবং [[ w:ফোর্বস |ফোর্বসের]] ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০ এশিয়া’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ==উক্তি== == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} n7bvq27nkcmgs9dinvpa2hoa5aprpzn 76853 76754 2026-04-15T06:41:33Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76853 wikitext text/x-wiki [[w:আয়মান সাদিক|আয়মান সাদিক]] একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, [[ব্যবসায় উদ্যোগ|উদ্যোক্তা]] এবং [[w:টেন মিনিট স্কুল|টেন মিনিট স্কুলের]] প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনামূল্যে (কিছু সংখ্যক) শিক্ষণীয় সামগ্রী প্রদান করে। তিনি কুইন্স ইয়াং লিডার পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন এবং [[ w:ফোর্বস |ফোর্বসের]] ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০ এশিয়া’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ==উক্তি== * কাজ শুরু করতে হবে এবং কাজ শুরু করলেই তা সামনে আগাতে থাকবে। কোনো কাজ শুরুর জন্য তার প্রথম পদক্ষেপ কঠিন—তা নেওয়া গেলে কাজটি সফলভাবেই শেষ করা যায়। ** ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির ফল সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ [https://thedailycampus.com/private-university/124715/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95 অনুষ্ঠানে] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} 7ss9jsf90m1c9g4p6tmkdfmuk9lr3uu 76854 76853 2026-04-15T06:45:16Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* বহিঃসংযোগ */ 76854 wikitext text/x-wiki [[w:আয়মান সাদিক|আয়মান সাদিক]] একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, [[ব্যবসায় উদ্যোগ|উদ্যোক্তা]] এবং [[w:টেন মিনিট স্কুল|টেন মিনিট স্কুলের]] প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনামূল্যে (কিছু সংখ্যক) শিক্ষণীয় সামগ্রী প্রদান করে। তিনি কুইন্স ইয়াং লিডার পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন এবং [[ w:ফোর্বস |ফোর্বসের]] ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০ এশিয়া’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ==উক্তি== * কাজ শুরু করতে হবে এবং কাজ শুরু করলেই তা সামনে আগাতে থাকবে। কোনো কাজ শুরুর জন্য তার প্রথম পদক্ষেপ কঠিন—তা নেওয়া গেলে কাজটি সফলভাবেই শেষ করা যায়। ** ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির ফল সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ [https://thedailycampus.com/private-university/124715/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95 অনুষ্ঠানে] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯২-এ জন্ম]] 3s97gwc2jcndj9gz2cxrizpco2cinh7 76856 76854 2026-04-15T06:47:09Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76856 wikitext text/x-wiki [[w:আয়মান সাদিক|আয়মান সাদিক]] একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, [[ব্যবসায় উদ্যোগ|উদ্যোক্তা]] এবং [[w:টেন মিনিট স্কুল|টেন মিনিট স্কুলের]] প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনামূল্যে (কিছু সংখ্যক) শিক্ষণীয় সামগ্রী প্রদান করে। তিনি কুইন্স ইয়াং লিডার পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন এবং [[ w:ফোর্বস |ফোর্বসের]] ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০ এশিয়া’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ==উক্তি== * কাজ শুরু করতে হবে এবং কাজ শুরু করলেই তা সামনে আগাতে থাকবে। কোনো কাজ শুরুর জন্য তার প্রথম পদক্ষেপ কঠিন তা নেওয়া গেলে কাজটি সফলভাবেই শেষ করা যায়। ** ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির ফল সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ [https://thedailycampus.com/private-university/124715/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95 অনুষ্ঠানে] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:১৯৯২-এ জন্ম]] 61l8g1gucb722w6nb1c42nu7p1hh2p1 আলাপ:কনকচাঁপা 1 12494 76755 2026-04-14T19:52:58Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76755 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm আলাপ:জাইমা রহমান 1 12495 76756 2026-04-14T19:53:06Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76756 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm আলাপ:ভারতে শিক্ষা 1 12496 76769 2026-04-14T22:24:05Z ARI 356 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76769 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm রামায়ণ 0 12497 76774 2026-04-14T22:49:34Z ARI 356 [[:en:Ramayana|]] থেকে অনুবাদ/আমদানি 76774 wikitext text/x-wiki {{italic title}} [[File:Valmiki_Ramayana.jpg|right|thumb|Enthusiasm has great strength. There is no greater strength than enthusiasm. There is nothing which is not attainable in this world for the enthusiastic.]] The '''''[[w:Ramayana|Ramayana]]''''' (रामायणम्, ''Rāmāyaṇam''), also known as '''''Valmiki Ramayana''''', as traditionally attributed to [[বাল্মীকি]], is a [[w:smriti|smriti]] text (also described as a [[w:Sanskrit literature|Sanskrit]] [[Indian epic poetry|epic]]) from [[ancient India]], one of the two important epics of [[হিন্দুধর্ম]] known as the ''[[w:Itihasa|Itihasas]]'', the other being the ''[[মহাভারত]]''. The epic narrates the life of [[Rama]], the seventh ''[[avatar]]'' of the Hindu deity [[Vishnu]], who is a prince of [[w:Ayodhya (Ramayana)|Ayodhya]] in the kingdom of [[w:Kosala|Kosala]]. The epic follows [[w:Exile of Lord Rama|his fourteen-year exile]] to the forest urged by his father King [[w:Dasharatha|Dasharatha]], on the request of Rama's stepmother [[w:Kaikeyi|Kaikeyi]]; his travels across forests in the [[w:Indian subcontinent|Indian subcontinent]] with his wife [[Sita|Sita]] and brother [[w:Lakshmana|Lakshmana]]; the kidnapping of Sita by [[w:Ravana|Ravana]], the king of [[w:Lanka|Lanka]], that resulted in war; and Rama's eventual return to Ayodhya along with Sita to be crowned king amidst jubilation and celebration. ==Quotes== === ''[[w:Balakanda|Bālakānda]]'' === * मा निषाद प्रतिष्ठां त्वमगमश्शाश्वतीस्समा: ।<br/>यत्क्रौञ्चमिथुनादेकमवधी: काममोहितम् ।। * You will find no rest for the long years of Eternity<br>For you killed a bird in love and unsuspecting. ** Chapter 2, [[wikt:shloka|shloka]] 15 (tr. [[w:William Buck (translator)|William Buck]]) ** Tr. Romesh C. Dutt: **: For endless years to come, O Hunter, never shall thy soul find peace,<br>Since for love itself thou wouldst not from thy cruel slaying cease. === ''Ayodhyākānda'' === * यदाचरति कल्याणि शुभं वा यदि वाऽशुभम्।<br>तदेव लभते भद्रे कर्ता कर्मजमात्मनः।। * O, blessed lady! O gracious one! A doer reaps surely the fruit of his own deeds corresponding to the nature of work either good or bad, of that which he does! ** Chapter 63, shloka 6 (tr. Sri K. M. K. Murthy) * अत्येति रजनी या तु सा न प्रतिनिवर्तते * The night that has passed, does not return. ** Chapter 105, shloka 19 (tr. Sri K. M. K. Murthy) * सत्यवादी हि लोकेऽस्मिन्परमं गच्छति क्षयम् * The one who speaks truth obtains the highest position in this world. ** Chapter 109, shloka 11 (tr. Sri K. M. K. Murthy) * उद्विजन्ते यथा सर्पान्नरादनृतवादिनः * People fear of a person, who speaks untruth, as one fears a snake. ** Chapter 109, shloka 12 (tr. Sri K. M. K. Murthy) === ''Āranya Kānda'' === * धर्मादर्थः प्रभवति धर्मात्प्रभवते सुखम्।<br>धर्मेण लभते सर्वं धर्मसारमिदं जगत्।। * Interest springs from [[w:Dharma|righteousness]]; and happiness also results therefrom. One attains everything through righteousness—in this world the only substantial thing. ** Chapter 9, shloka 30 (tr. Manmatha N. Dutt) * न चिरं पापकर्माणः क्रूरा लोकजुगुप्सिताः।<br>ऐश्वर्यं प्राप्य तिष्ठन्ति शीर्णमूला इव द्रुमाः।। * Like unto trees whose roots have been reduced, cruel persons, execrated of men, who perpetrate iniquitous acts, do not exist long. ** Chapter 29, shloka 7 (tr. Manmatha N. Dutt) * सुलभाः पुरुषा राजन्सततं प्रियवादिनः।<br>अप्रियस्य तु पथ्यस्य वक्ता श्रोता च दुर्लभः।। * O king, the speaker of soft words is common, but the speaker and the listner<!--sic?--> of unwelcome though beneficial words are rarities. ** Chapter 37, shloka 2 === ''Kishkindhā Kānda'' === * न विषादे मनः कार्यम् विषादो दोषवत्तरः |<br>विषादो हन्ति पुरुषम् बालम् क्रुद्ध इव उरगः || * We should not indulge in grief. Grief is injurious.— Grief destroys a person even as a wrathful serpent doth a boy. ** Chapter 64, shloka 9 (tr. Manmatha N. Dutt) === ''[[w:Sundara Kanda|Sundara Kānda]]'' === * She was lovely like an indistinct lunar disc, like a streak of gold covered with dust, like a golden reed broken by the wind, like a scar left by an arrow! ** Chapter 5, shloka 26 (tr. Makhan Lal Sen) * The husband enhances the beauty of a woman more than her ornaments. ** Chapter 16, shloka 26 (tr. Makhan Lal Sen) === ''Yuddhakānda'' === === ''Uttarakānda'' === ===Unsorted=== * धर्मादर्थः प्रभवति धर्मात्प्रभवते सुखम्।<br/>धर्मेण लभते सर्वं धर्मसारमिदं जगत्।। ** Prosperity arises from [[w:Dharma|Dharma]]. Happiness emerges from Dharma. Everything is obtained by means of Dharma, for the world has Dharma as its essence. *** Book 3, Chapter 9, shloka 30 * न चिरं पापकर्माणः क्रूरा लोकजुगुप्सिताः।<br/>ऐश्वर्यं प्राप्य तिष्ठन्ति शीर्णमूला इव द्रुमाः।। ** Cruel people, who are despised by the world for their sinful deeds, will not be prosperous for long just like trees with decayed roots. *** Book 3, Chapter 29, shloka 7 * सुलभाः पुरुषा राजन्सततं प्रियवादिनः।<br/>अप्रियस्य तु पथ्यस्य वक्ता श्रोता च दुर्लभः।। ** O King, abundant are yes-men, always pleasant spoken,<br>Rare are the speakers and listeners of the unpleasant but medicinal *** Book 3, Chapter 37, shloka 2 *** Also found in Book 6, Chapter 16, shloka 21 * उत्साहो बलवानार्य नस्त्युत्साहात् परं बलं।<br>सोत्साहस्यहि लोकेषु न किञ्चिदपि दुर्लभं ॥ ** Enthusiasm has great strength. There is no greater strength than enthusiasm. There is nothing which is not attainable in this world for the enthusiastic. *** Book 4, Chapter 1, shloka 121 * न विषादे मनः कार्यम् विषादो दोषवत्तरः |<br>विषादो हन्ति पुरुषम् बालम् क्रुद्ध इव उरगः || ** One should not let one’s mind to be overcome by melancholy. Melancholy or moroseness is a very bad thing. It destroys a man just as an angered serpent kills a child. *** Book 4, Chapter 64, shloka 9 == Quotes about the ''Ramayana'' == ===F=== *No ancient story, not even [[হোমার]]'s [[w:Iliad|Iliad]] or [[w:Odyssey|Odyssey]], has remained as popular through the course of time. The story of Rama appears as old as [[civilization]] and has a fresh appeal for every generation. **[[David Frawley]] in: ''[http://books.google.com/books?id=aMwe_PSVWloC&pg=PA16 The Oracle of Rama ]'', Lotus Press, 1 November 2000, P. 16 ===G=== * The general spirit of India was most vividly reflected in the ''Ramayana''. ** [[মহাত্মা গান্ধী]], as quoted in Meenakshi Jain, ''Rama and Ayodhya'' (2013): cited in [https://organiser.org/2013/08/13/115567/bharat/ayodhya-resurrecting-the-lost-world/ "Ayodhya: Resurrecting the Lost World"], ''Organiser Weekly'' (13 August 2013) ===L=== * References to the story of Rama occur in the earliest part of the Sangama literature of Tamil Nadu, dating back to a period almost as old as the Ramayana of Valmiki. **Lal, B. B. (2008). Rāma, his historicity, mandir, and setu: Evidence of literature, archaeology, and other sciences. New Delhi: Aryan Books International. p.8 ===M=== *The year 1863 will remain cherished and blessed. It was the first time I could read India’s great sacred poem, the divine Ramayana.... This great stream of poetry carries away the bitter leaven left behind by time and purifies us. Whoever has his heart dried up, let him drench it in the Ramayana. Whoever has lost and wept, let him find in it a soothing softness and Nature’s compassion. Whoever has done too much, willed too much, let him drink a long draught of life and youth from this deep chalice.... Everything is narrow in the Occident. Greece is small — I stifle. Judea is dry — I pant. Let me look a little towards lofty Asia, towards the deep Orient. There I find my immense poem, vast as India’s seas, blessed and made golden by the sun, a book of divine harmony in which nothing jars. There reigns a lovable peace, and even in the midst of battle, an infinite softness, an unbounded fraternity extending to all that lives, a bottomless and shoreless ocean of love, piety, clemency. I have found what I was looking for: the bible of kindness. Great poem, receive me!… Let me plunge into it! It is the sea of milk. ** Jules Michelet, as quoted in ''India’s Impact on French Thought and Literature: Eighteenth to Twentieth Century'' by Michel Danino (Published in Critical Practice, X:2, June 2003, pp. 46-56) ===V=== [[File:CarrierePortraitVerlain.jpg|right|thumb| By Indra! how beautiful this is and how much better than the Bible, the Gospel and all the words of the Fathers of the Church! ~ Paul Verlaine]] * By Indra! how beautiful this is and how much better than the Bible, the Gospel and all the words of the Fathers of the Church! **[[Paul Verlaine]]. Quoted in: India and World Civilization - By D. P. Singhal Pan Macmillan Limited. 1993 part II p. 241. Also in Edmond Lepelletier, Paul Verlaine : Sa Vie — Son Œuvre. Société du Mercure de France, 1907 (ch IV, p. 93-129). [https://fr.wikisource.org/wiki/Paul_Verlaine,_Sa_Vie_-_Son_%C5%92uvre/Chapitre_4] * Well, what is the Ramayana? The conquest of the savage aborigines of Southern India by the Aryans! Indeed! Ramachandra is a civilised Aryan king and with whom, is he fighting? With King Ravana of Lanka. Just read the Ramayana, and you will find that Ravana was rather more and not less civilised than Ramachandra. The civilisation of Lanka was rather higher, and surely not lower, than that of Ayodhya. **Swami Vivekananda, Complete Works, vol. V. The East and the West [https://www.ramakrishnavivekananda.info/vivekananda/volume_5/writings_prose_and_poems/the_east_and_the_west_frame.htm] ===W=== *Since more than 2000 years the poem of Rama has remained alive in India, and it continues to live in all strata and classes of folk. High and low, princes and peasants, landlords and artisans, princesses and shepherdesses, are well versed with the characters and stories of the great epic. **A History of Indian Literature, by Moriz Winternitz, volume 1, p. 455. Quoted in Kishore, Kunal (2016). Ayodhyā revisited. ch. 12 == See also == * ''[[Ramayana: The Legend of Prince Rama]]'' ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Epic poetry]] [[Category:Ramayana| ]] [http://www.valmikiramayan.net/utf8/vr_index.htm Books 1-6 in Sanskrit with English translation] 8i9f6tplwp1j4yw349mqaatcmlfxlh8 76775 76774 2026-04-14T23:01:36Z ARI 356 অনুবাদ 76775 wikitext text/x-wiki {{italic title}} [[File:Valmiki_Ramayana.jpg|right|thumb|উৎসাহের অনেক শক্তি। উৎসাহের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। উৎসাহী মানুষের জন্য এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই অলভ্য নয়।]] ঐতিহ্যগতভাবে [[বাল্মীকি]]র রচিত বলে পরিচিত '''''রামায়ণ''''' (রামায়নম, ''রামায়ণম''), যা '''''বাল্মীকি রামায়ণ''''' নামেও পরিচিত, প্রাচীন ভারতের একটি স্মৃতি পাঠ্য (যাকে সংস্কৃত মহাকাব্য হিসেবেও বর্ণনা করা হয়)। এটি [[হিন্দুধর্ম]]ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্যের একটি যা ইতিহাস নামে পরিচিত, অন্যটি হলো [[মহাভারত]]। এই মহাকাব্যে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর সপ্তম ''অবতার'' রামের জীবন বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কোসল রাজ্যের অযোধ্যার একজন রাজকুমার ছিলেন। মহাকাব্যটিতে তার বিমাতা কৈকেয়ীর অনুরোধে পিতা রাজা দশরথের নির্দেশে রামের ১৪ বছরের বনবাস; স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে তাঁর ভ্রমণ; লঙ্কার রাজা রাবণ কর্তৃক সীতা অপহরণ এবং তার ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ; এবং অবশেষে আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সীতাকে নিয়ে রামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন ও রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। ==উক্তি== === ''বালকাণ্ড'' === * মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ।<br/>যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্।। * হে নিষাদ, তুমি অনন্তকাল ধরে কোনো শান্তি পাবে না। কারণ তুমি কামমোহিত এক জোড়া ক্রৌঞ্চ পাখির একজনকে হত্যা করেছ। ** অধ্যায় ২, শ্লোক ১৫ (অনুবাদক: উইলিয়াম বাক) ** অনুবাদক: রমেশচন্দ্র দত্ত: **: হে শিকারি, আগামী অনন্তকাল তোমার আত্মা শান্তি পাবে না, কারণ প্রেমের মুহূর্তে তুমি তোমার নিষ্ঠুর হত্যা বন্ধ করনি। === ''অযোধ্যাকাণ্ড'' === * যদাচরতি কল্যাণি শুভং বা যদি বাঽশুভম্।<br>তদেব লভতে ভদ্রে কর্তা কর্মজ়মাত্মনঃ।। * হে কল্যাণী! হে মহীয়সী নারী! মানুষ তার ভালো বা মন্দ কাজের ধরন অনুযায়ী অবশ্যই তার নিজের কর্মফল ভোগ করে। ** অধ্যায় ৬৩, শ্লোক ৬ (অনুবাদক: শ্রী কে. এম. কে. মূর্তি) * অত্যেতি রজনী যা তু সা ন প্রতিনিবর্ততে * যে রাত চলে গেছে, তা আর ফিরে আসে না। ** অধ্যায় ১০৫, শ্লোক ১৯ (অনুবাদক: শ্রী কে. এম. কে. মূর্তি) * সত্যবাদী হি লোকেঽস্মিন্পরমং গচ্ছতি ক্ষয়ম্ * যে ব্যক্তি সত্য কথা বলে, সে এই পৃথিবীতে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করে। ** অধ্যায় ১০৯, শ্লোক ১১ (অনুবাদক: শ্রী কে. এম. কে. মূর্তি) * উদ্বিজন্তে যথা সর্পান্নরাদনৃতবাদিনঃ * মানুষ মিথ্যাবাদীকে ঠিক তেমনি ভয় পায়, যেমন তারা সাপকে ভয় পায়। ** অধ্যায় ১০৯, শ্লোক ১২ (অনুবাদক: শ্রী কে. এম. কে. মূর্তি) === ''আরণ্যকাণ্ড'' === * ধর্মাদর্থঃ প্রভবতি ধর্মাত্প্রভবতে সুখম্।<br>ধর্মেন লভতে সর্বং ধর্মসারমিদং জগৎ।। * ধর্ম থেকেই অর্থ আসে এবং ধর্ম থেকেই সুখ লাভ হয়। ধর্মের মাধ্যমেই সবকিছু পাওয়া সম্ভব—এই পৃথিবীতে ধর্মই হলো একমাত্র সার বস্তু। ** অধ্যায় ৯, শ্লোক ৩০ (অনুবাদক: মন্মথ নাথ দত্ত) * ন চিরং পাপকর্মাণঃ ক্রূরা লোকজুগুপ্সিতাঃ।<br>ঐশ্বর্যং প্রাপ্য তিষ্ঠন্তি শীর্ণমূলা ইব দ্রুমাঃ।। * শিকড়হীন গাছের মতো সেইসব ক্রূর ব্যক্তিরা বেশিদিন টিকে থাকে না, যারা অন্যায় কাজ করে এবং মানুষের ঘৃণা কুড়ায়। ** অধ্যায় ২৯, শ্লোক ৭ (অনুবাদক: মন্মথ নাথ দত্ত) * সুলভাঃ পুরুষা রাজন্সততং প্রিয়বাদিনঃ।<br>অপ্রিয়স্য তু পথ্যস্য বক্তা শ্রোতা চ দুর্লভঃ।। * হে রাজন, যারা সব সময় মিষ্টি কথা বলে তেমন মানুষ পাওয়া খুব সহজ। কিন্তু অপ্রিয় হলেও যা হিতকর, এমন কথা বলার লোক এবং তা শোনার মতো লোক উভয়ই খুব বিরল। ** অধ্যায় ৩৭, শ্লোক ২ === ''কিষ্কিন্ধাকাণ্ড'' === * ন বিষাদে মনঃ কার্যম্ বিষাদো দোষবত্তরঃ |<br>বিষাদো হন্তি পুরুষম্ বালম্ ক্রুদ্ধ ইব উরগঃ || * আমাদের বিষাদ বা দুঃখে নিমগ্ন হওয়া উচিত নয়। বিষাদ ক্ষতিকর। ক্রুদ্ধ সাপ যেমন শিশুকে ধ্বংস করে, তেমনি বিষাদ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। ** অধ্যায় ৬৪, শ্লোক ৯ (অনুবাদক: মন্মথ নাথ দত্ত) === ''সুন্দরকাণ্ড'' === * তিনি ছিলেন অস্পষ্ট চন্দ্রকলার মতো সুন্দরী, ধুলোয় ঢাকা সোনার রেখার মতো, বাতাসের ঝাপটায় ভেঙে পড়া সোনার নলখাগড়ার মতো এবং তীরের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের মতো! ** অধ্যায় ৫, শ্লোক ২৬ (অনুবাদক: মাখন লাল সেন) * অলংকারের চেয়ে স্বামীই একজন নারীর সৌন্দর্য বেশি বৃদ্ধি করেন। ** অধ্যায় ১৬, শ্লোক ২৬ (অনুবাদক: মাখন লাল সেন) === ''যুদ্ধকাণ্ড'' === === ''উত্তরকাণ্ড'' === === অসংগঠিত === * ধর্মাদর্থঃ প্রভবতি ধর্মাত্প্রভবতে সুখম্।<br/>ধর্মেন লভতে সর্বং ধর্মসারমিদং জগৎ।। ** ধর্ম থেকেই সমৃদ্ধি আসে। ধর্ম থেকেই সুখের উৎপত্তি হয়। ধর্মের মাধ্যমেই সবকিছু পাওয়া সম্ভব, কারণ ধর্মই হলো এই জগতের সারবস্তু। *** বই ৩, অধ্যায় ৯, শ্লোক ৩০ * ন চিরং পাপকর্মাণঃ ক্রূরা লোকজুগুপ্সিতাঃ।<br/>ঐশ্বর্যং প্রাপ্য তিষ্ঠন্তি শীর্ণমূলা ইব দ্রুমাঃ।। ** নিজ পাপকর্মের জন্য জগতের মানুষের কাছে ঘৃণিত ক্রূর ব্যক্তিরা বেশিদিন সমৃদ্ধ থাকতে পারে না; ঠিক যেমন শিকড় পচে যাওয়া গাছ বেশিদিন টিকে থাকে না। *** বই ৩, অধ্যায় ২৯, শ্লোক ৭ * সুলভাঃ পুরুষা রাজন্সততং প্রিয়বাদিনঃ।<br/>অপ্রিয়স্য তু पथ্যস্য বক্তা শ্রোতা চ দুর্লভঃ।। ** হে রাজন, যারা সবসময় আপনার মন জুগিয়ে মিষ্টি কথা বলে তেমন মানুষের অভাব নেই। কিন্তু যা অপ্রিয় অথচ হিতকর, এমন কথা বলার এবং শোনার মানুষ খুবই বিরল। *** বই ৩, অধ্যায় ৩৭, শ্লোক ২ *** বই ৬, অধ্যায় ১৬, শ্লোক ২১-তেও পাওয়া যায় * উৎসাহো বলবানার্য নাস্ত্যুৎসাত্পরং বলম্।<br>সোৎসাহস্য হি লোকেষু ন কিঞ্চিদপি দুর্লভম্।। ** উৎসাহের শক্তি অনেক। উৎসাহের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। উৎসাহী ব্যক্তির জন্য এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই অলভ্য নয়। *** বই ৪, অধ্যায় ১, শ্লোক ১২১ * ন বিষাদে মনঃ কার্যম্ বিষাদো দোষवত্তরঃ |<br>বিষাদো হন্তি পুরুষম্ বালম্ ক্রুদ্ধ ইব উরগঃ || ** কারও মনকে বিষাদে আচ্ছন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়। বিষাদ বা বিমর্ষতা খুব খারাপ একটি বিষয়। ক্রুদ্ধ সাপ যেমন শিশুকে মেরে ফেলে, বিষাদও ঠিক সেভাবে মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। *** বই ৪, অধ্যায় ৬৪, শ্লোক ৯ == ''রামায়ণ'' সম্পর্কে উক্তি == * কোনো প্রাচীন গল্পই, এমনকি [[হোমার]]ের ইলিয়াড বা ওডিসি-ও সময়ের সাথে সাথে এতটা জনপ্রিয় হয়নি। রামের গল্প সভ্যতার মতোই পুরোনো বলে মনে হয় এবং প্রতিটি প্রজন্মের কাছেই এর এক নতুন আবেদন আছে। ** ডেভিড ফ্রলি: ''[http://books.google.com/books?id=aMwe_PSVWloC&pg=PA16 দি ওরাকল অফ রামা]'', লোটাস প্রেস, ১ নভেম্বর ২০০০, পৃষ্ঠা ১৬ * ভারতের সাধারণ চেতনা ''রামায়ণের'' মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ** [[মহাত্মা গান্ধী]], মীনাক্ষী জৈনের ''রামা অ্যান্ড অযোধ্যা'' (২০১৩) থেকে উদ্ধৃত: [https://organiser.org/2013/08/13/115567/bharat/ayodhya-resurrecting-the-lost-world/ "অযোধ্যা: হারানো বিশ্বকে পুনরুজ্জীবিত করা"], ''অর্গানাইজার উইকলি'' (১৩ আগস্ট ২০১৩) * তামিলনাড়ুর সঙ্গম সাহিত্যের প্রাচীনতম অংশে রামের গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা প্রায় বাল্মীকির রামায়ণের মতোই প্রাচীন সময়ের। ** লাল, বি. বি. (২০০৮)। ''রামা, হিজ হিস্টোরিসিটি, মন্দির, অ্যান্ড সেতু: এভিডেন্স অফ লিটারেচার, আর্কিওলজি, অ্যান্ড আদার সায়েন্সেস''। নয়াদিল্লি: আরিয়ান বুকস ইন্টারন্যাশনাল। পৃষ্ঠা ৮ * ১৮৬৩ সালটি চিরস্মরণীয় এবং আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে থাকবে। এই প্রথমবার আমি ভারতের মহান পবিত্র কাব্য, সেই স্বর্গীয় রামায়ণ পড়ার সুযোগ পেলাম... কবিতার এই বিশাল স্রোত সময়ের রেখে যাওয়া তিক্ততা দূর করে আমাদের পবিত্র করে। যার হৃদয় শুকিয়ে গেছে, সে যেন রামায়ণে তা সিক্ত করে নেয়। যে কিছু হারিয়েছে এবং কেঁদেছে, সে এতে খুঁজে পাক শান্তিময় কোমলতা এবং প্রকৃতির মমতা। যে অনেক কাজ করেছে বা অনেক কিছু পেতে চেয়েছে, সে যেন এই গভীর পাত্র থেকে জীবন ও যৌবনের দীর্ঘ চুমুক পান করে... পাশ্চাত্যের সবকিছুই সংকীর্ণ। গ্রিস ছোট, সেখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। জুডিয়া শুষ্ক, সেখানে আমি হাঁপিয়ে উঠি। আমাকে একটু উচ্চতর এশিয়ার দিকে, গভীর প্রাচ্যের দিকে তাকাতে দিন। সেখানে আমি খুঁজে পেয়েছি আমার সেই বিশাল কাব্য, যা ভারতের সমুদ্রের মতো বিশাল, সূর্যের আলোয় আশীর্বাদপুষ্ট ও সোনালি হয়ে ওঠা স্বর্গীয় সুরের এক বই যেখানে কোনো কিছুই বেসুরো নয়। সেখানে এক মনোরম শান্তি বিরাজ করে, এমনকি যুদ্ধের মধ্যেও সেখানে দেখা যায় এক অনন্ত কোমলতা এবং সমস্ত প্রাণের প্রতি এক অসীম ভ্রাতৃত্ববোধ; এটি প্রেম, ভক্তি ও দয়ার এক অতল ও তটহীন সমুদ্র। আমি যা খুঁজছিলাম তা পেয়েছি: মহানুভবতার বাইবেল। হে মহাকাব্য, আমাকে গ্রহণ করো!... আমাকে এর মধ্যে ডুব দিতে দাও! এটি এক ক্ষীর সমুদ্র। ** জুল মিশলে, মিশেল দানিনোর লেখা ''ইন্ডিয়াস ইমপ্যাক্ট অন ফ্রেঞ্চ থট অ্যান্ড লিটারেচার: এইটিনথ টু টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি'' (ক্রিটিক্যাল প্র্যাকটিস, ১০:২, জুন ২০০৩, পৃষ্ঠা ৪৬-৫৬-এ প্রকাশিত) [[File:CarrierePortraitVerlain.jpg|right|thumb| ইন্দ্রের দিব্যি! এটি কতই না সুন্দর এবং বাইবেল, গসপেল ও গির্জার ধর্মযাজকদের সব বাণীর চেয়ে কতই না শ্রেষ্ঠ! ~ পল ভার্লেন]] * ইন্দ্রের দিব্যি! এটি কতই না সুন্দর এবং বাইবেল, গসপেল ও গির্জার ধর্মযাজকদের সব বাণীর চেয়ে কতই না শ্রেষ্ঠ! ** পল ভার্লেন। উদ্ধৃত: ইন্ডিয়া অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড সিভিলাইজেশন - ডি. পি. সিংহল দ্বারা, প্যান ম্যাকমিলান লিমিটেড। ১৯৯৩ দ্বিতীয় অংশ পৃষ্ঠা ২৪১। এছাড়াও এডমন্ড লেপেলেটিয়ারের পোল ভার্লেন: সা ভি — সোঁ অভ্র। সোসাইটি ডু মারকিউর ডি ফ্রান্স, ১৯০৭ (অধ্যায় ৪, পৃষ্ঠা ৯৩-১২৯)। [https://fr.wikisource.org/wiki/Paul_Verlaine,_Sa_Vie_-_Son_%C5%92uvre/Chapitre_4] * আচ্ছা, রামায়ণ আসলে কী? আর্যদের দ্বারা দক্ষিণ ভারতের অসভ্য আদিবাসীদের বিজয়! তাই কি? রামচন্দ্র একজন সভ্য আর্য রাজা এবং তিনি কার সাথে যুদ্ধ করছেন? লঙ্কার রাজা রাবণের সাথে। শুধু রামায়ণটা পড়ুন, তাহলেই দেখবেন যে রাবণ রামচন্দ্রের চেয়ে কোনো অংশেই কম সভ্য ছিলেন না বরং বেশিই ছিলেন। লঙ্কার সভ্যতা অযোধ্যার চেয়ে অনেক উন্নত ছিল, কোনোভাবেই নিচু ছিল না। ** স্বামী বিবেকানন্দ, ''কমপ্লিট ওয়ার্কস'', খণ্ড ৫। দি ইস্ট অ্যান্ড দি ওয়েস্ট [https://www.ramakrishnavivekananda.info/vivekananda/volume_5/writings_prose_and_poems/the_east_and_the_west_frame.htm] * ২০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে রামের এই কাব্য জীবন্ত হয়ে আছে এবং লোকসমাজের সব স্তরে ও শ্রেণিতে এটি বেঁচে আছে। উঁচু-নিচু নির্বিশেষে রাজপুত্র ও কৃষক, জমিদার ও কারিগর, রাজকুমারী ও রাখাল বালিকা, সবাই এই মহান মহাকাব্যের চরিত্র ও গল্পের সাথে সুপরিচিত। ** ''এ হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়ান লিটারেচার'', মরিজ উইন্টারনিটজ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৫। কিশোর, কুণাল (২০১৬)। ''অযোধ্যা রিভিজিটেড''। অধ্যায় ১২ == আরও দেখুন == * ''[[রামায়ণ: দ্য লিজেন্ড অব প্রিন্স রামা]]'' == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:মহাকাব্য]] [[বিষয়শ্রেণী:রামায়ণ| ]] [http://www.valmikiramayan.net/utf8/vr_index.htm ইংরেজি অনুবাদসহ সংস্কৃতে ১-৬ খণ্ড] jx1om0fsi8ualjtwvag5vp1mhg41437 আলাপ:রামায়ণ 1 12498 76776 2026-04-14T23:02:11Z ARI 356 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76776 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm ব্যবহারকারী আলাপ:M231991d 3 12499 76784 2026-04-15T00:13:02Z অভ্যর্থনা কমিটি বট 1112 উইকিউক্তিতে স্বাগত! 76784 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় M231991d,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০০:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) 77o6b8ognlk21x3lrqkm91jeoximo1u আলাপ:গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক 1 12500 76807 2026-04-15T03:06:22Z Nil Nandy 2294 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76807 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm আলাপ:আইরিস মারডক 1 12501 76814 2026-04-15T03:49:00Z Sumanta3023 4175 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76814 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm হেনরি ক্যাভেন্ডিশ 0 12502 76815 2026-04-15T03:54:42Z Sumanta3023 4175 "Gin" দিয়ে পাতা তৈরি 76815 wikitext text/x-wiki Gin a6avsflmcvfk7y13dg26g7bdx2wo7a7 76816 76815 2026-04-15T04:00:11Z Sumanta3023 4175 76816 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} 7nwhf8b3q8ma1i3v9mw39avt7ogp8qn 76817 76816 2026-04-15T04:04:54Z Sumanta3023 4175 76817 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। aogjbzlw3gtfzkhbhdyyuetwb5sjgr2 76838 76817 2026-04-15T05:57:18Z Sumanta3023 4175 /* উক্তি */ 76838 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> 02w1czb6ts8nzs609dssik8imdnwgxl 76840 76838 2026-04-15T06:01:01Z Sumanta3023 4175 /* উক্তি */ 76840 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ceq6drg61jqkfxag8t3dw551m740ctc 76841 76840 2026-04-15T06:04:07Z Sumanta3023 4175 /* উক্তি */ 76841 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য [[w:নাইট্রিক অ্যাসিড|নাইট্রাস অ্যাসিড]] যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] b9n5327huajfekcptb5sdfr1344ac4g 76842 76841 2026-04-15T06:04:51Z Sumanta3023 4175 /* এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই (১৭৮৪) */ 76842 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] 5osl4tmpepzf9zdtjq2tgo4v61heqjk 76843 76842 2026-04-15T06:07:20Z Sumanta3023 4175 76843 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। 42b4z8qen1azf1o1llscl1h07chr8ks 76844 76843 2026-04-15T06:09:24Z Sumanta3023 4175 /* ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি */ 76844 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াট]]-এর গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্ট]]-এর প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্ট-এর প্রকাশনা।]</small> 02hut74sssk5gz1ma4gr2nzrflug52m 76849 76844 2026-04-15T06:24:58Z Sumanta3023 4175 /* ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি */ 76849 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াটের]] গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্টের]] প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্ট-এর প্রকাশনা।]</small> * এই মহান দার্শনিকের কাছে এটিই কাম্য ছিল যে, তিনি যেন তাঁর আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনেক কাজ করেন। ** [[বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন]], ''দ্য ওয়ার্কস অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন; উইথ নোটস অ্যান্ড আ লাইফ অফ দ্য অথর'' (১৮৫৬) সম্পাদিত জ্যারেড স্পার্কস, খণ্ড V, [https://archive.org/details/workscontainings05franuoft/page/n414/mode/1up পৃষ্ঠা ৩৮৩।] === ''[[দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১) === :<small>, ''ইনক্লুডিং অ্যাবস্ট্রাক্টস অফ হিজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট পেপারস, অ্যান্ড আ ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ক্লেইমস অফ অল দ্য অ্যালিজড ডিসকভারার্স অফ দ্য কম্পোজিশন অফ ওয়াটার'' লিখেছেন [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]], [https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/185/mode/1up পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬।]</small> * এখন কেবল আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে '''সেই দার্শনিকের চরিত্রের''' মূল্যায়ন করা বাকি। নৈতিকভাবে এটি ছিল একটি শূন্যস্থান, এবং '''কেবল কতগুলো নেতিবাচক শব্দ দিয়ে তা বর্ণনা করা যেতে পারে। তিনি ভালোবাসতেন না'''; তিনি '''ঘৃণা''' করতেন না; তিনি '''আশা''' করতেন না; তিনি '''ভয়''' পেতেন না; '''অন্যরা যেভাবে উপাসনা করে তিনি সেভাবে করতেন না।''' তিনি নিজেকে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে এবং দৃশ্যত স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। '''তাঁর স্বভাবের মধ্যে ঐকান্তিকতা, উৎসাহ, বীরত্ব বা সৌজন্যবোধের মতো কিছুই ছিল না, আবার হীনতা, নীচতা বা অধম হওয়ার মতোও কিছু ছিল না।''' তিনি ছিলেন প্রায় আবেগহীন। * '''যা কিছু''' উপলব্ধির জন্য বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল, অথবা '''যাতে কল্পনাশক্তি, অনুরাগ বা বিশ্বাসের প্রয়োগ দরকার হতো, সেসবই ক্যাভেন্ডিশের কাছে অপ্রীতিকর ছিল।''' তাঁর স্মারকগুলো পড়ার সময় আমি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মাথা যা চিন্তা করছে, এক জোড়া অদ্ভুত তীক্ষ্ণ চোখ যা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এক জোড়া অত্যন্ত দক্ষ হাত যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নথিবদ্ধ করছে তাই অনুভব করতে পারি। * '''তাঁর মস্তিষ্ককে কেবল একটি [[গণনাকারী যন্ত্র]] বলে মনে হতো; তাঁর চোখ দুটি ছিল দর্শনের প্রবেশপথ মাত্র, চোখের জলের উৎস নয়; তাঁর হাত দুটি ছিল নাড়াচাড়া করার সরঞ্জাম যা কখনো আবেগে কাঁপত না, অথবা আরাধনা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা হতাশায় কখনো একে অপরের সাথে আবদ্ধ হতো না'''; তাঁর হৃদয় ছিল কেবল একটি শারীরস্থানিক অঙ্গ, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। * তবুও, এমন একজন সত্তা, যিনি ‘নিহিল হিউম্যানি মি অ্যালেনাম পুটো’ [মানবিক কোনো কিছুই আমার কাছে পর নয়] এই নীতিবাক্যটিকে উল্টে দিয়েছিলেন, তাঁকে যেমন ভালোবাসা যায় না, ঠিক তেমনি তাঁকে ঘৃণা বা অবজ্ঞাও করা যায় না। অনেকগুলো বৃত্তির ক্ষয় বা অনুন্নয়ন সত্ত্বেও, যা সাধারণত সেইসব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় যাদের মধ্যে "উপাদানগুলো সদয়ভাবে মিশ্রিত থাকে", '''তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই একজন সত্যিকারের প্রতিভা যেমনটা হয়ে থাকেন কেবল কবি, চিত্রকর এবং সঙ্গীতশিল্পীরা''', যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি সামান্য এবং হৃদয় ও কল্পনাশক্তি বিশাল, '''যাঁদের সামনে পৃথিবী এত স্বেচ্ছায় মাথা নত করে।''' * '''তিনি দোষারোপ করার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়ের পাত্র।''' * ক্যাভেন্ডিশ কোনো গর্বিত বা [[wiktionary:অহঙ্কারী|অহঙ্কারী]] মনোভাব নিয়ে অন্য মানুষদের থেকে দূরে সরে থাকেননি, কিংবা তাদের নিজের সঙ্গী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেননি। তিনি নিজেকে তাদের থেকে একটি বিশাল ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন, যা তারা বা তিনি কেউই অতিক্রম করতে পারতেন না এবং যার এপার-ওপার হাত বাড়ানো বা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৃথা ছিল। '''ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি বোধ তাঁকে তাদের সমাজ থেকে সংকুচিত করে রাখত এবং তাদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে বাধ্য করত, কিন্তু তিনি তা করতেন একজন দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির মতো, কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করার জন্য নয়।''' * তিনি ছিলেন একটি বৃত্তের বাইরে আলাদা বসে থাকা এক বধির ও মূকের মতো, যার দৃষ্টি এবং ভঙ্গি এটিই প্রকাশ করে যে, তারা সংগীত ও বাগ্মিতা উচ্চারণ করছে এবং শুনছে, কিন্তু সেগুলো তৈরি করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই বিজ্ঞের মতো তিনি আলাদা বসবাস করতেন, এবং পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এক বৈজ্ঞানিক [[সন্ন্যাসী|সন্ন্যাসীর]] স্ব-আরোপিত ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকালের ভিক্ষুদের মতো নিজেকে নিজের কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এটি তাঁর জন্য এক পর্যাপ্ত সাম্রাজ্য ছিল এবং এর সরু জানালা দিয়ে তিনি মহাবিশ্বের ততটুকুই দেখতেন যতটুকু তিনি দেখতে চাইতেন। সেখানে একটি সিংহাসনও ছিল এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ভাইদের রাজকীয় উপহার প্রদান করতেন। * '''তিনি ছিলেন তাঁর জাতির অন্যতম এক অকৃতজ্ঞ হিতৈষী, যিনি ধৈর্য সহকারে মানবজাতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সেবা করছিলেন, যখন তারা তাঁর শীতলতা দেখে সংকুচিত হচ্ছিল অথবা তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে উপহাস করছিল।''' * তিনি তাদের জন্য কোনো মধুর গান গাইতে পারতেন না, বা এমন কোনো "সুন্দরের সৃষ্টি" করতে পারতেন না যা হবে "চিরন্তন আনন্দের উৎস", কিংবা পারতেন না তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে, বা তাদের আত্মাকে উদ্দীপ্ত করতে, অথবা তাদের শ্রদ্ধা বা ব্যাকুলতাকে গভীর করতে। '''তিনি কোনো কবি, পুরোহিত বা নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন কেবল এক শীতল, স্বচ্ছ বুদ্ধিমত্তা, যা বিশুদ্ধ সাদা আলো বিকিরণ করত, যা তার ওপর পড়া প্রতিটি জিনিসকে উজ্জ্বল করত কিন্তু কিছুই উষ্ণ করত না বুদ্ধিবৃত্তিক গগনে তিনি ছিলেন অন্তত দ্বিতীয় না হলেও প্রথম মাত্রার একটি নক্ষত্র।''' 7lzyhpyvlmi0my2w5z2pk366ptqo7i0 76851 76849 2026-04-15T06:37:36Z Sumanta3023 4175 /* ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি */ 76851 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াটের]] গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্টের]] প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্ট-এর প্রকাশনা।]</small> * এই মহান দার্শনিকের কাছে এটিই কাম্য ছিল যে, তিনি যেন তাঁর আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনেক কাজ করেন। ** [[বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন]], ''দ্য ওয়ার্কস অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন; উইথ নোটস অ্যান্ড আ লাইফ অফ দ্য অথর'' (১৮৫৬) সম্পাদিত জ্যারেড স্পার্কস, খণ্ড V, [https://archive.org/details/workscontainings05franuoft/page/n414/mode/1up পৃষ্ঠা ৩৮৩।] === ''[[দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১) === :<small>, ''ইনক্লুডিং অ্যাবস্ট্রাক্টস অফ হিজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট পেপারস, অ্যান্ড আ ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ক্লেইমস অফ অল দ্য অ্যালিজড ডিসকভারার্স অফ দ্য কম্পোজিশন অফ ওয়াটার'' লিখেছেন [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]], [https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/185/mode/1up পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬।]</small> * এখন কেবল আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে '''সেই দার্শনিকের চরিত্রের''' মূল্যায়ন করা বাকি। নৈতিকভাবে এটি ছিল একটি শূন্যস্থান, এবং '''কেবল কতগুলো নেতিবাচক শব্দ দিয়ে তা বর্ণনা করা যেতে পারে। তিনি ভালোবাসতেন না'''; তিনি '''ঘৃণা''' করতেন না; তিনি '''আশা''' করতেন না; তিনি '''ভয়''' পেতেন না; '''অন্যরা যেভাবে উপাসনা করে তিনি সেভাবে করতেন না।''' তিনি নিজেকে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে এবং দৃশ্যত স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। '''তাঁর স্বভাবের মধ্যে ঐকান্তিকতা, উৎসাহ, বীরত্ব বা সৌজন্যবোধের মতো কিছুই ছিল না, আবার হীনতা, নীচতা বা অধম হওয়ার মতোও কিছু ছিল না।''' তিনি ছিলেন প্রায় আবেগহীন। * '''যা কিছু''' উপলব্ধির জন্য বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল, অথবা '''যাতে কল্পনাশক্তি, অনুরাগ বা বিশ্বাসের প্রয়োগ দরকার হতো, সেসবই ক্যাভেন্ডিশের কাছে অপ্রীতিকর ছিল।''' তাঁর স্মারকগুলো পড়ার সময় আমি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মাথা যা চিন্তা করছে, এক জোড়া অদ্ভুত তীক্ষ্ণ চোখ যা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এক জোড়া অত্যন্ত দক্ষ হাত যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নথিবদ্ধ করছে তাই অনুভব করতে পারি। * '''তাঁর মস্তিষ্ককে কেবল একটি [[গণনাকারী যন্ত্র]] বলে মনে হতো; তাঁর চোখ দুটি ছিল দর্শনের প্রবেশপথ মাত্র, চোখের জলের উৎস নয়; তাঁর হাত দুটি ছিল নাড়াচাড়া করার সরঞ্জাম যা কখনো আবেগে কাঁপত না, অথবা আরাধনা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা হতাশায় কখনো একে অপরের সাথে আবদ্ধ হতো না'''; তাঁর হৃদয় ছিল কেবল একটি শারীরস্থানিক অঙ্গ, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। * তবুও, এমন একজন সত্তা, যিনি ‘নিহিল হিউম্যানি মি অ্যালেনাম পুটো’ [মানবিক কোনো কিছুই আমার কাছে পর নয়] এই নীতিবাক্যটিকে উল্টে দিয়েছিলেন, তাঁকে যেমন ভালোবাসা যায় না, ঠিক তেমনি তাঁকে ঘৃণা বা অবজ্ঞাও করা যায় না। অনেকগুলো বৃত্তির ক্ষয় বা অনুন্নয়ন সত্ত্বেও, যা সাধারণত সেইসব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় যাদের মধ্যে "উপাদানগুলো সদয়ভাবে মিশ্রিত থাকে", '''তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই একজন সত্যিকারের প্রতিভা যেমনটা হয়ে থাকেন কেবল কবি, চিত্রকর এবং সঙ্গীতশিল্পীরা''', যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি সামান্য এবং হৃদয় ও কল্পনাশক্তি বিশাল, '''যাঁদের সামনে পৃথিবী এত স্বেচ্ছায় মাথা নত করে।''' * '''তিনি দোষারোপ করার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়ের পাত্র।''' * ক্যাভেন্ডিশ কোনো গর্বিত বা [[wiktionary:অহঙ্কারী|অহঙ্কারী]] মনোভাব নিয়ে অন্য মানুষদের থেকে দূরে সরে থাকেননি, কিংবা তাদের নিজের সঙ্গী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেননি। তিনি নিজেকে তাদের থেকে একটি বিশাল ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন, যা তারা বা তিনি কেউই অতিক্রম করতে পারতেন না এবং যার এপার-ওপার হাত বাড়ানো বা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৃথা ছিল। '''ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি বোধ তাঁকে তাদের সমাজ থেকে সংকুচিত করে রাখত এবং তাদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে বাধ্য করত, কিন্তু তিনি তা করতেন একজন দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির মতো, কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করার জন্য নয়।''' * তিনি ছিলেন একটি বৃত্তের বাইরে আলাদা বসে থাকা এক বধির ও মূকের মতো, যার দৃষ্টি এবং ভঙ্গি এটিই প্রকাশ করে যে, তারা সংগীত ও বাগ্মিতা উচ্চারণ করছে এবং শুনছে, কিন্তু সেগুলো তৈরি করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই বিজ্ঞের মতো তিনি আলাদা বসবাস করতেন, এবং পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এক বৈজ্ঞানিক [[সন্ন্যাসী|সন্ন্যাসীর]] স্ব-আরোপিত ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকালের ভিক্ষুদের মতো নিজেকে নিজের কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এটি তাঁর জন্য এক পর্যাপ্ত সাম্রাজ্য ছিল এবং এর সরু জানালা দিয়ে তিনি মহাবিশ্বের ততটুকুই দেখতেন যতটুকু তিনি দেখতে চাইতেন। সেখানে একটি সিংহাসনও ছিল এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ভাইদের রাজকীয় উপহার প্রদান করতেন। * '''তিনি ছিলেন তাঁর জাতির অন্যতম এক অকৃতজ্ঞ হিতৈষী, যিনি ধৈর্য সহকারে মানবজাতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সেবা করছিলেন, যখন তারা তাঁর শীতলতা দেখে সংকুচিত হচ্ছিল অথবা তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে উপহাস করছিল।''' * তিনি তাদের জন্য কোনো মধুর গান গাইতে পারতেন না, বা এমন কোনো "সুন্দরের সৃষ্টি" করতে পারতেন না যা হবে "চিরন্তন আনন্দের উৎস", কিংবা পারতেন না তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে, বা তাদের আত্মাকে উদ্দীপ্ত করতে, অথবা তাদের শ্রদ্ধা বা ব্যাকুলতাকে গভীর করতে। '''তিনি কোনো কবি, পুরোহিত বা নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন কেবল এক শীতল, স্বচ্ছ বুদ্ধিমত্তা, যা বিশুদ্ধ সাদা আলো বিকিরণ করত, যা তার ওপর পড়া প্রতিটি জিনিসকে উজ্জ্বল করত কিন্তু কিছুই উষ্ণ করত না বুদ্ধিবৃত্তিক গগনে তিনি ছিলেন অন্তত দ্বিতীয় না হলেও প্রথম মাত্রার একটি নক্ষত্র।''' === ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) === :<small>"ওয়াটার" ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) খণ্ড ১৫, [https://books.google.com/books?id=5fVMAQAAMAAJ&pg=PA275 পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬।]</small> * '''একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং তিক্ত বিতর্ক'''... অনেক বছর ধরে চলেছিল এবং '''[[জল|পানির]] প্রকৃত প্রকৃতি ও গঠন আবিষ্কারে বিভিন্ন দার্শনিকের নিজ নিজ দাবির বিষয়টি... এখনও... খুব কমই... মীমাংসিত হয়েছে।''' * ১৭৮১ সালে, ক্যাভেন্ডিশ দীর্ঘ এবং সতর্কতামূলক একগুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন... যা ১৭৮৪ সালের জানুয়ারির আগে প্রকাশিত হয়নি, যখন রয়্যাল সোসাইটির সামনে তাঁর বিখ্যাত... ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার'' পাঠ করা হয়েছিল। * এই অন্তর্বর্তী সময়ে (জুন, ১৭৮৩) তাঁর বন্ধু, '''[[w:চার্লস ব্ল্যাগডেন|ডক্টর ব্ল্যাগডেন]]''', প্যারিস ভ্রমণ করেন এবং ক্যাভেন্ডিশের কর্তৃত্ব নিয়ে, '''পানির গঠন প্রমাণকারী পরীক্ষাগুলোর একটি বিবরণ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]কে প্রদান করেন'''... * '''আবিষ্কার এবং প্রকাশের তারিখের মধ্যবর্তী এই বিলম্বের কারণে বিশ্বের দেখা অন্যতম বিস্ময়কর এই আবিষ্কারের দাবিটি... [[জেমস ওয়াট|জেমস ওয়াট]] এবং [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] দ্বারা বিতর্কিত হয়েছিল।''' * '''ক্যাভেন্ডিশের পরীক্ষাগুলো ছিল বিভিন্ন অনুপাতে {{w|হাইড্রোজেন}} ও বায়ুমণ্ডলীয় বায়ুর মিশ্রণ এবং হাইড্রোজেন ও [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] মিশ্রণে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং ফলাফল হিসেবে একটি তরল পাওয়া যা বিশুদ্ধ [[জল|পানি]] হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ([[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]] এবং তাঁর বন্ধু মিস্টার [জন] ওয়ার্লটায়ার একই ধরনের পরীক্ষা করেছিলেন এবং বিস্ফোরণের পর আর্দ্রতার জমার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন''', কিন্তু তাঁরা একে গ্যাসের মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে '''চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।''') * '''ক্যাভেন্ডিশ যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তা তাঁর নিজের ভাষায় ছিল, "পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু," এবং যেহেতু ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু ছিল [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ এবং ফ্লজিস্টি ছিল {{w|হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেনের}} জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ, তাই এই বক্তব্যটি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রবর্তিত পানির প্রকৃতির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যায়।''' * যেহেতু [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রথম থেকেই ইংরেজ রসায়নবিদদের দ্বারা তাঁদের প্রতি অন্যায্য আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিজের দাবিটি কেবল ২৫ জুন ১৭৮৩ তারিখের, তাই তাঁকে আর বিবেচনার প্রয়োজন নেই; এবং ইংরেজ দাবিদারদের জীবদ্দশায় কোনো পক্ষ থেকেই কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ ছিল না, যদিও '''[[জেমস ওয়াট|ওয়াট]], তাঁর বন্ধুদের কাছে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিতে ক্যাভেন্ডিশের অক্ষমতা এবং অন্যায্যতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।''' * ফলে অন্ততপক্ষে এই দেশে বিজ্ঞানীরা তখন চমকে উঠেছিলেন যখন [[ফ্রঁসোয়া আরাগো|আরাগো]]... ১৮৩৮ সালে [[জেমস ওয়াট|ওয়াটের]] [[wikt:প্রশস্তি|প্রশস্তি]] প্রকাশ করেন, যা তিনি ১৮৩৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে পাঠ করেছিলেন, '''যাতে তিনি ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুরির অভিযোগ আনেন'''; কারণ বলা হয়েছিল যে তিনি পানির গঠন নিজের পরীক্ষার মাধ্যমে শিখেননি, বরং '''[[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]]কে লেখা ওয়াটের একটি চিঠি দেখার মাধ্যমে জেনেছিলেন। এভাবেই যুদ্ধটি পুরোপুরি শুরু হয়'''... === ''ক্যাভেন্ডিশ'' (১৯৯৬) === :<small>{{w|ক্রিস্টা জংনিকেল}}, {{w|রাসেল ম্যাককর্ম্যাক}} রচিত, পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭।</small> * যে সময় ক্যাভেন্ডিশ {{w|আর্সেনিক}} যৌগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চালিয়েছিলেন, রসায়নবিদরা তখনও "এটি /আর্সেনিক/ আসলে কী, অথবা এটি কোন শ্রেণির বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তা নির্ধারণ" করতে সক্ষম হননি। ...আর্সেনিক কিছু অবস্থায় একটি {{w|ধাতু}} হিসেবে আচরণ করে, আবার অন্য অবস্থায় [[লবণ (রসায়ন)|লবণের]] মতো আচরণ করে। ...প্রতিটি ধাতব {{w|ভস্মের}} মতো, আর্সেনিককেও ধাতব রূপে পরিবর্তিত [করা যেত]... "আর্সেনিকের রেগুলাস"... "[[ফ্লজিস্টি তত্ত্ব|ফ্লজিস্টির]]" সাথে [যুক্ত করার মাধ্যমে]। ...লবণের মতো, আর্সেনিক [[w:দ্রবণীয়তা|পানিতে দ্রবণীয়]]। ...এটি {{w|অ্যাসিড}} বা {{w|ক্ষার}} কোনোটিই নয়, তবুও [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককার]] দাবি করেছিলেন যে এটি এমনভাবে আচরণ করে যেন এটি একটি অ্যাসিড। ...অন্যান্য দিক থেকে ...আর্সেনিক অন্যান্য ...[[wikt:ভস্ম|ভস্ম]] থেকে আলাদা: এটি তীব্র গন্ধযুক্ত এবং [[w:উদ্বায়িতা (রসায়ন)|উদ্বায়ী]], এটি [[wikt:গলনযোগ্য|গলনযোগ্য]], এটি ধাতু ও {{w|উপধাতুর}} সাথে যুক্ত হয় যে পার্থক্যটি ম্যাককার এবং ক্যাভেন্ডিশ ধরে ফেলেছিলেন এটি [[w:শোরা|শোরার]] সাথে পাতিত করার সময় তাকে বিয়োজিত করে। [[w:রাসায়নিক আসক্তি|আসক্তির]] দিক থেকেও... আর্সেনিক ব্যতিক্রমী। **<small>পাদটীকা: [[w:ক্যাসপার নিউম্যান (রসায়নবিদ)|ক্যাসপার নিউম্যান]], ''কেমিক্যাল ওয়ার্কস'', [https://archive.org/details/chemicalworksofc00neum/page/140/mode/1up ১৪০-১৪১, ১৪৫।] নিউম্যান, ম্যাককার, ক্যাভেন্ডিশ এবং... সমসাময়িকরা যাকে "আর্সেনিক" বলতেন তা হলো... [[w:আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড|আর্সেনিয়াস অক্সাইড]]... ধাতব আকরিক পোড়ানোর একটি সাধারণ উপজাত। এর অন্য নাম... হলো "সাদা আর্সেনিক", যা সাদা, উজ্জ্বল উপধাতু অর্থাৎ আর্সেনিকের রেগুলাসের ভস্ম।</small> 6rwr0c7dc081iktjh9qe0ibbccy9ew4 76858 76851 2026-04-15T06:49:23Z Sumanta3023 4175 76858 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াটের]] গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্টের]] প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্ট-এর প্রকাশনা।]</small> * এই মহান দার্শনিকের কাছে এটিই কাম্য ছিল যে, তিনি যেন তাঁর আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনেক কাজ করেন। ** [[বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন]], ''দ্য ওয়ার্কস অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন; উইথ নোটস অ্যান্ড আ লাইফ অফ দ্য অথর'' (১৮৫৬) সম্পাদিত জ্যারেড স্পার্কস, খণ্ড V, [https://archive.org/details/workscontainings05franuoft/page/n414/mode/1up পৃষ্ঠা ৩৮৩।] === ''[[দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১) === :<small>, ''ইনক্লুডিং অ্যাবস্ট্রাক্টস অফ হিজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট পেপারস, অ্যান্ড আ ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ক্লেইমস অফ অল দ্য অ্যালিজড ডিসকভারার্স অফ দ্য কম্পোজিশন অফ ওয়াটার'' লিখেছেন [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]], [https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/185/mode/1up পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬।]</small> * এখন কেবল আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে '''সেই দার্শনিকের চরিত্রের''' মূল্যায়ন করা বাকি। নৈতিকভাবে এটি ছিল একটি শূন্যস্থান, এবং '''কেবল কতগুলো নেতিবাচক শব্দ দিয়ে তা বর্ণনা করা যেতে পারে। তিনি ভালোবাসতেন না'''; তিনি '''ঘৃণা''' করতেন না; তিনি '''আশা''' করতেন না; তিনি '''ভয়''' পেতেন না; '''অন্যরা যেভাবে উপাসনা করে তিনি সেভাবে করতেন না।''' তিনি নিজেকে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে এবং দৃশ্যত স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। '''তাঁর স্বভাবের মধ্যে ঐকান্তিকতা, উৎসাহ, বীরত্ব বা সৌজন্যবোধের মতো কিছুই ছিল না, আবার হীনতা, নীচতা বা অধম হওয়ার মতোও কিছু ছিল না।''' তিনি ছিলেন প্রায় আবেগহীন। * '''যা কিছু''' উপলব্ধির জন্য বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল, অথবা '''যাতে কল্পনাশক্তি, অনুরাগ বা বিশ্বাসের প্রয়োগ দরকার হতো, সেসবই ক্যাভেন্ডিশের কাছে অপ্রীতিকর ছিল।''' তাঁর স্মারকগুলো পড়ার সময় আমি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মাথা যা চিন্তা করছে, এক জোড়া অদ্ভুত তীক্ষ্ণ চোখ যা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এক জোড়া অত্যন্ত দক্ষ হাত যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নথিবদ্ধ করছে তাই অনুভব করতে পারি। * '''তাঁর মস্তিষ্ককে কেবল একটি [[গণনাকারী যন্ত্র]] বলে মনে হতো; তাঁর চোখ দুটি ছিল দর্শনের প্রবেশপথ মাত্র, চোখের জলের উৎস নয়; তাঁর হাত দুটি ছিল নাড়াচাড়া করার সরঞ্জাম যা কখনো আবেগে কাঁপত না, অথবা আরাধনা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা হতাশায় কখনো একে অপরের সাথে আবদ্ধ হতো না'''; তাঁর হৃদয় ছিল কেবল একটি শারীরস্থানিক অঙ্গ, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। * তবুও, এমন একজন সত্তা, যিনি ‘নিহিল হিউম্যানি মি অ্যালেনাম পুটো’ [মানবিক কোনো কিছুই আমার কাছে পর নয়] এই নীতিবাক্যটিকে উল্টে দিয়েছিলেন, তাঁকে যেমন ভালোবাসা যায় না, ঠিক তেমনি তাঁকে ঘৃণা বা অবজ্ঞাও করা যায় না। অনেকগুলো বৃত্তির ক্ষয় বা অনুন্নয়ন সত্ত্বেও, যা সাধারণত সেইসব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় যাদের মধ্যে "উপাদানগুলো সদয়ভাবে মিশ্রিত থাকে", '''তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই একজন সত্যিকারের প্রতিভা যেমনটা হয়ে থাকেন কেবল কবি, চিত্রকর এবং সঙ্গীতশিল্পীরা''', যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি সামান্য এবং হৃদয় ও কল্পনাশক্তি বিশাল, '''যাঁদের সামনে পৃথিবী এত স্বেচ্ছায় মাথা নত করে।''' * '''তিনি দোষারোপ করার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়ের পাত্র।''' * ক্যাভেন্ডিশ কোনো গর্বিত বা [[wiktionary:অহঙ্কারী|অহঙ্কারী]] মনোভাব নিয়ে অন্য মানুষদের থেকে দূরে সরে থাকেননি, কিংবা তাদের নিজের সঙ্গী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেননি। তিনি নিজেকে তাদের থেকে একটি বিশাল ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন, যা তারা বা তিনি কেউই অতিক্রম করতে পারতেন না এবং যার এপার-ওপার হাত বাড়ানো বা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৃথা ছিল। '''ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি বোধ তাঁকে তাদের সমাজ থেকে সংকুচিত করে রাখত এবং তাদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে বাধ্য করত, কিন্তু তিনি তা করতেন একজন দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির মতো, কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করার জন্য নয়।''' * তিনি ছিলেন একটি বৃত্তের বাইরে আলাদা বসে থাকা এক বধির ও মূকের মতো, যার দৃষ্টি এবং ভঙ্গি এটিই প্রকাশ করে যে, তারা সংগীত ও বাগ্মিতা উচ্চারণ করছে এবং শুনছে, কিন্তু সেগুলো তৈরি করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই বিজ্ঞের মতো তিনি আলাদা বসবাস করতেন, এবং পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এক বৈজ্ঞানিক [[সন্ন্যাসী|সন্ন্যাসীর]] স্ব-আরোপিত ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকালের ভিক্ষুদের মতো নিজেকে নিজের কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এটি তাঁর জন্য এক পর্যাপ্ত সাম্রাজ্য ছিল এবং এর সরু জানালা দিয়ে তিনি মহাবিশ্বের ততটুকুই দেখতেন যতটুকু তিনি দেখতে চাইতেন। সেখানে একটি সিংহাসনও ছিল এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ভাইদের রাজকীয় উপহার প্রদান করতেন। * '''তিনি ছিলেন তাঁর জাতির অন্যতম এক অকৃতজ্ঞ হিতৈষী, যিনি ধৈর্য সহকারে মানবজাতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সেবা করছিলেন, যখন তারা তাঁর শীতলতা দেখে সংকুচিত হচ্ছিল অথবা তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে উপহাস করছিল।''' * তিনি তাদের জন্য কোনো মধুর গান গাইতে পারতেন না, বা এমন কোনো "সুন্দরের সৃষ্টি" করতে পারতেন না যা হবে "চিরন্তন আনন্দের উৎস", কিংবা পারতেন না তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে, বা তাদের আত্মাকে উদ্দীপ্ত করতে, অথবা তাদের শ্রদ্ধা বা ব্যাকুলতাকে গভীর করতে। '''তিনি কোনো কবি, পুরোহিত বা নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন কেবল এক শীতল, স্বচ্ছ বুদ্ধিমত্তা, যা বিশুদ্ধ সাদা আলো বিকিরণ করত, যা তার ওপর পড়া প্রতিটি জিনিসকে উজ্জ্বল করত কিন্তু কিছুই উষ্ণ করত না বুদ্ধিবৃত্তিক গগনে তিনি ছিলেন অন্তত দ্বিতীয় না হলেও প্রথম মাত্রার একটি নক্ষত্র।''' === ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) === :<small>"ওয়াটার" ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) খণ্ড ১৫, [https://books.google.com/books?id=5fVMAQAAMAAJ&pg=PA275 পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬।]</small> * '''একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং তিক্ত বিতর্ক'''... অনেক বছর ধরে চলেছিল এবং '''[[জল|পানির]] প্রকৃত প্রকৃতি ও গঠন আবিষ্কারে বিভিন্ন দার্শনিকের নিজ নিজ দাবির বিষয়টি... এখনও... খুব কমই... মীমাংসিত হয়েছে।''' * ১৭৮১ সালে, ক্যাভেন্ডিশ দীর্ঘ এবং সতর্কতামূলক একগুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন... যা ১৭৮৪ সালের জানুয়ারির আগে প্রকাশিত হয়নি, যখন রয়্যাল সোসাইটির সামনে তাঁর বিখ্যাত... ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার'' পাঠ করা হয়েছিল। * এই অন্তর্বর্তী সময়ে (জুন, ১৭৮৩) তাঁর বন্ধু, '''[[w:চার্লস ব্ল্যাগডেন|ডক্টর ব্ল্যাগডেন]]''', প্যারিস ভ্রমণ করেন এবং ক্যাভেন্ডিশের কর্তৃত্ব নিয়ে, '''পানির গঠন প্রমাণকারী পরীক্ষাগুলোর একটি বিবরণ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]কে প্রদান করেন'''... * '''আবিষ্কার এবং প্রকাশের তারিখের মধ্যবর্তী এই বিলম্বের কারণে বিশ্বের দেখা অন্যতম বিস্ময়কর এই আবিষ্কারের দাবিটি... [[জেমস ওয়াট|জেমস ওয়াট]] এবং [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] দ্বারা বিতর্কিত হয়েছিল।''' * '''ক্যাভেন্ডিশের পরীক্ষাগুলো ছিল বিভিন্ন অনুপাতে {{w|হাইড্রোজেন}} ও বায়ুমণ্ডলীয় বায়ুর মিশ্রণ এবং হাইড্রোজেন ও [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] মিশ্রণে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং ফলাফল হিসেবে একটি তরল পাওয়া যা বিশুদ্ধ [[জল|পানি]] হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ([[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]] এবং তাঁর বন্ধু মিস্টার [জন] ওয়ার্লটায়ার একই ধরনের পরীক্ষা করেছিলেন এবং বিস্ফোরণের পর আর্দ্রতার জমার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন''', কিন্তু তাঁরা একে গ্যাসের মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে '''চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।''') * '''ক্যাভেন্ডিশ যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তা তাঁর নিজের ভাষায় ছিল, "পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু," এবং যেহেতু ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু ছিল [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ এবং ফ্লজিস্টি ছিল {{w|হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেনের}} জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ, তাই এই বক্তব্যটি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রবর্তিত পানির প্রকৃতির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যায়।''' * যেহেতু [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রথম থেকেই ইংরেজ রসায়নবিদদের দ্বারা তাঁদের প্রতি অন্যায্য আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিজের দাবিটি কেবল ২৫ জুন ১৭৮৩ তারিখের, তাই তাঁকে আর বিবেচনার প্রয়োজন নেই; এবং ইংরেজ দাবিদারদের জীবদ্দশায় কোনো পক্ষ থেকেই কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ ছিল না, যদিও '''[[জেমস ওয়াট|ওয়াট]], তাঁর বন্ধুদের কাছে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিতে ক্যাভেন্ডিশের অক্ষমতা এবং অন্যায্যতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।''' * ফলে অন্ততপক্ষে এই দেশে বিজ্ঞানীরা তখন চমকে উঠেছিলেন যখন [[ফ্রঁসোয়া আরাগো|আরাগো]]... ১৮৩৮ সালে [[জেমস ওয়াট|ওয়াটের]] [[wikt:প্রশস্তি|প্রশস্তি]] প্রকাশ করেন, যা তিনি ১৮৩৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে পাঠ করেছিলেন, '''যাতে তিনি ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুরির অভিযোগ আনেন'''; কারণ বলা হয়েছিল যে তিনি পানির গঠন নিজের পরীক্ষার মাধ্যমে শিখেননি, বরং '''[[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]]কে লেখা ওয়াটের একটি চিঠি দেখার মাধ্যমে জেনেছিলেন। এভাবেই যুদ্ধটি পুরোপুরি শুরু হয়'''... === ''ক্যাভেন্ডিশ'' (১৯৯৬) === :<small>{{w|ক্রিস্টা জংনিকেল}}, {{w|রাসেল ম্যাককর্ম্যাক}} রচিত, পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭।</small> * যে সময় ক্যাভেন্ডিশ {{w|আর্সেনিক}} যৌগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চালিয়েছিলেন, রসায়নবিদরা তখনও "এটি /আর্সেনিক/ আসলে কী, অথবা এটি কোন শ্রেণির বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তা নির্ধারণ" করতে সক্ষম হননি। ...আর্সেনিক কিছু অবস্থায় একটি {{w|ধাতু}} হিসেবে আচরণ করে, আবার অন্য অবস্থায় [[লবণ (রসায়ন)|লবণের]] মতো আচরণ করে। ...প্রতিটি ধাতব {{w|ভস্মের}} মতো, আর্সেনিককেও ধাতব রূপে পরিবর্তিত [করা যেত]... "আর্সেনিকের রেগুলাস"... "[[ফ্লজিস্টি তত্ত্ব|ফ্লজিস্টির]]" সাথে [যুক্ত করার মাধ্যমে]। ...লবণের মতো, আর্সেনিক [[w:দ্রবণীয়তা|পানিতে দ্রবণীয়]]। ...এটি {{w|অ্যাসিড}} বা {{w|ক্ষার}} কোনোটিই নয়, তবুও [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককার]] দাবি করেছিলেন যে এটি এমনভাবে আচরণ করে যেন এটি একটি অ্যাসিড। ...অন্যান্য দিক থেকে ...আর্সেনিক অন্যান্য ...[[wikt:ভস্ম|ভস্ম]] থেকে আলাদা: এটি তীব্র গন্ধযুক্ত এবং [[w:উদ্বায়িতা (রসায়ন)|উদ্বায়ী]], এটি [[wikt:গলনযোগ্য|গলনযোগ্য]], এটি ধাতু ও {{w|উপধাতুর}} সাথে যুক্ত হয় যে পার্থক্যটি ম্যাককার এবং ক্যাভেন্ডিশ ধরে ফেলেছিলেন এটি [[w:শোরা|শোরার]] সাথে পাতিত করার সময় তাকে বিয়োজিত করে। [[w:রাসায়নিক আসক্তি|আসক্তির]] দিক থেকেও... আর্সেনিক ব্যতিক্রমী। **<small>পাদটীকা: [[w:ক্যাসপার নিউম্যান (রসায়নবিদ)|ক্যাসপার নিউম্যান]], ''কেমিক্যাল ওয়ার্কস'', [https://archive.org/details/chemicalworksofc00neum/page/140/mode/1up ১৪০-১৪১, ১৪৫।] নিউম্যান, ম্যাককার, ক্যাভেন্ডিশ এবং... সমসাময়িকরা যাকে "আর্সেনিক" বলতেন তা হলো... [[w:আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড|আর্সেনিয়াস অক্সাইড]]... ধাতব আকরিক পোড়ানোর একটি সাধারণ উপজাত। এর অন্য নাম... হলো "সাদা আর্সেনিক", যা সাদা, উজ্জ্বল উপধাতু অর্থাৎ আর্সেনিকের রেগুলাসের ভস্ম।</small> * [[w:লবণ (রসায়ন)#লবণের প্রকারভেদ|নিরপেক্ষ লবণ]], যা ছিল ক্যাভেন্ডিশের শুরুর বিন্দু... সেগুলো {{w|অ্যাসিড}} এবং অন্যান্য অম্লতাহীন পদার্থ, প্রধানত {{w|ক্ষার}} দ্বারা গঠিত ছিল। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন পরিচিত সকল নিরপেক্ষ লবণের একটি তালিকা বারোটির একটি টেবিলে করা যেত... যা ছিল চারটি পরিচিত অম্লীয় লবণ এবং তিনটি পরিচিত ক্ষারীয় লবণের সম্ভাব্য সংমিশ্রণ। ঠিক যখন ক্যাভেন্ডিশ কাজ শুরু করেন... সেই গোছানো ও সহজলভ্য টেবিলটি... দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল। লবণের এই অভিজ্ঞতামূলক ক্ষেত্রটিকে অত্যন্ত অনুন্নত হিসেবে তখন গণ্য করা হতো... * ক্যাভেন্ডিশ [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককারের]] পদ্ধতি অনুসরণ করে [[w:শোরা|শোরার]] সাথে {{w|আর্সেনিক}} পাতন করে ম্যাককারের সেই নিরপেক্ষ লবণটি তৈরি করেন, যা থেকে প্রচুর লাল ধোঁয়া নির্গত হয়েছিল... এবং শেষে... অবশিষ্ট ছিল নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণের একটি কেক। এরপর তিনি... আর্সেনিককে [[w:নাইট্রিক অ্যাসিড|স্পিরিট অফ নাইটার]]-এ দ্রবীভূত করার চেষ্টা করেন এবং তারপর নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণ পাওয়ার জন্য তাতে [[w:পটাশিয়াম কার্বনেট|পার্ল অ্যাশ]] যোগ করেন। ...'''[তাঁর] আবিষ্কার:''' ক্ষারের সাথে যা যুক্ত হয়েছিল তা ছিল... '''একটি নতুন অ্যাসিড, "[[w:আর্সেনিক অ্যাসিড|আর্সেনিক্যাল অ্যাসিড]]" ...এই নতুন অ্যাসিডের মধ্যে "একটি অ্যাসিডের যাবতীয় গুণাবলি ছিল... কেবল সম্ভবত স্বাদের দিকটি ছাড়া, যা আমি পরীক্ষা করে দেখা উচিত বলে মনে করিনি।"''' এই গবেষণাটি ছিল {{w|আর্সেনিক}} নিয়ে ক্যাভেন্ডিশের গবেষণার এক অনন্য শিখর। ** <small>পার্ল অ্যাশ। পটাশিয়াম কার্বনেটের একটি প্রকার। স্যার এডওয়ার্ড থর্প রচিত ''এ ডিকশনারি অফ অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি'' (১৯১৩), [https://archive.org/details/b21713601_0004/page/107/mode/1up খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭।]</small> == আরও দেখুন == * এফ.জে. মুর রচিত [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)|''এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি'']]-এ [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)#ক্যাভেন্ডিশ|ক্যাভেন্ডিশ]]। * {{w|জেমস ক্যাম্পবেল ব্রাউন}} রচিত ''[[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস|এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস]]''-এ [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস#হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]। * জর্জ উইলসন রচিত ''[[w:দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১)। == বহিঃসংযোগ == {{wikipedia}} {{commons category}} * আর্কাইভ.অর্গ ** [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]] রচিত ''[https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/n9/mode/2up দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]'' (১৮৫১) ** হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস'' রচিত ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল'' (১৯২১) [https://archive.org/details/scientificpapers01caveuoft/page/n11/mode/2up খণ্ড ১ দ্য ইলেকট্রিক্যাল রিসার্চেস] {{DEFAULTSORT:ক্যাভেন্ডিশ, হেনরি}} [[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৮১০-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:অজ্ঞেয়বাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো]] iq3iljfm2bgultq1su9gj4r6elct4ju 76860 76858 2026-04-15T06:50:20Z Sumanta3023 4175 /* বহিঃসংযোগ */ 76860 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪]-এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াটের]] গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্টের]] প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্ট-এর প্রকাশনা।]</small> * এই মহান দার্শনিকের কাছে এটিই কাম্য ছিল যে, তিনি যেন তাঁর আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনেক কাজ করেন। ** [[বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন]], ''দ্য ওয়ার্কস অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন; উইথ নোটস অ্যান্ড আ লাইফ অফ দ্য অথর'' (১৮৫৬) সম্পাদিত জ্যারেড স্পার্কস, খণ্ড V, [https://archive.org/details/workscontainings05franuoft/page/n414/mode/1up পৃষ্ঠা ৩৮৩।] === ''[[দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১) === :<small>, ''ইনক্লুডিং অ্যাবস্ট্রাক্টস অফ হিজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট পেপারস, অ্যান্ড আ ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ক্লেইমস অফ অল দ্য অ্যালিজড ডিসকভারার্স অফ দ্য কম্পোজিশন অফ ওয়াটার'' লিখেছেন [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]], [https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/185/mode/1up পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬।]</small> * এখন কেবল আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে '''সেই দার্শনিকের চরিত্রের''' মূল্যায়ন করা বাকি। নৈতিকভাবে এটি ছিল একটি শূন্যস্থান, এবং '''কেবল কতগুলো নেতিবাচক শব্দ দিয়ে তা বর্ণনা করা যেতে পারে। তিনি ভালোবাসতেন না'''; তিনি '''ঘৃণা''' করতেন না; তিনি '''আশা''' করতেন না; তিনি '''ভয়''' পেতেন না; '''অন্যরা যেভাবে উপাসনা করে তিনি সেভাবে করতেন না।''' তিনি নিজেকে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে এবং দৃশ্যত স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। '''তাঁর স্বভাবের মধ্যে ঐকান্তিকতা, উৎসাহ, বীরত্ব বা সৌজন্যবোধের মতো কিছুই ছিল না, আবার হীনতা, নীচতা বা অধম হওয়ার মতোও কিছু ছিল না।''' তিনি ছিলেন প্রায় আবেগহীন। * '''যা কিছু''' উপলব্ধির জন্য বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল, অথবা '''যাতে কল্পনাশক্তি, অনুরাগ বা বিশ্বাসের প্রয়োগ দরকার হতো, সেসবই ক্যাভেন্ডিশের কাছে অপ্রীতিকর ছিল।''' তাঁর স্মারকগুলো পড়ার সময় আমি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মাথা যা চিন্তা করছে, এক জোড়া অদ্ভুত তীক্ষ্ণ চোখ যা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এক জোড়া অত্যন্ত দক্ষ হাত যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নথিবদ্ধ করছে তাই অনুভব করতে পারি। * '''তাঁর মস্তিষ্ককে কেবল একটি [[গণনাকারী যন্ত্র]] বলে মনে হতো; তাঁর চোখ দুটি ছিল দর্শনের প্রবেশপথ মাত্র, চোখের জলের উৎস নয়; তাঁর হাত দুটি ছিল নাড়াচাড়া করার সরঞ্জাম যা কখনো আবেগে কাঁপত না, অথবা আরাধনা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা হতাশায় কখনো একে অপরের সাথে আবদ্ধ হতো না'''; তাঁর হৃদয় ছিল কেবল একটি শারীরস্থানিক অঙ্গ, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। * তবুও, এমন একজন সত্তা, যিনি ‘নিহিল হিউম্যানি মি অ্যালেনাম পুটো’ [মানবিক কোনো কিছুই আমার কাছে পর নয়] এই নীতিবাক্যটিকে উল্টে দিয়েছিলেন, তাঁকে যেমন ভালোবাসা যায় না, ঠিক তেমনি তাঁকে ঘৃণা বা অবজ্ঞাও করা যায় না। অনেকগুলো বৃত্তির ক্ষয় বা অনুন্নয়ন সত্ত্বেও, যা সাধারণত সেইসব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় যাদের মধ্যে "উপাদানগুলো সদয়ভাবে মিশ্রিত থাকে", '''তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই একজন সত্যিকারের প্রতিভা যেমনটা হয়ে থাকেন কেবল কবি, চিত্রকর এবং সঙ্গীতশিল্পীরা''', যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি সামান্য এবং হৃদয় ও কল্পনাশক্তি বিশাল, '''যাঁদের সামনে পৃথিবী এত স্বেচ্ছায় মাথা নত করে।''' * '''তিনি দোষারোপ করার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়ের পাত্র।''' * ক্যাভেন্ডিশ কোনো গর্বিত বা [[wiktionary:অহঙ্কারী|অহঙ্কারী]] মনোভাব নিয়ে অন্য মানুষদের থেকে দূরে সরে থাকেননি, কিংবা তাদের নিজের সঙ্গী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেননি। তিনি নিজেকে তাদের থেকে একটি বিশাল ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন, যা তারা বা তিনি কেউই অতিক্রম করতে পারতেন না এবং যার এপার-ওপার হাত বাড়ানো বা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৃথা ছিল। '''ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি বোধ তাঁকে তাদের সমাজ থেকে সংকুচিত করে রাখত এবং তাদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে বাধ্য করত, কিন্তু তিনি তা করতেন একজন দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির মতো, কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করার জন্য নয়।''' * তিনি ছিলেন একটি বৃত্তের বাইরে আলাদা বসে থাকা এক বধির ও মূকের মতো, যার দৃষ্টি এবং ভঙ্গি এটিই প্রকাশ করে যে, তারা সংগীত ও বাগ্মিতা উচ্চারণ করছে এবং শুনছে, কিন্তু সেগুলো তৈরি করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই বিজ্ঞের মতো তিনি আলাদা বসবাস করতেন, এবং পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এক বৈজ্ঞানিক [[সন্ন্যাসী|সন্ন্যাসীর]] স্ব-আরোপিত ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকালের ভিক্ষুদের মতো নিজেকে নিজের কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এটি তাঁর জন্য এক পর্যাপ্ত সাম্রাজ্য ছিল এবং এর সরু জানালা দিয়ে তিনি মহাবিশ্বের ততটুকুই দেখতেন যতটুকু তিনি দেখতে চাইতেন। সেখানে একটি সিংহাসনও ছিল এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ভাইদের রাজকীয় উপহার প্রদান করতেন। * '''তিনি ছিলেন তাঁর জাতির অন্যতম এক অকৃতজ্ঞ হিতৈষী, যিনি ধৈর্য সহকারে মানবজাতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সেবা করছিলেন, যখন তারা তাঁর শীতলতা দেখে সংকুচিত হচ্ছিল অথবা তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে উপহাস করছিল।''' * তিনি তাদের জন্য কোনো মধুর গান গাইতে পারতেন না, বা এমন কোনো "সুন্দরের সৃষ্টি" করতে পারতেন না যা হবে "চিরন্তন আনন্দের উৎস", কিংবা পারতেন না তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে, বা তাদের আত্মাকে উদ্দীপ্ত করতে, অথবা তাদের শ্রদ্ধা বা ব্যাকুলতাকে গভীর করতে। '''তিনি কোনো কবি, পুরোহিত বা নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন কেবল এক শীতল, স্বচ্ছ বুদ্ধিমত্তা, যা বিশুদ্ধ সাদা আলো বিকিরণ করত, যা তার ওপর পড়া প্রতিটি জিনিসকে উজ্জ্বল করত কিন্তু কিছুই উষ্ণ করত না বুদ্ধিবৃত্তিক গগনে তিনি ছিলেন অন্তত দ্বিতীয় না হলেও প্রথম মাত্রার একটি নক্ষত্র।''' === ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) === :<small>"ওয়াটার" ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) খণ্ড ১৫, [https://books.google.com/books?id=5fVMAQAAMAAJ&pg=PA275 পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬।]</small> * '''একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং তিক্ত বিতর্ক'''... অনেক বছর ধরে চলেছিল এবং '''[[জল|পানির]] প্রকৃত প্রকৃতি ও গঠন আবিষ্কারে বিভিন্ন দার্শনিকের নিজ নিজ দাবির বিষয়টি... এখনও... খুব কমই... মীমাংসিত হয়েছে।''' * ১৭৮১ সালে, ক্যাভেন্ডিশ দীর্ঘ এবং সতর্কতামূলক একগুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন... যা ১৭৮৪ সালের জানুয়ারির আগে প্রকাশিত হয়নি, যখন রয়্যাল সোসাইটির সামনে তাঁর বিখ্যাত... ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার'' পাঠ করা হয়েছিল। * এই অন্তর্বর্তী সময়ে (জুন, ১৭৮৩) তাঁর বন্ধু, '''[[w:চার্লস ব্ল্যাগডেন|ডক্টর ব্ল্যাগডেন]]''', প্যারিস ভ্রমণ করেন এবং ক্যাভেন্ডিশের কর্তৃত্ব নিয়ে, '''পানির গঠন প্রমাণকারী পরীক্ষাগুলোর একটি বিবরণ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]কে প্রদান করেন'''... * '''আবিষ্কার এবং প্রকাশের তারিখের মধ্যবর্তী এই বিলম্বের কারণে বিশ্বের দেখা অন্যতম বিস্ময়কর এই আবিষ্কারের দাবিটি... [[জেমস ওয়াট|জেমস ওয়াট]] এবং [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] দ্বারা বিতর্কিত হয়েছিল।''' * '''ক্যাভেন্ডিশের পরীক্ষাগুলো ছিল বিভিন্ন অনুপাতে {{w|হাইড্রোজেন}} ও বায়ুমণ্ডলীয় বায়ুর মিশ্রণ এবং হাইড্রোজেন ও [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] মিশ্রণে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং ফলাফল হিসেবে একটি তরল পাওয়া যা বিশুদ্ধ [[জল|পানি]] হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ([[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]] এবং তাঁর বন্ধু মিস্টার [জন] ওয়ার্লটায়ার একই ধরনের পরীক্ষা করেছিলেন এবং বিস্ফোরণের পর আর্দ্রতার জমার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন''', কিন্তু তাঁরা একে গ্যাসের মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে '''চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।''') * '''ক্যাভেন্ডিশ যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তা তাঁর নিজের ভাষায় ছিল, "পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু," এবং যেহেতু ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু ছিল [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ এবং ফ্লজিস্টি ছিল {{w|হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেনের}} জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ, তাই এই বক্তব্যটি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রবর্তিত পানির প্রকৃতির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যায়।''' * যেহেতু [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রথম থেকেই ইংরেজ রসায়নবিদদের দ্বারা তাঁদের প্রতি অন্যায্য আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিজের দাবিটি কেবল ২৫ জুন ১৭৮৩ তারিখের, তাই তাঁকে আর বিবেচনার প্রয়োজন নেই; এবং ইংরেজ দাবিদারদের জীবদ্দশায় কোনো পক্ষ থেকেই কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ ছিল না, যদিও '''[[জেমস ওয়াট|ওয়াট]], তাঁর বন্ধুদের কাছে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিতে ক্যাভেন্ডিশের অক্ষমতা এবং অন্যায্যতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।''' * ফলে অন্ততপক্ষে এই দেশে বিজ্ঞানীরা তখন চমকে উঠেছিলেন যখন [[ফ্রঁসোয়া আরাগো|আরাগো]]... ১৮৩৮ সালে [[জেমস ওয়াট|ওয়াটের]] [[wikt:প্রশস্তি|প্রশস্তি]] প্রকাশ করেন, যা তিনি ১৮৩৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে পাঠ করেছিলেন, '''যাতে তিনি ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুরির অভিযোগ আনেন'''; কারণ বলা হয়েছিল যে তিনি পানির গঠন নিজের পরীক্ষার মাধ্যমে শিখেননি, বরং '''[[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]]কে লেখা ওয়াটের একটি চিঠি দেখার মাধ্যমে জেনেছিলেন। এভাবেই যুদ্ধটি পুরোপুরি শুরু হয়'''... === ''ক্যাভেন্ডিশ'' (১৯৯৬) === :<small>{{w|ক্রিস্টা জংনিকেল}}, {{w|রাসেল ম্যাককর্ম্যাক}} রচিত, পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭।</small> * যে সময় ক্যাভেন্ডিশ {{w|আর্সেনিক}} যৌগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চালিয়েছিলেন, রসায়নবিদরা তখনও "এটি /আর্সেনিক/ আসলে কী, অথবা এটি কোন শ্রেণির বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তা নির্ধারণ" করতে সক্ষম হননি। ...আর্সেনিক কিছু অবস্থায় একটি {{w|ধাতু}} হিসেবে আচরণ করে, আবার অন্য অবস্থায় [[লবণ (রসায়ন)|লবণের]] মতো আচরণ করে। ...প্রতিটি ধাতব {{w|ভস্মের}} মতো, আর্সেনিককেও ধাতব রূপে পরিবর্তিত [করা যেত]... "আর্সেনিকের রেগুলাস"... "[[ফ্লজিস্টি তত্ত্ব|ফ্লজিস্টির]]" সাথে [যুক্ত করার মাধ্যমে]। ...লবণের মতো, আর্সেনিক [[w:দ্রবণীয়তা|পানিতে দ্রবণীয়]]। ...এটি {{w|অ্যাসিড}} বা {{w|ক্ষার}} কোনোটিই নয়, তবুও [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককার]] দাবি করেছিলেন যে এটি এমনভাবে আচরণ করে যেন এটি একটি অ্যাসিড। ...অন্যান্য দিক থেকে ...আর্সেনিক অন্যান্য ...[[wikt:ভস্ম|ভস্ম]] থেকে আলাদা: এটি তীব্র গন্ধযুক্ত এবং [[w:উদ্বায়িতা (রসায়ন)|উদ্বায়ী]], এটি [[wikt:গলনযোগ্য|গলনযোগ্য]], এটি ধাতু ও {{w|উপধাতুর}} সাথে যুক্ত হয় যে পার্থক্যটি ম্যাককার এবং ক্যাভেন্ডিশ ধরে ফেলেছিলেন এটি [[w:শোরা|শোরার]] সাথে পাতিত করার সময় তাকে বিয়োজিত করে। [[w:রাসায়নিক আসক্তি|আসক্তির]] দিক থেকেও... আর্সেনিক ব্যতিক্রমী। **<small>পাদটীকা: [[w:ক্যাসপার নিউম্যান (রসায়নবিদ)|ক্যাসপার নিউম্যান]], ''কেমিক্যাল ওয়ার্কস'', [https://archive.org/details/chemicalworksofc00neum/page/140/mode/1up ১৪০-১৪১, ১৪৫।] নিউম্যান, ম্যাককার, ক্যাভেন্ডিশ এবং... সমসাময়িকরা যাকে "আর্সেনিক" বলতেন তা হলো... [[w:আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড|আর্সেনিয়াস অক্সাইড]]... ধাতব আকরিক পোড়ানোর একটি সাধারণ উপজাত। এর অন্য নাম... হলো "সাদা আর্সেনিক", যা সাদা, উজ্জ্বল উপধাতু অর্থাৎ আর্সেনিকের রেগুলাসের ভস্ম।</small> * [[w:লবণ (রসায়ন)#লবণের প্রকারভেদ|নিরপেক্ষ লবণ]], যা ছিল ক্যাভেন্ডিশের শুরুর বিন্দু... সেগুলো {{w|অ্যাসিড}} এবং অন্যান্য অম্লতাহীন পদার্থ, প্রধানত {{w|ক্ষার}} দ্বারা গঠিত ছিল। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন পরিচিত সকল নিরপেক্ষ লবণের একটি তালিকা বারোটির একটি টেবিলে করা যেত... যা ছিল চারটি পরিচিত অম্লীয় লবণ এবং তিনটি পরিচিত ক্ষারীয় লবণের সম্ভাব্য সংমিশ্রণ। ঠিক যখন ক্যাভেন্ডিশ কাজ শুরু করেন... সেই গোছানো ও সহজলভ্য টেবিলটি... দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল। লবণের এই অভিজ্ঞতামূলক ক্ষেত্রটিকে অত্যন্ত অনুন্নত হিসেবে তখন গণ্য করা হতো... * ক্যাভেন্ডিশ [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককারের]] পদ্ধতি অনুসরণ করে [[w:শোরা|শোরার]] সাথে {{w|আর্সেনিক}} পাতন করে ম্যাককারের সেই নিরপেক্ষ লবণটি তৈরি করেন, যা থেকে প্রচুর লাল ধোঁয়া নির্গত হয়েছিল... এবং শেষে... অবশিষ্ট ছিল নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণের একটি কেক। এরপর তিনি... আর্সেনিককে [[w:নাইট্রিক অ্যাসিড|স্পিরিট অফ নাইটার]]-এ দ্রবীভূত করার চেষ্টা করেন এবং তারপর নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণ পাওয়ার জন্য তাতে [[w:পটাশিয়াম কার্বনেট|পার্ল অ্যাশ]] যোগ করেন। ...'''[তাঁর] আবিষ্কার:''' ক্ষারের সাথে যা যুক্ত হয়েছিল তা ছিল... '''একটি নতুন অ্যাসিড, "[[w:আর্সেনিক অ্যাসিড|আর্সেনিক্যাল অ্যাসিড]]" ...এই নতুন অ্যাসিডের মধ্যে "একটি অ্যাসিডের যাবতীয় গুণাবলি ছিল... কেবল সম্ভবত স্বাদের দিকটি ছাড়া, যা আমি পরীক্ষা করে দেখা উচিত বলে মনে করিনি।"''' এই গবেষণাটি ছিল {{w|আর্সেনিক}} নিয়ে ক্যাভেন্ডিশের গবেষণার এক অনন্য শিখর। ** <small>পার্ল অ্যাশ। পটাশিয়াম কার্বনেটের একটি প্রকার। স্যার এডওয়ার্ড থর্প রচিত ''এ ডিকশনারি অফ অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি'' (১৯১৩), [https://archive.org/details/b21713601_0004/page/107/mode/1up খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭।]</small> == আরও দেখুন == * এফ.জে. মুর রচিত [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)|''এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি'']]-এ [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)#ক্যাভেন্ডিশ|ক্যাভেন্ডিশ]]। * {{w|জেমস ক্যাম্পবেল ব্রাউন}} রচিত ''[[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস|এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস]]''-এ [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস#হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]। * জর্জ উইলসন রচিত ''[[w:দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১)। == বহিঃসংযোগ == {{wikipedia}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী}} * আর্কাইভ.অর্গ ** [[w:জর্জ_উইলসন_(রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]] রচিত ''[https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/n9/mode/2up দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]'' (১৮৫১) ** হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস'' রচিত ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল'' (১৯২১) [https://archive.org/details/scientificpapers01caveuoft/page/n11/mode/2up খণ্ড ১ দ্য ইলেকট্রিক্যাল রিসার্চেস] {{DEFAULTSORT:ক্যাভেন্ডিশ, হেনরি}} [[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৮১০-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:অজ্ঞেয়বাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো]] 0qgfjcthlrfwcfgslzsi1nutd2f71iu 76861 76860 2026-04-15T06:52:44Z Sumanta3023 4175 76861 wikitext text/x-wiki [[File:Cavendish Henry.jpg|thumb|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] '''[[w:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]''' [[w:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো|এফআরএস]] (১০ অক্টোবর ১৭৩১ – ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮১০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যিনি [[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]] অথবা তাঁর দেওয়া নাম অনুযায়ী "দাহ্য বায়ু" আবিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাভেন্ডিশ তাঁর [[w:ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা|ক্যাভেন্ডিশ পরীক্ষা]], পৃথিবীর ঘনত্ব পরিমাপ এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণার জন্যও পরিচিত। {{physicist-stub}} == উক্তি == * তরুণদের অবশ্যই যন্ত্রগুলো ভাঙতে হবে যাতে তারা শিখতে পারে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; আরেকটি নতুন বানিয়ে নাও! ** যখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে একজন যুবক তাঁর একটি মূল্যবান যন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; [[w:জর্জ কুভিয়ের|জর্জ কুভিয়ের]] রচিত ''বায়োগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অফ হেনরি ক্যাভেন্ডিশ'', দ্য এডিনবরা নিউ ফিলোসফিক্যাল জার্নাল (১৮২৮), পৃষ্ঠা ২২২ এ উদ্ধৃত। === ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, এফ.আর.এস'' (১৯২১) === :<small>[https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C খণ্ড ২ কেমিক্যাল অ্যান্ড ডায়নামিক্যাল।] প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং হিজ গ্রেস দ্য ডিউক অফ ডেভনশায়ার, কে.জি., এফ.আর.এস. এর সংগ্রহে থাকা ক্যাভেন্ডিশের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সম্পাদনা করেছেন [[w:থমাস এডওয়ার্ড থর্প|স্যার এডওয়ার্ড থর্প]], এফ.আর.এস.; সাথে অবদান রয়েছে ডক্টর {{w|চার্লস ক্রি}}, স্যার {{w|স্যার ফ্রাঙ্ক ওয়াটসন ডাইসন}}, স্যার [[w:আর্চিবল্ড গেইকি|স্যার আর্চিবল্ড গেইকি]], স্যার [[w:জোসেফ লারমার|জোসেফ লারমার]]। কেমব্রিজ অ্যাট দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস।</small> ==== ''থ্রি পেপারস, কনটেইনিং এক্সপেরিমেন্টস অন ফ্যাকটিশিয়াস এয়ার'' (১৭৬৬) ==== :<small>''বাই দ্য অনারেবল'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস.'', রয়্যাল সোসাইটির সামনে ২৯ মে, ৬ নভেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর ১৭৬৬ তারিখে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি ১২ মে ১৭৬৬ তারিখে গৃহীত হয়েছিল। এটি ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' (১৭৬৬) খণ্ড ৫৬, নিবন্ধ XIX, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA77 পৃষ্ঠা ৭৭-১৪৪] এ প্রকাশিত হয়েছিল।</small> * [[wikt:কৃত্রিম|কৃত্রিম]] [[বায়ু]] বলতে আমি সাধারণত এমন যেকোনো ধরনের বায়ুকে বুঝি যা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে [[wikt:অস্থিতিস্থাপক|অস্থিতিস্থাপক]] অবস্থায় থাকে এবং সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। * [[w:কার্বন ডাই অক্সাইড|স্থির বায়ু]] বলতে আমি সেই বিশেষ ধরনের কৃত্রিম বায়ুকে বুঝি, যা [[w:ক্ষারীয়|ক্ষারীয়]] পদার্থ থেকে [[w:অ্যাসিড|অ্যাসিডে]] দ্রবীভূত করে অথবা [[wikt:ভস্মীকরণ|ভস্মীকরণের]] মাধ্যমে পৃথক করা হয় এবং [[w:জোসেফ ব্ল্যাক|ডক্টর ব্ল্যাক]] তাঁর [[w:ক্যালসিয়াম অক্সাইড|পোড়াচুন]] বিষয়ক গবেষণাপত্রে যাকে এই নাম দিয়েছেন। ==== ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার বাই'' (১৭৮৪) ==== :<small>''বাই'' হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ''এস্কোয়ার এফ.আর.এস. অ্যান্ড এস.এ.'' নিবন্ধ XIII, ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ তারিখে পঠিত, ''ফিলোসফিক্যাল ট্রানজ্যাকশনস'' খণ্ড ৭৪, [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA161 পৃষ্ঠা ১৬১।]</small> * আমার মনে হয় আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে যে [[w:অক্সিজেন|ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু]] আসলে ডিফ্লজিস্টিকেটেড পানি বা ফ্লজিস্টিহীন পানি ছাড়া আর কিছুই নয়; অথবা অন্য কথায়, '''পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু'''; এবং [[w:হাইড্রোজেন|দাহ্য বায়ু]] হয় বিশুদ্ধ ফ্লজিস্টি, যেমনটি [[w:জোসেফ প্রিস্টলি|ডক্টর প্রিস্টলি]] এবং [[w:রিচার্ড কিরওয়ান|মিস্টার কিরওয়ান]] মনে করেন [এবং ক্যাভেন্ডিশ নিজেও আগে মনে করতেন], অথবা পানি ও ফ্লজিস্টির সংমিশ্রণ; যেহেতু এই ধারণা অনুযায়ী, এই দুটি উপাদান একত্রে যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ পানি গঠন করে। অন্যদিকে, যদি প্রথম ব্যাখ্যাটি সত্য হয়, তবে আমাদের ধরে নিতে হবে যে ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু হলো সামান্য {{w|নাইট্রাস অ্যাসিড}} যুক্ত পানি যা তার ফ্লজিস্টি হারিয়েছে; কিন্তু তবুও এর মধ্যে থাকা নাইট্রাস অ্যাসিড পুরো অংশের খুব সামান্য অংশ হওয়া উচিত, কারণ দেখা গেছে যে, এটি যে ফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুতে রূপান্তরিত হয় তা ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। ** [https://books.google.com/books?id=ygqYnSR3oe0C&pg=PA171 পৃষ্ঠা ১৭১-১৭২।] == ক্যাভেন্ডিশ সম্পর্কে উক্তি == * তিনি ছিলেন সকল পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী এবং সম্ভবত সকল ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি। ** [[w:জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট|জঁ-ব্যাপটিস্ট বিওট]], ''বায়োগ্রাফি ইউনিভার্সেল অ্যানসিয়েন এট মডার্ন'', [[w:জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান|জন ম্যাক্সন স্টিলম্যান]] রচিত ''দ্য স্টোরি অফ আর্লি কেমিস্ট্রি'' (১৯২৪) এ উদ্ধৃত। ** আরও সংক্ষেপে, "ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং জ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী", ক্রিস্টা জংনিকেল এবং রাসেল ম্যাককর্ম্যাক রচিত ''ক্যাভেন্ডিশ: দ্য এক্সপেরিমেন্টাল লাইফ'' (১৯৯৯), সংশোধিত সংস্করণ, লুইসবার্গ, পিএ: বাকনেল ইউনিভার্সিটি প্রেসে উদ্ধৃত। * আমি কখনোই মিস্টার ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনিনি বা ভাবিনি যে তিনি [[w:জেমস ওয়াট|মিস্টার ওয়াটের]] গবেষণাপত্র থেকে পানির গঠন সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং জেনেবুঝে তা ধার করেছেন; যদিও [[w:উইলিয়াম ভার্নন হারকোর্ট (বিজ্ঞানী)|মিস্টার হারকোর্টের]] প্রকাশনাটি বিষয়টিকে যথেষ্ট সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে হতে পারে। আমার মতে, এই উভয় মহান ব্যক্তিই একে অপরের থেকে আলাদাভাবে এবং একে অপরের মতবাদ সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এই আবিষ্কারটি করেছিলেন। মিস্টার ক্যাভেন্ডিশ ছিলেন কঠোর সততা এবং ন্যায়বিচারের অত্যন্ত প্রখর বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল তাঁর আদর্শের তুলনায় অনেক গৌণ। মানবিকতার সাধারণ ডাকের প্রতি তিনি বিশেষভাবে উদাসীন ছিলেন, যার যথেষ্ট ইতিবাচক প্রমাণ রয়েছে এবং যে গবেষণাপত্র ['ইলোজ ডি এম. ক্যাভেন্ডিশ'] নিয়ে আমি মন্তব্য করছি, তার [[w:জর্জ কুভিয়ের|বিতর্কিত লেখক]] যদি সেগুলো দেখতে চান তবে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন। এই দাবিগুলো কেবল আমার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, কারণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁর সাথে আমার কখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু একজন দার্শনিকের সাধনা এবং একজন নির্জনবাসীর জীবন, যা তাঁর হৃদয়কে পুরোপুরি কঠোর করে দিয়েছিল, তা তাঁর ন্যায়বোধকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এবং আমার নিজস্ব বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি নিজেকে এই আবিষ্কারের একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঠিক তেমনই মনে করতেন, যেমনটা স্যার [[w:আইজ্যাক নিউটন|আইজ্যাক নিউটন]] নিজেকে আলোর প্রকৃতি এবং সৌরজগতের তত্ত্বের একমাত্র আবিষ্কারক বলে বিশ্বাস করতেন। ** [[w:হেনরি ব্রুঘাম, ১ম ব্যারন ব্রুঘাম এবং ভক্স|হেনরি ব্রুঘাম]] "নোট টু দ্য লাইভস অফ ক্যাভেন্ডিশ, ওয়াট, অ্যান্ড ব্ল্যাক, পাবলিশড ইন দ্য ফার্স্ট ভলিউম" ''লাইভস অফ মেন অফ লেটারস হু ফ্লোরিশড ইন দ্য টাইম অফ জর্জ ৩'' (১৮৪৬) খণ্ড ২, [https://archive.org/details/livesofmenoflett02brourich/page/515/mode/1up পৃষ্ঠা ৫১৫।] <small>ব্রুঘামের এই বক্তব্যটি পানি যে "ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু" ([[w:অক্সিজেন|অক্সিজেন]]) এবং "দাহ্য বায়ু" ([[w:হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেন]]) গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, সেই আবিষ্কারের বিতর্ককে নির্দেশ করে। সূত্র: [https://archive.org/details/lettertohenrylor00harc মিস্টার হারকোর্টের প্রকাশনা।]</small> * এই মহান দার্শনিকের কাছে এটিই কাম্য ছিল যে, তিনি যেন তাঁর আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনেক কাজ করেন। ** [[বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন]], ''দ্য ওয়ার্কস অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন; উইথ নোটস অ্যান্ড আ লাইফ অফ দ্য অথর'' (১৮৫৬) সম্পাদিত জ্যারেড স্পার্কস, খণ্ড V, [https://archive.org/details/workscontainings05franuoft/page/n414/mode/1up পৃষ্ঠা ৩৮৩।] === ''[[দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১) === :<small>, ''ইনক্লুডিং অ্যাবস্ট্রাক্টস অফ হিজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট পেপারস, অ্যান্ড আ ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি ইনটু দ্য ক্লেইমস অফ অল দ্য অ্যালিজড ডিসকভারার্স অফ দ্য কম্পোজিশন অফ ওয়াটার'' লিখেছেন [[w:জর্জ উইলসন (রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]], [https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/185/mode/1up পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬।]</small> * এখন কেবল আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংক্ষেপে '''সেই দার্শনিকের চরিত্রের''' মূল্যায়ন করা বাকি। নৈতিকভাবে এটি ছিল একটি শূন্যস্থান, এবং '''কেবল কতগুলো নেতিবাচক শব্দ দিয়ে তা বর্ণনা করা যেতে পারে। তিনি ভালোবাসতেন না'''; তিনি '''ঘৃণা''' করতেন না; তিনি '''আশা''' করতেন না; তিনি '''ভয়''' পেতেন না; '''অন্যরা যেভাবে উপাসনা করে তিনি সেভাবে করতেন না।''' তিনি নিজেকে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে এবং দৃশ্যত স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। '''তাঁর স্বভাবের মধ্যে ঐকান্তিকতা, উৎসাহ, বীরত্ব বা সৌজন্যবোধের মতো কিছুই ছিল না, আবার হীনতা, নীচতা বা অধম হওয়ার মতোও কিছু ছিল না।''' তিনি ছিলেন প্রায় আবেগহীন। * '''যা কিছু''' উপলব্ধির জন্য বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল, অথবা '''যাতে কল্পনাশক্তি, অনুরাগ বা বিশ্বাসের প্রয়োগ দরকার হতো, সেসবই ক্যাভেন্ডিশের কাছে অপ্রীতিকর ছিল।''' তাঁর স্মারকগুলো পড়ার সময় আমি কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মাথা যা চিন্তা করছে, এক জোড়া অদ্ভুত তীক্ষ্ণ চোখ যা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এক জোড়া অত্যন্ত দক্ষ হাত যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা নথিবদ্ধ করছে তাই অনুভব করতে পারি। * '''তাঁর মস্তিষ্ককে কেবল একটি [[গণনাকারী যন্ত্র]] বলে মনে হতো; তাঁর চোখ দুটি ছিল দর্শনের প্রবেশপথ মাত্র, চোখের জলের উৎস নয়; তাঁর হাত দুটি ছিল নাড়াচাড়া করার সরঞ্জাম যা কখনো আবেগে কাঁপত না, অথবা আরাধনা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা হতাশায় কখনো একে অপরের সাথে আবদ্ধ হতো না'''; তাঁর হৃদয় ছিল কেবল একটি শারীরস্থানিক অঙ্গ, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। * তবুও, এমন একজন সত্তা, যিনি ‘নিহিল হিউম্যানি মি অ্যালেনাম পুটো’ [মানবিক কোনো কিছুই আমার কাছে পর নয়] এই নীতিবাক্যটিকে উল্টে দিয়েছিলেন, তাঁকে যেমন ভালোবাসা যায় না, ঠিক তেমনি তাঁকে ঘৃণা বা অবজ্ঞাও করা যায় না। অনেকগুলো বৃত্তির ক্ষয় বা অনুন্নয়ন সত্ত্বেও, যা সাধারণত সেইসব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় যাদের মধ্যে "উপাদানগুলো সদয়ভাবে মিশ্রিত থাকে", '''তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই একজন সত্যিকারের প্রতিভা যেমনটা হয়ে থাকেন কেবল কবি, চিত্রকর এবং সঙ্গীতশিল্পীরা''', যাঁদের বুদ্ধিবৃত্তি সামান্য এবং হৃদয় ও কল্পনাশক্তি বিশাল, '''যাঁদের সামনে পৃথিবী এত স্বেচ্ছায় মাথা নত করে।''' * '''তিনি দোষারোপ করার চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়ের পাত্র।''' * ক্যাভেন্ডিশ কোনো গর্বিত বা [[wiktionary:অহঙ্কারী|অহঙ্কারী]] মনোভাব নিয়ে অন্য মানুষদের থেকে দূরে সরে থাকেননি, কিংবা তাদের নিজের সঙ্গী হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেননি। তিনি নিজেকে তাদের থেকে একটি বিশাল ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন, যা তারা বা তিনি কেউই অতিক্রম করতে পারতেন না এবং যার এপার-ওপার হাত বাড়ানো বা শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৃথা ছিল। '''ভাইদের থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি বোধ তাঁকে তাদের সমাজ থেকে সংকুচিত করে রাখত এবং তাদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে বাধ্য করত, কিন্তু তিনি তা করতেন একজন দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির মতো, কোনো শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করার জন্য নয়।''' * তিনি ছিলেন একটি বৃত্তের বাইরে আলাদা বসে থাকা এক বধির ও মূকের মতো, যার দৃষ্টি এবং ভঙ্গি এটিই প্রকাশ করে যে, তারা সংগীত ও বাগ্মিতা উচ্চারণ করছে এবং শুনছে, কিন্তু সেগুলো তৈরি করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই বিজ্ঞের মতো তিনি আলাদা বসবাস করতেন, এবং পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এক বৈজ্ঞানিক [[সন্ন্যাসী|সন্ন্যাসীর]] স্ব-আরোপিত ব্রত গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকালের ভিক্ষুদের মতো নিজেকে নিজের কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এটি তাঁর জন্য এক পর্যাপ্ত সাম্রাজ্য ছিল এবং এর সরু জানালা দিয়ে তিনি মহাবিশ্বের ততটুকুই দেখতেন যতটুকু তিনি দেখতে চাইতেন। সেখানে একটি সিংহাসনও ছিল এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ভাইদের রাজকীয় উপহার প্রদান করতেন। * '''তিনি ছিলেন তাঁর জাতির অন্যতম এক অকৃতজ্ঞ হিতৈষী, যিনি ধৈর্য সহকারে মানবজাতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সেবা করছিলেন, যখন তারা তাঁর শীতলতা দেখে সংকুচিত হচ্ছিল অথবা তাঁর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নিয়ে উপহাস করছিল।''' * তিনি তাদের জন্য কোনো মধুর গান গাইতে পারতেন না, বা এমন কোনো "সুন্দরের সৃষ্টি" করতে পারতেন না যা হবে "চিরন্তন আনন্দের উৎস", কিংবা পারতেন না তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে, বা তাদের আত্মাকে উদ্দীপ্ত করতে, অথবা তাদের শ্রদ্ধা বা ব্যাকুলতাকে গভীর করতে। '''তিনি কোনো কবি, পুরোহিত বা নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন কেবল এক শীতল, স্বচ্ছ বুদ্ধিমত্তা, যা বিশুদ্ধ সাদা আলো বিকিরণ করত, যা তার ওপর পড়া প্রতিটি জিনিসকে উজ্জ্বল করত কিন্তু কিছুই উষ্ণ করত না বুদ্ধিবৃত্তিক গগনে তিনি ছিলেন অন্তত দ্বিতীয় না হলেও প্রথম মাত্রার একটি নক্ষত্র।''' === ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) === :<small>"ওয়াটার" ''দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সাল সাইক্লোপিডিয়া'' (১৮৮২) খণ্ড ১৫, [https://books.google.com/books?id=5fVMAQAAMAAJ&pg=PA275 পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬।]</small> * '''একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং তিক্ত বিতর্ক'''... অনেক বছর ধরে চলেছিল এবং '''[[জল|পানির]] প্রকৃত প্রকৃতি ও গঠন আবিষ্কারে বিভিন্ন দার্শনিকের নিজ নিজ দাবির বিষয়টি... এখনও... খুব কমই... মীমাংসিত হয়েছে।''' * ১৭৮১ সালে, ক্যাভেন্ডিশ দীর্ঘ এবং সতর্কতামূলক একগুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন... যা ১৭৮৪ সালের জানুয়ারির আগে প্রকাশিত হয়নি, যখন রয়্যাল সোসাইটির সামনে তাঁর বিখ্যাত... ''এক্সপেরিমেন্টস অন এয়ার'' পাঠ করা হয়েছিল। * এই অন্তর্বর্তী সময়ে (জুন, ১৭৮৩) তাঁর বন্ধু, '''[[w:চার্লস ব্ল্যাগডেন|ডক্টর ব্ল্যাগডেন]]''', প্যারিস ভ্রমণ করেন এবং ক্যাভেন্ডিশের কর্তৃত্ব নিয়ে, '''পানির গঠন প্রমাণকারী পরীক্ষাগুলোর একটি বিবরণ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]কে প্রদান করেন'''... * '''আবিষ্কার এবং প্রকাশের তারিখের মধ্যবর্তী এই বিলম্বের কারণে বিশ্বের দেখা অন্যতম বিস্ময়কর এই আবিষ্কারের দাবিটি... [[জেমস ওয়াট|জেমস ওয়াট]] এবং [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] দ্বারা বিতর্কিত হয়েছিল।''' * '''ক্যাভেন্ডিশের পরীক্ষাগুলো ছিল বিভিন্ন অনুপাতে {{w|হাইড্রোজেন}} ও বায়ুমণ্ডলীয় বায়ুর মিশ্রণ এবং হাইড্রোজেন ও [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] মিশ্রণে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং ফলাফল হিসেবে একটি তরল পাওয়া যা বিশুদ্ধ [[জল|পানি]] হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ([[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]] এবং তাঁর বন্ধু মিস্টার [জন] ওয়ার্লটায়ার একই ধরনের পরীক্ষা করেছিলেন এবং বিস্ফোরণের পর আর্দ্রতার জমার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন''', কিন্তু তাঁরা একে গ্যাসের মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে '''চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।''') * '''ক্যাভেন্ডিশ যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তা তাঁর নিজের ভাষায় ছিল, "পানি হলো ফ্লজিস্টি যুক্ত ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু," এবং যেহেতু ডিফ্লজিস্টিকেটেড বায়ু ছিল [[অক্সিজেন|অক্সিজেনের]] জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ এবং ফ্লজিস্টি ছিল {{w|হাইড্রোজেন|হাইড্রোজেনের}} জন্য তাঁর ব্যবহৃত শব্দ, তাই এই বক্তব্যটি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রবর্তিত পানির প্রকৃতির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যায়।''' * যেহেতু [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]] প্রথম থেকেই ইংরেজ রসায়নবিদদের দ্বারা তাঁদের প্রতি অন্যায্য আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিজের দাবিটি কেবল ২৫ জুন ১৭৮৩ তারিখের, তাই তাঁকে আর বিবেচনার প্রয়োজন নেই; এবং ইংরেজ দাবিদারদের জীবদ্দশায় কোনো পক্ষ থেকেই কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ ছিল না, যদিও '''[[জেমস ওয়াট|ওয়াট]], তাঁর বন্ধুদের কাছে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিতে ক্যাভেন্ডিশের অক্ষমতা এবং অন্যায্যতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।''' * ফলে অন্ততপক্ষে এই দেশে বিজ্ঞানীরা তখন চমকে উঠেছিলেন যখন [[ফ্রঁসোয়া আরাগো|আরাগো]]... ১৮৩৮ সালে [[জেমস ওয়াট|ওয়াটের]] [[wikt:প্রশস্তি|প্রশস্তি]] প্রকাশ করেন, যা তিনি ১৮৩৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে পাঠ করেছিলেন, '''যাতে তিনি ক্যাভেন্ডিশের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুরির অভিযোগ আনেন'''; কারণ বলা হয়েছিল যে তিনি পানির গঠন নিজের পরীক্ষার মাধ্যমে শিখেননি, বরং '''[[জোসেফ প্রিস্টলি|প্রিস্টলি]]কে লেখা ওয়াটের একটি চিঠি দেখার মাধ্যমে জেনেছিলেন। এভাবেই যুদ্ধটি পুরোপুরি শুরু হয়'''... === ''ক্যাভেন্ডিশ'' (১৯৯৬) === :<small>{{w|ক্রিস্টা জংনিকেল}}, {{w|রাসেল ম্যাককর্ম্যাক}} রচিত, পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭।</small> * যে সময় ক্যাভেন্ডিশ {{w|আর্সেনিক}} যৌগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চালিয়েছিলেন, রসায়নবিদরা তখনও "এটি /আর্সেনিক/ আসলে কী, অথবা এটি কোন শ্রেণির বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তা নির্ধারণ" করতে সক্ষম হননি। ...আর্সেনিক কিছু অবস্থায় একটি {{w|ধাতু}} হিসেবে আচরণ করে, আবার অন্য অবস্থায় [[লবণ (রসায়ন)|লবণের]] মতো আচরণ করে। ...প্রতিটি ধাতব {{w|ভস্মের}} মতো, আর্সেনিককেও ধাতব রূপে পরিবর্তিত [করা যেত]... "আর্সেনিকের রেগুলাস"... "[[ফ্লজিস্টি তত্ত্ব|ফ্লজিস্টির]]" সাথে [যুক্ত করার মাধ্যমে]। ...লবণের মতো, আর্সেনিক [[w:দ্রবণীয়তা|পানিতে দ্রবণীয়]]। ...এটি {{w|অ্যাসিড}} বা {{w|ক্ষার}} কোনোটিই নয়, তবুও [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককার]] দাবি করেছিলেন যে এটি এমনভাবে আচরণ করে যেন এটি একটি অ্যাসিড। ...অন্যান্য দিক থেকে ...আর্সেনিক অন্যান্য ...[[wikt:ভস্ম|ভস্ম]] থেকে আলাদা: এটি তীব্র গন্ধযুক্ত এবং [[w:উদ্বায়িতা (রসায়ন)|উদ্বায়ী]], এটি [[wikt:গলনযোগ্য|গলনযোগ্য]], এটি ধাতু ও {{w|উপধাতুর}} সাথে যুক্ত হয় যে পার্থক্যটি ম্যাককার এবং ক্যাভেন্ডিশ ধরে ফেলেছিলেন এটি [[w:শোরা|শোরার]] সাথে পাতিত করার সময় তাকে বিয়োজিত করে। [[w:রাসায়নিক আসক্তি|আসক্তির]] দিক থেকেও... আর্সেনিক ব্যতিক্রমী। **<small>পাদটীকা: [[w:ক্যাসপার নিউম্যান (রসায়নবিদ)|ক্যাসপার নিউম্যান]], ''কেমিক্যাল ওয়ার্কস'', [https://archive.org/details/chemicalworksofc00neum/page/140/mode/1up ১৪০-১৪১, ১৪৫।] নিউম্যান, ম্যাককার, ক্যাভেন্ডিশ এবং... সমসাময়িকরা যাকে "আর্সেনিক" বলতেন তা হলো... [[w:আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড|আর্সেনিয়াস অক্সাইড]]... ধাতব আকরিক পোড়ানোর একটি সাধারণ উপজাত। এর অন্য নাম... হলো "সাদা আর্সেনিক", যা সাদা, উজ্জ্বল উপধাতু অর্থাৎ আর্সেনিকের রেগুলাসের ভস্ম।</small> * [[w:লবণ (রসায়ন)#লবণের প্রকারভেদ|নিরপেক্ষ লবণ]], যা ছিল ক্যাভেন্ডিশের শুরুর বিন্দু... সেগুলো {{w|অ্যাসিড}} এবং অন্যান্য অম্লতাহীন পদার্থ, প্রধানত {{w|ক্ষার}} দ্বারা গঠিত ছিল। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন পরিচিত সকল নিরপেক্ষ লবণের একটি তালিকা বারোটির একটি টেবিলে করা যেত... যা ছিল চারটি পরিচিত অম্লীয় লবণ এবং তিনটি পরিচিত ক্ষারীয় লবণের সম্ভাব্য সংমিশ্রণ। ঠিক যখন ক্যাভেন্ডিশ কাজ শুরু করেন... সেই গোছানো ও সহজলভ্য টেবিলটি... দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল। লবণের এই অভিজ্ঞতামূলক ক্ষেত্রটিকে অত্যন্ত অনুন্নত হিসেবে তখন গণ্য করা হতো... * ক্যাভেন্ডিশ [[w:পিয়ের ম্যাককার|ম্যাককারের]] পদ্ধতি অনুসরণ করে [[w:শোরা|শোরার]] সাথে {{w|আর্সেনিক}} পাতন করে ম্যাককারের সেই নিরপেক্ষ লবণটি তৈরি করেন, যা থেকে প্রচুর লাল ধোঁয়া নির্গত হয়েছিল... এবং শেষে... অবশিষ্ট ছিল নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণের একটি কেক। এরপর তিনি... আর্সেনিককে [[w:নাইট্রিক অ্যাসিড|স্পিরিট অফ নাইটারে]] দ্রবীভূত করার চেষ্টা করেন এবং তারপর নিরপেক্ষ আর্সেনিক্যাল লবণ পাওয়ার জন্য তাতে [[w:পটাশিয়াম কার্বনেট|পার্ল অ্যাশ]] যোগ করেন। ...'''[তাঁর] আবিষ্কার:''' ক্ষারের সাথে যা যুক্ত হয়েছিল তা ছিল... '''একটি নতুন অ্যাসিড, "[[w:আর্সেনিক অ্যাসিড|আর্সেনিক্যাল অ্যাসিড]]" ...এই নতুন অ্যাসিডের মধ্যে "একটি অ্যাসিডের যাবতীয় গুণাবলি ছিল... কেবল সম্ভবত স্বাদের দিকটি ছাড়া, যা আমি পরীক্ষা করে দেখা উচিত বলে মনে করিনি।"''' এই গবেষণাটি ছিল {{w|আর্সেনিক}} নিয়ে ক্যাভেন্ডিশের গবেষণার এক অনন্য শিখর। ** <small>পার্ল অ্যাশ। পটাশিয়াম কার্বনেটের একটি প্রকার। স্যার এডওয়ার্ড থর্প রচিত ''এ ডিকশনারি অফ অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি'' (১৯১৩), [https://archive.org/details/b21713601_0004/page/107/mode/1up খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৭।]</small> == আরও দেখুন == * এফ.জে. মুর রচিত [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)|''এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি'']] এ [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি (মুর)#ক্যাভেন্ডিশ|ক্যাভেন্ডিশ]]। * {{w|জেমস ক্যাম্পবেল ব্রাউন}} রচিত ''[[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস|এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমসে]]'' [[এ হিস্ট্রি অফ কেমিস্ট্রি ফ্রম দ্য আর্লিয়েস্ট টাইমস#হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]। * জর্জ উইলসন রচিত ''[[w:দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ|দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]]'' (১৮৫১)। == বহিঃসংযোগ == {{wikipedia}} {{কমন্স বিষয়শ্রেণী}} * আর্কাইভ.অর্গ ** [[w:জর্জ_উইলসন_(রসায়নবিদ)|জর্জ উইলসন]] রচিত ''[https://archive.org/details/lifeofhonhenryca00wils/page/n9/mode/2up দ্য লাইফ অফ দ্য অনারেবল হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]'' (১৮৫১) ** হেনরি ক্যাভেন্ডিশ, ''এফ.আর.এস'' রচিত ''দ্য সায়েন্টিফিক পেপারস অফ দ্য অনারেবল'' (১৯২১) [https://archive.org/details/scientificpapers01caveuoft/page/n11/mode/2up খণ্ড ১ দ্য ইলেকট্রিক্যাল রিসার্চেস] {{DEFAULTSORT:ক্যাভেন্ডিশ, হেনরি}} [[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের পদার্থবিজ্ঞানী]] [[বিষয়শ্রেণী:১৮১০-এ মৃত্যু]] [[বিষয়শ্রেণী:অজ্ঞেয়বাদী]] [[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]] [[বিষয়শ্রেণী:রয়্যাল সোসাইটির ফেলো]] t7tvhypza4vbiyjaacprbg3hs0c6f0x সমরেশ বসু 0 12503 76826 2026-04-15T05:25:07Z Rasel Mehedi 5177 "{{subst:ছাঁটা|1= <!-- নিচে ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে একটি বিবরণ বা ভূমিকা লিখুন। প্রয়োজনে উইকিপিডিয়ার সহায়তা নিন।--> == উক্তি == <!-- নিচের লাইনে তারকা চিহ্নের পরে একটি উক্তি যুক্ত ক..." দিয়ে পাতা তৈরি 76826 wikitext text/x-wiki == উক্তি == * “আপনাকে খুঁজে ফেরা, আসলে তো হা-অমৃত, হা-অমৃত!... কালকূট ছাড়া আমার আর কী নাম হতে পারে?” ** 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস থেকে। * “সাহিত্যের যা কিছু দায়, সে তো জীবনেরই কাছে। সাহিত্যের থেকে জীবন বড়...” ** সমরেশ বসু রচনাবলী (ভূমিকা বা প্রবন্ধ অংশ থেকে) == সমরেশ বসু সম্পর্কে উক্তি == * "হোমসিয়ানা সুহৃত সঙ্গে স্বাগতঃ স্বয়মাগতঃ সভামুদ্দীপয়াং চক্রে সমরেশোঃ বসুঃ কবি।।" ** ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও ঐতিহাসিক ড. সুকুমার সেন এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত "হোমসিয়ানা" ক্লাবের নিয়মিত সদস্য ছিলেন সমরেশ বসু। তার মৃত্যুর পর হোমসিয়ানার এক অধিবেশনে (৭ ই জুলাই ১৯৮৯) তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ড.সুকুমার সেন রচিত একটি সংস্কৃত কবিতা পাঠ করা হয়। == আরও দেখুন == == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া|সমরেশ বসু}} aisf8msud8gknj4zmvac4ku8slw844z 76874 76826 2026-04-15T07:57:26Z Rasel Mehedi 5177 76874 wikitext text/x-wiki সমরেশ বসু (১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ – ১২ মার্চ ১৯৮৮) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক। তার জন্মনাম সুরথনাথ বসু;[১] কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক। তিনি কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। তার রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে উঠেছে। তিনি ১৯৮০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। == উক্তি == * “আপনাকে খুঁজে ফেরা, আসলে তো হা-অমৃত, হা-অমৃত!... কালকূট ছাড়া আমার আর কী নাম হতে পারে?” ** 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস থেকে। * “সাহিত্যের যা কিছু দায়, সে তো জীবনেরই কাছে। সাহিত্যের থেকে জীবন বড়...” ** সমরেশ বসু রচনাবলী (ভূমিকা বা প্রবন্ধ অংশ থেকে) == সমরেশ বসু সম্পর্কে উক্তি == * "হোমসিয়ানা সুহৃত সঙ্গে স্বাগতঃ স্বয়মাগতঃ সভামুদ্দীপয়াং চক্রে সমরেশোঃ বসুঃ কবি।।" ** ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও ঐতিহাসিক ড. সুকুমার সেন এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত "হোমসিয়ানা" ক্লাবের নিয়মিত সদস্য ছিলেন সমরেশ বসু। তার মৃত্যুর পর হোমসিয়ানার এক অধিবেশনে (৭ ই জুলাই ১৯৮৯) তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ড.সুকুমার সেন রচিত একটি সংস্কৃত কবিতা পাঠ করা হয়। == আরও দেখুন == == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া|সমরেশ বসু}} 9218086sn3eqoomtc4kztl261ae8k1l 76876 76874 2026-04-15T08:01:31Z Rasel Mehedi 5177 76876 wikitext text/x-wiki '''সমরেশ বসু''' (১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ – ১২ মার্চ ১৯৮৮) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক। তার জন্মনাম '''সুরথনাথ বসু'''; কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক। তিনি '''কালকূট ও ভ্রমর''' ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। তার রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে উঠেছে। তিনি ১৯৮০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। == উক্তি == * “আপনাকে খুঁজে ফেরা, আসলে তো হা-অমৃত, হা-অমৃত!... কালকূট ছাড়া আমার আর কী নাম হতে পারে?” ** 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস থেকে। * “সাহিত্যের যা কিছু দায়, সে তো জীবনেরই কাছে। সাহিত্যের থেকে জীবন বড়...” ** সমরেশ বসু রচনাবলী (ভূমিকা বা প্রবন্ধ অংশ থেকে) == সমরেশ বসু সম্পর্কে উক্তি == * "হোমসিয়ানা সুহৃত সঙ্গে স্বাগতঃ স্বয়মাগতঃ সভামুদ্দীপয়াং চক্রে সমরেশোঃ বসুঃ কবি।।" ** ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও ঐতিহাসিক ড. সুকুমার সেন এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত "হোমসিয়ানা" ক্লাবের নিয়মিত সদস্য ছিলেন সমরেশ বসু। তার মৃত্যুর পর হোমসিয়ানার এক অধিবেশনে (৭ ই জুলাই ১৯৮৯) তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ড.সুকুমার সেন রচিত একটি সংস্কৃত কবিতা পাঠ করা হয়। == আরও দেখুন == == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া|সমরেশ বসু}} qhbtg8nocdr8lwphg9d4jnq4dii6ct5 আলাপ:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 1 12504 76834 2026-04-15T05:41:27Z Nil Nandy 2294 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76834 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm আলাপ:হাবিব ওয়াহিদ 1 12505 76839 2026-04-15T06:00:12Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76839 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm ব্যবহারকারী আলাপ:Rasel Mehedi 3 12506 76845 2026-04-15T06:13:03Z অভ্যর্থনা কমিটি বট 1112 উইকিউক্তিতে স্বাগত! 76845 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় Rasel Mehedi,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ০৬:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) kpl7j7ox8fohd9qqnuniswg495mv4ac ২০২৬ ইরান যুদ্ধ 0 12507 76855 2026-04-15T06:46:41Z Oindrojalik Watch 4169 "[[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং বেশ সফলভাবেই শেষ হয়েছে"। (৯ মার্চ)]] ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, :w:ইসরায়েল|..." দিয়ে পাতা তৈরি 76855 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং বেশ সফলভাবেই শেষ হয়েছে"। (৯ মার্চ)]] ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] এবং [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] [[:w:ইরান|ইরানের]] অসংখ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি '''[[:w:২০২৬ ইরান যুদ্ধ|সমন্বিত যৌথ হামলা]]''' চালায়, যা একটি ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কর্তৃক এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল '''অপারেশন রোরিং লায়ন''' এবং '''অপারেশন এপিক ফিউরি'''। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া, যার নেপথ্যে ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মূলত সেদেশের [[:w:শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন|শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন]] ঘটানো। এই আক্রমণের সময় ইরানের দ্বিতীয় [[:w:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা|সর্বোচ্চ নেতা]] [[:w:আলী খামেনেয়ী|আলী খামেনেয়ীর]] [[:w:আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড|হত্যাকাণ্ডের]] মতো স্পর্শকাতর ঘটনাও ঘটে। এই আক্রমণগুলো ইরানের [[:w:তেহরান|তেহরান]], [[:w:ইস্পাহান|ইস্পাহান]], [[:w:কোম|কোম]], [[:w:কারাজ|কারাজ]] এবং [[:w:কেরমানশাহ|কেরমানশাহ]] শহরগুলোতে শুরু হয়। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব [[:w:আলী শামখানি|আলী শামখানি]] সহ ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই হামলায় প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা জানান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী [[:w:ইসরায়েল কাটজ|ইসরায়েল কাটজ]] নিশ্চিত করেন যে, [[:w:ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী|ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)]] এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] '[[:w:'ট্রুথ সোশ্যাল|ট্রুথ সোশ্যাল]]'-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়েছে। এর জবাবে [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানি বাহিনী]] [[:w:পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগর]] জুড়ে ডজন খানেক ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে; যা ইসরায়েল সহ [[:w:জর্ডান|জর্ডান]], [[:W:কুয়েত|কুয়েত]], [[:W:বাহরাইন|বাহরাইন]], [[:w:কাতার|কাতার]], [[:w:ইরাক|ইরাক]], [[:w:সৌদি আরব|সৌদি আরব]] এবং [[:w:সংযুক্ত আরব আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাতে]] অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। [[চিত্র:Khamenei last end year 5458884.jpg|thumb|নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার উচিত বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইরানে এক নতুন যুগের ঘোষণা করা। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ইরানিদের হত্যা বা ২০২৬-এর ইরান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না।]] bo7htl0spp71r0u1aa41ltb9oc4ia0c 76857 76855 2026-04-15T06:49:07Z Oindrojalik Watch 4169 76857 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং বেশ সফলভাবেই শেষ হয়েছে"। (৯ মার্চ)]] ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] এবং [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] [[:w:ইরান|ইরানের]] অসংখ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি '''[[:w:২০২৬ ইরান যুদ্ধ|সমন্বিত যৌথ হামলা]]''' চালায়, যা একটি ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কর্তৃক এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল '''অপারেশন রোরিং লায়ন''' এবং '''অপারেশন এপিক ফিউরি'''। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া, যার নেপথ্যে ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মূলত সেদেশের [[:w:শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন|শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন]] ঘটানো। এই আক্রমণের সময় ইরানের দ্বিতীয় [[:w:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা|সর্বোচ্চ নেতা]] [[:w:আলী খামেনেয়ী|আলী খামেনেয়ীর]] [[:w:আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড|হত্যাকাণ্ডের]] মতো স্পর্শকাতর ঘটনাও ঘটে। এই আক্রমণগুলো ইরানের [[:w:তেহরান|তেহরান]], [[:w:ইস্পাহান|ইস্পাহান]], [[:w:কোম|কোম]], [[:w:কারাজ|কারাজ]] এবং [[:w:কেরমানশাহ|কেরমানশাহ]] শহরগুলোতে শুরু হয়। [[:w:সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ|সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের]] সচিব [[:w:আলী শামখানি|আলী শামখানি]] সহ ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই হামলায় প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা জানান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী [[:w:ইসরায়েল কাটজ|ইসরায়েল কাটজ]] নিশ্চিত করেন যে, [[:w:ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী|ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)]] এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] '[[:w:'ট্রুথ সোশ্যাল|ট্রুথ সোশ্যাল]]'-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়েছে। এর জবাবে [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানি বাহিনী]] [[:w:পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগর]] জুড়ে ডজন খানেক ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে; যা ইসরায়েল সহ [[:w:জর্ডান|জর্ডান]], [[:W:কুয়েত|কুয়েত]], [[:W:বাহরাইন|বাহরাইন]], [[:w:কাতার|কাতার]], [[:w:ইরাক|ইরাক]], [[:w:সৌদি আরব|সৌদি আরব]] এবং [[:w:সংযুক্ত আরব আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাতে]] অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। [[চিত্র:Khamenei last end year 5458884.jpg|thumb|নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার উচিত বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইরানে এক নতুন যুগের ঘোষণা করা। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ইরানিদের হত্যা বা ২০২৬-এর ইরান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না।]] nufgy7745rzpnwu3uf6pfdmqyeb6m50 76863 76857 2026-04-15T06:55:08Z Oindrojalik Watch 4169 76863 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং বেশ সফলভাবেই শেষ হয়েছে"। (৯ মার্চ)]] ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] এবং [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] [[:w:ইরান|ইরানের]] অসংখ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি '''[[:w:২০২৬ ইরান যুদ্ধ|সমন্বিত যৌথ হামলা]]''' চালায়, যা একটি ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কর্তৃক এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল '''অপারেশন রোরিং লায়ন''' এবং '''অপারেশন এপিক ফিউরি'''। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া, যার নেপথ্যে ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মূলত সেদেশের [[:w:শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন|শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন]] ঘটানো। এই আক্রমণের সময় ইরানের দ্বিতীয় [[:w:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা|সর্বোচ্চ নেতা]] [[:w:আলী খামেনেয়ী|আলী খামেনেয়ীর]] [[:w:আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড|হত্যাকাণ্ডের]] মতো স্পর্শকাতর ঘটনাও ঘটে। এই আক্রমণগুলো ইরানের [[:w:তেহরান|তেহরান]], [[:w:ইস্পাহান|ইস্পাহান]], [[:w:কোম|কোম]], [[:w:কারাজ|কারাজ]] এবং [[:w:কেরমানশাহ|কেরমানশাহ]] শহরগুলোতে শুরু হয়। [[:w:সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ|সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের]] সচিব [[:w:আলী শামখানি|আলী শামখানি]] সহ ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই হামলায় প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা জানান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী [[:w:ইসরায়েল কাটজ|ইসরায়েল কাটজ]] নিশ্চিত করেন যে, [[:w:ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী|ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)]] এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] '[[:w:'ট্রুথ সোশ্যাল|ট্রুথ সোশ্যালে]]' পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়েছে। এর জবাবে [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানি বাহিনী]] [[:w:পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগর]] জুড়ে ডজন খানেক [[:w:মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান (ড্রোন)|ড্রোন]] এবং [[:w:নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র|ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র]] নিক্ষেপ করে; যা ইসরায়েল সহ [[:w:জর্ডান|জর্ডান]], [[:W:কুয়েত|কুয়েত]], [[:W:বাহরাইন|বাহরাইন]], [[:w:কাতার|কাতার]], [[:w:ইরাক|ইরাক]], [[:w:সৌদি আরব|সৌদি আরব]] এবং [[:w:সংযুক্ত আরব আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাতে]] অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। [[চিত্র:Khamenei last end year 5458884.jpg|thumb|নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার উচিত বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইরানে এক নতুন যুগের ঘোষণা করা। [[:W:রাজনৈতিক বন্দি|রাজনৈতিক বন্দিদের]] মুক্তি দেওয়া এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ইরানিদের হত্যা বা ২০২৬-এর ইরান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না।]] 56dtlan34xi7l3i95p62p6pvnkvx335 76870 76863 2026-04-15T07:19:15Z Oindrojalik Watch 4169 76870 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং বেশ সফলভাবেই শেষ হয়েছে"। (৯ মার্চ)]] ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] এবং [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] [[:w:ইরান|ইরানের]] অসংখ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি '''[[:w:২০২৬ ইরান যুদ্ধ|সমন্বিত যৌথ হামলা]]''' চালায়, যা একটি ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কর্তৃক এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল '''অপারেশন রোরিং লায়ন''' এবং '''অপারেশন এপিক ফিউরি'''। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া, যার নেপথ্যে ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মূলত সেদেশের [[:w:শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন|শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন]] ঘটানো। এই আক্রমণের সময় ইরানের দ্বিতীয় [[:w:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা|সর্বোচ্চ নেতা]] [[:w:আলী খামেনেয়ী|আলী খামেনেয়ীর]] [[:w:আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড|হত্যাকাণ্ডের]] মতো স্পর্শকাতর ঘটনাও ঘটে। এই আক্রমণগুলো ইরানের [[:w:তেহরান|তেহরান]], [[:w:ইস্পাহান|ইস্পাহান]], [[:w:কোম|কোম]], [[:w:কারাজ|কারাজ]] এবং [[:w:কেরমানশাহ|কেরমানশাহ]] শহরগুলোতে শুরু হয়। [[:w:সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ|সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের]] সচিব [[:w:আলী শামখানি|আলী শামখানি]] সহ ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই হামলায় প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা জানান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী [[:w:ইসরায়েল কাটজ|ইসরায়েল কাটজ]] নিশ্চিত করেন যে, [[:w:ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী|ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)]] এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] '[[:w:'ট্রুথ সোশ্যাল|ট্রুথ সোশ্যালে]]' পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়েছে। এর জবাবে [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানি বাহিনী]] [[:w:পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগর]] জুড়ে ডজন খানেক [[:w:মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান (ড্রোন)|ড্রোন]] এবং [[:w:নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র|ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র]] নিক্ষেপ করে; যা ইসরায়েল সহ [[:w:জর্ডান|জর্ডান]], [[:W:কুয়েত|কুয়েত]], [[:W:বাহরাইন|বাহরাইন]], [[:w:কাতার|কাতার]], [[:w:ইরাক|ইরাক]], [[:w:সৌদি আরব|সৌদি আরব]] এবং [[:w:সংযুক্ত আরব আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাতে]] অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। [[চিত্র:Khamenei last end year 5458884.jpg|thumb|নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার উচিত বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইরানে এক নতুন যুগের ঘোষণা করা। [[:W:রাজনৈতিক বন্দি|রাজনৈতিক বন্দিদের]] মুক্তি দেওয়া এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ইরানিদের হত্যা বা ২০২৬-এর ইরান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না।]] [[চিত্র:Mojtaba Khamenei 2019.jpg|thumb|আরেকজন খামেনি আসছেন।]] [[চিত্র:Flag of the Cooperation Council for the Arab States of the Gulf.svg|thumb|ট্রাম্প হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন এবং নিজের শেষ নিঃশ্বাস দিয়ে লড়াই করছেন। আমেরিকানরা এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থায় রয়েছে। শত্রু আজ এক মরিয়া চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। [[:w:বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু|বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য উসকে দিয়েছেন, আমরা এখন এর প্রতিশোধ নেবই! ট্রাম্প, আপনি একজন [[:w:মানসিক ব্যাধি|মানসিক বিকারগ্রস্ত]] ব্যক্তি... আমরা যুদ্ধের এক বন্ধুর গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি... ইরানিদের একটি মহান সভ্যতা রয়েছে, অথচ এই অঞ্চলের দেশগুলো দালালদের মতো আচরণ শুরু করেছে... ট্রাম্প বলছেন আমাদের সেনাবাহিনীর কিছু লোক পক্ষত্যাগ করেছে। সাহস থাকলে তাদের মধ্য থেকে অন্তত দুজনের নাম আমাদেরকে বলে দেখুক।<br>— আলি লারিজানি]]]] [[চিত্র:State_flag_of_Iran_(1964–1980).svg|thumb|জার শাসিত [[:w:রাশিয়া|রাশিয়া]] [[:w:ককেশাস|ককেশাস অঞ্চলের]] ১৭টি ইরানি শহরকে ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। আমরা [[:w:মঙ্গোল সাম্রাজ্য|মঙ্গোল]] আক্রমণ এবং [[:w:তৈমুরি সাম্রাজ্য|তৈমুরিদের]] ধ্বংসস্তূপ থেকে [[:w:ফিনিক্স পাখি|ফিনিক্স পাখির]] মতো বারবার জেগে ওঠা এক জাতি।]] o1rg1ztdci0np34ee3fezip5d4ext6x আলাপ:হেনরি ক্যাভেন্ডিশ 1 12508 76862 2026-04-15T06:53:01Z Sumanta3023 4175 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76862 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm ক্যনুট হামসুন 0 12509 76864 2026-04-15T07:01:55Z Sumanta3023 4175 "Vjh" দিয়ে পাতা তৈরি 76864 wikitext text/x-wiki Vjh pitylu1z14w03hhohckyuvhq93p2fp4 76916 76864 2026-04-15T10:47:50Z JIBON 2570 দ্রুত অপসারণের জন্য ট্যাগ করা হলো ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76916 wikitext text/x-wiki {{অপ|কোন উপাদান (বা উক্তি) নেই}} Vjh fc9vttiguxddh6ow2t6ye4tbjisr4if অখিল নিয়োগী 0 12510 76867 2026-04-15T07:14:15Z Nil Nandy 2294 "{{কাজ চলছে}} ==উক্তি== ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}}" দিয়ে পাতা তৈরি 76867 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} ==উক্তি== ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} aqd328vncrhbcw4dj28o1so27l6rqoa 76927 76867 2026-04-15T11:47:14Z Nil Nandy 2294 76927 wikitext text/x-wiki {{কাজ চলছে}} {{bw|অখিল নিয়োগী}} (জন্ম: ২৫ অক্টোবর, ১৯০২ — মৃত্যু: ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩) একজন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক। তিনি স্বপনবুড়ো ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। ব্রিটিশ ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের সাঁকরাইল-টাঙ্গাইলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ==উক্তি== ==বহিঃসংযোগ== {{উইকিপিডিয়া}} oo35oxwy9fn7tdsoholekrf5vtaxmds দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস 0 12511 76869 2026-04-15T07:18:09Z ARI 356 [[:en:The History of India, as Told by Its Own Historians|]] থেকে অনুবাদ/আমদানি 76869 wikitext text/x-wiki {{DISPLAYTITLE:''The History of India, as Told by Its Own Historians''}} '''''[[w:The History of India, as Told by Its Own Historians|The History of India, as Told by Its Own Historians]]''''' is a book comprising translations of medieval Persian chronicles based on the work of Henry Miers Elliot. It was originally published as a set of eight volumes between 1867-1877 in London. The translations were in part overseen by Elliot, whose efforts were then extended and edited posthumously by John Dowson. == Quotes == ===Volume I: Introduction=== * The translations are in many different hands. Some few are in Sir H. Elliot's own handwriting, others were made by different English officers, but the majority of them seem to have been the work of ''[[w:Munshi|munshís]]''. With the exception of those made by Sir H. Elliot himself, which will be noted whenever they occur, I have compared the whole of them with the original texts and the errors which I have had to correct have been innumerable and extensive. But with all my care it is to be feared that some misreadings may have escaped detection, for it is very difficult for a reviser to divest himself entirely of the colour given to a text by the original translator. ** Note of [[w:John Dowson|John Dowson]] in ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', p. xi ** Quoted in ''Studies in Indo-Muslim History by S.H. Hodivala Volume I: A Critical Commentary on Elliot and Dowson’s History of India as Told by Its Own Historians (Vols. I-IV) & Yule and Burnell’s Hobson-Jobson'' by Sanjay Garg; published by [[w:Routledge|Routledge]], [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 p. 7] *Where power had, for a short time, enabled the Moslims to usurp the mastery, the usual bigotry and cruelty were displayed. At Debal, the temples were demolished, and mosques founded; a general massacre endured for three whole days; prisoners wore taken captive; plunder was amassed.... At Nairun, the idols were broken, and mosques founded, notwithstanding its voluntary surrender ... the temples were treated like ‘churches of the Christians, or synagogues of the Jews...’ **Elliot and Dowson, The History of India as Told by Its Own Historians, Vol. 1, 468–9 quoted in Balakrishna, S. Invaders and infidels: From Sindh to Delhi : the 500- year journey of Islamic invasions. New Delhi : BloomsBury, 2021. ====Elliot's preface==== * If the artificial definition of [[w:Dionysius of Halicarnassus|Dionysius]] be correct, that "History is Philosophy teaching by examples," then there is no Native Indian Historian; and few have even approached to so high standard. Of examples, and very bad ones, we have ample store, though even in them the radical truth is obscured by the hereditary, official, and sectarian prepossessions of the narrator; but of philosophy, which deduces conclusions calculated to benefit us by the lessons and experience of the past, which adverts on the springs and consequences of political transactions, and offers sage counsel for the future, we search in vain for any sign or symptom. Of domestic history also we have in our Indian Annalists absolutely nothing, and the same may be remarked of nearly all Muhammadan historians, except [[w:Ibn Khaldun|Ibn Khaldún]]. By them society is never contemplated, either in its conventional usages or recognized privileges; its constituent elements or mutual relations; in its established classes or popular institutions; in its private recesses or habitual intercourses. In notices of commerce, agriculture, internal police, and local judicature, they are equally deficient. A fact, an anecdote, a speech, a remark, which would illustrate the condition of the common people, or of any rank subordinate to the highest, is considered too insignificant to be suffered to intrude upon a relation which concerns only grandees and ministers, "thrones and imperial powers"... In Indian Histories there is little which enables us to penetrate below the glittering surface, and observe the practical operation of a despotic Government and rigorous and sanguinary laws, and the effect upon the great body of the nation of these injurious influences and agencies. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xix-xx ** Quoted in ''The Politics of Secularism: Medieval Indian Historiography and the Sufis'', by Venkat Dhulipala; published by [[w:University of Wisconsin-Madison|University of Wisconsin-Madison]], pp. 45-46 * If, however, we turn our eyes to the present Muhammadan kingdoms of India, and examine the character of the princes, and the condition of the people subject to their sway, we may fairly draw a parallel between ancient and modern times, under circumstances and relations nearly similar. We behold kings, even of our own creation, sunk in sloth and debauchery... Under such rulers, we cannot wonder that the fountains of justice are corrupted; that the state revenues are never collected without violence and outrage; that villages are burnt, and their inhabitants mutilated or sold into slavery; that the officials, so far from affording protection, are themselves the chief robbers and usurpers; that parasites and eunuchs revel in the spoil of plundered provinces; and that the poor find no redress against the oppressor's wrong and proud man's contumely. When we witness these scenes under our own eyes, where the supremacy of the British Government, the benefit of its example, and the dread of its interference, might be expected to operate as a check upon the progress of misrule, can we be surprised that former princes, when free from such restraints, should have studied even less to preserve the people committed to their charge, in wealth, peace, and prosperity? ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', p. xx ** Quoted in ''The Dynamics of Cultural Counterpoint in Asian Studies'', edited by David Jones and Michele Marion; published by [[w:State University of New York|State University of New York Press]], [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 p. 93] * The few glimpses we have, even among the short Extracts in this single volume, of Hindús slain for disputing with Muhammadans, of general prohibitions against processions, worship, and ablutions, and of other intolerant measures, of idols mutilated, of temples razed, of forcible conversions and marriages, of proscriptions and confiscations, of murders and massacres, and of the sensuality and drunkenness of the tyrants who enjoined them, show us that this picture is not overcharged, and it is much to be regretted that we are left to draw it for ourselves from out the mass of ordinary occurrences, recorded by writers who seem to sympathize with no virtues, and to abhor no vices. Other nations exhibit the same atrocities, but they are at least spoken of, by some, with indignation and disgust. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', p. xxi *These deficiencies are more to be lamented, where, as sometimes happens, a Hindú is the author. From one of that nation we might have expected to have learnt what were the feelings, hopes, faiths, fears, and yearnings, of his subject race ; but, unfortunately, he rarely writes unless according to order or dictation, and every phrase is studiously and servilely turned to flatter the vanity of an imperious Muhammadan patron. There is nothing to betray his religion or his nation, except, perhaps, a certain stifihess and affectation of style, which show how ill the foreign garb befits him. With him, a Hindú is "an infidel," and a Muhammadan "one of the true faith," and of the holy saints of the calendar, he writes with the fervour of a bigot. With him, when Hindús are killed, "their souls are despatched to hell," and when a Muhammadan suffers the same fate, "he drinks the cup of martyrdom." He is so far wedded to the set phrases and inflated language of his conquerors, that he speaks of "the light of Islám shedding its refulgence on the world," of "the blessed Muharram," and of "the illustrious Book." He usually opens with a "Bismillah," and the ordinary profession of faith in the unity of the Godhead, followed by laudations of the holy prophet, his disciples and descendants, and indulges in all the most devout and orthodox attestations of Muhammadans. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xxi-xxii * They will make our native subjects more sensible of the immense advantages accruing to them under the mildness and and equity of our rule... We should no longer hear bombastic [[w:Babu (title)|Bábús]], enjoying under our Government the highest degree of personal liberty, and many more political privileges than were ever conceded to a conquered nation, rant about patriotism, and the degradation of their present position. If they would dive into any of the volumes mentioned herein, it would take these young Brutuses and [[w:Phocion|Phocions]] a very short time to learn, that in the days of the dark period for whose return they sigh, even the bare utterance of their ridiculous fantasies would have been attended, not with silence and contempt, but with the severer discipline of molten lead or empalement. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xxii-xxiii ** Quoted in 'Empire and Nation: Selected Essays'' by [[w:Partha Chatterjee (scholar)|Partha Chatterjee]]; published by [[w:Columbia University Press|Columbia University Press]], [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 p. 82] * These considerations, and many more which will offer themselves to any diligent and careful peruser of the volumes here noticed, will serve to dissipate the gorgeous illusions which are commonly entertained regarding the dynasties which have passed, and show him that, notwithstanding a civil policy and an ungenial climate, which forbid our making this country a permanent home, and deriving personal gratification or profit from its advancement, notwithstanding the many defects necessarily inherent in a system of foreign administration, in which language, colour, religion, customs, and laws preclude all natural sympathy between sovereign and subject, we have already, within the half-century of our dominion, done more for the substantial benefit of the people, than our predecessors, in the country of their own adoption, were able to accomplish in more than ten times that period; and, drawing auguries from the past, he will derive hope for the future, that, inspired by the success which has hitherto attended our endeavours, we shall follow them up by continuous efforts to fulfil our high destiny as the rulers of India. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xxvi-xxvii ** Quoted in ''Early Indian Imprints'' by Katharine Smith Diehl; published by [[w:Scarecrow Press|Scarecrow Press]], p. 365 ===Volume VII: From Shah-Jahan to the Early Years of the Reign of Muhammad Shah=== *Hindu writers have been entirely excluded from holding public offices, and all the worshipping places of the infidels and great temples of these infamous people have been thrown down and destroyed in a manner which excites astonishment at the successful completion of so difficult a task. His Majesty personally teaches the sacred kalima to many infidels with success. All the mosques in the empire are repaired at public expense. Imama, criers to the daily prayers, and readers of the khutba, have been appointed to each of them, so that a large sum of money has been and is still laid out in these disbursements. ** Mir-at-i 'alam, Mir-at-i Jahan-numa, of Bakhtawar Khan, in Elliot and Dowson, Vol. VII, p. 159. ===Volume VIII: To End of the Muhammadan Empire in India=== *In the city of Agra there was a large temple, in which there were numerous idols, adorned and embellished with precious jewels and valuable pearls. It was the custom of the [[infidels]] to resort to this [[মন্দির]] from far and near several times in each year to worship the idols, and a certain fee to the Government was fixed upon each man, for which he obtained admittance. As there was a large congress of pilgrims, a very considerable amount was realized from them, and paid into the royal treasury. This practice had been observed to the end of the reign of the Emperor Shah Jahan, and in the commencement of Aurangzeb's government; but when the latter was informed of it, he was exceedingly angry and abolished the custom. The greatest nobles of his court represented to him that a large sum was realized and paid into the public treasury, and that if it was abolished, a great reduction in the income of the state would take place. The Emperor observed, 'What you say is right, but I have considered well on the subject, and have reflected on it deeply; but if you wish to augment the revenue, there is a better plan for attaining the object by exacting the jizya. By this means idolatry will be suppressed, the Muhammadan religion and the true faith will be honoured, our proper duty will be performed, the finances of the state will be increased, and the [[infidels]] will be disgraced.' 'This was highly approved by all the nobles; and the Emperor ordered all the [[সোনা]]en and [[রুপা]] [[idols]] to be broken, and the [[মন্দির]] destroyed. **Kanzul-Mahfuz (Kanzu-l Mahfuz), in: Elliot and Dowson, Vol. VIII, pp. 38 -39. ==Quotes about the book== * Much of the contemporary evidence on temple desecration cited by Hindu nationalists is found in Persian materials translated and published during the British occupation of India. Especially influential has been the eight-volume ''History of India as Told by its Own Historians'', first published in 1849 and edited by Sir Henry M. Elliot, who oversaw the bulk of the translations, with the help of John Dowson. But Elliot, keen to contrast what he understood as the justice and efficiency of British rule with the cruelty and despotism of the Muslim rulers who had preceded that rule, was anything but sympathetic to the “Muhammadan” period of Indian history. ** {{cite journal |author=[[Richard M. Eaton]] |date=December 22, 2000 |title=Temple desecration in pre-modern India |journal=Frontline |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * The superficiality and jejuneness of Elliot's remarks compels us to conclude that he could not, or would not, study with care the Persian historians he held in contempt. ** [[Mohammad Habib]], ''Politics and society during the early medieval period: Collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 7. * The Hindu feels it his duty to dislike those whom he has been taught to consider the enemy of his religion and his ancestors; the Mussalman, lured into the false belief that he was once a member of a ruling race, feels insufferably wronged by being relegated to the status of a minority community. Fools both! Even if the Muslims eight centuries ago were as bad as they were painted, would there be any sense in holding the present generation responsible for their deeds. It is but an imaginative tie that joins the modern Hindu with [[w:Harsha|Harshavardhana]] or [[অশোক|Asoka]], or the modern Mussalman with [[Muhammad of Ghor|Shihabuddin]] or [[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]. ** [[Mohammad Habib]] commenting on the consequences of the work by Elliot and Dowson in ''Politics and society during the early medieval period: collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 12 ** Quoted in ''Identity and Religion: Foundations of Anti-Islamism in India'' by Amalendu Misra; published by [[w:SAGE Publications|SAGE Publications]], [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 p. 210] * To realize Medieval India there is no better way than to dive into the eight volumes of the priceless ''History of India as Told by its Own Historians'' which Sir H. M. Elliot conceived and beganot, and which Professor Dowson edited and completed with infinite labour and learning. It is a revelation of Indian life as seen through the eyes of the Persian court annalists. It is, however, a mine to be worked, not a consecutive history, and its wide leaps in chronology, its repetitions, recurrences, and omissions, render it no easy guide for general readers. ** ''Medieval India under Muhammadan Rule'' by [[Stanley Lane-Poole]] (1903), p.v-vi. ** Quoted in ''History of India: The Mohammedan period as described by its own historians'' by [[w:A. V. Williams Jackson|A. V. Williams Jackson]] and [[w:Vincent Arthur Smith|Vincent Arthur Smith]], pp. v-vi ** Quoted in ''Studies in medieval Indian history'' by [[K. S. Lal]], p. 84; also in ''The Legacy of Muslim rule in India'' p. 54 * Elliot and Dowson's great work, in spite of a chorus of disparagement by some modern Indian historians, still holds the field even now for more than a hundred years, against any translations in Urdu or Hindi. Scholars are still learning from and working on Elliot's meritorious volumes... ** Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. p. 54 *The study of medieval Indian history in modem times may be said to have begun about a century ago when, in the eighteen-sixties, and under the patronage of the Asiatic Society of Bengal, the Indo-Persian chronicles of the medieval period began to be printed in the Bibliotheca Indica Series, and in 1867-77 appeared Elliot and Dowson’s History of India as Told by its Own Historians. Elliot’s work contained in eight fairly bulky volumes translations of extracts from most of the then known Persian chronicles, and soon became indispensable for the researcher on medieval history. The original Persian works were so eulogistic of the cruelties of Muslim conquerors and rulers that the great painstaking scholar Elliot and his followers were perforce constrained to be critical of medieval Indian rulers, and this school held the ground for quite some time. **Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. * Elliot and Dowson state that religious bigotry was characteristic of the Indian past. They do confess that in presenting the translations from Persian and Arabic sources, their intention is to highlight the oppressive rule of Muslim kings. They state that the intolerance of the Mohammedans led to idols being mutilated, temples destroyed, forced conversions, confiscations, murders and massacres, not to mention the sensuality and drunkenness of tyrants. Such descriptions were intended to convince the Hindu subjects that British rule was far superior and to their advantage. This was not an isolated attitude and is reflected in many British writings on Indian history. Religious bigotry was frequently read into the texts translated in the nineteenth century, which coloured the reading of the Turko-Persian texts. For example, where Utbi says, ‘He ([[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]) made it obligatory on himself to undertake every year an expedition to Hind,’ the translation of this passage in Elliot and Dowson’s work reads, ‘the Sultan vowed to undertake a holy war to Hind every year’. ** [[Romila Thapar]], ''Somanatha: The Many Voices of a History'', Penguin Group, 2008, pp. 207-8. ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] iygzj75pgd9qvb1cinby3xdmkos9pk5 76871 76869 2026-04-15T07:27:44Z ARI 356 76871 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো 'কাফের' বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো 'সত্যবিশ্বাসী'। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের 'আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়' এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি 'শাহাদাতের সুধা পান করেন'। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি 'ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া', 'বরকতময় মহরম' কিংবা 'পবিত্র গ্রন্থ'-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * They will make our native subjects more sensible of the immense advantages accruing to them under the mildness and and equity of our rule... We should no longer hear bombastic [[w:Babu (title)|Bábús]], enjoying under our Government the highest degree of personal liberty, and many more political privileges than were ever conceded to a conquered nation, rant about patriotism, and the degradation of their present position. If they would dive into any of the volumes mentioned herein, it would take these young Brutuses and [[w:Phocion|Phocions]] a very short time to learn, that in the days of the dark period for whose return they sigh, even the bare utterance of their ridiculous fantasies would have been attended, not with silence and contempt, but with the severer discipline of molten lead or empalement. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xxii-xxiii ** Quoted in 'Empire and Nation: Selected Essays'' by [[w:Partha Chatterjee (scholar)|Partha Chatterjee]]; published by [[w:Columbia University Press|Columbia University Press]], [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 p. 82] * These considerations, and many more which will offer themselves to any diligent and careful peruser of the volumes here noticed, will serve to dissipate the gorgeous illusions which are commonly entertained regarding the dynasties which have passed, and show him that, notwithstanding a civil policy and an ungenial climate, which forbid our making this country a permanent home, and deriving personal gratification or profit from its advancement, notwithstanding the many defects necessarily inherent in a system of foreign administration, in which language, colour, religion, customs, and laws preclude all natural sympathy between sovereign and subject, we have already, within the half-century of our dominion, done more for the substantial benefit of the people, than our predecessors, in the country of their own adoption, were able to accomplish in more than ten times that period; and, drawing auguries from the past, he will derive hope for the future, that, inspired by the success which has hitherto attended our endeavours, we shall follow them up by continuous efforts to fulfil our high destiny as the rulers of India. ** ''The History of India, as Told by Its Own Historians - Volume I'', pp. xxvi-xxvii ** Quoted in ''Early Indian Imprints'' by Katharine Smith Diehl; published by [[w:Scarecrow Press|Scarecrow Press]], p. 365 ===Volume VII: From Shah-Jahan to the Early Years of the Reign of Muhammad Shah=== *Hindu writers have been entirely excluded from holding public offices, and all the worshipping places of the infidels and great temples of these infamous people have been thrown down and destroyed in a manner which excites astonishment at the successful completion of so difficult a task. His Majesty personally teaches the sacred kalima to many infidels with success. All the mosques in the empire are repaired at public expense. Imama, criers to the daily prayers, and readers of the khutba, have been appointed to each of them, so that a large sum of money has been and is still laid out in these disbursements. ** Mir-at-i 'alam, Mir-at-i Jahan-numa, of Bakhtawar Khan, in Elliot and Dowson, Vol. VII, p. 159. ===Volume VIII: To End of the Muhammadan Empire in India=== *In the city of Agra there was a large temple, in which there were numerous idols, adorned and embellished with precious jewels and valuable pearls. It was the custom of the [[infidels]] to resort to this [[মন্দির]] from far and near several times in each year to worship the idols, and a certain fee to the Government was fixed upon each man, for which he obtained admittance. As there was a large congress of pilgrims, a very considerable amount was realized from them, and paid into the royal treasury. This practice had been observed to the end of the reign of the Emperor Shah Jahan, and in the commencement of Aurangzeb's government; but when the latter was informed of it, he was exceedingly angry and abolished the custom. The greatest nobles of his court represented to him that a large sum was realized and paid into the public treasury, and that if it was abolished, a great reduction in the income of the state would take place. The Emperor observed, 'What you say is right, but I have considered well on the subject, and have reflected on it deeply; but if you wish to augment the revenue, there is a better plan for attaining the object by exacting the jizya. By this means idolatry will be suppressed, the Muhammadan religion and the true faith will be honoured, our proper duty will be performed, the finances of the state will be increased, and the [[infidels]] will be disgraced.' 'This was highly approved by all the nobles; and the Emperor ordered all the [[সোনা]]en and [[রুপা]] [[idols]] to be broken, and the [[মন্দির]] destroyed. **Kanzul-Mahfuz (Kanzu-l Mahfuz), in: Elliot and Dowson, Vol. VIII, pp. 38 -39. ==Quotes about the book== * Much of the contemporary evidence on temple desecration cited by Hindu nationalists is found in Persian materials translated and published during the British occupation of India. Especially influential has been the eight-volume ''History of India as Told by its Own Historians'', first published in 1849 and edited by Sir Henry M. Elliot, who oversaw the bulk of the translations, with the help of John Dowson. But Elliot, keen to contrast what he understood as the justice and efficiency of British rule with the cruelty and despotism of the Muslim rulers who had preceded that rule, was anything but sympathetic to the “Muhammadan” period of Indian history. ** {{cite journal |author=[[Richard M. Eaton]] |date=December 22, 2000 |title=Temple desecration in pre-modern India |journal=Frontline |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * The superficiality and jejuneness of Elliot's remarks compels us to conclude that he could not, or would not, study with care the Persian historians he held in contempt. ** [[Mohammad Habib]], ''Politics and society during the early medieval period: Collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 7. * The Hindu feels it his duty to dislike those whom he has been taught to consider the enemy of his religion and his ancestors; the Mussalman, lured into the false belief that he was once a member of a ruling race, feels insufferably wronged by being relegated to the status of a minority community. Fools both! Even if the Muslims eight centuries ago were as bad as they were painted, would there be any sense in holding the present generation responsible for their deeds. It is but an imaginative tie that joins the modern Hindu with [[w:Harsha|Harshavardhana]] or [[অশোক|Asoka]], or the modern Mussalman with [[Muhammad of Ghor|Shihabuddin]] or [[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]. ** [[Mohammad Habib]] commenting on the consequences of the work by Elliot and Dowson in ''Politics and society during the early medieval period: collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 12 ** Quoted in ''Identity and Religion: Foundations of Anti-Islamism in India'' by Amalendu Misra; published by [[w:SAGE Publications|SAGE Publications]], [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 p. 210] * To realize Medieval India there is no better way than to dive into the eight volumes of the priceless ''History of India as Told by its Own Historians'' which Sir H. M. Elliot conceived and beganot, and which Professor Dowson edited and completed with infinite labour and learning. It is a revelation of Indian life as seen through the eyes of the Persian court annalists. It is, however, a mine to be worked, not a consecutive history, and its wide leaps in chronology, its repetitions, recurrences, and omissions, render it no easy guide for general readers. ** ''Medieval India under Muhammadan Rule'' by [[Stanley Lane-Poole]] (1903), p.v-vi. ** Quoted in ''History of India: The Mohammedan period as described by its own historians'' by [[w:A. V. Williams Jackson|A. V. Williams Jackson]] and [[w:Vincent Arthur Smith|Vincent Arthur Smith]], pp. v-vi ** Quoted in ''Studies in medieval Indian history'' by [[K. S. Lal]], p. 84; also in ''The Legacy of Muslim rule in India'' p. 54 * Elliot and Dowson's great work, in spite of a chorus of disparagement by some modern Indian historians, still holds the field even now for more than a hundred years, against any translations in Urdu or Hindi. Scholars are still learning from and working on Elliot's meritorious volumes... ** Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. p. 54 *The study of medieval Indian history in modem times may be said to have begun about a century ago when, in the eighteen-sixties, and under the patronage of the Asiatic Society of Bengal, the Indo-Persian chronicles of the medieval period began to be printed in the Bibliotheca Indica Series, and in 1867-77 appeared Elliot and Dowson’s History of India as Told by its Own Historians. Elliot’s work contained in eight fairly bulky volumes translations of extracts from most of the then known Persian chronicles, and soon became indispensable for the researcher on medieval history. The original Persian works were so eulogistic of the cruelties of Muslim conquerors and rulers that the great painstaking scholar Elliot and his followers were perforce constrained to be critical of medieval Indian rulers, and this school held the ground for quite some time. **Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. * Elliot and Dowson state that religious bigotry was characteristic of the Indian past. They do confess that in presenting the translations from Persian and Arabic sources, their intention is to highlight the oppressive rule of Muslim kings. They state that the intolerance of the Mohammedans led to idols being mutilated, temples destroyed, forced conversions, confiscations, murders and massacres, not to mention the sensuality and drunkenness of tyrants. Such descriptions were intended to convince the Hindu subjects that British rule was far superior and to their advantage. This was not an isolated attitude and is reflected in many British writings on Indian history. Religious bigotry was frequently read into the texts translated in the nineteenth century, which coloured the reading of the Turko-Persian texts. For example, where Utbi says, ‘He ([[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]) made it obligatory on himself to undertake every year an expedition to Hind,’ the translation of this passage in Elliot and Dowson’s work reads, ‘the Sultan vowed to undertake a holy war to Hind every year’. ** [[Romila Thapar]], ''Somanatha: The Many Voices of a History'', Penguin Group, 2008, pp. 207-8. ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] ngv7tfh8fnoi2fl2dwc134awszh17qy 76873 76871 2026-04-15T07:33:00Z ARI 356 /* এলিয়টের প্রস্তাবনা */ ; অনুবাদ 76873 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো "কাফের" বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো "সত্যবিশ্বাসী"। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের "আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়" এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি "শাহাদাতের সুধা পান করেন"। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি "ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া", "বরকতময় মহরম" কিংবা "পবিত্র গ্রন্থ"-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত "বিসমিল্লাহ" দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * তারা আমাদের এদেশীয় প্রজাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে যে, আমাদের শাসনের উদারতা আর ন্যায়বিচারের ফলে তারা আসলে কতটা অসীম সুবিধা ভোগ করছে... আমাদের সরকারের অধীনে তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং যেকোনো বিজিত জাতির চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তা সত্ত্বেও যে বাগাড়ম্বরকারী বাবুরা দেশপ্রেম আর তাদের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিৎকার করে, তাদের কথা আমাদের আর শুনতে হবে না। তারা যদি এই বইগুলোর যেকোনো একটির গভীরে প্রবেশ করে, তবে এই তরুণ ব্রুটাস আর ফোকিওনদের এটা শিখতে খুব কম সময় লাগবে যে অন্ধকারের সেই দিনগুলোতে (যে দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে), তাদের এই হাস্যকর কল্পনাগুলো মুখে আনলে কেবল নীরবতা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য জুটত না, বরং তার বদলে ফুটন্ত সিসা ঢালা অথবা শূলে চড়ানোর মতো কঠোর শাস্তি পেতে হতো। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২২-২৩। ** পার্থ চট্টোপাধ্যায় রচিত ''এম্পায়ার অ্যান্ড নেশন: সিলেক্টেড এসেস'' বইতে উদ্ধৃত; কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 পৃষ্ঠা ৮২]। * এই ভাবনাগুলো এবং আরও অনেক বিষয় যা এই বইগুলো মন দিয়ে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, তা অতীত রাজবংশগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা জমকালো বিভ্রান্তিগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। আমাদের শাসননীতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের এই দেশকে স্থায়ী আবাসে পরিণত করতে কিংবা এর উন্নতি থেকে ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা মুনাফা অর্জনে বাধা দেয়। এছাড়া একটি বিদেশি শাসনব্যবস্থার অনেক ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যেখানে ভাষা, গায়ের রং, ধর্ম, আচার-আচরণ আর আইন শাসক এবং প্রজার মধ্যে সব ধরনের সহজাত সহমর্মিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, আমাদের শাসনের এই মাত্র আধ-শতাব্দীর মধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের জন্য যা করেছি, তা আমাদের পূর্বসূরিরা এই দেশকে নিজেদের দেশ হিসেবে গ্রহণ করার পরেও তার দশ গুণ বেশি সময়েও করে উঠতে পারেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠক ভবিষ্যতের জন্য এই আশা খুঁজে পাবেন যে, এ পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য এসেছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ভারতের শাসক হিসেবে আমাদের মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২৬-২৭। ** ক্যাথরিন স্মিথ ডিহল রচিত ''আর্লি ইন্ডিয়ান ইমপ্রিন্টস'' বইতে উদ্ধৃত; স্কেয়ারক্রো প্রেস থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৬৫। ===Volume VII: From Shah-Jahan to the Early Years of the Reign of Muhammad Shah=== *Hindu writers have been entirely excluded from holding public offices, and all the worshipping places of the infidels and great temples of these infamous people have been thrown down and destroyed in a manner which excites astonishment at the successful completion of so difficult a task. His Majesty personally teaches the sacred kalima to many infidels with success. All the mosques in the empire are repaired at public expense. Imama, criers to the daily prayers, and readers of the khutba, have been appointed to each of them, so that a large sum of money has been and is still laid out in these disbursements. ** Mir-at-i 'alam, Mir-at-i Jahan-numa, of Bakhtawar Khan, in Elliot and Dowson, Vol. VII, p. 159. ===Volume VIII: To End of the Muhammadan Empire in India=== *In the city of Agra there was a large temple, in which there were numerous idols, adorned and embellished with precious jewels and valuable pearls. It was the custom of the [[infidels]] to resort to this [[মন্দির]] from far and near several times in each year to worship the idols, and a certain fee to the Government was fixed upon each man, for which he obtained admittance. As there was a large congress of pilgrims, a very considerable amount was realized from them, and paid into the royal treasury. This practice had been observed to the end of the reign of the Emperor Shah Jahan, and in the commencement of Aurangzeb's government; but when the latter was informed of it, he was exceedingly angry and abolished the custom. The greatest nobles of his court represented to him that a large sum was realized and paid into the public treasury, and that if it was abolished, a great reduction in the income of the state would take place. The Emperor observed, 'What you say is right, but I have considered well on the subject, and have reflected on it deeply; but if you wish to augment the revenue, there is a better plan for attaining the object by exacting the jizya. By this means idolatry will be suppressed, the Muhammadan religion and the true faith will be honoured, our proper duty will be performed, the finances of the state will be increased, and the [[infidels]] will be disgraced.' 'This was highly approved by all the nobles; and the Emperor ordered all the [[সোনা]]en and [[রুপা]] [[idols]] to be broken, and the [[মন্দির]] destroyed. **Kanzul-Mahfuz (Kanzu-l Mahfuz), in: Elliot and Dowson, Vol. VIII, pp. 38 -39. ==Quotes about the book== * Much of the contemporary evidence on temple desecration cited by Hindu nationalists is found in Persian materials translated and published during the British occupation of India. Especially influential has been the eight-volume ''History of India as Told by its Own Historians'', first published in 1849 and edited by Sir Henry M. Elliot, who oversaw the bulk of the translations, with the help of John Dowson. But Elliot, keen to contrast what he understood as the justice and efficiency of British rule with the cruelty and despotism of the Muslim rulers who had preceded that rule, was anything but sympathetic to the “Muhammadan” period of Indian history. ** {{cite journal |author=[[Richard M. Eaton]] |date=December 22, 2000 |title=Temple desecration in pre-modern India |journal=Frontline |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * The superficiality and jejuneness of Elliot's remarks compels us to conclude that he could not, or would not, study with care the Persian historians he held in contempt. ** [[Mohammad Habib]], ''Politics and society during the early medieval period: Collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 7. * The Hindu feels it his duty to dislike those whom he has been taught to consider the enemy of his religion and his ancestors; the Mussalman, lured into the false belief that he was once a member of a ruling race, feels insufferably wronged by being relegated to the status of a minority community. Fools both! Even if the Muslims eight centuries ago were as bad as they were painted, would there be any sense in holding the present generation responsible for their deeds. It is but an imaginative tie that joins the modern Hindu with [[w:Harsha|Harshavardhana]] or [[অশোক|Asoka]], or the modern Mussalman with [[Muhammad of Ghor|Shihabuddin]] or [[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]. ** [[Mohammad Habib]] commenting on the consequences of the work by Elliot and Dowson in ''Politics and society during the early medieval period: collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 12 ** Quoted in ''Identity and Religion: Foundations of Anti-Islamism in India'' by Amalendu Misra; published by [[w:SAGE Publications|SAGE Publications]], [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 p. 210] * To realize Medieval India there is no better way than to dive into the eight volumes of the priceless ''History of India as Told by its Own Historians'' which Sir H. M. Elliot conceived and beganot, and which Professor Dowson edited and completed with infinite labour and learning. It is a revelation of Indian life as seen through the eyes of the Persian court annalists. It is, however, a mine to be worked, not a consecutive history, and its wide leaps in chronology, its repetitions, recurrences, and omissions, render it no easy guide for general readers. ** ''Medieval India under Muhammadan Rule'' by [[Stanley Lane-Poole]] (1903), p.v-vi. ** Quoted in ''History of India: The Mohammedan period as described by its own historians'' by [[w:A. V. Williams Jackson|A. V. Williams Jackson]] and [[w:Vincent Arthur Smith|Vincent Arthur Smith]], pp. v-vi ** Quoted in ''Studies in medieval Indian history'' by [[K. S. Lal]], p. 84; also in ''The Legacy of Muslim rule in India'' p. 54 * Elliot and Dowson's great work, in spite of a chorus of disparagement by some modern Indian historians, still holds the field even now for more than a hundred years, against any translations in Urdu or Hindi. Scholars are still learning from and working on Elliot's meritorious volumes... ** Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. p. 54 *The study of medieval Indian history in modem times may be said to have begun about a century ago when, in the eighteen-sixties, and under the patronage of the Asiatic Society of Bengal, the Indo-Persian chronicles of the medieval period began to be printed in the Bibliotheca Indica Series, and in 1867-77 appeared Elliot and Dowson’s History of India as Told by its Own Historians. Elliot’s work contained in eight fairly bulky volumes translations of extracts from most of the then known Persian chronicles, and soon became indispensable for the researcher on medieval history. The original Persian works were so eulogistic of the cruelties of Muslim conquerors and rulers that the great painstaking scholar Elliot and his followers were perforce constrained to be critical of medieval Indian rulers, and this school held the ground for quite some time. **Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. * Elliot and Dowson state that religious bigotry was characteristic of the Indian past. They do confess that in presenting the translations from Persian and Arabic sources, their intention is to highlight the oppressive rule of Muslim kings. They state that the intolerance of the Mohammedans led to idols being mutilated, temples destroyed, forced conversions, confiscations, murders and massacres, not to mention the sensuality and drunkenness of tyrants. Such descriptions were intended to convince the Hindu subjects that British rule was far superior and to their advantage. This was not an isolated attitude and is reflected in many British writings on Indian history. Religious bigotry was frequently read into the texts translated in the nineteenth century, which coloured the reading of the Turko-Persian texts. For example, where Utbi says, ‘He ([[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]) made it obligatory on himself to undertake every year an expedition to Hind,’ the translation of this passage in Elliot and Dowson’s work reads, ‘the Sultan vowed to undertake a holy war to Hind every year’. ** [[Romila Thapar]], ''Somanatha: The Many Voices of a History'', Penguin Group, 2008, pp. 207-8. ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] f9jd1gnu8jbo04ll55du3z6md6cafh6 76875 76873 2026-04-15T07:57:54Z ARI 356 /* Volume VII: From Shah-Jahan to the Early Years of the Reign of Muhammad Shah */ ; অনুবাদ 76875 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো "কাফের" বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো "সত্যবিশ্বাসী"। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের "আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়" এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি "শাহাদাতের সুধা পান করেন"। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি "ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া", "বরকতময় মহরম" কিংবা "পবিত্র গ্রন্থ"-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত "বিসমিল্লাহ" দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * তারা আমাদের এদেশীয় প্রজাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে যে, আমাদের শাসনের উদারতা আর ন্যায়বিচারের ফলে তারা আসলে কতটা অসীম সুবিধা ভোগ করছে... আমাদের সরকারের অধীনে তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং যেকোনো বিজিত জাতির চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তা সত্ত্বেও যে বাগাড়ম্বরকারী বাবুরা দেশপ্রেম আর তাদের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিৎকার করে, তাদের কথা আমাদের আর শুনতে হবে না। তারা যদি এই বইগুলোর যেকোনো একটির গভীরে প্রবেশ করে, তবে এই তরুণ ব্রুটাস আর ফোকিওনদের এটা শিখতে খুব কম সময় লাগবে যে অন্ধকারের সেই দিনগুলোতে (যে দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে), তাদের এই হাস্যকর কল্পনাগুলো মুখে আনলে কেবল নীরবতা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য জুটত না, বরং তার বদলে ফুটন্ত সিসা ঢালা অথবা শূলে চড়ানোর মতো কঠোর শাস্তি পেতে হতো। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২২-২৩। ** পার্থ চট্টোপাধ্যায় রচিত ''এম্পায়ার অ্যান্ড নেশন: সিলেক্টেড এসেস'' বইতে উদ্ধৃত; কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 পৃষ্ঠা ৮২]। * এই ভাবনাগুলো এবং আরও অনেক বিষয় যা এই বইগুলো মন দিয়ে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, তা অতীত রাজবংশগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা জমকালো বিভ্রান্তিগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। আমাদের শাসননীতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের এই দেশকে স্থায়ী আবাসে পরিণত করতে কিংবা এর উন্নতি থেকে ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা মুনাফা অর্জনে বাধা দেয়। এছাড়া একটি বিদেশি শাসনব্যবস্থার অনেক ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যেখানে ভাষা, গায়ের রং, ধর্ম, আচার-আচরণ আর আইন শাসক এবং প্রজার মধ্যে সব ধরনের সহজাত সহমর্মিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, আমাদের শাসনের এই মাত্র আধ-শতাব্দীর মধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের জন্য যা করেছি, তা আমাদের পূর্বসূরিরা এই দেশকে নিজেদের দেশ হিসেবে গ্রহণ করার পরেও তার দশ গুণ বেশি সময়েও করে উঠতে পারেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠক ভবিষ্যতের জন্য এই আশা খুঁজে পাবেন যে, এ পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য এসেছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ভারতের শাসক হিসেবে আমাদের মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২৬-২৭। ** ক্যাথরিন স্মিথ ডিহল রচিত ''আর্লি ইন্ডিয়ান ইমপ্রিন্টস'' বইতে উদ্ধৃত; স্কেয়ারক্রো প্রেস থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৬৫। === সপ্তম খণ্ড: শাহজাহান থেকে মুহাম্মদ শাহের রাজত্বের শুরুর বছরগুলো পর্যন্ত === * হিন্দু লেখকদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের সব উপাসনালয় আর এই নিন্দিত লোকগুলোর বড় বড় মন্দিরগুলো এমনভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত কঠিন একটি কাজ কত নিপুণভাবে শেষ হয়েছে তা দেখে অবাক হতে হয়। জাঁহাপনা নিজে অনেক কাফেরকে সফলভাবে পবিত্র কলমা শিক্ষা দেন। সাম্রাজ্যের সব মসজিদ সরকারি খরচে মেরামত করা হয়। সেগুলোর প্রতিটিতে ইমাম, আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন এবং খুতবা পাঠকদের নিয়োগ করা হয়েছে; ফলে এই খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ** বখতাওয়ার খানের ''মির-আত-ই আলম'', ''মির-আত-ই জাহান-নুমা''; এলিয়ট এবং ডাওসন, সপ্তম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা। ===Volume VIII: To End of the Muhammadan Empire in India=== *In the city of Agra there was a large temple, in which there were numerous idols, adorned and embellished with precious jewels and valuable pearls. It was the custom of the [[infidels]] to resort to this [[মন্দির]] from far and near several times in each year to worship the idols, and a certain fee to the Government was fixed upon each man, for which he obtained admittance. As there was a large congress of pilgrims, a very considerable amount was realized from them, and paid into the royal treasury. This practice had been observed to the end of the reign of the Emperor Shah Jahan, and in the commencement of Aurangzeb's government; but when the latter was informed of it, he was exceedingly angry and abolished the custom. The greatest nobles of his court represented to him that a large sum was realized and paid into the public treasury, and that if it was abolished, a great reduction in the income of the state would take place. The Emperor observed, 'What you say is right, but I have considered well on the subject, and have reflected on it deeply; but if you wish to augment the revenue, there is a better plan for attaining the object by exacting the jizya. By this means idolatry will be suppressed, the Muhammadan religion and the true faith will be honoured, our proper duty will be performed, the finances of the state will be increased, and the [[infidels]] will be disgraced.' 'This was highly approved by all the nobles; and the Emperor ordered all the [[সোনা]]en and [[রুপা]] [[idols]] to be broken, and the [[মন্দির]] destroyed. **Kanzul-Mahfuz (Kanzu-l Mahfuz), in: Elliot and Dowson, Vol. VIII, pp. 38 -39. ==Quotes about the book== * Much of the contemporary evidence on temple desecration cited by Hindu nationalists is found in Persian materials translated and published during the British occupation of India. Especially influential has been the eight-volume ''History of India as Told by its Own Historians'', first published in 1849 and edited by Sir Henry M. Elliot, who oversaw the bulk of the translations, with the help of John Dowson. But Elliot, keen to contrast what he understood as the justice and efficiency of British rule with the cruelty and despotism of the Muslim rulers who had preceded that rule, was anything but sympathetic to the “Muhammadan” period of Indian history. ** {{cite journal |author=[[Richard M. Eaton]] |date=December 22, 2000 |title=Temple desecration in pre-modern India |journal=Frontline |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * The superficiality and jejuneness of Elliot's remarks compels us to conclude that he could not, or would not, study with care the Persian historians he held in contempt. ** [[Mohammad Habib]], ''Politics and society during the early medieval period: Collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 7. * The Hindu feels it his duty to dislike those whom he has been taught to consider the enemy of his religion and his ancestors; the Mussalman, lured into the false belief that he was once a member of a ruling race, feels insufferably wronged by being relegated to the status of a minority community. Fools both! Even if the Muslims eight centuries ago were as bad as they were painted, would there be any sense in holding the present generation responsible for their deeds. It is but an imaginative tie that joins the modern Hindu with [[w:Harsha|Harshavardhana]] or [[অশোক|Asoka]], or the modern Mussalman with [[Muhammad of Ghor|Shihabuddin]] or [[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]. ** [[Mohammad Habib]] commenting on the consequences of the work by Elliot and Dowson in ''Politics and society during the early medieval period: collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 12 ** Quoted in ''Identity and Religion: Foundations of Anti-Islamism in India'' by Amalendu Misra; published by [[w:SAGE Publications|SAGE Publications]], [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 p. 210] * To realize Medieval India there is no better way than to dive into the eight volumes of the priceless ''History of India as Told by its Own Historians'' which Sir H. M. Elliot conceived and beganot, and which Professor Dowson edited and completed with infinite labour and learning. It is a revelation of Indian life as seen through the eyes of the Persian court annalists. It is, however, a mine to be worked, not a consecutive history, and its wide leaps in chronology, its repetitions, recurrences, and omissions, render it no easy guide for general readers. ** ''Medieval India under Muhammadan Rule'' by [[Stanley Lane-Poole]] (1903), p.v-vi. ** Quoted in ''History of India: The Mohammedan period as described by its own historians'' by [[w:A. V. Williams Jackson|A. V. Williams Jackson]] and [[w:Vincent Arthur Smith|Vincent Arthur Smith]], pp. v-vi ** Quoted in ''Studies in medieval Indian history'' by [[K. S. Lal]], p. 84; also in ''The Legacy of Muslim rule in India'' p. 54 * Elliot and Dowson's great work, in spite of a chorus of disparagement by some modern Indian historians, still holds the field even now for more than a hundred years, against any translations in Urdu or Hindi. Scholars are still learning from and working on Elliot's meritorious volumes... ** Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. p. 54 *The study of medieval Indian history in modem times may be said to have begun about a century ago when, in the eighteen-sixties, and under the patronage of the Asiatic Society of Bengal, the Indo-Persian chronicles of the medieval period began to be printed in the Bibliotheca Indica Series, and in 1867-77 appeared Elliot and Dowson’s History of India as Told by its Own Historians. Elliot’s work contained in eight fairly bulky volumes translations of extracts from most of the then known Persian chronicles, and soon became indispensable for the researcher on medieval history. The original Persian works were so eulogistic of the cruelties of Muslim conquerors and rulers that the great painstaking scholar Elliot and his followers were perforce constrained to be critical of medieval Indian rulers, and this school held the ground for quite some time. **Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. * Elliot and Dowson state that religious bigotry was characteristic of the Indian past. They do confess that in presenting the translations from Persian and Arabic sources, their intention is to highlight the oppressive rule of Muslim kings. They state that the intolerance of the Mohammedans led to idols being mutilated, temples destroyed, forced conversions, confiscations, murders and massacres, not to mention the sensuality and drunkenness of tyrants. Such descriptions were intended to convince the Hindu subjects that British rule was far superior and to their advantage. This was not an isolated attitude and is reflected in many British writings on Indian history. Religious bigotry was frequently read into the texts translated in the nineteenth century, which coloured the reading of the Turko-Persian texts. For example, where Utbi says, ‘He ([[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]) made it obligatory on himself to undertake every year an expedition to Hind,’ the translation of this passage in Elliot and Dowson’s work reads, ‘the Sultan vowed to undertake a holy war to Hind every year’. ** [[Romila Thapar]], ''Somanatha: The Many Voices of a History'', Penguin Group, 2008, pp. 207-8. ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] h0jk3zh0sanaijcge6bsh2yjok176hh 76878 76875 2026-04-15T08:02:53Z ARI 356 /* Volume VIII: To End of the Muhammadan Empire in India */ ; অনুবাদ 76878 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো "কাফের" বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো "সত্যবিশ্বাসী"। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের "আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়" এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি "শাহাদাতের সুধা পান করেন"। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি "ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া", "বরকতময় মহরম" কিংবা "পবিত্র গ্রন্থ"-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত "বিসমিল্লাহ" দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * তারা আমাদের এদেশীয় প্রজাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে যে, আমাদের শাসনের উদারতা আর ন্যায়বিচারের ফলে তারা আসলে কতটা অসীম সুবিধা ভোগ করছে... আমাদের সরকারের অধীনে তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং যেকোনো বিজিত জাতির চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তা সত্ত্বেও যে বাগাড়ম্বরকারী বাবুরা দেশপ্রেম আর তাদের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিৎকার করে, তাদের কথা আমাদের আর শুনতে হবে না। তারা যদি এই বইগুলোর যেকোনো একটির গভীরে প্রবেশ করে, তবে এই তরুণ ব্রুটাস আর ফোকিওনদের এটা শিখতে খুব কম সময় লাগবে যে অন্ধকারের সেই দিনগুলোতে (যে দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে), তাদের এই হাস্যকর কল্পনাগুলো মুখে আনলে কেবল নীরবতা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য জুটত না, বরং তার বদলে ফুটন্ত সিসা ঢালা অথবা শূলে চড়ানোর মতো কঠোর শাস্তি পেতে হতো। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২২-২৩। ** পার্থ চট্টোপাধ্যায় রচিত ''এম্পায়ার অ্যান্ড নেশন: সিলেক্টেড এসেস'' বইতে উদ্ধৃত; কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 পৃষ্ঠা ৮২]। * এই ভাবনাগুলো এবং আরও অনেক বিষয় যা এই বইগুলো মন দিয়ে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, তা অতীত রাজবংশগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা জমকালো বিভ্রান্তিগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। আমাদের শাসননীতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের এই দেশকে স্থায়ী আবাসে পরিণত করতে কিংবা এর উন্নতি থেকে ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা মুনাফা অর্জনে বাধা দেয়। এছাড়া একটি বিদেশি শাসনব্যবস্থার অনেক ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যেখানে ভাষা, গায়ের রং, ধর্ম, আচার-আচরণ আর আইন শাসক এবং প্রজার মধ্যে সব ধরনের সহজাত সহমর্মিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, আমাদের শাসনের এই মাত্র আধ-শতাব্দীর মধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের জন্য যা করেছি, তা আমাদের পূর্বসূরিরা এই দেশকে নিজেদের দেশ হিসেবে গ্রহণ করার পরেও তার দশ গুণ বেশি সময়েও করে উঠতে পারেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠক ভবিষ্যতের জন্য এই আশা খুঁজে পাবেন যে, এ পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য এসেছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ভারতের শাসক হিসেবে আমাদের মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২৬-২৭। ** ক্যাথরিন স্মিথ ডিহল রচিত ''আর্লি ইন্ডিয়ান ইমপ্রিন্টস'' বইতে উদ্ধৃত; স্কেয়ারক্রো প্রেস থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৬৫। === সপ্তম খণ্ড: শাহজাহান থেকে মুহাম্মদ শাহের রাজত্বের শুরুর বছরগুলো পর্যন্ত === * হিন্দু লেখকদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের সব উপাসনালয় আর এই নিন্দিত লোকগুলোর বড় বড় মন্দিরগুলো এমনভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত কঠিন একটি কাজ কত নিপুণভাবে শেষ হয়েছে তা দেখে অবাক হতে হয়। জাঁহাপনা নিজে অনেক কাফেরকে সফলভাবে পবিত্র কলমা শিক্ষা দেন। সাম্রাজ্যের সব মসজিদ সরকারি খরচে মেরামত করা হয়। সেগুলোর প্রতিটিতে ইমাম, আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন এবং খুতবা পাঠকদের নিয়োগ করা হয়েছে; ফলে এই খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ** বখতাওয়ার খানের ''মির-আত-ই আলম'', ''মির-আত-ই জাহান-নুমা''; এলিয়ট এবং ডাওসন, সপ্তম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা। === অষ্টম খণ্ড: ভারতে মুসলমান সাম্রাজ্যের শেষ পর্যন্ত === * আগ্রা শহরে একটি বিশাল মন্দির ছিল, যেখানে দামী রত্ন আর মূল্যবান মুক্তো দিয়ে সাজানো অসংখ্য মূর্তি ছিল। প্রতি বছর কয়েকবার দূর-দূরান্ত থেকে কাফেররা এই মন্দিরে মূর্তি পূজা করতে আসত। মন্দিরে প্রবেশের বিনিময়ে প্রত্যেকের জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। যেহেতু তীর্থযাত্রীদের ভিড় ছিল প্রচুর, তাই তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় হতো এবং তা রাজকোষে জমা পড়ত। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বের শেষ পর্যন্ত এবং আওরঙ্গজেবের শাসনের শুরুতেও এই নিয়ম চালু ছিল; কিন্তু আওরঙ্গজেব যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন এবং এই প্রথা বন্ধ করে দিলেন। তার দরবারের প্রধান আমীর-ওমরাহরা তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই খাত থেকে বিশাল অংকের টাকা আদায় হয় এবং এটি বন্ধ করলে রাষ্ট্রের আয় অনেক কমে যাবে। সম্রাট জবাবে বললেন, ‘তোমরা যা বলছ তা ঠিক, কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। যদি তোমরা রাজস্ব বাড়াতে চাও, তবে জিজিয়া কর আদায় করাই হবে তার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়। এর মাধ্যমে মূর্তিপূজা দমন করা যাবে, ইসলাম ধর্ম আর সত্য বিশ্বাসের সম্মান বাড়বে, আমাদের কর্তব্য পালন করা হবে, রাষ্ট্রের আয় বাড়বে এবং কাফেররা অপদস্থ হবে।’ আমীররা সবাই এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানালেন। এরপর সম্রাটের আদেশে সোনা আর রুপার সব মূর্তি ভেঙে ফেলা হলো এবং মন্দিরটি ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ** ''কানজুল-মাহফুজ'' (কানজু-ল মাহফুজ); এলিয়ট এবং ডাওসন, অষ্টম খণ্ড, ৩৮-৩৯ পৃষ্ঠা। ==Quotes about the book== * Much of the contemporary evidence on temple desecration cited by Hindu nationalists is found in Persian materials translated and published during the British occupation of India. Especially influential has been the eight-volume ''History of India as Told by its Own Historians'', first published in 1849 and edited by Sir Henry M. Elliot, who oversaw the bulk of the translations, with the help of John Dowson. But Elliot, keen to contrast what he understood as the justice and efficiency of British rule with the cruelty and despotism of the Muslim rulers who had preceded that rule, was anything but sympathetic to the “Muhammadan” period of Indian history. ** {{cite journal |author=[[Richard M. Eaton]] |date=December 22, 2000 |title=Temple desecration in pre-modern India |journal=Frontline |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * The superficiality and jejuneness of Elliot's remarks compels us to conclude that he could not, or would not, study with care the Persian historians he held in contempt. ** [[Mohammad Habib]], ''Politics and society during the early medieval period: Collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 7. * The Hindu feels it his duty to dislike those whom he has been taught to consider the enemy of his religion and his ancestors; the Mussalman, lured into the false belief that he was once a member of a ruling race, feels insufferably wronged by being relegated to the status of a minority community. Fools both! Even if the Muslims eight centuries ago were as bad as they were painted, would there be any sense in holding the present generation responsible for their deeds. It is but an imaginative tie that joins the modern Hindu with [[w:Harsha|Harshavardhana]] or [[অশোক|Asoka]], or the modern Mussalman with [[Muhammad of Ghor|Shihabuddin]] or [[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]. ** [[Mohammad Habib]] commenting on the consequences of the work by Elliot and Dowson in ''Politics and society during the early medieval period: collected works of Professor Mohammad Habib, Volume 1'', p. 12 ** Quoted in ''Identity and Religion: Foundations of Anti-Islamism in India'' by Amalendu Misra; published by [[w:SAGE Publications|SAGE Publications]], [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 p. 210] * To realize Medieval India there is no better way than to dive into the eight volumes of the priceless ''History of India as Told by its Own Historians'' which Sir H. M. Elliot conceived and beganot, and which Professor Dowson edited and completed with infinite labour and learning. It is a revelation of Indian life as seen through the eyes of the Persian court annalists. It is, however, a mine to be worked, not a consecutive history, and its wide leaps in chronology, its repetitions, recurrences, and omissions, render it no easy guide for general readers. ** ''Medieval India under Muhammadan Rule'' by [[Stanley Lane-Poole]] (1903), p.v-vi. ** Quoted in ''History of India: The Mohammedan period as described by its own historians'' by [[w:A. V. Williams Jackson|A. V. Williams Jackson]] and [[w:Vincent Arthur Smith|Vincent Arthur Smith]], pp. v-vi ** Quoted in ''Studies in medieval Indian history'' by [[K. S. Lal]], p. 84; also in ''The Legacy of Muslim rule in India'' p. 54 * Elliot and Dowson's great work, in spite of a chorus of disparagement by some modern Indian historians, still holds the field even now for more than a hundred years, against any translations in Urdu or Hindi. Scholars are still learning from and working on Elliot's meritorious volumes... ** Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. p. 54 *The study of medieval Indian history in modem times may be said to have begun about a century ago when, in the eighteen-sixties, and under the patronage of the Asiatic Society of Bengal, the Indo-Persian chronicles of the medieval period began to be printed in the Bibliotheca Indica Series, and in 1867-77 appeared Elliot and Dowson’s History of India as Told by its Own Historians. Elliot’s work contained in eight fairly bulky volumes translations of extracts from most of the then known Persian chronicles, and soon became indispensable for the researcher on medieval history. The original Persian works were so eulogistic of the cruelties of Muslim conquerors and rulers that the great painstaking scholar Elliot and his followers were perforce constrained to be critical of medieval Indian rulers, and this school held the ground for quite some time. **Lal, K. S. (1992). The legacy of Muslim rule in India. New Delhi: Aditya Prakashan. * Elliot and Dowson state that religious bigotry was characteristic of the Indian past. They do confess that in presenting the translations from Persian and Arabic sources, their intention is to highlight the oppressive rule of Muslim kings. They state that the intolerance of the Mohammedans led to idols being mutilated, temples destroyed, forced conversions, confiscations, murders and massacres, not to mention the sensuality and drunkenness of tyrants. Such descriptions were intended to convince the Hindu subjects that British rule was far superior and to their advantage. This was not an isolated attitude and is reflected in many British writings on Indian history. Religious bigotry was frequently read into the texts translated in the nineteenth century, which coloured the reading of the Turko-Persian texts. For example, where Utbi says, ‘He ([[Mahmud of Ghazni|Mahmud]]) made it obligatory on himself to undertake every year an expedition to Hind,’ the translation of this passage in Elliot and Dowson’s work reads, ‘the Sultan vowed to undertake a holy war to Hind every year’. ** [[Romila Thapar]], ''Somanatha: The Many Voices of a History'', Penguin Group, 2008, pp. 207-8. ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] dj7rq5m0j3r0prcx9z65167ict15neg 76879 76878 2026-04-15T08:14:37Z ARI 356 /* Quotes about the book */ ; অনুবাদ 76879 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো "কাফের" বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো "সত্যবিশ্বাসী"। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের "আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়" এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি "শাহাদাতের সুধা পান করেন"। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি "ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া", "বরকতময় মহরম" কিংবা "পবিত্র গ্রন্থ"-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত "বিসমিল্লাহ" দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * তারা আমাদের এদেশীয় প্রজাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে যে, আমাদের শাসনের উদারতা আর ন্যায়বিচারের ফলে তারা আসলে কতটা অসীম সুবিধা ভোগ করছে... আমাদের সরকারের অধীনে তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং যেকোনো বিজিত জাতির চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তা সত্ত্বেও যে বাগাড়ম্বরকারী বাবুরা দেশপ্রেম আর তাদের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিৎকার করে, তাদের কথা আমাদের আর শুনতে হবে না। তারা যদি এই বইগুলোর যেকোনো একটির গভীরে প্রবেশ করে, তবে এই তরুণ ব্রুটাস আর ফোকিওনদের এটা শিখতে খুব কম সময় লাগবে যে অন্ধকারের সেই দিনগুলোতে (যে দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে), তাদের এই হাস্যকর কল্পনাগুলো মুখে আনলে কেবল নীরবতা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য জুটত না, বরং তার বদলে ফুটন্ত সিসা ঢালা অথবা শূলে চড়ানোর মতো কঠোর শাস্তি পেতে হতো। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২২-২৩। ** পার্থ চট্টোপাধ্যায় রচিত ''এম্পায়ার অ্যান্ড নেশন: সিলেক্টেড এসেস'' বইতে উদ্ধৃত; কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 পৃষ্ঠা ৮২]। * এই ভাবনাগুলো এবং আরও অনেক বিষয় যা এই বইগুলো মন দিয়ে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, তা অতীত রাজবংশগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা জমকালো বিভ্রান্তিগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। আমাদের শাসননীতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের এই দেশকে স্থায়ী আবাসে পরিণত করতে কিংবা এর উন্নতি থেকে ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা মুনাফা অর্জনে বাধা দেয়। এছাড়া একটি বিদেশি শাসনব্যবস্থার অনেক ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যেখানে ভাষা, গায়ের রং, ধর্ম, আচার-আচরণ আর আইন শাসক এবং প্রজার মধ্যে সব ধরনের সহজাত সহমর্মিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, আমাদের শাসনের এই মাত্র আধ-শতাব্দীর মধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের জন্য যা করেছি, তা আমাদের পূর্বসূরিরা এই দেশকে নিজেদের দেশ হিসেবে গ্রহণ করার পরেও তার দশ গুণ বেশি সময়েও করে উঠতে পারেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠক ভবিষ্যতের জন্য এই আশা খুঁজে পাবেন যে, এ পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য এসেছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ভারতের শাসক হিসেবে আমাদের মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২৬-২৭। ** ক্যাথরিন স্মিথ ডিহল রচিত ''আর্লি ইন্ডিয়ান ইমপ্রিন্টস'' বইতে উদ্ধৃত; স্কেয়ারক্রো প্রেস থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৬৫। === সপ্তম খণ্ড: শাহজাহান থেকে মুহাম্মদ শাহের রাজত্বের শুরুর বছরগুলো পর্যন্ত === * হিন্দু লেখকদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের সব উপাসনালয় আর এই নিন্দিত লোকগুলোর বড় বড় মন্দিরগুলো এমনভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত কঠিন একটি কাজ কত নিপুণভাবে শেষ হয়েছে তা দেখে অবাক হতে হয়। জাঁহাপনা নিজে অনেক কাফেরকে সফলভাবে পবিত্র কলমা শিক্ষা দেন। সাম্রাজ্যের সব মসজিদ সরকারি খরচে মেরামত করা হয়। সেগুলোর প্রতিটিতে ইমাম, আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন এবং খুতবা পাঠকদের নিয়োগ করা হয়েছে; ফলে এই খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ** বখতাওয়ার খানের ''মির-আত-ই আলম'', ''মির-আত-ই জাহান-নুমা''; এলিয়ট এবং ডাওসন, সপ্তম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা। === অষ্টম খণ্ড: ভারতে মুসলমান সাম্রাজ্যের শেষ পর্যন্ত === * আগ্রা শহরে একটি বিশাল মন্দির ছিল, যেখানে দামী রত্ন আর মূল্যবান মুক্তো দিয়ে সাজানো অসংখ্য মূর্তি ছিল। প্রতি বছর কয়েকবার দূর-দূরান্ত থেকে কাফেররা এই মন্দিরে মূর্তি পূজা করতে আসত। মন্দিরে প্রবেশের বিনিময়ে প্রত্যেকের জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। যেহেতু তীর্থযাত্রীদের ভিড় ছিল প্রচুর, তাই তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় হতো এবং তা রাজকোষে জমা পড়ত। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বের শেষ পর্যন্ত এবং আওরঙ্গজেবের শাসনের শুরুতেও এই নিয়ম চালু ছিল; কিন্তু আওরঙ্গজেব যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন এবং এই প্রথা বন্ধ করে দিলেন। তার দরবারের প্রধান আমীর-ওমরাহরা তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই খাত থেকে বিশাল অংকের টাকা আদায় হয় এবং এটি বন্ধ করলে রাষ্ট্রের আয় অনেক কমে যাবে। সম্রাট জবাবে বললেন, ‘তোমরা যা বলছ তা ঠিক, কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। যদি তোমরা রাজস্ব বাড়াতে চাও, তবে জিজিয়া কর আদায় করাই হবে তার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়। এর মাধ্যমে মূর্তিপূজা দমন করা যাবে, ইসলাম ধর্ম আর সত্য বিশ্বাসের সম্মান বাড়বে, আমাদের কর্তব্য পালন করা হবে, রাষ্ট্রের আয় বাড়বে এবং কাফেররা অপদস্থ হবে।’ আমীররা সবাই এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানালেন। এরপর সম্রাটের আদেশে সোনা আর রুপার সব মূর্তি ভেঙে ফেলা হলো এবং মন্দিরটি ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ** ''কানজুল-মাহফুজ'' (কানজু-ল মাহফুজ); এলিয়ট এবং ডাওসন, অষ্টম খণ্ড, ৩৮-৩৯ পৃষ্ঠা। == বইটির বিষয়ে বিভিন্ন উক্তি == * হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মন্দির ধ্বংসের সমসাময়িক প্রমাণের একটি বড় অংশ ব্রিটিশ শাসনামলে অনূদিত ও প্রকাশিত ফারসি উপকরণগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে স্যার হেনরি এম. এলিয়ট সম্পাদিত আট খণ্ডের ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে। জন ডাওসনের সহায়তায় এলিয়ট নিজেই এই অনুবাদের বড় একটি অংশ তদারকি করেছিলেন। তবে এলিয়ট ব্রিটিশ শাসনের ন্যায়বিচার ও দক্ষতাকে তার আগের মুসলিম শাসকদের নিষ্ঠুরতা আর স্বৈরাচারের সাথে তুলনা করতে চেয়েছিলেন; তাই ভারতীয় ইতিহাসের “মুসলমান” শাসনকালের প্রতি তার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি ছিল না। ** {{cite journal |author=[[w:Richard M. Eaton|রিচার্ড এম. ইটন]] |date=December 22, 2000 |title=ট্যাম্পল ডেসিক্রেশন ইন প্রি-মডার্ন ইন্ডিয়া |journal=ফ্রন্টলাইন |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * এলিয়টের মন্তব্যগুলো এতটাই অগভীর আর অসার যে আমাদের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয় যে, তিনি যে ফারসি ঐতিহাসিকদের ঘৃণা করতেন, তাদের নিয়ে হয়তো তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা করতে চাননি অথবা পারেননি। ** মোহাম্মদ হাবিব, ''পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি ডিউরিং দ্য আর্লি মিডিয়েভাল পিরিয়ড: কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিব, ভলিউম ১'', পৃষ্ঠা ৭। * হিন্দুরা যাদের নিজের ধর্ম আর পূর্বপুরুষের শত্রু বলে মনে করতে শিখেছে, তাদের ঘৃণা করাকে নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে; অন্যদিকে মুসলমানরা একসময় শাসক জাতি ছিল—এই ভুল বিশ্বাসে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এখন সংখ্যালঘু হয়ে পড়াকে অসহ্য অন্যায় বলে মনে করে। দুজনেই বোকা! আটশ বছর আগের মুসলমানরা যদি বর্ণনার মতো খারাপও হয়ে থাকে, তবে তাদের কাজের জন্য বর্তমান প্রজন্মকে দায়ী করার কি কোনো মানে হয়? বর্তমানের হিন্দুর সাথে হর্ষবর্ধন অথবা অশোকের, কিংবা আধুনিক মুসলমানের সাথে শিহাবুদ্দিন অথবা মাহমুদের সম্পর্কটা কেবল একটা কাল্পনিক বাঁধন ছাড়া আর কিছুই নয়। ** এলিয়ট ও ডাওসনের কাজের প্রভাব নিয়ে মোহাম্মদ হাবিবের মন্তব্য; ''পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি ডিউরিং দ্য আর্লি মিডিয়েভাল পিরিয়ড: কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিব, ভলিউম ১'', পৃষ্ঠা ১২। ** অমলেন্দু মিশ্র রচিত ''আইডেন্টিটি অ্যান্ড রিলিজিয়ন: ফাউন্ডেশনস অফ অ্যান্টি-ইসলামিজম ইন ইন্ডিয়া'' বইতে উদ্ধৃত; সেজ পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 পৃষ্ঠা ২১০]। * মধ্যযুগীয় ভারতকে অনুধাবন করার জন্য স্যার এইচ. এম. এলিয়টের ভাবনায় শুরু করা এবং অধ্যাপক ডাওসনের অক্লান্ত পরিশ্রমে শেষ হওয়া অমূল্য ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''-এর আটটি খণ্ডে ডুব দেওয়ার চেয়ে ভালো আর কোনো উপায় নেই। ফারসি রাজদরবারের ইতিহাসবিদদের চোখে দেখা ভারতীয় জীবনের এক প্রতিচ্ছবি এটি। তবে এটি একটি খনির মতো যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, এটি কোনো ধারাবাহিক ইতিহাস নয়। কালানুক্রমের বড় বড় ফাঁক, একই কথার পুনরাবৃত্তি আর অনেক কিছু বাদ যাওয়ার কারণে সাধারণ পাঠকদের জন্য এটি সহজ কোনো নির্দেশিকা নয়। ** স্ট্যানলি লেন-পুল রচিত ''মিডিয়েভাল ইন্ডিয়া আন্ডার মুহাম্মাদান রুল'' (১৯০৩), পৃষ্ঠা ৫-৬। ** এ. ভি. উইলিয়ামস জ্যাকসন এবং ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথ রচিত ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: দ্য মোহামেডান পিরিয়ড অ্যাজ ডেসক্রাইবড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' বইতে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫-৬। ** কে. এস. লাল রচিত ''স্টাডিজ ইন মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি'' বইতে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৮৪; এছাড়াও ''দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' বইয়ের ৫৪ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত। * আধুনিক ভারতের কিছু ঐতিহাসিকদের পক্ষ থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠা সত্ত্বেও, এলিয়ট ও ডাওসনের এই মহান কাজ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উর্দু কিংবা হিন্দি অনুবাদের তুলনায় এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পণ্ডিতরা এখনও এলিয়টের এই গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডগুলো থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন এবং এগুলো নিয়ে কাজ করছেন... ** লাল, কে. এস. (১৯৯২)। দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া। নিউ দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। পৃষ্ঠা ৫৪। * বলা যেতে পারে যে আধুনিক সময়ে মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের চর্চা প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল। ১৮৬০-এর দশকে যখন এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগের ইন্দো-পারসিক ইতিহাসগ্রন্থগুলো ''বিবলিওথিকা ইন্ডিকা'' সিরিজে ছাপা শুরু হয় এবং ১৮৬৭-৭৭ সালে এলিয়ট ও ডাওসনের ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' প্রকাশিত হয়। এলিয়টের এই আটটি বড় খণ্ডে তৎকালীন পরিচিত ফারসি ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অধিকাংশেরই অনুবাদ সংকলিত ছিল এবং শীঘ্রই এটি মধ্যযুগের ইতিহাস গবেষকদের কাছে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মূল ফারসি গ্রন্থগুলোতে মুসলিম বিজেতা ও শাসকদের নিষ্ঠুরতাকে এতটাই গৌরবান্বিত করা হয়েছিল যে, পরিশ্রমী পণ্ডিত এলিয়ট আর তার অনুসারীরা মধ্যযুগের ভারতীয় শাসকদের সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারাটিই বজায় ছিল। ** লাল, কে. এস. (১৯৯২)। দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া। নিউ দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। * এলিয়ট এবং ডাওসন উল্লেখ করেছেন যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল ভারতের অতীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা স্বীকার করেছেন যে, ফারসি এবং আরবি উৎসগুলো থেকে এই অনুবাদগুলো উপস্থাপন করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম রাজাদের অত্যাচারী শাসনকে তুলে ধরা। তারা বলেছেন যে মুসলমানদের অসহিষ্ণুতার কারণে মূর্তির অঙ্গহানি, মন্দির ধ্বংস, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, হত্যা আর গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে; এছাড়া অত্যাচারী শাসকদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কথা তো আছেই। এই ধরনের বর্ণনার উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু প্রজাদের এটা বোঝানো যে ব্রিটিশ শাসন অনেক বেশি উন্নত আর তাদের জন্য লাভজনক। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না এবং ভারতের ইতিহাসের ওপর লেখা অনেক ব্রিটিশ রচনায় এর প্রতিফলন দেখা যায়। উনবিংশ শতাব্দীতে অনূদিত হওয়া গ্রন্থগুলোতে প্রায়ই ধর্মীয় গোঁড়ামিকে টেনে আনা হয়েছে, যা তুর্কি-পারসিক গ্রন্থগুলোর পাঠকেও প্রভাবিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, উতবি যেখানে বলেছেন, ‘তিনি (মাহমুদ গজনী) প্রতি বছর হিন্দুস্তানে অভিযানে যাওয়ার বিষয়টিকে নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন’, এলিয়ট ও ডাওসনের অনুবাদে সেই অংশটি দাঁড়িয়েছে—‘সুলতান প্রতি বছর হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ করার শপথ নিয়েছিলেন’। ** [রোমিলা থাপার, ''সোমনাথ: দ্য মেনি ভয়েসেস অফ আ হিস্ট্রি'', পেঙ্গুইন গ্রুপ, ২০০৮, পৃষ্ঠা ২০৭-৮। ==External links== {{উইকিপিডিয়া}} [[Category:Historical documents]] [[Category:Histories]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[Category:History of India by period]] [[Category:History books about India]] [[Category:Translations into English]] 4l1onidzpzecxhwpp5nyuyybtqdp5xz 76880 76879 2026-04-15T08:15:53Z ARI 356 /* External links */ 76880 wikitext text/x-wiki '''''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''''' একটি বই, যা হেনরি মিয়ার্স এলিয়টের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মধ্যযুগীয় পারস্য ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অনুবাদ সংকলন করা হয়েছে। এটি মূলত ১৮৬৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে মোট আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এলিয়ট নিজে এই অনুবাদের কাজগুলো আংশিকভাবে তদারকি করেছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পর জন ডাওসন সেই কাজকে আরও প্রসারিত করেন এবং বইগুলো সম্পাদনা করেন। == উক্তি == === প্রথম খণ্ড: ভূমিকা === * এই অনুবাদগুলো অনেকের হাত ঘুরে এসেছে। অল্প কিছু অংশ স্যার এইচ. এলিয়টের নিজের হাতের লেখায় পাওয়া যায়, আবার কিছু অংশ বিভিন্ন ইংরেজ অফিসার তৈরি করেছেন। তবে এর বেশিরভাগ কাজই ''মুন্সিদের'' বলে মনে হয়। স্যার এইচ. এলিয়ট নিজে যে অনুবাদগুলো করেছেন (যেগুলো যথাস্থানে উল্লেখ করা থাকবে), সেগুলো বাদে আমি বাকি প্রতিটি অনুবাদ মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমাকে অসংখ্য এবং বড় বড় সব ভুল সংশোধন করতে হয়েছে। তবে এত সতর্কতার পরেও ভয় হয় যে কিছু ভুল হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, একজন মূল অনুবাদক কোনো লেখাকে যে রূপ দান করেন, একজন সংশোধকের পক্ষে সেই প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১১-তে জন ডাওসনের নোট। ** সঞ্জয় গর্গ সম্পাদিত ''স্টাডিজ ইন ইন্দো-মুসলিম হিস্ট্রি বাই এস. এইচ. হোডিওয়ালা ভলিউম ১: আ ক্রিটিক্যাল কমেন্টারি অন এলিয়ট অ্যান্ড ডাওসন’স হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস (খন্ড ১-৪) অ্যান্ড ইউল অ্যান্ড বার্নেল’স হবসন-জবসন'' বইতে উদ্ধৃত; রাউটলেজ থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4U9tDwAAQBAJ&pg=PR7 পৃষ্ঠা ৭]। * যেখানে মুসলমানরা অল্প সময়ের জন্য হলেও ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল, সেখানেই তাদের চিরচেনা গোঁড়ামি আর নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। দেবলে মন্দিরগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়; টানা তিন দিন ধরে চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ; বহু মানুষকে বন্দি করা হয় এবং বিপুল ধনসম্পদ লুট করা হয়.... নাইরুন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও সেখানকার মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং মসজিদ তৈরি করা হয়... মন্দিরগুলোর সঙ্গে 'খ্রিস্টানদের গির্জা অথবা ইহুদিদের সিনাগগের' মতো আচরণ করা হয়েছিল...। ** এলিয়ট এবং ডাওসন, ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'', প্রথম খণ্ড, ৪৬৮–৯ পৃষ্ঠা; এস. বালকৃষ্ণের''ইনভেডারস অ্যান্ড ইনফিডেলস: ফ্রম সিন্ধ টু দিল্লি : দ্য ৫০০- ইয়ার জার্নি অফ ইসলামিক ইনভেশনস'' (নিউ দিল্লি : ব্লুমসবারি, ২০২১)। ==== এলিয়টের প্রস্তাবনা ==== * ডায়োনিসিয়াসের সেই কৃত্রিম সংজ্ঞা যদি সঠিক হয় যে, "ইতিহাস হলো উদাহরণের মাধ্যমে দর্শন শিক্ষা," তবে বলতে হয় কোনো নেটিভ বা ভারতীয় ঐতিহাসিক নেই; খুব অল্প সংখ্যকই এই উচ্চ মানের ধারেকাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। আমাদের কাছে উদাহরণের ভাণ্ডার প্রচুর, কিন্তু তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। এমনকি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যেও বর্ণনাকারীর বংশগত, দাপ্তরিক আর সাম্প্রদায়িক সংস্কারের কারণে প্রকৃত সত্য ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু যে দর্শনের কাজ হলো অতীতের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের উপকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, রাজনৈতিক লেনদেনের উৎস ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, সেই দর্শনের কোনো চিহ্ন খোঁজা এখানে বৃথা। আমাদের ভারতীয় ইতিহাস লেখকদের রচনায় ঘরোয়া বা সামাজিক ইতিহাসের ছিটেফোঁটাও নেই। ইবনে খালদুন ছাড়া প্রায় সব মুসলমান ঐতিহাসিকের ক্ষেত্রেই এই কথাটি খাটে। সমাজ তার প্রথাগত রীতি, স্বীকৃত অধিকার, গঠনগত উপাদান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে তাদের কাছে কখনোই বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠিত সামাজিক শ্রেণি, লোকজ প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত জীবন অথবা প্রাত্যহিক মেলামেশার বিষয়গুলোও তারা এড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্য, কৃষি, অভ্যন্তরীণ পুলিশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের লেখায় তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের অবস্থা অথবা সমাজের উচ্চবিত্তদের নিচের স্তরের যেকোনো পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরে এমন কোনো তথ্য, গল্প, বক্তব্য কিংবা মন্তব্য তাদের কাছে অত্যন্ত নগণ্য মনে হয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল আমির-ওমরাহ, মন্ত্রী, সিংহাসন আর সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাহিনী। ভারতীয় ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু খুব কমই আছে যা আমাদের এই জমকালো আবরণের নিচে প্রবেশ করতে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও কঠোর রক্তপিপাসু আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া জাতির বৃহত্তর অংশের ওপর এই ক্ষতিকর প্রভাব ও সংস্থাগুলোর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বোঝার উপায়ও নেই। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ১৯-২০। ** ভেঙ্কট ধুলিপালা রচিত ''দ্য পলিটিক্স অফ সেকুলারিজম: মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্টোরিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য সুফিস'' বইতে উদ্ধৃত; ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬। * তবে আমরা যদি বর্তমান ভারতের মুসলমান রাজ্যগুলোর দিকে তাকাই এবং সেখানকার শাসকদের চরিত্র ও তাদের প্রজাদের অবস্থা পরীক্ষা করি, তবে সমরূপ পরিস্থিতিতে প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাব। আমরা দেখি যে রাজারা এমনকি আমাদের হাতে তৈরি রাজারাও অলসতা আর লম্পটতায় ডুবে আছেন। এই ধরনের শাসকদের অধীনে বিচারের উৎস যে কলুষিত হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে হিংসা আর অত্যাচার ছাড়া কখনোই সরকারি রাজস্ব আদায় হয় না; গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অধিবাসীদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয় অথবা ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পদস্থ কর্মচারীরা সুরক্ষা দেওয়ার বদলে নিজেরাই প্রধান ডাকাত আর দখলদার হয়ে ওঠে। চাটুকার আর নপুংসকরা লুণ্ঠিত প্রদেশগুলোর সম্পদ নিয়ে মত্ত থাকে। আর গরিব মানুষ অত্যাচারীর অন্যায় আর দর্পিত মানুষের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার পায় না। আমাদের চোখের সামনে যখন আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখি, যেখানে ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্য, তাদের ভালো উদাহরণ এবং তাদের হস্তক্ষেপের ভয় এই অব্যবস্থাকে থামিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়, তখন কি আমরা অবাক হতে পারি যে অতীতের রাজারা, যখন তারা এমন কোনো বাধানিষেধের অধীনে ছিলেন না, তখন তারা তাদের প্রজাদের সম্পদ, শান্তি আর সমৃদ্ধির কথা আরও কম ভাবতেন? ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২০। ** ডেভিড জোনস এবং মিশেল মারিয়ন সম্পাদিত ''দ্য ডায়নামিক্স অফ কালচারাল কাউন্টারপয়েন্ট ইন এশিয়ান স্টাডিজ'' বইতে উদ্ধৃত; স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=6jXkAgAAQBAJ&pg=PA93 পৃষ্ঠা ৯৩]। * এই একটি খণ্ডের ছোট উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যেও আমরা যে সামান্য আভাস পাই, সেখানে মুসলমানদের সাথে তর্কের জন্য হিন্দুদের হত্যা করা, শোভাযাত্রা, উপাসনা আর স্নানের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অন্যান্য অসহিষ্ণু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূর্তি ভাঙা, মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে, নির্বাসন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং এসবের আদেশ দেওয়া অত্যাচারীদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কাহিনী আমাদের দেখায় যে, এই চিত্রটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আমাদের এই বাস্তব চিত্রটি খুঁজে নিতে হচ্ছে সাধারণ ঘটনাবলির বিশাল স্তূপ থেকে, যা এমন লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ যারা কোনো মহৎ গুণের প্রতি সহানুভূতিশীল নন এবং কোনো অন্যায়ের প্রতি তাদের ঘৃণা নেই। অন্য জাতিগুলোও একই ধরনের নৃশংসতা প্রদর্শন করে, কিন্তু সেখানে অন্তত কেউ না কেউ ঘৃণা আর ক্ষোভের সাথে সেই ঘটনাগুলোর নিন্দা করে। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১। * এই অভাবগুলো আরও বেশি দুঃখজনক হয়ে ওঠে যখন লেখক একজন হিন্দু হন। তার কাছ থেকে আমরা হয়তো জানতে পারতাম যে শাসিত শ্রেণির অনুভূতি, আশা, বিশ্বাস, ভয় আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আসলে কী ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সচরাচর আদেশ অথবা নির্দেশের বাইরে কিছু লেখেন না এবং তার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত নিপুণ ও দাসসুলভভাবে সাজানো হয় একজন উদ্ধত মুসলমান পৃষ্ঠপোষকের অহমিকা তুষ্ট করার জন্য। তার ভাষা আর রচনার কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতা ছাড়া তার ধর্ম কিংবা জাতির পরিচয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না; যা আসলে দেখায় যে এই বিদেশি পোশাক তার ওপর কতটা বেমানান। তার কাছে একজন হিন্দু হলো "কাফের" বা অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলমান হলো "সত্যবিশ্বাসী"। এমনকি পঞ্জিকার পবিত্র সন্তদের নিয়ে তিনি একজন গোঁড়া ধর্মপ্রাণ মানুষের মতোই আবেগ নিয়ে লেখেন। তার বর্ণনায় যখন হিন্দুরা মারা যায়, তখন তাদের "আত্মাকে নরকে পাঠানো হয়" এবং যখন কোনো মুসলমানের একই দশা হয়, তখন তিনি "শাহাদাতের সুধা পান করেন"। তিনি তার বিজেতাদের নির্দিষ্ট শব্দাবলি আর অতিরঞ্জিত ভাষার সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে তিনি "ইসলামের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হওয়া", "বরকতময় মহরম" কিংবা "পবিত্র গ্রন্থ"-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি সাধারণত "বিসমিল্লাহ" দিয়ে লেখা শুরু করেন এবং একত্ববাদের সাধারণ ঘোষণা দেন। এরপর পবিত্র নবী, তার শিষ্য ও বংশধরদের প্রশংসা করেন এবং মুসলমানদের মতো গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২১-২২। * তারা আমাদের এদেশীয় প্রজাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে যে, আমাদের শাসনের উদারতা আর ন্যায়বিচারের ফলে তারা আসলে কতটা অসীম সুবিধা ভোগ করছে... আমাদের সরকারের অধীনে তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং যেকোনো বিজিত জাতির চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তা সত্ত্বেও যে বাগাড়ম্বরকারী বাবুরা দেশপ্রেম আর তাদের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিৎকার করে, তাদের কথা আমাদের আর শুনতে হবে না। তারা যদি এই বইগুলোর যেকোনো একটির গভীরে প্রবেশ করে, তবে এই তরুণ ব্রুটাস আর ফোকিওনদের এটা শিখতে খুব কম সময় লাগবে যে অন্ধকারের সেই দিনগুলোতে (যে দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে), তাদের এই হাস্যকর কল্পনাগুলো মুখে আনলে কেবল নীরবতা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য জুটত না, বরং তার বদলে ফুটন্ত সিসা ঢালা অথবা শূলে চড়ানোর মতো কঠোর শাস্তি পেতে হতো। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২২-২৩। ** পার্থ চট্টোপাধ্যায় রচিত ''এম্পায়ার অ্যান্ড নেশন: সিলেক্টেড এসেস'' বইতে উদ্ধৃত; কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=4zwyTMnl8J4C&pg=PA82 পৃষ্ঠা ৮২]। * এই ভাবনাগুলো এবং আরও অনেক বিষয় যা এই বইগুলো মন দিয়ে পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, তা অতীত রাজবংশগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা জমকালো বিভ্রান্তিগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। আমাদের শাসননীতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের এই দেশকে স্থায়ী আবাসে পরিণত করতে কিংবা এর উন্নতি থেকে ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা মুনাফা অর্জনে বাধা দেয়। এছাড়া একটি বিদেশি শাসনব্যবস্থার অনেক ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যেখানে ভাষা, গায়ের রং, ধর্ম, আচার-আচরণ আর আইন শাসক এবং প্রজার মধ্যে সব ধরনের সহজাত সহমর্মিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, আমাদের শাসনের এই মাত্র আধ-শতাব্দীর মধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের জন্য যা করেছি, তা আমাদের পূর্বসূরিরা এই দেশকে নিজেদের দেশ হিসেবে গ্রহণ করার পরেও তার দশ গুণ বেশি সময়েও করে উঠতে পারেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পাঠক ভবিষ্যতের জন্য এই আশা খুঁজে পাবেন যে, এ পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য এসেছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ভারতের শাসক হিসেবে আমাদের মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। ** ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস - প্রথম খণ্ড'', পৃষ্ঠা ২৬-২৭। ** ক্যাথরিন স্মিথ ডিহল রচিত ''আর্লি ইন্ডিয়ান ইমপ্রিন্টস'' বইতে উদ্ধৃত; স্কেয়ারক্রো প্রেস থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৩৬৫। === সপ্তম খণ্ড: শাহজাহান থেকে মুহাম্মদ শাহের রাজত্বের শুরুর বছরগুলো পর্যন্ত === * হিন্দু লেখকদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাফেরদের সব উপাসনালয় আর এই নিন্দিত লোকগুলোর বড় বড় মন্দিরগুলো এমনভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত কঠিন একটি কাজ কত নিপুণভাবে শেষ হয়েছে তা দেখে অবাক হতে হয়। জাঁহাপনা নিজে অনেক কাফেরকে সফলভাবে পবিত্র কলমা শিক্ষা দেন। সাম্রাজ্যের সব মসজিদ সরকারি খরচে মেরামত করা হয়। সেগুলোর প্রতিটিতে ইমাম, আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন এবং খুতবা পাঠকদের নিয়োগ করা হয়েছে; ফলে এই খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ** বখতাওয়ার খানের ''মির-আত-ই আলম'', ''মির-আত-ই জাহান-নুমা''; এলিয়ট এবং ডাওসন, সপ্তম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা। === অষ্টম খণ্ড: ভারতে মুসলমান সাম্রাজ্যের শেষ পর্যন্ত === * আগ্রা শহরে একটি বিশাল মন্দির ছিল, যেখানে দামী রত্ন আর মূল্যবান মুক্তো দিয়ে সাজানো অসংখ্য মূর্তি ছিল। প্রতি বছর কয়েকবার দূর-দূরান্ত থেকে কাফেররা এই মন্দিরে মূর্তি পূজা করতে আসত। মন্দিরে প্রবেশের বিনিময়ে প্রত্যেকের জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। যেহেতু তীর্থযাত্রীদের ভিড় ছিল প্রচুর, তাই তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় হতো এবং তা রাজকোষে জমা পড়ত। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বের শেষ পর্যন্ত এবং আওরঙ্গজেবের শাসনের শুরুতেও এই নিয়ম চালু ছিল; কিন্তু আওরঙ্গজেব যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেন এবং এই প্রথা বন্ধ করে দিলেন। তার দরবারের প্রধান আমীর-ওমরাহরা তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই খাত থেকে বিশাল অংকের টাকা আদায় হয় এবং এটি বন্ধ করলে রাষ্ট্রের আয় অনেক কমে যাবে। সম্রাট জবাবে বললেন, ‘তোমরা যা বলছ তা ঠিক, কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। যদি তোমরা রাজস্ব বাড়াতে চাও, তবে জিজিয়া কর আদায় করাই হবে তার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়। এর মাধ্যমে মূর্তিপূজা দমন করা যাবে, ইসলাম ধর্ম আর সত্য বিশ্বাসের সম্মান বাড়বে, আমাদের কর্তব্য পালন করা হবে, রাষ্ট্রের আয় বাড়বে এবং কাফেররা অপদস্থ হবে।’ আমীররা সবাই এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানালেন। এরপর সম্রাটের আদেশে সোনা আর রুপার সব মূর্তি ভেঙে ফেলা হলো এবং মন্দিরটি ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ** ''কানজুল-মাহফুজ'' (কানজু-ল মাহফুজ); এলিয়ট এবং ডাওসন, অষ্টম খণ্ড, ৩৮-৩৯ পৃষ্ঠা। == বইটির বিষয়ে বিভিন্ন উক্তি == * হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মন্দির ধ্বংসের সমসাময়িক প্রমাণের একটি বড় অংশ ব্রিটিশ শাসনামলে অনূদিত ও প্রকাশিত ফারসি উপকরণগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে স্যার হেনরি এম. এলিয়ট সম্পাদিত আট খণ্ডের ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে। জন ডাওসনের সহায়তায় এলিয়ট নিজেই এই অনুবাদের বড় একটি অংশ তদারকি করেছিলেন। তবে এলিয়ট ব্রিটিশ শাসনের ন্যায়বিচার ও দক্ষতাকে তার আগের মুসলিম শাসকদের নিষ্ঠুরতা আর স্বৈরাচারের সাথে তুলনা করতে চেয়েছিলেন; তাই ভারতীয় ইতিহাসের “মুসলমান” শাসনকালের প্রতি তার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি ছিল না। ** {{cite journal |author=[[w:Richard M. Eaton|রিচার্ড এম. ইটন]] |date=December 22, 2000 |title=ট্যাম্পল ডেসিক্রেশন ইন প্রি-মডার্ন ইন্ডিয়া |journal=ফ্রন্টলাইন |url=http://www.columbia.edu/itc/mealac/pritchett/00islamlinks/txt_eaton_temples1.pdf}} * এলিয়টের মন্তব্যগুলো এতটাই অগভীর আর অসার যে আমাদের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয় যে, তিনি যে ফারসি ঐতিহাসিকদের ঘৃণা করতেন, তাদের নিয়ে হয়তো তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা করতে চাননি অথবা পারেননি। ** মোহাম্মদ হাবিব, ''পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি ডিউরিং দ্য আর্লি মিডিয়েভাল পিরিয়ড: কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিব, ভলিউম ১'', পৃষ্ঠা ৭। * হিন্দুরা যাদের নিজের ধর্ম আর পূর্বপুরুষের শত্রু বলে মনে করতে শিখেছে, তাদের ঘৃণা করাকে নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করে; অন্যদিকে মুসলমানরা একসময় শাসক জাতি ছিল—এই ভুল বিশ্বাসে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এখন সংখ্যালঘু হয়ে পড়াকে অসহ্য অন্যায় বলে মনে করে। দুজনেই বোকা! আটশ বছর আগের মুসলমানরা যদি বর্ণনার মতো খারাপও হয়ে থাকে, তবে তাদের কাজের জন্য বর্তমান প্রজন্মকে দায়ী করার কি কোনো মানে হয়? বর্তমানের হিন্দুর সাথে হর্ষবর্ধন অথবা অশোকের, কিংবা আধুনিক মুসলমানের সাথে শিহাবুদ্দিন অথবা মাহমুদের সম্পর্কটা কেবল একটা কাল্পনিক বাঁধন ছাড়া আর কিছুই নয়। ** এলিয়ট ও ডাওসনের কাজের প্রভাব নিয়ে মোহাম্মদ হাবিবের মন্তব্য; ''পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি ডিউরিং দ্য আর্লি মিডিয়েভাল পিরিয়ড: কালেক্টেড ওয়ার্কস অফ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিব, ভলিউম ১'', পৃষ্ঠা ১২। ** অমলেন্দু মিশ্র রচিত ''আইডেন্টিটি অ্যান্ড রিলিজিয়ন: ফাউন্ডেশনস অফ অ্যান্টি-ইসলামিজম ইন ইন্ডিয়া'' বইতে উদ্ধৃত; সেজ পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত, [https://books.google.com/books?id=MKlEXIVxwj4C&pg=PA2010 পৃষ্ঠা ২১০]। * মধ্যযুগীয় ভারতকে অনুধাবন করার জন্য স্যার এইচ. এম. এলিয়টের ভাবনায় শুরু করা এবং অধ্যাপক ডাওসনের অক্লান্ত পরিশ্রমে শেষ হওয়া অমূল্য ''দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস''-এর আটটি খণ্ডে ডুব দেওয়ার চেয়ে ভালো আর কোনো উপায় নেই। ফারসি রাজদরবারের ইতিহাসবিদদের চোখে দেখা ভারতীয় জীবনের এক প্রতিচ্ছবি এটি। তবে এটি একটি খনির মতো যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, এটি কোনো ধারাবাহিক ইতিহাস নয়। কালানুক্রমের বড় বড় ফাঁক, একই কথার পুনরাবৃত্তি আর অনেক কিছু বাদ যাওয়ার কারণে সাধারণ পাঠকদের জন্য এটি সহজ কোনো নির্দেশিকা নয়। ** স্ট্যানলি লেন-পুল রচিত ''মিডিয়েভাল ইন্ডিয়া আন্ডার মুহাম্মাদান রুল'' (১৯০৩), পৃষ্ঠা ৫-৬। ** এ. ভি. উইলিয়ামস জ্যাকসন এবং ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথ রচিত ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া: দ্য মোহামেডান পিরিয়ড অ্যাজ ডেসক্রাইবড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' বইতে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫-৬। ** কে. এস. লাল রচিত ''স্টাডিজ ইন মিডিয়েভাল ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি'' বইতে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৮৪; এছাড়াও ''দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া'' বইয়ের ৫৪ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত। * আধুনিক ভারতের কিছু ঐতিহাসিকদের পক্ষ থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠা সত্ত্বেও, এলিয়ট ও ডাওসনের এই মহান কাজ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উর্দু কিংবা হিন্দি অনুবাদের তুলনায় এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পণ্ডিতরা এখনও এলিয়টের এই গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডগুলো থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন এবং এগুলো নিয়ে কাজ করছেন... ** লাল, কে. এস. (১৯৯২)। দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া। নিউ দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। পৃষ্ঠা ৫৪। * বলা যেতে পারে যে আধুনিক সময়ে মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের চর্চা প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল। ১৮৬০-এর দশকে যখন এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগের ইন্দো-পারসিক ইতিহাসগ্রন্থগুলো ''বিবলিওথিকা ইন্ডিকা'' সিরিজে ছাপা শুরু হয় এবং ১৮৬৭-৭৭ সালে এলিয়ট ও ডাওসনের ''হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস'' প্রকাশিত হয়। এলিয়টের এই আটটি বড় খণ্ডে তৎকালীন পরিচিত ফারসি ইতিহাসগ্রন্থগুলোর অধিকাংশেরই অনুবাদ সংকলিত ছিল এবং শীঘ্রই এটি মধ্যযুগের ইতিহাস গবেষকদের কাছে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মূল ফারসি গ্রন্থগুলোতে মুসলিম বিজেতা ও শাসকদের নিষ্ঠুরতাকে এতটাই গৌরবান্বিত করা হয়েছিল যে, পরিশ্রমী পণ্ডিত এলিয়ট আর তার অনুসারীরা মধ্যযুগের ভারতীয় শাসকদের সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারাটিই বজায় ছিল। ** লাল, কে. এস. (১৯৯২)। দ্য লেগেসি অফ মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া। নিউ দিল্লি: আদিত্য প্রকাশন। * এলিয়ট এবং ডাওসন উল্লেখ করেছেন যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল ভারতের অতীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা স্বীকার করেছেন যে, ফারসি এবং আরবি উৎসগুলো থেকে এই অনুবাদগুলো উপস্থাপন করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম রাজাদের অত্যাচারী শাসনকে তুলে ধরা। তারা বলেছেন যে মুসলমানদের অসহিষ্ণুতার কারণে মূর্তির অঙ্গহানি, মন্দির ধ্বংস, জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, হত্যা আর গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে; এছাড়া অত্যাচারী শাসকদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আর মদ্যপানের কথা তো আছেই। এই ধরনের বর্ণনার উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু প্রজাদের এটা বোঝানো যে ব্রিটিশ শাসন অনেক বেশি উন্নত আর তাদের জন্য লাভজনক। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না এবং ভারতের ইতিহাসের ওপর লেখা অনেক ব্রিটিশ রচনায় এর প্রতিফলন দেখা যায়। উনবিংশ শতাব্দীতে অনূদিত হওয়া গ্রন্থগুলোতে প্রায়ই ধর্মীয় গোঁড়ামিকে টেনে আনা হয়েছে, যা তুর্কি-পারসিক গ্রন্থগুলোর পাঠকেও প্রভাবিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, উতবি যেখানে বলেছেন, ‘তিনি (মাহমুদ গজনী) প্রতি বছর হিন্দুস্তানে অভিযানে যাওয়ার বিষয়টিকে নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন’, এলিয়ট ও ডাওসনের অনুবাদে সেই অংশটি দাঁড়িয়েছে—‘সুলতান প্রতি বছর হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ করার শপথ নিয়েছিলেন’। ** [রোমিলা থাপার, ''সোমনাথ: দ্য মেনি ভয়েসেস অফ আ হিস্ট্রি'', পেঙ্গুইন গ্রুপ, ২০০৮, পৃষ্ঠা ২০৭-৮। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:ঐতিহাসিক দলিল]] [[বিষয়শ্রেণী:ইতিহাস]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারতের ইতিহাস]] [[বিষয়শ্রেণী:যুগানুসারে ভারতের ইতিহাস]] [[বিষয়শ্রেণী:ভারত বিষয়ক ইতিহাস বই]] [[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজি অনুবাদ]] mro8aaa04oz75r3is2ped0f3bt3dklw আলাপ:দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস 1 12512 76881 2026-04-15T08:16:29Z ARI 356 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76881 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm জোবাইদা রহমান 0 12513 76883 2026-04-15T08:32:40Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 উক্তি 76883 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} blr5yqdrea6yqovehccde1b8ak9bhlg 76884 76883 2026-04-15T08:36:07Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76884 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। ** , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন [link এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। * সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় [link এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} 2r4cj5ubfm7k224mbqqjlgcqcoxqwnr 76885 76884 2026-04-15T08:39:34Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */ 76885 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। ** , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। * সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৮ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এই সাক্ষাৎকারে] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} 863916q2697yczbbjxmcltwa26wn4a7 76886 76885 2026-04-15T08:44:35Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76886 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} huvjfnt65ce3hhczm0zza4k8zpm7wwq 76887 76886 2026-04-15T08:45:32Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76887 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] p4el3um41bawrmqk0i2sefg74yalw29 76889 76887 2026-04-15T08:56:54Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 /* উক্তি */উক্তি 76889 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। ** জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে [https://www.jugantor.com/tp-second-edition/1077819 মাহফিলে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬ল == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 0yw86h2tq8x643efxg3wreeoaxglop4 76890 76889 2026-04-15T08:57:25Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76890 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। ** জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া [https://www.jugantor.com/tp-second-edition/1077819 মাহফিলে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬ল == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] btlk03lsglhm8rvt9g3zs18sybyk9zj 76891 76890 2026-04-15T08:57:39Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76891 wikitext text/x-wiki [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। ** জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া [https://www.jugantor.com/tp-second-edition/1077819 মাহফিলে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 4dhoddymhzrjihhq5d3mxstk2brvj73 76893 76891 2026-04-15T09:01:54Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76893 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Zubaida Rahman at the State Guest House Jamuna in Dhaka (Thursday, January 15, 2026) (cropped).jpg|থাম্ব|]] [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। তাই একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। ** জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া [https://www.jugantor.com/tp-second-edition/1077819 মাহফিলে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] oawwfe2fusp61m37yalee5f0ws850bm 76894 76893 2026-04-15T09:04:20Z মোহাম্মদ জনি হোসেন 104 76894 wikitext text/x-wiki [[চিত্র:Zubaida Rahman at the State Guest House Jamuna in Dhaka (Thursday, January 15, 2026) (cropped).jpg|থাম্ব|]] [[w:জোবাইদা রহমান|জোবাইদা রহমান]] একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [[তারেক রহমান|তারেক রহমানের]] স্ত্রী। ==উক্তি== * আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ** ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাসস, ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগ আয়োজিত [https://www.bssnews.net/bangla/news/279864 এক মতবিনিময় সভায়] বলেছেন। * স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। ** জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া [https://www.jugantor.com/tp-second-edition/1077819 মাহফিলে] বলেছেন। যুগান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬ == বহিঃসংযোগ == {{উইকিপিডিয়া}} [[বিষয়শ্রেণী:১৯৭২-এ জন্ম]] [[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]] 4v2jm7jsgwqtutp8mate4drk0nhvaql প্রোফেসর শঙ্কু 0 12514 76907 2026-04-15T09:45:46Z Rasel Mehedi 5177 "প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু প্রোফেসর শ..." দিয়ে পাতা তৈরি 76907 wikitext text/x-wiki প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু প্রোফেসর শঙ্কু নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি একজন বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক। তার বিশেষত্ব হল, মূলত পদার্থবিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তার অবাধ গতি; তিনি ৬৯টি ভাষা জানেন, হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর লিপি উনিই প্রথম পাঠোদ্ধার করেন; এবং বিশ্বের সকল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে তার সম্যক ধারণা রয়েছে। প্রোফেসর শঙ্কু তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নির্লোভ, সৎ ও স্বদেশপ্রেমিক; ভারতের সনাতন ঐতিহ্য সম্পর্কে তিনি শ্রদ্ধাবান এবং একই সঙ্গে শ্রদ্ধা করেন সমগ্র বিশ্বের প্রাচীন সাহিত্য ও শিল্পকেও। == উক্তি == * "ক্লাসিক ব্লাডি সিভিলিয়ান!" ** প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক রহস্য * "আমার বৈজ্ঞানিক মনের একটা অংশ আক্ষেপ করছে যে, তাকে ভালো করে স্টাডি করা গেল না, তার বিষয়ে অনেক কিছুই জানা গেল না। সেইসঙ্গে আরেকটা অংশ বলছে যে, মানুষের সব জেনে ফেলার লোভের একটা সীমা থাকা উচিত। এমন কিছু থাকুক, যা মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে, বিস্ময় জাগিয়ে তুলতে পারে" ** দ্য ফাইনাল অ্যাডভেঞ্চারস অফ প্রফেসর শঙ্কু == প্রোফেসর শঙ্কু সম্পর্কে উক্তি == *সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট এই চরিত্রটি একজন বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীরা টমাস আলভা এডিসনের পরেই মহান উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাঁকে। প্রোফেসর শঙ্কু জানেন ৬৯টি ভাষা। ৭২টি আবিষ্কার তাঁর ঝোলায়। হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন। মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার দুর্বোধ্য লিপির পাঠোদ্ধার করেছেন। ব্রাজিলের রাটানটান ইন্সিটিউট থেকে লাভ করেছেন ডক্টরেট। সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স থেকে পেয়েছেন বিশেষ সম্মান। ** আনন্দবাজার পত্রিকায় ২০২১ সালের ১লা মে প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধে 0bqvi02wubebygk0kenrm718flan7e2 ব্যবহারকারী আলাপ:ENGR MD. LITON SIKDER 3 12515 76910 2026-04-15T10:13:04Z অভ্যর্থনা কমিটি বট 1112 উইকিউক্তিতে স্বাগত! 76910 wikitext text/x-wiki == উইকিউক্তিতে স্বাগত == <div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;"> সুপ্রিয় ENGR MD. LITON SIKDER,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন! * উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন। ** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন। * উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন। * পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন। * পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন। * [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন! কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম! &mdash; [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]] </div> ১০:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) i2eerpmy4d7jhqf76d6co1iojy9u1he ব্যবহারকারী:ENGR MD. LITON SIKDER/খেলাঘর 2 12516 76911 2026-04-15T10:16:57Z ENGR MD. LITON SIKDER 5184 "মানুষ কখনো অমানুষ হতে পারেনা।" দিয়ে পাতা তৈরি 76911 wikitext text/x-wiki মানুষ কখনো অমানুষ হতে পারেনা। jri0dy5sv0qlsvvkok2ok97cg3ap86p বারী সিদ্দিকী 0 12517 76913 2026-04-15T10:28:54Z Rasel Mehedi 5177 "বারী সিদ্দিকী (15 নভেম্বর 1954 - 24 নভেম্বর 2017) একজন বাংলাদেশী গায়ক-গীতিকার এবং বাঁশিবাদক ছিলেন। তার গানের মধ্যে রয়েছে শুয়া চান পাখি , আমার গায়ে যত দুঃখ শোয় , পূবালি বাতাসে এবং..." দিয়ে পাতা তৈরি 76913 wikitext text/x-wiki বারী সিদ্দিকী (15 নভেম্বর 1954 - 24 নভেম্বর 2017) একজন বাংলাদেশী গায়ক-গীতিকার এবং বাঁশিবাদক ছিলেন। তার গানের মধ্যে রয়েছে শুয়া চান পাখি , আমার গায়ে যত দুঃখ শোয় , পূবালি বাতাসে এবং মানুষ ধোরো মানুষ ভোজো। == উক্তি == * ‘প্রতিবারই মনে হতো, কী ভাবলাম, আর কী হলো!’ ** ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর, তার মৃত্যুবর্ষিকী উপলক্ষে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জীবনের শেষ সময়ে তার বলা আফসোসের কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/hpnc27yeqf প্রথম আলো] * ‘বাঁশি বাজিয়ে তাহলে বড় শিল্পী হওয়া যায় না?’ ** ২৪ নভেম্বর ২০২৪-এ প্রকাশিত নিবন্ধ, [https://www.prothomalo.com/entertainment/song/hpnc27yeqf প্রথম আলো] == বারী সিদ্দিকী সম্পর্কে উক্তি == * বারী সিদ্দিকী শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাউল সাধক ও লোকগানের একজন বাহক। তিনি প্রতিটি লোকগানের মূলে প্রবেশ করেছিলেন এবং তা আমাদের সহজ-সরল ভাষায় বলে গেয়ে উপলব্ধি করাতে শিখিয়েছেন।’ ** বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার বলেছিলেন, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ প্রকাশিত নিবন্ধে, [https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7% প্রথম আলো] 4h4m9nos52jwze57qtyxrurn3rden53 ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-22640-03 3 12518 76921 2026-04-15T10:50:22Z JIBON 2570 বিজ্ঞপ্তি: [[পহেলা বৈশাখ:সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ]] এর দ্রুত অপসারণ প্রস্তাবনা ([[উইকিউক্তি:টুলবক্স|টুলবক্স]] ব্যবহার করে) 76921 wikitext text/x-wiki == [[:পহেলা বৈশাখ:সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ]] পাতার [[উইকিউক্তি:দ্রুত অপসারণের জন্য বিচারধারা|দ্রুত অপসারণ]] প্রস্তাবনা == [[File:Ambox warning pn.svg|48px|left|alt=|link=]] {{Quote box|quote=<p>এটি যদি উইকিউক্তিতে আপনার তৈরি করা প্রথম পাতা হয়ে থাকে, তবে আপনি উইকিউক্তিতে [[উইকিউক্তি:আপনার প্রথম ভুক্তি|প্রথম ভুক্তির দিক-নির্দেশনা]] অবশ্যই পাঠ করে নিন।</p><p>আমরা আপনাকে [[উইকিউক্তি:ভুক্তি উইজার্ড|ভুক্তি উইজার্ড]] ব্যবহার করে পাতা তৈরি করতে উৎসাহিত করছি।</p>|width=20%|align=right}} উইকিউক্তি থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য [[:পহেলা বৈশাখ:সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ]] নামক পাতাটিতে একটি ট্যাগ লাগানো হয়েছে। অনর্থক পাতা এর জন্য এই ট্যাগ লাগানো হয়েছে। [[WQ:CSD#পাতা|দ্রুত অপসারণের বিচারধারা]] অনুযায়ী এই পাতাটি যে কোনো সময় অপসারণ করা হতে পারে। আপনি যদি মনে করেন যে এই কারণে এই পাতাটি অপসারণ করা উচিত নয়, তবে এই অপসারণে আপত্তি জানাতে [[:পহেলা বৈশাখ:সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণ|পাতাটিতে গিয়ে]] "'''দ্রুত অপসারণে আপত্তি জানান'''" লেখার উপর ক্লিক করুন ও সেখানে কারণ ব্যাখ্যা করুন কেন পাতাটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, কোন পাতায় দ্রুত অপসারণ ট্যাগ করা হলে এবং যদি পাতাটি দ্রুত অপসারণের বিচারাধারার সাথে মিলে যায় তবে কোনও দেরি না করে পাতাটি অপসারণ করা হয়। অনুগ্রহপূর্বক আপনার নিজের তৈরি করা পাতা থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলবেন না, তবে আমরা আপনাকে পাতাটি সম্প্রসারণ করতে উৎসাহিত করছি। আরও মনে রাখবেন যে, পাতার বিষয় অবশ্যই [[উইকিউক্তি:উক্তিযোগ্যতা|উক্তিযোগ্য]] হতে হবে এবং [[উইকিউক্তি:নির্ভরযোগ্য উৎস|নির্ভরযোগ্য উৎস]] থেকে তথ্যসূত্রগুলো [[উইকিউক্তি:যাচাইযোগ্যতা|যাচাইযোগ্য]] হওয়া উচিত। যদি ইতিমধ্যে পাতাটি অপসারিত হয়ে থাকে এবং আপনি ভবিষ্যতে এটির উন্নতি করতে এর বিষয়বস্তু ফেরত পেতে চান, তবে দয়া করে [[উইকিউক্তি:প্রশাসকদের আলোচনাসভা|প্রশাসকের আলোচনাসভায়]] জানান। [[ব্যবহারকারী:JIBON|মানিক]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:JIBON|আলাপ]]) ১০:৫০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) jrg5zkob1y6ctvb7e05dyfy8xnfxpd4 ব্যবহারকারী:জুলাই রাজু 2 12519 76925 2026-04-15T11:45:38Z জুলাই রাজু 5188 "'''srm.mdraju96@gmail.com'''" দিয়ে পাতা তৈরি 76925 wikitext text/x-wiki '''srm.mdraju96@gmail.com''' mbvjtouh6z8qt20eiyihktewdnh2bjv আলাপ:পরকাল সম্পর্কে কুরআন 1 12520 76932 2026-04-15T11:50:18Z Tanbiruzzaman 806 https://fountain.toolforge.org/editathons/wqc2026 76932 wikitext text/x-wiki {{ব্যবহারকারী:MS Sakib/আলাপ পাতা}} s00lejnpdlmgehij1azh4gp8akjfjgm